Monday, October 29, 2012
গার্ড সাহেব by অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
গার্ড সাহেব by অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
'বাবু, কিতাব!' ঠিক বুকের মধ্যে যেন হাতুড়ির ঘা পড়ে। শুনেও শোনে না নিবারণ। ঘুমের ঘোরে পাশ ফেরে একবার।
কিন্তু ও-ডাক কি ভুল শোনবার? কল-পিওন আবার হাঁক পাড়ে : 'গার্ডবাবু, কিতাব হ্যায়।' বই হয়েছে! তার মানে সর্বনাশ হয়েছে।
কিন্তু ও-ডাক কি ভুল শোনবার? কল-পিওন আবার হাঁক পাড়ে : 'গার্ডবাবু, কিতাব হ্যায়।' বই হয়েছে! তার মানে সর্বনাশ হয়েছে।
দুখানা ছোট-ছোট কুঠুরিতে অধস্তন কোয়ার্টার। উনুনে আগুন দিচ্ছে লতিকা। ডাক শুনে সেও আঁতকে ওঠে।
'বাবু, কিতাব!'
সমস্ত সংসার-শান্তির উপরে উদ্ধত বজ্র।
তাড়াতাড়ি বেরিয়ে আসে লতিকা। সত্যি-সত্যি কল-পিওন। নিজের চুল ছিঁড়বে না কল-পিওনের কিতাবটা_বুঝে উঠতে পারে না।
'এ কি, আজ না তোমার রেস্ট বেশি হবে বলেছিলে?'
'হ্যাঁ, রোস্টার আজ ভালো ছিল। ভেবেছিলাম_' গলায় স্বর ফোটে না নিবারণের।
কিন্তু চোখ ফোটাও। পিওন কল-বুকটা চোখের সামনে মেলে ঘরে। হ্যাঁ, সই করো। দেখে নাও ঠিকঠাক। কোন ট্রেন, ইয়ার্ডে কোন লাইনে আছে, কোথায় যেতে হবে এ-যাত্রা। সব বিতং করে লেখা আছে বইয়ে। দেখে নাও। মনে মনে টুকে রাখো।
'তবে কী হবে!' লতিকা ককিয়ে ওঠে।
'আর কী হবে!' তক্তপোশ ছেড়ে উঠে পড়ে নিবারণ।
দশ বছর আগে এমন দিনে তাদের বিয়ে হয়েছিল। প্রথম পাঁচ বছর তারা ছন্নছাড়ার মতো ঘুরে বেড়িয়েছে_নিবারণ মেসে, লতিকা বাপের বাড়ি, নয়তো বা শ্বশুরবাড়ির কোনো আত্মীয়ের আশ্রয়ে। ছ বছরের মাথায় তারা প্রথম কোয়ার্টার পায় ইনসাইড কোয়ার্টার। সেও দু-কুঠুরিরই আস্তানা_একটার মধ্যে আরেকটা ঘর। এবার, দশ বছরের বার, পাশাপাশি ঘরের কে-টাইপের কোয়ার্টার পেয়েছে। সামান্য একটু ভদ্রতা এসেছে বসবাসে। ইলেকট্রিক আলো হলে আরো একটু সুন্দর হতো। রেন্ট-সেকশানের বড়বাবুকে ধরেছিল নিবারণ_তিনি একটা আঙুল তুলে দেখিয়েছিলেন। তার মানে ঘুষ চাই এক শ টাকা।
বড় ছোট ঘরে, ছোট জীবনের মধ্যে আছে নিবারণ। স্ত্রীর সঙ্গে খুব একটা সংকীর্ণ সম্বন্ধের মধ্যে একটু অন্য রকম অর্থ দিতে চেয়েছিল আজ। আনতে চেয়েছিল একটু অন্য রকম লাবণ্য। ঠিক করেছিল, আজ, দশ বছর বাদে এই প্রথম, সে তার বিয়ের তারিখে একটু উৎসব করবে। উৎসব আর কি, কজন বন্ধুবান্ধবকে ডেকে একটু চা খাওয়ানো, চায়ের সঙ্গে কিছু না-হয় খাবার তৈরি করে দেবে লতিকা। বাইরে বসবার ঘরের মতো করতে পারা যাবে একটা ঘরকে। তাই যা সুবিধা। বন্ধুরা কিন্তু জানতেও পাবে না কেন কী হচ্ছে_শুধু জানবে তারা দুজনে, একটু বা নতুনতর অর্থে। কিছু ফুল জোগাড় করবে হয়তো। বিশেষ একটি অনুভবের লালিত্যে ফর্সা ও আস্ত একখানা শাড়ি পরবে লতিকা, বিকেলের দিকেই না-হয় দাড়ি কামাবে নিবারণ। মুহূর্তের জন্যে হোক, তবু সব আবার কেমন নতুন মনে হবে, মনে হবে আরম্ভের মতো, অজানার মতো_
রাত-ভোর ডিউটি করে সকাল চারটেয় আজ ফিরেছে নিবারণ। বাড়ি ফেরবার আগে রোস্টার দেখে এসেছে, অবস্থা বেশ ভালো_অনেক নম্বর গার্ড 'ইন' করেছে আজ। এমনিতে ডিউটির পর বারো ঘণ্টা মামুলি রেস্ট, তবে রোস্টারে বেশি গার্ড 'ইন' থাকলে আশা থাকে যে পালা আরো দূরে গিয়ে পড়বে। কিন্তু বিপদ এই, মামুলি রেস্টের পর সব সময়ে বাড়িতে তৈরি থাকো কখন 'কিতাব' এসে হাজির হয়। আজ নিবারণ আন্দাজ করেছিল, বারো ঘণ্টার কায়েমি বিশ্রামের পর আরো কয়েক ঘণ্টা ফাউ মিলবে বোধহয়। সেই ভরসায় করতে গিয়েছিল সে এই হাঙ্গামা। কিছু ফুল-পাতা কিনেছিল, কিনেছিল কিছু গন্ধওয়ালা চা, ছোট্ট এক শিশি দামি এসেন্স।
'বন্ধুদেরও তো বলেছ'_মনে করিয়ে দেয় লতিকা।
'তেমন করে কিছু বলিনি। বলেছিলাম রোস্টার ভালো আছে, দু-চার ঘণ্টা মিলে যেতে পারে একস্ট্রা। এক হাত তাস হবেুখন এসো। আর এলেই_এটা সর্বদা উহ্য_একটু চা-টা।'
তেমন করে কিছু বলিনি। একটু যেন বাজল লতিকাকে। বলতে লজ্জা হয়েছিল নিশ্চয়ই। নিমন্ত্রিত বন্ধুরা এসে ফিরে যাবে তার চেয়ে সে-লজ্জা অনেক বেশি।
'বা, লজ্জা কী! চাকরি যখন করছি তখন চাকরি তো করতেই হবে।'
'এ চাকরি ছেড়ে দিয়ে ভিক্ষে করাও ভালো।'
এই কথাটা আরো একদিন বলেছিল লতিকা। তখন ছিল তারা ইনসাইড কোয়ার্টারে, এক ঘরের মধ্যে আরেক ঘরে। শীতের রাত, পাশাপাশি শুয়ে আছে দুজনে। টিপটিপ বৃষ্টি হচ্ছে তার ওপর। বেশ একটা ঘুম-না-আসা অথচ ঘুমেরই মতন মনোহর রাত। হঠাৎ রাত দুপুরে দরজায় কে ঘা দিলে। 'বাবু! বাবু! কিতাব!' চোর-ডাকাত নয়, কল-পিওন। মাথায় ছেঁড়া ছাতা, হাতে হাতবাতি। গাড়ি বুকিং হয়েছে তারই খবর দিতে এসেছে। এখন যদি রাত বারোটা হয়, গাড়ি নিয়ে নিবারণকে বেরুতে হবে দুটোয়। দু ঘণ্টা আগে নোটিশ আসে কিতাবের। কী গাড়ি জিজ্ঞেস করছ? রাগ কোরো না_মালগাড়ি। একে গার্ড, তায় মালগাড়ির গার্ড।
তবু, তবু সেই তপ্ত শয্যা ছেড়ে উঠে পড়তে হয়েছিল নিবারণকে। দু ঘণ্টার মধ্যে তৈরি হয়ে নিতে হবে। লতিকাকে উঠে খাবার-দাবার করে ভরে দিতে হবে টিফিন-কেরিয়ার। ইউনিফর্ম পরে গায়ে বর্ষাতি চাপিয়ে এক হাতে টিফিন-কেরিয়ার, আরেক হাতে হ্যান্ড-সিগন্যাল ল্যাম্প নিয়ে কাদা-জলের মধ্যে ছপ ছপ করতে-করতে যেতে হবে ইস্টিশান।
বিছানা ছেড়ে উঠতে উঠতে সেদিন বলেছিল লতিকা : 'এর চেয়ে ভিক্ষে করা ভালো ছিল।'
কিন্তু আজ যেন রাগ নয়, আজ দুঃখ। সেই ছোট ঘরে ছোট হয়ে থাকার হুকুম। একটা নতুন কিছু দেখবার নতুন কিছু বোঝবার থেকে বঞ্চনা।
কাছে এসে গলা নামাল লতিকা। 'সিক রিপোর্ট করে দিলে হয় না?'
নিবারণ হাসল। সে হাসির অর্থটা ভয়ের মতন স্পষ্ট।
সেবার মিথ্যেমিথ্যি সিক রিপোর্ট করেছিল নিবারণ। ফলে বড় ছেলে অন্তুর ডবল-নিউমোনিয়া হয়েছিল। আরেকবার হয়েছিল নিজের রক্ত-আমাশা। এমনিতে কত মিথ্যের মধ্যে তো আছে তারা, ছোট-বড় কত জুয়াচুরির মধ্যে_সেগুলি যেন গায়ে লাগে না, সেগুলির যেন বোধস্পর্শ নেই কিন্তু অসুখের ভয়টা যেন বুক চেপে-ধরা, দম-বন্ধ করার মতন। লতিকা কথা ফিরিয়ে নিল তাড়াতাড়ি। বললে, 'আর কোনো উপায় নেই?'
আরেক উপায় কেতাবে সই না করা। অর্থাৎ বাড়িতে না-থাকা। মামুলি রেস্টের পর পরোয়ানার প্রত্যাশায় তুমি বাড়িতে তটস্থ হয়ে থাকবে না, এ হতেই পারে না। নিজের কর্মদণ্ড নিজেকেই সই করতে হব। তা যদি না করো, তবে তোমার জরিমানা হবে, নামিয়ে দেবে নিচু মাইনেতে, পাশ-ইনক্রিমেন্ট বন্ধ করে দেবে। চাকরি করতে বসে এ-সব গুনাগারে সাধ্য থাকতে কে রাজি হয় বলো?
তবু ওরই মধ্যে জিজ্ঞেস করে লতিকা : 'এবার কোথায় ট্রেন হলো?'
'গয়া'।
যেন কত উপেক্ষার সুর। মোকামায় না গিয়ে এবার যে নিবারণ গয়া যাচ্ছে আর লতিকা যে কোথাও যাচ্ছে না, থাকছে বাড়ির মধ্যে বন্ধ হয়ে_দুই-ই যেন একই কথা।
একজন যাচ্ছে আরেকজন যে বসে থাকছে দুই-ই যেন সমান নিরর্থক।
কিন্তু এখন আর বসে থাকা চলবে না লতিকার। খাবার-দাবার তৈরি করে দিতে হবে নিবারণকে। যে উনুন সে আজ জ্বালতে যাচ্ছিল, মাখতে যাচ্ছিল যে আটা, তাতে আজও সে কোনো নতুন অর্থ দিতে পারল না।
শুরু হয় সেই মামুলি কর্মচক্র।
সেজেগুজে বেরিয়ে পড়ে নিবারণ। যেন বাজারে যাচ্ছে বা বেড়াতে যাচ্ছে_তার যাওয়ার চেহারাটা যেন এমনি। লতিকা একটু দাঁড়িয়ে পর্যন্ত দেখে না। ছেলেমেয়েগুলো কে কোথায় ছিটকে রয়েছে তার কোনো খোঁজ-খবরের দরকার নেই। যাবার আগে লতিকাকে কোনো বিষয়ে কিছু বলতে বা সতর্ক করে দিতে হবে না। কবে ফিরবে, কাল না দু-তিন দিন পর সে প্রশ্নও অবান্তর। দিন-দিন কেরানি যেমন অফিস করতে যায় এও তেমনি। এদিকে হোক মোকামা বা গয়া, ওদিকে খিদিরপুর বা চিৎপুর সব একই চর্বিতচর্বণ। একই থোড়-বড়ি-খাড়া। এতটুকু রহস্য নেই কোথাও। নেই এতটুকু কোথাও নতুনতরো অনুভূতি!
'এ-এস-এম'-এর অফিসে গার্ডের হাজিরা বইয়ে সই করে নিবারণ। ঠিক কটার সময় গাড়ি সাজানো হবে জেনে নেয়। বঙ্-গোডাউনে গিয়ে বোতলে খাবার জল ভরে। জল আর টিফিন-কেরিয়ার বাঙ্ েভরে চলে যায় অয়েল গো-ডাউনে। ওখান থেকে টেইল-ল্যাম্প নিতে হবে সই করে। ট্রেনের পিছনে যে লাল বাতি জ্বলে সেইটেই টেইল-ল্যাম্প। আরো, নিতে হবে কেরোসিন তেল। সেই তেলে হাতবাতি জ্বালাবে, জ্বালাবে টেইল-ল্যাম্প আর সাইড-ল্যাম্প। আজ চারটের সময় বই হয়েছে যখন, ষোলো আউন্স তেল পাওয়া যাবে। একটু যেন আশ্বস্ত হলো নিবারণ। তেল কিছুটা সরানো যাবে আজকে।
তেলও ভরা হলো লাইন-বঙ্।ে কী না আছে এই বাঙ্টায়! টাইমটেবল, একটা লাল আরেকটা সবুজ নিশান, টেইল-ল্যাম্প, আর সাইড-ল্যাম্পের তিনটে বার্নার, দুটো লাল স্লাইড আর ডিটোনেটর। তা ছাড়া গার্ডস মেমো-বই_তাতে লেখা থাকবে ট্রেনের নম্বর, যাবে কোথা, কটার সময় অ্যারেঞ্জ, কটা ওয়াগন_তাদের টেয়ার-ওয়েট কত, কতই বা লোড-ওয়েট_স্টেশনের কোড, কোন স্টেশন কোন সময় পার হলো তার ফিরিস্তি। তারই এক পাশে টিফিন-কেরিয়ার, জলের বোতল, গ্লাস_সঙ্গে ছোট্ট ভাঁড়ার ঘর_চাল ডাল আটা নুন তেল মসলা আলু পেঁয়াজ চা আর চিনি। হ্যাঁ, মাথার তেল-সাবান, দাড়ি কামাবার সরঞ্জামও আছে।
বাঙ্-কুলির টিন্ডেল এসে ল্যাম্প টিন্ডেলের থেকে জেনে নেয় ইয়ার্ডে কোন লাইনে গাড়ি দাঁড়িয়ে। লাইন-নম্বর বলে দেয় সে বাঙ্-কুলিকে। বাঙ্-কুলি সেই নম্বরের ট্রেনের ব্রেক-ভ্যানে তুলে দিয়ে আসে বাঙ্।
বাঙ্ পাঠিয়ে দিয়ে অ্যাসিস্ট্যান্ট ইয়ার্ড-মাস্টারের ক্যাবিনে যেতে হয় নিবারণকে। সেখানে নাম্বার-টেকাররা ট্রেনের ফর্দ বা 'গাইডেন্স' বানিয়ে রেখেছে। মানে, কতগুলো ওয়াগন আছে, কোথা থেকে আসছে, কোথায় যাবে, টেয়ার-ওয়েট লোড-ওয়েট কত_তার হিসেব। ফর্দ মিলিয়ে একধার থেকে গাড়ি চেক করতে শুরু করো এবার। দেখ সিল আর রিভেট ঠিক আছে কিনা,_এধার দেখেছ তো ওধার পরখ করো। বয়ে গেছে অত মিলিয়ে দেখবার। একটা মাল-গাড়ির ফুল-লোড হলো ষাট ওয়াগন_এটার মধ্যে আছে বুঝি পঞ্চান্নটা। কোথায় কোনো ফ্ল্যাপ-ডোর আলগা থাকে তো থাক না_তার কি। যারা মাল বুক করে তারা দেখতে পারে না? কিন্তু গাড়িতে গাড়িতে কাপলিং ঠিক আছে কি না, অর্থাৎ শেকল দিয়ে গাঁটছড়া বাঁধা আছে তা আঁট হয়েছে কি না_তা তো দেখবে। বয়ে গেছে। তার জন্যে মাইনে দেয়া হয় না নিবারণকে।
ওয়াচম্যানের খাতায় তাড়াতাড়ি সই করে দেয় নিবারণ। হ্যাঁ, পঞ্চান্ন ওয়াগন সিল-রিভেট করেক্ট। ঠিক আছে। ও-কে।
তারপর ড্রাইভারের সঙ্গে দেখা করে। ঘড়ি মিলিয়ে নেয়। কোম্পানির থেকে ঘড়ি দিয়েছে দুজনকে। সে যেমনতরোই ঘড়ি হোক, মিল থাকলেই হলো। গাইয়ে-বাছুরে মিল থাকলে বনে গিয়েও দুধ দেবে।
ড্রাইভার জেটিআর ফর্ম আর ফুয়েল ফর্ম বের করে দেয় নিবারণকে। জেটিআর মানে জয়েন্ট ট্রেন রিপোর্ট_কটার সময় কোন স্টেশন পার হচ্ছে ট্রেন তার হিসাব দুজনকে রাখতে হবে আলাদা। শেষ স্টেশনে পেশ করতে হবে। মিল না থাকলেই মুশকিল। তা একযাত্রায় কি পৃথক ফল হয় কখনো? কী বলো হে ইয়াসিন?
এঞ্জিনের টেন্ডারে কটন কয়লা নিয়েছো নয় টন। দেখো এই ফুয়েল-ফর্ম।
সিগন্যাল ডাউন হলেই স্টার্ট কোরো। ইয়াসিনকে বলে দিয়ে নিবারণ তার ব্রেক-ভ্যানে গিয়ে ওঠে।
হ্যাঁ, এই ইয়ার্ডে সিগন্যাল আছে। যে ইয়ার্ডে সিগন্যাল নেই সেখানে ট্রেন অ্যারেঞ্জ করলেই ঝামেলা। ড্রাইভারকে গিয়ে স্টার্টিং অর্ডার নিয়ে আসতে হবে। তটস্থ হয়ে বসে থাকো ততক্ষণ। স্টার্টার সিগন্যাল আর অ্যাডভান্স স্টার্টার সিগন্যালের মধ্যে অল-রাইট সিগন্যাল দেখাও_রাত হলো শাদা আলো দেখিয়ে, দিন হলে হাত নেড়ে, তুমিও দেখাও ড্রাইভারও দেখাক। একটু ভুলচুক হলেই কেলেঙ্কারি। ভাগ্যিস এই ইয়ার্ডটা তেমনি কানা নয়_লাল-সবুজ চোখ আছে জ্বলজ্বলে। তাই ড্রাইভারের উপর ভার দিয়ে ব্রেক-ভ্যানে গিয়ে বসেছে চুপচাপ। যখন ছাড়তে হয় ছাড়বে।
একেবারে চুপচাপ। পঞ্চান্নখানা মালবোঝাই ওয়াগনের পিছনে একা-একা চুপ করে বসে থাকা। সেই কত দূরে এঞ্জিন, সেইখানে যা প্রাণস্পর্শ। তবু তো এঞ্জিনে ড্রাইভারের পাশে ফায়ারম্যান থাকে জ্যাক থাকে_গল্প করা যায়। কিন্তু গার্ডের কেউ নেই কিছু নেই। মাইলের পর মাইল চলেছে গাড়ি, সে একেবারে একা। চলেছে বন-জঙ্গলের মধ্য দিয়ে, অন্ধকার চিরে-চিরে, তাকে ঘিরে সমস্ত বিশ্ব-সংসার যেন অনন্ত শূন্যে ভরে রয়েছে। তার যেন কোনো আত্মীয় নেই, প্রতিবেশী নেই_কেউ এসে তাকে খুন করে গেলেও কেউ বাধা দেওয়া দূরে থাক অস্ফুট আপত্তিও করবে না। ইয়াসিনও বুঝতে পারবে না সে খুন হলো। যদি কারা গাড়ি থামিয়ে ওয়াগন লুট করে, মুখ বাড়িয়ে একবার দেখবেও না নিবারণ। ঘুম না এলেও ঘুমুবার ভান করবে। ডাকাতদের সঙ্গে সে লড়তে যাবে নাকি খালি-হাতে। এই একটানা একঘেয়েমির চেয়ে রাস্তার মাঝে দু-একটা রাহাজানি মন্দ নয়। অন্তত খানিক লোকজনের হৈ-চৈ কানে আসে।
দশ দিক আঁধার করে রাত নেমেছে। এটা থ্রু গুডস-ট্রেন, ওয়াটারিং স্টেশনে ছাড়া থামবে না। কিন্তু মেইল ও এঙ্প্রেস, এমনকি প্যাসেঞ্জারকে পর্যন্ত আগে যাবার অধিকার ছেড়ে দিয়ে লুপে গিয়ে শান্ট করছে। কখনো বা সেকশন ক্লিয়ার পায় না, পিছনের স্টেশনে দাঁড় করিয়ে রাখে।
যদি স্টেশনে এসে দাঁড়ায় তবে দু-চারটে আলো বা গোটাকয় নিশ্বাসের না-হয় আভাস মেলে। তখন আভাস মেলে। তখন আসান লাগে কিছুটা। তাইতে যারা প্যাসেঞ্জারে কাজ করে তাদের তত হয়রানি নেই। কতক্ষণ পরে-পরেই তারা মানুষের হাঁক-ডাক শোনে, নিজের সমসুখদুঃখের সঙ্গী কেউ আছে তার পরিচয় পায়। কিন্তু এখানে এ-যাত্রায় কতক্ষণে স্টেশন পড়বে! আর স্টেশন পড়লেই বা কি! প্যাসেঞ্জার কই? কই সেই সুন্দর জনকোলাহল?
নিবারণ একেবারে একা। নিরবকাশ ভাবে নিঃসঙ্গ। পঞ্চান্নটা গাড়ির পরে কোথায় ড্রাইভার আর ফোরম্যান আর জ্যাক, হাত বাড়িয়ে নাগাল পায় না কিছুতেই। মনে হয়, গাড়ি যেন কেউ চালাচ্ছে না, গাড়ি আপনিই চলেছে। যেন কোথাও থামবে না কোনোদিন। শুধু কতগুলো রাশিভূত বস্তু আর সে একাকী এক প্রাণ, এছাড়া আর কেউ নেই এই গতির উন্মুক্তিতে।
ঠিক এমনি করেই ভাববে না নিবারণ। ভাবছে আজকের জার্নিতে থ্রিল কই? ইয়াসিন কি এ-যাত্রায় কোনো মার্চেন্টের সঙ্গে বন্দোবস্তু করেনি?
প্যাসেঞ্জারের কাজ করলে অনেক সুবিধা। লোডিং মানির বখরা পাওয়া যায়। ব্রেকে যে সব মাল যায় তাতে পয়সা দেয় মার্চেন্টরা। পার্সেল-ক্লার্করাই তা উসুল করে, ভাগের পয়সা লোডিংয়ের সময় দিয়ে দেয় গার্ডকে। ধরা পড়বার ভয় নেই। আর যদি টি-টি-ই হতে পারতে, তবে 'ঝাঁপসেই' ফেঁপে উঠতে নিটোল হয়ে। 'ঝাঁপস' শোনোনি বুঝি। ও একটা মুখ চলতি টার্ম_ঝাঁ করে আপস করতে হয় বলেই সন্ধি করে ঝাঁপস। হ্যাঁ বাবা, সন্ধি করো। তোমার অন্ধিসন্ধি আমি জানি, আমারটা তুমি জানো। তবে কেন মিছিমিছি খচখচ করছ?
সুখে কাজ করে বটে গুডস ক্লার্করা_স্থায়ী ডে-ডিউটি, ঘুমের কোনো ব্যাঘাত নেই, আর উপরিও স্বচ্ছন্দ।
আর তোমাদের?
আমাদের কথা আর বোলো না। বলতেই বলে এক পা রেলে এক পা জেলে। মারি তো গণ্ডার লুটি তো ভাণ্ডার। আর চোকা কড়ি রোখা মাল। হাতে-হাতে দে রে ভাই দাঁতে-দাঁতে খাই।
কিন্তু আজ হলো কী? কোনো বন্দোবস্তই কি করেনি আজ ইয়াসিন? আজ কি ডোল-ভরা আশা আর কুলো-ভরা ছাই?
কোনো স্টেশনের বাইরে কি আজ আর গাড়ি দাঁড়িয়ে পড়বে না? আসবে নাকি কোনো মার্চেন্টের সাঙ্গোপাঙ্গরা। অফ-সাইডে সিল-রিভেট না থাকে তো ভালোই, আর থাকলেই বা খুলে ফেলতে কতক্ষণ? এই জঙ্গুলে অন্ধকারে কে তাঁর খোঁজ রাখছে? সেই সব সাঙ্গোপাঙ্গরা ঢেরা-দেওয়া গাড়ি থেকে মাল খালাস করে নেবে না_চিনি বা আস্ত গম বা কেরোসিন? সঙ্গে সঙ্গে ড্রাইভার আর গার্ডের হাত আসবে না নোটের পাঁজা?
ট্রেন যে হঠাৎ থামিয়ে দিলে তার জবাবদিহি কী? ড্রাইভার মুখে-চোখে নিরীহ-নির্দোষের ভাব এনে বলবে, কী করব, এঞ্জিনে স্টিম পড়ে গিয়েছিল, স্টিম বানাতে হচ্ছিল, কিংবা কয়লা ঝামা হয়ে গিয়েছিল, আগ বানাতে হচ্ছিল_
পরের স্টেশনে হয়তো চেক করতে আসবে ওয়াচম্যান। হয়তো খোলা দেখবে গাড়ি। দেখুকগে, বয়ে গেল। ওয়াচম্যানের বইয়ে গার্ড রিমার্ক দিয়ে দেবে, গাড়ি খুলে দিয়েছে কে মাঝপথে, জিআরপিকে না হয় তারা করে দেবে, মেসেজ পাঠাবে ওয়াচম্যান ইন্সপেক্টরের কাছে। তারপরে তোমরা ইনকোয়ারি করো। আর যার মাল খোয়া গেছে সে উলটে ক্লেম দিয়ে বা কোর্ট করে তার ক্ষতি-খেসারত আদায় করে নিক।
ওয়াচম্যানও কম যায় না। গার্ডের থেকে অল করেক্ট সই নিয়ে পরে গাড়ি খুলে মাল বার করে নেয়। গাড়ি তখন হয়তো অন্য স্টেশনে চলে গিয়েছে, ওয়াচম্যানের আর ঝক্কি নেই। ফাঁসবে তো গার্ড ফাঁসবে। তখন সে ভাঙা গাড়ি সিল করিয়ে চেকিং-এর জন্যে কেটে রেখে মেসেজ পাঠিয়ে দাও। শুরু হোক ইনকোয়ারি। গার্ড বলবে, আমি জানি কি, মাঝপথে কে কেটেছে_আর ওয়াচম্যান বলবে আমি জানি কি, এই দেখ গার্ডের অল-করেক্ট দস্তখত। আর ড্রাইভার এমন একখানা মুখ করবে যেন তিলক না কাটলেও সে পরম বৈষ্ণব। সে যে কখন কার সঙ্গে সড় করবে কেউ জানে না। সর্বাঙ্গে ঘা, ওষুধ লাগাবে কোথা? সুতরাং লাগে টাকা দেবে গৌরী সেন, খেসারত দিয়ে মরো রেল কোম্পানি।
এ রকম একটাও বড় দাঁও পড়েনি নিবারণের হাতে। একবার একটা হাতে আসতে আসতে ফসকে গেল। পরের মাল চুরি করে নেয় মার্চেন্টের চর-অনুচর, এতে হাঙ্গামা বেশি। সবচেয়ে সুবিধে নিজে মাল চুরি করা। গাড়ি চিনতে দেরি হয় না, আর মাল বার করবার কায়দাটাও রপ্ত-মুখস্থ থাকে। চক্ষের নিমেষে ঘটে যেতে পারে ঘটনা।
হলোও তাই। ব্রিজ রিপেয়ার হচ্ছে, গাড়ি দাঁড় করাল ড্রাইভার। কিছু বলতে পারো না ড্রাইভারকে। হুকুম টাঙ্গানো আছে। স্টপ ডেড ফর টু মিনিটস। যেই গাড়ি দাঁড়াল, অমনি বরজলাল মাড়োয়ারীর লোক এসে তাদের গাড়ি খুলল। বাইরের চেহারা থেকেই বুঝে নিলে কোন গাড়ি। কিভাবে সিল-রিভেট ভেঙে খুলে ফেলতে হবে দরজা জানা আছে তার কল-কৌশল। গম যাচ্ছিল বস্তা করে। চক্ষের পলকে প্রায় কুড়ি বস্তা ধুপধুপ করে ছুড়ে ফেললে মাটিতে। স্টার্ট দিল গাড়ি, একটা লোক বুঝি ফাইভ মাইলস পার আওয়ার। নেমে পড়ল লোকটা। ট্রাক তৈরি ছিল রাস্তায়। বোঝাই হয়ে গেল বস্তা। বেরিয়ে গেল এক ফুঁয়ে। যেখানকার গম সেখানে গিয়ে উঠল।
নিবারণ নিরিবিলিতে দেখা করেছিল ড্রাইভারের সঙ্গে। সে তো আকাশ থেকে পড়ল। ব্রিজের মুখে গাড়ি দাঁড় করাতে হবে এ তো সরকারের হুকুম। সে কাঁটায়-কাঁটায় হুকুম তামিল করেছে_সে কিছুই জানে না। এক আঙুলে দিব্যি তুড়ি বাজিয়ে গেল সে।
বরজলালের গদিতেও খোঁজ করেছিল নিবারণ। তারা স্পষ্ট মুখ মুছলে। কে-না কে ডাকাতি করে মাল বার করে নিয়েছে তারা তার জানে কি। তারা উলটে ক্লেম দিয়েছে অফিসে। ক্লেম না মানে মোটা টাকার মামলা ঠুকবে আদালতে।
একেই বলে খাবে আবার ছাঁদাও বাঁধবে।
এ তো সামান্য চুরি। কখনো কখনো আবার তেন্নাথের মেলা হয়। ড্রাইভার, গার্ড আর ক্যাবিনম্যান_ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বর_ত্রিনাথের যোগাযোগ। সেসব পুকুরচুরি না বলে বলতে পারো গুদোম চুরি। ক্যাবিনম্যান আউটার সিগন্যাল খারাপ করিয়ে রাখে। সিগন্যাল যদি কাজ না করে তবে গাড়ি চলে কী করে? ড্রাইভারকে তাই আউটার সিগন্যালের কাছে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখতে হয়। জে-টি-আর-এ ভালো করে কৈফিয়ত লেখে গার্ড। ডিসট্যান্ট সিগন্যাল আউট অফ অ্যাকশন। সিগন্যাল সারিয়ে ফের চালু করতে কম-সে-কম দশ-পনেরো মিনিট লাগে। আর সেই দশ-পনেরো মিনিটের মধ্যেই চিচিং ফাঁক_যাকে বলে গুদোম সাবাড়।
এসব বড় চুরি। রাজসূয় ব্যাপার। এসব ব্যাপারে অংশ নিতে পারাও ভাগ্যের কথা। নিবারণের অদৃষ্টে ঘটনাচক্র এমনভাবে কখনোই ঘুরবে না, যাতে সে তেন্নাথের মেলায় বসে এক ছিলিম গাঁজা টানতে পারে। সে ভীরু, সে খুঁতখুঁতে।
এমনি ড্রাইভার যা জোগাড় করে দিয়েছে মাঝে-মধ্যে। পথের মধ্যে যা দু-একটা ছককাটা ফন্দি-আঁটা রাহাজানি হয়েছে তারই লাভের বখরা। নিবারণ সাতেও নেই পাঁচেও নেই, হঠাৎ খ্যাচ করে বন্ধ হয়ে গিয়েছে গাড়ি। গাড়ি বন্ধ না হলে মাল খালাসি চলবে কী করে? আর, গাড়ি বন্ধ হলেই গার্ডের তাঁবেদারিতে চলে এলে। কেননা গার্ডের হাতে জি-টি-আর, টাইমিং-এর ফিরিস্তি। অতএব গার্ডের হাতেও কিছু গুঁজে দাও।
কিন্তু সব সময়েই ছক কেটে আসে না। এসে পড়ে গ্রাম্য ডাকাতের দল। লাইনের উপরে পাথর বা গাছ ফেলে রাখে। গাড়ি দাঁড় করিয়ে লুটতরাজ করে। দু-প্রান্তের দুই লোক, কোনো সংযোগের সুবিধে নেই_তাই চুপচাপ বসে থাকো যে যার এলেকায়। আর সংযোগ থাকলেই বা কী, লুটেরাদের বাধা দেবার তোমাদের রসদ কোথায়? আর যেখানে রস নেই সেখানে রসদ থাকলেই বা কী? নাকে তেল দিয়ে ঘুমোও, ডাকাতরা চলে গেলে হাতবাতি দেখিও, স্টার্টের সিটি দেবে ড্রাইভার।
ডাকাত যদি না থাকে, খুচরো চোর আছে অগণ্য। দিলি্ল থেকে হাওড়া পর্যন্ত চলেছে এই চোরের অক্ষৌহিণী। এরা গাড়ি থামায় না বটে কিন্তু যেখানে গাড়ি থামে, স্টেশনেই হোক বা স্টেশনের বাইরেই হোক, ঠিক এসে হাজির হয় কাতারে-কাতারে। প্রত্যেকের হাতে একটা করে সরু লোহার শলা আর গলায় একটা করে বেশ খানিকটা কাপড়ের টুকরো বাঁধা। প্রতিটি গ্রামের কামারশালায় তৈরি হচ্ছে এই লোহার শলা, কারুর বা চাই লিকলিকে তলোয়ার। মালগাড়ি দাঁড়ালেই প্রতিটি ওয়াগনের ফ্ল্যাপ-ডোরের ফাঁকের ভিতর দিয়ে এরা শলা ঢুকিয়ে ঢুকিয়ে খোঁচা মারে। নেহাত যদি পাট বা তামাক হয়, তা হলে অবিশ্যি কোনো সুসার নেই, কিন্তু শুকনো আর দানা-ওয়ালা বা গুঁড়ো গুঁড়ো জিনিস হলেই খোঁচা খেয়ে ঝরঝর করে বেরুতে শুরু করবে। আর সেই বেরুনো, শর্ষে কি মুশুরি ডাল, আটা কি সুজি, চিনি কি চাল_বা নিতান্ত বিড়ির শুকো_গলার কাপড় তুলে ধরে ভরে নাও এক থলে। এমনি জনে জনে, যার যেমন ভাগ্য। আর যেই গাড়ি চলল অমনি সবাই এক দাপটে পগার পার।
কি হলো আজ? বরাকর_আস্তে আস্তে ধানবাদ পেরুল_এখনো কোনো থ্রিল নেই? ড্রাইভার কি আজ একেবারে বেকার হয়ে থাকবে?
কী মনে করে বাইরে একবার তাকাল নিবারণ। একি, জমাট মেঘ করেছে যে!
বৃষ্টি শুরু হলে কী অবস্থা যে হবে এ ব্রেক-ভ্যানের, ভাবতেও মন খারাপ হয়ে যায়। ফাটা দিয়ে পড়বে জল আর ফুটো দিয়ে ঢুকবে হাওয়া। কিন্তু কে জানে বৃষ্টি শুরু হলেই বোধ হয় পার্টিরা এসে দেখা দেবে। অন্ধকার যত বেশি ঘোরালো হয়, ততই যেন চুরির সুবিধে।
সুবিধে হলেই বা কী, না হলেই বা কী, নিবারণ কী জানে! নিজের থেকে তার কোনো তোড়জোড় নেই, যন্ত্রতন্ত্র নেই। ড্রাইভার যদি কোথাও কোনো ব্যবস্থা করে রাখে, আর তা যদি তার এলাকায় এসে পড়ে, তবেই সে আশা করতে পারে কিছু। নইলে তার কাঁচকলা।
ঘুষ না পেলেও ঘুষের স্বপ্ন দেখতে মন্দ লাগে না।
মাঝে মাঝে মালগাড়িতে ক্যাটল ওয়াগন থাকে। তার মানে গরু-মোষ যায় বোঝাই হয়ে। কিছু দুধ দুয়ে দে দেখি। সঙ্গে যে গয়লা থাকে সে দুয়ে দেয় গাড়িতে বসে। সঙ্গে দু-চারজন বেশি লোক নিতে যদি চাস, সিগারেট খাবার জন্য দু-চারটে টাকা দে, নিয়ে যা পাহারাদার। আর যদি কখনো তারা গাঁইগুঁই করে বলে, তোদের গাড়ি হট-অ্যাঙ্ল হয়েছে, মানে চাকা গরম হয়েছে_কেটে রাখতে হবে গাড়ি। কেটে না রাখলে আগুন লেগে যাবে, বেলাইন হয়ে যাবে গাড়ি, সর্বনাশ হয়ে যাবে। নে, নেমে পড়। তখন হাতজোড়। তখন দু-পাঁচ টাকা বেশি আসে।
সারাক্ষণ নিবারণ কি শুধু ঘুষের কথাই ভাববে?
তা ছাড়া আর কী আছে ভাববার?
কোনো একটা বই পড়ো না।
বই পড়বে। যা তোমার গাড়ির দুলুনি আর ঝাঁকুনি সাধ্য কি তুমি বইয়ের লাইনের উপর সোজা করে চোখ রাখো!
বেশ তো, বসে-বসে ঢোলো না। লোকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ঘুমোয়, তুমি তো তবু বসবার জায়গা পেয়েছ।
হ্যাঁ, ঘুমুই, আর সেই ফাঁকে ড্রাইভার একাই ষোলআনা মেরে নিক। আমাকে না বলে ড্রাইভারকে ঘুমুতে বলো।
সেবার মধুপুর থেকে গাড়ি ছাড়ছে, হন্তদন্ত হয়ে এক যুবক আর যুবতী এসে হাজির। দয়া করে তাদের যদি তুলে নেয় নিবারণ। কী ব্যাপার? তারা মধুপুরে আউটিং করতে এসেছিল দেওঘর থেকে, ফিরে যাবার দুপুরের ট্রেনটি মিস করেছে, এখনও যদি এ মালগাড়িতে_তা হলে কেলেঙ্কারির একশেষ হবে। দেখুন, আপনি না দয়া করলে_আপনি যদি না মুখের দিকে তাকান_
মুখের দিকে তাকাবার অত গরজ নেই নিবারণের। সে মনি-ব্যাগের দিকে তাকাল। বললে, দশ টাকা।
তাই দেব, উঠে পড়ল যুবক-যুবতী।
কিন্তু উঠে পড়ে দেখে দুজনের কাছে মিলিয়েও দশ টাকা হয় না। যদি বা হয় জসিডি থেকে দেওঘরের ভাড়ায় কম পড়ে।
নিবারণ বললে, আমি তা জানি না। দশ টাকার এক আধলাও কম নয়। আর তা আগে চাই, এক্ষুনি এক্ষুনি। শেষে জসিডিতে এলে যে কলা দেখিয়ে সটকান দেবে তা হবে না।
দিয়ে দাও পুরোপুরি। মেয়েটি বললে দর্পিণীর মতো। জসিডিতে নেমে দেখা যাবে ধার পাই কি না। পুরোপুরি আদায় করল নিবারণ। দর্পই বলো আর প্রেমই বলো ওসবে চোখ পড়ে না, এখন চোখ শুধু বাঁধা মাইনের উপরে কিছু উপরি আয়ের দিকে। একে আর ঘুষ বোলো না, বোলো বকশিস, বোলো অনুগ্রহ।
কিন্তু আজকের দিনে একটু প্রেমের কথা ভাবলেই বা। স্ত্রীর হাতের অসমাপ্ত মালা নিয়ে চলে এসেছ তুমি। এখন স্নিগ্ধ মনে তার কথা একটু ভাবা উচিত।
স্নিগ্ধ মন-টন বড় কথা। ওসব বড় কথা বড় ভাব পাবে না ঘুণাক্ষরে। বরং ভাবা যাক, গাড়ি কখন থামবে কোন মাঠের মাঝখানে, আসবে কোন এক মার্চেন্টের লোকজন, মাল-খালাসির মিলবে কিছু নগদ মুনাফা। তা হলেই প্রেম পরিতৃপ্ত হবে। পেট পরিতৃপ্ত।
গয়া থেকে ফিরে গিয়ে নিবারণ যদি বলে, আর কিছু নয়, শুধু এই কেরোসিন তেলটুকু এনেছি, তখন কী বলবে লতিকা? বলবে কেরোসিন তেলটুকু গায়ে ঢেলে দেশলাই ধরিয়ে দাও। দিয়ে গয়ায় পিণ্ডি দিয়ে এসো।
সংসার সর্বত্র এই উপরি-পাওনার জন্যেই ছটফটানি। মজুর থেকে হুজুর, কেরানি থেকে কর্ণধার_
গাড়ি থেমে গেল।
বসে বসেই লাট্টু পাকিয়ে ঘুমুচ্ছিল নিবারণ। হঠাৎ চমকে জেগে উঠল। ও মা, বৃষ্টি পড়ছে যে ঝুপঝুপ করে, গুড়গুড় করে মেঘ ডাকছে, বিদ্যুতের ঝলস দিচ্ছে থেকে থেকে। এ কোনখানে দাঁড়াল গাড়ি? কোন জায়গা? দুপাশে একটু দূরে দূরে কালো কালো কদাকার পাহাড়ের পাহারা। আর যখন বিদ্যুৎ নেই তখন কী নিরেট অন্ধকার। গাড়ি আর জায়গা পেল না দাঁড়াতে? এখানে মার্চেন্ট কোথায়?
ধৈর্য ধরো। ঘাবড়াও কেন? গাড়ি যখন থেমেছে তখন মজা একটা আছেই।
মজা বুঝতে দেরি হলো না নিবারণের। গাড়ি পার্টিং হয়ে গেছে। ভ্যাকম-গজ-মিটারের কাঁটা জিরোতে গিয়ে ঠেকেছে। কাপলিং ছিঁড়ে গেছে ওয়াগনের। হয়তো ভেঙে গেছে ড্র-বার।
এখন উপায়?
জায়গাটার দিকে ঠাহর করে একবার তাকাল। বিশালকায় পাহাড় আর বুনো ঝোপঝাড় দেখেই সে আন্দাজ করেছিল_তবু বিদ্যুতের আলোয় মাইল-পোস্ট দেখে সে নিঃসন্দেহে হলো পরেশনাথের কাছাকাছি। ঠিকঠাক বলতে গেলে পরেশনাথ পেরিয়ে এসে পরের স্টেশনে চৌধুরীবাঁধের মাইল দুয়েক দূরে এসে ঠেকেছে।
ধারে-পারে কোথাও জন-প্রাণী নেই। নেই ছিটে-ফোঁটা আলোর কণিকা। আকাশের একটি তারাও জেগে নেই। তাকিয়ে নেই বিশাল ভয়াল অন্ধকার। অজানার রাজ্য।
একটা সিগারেট ধরিয়ে মনে সাহস আনতে চাইল নিবারণ। দেশলাই জ্বলল অনেক ঘষাঘষি করে। ঘড়িতে দেখল রাত প্রায় দুটো। কিন্তু সিগারেট ধরানো গেল না। সিগারেট ভিজে জ্যাবজেবে হয়ে গিয়েছে।
যদিও শত ছিদ্র দিয়ে জল পড়ছে ব্রেকভ্যানে, গাড়ির চেহারা দেখতে তবু নেমে দাঁড়াল না নিবারণ। তার ভয় করতে লাগল। ভীষণ ভয় করতে লাগল। মনে হলো কে যেন তাকে হঠাৎ একটা বিরাট অনুভূতির মধ্যে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। যা বিরাট তা-ই ভয়ংকর।
খানিক পরে ঢিকোতে-ঢিকোতে ড্রাইভার এসে হাজির।
দু খণ্ড হয়ে গিয়েছে গাড়ি। ছিঁড়ে গিয়েছে গাঁটছড়া।
প্রথম খণ্ডের লাস্ট ওয়াগনের নম্বরটা দেখে এসেছ? ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করল নিবারণ।
হ্যাঁ, ড্রাইভার নম্বর দিলে।
তবে আর কি, ঐ লাস্ট নম্বর দিয়ে মেমো লিখে দিই আগেই স্টেশনের এ-এস-এমকে। মেট আর জ্যাককে নিয়ে তুমি প্রথম খণ্ডটা নিয়ে বেরিয়ে যাও এঞ্জিন সমেত। এ-এস-এম কন্ট্রোলকে খবর দেবে। তারপর ইতিমধ্যে যদি বেঁচে থাকি, আসবে রিলিফ এঞ্জিন। মুণ্ডু চলে গিয়েছে আগে, পরে টেনে নিয়ে যাবে ধড়টাকে।
আগের আধখানা ট্রেন নিয়ে ড্রাইভার বেরিয়ে গেল। জীবনের সঙ্গে যে একটু ক্ষীণ সংস্পর্শ ছিল তাও গেল নিশ্চিহ্ন হয়ে।
আধখানা ট্রেনের শেষ চাকার শব্দ মিলিয়ে গেল অন্ধকারে। কোথাও আর সম্পর্কের এতটুকু বন্ধন রইল না। সে একেবারে একা, নিঃশেষ রূপে নিঃসঙ্গ। তাকে ঘিরে প্রাচীন অরণ্য, মহামহিম পর্বত আর অগম্যরূপ অন্ধকার। এই বিশ্বসংসারে সে শুধু সঙ্গীহীন নয়, সে একেবারে দ্বিতীয়রহিত। পৃথিবীতে পরিত্যক্ত প্রথম প্রাণ।
কিন্তু ভয়ে কুঁকড়িসুকড়ি হয়ে ব্রেক-ভ্যানে বসে থাকলে চলবে না। তাকে তার শেষ আশ্রয়টুকু ছেড়ে নেমে পড়তে হবে ওই অপরিচিত অন্ধকারে। এই দুর্বোধ উপস্থিতির মুখোমুখি।
কিসের টানে নেমে পড়ল নিবারণ। চারিদিকে চোখ বুলিয়ে একবার বুঝে নিতে চাইল চেহারাটা। চোখ বন্ধ হয়ে গেল। চারিদিকে শুধু বিশালস্তূপ পাহাড় আর দুর্ভেদ্য জঙ্গল। আর সমস্ত চরাচর আচ্ছন্ন করে দুর্জ্ঞেয় অন্ধকার। তার সংকীর্ণ সংসার থেকে ছিন্ন করে কে নিয়ে এল তাকে এই বিশাল অনুভূতির মাঝখানে। তার ছোট ঘর ছোট উঠোন থেকে অন্তহীন এই অঙ্গনের মুক্তিতে। তার প্রাণধারণের ছোট ছোট চেতনার বিন্দু থেকে মহিমময় মৃত্যুর মুখোমুখি।
খল-খল-খল-খল শব্দে কে যেন হঠাৎ উচ্চ রোলে হেসে উঠল। ভয়ে চমকে উঠে চোখ মেলল নিবারণ। না, ভূত-প্রেত নয়, কাছেই কোথায় একটা পাহাড়ি ঝরনা বৃষ্টির জল পেয়ে উল্লাস করে উঠেছে। কে জানে, তাকে দেখে যেন খল-খল-হাস্যে বিদ্রূপ করে উঠেছে। যে মহা স্তব্ধতা পুঞ্জিত হয়ে আছে পাহাড়ে-অরণ্যে তা যেন অমনি এক উপহাসেরই উচ্চসুর। সে যে এক ক্ষীণপ্রাণ হীনগতি প্রগলভ মানুষ তারই প্রতি উপহাস। তার যে একটা ছোট সংসার আছে, ভীরু আশা আর হীন হতাশা দিয়ে তৈরি_তারই প্রতি উদ্ধত ব্যঙ্গ। তার ক্ষুদ্র লোভ ক্ষুদ্র সঞ্চয়ে ক্ষুদ্র ভবিষ্যৎ চেতনার উপরে কঠিন ভর্ৎসনা।
মাইল-পোস্ট লক্ষ্য করে স্লিপারের উপর দিয়ে পিছন থেকে এগিয়ে যেতে লাগল নিবারণ। কোয়ার্টার মাইল দূরে রেল লাইনের উপর ডিটোনেটর প্লেস করতে হবে। গায়ে বর্ষাতি হাতে হাত-বাতি নিয়ে চলেছে সে পাহাড়ের বেষ্টনীর মধ্যে। যেন প্রথম আবিষ্কারের পৃথিবীতে প্রথম মানুষ তার পথ খুঁজে বেড়াচ্ছে। ছিপ ছিপ করে বৃষ্টি হচ্ছে, পা মেপে মেপে এগিয়ে চলেছে নিবারণ। কোয়ার্টার মাইলের মাথায় ডিটোনেটর ফিঙ্ করে দিল। আরো যেতে হবে কোয়ার্টার মাইল। সেখানে গিয়ে দশ গজ দূরে দূরে আরো তিনটে প্লেস করতে হবে। একেই বলে ফগ সিগন্যাল। আকস্মিক যদি কোন ট্রেন এসে পড়ে আপ-লাইনে তবে আধ মাইল দূরেই পরপর তিনটে ফটকা ফাটবে। তখনই কষে দেবে ব্রেক। আর যখন আরো খানিক এগিয়ে এসে একটা ফটকা ফাটবে তখনই করে দেবে ডেড স্টপ। দাঁড়িয়ে যাবে পিছুকার ট্রেন, বেঁচে যাবে দুটো গাড়িই।
কিন্তু পা চলে না আর নিবারণের। মনে হয় আরো কোয়ার্টার মাইল এগিয়ে যাবার আগেই যেন দুর্দান্ত বেগে ছুটে আসবে পিছনের ট্রেন। মুহূর্তে সর্বনাশ ঘটে যাবে। বিদীর্ণ হয়ে পড়বে অসহায় মানুষের করুণ আর্তধ্বনি_তাই তো জীবনধ্বনি।
সেই আর্তধ্বনি যেন স্তব্ধীভূত হয়ে আছে এই অন্ধকারে। পাষাণ হয়ে আছে এই পাহাড়ের রুক্ষতায়।
না, দূরের ডিটোনেটরও লাগিয়ে আসতে পেরেছে। বেঁচে যাবে গাড়ি_যদি না ড্রাইভার মাতাল হয়, যদি সে না ঘুমিয়ে পড়ে।
কিন্তু নিবারণ বাঁচবে না। কতক্ষণ পরেই জঙ্গল থেকে বাঘ বেরুবে, কিংবা শুনেছি ভালুক আছে এ অঞ্চলে। বাঘ-ভালুক না হোক, সাপ উঠবে না বেয়ে। যা হবে তা হবে, এখন ফিরে যেতে হবে ফের গাড়ির কাছাকাছি। হাত-বাতি লাল করে তাই দাঁড়িয়ে থাকতে হবে ব্রেক-ভ্যানের পিছনে। দু পাশে দুই সাইড ল্যাম্পের লালবাতি, টেইল-ল্যাম্পের লাল বাতি তার উপরে আবার এই হ্যান্ড সিগন্যালের লাল বাতি। যদি, ডিটোনেটর অগ্রাহ্য করলেও নজরে পড়ে এই সর্বনাশের নিশানা।
কে জানে পড়বে কি না। কিন্তু তার আগেই নিবারণ মরে যাবে। শুদ্ধ আতঙ্কে মরে যাবে। বাঘ-ভালুক চোর-ডাকাত ভূত-প্রেতের ভয় নয়। আরেক রকম ভয়। সংজ্ঞাহীন সীমাহীন শরীরহীন ভয়। একটা বিরাট চেতনা বিশাল উপস্থিতির ভয়। এই দুশ্ছেদ্য অন্ধকারে সে যে একেবারে একা, তার ঘর নেই, বাড়ি নেই, তার স্থির কোনো আশ্রয় নেই, দৃঢ় কোনো পরিচয় নেই তার ভয়। এই মুহূর্তে ক্ষুদ্র ঘুষ ক্ষুদ্র প্রমোশন ক্ষুদ্র স্বার্থসিদ্ধির কথা যে মনে আসছে না_শুধু মৃত্যুর কথা মনে আসছে_তার ভয়।
মনে হচ্ছে সেই ভয় যেন মূর্তি গ্রহণ করছে। সমস্ত পাহাড় অরণ্য স্তব্ধতা-অন্ধকার মিলে এক বিরাট পুরুষের আকার নিচ্ছে তার চোখের সামনে। যেন প্রচণ্ড তাণ্ডব মূর্তি অথচ আদিমধ্যান্তশূন্য অশরীরী_
এই বোধহয় মৃত্যুর আবির্ভাব।
কিন্তু পিছনের সেই উদ্দাম ঊর্ধ্বগতি ট্রেন কই?
না, তার বদলে আকাশ পরিষ্কার হয়ে এসেছে। পূর্ণিমার চাঁদ লাল হয়ে অস্ত যাচ্ছে পশ্চিমে। পুবে লাল হয়ে জাগছে সুগোল সূর্য। নিবারণের মনে হচ্ছে যেন সেই বিরাট পুরুষ দুই হাতে সোনার খঞ্জনি বাজাচ্ছেন, জন্ম-মৃত্যুর খঞ্জনি।
গাইছেন নব জীবনের কীর্তন।
সমস্ত মৃত্যুর পর এই নবজীবনের সংকেত সমস্ত ক্ষুদ্র অস্তিত্বের পর এই বিরাট এক সত্তার অনুভব_এইটিই আজকের উপরি পাওনা।
আজকের নয় অনন্তকালের।
'বাবু, কিতাব!'
সমস্ত সংসার-শান্তির উপরে উদ্ধত বজ্র।
তাড়াতাড়ি বেরিয়ে আসে লতিকা। সত্যি-সত্যি কল-পিওন। নিজের চুল ছিঁড়বে না কল-পিওনের কিতাবটা_বুঝে উঠতে পারে না।
'এ কি, আজ না তোমার রেস্ট বেশি হবে বলেছিলে?'
