কাপ্তাইসভার ভ্রমণ by স্বপ্না মারমা

কাপ্তাই বন্ধুসভার আমরা কজন বন্ধু ২১ মার্চ তিন দিনের সফরে সিলেট, জাফলং, মাধবকুণ্ড, শ্রীমঙ্গল চা-বাগান, লাউয়াছড়া অভয়ারণ্য ভ্রমণে যাই। জাফলং দেখার মধ্য দিয়ে ভ্রমণ শুরু হয়। পিয়ং নদীতে ছোট ইঞ্জিননৌকায় চড়ে আমরা যাই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের জিরো পয়েন্টে। সেখানে বিজিবির লাগানো সাইনবোর্ডে লেখা ‘সামনে ভারত, প্রবেশ নিষেধ’।


টিকলি দিয়ে বয়ে যাওয়া পিয়ং নদীর পানিতে কাউছার জাহান, দিলারা, মায়া, নিলয়, আয়েশা, রচিতা, স্বপ্না, রিটু, বাবু, আনোয়ার, ইব্রাহিম, আবদুল্লাহ, মোশাররফ, জসিমসহ আমরা সবাই পা ভেজাই। মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া অভয়ারণ্য দেখতে যাই। এক গ্লাসে সাত রঙের চায়ের স্বাদ নেন বন্ধুরা। লাউয়াছড়ার ঘন জঙ্গলের মধ্য দিয়ে যাওয়া সিলেট-ঢাকা রেললাইনে বসে আড্ডা দিই। সেখান থেকে যাই শ্রীমঙ্গল চা-বাগান দেখতে। বিশাল চা-বাগানের সমাহার দেখে কাপ্তাইয়ের বন্ধুরা দারুণ খুশি। কাপ্তাইসভার উপদেষ্টা এবং কাপ্তাইয়ে অবস্থিত ওয়াগ্গা চা-বাগানের পরিচালক খোরশেদুল আলম কাদেরীর অতিথি হিসেবে টি রিসার্চ ইনস্টিটিউট রেস্ট হাউসে আমাদের সবার জন্য দুপুরের খাবারের আয়োজন করা হয়।
সিলেটের দারা ভাই তাঁর বাসায় আমাদের বিশ্রামের ব্যবস্থা করেন এবং সবার জন্য সকালের নাশতার আয়োজন করেন। মৌলভীবাজার বন্ধুসভার সদস্য দুই বোন রোখসানা ও আফসানার সঙ্গে মুঠোফোনে কাপ্তাইসভার বন্ধু বাবুর অনেক দিনের পরিচয়। দুই বোনের নিমন্ত্রণে আমরা যাই তাঁদের বাসায়। রোখসানা ও আফসানার আতিথেয়তা ছিল আন্তরিকতায় পূর্ণ।
তিন দিনের আনন্দময় ভ্রমণ শেষে আমাদের ফেরার পথে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বন্ধুসভার সভাপতি বিবর্ধন রায় ইমন, সাংগঠনিক সম্পাদক সোলায়মান এবং কাজল কাউতলীতে আমাদের স্বাগত জানান এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের খাওয়া দাওয়া হোটেলে নৈশভোজ দিয়ে আপ্যায়ন করেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বন্ধুরা রাতে স্বাধীনতার স্মারক দেয়ালভাস্কর্য দেখাতে আমাদের নিয়ে যান শহীদ মিনার চত্বরের অবকাশ কেন্দ্রে। সেখানে ভাস্কর্যের সামনে দাঁড়িয়ে আমরা ছবি তুলি এবং কাচারি পুকুরপাড়ে কিছু সময় গল্প করি। তিন দিনের আনন্দময় সিলেট ভ্রমণের সঙ্গে বোনাস হিসেবে পাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বন্ধুদের সান্নিধ্য, যা স্মৃতির পাতায় জাগরূক থাকবে।
 সদস্য, কাপ্তাইসভা।