‘হলুদ লাইন’ যেভাবে গাজার জনজীবনে চাপ বাড়াচ্ছে
জায়েদ আল-জাজিরাকে বলেন, শেলিং এবং গুলির আওয়াজ সারাক্ষণ শোনা যায়। তিনি পূর্ব দিগন্তের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, এখান থেকে মাত্র কয়েকশো মিটার দূরে ইসরাইলি সৈন্যরা অবস্থান করছে। মাঝে মাঝে আমরা দেখছি বুলডোজার বাড়ি ধ্বংস করছে বা ফসলের জমি সমতল করছে। এক দু’ধাপও এগোনো বিপজ্জনক।
হলুদ লাইনের কাছে বসবাসকারীরা বলেন, তারা প্রায়ই গোলাগুলি বা ছোট বিস্ফোরণের শব্দে জাগেন। জায়েদ বলেন, রাতে পুরোপুরি অন্ধকারে থাকেন তারা। কারণ বিদ্যুৎ নেই। তবে সৈন্যরা ফ্লেয়ার ব্যবহার করে আকাশ কিছু সময়ের জন্য আলোকিত করে।
জাতিসংঘ ও মানবিক সংস্থাগুলি জানিয়েছে, এই শত্রু এলাকা যুদ্ধের সময় বারবার প্রসারিত, স্থানান্তরিত ও সংকুচিত হয়েছে। ফলে এটি কার্যত অভ্যন্তরীণ সীমারেখার মতো কাজ করছে। ডিসেম্বরে গাজার সফরে ইসরাইলি সামরিক প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এয়াল জামির স্পষ্টভাবে বলেছেন, হলুদ লাইন হলো একটি নতুন সীমারেখা। এই লাইন প্রায় ৬০ শতাংশ ধ্বংসপ্রাপ্ত এলাকা নিয়ন্ত্রণে রেখেছে, যার মধ্যে দক্ষিণের রাফাহ এবং উত্তরের বেইত হানুন শহর অন্তর্ভুক্ত। যুদ্ধের সময় ইসরাইলি জোরপূর্বক স্থানান্তরের মাধ্যমে হলুদ লাইন তৈরি হয়েছে। অনেক সময় স্থানান্তরের নোটিশ দেয়া হতো পত্রিকা, ফোন মেসেজ বা অনলাইন মানচিত্রে, তখনই বোমা বিস্ফোরণ চলছিল। ফলে ফিলিস্তিনিদের নিরাপদে চলে যাওয়ার সময় খুব কম থাকতো।
জাতিসংঘের মানবিক সমন্বয় অফিস জানিয়েছে, যুদ্ধের বিভিন্ন সময়ে গাজার ৭০ শতাংশের বেশি এলাকা জোরপূর্বক ত্যাগ বা নিরাপদ নয় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল। হলুদ লাইন হল গাজার পরিবর্তনশীল সামরিক এলাকা। মানচিত্রে এগুলো স্থানান্তরিত, সম্প্রসারিত বা অদৃশ্য হলেও নাগরিকদের জন্য সব সময় উপস্থিত। এই লাইন নির্ধারণ করে- কোন রাস্তা নিরাপদ, কোন বাড়ি খালি, কখন পালাতে হবে। অনেক জায়গায় দৃশ্যমান চিহ্ন নেই। ফিলিস্তিনিরা নির্ভর করে অনুভুতি, শব্দ ও স্মৃতির ওপর। একদিন নিরাপদ মনে হওয়া এলাকা পরের রাতেই বিপজ্জনক হয়ে যেতে পারে। পরিবার দ্রুতই প্যাক করে চলে যায়, অনেক সময় বাড়ি খালি থাকে, যদিও স্থাপনাটি এখনও আছে। অধিকাংশ মানুষ অন্তত একবার, অনেকে একাধিকবার স্থানান্তরিত হয়েছেন। এভাবে থাকা মানসিক চাপ বাড়ায়।

No comments