'হ্যাঁ, রোস্টার আজ ভালো ছিল। ভেবেছিলাম_' গলায় স্বর ফোটে না নিবারণের।
কিন্তু চোখ ফোটাও। পিওন কল-বুকটা চোখের সামনে মেলে ঘরে। হ্যাঁ, সই করো। দেখে নাও ঠিকঠাক। কোন ট্রেন, ইয়ার্ডে কোন লাইনে আছে, কোথায় যেতে হবে এ-যাত্রা। সব বিতং করে লেখা আছে বইয়ে। দেখে নাও। মনে মনে টুকে রাখো।
'তবে কী হবে!' লতিকা ককিয়ে ওঠে।
'আর কী হবে!' তক্তপোশ ছেড়ে উঠে পড়ে নিবারণ।
দশ বছর আগে এমন দিনে তাদের বিয়ে হয়েছিল। প্রথম পাঁচ বছর তারা ছন্নছাড়ার মতো ঘুরে বেড়িয়েছে_নিবারণ মেসে, লতিকা বাপের বাড়ি, নয়তো বা শ্বশুরবাড়ির কোনো আত্মীয়ের আশ্রয়ে। ছ বছরের মাথায় তারা প্রথম কোয়ার্টার পায় ইনসাইড কোয়ার্টার। সেও দু-কুঠুরিরই আস্তানা_একটার মধ্যে আরেকটা ঘর। এবার, দশ বছরের বার, পাশাপাশি ঘরের কে-টাইপের কোয়ার্টার পেয়েছে। সামান্য একটু ভদ্রতা এসেছে বসবাসে। ইলেকট্রিক আলো হলে আরো একটু সুন্দর হতো। রেন্ট-সেকশানের বড়বাবুকে ধরেছিল নিবারণ_তিনি একটা আঙুল তুলে দেখিয়েছিলেন। তার মানে ঘুষ চাই এক শ টাকা।
বড় ছোট ঘরে, ছোট জীবনের মধ্যে আছে নিবারণ। স্ত্রীর সঙ্গে খুব একটা সংকীর্ণ সম্বন্ধের মধ্যে একটু অন্য রকম অর্থ দিতে চেয়েছিল আজ। আনতে চেয়েছিল একটু অন্য রকম লাবণ্য। ঠিক করেছিল, আজ, দশ বছর বাদে এই প্রথম, সে তার বিয়ের তারিখে একটু উৎসব করবে। উৎসব আর কি, কজন বন্ধুবান্ধবকে ডেকে একটু চা খাওয়ানো, চায়ের সঙ্গে কিছু না-হয় খাবার তৈরি করে দেবে লতিকা। বাইরে বসবার ঘরের মতো করতে পারা যাবে একটা ঘরকে। তাই যা সুবিধা। বন্ধুরা কিন্তু জানতেও পাবে না কেন কী হচ্ছে_শুধু জানবে তারা দুজনে, একটু বা নতুনতর অর্থে। কিছু ফুল জোগাড় করবে হয়তো। বিশেষ একটি অনুভবের লালিত্যে ফর্সা ও আস্ত একখানা শাড়ি পরবে লতিকা, বিকেলের দিকেই না-হয় দাড়ি কামাবে নিবারণ। মুহূর্তের জন্যে হোক, তবু সব আবার কেমন নতুন মনে হবে, মনে হবে আরম্ভের মতো, অজানার মতো_
রাত-ভোর ডিউটি করে সকাল চারটেয় আজ ফিরেছে নিবারণ। বাড়ি ফেরবার আগে রোস্টার দেখে এসেছে, অবস্থা বেশ ভালো_অনেক নম্বর গার্ড 'ইন' করেছে আজ। এমনিতে ডিউটির পর বারো ঘণ্টা মামুলি রেস্ট, তবে রোস্টারে বেশি গার্ড 'ইন' থাকলে আশা থাকে যে পালা আরো দূরে গিয়ে পড়বে। কিন্তু বিপদ এই, মামুলি রেস্টের পর সব সময়ে বাড়িতে তৈরি থাকো কখন 'কিতাব' এসে হাজির হয়। আজ নিবারণ আন্দাজ করেছিল, বারো ঘণ্টার কায়েমি বিশ্রামের পর আরো কয়েক ঘণ্টা ফাউ মিলবে বোধহয়। সেই ভরসায় করতে গিয়েছিল সে এই হাঙ্গামা। কিছু ফুল-পাতা কিনেছিল, কিনেছিল কিছু গন্ধওয়ালা চা, ছোট্ট এক শিশি দামি এসেন্স।
'বন্ধুদেরও তো বলেছ'_মনে করিয়ে দেয় লতিকা।
'তেমন করে কিছু বলিনি। বলেছিলাম রোস্টার ভালো আছে, দু-চার ঘণ্টা মিলে যেতে পারে একস্ট্রা। এক হাত তাস হবেুখন এসো। আর এলেই_এটা সর্বদা উহ্য_একটু চা-টা।'
তেমন করে কিছু বলিনি। একটু যেন বাজল লতিকাকে। বলতে লজ্জা হয়েছিল নিশ্চয়ই। নিমন্ত্রিত বন্ধুরা এসে ফিরে যাবে তার চেয়ে সে-লজ্জা অনেক বেশি।
'বা, লজ্জা কী! চাকরি যখন করছি তখন চাকরি তো করতেই হবে।'
'এ চাকরি ছেড়ে দিয়ে ভিক্ষে করাও ভালো।'
এই কথাটা আরো একদিন বলেছিল লতিকা। তখন ছিল তারা ইনসাইড কোয়ার্টারে, এক ঘরের মধ্যে আরেক ঘরে। শীতের রাত, পাশাপাশি শুয়ে আছে দুজনে। টিপটিপ বৃষ্টি হচ্ছে তার ওপর। বেশ একটা ঘুম-না-আসা অথচ ঘুমেরই মতন মনোহর রাত। হঠাৎ রাত দুপুরে দরজায় কে ঘা দিলে। 'বাবু! বাবু! কিতাব!' চোর-ডাকাত নয়, কল-পিওন। মাথায় ছেঁড়া ছাতা, হাতে হাতবাতি। গাড়ি বুকিং হয়েছে তারই খবর দিতে এসেছে। এখন যদি রাত বারোটা হয়, গাড়ি নিয়ে নিবারণকে বেরুতে হবে দুটোয়। দু ঘণ্টা আগে নোটিশ আসে কিতাবের। কী গাড়ি জিজ্ঞেস করছ? রাগ কোরো না_মালগাড়ি। একে গার্ড, তায় মালগাড়ির গার্ড।
তবু, তবু সেই তপ্ত শয্যা ছেড়ে উঠে পড়তে হয়েছিল নিবারণকে। দু ঘণ্টার মধ্যে তৈরি হয়ে নিতে হবে। লতিকাকে উঠে খাবার-দাবার করে ভরে দিতে হবে টিফিন-কেরিয়ার। ইউনিফর্ম পরে গায়ে বর্ষাতি চাপিয়ে এক হাতে টিফিন-কেরিয়ার, আরেক হাতে হ্যান্ড-সিগন্যাল ল্যাম্প নিয়ে কাদা-জলের মধ্যে ছপ ছপ করতে-করতে যেতে হবে ইস্টিশান।
বিছানা ছেড়ে উঠতে উঠতে সেদিন বলেছিল লতিকা : 'এর চেয়ে ভিক্ষে করা ভালো ছিল।'
কিন্তু আজ যেন রাগ নয়, আজ দুঃখ। সেই ছোট ঘরে ছোট হয়ে থাকার হুকুম। একটা নতুন কিছু দেখবার নতুন কিছু বোঝবার থেকে বঞ্চনা।
কাছে এসে গলা নামাল লতিকা। 'সিক রিপোর্ট করে দিলে হয় না?'
নিবারণ হাসল। সে হাসির অর্থটা ভয়ের মতন স্পষ্ট।
সেবার মিথ্যেমিথ্যি সিক রিপোর্ট করেছিল নিবারণ। ফলে বড় ছেলে অন্তুর ডবল-নিউমোনিয়া হয়েছিল। আরেকবার হয়েছিল নিজের রক্ত-আমাশা। এমনিতে কত মিথ্যের মধ্যে তো আছে তারা, ছোট-বড় কত জুয়াচুরির মধ্যে_সেগুলি যেন গায়ে লাগে না, সেগুলির যেন বোধস্পর্শ নেই কিন্তু অসুখের ভয়টা যেন বুক চেপে-ধরা, দম-বন্ধ করার মতন। লতিকা কথা ফিরিয়ে নিল তাড়াতাড়ি। বললে, 'আর কোনো উপায় নেই?'
আরেক উপায় কেতাবে সই না করা। অর্থাৎ বাড়িতে না-থাকা। মামুলি রেস্টের পর পরোয়ানার প্রত্যাশায় তুমি বাড়িতে তটস্থ হয়ে থাকবে না, এ হতেই পারে না। নিজের কর্মদণ্ড নিজেকেই সই করতে হব। তা যদি না করো, তবে তোমার জরিমানা হবে, নামিয়ে দেবে নিচু মাইনেতে, পাশ-ইনক্রিমেন্ট বন্ধ করে দেবে। চাকরি করতে বসে এ-সব গুনাগারে সাধ্য থাকতে কে রাজি হয় বলো?
তবু ওরই মধ্যে জিজ্ঞেস করে লতিকা : 'এবার কোথায় ট্রেন হলো?'
'গয়া'।
যেন কত উপেক্ষার সুর। মোকামায় না গিয়ে এবার যে নিবারণ গয়া যাচ্ছে আর লতিকা যে কোথাও যাচ্ছে না, থাকছে বাড়ির মধ্যে বন্ধ হয়ে_দুই-ই যেন একই কথা।
একজন যাচ্ছে আরেকজন যে বসে থাকছে দুই-ই যেন সমান নিরর্থক।
কিন্তু এখন আর বসে থাকা চলবে না লতিকার। খাবার-দাবার তৈরি করে দিতে হবে নিবারণকে। যে উনুন সে আজ জ্বালতে যাচ্ছিল, মাখতে যাচ্ছিল যে আটা, তাতে আজও সে কোনো নতুন অর্থ দিতে পারল না।
শুরু হয় সেই মামুলি কর্মচক্র।
সেজেগুজে বেরিয়ে পড়ে নিবারণ। যেন বাজারে যাচ্ছে বা বেড়াতে যাচ্ছে_তার যাওয়ার চেহারাটা যেন এমনি। লতিকা একটু দাঁড়িয়ে পর্যন্ত দেখে না। ছেলেমেয়েগুলো কে কোথায় ছিটকে রয়েছে তার কোনো খোঁজ-খবরের দরকার নেই। যাবার আগে লতিকাকে কোনো বিষয়ে কিছু বলতে বা সতর্ক করে দিতে হবে না। কবে ফিরবে, কাল না দু-তিন দিন পর সে প্রশ্নও অবান্তর। দিন-দিন কেরানি যেমন অফিস করতে যায় এও তেমনি। এদিকে হোক মোকামা বা গয়া, ওদিকে খিদিরপুর বা চিৎপুর সব একই চর্বিতচর্বণ। একই থোড়-বড়ি-খাড়া। এতটুকু রহস্য নেই কোথাও। নেই এতটুকু কোথাও নতুনতরো অনুভূতি!
'এ-এস-এম'-এর অফিসে গার্ডের হাজিরা বইয়ে সই করে নিবারণ। ঠিক কটার সময় গাড়ি সাজানো হবে জেনে নেয়। বঙ্-গোডাউনে গিয়ে বোতলে খাবার জল ভরে। জল আর টিফিন-কেরিয়ার বাঙ্ েভরে চলে যায় অয়েল গো-ডাউনে। ওখান থেকে টেইল-ল্যাম্প নিতে হবে সই করে। ট্রেনের পিছনে যে লাল বাতি জ্বলে সেইটেই টেইল-ল্যাম্প। আরো, নিতে হবে কেরোসিন তেল। সেই তেলে হাতবাতি জ্বালাবে, জ্বালাবে টেইল-ল্যাম্প আর সাইড-ল্যাম্প। আজ চারটের সময় বই হয়েছে যখন, ষোলো আউন্স তেল পাওয়া যাবে। একটু যেন আশ্বস্ত হলো নিবারণ। তেল কিছুটা সরানো যাবে আজকে।
তেলও ভরা হলো লাইন-বঙ্।ে কী না আছে এই বাঙ্টায়! টাইমটেবল, একটা লাল আরেকটা সবুজ নিশান, টেইল-ল্যাম্প, আর সাইড-ল্যাম্পের তিনটে বার্নার, দুটো লাল স্লাইড আর ডিটোনেটর। তা ছাড়া গার্ডস মেমো-বই_তাতে লেখা থাকবে ট্রেনের নম্বর, যাবে কোথা, কটার সময় অ্যারেঞ্জ, কটা ওয়াগন_তাদের টেয়ার-ওয়েট কত, কতই বা লোড-ওয়েট_স্টেশনের কোড, কোন স্টেশন কোন সময় পার হলো তার ফিরিস্তি। তারই এক পাশে টিফিন-কেরিয়ার, জলের বোতল, গ্লাস_সঙ্গে ছোট্ট ভাঁড়ার ঘর_চাল ডাল আটা নুন তেল মসলা আলু পেঁয়াজ চা আর চিনি। হ্যাঁ, মাথার তেল-সাবান, দাড়ি কামাবার সরঞ্জামও আছে।
বাঙ্-কুলির টিন্ডেল এসে ল্যাম্প টিন্ডেলের থেকে জেনে নেয় ইয়ার্ডে কোন লাইনে গাড়ি দাঁড়িয়ে। লাইন-নম্বর বলে দেয় সে বাঙ্-কুলিকে। বাঙ্-কুলি সেই নম্বরের ট্রেনের ব্রেক-ভ্যানে তুলে দিয়ে আসে বাঙ্।
বাঙ্ পাঠিয়ে দিয়ে অ্যাসিস্ট্যান্ট ইয়ার্ড-মাস্টারের ক্যাবিনে যেতে হয় নিবারণকে। সেখানে নাম্বার-টেকাররা ট্রেনের ফর্দ বা 'গাইডেন্স' বানিয়ে রেখেছে। মানে, কতগুলো ওয়াগন আছে, কোথা থেকে আসছে, কোথায় যাবে, টেয়ার-ওয়েট লোড-ওয়েট কত_তার হিসেব। ফর্দ মিলিয়ে একধার থেকে গাড়ি চেক করতে শুরু করো এবার। দেখ সিল আর রিভেট ঠিক আছে কিনা,_এধার দেখেছ তো ওধার পরখ করো। বয়ে গেছে অত মিলিয়ে দেখবার। একটা মাল-গাড়ির ফুল-লোড হলো ষাট ওয়াগন_এটার মধ্যে আছে বুঝি পঞ্চান্নটা। কোথায় কোনো ফ্ল্যাপ-ডোর আলগা থাকে তো থাক না_তার কি। যারা মাল বুক করে তারা দেখতে পারে না? কিন্তু গাড়িতে গাড়িতে কাপলিং ঠিক আছে কি না, অর্থাৎ শেকল দিয়ে গাঁটছড়া বাঁধা আছে তা আঁট হয়েছে কি না_তা তো দেখবে। বয়ে গেছে। তার জন্যে মাইনে দেয়া হয় না নিবারণকে।
ওয়াচম্যানের খাতায় তাড়াতাড়ি সই করে দেয় নিবারণ। হ্যাঁ, পঞ্চান্ন ওয়াগন সিল-রিভেট করেক্ট। ঠিক আছে। ও-কে।
তারপর ড্রাইভারের সঙ্গে দেখা করে। ঘড়ি মিলিয়ে নেয়। কোম্পানির থেকে ঘড়ি দিয়েছে দুজনকে। সে যেমনতরোই ঘড়ি হোক, মিল থাকলেই হলো। গাইয়ে-বাছুরে মিল থাকলে বনে গিয়েও দুধ দেবে।
ড্রাইভার জেটিআর ফর্ম আর ফুয়েল ফর্ম বের করে দেয় নিবারণকে। জেটিআর মানে জয়েন্ট ট্রেন রিপোর্ট_কটার সময় কোন স্টেশন পার হচ্ছে ট্রেন তার হিসাব দুজনকে রাখতে হবে আলাদা। শেষ স্টেশনে পেশ করতে হবে। মিল না থাকলেই মুশকিল। তা একযাত্রায় কি পৃথক ফল হয় কখনো? কী বলো হে ইয়াসিন?
এঞ্জিনের টেন্ডারে কটন কয়লা নিয়েছো নয় টন। দেখো এই ফুয়েল-ফর্ম।
সিগন্যাল ডাউন হলেই স্টার্ট কোরো। ইয়াসিনকে বলে দিয়ে নিবারণ তার ব্রেক-ভ্যানে গিয়ে ওঠে।
হ্যাঁ, এই ইয়ার্ডে সিগন্যাল আছে। যে ইয়ার্ডে সিগন্যাল নেই সেখানে ট্রেন অ্যারেঞ্জ করলেই ঝামেলা। ড্রাইভারকে গিয়ে স্টার্টিং অর্ডার নিয়ে আসতে হবে। তটস্থ হয়ে বসে থাকো ততক্ষণ। স্টার্টার সিগন্যাল আর অ্যাডভান্স স্টার্টার সিগন্যালের মধ্যে অল-রাইট সিগন্যাল দেখাও_রাত হলো শাদা আলো দেখিয়ে, দিন হলে হাত নেড়ে, তুমিও দেখাও ড্রাইভারও দেখাক। একটু ভুলচুক হলেই কেলেঙ্কারি। ভাগ্যিস এই ইয়ার্ডটা তেমনি কানা নয়_লাল-সবুজ চোখ আছে জ্বলজ্বলে। তাই ড্রাইভারের উপর ভার দিয়ে ব্রেক-ভ্যানে গিয়ে বসেছে চুপচাপ। যখন ছাড়তে হয় ছাড়বে।
একেবারে চুপচাপ। পঞ্চান্নখানা মালবোঝাই ওয়াগনের পিছনে একা-একা চুপ করে বসে থাকা। সেই কত দূরে এঞ্জিন, সেইখানে যা প্রাণস্পর্শ। তবু তো এঞ্জিনে ড্রাইভারের পাশে ফায়ারম্যান থাকে জ্যাক থাকে_গল্প করা যায়। কিন্তু গার্ডের কেউ নেই কিছু নেই। মাইলের পর মাইল চলেছে গাড়ি, সে একেবারে একা। চলেছে বন-জঙ্গলের মধ্য দিয়ে, অন্ধকার চিরে-চিরে, তাকে ঘিরে সমস্ত বিশ্ব-সংসার যেন অনন্ত শূন্যে ভরে রয়েছে। তার যেন কোনো আত্মীয় নেই, প্রতিবেশী নেই_কেউ এসে তাকে খুন করে গেলেও কেউ বাধা দেওয়া দূরে থাক অস্ফুট আপত্তিও করবে না। ইয়াসিনও বুঝতে পারবে না সে খুন হলো। যদি কারা গাড়ি থামিয়ে ওয়াগন লুট করে, মুখ বাড়িয়ে একবার দেখবেও না নিবারণ। ঘুম না এলেও ঘুমুবার ভান করবে। ডাকাতদের সঙ্গে সে লড়তে যাবে নাকি খালি-হাতে। এই একটানা একঘেয়েমির চেয়ে রাস্তার মাঝে দু-একটা রাহাজানি মন্দ নয়। অন্তত খানিক লোকজনের হৈ-চৈ কানে আসে।
দশ দিক আঁধার করে রাত নেমেছে। এটা থ্রু গুডস-ট্রেন, ওয়াটারিং স্টেশনে ছাড়া থামবে না। কিন্তু মেইল ও এঙ্প্রেস, এমনকি প্যাসেঞ্জারকে পর্যন্ত আগে যাবার অধিকার ছেড়ে দিয়ে লুপে গিয়ে শান্ট করছে। কখনো বা সেকশন ক্লিয়ার পায় না, পিছনের স্টেশনে দাঁড় করিয়ে রাখে।
যদি স্টেশনে এসে দাঁড়ায় তবে দু-চারটে আলো বা গোটাকয় নিশ্বাসের না-হয় আভাস মেলে। তখন আভাস মেলে। তখন আসান লাগে কিছুটা। তাইতে যারা প্যাসেঞ্জারে কাজ করে তাদের তত হয়রানি নেই। কতক্ষণ পরে-পরেই তারা মানুষের হাঁক-ডাক শোনে, নিজের সমসুখদুঃখের সঙ্গী কেউ আছে তার পরিচয় পায়। কিন্তু এখানে এ-যাত্রায় কতক্ষণে স্টেশন পড়বে! আর স্টেশন পড়লেই বা কি! প্যাসেঞ্জার কই? কই সেই সুন্দর জনকোলাহল?
নিবারণ একেবারে একা। নিরবকাশ ভাবে নিঃসঙ্গ। পঞ্চান্নটা গাড়ির পরে কোথায় ড্রাইভার আর ফোরম্যান আর জ্যাক, হাত বাড়িয়ে নাগাল পায় না কিছুতেই। মনে হয়, গাড়ি যেন কেউ চালাচ্ছে না, গাড়ি আপনিই চলেছে। যেন কোথাও থামবে না কোনোদিন। শুধু কতগুলো রাশিভূত বস্তু আর সে একাকী এক প্রাণ, এছাড়া আর কেউ নেই এই গতির উন্মুক্তিতে।
ঠিক এমনি করেই ভাববে না নিবারণ। ভাবছে আজকের জার্নিতে থ্রিল কই? ইয়াসিন কি এ-যাত্রায় কোনো মার্চেন্টের সঙ্গে বন্দোবস্তু করেনি?
প্যাসেঞ্জারের কাজ করলে অনেক সুবিধা। লোডিং মানির বখরা পাওয়া যায়। ব্রেকে যে সব মাল যায় তাতে পয়সা দেয় মার্চেন্টরা। পার্সেল-ক্লার্করাই তা উসুল করে, ভাগের পয়সা লোডিংয়ের সময় দিয়ে দেয় গার্ডকে। ধরা পড়বার ভয় নেই। আর যদি টি-টি-ই হতে পারতে, তবে 'ঝাঁপসেই' ফেঁপে উঠতে নিটোল হয়ে। 'ঝাঁপস' শোনোনি বুঝি। ও একটা মুখ চলতি টার্ম_ঝাঁ করে আপস করতে হয় বলেই সন্ধি করে ঝাঁপস। হ্যাঁ বাবা, সন্ধি করো। তোমার অন্ধিসন্ধি আমি জানি, আমারটা তুমি জানো। তবে কেন মিছিমিছি খচখচ করছ?
সুখে কাজ করে বটে গুডস ক্লার্করা_স্থায়ী ডে-ডিউটি, ঘুমের কোনো ব্যাঘাত নেই, আর উপরিও স্বচ্ছন্দ।
আর তোমাদের?
আমাদের কথা আর বোলো না। বলতেই বলে এক পা রেলে এক পা জেলে। মারি তো গণ্ডার লুটি তো ভাণ্ডার। আর চোকা কড়ি রোখা মাল। হাতে-হাতে দে রে ভাই দাঁতে-দাঁতে খাই।
কিন্তু আজ হলো কী? কোনো বন্দোবস্তই কি করেনি আজ ইয়াসিন? আজ কি ডোল-ভরা আশা আর কুলো-ভরা ছাই?
কোনো স্টেশনের বাইরে কি আজ আর গাড়ি দাঁড়িয়ে পড়বে না? আসবে নাকি কোনো মার্চেন্টের সাঙ্গোপাঙ্গরা। অফ-সাইডে সিল-রিভেট না থাকে তো ভালোই, আর থাকলেই বা খুলে ফেলতে কতক্ষণ? এই জঙ্গুলে অন্ধকারে কে তাঁর খোঁজ রাখছে? সেই সব সাঙ্গোপাঙ্গরা ঢেরা-দেওয়া গাড়ি থেকে মাল খালাস করে নেবে না_চিনি বা আস্ত গম বা কেরোসিন? সঙ্গে সঙ্গে ড্রাইভার আর গার্ডের হাত আসবে না নোটের পাঁজা?
ট্রেন যে হঠাৎ থামিয়ে দিলে তার জবাবদিহি কী? ড্রাইভার মুখে-চোখে নিরীহ-নির্দোষের ভাব এনে বলবে, কী করব, এঞ্জিনে স্টিম পড়ে গিয়েছিল, স্টিম বানাতে হচ্ছিল, কিংবা কয়লা ঝামা হয়ে গিয়েছিল, আগ বানাতে হচ্ছিল_
পরের স্টেশনে হয়তো চেক করতে আসবে ওয়াচম্যান। হয়তো খোলা দেখবে গাড়ি। দেখুকগে, বয়ে গেল। ওয়াচম্যানের বইয়ে গার্ড রিমার্ক দিয়ে দেবে, গাড়ি খুলে দিয়েছে কে মাঝপথে, জিআরপিকে না হয় তারা করে দেবে, মেসেজ পাঠাবে ওয়াচম্যান ইন্সপেক্টরের কাছে। তারপরে তোমরা ইনকোয়ারি করো। আর যার মাল খোয়া গেছে সে উলটে ক্লেম দিয়ে বা কোর্ট করে তার ক্ষতি-খেসারত আদায় করে নিক।
ওয়াচম্যানও কম যায় না। গার্ডের থেকে অল করেক্ট সই নিয়ে পরে গাড়ি খুলে মাল বার করে নেয়। গাড়ি তখন হয়তো অন্য স্টেশনে চলে গিয়েছে, ওয়াচম্যানের আর ঝক্কি নেই। ফাঁসবে তো গার্ড ফাঁসবে। তখন সে ভাঙা গাড়ি সিল করিয়ে চেকিং-এর জন্যে কেটে রেখে মেসেজ পাঠিয়ে দাও। শুরু হোক ইনকোয়ারি। গার্ড বলবে, আমি জানি কি, মাঝপথে কে কেটেছে_আর ওয়াচম্যান বলবে আমি জানি কি, এই দেখ গার্ডের অল-করেক্ট দস্তখত। আর ড্রাইভার এমন একখানা মুখ করবে যেন তিলক না কাটলেও সে পরম বৈষ্ণব। সে যে কখন কার সঙ্গে সড় করবে কেউ জানে না। সর্বাঙ্গে ঘা, ওষুধ লাগাবে কোথা? সুতরাং লাগে টাকা দেবে গৌরী সেন, খেসারত দিয়ে মরো রেল কোম্পানি।
এ রকম একটাও বড় দাঁও পড়েনি নিবারণের হাতে। একবার একটা হাতে আসতে আসতে ফসকে গেল। পরের মাল চুরি করে নেয় মার্চেন্টের চর-অনুচর, এতে হাঙ্গামা বেশি। সবচেয়ে সুবিধে নিজে মাল চুরি করা। গাড়ি চিনতে দেরি হয় না, আর মাল বার করবার কায়দাটাও রপ্ত-মুখস্থ থাকে। চক্ষের নিমেষে ঘটে যেতে পারে ঘটনা।
হলোও তাই। ব্রিজ রিপেয়ার হচ্ছে, গাড়ি দাঁড় করাল ড্রাইভার। কিছু বলতে পারো না ড্রাইভারকে। হুকুম টাঙ্গানো আছে। স্টপ ডেড ফর টু মিনিটস। যেই গাড়ি দাঁড়াল, অমনি বরজলাল মাড়োয়ারীর লোক এসে তাদের গাড়ি খুলল। বাইরের চেহারা থেকেই বুঝে নিলে কোন গাড়ি। কিভাবে সিল-রিভেট ভেঙে খুলে ফেলতে হবে দরজা জানা আছে তার কল-কৌশল। গম যাচ্ছিল বস্তা করে। চক্ষের পলকে প্রায় কুড়ি বস্তা ধুপধুপ করে ছুড়ে ফেললে মাটিতে। স্টার্ট দিল গাড়ি, একটা লোক বুঝি ফাইভ মাইলস পার আওয়ার। নেমে পড়ল লোকটা। ট্রাক তৈরি ছিল রাস্তায়। বোঝাই হয়ে গেল বস্তা। বেরিয়ে গেল এক ফুঁয়ে। যেখানকার গম সেখানে গিয়ে উঠল।
নিবারণ নিরিবিলিতে দেখা করেছিল ড্রাইভারের সঙ্গে। সে তো আকাশ থেকে পড়ল। ব্রিজের মুখে গাড়ি দাঁড় করাতে হবে এ তো সরকারের হুকুম। সে কাঁটায়-কাঁটায় হুকুম তামিল করেছে_সে কিছুই জানে না। এক আঙুলে দিব্যি তুড়ি বাজিয়ে গেল সে।
বরজলালের গদিতেও খোঁজ করেছিল নিবারণ। তারা স্পষ্ট মুখ মুছলে। কে-না কে ডাকাতি করে মাল বার করে নিয়েছে তারা তার জানে কি। তারা উলটে ক্লেম দিয়েছে অফিসে। ক্লেম না মানে মোটা টাকার মামলা ঠুকবে আদালতে।
একেই বলে খাবে আবার ছাঁদাও বাঁধবে।
এ তো সামান্য চুরি। কখনো কখনো আবার তেন্নাথের মেলা হয়। ড্রাইভার, গার্ড আর ক্যাবিনম্যান_ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বর_ত্রিনাথের যোগাযোগ। সেসব পুকুরচুরি না বলে বলতে পারো গুদোম চুরি। ক্যাবিনম্যান আউটার সিগন্যাল খারাপ করিয়ে রাখে। সিগন্যাল যদি কাজ না করে তবে গাড়ি চলে কী করে? ড্রাইভারকে তাই আউটার সিগন্যালের কাছে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখতে হয়। জে-টি-আর-এ ভালো করে কৈফিয়ত লেখে গার্ড। ডিসট্যান্ট সিগন্যাল আউট অফ অ্যাকশন। সিগন্যাল সারিয়ে ফের চালু করতে কম-সে-কম দশ-পনেরো মিনিট লাগে। আর সেই দশ-পনেরো মিনিটের মধ্যেই চিচিং ফাঁক_যাকে বলে গুদোম সাবাড়।
এসব বড় চুরি। রাজসূয় ব্যাপার। এসব ব্যাপারে অংশ নিতে পারাও ভাগ্যের কথা। নিবারণের অদৃষ্টে ঘটনাচক্র এমনভাবে কখনোই ঘুরবে না, যাতে সে তেন্নাথের মেলায় বসে এক ছিলিম গাঁজা টানতে পারে। সে ভীরু, সে খুঁতখুঁতে।
এমনি ড্রাইভার যা জোগাড় করে দিয়েছে মাঝে-মধ্যে। পথের মধ্যে যা দু-একটা ছককাটা ফন্দি-আঁটা রাহাজানি হয়েছে তারই লাভের বখরা। নিবারণ সাতেও নেই পাঁচেও নেই, হঠাৎ খ্যাচ করে বন্ধ হয়ে গিয়েছে গাড়ি। গাড়ি বন্ধ না হলে মাল খালাসি চলবে কী করে? আর, গাড়ি বন্ধ হলেই গার্ডের তাঁবেদারিতে চলে এলে। কেননা গার্ডের হাতে জি-টি-আর, টাইমিং-এর ফিরিস্তি। অতএব গার্ডের হাতেও কিছু গুঁজে দাও।
কিন্তু সব সময়েই ছক কেটে আসে না। এসে পড়ে গ্রাম্য ডাকাতের দল। লাইনের উপরে পাথর বা গাছ ফেলে রাখে। গাড়ি দাঁড় করিয়ে লুটতরাজ করে। দু-প্রান্তের দুই লোক, কোনো সংযোগের সুবিধে নেই_তাই চুপচাপ বসে থাকো যে যার এলেকায়। আর সংযোগ থাকলেই বা কী, লুটেরাদের বাধা দেবার তোমাদের রসদ কোথায়? আর যেখানে রস নেই সেখানে রসদ থাকলেই বা কী? নাকে তেল দিয়ে ঘুমোও, ডাকাতরা চলে গেলে হাতবাতি দেখিও, স্টার্টের সিটি দেবে ড্রাইভার।
ডাকাত যদি না থাকে, খুচরো চোর আছে অগণ্য। দিলি্ল থেকে হাওড়া পর্যন্ত চলেছে এই চোরের অক্ষৌহিণী। এরা গাড়ি থামায় না বটে কিন্তু যেখানে গাড়ি থামে, স্টেশনেই হোক বা স্টেশনের বাইরেই হোক, ঠিক এসে হাজির হয় কাতারে-কাতারে। প্রত্যেকের হাতে একটা করে সরু লোহার শলা আর গলায় একটা করে বেশ খানিকটা কাপড়ের টুকরো বাঁধা। প্রতিটি গ্রামের কামারশালায় তৈরি হচ্ছে এই লোহার শলা, কারুর বা চাই লিকলিকে তলোয়ার। মালগাড়ি দাঁড়ালেই প্রতিটি ওয়াগনের ফ্ল্যাপ-ডোরের ফাঁকের ভিতর দিয়ে এরা শলা ঢুকিয়ে ঢুকিয়ে খোঁচা মারে। নেহাত যদি পাট বা তামাক হয়, তা হলে অবিশ্যি কোনো সুসার নেই, কিন্তু শুকনো আর দানা-ওয়ালা বা গুঁড়ো গুঁড়ো জিনিস হলেই খোঁচা খেয়ে ঝরঝর করে বেরুতে শুরু করবে। আর সেই বেরুনো, শর্ষে কি মুশুরি ডাল, আটা কি সুজি, চিনি কি চাল_বা নিতান্ত বিড়ির শুকো_গলার কাপড় তুলে ধরে ভরে নাও এক থলে। এমনি জনে জনে, যার যেমন ভাগ্য। আর যেই গাড়ি চলল অমনি সবাই এক দাপটে পগার পার।
কি হলো আজ? বরাকর_আস্তে আস্তে ধানবাদ পেরুল_এখনো কোনো থ্রিল নেই? ড্রাইভার কি আজ একেবারে বেকার হয়ে থাকবে?
কী মনে করে বাইরে একবার তাকাল নিবারণ। একি, জমাট মেঘ করেছে যে!
বৃষ্টি শুরু হলে কী অবস্থা যে হবে এ ব্রেক-ভ্যানের, ভাবতেও মন খারাপ হয়ে যায়। ফাটা দিয়ে পড়বে জল আর ফুটো দিয়ে ঢুকবে হাওয়া। কিন্তু কে জানে বৃষ্টি শুরু হলেই বোধ হয় পার্টিরা এসে দেখা দেবে। অন্ধকার যত বেশি ঘোরালো হয়, ততই যেন চুরির সুবিধে।
সুবিধে হলেই বা কী, না হলেই বা কী, নিবারণ কী জানে! নিজের থেকে তার কোনো তোড়জোড় নেই, যন্ত্রতন্ত্র নেই। ড্রাইভার যদি কোথাও কোনো ব্যবস্থা করে রাখে, আর তা যদি তার এলাকায় এসে পড়ে, তবেই সে আশা করতে পারে কিছু। নইলে তার কাঁচকলা।
ঘুষ না পেলেও ঘুষের স্বপ্ন দেখতে মন্দ লাগে না।
মাঝে মাঝে মালগাড়িতে ক্যাটল ওয়াগন থাকে। তার মানে গরু-মোষ যায় বোঝাই হয়ে। কিছু দুধ দুয়ে দে দেখি। সঙ্গে যে গয়লা থাকে সে দুয়ে দেয় গাড়িতে বসে। সঙ্গে দু-চারজন বেশি লোক নিতে যদি চাস, সিগারেট খাবার জন্য দু-চারটে টাকা দে, নিয়ে যা পাহারাদার। আর যদি কখনো তারা গাঁইগুঁই করে বলে, তোদের গাড়ি হট-অ্যাঙ্ল হয়েছে, মানে চাকা গরম হয়েছে_কেটে রাখতে হবে গাড়ি। কেটে না রাখলে আগুন লেগে যাবে, বেলাইন হয়ে যাবে গাড়ি, সর্বনাশ হয়ে যাবে। নে, নেমে পড়। তখন হাতজোড়। তখন দু-পাঁচ টাকা বেশি আসে।
সারাক্ষণ নিবারণ কি শুধু ঘুষের কথাই ভাববে?
তা ছাড়া আর কী আছে ভাববার?
কোনো একটা বই পড়ো না।
বই পড়বে। যা তোমার গাড়ির দুলুনি আর ঝাঁকুনি সাধ্য কি তুমি বইয়ের লাইনের উপর সোজা করে চোখ রাখো!
বেশ তো, বসে-বসে ঢোলো না। লোকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ঘুমোয়, তুমি তো তবু বসবার জায়গা পেয়েছ।
হ্যাঁ, ঘুমুই, আর সেই ফাঁকে ড্রাইভার একাই ষোলআনা মেরে নিক। আমাকে না বলে ড্রাইভারকে ঘুমুতে বলো।
সেবার মধুপুর থেকে গাড়ি ছাড়ছে, হন্তদন্ত হয়ে এক যুবক আর যুবতী এসে হাজির। দয়া করে তাদের যদি তুলে নেয় নিবারণ। কী ব্যাপার? তারা মধুপুরে আউটিং করতে এসেছিল দেওঘর থেকে, ফিরে যাবার দুপুরের ট্রেনটি মিস করেছে, এখনও যদি এ মালগাড়িতে_তা হলে কেলেঙ্কারির একশেষ হবে। দেখুন, আপনি না দয়া করলে_আপনি যদি না মুখের দিকে তাকান_
মুখের দিকে তাকাবার অত গরজ নেই নিবারণের। সে মনি-ব্যাগের দিকে তাকাল। বললে, দশ টাকা।
তাই দেব, উঠে পড়ল যুবক-যুবতী।
কিন্তু উঠে পড়ে দেখে দুজনের কাছে মিলিয়েও দশ টাকা হয় না। যদি বা হয় জসিডি থেকে দেওঘরের ভাড়ায় কম পড়ে।
নিবারণ বললে, আমি তা জানি না। দশ টাকার এক আধলাও কম নয়। আর তা আগে চাই, এক্ষুনি এক্ষুনি। শেষে জসিডিতে এলে যে কলা দেখিয়ে সটকান দেবে তা হবে না।
দিয়ে দাও পুরোপুরি। মেয়েটি বললে দর্পিণীর মতো। জসিডিতে নেমে দেখা যাবে ধার পাই কি না। পুরোপুরি আদায় করল নিবারণ। দর্পই বলো আর প্রেমই বলো ওসবে চোখ পড়ে না, এখন চোখ শুধু বাঁধা মাইনের উপরে কিছু উপরি আয়ের দিকে। একে আর ঘুষ বোলো না, বোলো বকশিস, বোলো অনুগ্রহ।
কিন্তু আজকের দিনে একটু প্রেমের কথা ভাবলেই বা। স্ত্রীর হাতের অসমাপ্ত মালা নিয়ে চলে এসেছ তুমি। এখন স্নিগ্ধ মনে তার কথা একটু ভাবা উচিত।
স্নিগ্ধ মন-টন বড় কথা। ওসব বড় কথা বড় ভাব পাবে না ঘুণাক্ষরে। বরং ভাবা যাক, গাড়ি কখন থামবে কোন মাঠের মাঝখানে, আসবে কোন এক মার্চেন্টের লোকজন, মাল-খালাসির মিলবে কিছু নগদ মুনাফা। তা হলেই প্রেম পরিতৃপ্ত হবে। পেট পরিতৃপ্ত।
গয়া থেকে ফিরে গিয়ে নিবারণ যদি বলে, আর কিছু নয়, শুধু এই কেরোসিন তেলটুকু এনেছি, তখন কী বলবে লতিকা? বলবে কেরোসিন তেলটুকু গায়ে ঢেলে দেশলাই ধরিয়ে দাও। দিয়ে গয়ায় পিণ্ডি দিয়ে এসো।
সংসার সর্বত্র এই উপরি-পাওনার জন্যেই ছটফটানি। মজুর থেকে হুজুর, কেরানি থেকে কর্ণধার_
গাড়ি থেমে গেল।
বসে বসেই লাট্টু পাকিয়ে ঘুমুচ্ছিল নিবারণ। হঠাৎ চমকে জেগে উঠল। ও মা, বৃষ্টি পড়ছে যে ঝুপঝুপ করে, গুড়গুড় করে মেঘ ডাকছে, বিদ্যুতের ঝলস দিচ্ছে থেকে থেকে। এ কোনখানে দাঁড়াল গাড়ি? কোন জায়গা? দুপাশে একটু দূরে দূরে কালো কালো কদাকার পাহাড়ের পাহারা। আর যখন বিদ্যুৎ নেই তখন কী নিরেট অন্ধকার। গাড়ি আর জায়গা পেল না দাঁড়াতে? এখানে মার্চেন্ট কোথায়?
ধৈর্য ধরো। ঘাবড়াও কেন? গাড়ি যখন থেমেছে তখন মজা একটা আছেই।
মজা বুঝতে দেরি হলো না নিবারণের। গাড়ি পার্টিং হয়ে গেছে। ভ্যাকম-গজ-মিটারের কাঁটা জিরোতে গিয়ে ঠেকেছে। কাপলিং ছিঁড়ে গেছে ওয়াগনের। হয়তো ভেঙে গেছে ড্র-বার।
এখন উপায়?
জায়গাটার দিকে ঠাহর করে একবার তাকাল। বিশালকায় পাহাড় আর বুনো ঝোপঝাড় দেখেই সে আন্দাজ করেছিল_তবু বিদ্যুতের আলোয় মাইল-পোস্ট দেখে সে নিঃসন্দেহে হলো পরেশনাথের কাছাকাছি। ঠিকঠাক বলতে গেলে পরেশনাথ পেরিয়ে এসে পরের স্টেশনে চৌধুরীবাঁধের মাইল দুয়েক দূরে এসে ঠেকেছে।
ধারে-পারে কোথাও জন-প্রাণী নেই। নেই ছিটে-ফোঁটা আলোর কণিকা। আকাশের একটি তারাও জেগে নেই। তাকিয়ে নেই বিশাল ভয়াল অন্ধকার। অজানার রাজ্য।
একটা সিগারেট ধরিয়ে মনে সাহস আনতে চাইল নিবারণ। দেশলাই জ্বলল অনেক ঘষাঘষি করে। ঘড়িতে দেখল রাত প্রায় দুটো। কিন্তু সিগারেট ধরানো গেল না। সিগারেট ভিজে জ্যাবজেবে হয়ে গিয়েছে।
যদিও শত ছিদ্র দিয়ে জল পড়ছে ব্রেকভ্যানে, গাড়ির চেহারা দেখতে তবু নেমে দাঁড়াল না নিবারণ। তার ভয় করতে লাগল। ভীষণ ভয় করতে লাগল। মনে হলো কে যেন তাকে হঠাৎ একটা বিরাট অনুভূতির মধ্যে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। যা বিরাট তা-ই ভয়ংকর।
খানিক পরে ঢিকোতে-ঢিকোতে ড্রাইভার এসে হাজির।
দু খণ্ড হয়ে গিয়েছে গাড়ি। ছিঁড়ে গিয়েছে গাঁটছড়া।
প্রথম খণ্ডের লাস্ট ওয়াগনের নম্বরটা দেখে এসেছ? ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করল নিবারণ।
হ্যাঁ, ড্রাইভার নম্বর দিলে।
তবে আর কি, ঐ লাস্ট নম্বর দিয়ে মেমো লিখে দিই আগেই স্টেশনের এ-এস-এমকে। মেট আর জ্যাককে নিয়ে তুমি প্রথম খণ্ডটা নিয়ে বেরিয়ে যাও এঞ্জিন সমেত। এ-এস-এম কন্ট্রোলকে খবর দেবে। তারপর ইতিমধ্যে যদি বেঁচে থাকি, আসবে রিলিফ এঞ্জিন। মুণ্ডু চলে গিয়েছে আগে, পরে টেনে নিয়ে যাবে ধড়টাকে।
আগের আধখানা ট্রেন নিয়ে ড্রাইভার বেরিয়ে গেল। জীবনের সঙ্গে যে একটু ক্ষীণ সংস্পর্শ ছিল তাও গেল নিশ্চিহ্ন হয়ে।
আধখানা ট্রেনের শেষ চাকার শব্দ মিলিয়ে গেল অন্ধকারে। কোথাও আর সম্পর্কের এতটুকু বন্ধন রইল না। সে একেবারে একা, নিঃশেষ রূপে নিঃসঙ্গ। তাকে ঘিরে প্রাচীন অরণ্য, মহামহিম পর্বত আর অগম্যরূপ অন্ধকার। এই বিশ্বসংসারে সে শুধু সঙ্গীহীন নয়, সে একেবারে দ্বিতীয়রহিত। পৃথিবীতে পরিত্যক্ত প্রথম প্রাণ।
কিন্তু ভয়ে কুঁকড়িসুকড়ি হয়ে ব্রেক-ভ্যানে বসে থাকলে চলবে না। তাকে তার শেষ আশ্রয়টুকু ছেড়ে নেমে পড়তে হবে ওই অপরিচিত অন্ধকারে। এই দুর্বোধ উপস্থিতির মুখোমুখি।
কিসের টানে নেমে পড়ল নিবারণ। চারিদিকে চোখ বুলিয়ে একবার বুঝে নিতে চাইল চেহারাটা। চোখ বন্ধ হয়ে গেল। চারিদিকে শুধু বিশালস্তূপ পাহাড় আর দুর্ভেদ্য জঙ্গল। আর সমস্ত চরাচর আচ্ছন্ন করে দুর্জ্ঞেয় অন্ধকার। তার সংকীর্ণ সংসার থেকে ছিন্ন করে কে নিয়ে এল তাকে এই বিশাল অনুভূতির মাঝখানে। তার ছোট ঘর ছোট উঠোন থেকে অন্তহীন এই অঙ্গনের মুক্তিতে। তার প্রাণধারণের ছোট ছোট চেতনার বিন্দু থেকে মহিমময় মৃত্যুর মুখোমুখি।
খল-খল-খল-খল শব্দে কে যেন হঠাৎ উচ্চ রোলে হেসে উঠল। ভয়ে চমকে উঠে চোখ মেলল নিবারণ। না, ভূত-প্রেত নয়, কাছেই কোথায় একটা পাহাড়ি ঝরনা বৃষ্টির জল পেয়ে উল্লাস করে উঠেছে। কে জানে, তাকে দেখে যেন খল-খল-হাস্যে বিদ্রূপ করে উঠেছে। যে মহা স্তব্ধতা পুঞ্জিত হয়ে আছে পাহাড়ে-অরণ্যে তা যেন অমনি এক উপহাসেরই উচ্চসুর। সে যে এক ক্ষীণপ্রাণ হীনগতি প্রগলভ মানুষ তারই প্রতি উপহাস। তার যে একটা ছোট সংসার আছে, ভীরু আশা আর হীন হতাশা দিয়ে তৈরি_তারই প্রতি উদ্ধত ব্যঙ্গ। তার ক্ষুদ্র লোভ ক্ষুদ্র সঞ্চয়ে ক্ষুদ্র ভবিষ্যৎ চেতনার উপরে কঠিন ভর্ৎসনা।
মাইল-পোস্ট লক্ষ্য করে স্লিপারের উপর দিয়ে পিছন থেকে এগিয়ে যেতে লাগল নিবারণ। কোয়ার্টার মাইল দূরে রেল লাইনের উপর ডিটোনেটর প্লেস করতে হবে। গায়ে বর্ষাতি হাতে হাত-বাতি নিয়ে চলেছে সে পাহাড়ের বেষ্টনীর মধ্যে। যেন প্রথম আবিষ্কারের পৃথিবীতে প্রথম মানুষ তার পথ খুঁজে বেড়াচ্ছে। ছিপ ছিপ করে বৃষ্টি হচ্ছে, পা মেপে মেপে এগিয়ে চলেছে নিবারণ। কোয়ার্টার মাইলের মাথায় ডিটোনেটর ফিঙ্ করে দিল। আরো যেতে হবে কোয়ার্টার মাইল। সেখানে গিয়ে দশ গজ দূরে দূরে আরো তিনটে প্লেস করতে হবে। একেই বলে ফগ সিগন্যাল। আকস্মিক যদি কোন ট্রেন এসে পড়ে আপ-লাইনে তবে আধ মাইল দূরেই পরপর তিনটে ফটকা ফাটবে। তখনই কষে দেবে ব্রেক। আর যখন আরো খানিক এগিয়ে এসে একটা ফটকা ফাটবে তখনই করে দেবে ডেড স্টপ। দাঁড়িয়ে যাবে পিছুকার ট্রেন, বেঁচে যাবে দুটো গাড়িই।
কিন্তু পা চলে না আর নিবারণের। মনে হয় আরো কোয়ার্টার মাইল এগিয়ে যাবার আগেই যেন দুর্দান্ত বেগে ছুটে আসবে পিছনের ট্রেন। মুহূর্তে সর্বনাশ ঘটে যাবে। বিদীর্ণ হয়ে পড়বে অসহায় মানুষের করুণ আর্তধ্বনি_তাই তো জীবনধ্বনি।
সেই আর্তধ্বনি যেন স্তব্ধীভূত হয়ে আছে এই অন্ধকারে। পাষাণ হয়ে আছে এই পাহাড়ের রুক্ষতায়।
না, দূরের ডিটোনেটরও লাগিয়ে আসতে পেরেছে। বেঁচে যাবে গাড়ি_যদি না ড্রাইভার মাতাল হয়, যদি সে না ঘুমিয়ে পড়ে।
কিন্তু নিবারণ বাঁচবে না। কতক্ষণ পরেই জঙ্গল থেকে বাঘ বেরুবে, কিংবা শুনেছি ভালুক আছে এ অঞ্চলে। বাঘ-ভালুক না হোক, সাপ উঠবে না বেয়ে। যা হবে তা হবে, এখন ফিরে যেতে হবে ফের গাড়ির কাছাকাছি। হাত-বাতি লাল করে তাই দাঁড়িয়ে থাকতে হবে ব্রেক-ভ্যানের পিছনে। দু পাশে দুই সাইড ল্যাম্পের লালবাতি, টেইল-ল্যাম্পের লাল বাতি তার উপরে আবার এই হ্যান্ড সিগন্যালের লাল বাতি। যদি, ডিটোনেটর অগ্রাহ্য করলেও নজরে পড়ে এই সর্বনাশের নিশানা।
কে জানে পড়বে কি না। কিন্তু তার আগেই নিবারণ মরে যাবে। শুদ্ধ আতঙ্কে মরে যাবে। বাঘ-ভালুক চোর-ডাকাত ভূত-প্রেতের ভয় নয়। আরেক রকম ভয়। সংজ্ঞাহীন সীমাহীন শরীরহীন ভয়। একটা বিরাট চেতনা বিশাল উপস্থিতির ভয়। এই দুশ্ছেদ্য অন্ধকারে সে যে একেবারে একা, তার ঘর নেই, বাড়ি নেই, তার স্থির কোনো আশ্রয় নেই, দৃঢ় কোনো পরিচয় নেই তার ভয়। এই মুহূর্তে ক্ষুদ্র ঘুষ ক্ষুদ্র প্রমোশন ক্ষুদ্র স্বার্থসিদ্ধির কথা যে মনে আসছে না_শুধু মৃত্যুর কথা মনে আসছে_তার ভয়।
মনে হচ্ছে সেই ভয় যেন মূর্তি গ্রহণ করছে। সমস্ত পাহাড় অরণ্য স্তব্ধতা-অন্ধকার মিলে এক বিরাট পুরুষের আকার নিচ্ছে তার চোখের সামনে। যেন প্রচণ্ড তাণ্ডব মূর্তি অথচ আদিমধ্যান্তশূন্য অশরীরী_
এই বোধহয় মৃত্যুর আবির্ভাব।
কিন্তু পিছনের সেই উদ্দাম ঊর্ধ্বগতি ট্রেন কই?
না, তার বদলে আকাশ পরিষ্কার হয়ে এসেছে। পূর্ণিমার চাঁদ লাল হয়ে অস্ত যাচ্ছে পশ্চিমে। পুবে লাল হয়ে জাগছে সুগোল সূর্য। নিবারণের মনে হচ্ছে যেন সেই বিরাট পুরুষ দুই হাতে সোনার খঞ্জনি বাজাচ্ছেন, জন্ম-মৃত্যুর খঞ্জনি।
গাইছেন নব জীবনের কীর্তন।
সমস্ত মৃত্যুর পর এই নবজীবনের সংকেত সমস্ত ক্ষুদ্র অস্তিত্বের পর এই বিরাট এক সত্তার অনুভব_এইটিই আজকের উপরি পাওনা।
আজকের নয় অনন্তকালের।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1330)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
-
▼
2012
(33842)
-
▼
October
(1721)
-
▼
Oct 29
(10)
- গার্ড সাহেব by অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
- গার্ড সাহেব by অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
- সম্পাদকীয়
- গ্লাসগো ক্যালিডোনিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর হ...
- ‘টাকা খাবে, আর ধূলা খাবে না’ by জেসমিন পাঁপড়ি
- ঋণ জটিলতায় চামড়ার বাজার অস্থির by মনোয়ারুল ইসলাম
- ‘এক রক্ত, এক বংশ তবু কেন আমরা আলাদা’ by জুলফিকার আ...
- গ্রামীণ থেকে গুগলে by ইমদাদুল হক
- চামড়ার প্রত্যাশিত দাম পাচ্ছেননা মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ...
- চার সূর্যবিশিষ্ট নতুন গ্রহের সন্ধান
-
▼
Oct 29
(10)
-
▼
October
(1721)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
ইরান
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
দুর্নীতি
শিশু
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
কালবেলা
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
ইউক্রেন
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
তরুণ প্রজন্ম
মানবাধিকার
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আলী যাকের
আইন ও বিচার
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
মালয়েশিয়া
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
স্বাস্থ্য
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
জ্যোতির্বিজ্ঞান
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
শিল্প ও সাহিত্য
সংবিধান ও রাষ্ট্র
বগুড়া
মিয়ানমার
ঢাকা
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
গবেষণা
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
জীবনযাপন
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
মেহেদী হাসান
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
মানসুরা হোসাইন
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
মসজিদ
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
ইয়েমেন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
Exclusive
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
উচ্চশিক্ষা
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
বিজ্ঞান
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
জনস্বাস্থ্য
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
ফরিদপুর
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লাতিন আমেরিকা
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মহাকাশচারী
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
জোহরান মামদানি
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
ইহুদি
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
স্পেন
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
বিশ্বকাপ ফুটবল
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment