ডিমের অস্বাভাবিক মূল্য

সরকারি হস্তক্ষেপ জরুরি সাধারণ মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণে ডিম অন্যতম ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই ডিমের দামও এখন গরিবের নাগালের বাইরে। ঢাকায় এক হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪৪ টাকা পর্যন্ত। ফলে নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগ আরেক দফা বেড়ে গেছে। বিক্রেতারা বলছে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় ডিমের দাম বেড়েছে।


শুধু ঢাকা শহরের মানুষের জন্যই দৈনিক ডিম প্রয়োজন দুই কোটি। সেই চাহিদার বিপরীতে ডিম আসছে মাত্র এক কোটি। আর এই ঘাটতিকেই কাজে লাগাচ্ছে এক শ্রেণীর লোভী ব্যবসায়ী। খুচরা বিক্রেতারা দোষ দিচ্ছে পাইকারি বিক্রেতা ও আড়তদারদের। পাইকারি ও আড়তদাররা দোষ দিচ্ছে চাহিদার সঙ্গে সরবরাহের মিল না থাকাকে। তার পরও মূল্যবৃদ্ধিকে যৌক্তিক বলে মনে হয় না। কারণ ডিমের এই মূল্যবৃদ্ধি ও জোগানের স্বল্পতা মোকাবিলা করার জন্য সরকার এখন ডিম আমদানিকে উন্মুক্ত করে দিয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সময়োচিত এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরও কোন কারণে বাজারে চাহিদা অনুযায়ী ডিম পাওয়া যাচ্ছে না এবং কোন কারণে ডিমের এই মূল্যবৃদ্ধি তা অতি দ্রুত তলিয়ে দেখা দরকার। সরকারি হিসাব মতেই গত এক বছরে ডিমের দাম বেড়েছে ৬৬ শতাংশ।
খামারিদের কথা, বার্ড ফ্লু আতঙ্কে দেশের বিপুল পরিমাণ মুরগির খামার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিমের উৎপাদন অস্বাভাবিক হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে অতি মুনাফালোভী কিছু ব্যবসায়ীকেও এর দায় বহন করতে হবে। সম্প্রতি বাজার আকাশছোঁয়া হওয়ার পেছনে ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট সক্রিয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। তাই অবাধ আমদানির প্রভাব পড়েনি বাজারে। সংগত কারণেই দ্রুত আমদানি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে যাতে ব্যবসায়ীরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে ডিম আমদানি করে বাজারের চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখতে পারে সেই ব্যবস্থা নিতে হবে সরকারকে। বিশেষ করে টিসিবিকে কাজে লাগানো প্রয়োজন। তা না হলে সিন্ডিকেটের হাত থেকে বাজারকে রক্ষা করা সম্ভব হবে না।
উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, পরিবহন খাতেও অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হয় বলে এমনিতেই সব দ্রব্যেরই মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু ডিম সাধারণ মানুষের পুষ্টি জোগানদাতা অন্যতম দ্রব্য হওয়ার পরও বিষয়টিকে নিয়ে সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছে বলে মনে হয় না। এ পরিস্থিতিতে আমদানি করা ডিমের সঠিক বাজারজাতকরণ হচ্ছে কি না তা দেখা এবং ব্যবসায়ীরা যাতে ক্রেতাদের জিম্মি করে অতিরিক্ত মুনাফা আদায় করতে না পারে সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ রাখা প্রয়োজন। তা না হলে সহজে ও স্বল্পমূল্যে পুষ্টি জোগানের এ মাধ্যমটি ক্রমেই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে।