Wednesday, February 5, 2020
আমি তার চোখে একই কামনা দেখেছি -‘প্রিয়তির আয়না’ বই থেকে
আমি তার চোখে একই কামনা দেখেছি -‘প্রিয়তির আয়না’ বই থেকে

মাকসুদা
আক্তার প্রিয়তী। বাংলাদেশী মেয়ে। বড় হয়েছেন ঢাকায়। পড়াশোনার জন্য পাড়ি
জমান আয়ারল্যান্ডে। পড়াশোনার সঙ্গে জড়ান মডেলিং-এ। নিজের চেষ্টা আর সাধনায়
অর্জন করেন মিস আয়ারল্যান্ড হওয়ার গৌরব। নিজের চেষ্টায়ই বিমান চালনা
শিখেছেন। ঘর সংসার পেতেছেন আয়ারল্যান্ডেই।
নানা উত্থান পতন আর ঝড় বয়ে গেছে। নিজের বেড়ে উঠা, প্রেম, বিবাহ বিচ্ছেদ, মডেলিং, ক্যারিয়ার, প্রতারণা সব মিলিয়ে টালমাটাল এক পথ। প্রিয়তি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে বন্ধুর পথ পাড়ি দেয়ার নানা বিষয় নিয়ে প্রকাশ করেছেন আত্মজীবনী-‘প্রিয়তীর আয়না’। বইটিতে খোলামেলাভাবে নিজের বেড়ে ওঠা আর বেঁচে থাকার লড়াইয়ের নানা দিক তুলে ধরেছেন। এ বইয়ের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো মানবজমিন এর সৌজন্যে। আজ থাকছে পঞ্চম পর্ব-
আমরা সবাই বলি, অতীতকে ভোলা যায় না। আসলে অতীতকে হয়তো কোনো এক স্মৃতির ভাঁজে তুলে রেখে ভোলা যায় তা ঠিক, শুধুমাত্র অতীত থেকে যেই অভিজ্ঞতা নেয়া হয়েছে তা ভোলা যায় না। এখন দেখবার বিষয়, ওই অভিজ্ঞতাকে আসলে কোনো ভাবে কাজে লাগাচ্ছে তার গতানুগতিক জীবনে। ওই অভিজ্ঞতা অনেক শক্তিশালীও হতে পারে, অনেক শক্তিশালী।
আমি ধীরে ধীরে জীবন থেকে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করছি।
আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করতে যাচ্ছি আমার আরেক জীবন অভিজ্ঞতা।
মানুষ নাকি একা থাকতে পারে না। হ্যাঁ, তাতো পারেই না। আমি পুরো একটা বছর সম্পূর্ণ একা কাটিয়েছি, কিছুটা জনমন শূন্য। ফ্লাইং স্কুল এবং বাসা, এর মধ্যবর্তী আর কিছুই নেই, কোনো কথাও নেই। কথা বা মিশব কার সাথে নিজ দেশের কমিউনিটির কাছে তো আমি পরিত্যক্ত খারাপ নারী। আয়ারল্যান্ডে আশার পর থেকেই ছিলাম বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে, উঠা-বসা ছিল ওইখানেই। কখনোই আইরিশ কালচার বা আইরিশদের সাথে মিশিনি বা মিশার আগ্রহ জন্মায়নি, যার কারণে কোনো আইরিশ আমার পরিচিত বা বন্ধু ছিল না। আর পড়াশোনা বা কাজের খাতিরে যাদের সাথে কথা হতো, খুবই ফরমাল ছিল, ওই পর্যন্তই সীমাবদ্ধ রেখেছি। তাদের সাথে কখনো সখ্যতা বা বন্ধুত্ব তৈরি করার চেষ্টা করিনি।
আমার জীবন খুব বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। সমাজ ছাড়া, পরিবার ছাড়া, বন্ধু ছাড়া। বাংলাদেশেও তেমন আর ফোনে যোগাযোগ হতো না। বাংলাদেশে তখন ইন্টারনেট সবার ঘরে ঘরে ছিল না, এমনকি আয়ারল্যান্ড আমার বাসায়ও না, কারণ তার ব্যয় সুলভমূল্যে না থাকায় এফোর্ড করা সম্ভব ছিল না। আর সরাসরি ফোন করা তো আকাশের চাঁদ হাতে নেয়ার মতো। আর তাছাড়া পরিবার আমার এই পরিস্থিতির কথা জানলেও বা কী? ওদের কিছু করার নেই। ওরা আমাকে সাহায্য করতে পারবে না।
এই ভাবেই কেটে যাচ্ছে দুই বাচ্চা নিয়ে নিঃসঙ্গ জীবন। অভিযোগ নেই কারোর ওপর, এটি তো আমারই পছন্দ করা অপশন ছিল, যেই অপশনের আর কোনো অপশন আমার জন্য এভেইলেবেল ছিল না। ঘর থেকে বাইরে গিয়ে যে তিন ইউরো দিয়ে একটা কফি কিনে খাব, সেটি ভাবতো হতো একশ’বার। এই তিন ইউরো খরচ করা তো আমার জন্য বিলাসিতা, এই তিন ইউরো দিয়ে আমি একটা পাউরুটি এবং একটা গরুর দুধ কিনতে পারব।
এমনি সময়, আবরাজ হঠাৎ খুব অসুস্থ হয়ে পড়ল, হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। এর মধ্যে মৌনীরা ও অসুস্থ হয়ে পড়ল, তারও অবস্থা খারাপ, দু’জনই হাসপাতালে। দু’জনকে দুই রুমে রাখা হয়েছে। আর আমি একা। বাচ্চাদের বাবার সাথে বিচ্ছেদ হওয়ার পর থেকে যেহেতু সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না, যত রকম সুযোগ বিবেক পেত আমাকে আঘাত করার, আপ্রাণ চেষ্টা করত আমাকে ভাঙার। আমার প্রতি তার এতটাই ঘৃণা বা হিংসা। বাইরের মানুষ তার বাইরের প্রচ- ভদ্ররূপটা দেখেছে, কিন্তু সে ততটাই হিংস্র তার মনে, অপর সাইডে যার দেখা সবাই পায় না। হিউম্যান সাইকোলজি যারা পড়ে, তারা বিষয়টি জানে। আমাদের মানুষের মনে এক হিংস্র পশু বাস করে, যা আমরা জ্ঞান, বুদ্ধি, বিচার, বিবেক দিয়ে তালাবদ্ধ করে রাখি। কিন্তু অনেক সময়ই ওই হিংসা পশু তালা ভেঙে বের হয়ে আসে, অনেকে পারে তা নিয়ন্ত্রণ করতে, অনেকেই পারে না। নির্ভর করছে যার যার ব্যক্তিত্বের ওপর। সুতরাং আমিই জানি বিবেকের অপর পাশের চেহারা, যেই চেহারা তার পরিবারও দেখেনি, আর আশপাশের মানুষ তো দূরের কথা। বাইরের মানুষের কাছে সে অনেক ঠা-া, ভদ্র-নম্র একজন মানুষ, যা আসলেই সে এমন। কিন্তু এটি বাহ্যিক রূপ বা চরিত্র ব্যক্তিত্ব। বাহ্যিক বা চরিত্র বলতে যা বোঝায় তা হলো, আমি বা আপনি মানুষের সামনে আমাদের বিশিষ্ট, ব্যবহার, উপস্থাপন করি। যেটা দিয়ে আমাদের বাইরের মানুষ বিচার করে আমরা মানুষটা কেমন। কিন্তু ভিতরে মানুষটিকে খুব কম মানুষই চিনতে পারে। আমার বয়স তখন কম, জীবন দেখেছি কম, বুঝিও কম। এত কিছু বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা আমার তখন হয়নি।
যা বলছিলাম, আবরাজ ও মৌনীরা অসুস্থ, হাসপাতালে। দুই বাচ্চার পাশে দু’জন এডাল্ট বা অভিভাবক থাকতে হবে। আমি একা, তো একবার এই রুমে আরেকবার ওই রুমে। পাবলিক হাসপাতাল তাই আমার বিশ্রাম নেয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই, আছে শুধু একটা চেয়ার। সারারাত চেয়ারে বসে বসে কাটিয়েছি। বাচ্চাকে ফেলে রেখে হাসপাতালে থেকে বের হয়ে গিয়ে খাওয়ার পর্যন্ত অনুমতি নেই। হাসপাতাল তো আর আমাকে খাওয়াবে না। সুতরাং, বাচ্চাদের বাবা এই মোক্ষম সময়টি বেছে নিয়েছেন আমাকে শাস্তি দেওয়ার জন্য। তিনি আসেননি বাচ্চাদের দেখতে এবং আমাকে সহযোগিতা করতে। সারাদিন না খেয়ে আছি। গোসল নেই, ঘুম নেই। দু’টি কোলের বাচ্চা অসুস্থ, দু’জনই মায়ের সান্নিধ্য চায়। আমি হিমশিম খাচ্ছি। দুই বাচ্চার শরীরে স্যালাইন লাগানো, যার মাধ্যমে কয়েক ঘণ্টা এন্টিবায়োটিক ও অন্যান্য ওষুধ দেয়া হচ্ছে। অর্থাৎ সুই একটা এই মাসুম বাচ্চার ছোট হাতে লাগানো। একটু নাড়াচাড়া করলে হয়তো গুতা লাগে, তাতে ব্যথা লাগে, কান্না করে ওঠে। আমরা বড়রাই একটু অসুস্থ হলে কেমন লাগে, আপনারাই বলেন? তো, আমি সারারাত সজাগ থেকে যখন চেয়ারে বসে থাকি তখন হাসপাতালের ইন্টারনেট ব্যবহার করি। খুবই ধীরগতির ইন্টারনেট, যেহেতু শেয়ারিং এবং ফ্রি। রাত তখন ১২টা বাজবে, হঠাৎ করেই ফেসবুকে একটা মেসেজ আসলো। খুব অবাক হলাম, সাথে মৃদু হাসি। এতদিন, এত বছর পর বার্তা আসলো তার কাছ থেকে? আমি খুব আগ্রহের সাথে প্রতিউত্তর দিতে লাগলাম। বার্তাটি ছিল আয়ারল্যান্ডে আসার পর আমার প্রথম যার প্রতি ক্রাশ হয়েছিল। সিওর আমার প্রতিও তার ক্রাশ হয়েছিল, আমি সেই সিগন্যাল পেয়েছিলাম। যেহেতু বাংলাদেশ হাই, হ্যালো শুভেচ্ছা বিনিময় হতো প্রায়ই। কিন্তু ব্যাপারটি তেমন গভীরভাবে কাছাকাছি গড়ায়নি। কারণ তার বাংলাদেশে এক প্রেমিকা ছিল। পরবর্তীতে আমিও অন্য সম্পর্কে জড়িয়ে যাই এবং তার প্রেমিকাকে সে বিয়ে করে ফেলে। সবকিছু ছিমছাম। ভালো লাগার ব্যাপারটি চাপা পড়ে যায়। সুদর্শন, ভদ্র ছেলে। পড়াশোনার প্রতি খুবই আগ্রহী, আয়ারল্যান্ডে খুব ভালো একটা ইউনিভার্সিটিতে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে পড়াশোনা করে যাচ্ছে। কোন ধরনের বাজে অভ্যাস নেই, কোথাও দেখা হলে দেখতাম চুপচাপ ভদ্র ছেলের মতো বসে থাকত। কারো আগে-পিছে নাই, সে তার পৃথিবী নিয়ে ব্যস্ত। যে কেউ দেখলে বলবে অসাধারণ ছেলে।
সেই ছেলে হঠাৎ ফেসবুকে বার্তা পাঠানোর পর, বুক ধক করে উঠল। জানালাম আমি শিশু হাসপাতালে। আমাকে সে বলল, সে কাজ করে কাছেই, সে কাজ শেষে যাওয়ার সময় দেখা করে যাবে। আমিও হ্যাঁ সূচক সম্মতি জানালাম। সে আসলো, কিছু খাবার নিয়ে। কথা প্রসঙ্গে জানলাম, তার বিয়ের ডিভোর্স হয়ে গিয়েছে। আমার ব্রেকআপের কথা শুনে খুব দুঃখ প্রকাশ করল। আমি যে খুব খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি, সেটা তার বুঝতে বেশি সময় লাগেনি। আমিও অনেকদিন পরে কথা বলার মানুষ পেয়ে বড় বড় করে অনেক কথা বললাম। ধরে নিলাম তার নাম নিশো। হাসপাতালে আমি পাঁচ দিন ধরে এক কাপড়ে কোনো গোসল নাই, কাপড় পরিবর্তন হয়নি। অনুধাবন করতে পারছেন আমার অবস্থা কেমন ছিল। হাসপাতাল থেকে আমার বাসা অনেক দূরে, যার কারণে বাচ্চাদের রেখে বাসায় যাওয়া হয়নি। নিশো এর মধ্যে আমার সাথে ফোনে যোগাযোগ রাখছে, খবর নিচ্ছে। ব্যাপারটি আমার কাছে খুব ভালো লাগছে। মনের কোনো এক কোণায় যেন শক্তি উৎপাদন হচ্ছে, নুয়ে থাকা মাথা উঠাচ্ছি আস্তে আস্তে।
নিশো পরের রাতে কাজ শেষে রাত একটার দিকে আবারও আসে। এসে বলল চলো তোমাকে বাসায় নিয়ে যাই, তোমার ফ্রেশ হওয়ার দরকার, কাপড় পরিবর্তন করার দরকার।
আমি মনে মনে বললাম, ‘হায় খোদা আমার শরীর থেকে আবার দুর্গন্ধ বের হচ্ছে না তো?’
আমি নার্সকে বিনয়ের সাথে অনুরোধ করলাম আমাকে দুই তিন ঘণ্টার জন্য যাওয়ার অনুমতি দিতে। বললাম, আমি ভোর পাঁচটার মধ্যে চলে আসব। নার্স আমার অবস্থা বিবেচনা করে বুঝতে পারলেন এবং দয়া করে যেতে দিলেন। আমি বাসায় গেলাম দ্রুত গোসল আর কিছু জিনিস আনতে।
বাসা থেকে হাসপাতালে ফেরার পথে ঘটল যত সব পাগলামি ঘটনা।
আমি তো তার পাশে বসে আছি গাড়িতে, নিশো কথা বলছে। কিন্তু আমার মনের মধ্যে কেমন যেন ধুুকুর ধুকুর করছে, আমি জানি না তার মধ্যেও তেমন করছিল কিনা। নিশোও আমার দিকে যেভাবে তাকাচ্ছিল, তার চাহনি আমার ভেতরটা ওলটপালট করে দিচ্ছিল। আমি বারবার তার হাতের দিকে তাকাচ্ছি। সে যখন আমার দিকে তাকিয়ে কথা বলে, আমার ঠোঁটের দিকে তাকিয়ে কথা বলে মনে হচ্ছে সেই যে, আট/দশ বছর আগে তার প্রতি ক্রাশ খেয়েছিলাম, সেই তখনকার মুহূর্ত। তখনকার আকাক্সক্ষাগুলো এক সাথে জড়ো হচ্ছে। শরীরের রক্তনালীগুলোতে নিঃসৃত হরমোনগুলো ছুটোছুটি করছে। শরীরের অঙ্গের কোনো কিছুই যেন স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে না। আজ অনেক বছর পর কোথায় যেন হারিয়ে যেতে মন চাইছে। হঠাৎ করেই উপলব্দি করলাম আমরা হাসপাতালের খুব কাছাকাছি চলে এসেছি। এতখানি পথ এত দ্রুত কীভাবে চলে আসলাম? আশ্চর্য! আমার মনে তার (নিশো) হাত ধরার কামনা জাগছে। মন বলছে, ‘এই তুমি কি আমার হাত ধরবে? তোমার আঙ্গুল দিয়ে আলতো করে আমার ঠোঁট স্পর্শ করবে? প্রথমে উপরের ঠোঁটে, তারপর নিচের ঠোঁটে, তারপর দুই ঠোঁটে?’ কিন্তু সে তো এই কথাগুলো শুনতে পারছে না। আমার ধুক ধুক করে যে হৃদয়ের স্পন্দন হচ্ছে, তা তো শোনার কথা, সে কি শুনতে পারছে? আমি স্পষ্ট তার চোখে দেখতে পারছি তার জড়তা তাকে বধির করে রাখার চেষ্টা করছে। আমার বায়োলজিক্যাল শরীর আমাকে জানান দিল, এই দেহে বিপরীত লিঙ্গের কোনো স্পর্শ পায়নি প্রায় তিন বছর হয়ে গেল। হাসপাতাল থেকে আমরা মাত্র তিন/চার মিনিটের দূরত্বে। আমি শেষমেশ দ্বিধা-দ্বন্দ্ব রেখে, লাজ লজ্জা ভুলে, গাড়ির গিয়ার স্টিকের ওপরে রাখা তার হাতের ওপর আমার হাত রেখে নিশোকে আজকের উপকারের জন্য ধন্যবাদ জানালাম। ভাবলাম, সবকিছু বাদ, অন্তত তাকে তো একটা ধন্যবাদ জানাতে হবে। হ্যাঁ অস্বীকার করব না, তাকে আমার ছুঁয়ে দেখতে মন চাচ্ছিল অবচেতন মন থেকে, যা নিয়ন্ত্রণ করতে আমার খুব কষ্ট হচ্ছিল। এখন, সে এটাকে যেভাবে নেয় নেবে। তার ব্যাপার। আমি তার চোখে ওই একই কামনা দেখেছি, অনুভব করেছি না ছুঁয়েই। আমি তার হাতের ওপরে আমার হাত আলতেভাবে রাখলাম, রাখার সাথে সাথে সারা শরীরে বিদ্যুতের মতো কিছু প্রবাহ হলো। আমি নিশ্চিত, আপনি জীবনের কোনো না কোনো সময় ওই রকম স্পর্শে শরীরে তড়িৎ প্রবাহের অভিজ্ঞতা নিশ্চয়ই হয়েছে। নিজের শরীর এতদিন নিজের কাছেই অপরিচিত, প্রাণহীন ছিল। অদ্ভুত! নিশো আমার হাতে স্পর্শ পেয়ে এমনভাবে তাকাল, যেন সে কয়েক হার্টবিট স্কিপ করেছে, যেন সে কল্পনাই করেনি আমি কখনো এমনভাবে নিজ থেকে তার হাত ধরব। কিছু বুঝে ওঠার আগেই, নিশো আমার হাতটি চেপে ধরল। এ এমন ছোঁয়া যে শিরায় শিরায় তার প্রবাহ হচ্ছে, যেন এমন স্পর্শের জন্য মরতে পারি বারবার। মুহূর্তেই আমি আমার বিষাদ, কষ্ট, স্ট্রাগল সবকিছু যেন ভুলে গেলাম। গাড়ি থামল হাসপাতালের পিছনের গেটে। মুহূর্তগুলো যেন ওই জায়গায় ফ্রিজ হয়ে আছে। নিশো আমার দিকে তাকিয়ে আছে, আমার দিকে মানে আমার ঠোঁকের দিকে। আমি তাকিয়ে আছি তার চোখের দিকে। দু’জনই খুব তৃষ্ণার্ত, ঢুক গিলছি বারবার। এ তো নিশ্চয় পানির জন্য তৃষ্ণার্ত নয়। ঠোঁট শুকিয়ে আসছে, গলা শুকিয়ে আসছে। দু’জন দু’জনের হৃদয়ের ধুক ধুক স্পন্দন শুনতে পাচ্ছি। হঠাৎ নিশোর একটা হাত আমার ঘাড়ের চুলের পিছনে রাখতেই আমার শরীর নিস্তেজ হয়ে গেল। ছেলেরা মনে হয় জানেই যে তাদের হাতে সৃষ্টিকর্তা মেয়েদের শরীর কাবু করার জন্য জাদু দিয়ে দিয়েছেন। অটোম্যাটিকভাবে আমার চোখ বন্ধ হতেই নিশো তার ঠোঁট আমার ঠোঁটের ওপর চেপে ধরল। উফফ কী অদ্ভুত সুখ বয়ে যাচ্ছে আমার শরীরের ভিতর দিয়ে। সে তার ঠোঁট আর জিভ দিয়ে আমার দুই ঠোঁট চুষল, একবার উপরের ঠোঁট, একবার নিচের ঠোঁট। ঠিক যেমনটি আমি মনে মনে আকাক্সক্ষা করছিলাম প্রথম দিকে। আমার শরীর তখনও নিস্তেজ। তার দুই হাত দিয়ে আমার মুখখানা আলতো করে ছুঁয়ে সারা মুখে চুমু খেতে লাগল। আমার বাধা দেয়ার কোনো স্নায়ু কাজ করেনি তখন, ব্রেইনের নিয়ন্ত্রণ ছিল সম্পূর্ণ তার হাতে। আর আমি সাধারণ এক বায়োলজিক্যাল প্রাণীর মতো উপভোগ করছি, যার কামনা মনের কোনো এক কোণায় হয়তো পোষণ করছিলাম। চুম্বনের শেষটুকু সে শেষ করেছে, তার এক হাত দিয়ে আমার কোমরে হাত দিয়ে তার শরীরের আরও কাছে সে আনতে চাইল, যেন সে আরও বেশি কাছে আমাকে পেতে চায়। কয়েকবার আমার কোমরে হাত দিয়ে তার শরীরের সন্নিকটে আনার প্রচেষ্টা আমাকে আরও উত্তেজিত করে ফেলছিল। এই পুরো ব্যাপারটির সময়ের ব্যাপ্তি ছিল মাত্র ৪/৫ মিনিট। হঠাৎ করেই অনুধাবন করলাম, ওহ হ্যাঁ আমরা তো হাসপাতালের বাইরে, রাস্তার ওপর পার্কিং করে আছি। আমার যেতে হবে। চলে আসলাম, সুখের স্বর্গ থেকে বাস্তবতায়। বিদায়ের সময় লজ্জা পাচ্ছিলাম নিশোর চোখের দিকে তাকাতে, কি থেকে কি হয়ে গেল। আফসোস হচ্ছিল না, যা হয়েছে ভালোই হয়েছে। এক ঝলক তার দিকে তাকিয়ে চোখের ইশারায় বিদায় নিয়ে চলে আসলাম হাসপাতালের ভিতরে।
এরপর থেকে আমার প্রতি নিশোর যতœ, খোঁজ-খবর, কেয়ার করা দ্বিগুণ বেড়ে যায়। আর আমি এইদিকে ভাবতে লাগলাম, আমার একঘরা নিঃসঙ্গ জীবনের সঙ্গী হিসেবে কাউকে পেলাম, কোথায় যেন হাফ ছেড়ে বাঁচলাম। মনে হলো স্বপ্নের রাজকুমার বুঝি এতে বছর পর এলো আমার জীবনে। ঘোড়ায় চড়ে এসে আমার জীবনের সব দুঃখ, কষ্ট, বেদনা সব উড়িয়ে নিয়ে যাবে, আর আমাকে জীবনের সব সুখগুলো দিয়ে ভরিয়ে রাখবে। আমি শুধু তার হয়ে থাকব সারাজীবন।
আমার শুরু হলো নিশোকে নিয়ে কল্পনার জগৎ। সারাক্ষণ তাকে নিয়ে ভাবনাগুলো আচ্ছন্ন করে রাখত। আর এই আচ্ছন্নতা ছিল সুখের। প্রেমে পড়লে আপনার মন যেমন স্বতঃফূর্ত থাকে, আমি সেই প্রেমের নৌকায় ভাসছি। কিছুক্ষণ পর পর নিশো আমার খবর নিচ্ছে, আমার প্রচ- ভালো লাগছে। মনে হচ্ছে আমার বোবার জীবনের অবসান হতে যাচ্ছে। আগেও আপনাদের বলেছি, ফ্লাইং স্কুলের বাইরে আমার কোথাও যাওয়া হতো না, আর সেখানে পড়াশোনার বিষয় ছাড়া কথা হতো না। আমি তখনও আইরিশদের সাথে ইন্ট্রিগ্রেইট করতে পারতাম না, সত্যি কথা বলতে কখনো সাদা চামড়ার পুরুষদের প্রতি আকর্ষণও বোধ করতাম না তখন। কোন ক্রাশ জাতীয় অনুভূতি হয়নি তাদের প্রতি। কেন, কে জানে? এটি আমার ব্যক্তিত্বের একটি বাধা বলব। নিজ কালচারের বাইরে কারোর সাথে মিশতে না পারার কারণে আমি যেভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলাম ‘নিশো তার মাঝে এক জাদুর কাঠি।’ আমার সাথে সে কাজ শেষে ২/১ দিন পর পর দেখা করতে আসত। তার সাথে কিছু অন্তরঙ্গ সময় কাটানো আমি খুব উপভোগ করতাম। যদিও সে আমাকে আরও গভীরভাবে পেতে চাইত, বিছানা পর্যন্ত নিয়ে যেতে চাইত। ওই পর্যন্ত না যেতে পারলে যে, সে কিছুটা নিরাশ হতো বুঝতে পারতাম। কিন্তু তখন ব্যাপারটি আমার কাছে মিষ্টি লাগত। আমাদের মধ্যে সুখ-দুঃখগুলো বিনিময় হতো। মনে মনে বিশ্বাস বেড়েছিল দু’জন দু’জনকে মনে হয় খুব ভালোভাবে বুঝতে পেরেছি। খুব তাড়াতাড়ি দু’জনের কাছাকাছি চলে এসেছি। সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের খোলা-খুলি কিছু কথাবার্তা আদান-প্রদান করার কারণে খুব তাড়াতাড়ি মানুষজন জেনে গেলে আমাদের সম্পর্কের কথা। আসলে নিশো চাচ্ছিল সবাই জানুক আর আমারও বাধা দিতে মন চায়নি। কারণ লুকোচুরি করার তো কিছু নেই, তাই না? নিশোর ছায়াতে আমি সিকিউর অনুভব করতাম। এরই মধ্যে নিশো আমাকে বিয়ে করার জন্য প্রপোজ করে। সে খুব তাড়াতাড়ি বিয়ে করতে চায়। সেই মুহূর্তে পৃথিবীতে আমার চেয়ে সুখী মেয়ে মনে হয় আর কেউ নেই।
বাচ্চাদের সাথে তার সখ্যতা হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যে। আর কি লাগে সুখের সাগরে ভাসার জন্য। আমি যখন লিখছি তখন হা হা করে হাসছি, কতটা বোকা ছিলাম আমি, তাই না? কঠিন পৃথিবী তখনও আমার কাছে অনেকটা অপরিচিত। আমাকে নিশো জানাল সে তার পরিবারের সাথে ইতিমধ্যে আমার বিষয়ে কথা বলেছে, তার বাবার সাথেও আমাকে ফোনে কথা বলিয়ে দিল। ভদ্রলোক বেশ ভদ্র মানুষ, মা মা বলে সম্বোধন করলেন। যেন আমি তার কত আপন। আমার বিশ্বাস করতে হচ্ছিল যে, আসলেই এই ঘটনাগুলো ঘটছে আমার জীবনে। বাংলাদেশে গিয়ে আমাদের বিয়ে হবে, আমি তার প্রেমে আরও পাগল হতে লাগলাম। আমি নিশোর প্রতি খুব ডিভোটেড এবং আমি অনুভব করছি সে নিজেও। আমাকে সত্যি সত্যি কেউ এত ভালোবাসতে পারে? এত!
বেশিদিন টেকেনি আমার সেই অবিশ্বাস্য কল্পনার জগৎ। আমি কিছু দিন পর থেকেই লক্ষ্য করছি একটু ভিন্ন কিছু। প্রথম প্রথম ভাবতাম এ বুঝি আমার প্রতি অতিরিক্ত ভালোবাসা। কিন্তু কিছুদিন পর থেকে আমার শ্বাসরুদ্ধ মনে হতে থাকে। মনে হতে থাকে কেউ মনে হয় আমাকে আস্তে আস্তে বোতলের ভিতর ভরার চেষ্টা করছে, আর আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছি না। নির্বাক হয়ে যেতাম যখন দেখতাম, সোশ্যাল মিডিয়ার আমার কোনো পোস্টে কারও কোনো কমেন্টে তেলে বেগুনে রেগে যেত। তার সাথে সম্পর্কতে জড়ানোর আগের টেক্সটগুলো পড়ত আমাকে না জানিয়ে। এইগুলো নিয়ে নিশো আমার সাথে তুমুল ঝগড়া করা শুরু করল, যা আমার কাছে সম্পূর্ণভিত্তিহীন মনে হতো। কিন্তু তখনও আমি ভেবে যাচ্ছি ও এইরকম প্রতিক্রিয়া করছে সব অভিমান, অনুযোগ থেকে। ভালোবাসা তো নিষ্পাপ, অন্ধ।
নিশোর ব্যাপারে প্রথমবারের মতো বাকরুদ্ধ হয়ে যাই এক সন্ধ্যার ঘটনাতে। সেই সন্ধ্যা যা অনেক কিছুর ইঙ্গিত দিয়েছিল আমাকে কিন্তু আংশিক ধরেছি। খুব অন্তরঙ্গ মুহূর্ত কাটছে আমাদের, আদর করছে সে আমাকে। অন্তরঙ্গ মুহূর্ত বলতে আমি চুমু খাওয়া, জড়িয়ে ধরা এগুলোই বুঝি। স্পর্শের উষ্ণতায় দু’জনেই হারিয়ে যাচ্ছি। কারও রূপে যে কেউ পাগল হতে পারে, তা এই প্রথম দেখছি নিশোর চোখে। তবে পুরুষ ও নারীর যে মনের ভিন্নতা, কামনার ভিন্নতা, চাওয়ার ভিন্নতা রয়েছে তার বিশ্লেষণ করার বয়স এবং অভিজ্ঞতা আমার তখনও হয়নি, আমি বুঝিনি। সে আমাকে আদর করতে করতে বিছানায় নিয়ে যেতে চাইল। আমাকে পরিষ্কার বুঝিয়ে দিল, আমার সাথে এই মুহূর্ত শারীরিক মিলনের কামনায় সে পাগল হয়ে আছে। আমার উত্তর তখন বাধা সূচক ‘না’ আসে। তখন নিশো ভেবে পাচ্ছে না যে, দু’দিন পর আমাদের বিয়ে হতে যাচ্ছে, এতটা কাছাকাছি আসার পর শারীরিক সম্পর্কে বাধা কোথায়? আমি বললাম, ‘আমি শারীরিক সম্পর্কের জন্য এখনো তৈরি নই। ‘আমার এই কথা শোনার পর মনে হয় নিশোর মাথায় বাপ পড়ল। প্রচ- রেগে গেল। তার চেহারা আর মুখের ভাষা মুহূর্তেই পালটে গেল। আমাকে নিশো বলে উঠল, ‘তুই কেমন প্রেমিকা যে, তুই তোর প্রেমিকের শারীরিক চাহিদা মিটাতে পারিস না?’ তার এই কথা শুনে আমি স্তব্ধ, বাকরুদ্ধ, কিংকর্তব্যবিমূঢ়! আমার মাথার মধ্যে কি কি যেন ইলেকট্রিক শক-এর মতো স্পার্ক হচ্ছে। আমি নির্বোধের মতো তার দিকে তাকিয়ে রইলাম। আর দু’দিন পরই তো বাংলাদেশে যাচ্ছি বিয়ে করতে। কি এমন ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে তার জন্য? কি এমন তাড়াহুড়া তার? এই উত্তরগুলো তখন আমার জানা না থাকলেও এখন আমি জানি। সাইকোলজিক্যাল নারী ও পুরুষের মনস্তাত্ত্বিক বিষয়গুলো ভিন্নভাবে ফর্ম করা। কামনার বিষয়গুলো মাথায় কাজ করে ভিন্নভাবে।
ছোট একটা উদাহরণ দিয়ে যদি বলি, একটা মেয়ে যখন সুন্দর করে সেজেগুঁজে, আবেদনময়ী হয়ে তার প্রেমিকের সামনে উপস্থিত হয়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তার উদ্দেশ্য থাকে তার রূপে যেন তার প্রেমিক প্রশংসায় পঞ্চমুখ থাকে। প্রেমিকের চোখে যেন সে রানি, পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ সুন্দরী নারী। আর ওই একই মুহূর্তে পুরুষদের চিন্তা-ভাবনায়, কামনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একজন পুরুষ ভেবে নেয় যে, তার প্রেমিকা তার সাথে বিছানায় যাওয়ার জন্যই হয়তো এতসব আয়োজন করেছে, এত আবেদনময়ীভাবে সেজেছে। নারীরা টিজ করতে পছন্দ করে তা বেশিরভাগ পুরুষরা বোঝে না, বিশেষ করে রক্ষণশীল পুরুষরা।
ওড়াল সেক্স হওয়ার পর বা করার মুহূর্তে অনেক পুরুষ ভেবে নেয়, পুরোপুরিভাবে শারীরিক মিলনে সমস্যা কোথায়? যেখানে এক নারী যেকোনো মুহূর্তে মনে করতে পারে, আমি একটা পর্যায়ের বেশি এগুবে না। সম্মতির ব্যাপারটা তাই এখানে খুব জরুরি।
আমি নিশোর সাথে ওই মুহূর্তে শারীরিক সম্পর্কে সম্পূর্ণভাবে জড়ানোর জন্য মানসিকভাবে মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। হয়তো সেই সময় তখনও আসেনি তাই আমার মন সায় দেয়নি। আমি আমার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়কে খুব প্রাধান্য দেই। আমি শুনি তার কথা। নিশো রেগে চলে গেলেও, পরের দিন সরি বলে ক্ষমা চেয়ে নিল। নিশোর সাথে এই প্রথম ঘটেছে এমন ঘটনা, তাই আমিমাফ করে বিষয়টি স্বাভাবিক করে নেয়ার চেষ্টা করলাম। কিন্তু ভিতরে কোথায় যেন একটা তার ছিঁড়ে গিয়েছে তা বুঝতে পারছি, সুরটা মিলছে না। যাই হোক, দুদিন পরই বাংলাদেশে যাব, হয়তো তখন আমার এই উদ্বিগ্ন হওয়াটা চলে যাবে। দুই পক্ষ কথা বলবে, মুরব্বিরা যদি ভালো মনে করে তাহলেই বিয়ে ব্যাপারটা এগুবে। এখন আপাতত এই বিষয়গুলো কম্প্রোমাইজ করে ফেলাটাই ভালো।
এক্সাইটেট তৈরি হচ্ছে ধীরে ধীরে, ভুলে যেতে চাইলাম কষ্টের সব অভিজ্ঞতার কথা। এই অল্প কিছুদিনের মধ্যে নিশোর যে পরিবর্তন লক্ষ করেছিলাম, তাও এড়ানোর চেষ্টা করলাম। এক সাথে চলতে গেলে এমন টুকটাক বিষয় ঘটতেই পারে, বিষয়গুলো মাথায় এভাবে ঢুকানোর চেষ্টা করলেও আসলে বিষয়গুলো টুকটাক ছিল না। এইগুলো ছিল সিগন্যাল, একটা মানুষকে বোঝার সিগন্যাল, নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত বোঝার সিগন্যাল। কিন্তু আমি বুঝতে পারিনি, অনভিজ্ঞতার কারণে। ওইটুকু বয়সে কত কিছুই বুঝতে পারার কথা? নাকি মানুষের ওপর ঘৃণা আর অবিশ্বাসের দেয়াল উঠাব? মানুষ যে বলে দুনিয়া অনেক কঠিন, সেটি বুঝতে অনেক ঘাত-প্রতিঘাত, বাধার মুখোমুখি হতে হয়, তা ড্রিল করতে হয়।
তেমনি, আরেক আঘাত আমার জন্য অপেক্ষা করছিল। বাংলাদেশে গিয়ে দেখি নিশোর বাবা আমাদের সম্পর্কের কথা জানলেও নিশোর পুরো পরিবার জানে না, অর্থাৎ তার মা এবং অন্যান্যরা। নিশোর বাবা-মা’র বিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছে তাও আমি জানি না। যদিও সেটি আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। বাবা জানলে মা জানবে না কেন এই প্রশ্ন আপনার মনে আসবে বলে কথাটি জানানো। নিশোর বাবা পরিবারে কারোর সাথে কোনো আলাপ করেনি এবং নিশো পুরো ব্যাপারটি গোপন রেখেছে। নিশোর মা একদিন লুকিয়ে আমাদের বাসায় আসে। এসে আমাকে হাতজোড় করে অনুরোধ করে, আমি যেন উনার ছেলের জীবন থেকে সরে যাই। আমি দুুই বাচ্চার মা আর দুই বাচ্চার মা’কে ছেলের বৌ হিসেবে মেনে নেয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়। সমাজে তারা মুখ দেখাতে পারবে না। আমার আবরাজের দোহাই দিয়ে বলল, ‘তোমারও ছেলে আছে, তুমি আমার ছেলেকে এসব কথা বলো না। বললে সে পাগলামি করবে, আমাদের ছেড়ে চলে যাবে।’ উনার কান্না থামছিল না।
আমি উত্তরে বললাম, ‘আমি এসেছিলাম আপনাদের পরিবারের সদস্য হতে, আমার বাবা-মা নেই, আপনাদের মাধ্যমে বাবা-মা খুঁজে পেতে। আপনারা যদি আমাকে না-ই চান, তাহলে সেই পরিবারের সদস্য আমার হয়ে কি লাভ? আপনার ছেলে কোনোদিনই জানবে না, আমি এই সম্পর্ক ভেঙে দিচ্ছি, আপনি নিশ্চিন্তে থাকুন।’
আমি নিশোর সাথে কঠোরভাবে ব্রেকাপ করলাম। নিশো কখনোই জানতে পারল না আমাদের সম্পর্ক ভাঙার মূল কারণ। সে শুধু জানল আমি খুব নির্দয়ী, অহঙ্কারী, স্বার্থপর, অকৃতজ্ঞ মানুষ, যে শুধু ভালোবাসা নিয়ে খেলেছে।
কঠিন এক প্রিয়তী হয়ে গেলাম আমি।
এরপর থেকে দু’জন দু’জনের চেহারা আজ অব্দি দেখা হয়নি। দেখা যাতে কোনদিন না হয় সেই প্রার্থনা করি।
‘প্রিয়তির আয়না’ বই থেকে নেয়া
নানা উত্থান পতন আর ঝড় বয়ে গেছে। নিজের বেড়ে উঠা, প্রেম, বিবাহ বিচ্ছেদ, মডেলিং, ক্যারিয়ার, প্রতারণা সব মিলিয়ে টালমাটাল এক পথ। প্রিয়তি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে বন্ধুর পথ পাড়ি দেয়ার নানা বিষয় নিয়ে প্রকাশ করেছেন আত্মজীবনী-‘প্রিয়তীর আয়না’। বইটিতে খোলামেলাভাবে নিজের বেড়ে ওঠা আর বেঁচে থাকার লড়াইয়ের নানা দিক তুলে ধরেছেন। এ বইয়ের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো মানবজমিন এর সৌজন্যে। আজ থাকছে পঞ্চম পর্ব-
আমরা সবাই বলি, অতীতকে ভোলা যায় না। আসলে অতীতকে হয়তো কোনো এক স্মৃতির ভাঁজে তুলে রেখে ভোলা যায় তা ঠিক, শুধুমাত্র অতীত থেকে যেই অভিজ্ঞতা নেয়া হয়েছে তা ভোলা যায় না। এখন দেখবার বিষয়, ওই অভিজ্ঞতাকে আসলে কোনো ভাবে কাজে লাগাচ্ছে তার গতানুগতিক জীবনে। ওই অভিজ্ঞতা অনেক শক্তিশালীও হতে পারে, অনেক শক্তিশালী।
আমি ধীরে ধীরে জীবন থেকে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করছি।
আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করতে যাচ্ছি আমার আরেক জীবন অভিজ্ঞতা।
মানুষ নাকি একা থাকতে পারে না। হ্যাঁ, তাতো পারেই না। আমি পুরো একটা বছর সম্পূর্ণ একা কাটিয়েছি, কিছুটা জনমন শূন্য। ফ্লাইং স্কুল এবং বাসা, এর মধ্যবর্তী আর কিছুই নেই, কোনো কথাও নেই। কথা বা মিশব কার সাথে নিজ দেশের কমিউনিটির কাছে তো আমি পরিত্যক্ত খারাপ নারী। আয়ারল্যান্ডে আশার পর থেকেই ছিলাম বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে, উঠা-বসা ছিল ওইখানেই। কখনোই আইরিশ কালচার বা আইরিশদের সাথে মিশিনি বা মিশার আগ্রহ জন্মায়নি, যার কারণে কোনো আইরিশ আমার পরিচিত বা বন্ধু ছিল না। আর পড়াশোনা বা কাজের খাতিরে যাদের সাথে কথা হতো, খুবই ফরমাল ছিল, ওই পর্যন্তই সীমাবদ্ধ রেখেছি। তাদের সাথে কখনো সখ্যতা বা বন্ধুত্ব তৈরি করার চেষ্টা করিনি।
আমার জীবন খুব বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। সমাজ ছাড়া, পরিবার ছাড়া, বন্ধু ছাড়া। বাংলাদেশেও তেমন আর ফোনে যোগাযোগ হতো না। বাংলাদেশে তখন ইন্টারনেট সবার ঘরে ঘরে ছিল না, এমনকি আয়ারল্যান্ড আমার বাসায়ও না, কারণ তার ব্যয় সুলভমূল্যে না থাকায় এফোর্ড করা সম্ভব ছিল না। আর সরাসরি ফোন করা তো আকাশের চাঁদ হাতে নেয়ার মতো। আর তাছাড়া পরিবার আমার এই পরিস্থিতির কথা জানলেও বা কী? ওদের কিছু করার নেই। ওরা আমাকে সাহায্য করতে পারবে না।
এই ভাবেই কেটে যাচ্ছে দুই বাচ্চা নিয়ে নিঃসঙ্গ জীবন। অভিযোগ নেই কারোর ওপর, এটি তো আমারই পছন্দ করা অপশন ছিল, যেই অপশনের আর কোনো অপশন আমার জন্য এভেইলেবেল ছিল না। ঘর থেকে বাইরে গিয়ে যে তিন ইউরো দিয়ে একটা কফি কিনে খাব, সেটি ভাবতো হতো একশ’বার। এই তিন ইউরো খরচ করা তো আমার জন্য বিলাসিতা, এই তিন ইউরো দিয়ে আমি একটা পাউরুটি এবং একটা গরুর দুধ কিনতে পারব।
এমনি সময়, আবরাজ হঠাৎ খুব অসুস্থ হয়ে পড়ল, হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। এর মধ্যে মৌনীরা ও অসুস্থ হয়ে পড়ল, তারও অবস্থা খারাপ, দু’জনই হাসপাতালে। দু’জনকে দুই রুমে রাখা হয়েছে। আর আমি একা। বাচ্চাদের বাবার সাথে বিচ্ছেদ হওয়ার পর থেকে যেহেতু সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না, যত রকম সুযোগ বিবেক পেত আমাকে আঘাত করার, আপ্রাণ চেষ্টা করত আমাকে ভাঙার। আমার প্রতি তার এতটাই ঘৃণা বা হিংসা। বাইরের মানুষ তার বাইরের প্রচ- ভদ্ররূপটা দেখেছে, কিন্তু সে ততটাই হিংস্র তার মনে, অপর সাইডে যার দেখা সবাই পায় না। হিউম্যান সাইকোলজি যারা পড়ে, তারা বিষয়টি জানে। আমাদের মানুষের মনে এক হিংস্র পশু বাস করে, যা আমরা জ্ঞান, বুদ্ধি, বিচার, বিবেক দিয়ে তালাবদ্ধ করে রাখি। কিন্তু অনেক সময়ই ওই হিংসা পশু তালা ভেঙে বের হয়ে আসে, অনেকে পারে তা নিয়ন্ত্রণ করতে, অনেকেই পারে না। নির্ভর করছে যার যার ব্যক্তিত্বের ওপর। সুতরাং আমিই জানি বিবেকের অপর পাশের চেহারা, যেই চেহারা তার পরিবারও দেখেনি, আর আশপাশের মানুষ তো দূরের কথা। বাইরের মানুষের কাছে সে অনেক ঠা-া, ভদ্র-নম্র একজন মানুষ, যা আসলেই সে এমন। কিন্তু এটি বাহ্যিক রূপ বা চরিত্র ব্যক্তিত্ব। বাহ্যিক বা চরিত্র বলতে যা বোঝায় তা হলো, আমি বা আপনি মানুষের সামনে আমাদের বিশিষ্ট, ব্যবহার, উপস্থাপন করি। যেটা দিয়ে আমাদের বাইরের মানুষ বিচার করে আমরা মানুষটা কেমন। কিন্তু ভিতরে মানুষটিকে খুব কম মানুষই চিনতে পারে। আমার বয়স তখন কম, জীবন দেখেছি কম, বুঝিও কম। এত কিছু বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা আমার তখন হয়নি।
যা বলছিলাম, আবরাজ ও মৌনীরা অসুস্থ, হাসপাতালে। দুই বাচ্চার পাশে দু’জন এডাল্ট বা অভিভাবক থাকতে হবে। আমি একা, তো একবার এই রুমে আরেকবার ওই রুমে। পাবলিক হাসপাতাল তাই আমার বিশ্রাম নেয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই, আছে শুধু একটা চেয়ার। সারারাত চেয়ারে বসে বসে কাটিয়েছি। বাচ্চাকে ফেলে রেখে হাসপাতালে থেকে বের হয়ে গিয়ে খাওয়ার পর্যন্ত অনুমতি নেই। হাসপাতাল তো আর আমাকে খাওয়াবে না। সুতরাং, বাচ্চাদের বাবা এই মোক্ষম সময়টি বেছে নিয়েছেন আমাকে শাস্তি দেওয়ার জন্য। তিনি আসেননি বাচ্চাদের দেখতে এবং আমাকে সহযোগিতা করতে। সারাদিন না খেয়ে আছি। গোসল নেই, ঘুম নেই। দু’টি কোলের বাচ্চা অসুস্থ, দু’জনই মায়ের সান্নিধ্য চায়। আমি হিমশিম খাচ্ছি। দুই বাচ্চার শরীরে স্যালাইন লাগানো, যার মাধ্যমে কয়েক ঘণ্টা এন্টিবায়োটিক ও অন্যান্য ওষুধ দেয়া হচ্ছে। অর্থাৎ সুই একটা এই মাসুম বাচ্চার ছোট হাতে লাগানো। একটু নাড়াচাড়া করলে হয়তো গুতা লাগে, তাতে ব্যথা লাগে, কান্না করে ওঠে। আমরা বড়রাই একটু অসুস্থ হলে কেমন লাগে, আপনারাই বলেন? তো, আমি সারারাত সজাগ থেকে যখন চেয়ারে বসে থাকি তখন হাসপাতালের ইন্টারনেট ব্যবহার করি। খুবই ধীরগতির ইন্টারনেট, যেহেতু শেয়ারিং এবং ফ্রি। রাত তখন ১২টা বাজবে, হঠাৎ করেই ফেসবুকে একটা মেসেজ আসলো। খুব অবাক হলাম, সাথে মৃদু হাসি। এতদিন, এত বছর পর বার্তা আসলো তার কাছ থেকে? আমি খুব আগ্রহের সাথে প্রতিউত্তর দিতে লাগলাম। বার্তাটি ছিল আয়ারল্যান্ডে আসার পর আমার প্রথম যার প্রতি ক্রাশ হয়েছিল। সিওর আমার প্রতিও তার ক্রাশ হয়েছিল, আমি সেই সিগন্যাল পেয়েছিলাম। যেহেতু বাংলাদেশ হাই, হ্যালো শুভেচ্ছা বিনিময় হতো প্রায়ই। কিন্তু ব্যাপারটি তেমন গভীরভাবে কাছাকাছি গড়ায়নি। কারণ তার বাংলাদেশে এক প্রেমিকা ছিল। পরবর্তীতে আমিও অন্য সম্পর্কে জড়িয়ে যাই এবং তার প্রেমিকাকে সে বিয়ে করে ফেলে। সবকিছু ছিমছাম। ভালো লাগার ব্যাপারটি চাপা পড়ে যায়। সুদর্শন, ভদ্র ছেলে। পড়াশোনার প্রতি খুবই আগ্রহী, আয়ারল্যান্ডে খুব ভালো একটা ইউনিভার্সিটিতে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে পড়াশোনা করে যাচ্ছে। কোন ধরনের বাজে অভ্যাস নেই, কোথাও দেখা হলে দেখতাম চুপচাপ ভদ্র ছেলের মতো বসে থাকত। কারো আগে-পিছে নাই, সে তার পৃথিবী নিয়ে ব্যস্ত। যে কেউ দেখলে বলবে অসাধারণ ছেলে।
সেই ছেলে হঠাৎ ফেসবুকে বার্তা পাঠানোর পর, বুক ধক করে উঠল। জানালাম আমি শিশু হাসপাতালে। আমাকে সে বলল, সে কাজ করে কাছেই, সে কাজ শেষে যাওয়ার সময় দেখা করে যাবে। আমিও হ্যাঁ সূচক সম্মতি জানালাম। সে আসলো, কিছু খাবার নিয়ে। কথা প্রসঙ্গে জানলাম, তার বিয়ের ডিভোর্স হয়ে গিয়েছে। আমার ব্রেকআপের কথা শুনে খুব দুঃখ প্রকাশ করল। আমি যে খুব খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি, সেটা তার বুঝতে বেশি সময় লাগেনি। আমিও অনেকদিন পরে কথা বলার মানুষ পেয়ে বড় বড় করে অনেক কথা বললাম। ধরে নিলাম তার নাম নিশো। হাসপাতালে আমি পাঁচ দিন ধরে এক কাপড়ে কোনো গোসল নাই, কাপড় পরিবর্তন হয়নি। অনুধাবন করতে পারছেন আমার অবস্থা কেমন ছিল। হাসপাতাল থেকে আমার বাসা অনেক দূরে, যার কারণে বাচ্চাদের রেখে বাসায় যাওয়া হয়নি। নিশো এর মধ্যে আমার সাথে ফোনে যোগাযোগ রাখছে, খবর নিচ্ছে। ব্যাপারটি আমার কাছে খুব ভালো লাগছে। মনের কোনো এক কোণায় যেন শক্তি উৎপাদন হচ্ছে, নুয়ে থাকা মাথা উঠাচ্ছি আস্তে আস্তে।
নিশো পরের রাতে কাজ শেষে রাত একটার দিকে আবারও আসে। এসে বলল চলো তোমাকে বাসায় নিয়ে যাই, তোমার ফ্রেশ হওয়ার দরকার, কাপড় পরিবর্তন করার দরকার।
আমি মনে মনে বললাম, ‘হায় খোদা আমার শরীর থেকে আবার দুর্গন্ধ বের হচ্ছে না তো?’
আমি নার্সকে বিনয়ের সাথে অনুরোধ করলাম আমাকে দুই তিন ঘণ্টার জন্য যাওয়ার অনুমতি দিতে। বললাম, আমি ভোর পাঁচটার মধ্যে চলে আসব। নার্স আমার অবস্থা বিবেচনা করে বুঝতে পারলেন এবং দয়া করে যেতে দিলেন। আমি বাসায় গেলাম দ্রুত গোসল আর কিছু জিনিস আনতে।
বাসা থেকে হাসপাতালে ফেরার পথে ঘটল যত সব পাগলামি ঘটনা।
আমি তো তার পাশে বসে আছি গাড়িতে, নিশো কথা বলছে। কিন্তু আমার মনের মধ্যে কেমন যেন ধুুকুর ধুকুর করছে, আমি জানি না তার মধ্যেও তেমন করছিল কিনা। নিশোও আমার দিকে যেভাবে তাকাচ্ছিল, তার চাহনি আমার ভেতরটা ওলটপালট করে দিচ্ছিল। আমি বারবার তার হাতের দিকে তাকাচ্ছি। সে যখন আমার দিকে তাকিয়ে কথা বলে, আমার ঠোঁটের দিকে তাকিয়ে কথা বলে মনে হচ্ছে সেই যে, আট/দশ বছর আগে তার প্রতি ক্রাশ খেয়েছিলাম, সেই তখনকার মুহূর্ত। তখনকার আকাক্সক্ষাগুলো এক সাথে জড়ো হচ্ছে। শরীরের রক্তনালীগুলোতে নিঃসৃত হরমোনগুলো ছুটোছুটি করছে। শরীরের অঙ্গের কোনো কিছুই যেন স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে না। আজ অনেক বছর পর কোথায় যেন হারিয়ে যেতে মন চাইছে। হঠাৎ করেই উপলব্দি করলাম আমরা হাসপাতালের খুব কাছাকাছি চলে এসেছি। এতখানি পথ এত দ্রুত কীভাবে চলে আসলাম? আশ্চর্য! আমার মনে তার (নিশো) হাত ধরার কামনা জাগছে। মন বলছে, ‘এই তুমি কি আমার হাত ধরবে? তোমার আঙ্গুল দিয়ে আলতো করে আমার ঠোঁট স্পর্শ করবে? প্রথমে উপরের ঠোঁটে, তারপর নিচের ঠোঁটে, তারপর দুই ঠোঁটে?’ কিন্তু সে তো এই কথাগুলো শুনতে পারছে না। আমার ধুক ধুক করে যে হৃদয়ের স্পন্দন হচ্ছে, তা তো শোনার কথা, সে কি শুনতে পারছে? আমি স্পষ্ট তার চোখে দেখতে পারছি তার জড়তা তাকে বধির করে রাখার চেষ্টা করছে। আমার বায়োলজিক্যাল শরীর আমাকে জানান দিল, এই দেহে বিপরীত লিঙ্গের কোনো স্পর্শ পায়নি প্রায় তিন বছর হয়ে গেল। হাসপাতাল থেকে আমরা মাত্র তিন/চার মিনিটের দূরত্বে। আমি শেষমেশ দ্বিধা-দ্বন্দ্ব রেখে, লাজ লজ্জা ভুলে, গাড়ির গিয়ার স্টিকের ওপরে রাখা তার হাতের ওপর আমার হাত রেখে নিশোকে আজকের উপকারের জন্য ধন্যবাদ জানালাম। ভাবলাম, সবকিছু বাদ, অন্তত তাকে তো একটা ধন্যবাদ জানাতে হবে। হ্যাঁ অস্বীকার করব না, তাকে আমার ছুঁয়ে দেখতে মন চাচ্ছিল অবচেতন মন থেকে, যা নিয়ন্ত্রণ করতে আমার খুব কষ্ট হচ্ছিল। এখন, সে এটাকে যেভাবে নেয় নেবে। তার ব্যাপার। আমি তার চোখে ওই একই কামনা দেখেছি, অনুভব করেছি না ছুঁয়েই। আমি তার হাতের ওপরে আমার হাত আলতেভাবে রাখলাম, রাখার সাথে সাথে সারা শরীরে বিদ্যুতের মতো কিছু প্রবাহ হলো। আমি নিশ্চিত, আপনি জীবনের কোনো না কোনো সময় ওই রকম স্পর্শে শরীরে তড়িৎ প্রবাহের অভিজ্ঞতা নিশ্চয়ই হয়েছে। নিজের শরীর এতদিন নিজের কাছেই অপরিচিত, প্রাণহীন ছিল। অদ্ভুত! নিশো আমার হাতে স্পর্শ পেয়ে এমনভাবে তাকাল, যেন সে কয়েক হার্টবিট স্কিপ করেছে, যেন সে কল্পনাই করেনি আমি কখনো এমনভাবে নিজ থেকে তার হাত ধরব। কিছু বুঝে ওঠার আগেই, নিশো আমার হাতটি চেপে ধরল। এ এমন ছোঁয়া যে শিরায় শিরায় তার প্রবাহ হচ্ছে, যেন এমন স্পর্শের জন্য মরতে পারি বারবার। মুহূর্তেই আমি আমার বিষাদ, কষ্ট, স্ট্রাগল সবকিছু যেন ভুলে গেলাম। গাড়ি থামল হাসপাতালের পিছনের গেটে। মুহূর্তগুলো যেন ওই জায়গায় ফ্রিজ হয়ে আছে। নিশো আমার দিকে তাকিয়ে আছে, আমার দিকে মানে আমার ঠোঁকের দিকে। আমি তাকিয়ে আছি তার চোখের দিকে। দু’জনই খুব তৃষ্ণার্ত, ঢুক গিলছি বারবার। এ তো নিশ্চয় পানির জন্য তৃষ্ণার্ত নয়। ঠোঁট শুকিয়ে আসছে, গলা শুকিয়ে আসছে। দু’জন দু’জনের হৃদয়ের ধুক ধুক স্পন্দন শুনতে পাচ্ছি। হঠাৎ নিশোর একটা হাত আমার ঘাড়ের চুলের পিছনে রাখতেই আমার শরীর নিস্তেজ হয়ে গেল। ছেলেরা মনে হয় জানেই যে তাদের হাতে সৃষ্টিকর্তা মেয়েদের শরীর কাবু করার জন্য জাদু দিয়ে দিয়েছেন। অটোম্যাটিকভাবে আমার চোখ বন্ধ হতেই নিশো তার ঠোঁট আমার ঠোঁটের ওপর চেপে ধরল। উফফ কী অদ্ভুত সুখ বয়ে যাচ্ছে আমার শরীরের ভিতর দিয়ে। সে তার ঠোঁট আর জিভ দিয়ে আমার দুই ঠোঁট চুষল, একবার উপরের ঠোঁট, একবার নিচের ঠোঁট। ঠিক যেমনটি আমি মনে মনে আকাক্সক্ষা করছিলাম প্রথম দিকে। আমার শরীর তখনও নিস্তেজ। তার দুই হাত দিয়ে আমার মুখখানা আলতো করে ছুঁয়ে সারা মুখে চুমু খেতে লাগল। আমার বাধা দেয়ার কোনো স্নায়ু কাজ করেনি তখন, ব্রেইনের নিয়ন্ত্রণ ছিল সম্পূর্ণ তার হাতে। আর আমি সাধারণ এক বায়োলজিক্যাল প্রাণীর মতো উপভোগ করছি, যার কামনা মনের কোনো এক কোণায় হয়তো পোষণ করছিলাম। চুম্বনের শেষটুকু সে শেষ করেছে, তার এক হাত দিয়ে আমার কোমরে হাত দিয়ে তার শরীরের আরও কাছে সে আনতে চাইল, যেন সে আরও বেশি কাছে আমাকে পেতে চায়। কয়েকবার আমার কোমরে হাত দিয়ে তার শরীরের সন্নিকটে আনার প্রচেষ্টা আমাকে আরও উত্তেজিত করে ফেলছিল। এই পুরো ব্যাপারটির সময়ের ব্যাপ্তি ছিল মাত্র ৪/৫ মিনিট। হঠাৎ করেই অনুধাবন করলাম, ওহ হ্যাঁ আমরা তো হাসপাতালের বাইরে, রাস্তার ওপর পার্কিং করে আছি। আমার যেতে হবে। চলে আসলাম, সুখের স্বর্গ থেকে বাস্তবতায়। বিদায়ের সময় লজ্জা পাচ্ছিলাম নিশোর চোখের দিকে তাকাতে, কি থেকে কি হয়ে গেল। আফসোস হচ্ছিল না, যা হয়েছে ভালোই হয়েছে। এক ঝলক তার দিকে তাকিয়ে চোখের ইশারায় বিদায় নিয়ে চলে আসলাম হাসপাতালের ভিতরে।
এরপর থেকে আমার প্রতি নিশোর যতœ, খোঁজ-খবর, কেয়ার করা দ্বিগুণ বেড়ে যায়। আর আমি এইদিকে ভাবতে লাগলাম, আমার একঘরা নিঃসঙ্গ জীবনের সঙ্গী হিসেবে কাউকে পেলাম, কোথায় যেন হাফ ছেড়ে বাঁচলাম। মনে হলো স্বপ্নের রাজকুমার বুঝি এতে বছর পর এলো আমার জীবনে। ঘোড়ায় চড়ে এসে আমার জীবনের সব দুঃখ, কষ্ট, বেদনা সব উড়িয়ে নিয়ে যাবে, আর আমাকে জীবনের সব সুখগুলো দিয়ে ভরিয়ে রাখবে। আমি শুধু তার হয়ে থাকব সারাজীবন।
আমার শুরু হলো নিশোকে নিয়ে কল্পনার জগৎ। সারাক্ষণ তাকে নিয়ে ভাবনাগুলো আচ্ছন্ন করে রাখত। আর এই আচ্ছন্নতা ছিল সুখের। প্রেমে পড়লে আপনার মন যেমন স্বতঃফূর্ত থাকে, আমি সেই প্রেমের নৌকায় ভাসছি। কিছুক্ষণ পর পর নিশো আমার খবর নিচ্ছে, আমার প্রচ- ভালো লাগছে। মনে হচ্ছে আমার বোবার জীবনের অবসান হতে যাচ্ছে। আগেও আপনাদের বলেছি, ফ্লাইং স্কুলের বাইরে আমার কোথাও যাওয়া হতো না, আর সেখানে পড়াশোনার বিষয় ছাড়া কথা হতো না। আমি তখনও আইরিশদের সাথে ইন্ট্রিগ্রেইট করতে পারতাম না, সত্যি কথা বলতে কখনো সাদা চামড়ার পুরুষদের প্রতি আকর্ষণও বোধ করতাম না তখন। কোন ক্রাশ জাতীয় অনুভূতি হয়নি তাদের প্রতি। কেন, কে জানে? এটি আমার ব্যক্তিত্বের একটি বাধা বলব। নিজ কালচারের বাইরে কারোর সাথে মিশতে না পারার কারণে আমি যেভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলাম ‘নিশো তার মাঝে এক জাদুর কাঠি।’ আমার সাথে সে কাজ শেষে ২/১ দিন পর পর দেখা করতে আসত। তার সাথে কিছু অন্তরঙ্গ সময় কাটানো আমি খুব উপভোগ করতাম। যদিও সে আমাকে আরও গভীরভাবে পেতে চাইত, বিছানা পর্যন্ত নিয়ে যেতে চাইত। ওই পর্যন্ত না যেতে পারলে যে, সে কিছুটা নিরাশ হতো বুঝতে পারতাম। কিন্তু তখন ব্যাপারটি আমার কাছে মিষ্টি লাগত। আমাদের মধ্যে সুখ-দুঃখগুলো বিনিময় হতো। মনে মনে বিশ্বাস বেড়েছিল দু’জন দু’জনকে মনে হয় খুব ভালোভাবে বুঝতে পেরেছি। খুব তাড়াতাড়ি দু’জনের কাছাকাছি চলে এসেছি। সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের খোলা-খুলি কিছু কথাবার্তা আদান-প্রদান করার কারণে খুব তাড়াতাড়ি মানুষজন জেনে গেলে আমাদের সম্পর্কের কথা। আসলে নিশো চাচ্ছিল সবাই জানুক আর আমারও বাধা দিতে মন চায়নি। কারণ লুকোচুরি করার তো কিছু নেই, তাই না? নিশোর ছায়াতে আমি সিকিউর অনুভব করতাম। এরই মধ্যে নিশো আমাকে বিয়ে করার জন্য প্রপোজ করে। সে খুব তাড়াতাড়ি বিয়ে করতে চায়। সেই মুহূর্তে পৃথিবীতে আমার চেয়ে সুখী মেয়ে মনে হয় আর কেউ নেই।
বাচ্চাদের সাথে তার সখ্যতা হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যে। আর কি লাগে সুখের সাগরে ভাসার জন্য। আমি যখন লিখছি তখন হা হা করে হাসছি, কতটা বোকা ছিলাম আমি, তাই না? কঠিন পৃথিবী তখনও আমার কাছে অনেকটা অপরিচিত। আমাকে নিশো জানাল সে তার পরিবারের সাথে ইতিমধ্যে আমার বিষয়ে কথা বলেছে, তার বাবার সাথেও আমাকে ফোনে কথা বলিয়ে দিল। ভদ্রলোক বেশ ভদ্র মানুষ, মা মা বলে সম্বোধন করলেন। যেন আমি তার কত আপন। আমার বিশ্বাস করতে হচ্ছিল যে, আসলেই এই ঘটনাগুলো ঘটছে আমার জীবনে। বাংলাদেশে গিয়ে আমাদের বিয়ে হবে, আমি তার প্রেমে আরও পাগল হতে লাগলাম। আমি নিশোর প্রতি খুব ডিভোটেড এবং আমি অনুভব করছি সে নিজেও। আমাকে সত্যি সত্যি কেউ এত ভালোবাসতে পারে? এত!
বেশিদিন টেকেনি আমার সেই অবিশ্বাস্য কল্পনার জগৎ। আমি কিছু দিন পর থেকেই লক্ষ্য করছি একটু ভিন্ন কিছু। প্রথম প্রথম ভাবতাম এ বুঝি আমার প্রতি অতিরিক্ত ভালোবাসা। কিন্তু কিছুদিন পর থেকে আমার শ্বাসরুদ্ধ মনে হতে থাকে। মনে হতে থাকে কেউ মনে হয় আমাকে আস্তে আস্তে বোতলের ভিতর ভরার চেষ্টা করছে, আর আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছি না। নির্বাক হয়ে যেতাম যখন দেখতাম, সোশ্যাল মিডিয়ার আমার কোনো পোস্টে কারও কোনো কমেন্টে তেলে বেগুনে রেগে যেত। তার সাথে সম্পর্কতে জড়ানোর আগের টেক্সটগুলো পড়ত আমাকে না জানিয়ে। এইগুলো নিয়ে নিশো আমার সাথে তুমুল ঝগড়া করা শুরু করল, যা আমার কাছে সম্পূর্ণভিত্তিহীন মনে হতো। কিন্তু তখনও আমি ভেবে যাচ্ছি ও এইরকম প্রতিক্রিয়া করছে সব অভিমান, অনুযোগ থেকে। ভালোবাসা তো নিষ্পাপ, অন্ধ।
নিশোর ব্যাপারে প্রথমবারের মতো বাকরুদ্ধ হয়ে যাই এক সন্ধ্যার ঘটনাতে। সেই সন্ধ্যা যা অনেক কিছুর ইঙ্গিত দিয়েছিল আমাকে কিন্তু আংশিক ধরেছি। খুব অন্তরঙ্গ মুহূর্ত কাটছে আমাদের, আদর করছে সে আমাকে। অন্তরঙ্গ মুহূর্ত বলতে আমি চুমু খাওয়া, জড়িয়ে ধরা এগুলোই বুঝি। স্পর্শের উষ্ণতায় দু’জনেই হারিয়ে যাচ্ছি। কারও রূপে যে কেউ পাগল হতে পারে, তা এই প্রথম দেখছি নিশোর চোখে। তবে পুরুষ ও নারীর যে মনের ভিন্নতা, কামনার ভিন্নতা, চাওয়ার ভিন্নতা রয়েছে তার বিশ্লেষণ করার বয়স এবং অভিজ্ঞতা আমার তখনও হয়নি, আমি বুঝিনি। সে আমাকে আদর করতে করতে বিছানায় নিয়ে যেতে চাইল। আমাকে পরিষ্কার বুঝিয়ে দিল, আমার সাথে এই মুহূর্ত শারীরিক মিলনের কামনায় সে পাগল হয়ে আছে। আমার উত্তর তখন বাধা সূচক ‘না’ আসে। তখন নিশো ভেবে পাচ্ছে না যে, দু’দিন পর আমাদের বিয়ে হতে যাচ্ছে, এতটা কাছাকাছি আসার পর শারীরিক সম্পর্কে বাধা কোথায়? আমি বললাম, ‘আমি শারীরিক সম্পর্কের জন্য এখনো তৈরি নই। ‘আমার এই কথা শোনার পর মনে হয় নিশোর মাথায় বাপ পড়ল। প্রচ- রেগে গেল। তার চেহারা আর মুখের ভাষা মুহূর্তেই পালটে গেল। আমাকে নিশো বলে উঠল, ‘তুই কেমন প্রেমিকা যে, তুই তোর প্রেমিকের শারীরিক চাহিদা মিটাতে পারিস না?’ তার এই কথা শুনে আমি স্তব্ধ, বাকরুদ্ধ, কিংকর্তব্যবিমূঢ়! আমার মাথার মধ্যে কি কি যেন ইলেকট্রিক শক-এর মতো স্পার্ক হচ্ছে। আমি নির্বোধের মতো তার দিকে তাকিয়ে রইলাম। আর দু’দিন পরই তো বাংলাদেশে যাচ্ছি বিয়ে করতে। কি এমন ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে তার জন্য? কি এমন তাড়াহুড়া তার? এই উত্তরগুলো তখন আমার জানা না থাকলেও এখন আমি জানি। সাইকোলজিক্যাল নারী ও পুরুষের মনস্তাত্ত্বিক বিষয়গুলো ভিন্নভাবে ফর্ম করা। কামনার বিষয়গুলো মাথায় কাজ করে ভিন্নভাবে।
ছোট একটা উদাহরণ দিয়ে যদি বলি, একটা মেয়ে যখন সুন্দর করে সেজেগুঁজে, আবেদনময়ী হয়ে তার প্রেমিকের সামনে উপস্থিত হয়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তার উদ্দেশ্য থাকে তার রূপে যেন তার প্রেমিক প্রশংসায় পঞ্চমুখ থাকে। প্রেমিকের চোখে যেন সে রানি, পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ সুন্দরী নারী। আর ওই একই মুহূর্তে পুরুষদের চিন্তা-ভাবনায়, কামনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একজন পুরুষ ভেবে নেয় যে, তার প্রেমিকা তার সাথে বিছানায় যাওয়ার জন্যই হয়তো এতসব আয়োজন করেছে, এত আবেদনময়ীভাবে সেজেছে। নারীরা টিজ করতে পছন্দ করে তা বেশিরভাগ পুরুষরা বোঝে না, বিশেষ করে রক্ষণশীল পুরুষরা।
ওড়াল সেক্স হওয়ার পর বা করার মুহূর্তে অনেক পুরুষ ভেবে নেয়, পুরোপুরিভাবে শারীরিক মিলনে সমস্যা কোথায়? যেখানে এক নারী যেকোনো মুহূর্তে মনে করতে পারে, আমি একটা পর্যায়ের বেশি এগুবে না। সম্মতির ব্যাপারটা তাই এখানে খুব জরুরি।
আমি নিশোর সাথে ওই মুহূর্তে শারীরিক সম্পর্কে সম্পূর্ণভাবে জড়ানোর জন্য মানসিকভাবে মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। হয়তো সেই সময় তখনও আসেনি তাই আমার মন সায় দেয়নি। আমি আমার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়কে খুব প্রাধান্য দেই। আমি শুনি তার কথা। নিশো রেগে চলে গেলেও, পরের দিন সরি বলে ক্ষমা চেয়ে নিল। নিশোর সাথে এই প্রথম ঘটেছে এমন ঘটনা, তাই আমিমাফ করে বিষয়টি স্বাভাবিক করে নেয়ার চেষ্টা করলাম। কিন্তু ভিতরে কোথায় যেন একটা তার ছিঁড়ে গিয়েছে তা বুঝতে পারছি, সুরটা মিলছে না। যাই হোক, দুদিন পরই বাংলাদেশে যাব, হয়তো তখন আমার এই উদ্বিগ্ন হওয়াটা চলে যাবে। দুই পক্ষ কথা বলবে, মুরব্বিরা যদি ভালো মনে করে তাহলেই বিয়ে ব্যাপারটা এগুবে। এখন আপাতত এই বিষয়গুলো কম্প্রোমাইজ করে ফেলাটাই ভালো।
এক্সাইটেট তৈরি হচ্ছে ধীরে ধীরে, ভুলে যেতে চাইলাম কষ্টের সব অভিজ্ঞতার কথা। এই অল্প কিছুদিনের মধ্যে নিশোর যে পরিবর্তন লক্ষ করেছিলাম, তাও এড়ানোর চেষ্টা করলাম। এক সাথে চলতে গেলে এমন টুকটাক বিষয় ঘটতেই পারে, বিষয়গুলো মাথায় এভাবে ঢুকানোর চেষ্টা করলেও আসলে বিষয়গুলো টুকটাক ছিল না। এইগুলো ছিল সিগন্যাল, একটা মানুষকে বোঝার সিগন্যাল, নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত বোঝার সিগন্যাল। কিন্তু আমি বুঝতে পারিনি, অনভিজ্ঞতার কারণে। ওইটুকু বয়সে কত কিছুই বুঝতে পারার কথা? নাকি মানুষের ওপর ঘৃণা আর অবিশ্বাসের দেয়াল উঠাব? মানুষ যে বলে দুনিয়া অনেক কঠিন, সেটি বুঝতে অনেক ঘাত-প্রতিঘাত, বাধার মুখোমুখি হতে হয়, তা ড্রিল করতে হয়।
তেমনি, আরেক আঘাত আমার জন্য অপেক্ষা করছিল। বাংলাদেশে গিয়ে দেখি নিশোর বাবা আমাদের সম্পর্কের কথা জানলেও নিশোর পুরো পরিবার জানে না, অর্থাৎ তার মা এবং অন্যান্যরা। নিশোর বাবা-মা’র বিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছে তাও আমি জানি না। যদিও সেটি আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। বাবা জানলে মা জানবে না কেন এই প্রশ্ন আপনার মনে আসবে বলে কথাটি জানানো। নিশোর বাবা পরিবারে কারোর সাথে কোনো আলাপ করেনি এবং নিশো পুরো ব্যাপারটি গোপন রেখেছে। নিশোর মা একদিন লুকিয়ে আমাদের বাসায় আসে। এসে আমাকে হাতজোড় করে অনুরোধ করে, আমি যেন উনার ছেলের জীবন থেকে সরে যাই। আমি দুুই বাচ্চার মা আর দুই বাচ্চার মা’কে ছেলের বৌ হিসেবে মেনে নেয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়। সমাজে তারা মুখ দেখাতে পারবে না। আমার আবরাজের দোহাই দিয়ে বলল, ‘তোমারও ছেলে আছে, তুমি আমার ছেলেকে এসব কথা বলো না। বললে সে পাগলামি করবে, আমাদের ছেড়ে চলে যাবে।’ উনার কান্না থামছিল না।
আমি উত্তরে বললাম, ‘আমি এসেছিলাম আপনাদের পরিবারের সদস্য হতে, আমার বাবা-মা নেই, আপনাদের মাধ্যমে বাবা-মা খুঁজে পেতে। আপনারা যদি আমাকে না-ই চান, তাহলে সেই পরিবারের সদস্য আমার হয়ে কি লাভ? আপনার ছেলে কোনোদিনই জানবে না, আমি এই সম্পর্ক ভেঙে দিচ্ছি, আপনি নিশ্চিন্তে থাকুন।’
আমি নিশোর সাথে কঠোরভাবে ব্রেকাপ করলাম। নিশো কখনোই জানতে পারল না আমাদের সম্পর্ক ভাঙার মূল কারণ। সে শুধু জানল আমি খুব নির্দয়ী, অহঙ্কারী, স্বার্থপর, অকৃতজ্ঞ মানুষ, যে শুধু ভালোবাসা নিয়ে খেলেছে।
কঠিন এক প্রিয়তী হয়ে গেলাম আমি।
এরপর থেকে দু’জন দু’জনের চেহারা আজ অব্দি দেখা হয়নি। দেখা যাতে কোনদিন না হয় সেই প্রার্থনা করি।
‘প্রিয়তির আয়না’ বই থেকে নেয়া
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1407)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ▼ 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ইরান
ক্রিকেট
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
কালবেলা
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
ইউক্রেন
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
স্বাস্থ্য
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
জ্যোতির্বিজ্ঞান
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
জীবনযাপন
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
মসজিদ
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
ইয়েমেন
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
Exclusive
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
জনস্বাস্থ্য
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
লাতিন আমেরিকা
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
জোহরান মামদানি
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
ইহুদি
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
স্পেন
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment