Sunday, October 10, 2010
ফেদেরিকো গার্থিয়া লোরকার কবিতা ও প্রিয় বন্ধুর জন্য বিলাপ
ফেদেরিকো গার্থিয়া লোরকার কবিতা ও প্রিয় বন্ধুর জন্য বিলাপ
ইগনাসিও সানচেস মেহিয়াসের জন্য বিলাপ
(Llanto Por Ignacio Sanchez Mejias)
১. জখম ও মৃত্যু
(La Cogida y la Muerte)
ঘড়িতে তখন বিকেল পাঁচটা।
কাঁটায় কাঁটায় বিকেল পাঁচটা।
এনেছে ছেলেটা শাদা এক থান
ঘড়িতে তখন বেজেছে বিকেল পাঁচটা।
রয়েছে সাজানো লেবুর ঝুড়ি একখানা
ঘড়িতে যখন বেজেছে বিকেল পাঁচটা।
বাকিটা মৃত্যু এবং কেবলই মৃত্যু সে।
বাতাস উড়িয়ে নিয়েছে উল কার্পাসের
যখন ঘড়িতে বেজেছে বিকেল পাঁচটা।
আর অক্সাইড-গুঁড়ো-ছিটানো
উড়লো কাচ আর নিকেল
ঘড়িতে যখন বাজলো বিকেল পাঁচটা।
লড়াইয়ে এখন মেতেছে ঘুঘু ও চিতাবাঘে
ঘড়িতে যখন বেজেছে বিকেল পাঁচটা।
গুঁতোগুঁতি করে ঊরুতে একটি একাকী শিঙ
ঘড়িতে যখন বেজেছে বিকেল পাঁচটা।
আর উদারায় বাজলো তার
ঘড়িতে যখন বেজেছে বিকেল পাঁচটা।
বিষের ঘণ্টা বাজলো আর উঠলো ধোঁয়া
ঘড়িতে যখন বেজেছে বিকেল পাঁচটা।
কোনায় কোনায় জমাট নীরবতা
ঘড়িতে যখন বেজেছে বিকেল পাঁচটা।
আর এলো ওই তুঙ্গ-হৃদয় একাকী ষাঁড়!
ঘড়িতে যখন বেজেছে বিকেল পাঁচটা।
বরফ তখন অতিরিক্ত ঝরালো ঘাম
ঘড়িতে যখন বেজেছে বিকেল পাঁচটা,
ষাঁড়-লড়াইয়ের বৃত্ত যখন আয়োডিনে ছয়লাপ
ঘড়িতে তখন বেজেছে বিকেল পাঁচটা।
জখমের ’পর মৃত্যু তার পাড়লো ডিম
বিকেল পাঁচটায়।
বিকেল পাঁচটায়।
ঘড়িতে তখন বেজেছে বিকেল পাঁচটা ।
চাকায় বসানো শবাধার এক শয্যা তার
ঘড়িতে যখন বেজেছে বিকেল পাঁচটা।
কানে বাজে ওই বাঁশি ও হাড়ের অনুরণন
ঘড়িতে তখন বেজেছে বিকেল পাঁচটা।
এখন তার কপাল ফুঁড়ে হাম্বা হাম্বা ডাকছে ষাঁড়
ঘড়িতে তখন বেজেছে বিকেল পাঁচটা।
সারা ঘর করে যাতনায় ঝিলমিল
ঘড়িতে যখন বেজেছে বিকেল পাঁচটা।
পচা-ক্ষত এক আসছে এখন দূর থেকে
ঘড়িতে যখন বেজেছে বিকেল পাঁচটা।
সবুজাভ ওই কুঁচকি ফুঁড়ে জাগে পদ্মের একটি শুঁড়
ঘড়িতে তখন বেজেছে বিকেল পাঁচটা।
ক্ষতেরা যখন সূর্যের মতো জ্বলছে, আর
ঘড়িতে তখন বেজেছে বিকেল পাঁচটা।
ঘড়িতে তখন বেজেছে বিকেল পাঁচটা।
আহা, নিদারুণ সেই বিকেলের পাঁচটা!
[সকল ঘড়িতে তখন বিকেল পাঁচটা!]
গাঢ় বিকেলের ছায়ায় তখন পাঁচটা!
২. ঝরে-পড়া রক্ত
(La Sangre Derramada)
আমি তা দেখবো না!
চাঁদকে বোলো, আসুক সে,
ইগনাসিওর রক্ত আমি
দেখতে চাই না বালির ’পর।
আমি তা দেখবো না!
হাঁ-খোলা চাঁদ।
অনড় মেঘমালার ঘোড়া, আর
উইলোর বেড়া-ঘেরা
স্বপ্নের ধুধু ষাঁড়-লড়াইয়ের বৃত্তটা।
আমি তা দেখবো না!
স্মৃতি আমার উঠুক জ্বলে!
অমল ধবল হাস্নুহেনায়
ছড়াক তার উষ্ণতা!
আমি তা দেখবো না!
আদি পৃথিবীর সেই গাভীটা
বালিতে গড়ানো লোহু-ভেজা সেই নাকে
বোলালো তার বিষাদমাখা জিভ,
আর যতো ষাঁড় গিসান্দোর
মৃত্যু তারা অংশত, পাথর তারা অংশত,
যেন তারা তুলছে ঢেঁকুর দু’শো বছর ধরে
এই দুনিয়ার চ’রে বেড়ানোর সুখে
না,
আমি তা দেখবো না!
নিজের মৃত্যু নিজের কাঁধে নিয়ে
ইগনাসিও উঠলো ধাপে ধাপে।
সে করেছে ভোরের সন্ধান
কিন্তু সে-ভোর পেল না খুঁজে আর।
খুঁজলো সে তার দীপ্ত মুখচ্ছবি
স্বপ্ন তাকে করলো বিহ্বল
খুঁজতে নিজের সুন্দর দেহখানি
নিজ রক্তের দেখলো সে উদ্গার।
বোলো না আমায় দেখতে একে আর!
ক্রম-নিস্তেজ ফিনকি সে-রক্তের
চাইনে আমি শুনতে বারবার:
আসনের ধাপ রক্ত-আলোয় হাসে
আর সে-লোহু ছিটকে গিয়ে পড়ে
তর-না-সওয়া হাজার লোকের
পোশাকে ও পাদুকায়।
চেঁচিয়ে কারা আমায় কাছে ডাকে!
বোলো না আমায় দেখতে একে আর !
দেখলো যখন আসছে ধেয়ে শিঙ
তখনো চোখে পড়েনি পলক তার,
সর্বনাশী মায়েরা তবুও সবে
তুললো তাদের মাথা।
আর গোপন স্বরের এক হাওয়া
উঠলো আর পেরলো খামার ষাঁড়ের,
রাখাল যতো হাল্কা কুয়াশার
চেঁচাল দিব্য-ষাঁড়কে লক্ষ্য করে।
ছিলো না এমন রাজার দুলাল কোনো
তুলনীয় তার হতে পারে সেভিয়ায়
তারটির মতো এমন তরবারি
এমন খাঁটি হৃদয় ছিলো না কোনো।
সিংহযুথের মতোন প্রবল ছিল
অবাক করা শৌর্যবীর্য তার,
মার্বেলে গড়া যেনবা ধড় এক
পরিমিত আর ছিল সুনির্ণিত।
আন্দালুসীয় রোমের গরিমা তার
মোহন শিরে করলো ঝলমল;
যেখানে মেধা ও সরস কৌতুকে
হাসিখানি তার হয়েছে সুরভিলতা ।
লড়াই-রিঙে কতো বড়ো মাতাদোর!
পাহাড়ি দেশের সুজন কৃষাণ এক!
কতো না দক্ষ ফসলের গোছা হাতে!
ঘোড়ার পিঠে কেমন অকুতোভয়!
শিশির-ছোঁয়ায় কেমন পরিস্নাত!
কতো ঝলমল আনন্দ উৎসব!
অন্ধকারের বান্দেরিয়া হাতে
কেমন মোহন রূপের বাহার তার!
অথচ এখন দিয়েছে সে কালঘুম।
ধ্রুব আঙুলে শ্যাওলা আর ঘাস
ফোটায় আজ তার করোটির ফুল।
গান গেয়ে তার রক্ত বেরিয়ে আসে;
গায় তৃণভূমি এবং জলার সাথে,
হিমায়িত শিঙে সে-গান গড়িয়ে নামে,
আত্মারা টলে সেই ঘন কুয়াশায়
হাজার খূরে হুমড়ি খেয়ে পড়ে,
যেন দীঘল, কালো, বিষণ্ন জিভ,
বেদনার এক গড়েছে পুষ্করিণী
পাশে তারাভরা গুয়াদাল্কিভির;
আহা, স্পেনের ধবল প্রাচীরখানি!
আহা, বেদনার কালোবরণ ষাঁড়!
আহা রে, জমাট ইগনাসিওর খুন!
আহা রে, তার ধমনীর বুলবুল !
না।
আমি তা দেখবো না!
একে বুকে ধরে এমন পেয়ালা নেই,
একে পান করে এমন চাতক নেই,
আলোর তুহিন পারে না জুড়াতে একে,
কোনো গান কোনো শাদা লিলির বান,
কোনো কাচ নেই রক্তকে ঢাকে রুপোর আচ্ছাদনে।
না।
আমি তা দেখবো না!
৩. শুইয়ে রাখা শব
(Cuerpo Presente)
বাঁকাজল আর তুষারজমাট সাইপ্রেস তরুহীন
পাথর এক কপাল যাতে স্বপ্ন কেঁদে মরে।
সময় ব’য়ে নে’য়ার মতো পাথর এক কাঁধ
অশ্রু, রিবন, গ্রহে সাজানো গাছগাছালি ভরা।
দেখেছি ধূসর বৃষ্টিধারা ঢেউয়ের পানে ছোটে
চালুনিময় কোমল হাত ঊর্ধ্বে তুলে ধরে,
রক্ত শোষণ না ক’রে যারা এলিয়ে দেয় তাদের
সেই পাথরে হঠাৎ সে যেন না ধরা পড়ে।
যেহেতু পাথর কুড়ায় বীজ এবং মেঘমালা,
ছায়ার নেকড়ে, কংকালেরা তামাশা ক’রে যায়:
দেয় না শব্দ একটুখানি ফটিক, কিবা আগুন
দেয় শুধু রিঙ এবং রিঙ, ঘেরহীন ওই ষাঁড়-লড়াইয়ের রিঙ।
পাথরে এখন নিথর শুয়ে সুজাত ইগনাসিও
সবই তো শেষ! হচ্ছে কী! ওর মুখটি মনে আঁকো:
মৃত্যু এসে ঢেকেছে ওকে অগুরু গন্ধকে
কৃষ্ণ মিনোতারের মুণ্ডু বসিয়ে দিলো কাঁধে।
সবই তো শেষ। বৃষ্টি ওর মুখের ভেতর ঢোকে
চুপসানো ওর বুক ছেড়ে যায় হাওয়া যেন উন্মাদ,
আর বরফের অশ্রুভেজা প্রেম
দিচ্ছে ওম নিজেকে নিজে পালের অগ্রভাগে।
ওরা কী বলে? এসেছে নেমে আবিল নীরবতা।
শুইয়ে রাখা ক্রম-পাণ্ডুর শবকে ঘিরে আছি,
সেই নিরূপম তনুর গড়ন যেনবা পাপিয়ার
আর দেখি তা কতো না অতল গর্তে ভরে যায়।
কে করে ভাঁজ লাশের কাপড়? ওর কথা সব ঝুট!
গায় না কেউ এখানে গান, কাঁদে না ঘরের কোণে,
জুতোয় কেউ পরায় না নাল, দেখায় না ভয় সাপে।
চাইনে কিছু এখানে, শুধু পটলচেরা চোখে
দেখতে চাই ওর দেহটা কেবল নির্নিমেষে।
এখানে চাই দেখতে তাদের, যাদের কড়া গলা।
ঘোড়াকে যারা মানায় বশ, শাসন করে নদী;
শীর্ণ-পাঁজর যাদের গলা গানের সুরে মাতে
তাদের মুখ আগুনে পাথর, সূর্য দিয়ে ভরা।
এই পাথরের সামনে, আমি দেখতে চাই তাদের
ছিন্ন-লাগাম এই দেহের, এরই সম্মুখে ।
মরণে বাঁধা এই সেনানী, তার মুক্তির পথ
বাৎলে দিক তারা আমায় এখন, এইবেলা।
চাই তারা দেখাক আমায় নদীর মতো শোক
থাকবে যার গভীর তট, মধুর কুজ্ঝটি,
না শুনে আজ এসব ষাঁড়ের দ্বিগুণ ঘড়্ঘড়্
ইগনাসিওর লাশ ব’য়ে নিতে
যেখানে সে ফানা হবে।
নিজেকে হারাবে চাঁদের গোল ষাঁড়-লড়াইয়ের রিঙে
যে চাঁদ তার তরুণ-দিনে শান্ত-দুঃখী ষাঁড়ের ভাব করে,
মাছের গান-রিক্ত-রাতে হারায় নিজেকেই
আর জমাট ধোঁয়ার শাদা ঝোঁপের ওই আড়ে।
চাইনে আমি মুখটি ওর রুমালে ঢেকে দিতে
যেন যে-মরণ ব’য়ে সে বেড়ায়, মানিয়ে নিতে পারে।
ইগনাসিও! রেখো না মনে এসব কিছু, এসব হাম্বারব
যাও গে ঘুমোও, ওড়ো, জিরোও; সাগরও তো যায় মরে!
৪. গরহাজির আত্মা
(Alma Absente)
তোমাকে ষাঁড় চেনে না, ওই ডুমুরগাছও না,
নয় ঘোড়ারা, তোমার ওই বাড়ির পিঁপড়েরাও।
শিশুটি আর ওই যে বিকেল তোমায় চেনে না
কেননা তুমি গিয়েছ মরে চিরকালের তরে।
ওই পাথরের শক্ত কাঁধ তোমায় চেনে না
কালো রেশম, যেখানে তুমি বন্দি হ’য়ে আছো।
তোমার স্মৃতি নীরব, সে-ও তোমাকে চেনে না
কেননা তুমি গিয়েছ মরে চিরদিনের তরে।
আসবে শরৎ ছোট্ট শাদা শামুক সাথে নিয়ে,
তুষারে ভেজা আঙুর আর পাহাড়শ্রেণী নিয়ে,
কেউ তবুও রাখবে না তো তোমার চোখে চোখ
কেননা তুমি গিয়েছ মরে চিরকালের তরে।
যেহেতু তুমি গিয়েছ মরে চিরকালের তরে,
তাদেরই মতো এই দুনিয়ার গিয়েছে যারা মরে,
সেসব মৃতের মতো যারা মরা কুকুরদের
ভাগাড়ে লীন হওয়ার মতো হয়েছে বিস্মৃত।
তোমায় কেউ চেনে না। না, তবুও আমি গাই
তোমার তনুর রূপ-সুষমা ভাবীকালের তরে।
পরিণত তোমার মনের স্তব করে যাই গানে।
তোমার ওই মরণ-তিয়াস, তোমার মুখের স্বাদ
ছিলো যে-বিষাদ লুকিয়ে তোমার মুখর উল্লাসে।
এমন খাঁটি আন্দালুসি দুঃসাহসে ভরা
ফের যদিবা জন্ম নেয় তা-ও বহু যুগ পর
গুমরে-মরা কথায় আমি তার যশোগান করি
আর এসব জলপাইগাছ, ওদের ভেতর দিয়ে
বয়ে চলা করুণ হাওয়া স্মরণ করি আমি
================
ফেদেরিকো গার্থিয়া লোরকা (Federico García Lorca, ৫/৬/১৮৯৮ — ১৯/৮/১৯৩৬)
bdnews24 এর সৌজন্যে
অনুবাদ: জুয়েল মাজহার
এই কবিতা গুলো পড়া হয়েছে...
(Llanto Por Ignacio Sanchez Mejias)
১. জখম ও মৃত্যু
(La Cogida y la Muerte)
ঘড়িতে তখন বিকেল পাঁচটা।
কাঁটায় কাঁটায় বিকেল পাঁচটা।
এনেছে ছেলেটা শাদা এক থান
ঘড়িতে তখন বেজেছে বিকেল পাঁচটা।
রয়েছে সাজানো লেবুর ঝুড়ি একখানা
ঘড়িতে যখন বেজেছে বিকেল পাঁচটা।
বাকিটা মৃত্যু এবং কেবলই মৃত্যু সে।
বাতাস উড়িয়ে নিয়েছে উল কার্পাসের
যখন ঘড়িতে বেজেছে বিকেল পাঁচটা।
আর অক্সাইড-গুঁড়ো-ছিটানো
উড়লো কাচ আর নিকেল
ঘড়িতে যখন বাজলো বিকেল পাঁচটা।
লড়াইয়ে এখন মেতেছে ঘুঘু ও চিতাবাঘে
ঘড়িতে যখন বেজেছে বিকেল পাঁচটা।
গুঁতোগুঁতি করে ঊরুতে একটি একাকী শিঙ
ঘড়িতে যখন বেজেছে বিকেল পাঁচটা।
আর উদারায় বাজলো তার
ঘড়িতে যখন বেজেছে বিকেল পাঁচটা।
বিষের ঘণ্টা বাজলো আর উঠলো ধোঁয়া
ঘড়িতে যখন বেজেছে বিকেল পাঁচটা।
কোনায় কোনায় জমাট নীরবতা
ঘড়িতে যখন বেজেছে বিকেল পাঁচটা।
আর এলো ওই তুঙ্গ-হৃদয় একাকী ষাঁড়!
ঘড়িতে যখন বেজেছে বিকেল পাঁচটা।
বরফ তখন অতিরিক্ত ঝরালো ঘাম
ঘড়িতে যখন বেজেছে বিকেল পাঁচটা,
ষাঁড়-লড়াইয়ের বৃত্ত যখন আয়োডিনে ছয়লাপ
ঘড়িতে তখন বেজেছে বিকেল পাঁচটা।
জখমের ’পর মৃত্যু তার পাড়লো ডিম
বিকেল পাঁচটায়।
বিকেল পাঁচটায়।
ঘড়িতে তখন বেজেছে বিকেল পাঁচটা ।
চাকায় বসানো শবাধার এক শয্যা তার
ঘড়িতে যখন বেজেছে বিকেল পাঁচটা।
কানে বাজে ওই বাঁশি ও হাড়ের অনুরণন
ঘড়িতে তখন বেজেছে বিকেল পাঁচটা।
এখন তার কপাল ফুঁড়ে হাম্বা হাম্বা ডাকছে ষাঁড়
ঘড়িতে তখন বেজেছে বিকেল পাঁচটা।
সারা ঘর করে যাতনায় ঝিলমিল
ঘড়িতে যখন বেজেছে বিকেল পাঁচটা।
পচা-ক্ষত এক আসছে এখন দূর থেকে
ঘড়িতে যখন বেজেছে বিকেল পাঁচটা।
সবুজাভ ওই কুঁচকি ফুঁড়ে জাগে পদ্মের একটি শুঁড়
ঘড়িতে তখন বেজেছে বিকেল পাঁচটা।
ক্ষতেরা যখন সূর্যের মতো জ্বলছে, আর
ঘড়িতে তখন বেজেছে বিকেল পাঁচটা।
ঘড়িতে তখন বেজেছে বিকেল পাঁচটা।
আহা, নিদারুণ সেই বিকেলের পাঁচটা!
[সকল ঘড়িতে তখন বিকেল পাঁচটা!]
গাঢ় বিকেলের ছায়ায় তখন পাঁচটা!
২. ঝরে-পড়া রক্ত
(La Sangre Derramada)
আমি তা দেখবো না!
চাঁদকে বোলো, আসুক সে,
ইগনাসিওর রক্ত আমি
দেখতে চাই না বালির ’পর।
আমি তা দেখবো না!
হাঁ-খোলা চাঁদ।
অনড় মেঘমালার ঘোড়া, আর
উইলোর বেড়া-ঘেরা
স্বপ্নের ধুধু ষাঁড়-লড়াইয়ের বৃত্তটা।
আমি তা দেখবো না!
স্মৃতি আমার উঠুক জ্বলে!
অমল ধবল হাস্নুহেনায়
ছড়াক তার উষ্ণতা!
আমি তা দেখবো না!
আদি পৃথিবীর সেই গাভীটা
বালিতে গড়ানো লোহু-ভেজা সেই নাকে
বোলালো তার বিষাদমাখা জিভ,
আর যতো ষাঁড় গিসান্দোর
মৃত্যু তারা অংশত, পাথর তারা অংশত,
যেন তারা তুলছে ঢেঁকুর দু’শো বছর ধরে
এই দুনিয়ার চ’রে বেড়ানোর সুখে
না,
আমি তা দেখবো না!
নিজের মৃত্যু নিজের কাঁধে নিয়ে
ইগনাসিও উঠলো ধাপে ধাপে।
সে করেছে ভোরের সন্ধান
কিন্তু সে-ভোর পেল না খুঁজে আর।
খুঁজলো সে তার দীপ্ত মুখচ্ছবি
স্বপ্ন তাকে করলো বিহ্বল
খুঁজতে নিজের সুন্দর দেহখানি
নিজ রক্তের দেখলো সে উদ্গার।
বোলো না আমায় দেখতে একে আর!
ক্রম-নিস্তেজ ফিনকি সে-রক্তের
চাইনে আমি শুনতে বারবার:
আসনের ধাপ রক্ত-আলোয় হাসে
আর সে-লোহু ছিটকে গিয়ে পড়ে
তর-না-সওয়া হাজার লোকের
পোশাকে ও পাদুকায়।
চেঁচিয়ে কারা আমায় কাছে ডাকে!
বোলো না আমায় দেখতে একে আর !
দেখলো যখন আসছে ধেয়ে শিঙ
তখনো চোখে পড়েনি পলক তার,
সর্বনাশী মায়েরা তবুও সবে
তুললো তাদের মাথা।
আর গোপন স্বরের এক হাওয়া
উঠলো আর পেরলো খামার ষাঁড়ের,
রাখাল যতো হাল্কা কুয়াশার
চেঁচাল দিব্য-ষাঁড়কে লক্ষ্য করে।
ছিলো না এমন রাজার দুলাল কোনো
তুলনীয় তার হতে পারে সেভিয়ায়
তারটির মতো এমন তরবারি
এমন খাঁটি হৃদয় ছিলো না কোনো।
সিংহযুথের মতোন প্রবল ছিল
অবাক করা শৌর্যবীর্য তার,
মার্বেলে গড়া যেনবা ধড় এক
পরিমিত আর ছিল সুনির্ণিত।
আন্দালুসীয় রোমের গরিমা তার
মোহন শিরে করলো ঝলমল;
যেখানে মেধা ও সরস কৌতুকে
হাসিখানি তার হয়েছে সুরভিলতা ।
লড়াই-রিঙে কতো বড়ো মাতাদোর!
পাহাড়ি দেশের সুজন কৃষাণ এক!
কতো না দক্ষ ফসলের গোছা হাতে!
ঘোড়ার পিঠে কেমন অকুতোভয়!
শিশির-ছোঁয়ায় কেমন পরিস্নাত!
কতো ঝলমল আনন্দ উৎসব!
অন্ধকারের বান্দেরিয়া হাতে
কেমন মোহন রূপের বাহার তার!
অথচ এখন দিয়েছে সে কালঘুম।
ধ্রুব আঙুলে শ্যাওলা আর ঘাস
ফোটায় আজ তার করোটির ফুল।
গান গেয়ে তার রক্ত বেরিয়ে আসে;
গায় তৃণভূমি এবং জলার সাথে,
হিমায়িত শিঙে সে-গান গড়িয়ে নামে,
আত্মারা টলে সেই ঘন কুয়াশায়
হাজার খূরে হুমড়ি খেয়ে পড়ে,
যেন দীঘল, কালো, বিষণ্ন জিভ,
বেদনার এক গড়েছে পুষ্করিণী
পাশে তারাভরা গুয়াদাল্কিভির;
আহা, স্পেনের ধবল প্রাচীরখানি!
আহা, বেদনার কালোবরণ ষাঁড়!
আহা রে, জমাট ইগনাসিওর খুন!
আহা রে, তার ধমনীর বুলবুল !
না।
আমি তা দেখবো না!
একে বুকে ধরে এমন পেয়ালা নেই,
একে পান করে এমন চাতক নেই,
আলোর তুহিন পারে না জুড়াতে একে,
কোনো গান কোনো শাদা লিলির বান,
কোনো কাচ নেই রক্তকে ঢাকে রুপোর আচ্ছাদনে।
না।
আমি তা দেখবো না!
৩. শুইয়ে রাখা শব
(Cuerpo Presente)
বাঁকাজল আর তুষারজমাট সাইপ্রেস তরুহীন
পাথর এক কপাল যাতে স্বপ্ন কেঁদে মরে।
সময় ব’য়ে নে’য়ার মতো পাথর এক কাঁধ
অশ্রু, রিবন, গ্রহে সাজানো গাছগাছালি ভরা।
দেখেছি ধূসর বৃষ্টিধারা ঢেউয়ের পানে ছোটে
চালুনিময় কোমল হাত ঊর্ধ্বে তুলে ধরে,
রক্ত শোষণ না ক’রে যারা এলিয়ে দেয় তাদের
সেই পাথরে হঠাৎ সে যেন না ধরা পড়ে।
যেহেতু পাথর কুড়ায় বীজ এবং মেঘমালা,
ছায়ার নেকড়ে, কংকালেরা তামাশা ক’রে যায়:
দেয় না শব্দ একটুখানি ফটিক, কিবা আগুন
দেয় শুধু রিঙ এবং রিঙ, ঘেরহীন ওই ষাঁড়-লড়াইয়ের রিঙ।
পাথরে এখন নিথর শুয়ে সুজাত ইগনাসিও
সবই তো শেষ! হচ্ছে কী! ওর মুখটি মনে আঁকো:
মৃত্যু এসে ঢেকেছে ওকে অগুরু গন্ধকে
কৃষ্ণ মিনোতারের মুণ্ডু বসিয়ে দিলো কাঁধে।
সবই তো শেষ। বৃষ্টি ওর মুখের ভেতর ঢোকে
চুপসানো ওর বুক ছেড়ে যায় হাওয়া যেন উন্মাদ,
আর বরফের অশ্রুভেজা প্রেম
দিচ্ছে ওম নিজেকে নিজে পালের অগ্রভাগে।
ওরা কী বলে? এসেছে নেমে আবিল নীরবতা।
শুইয়ে রাখা ক্রম-পাণ্ডুর শবকে ঘিরে আছি,
সেই নিরূপম তনুর গড়ন যেনবা পাপিয়ার
আর দেখি তা কতো না অতল গর্তে ভরে যায়।
কে করে ভাঁজ লাশের কাপড়? ওর কথা সব ঝুট!
গায় না কেউ এখানে গান, কাঁদে না ঘরের কোণে,
জুতোয় কেউ পরায় না নাল, দেখায় না ভয় সাপে।
চাইনে কিছু এখানে, শুধু পটলচেরা চোখে
দেখতে চাই ওর দেহটা কেবল নির্নিমেষে।
এখানে চাই দেখতে তাদের, যাদের কড়া গলা।
ঘোড়াকে যারা মানায় বশ, শাসন করে নদী;
শীর্ণ-পাঁজর যাদের গলা গানের সুরে মাতে
তাদের মুখ আগুনে পাথর, সূর্য দিয়ে ভরা।
এই পাথরের সামনে, আমি দেখতে চাই তাদের
ছিন্ন-লাগাম এই দেহের, এরই সম্মুখে ।
মরণে বাঁধা এই সেনানী, তার মুক্তির পথ
বাৎলে দিক তারা আমায় এখন, এইবেলা।
চাই তারা দেখাক আমায় নদীর মতো শোক
থাকবে যার গভীর তট, মধুর কুজ্ঝটি,
না শুনে আজ এসব ষাঁড়ের দ্বিগুণ ঘড়্ঘড়্
ইগনাসিওর লাশ ব’য়ে নিতে
যেখানে সে ফানা হবে।
নিজেকে হারাবে চাঁদের গোল ষাঁড়-লড়াইয়ের রিঙে
যে চাঁদ তার তরুণ-দিনে শান্ত-দুঃখী ষাঁড়ের ভাব করে,
মাছের গান-রিক্ত-রাতে হারায় নিজেকেই
আর জমাট ধোঁয়ার শাদা ঝোঁপের ওই আড়ে।
চাইনে আমি মুখটি ওর রুমালে ঢেকে দিতে
যেন যে-মরণ ব’য়ে সে বেড়ায়, মানিয়ে নিতে পারে।
ইগনাসিও! রেখো না মনে এসব কিছু, এসব হাম্বারব
যাও গে ঘুমোও, ওড়ো, জিরোও; সাগরও তো যায় মরে!
৪. গরহাজির আত্মা
(Alma Absente)
তোমাকে ষাঁড় চেনে না, ওই ডুমুরগাছও না,
নয় ঘোড়ারা, তোমার ওই বাড়ির পিঁপড়েরাও।
শিশুটি আর ওই যে বিকেল তোমায় চেনে না
কেননা তুমি গিয়েছ মরে চিরকালের তরে।
ওই পাথরের শক্ত কাঁধ তোমায় চেনে না
কালো রেশম, যেখানে তুমি বন্দি হ’য়ে আছো।
তোমার স্মৃতি নীরব, সে-ও তোমাকে চেনে না
কেননা তুমি গিয়েছ মরে চিরদিনের তরে।
আসবে শরৎ ছোট্ট শাদা শামুক সাথে নিয়ে,
তুষারে ভেজা আঙুর আর পাহাড়শ্রেণী নিয়ে,
কেউ তবুও রাখবে না তো তোমার চোখে চোখ
কেননা তুমি গিয়েছ মরে চিরকালের তরে।
যেহেতু তুমি গিয়েছ মরে চিরকালের তরে,
তাদেরই মতো এই দুনিয়ার গিয়েছে যারা মরে,
সেসব মৃতের মতো যারা মরা কুকুরদের
ভাগাড়ে লীন হওয়ার মতো হয়েছে বিস্মৃত।
তোমায় কেউ চেনে না। না, তবুও আমি গাই
তোমার তনুর রূপ-সুষমা ভাবীকালের তরে।
পরিণত তোমার মনের স্তব করে যাই গানে।
তোমার ওই মরণ-তিয়াস, তোমার মুখের স্বাদ
ছিলো যে-বিষাদ লুকিয়ে তোমার মুখর উল্লাসে।
এমন খাঁটি আন্দালুসি দুঃসাহসে ভরা
ফের যদিবা জন্ম নেয় তা-ও বহু যুগ পর
গুমরে-মরা কথায় আমি তার যশোগান করি
আর এসব জলপাইগাছ, ওদের ভেতর দিয়ে
বয়ে চলা করুণ হাওয়া স্মরণ করি আমি
================
ফেদেরিকো গার্থিয়া লোরকা (Federico García Lorca, ৫/৬/১৮৯৮ — ১৯/৮/১৯৩৬)
গ্রানাদা জন্ম দিয়েছে বিশ্ববিশ্রুত অনেক কবি-লেখকের। কিন্তু জনপ্রিয়তা, খ্যাতি আর প্রভাবের বিচারে ফেদেরিকো গার্থিয়া লোরকার সঙ্গে কারোরই তুলনা চলে না। জীবৎকালেই হয়ে উঠেছিলেন কিংবদন্তি। আর মৃত্যুর পর তার খ্যাতি স্বদেশ স্পেনের গণ্ডি পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়তে থাকে সপ্তসিন্ধু দশদিগন্তে। সবচে’ বেশি সংখ্যক বিদেশি ভাষায় অনূদিত হিস্পানি ভাষার এই কবি-নাট্যকারের ভক্তের সংখ্যা উত্তরকালে কেবলই বেড়েছে। অন্যভাবে বললে স্পেনে ও স্পেনের বাইরে, আবিশ্ব নিখিলে, গার্থিয়া লোরকা আজ এক জাদুনাম।
লোরকার জন্ম ১৮৯৮ খিস্টাব্দের ৫ জুন, গ্রানাদা থেকে মাইল কয়েক দূরে গেনিল নদীতীরবর্তী ফেন্তে ভাকেরোস (Fuente Vaqueros) নামের এক ছোট্ট গ্রামে। জায়গাটা গ্রানাদার বিস্তীর্ণ উর্বর ভেগা অঞ্চলের ঠিক কেন্দ্রস্থলে। গ্রাম ঘিরে আছে নিবিড় পপলারকুঞ্জ। লোরকার বাবা দন ফেদেরিকো গার্থিয়া রদ্রিগেস (Don Federico Garcia Rodriguez) ছিলেন সে গ্রামেরই এক সম্পন্ন কৃষক। আর মা দোনা ভিসেন্তা লোরকা রোমিয়েরো (Dona Vicenta Lorca Romero) ছিলেন প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষিকা। লোরকার জীবনের প্রথম ১১টি বছর কাটে এই ভেগা অঞ্চলে — জলপাইবন আর সঘন পপলারকুঞ্জ, সদা কলস্বরা স্রোতোস্বিনী, পাহাড়, উপত্যকা আর তৃণভূমিঘেরা মায়াবী গ্রামীণ নিসর্গের কোলে। নিজের চাষাভুষোমার্কা চেহারাটাও তার সেখান থেকেই পাওয়া — রসিকতা করে প্রায়ই বলতেন লোরকা।
১৯০৯ সালে লোরকার পরিবার তার পড়াশুনার জন্য পাড়ি জমায় গ্রানাদা শহরে। নিউইয়র্কে আট মাস, কিউবাতে তিন মাস (১৯২৯-৩০) আর বুয়েনোস আইরিসে পাঁচ মাস (১৯৩৩-৩৪) — এই সময়টুকু বাদ দিলে লোরকার ঝোড়ো আর স্বপ্লায়ু জীবনের পুরোটাই কেটেছে মাদ্রিদ আর গ্রানাদায়। ১৯৩৬ সালের জুলাইতে, স্পেনে গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার ঠিক আগে, বন্ধুদের নিষেধ উপেক্ষা করে লোরকা ফিরে যান গ্রানাদায়। আর তার এক মাস পরেই ১৯ আগস্ট স্বৈরশাসক জেনারেল ফ্রাঙ্কোর খুনে ফালাঙ্গিস্ত (Falangist) বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে প্রাণ দেন। ঐতিহ্যবাহী যে-প্রিয় মুরিশ শহরে বেড়ে উঠেছিলেন লোরকা, যে শহর বারবার ঝিল্কে উঠেছে তার কবিতা ও নাটকে, সেই গ্রানাদারই অনতিদূরে ঘাতকের বুলেটে অকালে লুটিয়ে পড়েছে তার তরুণ মেধাবী প্রাণ।
বলা বাহুল্য, প্রাগ্রসর রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গীই কাল হলো লোরকার। এ নিয়ে কোনো রাখঢাক ছিলো না তার। আর সেটাই ক্ষেপিয়ে তোলে উগ্র ডানপন্থিদের। তারা তাকে দুষমণ হিসেবে চিহ্নিত করে। গ্রানাদার উত্তর-পুবের আল্ফাকার (Alfaqar) নামের পাহাড়ঘেরা স্থানে একটি জলপাইগাছের নিচে গুলি করে মারা হয় ৩৮ বছর বয়সী লোরকাকে। আজও সেই জলপাইতরু ঠায় দাঁড়িয়ে। অবশ্য সেটি এখন ‘লোরকা স্মৃতিউদ্যান’-এর ভেতর দেয়াল দিয়ে ঘেরা। সেখানটায় আরও তিন হতভাগার সঙ্গে সমাহিত করা হয় তাকে। ওদের একজন স্কুল শিক্ষক, বাকি দু’জন মাতাদোর (ষাঁড়-লড়িয়ে )।
লোরকার জন্ম ১৮৯৮ খিস্টাব্দের ৫ জুন, গ্রানাদা থেকে মাইল কয়েক দূরে গেনিল নদীতীরবর্তী ফেন্তে ভাকেরোস (Fuente Vaqueros) নামের এক ছোট্ট গ্রামে। জায়গাটা গ্রানাদার বিস্তীর্ণ উর্বর ভেগা অঞ্চলের ঠিক কেন্দ্রস্থলে। গ্রাম ঘিরে আছে নিবিড় পপলারকুঞ্জ। লোরকার বাবা দন ফেদেরিকো গার্থিয়া রদ্রিগেস (Don Federico Garcia Rodriguez) ছিলেন সে গ্রামেরই এক সম্পন্ন কৃষক। আর মা দোনা ভিসেন্তা লোরকা রোমিয়েরো (Dona Vicenta Lorca Romero) ছিলেন প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষিকা। লোরকার জীবনের প্রথম ১১টি বছর কাটে এই ভেগা অঞ্চলে — জলপাইবন আর সঘন পপলারকুঞ্জ, সদা কলস্বরা স্রোতোস্বিনী, পাহাড়, উপত্যকা আর তৃণভূমিঘেরা মায়াবী গ্রামীণ নিসর্গের কোলে। নিজের চাষাভুষোমার্কা চেহারাটাও তার সেখান থেকেই পাওয়া — রসিকতা করে প্রায়ই বলতেন লোরকা।
১৯০৯ সালে লোরকার পরিবার তার পড়াশুনার জন্য পাড়ি জমায় গ্রানাদা শহরে। নিউইয়র্কে আট মাস, কিউবাতে তিন মাস (১৯২৯-৩০) আর বুয়েনোস আইরিসে পাঁচ মাস (১৯৩৩-৩৪) — এই সময়টুকু বাদ দিলে লোরকার ঝোড়ো আর স্বপ্লায়ু জীবনের পুরোটাই কেটেছে মাদ্রিদ আর গ্রানাদায়। ১৯৩৬ সালের জুলাইতে, স্পেনে গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার ঠিক আগে, বন্ধুদের নিষেধ উপেক্ষা করে লোরকা ফিরে যান গ্রানাদায়। আর তার এক মাস পরেই ১৯ আগস্ট স্বৈরশাসক জেনারেল ফ্রাঙ্কোর খুনে ফালাঙ্গিস্ত (Falangist) বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে প্রাণ দেন। ঐতিহ্যবাহী যে-প্রিয় মুরিশ শহরে বেড়ে উঠেছিলেন লোরকা, যে শহর বারবার ঝিল্কে উঠেছে তার কবিতা ও নাটকে, সেই গ্রানাদারই অনতিদূরে ঘাতকের বুলেটে অকালে লুটিয়ে পড়েছে তার তরুণ মেধাবী প্রাণ।
বলা বাহুল্য, প্রাগ্রসর রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গীই কাল হলো লোরকার। এ নিয়ে কোনো রাখঢাক ছিলো না তার। আর সেটাই ক্ষেপিয়ে তোলে উগ্র ডানপন্থিদের। তারা তাকে দুষমণ হিসেবে চিহ্নিত করে। গ্রানাদার উত্তর-পুবের আল্ফাকার (Alfaqar) নামের পাহাড়ঘেরা স্থানে একটি জলপাইগাছের নিচে গুলি করে মারা হয় ৩৮ বছর বয়সী লোরকাকে। আজও সেই জলপাইতরু ঠায় দাঁড়িয়ে। অবশ্য সেটি এখন ‘লোরকা স্মৃতিউদ্যান’-এর ভেতর দেয়াল দিয়ে ঘেরা। সেখানটায় আরও তিন হতভাগার সঙ্গে সমাহিত করা হয় তাকে। ওদের একজন স্কুল শিক্ষক, বাকি দু’জন মাতাদোর (ষাঁড়-লড়িয়ে )।
দালি ও লোরকা
তার কালের মহান ফ্লামেঙ্কো (Flamenco) গায়ক হুয়ান ব্রেভা’র (Juan Breva) প্রশস্তি করে একটা কবিতা লিখেছিলেন লোরকা। সে কবিতারই কয়েকটি চরণ হতে পারতো সদা-হাসিমাখা-মুখের-কবি লোরকার নিজেরই এফিটাফ :
`…Era la misma
pena cantando
detrás de una sonrisa.’
উপরের তিনটি চরণের ইংরেজি ভাষান্তর হাতের কাছে নেই। স্প্যানিশ ভাষায় আমার হাঁটুভাঙা যেটুকু জ্ঞান তাতে বাংলা করলে অনেকটা এরকম দাঁড়ায়:
‘নিজের অসহ যাতনা
ছিলো সে নিজে
হাসিতে তা ঢেকে গেয়ে গেছে নিজ গান’
বহু সংস্কৃতির ঐকতান-ধ্বনিত গ্রানাদা, বহু শতাব্দীর বিস্ময়-খচিত গ্রানাদা এমন এক উন্মুক্ত স্বর্গের নাম একদা যাতে এসে মিশেছিল নানা জাতির রক্ত আর মেধা, পশ্চিম ভূমধ্যসাগরের ঢেউয়ের কলতান আর নিকটপ্রাচ্যের বহুবর্ণিলতা, গ্রিক, আরব আর রোমানদের নানা গরিমা আর জিপসিদের অনিকেতবৃত্তি। এসব কিছুকেই সাঙ্গীকৃত করে এগিয়েছেন লোরকা। আন্দালুসিয়ার লোক-ঐতিহ্যের উদ্দীপক ইডিয়ম আর মেটাফরকে তিনি খুঁজে ফিরেছেন তার কবিতায় নাটকে। ঐতিহ্য আর আধুনিকতার এমন সংরাগদীপ্ত মেলবন্ধন স্পেনের আর কোনো কবির মধ্যে খুঁজে পাওয়া যাবে না। আজো, তার মৃত্যুর এতোকাল পরেও, স্পেনের মানুষ লোরকার কবিতার মধ্য দিয়ে নিজেদের চেনাতে ভালোবাসে। সম্ভবত আধুনিক কালে তিনিই একমাত্র কবি যার কবিতাকে শিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত আর অশিক্ষিত সবাই ভালোবাসে;`…a poet whose worth is loved and acclaimed by the illiterate and the sophisticated alike.’ এ সত্ত্বেও লোরকা ছিলেন আধুনিক কালের সবচে’ জটিল কবিদের একজন। কেননা ব্যক্তিগত কাব্যভাষা ও ইডিয়ম তৈরির জন্য ক্রম অপসৃয়মান এক লোকজীবনের ভাবাবেগের সঙ্গে ক্রম আগ্রাসী, ক্রম জটিল আর শিল্পায়িত এক পৃথিবীর মূল্যবোধের মেলবন্ধন ঘটাবার প্রায়-অসম্ভব কাজে হাত দিতে হয়েছিল তাকে। কবিতার টেকনিক আর উপাদানের জন্য সমসাময়িকদের দিকে যেমন, তেমনি তিনি অকুণ্ঠিতভাবে হাত বাড়িয়েছেন মধ্যযুগের আরব কবিদের দিকে, গ্রিক-রোমান কাব্যের অতীত ঐতিহ্যের দিকে, পুরাণ-উপকথার দিকে ।
প্রেম, ভাবাবেগ আর সহিংস মৃত্যু — সর্বদাই এ তিনটি তার কবিতার প্রধান অনুষঙ্গ। সবকিছু ছাপিয়ে বারংবার নিজের মৃত্যুর প্রসঙ্গ উঠে এসেছে তার কবিতা ও নাটকে। এমনকি লঘু রচনায়ও তার দেখা মেলে। তার নিতান্তই হাল্কারসের একটি লেখা শেষ হয়েছে মৃত্যুর অনুষঙ্গ দিয়ে: “Take me by the hands, my love, / for I come quite badly wounded / Dying of love!’’
লোরকার চোখে মৃত্যু এক নীরব আগন্তুক, সর্বদা মুখোশ-পরে-থাকা মনোলিথিক এক শক্তি, যে বিনা বাধায় জীবনের টুঁটি টিপে ধরে মেতে ওঠে অনিবার উল্লাসে। তার তীব্র নখরে বন্দি জীবনের ত্রস্ত বুলবুল:“…Three thousand men came armed with shining knives to assasinate the nightingale.’’
এ রকম অসংখ্য ভয় জাগানিয়া, রোমহর্ষক চিত্রকল্প ছড়িয়ে আছে তার কবিতায় কবিতায়। ‘নিউ ইয়র্কে কবি’ (Poeta en Nueva York) নামের কবিতায় এভাবেই নিজের মৃত্যুর ভবিষ্যদ্বাণী করেন লোরকা:
“ ..I sensed that they had murdered me.
They swept through cafes, graveyards, churches,
They opened the wine-casks and the closets,
They ravaged three skeletons to yank the gold teeth out.
But they never found me.
They never found me?
No, they never found me.’’
(Edwin Honig-এর ইংরেজি অনুবাদ থেকে উদ্ধৃত)
লোরকা হয়তো ফালাঙ্গিস্তদের দিক থেকে নিজের ঘনায়মান বিপদ আঁচ করতে পেরেছিলেন। তাই পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন ডানপন্থি এক বন্ধুর কাছে। তবু শেষরক্ষা হয়নি। বন্ধুটির অনুপস্থিতির সুযোগে খুনে ব্ল্যাক গার্ড বাহিনীর লোকেরা সিভিল গভর্নমেন্ট বিল্ডিংয়ে তার বন্ধুর বাসা থেকে তাকে তুলে নিয়ে যায়। তার পরের ঘটনা সবার জানা। বিনা বিচারে পরদিন ভোরে গুলি করে মারা হয় স্পেনের সর্বকালের সেরা কবিরত্নটিকে। এক প্রত্যক্ষদর্শীর মতে, খুন করার আগে লোরকাকে তার নিজের কবর খুঁড়তে বাধ্য করে ওরা।
‘‘ওর (লোরকার) পায়ুপথে দু’দুটো গুলি ছুড়েছিলাম আমি…’’ — খুনিদের একজন পরে গর্ব করে বলেছিলো।
এমনই নৃশংস, বীভৎস সে মৃত্যু! খুন করার আগে লোরকাকে দিয়ে একটি চিরকুট লিখিয়ে নিয়ে বাহকের মাধ্যমে তা পাঠানো হয় তার বাবার কাছে। সেই চিরকুটে লোরকা লিখেছিলেন: ‘প্লিজ বাবা, এই লোকের হাতে আর্মির জন্য চাঁদা হিসেবে ১০০০ পেসেতা দিয়ে দিও।’’
তার বাবা দন ফেদেরিকো অশুভ সেই চিরকুট নিজের ওয়ালেটে বাকি জীবন বয়ে বেড়িয়েছেন। জনকের কাছে পুত্রের লাশের চেয়ে কম ভারি ছিলো না তা।
লোরকার মা দোনা ভিসেন্তা ছিলেন সুশিক্ষিত, সাহিত্য-সঙ্গীতের সমঝদার, কল্পনাপ্রতিভাধর এক নারী। ছেলে লোরকাকে সেভাবেই গড়ে তুলেছিলেন তিনি। মায়ের যাবতীয় সদগুণ জন্মদাগের মতো সঙ্গী হয়েছিলো লোরকার। শৈশবে অসুস্থতা ছিলো নিত্যসঙ্গী। চার বছর বয়স পর্যন্ত হাঁটার ক্ষমতা ছিলো না। পরে হাঁটতে শিখলেন বটে, তা-ও আবার খুঁড়িয়ে। খেলাধুলা করার মতো শারীরিক সামর্থ্য ছিলো না বলে মেতে থাকতেন অন্যসব শিশুতোষ আনন্দে, নতুন নতুন উদ্ভাবনের নেশায়। দু’বছর বয়সেই আধো আধো গলায় গান গেয়ে তাক লাগিয়ে দিতেন আশপাশের সবাইকে। তিন বছরে পা দিতে না দিতেই কল্পিত চার্চ মাস (Imaginary Church Mass)-এর আদলে মিনিয়েচার থিয়েটার সাজানো ছিলো শিশু লোরকার প্রিয় খেলাগুলোর একটি। বাড়ির পাশের গির্জার পাদ্রীকে নকল করে চলতো ‘খুৎবা পাঠ’ (Sermon)। আর সেটা এমনই উপভোগ্য হতো যে পাড়াসুদ্ধু লোক শুনতো নরম-নীরব হয়ে। তবে ফেদেরিকো নামের ছোট্ট সে পাদ্রী আগেভাগেই শর্ত দিয়ে রাখতো, ‘খুৎবা’ শুনে সবাইকে কাঁদতে হবে। অন্যরা কান্নার অভিনয় করলেও, গৃহকর্মীদের একজন সত্যি সত্যিই কাঁদতো। সে কান্না সহজে থামতো না। এমনই অভিনয়প্রতিভা ছিলো লোরকার।
ছাত্র হিসেবে ভালো ছিলেন না। তবে তার সঙ্গীতপ্রতিভা বোদ্ধাদেরও প্রশংসা কুড়ায়। পিয়ানো আর গিটার বাদনে তার পারদর্শিতা ছিলো ঈর্ষণীয়। পিয়ানোতে বেটোফেনের (Bethoven) সোনাটা বাজিয়ে সেন্ত্রো র্আতিস্তিকো দ্য গ্রানাদার তৎকালীন প্রধান ফার্নান্দো দ্য লস রিয়োসকে পর্যন্ত তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। রিয়োসের ভাষায়, লোরকা এক অসাধারণ সঙ্গীতপ্রতিভা (Extraordinary Musical Talent)। বলা বাহুল্য লোরকার কবিতার সাঙ্গীতিক বৈশিষ্ট্য ও গীতলতার পেছনে তার এই সঙ্গীতপ্রেমের ভূমিকা অনেক।
উচ্চশিক্ষার জন্য লোরকা প্রথমে গ্রানাদা, পরে ভর্তি হন মাদ্রিদ বিশ্ববিদ্যালয়ে।
লোরকার বন্ধুবৃত্তটা ছিলো অনেক তারায় ভরা। কে না ছিলেন সেখানে! কবিতা, সঙ্গীত, চিত্রকলা, নাটক থেকে শুরু করে বুলফাইটের দুনিয়া-মশহুর নায়কেরা ছিলেন তার বন্ধু। চিত্রশিল্পী সালভাদর দালি, চলচ্চিত্রনির্মাতা লুই বুনুয়েল, কবি পাবলো নেরুদা, রাফায়েল আলবের্তি, হোর্হে গিয়্যেন, হুয়ান রামোন হিমেনেথ, পেদ্রো সালিনাস, দামাসো আলোনসো, লুইস সেরনুদা, বুলফাইটার-কবি-নাট্যকার ইগনাসিও সানচেস মেহিয়াস — কতো কতো প্রোজ্জ্বল নাম!
সালভাদর দালির সঙ্গে তার ঘটনাবহুল বন্ধুত্ব নানা কারণে আলোচিত। দালি-লোরকার প্রথম সাক্ষাৎ ঘটে ১৯২৩ সালে। দালির প্রখর ব্যক্তিত্ব আর সুন্দর চেহারা দুটোরই প্রেমে পড়েছিলেন লোরকা। আর লোরকাও গভীরভাবে আলোড়িত করেছিলেন দালিকে। কিন্তু সে বন্ধুতায়ও ফাটল ধরলো যখন কিনা দালি আর বুনুয়েল মিলে নির্মাণ করলেন স্পল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র Un Chien Andalou (১৯২৮)। লোরকার ধারণা, তাকে নিয়েই বানানো হয়েছে এ ছবি। সমকামিতার প্রসঙ্গ ছিলো তাতে। যদিও বাস্তবতা হচ্ছে, দালির সঙ্গে তার বন্ধুত্বের প্রেরণায় আধুনিক শিল্পকলা ও সমকামিতার সাফাই গেয়ে একটি কবিতা লিখেছিলেন লোরকা। এছাড়া সমকামিতাকে উপজীব্য করে নাটকও লিখেছিলেন যা ছিলো তার সময়ে এক বিরাট ট্যাবু।
ব্যক্তিগত সম্পর্কের দিক থেকে দালি-লোরকা যেমন ছিলেন মানিকজোড়, তেমনি শিল্পের সাধনায়ও ছিলেন যুগলবন্দি। সুবাদে কবিতা, নাটক আর চিত্রকলা হয়ে উঠেছিল একটি অন্যটির পরিপূরক।
দালি তার আত্মজীবনী Secret Life-এ লোরকার প্রশস্তি গেয়েছেন:
“The poetic phenomenon in its entirety and `in the raw’ presented itself before me suddenly in flesh and bone, confused, blood-red, viscious and sublime, quivering with a thousand fires of darkness and subterranean biology, like all matter endowed with originality of its own.’’
আর ‘Oda a Salvador Dali’ ( Ode to Salvador Dali) কবিতায় লোরকা লেখেন:
“O,Salvador Dali, voice steeped in olives!
I speak of what your person and your art tell me .
I praise not your imperfect adolescent brush,
but sing in the firm direction of your arrows.
I sing your handsome energy full of light.
Your love of what has a possible explanation.’’
(Edwin Honig-এর ইংরেজি অনুবাদ )
`…Era la misma
pena cantando
detrás de una sonrisa.’
উপরের তিনটি চরণের ইংরেজি ভাষান্তর হাতের কাছে নেই। স্প্যানিশ ভাষায় আমার হাঁটুভাঙা যেটুকু জ্ঞান তাতে বাংলা করলে অনেকটা এরকম দাঁড়ায়:
‘নিজের অসহ যাতনা
ছিলো সে নিজে
হাসিতে তা ঢেকে গেয়ে গেছে নিজ গান’
বহু সংস্কৃতির ঐকতান-ধ্বনিত গ্রানাদা, বহু শতাব্দীর বিস্ময়-খচিত গ্রানাদা এমন এক উন্মুক্ত স্বর্গের নাম একদা যাতে এসে মিশেছিল নানা জাতির রক্ত আর মেধা, পশ্চিম ভূমধ্যসাগরের ঢেউয়ের কলতান আর নিকটপ্রাচ্যের বহুবর্ণিলতা, গ্রিক, আরব আর রোমানদের নানা গরিমা আর জিপসিদের অনিকেতবৃত্তি। এসব কিছুকেই সাঙ্গীকৃত করে এগিয়েছেন লোরকা। আন্দালুসিয়ার লোক-ঐতিহ্যের উদ্দীপক ইডিয়ম আর মেটাফরকে তিনি খুঁজে ফিরেছেন তার কবিতায় নাটকে। ঐতিহ্য আর আধুনিকতার এমন সংরাগদীপ্ত মেলবন্ধন স্পেনের আর কোনো কবির মধ্যে খুঁজে পাওয়া যাবে না। আজো, তার মৃত্যুর এতোকাল পরেও, স্পেনের মানুষ লোরকার কবিতার মধ্য দিয়ে নিজেদের চেনাতে ভালোবাসে। সম্ভবত আধুনিক কালে তিনিই একমাত্র কবি যার কবিতাকে শিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত আর অশিক্ষিত সবাই ভালোবাসে;`…a poet whose worth is loved and acclaimed by the illiterate and the sophisticated alike.’ এ সত্ত্বেও লোরকা ছিলেন আধুনিক কালের সবচে’ জটিল কবিদের একজন। কেননা ব্যক্তিগত কাব্যভাষা ও ইডিয়ম তৈরির জন্য ক্রম অপসৃয়মান এক লোকজীবনের ভাবাবেগের সঙ্গে ক্রম আগ্রাসী, ক্রম জটিল আর শিল্পায়িত এক পৃথিবীর মূল্যবোধের মেলবন্ধন ঘটাবার প্রায়-অসম্ভব কাজে হাত দিতে হয়েছিল তাকে। কবিতার টেকনিক আর উপাদানের জন্য সমসাময়িকদের দিকে যেমন, তেমনি তিনি অকুণ্ঠিতভাবে হাত বাড়িয়েছেন মধ্যযুগের আরব কবিদের দিকে, গ্রিক-রোমান কাব্যের অতীত ঐতিহ্যের দিকে, পুরাণ-উপকথার দিকে ।
প্রেম, ভাবাবেগ আর সহিংস মৃত্যু — সর্বদাই এ তিনটি তার কবিতার প্রধান অনুষঙ্গ। সবকিছু ছাপিয়ে বারংবার নিজের মৃত্যুর প্রসঙ্গ উঠে এসেছে তার কবিতা ও নাটকে। এমনকি লঘু রচনায়ও তার দেখা মেলে। তার নিতান্তই হাল্কারসের একটি লেখা শেষ হয়েছে মৃত্যুর অনুষঙ্গ দিয়ে: “Take me by the hands, my love, / for I come quite badly wounded / Dying of love!’’
লোরকার চোখে মৃত্যু এক নীরব আগন্তুক, সর্বদা মুখোশ-পরে-থাকা মনোলিথিক এক শক্তি, যে বিনা বাধায় জীবনের টুঁটি টিপে ধরে মেতে ওঠে অনিবার উল্লাসে। তার তীব্র নখরে বন্দি জীবনের ত্রস্ত বুলবুল:“…Three thousand men came armed with shining knives to assasinate the nightingale.’’
এ রকম অসংখ্য ভয় জাগানিয়া, রোমহর্ষক চিত্রকল্প ছড়িয়ে আছে তার কবিতায় কবিতায়। ‘নিউ ইয়র্কে কবি’ (Poeta en Nueva York) নামের কবিতায় এভাবেই নিজের মৃত্যুর ভবিষ্যদ্বাণী করেন লোরকা:
“ ..I sensed that they had murdered me.
They swept through cafes, graveyards, churches,
They opened the wine-casks and the closets,
They ravaged three skeletons to yank the gold teeth out.
But they never found me.
They never found me?
No, they never found me.’’
(Edwin Honig-এর ইংরেজি অনুবাদ থেকে উদ্ধৃত)
লোরকা হয়তো ফালাঙ্গিস্তদের দিক থেকে নিজের ঘনায়মান বিপদ আঁচ করতে পেরেছিলেন। তাই পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন ডানপন্থি এক বন্ধুর কাছে। তবু শেষরক্ষা হয়নি। বন্ধুটির অনুপস্থিতির সুযোগে খুনে ব্ল্যাক গার্ড বাহিনীর লোকেরা সিভিল গভর্নমেন্ট বিল্ডিংয়ে তার বন্ধুর বাসা থেকে তাকে তুলে নিয়ে যায়। তার পরের ঘটনা সবার জানা। বিনা বিচারে পরদিন ভোরে গুলি করে মারা হয় স্পেনের সর্বকালের সেরা কবিরত্নটিকে। এক প্রত্যক্ষদর্শীর মতে, খুন করার আগে লোরকাকে তার নিজের কবর খুঁড়তে বাধ্য করে ওরা।
‘‘ওর (লোরকার) পায়ুপথে দু’দুটো গুলি ছুড়েছিলাম আমি…’’ — খুনিদের একজন পরে গর্ব করে বলেছিলো।
এমনই নৃশংস, বীভৎস সে মৃত্যু! খুন করার আগে লোরকাকে দিয়ে একটি চিরকুট লিখিয়ে নিয়ে বাহকের মাধ্যমে তা পাঠানো হয় তার বাবার কাছে। সেই চিরকুটে লোরকা লিখেছিলেন: ‘প্লিজ বাবা, এই লোকের হাতে আর্মির জন্য চাঁদা হিসেবে ১০০০ পেসেতা দিয়ে দিও।’’
তার বাবা দন ফেদেরিকো অশুভ সেই চিরকুট নিজের ওয়ালেটে বাকি জীবন বয়ে বেড়িয়েছেন। জনকের কাছে পুত্রের লাশের চেয়ে কম ভারি ছিলো না তা।
লোরকার মা দোনা ভিসেন্তা ছিলেন সুশিক্ষিত, সাহিত্য-সঙ্গীতের সমঝদার, কল্পনাপ্রতিভাধর এক নারী। ছেলে লোরকাকে সেভাবেই গড়ে তুলেছিলেন তিনি। মায়ের যাবতীয় সদগুণ জন্মদাগের মতো সঙ্গী হয়েছিলো লোরকার। শৈশবে অসুস্থতা ছিলো নিত্যসঙ্গী। চার বছর বয়স পর্যন্ত হাঁটার ক্ষমতা ছিলো না। পরে হাঁটতে শিখলেন বটে, তা-ও আবার খুঁড়িয়ে। খেলাধুলা করার মতো শারীরিক সামর্থ্য ছিলো না বলে মেতে থাকতেন অন্যসব শিশুতোষ আনন্দে, নতুন নতুন উদ্ভাবনের নেশায়। দু’বছর বয়সেই আধো আধো গলায় গান গেয়ে তাক লাগিয়ে দিতেন আশপাশের সবাইকে। তিন বছরে পা দিতে না দিতেই কল্পিত চার্চ মাস (Imaginary Church Mass)-এর আদলে মিনিয়েচার থিয়েটার সাজানো ছিলো শিশু লোরকার প্রিয় খেলাগুলোর একটি। বাড়ির পাশের গির্জার পাদ্রীকে নকল করে চলতো ‘খুৎবা পাঠ’ (Sermon)। আর সেটা এমনই উপভোগ্য হতো যে পাড়াসুদ্ধু লোক শুনতো নরম-নীরব হয়ে। তবে ফেদেরিকো নামের ছোট্ট সে পাদ্রী আগেভাগেই শর্ত দিয়ে রাখতো, ‘খুৎবা’ শুনে সবাইকে কাঁদতে হবে। অন্যরা কান্নার অভিনয় করলেও, গৃহকর্মীদের একজন সত্যি সত্যিই কাঁদতো। সে কান্না সহজে থামতো না। এমনই অভিনয়প্রতিভা ছিলো লোরকার।
ছাত্র হিসেবে ভালো ছিলেন না। তবে তার সঙ্গীতপ্রতিভা বোদ্ধাদেরও প্রশংসা কুড়ায়। পিয়ানো আর গিটার বাদনে তার পারদর্শিতা ছিলো ঈর্ষণীয়। পিয়ানোতে বেটোফেনের (Bethoven) সোনাটা বাজিয়ে সেন্ত্রো র্আতিস্তিকো দ্য গ্রানাদার তৎকালীন প্রধান ফার্নান্দো দ্য লস রিয়োসকে পর্যন্ত তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। রিয়োসের ভাষায়, লোরকা এক অসাধারণ সঙ্গীতপ্রতিভা (Extraordinary Musical Talent)। বলা বাহুল্য লোরকার কবিতার সাঙ্গীতিক বৈশিষ্ট্য ও গীতলতার পেছনে তার এই সঙ্গীতপ্রেমের ভূমিকা অনেক।
উচ্চশিক্ষার জন্য লোরকা প্রথমে গ্রানাদা, পরে ভর্তি হন মাদ্রিদ বিশ্ববিদ্যালয়ে।
লোরকার বন্ধুবৃত্তটা ছিলো অনেক তারায় ভরা। কে না ছিলেন সেখানে! কবিতা, সঙ্গীত, চিত্রকলা, নাটক থেকে শুরু করে বুলফাইটের দুনিয়া-মশহুর নায়কেরা ছিলেন তার বন্ধু। চিত্রশিল্পী সালভাদর দালি, চলচ্চিত্রনির্মাতা লুই বুনুয়েল, কবি পাবলো নেরুদা, রাফায়েল আলবের্তি, হোর্হে গিয়্যেন, হুয়ান রামোন হিমেনেথ, পেদ্রো সালিনাস, দামাসো আলোনসো, লুইস সেরনুদা, বুলফাইটার-কবি-নাট্যকার ইগনাসিও সানচেস মেহিয়াস — কতো কতো প্রোজ্জ্বল নাম!
সালভাদর দালির সঙ্গে তার ঘটনাবহুল বন্ধুত্ব নানা কারণে আলোচিত। দালি-লোরকার প্রথম সাক্ষাৎ ঘটে ১৯২৩ সালে। দালির প্রখর ব্যক্তিত্ব আর সুন্দর চেহারা দুটোরই প্রেমে পড়েছিলেন লোরকা। আর লোরকাও গভীরভাবে আলোড়িত করেছিলেন দালিকে। কিন্তু সে বন্ধুতায়ও ফাটল ধরলো যখন কিনা দালি আর বুনুয়েল মিলে নির্মাণ করলেন স্পল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র Un Chien Andalou (১৯২৮)। লোরকার ধারণা, তাকে নিয়েই বানানো হয়েছে এ ছবি। সমকামিতার প্রসঙ্গ ছিলো তাতে। যদিও বাস্তবতা হচ্ছে, দালির সঙ্গে তার বন্ধুত্বের প্রেরণায় আধুনিক শিল্পকলা ও সমকামিতার সাফাই গেয়ে একটি কবিতা লিখেছিলেন লোরকা। এছাড়া সমকামিতাকে উপজীব্য করে নাটকও লিখেছিলেন যা ছিলো তার সময়ে এক বিরাট ট্যাবু।
ব্যক্তিগত সম্পর্কের দিক থেকে দালি-লোরকা যেমন ছিলেন মানিকজোড়, তেমনি শিল্পের সাধনায়ও ছিলেন যুগলবন্দি। সুবাদে কবিতা, নাটক আর চিত্রকলা হয়ে উঠেছিল একটি অন্যটির পরিপূরক।
দালি তার আত্মজীবনী Secret Life-এ লোরকার প্রশস্তি গেয়েছেন:
“The poetic phenomenon in its entirety and `in the raw’ presented itself before me suddenly in flesh and bone, confused, blood-red, viscious and sublime, quivering with a thousand fires of darkness and subterranean biology, like all matter endowed with originality of its own.’’
আর ‘Oda a Salvador Dali’ ( Ode to Salvador Dali) কবিতায় লোরকা লেখেন:
“O,Salvador Dali, voice steeped in olives!
I speak of what your person and your art tell me .
I praise not your imperfect adolescent brush,
but sing in the firm direction of your arrows.
I sing your handsome energy full of light.
Your love of what has a possible explanation.’’
(Edwin Honig-এর ইংরেজি অনুবাদ )
‘‘ইগনাসিও সানচেস মেহিয়াসের মৃত্যু’’ প্রসঙ্গে
ইগনাসিও সানচেস মেহিয়াস লোরকার প্রিয় বন্ধুদের একজন। ছিলেন একাধারে সুদক্ষ মাতাদোর (ষাঁড়-লড়িয়ে), কবি ও নাট্যকার। পরাবাস্তব....
ইগনাসিও সানচেস মেহিয়াস লোরকার প্রিয় বন্ধুদের একজন। ছিলেন একাধারে সুদক্ষ মাতাদোর (ষাঁড়-লড়িয়ে), কবি ও নাট্যকার। পরাবাস্তব....
(ইগনাসিও সানচেস মেহিয়াস (৬/৬/১৮৯১ — ১৩/৮/১৯৩৪)
একটি নাটকও আছে ইগনাসিও সানচেস মেহিয়াসের। মাতাদোর হিসেবে তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে তখন গোটা স্পেনে। অবশ্য মাঝপথে ষাঁড়-লড়াইয়ে বেশ কিছুদিন ক্ষান্ত দিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন অন্যসব সৃষ্টির নেশায়। পরে আবার রক্তের টানে ফিরতে চেয়েছিলেন রিংয়ে। আর সেটাই শেষ। ষাঁড়-মানুষের লড়াইয়ে এ যাত্রা জয়ী হয় ষাঁড়।
রিংয়ে প্রিয় বন্ধু ইগনাসিও মেহিয়াসের মৃত্যু তীব্রভাবে নাড়া দেয় লোরকাকে। বন্ধুর মৃত্যুকে উপজীব্য করে লোরকা ১৯৩৫ সালে যে দীর্ঘ কবিতাটি রচনা করেন অনেক সমালোচকের চোখে তা লোরকার সর্বোত্তম কবিতা। হিস্পানি ভাষার শ্রেষ্ঠ ৪টি শোকগাথার একটি হিসেবেও গণ্য করা হয় একে। কবিতাটি ৪টি ভাগে বিভক্ত। তবে এদের আলাদা আলাদা মোটিফগুলো আবার একসূত্রে গ্রথিত। এ কবিতায় নিজের প্রথম দিককার কবিতার গীতলতার সঙ্গে ব্যালাডের বর্ণনাত্মক রীতির মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন লোরকা। সেই সঙ্গে ট্রাজেডির গভীর আবহ সৃষ্টির জন্য তাতে যোগ করেছেন জিপসি বিলাপগাথার রিদম, ব্যবহার করেছেন নাট্য আঙ্গিক আর লোকগাথার উপাদান।
‘‘ত্রাদিত্তোরে ত্রাদুত্তুরে’’ — অনুবাদক বিশ্বাসঘাতক। এই বদনাম মাথায় নিয়েও ‘তোমাকে শিকার করে ফিরি যেন, যদ্যপি না পাই’ — ভিন্ন ভাষার মধুরতাকে আপন ভাষায় শিকার করার নাছোড়, দুর্মর চেষ্টাটি সতত চলমান। যেহেতু ‘অনুবাদ আসলে একটা চমৎকার ছল, নিজেকে আবিষ্কার করার বিনীত উপায়’ — যেমনটি বলেছেন শক্তিমান দুই কবি-অনুবাদক শঙ্খ ঘোষ আর অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত। তবে একথা মানছি, নিতান্ত আবেগ-সম্বল আমার মতো অক্ষম, বেলায়েক অনুবাদকের ‘স্থানে স্থানে প্রকাশিত নিজ মন উক্তি’ প্রায়শই মূল রচনার বারোটা বাজায়। বিশ্বাসহন্তাই শুধু নয়, বোধ করি অনুবাদক কখনো কখনো হয়ে ওঠে আততায়ী।
আবার অনুবাদ যদি রসোত্তীর্ণও হয় তবুও কি সবার মনপসন্দ হয় তা? মূলের আত্মা কি ধরা দেয় অপর ভাষায়? বিশেষত কবিতায়? দুটি ভাষার তীব্র চুম্বনের মাঝখানেও কি থেকে যায় না অদৃশ্য কাচের দেয়াল?
উল্টো পিঠেও কথা থাকে, এ ব্যবধানও ঘুচিয়ে দিতে পারেন কেউ কেউ, কঠিন নির্মোক ভেঙে এনে দেন মণি ও মুকুতা। করাঙ্গুলিগণনীয় তারা। আমার সময়ে, আমার প্রজন্মের কারো কারো মধ্যেও পেয়ে যাই এমন প্রায়-অলৌকিক গুণপনা। সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ নামের একজন আছেন; মিদাসের স্পর্শ নিয়ে হস্ত তার সতত ফলিয়ে যাচ্ছে সোনা। ওর অনুবাদে কোলরিজের ‘কুবলা খান’ বারবার পড়ি। অবাক হয়ে ভাবি, কী করে ‘সারাক্ষণ কলস্বর রণিত আবেশে!’ আমারও উড়িবার হয় সাধ। আমা হেন তাঁতীরও ফার্সি পড়বার খায়েশ জাগে।
লোরকার এ দীর্ঘ ব্যঞ্জনামধুর, বিয়োগবেদনাদীপ্ত অসামান্য কবিতাটি অনুবাদ করতে গেছি ক্ষমতা নয়, শুধু প্রেম সম্বল করে। তাতে বালখিল্যতা আছে, আছে ভাবাবেগ আর নিজেকে পরখ, আবিষ্কার করে নেয়ার চেষ্টা। কবিতাটির আভা ও গরিমা বাংলায় আমার করা অনুবাদে কতোটা ধরা পড়েছে সে বিচার সংবেদী পাঠকের। অনুবাদকর্মটির (কাণ্ডটির?) প্রথম পাঠক আমার দুই গুণী বন্ধু। প্রথম জন কবি শরিফ শাহরিয়ার, দ্বিতীয় জন কবি-অনুবাদক সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ। সুব্রতর বিস্তারিত মন্তব্য ও পরামর্শ আমার অনুবাদকর্মটির প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিমার্জনে দারুণ কাজে লেগেছে। অবশ্য অনেক স্থানে ওর পরামর্শ মানা সম্ভব হয়নি। সেটা কিছুটা আমার ব্যক্তিরুচি আর বাকিটা আমার ক্ষমতার দৌড়ের সীমাবদ্ধতার কারণে। যেসব স্থানে ওর পরামর্শ মানা সম্ভব হয়েছে, বোধ করি, সেখানটায় এসে অনুবাদ যৎকিঞ্চিৎ উৎরে (?) গেছে। বন্ধু হয়ে ওকে স্রেফ ধন্যবাদ জানানোর মতো ছোটোলোকি আমায় মানায় না। আমেন!!!
রিংয়ে প্রিয় বন্ধু ইগনাসিও মেহিয়াসের মৃত্যু তীব্রভাবে নাড়া দেয় লোরকাকে। বন্ধুর মৃত্যুকে উপজীব্য করে লোরকা ১৯৩৫ সালে যে দীর্ঘ কবিতাটি রচনা করেন অনেক সমালোচকের চোখে তা লোরকার সর্বোত্তম কবিতা। হিস্পানি ভাষার শ্রেষ্ঠ ৪টি শোকগাথার একটি হিসেবেও গণ্য করা হয় একে। কবিতাটি ৪টি ভাগে বিভক্ত। তবে এদের আলাদা আলাদা মোটিফগুলো আবার একসূত্রে গ্রথিত। এ কবিতায় নিজের প্রথম দিককার কবিতার গীতলতার সঙ্গে ব্যালাডের বর্ণনাত্মক রীতির মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন লোরকা। সেই সঙ্গে ট্রাজেডির গভীর আবহ সৃষ্টির জন্য তাতে যোগ করেছেন জিপসি বিলাপগাথার রিদম, ব্যবহার করেছেন নাট্য আঙ্গিক আর লোকগাথার উপাদান।
‘‘ত্রাদিত্তোরে ত্রাদুত্তুরে’’ — অনুবাদক বিশ্বাসঘাতক। এই বদনাম মাথায় নিয়েও ‘তোমাকে শিকার করে ফিরি যেন, যদ্যপি না পাই’ — ভিন্ন ভাষার মধুরতাকে আপন ভাষায় শিকার করার নাছোড়, দুর্মর চেষ্টাটি সতত চলমান। যেহেতু ‘অনুবাদ আসলে একটা চমৎকার ছল, নিজেকে আবিষ্কার করার বিনীত উপায়’ — যেমনটি বলেছেন শক্তিমান দুই কবি-অনুবাদক শঙ্খ ঘোষ আর অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত। তবে একথা মানছি, নিতান্ত আবেগ-সম্বল আমার মতো অক্ষম, বেলায়েক অনুবাদকের ‘স্থানে স্থানে প্রকাশিত নিজ মন উক্তি’ প্রায়শই মূল রচনার বারোটা বাজায়। বিশ্বাসহন্তাই শুধু নয়, বোধ করি অনুবাদক কখনো কখনো হয়ে ওঠে আততায়ী।
আবার অনুবাদ যদি রসোত্তীর্ণও হয় তবুও কি সবার মনপসন্দ হয় তা? মূলের আত্মা কি ধরা দেয় অপর ভাষায়? বিশেষত কবিতায়? দুটি ভাষার তীব্র চুম্বনের মাঝখানেও কি থেকে যায় না অদৃশ্য কাচের দেয়াল?
উল্টো পিঠেও কথা থাকে, এ ব্যবধানও ঘুচিয়ে দিতে পারেন কেউ কেউ, কঠিন নির্মোক ভেঙে এনে দেন মণি ও মুকুতা। করাঙ্গুলিগণনীয় তারা। আমার সময়ে, আমার প্রজন্মের কারো কারো মধ্যেও পেয়ে যাই এমন প্রায়-অলৌকিক গুণপনা। সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ নামের একজন আছেন; মিদাসের স্পর্শ নিয়ে হস্ত তার সতত ফলিয়ে যাচ্ছে সোনা। ওর অনুবাদে কোলরিজের ‘কুবলা খান’ বারবার পড়ি। অবাক হয়ে ভাবি, কী করে ‘সারাক্ষণ কলস্বর রণিত আবেশে!’ আমারও উড়িবার হয় সাধ। আমা হেন তাঁতীরও ফার্সি পড়বার খায়েশ জাগে।
লোরকার এ দীর্ঘ ব্যঞ্জনামধুর, বিয়োগবেদনাদীপ্ত অসামান্য কবিতাটি অনুবাদ করতে গেছি ক্ষমতা নয়, শুধু প্রেম সম্বল করে। তাতে বালখিল্যতা আছে, আছে ভাবাবেগ আর নিজেকে পরখ, আবিষ্কার করে নেয়ার চেষ্টা। কবিতাটির আভা ও গরিমা বাংলায় আমার করা অনুবাদে কতোটা ধরা পড়েছে সে বিচার সংবেদী পাঠকের। অনুবাদকর্মটির (কাণ্ডটির?) প্রথম পাঠক আমার দুই গুণী বন্ধু। প্রথম জন কবি শরিফ শাহরিয়ার, দ্বিতীয় জন কবি-অনুবাদক সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ। সুব্রতর বিস্তারিত মন্তব্য ও পরামর্শ আমার অনুবাদকর্মটির প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিমার্জনে দারুণ কাজে লেগেছে। অবশ্য অনেক স্থানে ওর পরামর্শ মানা সম্ভব হয়নি। সেটা কিছুটা আমার ব্যক্তিরুচি আর বাকিটা আমার ক্ষমতার দৌড়ের সীমাবদ্ধতার কারণে। যেসব স্থানে ওর পরামর্শ মানা সম্ভব হয়েছে, বোধ করি, সেখানটায় এসে অনুবাদ যৎকিঞ্চিৎ উৎরে (?) গেছে। বন্ধু হয়ে ওকে স্রেফ ধন্যবাদ জানানোর মতো ছোটোলোকি আমায় মানায় না। আমেন!!!
------------------
bdnews24 এর সৌজন্যে
অনুবাদ: জুয়েল মাজহার
এই কবিতা গুলো পড়া হয়েছে...
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
BNM Special
BNM Archive
- ► 2026 (1528)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
-
▼
2010
(9402)
-
▼
October
(964)
-
▼
Oct 10
(36)
- ভ্লাদিমির মায়াকভস্কি ও আন্দ্রেই ভজ্নেসেন্স্কির ...
- ফেদেরিকো গার্থিয়া লোরকার কবিতা ও প্রিয় বন্ধুর জন্য...
- স্টিফেন ডান-এর দুটি কবিতা
- 'তাদেউজ রজেভিচ ও তার কয়েকটি কবিতা' অনুবাদঃ মাসুদু...
- বৃষ্টি এবং আফসোস
- এশিয়ান গেমস ফুটবলে বাংলাদেশ ‘ই’ গ্রুপে
- তথ্য দেওয়ার দায়িত্ব কে নেবেন by মশিউল আলম
- ইংলিশ চ্যানেলের কাছে দুর্ঘটনায় রাসায়নিক দ্রব্যবাহী...
- নেদারল্যান্ডে সরকার গঠন করছেন ভিভিডি নেতা রুট্টে
- ফ্রান্সে বোরকা নিষিদ্ধ করার শেষ আইনি বাধা পার
- নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা
- জাতীয় ঐক্যের ডাক দিলেন মালিকি
- কাশ্মীরের কিছু অংশে আবার কারফিউ
- আফগানিস্তানে বোমা হামলায় গভর্নর নিহত
- ওবামার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পদত্যাগ করছেন
- মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারের জয়ে বাধা হতে পারে বিজেপি!
- জলবায়ু আলোচনা নিয়ে অচলাবস্থার জন্য ধনী দেশগুলো দায়...
- নতুন ছায়া মন্ত্রিসভা ঘোষণা করলেন এড মিলিব্যান্ড
- আফগানিস্তানের নিরাপত্তার অর্থে পকেট ভারী তালেবানের
- ফেডারেশন কাপ পিছিয়ে গেল
- বাকি তিন ম্যাচেও অধিনায়ক সাকিব
- সামুরাইয়ে বধ আর্জেন্টিনা
- প্রিয় মাঠে অস্ট্রেলিয়ার সমতার লড়াই
- তবুও আশাবাদী বাতিস্তা
- হারুকি মুরাকামির গল্প 'নিখুঁত মেয়েটির সঙ্গে দেখা ...
- পিটার নাজারেথ-এর গল্প 'মালদার' অনুবাদঃ মাসুদ খান
- ইতালো কালভিনোর গল্প : ‘জেদ’
- মানুয়েল মুহিকা লাইনেস-এর গল্প ‘গুরুত্ব’
- আর. কে. নারায়ণ-এর গল্প 'বাবার সাহায্য'
- এনগুগি ওয়া থিওংগ্’ও-এর গল্প ‘ফেরা’
- আর. কে. নারায়ণ-এর গল্প 'মাসে পঁয়তাল্লিশ টাকা'
- স্টিভেন মিলহসার-এর গল্প 'বহির্জাগতিক আক্রমণ'
- আর. কে. নারায়ণ-এর গল্প 'ঈশ্বরণ'
- হার্টা ম্যুলার-এর গল্প 'অন্ত্যেষ্টির বয়ান'
- হার্টা ম্যুলার-এর গল্প 'আমার পরিবার'
- হারুকি মুরাকামির গল্প 'উড়োজাহাজ'
-
▼
Oct 10
(36)
-
▼
October
(964)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
আমার দেশ
ফুটবল খেলা
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
ইরান
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
কালবেলা
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
মুসলিম
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
জাতিসংঘ
রাশিয়া
মুক্তিযুদ্ধ
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
বিজ্ঞান ও গবেষণা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সংখ্যালঘু
সৈয়দ আবুল মকসুদ
নকশা
তুরস্ক
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
ইউক্রেন
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
হিন্দু
রুদ্র মিজান
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
স্বাস্থ্য
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
জ্যোতির্বিজ্ঞান
আলী রীয়াজ
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
শুভ্র দেব
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
লেবানন
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
জীবনযাপন
যশোর
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
তথ্য প্রযুক্তি
অস্ট্রেলিয়া
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
মসজিদ
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
Exclusive
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ইয়েমেন
ফেনী
বরিশাল
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
জনস্বাস্থ্য
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
লাতিন আমেরিকা
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
Hot Topic
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
জোহরান মামদানি
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
ইসলামী ছাত্রশিবির
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
ইহুদি
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
স্পেন
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কলম্বিয়া
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
তিউনিসিয়া
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
বেলজিয়াম
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
জর্দান
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
আহমেদ মুনির
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অমানবিকতা
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট



No comments:
Post a Comment