Thursday, September 5, 2019
সব অভ্যুত্থান ট্যাঙ্কে চেপে আসে না : -দ্য গার্ডিয়ানে বিশেষজ্ঞদের মত
সব অভ্যুত্থান ট্যাঙ্কে চেপে আসে না : -দ্য গার্ডিয়ানে বিশেষজ্ঞদের মত

প্রধানমন্ত্রীর
‘ক্যু’ নিয়ে বিলাতের বিখ্যাত দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকা দেশটির পাঁচ নামকরা
বিশেষজ্ঞ ও রাজনীতিবিদের মতামত ছেপেছে। এদের মধ্যে বরিস জনসনের দলের একজন
বাদে বাকি সবাই নিন্দায় মুখর। তারা সংসদ বন্ধের সিদ্ধান্তকে সংসদীয়
গণতন্ত্র দুমড়ানোর সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাদের কথায় ওঠে এসেছে, যা ঘটেছে তা
ক্যু। সব অভ্যুত্থান ট্যাঙ্কে চড়ে আসে না। এরা হলেন- রবার্ট স্যান্ডার্স,
পিটার বোন, মার্গারেট বেকেট, মাইকেল চেসাম এবং মেগ রাসেল।
রবার্ট স্যান্ডার্স, ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার: বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বৃটিশ সংবিধান নয়। কোনো একটি বইয়ের দোকানে গিয়ে কিংবা অনলাইনে বৃটিশ সংবিধান খুঁজে পাওয়া যাবে না। এর কোনো ম্যানুয়াল নেই।
কিংবা নেই কোনো হ্যান্ডবুক। বরং এটা বলাই ভালো যে, এটি হলো হরেক রকমের আইন, প্র্যাকটিস এবং প্রাতিষ্ঠানিক রীতিনীতি, যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে গড়ে উঠেছে, তারই একটা গ্রন্থনা। কাস্টমস, কনভেনশনস এবং বোঝাপড়ার গ্রন্থি দিয়ে এটা বাধা। এই বন্ধন যদিও ভঙ্গুর কিন্তু তাকে এভাবেই বাধা হয়েছে।
এর ভিত্তি হলো বিশ্বাস এবং অগণিত বিধিবিধানের প্রতি একটি অভিন্ন অঙ্গীকার। আরে এসবের বিবর্তন, এর উৎস থেকে এভাবেই এগুলোকে ধারণ করে রেখেছে। তবে এটা নিশ্চিত যে, এটা ভয়ঙ্করভাবে ভঙ্গুর যখন আপনি এই ব্যবস্থাকে ক্ষমতার অপব্যবহারের কাজে লাগান। বরিস জনসনের যারা পূর্বসূরি, তারা সংবিধানের প্রতি অসতর্ক ছিলেন বটে। কিন্তু এ পর্যন্ত তাদের কেউই এই সংবিধানের মূলনীতির প্রতি এতটা অবজ্ঞা প্রদর্শন করেননি। সংসদীয় গণতন্ত্র যেখানে জনগণের অভিপ্রায় পরিস্ফুট হয়, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মধ্য দিয়ে।
নিজেদের যারা গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত রাষ্ট্র বলে দাবি করে, তার মূলমন্ত্র হলো একটি সচল সজিব পার্লামেন্ট। সর্বক্ষণ জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অঙ্গুলি নির্দেশ বহন করবে। এখন রাজকীয় বিশেষাধিকার প্রয়োগ করার মধ্য দিয়ে যেভাবে বৃটিশ পার্লামেন্টকে স্তব্ধ করা হলো, তাতে প্রধানমন্ত্রী গণতন্ত্রের ভিত্তিমূলে আঘাত হেনেছেন। সম্ভবত বৃটিশ ইতিহাসের তিনিই প্রথম প্রধানমন্ত্রী, যিনি পার্লামেন্ট কিংবা একটি সংসদীয় নির্বাচনের অস্তিত্বই স্বীকার করলেন না। প্রধানমন্ত্রী ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটকে নামিয়ে এনেছেন, তার দলের মাত্র ৯০ হাজার কর্মীর পদতলে, যাদের মোট সংখ্যা একটি একক সংসদীয় আসনের ভোটারদের চেয়ে বেশি নয়।
ডেইলি টেলিগ্রাফে লেখা কলামের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী দলীয় কর্মীদের সমর্থন করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী দোমিনিক কামিনসকে তার সরকারের হৃৎপিণ্ডে বসিয়েছেন। দোমিনিক এমন একজন ব্যক্তি, যাকে কয়েক মাস আগেও পার্লামেন্টের প্রতি অবমাননাকর দৃষ্টিভঙ্গি প্রদর্শন করতে দেখা গেছে। একসময়, শুধু একারণেই তার কোনো একটি অফিসে আসীন হওয়ার পথ রুদ্ধ হতো। অথচ আজ এটাই (সংসদের অবমাননা) সরকারের জন্য একটি কর্মসূচি।
প্রধানমন্ত্রী আজ পার্লামেন্টের চেয়েও একটি উচ্চমার্গীয় দাবি করে বসবেন। বলে বসবেন, তিনি রেফারেন্ডেমের (ব্রেক্সিট) মাধ্যমে ‘জনগণের অভিপ্রায়’ মুঠোবন্দি করে ফেলেছেন। যদিও গণভোট ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের কোনো শর্ত নির্দিষ্ট করে দেয়নি। যখন আমরা সিদ্ধান্ত নেই যে পার্লামেন্ট ছাড়া অন্য কেউ রেফারেন্ডাম ব্যাখ্যা করবে, আর তখন সেই ধরনের নায়কোচিত নেতাই সেই মহাসত্যটা জানবেন যে, ভোটাররা তাকে বাগে পেলে তার কি দশাটাই না করতো। আসলে আমরা একটা ভয়ঙ্কর সড়কে হাঁটছি।
সংক্ষিপ্ত মেয়াদে সংসদ মুলতবির সিদ্ধান্ত সফল হতে পারে। ব্রেক্সিট যদি ‘নো ডিল’ বা সমঝোতাহীন হয়, তাহলে এমপিদের পক্ষে তাকে থামানো কঠিনতর হতে পারে। তবে যদি তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছ থেকে কিছু একটা প্যাকেজ আদায় করে নিতে পারেন, তাহলে কিছুটা ভিন্ন কথা। কিন্তু সবটাই যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে একটি জনগণ বনাম পার্লামেন্ট নির্বাচনের পথ প্রশস্ত হবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো এর মূল্য কতটা হবে? ব্রাজিলের রেইনফরেস্ট যেভাবে পুড়ছে, তেমনি করে জনসন এবং তার উপদেষ্টা দোমিনিক রাষ্ট্রের বিধ্বংসী কাঠামোগত ক্ষতির বিনিময়ে স্বল্পমেয়াদি লাভ উসুল করার ধান্দায় আছেন। তারা মন্দ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, যা অন্যরা অনুসরণ করবে। এবং আমাদের গণতন্ত্রের ভঙ্গুর ইকোসিস্টেমকে ছারখার করে দেবে। কনজারভেটিভরা একদা সংবিধান সুরক্ষার দায়িত্ব অনুভব করেছিলেন। সময়ে কিভাবে সেটা বদলে গেছে।
পিটার বোন, কনজারভেটিভ এমপি এবং লিভ মিন্স লিভের উপদেষ্টা: হাঁ অবশ্যই একটি অভ্যুত্থানের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু সেটা সরকার করেনি। এটা করেছে একদল কট্টরপন্থী, যারা বৃটিশ জনগণের অভিপ্রায় গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছেন। এই অগণতান্ত্রিক শক্তি বরিস জনসনের বৈধ সরকার থেকে ক্ষমতা কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন এবং তার পরিবর্তে জেরেমি কর্বিনের নেতৃত্বে একটি তথাকথিত জাতীয় ঐকমত্যের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন।
বরিস জনসনের দ্বারা সংসদ মুলতবি সভার সিদ্ধান্ত গণতান্ত্রিক। সংসদীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য দীর্ঘকাল ধরে এমন পদক্ষেপ অনুভূত হয়েছিল। সত্যি বলতে কি হাউজ অব কমন্সের শ্যাডো নেতা এবং অন্যান্য বিরোধীদলীয় এমপিরা মাসের পর মাস ধরে এমনটাই দাবি করেছিলেন। সংসদের বর্তমান অধিবেশন তিনটি ক্যালেন্ডার বছর কাভার করেছিল এবং গৃহযুদ্ধের পরে এটাই কোনো সংসদের দীর্ঘমেয়াদি অধিবেশন চলছিল। প্রত্যেকটি অধিবেশন সাধারণত এক বছর মেয়াদি হয়ে থাকে। যা রানীর ভাষণ দিয়ে শুরু। এতে পরবর্তী বর্ষে সরকার কি করবে তার রূপরেখা দেয়া হয় এবং এই সময়ের মধ্যে যদি তারা সেটা না করে দেখাতে পারেন, তাহলে তাদের নির্বাচনে হারার ঝুঁকি বাড়ে। এরপর বিরোধী দল সেই বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে। বিতর্ক করে। বিস্তারিতভাবে সরকারের কর্মসূচি খুঁটিয়ে দেখে। বিতর্কের শেষে তারা রানীর ভাষণ সংশোধন কিংবা তাকে পরাস্ত করার চেষ্টা করতে পারে। যদি রানীর ভাষণ পরাস্ত হয়, তাহলে সেটা অবধারিতভাবেই সাধারণ নির্বাচন ডেকে আনে।
সংসদ মুলতবি করার মধ্য দিয়ে স্পষ্টতই সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনরুজ্জীবনে ঘটে এবং তা সংবিধানগতভাবে স্ট্যান্ডার্ড। এটা ব্রেক্সিট প্রক্রিয়াকে ব্লক করে দিতে পার্লামেন্টের গতিরোধ করা নয়। প্রধানমন্ত্রী যদি নভেম্বর পর্যন্ত সংসদ মুলতবি করে দিতেন, তাহলে সেটা একটি সাংবিধানিক উম্মাদীয় কাণ্ড হতো। সাধারণের পক্ষে তখন এর প্রথম বিরোধিতাকারী আমিই হতাম। জেরেমি কর্বিন যদি একটি নোডিল ব্রেক্সিট বন্ধ করে দিতে চান, তাহলে তাকে একটি সাধারণ পথ অনুসরণ করতে হবে। মঙ্গলবার তার পক্ষে সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার সুযোগ থাকতো। বুধবারের ভোটাভুটিতে জয়ী হওয়ার চেষ্টা করতেন। তিনি সেটা করবেন না। কারণ তিনি জানেন তার জন্য যা ভোট দরকার সেটা তার নেই। উপরন্তু সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ, সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য যতগুলো ভোট দরকার, সেটা তার নেই। জেরেমি করবিনের প্রতি আমার একটা ক্ষুদ্র বার্তা: হয় আপনি ভোটের প্রস্তুতি তুলে ধরুন অথবা আপনার মুখটা বন্ধ করুন মার্গারেট বেকেট, ডার্বি সাউথ থেকে নির্বাচিত লেবার এমপি: হা। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের এই সুখ্যাতি রয়েছে যে তারা ধূর্ত। এবং তাদের এমন সুনামও আছে যে তারা নিষ্ঠুর এবং অযথার্থ। সমর্থকরা দাবি করেছিলেন, সংসদের একটা হেমন্তকালীন বিরতি কিংবা মুলতবি এবং সাধারণত রানীর নতুন ভাষণ, এসবই স্বাভাবিক। কিন্তু এই হেমন্তে আমরা যা দেখলাম তা ৪০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যকার নতুন উপাখ্যান।
আমরা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি সরকার দেখছি, যার প্রকৃত সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। অথচ সেই প্রধানমন্ত্রী কিনা ৭০ বছরের ইতিহাসের বৃহত্তম মুলতবি চাইলেন। এটা ‘স্বাভাবিক’ নয়।
আমার বিবেচনায় এটা হলো সবথেকে ভয়ঙ্কর একটি ঘটনা। ২০১৬ সাল থেকে যে লড়াইটা চলছিল সেখানে এখন একটা অভ্যুথান ঘটানো হলো।
শুরু থেকেই তেরেসা মে এটাই চেয়েছিলেন যে ক্ষমতা সংসদের কাছে নয়, নির্বাহী বিভাগের কাছে ন্যস্ত থাকবে এবং নির্বাহী ক্ষমতা তারাই হল্লা করে অনুশীলন করবে।
তিনি আদালতের সিদ্ধান্তের কারণেই এটা মানতে বাধ্য হয়েছিলেন যে আর্টিকেল ৫০ ট্রিগার করতে হলে এমপিদের সমর্থন লাগবে। যখন তাতে বিস্তারিত সংসদীয় পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়লো, ঠিক তখনই মন্ত্রীদের জন্য একচ্ছত্র প্রস্তাব তোলা হলো। এ বিষয়ে যত তথ্য এমপিরা চেয়েছে, যত পেপার প্রকাশের অনুরোধ করেছে, সবটাই প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এই সুপারিশও ছিল যে, সংসদ-সদস্যদেরকে একটি অর্থপূর্ণ ভোটে অংশ নিতে দিতে হবে। কিন্তু সেটাকে প্রবলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।
গত তিন বছর ধরে সরকার বিরোধীদলীয় এমপিদের কণ্ঠ স্তব্ধ করে দিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। বাধা দিয়েছে। ব্রেক্সিট নিয়ে সরকার কি করছে, সে নিয়ে যখনই আলোচনা এসেছে তাতেই তারা বাধা দিয়েছে। আর যখন চূড়ান্ত প্রস্তাবের সময় ঘনিয়ে এল এবং কি হতে যাচ্ছে তা জানাজানি হলো, তখন খড়গ নেমে এল। আলোচনা ঠেকাতে সিদ্ধান্ত বিলম্বিত করা হলো সপ্তাহের পর সপ্তাহ। কেটে গেল মাসের পর মাস।
যারা বড় গলায় চিৎকার করে সংসদীয় সার্বভৌমত্ব পুনরুজ্জীবিত করার শোর তুলল, তারাই সংসদকে অপমান করল। প্রথমে সংসদকে সাইডলাইনে পাঠানো হলো। এরপর অবজ্ঞা করা হলো। শেষ পর্যন্ত তার কণ্ঠনালি চেপে ধরা হলো।
সুতরাং এটি একটি অভ্যুত্থান। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। আমাদের অলিখিত সংবিধানকে নস্যাৎ করার পথে এটা হলো সর্বশেষ পদক্ষেপ মাত্র। দীর্ঘদিনের অনুসৃত কনভেনশনকে উপেক্ষা করলো তারাই। সংসদের মর্যাদা ধুলোয় মিশিয়ে দেয়া হলো। এভাবে ভয়ঙ্কর দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হচ্ছে।
মাইকেল চেসাম, জাতীয় সংগঠক, অ্যানাদার ইউরোপ ইজ পসিবল: একজন অনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী সংসদের বৈঠক যাতে বসতে না পারে, সে লক্ষ্যে চেষ্টা চালাচ্ছেন। কারণ তিনি হয়তো বুঝতে পেরেছেন, এই পার্লামেন্ট তার সঙ্গে একমত হবে না। তার লক্ষ্য হলো ব্রেক্সিট থেকে চোখ সরানো। অক্টোবরের শেষ দিকে একতরফা একটা তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব করার মধ্য দিয়ে তিনি আশা করছেন, তিনি একটা চকিত নির্বাচনে যাবেন। আর বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নতুন সংসদ গঠন করবেন। তার মুখে ঝরবে দক্ষিণপন্থী স্লোগান, বিদেশি হটাও। তিনি সেই শক্তির প্রতিভু, যারা বিদেশিদেরকে খাটো করে দেখে এবং তিনি আমাদের পলিটিক্যাল এলিট বনে যাবেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ব্রিটেনর ২০তম ইটোনিয় প্রধানমন্ত্রী।
জনসনের দীর্ঘমেয়াদি যাত্রার লক্ষ্য সম্ভবত আরো গভীরতর। ব্রেক্সিট সফল হওয়ার পরে বৃটেন হবে একটি অনিয়ন্ত্রিত দোষে দুষ্ট রাষ্ট্রযন্ত্র। যা দেশটিকে ট্রাম্পের আমেরিকার কাছাকাছি নিয়ে যাবে। শ্রমিকদের অধিকার, খাদ্যের মান, পরিবেশগত সুরক্ষা অগ্রাহ্য করা হবে। পাবলিক বা সরকারি সেবাসমূহ, ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের অবস্থা এমন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হবে, যেমনটা ট্রাম্পের নেতৃত্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকার করে চলেছে। সরকারি খাতের সেবাসমূহের সবটাই বিক্রির যোগ্য করে তোলা হবে। স্বাভাবিকভাবেই এসব সম্ভাব্য কর্মসূচির প্রতি জনগণের সমর্থন সামান্য মিলতে পারে অথবা থাকবেই না।
সুতরাং প্রধানমন্ত্রীর কাজ হলো জনগণ থেকে দূরে থাকা। এমপিরা যাতে ভোটাভুটিতে অংশ নিতে না পারে সেই ব্যবস্থা করা। তিনি অবশ্য জানেন এমন করে তো বেশিদিন তাদের থামিয়ে রাখা যাবে না, সুতরাং যত বেশি পারো বিলম্ব ঘটাও। এটা মন্দের ভালো।
পার্লামেন্ট সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেয়া হয়নি। সংবাদপত্র এখনো মুক্ত স্বাধীন। কিন্তু সব অভ্যুত্থান ট্যাঙ্কে চেপে আসে না। ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়ার মধ্য দিয়েও আসে না।
হাঁ। এখনো আমাদের নাগরিক অধিকার আছে। কিন্তু লক্ষ লক্ষ অভিবাসীকে বলা হচ্ছে তোমাদের সামনে ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। তোমাদেরকে বিতাড়ন করা হতে পারে। এমনকি সরকার চাইলে হঠাৎ করে তাদের চলাচল সীমিত করে দিতে পারে। পার্লামেন্টের বিরুদ্ধে নির্বাহী বিভাগ যুদ্ধ ঘোষণা করেছে এবং আমরা যদি এটা বন্ধ করতে ঐক্যবদ্ধ না হই, তাহলে জয়ী হতে পারে।
এটা এমন একটা সরকার, যারা যুক্তির শক্তির কাছে মাথা নত করতে রাজি নয়। তাই তাদের চলতি বেপরোয়া প্রবণতা উল্টে দিতে হলে, অবশ্যই শক্তি প্রয়োগ করতে হবে।
আশাবাদের জায়গা হলো যে বিরোধী দলগুলো কমন্সে এই সপ্তাহে জয়ের মুখ দেখবে। কিন্তু নাগরিক হিসেবে আমাদেরকে অবশ্যই এটা বুঝতে হবে যে, আমরা কেবলই সংসদীয় প্রক্রিয়া কিংবা বিচার বিভাগের উপর নির্ভর করতে পারি না।
গণতন্ত্র যেটুকু অবশিষ্ট আছে, তাকে কাজে লাগিয়ে আমাদেরকে লড়তে হবে। প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ব্যাপক আন্দোলন করতে হবে। প্রতিবাদকারীদের আন্দোলনগুলো যদি সরকারি নিলনকশা বন্ধ করতে আগ্রহী না হয়, তাহলে ধরে নিতে হবে তারা নখদন্তহীন।
সংসদ স্থগিত করে দেয়া বিরাট ঘটনা। এটা একটা শুধু এক ধরনের খেয়ালিপনা নয়। এটা তো গণতন্ত্রই বন্ধ করে দেয়ার শামিল। এটা অধিকারের উপর আক্রমণ চালানো । অথচ তারা নিজেদের জনগণের প্রতিনিধি দাবি করছে। এটা হাস্যকর। কারণ তারা জনগণকে প্রত্যাখ্যান করছে। জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণকে প্রত্যাখ্যান করছে। আর এর সবটাই হলো ক্ষমতা জবরদখল করে রাখার ফন্দি। তারা মানুষকে এখন পরস্পরের বিরুদ্ধে বিভক্ত করবে। লেলিয়ে দেবে। আসলে ব্রেক্সিট বৃটেনকে এসবই এনে দেবে। এটাই ব্রেক্সিটের স্বাভাবিক উপসংহার। এটাই সত্য।
আমরা গণতন্ত্রের স্বপক্ষে একটি ব্যাপক আন্দোলন দানাবাঁধতে দেখছি। সোমবার থেকে প্রতিদিন বিকাল সাড়ে পাঁচটায় দেশব্যাপী প্রতিরোধ আন্দোলন দেখা যাবে। আমাদের সঙ্গে যোগ দিন।
মেগ রাসেল, পরিচালক, সংবিধান ইউনিট, ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন: বরিস জনসনের সংসদ মুলতবি করে দেয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করতে যে আন্দোলন চলছে, তার ব্যানার হচ্ছে, অভ্যুত্থান বন্ধ করুন।
কিন্তু প্রশ্ন হলো এভাবে প্রতিক্রিয়া দেখানো কি ঠিক হচ্ছে? আমাকে ভুল বুঝবেন না। এভাবে সংসদ মুলতবি করে দেয়া স্বাভাবিক ঘটনা নয় মোটেই। কয়েকদিনের জন্য সংসদ মুলতবি করে দেয়ার রীতি আছে। একটি বার্ষিক সংসদীয় অধিবেশন এবং তার পরের অধিবেশনের মধ্যবর্তী সময়ে কয়েকদিনের জন্য সংসদ মুলতবি করে দেয়াটা বৃটিশ সংসদীয় গণতন্ত্রে আছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু ১৯৩০ সালের পরে কোনো প্রধানমন্ত্রী সংসদকে টানা পাঁচ সপ্তাহের জন্য মুলতবি করেছেন, তার কোনো নজির নেই। তাও আবার কোনো সাধারণ অবস্থার মধ্যে নয়। এটা তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ একটা গভীর রাজনৈতিক সংকটের মাঝখানে এই পথ বেছে নেয়া হয়েছে। যখন ঘড়ির কাঁটা ধীরে ধীরে ৩১ অক্টোবরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। আর তখনই টানা পাঁচ সপ্তাহ একটা গ্রীষ্মকালীন বিরতি আমাদের উপর চাপিয়ে দেয়া হলো। অথচ এই সময়ে যদি সংসদ খোলা থাকত, তাহলে এমপিরা সরকারের নীতির চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে পারতেন।
আর আশ্চর্যের বিষয় এই যে প্রধানমন্ত্রী হবার পরে শুধু একদিন, আমাদের এই তিনি সংসদের ফ্লোরে প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়েছিলেন। এখন যদি সংসদের মুলতবি সিদ্ধান্ত চলতে থাকে, তাহলে ব্যাপারটা দাঁড়াবে এই যে, একজন প্রধানমন্ত্রী টানা ৯০ দিনের মধ্যে মাত্র এক সপ্তাহ সংসদে জিজ্ঞাসার সম্মুখীন হবেন। ১৪ অক্টোবরের মধ্যে যখন কিনা এমপিদের সংসদে ফিরে আসার তারিখ, তখন সেই সময়টিতে ৩১ তারিখের ব্রেক্সিট ডেডলাইন থেকে মাত্র তিন সপ্তাহের কম সময় হাতে থাকবে। চালাকিটা হলো জনসনকে যাতে বিরোধী দলের এমপিদের ধুন্দুমার প্রশ্নের মুখে তোপের মুখে না পড়তে হয়, সেজন্য তাকে আড়াল করা।
এইযে অবস্থা তৈরি হলো তার পেছনে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট কি যুক্তি দিচ্ছে ? তারা বলছে, পার্টি কনফারেন্সের জন্য কয়েক সপ্তাহের জন্য সংসদ মুলতবি করে দেয়া দরকার ছিল। কিন্তু সেটা সঠিক নয়। বরং এটা ভয়ঙ্কর এবং সেটা প্রধানত দুই কারণে। প্রথমত, পার্টি কনফারেন্স কখন হবে তা-ই স্থির হয়নি এবং দ্বিতীয়ত এমপিদের মধ্যে এই প্রবণতা স্পষ্ট হচ্ছিল যে, সম্ভবত তারা প্রধানমন্ত্রীর ব্রেক্সিট ডিল প্রত্যাখ্যান করবে। এই প্রবণতাটাই পরিষ্কার হয়ে উঠছিল। তাই সংসদ মুলতবি করার মধ্য দিয়ে এই বিষয়ে সরকার যাতে সংসদে ভোটের কবলে না পড়ে, সেই সম্ভাবনাকে নাকচ করা হলো। এমনকি একটি অনাস্থা ভোট হতে পারতো আসন্ন। সেটা তাদের জানা ছিল। আর সেটা এড়ানোর জন্যই এই কৌশলটা বেশ কাজে দেবে বলেই তাদের ধারণা। আমরা জানতাম যে বিরোধী দলগুলো অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছিল। কিন্তু তারা বিকল্প নেতা নির্বাচনে একমত হতে পারছিল না। তাদেরকে তো একজন বিকল্প প্রধানমন্ত্রীর ব্যাপারেও একমত হতে হবে। সেই বিষয়েই তারা একমত হতে পারছিলেন না। বৃটিশ পার্লামেন্টের শর্ত হলো, একটি বিকল্প সরকার গঠন করতে হলে তারা ১৪ দিন সময় পাবে। কিন্তু সংসদ মুলতবি করে দেয়ায় তাদের এই সময়টা কমে গেল। এবং এ ধরনের একটি অনাস্থা ভোটের পরে তারা বিকল্প সরকার গঠনের জন্য তাদের হাতে সময় থাকবে মাত্র ২৪ ঘণ্টা।
সুতরাং জনসন যে পদক্ষেপটি নিয়েছেন তা নজিরবিহীন এবং দৃশ্যত এটা পরিষ্কার যে সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার, তাকে পরীক্ষা করার যে সুযোগ সংসদীয় গণতন্ত্রে রয়েছে, তা এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে অগ্রাহ্য করা হয়েছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রীকে অপসারণ করার যে চিন্তাভাবনা চলছিল, সেখানে একটা দেয়াল তুলে দেয়ার চেষ্টা করা হলো। একটি সংসদীয় গণতন্ত্রে যেখানে সরকার সংসদের কাছে জবাবদিহি করবে, যেখানে সরকার টিকে থাকে। কারণ হচ্ছে সে পার্লামেন্টের আস্থা অর্জন করে থাকে। সুতরাং এভাবে সংসদ মুলতবি করে দেয়াটা গভীরভাবে একটা গোলমেলে বিষয়। আর সে কারণেই আমরা আদালতে বিভিন্ন ধরনের মোকদ্দমা দেখছি, যার লক্ষ্য হচ্ছে এই মুলতবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা।
প্রশ্নটা খাসা যে প্রধানমন্ত্রী যে উপায় বাতলে দিয়েছেন, সেটা কি একটি সাংবিধানিক অভ্যুত্থান? এর সমতুল্য কিছু অভিধা, সংক্ষেপে যাকে সংজ্ঞায়িত করা কঠিন। একটি অলিখিত সংবিধানের আওতায় অসাংবিধানিক কথা বলতে আসলে আমরা কি বুঝব?
জনসনের সর্মথকরা যুক্তি দিচ্ছেন, প্রধানমন্ত্রী আইনের আক্ষরিক চেতনা ভঙ্গ করেননি। কিন্তু মনে রাখতে হবে আমাদের সংবিধান শুধু আইনের উপরে দাঁড়ানো নয়। আমাদের সংবিধানের শক্ত ভিত্তি হচ্ছে কনভেনশন। আর কোনো সন্দেহ নেই, সবগুলো নর্মস এক্ষেত্রে ভঙ্গ করা হয়েছে। একটি রাজনৈতিক সংবিধান, যা সর্বদাই ভঙ্গুর। এটা তাই সবসময়ই মুখ্য খেলোয়াড়রা কিভাবে রীতিনীতি এবং ঐতিহ্যকে গুরুত্ব দেন। তার উপরে এর কার্যকরতা নির্ভর করবে। তারা যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে সংবিধানকে অবমাননা করা হবে।
সারা বিশ্বে সংসদীয় মুলতবির ধারণাকে যেভাবে অনুশীলন করা হয়, সেখানে এটা একটা ভয়ঙ্কর নজির হয়ে থাকবে। সরকারগুলোর অবশ্যই এই সক্ষমতা থাকা উচিত নয়, যাতে তারা গণতান্ত্রিক পার্লামেন্টকে বন্ধ করে দেয়। নিজের জন্য অসুবিধাজনক কোন প্রশ্ন বা অবস্থার মুখোমুখি হতে না হয়, সেজন্য সংসদেই তালা ঝোলানো কোনো কাজের কথা নয়। এটা অবশ্যই নির্বাহী বিভাগের দ্বারা একটা ক্ষমতা ছিনিয়ে নেয়ার বিষয়। মঙ্গলবার এমপিরা ফিরে আসবেন তখন তাদের উচিত হবে জনসনের এই পদক্ষেপকে বড় গলায় প্রত্যাখ্যান করা। আর তা খুবই স্পষ্ট ভাষায়।
রবার্ট স্যান্ডার্স, ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার: বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বৃটিশ সংবিধান নয়। কোনো একটি বইয়ের দোকানে গিয়ে কিংবা অনলাইনে বৃটিশ সংবিধান খুঁজে পাওয়া যাবে না। এর কোনো ম্যানুয়াল নেই।
কিংবা নেই কোনো হ্যান্ডবুক। বরং এটা বলাই ভালো যে, এটি হলো হরেক রকমের আইন, প্র্যাকটিস এবং প্রাতিষ্ঠানিক রীতিনীতি, যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে গড়ে উঠেছে, তারই একটা গ্রন্থনা। কাস্টমস, কনভেনশনস এবং বোঝাপড়ার গ্রন্থি দিয়ে এটা বাধা। এই বন্ধন যদিও ভঙ্গুর কিন্তু তাকে এভাবেই বাধা হয়েছে।
এর ভিত্তি হলো বিশ্বাস এবং অগণিত বিধিবিধানের প্রতি একটি অভিন্ন অঙ্গীকার। আরে এসবের বিবর্তন, এর উৎস থেকে এভাবেই এগুলোকে ধারণ করে রেখেছে। তবে এটা নিশ্চিত যে, এটা ভয়ঙ্করভাবে ভঙ্গুর যখন আপনি এই ব্যবস্থাকে ক্ষমতার অপব্যবহারের কাজে লাগান। বরিস জনসনের যারা পূর্বসূরি, তারা সংবিধানের প্রতি অসতর্ক ছিলেন বটে। কিন্তু এ পর্যন্ত তাদের কেউই এই সংবিধানের মূলনীতির প্রতি এতটা অবজ্ঞা প্রদর্শন করেননি। সংসদীয় গণতন্ত্র যেখানে জনগণের অভিপ্রায় পরিস্ফুট হয়, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মধ্য দিয়ে।
নিজেদের যারা গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত রাষ্ট্র বলে দাবি করে, তার মূলমন্ত্র হলো একটি সচল সজিব পার্লামেন্ট। সর্বক্ষণ জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অঙ্গুলি নির্দেশ বহন করবে। এখন রাজকীয় বিশেষাধিকার প্রয়োগ করার মধ্য দিয়ে যেভাবে বৃটিশ পার্লামেন্টকে স্তব্ধ করা হলো, তাতে প্রধানমন্ত্রী গণতন্ত্রের ভিত্তিমূলে আঘাত হেনেছেন। সম্ভবত বৃটিশ ইতিহাসের তিনিই প্রথম প্রধানমন্ত্রী, যিনি পার্লামেন্ট কিংবা একটি সংসদীয় নির্বাচনের অস্তিত্বই স্বীকার করলেন না। প্রধানমন্ত্রী ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটকে নামিয়ে এনেছেন, তার দলের মাত্র ৯০ হাজার কর্মীর পদতলে, যাদের মোট সংখ্যা একটি একক সংসদীয় আসনের ভোটারদের চেয়ে বেশি নয়।
ডেইলি টেলিগ্রাফে লেখা কলামের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী দলীয় কর্মীদের সমর্থন করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী দোমিনিক কামিনসকে তার সরকারের হৃৎপিণ্ডে বসিয়েছেন। দোমিনিক এমন একজন ব্যক্তি, যাকে কয়েক মাস আগেও পার্লামেন্টের প্রতি অবমাননাকর দৃষ্টিভঙ্গি প্রদর্শন করতে দেখা গেছে। একসময়, শুধু একারণেই তার কোনো একটি অফিসে আসীন হওয়ার পথ রুদ্ধ হতো। অথচ আজ এটাই (সংসদের অবমাননা) সরকারের জন্য একটি কর্মসূচি।
প্রধানমন্ত্রী আজ পার্লামেন্টের চেয়েও একটি উচ্চমার্গীয় দাবি করে বসবেন। বলে বসবেন, তিনি রেফারেন্ডেমের (ব্রেক্সিট) মাধ্যমে ‘জনগণের অভিপ্রায়’ মুঠোবন্দি করে ফেলেছেন। যদিও গণভোট ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের কোনো শর্ত নির্দিষ্ট করে দেয়নি। যখন আমরা সিদ্ধান্ত নেই যে পার্লামেন্ট ছাড়া অন্য কেউ রেফারেন্ডাম ব্যাখ্যা করবে, আর তখন সেই ধরনের নায়কোচিত নেতাই সেই মহাসত্যটা জানবেন যে, ভোটাররা তাকে বাগে পেলে তার কি দশাটাই না করতো। আসলে আমরা একটা ভয়ঙ্কর সড়কে হাঁটছি।
সংক্ষিপ্ত মেয়াদে সংসদ মুলতবির সিদ্ধান্ত সফল হতে পারে। ব্রেক্সিট যদি ‘নো ডিল’ বা সমঝোতাহীন হয়, তাহলে এমপিদের পক্ষে তাকে থামানো কঠিনতর হতে পারে। তবে যদি তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছ থেকে কিছু একটা প্যাকেজ আদায় করে নিতে পারেন, তাহলে কিছুটা ভিন্ন কথা। কিন্তু সবটাই যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে একটি জনগণ বনাম পার্লামেন্ট নির্বাচনের পথ প্রশস্ত হবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো এর মূল্য কতটা হবে? ব্রাজিলের রেইনফরেস্ট যেভাবে পুড়ছে, তেমনি করে জনসন এবং তার উপদেষ্টা দোমিনিক রাষ্ট্রের বিধ্বংসী কাঠামোগত ক্ষতির বিনিময়ে স্বল্পমেয়াদি লাভ উসুল করার ধান্দায় আছেন। তারা মন্দ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, যা অন্যরা অনুসরণ করবে। এবং আমাদের গণতন্ত্রের ভঙ্গুর ইকোসিস্টেমকে ছারখার করে দেবে। কনজারভেটিভরা একদা সংবিধান সুরক্ষার দায়িত্ব অনুভব করেছিলেন। সময়ে কিভাবে সেটা বদলে গেছে।
পিটার বোন, কনজারভেটিভ এমপি এবং লিভ মিন্স লিভের উপদেষ্টা: হাঁ অবশ্যই একটি অভ্যুত্থানের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু সেটা সরকার করেনি। এটা করেছে একদল কট্টরপন্থী, যারা বৃটিশ জনগণের অভিপ্রায় গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছেন। এই অগণতান্ত্রিক শক্তি বরিস জনসনের বৈধ সরকার থেকে ক্ষমতা কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন এবং তার পরিবর্তে জেরেমি কর্বিনের নেতৃত্বে একটি তথাকথিত জাতীয় ঐকমত্যের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন।
বরিস জনসনের দ্বারা সংসদ মুলতবি সভার সিদ্ধান্ত গণতান্ত্রিক। সংসদীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য দীর্ঘকাল ধরে এমন পদক্ষেপ অনুভূত হয়েছিল। সত্যি বলতে কি হাউজ অব কমন্সের শ্যাডো নেতা এবং অন্যান্য বিরোধীদলীয় এমপিরা মাসের পর মাস ধরে এমনটাই দাবি করেছিলেন। সংসদের বর্তমান অধিবেশন তিনটি ক্যালেন্ডার বছর কাভার করেছিল এবং গৃহযুদ্ধের পরে এটাই কোনো সংসদের দীর্ঘমেয়াদি অধিবেশন চলছিল। প্রত্যেকটি অধিবেশন সাধারণত এক বছর মেয়াদি হয়ে থাকে। যা রানীর ভাষণ দিয়ে শুরু। এতে পরবর্তী বর্ষে সরকার কি করবে তার রূপরেখা দেয়া হয় এবং এই সময়ের মধ্যে যদি তারা সেটা না করে দেখাতে পারেন, তাহলে তাদের নির্বাচনে হারার ঝুঁকি বাড়ে। এরপর বিরোধী দল সেই বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে। বিতর্ক করে। বিস্তারিতভাবে সরকারের কর্মসূচি খুঁটিয়ে দেখে। বিতর্কের শেষে তারা রানীর ভাষণ সংশোধন কিংবা তাকে পরাস্ত করার চেষ্টা করতে পারে। যদি রানীর ভাষণ পরাস্ত হয়, তাহলে সেটা অবধারিতভাবেই সাধারণ নির্বাচন ডেকে আনে।
সংসদ মুলতবি করার মধ্য দিয়ে স্পষ্টতই সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনরুজ্জীবনে ঘটে এবং তা সংবিধানগতভাবে স্ট্যান্ডার্ড। এটা ব্রেক্সিট প্রক্রিয়াকে ব্লক করে দিতে পার্লামেন্টের গতিরোধ করা নয়। প্রধানমন্ত্রী যদি নভেম্বর পর্যন্ত সংসদ মুলতবি করে দিতেন, তাহলে সেটা একটি সাংবিধানিক উম্মাদীয় কাণ্ড হতো। সাধারণের পক্ষে তখন এর প্রথম বিরোধিতাকারী আমিই হতাম। জেরেমি কর্বিন যদি একটি নোডিল ব্রেক্সিট বন্ধ করে দিতে চান, তাহলে তাকে একটি সাধারণ পথ অনুসরণ করতে হবে। মঙ্গলবার তার পক্ষে সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার সুযোগ থাকতো। বুধবারের ভোটাভুটিতে জয়ী হওয়ার চেষ্টা করতেন। তিনি সেটা করবেন না। কারণ তিনি জানেন তার জন্য যা ভোট দরকার সেটা তার নেই। উপরন্তু সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ, সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য যতগুলো ভোট দরকার, সেটা তার নেই। জেরেমি করবিনের প্রতি আমার একটা ক্ষুদ্র বার্তা: হয় আপনি ভোটের প্রস্তুতি তুলে ধরুন অথবা আপনার মুখটা বন্ধ করুন মার্গারেট বেকেট, ডার্বি সাউথ থেকে নির্বাচিত লেবার এমপি: হা। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের এই সুখ্যাতি রয়েছে যে তারা ধূর্ত। এবং তাদের এমন সুনামও আছে যে তারা নিষ্ঠুর এবং অযথার্থ। সমর্থকরা দাবি করেছিলেন, সংসদের একটা হেমন্তকালীন বিরতি কিংবা মুলতবি এবং সাধারণত রানীর নতুন ভাষণ, এসবই স্বাভাবিক। কিন্তু এই হেমন্তে আমরা যা দেখলাম তা ৪০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যকার নতুন উপাখ্যান।
আমরা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি সরকার দেখছি, যার প্রকৃত সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। অথচ সেই প্রধানমন্ত্রী কিনা ৭০ বছরের ইতিহাসের বৃহত্তম মুলতবি চাইলেন। এটা ‘স্বাভাবিক’ নয়।
আমার বিবেচনায় এটা হলো সবথেকে ভয়ঙ্কর একটি ঘটনা। ২০১৬ সাল থেকে যে লড়াইটা চলছিল সেখানে এখন একটা অভ্যুথান ঘটানো হলো।
শুরু থেকেই তেরেসা মে এটাই চেয়েছিলেন যে ক্ষমতা সংসদের কাছে নয়, নির্বাহী বিভাগের কাছে ন্যস্ত থাকবে এবং নির্বাহী ক্ষমতা তারাই হল্লা করে অনুশীলন করবে।
তিনি আদালতের সিদ্ধান্তের কারণেই এটা মানতে বাধ্য হয়েছিলেন যে আর্টিকেল ৫০ ট্রিগার করতে হলে এমপিদের সমর্থন লাগবে। যখন তাতে বিস্তারিত সংসদীয় পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়লো, ঠিক তখনই মন্ত্রীদের জন্য একচ্ছত্র প্রস্তাব তোলা হলো। এ বিষয়ে যত তথ্য এমপিরা চেয়েছে, যত পেপার প্রকাশের অনুরোধ করেছে, সবটাই প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এই সুপারিশও ছিল যে, সংসদ-সদস্যদেরকে একটি অর্থপূর্ণ ভোটে অংশ নিতে দিতে হবে। কিন্তু সেটাকে প্রবলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।
গত তিন বছর ধরে সরকার বিরোধীদলীয় এমপিদের কণ্ঠ স্তব্ধ করে দিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। বাধা দিয়েছে। ব্রেক্সিট নিয়ে সরকার কি করছে, সে নিয়ে যখনই আলোচনা এসেছে তাতেই তারা বাধা দিয়েছে। আর যখন চূড়ান্ত প্রস্তাবের সময় ঘনিয়ে এল এবং কি হতে যাচ্ছে তা জানাজানি হলো, তখন খড়গ নেমে এল। আলোচনা ঠেকাতে সিদ্ধান্ত বিলম্বিত করা হলো সপ্তাহের পর সপ্তাহ। কেটে গেল মাসের পর মাস।
যারা বড় গলায় চিৎকার করে সংসদীয় সার্বভৌমত্ব পুনরুজ্জীবিত করার শোর তুলল, তারাই সংসদকে অপমান করল। প্রথমে সংসদকে সাইডলাইনে পাঠানো হলো। এরপর অবজ্ঞা করা হলো। শেষ পর্যন্ত তার কণ্ঠনালি চেপে ধরা হলো।
সুতরাং এটি একটি অভ্যুত্থান। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। আমাদের অলিখিত সংবিধানকে নস্যাৎ করার পথে এটা হলো সর্বশেষ পদক্ষেপ মাত্র। দীর্ঘদিনের অনুসৃত কনভেনশনকে উপেক্ষা করলো তারাই। সংসদের মর্যাদা ধুলোয় মিশিয়ে দেয়া হলো। এভাবে ভয়ঙ্কর দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হচ্ছে।
মাইকেল চেসাম, জাতীয় সংগঠক, অ্যানাদার ইউরোপ ইজ পসিবল: একজন অনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী সংসদের বৈঠক যাতে বসতে না পারে, সে লক্ষ্যে চেষ্টা চালাচ্ছেন। কারণ তিনি হয়তো বুঝতে পেরেছেন, এই পার্লামেন্ট তার সঙ্গে একমত হবে না। তার লক্ষ্য হলো ব্রেক্সিট থেকে চোখ সরানো। অক্টোবরের শেষ দিকে একতরফা একটা তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব করার মধ্য দিয়ে তিনি আশা করছেন, তিনি একটা চকিত নির্বাচনে যাবেন। আর বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নতুন সংসদ গঠন করবেন। তার মুখে ঝরবে দক্ষিণপন্থী স্লোগান, বিদেশি হটাও। তিনি সেই শক্তির প্রতিভু, যারা বিদেশিদেরকে খাটো করে দেখে এবং তিনি আমাদের পলিটিক্যাল এলিট বনে যাবেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ব্রিটেনর ২০তম ইটোনিয় প্রধানমন্ত্রী।
জনসনের দীর্ঘমেয়াদি যাত্রার লক্ষ্য সম্ভবত আরো গভীরতর। ব্রেক্সিট সফল হওয়ার পরে বৃটেন হবে একটি অনিয়ন্ত্রিত দোষে দুষ্ট রাষ্ট্রযন্ত্র। যা দেশটিকে ট্রাম্পের আমেরিকার কাছাকাছি নিয়ে যাবে। শ্রমিকদের অধিকার, খাদ্যের মান, পরিবেশগত সুরক্ষা অগ্রাহ্য করা হবে। পাবলিক বা সরকারি সেবাসমূহ, ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের অবস্থা এমন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হবে, যেমনটা ট্রাম্পের নেতৃত্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকার করে চলেছে। সরকারি খাতের সেবাসমূহের সবটাই বিক্রির যোগ্য করে তোলা হবে। স্বাভাবিকভাবেই এসব সম্ভাব্য কর্মসূচির প্রতি জনগণের সমর্থন সামান্য মিলতে পারে অথবা থাকবেই না।
সুতরাং প্রধানমন্ত্রীর কাজ হলো জনগণ থেকে দূরে থাকা। এমপিরা যাতে ভোটাভুটিতে অংশ নিতে না পারে সেই ব্যবস্থা করা। তিনি অবশ্য জানেন এমন করে তো বেশিদিন তাদের থামিয়ে রাখা যাবে না, সুতরাং যত বেশি পারো বিলম্ব ঘটাও। এটা মন্দের ভালো।
পার্লামেন্ট সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেয়া হয়নি। সংবাদপত্র এখনো মুক্ত স্বাধীন। কিন্তু সব অভ্যুত্থান ট্যাঙ্কে চেপে আসে না। ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়ার মধ্য দিয়েও আসে না।
হাঁ। এখনো আমাদের নাগরিক অধিকার আছে। কিন্তু লক্ষ লক্ষ অভিবাসীকে বলা হচ্ছে তোমাদের সামনে ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। তোমাদেরকে বিতাড়ন করা হতে পারে। এমনকি সরকার চাইলে হঠাৎ করে তাদের চলাচল সীমিত করে দিতে পারে। পার্লামেন্টের বিরুদ্ধে নির্বাহী বিভাগ যুদ্ধ ঘোষণা করেছে এবং আমরা যদি এটা বন্ধ করতে ঐক্যবদ্ধ না হই, তাহলে জয়ী হতে পারে।
এটা এমন একটা সরকার, যারা যুক্তির শক্তির কাছে মাথা নত করতে রাজি নয়। তাই তাদের চলতি বেপরোয়া প্রবণতা উল্টে দিতে হলে, অবশ্যই শক্তি প্রয়োগ করতে হবে।
আশাবাদের জায়গা হলো যে বিরোধী দলগুলো কমন্সে এই সপ্তাহে জয়ের মুখ দেখবে। কিন্তু নাগরিক হিসেবে আমাদেরকে অবশ্যই এটা বুঝতে হবে যে, আমরা কেবলই সংসদীয় প্রক্রিয়া কিংবা বিচার বিভাগের উপর নির্ভর করতে পারি না।
গণতন্ত্র যেটুকু অবশিষ্ট আছে, তাকে কাজে লাগিয়ে আমাদেরকে লড়তে হবে। প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ব্যাপক আন্দোলন করতে হবে। প্রতিবাদকারীদের আন্দোলনগুলো যদি সরকারি নিলনকশা বন্ধ করতে আগ্রহী না হয়, তাহলে ধরে নিতে হবে তারা নখদন্তহীন।
সংসদ স্থগিত করে দেয়া বিরাট ঘটনা। এটা একটা শুধু এক ধরনের খেয়ালিপনা নয়। এটা তো গণতন্ত্রই বন্ধ করে দেয়ার শামিল। এটা অধিকারের উপর আক্রমণ চালানো । অথচ তারা নিজেদের জনগণের প্রতিনিধি দাবি করছে। এটা হাস্যকর। কারণ তারা জনগণকে প্রত্যাখ্যান করছে। জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণকে প্রত্যাখ্যান করছে। আর এর সবটাই হলো ক্ষমতা জবরদখল করে রাখার ফন্দি। তারা মানুষকে এখন পরস্পরের বিরুদ্ধে বিভক্ত করবে। লেলিয়ে দেবে। আসলে ব্রেক্সিট বৃটেনকে এসবই এনে দেবে। এটাই ব্রেক্সিটের স্বাভাবিক উপসংহার। এটাই সত্য।
আমরা গণতন্ত্রের স্বপক্ষে একটি ব্যাপক আন্দোলন দানাবাঁধতে দেখছি। সোমবার থেকে প্রতিদিন বিকাল সাড়ে পাঁচটায় দেশব্যাপী প্রতিরোধ আন্দোলন দেখা যাবে। আমাদের সঙ্গে যোগ দিন।
মেগ রাসেল, পরিচালক, সংবিধান ইউনিট, ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন: বরিস জনসনের সংসদ মুলতবি করে দেয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করতে যে আন্দোলন চলছে, তার ব্যানার হচ্ছে, অভ্যুত্থান বন্ধ করুন।
কিন্তু প্রশ্ন হলো এভাবে প্রতিক্রিয়া দেখানো কি ঠিক হচ্ছে? আমাকে ভুল বুঝবেন না। এভাবে সংসদ মুলতবি করে দেয়া স্বাভাবিক ঘটনা নয় মোটেই। কয়েকদিনের জন্য সংসদ মুলতবি করে দেয়ার রীতি আছে। একটি বার্ষিক সংসদীয় অধিবেশন এবং তার পরের অধিবেশনের মধ্যবর্তী সময়ে কয়েকদিনের জন্য সংসদ মুলতবি করে দেয়াটা বৃটিশ সংসদীয় গণতন্ত্রে আছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু ১৯৩০ সালের পরে কোনো প্রধানমন্ত্রী সংসদকে টানা পাঁচ সপ্তাহের জন্য মুলতবি করেছেন, তার কোনো নজির নেই। তাও আবার কোনো সাধারণ অবস্থার মধ্যে নয়। এটা তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ একটা গভীর রাজনৈতিক সংকটের মাঝখানে এই পথ বেছে নেয়া হয়েছে। যখন ঘড়ির কাঁটা ধীরে ধীরে ৩১ অক্টোবরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। আর তখনই টানা পাঁচ সপ্তাহ একটা গ্রীষ্মকালীন বিরতি আমাদের উপর চাপিয়ে দেয়া হলো। অথচ এই সময়ে যদি সংসদ খোলা থাকত, তাহলে এমপিরা সরকারের নীতির চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে পারতেন।
আর আশ্চর্যের বিষয় এই যে প্রধানমন্ত্রী হবার পরে শুধু একদিন, আমাদের এই তিনি সংসদের ফ্লোরে প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়েছিলেন। এখন যদি সংসদের মুলতবি সিদ্ধান্ত চলতে থাকে, তাহলে ব্যাপারটা দাঁড়াবে এই যে, একজন প্রধানমন্ত্রী টানা ৯০ দিনের মধ্যে মাত্র এক সপ্তাহ সংসদে জিজ্ঞাসার সম্মুখীন হবেন। ১৪ অক্টোবরের মধ্যে যখন কিনা এমপিদের সংসদে ফিরে আসার তারিখ, তখন সেই সময়টিতে ৩১ তারিখের ব্রেক্সিট ডেডলাইন থেকে মাত্র তিন সপ্তাহের কম সময় হাতে থাকবে। চালাকিটা হলো জনসনকে যাতে বিরোধী দলের এমপিদের ধুন্দুমার প্রশ্নের মুখে তোপের মুখে না পড়তে হয়, সেজন্য তাকে আড়াল করা।
এইযে অবস্থা তৈরি হলো তার পেছনে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট কি যুক্তি দিচ্ছে ? তারা বলছে, পার্টি কনফারেন্সের জন্য কয়েক সপ্তাহের জন্য সংসদ মুলতবি করে দেয়া দরকার ছিল। কিন্তু সেটা সঠিক নয়। বরং এটা ভয়ঙ্কর এবং সেটা প্রধানত দুই কারণে। প্রথমত, পার্টি কনফারেন্স কখন হবে তা-ই স্থির হয়নি এবং দ্বিতীয়ত এমপিদের মধ্যে এই প্রবণতা স্পষ্ট হচ্ছিল যে, সম্ভবত তারা প্রধানমন্ত্রীর ব্রেক্সিট ডিল প্রত্যাখ্যান করবে। এই প্রবণতাটাই পরিষ্কার হয়ে উঠছিল। তাই সংসদ মুলতবি করার মধ্য দিয়ে এই বিষয়ে সরকার যাতে সংসদে ভোটের কবলে না পড়ে, সেই সম্ভাবনাকে নাকচ করা হলো। এমনকি একটি অনাস্থা ভোট হতে পারতো আসন্ন। সেটা তাদের জানা ছিল। আর সেটা এড়ানোর জন্যই এই কৌশলটা বেশ কাজে দেবে বলেই তাদের ধারণা। আমরা জানতাম যে বিরোধী দলগুলো অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছিল। কিন্তু তারা বিকল্প নেতা নির্বাচনে একমত হতে পারছিল না। তাদেরকে তো একজন বিকল্প প্রধানমন্ত্রীর ব্যাপারেও একমত হতে হবে। সেই বিষয়েই তারা একমত হতে পারছিলেন না। বৃটিশ পার্লামেন্টের শর্ত হলো, একটি বিকল্প সরকার গঠন করতে হলে তারা ১৪ দিন সময় পাবে। কিন্তু সংসদ মুলতবি করে দেয়ায় তাদের এই সময়টা কমে গেল। এবং এ ধরনের একটি অনাস্থা ভোটের পরে তারা বিকল্প সরকার গঠনের জন্য তাদের হাতে সময় থাকবে মাত্র ২৪ ঘণ্টা।
সুতরাং জনসন যে পদক্ষেপটি নিয়েছেন তা নজিরবিহীন এবং দৃশ্যত এটা পরিষ্কার যে সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার, তাকে পরীক্ষা করার যে সুযোগ সংসদীয় গণতন্ত্রে রয়েছে, তা এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে অগ্রাহ্য করা হয়েছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রীকে অপসারণ করার যে চিন্তাভাবনা চলছিল, সেখানে একটা দেয়াল তুলে দেয়ার চেষ্টা করা হলো। একটি সংসদীয় গণতন্ত্রে যেখানে সরকার সংসদের কাছে জবাবদিহি করবে, যেখানে সরকার টিকে থাকে। কারণ হচ্ছে সে পার্লামেন্টের আস্থা অর্জন করে থাকে। সুতরাং এভাবে সংসদ মুলতবি করে দেয়াটা গভীরভাবে একটা গোলমেলে বিষয়। আর সে কারণেই আমরা আদালতে বিভিন্ন ধরনের মোকদ্দমা দেখছি, যার লক্ষ্য হচ্ছে এই মুলতবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা।
প্রশ্নটা খাসা যে প্রধানমন্ত্রী যে উপায় বাতলে দিয়েছেন, সেটা কি একটি সাংবিধানিক অভ্যুত্থান? এর সমতুল্য কিছু অভিধা, সংক্ষেপে যাকে সংজ্ঞায়িত করা কঠিন। একটি অলিখিত সংবিধানের আওতায় অসাংবিধানিক কথা বলতে আসলে আমরা কি বুঝব?
জনসনের সর্মথকরা যুক্তি দিচ্ছেন, প্রধানমন্ত্রী আইনের আক্ষরিক চেতনা ভঙ্গ করেননি। কিন্তু মনে রাখতে হবে আমাদের সংবিধান শুধু আইনের উপরে দাঁড়ানো নয়। আমাদের সংবিধানের শক্ত ভিত্তি হচ্ছে কনভেনশন। আর কোনো সন্দেহ নেই, সবগুলো নর্মস এক্ষেত্রে ভঙ্গ করা হয়েছে। একটি রাজনৈতিক সংবিধান, যা সর্বদাই ভঙ্গুর। এটা তাই সবসময়ই মুখ্য খেলোয়াড়রা কিভাবে রীতিনীতি এবং ঐতিহ্যকে গুরুত্ব দেন। তার উপরে এর কার্যকরতা নির্ভর করবে। তারা যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে সংবিধানকে অবমাননা করা হবে।
সারা বিশ্বে সংসদীয় মুলতবির ধারণাকে যেভাবে অনুশীলন করা হয়, সেখানে এটা একটা ভয়ঙ্কর নজির হয়ে থাকবে। সরকারগুলোর অবশ্যই এই সক্ষমতা থাকা উচিত নয়, যাতে তারা গণতান্ত্রিক পার্লামেন্টকে বন্ধ করে দেয়। নিজের জন্য অসুবিধাজনক কোন প্রশ্ন বা অবস্থার মুখোমুখি হতে না হয়, সেজন্য সংসদেই তালা ঝোলানো কোনো কাজের কথা নয়। এটা অবশ্যই নির্বাহী বিভাগের দ্বারা একটা ক্ষমতা ছিনিয়ে নেয়ার বিষয়। মঙ্গলবার এমপিরা ফিরে আসবেন তখন তাদের উচিত হবে জনসনের এই পদক্ষেপকে বড় গলায় প্রত্যাখ্যান করা। আর তা খুবই স্পষ্ট ভাষায়।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1424)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
-
▼
2019
(6282)
-
▼
September
(820)
-
▼
Sep 05
(15)
- কাল থেকে ইরান আরো কিছু পদক্ষেপ নেবে: প্রেসিডেন্ট র...
- কাশ্মিরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে হস্তক্ষেপের আহ্বান...
- মুসলিম নারী ইস্যুতে হঠাৎ বৃটেনে টক অব দ্য টাউন শিখ...
- পরমাণু অস্ত্রধরেরা এ ক্ষেত্রে বাধা দিতে পারে না: -...
- দক্ষিণ আফ্রিকায় বিদেশিদের দোকান লুট, গাড়িতে অগ্নিস...
- রোহিঙ্গা শিবিরে দেশি-বিদেশি কিছু এনজিও’র তদন্ত হচ্...
- সব অভ্যুত্থান ট্যাঙ্কে চেপে আসে না : -দ্য গার্ডিয়া...
- বৃটিশ রাজনীতিতে ফের নাটকীয়তা
- প্রত্যর্পণ বিল প্রত্যাহার করলো হংকং সরকার
- অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের সতর্ক থাকার পরামর্...
- প্রত্যাবাসনই রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র সমাধান -সংবাদ...
- পশমে ঢেকে যাচ্ছে মুনিরার শরীর
- ‘নৈতিক স্খলন’ কোনটাকে বলে? by উদিসা ইসলাম
- বন্দুক ঠেকিয়ে রোহিঙ্গাদের ‘বিদেশি পরিচয়পত্র’ নিতে ...
- বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি: পরীক্ষা প্রক্রিয়া কি বদলানো...
-
▼
Sep 05
(15)
-
▼
September
(820)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ইরান
ক্রিকেট
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
কালবেলা
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
রাশিয়া
মুক্তিযুদ্ধ
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
ইউক্রেন
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
হিন্দু
রুদ্র মিজান
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
স্বাস্থ্য
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
জ্যোতির্বিজ্ঞান
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
জীবনযাপন
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কলকাতা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
মসজিদ
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ইয়েমেন
ফেনী
বরিশাল
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
Exclusive
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
জনস্বাস্থ্য
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
লাতিন আমেরিকা
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
জোহরান মামদানি
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
ইহুদি
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
স্পেন
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
জর্দান
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
আহমেদ মুনির
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment