ইভিএমে সংস্কার

ইলেক্ট্রনিক ভোটার মেশিন বা ইভিএম কাঠামোয় পরিবর্তন ও সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এতে কোন প্রতীকে ভোট পড়েছে, তা মেশিনে সংরক্ষণের পাশাপাশি কাগজেও ছাপার ব্যবস্থা যুক্ত হচ্ছে। প্রযুক্তির উৎকর্ষকে কাজে লাগিয়ে ভোটের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজকে সহজ করার যে কোনো উদ্যোগ ভালো ও প্রশংসার যোগ্য। তবে স্থানীয় সরকারের কিছু নির্বাচনে পরীক্ষামূলকভাবে ইভিএম ব্যবহার করা হলেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্পর্শকাতর ভোটগ্রহণের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত ছাড়া এ পথে অগ্রসর গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে অন্তত বড় রাজনৈতিক দলগুলোর মতকে প্রাধান্য দিতে হবে বৈকি। জানা যায়, নির্বাচনে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো জরুরিও বটে। এ জন্য এরই মধ্যে অনেক ভোটারের হাতে স্মার্টকার্ড তুলে দেয়া হয়েছে। ইভিএমে অতীতের ভুলত্রুটি সংশোধন করে নতুনত্ব আনা হচ্ছে।
কিছু ভোট কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে, যাতে করে রিটার্নিং কর্মকর্তার পাশাপাশি কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচন কমিশনের অফিস থেকেও পর্যবেক্ষণ করা যায়। ইভিএমকে ব্যবহারবান্ধব এবং সময়সাশ্রয়ী করতে ভোটার শনাক্তকরণ ও ভোটিং মেশিন- এ দুটি যন্ত্রকে সন্নিবেশিত করে একটিতে রূপান্তরের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর বাইরে ইভিএমে অডিট ট্রায়াল পেপার যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যাতে পছন্দের প্রার্থীকে দেয়া ভোট মেশিনের পাশাপাশি ছাপা কাগজেও সংরক্ষিত হবে। এতে করে ভোটারদের মধ্যে আস্থা তৈরি হবে, তাতে সন্দেহ নেই। দুর্ভাগ্যের বিষয়, ভোট গ্রহণের অনুষঙ্গগুলোতে আমরা যতটা জোর দিচ্ছি ও নিত্যনতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নিচ্ছি, তার ছিটেফোঁটা উদ্যোগও কিন্তু সরকারি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও ভোটারদের মধ্যে আস্থা ফেরানোর জন্য নিচ্ছি না। অথচ গণতন্ত্র মানে কিন্তু শুধু ভোটদান ও ভোটগ্রহণ নয়। এটি একটি সংস্কৃতি, যেখানে পরমতসহিষ্ণুতা, সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মতকে শ্রদ্ধা প্রদর্শন ও মানুষের রায় মেনে নেয়াই আসল কথা। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য ইতিবাচক উদ্যোগই হতে হবে নির্বাচন কমিশন ও সরকারের অগ্রাধিকার। তবেই ভোটগ্রহণ ও অন্যান্য সহযোগী অনুষঙ্গের উন্নতি ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে। সবার মতামত ছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে ইভিএম চাপিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে ইসি সতর্ক হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।