Tuesday, December 22, 2009
সংবিধান সংশোধন, না ’৭২-এর সংবিধানে প্রত্যাবর্তন? -শাসনব্যবস্থা by এমাজউদ্দীন আহমদ
সংবিধান সংশোধন, না ’৭২-এর সংবিধানে প্রত্যাবর্তন? -শাসনব্যবস্থা by এমাজউদ্দীন আহমদ
১৯৭২ সালের সংবিধানে ফিরে যাওয়া না-যাওয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে। পঞ্চম সংশোধনী সম্পর্কে হাইকোর্টের এক ডিভিশন বেঞ্চে একটি রায়ের পরই বিষয়টি আলোচনায় আসে ব্যাপকভাবে। যাঁরা ’৭২-এর সংবিধানে ফিরতে চান, তাঁদের মূল বক্তব্য প্রধানত একটি এবং তা হলো, মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে গৌরবোজ্জ্বল মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসে রচিত সংবিধানকে নির্মমভাবে কাটাছেঁড়া করে তার চরিত্রটাই পাল্টে দেওয়া। এই অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। এই অভিযোগের ভিত্তিতে একটি রাজনৈতিক মহল আবার ফিরে যেতে চায় ’৭২-এর সংবিধানে এবং ফিরিয়ে আনতে চায় ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্রকে।
১৯৭২ সালের সংবিধানে মূলনীতি হিসেবে গৃহীত হয় ধর্মনিরপেক্ষতা, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, সংসদীয় গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র। পঞ্চম সংশোধনীতে ধর্মনিরপেক্ষতার পরিবর্তে প্রতিস্থাপিত হয় ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহ্র উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ এবং সমাজতন্ত্রের ব্যাখ্যা দেওয়া হয় ‘অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুবিচার’। যারা ’৭২-এর সংবিধানের প্রতি এত দুর্বল তাদের গভীর দুর্বলতা ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্রের প্রতি। তাই পঞ্চম সংশোধনীর প্রতি তাদের এত উষ্মা, এত ক্রোধ, এত বিদ্বেষ। এই নিবন্ধে এ সম্পর্কে ছোট্ট এক পর্যালোচনা রয়েছে।
এক. আমার মতো যাঁরা ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়ন ও সংবিধানের কার্যকারিতা সম্পর্কে চোখ খুলে রেখেছেন, তাঁরা নিশ্চয়ই খুশি হয়েছিলেন এই দেখে, যে ক্ষেত্রে পাকিস্তানের লেগেছিল নয় বছর, সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মাত্র নয় মাসেই এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছিল, হোক সে সংবিধান ত্রুটিপূর্ণ, অবিন্যস্ত অনুকরণ। কিন্তু মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে এই সংবিধানের গায়ে এমন নির্মম ছুরি-কাঁচি চালানো অনেকেই পছন্দ করেননি। তবে এই না-পছন্দের ঝালটা শুধু পঞ্চম সংশোধনীর দিকে ছুড়ে দিয়ে তাঁরা এক ভয়ানক বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছেন। পঞ্চম সংশোধনীর আগেই যে ’৭২-এর সংবিধান বিধ্বস্ত হয়েছে, অর্থাত্ ’৭২-এর সংবিধানে বিধৃত সরকারের কাঠামো, সরকার পরিচালনার মূলনীতি, মুক্তিযুদ্ধের মর্মবাণী বিধ্বস্ত হয়ে গেছে, সে সম্পর্কে তাঁরা কিছু বলছেন না। দ্বিতীয় ও চতুর্থ সংশোধনীর দিকে তাকান, অনুধাবনে এতটুকু অসুবিধা হবে না, কেমন অবলীলাক্রমে মাত্র বছর দুয়েক আগে প্রণীত সংবিধানে সুনির্দিষ্ট সরকারের মূল কাঠামোয় বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধন করে ’৭২-এর সংবিধানের আদলটা পুরোপুরি পাল্টে দেওয়া হলো। যে সংসদীয় গণতন্ত্রের আশীর্বাদ মাথায় নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ তার জয়যাত্রা শুরু করেছিল, মাত্র আড়াই-তিন বছরের মাথায় সেই সংসদীয় ব্যবস্থা বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত হলো। সংসদীয় ব্যবস্থার পরিবর্তে চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে প্রবর্তিত হয় রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার। সংসদীয় ব্যবস্থার পরিবর্তে রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার প্রবর্তিত হলেও চলত, কেননা দুই-ই গণতান্ত্রিক, কিন্তু দেশের সব দলকে নিষিদ্ধ করে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগের (বাকশাল) মতো একদলীয় জগদ্দল বা কর্তৃত্বব্যঞ্জক দৈত্যরূপী এক প্রাণীর (authoritarian leviathan) সৃষ্টি হয়।
দ্বিতীয় সংশোধনীর দিকে দৃষ্টি দিন। দেখবেন মুক্তিযুদ্ধের মূল সুর যে গণ-অধিকার, তা কীভাবে হারিয়ে গেল। সংবিধানে জরুরি বিধানের সংযোজন জনগণের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। স্বাধীনতার ঊষালগ্ন থেকেই গণ-অধিকার সংরক্ষণের দাবি ছিল এই সমাজের দাবি। দাবি ছিল সমাজব্যাপী আইনের রাজত্ব প্রতিষ্ঠার। কিন্তু চতুর্থ সংশোধনীতে সেই দাবি হারিয়ে যায়। সুতরাং পঞ্চম সংশোধনী যদি সত্যি বাতিল হয়ে যায়, তাহলেই কি বাহাত্তরের সংবিধান ফিরে পাওয়া যাবে? আর ফিরে পেলেই কি সব অভিযোগের অবসান ঘটবে? কাটাছেঁড়ার কথা বললে তো দেখা যায়, পঞ্চম সংশোধনীর আগেই তা ঘটে গেছে। পঞ্চম সংশোধনীতে কিছু কাটাছেঁড়া হয়েছে ঠিকই, কিন্তু কিছু কাটাছেঁড়ার মেরামতও হয়েছে। বহুদলীয় গণতন্ত্রের ভিত্তি, গণতন্ত্র্রের অন্যান্য অনুষঙ্গ যেমন—সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, মৌলিক অধিকার সংরক্ষণে সুপ্রিম কোর্টের কর্তৃত্ব ও স্থানীয় শাসনের পুনঃপ্রবর্তন পঞ্চম সংশোধনীর অবদান।
দুই. দেশের বাম পন্থার রাজনীতিকদের প্রত্যাশা, ’৭২-এর সংবিধানে ফিরে গেলে ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র পুনরুজ্জীবিত হবে। সমাজতন্ত্রের নীতি ’৭২-এর সংবিধানের একটি উল্লেখযোগ্য মূলনীতি। কোনো জনপদে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় যখন সেই জনপদে সমাজতান্ত্রিক আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি সুসংহত সমাজতান্ত্রিক দল সংগঠিত হয়, উত্পাদনের উত্সগুলো রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আসে, উত্পাদনের সুষম বণ্টনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং ‘পরিকল্পিত অর্থনৈতিক বিকাশের মাধ্যমে উত্পাদনশক্তির ক্রমবৃদ্ধি সাধন এবং জনগণের জীবনযাত্রার বস্তুগত ও সংস্কৃতিগত মানের দৃঢ় উন্নতি সাধন’ ঘটায় যেমন—অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা, চিকিত্সাসহ প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক চাহিদার সন্তুষ্টি বিধান সম্ভব হয়। এর যেমন রয়েছে রাষ্ট্রিক-সামাজিক দিক, তেমনি রয়েছে মানবিক দিকও।
১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান সর্বপ্রথম বৃহত্ শিল্পপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের নীতি ঘোষণা করেন। ফলে দেশের বৃহত্ শিল্পগুলোর শতকরা ৮৬ ভাগ এবং ব্যাংক-বিমাগুলোর ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়। এই শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর শতকরা ৬০ ভাগ ছিল সাবেক ইপিআইডিসির নিয়ন্ত্রণে, শতকরা ২৫ ভাগ ছিল পরিত্যক্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং শতকরা ১৫ ভাগ ছিল দেশীয়। বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের সর্বোচ্চ মাত্রা স্থির করা হয় ২৫ লাখ টাকা। বিদেশি বিনিয়োগ হয় নিষিদ্ধ। যেহেতু ক্ষমতাসীন দলের সমাজতন্ত্রে কোনো দীক্ষা বা বিশ্বাস ছিল না, ছিল না কোনো আদর্শিক অঙ্গীকারও, তাই অচিরেই শিল্পক্ষেত্রে দেখা দেয় নৈরাজ্য। উত্পাদন ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়। চোরাচালান ও দুর্নীতির ব্যাপক প্রসার ঘটে। এক কথায়, অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ১৯৭৪ সালে দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। সরকার পাশ্চাত্য ও তেলসমৃদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর কাছে সহায়তার জন্য হাত পাততে বাধ্য হয়। তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ার আকাঙ্ক্ষায় ১৯৭৪ সালের ১৬ জুলাই তখনকার শিল্পমন্ত্রী সৈয়দ নজরুল ইসলাম সমাজতন্ত্রে পরিবর্তন এনে নতুন বিনিয়োগ নীতি ঘোষণা করেন। এর ফলে সদ্য প্রতিষ্ঠিত সমাজতন্ত্র পড়ে রিভিশনের মুখে। এক. বেসরকারি বিনিয়োগের মাত্রা ২৫ লাখ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে হয় তিন কোটি টাকা। দুই. বিদেশি বিনিয়োগের পথ আবার খুলে দেওয়া হয়। তিন. জাতীয়করণ প্রক্রিয়া ১৫ বছরের জন্য স্থগিত হয়। চার. ঘোষিত হয়, ১৫ বছর পর যদি জাতীয়করণের প্রয়োজন দেখা দেয়, তখন যথোপযুক্ত ভর্তুকি দেওয়া হবে।
অন্য কথায়, ’৭২-এর সংবিধানে সমাজতন্ত্র যে কয়েক দিন টিকে ছিল, তা ছিল শুধু আকাঙ্ক্ষায়, বাস্তবতায় নয়। ভারী শিল্প, ব্যাংক-বিমার অবদান সামগ্রিক জাতীয় উত্পাদনে ছিল শতকরা ২০ ভাগের নিচে। অর্থনীতির মৌল ভিত্তি যে ভূমিব্যবস্থা সে ক্ষেত্রে এক ধরনের সমবায়ের কথা ভাবা হচ্ছিল বটে, কিন্তু তা দিয়ে যে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় না, তা সর্বজনস্বীকৃত। সর্বজনস্বীকৃত এটিও যে সমাজতন্ত্রের জন্য প্রয়োজন সমাজতান্ত্রিক দল। এখন যদি ’৭২-এর সমাজতন্ত্র ফিরে আসে, তাহলে ১৯৭২-৭৫ সময়কালে বাংলাদেশে যা ঘটেছিল, তা থেকে কি আমরা দূরে থাকব? তবে সমাজতন্ত্র আদর্শ হিসেবে টিকে থাকবে চিরদিন। প্লেটো থেকে যার সূচনা, মার্ক্স-অ্যাঙ্গেলস মাও-এ যার পূর্ণতা, তা মানবসমাজকে চিরদিন হাতছানি দিতে থাকবে। সেই হাতছানির জবাব কি আজকে ’৭২-এর সংবিধানে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা?
ধর্মনিরপেক্ষতা সম্পর্কে কোনো একজন পর্যালোচক কয়েক দিন আগে লিখেছেন, ধর্মনিরপেক্ষতা হলো মুক্তিযুদ্ধের ফসল। ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ যদি হয় সম-সাম্প্রদায়িকতা, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের পারস্পরিক সহনশীলতা, তাহলে বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষতা বসবাস করছে কয়েক হাজার বছর ধরে। মুসলমানের কুঁড়েঘর এবং হিন্দুর ছাপরা হাজার বছর ধরে সখ্য বজায় রেখে দিনাতিপাত করছে। পদ্মা-যমুনা-মেঘনাবিধৌত অঞ্চলে সাম্প্রদায়িকতার আবর্জনা কোনো দিন সঞ্চিত হয়নি। আমার অনুভবে ধর্মনিরপেক্ষতা বাংলাদেশের আধ্যাত্মিক চেতনা। অন্য কথায়, সংবিধানে উল্লিখিত হয়ে ধর্মনিরপেক্ষতা রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির গৌরব অর্জন করেনি। মুক্তিযুদ্ধের সময়কালেও এর জন্ম হয়নি। ১৯৪৮-৫২-এর ভাষা আন্দোলনেও ধর্মনিরপেক্ষতার ব্যাপক ব্যাপ্তি আমাদের জাতীয় জীবনে বিরাট অর্জনে সহায়ক হয়ে উঠেছে। আমাদের জাতীয় নেতাদের কর্মকাণ্ডে সাম্প্রদায়িকতা সব সময় পরিত্যাজ্য রয়েছে। ভাষা আন্দোলনের পর থেকে বিভিন্ন আন্দোলন-বিক্ষোভে শতধারায় তা প্রকাশিত।
সাম্প্রদায়িকতা এক সামাজিক ব্যত্যয়। সংবিধানের দিকে তাকিয়ে কেউ সাম্প্রদায়িক হয় না, অথবা কেউ সাম্প্রদায়িক হতে চাইলে সংবিধান তাকে ঠেকাতেও পারে না। আমাদের সৌভাগ্য, এই মাটির কোনো সুযোগ্য সন্তানকে সাম্প্রদায়িকতার নোংরা আবর্জনা স্পর্শ করেনি। ’৭২ সালের সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম মূলনীতি হিসেবে গৃহীত হয়। পঞ্চম সংশোধনীতে ধর্মনিরপেক্ষতার পরিবর্তে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ সন্নিবেশিত হয়। সংবিধান শুরু হয় ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ দিয়ে। তার পরও কিন্তু বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িকতার কালো ছায়ায় আচ্ছন্ন হয়নি। অন্যদিকে ভারত ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করে ১৯৭৭ সালে। সামাজিক জীবনকে আলোকিত না করে শুধু সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা সংযোজন করলে যে কোনো ফল হয় না, তার অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে ভারতেই। বিচারপতি লিবারহান কমিশনের রিপোর্টটিতে দেখবেন, কীভাবে প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং, সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও মানবসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী এবং বেশ কিছু জাতীয় নেতা বাবরি মসজিদ ধ্বংসের সঙ্গে গভীরভাবে সংশ্লিষ্ট ছিলেন এবং কীভাবে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ঘটিয়েছিলেন। গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নৃশংসতার কথা উল্লেখ না-ই বা করা হলো। ভারতের সবচেয়ে প্রগতিবাদী পশ্চিম বাংলার বাম সরকারের তিন দশকের শাসনামলে সেখানকার বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, বিশেষ করে মুসলিমরা কোন পর্যায়ে নেমে এসেছে, সাচার কমিশনের রিপোর্ট তার প্রমাণ।
’৭২-এর সংবিধানের আরেকটি মূলনীতি বাঙালি জাতীয়তাবাদ। সংবিধান যখন গৃহীত হয় তখন গণপরিষদের সদস্য মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা নিজেই এর প্রতিবাদ করেছেন। শুধু তিনি বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেই ক্ষান্ত হননি, প্রতিটি ক্ষুদ্র জাতিসত্তার স্বীকৃতি দাবি করেছিলেন সংবিধানে। বাংলাদেশ একক কোনো জাতির বাসস্থান নয়। বহু জাতির মোজায়েকে গড়া এই সমাজ। শুধু একই ভাষা ও সংস্কৃতির ভিত্তিতে কোনো জনসমষ্টির জাতীয়তা চিহ্নিত হতে পারে না। বিশ্বে এর কোনো নজিরও নেই। ভৌগোলিক এলাকাভিত্তিক জাতীয়তাবাদ অর্থাত্ বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের কোনো বিকল্প আছে কি? বাঙালি জাতীয়তাবাদের যে সংকীর্ণতা, তার বোঝা আর কত দিন বহন করবেন?
তিন. যাঁরা ’৭২-এর সংবিধান ফিরিয়ে আনতে চান, তাঁদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই যে ওই সময় এই সংবিধান রচনা এবং সংবিধানের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে কে কী বলেছিলেন গণপরিষদে এবং গণপরিষদের বাইরে, পত্রপত্রিকায়। বিস্তারিত বিবরণের জন্য দেখুন ড. আবুল ফজল হকের বাংলাদেশের রাজনীতি: সংঘাত ও পরিবর্তন বইটির ৮০—৯২ পৃষ্ঠা। মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী গণপরিষদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বলেন, গণপরিষদের সদস্যরা ইয়াহিয়া খানের আইনগত কাঠামোয় (১৯৭০) ইসলামিক প্রজাতন্ত্র পাকিস্তানের সংবিধান প্রণয়নের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁরা পাকিস্তান রাষ্ট্র কাঠামোর মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য ছয় দফাভিত্তিক আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন আদায়ের ম্যান্ডেট লাভ করেন। তিনি বলেন, এ জন্য সব রাজনৈতিক দলের যৌথ সংগ্রামের মাধ্যমে যে সার্বভৌম বাংলাদেশের সৃষ্টি হয়েছে, সেই বাংলাদেশের সংবিধান রচনার অধিকার তাঁদের নেই (দৈনিক বাংলা, ২১ অক্টোবর ১৯৭২)। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির বক্তব্য ছিল অভিন্ন। তাদের সুপারিশ ছিল, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সংগঠিত জাতীয় কনভেনশনে সংবিধান প্রণয়ন করা প্রয়োজন।
সংবিধানের বিভিন্ন দিক সম্পর্কেও মত প্রকাশ করেন বিভিন্ন জন। সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ সংযোজনের দাবি করেন আওয়ামী লীগের একজন গণপরিষদ সদস্য। ইসলাম-পছন্দ ডানপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো যুদ্ধের অব্যবহিত পরে নিষিদ্ধ হওয়ার ফলে তাদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশের সুযোগ ছিল না। তবে জানা যায়, বাম পন্থার রাজনীতিকদের সুরেই তা প্রতিধ্বনিত হয়।
বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা শুধু প্রতিবাদ এবং সঙ্গে সঙ্গে উপজাতীয়দের স্বতন্ত্র জাতি হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানিয়েই ক্ষান্ত হননি, ১৯৭৩ সালের জানুয়ারি থেকে শান্তিবাহিনীকে সংগঠিত করে বিদ্রোহের পতাকা উত্তোলন করেন সমগ্র পার্বত্য চট্টগ্রামে। তিনি সংবিধানের হস্তলিখিত ও অলংকৃত বাংলা ও ইংরেজি কপিতে স্বাক্ষরও দেননি।
গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র সংবিধানের খসড়ায় যেভাবে সন্নিবেশিত হয়, সে সম্পর্কে প্রতিবাদ উত্থাপিত হয় সর্বাধিক। গণপরিষদে বিরোধী দলের ন্যাপ সদস্যের পক্ষ থেকে সর্বাধিক প্রতিবাদ আসে। মানবেন্দ্র বলেন, সংবিধানে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় বিধান করা হয়নি। গণতন্ত্রে নাগরিকের মৌলিক অধিকার যেভাবে সংরক্ষিত হয়ে থাকে, এই সংবিধানে তারও ব্যবস্থা নেই। মৌলিক অধিকার, তাঁর কথায়, ‘অস্পষ্ট’ ও ‘অপর্যাপ্ত’; কেননা মৌলিক অধিকারের ওপর বিভিন্ন ধরনের বাধানিষেধ আরোপ করা হয়। তিনি আরও বলেন, সংবিধানের দ্বিতীয় অংশে বর্ণিত অর্থনৈতিক অধিকারগুলো ‘সাধু ইচ্ছা’ ছাড়া অন্য কিছু নয়; কারণ সেগুলো আদালতের মাধ্যমে বলবেযাগ্য নয়। মানবেন্দ্র বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতা (৫৭.২ অনুচ্ছেদ), ৭০ অনুচ্ছেদের অধীন সংসদ সদস্যপদ বাতিল, রাষ্ট্রপতির সরকারি কর্মচারীদের অপসারণ করার ক্ষমতা (১৩৫ অনুচ্ছেদ) সংবিধানকে অগণতান্ত্রিক করে তুলেছে (বাংলাদেশ গণপরিষদ, বিতর্ক, ২য় খণ্ড সংখ্যা ৮, ১৯৭২-২২১-৩৫)।
গণপরিষদের বাইরের সমালোচনা ছিল আরও তীব্র। শ্রমিক-কৃষক সমাজবাদী দল সংবিধানে পরিকল্পিত সমাজতন্ত্রকে ‘পরিত্যক্ত সম্পত্তির সমাজতন্ত্র’ বলে চিহ্নিত করে। এই দলের নেতা বলেন, সরকার সমাজতন্ত্রের নামে কেবল পাকিস্তানিদের পরিত্যক্ত সম্পত্তি রাষ্ট্রায়ত্ত করেছে, কিন্তু সমাজতন্ত্রের লক্ষ্য, যেমন ব্যক্তিগত সম্পত্তির বিলোপ এবং শ্রেণীহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার কোনো ব্যবস্থা সংবিধানে রাখেনি। মূলনীতিগুলো কার্যকর করার জন্য আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার অধিকার অস্বীকার করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই সংবিধানে উঠতি ধনিক শ্রেণী ও জোতদারদের শাসন পাকাপোক্ত করার ব্যবস্থা রয়েছে মাত্র (দৈনিক বাংলা, ১৯ অক্টোবর ১৯৭২)। তাদের মতে, এই সংবিধান সংশোধনেরও অযোগ্য।
বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির মতে, এই সংবিধানে কিছু ‘ভালো ভালো কথা ও সাধু ইচ্ছা’ রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে সন্নিবেশিত হলেও নাগরিকদের খাদ্য, বস্ত্র, আশ্রয়, চিকিত্সা ও কর্মসংস্থানের কোনো নিশ্চয়তা নেই। সংসদে কৃষক-শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্বের কোনো ব্যবস্থা নেই। ‘বিদেশি সাম্রাজ্যবাদী পুঁজি’ বাজেয়াপ্ত এবং ‘সামন্তবাদ’ বিলোপের কোনো ব্যবস্থা সংবিধানে নেই। তাঁরা আরও বলেন, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা, জনস্বার্থ, নৈতিকতার অজুহাতে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার অস্বীকার করা হয়েছে (দৈনিক বাংলা, ১৯, ২৩, ২৯ অক্টোবর ১৯৭২)। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের নেতা বলেন, সংবিধানটি একটি ‘বাজে সংবিধান’। মৌলিক অধিকারগুলোর ওপর বাধানিষেধ আরোপ করে গণতন্ত্রকে ‘নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্রে’ পরিণত করা হয়েছে। সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অভিপ্রায় ‘কাগজি বুলিতে’ পরিণত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতিকে ‘শো বয়’ এবং প্রধানমন্ত্রীকে সর্বেসর্বা করা হয়েছে (ইত্তেফাক, ২১, ২২ ও ২৩ অক্টোবর ১৯৭২)।
শুধু বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ও ন্যাপ (মুজাফফর) এবং তাদের সমর্থিত ছাত্র ইউনিয়নের নেতারা বলেন, সংবিধানটি সমাজতান্ত্রিক নয়, তবে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান হিসেবে গ্রহণ করা যায় (দৈনিক বাংলা ও সংবাদ, ১৭ অক্টোবর ১৯৭২)। তাদের প্রধান অভিযোগ ছিল, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সংবিধান প্রণয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে ‘দেশপ্রেমিক’ রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের সঙ্গে যথাযথ পরামর্শ করেনি।
চার. তার পরও বলা যায়, ’৭২-এর সংবিধান এই জাতির এক মূল্যবান সম্পদ, হোক না তা অসম্পূর্ণ অথবা ত্রুটিপূর্ণ। তা ছিল নতুন রাষ্ট্রে চলত্শক্তি সরবরাহের উত্তম মাধ্যম। তত্কালীন সামাজিক মানসের প্রতিচ্ছবি। এক ঐতিহাসিক দলিল। এভাবেই ’৭২-এর সংবিধানকে গ্রহণ করতে হবে। গ্রহণ করতে হবে একটি সেরা জাতীয় অর্জন হিসেবে। কিন্তু প্রায় চার দশক আগের সেই সেরা অর্জনকে জাতির প্রাত্যহিক ব্যবহারের উপযোগী ভাবা ঠিক কি? যাঁরা ’৭২-এর সংবিধানে ফিরে যেতে চান, তাঁদের মনন-চিন্তন কি সেই বাহাত্তরেই আটকে রয়েছে? নাকি তা করতেই হবে—এমন অনমনীয় জেদ? আর ’৭২-এ ফিরে যেতে চাইলে যাবেন কীভাবে? আইনমন্ত্রী অবশ্য বলে ফেলেছেন, পঞ্চম সংশোধনী প্রসঙ্গে যদি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন, তবে ’৭২-এর সংবিধানে ফিরে যেতে কোনো সংশোধনীর প্রয়োজন হবে না। স্বাভাবিকভাবেই আমরা ’৭২-এর সংবিধানে ফিরে যাব। এ বক্তব্য কি গ্রহণযোগ্য? পঞ্চম সংশোধনী যদি বাতিল ঘোষিত হয়, তাহলেও তার আগের চারটি এবং পরের সংশোধনীগুলোর কী হবে? কোনো কথা বলা যত সহজ, তা বাস্তবায়ন তত সহজ নয়। এ সম্পর্কে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যা বলেছেন, তা কি ফেলে দেওয়ার মতো কিছু? পঞ্চম সংশোধনীতে বাংলাদেশের সংবিধানে এমন কতকগুলো উপাদান সংযোজিত হয়েছে, যা জাতির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এগুলোকে প্রধানমন্ত্রী ‘স্পর্শকাতর’ বলে চিহ্নিত করেছেন। যে দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর দরগাহ জিয়ারত করেন এবং দরগাহে মোনাজাত করে সাধারণ নির্বাচনের প্রচারকাজ শুরু করেন, সেই দেশে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে সংযোজিত উপাদানগুলোকে অপসারণ করা কি সম্ভব? ’৭২-এর সংবিধানে এগুলো ছিল অনুপস্থিত। পরিবর্তিত সময়ের দাবিতেই তা সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
’৭২-এর সংবিধানে ফিরে যাওয়া সম্ভব হবে কি না, সময় তা বলে দেবে, তবে জনস্বার্থে ও গণতন্ত্রের স্বার্থে বাংলাদেশের সংবিধানের বেশ কয়েকটি অনুচ্ছেদকে অর্থপূর্ণ করে দেশের শাসনব্যবস্থাকে কল্যাণমুখী করার লক্ষ্যে সংশোধন করার কোনো বিকল্প দেখি না।
ক. বাংলাদেশ সংবিধানের সর্বোত্তম বাক্যটি হলো ‘প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ’—অনুচ্ছেদ ৭ (১)। অনেকের মতে, সবচেয়ে অর্থহীন হলো এই বাক্যটি। কেননা নির্দিষ্ট সময়ে কিছুসংখ্যক ব্যক্তির ভোটদানের অধিকার ছাড়া এই মালিকানার কোনো অর্থ নেই। এটাকে অর্থপূর্ণ করার লক্ষ্যে, বিশেষ করে সাধারণ মানুষের অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার সঙ্গে এই মালিকানার যোগসূত্র থাকতে হবে।
খ. গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকের মৌলিক অধিকার অলঙ্ঘনীয়। জনস্বার্থের অজুহাতে, জনশৃঙ্খলা বা জনস্বাস্থ্যের বা নৈতিকতার অজুহাতে মৌলিক অধিকারের সীমারেখা নির্ধারিত হওয়া ঠিক নয়। এমনকি আইনের দোহাই দিয়েও তা সীমিত করা সঠিক নয়। দৃষ্টান্তস্বরূপ, সংবিধানের ৩৬, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১ অনুচ্ছেদে নাগরিকের মৌলিক অধিকার এভাবে সীমিত করার প্রয়াস দেখা যায়। সংবিধানের এই অংশগুলো সংশোধনযোগ্য।
গ. নিয়মতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার মূল কথা হলো সামষ্টিক সরকার, ব্যক্তির ঊর্ধ্বে প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রয়োগযোগ্য কর্তৃত্ব এবং সংবিধানের বিধান অনুযায়ী সীমিত সরকার। এই আলোকে সংবিধানের ৫৫ অনুচ্ছেদের সংশোধন জরুরি। সংসদীয় ব্যবস্থার ইতিহাসে সংবিধানের ৫৫ অনুচ্ছেদ ব্যতিক্রর্মী এবং নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিরোধী। কোনো নিয়ন্ত্রণ ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়ে কোথাও কোনো শাসকের হস্তে দেশের নির্বাহী কর্তৃত্ব ন্যস্ত হয়েছে কি?
ঘ. সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসনে সাংসদদের দ্বারা পরোক্ষ নির্বাচন গণতন্ত্রসম্মত নয়। মহিলা সদস্যদের জন্য তা মর্যাদাকরও নয়। এই অনুচ্ছেদ সংশোধন করে মহিলা সদস্যদের প্রত্যক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থাই উত্তম।
ঙ. সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ বর্তমানে যেভাবে কার্যকর হচ্ছে, তা দলীয় সদস্যদের দলীয় নেতৃত্বের প্রতি শুধু আনুগত্যই সৃষ্টি করছে, সৃষ্টি করছে না এতটুকু সৃজনশীলতা, মৌলিকত্ব বা স্বাতন্ত্র্যবোধ। এ অবস্থা অনাকাঙ্ক্ষিত। দলীয় শৃঙ্খলার সঙ্গে সদস্যদের স্বাতন্ত্র্যবোধের সমন্বয় সাধন করে এই অনুচ্ছেদের সংশোধন জরুরি।
চ. ৭২ অনুচ্ছেদ সংশোধনও অত্যন্ত জরুরি। জাতীয় সংসদের কার্যকাল পাঁচ বছরের পরিবর্তে চার বছর হওয়া প্রয়োজন এ জন্য যে ক্ষমতার প্রতি আমাদের রাজনীতিকদের দুর্বলতা এবং এ কারণে হিংসা-প্রতিহিংসার রাজনীতি; ফলে দলীয়করণ, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির ব্যাপকতা থেকে জাতি অনেকটা মুক্ত হতে পারবে।
ছ. সংবিধানের ৭৪ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল থেকে একজন স্পিকার এবং একজন ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পরে বিরোধী দল থেকে একজন ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের ব্যবস্থা করা যায়। যেন জাতীয় সংসদকে কার্যকর করার ক্ষেত্রে বিরোধী দলেরও একটা সুনির্দিষ্ট দায় সৃষ্টি হতে পারে।
জ. সংবিধানের ১৩৫ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক সরকারি কর্মকর্তাদের বরখাস্তের বিবরণ দেওয়া হয়েছে কিন্তু যাঁদের তিনি বরখাস্ত করতে পারবেন, তাঁদের যেন তাঁরই কর্তৃত্বে নিয়োগদানের ব্যবস্থা হয়, তা নিশ্চিত হওয়া বাঞ্ছনীয়।
[লেখাটির ওপর আমরা মতামত ও প্রতিক্রিয়া ছাপতে আগ্রহী। সর্বোচ্চ ৮০০ শব্দের মধ্যে লিখে পাঠান। বিভাগীয় সম্পাদক। ]
এমাজউদ্দীন আহমদ: সাবেক উপাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯৭২ সালের সংবিধানে মূলনীতি হিসেবে গৃহীত হয় ধর্মনিরপেক্ষতা, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, সংসদীয় গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র। পঞ্চম সংশোধনীতে ধর্মনিরপেক্ষতার পরিবর্তে প্রতিস্থাপিত হয় ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহ্র উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ এবং সমাজতন্ত্রের ব্যাখ্যা দেওয়া হয় ‘অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুবিচার’। যারা ’৭২-এর সংবিধানের প্রতি এত দুর্বল তাদের গভীর দুর্বলতা ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্রের প্রতি। তাই পঞ্চম সংশোধনীর প্রতি তাদের এত উষ্মা, এত ক্রোধ, এত বিদ্বেষ। এই নিবন্ধে এ সম্পর্কে ছোট্ট এক পর্যালোচনা রয়েছে।
এক. আমার মতো যাঁরা ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়ন ও সংবিধানের কার্যকারিতা সম্পর্কে চোখ খুলে রেখেছেন, তাঁরা নিশ্চয়ই খুশি হয়েছিলেন এই দেখে, যে ক্ষেত্রে পাকিস্তানের লেগেছিল নয় বছর, সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মাত্র নয় মাসেই এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছিল, হোক সে সংবিধান ত্রুটিপূর্ণ, অবিন্যস্ত অনুকরণ। কিন্তু মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে এই সংবিধানের গায়ে এমন নির্মম ছুরি-কাঁচি চালানো অনেকেই পছন্দ করেননি। তবে এই না-পছন্দের ঝালটা শুধু পঞ্চম সংশোধনীর দিকে ছুড়ে দিয়ে তাঁরা এক ভয়ানক বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছেন। পঞ্চম সংশোধনীর আগেই যে ’৭২-এর সংবিধান বিধ্বস্ত হয়েছে, অর্থাত্ ’৭২-এর সংবিধানে বিধৃত সরকারের কাঠামো, সরকার পরিচালনার মূলনীতি, মুক্তিযুদ্ধের মর্মবাণী বিধ্বস্ত হয়ে গেছে, সে সম্পর্কে তাঁরা কিছু বলছেন না। দ্বিতীয় ও চতুর্থ সংশোধনীর দিকে তাকান, অনুধাবনে এতটুকু অসুবিধা হবে না, কেমন অবলীলাক্রমে মাত্র বছর দুয়েক আগে প্রণীত সংবিধানে সুনির্দিষ্ট সরকারের মূল কাঠামোয় বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধন করে ’৭২-এর সংবিধানের আদলটা পুরোপুরি পাল্টে দেওয়া হলো। যে সংসদীয় গণতন্ত্রের আশীর্বাদ মাথায় নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ তার জয়যাত্রা শুরু করেছিল, মাত্র আড়াই-তিন বছরের মাথায় সেই সংসদীয় ব্যবস্থা বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত হলো। সংসদীয় ব্যবস্থার পরিবর্তে চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে প্রবর্তিত হয় রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার। সংসদীয় ব্যবস্থার পরিবর্তে রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার প্রবর্তিত হলেও চলত, কেননা দুই-ই গণতান্ত্রিক, কিন্তু দেশের সব দলকে নিষিদ্ধ করে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগের (বাকশাল) মতো একদলীয় জগদ্দল বা কর্তৃত্বব্যঞ্জক দৈত্যরূপী এক প্রাণীর (authoritarian leviathan) সৃষ্টি হয়।
দ্বিতীয় সংশোধনীর দিকে দৃষ্টি দিন। দেখবেন মুক্তিযুদ্ধের মূল সুর যে গণ-অধিকার, তা কীভাবে হারিয়ে গেল। সংবিধানে জরুরি বিধানের সংযোজন জনগণের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। স্বাধীনতার ঊষালগ্ন থেকেই গণ-অধিকার সংরক্ষণের দাবি ছিল এই সমাজের দাবি। দাবি ছিল সমাজব্যাপী আইনের রাজত্ব প্রতিষ্ঠার। কিন্তু চতুর্থ সংশোধনীতে সেই দাবি হারিয়ে যায়। সুতরাং পঞ্চম সংশোধনী যদি সত্যি বাতিল হয়ে যায়, তাহলেই কি বাহাত্তরের সংবিধান ফিরে পাওয়া যাবে? আর ফিরে পেলেই কি সব অভিযোগের অবসান ঘটবে? কাটাছেঁড়ার কথা বললে তো দেখা যায়, পঞ্চম সংশোধনীর আগেই তা ঘটে গেছে। পঞ্চম সংশোধনীতে কিছু কাটাছেঁড়া হয়েছে ঠিকই, কিন্তু কিছু কাটাছেঁড়ার মেরামতও হয়েছে। বহুদলীয় গণতন্ত্রের ভিত্তি, গণতন্ত্র্রের অন্যান্য অনুষঙ্গ যেমন—সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, মৌলিক অধিকার সংরক্ষণে সুপ্রিম কোর্টের কর্তৃত্ব ও স্থানীয় শাসনের পুনঃপ্রবর্তন পঞ্চম সংশোধনীর অবদান।
দুই. দেশের বাম পন্থার রাজনীতিকদের প্রত্যাশা, ’৭২-এর সংবিধানে ফিরে গেলে ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র পুনরুজ্জীবিত হবে। সমাজতন্ত্রের নীতি ’৭২-এর সংবিধানের একটি উল্লেখযোগ্য মূলনীতি। কোনো জনপদে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় যখন সেই জনপদে সমাজতান্ত্রিক আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি সুসংহত সমাজতান্ত্রিক দল সংগঠিত হয়, উত্পাদনের উত্সগুলো রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আসে, উত্পাদনের সুষম বণ্টনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং ‘পরিকল্পিত অর্থনৈতিক বিকাশের মাধ্যমে উত্পাদনশক্তির ক্রমবৃদ্ধি সাধন এবং জনগণের জীবনযাত্রার বস্তুগত ও সংস্কৃতিগত মানের দৃঢ় উন্নতি সাধন’ ঘটায় যেমন—অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা, চিকিত্সাসহ প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক চাহিদার সন্তুষ্টি বিধান সম্ভব হয়। এর যেমন রয়েছে রাষ্ট্রিক-সামাজিক দিক, তেমনি রয়েছে মানবিক দিকও।
১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান সর্বপ্রথম বৃহত্ শিল্পপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের নীতি ঘোষণা করেন। ফলে দেশের বৃহত্ শিল্পগুলোর শতকরা ৮৬ ভাগ এবং ব্যাংক-বিমাগুলোর ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়। এই শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর শতকরা ৬০ ভাগ ছিল সাবেক ইপিআইডিসির নিয়ন্ত্রণে, শতকরা ২৫ ভাগ ছিল পরিত্যক্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং শতকরা ১৫ ভাগ ছিল দেশীয়। বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের সর্বোচ্চ মাত্রা স্থির করা হয় ২৫ লাখ টাকা। বিদেশি বিনিয়োগ হয় নিষিদ্ধ। যেহেতু ক্ষমতাসীন দলের সমাজতন্ত্রে কোনো দীক্ষা বা বিশ্বাস ছিল না, ছিল না কোনো আদর্শিক অঙ্গীকারও, তাই অচিরেই শিল্পক্ষেত্রে দেখা দেয় নৈরাজ্য। উত্পাদন ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়। চোরাচালান ও দুর্নীতির ব্যাপক প্রসার ঘটে। এক কথায়, অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ১৯৭৪ সালে দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। সরকার পাশ্চাত্য ও তেলসমৃদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর কাছে সহায়তার জন্য হাত পাততে বাধ্য হয়। তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ার আকাঙ্ক্ষায় ১৯৭৪ সালের ১৬ জুলাই তখনকার শিল্পমন্ত্রী সৈয়দ নজরুল ইসলাম সমাজতন্ত্রে পরিবর্তন এনে নতুন বিনিয়োগ নীতি ঘোষণা করেন। এর ফলে সদ্য প্রতিষ্ঠিত সমাজতন্ত্র পড়ে রিভিশনের মুখে। এক. বেসরকারি বিনিয়োগের মাত্রা ২৫ লাখ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে হয় তিন কোটি টাকা। দুই. বিদেশি বিনিয়োগের পথ আবার খুলে দেওয়া হয়। তিন. জাতীয়করণ প্রক্রিয়া ১৫ বছরের জন্য স্থগিত হয়। চার. ঘোষিত হয়, ১৫ বছর পর যদি জাতীয়করণের প্রয়োজন দেখা দেয়, তখন যথোপযুক্ত ভর্তুকি দেওয়া হবে।
অন্য কথায়, ’৭২-এর সংবিধানে সমাজতন্ত্র যে কয়েক দিন টিকে ছিল, তা ছিল শুধু আকাঙ্ক্ষায়, বাস্তবতায় নয়। ভারী শিল্প, ব্যাংক-বিমার অবদান সামগ্রিক জাতীয় উত্পাদনে ছিল শতকরা ২০ ভাগের নিচে। অর্থনীতির মৌল ভিত্তি যে ভূমিব্যবস্থা সে ক্ষেত্রে এক ধরনের সমবায়ের কথা ভাবা হচ্ছিল বটে, কিন্তু তা দিয়ে যে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় না, তা সর্বজনস্বীকৃত। সর্বজনস্বীকৃত এটিও যে সমাজতন্ত্রের জন্য প্রয়োজন সমাজতান্ত্রিক দল। এখন যদি ’৭২-এর সমাজতন্ত্র ফিরে আসে, তাহলে ১৯৭২-৭৫ সময়কালে বাংলাদেশে যা ঘটেছিল, তা থেকে কি আমরা দূরে থাকব? তবে সমাজতন্ত্র আদর্শ হিসেবে টিকে থাকবে চিরদিন। প্লেটো থেকে যার সূচনা, মার্ক্স-অ্যাঙ্গেলস মাও-এ যার পূর্ণতা, তা মানবসমাজকে চিরদিন হাতছানি দিতে থাকবে। সেই হাতছানির জবাব কি আজকে ’৭২-এর সংবিধানে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা?
ধর্মনিরপেক্ষতা সম্পর্কে কোনো একজন পর্যালোচক কয়েক দিন আগে লিখেছেন, ধর্মনিরপেক্ষতা হলো মুক্তিযুদ্ধের ফসল। ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ যদি হয় সম-সাম্প্রদায়িকতা, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের পারস্পরিক সহনশীলতা, তাহলে বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষতা বসবাস করছে কয়েক হাজার বছর ধরে। মুসলমানের কুঁড়েঘর এবং হিন্দুর ছাপরা হাজার বছর ধরে সখ্য বজায় রেখে দিনাতিপাত করছে। পদ্মা-যমুনা-মেঘনাবিধৌত অঞ্চলে সাম্প্রদায়িকতার আবর্জনা কোনো দিন সঞ্চিত হয়নি। আমার অনুভবে ধর্মনিরপেক্ষতা বাংলাদেশের আধ্যাত্মিক চেতনা। অন্য কথায়, সংবিধানে উল্লিখিত হয়ে ধর্মনিরপেক্ষতা রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির গৌরব অর্জন করেনি। মুক্তিযুদ্ধের সময়কালেও এর জন্ম হয়নি। ১৯৪৮-৫২-এর ভাষা আন্দোলনেও ধর্মনিরপেক্ষতার ব্যাপক ব্যাপ্তি আমাদের জাতীয় জীবনে বিরাট অর্জনে সহায়ক হয়ে উঠেছে। আমাদের জাতীয় নেতাদের কর্মকাণ্ডে সাম্প্রদায়িকতা সব সময় পরিত্যাজ্য রয়েছে। ভাষা আন্দোলনের পর থেকে বিভিন্ন আন্দোলন-বিক্ষোভে শতধারায় তা প্রকাশিত।
সাম্প্রদায়িকতা এক সামাজিক ব্যত্যয়। সংবিধানের দিকে তাকিয়ে কেউ সাম্প্রদায়িক হয় না, অথবা কেউ সাম্প্রদায়িক হতে চাইলে সংবিধান তাকে ঠেকাতেও পারে না। আমাদের সৌভাগ্য, এই মাটির কোনো সুযোগ্য সন্তানকে সাম্প্রদায়িকতার নোংরা আবর্জনা স্পর্শ করেনি। ’৭২ সালের সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম মূলনীতি হিসেবে গৃহীত হয়। পঞ্চম সংশোধনীতে ধর্মনিরপেক্ষতার পরিবর্তে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ সন্নিবেশিত হয়। সংবিধান শুরু হয় ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ দিয়ে। তার পরও কিন্তু বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িকতার কালো ছায়ায় আচ্ছন্ন হয়নি। অন্যদিকে ভারত ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করে ১৯৭৭ সালে। সামাজিক জীবনকে আলোকিত না করে শুধু সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা সংযোজন করলে যে কোনো ফল হয় না, তার অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে ভারতেই। বিচারপতি লিবারহান কমিশনের রিপোর্টটিতে দেখবেন, কীভাবে প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং, সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও মানবসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী এবং বেশ কিছু জাতীয় নেতা বাবরি মসজিদ ধ্বংসের সঙ্গে গভীরভাবে সংশ্লিষ্ট ছিলেন এবং কীভাবে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ঘটিয়েছিলেন। গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নৃশংসতার কথা উল্লেখ না-ই বা করা হলো। ভারতের সবচেয়ে প্রগতিবাদী পশ্চিম বাংলার বাম সরকারের তিন দশকের শাসনামলে সেখানকার বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, বিশেষ করে মুসলিমরা কোন পর্যায়ে নেমে এসেছে, সাচার কমিশনের রিপোর্ট তার প্রমাণ।
’৭২-এর সংবিধানের আরেকটি মূলনীতি বাঙালি জাতীয়তাবাদ। সংবিধান যখন গৃহীত হয় তখন গণপরিষদের সদস্য মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা নিজেই এর প্রতিবাদ করেছেন। শুধু তিনি বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেই ক্ষান্ত হননি, প্রতিটি ক্ষুদ্র জাতিসত্তার স্বীকৃতি দাবি করেছিলেন সংবিধানে। বাংলাদেশ একক কোনো জাতির বাসস্থান নয়। বহু জাতির মোজায়েকে গড়া এই সমাজ। শুধু একই ভাষা ও সংস্কৃতির ভিত্তিতে কোনো জনসমষ্টির জাতীয়তা চিহ্নিত হতে পারে না। বিশ্বে এর কোনো নজিরও নেই। ভৌগোলিক এলাকাভিত্তিক জাতীয়তাবাদ অর্থাত্ বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের কোনো বিকল্প আছে কি? বাঙালি জাতীয়তাবাদের যে সংকীর্ণতা, তার বোঝা আর কত দিন বহন করবেন?
তিন. যাঁরা ’৭২-এর সংবিধান ফিরিয়ে আনতে চান, তাঁদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই যে ওই সময় এই সংবিধান রচনা এবং সংবিধানের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে কে কী বলেছিলেন গণপরিষদে এবং গণপরিষদের বাইরে, পত্রপত্রিকায়। বিস্তারিত বিবরণের জন্য দেখুন ড. আবুল ফজল হকের বাংলাদেশের রাজনীতি: সংঘাত ও পরিবর্তন বইটির ৮০—৯২ পৃষ্ঠা। মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী গণপরিষদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বলেন, গণপরিষদের সদস্যরা ইয়াহিয়া খানের আইনগত কাঠামোয় (১৯৭০) ইসলামিক প্রজাতন্ত্র পাকিস্তানের সংবিধান প্রণয়নের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁরা পাকিস্তান রাষ্ট্র কাঠামোর মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য ছয় দফাভিত্তিক আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন আদায়ের ম্যান্ডেট লাভ করেন। তিনি বলেন, এ জন্য সব রাজনৈতিক দলের যৌথ সংগ্রামের মাধ্যমে যে সার্বভৌম বাংলাদেশের সৃষ্টি হয়েছে, সেই বাংলাদেশের সংবিধান রচনার অধিকার তাঁদের নেই (দৈনিক বাংলা, ২১ অক্টোবর ১৯৭২)। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির বক্তব্য ছিল অভিন্ন। তাদের সুপারিশ ছিল, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সংগঠিত জাতীয় কনভেনশনে সংবিধান প্রণয়ন করা প্রয়োজন।
সংবিধানের বিভিন্ন দিক সম্পর্কেও মত প্রকাশ করেন বিভিন্ন জন। সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ সংযোজনের দাবি করেন আওয়ামী লীগের একজন গণপরিষদ সদস্য। ইসলাম-পছন্দ ডানপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো যুদ্ধের অব্যবহিত পরে নিষিদ্ধ হওয়ার ফলে তাদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশের সুযোগ ছিল না। তবে জানা যায়, বাম পন্থার রাজনীতিকদের সুরেই তা প্রতিধ্বনিত হয়।
বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা শুধু প্রতিবাদ এবং সঙ্গে সঙ্গে উপজাতীয়দের স্বতন্ত্র জাতি হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানিয়েই ক্ষান্ত হননি, ১৯৭৩ সালের জানুয়ারি থেকে শান্তিবাহিনীকে সংগঠিত করে বিদ্রোহের পতাকা উত্তোলন করেন সমগ্র পার্বত্য চট্টগ্রামে। তিনি সংবিধানের হস্তলিখিত ও অলংকৃত বাংলা ও ইংরেজি কপিতে স্বাক্ষরও দেননি।
গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র সংবিধানের খসড়ায় যেভাবে সন্নিবেশিত হয়, সে সম্পর্কে প্রতিবাদ উত্থাপিত হয় সর্বাধিক। গণপরিষদে বিরোধী দলের ন্যাপ সদস্যের পক্ষ থেকে সর্বাধিক প্রতিবাদ আসে। মানবেন্দ্র বলেন, সংবিধানে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় বিধান করা হয়নি। গণতন্ত্রে নাগরিকের মৌলিক অধিকার যেভাবে সংরক্ষিত হয়ে থাকে, এই সংবিধানে তারও ব্যবস্থা নেই। মৌলিক অধিকার, তাঁর কথায়, ‘অস্পষ্ট’ ও ‘অপর্যাপ্ত’; কেননা মৌলিক অধিকারের ওপর বিভিন্ন ধরনের বাধানিষেধ আরোপ করা হয়। তিনি আরও বলেন, সংবিধানের দ্বিতীয় অংশে বর্ণিত অর্থনৈতিক অধিকারগুলো ‘সাধু ইচ্ছা’ ছাড়া অন্য কিছু নয়; কারণ সেগুলো আদালতের মাধ্যমে বলবেযাগ্য নয়। মানবেন্দ্র বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতা (৫৭.২ অনুচ্ছেদ), ৭০ অনুচ্ছেদের অধীন সংসদ সদস্যপদ বাতিল, রাষ্ট্রপতির সরকারি কর্মচারীদের অপসারণ করার ক্ষমতা (১৩৫ অনুচ্ছেদ) সংবিধানকে অগণতান্ত্রিক করে তুলেছে (বাংলাদেশ গণপরিষদ, বিতর্ক, ২য় খণ্ড সংখ্যা ৮, ১৯৭২-২২১-৩৫)।
গণপরিষদের বাইরের সমালোচনা ছিল আরও তীব্র। শ্রমিক-কৃষক সমাজবাদী দল সংবিধানে পরিকল্পিত সমাজতন্ত্রকে ‘পরিত্যক্ত সম্পত্তির সমাজতন্ত্র’ বলে চিহ্নিত করে। এই দলের নেতা বলেন, সরকার সমাজতন্ত্রের নামে কেবল পাকিস্তানিদের পরিত্যক্ত সম্পত্তি রাষ্ট্রায়ত্ত করেছে, কিন্তু সমাজতন্ত্রের লক্ষ্য, যেমন ব্যক্তিগত সম্পত্তির বিলোপ এবং শ্রেণীহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার কোনো ব্যবস্থা সংবিধানে রাখেনি। মূলনীতিগুলো কার্যকর করার জন্য আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার অধিকার অস্বীকার করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই সংবিধানে উঠতি ধনিক শ্রেণী ও জোতদারদের শাসন পাকাপোক্ত করার ব্যবস্থা রয়েছে মাত্র (দৈনিক বাংলা, ১৯ অক্টোবর ১৯৭২)। তাদের মতে, এই সংবিধান সংশোধনেরও অযোগ্য।
বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির মতে, এই সংবিধানে কিছু ‘ভালো ভালো কথা ও সাধু ইচ্ছা’ রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে সন্নিবেশিত হলেও নাগরিকদের খাদ্য, বস্ত্র, আশ্রয়, চিকিত্সা ও কর্মসংস্থানের কোনো নিশ্চয়তা নেই। সংসদে কৃষক-শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্বের কোনো ব্যবস্থা নেই। ‘বিদেশি সাম্রাজ্যবাদী পুঁজি’ বাজেয়াপ্ত এবং ‘সামন্তবাদ’ বিলোপের কোনো ব্যবস্থা সংবিধানে নেই। তাঁরা আরও বলেন, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা, জনস্বার্থ, নৈতিকতার অজুহাতে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার অস্বীকার করা হয়েছে (দৈনিক বাংলা, ১৯, ২৩, ২৯ অক্টোবর ১৯৭২)। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের নেতা বলেন, সংবিধানটি একটি ‘বাজে সংবিধান’। মৌলিক অধিকারগুলোর ওপর বাধানিষেধ আরোপ করে গণতন্ত্রকে ‘নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্রে’ পরিণত করা হয়েছে। সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অভিপ্রায় ‘কাগজি বুলিতে’ পরিণত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতিকে ‘শো বয়’ এবং প্রধানমন্ত্রীকে সর্বেসর্বা করা হয়েছে (ইত্তেফাক, ২১, ২২ ও ২৩ অক্টোবর ১৯৭২)।
শুধু বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ও ন্যাপ (মুজাফফর) এবং তাদের সমর্থিত ছাত্র ইউনিয়নের নেতারা বলেন, সংবিধানটি সমাজতান্ত্রিক নয়, তবে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান হিসেবে গ্রহণ করা যায় (দৈনিক বাংলা ও সংবাদ, ১৭ অক্টোবর ১৯৭২)। তাদের প্রধান অভিযোগ ছিল, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সংবিধান প্রণয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে ‘দেশপ্রেমিক’ রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের সঙ্গে যথাযথ পরামর্শ করেনি।
চার. তার পরও বলা যায়, ’৭২-এর সংবিধান এই জাতির এক মূল্যবান সম্পদ, হোক না তা অসম্পূর্ণ অথবা ত্রুটিপূর্ণ। তা ছিল নতুন রাষ্ট্রে চলত্শক্তি সরবরাহের উত্তম মাধ্যম। তত্কালীন সামাজিক মানসের প্রতিচ্ছবি। এক ঐতিহাসিক দলিল। এভাবেই ’৭২-এর সংবিধানকে গ্রহণ করতে হবে। গ্রহণ করতে হবে একটি সেরা জাতীয় অর্জন হিসেবে। কিন্তু প্রায় চার দশক আগের সেই সেরা অর্জনকে জাতির প্রাত্যহিক ব্যবহারের উপযোগী ভাবা ঠিক কি? যাঁরা ’৭২-এর সংবিধানে ফিরে যেতে চান, তাঁদের মনন-চিন্তন কি সেই বাহাত্তরেই আটকে রয়েছে? নাকি তা করতেই হবে—এমন অনমনীয় জেদ? আর ’৭২-এ ফিরে যেতে চাইলে যাবেন কীভাবে? আইনমন্ত্রী অবশ্য বলে ফেলেছেন, পঞ্চম সংশোধনী প্রসঙ্গে যদি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন, তবে ’৭২-এর সংবিধানে ফিরে যেতে কোনো সংশোধনীর প্রয়োজন হবে না। স্বাভাবিকভাবেই আমরা ’৭২-এর সংবিধানে ফিরে যাব। এ বক্তব্য কি গ্রহণযোগ্য? পঞ্চম সংশোধনী যদি বাতিল ঘোষিত হয়, তাহলেও তার আগের চারটি এবং পরের সংশোধনীগুলোর কী হবে? কোনো কথা বলা যত সহজ, তা বাস্তবায়ন তত সহজ নয়। এ সম্পর্কে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যা বলেছেন, তা কি ফেলে দেওয়ার মতো কিছু? পঞ্চম সংশোধনীতে বাংলাদেশের সংবিধানে এমন কতকগুলো উপাদান সংযোজিত হয়েছে, যা জাতির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এগুলোকে প্রধানমন্ত্রী ‘স্পর্শকাতর’ বলে চিহ্নিত করেছেন। যে দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর দরগাহ জিয়ারত করেন এবং দরগাহে মোনাজাত করে সাধারণ নির্বাচনের প্রচারকাজ শুরু করেন, সেই দেশে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে সংযোজিত উপাদানগুলোকে অপসারণ করা কি সম্ভব? ’৭২-এর সংবিধানে এগুলো ছিল অনুপস্থিত। পরিবর্তিত সময়ের দাবিতেই তা সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
’৭২-এর সংবিধানে ফিরে যাওয়া সম্ভব হবে কি না, সময় তা বলে দেবে, তবে জনস্বার্থে ও গণতন্ত্রের স্বার্থে বাংলাদেশের সংবিধানের বেশ কয়েকটি অনুচ্ছেদকে অর্থপূর্ণ করে দেশের শাসনব্যবস্থাকে কল্যাণমুখী করার লক্ষ্যে সংশোধন করার কোনো বিকল্প দেখি না।
ক. বাংলাদেশ সংবিধানের সর্বোত্তম বাক্যটি হলো ‘প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ’—অনুচ্ছেদ ৭ (১)। অনেকের মতে, সবচেয়ে অর্থহীন হলো এই বাক্যটি। কেননা নির্দিষ্ট সময়ে কিছুসংখ্যক ব্যক্তির ভোটদানের অধিকার ছাড়া এই মালিকানার কোনো অর্থ নেই। এটাকে অর্থপূর্ণ করার লক্ষ্যে, বিশেষ করে সাধারণ মানুষের অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার সঙ্গে এই মালিকানার যোগসূত্র থাকতে হবে।
খ. গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকের মৌলিক অধিকার অলঙ্ঘনীয়। জনস্বার্থের অজুহাতে, জনশৃঙ্খলা বা জনস্বাস্থ্যের বা নৈতিকতার অজুহাতে মৌলিক অধিকারের সীমারেখা নির্ধারিত হওয়া ঠিক নয়। এমনকি আইনের দোহাই দিয়েও তা সীমিত করা সঠিক নয়। দৃষ্টান্তস্বরূপ, সংবিধানের ৩৬, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১ অনুচ্ছেদে নাগরিকের মৌলিক অধিকার এভাবে সীমিত করার প্রয়াস দেখা যায়। সংবিধানের এই অংশগুলো সংশোধনযোগ্য।
গ. নিয়মতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার মূল কথা হলো সামষ্টিক সরকার, ব্যক্তির ঊর্ধ্বে প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রয়োগযোগ্য কর্তৃত্ব এবং সংবিধানের বিধান অনুযায়ী সীমিত সরকার। এই আলোকে সংবিধানের ৫৫ অনুচ্ছেদের সংশোধন জরুরি। সংসদীয় ব্যবস্থার ইতিহাসে সংবিধানের ৫৫ অনুচ্ছেদ ব্যতিক্রর্মী এবং নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিরোধী। কোনো নিয়ন্ত্রণ ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়ে কোথাও কোনো শাসকের হস্তে দেশের নির্বাহী কর্তৃত্ব ন্যস্ত হয়েছে কি?
ঘ. সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসনে সাংসদদের দ্বারা পরোক্ষ নির্বাচন গণতন্ত্রসম্মত নয়। মহিলা সদস্যদের জন্য তা মর্যাদাকরও নয়। এই অনুচ্ছেদ সংশোধন করে মহিলা সদস্যদের প্রত্যক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থাই উত্তম।
ঙ. সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ বর্তমানে যেভাবে কার্যকর হচ্ছে, তা দলীয় সদস্যদের দলীয় নেতৃত্বের প্রতি শুধু আনুগত্যই সৃষ্টি করছে, সৃষ্টি করছে না এতটুকু সৃজনশীলতা, মৌলিকত্ব বা স্বাতন্ত্র্যবোধ। এ অবস্থা অনাকাঙ্ক্ষিত। দলীয় শৃঙ্খলার সঙ্গে সদস্যদের স্বাতন্ত্র্যবোধের সমন্বয় সাধন করে এই অনুচ্ছেদের সংশোধন জরুরি।
চ. ৭২ অনুচ্ছেদ সংশোধনও অত্যন্ত জরুরি। জাতীয় সংসদের কার্যকাল পাঁচ বছরের পরিবর্তে চার বছর হওয়া প্রয়োজন এ জন্য যে ক্ষমতার প্রতি আমাদের রাজনীতিকদের দুর্বলতা এবং এ কারণে হিংসা-প্রতিহিংসার রাজনীতি; ফলে দলীয়করণ, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির ব্যাপকতা থেকে জাতি অনেকটা মুক্ত হতে পারবে।
ছ. সংবিধানের ৭৪ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল থেকে একজন স্পিকার এবং একজন ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পরে বিরোধী দল থেকে একজন ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের ব্যবস্থা করা যায়। যেন জাতীয় সংসদকে কার্যকর করার ক্ষেত্রে বিরোধী দলেরও একটা সুনির্দিষ্ট দায় সৃষ্টি হতে পারে।
জ. সংবিধানের ১৩৫ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক সরকারি কর্মকর্তাদের বরখাস্তের বিবরণ দেওয়া হয়েছে কিন্তু যাঁদের তিনি বরখাস্ত করতে পারবেন, তাঁদের যেন তাঁরই কর্তৃত্বে নিয়োগদানের ব্যবস্থা হয়, তা নিশ্চিত হওয়া বাঞ্ছনীয়।
[লেখাটির ওপর আমরা মতামত ও প্রতিক্রিয়া ছাপতে আগ্রহী। সর্বোচ্চ ৮০০ শব্দের মধ্যে লিখে পাঠান। বিভাগীয় সম্পাদক। ]
এমাজউদ্দীন আহমদ: সাবেক উপাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1429)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
-
▼
2009
(2847)
-
▼
December
(699)
-
▼
Dec 22
(29)
- ব্রিটেনে জরিপে এগিয়ে রক্ষণশীলেরা
- তাইওয়ানে চীনবিরোধী বিক্ষোভ মিছিল
- ইরানের ভিন্নমতাবলম্বী নেতা মোনতাজেরি মারা গেছেন
- গড়কারি বিজেপির নতুন সভাপতি
- মেগরাহির স্বাস্থ্যের অবনতি
- জেলায়ার সঙ্গে মার্কিন কূটনীতিকের সাক্ষাত্
- গাজায় এক বছরেও ইসরায়েলি ধ্বংসযজ্ঞের ক্ষত শুকায়নি
- মুম্বাইয়ের মতো লন্ডনেও ভয়াবহ জঙ্গি হামলা হতে পারে ...
- খসড়া শিল্পনীতিতে ১৭টি খাতে বিনিয়োগ নিয়ন্ত্রিত হয়েছে
- চট্টগ্রামে বিআইএফসির শাখা উদ্বোধন
- পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পাঁচ হাজার টাকা করার ...
- কেরানীগঞ্জে এসআইবিএলের এসএমই সেন্টার চালু
- তিন হাজার কোটি টাকার মিউচুয়াল ফান্ড গঠনের প্রস্তাব...
- এশিয়ান দলগত দাবা
- সেঞ্চুরিয়ন দেখল রোমাঞ্চকর ড্র
- স্পেনে রিয়ালের গোল-উৎসব, ইংল্যান্ডে অঘটন
- ধোনিকে হারিয়ে ভারতের অস্বস্তিই বেশি
- অস্ট্রেলিয়াতেই ফিরতে চান শোয়েব
- জাতীয় দলের অনুশীলন ২৬ ডিসেম্বর থেকে
- ভারত বা বাংলাদেশ নয়, মিয়ানমারের গ্যাস পাবে চীন by ...
- বাংলাদেশের নিয়তি কি কেবলই ডুবে যাওয়া -জলবায়ু সম্মে...
- রাজনীতির চক্করে ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয় -অচলাবস্থ...
- পরীক্ষার মুখে দুদক নয়, সরকার স্বয়ং -দুর্নীতির বিরু...
- ধন্য তাঁর জীবনসাধন -শ্রদ্ধাঞ্জলি by বিপ্লব বালা
- সংবিধান সংশোধন, না ’৭২-এর সংবিধানে প্রত্যাবর্তন? -...
- ফের অচলাবস্থায় বিশ্ব জলবায়ু রাজনীতি -কোপেনহেগেনে ব...
- শান্তিতে নোবেল পুরস্কার এবং ওবামা, ওসামা-ওমর যুদ্ধ...
- ভোজ্যতেল ও ডালের মূল্যবৃদ্ধি -বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের...
- জলবায়ু সম্মেলন ও বাংলাদেশ -ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে স্বী...
-
▼
Dec 22
(29)
-
▼
December
(699)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ইরান
ক্রিকেট
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
কালবেলা
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
রাশিয়া
মুক্তিযুদ্ধ
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
ইউক্রেন
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
হিন্দু
রুদ্র মিজান
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
স্বাস্থ্য
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
জ্যোতির্বিজ্ঞান
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
শুভ্র দেব
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
জীবনযাপন
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কলকাতা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
মসজিদ
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ইয়েমেন
ফেনী
বরিশাল
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
Exclusive
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
জনস্বাস্থ্য
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
লাতিন আমেরিকা
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
জোহরান মামদানি
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
ইহুদি
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
স্পেন
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
বেলজিয়াম
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
জর্দান
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
আহমেদ মুনির
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment