ফোর্বসের মূল্যায়ন : বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি বারাক ওবামা

বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের তালিকা প্রকাশ করেছে মাগাজিন ফোর্বস। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বিশ্বের এ তালিকার শীর্ষে রয়েছেন। তার ঠিক পরের স্থানেই রয়েছেন রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভদ্মাদিমির পুতিন। ২ নভেম্বর ম্যাগাজিনটি বিশ্বের ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের এ তালিকা প্রকাশ করে।ম্যাগাজিনটির বার্ষিক তালিকায় ওবামা চীনের প্রেসিডেন্ট হু জিনতাওকে পেছনে ফেলে শীর্ষস্থানটি অর্জন করলেন। ফোর্বসের র্যাংকিং অনুযায়ী ২০১০ সালে হু জিনতাও-ই ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি। এবারের তালিকায় তিনি রয়েছেন তৃতীয় অবস্থানে। জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মারকেলের অবস্থান চতুর্থ।


বেকারত্বের উচ্চহার ও অর্থনৈতিক জটিলতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ওবামার গ্রহণযোগ্য আগের তুলনায় কমে গেলেও বহির্বিশ্বে ঠিক উল্টো। ওবামার নির্দেশেই দীর্ঘ ১০ বছর ধরে আত্মগোপনে থাকা আল কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেনকে পাকিস্তানের সামরিক শহর অ্যাবোটাবাদের গোপন আস্তানায় কমান্ডো হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয়। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের বিশ্ববাণিজ্য কেন্দ্র (টুইন টাওয়ার) সন্ত্রাসী হামলায় গুঁড়িয়ে যায়। ওই হামলার জন্য আল কায়দা ও তার প্রধান ওসামা বিন লাদেনকে দায়ী করা হয়। পরে ওই হামলাটি বিশ্বব্যাপী ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলা বলে পরিচিতি পায়।
পাশাপাশি লিবিয়ায় ন্যাটোর বিমান অভিযানে যোগ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। চলতি বছরের মার্চে ন্যাটোর নেতৃত্বে ওই অভিযান শুরু হয় আর অক্টোবরে লিবীয় নেতা গাদ্দাফির মৃত্যুর মধ্য দিয়ে তার সমাপ্তি ঘটে। এসব কিছুর নেপথ্যের ব্যক্তিটি হচ্ছেন বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা।
তালিকায় মাইক্রোসফটের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস পঞ্চম স্থানে রয়েছেন। সৌদি বাদশাহ আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ ষষ্ঠ এবং পোপ ষোড়শ বেনেডিক্ট সপ্তম স্থানে রয়েছেন। তালিকায় ফেসবুকের প্রধান মার্ক জুকারবার্গ নবম, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন দশম স্থানে রয়েছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সার্কোজি রয়েছেন ১৩তম স্থানে।
এছাড়াও ভারতের কংগ্রেস পার্টি প্রধান সোনিয়া গান্ধী ১১তম ও দেশটির প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং রয়েছেন ১৯তম স্থানে। এরপর ২০তম অবস্থানে রয়েছেন বিশ্বের তৃতীয় ধনী ব্যক্তি ওয়ারেন বাফেট। ভারতীয় ব্যবসায়ী মুকেশ আম্বানি ও লক্ষ্মী মিত্তাল রয়েছেন যথাক্রমে ৩৫ ও ৪৭তম অবস্থানে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন রয়েছেন ১৬তম স্থানে।
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আশফাক কায়ানি ৩৪তম স্থানে রয়েছেন। অপরদিকে মাফিয়া জগতের অন্যতম গডফাদার দাউদ ইব্রাহিম রয়েছেন ৫৭তম স্থানে। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আলি হোসেইনি খামেনি রয়েছেন ২৬তম স্থানে। এছাড়াও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু রয়েছেন তালিকার ২৫তম স্থানে। তিব্বতের ভিন্নমতাবলম্বী নেতা দালাইলামা রয়েছেন ৫১তম স্থানে।
মার্কিন ম্যাগাজিন ফোর্বস প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান ও প্রভাব বিবেচনা করে তাদের নিজস্ব পদ্ধতিতে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তির তালিকা প্রকাশ করে থাকে।