Sunday, July 8, 2012
বদলে যাও বদলে দাও মিছিলটেলিভিশন সংলাপ-সড়ক দুর্ঘটনা কি চলতেই থাকবে
বদলে যাও বদলে দাও মিছিলটেলিভিশন সংলাপ-সড়ক দুর্ঘটনা কি চলতেই থাকবে
প্রথম আলো ও দেশ টিভির যৌথ টেলিভিশন সংলাপ অনুষ্ঠান ২৯ মে দেশ টিভিতে সম্প্রচারিত হয়েছে। এই সংলাপে সহযোগিতা করেছে বিএসআরএম। ‘বদলে যাও বদলে দাও মিছিল’-এর উদ্যোগে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে নির্মিত অনুষ্ঠানটির আলোচকদের গুরুত্বপূর্ণ মতামত, সুপারিশ ও প্রতিশ্রুতিগুলো সংক্ষিপ্ত আকারে আজ ছাপা হলো।
যাঁরা অংশ নিলেন
ওবায়দুল কাদের
যোগাযোগ ও রেলমন্ত্রী
ডক্টর সামছুল হক
অধ্যাপক পুরকৌশল বিভাগ ও সাবেক
পরিচালক, সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা
ইনস্টিটিউট, বুয়েট
ইলিয়াস কাঞ্চন
অভিনেতা ও সভাপতি
নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন
আমিনুর রহমান লস্কর
প্রধান প্রকৌশলী, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর
আইয়ুবুর রহমান খান
চেয়ারম্যান, বিআরটিএ
ডাক্তার ফজলুর রহমান
নির্বাহী পরিচালক, সেন্টার ফর ইনজুরি
প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ
খন্দকার এনায়েত উল্যাহ
মহাসচিব, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতি
ডাক্তার কামরান উল বাসেত
জাতীয় সমন্বয়কারী, সেন্টার ফর ইনজুরি
প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
কণ্ঠশিল্পী ও সমাজকর্মী
রনি সরকার
বদলে যাও বদলে দাও মিছিল ব্লগ লেখক
মাসুদ খান
বদলে যাও বদলে দাও মিছিল ব্লগ লেখক
সঞ্চালক
মিথিলা ফারজানা
আলোচনা
মিথিলা ফারজানা: আজ এই অনুষ্ঠানে আমাদের চাওয়া নিরাপদ সড়ক। আমরা সমাধান চাই। আমাদের সমাধান খোঁজার প্রচেষ্টায় যাঁরা অংশ নিয়ে আমাদের বাধিত করেছেন, আমরা সরাসরি চলে যেতে চাই তাঁদের কাছে। সমস্যাগুলোর সমাধান কী করে সম্ভব, সেই প্রশ্নগুলোর মধ্যে। বাংলাদেশে যেসব সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে, সেটি ফুটপাতের অভাবে অথবা মহাসড়কে পথচারীদের চলাচল বা কম গতির যানবাহনের চলাচলের যে রাস্তা, সেটির অভাবের কারণে। ডক্টর সামছুল হক, কী করে এই সমস্যার সমাধান করা যায়?
ডক্টর সামছুল হক: সড়কে নিরীহ পথচারী, সবচেয়ে অরক্ষিত সড়ক ব্যবহারকারী, তাকে কোনো গাড়ি আঘাত করলেই পরিণতি খুব খারাপ হয়। ৫৮ শতাংশ পথচারীই রাস্তায় মারা যাচ্ছে। মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৩ শতাংশ। পশ্চাতে যে সংঘর্ষটা হয়, সে ক্ষেত্রে ১১ শতাংশ এবং গাড়ি উল্টে রাস্তা থেকে পড়ে গিয়ে আরও ৯ শতাংশ মারা যায়। পথচারীর স্বভাবতই সুরক্ষা থাকে, যখন সে হাঁটে, তখন কিন্তু একটা যানবাহন এসে তাকে আঘাত করতে পারে না। এটাই রীতি। পথচারীর জন্য যে পথটা বরাদ্দ থাকে, সেটা হলো একটা ফুটপাত এবং রাস্তা পারাপার করার জন্য নিম্নতম পর্যায়ে হচ্ছে জেব্রা ক্রসিং এবং উচ্চমানের নিরাপদ হচ্ছে ওভারপাস অথবা আন্ডারপাস। আমরা দেখি, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই রাস্তা পার হতে গিয়ে লোকজন মারা যাচ্ছে এবং বাকি প্রায় ৪০ শতাংশ মারা যাচ্ছে হাঁটতে গিয়ে।
মিথিলা ফারজানা: দরিদ্র দেশের ক্ষেত্রে মহাসড়কে ফুটপাত দেওয়া একটি ব্যয়সাপেক্ষ ব্যাপার, তাহলে কী হতে পারে সমাধান?
ডক্টর সামছুল হক: গ্রামাঞ্চলে যেহেতু ফুটপাত নেই, থাকে রাস্তার ধার (সোল্ডার)। রাস্তার দুই ধারে মাটির যে রাস্তা থাকে, সেখানেই পথচারী চলাচল করার কথা। সেই জায়গায়ও ওভারটেক করার সময় গাড়ি চলে যায়। এ জন্য চলমান একটা রেলিং দিতে হবে। সব জায়গায় ফুটপাত দেওয়া আমাদের দেশের অর্থনীতিতে সমর্থন করা যায় না। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে। গাড়ি যখন নিয়ন্ত্রণহীন হয়, তখন দুই লেনের রাস্তায় যদি একটি গাড়ি দাঁড়ায়, তাহলে রাস্তাটা অকার্যকর হয়ে যায়। নিয়মের বাইরে যে গাড়িটা আসবে, সে গাড়িটি রাস্তায় না দাঁড়িয়ে রাস্তার ধারে যেন যেতে পারে। সে জন্য রেলিংটা দেওয়া, কিন্তু এটা নিরাপদ নয়। এ ক্ষেত্রে পথচারী ও চালক উভয়ের সচেতনতা প্রয়োজন। আক্রমণাত্মক ওভারটেকিং করতে গিয়ে গাড়ি সোল্ডারের শেষে চলে যাচ্ছে।
মিথিলা ফারজানা: আমাদের সঙ্গে আছেন সড়ক ও জনপথের প্রধান প্রকৌশলী আমিনুর রহমান লস্কর। রাস্তার ধারগুলোতে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটে, এটিকে কোনোভাবে সমাধান করা যায় কি না?
আমিনুর রহমান লস্কর: জাতীয় মহাসড়কে আমাদের সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে ২৩ শতাংশ। আঞ্চলিক মহাসড়কে ১২ শতাংশ আর স্থানীয় সংযোগ (ফিডার) সড়কে ১৫ শতাংশ। আমরা দেখছি, জাতীয় সড়কে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটছে। সেটা ফুটপাত দিয়ে সমাধান সম্ভব নয়।
মিথিলা ফারজানা: শহরাঞ্চলের যে ফুটপাত, সেখানে একরকম ইঁদুর-বিড়াল খেলা হয়। মাননীয় মন্ত্রী, ফুটপাত দখলমুক্ত করলে কি ভোট কমে যায়? এটি কি রাজনৈতিক সমস্যা?
ওবায়দুল কাদের: রাজনীতি নেই, আমি সে কথা বলছি না। এ দেশে নির্বাচনী রাজনীতির জন্য অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। ফুটপাত দখলের বিষয়টি অবশ্যই এখানে আনা যায়। নিম্ন শ্রেণীর মানুষ তাদের জীবন-জীবিকা এর সঙ্গে জড়িত। অ্যাজেন্ডা আছে, কিন্তু বাস্তবায়নের সক্ষমতা আমাদের দুর্বল। আমি এটাকে বলব উদ্ধার অভিযান। এখন এটা করতে গেলে দেখা যাবে হয়তো উদ্ধার হয়ে গেছে। এটা কিন্তু সরষের মধ্যে ভূত আর কি!
মিথিলা ফারজানা: দখলমুক্ত করতে গেলে কিছু মহল অসন্তুষ্ট হবে। তার পরও দৃঢ় পদক্ষেপটি নেওয়া দরকার।
ওবায়দুল কাদের: আমি এ ব্যাপারে দ্বিধাগ্রস্ত নই। এই পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন কিন্তু অসম্ভব নয়। ছয় মাসের ভেতর আপনারা আশা করতে পারেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার একটি পদক্ষেপ আমরা নিতে পারব। কিছু কিছু পরিবর্তনের ছবি দেখতে পাবেন আশা করছি।
মিথিলা ফারজানা: শিশুদের মাঝে এ সম্পর্কে সচেতনতা কীভাবে বাড়ানো যায়, তা নিয়ে কাজ করেন ডা. কামরান উল বাসেত। আপনার পরামর্শ কী?
ডা. কামরান উল বাসেত: আমরা যখন শিশুকে নিয়ে রাস্তায় হাঁটব, তখনই কীভাবে পথ চলতে হবে, কীভাবে ফুটপাত ব্যবহার করতে হবে, কীভাবে রাস্তা পার হতে হবে—এই তথ্যগুলো সরাসরি শিশুদের এবং তাদের পাঠ্যপুস্তকে দিতে পারি। আমরা হয়তো আজ এর ফল পাব না, কিন্তু ১৫ বছর পর আমরা একটা নিরাপদ সড়কসহ একটি সচেতন জাতি পাব।
মিথিলা ফারজানা: মহাসড়কে যে ধরনের সংকেত চিহ্নগুলো চালকদের সচেতন করে, যেমন—সামনে বাঁক, সামনে স্কুল, সামনে হাসপাতাল। এ ধরনের চিহ্নগুলোর যথেষ্ট অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ আছে। মাহমুদুজ্জামান বাবু, আপনি অনেকবার অনুসন্ধানে গিয়েছেন এই সড়কগুলো দিয়ে। কী দেখলেন?
মাহমুদুজ্জামান বাবু: ফেনী জয়লস্করে একটা ব্রিজের পাশে দীর্ঘ ইউটার্ন আছে। ফেনী শহরে চালকেরা বলেছিলেন, ওই ইউটার্নে তাঁরা যখন পৌঁছান তখন তাঁদের দৃষ্টিবিভ্রম তৈরি হয়, এর ফলে অনেক সময় তাঁরা রাস্তাটিকে দুটি রাস্তা দেখেন। কারণ, এত দ্রুতগতিতে গাড়িটা চলে এবং এত আচমকা সেতুটি সামনে চলে আসে যে সবাই ভয় পায়। কিন্তু ওই জায়গায় কোথাও কোনো সংকেত নেই। আমরা পরে ফেনী সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বলছেন, ‘এ রকম হয়েছে, এটা তো আমার আসলে জানা নেই। আমাকে বিষয়টি দেখতে হবে।’
মিথিলা ফারজানা: প্রকৌশলী আমিনুর রহমান লস্কর। কখন আমরা দেখব প্রতিটি মহাসড়কে জরুরি চিহ্নগুলো আছে?
আমিনুর রহমান লস্কর: অনেক জায়গায় সংকেতগুলো পোস্টার দিয়ে ঢেকে দেওয়া আছে বা কেউ বাঁকা করে দিয়ে গেছে। যেখানে চিহ্ন বা সংকেত নেই, অবশ্যই আমরা সেখানে সরবরাহ করব। এটার কোনো গত্যন্তর নেই।
ওবায়দুল কাদের: কেন আমরা এই সংকেত চিহ্নগুলো বসাতে পারি না। এগুলো তো খুব কঠিন কাজ না। আমার মনে হয়, আপনি বলতে পারেন যে আমরা তিন মাসের মধ্যে এগুলো স্থাপন করব।
মিথিলা ফারজানা: সেই সংকেত চিহ্নগুলো বা বার্তাগুলোকে চালকেরা আসলে পড়তে পারছেন কি না, সেটি খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইলিয়াস কাঞ্চন আপনি বহু দিন ধরে এই প্রয়োজনের কথা বলে আসছেন।
ইলিয়াস কাঞ্চন: প্রশিক্ষিত, দক্ষ এবং দায়িত্ববান চালক যদি তৈরি করা যায়, তাহলে ৭০ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা যাবে। এই সংকেত চিহ্নগুলো দিলেই চালকেরা যে মানছেন, এটাও কিন্তু নয়। কারণ, অনেক সময় তিনি জানেনও না যে এই সংকেত বা চিহ্নগুলোর মানেটা কী এবং এই জায়গায় তাঁকে কীভাবে গাড়ি চালাতে হবে। বিষয়গুলো তাঁরা কিন্তু শিখতে পারছেন না। আধুনিকভাবে যে চালক তৈরি করা হয়, ওই ধরনের প্রতিষ্ঠান আমাদের দেশে একেবারেই নেই। সচেতনতার কথা যে আমরা বলছি, সচেতনতা কী? আমি যদি না-ই জানি যে আমাকে কীভাবে গাড়ি চালাতে হবে, তাহলে আমি সচেতন হব কী করে।
মাহমুদুজ্জামান বাবু: আমরা গাজীপুরে বিআরটিসির প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে গিয়েছিলাম। গাজীপুরের ওই কেন্দ্রটিসহ সারা দেশে ১৮টি প্রশিক্ষণকেন্দ্র আছে। যিনি দায়িত্বে আছেন, তিনি বলেছেন, ‘আমরা ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতার সক্ষমতা রেখেছি অষ্টম শ্রেণী পাস। কিন্তু সেই শিক্ষাগত যোগ্যতার বেশি লোকজন আমরা পাচ্ছি না।’ পেশাদার যাঁদের লাইসেন্স আছে, তাঁরা কেউই আসলে তেমন শিক্ষিত নন এবং যাঁরা প্রশিক্ষক তাঁদেরও যথেষ্ট পাওয়া যায় না যে প্রত্যেককে প্রশিক্ষণ দেওয়া যাবে।
মিথিলা ফারজানা: আমাদের সঙ্গে আছেন বিআরটিএর চেয়ারম্যান আইয়ুবুর রহমান খান। আপনি বলুন, প্রশিক্ষণ শুধু আপনারা বিআরটিএ কেন, বেসরকারি যেসব প্রশিক্ষক আছেন, তাঁদের অনুমোদন দিয়ে এটির সমাধান করা যায় কি না?
আইয়ুবুর রহমান খান: বাংলাদেশে বিআরটিএর নিবন্ধনভুক্ত প্রশিক্ষকের সংখ্যা মাত্র ৫৪ জন। অথচ প্রতিবছর ৩৪ হাজারের মতো চালক রাস্তায় আসছেন এবং মোটরসাইকেলসহ এর সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় দেড় লাখের মতো। এই ৫৪ জন প্রশিক্ষক দিয়ে এত বিপুলসংখ্যক মানুষকে দক্ষ পরিচালক বা চালক হিসেবে তৈরি করা সম্ভব নয়।
মিথিলা ফারজানা: কিন্তু এটি বাড়ানোর ব্যবস্থা কী?
আইয়ুবুর রহমান খান: এই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা সরকারের নিজস্ব ফান্ড নিয়ে প্রশিক্ষক তৈরির উদ্যোগ নিয়েছি। কিছুদিন আগে সেনাবাহিনীর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে প্রশিক্ষক তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা ২০ জন প্রশিক্ষককে প্রশিক্ষিত করেছি। আগামী মাসে আরও ২০ জন প্রশিক্ষক তৈরি করব।
মিথিলা ফারজানা: এটির কি কোনো লক্ষ্যমাত্রা আছে, যত জন প্রশিক্ষক দরকার, সেটি এক বছরের মধ্যে আপনারা তৈরি করতে পারবেন?
আইয়ুবুর রহমান খান: লক্ষ্যমাত্রা আছে, এক বা দুই বছরের মধ্যে অন্তত এক হাজার প্রশিক্ষক তৈরি করা সম্ভব হবে। এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে কয়েক শ প্রশিক্ষক তৈরি করা সম্ভব হবে বলে আশ্বাস দিতে পারি। আরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা শিক্ষা, প্রবাসীকল্যাণ এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেছি, তাদের যে কারিগরি প্রতিষ্ঠানগুলো আছে, সেগুলোর মাধ্যমে যেন দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ডক্টর সামছুুল হক: প্রশিক্ষক তৈরি হয়ে যাওয়ার পর তাঁরা আপাতত রেজিস্ট্রেশনের বাইরে থাকেন। যে ড্রাইভিং স্কুলগুলো আছে তাদের যদি আমরা অনুমোদন দিই এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাঁদের আমরা নিয়োগ দিই, তাহলে একেকজন প্রশিক্ষক তাঁর জ্ঞান বাড়াতে পারেন এবং অনেক চালককে প্রশিক্ষিত করতে পারেন।
মিথিলা ফারজানা: আইয়ুবুর রহমান খান, তাঁদের মাধ্যমে সেটি সম্ভব কি না?
আইয়ুবুর রহমান খান: যদি কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে একজন দক্ষ প্রশিক্ষক থাকেন, তাহলে ওই প্রতিষ্ঠানটির আমরা নিবন্ধন প্রদান করি। আমরা যে ২০ জন প্রশিক্ষক ইতিমধ্যে তৈরি করেছি, তাঁদের দিয়ে ২০টি ট্রেনিং স্কুল পরিচালনা করতে এবং তাঁদের নিবন্ধন দিতে পারব। আগামী মাসে আরও যে ২০ জন বের হবে, তাঁদের দিয়ে আরও ২০টি ড্রাইভিং স্কুলে প্রশিক্ষণ দিতে পারি। যদি আরও ৪০টি ড্রাইভিং স্কুল বাড়ে, তাহলে আমাদের দক্ষ চালক তৈরির সক্ষমতা বেড়ে যাবে।
মিথিলা ফারজানা: কিন্তু তা সত্ত্বেও যেটি স্পষ্ট, আরও এক বছরের মধ্যে ৫০ শতাংশ অদক্ষ লাইসেন্সপ্রাপ্ত বা লাইসেন্সবিহীন চালক রাস্তায় গাড়ি চালাবেন। এই ৫০ শতাংশ চালককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য, প্রশিক্ষকের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য যে বেসরকারি প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলো আছে, তাদের কেন আপনারা অন্তর্ভুক্ত করছেন না?
আইয়ুবুর রহমান খান: বেসরকারি প্রশিক্ষক বিআরটিএর নিবন্ধনভুক্ত নেই। আছেন মাত্র ৫৪ জন। এর বাইরে যাঁরা আছেন, তাঁদের লাইসেন্স দেওয়া হয়নি। তাঁদের ক্ষেত্রে সমস্যাটি হচ্ছে, যদি কাউকে প্রশিক্ষকের লাইসেন্স দিতে হয়, তাঁকে দুটি শর্ত পূরণ করতে হবে। প্রথমত, তাঁকে এসএসসি পাস হতে হবে, দ্বিতীয়টি হচ্ছে, হেভি লাইসেন্সধারী হতে হবে।
মিথিলা ফারজানা: মাননীয় মন্ত্রী, বিষয়টিকে বজ্র আঁটুনি ফসকা গেরো মনে হচ্ছে কি না?
ওবাদুল কাদের: অবশ্যই বেসরকারি উদ্যোগের সঙ্গে সরকারি উদ্যোগের সমন্বয় সাধন করতে হবে। সরকারের সক্ষমতা নেই এটাকে একা সামলানোর। আমাদের নেটওয়ার্কও অতটা শক্তিশালী নয়। কাজেই আমরা বেসরকারি উদ্যোগের সঙ্গে সমন্বয় করি এবং সেনাবাহিনী এ ব্যাপারে সহযোগিতা করছে এবং করবে। উভয় উদ্যোগের সঙ্গে সমন্বয় করে বিষয়টি একটা সুন্দর সমাধানের দিকে অবশ্যই এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব। সময় লাগবে কিন্তু আশা করা যায়, পারব।
ইলিয়াস কাঞ্চন: বেসরকারি উদ্যোগে কিন্তু সম্ভব হবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের গাড়ি চালানোর একটা নিজস্ব জায়গা না থাকবে, প্রশিক্ষক না থাকবে এবং প্রশিক্ষণ দেওয়ার মতো গাড়ি না থাকবে। যেসব চালক গাড়ি চালাতে আসেন তাঁরা অত্যন্ত দরিদ্র এবং এটার জন্য যে চার্জ বেসরকারিভাবে করা হবে, সেটা ওই চালকের পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়। অর্থাৎ দুই মাস বা এক বছরের জন্য যে প্রশিক্ষণ নিতে হবে, সেটির জন্য একটা ইনসেনটিভ বা ভাতা দরকার। সেটি বেসরকারি কোনো সংস্থাই দেবে না বা বিনা পয়সায় প্রশিক্ষণ দেবে না।
ওবায়দুল কাদের: আপনার কথায় যুক্তি আছে। সে অবস্থায় সরকার ভাতা দিতে প্রস্তুত আছে।
ইলিয়াস কাঞ্চন: আমার প্রস্তাব ছিল, সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৫৪টি ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান বর্তমান আছে। তাদের জায়গা আছে, সেখানে শুধু সিমুলেটর স্থাপন করা, গাড়ি দেওয়া ও প্রশিক্ষক দেওয়া। সরকার যদি মনে করে, একজন ভালো চালক তৈরি করার জন্য তাকে ২০ হাজার টাকা ঋণ দেওয়া দরকার। সে ক্ষেত্রে চাকরি পাওয়ার পর ৫০০ টাকা করে ঋণ পরিশোধ করার জন্য তাকে যদি একটা সময় দেওয়া হয়, তাহলে কিন্তু এটা সম্ভব।
আইয়ুবুর রহমান খান: এই প্রকল্পটি ইতিমধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ গ্রহণ করেছে। বছরে চারটি ব্যাচে তারা তিন মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ দেবে। ৬১টি জেলা পরিষদের মাধ্যমে এবং এর খরচটি স্থানীয় সরকার বিভাগ নিজস্ব তহবিল থেকে বহন করবে। এটির দুটি দিক আছে। একটি আমাদের সড়ক নিরাপদ হবে এবং অপরটি হচ্ছে, বিদেশে হাজার হাজার দক্ষ গাড়িচালকের চাহিদা রয়েছে, আমরা বিদেশেও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছি। ব্যক্তিমালিকানাধীন পার্টনারশিপ যেমন টাটা গ্রুপ, নিটল-নিলয় গ্রুপ ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কিশোরগঞ্জে একটি ড্রাইভার ইনস্টিটিউট স্থাপন করেছে। প্রতি বছর ওখান থেকে প্রায় ৫০ হাজার গাড়িচালককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
মিথিলা ফারজানা: বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি যখন এই চালকদের নিয়োগ দেয়, তখন তাঁরা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কি না, সেটি কি নিশ্চিত হয়? এ বিষয়ে বলবেন মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ।
খন্দকার এনায়েত উল্যাহ: অনেক ক্ষেত্রে যাঁরা সচেতন মালিক, তাঁদের অনেকেই এই ব্যাপারটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেন। আমরা বিআরটিএর মাধ্যমে এগুলো পরীক্ষা করিয়ে নিয়ে নিশ্চিত করে থাকি, আর অনেক সময় আমরা নিজেরা দেখলেও বলতে পারি, এগুলো আসলে সঠিক কি না। তার পরও আমরা ড্রাইভিং লাইসেন্সের ব্যাপারে ইতিমধ্যে বিআরটিএর সঙ্গে আলোচনা করেছি। দেশব্যাপী শ্রমিকদের যে সংগঠনগুলো রয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে একাধিকবার আমাদের আলোচনা হয়েছে। এ ব্যাপারে মালিকদের সচেতনতা বাড়ানোর জন্য আমরা প্রচেষ্টা গ্রহণ করব।
মিথিলা ফারজানা: ব্লগ লেখক রনি সরকার এ বিষয়ে আপনার কী প্রশ্ন আছে?
রনি সরকার: আপনারা ড্রাইভারদের কিসের ভিত্তিতে নিয়োগ দেন? বেশি বেশি ট্রিপ দেওয়াকে কি আপনারা সড়ক দুর্ঘটনার কারণ মনে করেন না?
খন্দকার এনায়েত উল্যাহ: এগুলো হয়তো বা কম দূরত্বের রাস্তাগুলোতে সম্ভব। তবে দূরপাল্লার গাড়িগুলোর বেশি ট্রিপ চালানোর সুযোগ নেই। সেখানে একটা গাড়ি যদি খুব তাড়াতাড়ি যায়, সেখানে সে হয়তো বা ৩০ মিনিট বা এক ঘণ্টা সময় বাঁচাতে পারবে।
মাহমুদুজ্জামান বাবু: তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরের দুর্ঘটনা যে দিন ঘটেছিল, সেদিন চুয়াডাঙ্গা থেকে ড্রাইভার যে গাড়িটি নিয়ে সকাল সাতটায় গাবতলী টার্মিনালে এসেছিলেন, তিনিই আবার গাড়িটি নিয়ে বেরিয়েছেন সকাল নয়টায়।
মিথিলা ফারজানা: ডক্টর সামছুুল হক এই ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং কেন হয়?
ডক্টর সামছুুল হক: আমি ৫০০ জন চালকের সঙ্গে কথা বলে দেখেছি, যানজট তাঁদের জন্য একটা বিরক্তিকর ব্যাপার। যানজটে যে সময় নষ্ট হয়, তার ফাঁক পূরণ করতে গিয়ে তাঁরা এই ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং করেন এবং বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালান। পাশাপাশি, গাড়ি চুক্তিতে দেওয়া হয় বলে চালক অতিরিক্ত যাত্রী ওঠান এবং পাল্টাপাল্টি আচরণের মাধ্যমে দুর্ঘটনা ঘটে।
খন্দকার এনায়েত উল্যাহ: চুক্তির ভিত্তিতে গাড়ি চালানো ঢাকা এবং চট্টগ্রাম সিটিতে কিছু কিছু হয়ে থাকে। কিন্তু দূরপাল্লার বাসের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা খুবই কম। এ বছরের মধ্যেই আমরা এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেব। আমরা সমিতির মাধ্যমে এই অনুষ্ঠান থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও কিছু পদক্ষেপ নেব।
মিথিলা ফারজানা: এ বিষয়ে মোটর ভেহিকল অ্যাক্ট ১৯৮৩ নামে একটি নীতি রয়েছে, কিন্তু এখনো যেহেতু এটি আইন হিসেবে পাস হয়নি, তাই এ ধরনের কোনো চুক্তি দণ্ডনীয় অপরাধ নয়। এটিকে আইনে পরিণত করা যায় কি না?
ওবায়দুল কাদের: এই আইনটির পরিবর্তন প্রয়োজন। যত শিগগির সম্ভব এই আইন সংশোধন করার ব্যাপারে আমরা উদ্যোগ নেব। আইনটি যাতে পাস হয়, সে ব্যবস্থা নেব।
মিথিলা ফারজানা: বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০৯টি দুর্ঘটনাপ্রবণ কিছু এলাকা রয়েছে, যাকে ব্ল্যাকস্পট বলে। এগুলো আসলে কী?
ডক্টর সামছুুল হক: দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান নির্দিষ্টকরণের জন্য যে সংজ্ঞাটি আছে তা হলো, একই জায়গায় তিন বছরে যদি তিনটা মৃত্যুর ঘটনা ঘটে অথবা পাঁচটা সাকসেসিভ বছরে যদি দুর্ঘটনা ঘটে, সাধারণত ওই স্থানকে দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান বা ব্ল্যাক স্পট বলে।
মিথিলা ফারজানা: আপনারা এই জায়গাগুলোকে চিহ্নিত করা বা চালকদের সচেতন করার জন্য কোনো ধরনের সংকেত দিয়েছেন কি?
আমিনুর রহমান লস্কর: ঢাকা-আরিচা সড়কে অনেকগুলো ব্ল্যাকস্পট আছে। এরই মধ্যে তিনটি ব্ল্যাকস্পট সরিয়ে দিয়ে রাস্তা প্রশস্ত করা হয়েছে।
মিথিলা ফারজানা: এখানে যখন চালকেরা গাড়ি নিয়ে যান, তখন কি তাঁরা জানেন এটি একটি দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা? এখানে তাঁদের অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।
আমিনুর রহমান লস্কর: সাবধানতা অবলম্বনের জন্য অধিকাংশ ব্ল্যাকস্পটেই সংকেত নেই। কিছু কিছু আছে। যত ব্ল্যাকস্পট আছে, ক্রমান্বয়ে এগুলোর সব কটিই আমরা সোজা করব।
মিথিলা ফারজানা: সেটির জন্য আপনারা কত দিনের প্রকল্প হাতে নিয়েছেন?
ওবায়দুল কাদের: ২০৯টিতে আমরা একযোগে শুরু করতে পারব না। প্রাথমিকভাবে আমরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ২২টি ব্ল্যাক স্পট চিহ্নিত করেছি। শুধু চিহ্নিত করলেই হবে না, বাঁকগুলো যতটুকু পারা যায় সোজা ও প্রশস্ত করতে হবে এবং রাস্তাকে পর্যায়ক্রমে চার লেনে উন্নীত করা হবে। এ কারণে আমরা মাঝখানে আইল্যান্ড (সড়কদ্বীপ) দিতে পারছি না। আমরা আপাতত এম এস ফাইভ ডিভাইডার স্থাপন করেছি। তিনটি বাঁকে এ রকম ব্যবস্থা এরই মধ্যে করা হয়েছে। আমি তিন মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছি। এ সময়ের মধ্যেই রাস্তা প্রশস্তকরণ এবং ডিভাইডার স্থাপনের কাজ সবগুলো স্পটে সম্পন্ন করতে হবে।
ডক্টর সামছুুল হক: আমাদের দেশে বাণিজ্যিক গাড়ি হচ্ছে বাস ও ট্রাক। প্রস্তুতকারকেরা বাসগুলোতে যেভাবে সিটসংখ্যা বলেন, মালিকেরা তার থেকে কিন্তু আরও বেশি করে ফেলেন। এতে ভেতরে যে নিরাপদ সিট হওয়ার কথা, সেটা হয় না। এগুলোতে দুর্ঘটনা ঘটার পর পরিণতি অনেক মারাত্মক হয়। বাসের ওপর কোনো রেলিং লাগানো মূল প্রস্তুতকারকেরা অনুমোদন করেন না। ওপরে অতিরিক্ত ওজন নিলেই বাস কিছুটা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। পাশাপাশি ট্রাকের ক্ষেত্রেও লোড বেশি করার জন্য লম্বা ও চওড়া করা হচ্ছে এবং উচ্চতাও বাড়ানো হচ্ছে। ওভারলোডিং কিন্তু চালক, গাড়ি ও রাস্তার জন্য খারাপ এবং ভয়ানক ঝুঁকিপূর্ণ। সবচেয়ে বেশি মারাত্মক হচ্ছে ট্রাকের দুই পাশে তিনটি তিনটি করে যে অ্যাঙ্গেল লাগানো হয়েছে এটা একটা মারণাস্ত্রের মতো। বাসের সবচেয়ে দুর্বল অংশ জানালায় আঘাত করে মানুষসহ সবকিছু ছিঁড়ে ফেড়ে নিয়ে যায়।
মিথিলা ফারজানা: আইয়ুবুর রহমান খান, কী করে এই যানবাহনগুলো ফিটনেস সার্টিফিকেট পায়?
আইয়ুবুর রহমান খান: সারা দেশে যারা গাড়ির বডি তৈরি করে, তাদের কোনো ওয়ার্কশপ বিআরটিএর নিবন্ধনভুক্ত নয়। আমরা উদ্যোগ নিয়েছি বিধি করে সব ওয়ার্কশপ এবং বডি বিল্ডার্স প্রতিষ্ঠানকে রেজিস্ট্রেশনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য। আওতায় চলে এলে তখন বডি নিয়ম অনুযায়ী না বানালে আমরা তাদের ধরতে পারব। তার রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা যাবে। দ্বিতীয়ত, অনেক সময় ৩১ সিটের গাড়ি ৩১ সিট করেই রেজিস্ট্রেশনের জন্য আমাদের কাছে নিয়ে আসে এবং রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়। কিন্তু রেজিস্ট্রেশন করানোর পর আসনসংখ্যা বাড়িয়ে দেয়। তারা কোনো না কোনোক্রমে পার পেয়ে যাচ্ছে।
ওবায়দুল কাদের: আমাদের এখন যে ফিটনেস পরীক্ষা, সেটা কিন্তু ক্রমান্বয়ে করা হয়। এটা খুব বিপজ্জনক। এখন ফিটনেস না থাকলেও বলে ফিট। ফিটনেস থাকে এ রকম গাড়ি খুব কম, শুধু নতুন গাড়িগুলো ছাড়া। মিরপুর বিআরটিএতে গিয়ে দেখলাম, বিরাট বন্ধ ঘরে একটা যন্ত্র পড়ে আছে অযত্নে-অবহেলায়। জিজ্ঞেস করলাম, এখানে কী? বলা হলো, ভেহিকেল ইনস্পেকশন সেন্টার। এটা ১৬ বছর ধরে পড়ে আছে। ব্যবহার হচ্ছে না। জিজ্ঞেস করলাম, কারণ কী? জানাল, এখানে দেশি এবং বিদেশি সমন্বয়ের কনসালট্যান্ট দরকার। দেশি পরামর্শক পাওয়া যায় কিন্তু বিদেশি পরামর্শক পাওয়া যাচ্ছে না। সারা বাংলাদেশে এ রকম পাঁচটি সেন্টার বন্ধ রয়েছে।
মিথিলা ফারজানা: ব্লগ লেখক মাসুদ খান এ বিষয়ে আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?
মাসুদ খান: আউটসোর্সিং করে যোগ্য যানবাহনগুলোর ফিটনেস দেওয়ার নিশ্চয়তাটি আপনারা করে দিতে পারেন তো?
আইয়ুবুর রহমান খান: আমরা তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে ফিটনেস আউটসোর্সিংয়ে চলে যাব। আমরা আশা করি, দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে সব ফিট গাড়ি আমরা রাস্তায় দেখতে পাব। এখানে মালিকদেরও একটি বড় ভূমিকা রয়েছে।
খন্দকার এনায়েত উল্যাহ: এখানে সিট বাড়িয়ে গাড়ির অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের যে প্রবণতা, এটা বিআরটিএ ইচ্ছা করলে রোধ করতে পারে। আমরা এ ব্যাপারে বিআরটিএকে সহযোগিতা করতে চাই। যারা এগুলো করে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
ইলিয়াস কাঞ্চন: আমাদের দেশে ব্যবসায়ীরা বিদেশ থেকে যে চাকা আমদানি করছে, এটাও কিন্তু বিআরটিএর তত্ত্বাবধানে নিয়ে আসতে হবে। কন্ট্রোলে না নিলে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা যাবে না।
খন্দকার এনায়েত উল্যাহ: টায়ারে লেখা থাকছে ১৮ বা ২০ প্লাই (নাইলন স্তর), কিন্তু টায়ার পানচার হওয়ার পর দেখেছি ৯ বা ১০ প্লাই। এর ফলে গাড়ির সামনের চাকা যদি পানচার হয়, সেটা দুর্ঘটনায় পতিত হবেই। বাসের টায়ারের মান নিয়ন্ত্রণের জন্য আমরা বিএসটিআইকে পত্র দিয়েছি এবং আশা করি এটা অতি দ্রুত হয়ে যাবে।
আইয়ুবুর রহমান খান: বিএসটিআইয়ের সঙ্গে শিল্প মন্ত্রণালয় বৈঠক করে সিদ্ধান্ত দিয়েছে যে টায়ার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য যে প্রযুক্তি দরকার, এটা এ মুহূর্তে তাদের কাছে নেই। তবে তারা চেষ্টা করছে। কয়েক মাসের মধ্যে প্রযুক্তি এনে তারা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।
মিথিলা ফারজানা: সড়ক দুর্ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে অহত লোকজনের চিকিৎসা। এ ক্ষেত্রে আসল চিত্রটি কেমন?
ডা. ফজলুর রহমান: আমাদের দেশে যত লোক মারা যায়, তার ৫০ ভাগ মারা যায় দুর্ঘটনা ঘটার কয়েক মিনিটের মধ্যে। বাকি ১৫ ভাগ মারা যায় চার ঘণ্টার মধ্যে এবং ৩৫ ভাগ মারা যায় হাসপাতালে। ৫০ ভাগ মারা যাচ্ছে পুরোপুরি চিকিৎসার ব্যবস্থাপনার অভাবে। আমরা প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা বা ভ্রাম্যমাণ হাসপাতালের ব্যবস্থা করতে পারলে এদের হয়তো বাঁচানো সম্ভব। দরকার কিছু ফার্স্ট রেসপন্ডার তৈরি করা। অর্থাৎ দুর্ঘটনা যে জায়গায় ঘটবে, সে জায়গায় যদি চিকিৎসা দেওয়ার একটা ব্যবস্থা করতে পারা যায়, তাহলে হয়তো অনেক লোককে বাঁচাতে পারব। প্রাথমিক পর্যায়ের কর্মী তৈরি করতে পেট্রল পাম্প, সিএনজি স্টেশন বা স্থানীয় ওষুধের দোকানগুলোতে যারা কাজ করে, তাদের প্রশিক্ষিত করে ফার্স্ট রেসপন্ডার করতে পারি। অথবা স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী ও শিক্ষকদেরও প্রশিক্ষণ দিতে পারি।
মাহমুদুজ্জামান বাবু: মহীপালের ট্রমা সেন্টারটি তৈরি হয়েছে ২০০২ সালে, তা এখনো উদ্বোধন হয়নি। আমরা দুপুর আড়াইটায় গিয়েছি, ট্রমা সেন্টারে তখন অন্ধকার। বিদ্যুৎ ছিল না। সেখানে পেয়েছি একজন সহকারী চিকিৎসককে। তিনি বলছেন এখানে জ্বরের চিকিৎসা হয় এবং আশপাশের লোকালয়ে ট্রমা সেন্টারটি পরিচিত না এবং তারা জানতেই পারছে না যে, এটা একটা হাসপাতাল।
ডা. ফজলুর রহমান: এর সঙ্গে অন্যান্য হাসপাতালে বিশেষত জরুরি সেবার ব্যবস্থা গুরুত্ব দিয়ে রাখা দরকার। আমাদের দেশে জরুরি সেবা সেভাবে চালু নেই।
ওবায়দুল কাদের: যদিও এটা আমাদের মন্ত্রণালয়ের অধীনে নয়, তবুও আমি মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে এ বিষয়ে অনুরোধ করব, যেন ট্রমা সেন্টারটি অতি দ্রুত উদ্বোধনের যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
ডা. ফজলুর রহমান: আমরা নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট সব বিষয় দেখাশোনার জন্য আলাদা একটা সড়ক নিরাপত্তা বিভাগ তৈরির কোনো ব্যবস্থা করতে পারি কি না? বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি।
ডক্টর সামছুুল হক: এর সঙ্গে একটা জরুরি উদ্ধারকারী দলও থাকা দরকার। দুর্ঘটনা ঘটার পর কাকে জানাতে হবে, এটা অনেকেরই জানা নেই। জানাতে গিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট হয়ে যায়। যত তাড়াতাড়ি চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া যাবে, তার তত বাঁচার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। পুরো পৃথিবীতে প্রতিটি দেশে একটা ইউনিক নাম্বার থাকে, যেটা মানুষ সব সময় মনে রাখে। যেমন: ৯১১। এখন মুঠোফোন কোম্পানিগুলো এই দায়িত্ব নিতে পারে। মুঠেফোন থেকে যখনই ফোন করা হবে, মনে হয় লোকেশন বলার দরকার নেই। কারণ, অপারেটররা জানেন এই লোকেশনটা কোথায় এবং তাদের কাছে ডেটাবেইস থাকবে নিকটস্থ হাসপাতাল কোনটা, ফায়ার ব্রিগেড কোনটা, পুলিশ স্টেশন কোনটা। তাই তারাই ক্রমান্বয়ে জানিয়ে দেবে।
মিথিলা ফারজানা: মাননীয় মন্ত্রী, হাইওয়ে পুলিশের যে একটা অস্তিত্ব ও গুরুত্ব সেটা আমাদের দেশে দেখি না।
ওবায়দুল কাদের: হাইওয়ে পুলিশ সময়োপযোগী ভূমিকা পালন করে উঠতে পারে না। তাদের ক্ষমতাও একটু কম। পুলিশের জনবল ও যন্ত্রপাতি কম আছে। এসব জরুরি বিষয়ে আমরা যাতে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিতে পারি, সে উদ্যোগ অবশ্যই নেব।
মিথিলা ফারজানা: আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ। আমরা তাকিয়ে থাকব আপনারা যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছেন সেগুলোর দিকে এবং যে সময় দিয়েছেন সেই সময়ের মধ্যে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সুফল আমরা কতটা পাই, তার দিকে। আমরা এরপর প্রথম আলোর পক্ষ থেকে জানিয়ে দেব প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে বা হয়নি।
ওবায়দুল কাদের
যোগাযোগ ও রেলমন্ত্রী
ডক্টর সামছুল হক
অধ্যাপক পুরকৌশল বিভাগ ও সাবেক
পরিচালক, সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা
ইনস্টিটিউট, বুয়েট
ইলিয়াস কাঞ্চন
অভিনেতা ও সভাপতি
নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন
আমিনুর রহমান লস্কর
প্রধান প্রকৌশলী, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর
আইয়ুবুর রহমান খান
চেয়ারম্যান, বিআরটিএ
ডাক্তার ফজলুর রহমান
নির্বাহী পরিচালক, সেন্টার ফর ইনজুরি
প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ
খন্দকার এনায়েত উল্যাহ
মহাসচিব, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতি
ডাক্তার কামরান উল বাসেত
জাতীয় সমন্বয়কারী, সেন্টার ফর ইনজুরি
প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
কণ্ঠশিল্পী ও সমাজকর্মী
রনি সরকার
বদলে যাও বদলে দাও মিছিল ব্লগ লেখক
মাসুদ খান
বদলে যাও বদলে দাও মিছিল ব্লগ লেখক
সঞ্চালক
মিথিলা ফারজানা
আলোচনা
মিথিলা ফারজানা: আজ এই অনুষ্ঠানে আমাদের চাওয়া নিরাপদ সড়ক। আমরা সমাধান চাই। আমাদের সমাধান খোঁজার প্রচেষ্টায় যাঁরা অংশ নিয়ে আমাদের বাধিত করেছেন, আমরা সরাসরি চলে যেতে চাই তাঁদের কাছে। সমস্যাগুলোর সমাধান কী করে সম্ভব, সেই প্রশ্নগুলোর মধ্যে। বাংলাদেশে যেসব সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে, সেটি ফুটপাতের অভাবে অথবা মহাসড়কে পথচারীদের চলাচল বা কম গতির যানবাহনের চলাচলের যে রাস্তা, সেটির অভাবের কারণে। ডক্টর সামছুল হক, কী করে এই সমস্যার সমাধান করা যায়?
ডক্টর সামছুল হক: সড়কে নিরীহ পথচারী, সবচেয়ে অরক্ষিত সড়ক ব্যবহারকারী, তাকে কোনো গাড়ি আঘাত করলেই পরিণতি খুব খারাপ হয়। ৫৮ শতাংশ পথচারীই রাস্তায় মারা যাচ্ছে। মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৩ শতাংশ। পশ্চাতে যে সংঘর্ষটা হয়, সে ক্ষেত্রে ১১ শতাংশ এবং গাড়ি উল্টে রাস্তা থেকে পড়ে গিয়ে আরও ৯ শতাংশ মারা যায়। পথচারীর স্বভাবতই সুরক্ষা থাকে, যখন সে হাঁটে, তখন কিন্তু একটা যানবাহন এসে তাকে আঘাত করতে পারে না। এটাই রীতি। পথচারীর জন্য যে পথটা বরাদ্দ থাকে, সেটা হলো একটা ফুটপাত এবং রাস্তা পারাপার করার জন্য নিম্নতম পর্যায়ে হচ্ছে জেব্রা ক্রসিং এবং উচ্চমানের নিরাপদ হচ্ছে ওভারপাস অথবা আন্ডারপাস। আমরা দেখি, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই রাস্তা পার হতে গিয়ে লোকজন মারা যাচ্ছে এবং বাকি প্রায় ৪০ শতাংশ মারা যাচ্ছে হাঁটতে গিয়ে।
মিথিলা ফারজানা: দরিদ্র দেশের ক্ষেত্রে মহাসড়কে ফুটপাত দেওয়া একটি ব্যয়সাপেক্ষ ব্যাপার, তাহলে কী হতে পারে সমাধান?
ডক্টর সামছুল হক: গ্রামাঞ্চলে যেহেতু ফুটপাত নেই, থাকে রাস্তার ধার (সোল্ডার)। রাস্তার দুই ধারে মাটির যে রাস্তা থাকে, সেখানেই পথচারী চলাচল করার কথা। সেই জায়গায়ও ওভারটেক করার সময় গাড়ি চলে যায়। এ জন্য চলমান একটা রেলিং দিতে হবে। সব জায়গায় ফুটপাত দেওয়া আমাদের দেশের অর্থনীতিতে সমর্থন করা যায় না। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে। গাড়ি যখন নিয়ন্ত্রণহীন হয়, তখন দুই লেনের রাস্তায় যদি একটি গাড়ি দাঁড়ায়, তাহলে রাস্তাটা অকার্যকর হয়ে যায়। নিয়মের বাইরে যে গাড়িটা আসবে, সে গাড়িটি রাস্তায় না দাঁড়িয়ে রাস্তার ধারে যেন যেতে পারে। সে জন্য রেলিংটা দেওয়া, কিন্তু এটা নিরাপদ নয়। এ ক্ষেত্রে পথচারী ও চালক উভয়ের সচেতনতা প্রয়োজন। আক্রমণাত্মক ওভারটেকিং করতে গিয়ে গাড়ি সোল্ডারের শেষে চলে যাচ্ছে।
মিথিলা ফারজানা: আমাদের সঙ্গে আছেন সড়ক ও জনপথের প্রধান প্রকৌশলী আমিনুর রহমান লস্কর। রাস্তার ধারগুলোতে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটে, এটিকে কোনোভাবে সমাধান করা যায় কি না?
আমিনুর রহমান লস্কর: জাতীয় মহাসড়কে আমাদের সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে ২৩ শতাংশ। আঞ্চলিক মহাসড়কে ১২ শতাংশ আর স্থানীয় সংযোগ (ফিডার) সড়কে ১৫ শতাংশ। আমরা দেখছি, জাতীয় সড়কে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটছে। সেটা ফুটপাত দিয়ে সমাধান সম্ভব নয়।
মিথিলা ফারজানা: শহরাঞ্চলের যে ফুটপাত, সেখানে একরকম ইঁদুর-বিড়াল খেলা হয়। মাননীয় মন্ত্রী, ফুটপাত দখলমুক্ত করলে কি ভোট কমে যায়? এটি কি রাজনৈতিক সমস্যা?
ওবায়দুল কাদের: রাজনীতি নেই, আমি সে কথা বলছি না। এ দেশে নির্বাচনী রাজনীতির জন্য অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। ফুটপাত দখলের বিষয়টি অবশ্যই এখানে আনা যায়। নিম্ন শ্রেণীর মানুষ তাদের জীবন-জীবিকা এর সঙ্গে জড়িত। অ্যাজেন্ডা আছে, কিন্তু বাস্তবায়নের সক্ষমতা আমাদের দুর্বল। আমি এটাকে বলব উদ্ধার অভিযান। এখন এটা করতে গেলে দেখা যাবে হয়তো উদ্ধার হয়ে গেছে। এটা কিন্তু সরষের মধ্যে ভূত আর কি!
মিথিলা ফারজানা: দখলমুক্ত করতে গেলে কিছু মহল অসন্তুষ্ট হবে। তার পরও দৃঢ় পদক্ষেপটি নেওয়া দরকার।
ওবায়দুল কাদের: আমি এ ব্যাপারে দ্বিধাগ্রস্ত নই। এই পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন কিন্তু অসম্ভব নয়। ছয় মাসের ভেতর আপনারা আশা করতে পারেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার একটি পদক্ষেপ আমরা নিতে পারব। কিছু কিছু পরিবর্তনের ছবি দেখতে পাবেন আশা করছি।
মিথিলা ফারজানা: শিশুদের মাঝে এ সম্পর্কে সচেতনতা কীভাবে বাড়ানো যায়, তা নিয়ে কাজ করেন ডা. কামরান উল বাসেত। আপনার পরামর্শ কী?
ডা. কামরান উল বাসেত: আমরা যখন শিশুকে নিয়ে রাস্তায় হাঁটব, তখনই কীভাবে পথ চলতে হবে, কীভাবে ফুটপাত ব্যবহার করতে হবে, কীভাবে রাস্তা পার হতে হবে—এই তথ্যগুলো সরাসরি শিশুদের এবং তাদের পাঠ্যপুস্তকে দিতে পারি। আমরা হয়তো আজ এর ফল পাব না, কিন্তু ১৫ বছর পর আমরা একটা নিরাপদ সড়কসহ একটি সচেতন জাতি পাব।
মিথিলা ফারজানা: মহাসড়কে যে ধরনের সংকেত চিহ্নগুলো চালকদের সচেতন করে, যেমন—সামনে বাঁক, সামনে স্কুল, সামনে হাসপাতাল। এ ধরনের চিহ্নগুলোর যথেষ্ট অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ আছে। মাহমুদুজ্জামান বাবু, আপনি অনেকবার অনুসন্ধানে গিয়েছেন এই সড়কগুলো দিয়ে। কী দেখলেন?
মাহমুদুজ্জামান বাবু: ফেনী জয়লস্করে একটা ব্রিজের পাশে দীর্ঘ ইউটার্ন আছে। ফেনী শহরে চালকেরা বলেছিলেন, ওই ইউটার্নে তাঁরা যখন পৌঁছান তখন তাঁদের দৃষ্টিবিভ্রম তৈরি হয়, এর ফলে অনেক সময় তাঁরা রাস্তাটিকে দুটি রাস্তা দেখেন। কারণ, এত দ্রুতগতিতে গাড়িটা চলে এবং এত আচমকা সেতুটি সামনে চলে আসে যে সবাই ভয় পায়। কিন্তু ওই জায়গায় কোথাও কোনো সংকেত নেই। আমরা পরে ফেনী সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বলছেন, ‘এ রকম হয়েছে, এটা তো আমার আসলে জানা নেই। আমাকে বিষয়টি দেখতে হবে।’
মিথিলা ফারজানা: প্রকৌশলী আমিনুর রহমান লস্কর। কখন আমরা দেখব প্রতিটি মহাসড়কে জরুরি চিহ্নগুলো আছে?
আমিনুর রহমান লস্কর: অনেক জায়গায় সংকেতগুলো পোস্টার দিয়ে ঢেকে দেওয়া আছে বা কেউ বাঁকা করে দিয়ে গেছে। যেখানে চিহ্ন বা সংকেত নেই, অবশ্যই আমরা সেখানে সরবরাহ করব। এটার কোনো গত্যন্তর নেই।
ওবায়দুল কাদের: কেন আমরা এই সংকেত চিহ্নগুলো বসাতে পারি না। এগুলো তো খুব কঠিন কাজ না। আমার মনে হয়, আপনি বলতে পারেন যে আমরা তিন মাসের মধ্যে এগুলো স্থাপন করব।
মিথিলা ফারজানা: সেই সংকেত চিহ্নগুলো বা বার্তাগুলোকে চালকেরা আসলে পড়তে পারছেন কি না, সেটি খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইলিয়াস কাঞ্চন আপনি বহু দিন ধরে এই প্রয়োজনের কথা বলে আসছেন।
ইলিয়াস কাঞ্চন: প্রশিক্ষিত, দক্ষ এবং দায়িত্ববান চালক যদি তৈরি করা যায়, তাহলে ৭০ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা যাবে। এই সংকেত চিহ্নগুলো দিলেই চালকেরা যে মানছেন, এটাও কিন্তু নয়। কারণ, অনেক সময় তিনি জানেনও না যে এই সংকেত বা চিহ্নগুলোর মানেটা কী এবং এই জায়গায় তাঁকে কীভাবে গাড়ি চালাতে হবে। বিষয়গুলো তাঁরা কিন্তু শিখতে পারছেন না। আধুনিকভাবে যে চালক তৈরি করা হয়, ওই ধরনের প্রতিষ্ঠান আমাদের দেশে একেবারেই নেই। সচেতনতার কথা যে আমরা বলছি, সচেতনতা কী? আমি যদি না-ই জানি যে আমাকে কীভাবে গাড়ি চালাতে হবে, তাহলে আমি সচেতন হব কী করে।
মাহমুদুজ্জামান বাবু: আমরা গাজীপুরে বিআরটিসির প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে গিয়েছিলাম। গাজীপুরের ওই কেন্দ্রটিসহ সারা দেশে ১৮টি প্রশিক্ষণকেন্দ্র আছে। যিনি দায়িত্বে আছেন, তিনি বলেছেন, ‘আমরা ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতার সক্ষমতা রেখেছি অষ্টম শ্রেণী পাস। কিন্তু সেই শিক্ষাগত যোগ্যতার বেশি লোকজন আমরা পাচ্ছি না।’ পেশাদার যাঁদের লাইসেন্স আছে, তাঁরা কেউই আসলে তেমন শিক্ষিত নন এবং যাঁরা প্রশিক্ষক তাঁদেরও যথেষ্ট পাওয়া যায় না যে প্রত্যেককে প্রশিক্ষণ দেওয়া যাবে।
মিথিলা ফারজানা: আমাদের সঙ্গে আছেন বিআরটিএর চেয়ারম্যান আইয়ুবুর রহমান খান। আপনি বলুন, প্রশিক্ষণ শুধু আপনারা বিআরটিএ কেন, বেসরকারি যেসব প্রশিক্ষক আছেন, তাঁদের অনুমোদন দিয়ে এটির সমাধান করা যায় কি না?
আইয়ুবুর রহমান খান: বাংলাদেশে বিআরটিএর নিবন্ধনভুক্ত প্রশিক্ষকের সংখ্যা মাত্র ৫৪ জন। অথচ প্রতিবছর ৩৪ হাজারের মতো চালক রাস্তায় আসছেন এবং মোটরসাইকেলসহ এর সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় দেড় লাখের মতো। এই ৫৪ জন প্রশিক্ষক দিয়ে এত বিপুলসংখ্যক মানুষকে দক্ষ পরিচালক বা চালক হিসেবে তৈরি করা সম্ভব নয়।
মিথিলা ফারজানা: কিন্তু এটি বাড়ানোর ব্যবস্থা কী?
আইয়ুবুর রহমান খান: এই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা সরকারের নিজস্ব ফান্ড নিয়ে প্রশিক্ষক তৈরির উদ্যোগ নিয়েছি। কিছুদিন আগে সেনাবাহিনীর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে প্রশিক্ষক তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা ২০ জন প্রশিক্ষককে প্রশিক্ষিত করেছি। আগামী মাসে আরও ২০ জন প্রশিক্ষক তৈরি করব।
মিথিলা ফারজানা: এটির কি কোনো লক্ষ্যমাত্রা আছে, যত জন প্রশিক্ষক দরকার, সেটি এক বছরের মধ্যে আপনারা তৈরি করতে পারবেন?
আইয়ুবুর রহমান খান: লক্ষ্যমাত্রা আছে, এক বা দুই বছরের মধ্যে অন্তত এক হাজার প্রশিক্ষক তৈরি করা সম্ভব হবে। এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে কয়েক শ প্রশিক্ষক তৈরি করা সম্ভব হবে বলে আশ্বাস দিতে পারি। আরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা শিক্ষা, প্রবাসীকল্যাণ এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেছি, তাদের যে কারিগরি প্রতিষ্ঠানগুলো আছে, সেগুলোর মাধ্যমে যেন দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ডক্টর সামছুুল হক: প্রশিক্ষক তৈরি হয়ে যাওয়ার পর তাঁরা আপাতত রেজিস্ট্রেশনের বাইরে থাকেন। যে ড্রাইভিং স্কুলগুলো আছে তাদের যদি আমরা অনুমোদন দিই এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাঁদের আমরা নিয়োগ দিই, তাহলে একেকজন প্রশিক্ষক তাঁর জ্ঞান বাড়াতে পারেন এবং অনেক চালককে প্রশিক্ষিত করতে পারেন।
মিথিলা ফারজানা: আইয়ুবুর রহমান খান, তাঁদের মাধ্যমে সেটি সম্ভব কি না?
আইয়ুবুর রহমান খান: যদি কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে একজন দক্ষ প্রশিক্ষক থাকেন, তাহলে ওই প্রতিষ্ঠানটির আমরা নিবন্ধন প্রদান করি। আমরা যে ২০ জন প্রশিক্ষক ইতিমধ্যে তৈরি করেছি, তাঁদের দিয়ে ২০টি ট্রেনিং স্কুল পরিচালনা করতে এবং তাঁদের নিবন্ধন দিতে পারব। আগামী মাসে আরও যে ২০ জন বের হবে, তাঁদের দিয়ে আরও ২০টি ড্রাইভিং স্কুলে প্রশিক্ষণ দিতে পারি। যদি আরও ৪০টি ড্রাইভিং স্কুল বাড়ে, তাহলে আমাদের দক্ষ চালক তৈরির সক্ষমতা বেড়ে যাবে।
মিথিলা ফারজানা: কিন্তু তা সত্ত্বেও যেটি স্পষ্ট, আরও এক বছরের মধ্যে ৫০ শতাংশ অদক্ষ লাইসেন্সপ্রাপ্ত বা লাইসেন্সবিহীন চালক রাস্তায় গাড়ি চালাবেন। এই ৫০ শতাংশ চালককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য, প্রশিক্ষকের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য যে বেসরকারি প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলো আছে, তাদের কেন আপনারা অন্তর্ভুক্ত করছেন না?
আইয়ুবুর রহমান খান: বেসরকারি প্রশিক্ষক বিআরটিএর নিবন্ধনভুক্ত নেই। আছেন মাত্র ৫৪ জন। এর বাইরে যাঁরা আছেন, তাঁদের লাইসেন্স দেওয়া হয়নি। তাঁদের ক্ষেত্রে সমস্যাটি হচ্ছে, যদি কাউকে প্রশিক্ষকের লাইসেন্স দিতে হয়, তাঁকে দুটি শর্ত পূরণ করতে হবে। প্রথমত, তাঁকে এসএসসি পাস হতে হবে, দ্বিতীয়টি হচ্ছে, হেভি লাইসেন্সধারী হতে হবে।
মিথিলা ফারজানা: মাননীয় মন্ত্রী, বিষয়টিকে বজ্র আঁটুনি ফসকা গেরো মনে হচ্ছে কি না?
ওবাদুল কাদের: অবশ্যই বেসরকারি উদ্যোগের সঙ্গে সরকারি উদ্যোগের সমন্বয় সাধন করতে হবে। সরকারের সক্ষমতা নেই এটাকে একা সামলানোর। আমাদের নেটওয়ার্কও অতটা শক্তিশালী নয়। কাজেই আমরা বেসরকারি উদ্যোগের সঙ্গে সমন্বয় করি এবং সেনাবাহিনী এ ব্যাপারে সহযোগিতা করছে এবং করবে। উভয় উদ্যোগের সঙ্গে সমন্বয় করে বিষয়টি একটা সুন্দর সমাধানের দিকে অবশ্যই এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব। সময় লাগবে কিন্তু আশা করা যায়, পারব।
ইলিয়াস কাঞ্চন: বেসরকারি উদ্যোগে কিন্তু সম্ভব হবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের গাড়ি চালানোর একটা নিজস্ব জায়গা না থাকবে, প্রশিক্ষক না থাকবে এবং প্রশিক্ষণ দেওয়ার মতো গাড়ি না থাকবে। যেসব চালক গাড়ি চালাতে আসেন তাঁরা অত্যন্ত দরিদ্র এবং এটার জন্য যে চার্জ বেসরকারিভাবে করা হবে, সেটা ওই চালকের পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়। অর্থাৎ দুই মাস বা এক বছরের জন্য যে প্রশিক্ষণ নিতে হবে, সেটির জন্য একটা ইনসেনটিভ বা ভাতা দরকার। সেটি বেসরকারি কোনো সংস্থাই দেবে না বা বিনা পয়সায় প্রশিক্ষণ দেবে না।
ওবায়দুল কাদের: আপনার কথায় যুক্তি আছে। সে অবস্থায় সরকার ভাতা দিতে প্রস্তুত আছে।
ইলিয়াস কাঞ্চন: আমার প্রস্তাব ছিল, সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৫৪টি ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান বর্তমান আছে। তাদের জায়গা আছে, সেখানে শুধু সিমুলেটর স্থাপন করা, গাড়ি দেওয়া ও প্রশিক্ষক দেওয়া। সরকার যদি মনে করে, একজন ভালো চালক তৈরি করার জন্য তাকে ২০ হাজার টাকা ঋণ দেওয়া দরকার। সে ক্ষেত্রে চাকরি পাওয়ার পর ৫০০ টাকা করে ঋণ পরিশোধ করার জন্য তাকে যদি একটা সময় দেওয়া হয়, তাহলে কিন্তু এটা সম্ভব।
আইয়ুবুর রহমান খান: এই প্রকল্পটি ইতিমধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ গ্রহণ করেছে। বছরে চারটি ব্যাচে তারা তিন মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ দেবে। ৬১টি জেলা পরিষদের মাধ্যমে এবং এর খরচটি স্থানীয় সরকার বিভাগ নিজস্ব তহবিল থেকে বহন করবে। এটির দুটি দিক আছে। একটি আমাদের সড়ক নিরাপদ হবে এবং অপরটি হচ্ছে, বিদেশে হাজার হাজার দক্ষ গাড়িচালকের চাহিদা রয়েছে, আমরা বিদেশেও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছি। ব্যক্তিমালিকানাধীন পার্টনারশিপ যেমন টাটা গ্রুপ, নিটল-নিলয় গ্রুপ ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কিশোরগঞ্জে একটি ড্রাইভার ইনস্টিটিউট স্থাপন করেছে। প্রতি বছর ওখান থেকে প্রায় ৫০ হাজার গাড়িচালককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
মিথিলা ফারজানা: বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি যখন এই চালকদের নিয়োগ দেয়, তখন তাঁরা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কি না, সেটি কি নিশ্চিত হয়? এ বিষয়ে বলবেন মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ।
খন্দকার এনায়েত উল্যাহ: অনেক ক্ষেত্রে যাঁরা সচেতন মালিক, তাঁদের অনেকেই এই ব্যাপারটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেন। আমরা বিআরটিএর মাধ্যমে এগুলো পরীক্ষা করিয়ে নিয়ে নিশ্চিত করে থাকি, আর অনেক সময় আমরা নিজেরা দেখলেও বলতে পারি, এগুলো আসলে সঠিক কি না। তার পরও আমরা ড্রাইভিং লাইসেন্সের ব্যাপারে ইতিমধ্যে বিআরটিএর সঙ্গে আলোচনা করেছি। দেশব্যাপী শ্রমিকদের যে সংগঠনগুলো রয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে একাধিকবার আমাদের আলোচনা হয়েছে। এ ব্যাপারে মালিকদের সচেতনতা বাড়ানোর জন্য আমরা প্রচেষ্টা গ্রহণ করব।
মিথিলা ফারজানা: ব্লগ লেখক রনি সরকার এ বিষয়ে আপনার কী প্রশ্ন আছে?
রনি সরকার: আপনারা ড্রাইভারদের কিসের ভিত্তিতে নিয়োগ দেন? বেশি বেশি ট্রিপ দেওয়াকে কি আপনারা সড়ক দুর্ঘটনার কারণ মনে করেন না?
খন্দকার এনায়েত উল্যাহ: এগুলো হয়তো বা কম দূরত্বের রাস্তাগুলোতে সম্ভব। তবে দূরপাল্লার গাড়িগুলোর বেশি ট্রিপ চালানোর সুযোগ নেই। সেখানে একটা গাড়ি যদি খুব তাড়াতাড়ি যায়, সেখানে সে হয়তো বা ৩০ মিনিট বা এক ঘণ্টা সময় বাঁচাতে পারবে।
মাহমুদুজ্জামান বাবু: তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরের দুর্ঘটনা যে দিন ঘটেছিল, সেদিন চুয়াডাঙ্গা থেকে ড্রাইভার যে গাড়িটি নিয়ে সকাল সাতটায় গাবতলী টার্মিনালে এসেছিলেন, তিনিই আবার গাড়িটি নিয়ে বেরিয়েছেন সকাল নয়টায়।
মিথিলা ফারজানা: ডক্টর সামছুুল হক এই ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং কেন হয়?
ডক্টর সামছুুল হক: আমি ৫০০ জন চালকের সঙ্গে কথা বলে দেখেছি, যানজট তাঁদের জন্য একটা বিরক্তিকর ব্যাপার। যানজটে যে সময় নষ্ট হয়, তার ফাঁক পূরণ করতে গিয়ে তাঁরা এই ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং করেন এবং বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালান। পাশাপাশি, গাড়ি চুক্তিতে দেওয়া হয় বলে চালক অতিরিক্ত যাত্রী ওঠান এবং পাল্টাপাল্টি আচরণের মাধ্যমে দুর্ঘটনা ঘটে।
খন্দকার এনায়েত উল্যাহ: চুক্তির ভিত্তিতে গাড়ি চালানো ঢাকা এবং চট্টগ্রাম সিটিতে কিছু কিছু হয়ে থাকে। কিন্তু দূরপাল্লার বাসের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা খুবই কম। এ বছরের মধ্যেই আমরা এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেব। আমরা সমিতির মাধ্যমে এই অনুষ্ঠান থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও কিছু পদক্ষেপ নেব।
মিথিলা ফারজানা: এ বিষয়ে মোটর ভেহিকল অ্যাক্ট ১৯৮৩ নামে একটি নীতি রয়েছে, কিন্তু এখনো যেহেতু এটি আইন হিসেবে পাস হয়নি, তাই এ ধরনের কোনো চুক্তি দণ্ডনীয় অপরাধ নয়। এটিকে আইনে পরিণত করা যায় কি না?
ওবায়দুল কাদের: এই আইনটির পরিবর্তন প্রয়োজন। যত শিগগির সম্ভব এই আইন সংশোধন করার ব্যাপারে আমরা উদ্যোগ নেব। আইনটি যাতে পাস হয়, সে ব্যবস্থা নেব।
মিথিলা ফারজানা: বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০৯টি দুর্ঘটনাপ্রবণ কিছু এলাকা রয়েছে, যাকে ব্ল্যাকস্পট বলে। এগুলো আসলে কী?
ডক্টর সামছুুল হক: দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান নির্দিষ্টকরণের জন্য যে সংজ্ঞাটি আছে তা হলো, একই জায়গায় তিন বছরে যদি তিনটা মৃত্যুর ঘটনা ঘটে অথবা পাঁচটা সাকসেসিভ বছরে যদি দুর্ঘটনা ঘটে, সাধারণত ওই স্থানকে দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান বা ব্ল্যাক স্পট বলে।
মিথিলা ফারজানা: আপনারা এই জায়গাগুলোকে চিহ্নিত করা বা চালকদের সচেতন করার জন্য কোনো ধরনের সংকেত দিয়েছেন কি?
আমিনুর রহমান লস্কর: ঢাকা-আরিচা সড়কে অনেকগুলো ব্ল্যাকস্পট আছে। এরই মধ্যে তিনটি ব্ল্যাকস্পট সরিয়ে দিয়ে রাস্তা প্রশস্ত করা হয়েছে।
মিথিলা ফারজানা: এখানে যখন চালকেরা গাড়ি নিয়ে যান, তখন কি তাঁরা জানেন এটি একটি দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা? এখানে তাঁদের অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।
আমিনুর রহমান লস্কর: সাবধানতা অবলম্বনের জন্য অধিকাংশ ব্ল্যাকস্পটেই সংকেত নেই। কিছু কিছু আছে। যত ব্ল্যাকস্পট আছে, ক্রমান্বয়ে এগুলোর সব কটিই আমরা সোজা করব।
মিথিলা ফারজানা: সেটির জন্য আপনারা কত দিনের প্রকল্প হাতে নিয়েছেন?
ওবায়দুল কাদের: ২০৯টিতে আমরা একযোগে শুরু করতে পারব না। প্রাথমিকভাবে আমরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ২২টি ব্ল্যাক স্পট চিহ্নিত করেছি। শুধু চিহ্নিত করলেই হবে না, বাঁকগুলো যতটুকু পারা যায় সোজা ও প্রশস্ত করতে হবে এবং রাস্তাকে পর্যায়ক্রমে চার লেনে উন্নীত করা হবে। এ কারণে আমরা মাঝখানে আইল্যান্ড (সড়কদ্বীপ) দিতে পারছি না। আমরা আপাতত এম এস ফাইভ ডিভাইডার স্থাপন করেছি। তিনটি বাঁকে এ রকম ব্যবস্থা এরই মধ্যে করা হয়েছে। আমি তিন মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছি। এ সময়ের মধ্যেই রাস্তা প্রশস্তকরণ এবং ডিভাইডার স্থাপনের কাজ সবগুলো স্পটে সম্পন্ন করতে হবে।
ডক্টর সামছুুল হক: আমাদের দেশে বাণিজ্যিক গাড়ি হচ্ছে বাস ও ট্রাক। প্রস্তুতকারকেরা বাসগুলোতে যেভাবে সিটসংখ্যা বলেন, মালিকেরা তার থেকে কিন্তু আরও বেশি করে ফেলেন। এতে ভেতরে যে নিরাপদ সিট হওয়ার কথা, সেটা হয় না। এগুলোতে দুর্ঘটনা ঘটার পর পরিণতি অনেক মারাত্মক হয়। বাসের ওপর কোনো রেলিং লাগানো মূল প্রস্তুতকারকেরা অনুমোদন করেন না। ওপরে অতিরিক্ত ওজন নিলেই বাস কিছুটা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। পাশাপাশি ট্রাকের ক্ষেত্রেও লোড বেশি করার জন্য লম্বা ও চওড়া করা হচ্ছে এবং উচ্চতাও বাড়ানো হচ্ছে। ওভারলোডিং কিন্তু চালক, গাড়ি ও রাস্তার জন্য খারাপ এবং ভয়ানক ঝুঁকিপূর্ণ। সবচেয়ে বেশি মারাত্মক হচ্ছে ট্রাকের দুই পাশে তিনটি তিনটি করে যে অ্যাঙ্গেল লাগানো হয়েছে এটা একটা মারণাস্ত্রের মতো। বাসের সবচেয়ে দুর্বল অংশ জানালায় আঘাত করে মানুষসহ সবকিছু ছিঁড়ে ফেড়ে নিয়ে যায়।
মিথিলা ফারজানা: আইয়ুবুর রহমান খান, কী করে এই যানবাহনগুলো ফিটনেস সার্টিফিকেট পায়?
আইয়ুবুর রহমান খান: সারা দেশে যারা গাড়ির বডি তৈরি করে, তাদের কোনো ওয়ার্কশপ বিআরটিএর নিবন্ধনভুক্ত নয়। আমরা উদ্যোগ নিয়েছি বিধি করে সব ওয়ার্কশপ এবং বডি বিল্ডার্স প্রতিষ্ঠানকে রেজিস্ট্রেশনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য। আওতায় চলে এলে তখন বডি নিয়ম অনুযায়ী না বানালে আমরা তাদের ধরতে পারব। তার রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা যাবে। দ্বিতীয়ত, অনেক সময় ৩১ সিটের গাড়ি ৩১ সিট করেই রেজিস্ট্রেশনের জন্য আমাদের কাছে নিয়ে আসে এবং রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়। কিন্তু রেজিস্ট্রেশন করানোর পর আসনসংখ্যা বাড়িয়ে দেয়। তারা কোনো না কোনোক্রমে পার পেয়ে যাচ্ছে।
ওবায়দুল কাদের: আমাদের এখন যে ফিটনেস পরীক্ষা, সেটা কিন্তু ক্রমান্বয়ে করা হয়। এটা খুব বিপজ্জনক। এখন ফিটনেস না থাকলেও বলে ফিট। ফিটনেস থাকে এ রকম গাড়ি খুব কম, শুধু নতুন গাড়িগুলো ছাড়া। মিরপুর বিআরটিএতে গিয়ে দেখলাম, বিরাট বন্ধ ঘরে একটা যন্ত্র পড়ে আছে অযত্নে-অবহেলায়। জিজ্ঞেস করলাম, এখানে কী? বলা হলো, ভেহিকেল ইনস্পেকশন সেন্টার। এটা ১৬ বছর ধরে পড়ে আছে। ব্যবহার হচ্ছে না। জিজ্ঞেস করলাম, কারণ কী? জানাল, এখানে দেশি এবং বিদেশি সমন্বয়ের কনসালট্যান্ট দরকার। দেশি পরামর্শক পাওয়া যায় কিন্তু বিদেশি পরামর্শক পাওয়া যাচ্ছে না। সারা বাংলাদেশে এ রকম পাঁচটি সেন্টার বন্ধ রয়েছে।
মিথিলা ফারজানা: ব্লগ লেখক মাসুদ খান এ বিষয়ে আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?
মাসুদ খান: আউটসোর্সিং করে যোগ্য যানবাহনগুলোর ফিটনেস দেওয়ার নিশ্চয়তাটি আপনারা করে দিতে পারেন তো?
আইয়ুবুর রহমান খান: আমরা তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে ফিটনেস আউটসোর্সিংয়ে চলে যাব। আমরা আশা করি, দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে সব ফিট গাড়ি আমরা রাস্তায় দেখতে পাব। এখানে মালিকদেরও একটি বড় ভূমিকা রয়েছে।
খন্দকার এনায়েত উল্যাহ: এখানে সিট বাড়িয়ে গাড়ির অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের যে প্রবণতা, এটা বিআরটিএ ইচ্ছা করলে রোধ করতে পারে। আমরা এ ব্যাপারে বিআরটিএকে সহযোগিতা করতে চাই। যারা এগুলো করে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
ইলিয়াস কাঞ্চন: আমাদের দেশে ব্যবসায়ীরা বিদেশ থেকে যে চাকা আমদানি করছে, এটাও কিন্তু বিআরটিএর তত্ত্বাবধানে নিয়ে আসতে হবে। কন্ট্রোলে না নিলে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা যাবে না।
খন্দকার এনায়েত উল্যাহ: টায়ারে লেখা থাকছে ১৮ বা ২০ প্লাই (নাইলন স্তর), কিন্তু টায়ার পানচার হওয়ার পর দেখেছি ৯ বা ১০ প্লাই। এর ফলে গাড়ির সামনের চাকা যদি পানচার হয়, সেটা দুর্ঘটনায় পতিত হবেই। বাসের টায়ারের মান নিয়ন্ত্রণের জন্য আমরা বিএসটিআইকে পত্র দিয়েছি এবং আশা করি এটা অতি দ্রুত হয়ে যাবে।
আইয়ুবুর রহমান খান: বিএসটিআইয়ের সঙ্গে শিল্প মন্ত্রণালয় বৈঠক করে সিদ্ধান্ত দিয়েছে যে টায়ার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য যে প্রযুক্তি দরকার, এটা এ মুহূর্তে তাদের কাছে নেই। তবে তারা চেষ্টা করছে। কয়েক মাসের মধ্যে প্রযুক্তি এনে তারা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।
মিথিলা ফারজানা: সড়ক দুর্ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে অহত লোকজনের চিকিৎসা। এ ক্ষেত্রে আসল চিত্রটি কেমন?
ডা. ফজলুর রহমান: আমাদের দেশে যত লোক মারা যায়, তার ৫০ ভাগ মারা যায় দুর্ঘটনা ঘটার কয়েক মিনিটের মধ্যে। বাকি ১৫ ভাগ মারা যায় চার ঘণ্টার মধ্যে এবং ৩৫ ভাগ মারা যায় হাসপাতালে। ৫০ ভাগ মারা যাচ্ছে পুরোপুরি চিকিৎসার ব্যবস্থাপনার অভাবে। আমরা প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা বা ভ্রাম্যমাণ হাসপাতালের ব্যবস্থা করতে পারলে এদের হয়তো বাঁচানো সম্ভব। দরকার কিছু ফার্স্ট রেসপন্ডার তৈরি করা। অর্থাৎ দুর্ঘটনা যে জায়গায় ঘটবে, সে জায়গায় যদি চিকিৎসা দেওয়ার একটা ব্যবস্থা করতে পারা যায়, তাহলে হয়তো অনেক লোককে বাঁচাতে পারব। প্রাথমিক পর্যায়ের কর্মী তৈরি করতে পেট্রল পাম্প, সিএনজি স্টেশন বা স্থানীয় ওষুধের দোকানগুলোতে যারা কাজ করে, তাদের প্রশিক্ষিত করে ফার্স্ট রেসপন্ডার করতে পারি। অথবা স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী ও শিক্ষকদেরও প্রশিক্ষণ দিতে পারি।
মাহমুদুজ্জামান বাবু: মহীপালের ট্রমা সেন্টারটি তৈরি হয়েছে ২০০২ সালে, তা এখনো উদ্বোধন হয়নি। আমরা দুপুর আড়াইটায় গিয়েছি, ট্রমা সেন্টারে তখন অন্ধকার। বিদ্যুৎ ছিল না। সেখানে পেয়েছি একজন সহকারী চিকিৎসককে। তিনি বলছেন এখানে জ্বরের চিকিৎসা হয় এবং আশপাশের লোকালয়ে ট্রমা সেন্টারটি পরিচিত না এবং তারা জানতেই পারছে না যে, এটা একটা হাসপাতাল।
ডা. ফজলুর রহমান: এর সঙ্গে অন্যান্য হাসপাতালে বিশেষত জরুরি সেবার ব্যবস্থা গুরুত্ব দিয়ে রাখা দরকার। আমাদের দেশে জরুরি সেবা সেভাবে চালু নেই।
ওবায়দুল কাদের: যদিও এটা আমাদের মন্ত্রণালয়ের অধীনে নয়, তবুও আমি মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে এ বিষয়ে অনুরোধ করব, যেন ট্রমা সেন্টারটি অতি দ্রুত উদ্বোধনের যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
ডা. ফজলুর রহমান: আমরা নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট সব বিষয় দেখাশোনার জন্য আলাদা একটা সড়ক নিরাপত্তা বিভাগ তৈরির কোনো ব্যবস্থা করতে পারি কি না? বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি।
ডক্টর সামছুুল হক: এর সঙ্গে একটা জরুরি উদ্ধারকারী দলও থাকা দরকার। দুর্ঘটনা ঘটার পর কাকে জানাতে হবে, এটা অনেকেরই জানা নেই। জানাতে গিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট হয়ে যায়। যত তাড়াতাড়ি চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া যাবে, তার তত বাঁচার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। পুরো পৃথিবীতে প্রতিটি দেশে একটা ইউনিক নাম্বার থাকে, যেটা মানুষ সব সময় মনে রাখে। যেমন: ৯১১। এখন মুঠোফোন কোম্পানিগুলো এই দায়িত্ব নিতে পারে। মুঠেফোন থেকে যখনই ফোন করা হবে, মনে হয় লোকেশন বলার দরকার নেই। কারণ, অপারেটররা জানেন এই লোকেশনটা কোথায় এবং তাদের কাছে ডেটাবেইস থাকবে নিকটস্থ হাসপাতাল কোনটা, ফায়ার ব্রিগেড কোনটা, পুলিশ স্টেশন কোনটা। তাই তারাই ক্রমান্বয়ে জানিয়ে দেবে।
মিথিলা ফারজানা: মাননীয় মন্ত্রী, হাইওয়ে পুলিশের যে একটা অস্তিত্ব ও গুরুত্ব সেটা আমাদের দেশে দেখি না।
ওবায়দুল কাদের: হাইওয়ে পুলিশ সময়োপযোগী ভূমিকা পালন করে উঠতে পারে না। তাদের ক্ষমতাও একটু কম। পুলিশের জনবল ও যন্ত্রপাতি কম আছে। এসব জরুরি বিষয়ে আমরা যাতে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিতে পারি, সে উদ্যোগ অবশ্যই নেব।
মিথিলা ফারজানা: আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ। আমরা তাকিয়ে থাকব আপনারা যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছেন সেগুলোর দিকে এবং যে সময় দিয়েছেন সেই সময়ের মধ্যে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সুফল আমরা কতটা পাই, তার দিকে। আমরা এরপর প্রথম আলোর পক্ষ থেকে জানিয়ে দেব প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে বা হয়নি।
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1338)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
-
▼
2012
(33842)
-
▼
July
(2459)
-
▼
Jul 08
(141)
- সংস্কৃতির মেলবন্ধনে আবেগের বান এনেছেন ড. রোমী দাশগ...
- আ লা প চা রি তা-যা করছি তা আমার নিজস্ব স্টাইলই মনে...
- ফিরে দেখা
- প্রসঙ্গ ইসলাম-খ্রিস্টীয় নববর্ষ ও আমরা by অধ্যাপক হ...
- বিএনপি-জামায়াত সরকারের প্রথম বছর বনাম মহাজোটের প্র...
- বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার ঐতিহাসিক রায়
- বেগম রোকেয়া স্মারক বক্তৃতা ২০০৯-তিমির বিদার উদার অ...
- উত্তাল ২০০৯ সালের ঘটনাধারা by উত্তম চক্রবতর্ী
- পল স্যামুয়েলসন জীবনান্তিকা by ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর
- শেখ হাসিনার সফর সম্পর্কের ৰেত্রে নতুন মাত্রা আনবে-...
- বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি by সৈয়দ সোহরাব
- হিমঘরে এক বছর বছর, ডিএনএ টেস্টে শনাক্ত দু্ শহীদ
- সাবেক আইজি কাইউমকে গ্রেনেড হামলা মামলায় জিজ্ঞাসাবা...
- মৃতু্য পরোয়ানা জারি হবে ৩ জানুয়ারি-বঙ্গবন্ধু হত্যা...
- জঙ্গী ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখুন-সারদা...
- হাওয়া ভবনে-গ্রেনেড হামলার আলামত নষ্টে বিশেষ ইঞ্জিন...
- ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেশ ফিরল আগের সময়ে
- স্বাগত প্রত্যাশার ২০১০ by উত্তম চক্রবতর্ী
- ঢাকা উইমেন কলেজ
- ক্যাম্পাস সংবাদ-বিইউবিটিতে ‘ভাষা শিক্ষা ও শিক্ষণের...
- কলেজ অব বিজনেস স্টাডিজে পড়াশোনা
- হতে পারেন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার
- বিসিআইসি কলেজ
- পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সাফল্য...
- হ্যাকারদের জন্য লোকসান গুনছে অনেক ব্যাংক
- ফার্নিচার শিল্পের প্রসার ঘটিয়ে বিপুল কর্মসংস্থান স...
- আম ॥ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের একটি সম্ভাবনা
- বাজেট বাস্তবায়ন ॥ সরকারের করণীয় by মোঃ আরিফুর রহমান
- ভুল চিকিৎসার কারণে...
- নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু
- বিশ্বব্যাংক ॥ নায়ক কিংবা খলনায়ক by মিলু শামস
- একুশ শতক-বাংলা টাংলা ॥ বেঙ্গলিটা পড়াক না ইংলিশে by...
- বাংলাদেশে মৌলবাদের রাজনৈতিক অর্থনীতি by অধ্যাপক আব...
- তারকাখচিত হাসপাতালে চিকিৎসার নামে হচ্ছেটা কী? by আ...
- ওয়াসার পানিতে দুর্গন্ধ
- দুর্ঘটনায় প্রাণ দিল ছোট্ট শিশু
- পবিত্র কোরআনের আলো-আল্লাহকে ভালোবাসতে হলে তাঁর রাস...
- ভালোবাসার দিন by শাইখ সিরাজ
- মত ও মন্তব্য-বইমেলা, বাঙালির সৃজনশীলতা by হারুন হাবীব
- স্মরণ-আসফউদ্দৌলা রেজার ২৮তম মৃত্যুবার্ষিকী by নাজ...
- কলকাতা বইমেলা বনাম বাংলাদেশের 'দাজ্জাল' by মহসীন হ...
- চট্টগ্রাম বন্দরে সমন্বয়হীনতা ইউজার্স ফোরামের ক্ষোভ
- বাঙালী জাতি বিতর্কিত কোন এজেন্সির কাছে মাথানত করবে...
- দশ দিনব্যাপী ইন্দো-বাংলা মাস্টার পেইন্টারস এক্সিবি...
- সুইপার কলোনির আট ভবন নির্মাণে দুর্নীতি, ধসে পড়ার আ...
- কারাবন্দী বিরোধী নেতাদের সঙ্গে নিষ্ঠুর আচরণ করা হচ...
- নিজামীর বিরুদ্ধে সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে আজ সাক্ষ্...
- ঋতু বৈচিত্র্যে বেদনা মধুর বর্ষা, সুরের তরী কতো কথা...
- প্রণবের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ তুলল সাংমা শিবির
- জ্যোতি বসুর জন্মদিন উদ্যাপন করলেন মমতা
- আবার সিংহাসনে ফিরতে চান জ্ঞানেন্দ্র
- কাবুলে হিলারির ঘোষণা-যুক্তরাষ্ট্রের বড় মিত্র হিসেব...
- হকিংয়ের মস্তিষ্কতরঙ্গ বাক্যে পরিণত করার কাজ শুরু
- ছাত্রলীগের সেই নেতার বিরুদ্ধে মারধর ও চুরির মামলা
- দোহার-নবাবগঞ্জ-পদ্মার ভাঙন ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রীর প...
- খালে বাঁধ দিয়ে পুকুর
- রমজানে দ্রব্যমূল্য ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার দাবি
- এমভি নাসরিন ট্র্যাজেডির দিন আজ-এত দুর্ঘটনার পরও মা...
- মুহিত, নিশাত ও ওয়াসফিয়াকে প্রভাতি সংবর্ধনা
- জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদ্বোধন-মাছের প্রাকৃতিক প্রজননক...
- কালের যাত্রা by পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
- বাংলাভাষা : সংস্কৃতির রক্ষাকবচ ঐক্যের জন্য অবলম্বন...
- দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি দুই ভাইকে গুলি, একজনের ম...
- ভারত-নতুন করে শুরু করতে হবে মনমোহন সিংকে by কুলদীপ...
- সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঘুম ভাঙবে কবে?-‘রাস্তা ঠিক না হ...
- ওষুধের মূল্য নির্ধারণের দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে-ও...
- শ্রদ্ধাঞ্জলি-আমিনুলকে যেভাবে দেখেছি by রুবী ইসলাম
- বদলে যাও বদলে দাও মিছিলটেলিভিশন সংলাপ-সড়ক দুর্ঘটনা...
- নাইকো কেলেঙ্কারির হোতা তৌফিক-ই-ইলাহী
- বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য উপযুক্ত জায়গা শঙ্খ নদের মোহন...
- আবারও সোহেল তাজের পদত্যাগ
- প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গিয়ে...
- ব্লাডব্যাংক-হাত বাড়ালেই বন্ধু by শিহাব জিশান
- এভারেস্টজয়ী-স্মৃতির শহরে ওয়াসফিয়া by নিজাম সিদ্দিকী
- শ্রমিকনেতাদের কাছে জিম্মি নির্বাহী প্রশাসন by হামি...
- জাম্বুরি মাঠ এখন সবজিখেত by নিয়াজ তুহিন
- নতুন ঠিকানা এখন চীন
- রেকর্ড-কন্যা নাজমা
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিপক্ষ সহ্য করতে পারেন না : ফ...
- বিচারাধীন বিষয়ে হিউম্যান রাইটসের বক্তব্য অধিকারবহি...
- চট্টগ্রাম হতে রড ও লৌহজাত পণ্য পরিবহন বন্ধ আজ থেকে...
- দিনাজপুরে রেললাইনের নিচ থেকে বিস্ফোরক ভর্তি বাক্স ...
- মহাসড়কে চাঁদাবাজি খুন ডাকাতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে-বেপর...
- বন্যায় মাটি উর্বর হয়, ভীতি না ছড়ানোর অনুরোধ প্রধান...
- যোগাযোগ মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের হুমকি অটোরিকশা মালিকদের
- পদ্মা সেতুতে দুর্নীতি হয়নি বললেই জনগণ মেনে নেবেনা:...
- ১৫ দফা দাবি তুলে ধরে সমন্বয় পরিষদের প্যানেল ঘোষণা-...
- প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকি দেয়ায় গ্রেফতারি পরোয়া...
- সেতু নয়, আগে মানসম্মান বাঁচান
- রোজায় বাজার নিয়ন্ত্রণ ॥ আটকে গেল টিসিবি-পণ্য বিক্র...
- কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র-তদারকি নিশ্চিত ...
- তর্কটা তুলে দিল স্পেন
- ই উ রো বচন
- বিএনপির সংসদীয় প্রতিনিধি দল বিশ্বনাথে
- বীর মুক্তিযোদ্ধা-তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না
- গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি নিয়োগ-ইউনূসকে চেয়ারম্যান করে...
- কৃষকের ৪৫টি নলকূপ ক্ষমতাসীনদের কবজায়! by আনোয়ার পা...
- সহযোগী সংগঠনের যোগ্য নেতার খোঁজে হাসিনা by পাভেল হ...
- ৬৪ জেলা প্রশাসকের চোখে ৪৬৬ সমস্যা by আশরাফুল হক রাজীব
- অধিকৃত অঞ্চলে বসতি তদন্ত করবে জাতিসংঘ প্যানেল
- অক্সফামের প্রতিবেদন-ফিলিস্তিনের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহ...
- ডনের সম্পাদকীয়-মুম্বাই হামলায় সন্দেহভাজনদের বিচারে...
- ওবামার সঙ্গে আলিঙ্গনের পরেই মৃত্যু!
- প্রথম অবাধ নির্বাচনে স্বতঃস্ফূর্ত ভোট দিল লিবীয়রা
- রাশিয়ায় আকস্মিক বন্যা, ৯৯ জনের প্রাণহানি
- 'লিবিয়ায় সাইফের ন্যায়বিচার অসম্ভব'
- 'ইরানি বিজ্ঞানীদের হত্যায় ফ্রান্স ও জার্মানি দায়ী'
- খেলাপি ঋণ-সরকার কঠোর না হলে অর্থনীতি বিপদে পড়বে by...
- ১০ জুলাই জেলা প্রশাসক সম্মেলন শুরু-আরও ক্ষমতা চান ...
- পদ-বাণিজ্যের অভিযোগ-স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও যুবলীগের কা...
- পুলিশের ভেতরে-বাইরে-পুলিশ চলছে রাজনৈতিক তদবিরে, চা...
- পদ্মা সেতু-আবার নতুন ঋণচুক্তি করতে হবে by শওকত হোসেন
- স্মৃতিশক্তি হারিয়ে লেখালেখিও বন্ধ মার্কেজের!
- সিরিয়ায় পর্যবেক্ষক মিশন ছোট করার প্রস্তাব জাতিসংঘের
- পূর্ব তিমুরে পার্লামেন্ট নির্বাচন, পুনর্নির্বাচনের...
- কালজয়ী পুরাতাত্তি্বক লুই বিনফোর্ড by আদনান আরিফ সালিম
- সমাজ-জন্মনিবন্ধন ও একটি মানবিক প্রসঙ্গ by রানা ভিক্ষু
- নির্বাচন-'বাছবিচার করে পরিবর্তন হয় না' by পার্থ চট...
- নৌ নিরাপত্তা দিবস নয় কেন? by শেখ রোকন
- সংসদ-নারী-পুরুষের সমান প্রতিনিধিত্ব চাই by নাহিদ নলেজ
- পাকিস্তান-দুর্বিপাক থেকে পরিত্রাণের উপায় কী? by আব...
- দাদনের ফাঁদে কৃষক-ব্যাংকিং সেবা সহজলভ্য হোক
- ঢাকার জন্য পরিকল্পনা-ড্যাপ কি তবে ছেঁড়া কাগজ
- আবু আবদুল্লাহ : বন্ধুত্বে মুগ্ধ আমরা ক'জন by মাহমু...
- পশ্চিমবঙ্গ-মিয়োন বিস্কুট জুড়োন চা by অমিত বসু
- পবিপ্রবির যুগপূর্তি by মুহাম্মদ ইমাদুল হক প্রিন্স
- বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন পুনরুদ্ধার by এম আবদুল হাফিজ
- পদ্মা সেতু প্রকল্প-ঋণচুক্তি বাতিল এবং কিছু বিবেচ্য...
-
▼
Jul 08
(141)
-
▼
July
(2459)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
ইরান
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
কালবেলা
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
ইউক্রেন
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
তরুণ প্রজন্ম
মানবাধিকার
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আলী যাকের
আইন ও বিচার
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
তারেক শামসুর রেহমান
মালয়েশিয়া
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
স্বাস্থ্য
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
জ্যোতির্বিজ্ঞান
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
শিল্প ও সাহিত্য
সংবিধান ও রাষ্ট্র
বগুড়া
মিয়ানমার
ঢাকা
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
গবেষণা
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
জীবনযাপন
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
মেহেদী হাসান
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
মানসুরা হোসাইন
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
মসজিদ
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
ইয়েমেন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
Exclusive
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
উচ্চশিক্ষা
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
বিজ্ঞান
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
জনস্বাস্থ্য
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
ফরিদপুর
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লাতিন আমেরিকা
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মহাকাশচারী
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
জোহরান মামদানি
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
ইহুদি
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
স্পেন
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
বিশ্বকাপ ফুটবল
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment