‘ভোটের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে’ -বিবিসি বাংলা সংলাপে আলোচকরা

বিবিসি বাংলা সংলাপে অংশ নিয়ে প্যানেল আলোচকরা বলেছেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটের অধিকার ক্ষুন্ন হয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে গবেষণা প্রয়োজন। তারা আরও বলেছেন, সরকারকে যত দোষই দেয়া হোক না কেন, নির্বাচন কমিশনের উচিৎ ছিল সঠিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করা। শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর টিসিবি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপের একশ পনেরতম পর্ব। অনুষ্ঠানে প্যানেল সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার (অব:) আ স ম হান্নান শাহ, ডেমোক্রেসিওয়াচের নির্বাহী পরিচালক তালেয়া রেহমান এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত দর্শকদের বেশিরভাগ প্রশ্ন ছিল সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে। দর্শকদের প্রশ্নের জবাবে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, এর আগে ৫টি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন এ সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের অধীনে হয়েছে এবং বিএনপি জয়ী হয়েছে। প্রশ্ন শুধু এই নির্বাচন নিয়েই। এ অভিযোগ ভিত্তিহীন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপি পথ হারিয়েছে। তারা একই সঙ্গে সন্ত্রাস করবে আবার গণতন্ত্রও চাইবে তা হবে না। সুরঞ্জিত বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলেও আসলে এগুলো দলীয় নির্বাচনই। রাজনীতির মেরুকরণ হয়েছে। একদিকে সেক্যুলার গণতান্ত্রিক দল আর মৌলবাদী গোষ্ঠি। তবে, আইন করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় রাজনীতির প্রবেশ বন্ধ করতে হবে। আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপি নেতা হান্নান শাহ বলেন, সিটি নির্বাচনে ৯৮ ভাগ নির্বাচনী কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। সেখানে কোন সুষ্ঠু ভোট হয়নি। তবে, এবিষয়ে সরকারকে যত দোষই দিই না কেন, নির্বাচন কমিশনের উচিত ছিল তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার চেষ্টায় আছে বিএনপিকে বাদ দিয়ে জাতীয় পার্টিকে রাজনীতির তৃতীয় শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে, কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছে। বাংলাদেশে এখনও কোন শক্তিশালী তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি তৈরি হয়নি। তালেয়া রেহমান বলেন, এটা একেবারেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন, এর ফলাফল নিয়ে এতো আলোচনার কিছু না থাকলেও সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটের অধিকার ক্ষুন্ন হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিএনপিকে গণতন্ত্র নিশ্চিত করতে হলে, নতুন নেতাকর্মী দিয়ে সংগঠিত করতে হবে। আলোচনায় শাহীন আনাম বলেন, নির্বাচনে ভোট নিয়ে জালিয়াতি হয়েছে, আবার অনেক জায়গায় হয়নি। কিন্তু জালিয়াতির কোন চিত্র নির্বাচন কমিশন বা নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল, সরকার বা বিরোধী দল কারও কাছ থেকেই আসেনি। এটা প্রকাশ হওয়া দরকার। নির্বাচনের ফলাফল নিয়েও গবেষণা প্রয়োজন।