Tuesday, December 16, 2014
অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে গেলেও রাজনীতিতে পিছিয়ে গেছি : ইমতিয়াজ আহমেদ by মোকাম্মেল হোসেন
অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে গেলেও রাজনীতিতে পিছিয়ে গেছি : ইমতিয়াজ আহমেদ by মোকাম্মেল হোসেন
যুগান্তর : এবারের বিজয় দিবসের নতুন কোনো তাৎপর্য আপনি দেখছেন কি?
ইমতিয়াজ আহমেদ : মূলত ডে অব সেলিব্রেশন হিসেবে দেশের মানুষ দিনটি উদযাপন করবে। তবে যেহেতু বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখনও কতগুলো বিষয়ের সমাধান হয়নি- যেমন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, অন্য কথায় নির্বাচনের বিষয়টি এখনও সমাধান হয়নি, তাই অনেকেরই আশা থাকবে- ১৬ ডিসেম্বরের পরে এটা একটা সমাধানের দিকে যাবে। আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান হবে, না বিরোধী দলের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে হবে, না আন্তর্জাতিক চাপের মুখে হবে, নাকি একসঙ্গে সব মিলে হবে- সেটা এ মুহূর্তে বলা মুশকিল। যাই হোক, দেশবাসীর একটা বড় প্রত্যাশা থাকবে- যে অস্বস্তিকর পরিবেশ বিরাজ করছে, ১৬ ডিসেম্বরের পর তার একটা সমাধান হবে। মানুষ যেন এ দিনটাকে ধরে চিন্তা করতে পারে, আমরা একটা ভালো ভবিষ্যতের দিকে যাচ্ছি।
যুগান্তর : স্বাধীনতাকে কতটা অর্থবহ মনে করেন আপনি?
ই.আ. : এ প্রশ্নটা মাঝে মধ্যেই ওঠে। ওঠার কারণ- এন্ড অব ইমাজিনেশন। আমরা বোধহয় আর ভাবতে পারছি না জাতি হিসেবে কোথায় যাব? বারবার পিছিয়ে যাচ্ছি- মনে হচ্ছে, যেন এটাই আমাদের নিয়তি। তবে এ কথা তো স্বীকার করতেই হবে, নানা ধরনের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। এটা কোনো ব্যক্তির কৃতিত্ব নয়। জনগণের কৃতিত্ব। সেই হিসেবে আমি মনে করি, পেছনে চোখ রাখার চেয়ে সামনের দিকে তাকিয়ে আমরা কতদূর যেতে পারি- সেই ইমাজিনেশনটা তৈরি করা উচিত। সেই স্বপ্ন তৈরি করা উচিত। আমাদের স্বপ্নের অভাব রয়েছে। ঘুরেফিরে আমরা এক জায়গায় আটকে যাচ্ছি। শুধু আমরা নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়াই আটকে গেছে। ভারত-পাকিস্তান যেমন ’৪৭-এ আটকে গেছে। আমরাও মনে হয় ’৭১-এ আটকে গেছি। বাংলাদেশ যে আরও বড় একটা জায়গায় যেতে পারে, আরও সাংঘাতিক একটা অবস্থান তৈরি করতে পারে- সেই বিশ্বাসটা খুব কম মানুষের মধ্যেই আছে। এক ধরনের অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে মানুষের মধ্যে। স্বাধীনতার ৪৩ বছর পরও মানুষ যা বলাবলি করছে, এ জায়গায় একটা পরিবর্তন আসা দরকার। ’৭১-এ বসে আমরা কিন্তু ভাবতে পারিনি, রেডিমেড গার্মেন্টে আমরা বিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে জায়গা করে নেব। ’৭১-এ বসে আমরা কিন্তু ভাবিনি- বাংলাদেশ শান্তি রক্ষায় এক নম্বর হয়ে থাকবে। আমরা ভাবিনি, বাংলাদেশ সবচেয়ে বড় এনজিও তৈরি করতে পারবে। এর বাইরে নোবেল পুরস্কারসহ অন্যান্য কনট্রিবিউশন তো আছেই। জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ পৃথিবীর সপ্তম দেশ। মানুষই তো বড় কথা। মানুষ যদি বড় হয়ে থাকে, তাহলে পৃথিবীর সপ্তম বৃহৎ দেশ হল বাংলাদেশ। সেই সপ্তম বৃহৎ দেশের যে অহংকার, যে স্বপ্ন- সেটা আমি দেখি না। ঘুরেফিরে কতগুলো আলোচনা হয়- এখানে মনে হয় একটা পরিবর্তন আসা দরকার।
যুগান্তর : আমাদের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে ব্যবধান বিরাজ করছে- এ কথা তো সত্য? ব্যবধান ঘোচানো সম্ভব হবে?
ই.আ. : মনে করা হয়, একটা দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি, সামাজিক অবস্থাগুলো একসঙ্গে এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশের বেলায় কতগুলো এগিয়ে গেছে। কতগুলো পিছিয়ে গেছে। একসময় বাংলাদেশের রাজনীতি অনেক এগিয়েছিল। রাজনীতি এগিয়েছিল বলেই এদেশের মানুষ স্বপ্ন দেখেছিল, বাংলাদেশ আলাদা দেশ হতে পারে। মুক্তিযুদ্ধ- এটাও রাজনীতির বিষয়। কিন্তু স্বাধীনতার পর দেখা গেছে, রাজনীতির মধ্যে এমন কতগুলো সমস্যা তৈরি হয়েছে যার সমাধান হচ্ছে না। মানব উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশ ভারত ও পাকিস্তানের চেয়েও এগিয়ে আছে। অর্থনীতির ক্ষেত্রেও কয়েকটি বিষয়ে আমরা এগিয়ে গেছি। কিন্তু রাজনীতি, যেটা এগিয়েছিল, বিশেষ করে গণতন্ত্র-গণতন্ত্রায়ন, এ জায়গাটায় আমরা পিছিয়ে গেছি। এদিকে আমাদের দৃষ্টি দেয়া দরকার। গণতন্ত্র মানেই নির্বাচন- এমন একটা ভাবনা আমাদের কাজ করে। গণতন্ত্র মানে শুধু নির্বাচন নয়। নির্বাচন তো হিটলারও করেছিল, মুসোলিনিও করেছে। নরেন্দ্র মোদিও নির্বাচন করেই জিতেছে। কিন্তু চিন্তার জগতে গণতন্ত্রায়ন, সিভিল সোসাইটির গণতন্ত্রায়ন, রাজনৈতিক দলের মধ্যে গণতন্ত্রায়ন এসব ক্ষেত্রে আমরা একটা জায়গায় আটকে আছি। এ জায়গাটায় বাংলাদেশের জনগণের দৃষ্টি দিতে হবে।
যুগান্তর : আশাবাদী হওয়ার মতো কোনো বিষয় কি সার্কে এখনও অবশিষ্ট আছে?
ই.আ. : এবারের সার্ক নিয়ে সবারই একটা আশাবাদ ছিল- হয়তো একটা ব্রেকথ্রু আসবে। এর একটা বড় কারণ ছিল নরেন্দ্র মোদি। নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতা গ্রহণের পর বেশকিছু পদক্ষেপ নেয়ায় এ আশাটা তৈরি হয়েছিল। সেই জায়গাটায় আশাভঙ্গ হয়েছে। দেখা গেছে, চিরাচরিতভাবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথম দিন তিনি হ্যান্ডশেকই করলেন না। দ্বিতীয় দিন করলেন। আমি যদি দ্বিতীয় দিন করি, তাহলে প্রথম দিন কেন নয়? ঘুরেফিরে দেখা যাচ্ছে, তারা ’৪৭ থেকে বের হয়ে আসতে পারছেন না। এখন অনেকেই বলতে শুরু করেছেন, আমরা সাব-রিজিওনাল করব। সার্ক নামটাই কিন্তু সাব-রিজিওনাল। কিন্তু যতই সাব করা হোক, রিজিয়নটা তো রাখতেই হবে। না রাখার মানে হল, আমি আমার একটা হাতের যত্ন নেব, অন্য হাতের দিকে তাকাবই না। এ জায়গাটায় সিরিয়াসলি চিন্তা করা উচিত। রিজিয়নের একটা জায়গা যদি অনুন্নত থাকে, জঙ্গিবাদ বিরাজ করে, তার প্রভাব কিন্তু অন্য জায়গায়ও পড়বে।
যুগান্তর : আমাদের বিরোধীদলীয় নেত্রী চীনকে সার্কের সদস্য করার দাবি তুলেছেন।
ই. আ. : চীন নিজেও বলেছে, তারা এলিভেটেড হতে চায়। চীনের অবজারভার স্ট্যাটাস বাড়ানোর কথা নেপাল, মালদ্বীপ, পাকিস্তান, এমনকি শ্রীলংকাও বলেছে। মজার ব্যাপার হল, দিল্লিতে এক ধরনের মানসিকতা রয়েছে- চীনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে হলে আমি রাখব। আর তোমরা আমার সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে। এ মানসিকতায় পরিবর্তন আনা দরকার। দেখা হচ্ছে, সার্কের ব্যাপারে বড় কোনো দায়িত্বই এবার বাংলাদেশ নেয়নি। ভারত যা বলেছে, তাই বলা হয়েছে। ফরেন পলিসিতে একটা বিষয় সব সময় খেয়াল রাখতে হবে- আমি তখনই বড় আকারের কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলতে পারব, যখন আমার অবস্থা খুব শক্তিশালী হবে। সরকার ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে অস্বস্তিতে আছে। তারা হয়তো ভাবছেন, নরেন্দ্র মোদিকে ক্ষ্যাপালে তিনি সাপোর্ট নাও করতে পারেন। নিজের পায়ে শক্ত অবস্থানে দাঁড়িয়ে থাকার মতো অবস্থায় সরকারের থাকলে একটা পদক্ষেপ নিতে পারত। ভারতের সঙ্গে চীনের অলরেডি ৬০ বিলিয়ন প্লাস একটা ট্রেডিং রেজিম হয়ে গেছে। লার্জেস্ট সিঙ্গেল কান্ট্রি ট্রেডিং রেজিম যদি আমরা ধরি তাহলে দেখা যাচ্ছে, সেটা হচ্ছে ভারতের। তার মানে, সে তো ’৫২-তে নেই। ভারতও ভালো করেই জানে, দিন দিন চীনের সঙ্গে তার সম্পর্ক আরও গভীর হচ্ছে। কিন্তু ওই যে মানসিকতাটা আছে, বিশেষ করে তাদের আমলাতন্ত্রের মানসিকতা হল- প্রতিবেশীরা আমাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে। চীনের সঙ্গে রাখবে না। এর বাইরে যাওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের আগ্রহ না থাকায় চীনের ব্যাপারে সেভাবে উদ্যোগী হয়নি। এতে কিন্তু পুরো উপমহাদেশেরই ক্ষতি হচ্ছে। চীনের বড় ধরনের একটা সারপ্লাস ক্যাপিটেল আছে। সে ইনভেস্ট করার ক্ষমতা রাখে। স্বাভাবিকভাবে বিরোধী দল দেখল, এটা তার জন্য একটা সুযোগ। তারা জানে, তাদেরও আন্তর্জাতিক সমর্থন দরকার। তখন তারা এগিয়ে গিয়ে বলল, চীনকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এ কাজটা যদি শেখ হাসিনা করে ফেলতেন, তাহলে হয়তো অপশন থাকত না। তারা চুপচাপ থাকত।
যুগান্তর : জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘জলবায়ু পরিষদ’ গঠন করার প্রস্তাব দিয়েছেন। এটাকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
ই.আ.: এগুলো দীর্ঘমেয়াদি বিষয়। এখানে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু করার নেই। এ ধরনের সম্মেলনে কিছু জিনিস নিয়ে আসা হয়- এটাও নিয়ে আসা হয়েছে।
যুগান্তর : সার্কভুক্ত ৬ দেশে অভিন্ন ভিসা পদ্ধতির উদ্যোগ সম্পর্কে বলুন। জঙ্গিবাদ কি এক্ষেত্রে কোনো বাধা?
ই.আ.: আমাদের দিক থেকে এ ধরনের একটা দাবি ছিল। আমরা এটা নিয়ে কাজও করেছিলাম। বাংলাদেশের সঙ্গে যেসব দেশের অন অ্যারাইভ্যাল ভিসা আছে- আমরা একটা পাসপোর্ট ইউনিয়ন করব। ভুটান, নেপাল, শ্রীলংকা, মালদ্বীপ আমরা অন-অ্যারাইভাল ভিসা করি। এ ব্যাপারে নরেন্দ্র মোদির বোধহয় একটা প্রস্তাব ছিল। আমাদের মন থেকে একটা জিনিস সরাতে হবে- জঙ্গিবাদের সঙ্গে ভিসা রেজিমের কোনো সম্পর্ক নেই। কেউ যদি জঙ্গিবাদ করতে চায়, তাহলে ভিসা সে ভালো করেই পাবে। কারণ সে জানে ভিসা কিভাবে পেতে হয়?
যুগান্তর : কাঠমান্ডু ঘোষণায় অনুপ্রাণিত হওয়ার মতো কিছু আছে কি?
ই.আ.: সার্কের এবারের ঘোষণা নিয়ে আমি খুব এক্সাইটেড হইনি। আমার কাছে মনে হয়েছে, আমরা ব্যাক টু স্কয়ার ওয়ান। সেই যে আগের পাকিস্তান-ভারতের যে বিষয়- এখানে হ্যান্ডশেকটাই হয়ে গেল বড় খবর।
যুগান্তর : সার্কভুক্ত দেশে সড়ক ও রেল ট্রানজিট হলে বাংলাদেশ কতটুকু লাভবান হবে?
ই.আ.: প্রথমত, সড়ক ও রেল ট্রানজিট হওয়ার জন্য যে অবকাঠামো দরকার, বাংলাদেশের সেটা নেই। ঢাকা বা চট্টগ্রামের ট্রাফিক সিস্টেমই আমরা ঠিক করতে পারিনি। কাজেই অবকাঠামো না হওয়া পর্যন্ত এটা সমস্যা হয়েই থাকবে। আরেকটা বিষয় দেখতে হবে- এটা বাংলাদেশের জনগণের কোনো উপকারে আসছে কিনা। দেশের মানুষ যদি এ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো উপকার না পায়, তাহলে এটা রাজনৈতিকভাবে একটা সমস্যা হয়ে থাকবে।
যুগান্তর : আন্তর্জাতিক মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে দেশে-বিদেশে প্রশ্ন উঠেছে। কেন?
ই.আ.: এখানে একটা বড় ডেফিসিট হচ্ছে, যুদ্ধাপরাধের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক মহলকে পরিষ্কারভাবে অবহিত করার কোনো পরিকল্পনা নিয়ে আমরা অগ্রসর হইনি। বাংলাদেশের গণহত্যা সম্পর্কে সারা পৃথিবীকে জানানো এবং তাদের বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি কনফারেন্স করে বোঝানোর গুরুত্বটা আমরা উপলব্ধি করতে পারিনি। ফলে যারা বিপক্ষ দল, এতে তাদের সুবিধা হয়ে গেছে। তারা তো বিদেশে গিয়ে ক্যাম্পেইনটা ঠিকই করে ফেলেছে।
যুগান্তর : অর্থাৎ আমাদের অস্পষ্টতার সুযোগ নেয়া হচ্ছে?
ই.আ.: ঠিক। আমার তো এখানে ঢেকে রাখার কিছু নেই। সংখ্যার বিতর্ক বাদ দিলেও গণহত্যার বিষয়টি তো প্রতিষ্ঠিত সত্য। সেই জায়গাটায় সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে পুরো বিষয়টি যে জায়গায় নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল, সেখানে ঘাটতি রয়ে গেছে।
যুগান্তর : পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর বিচারের প্রশ্ন উঠেছে। বিচার করা যাবে কি?
ই.আ.: যে চুক্তি হয়েছে, তাতে এটা একেবারেই সম্ভব নয়। কেবল পাকিস্তানের মধ্যে জনমত তৈরি করেই এটা করা সম্ভব। পাকিস্তানের জনগণ যখন দেখবে- এরা আসলেই যুদ্ধাপরাধী, তারা বেসামরিক মানুষকে মেরেছে, নারী ধর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েছে, তখন পাকিস্তানের আইনস্বীকৃত অপরাধ হিসেবেই এর বিচার হবে। একটা ভুল হয়েছে, ১৯৫ জনের ট্রায়ালটা করা উচিত ছিল। তাহলে আমার হাতে প্রমাণ থাকত। অবশ্য তখন একটা কমপালশন ছিল, পাকিস্তানের স্বীকৃতির একটা ব্যাপার ছিল, বাংলাদেশীদের দেশে আনার একটা ব্যাপার ছিল। তারপরও আমরা যদি প্রমাণ রেখে দিতে পারতাম, পাকিস্তানের তরুণ প্রজন্ম দেখত যে, এরা আসলেই যুদ্ধাপরাধী।
যুগান্তর : কোন প্রেক্ষাপটে একটা দেশে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধি পায়?
ই.আ. : বাংলাদেশে দুটি জিনিস ধরা পড়ছে। একটা হল, মাঝে মাঝেই আমরা দেখি- এখানে অস্ত্র পাওয়া যাচ্ছে, ওখানে পাওয়া যাচ্ছে- পরে ওই বিষয়ে আর কোনো আলোচনা দেখি না। তাতে সন্দেহ হয়, এসব খবর কেউ তৈরি করছে কিনা? মূলত এ ধরনের খবরগুলো তৈরি করা হয় সহানুভূতি পাওয়ার জন্য- যাতে বলা যায়, বাংলাদেশে এখনও সমস্যা রয়ে গেছে ইত্যাদি। একেক সময় একেক নিউজ দেয়া হচ্ছে। এভাবে বলতে থাকলে সত্যিকারের সমস্যার সময় মানুষ কিন্তু এসব বিশ্বাস করবে না।
যুগান্তর : রাখাল বালকের গল্পের মতো?
ই.আ. : ঠিক। বিষয়টা ওই রকমই হয়ে গেছে। দেখা যাচ্ছে, বিদেশী কেউ এখানে এলে বা আসার আগে-পরে এ রকম একটা কিছু হয়। শুধু বাংলাদেশ নয়, উপমহাদেশের বা পৃথিবীর বড় একটা অংশে অস্ত্র চোরাচালানের নেটওয়ার্ক আছে। অবৈধ অস্ত্রের একটা বিলিয়ন ডলারের মার্কেট কিন্তু বিশ্বব্যাপী রয়েছে। সেখানে বাংলাদেশ যে একটা চ্যানেল হবে না, এটা ভাবা ঠিক নয়।
যুগান্তর : দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অস্ত্রের অভিযান বন্ধ থাকায় কি সন্ত্রাস বাড়ছে?
ই. আ. : যখন আমরা সন্ত্রাস বলি, তখন দুই ধরনের সন্ত্রাসের বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। আগে যারা সন্ত্রাসী ছিল- পিচ্চি হান্নান, মুরগি মিলন, কালা জাহাঙ্গীর- এদের সন্ত্রাসটা যে প্যাটার্নের ছিল, সেখানে একটা মৌলিক পরিবর্তন এসেছে। সন্ত্রাসীদের কাছে এখন একে-৪৭সহ অন্যান্য অস্ত্র চলে এসেছে। সন্ত্রাসীরা এখন আর ক্ষুদ্র অস্ত্র দিয়ে সন্ত্রাস করছে না। এই হল একটা দিক। দ্বিতীয় দিকটা হল, ধর্মের নামে যে সন্ত্রাস হচ্ছে, যে অসহিষ্ণু ধারা তৈরি হয়েছে, তারাও কিন্তু বাজারে গেলে অস্ত্র পাচ্ছে।
যুগান্তর : অস্ত্রের সহজলভ্যতার সঙ্গে জঙ্গিবাদের সম্পর্ক কতটুকু?
ই.আ. : অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার জঙ্গিবাদের আগেও ছিল। এটা সহজে থামবে না। আমাদের মধ্যে যদি একটা অসহিষ্ণু ধারা বজায় থাকে, আমাদের রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে বড় দুই দল যে রকম চোখাচুখি অবস্থায় আছে, সেটা অব্যাহত থাকলে সন্ত্রাসীরা অস্ত্রের মাধ্যমে কোথাও কোনো ঘটনা ঘটালে রাজনৈতিক দল একে অন্যকে দোষারোপ করবে এবং সহজেই পার পেয়ে যাবে। তাই হচ্ছে। তার মানে হল, বড় দুই রাজনৈতিক দলের এ বিভাজন সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের একটা শেড তৈরি করে দিচ্ছে।
যুগান্তর : সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিস্তার দেশের জনশক্তি রফতানি বা অভিবাসনের ক্ষেত্রে কতটুকু সমস্যা তৈরি করবে?
ই.আ. : প্রতি মাসে আমি যদি ঘোষণা দিই, অমুক জায়গায় এ অস্ত্র পাওয়া গেছে, অমুক সংগঠন আছে। তারপর কাউকে মেরে ফেলার পর বলা হল- এটা অমুক সংগঠনের কাজ, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই আন্তর্জাতিক মহলে একটা ইমেজ সংকট তৈরি হবে। এর ফলে স্বাভাবিকভাবে যে কোনো দেশের বর্ডার পোস্টে বাংলাদেশীদের আসার ব্যাপারে একটা সন্দেহ জাগবে। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের ইনডেক্স যদি দেখি- সেই ইনডেক্সে বাংলাদেশের অবস্থান ২৩। ভারত ৬ ও পাকিস্তান ৩ নম্বরে আছে। আমাদের মিডিয়া পাকিস্তানের দিকে নজর দিল না, ভারত যে ৬ নম্বরে সেটাও কেউ দেখল না। সব নজর পড়ল প্রথম ১০-এর ঘরেও যে নেই, ২৩ নম্বরে থাকা বাংলাদেশের ওপর। সবাই বলা শুরু করল, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ বেড়ে যাচ্ছে। যেখানে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ হচ্ছে, সে দেশ দুটির ওপর আমি দৃষ্টি কেন দিলাম না, কেউ জানে না।
যুগান্তর : মিডিয়া তো খবর তৈরি করে না, সার্ভ করে। মিডিয়াকে ঢালাওভাবে দোষারোপ করা কি ঠিক?
ই.আ.: না, আমি মিডিয়াকে এখানে দোষ দেব না। আমার মনে হয়, আমাদের এখানে যে ইন্টেলেকচ্যুয়াল বা পলিটিক্যাল সার্কেল আছে, সেখানটায় সমস্যাটা রয়ে গেছে। আমাদের সিকিউরিটি সম্পর্কে পার্শ্ববর্তী দেশ যা বলছে, আমরা সেটাই মেনে নিচ্ছি। অথচ বিদেশে বলা হয়, বাংলাদেশ ইন্ডিয়া-পাকিস্তানের চেয়ে অনেক পিসফুল। তারা বলে, হোয়াই পিপলস টকিং অ্যাবাউট সিকিউরিটি প্রবলেম অব বাংলাদেশ? এদেশে যেটাকে রিস্ক বলা হচ্ছে, সেটা কিন্তু বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও নারী নির্যাতনের কারণে। জঙ্গিবাদের কারণে নয়। আমি মনে করি, বাংলাদেশ ইন্ডিয়া-পাকিস্তানের চেয়ে অনেক ভালো অবস্থানে আছে।
যুগান্তর : তাহলে আমরা এর প্রতিবাদ করছি না কেন?
ই. আ.: প্রতিবাদ হচ্ছে না পরস্পর পরস্পরকে দায়ী করার কারণে। এক দল আরেক দলের ওপর দোষ চাপানোর কারণে। এখানে একটা পরিবর্তন আসা দরকার। অনেক সময় দেখা যায়, সরকার নিজেই এসব করে থাকে। সরকার নিজেই যদি প্রচার করে, তাহলে সেটার প্রতিবাদ কেমন করে হবে? আমি তো অবাক হয়ে গেছি- ভারতের এনআইএস ঘুরে গেল প্রথমে, আমরা অবশ্য পরে গেছি হৈচৈ হওয়ায়। কিন্তু হোয়াই ডু ইউ কাম টু মি? তুমি তো বিশ্বে ৬ নম্বর ঝুঁকির জায়গায় আছ। তোমার অবস্থার কারণেই আমার অবস্থা খারাপ।
যুগান্তর : আমাদের যাওয়া উচিত তাদের অবস্থা দেখতে?
ই. আ. : ঠিক। কিছুদিন আগে মাওবাদীরা ভারতের ১৯ জন পুলিশকে মেরে ফেলল। সেই নিউজ এসেছে পত্রিকার ভেতরের পৃষ্ঠায়, মাত্র ৪ লাইনে। আমাদের এখানে একটা সামান্য ঘটনা ঘটলেও সেটা বিশাল আকারে প্রকাশিত হয়। অথচ ভারতে ১৯ জন পুলিশ মেরে ফেলা হল, আমরা এটাকে নিউজই মনে করলাম না। আমরা ভাবলাম, হেডলাইন তো পরের কথা, নিউজ করাটাই বোধহয় ঠিক হবে না।
যুগান্তর : আপনি সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। এ সম্পর্কে বলুন।
ই.আ. : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেহেতু ’৭১ সালে গণহত্যার ঘটনা ঘটেছে- কর্তৃপক্ষ মনে করল এ নিয়ে গবেষণা ও চর্চা হওয়া দরকার। সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ এ লক্ষ্যেই গড়ে উঠেছে। এটা ফ্যাকাল্টি অব সোশ্যাল সায়েন্সের অধীনে তিন মাস মেয়াদি ডিপ্লোমা কোর্স পরিচালনা করছে।
যুগান্তর : মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি নিয়ে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস কি তুলে ধরতে পারবে?
ই.আ. : এটা গবেষণার বিষয়। আমরা এ লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছি।
যুগান্তর : আপনার কি মনে হয়নি, স্বাধীনতার পরপরই এ ধরনের একটি সেন্টার গড়ে তোলা উচিত ছিল আমাদের?
ই.আ. : আমি একটু অবাক হয়েছি- এটা কেন তখন কেউ চিন্তা করেনি? আমরাও বলতে গেলে অনেক পরে চিন্তা করেছি।
যুগান্তর : সঙ্গে সঙ্গে করলে ইতিহাস নিয়ে বিতর্কের সুযোগ থাকত না!
ই.আ. : হ্যাঁ। সঙ্গে সঙ্গে করা গেলে আজকে যেসব ডকুমেন্ট নিয়ে সমস্যা হচ্ছে, সেটা হতো না। সেগুলো উদ্ধার করতে গিয়ে এখন অনেক কষ্ট করতে হচ্ছে।
যুগান্তর : সময়ের এক ফোঁড়, অসময়ের নয় ফোঁড়।
ই.আ. : একজাক্টলি। তবে আমি মনে করি, শুরু তো করা গেছে। লেট ইজ বেটার দ্যান নাথিং।
যুগান্তর : করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনাটা বলুন তো!
ই.আ. : করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা আন্তর্জাতিক কনফারেন্সের জন্য আমাকে কী-নোট পেপার দিতে অনুরোধ করা হয়েছিল। এর সঙ্গে ’৭১-এর কোনো সম্পর্ক নেই। আমি রাজি হয়েছিলাম। পাকিস্তান হাইকমিশন আমাকে ৬ মাসের ভিসাও দিয়েছিল। দু’দিন পর করাচি বিশ্ববিদ্যালয় জানাল- আমরা দুঃখিত, তোমার আসাটা বন্ধ করতে হবে। পরে জেনেছি, একটা ছাত্র সংগঠন ভিসিকে বলেছে, অধ্যাপক আহমেদকে আমরা এখানে আসতে দেব না। কেন দেব না- কারণ সে ’৭১-এর গণহত্যার ওপর কাজ করে। বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীকে ধরার জন্য অধ্যাপক আহমেদের বই ব্যবহার করা হয়েছে। ইত্যাদি। একজন বাংলাদেশী ’৭১ নিয়ে লিখবেন- এটাই তো স্বাভাবিক। আমার মনে হয়, শুধু পাকিস্তান নয়, গোটা দক্ষিণ এশিয়া একটা অসহিষ্ণুতার জায়গায় চলে যাচ্ছে।
যুগান্তর : চিন্তা-চেতনার দিক থেকে পাকিস্তান এখনও একই জায়গায় ঘুরপাক খাচ্ছে- এ কথা বলা অন্যায় হবে কি?
ই.আ. : মজার ব্যাপার হচ্ছে, পাকিস্তানের মিডিয়াগুলো আমার পক্ষ নিয়ে কথা বলেছে। এ নিয়ে ওদের মধ্যেও অস্বস্তিকর একটা ভাব তৈরি হয়েছে। আমি বলব- বিষয়টা নিয়ে তারা যেন ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করেন। যারা গবেষণা করেন বা কথা বলেন, অন্তত সেসব জায়গায় যেন কোনো বাধা না আসে।
যুগান্তর : আপনাকে ধন্যবাদ।
ই. আ. : আপনাকেও ধন্যবাদ।
ইমতিয়াজ আহমেদ : মূলত ডে অব সেলিব্রেশন হিসেবে দেশের মানুষ দিনটি উদযাপন করবে। তবে যেহেতু বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখনও কতগুলো বিষয়ের সমাধান হয়নি- যেমন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, অন্য কথায় নির্বাচনের বিষয়টি এখনও সমাধান হয়নি, তাই অনেকেরই আশা থাকবে- ১৬ ডিসেম্বরের পরে এটা একটা সমাধানের দিকে যাবে। আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান হবে, না বিরোধী দলের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে হবে, না আন্তর্জাতিক চাপের মুখে হবে, নাকি একসঙ্গে সব মিলে হবে- সেটা এ মুহূর্তে বলা মুশকিল। যাই হোক, দেশবাসীর একটা বড় প্রত্যাশা থাকবে- যে অস্বস্তিকর পরিবেশ বিরাজ করছে, ১৬ ডিসেম্বরের পর তার একটা সমাধান হবে। মানুষ যেন এ দিনটাকে ধরে চিন্তা করতে পারে, আমরা একটা ভালো ভবিষ্যতের দিকে যাচ্ছি।
যুগান্তর : স্বাধীনতাকে কতটা অর্থবহ মনে করেন আপনি?
ই.আ. : এ প্রশ্নটা মাঝে মধ্যেই ওঠে। ওঠার কারণ- এন্ড অব ইমাজিনেশন। আমরা বোধহয় আর ভাবতে পারছি না জাতি হিসেবে কোথায় যাব? বারবার পিছিয়ে যাচ্ছি- মনে হচ্ছে, যেন এটাই আমাদের নিয়তি। তবে এ কথা তো স্বীকার করতেই হবে, নানা ধরনের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। এটা কোনো ব্যক্তির কৃতিত্ব নয়। জনগণের কৃতিত্ব। সেই হিসেবে আমি মনে করি, পেছনে চোখ রাখার চেয়ে সামনের দিকে তাকিয়ে আমরা কতদূর যেতে পারি- সেই ইমাজিনেশনটা তৈরি করা উচিত। সেই স্বপ্ন তৈরি করা উচিত। আমাদের স্বপ্নের অভাব রয়েছে। ঘুরেফিরে আমরা এক জায়গায় আটকে যাচ্ছি। শুধু আমরা নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়াই আটকে গেছে। ভারত-পাকিস্তান যেমন ’৪৭-এ আটকে গেছে। আমরাও মনে হয় ’৭১-এ আটকে গেছি। বাংলাদেশ যে আরও বড় একটা জায়গায় যেতে পারে, আরও সাংঘাতিক একটা অবস্থান তৈরি করতে পারে- সেই বিশ্বাসটা খুব কম মানুষের মধ্যেই আছে। এক ধরনের অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে মানুষের মধ্যে। স্বাধীনতার ৪৩ বছর পরও মানুষ যা বলাবলি করছে, এ জায়গায় একটা পরিবর্তন আসা দরকার। ’৭১-এ বসে আমরা কিন্তু ভাবতে পারিনি, রেডিমেড গার্মেন্টে আমরা বিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে জায়গা করে নেব। ’৭১-এ বসে আমরা কিন্তু ভাবিনি- বাংলাদেশ শান্তি রক্ষায় এক নম্বর হয়ে থাকবে। আমরা ভাবিনি, বাংলাদেশ সবচেয়ে বড় এনজিও তৈরি করতে পারবে। এর বাইরে নোবেল পুরস্কারসহ অন্যান্য কনট্রিবিউশন তো আছেই। জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ পৃথিবীর সপ্তম দেশ। মানুষই তো বড় কথা। মানুষ যদি বড় হয়ে থাকে, তাহলে পৃথিবীর সপ্তম বৃহৎ দেশ হল বাংলাদেশ। সেই সপ্তম বৃহৎ দেশের যে অহংকার, যে স্বপ্ন- সেটা আমি দেখি না। ঘুরেফিরে কতগুলো আলোচনা হয়- এখানে মনে হয় একটা পরিবর্তন আসা দরকার।
যুগান্তর : আমাদের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে ব্যবধান বিরাজ করছে- এ কথা তো সত্য? ব্যবধান ঘোচানো সম্ভব হবে?
ই.আ. : মনে করা হয়, একটা দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি, সামাজিক অবস্থাগুলো একসঙ্গে এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশের বেলায় কতগুলো এগিয়ে গেছে। কতগুলো পিছিয়ে গেছে। একসময় বাংলাদেশের রাজনীতি অনেক এগিয়েছিল। রাজনীতি এগিয়েছিল বলেই এদেশের মানুষ স্বপ্ন দেখেছিল, বাংলাদেশ আলাদা দেশ হতে পারে। মুক্তিযুদ্ধ- এটাও রাজনীতির বিষয়। কিন্তু স্বাধীনতার পর দেখা গেছে, রাজনীতির মধ্যে এমন কতগুলো সমস্যা তৈরি হয়েছে যার সমাধান হচ্ছে না। মানব উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশ ভারত ও পাকিস্তানের চেয়েও এগিয়ে আছে। অর্থনীতির ক্ষেত্রেও কয়েকটি বিষয়ে আমরা এগিয়ে গেছি। কিন্তু রাজনীতি, যেটা এগিয়েছিল, বিশেষ করে গণতন্ত্র-গণতন্ত্রায়ন, এ জায়গাটায় আমরা পিছিয়ে গেছি। এদিকে আমাদের দৃষ্টি দেয়া দরকার। গণতন্ত্র মানেই নির্বাচন- এমন একটা ভাবনা আমাদের কাজ করে। গণতন্ত্র মানে শুধু নির্বাচন নয়। নির্বাচন তো হিটলারও করেছিল, মুসোলিনিও করেছে। নরেন্দ্র মোদিও নির্বাচন করেই জিতেছে। কিন্তু চিন্তার জগতে গণতন্ত্রায়ন, সিভিল সোসাইটির গণতন্ত্রায়ন, রাজনৈতিক দলের মধ্যে গণতন্ত্রায়ন এসব ক্ষেত্রে আমরা একটা জায়গায় আটকে আছি। এ জায়গাটায় বাংলাদেশের জনগণের দৃষ্টি দিতে হবে।
যুগান্তর : আশাবাদী হওয়ার মতো কোনো বিষয় কি সার্কে এখনও অবশিষ্ট আছে?
ই.আ. : এবারের সার্ক নিয়ে সবারই একটা আশাবাদ ছিল- হয়তো একটা ব্রেকথ্রু আসবে। এর একটা বড় কারণ ছিল নরেন্দ্র মোদি। নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতা গ্রহণের পর বেশকিছু পদক্ষেপ নেয়ায় এ আশাটা তৈরি হয়েছিল। সেই জায়গাটায় আশাভঙ্গ হয়েছে। দেখা গেছে, চিরাচরিতভাবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথম দিন তিনি হ্যান্ডশেকই করলেন না। দ্বিতীয় দিন করলেন। আমি যদি দ্বিতীয় দিন করি, তাহলে প্রথম দিন কেন নয়? ঘুরেফিরে দেখা যাচ্ছে, তারা ’৪৭ থেকে বের হয়ে আসতে পারছেন না। এখন অনেকেই বলতে শুরু করেছেন, আমরা সাব-রিজিওনাল করব। সার্ক নামটাই কিন্তু সাব-রিজিওনাল। কিন্তু যতই সাব করা হোক, রিজিয়নটা তো রাখতেই হবে। না রাখার মানে হল, আমি আমার একটা হাতের যত্ন নেব, অন্য হাতের দিকে তাকাবই না। এ জায়গাটায় সিরিয়াসলি চিন্তা করা উচিত। রিজিয়নের একটা জায়গা যদি অনুন্নত থাকে, জঙ্গিবাদ বিরাজ করে, তার প্রভাব কিন্তু অন্য জায়গায়ও পড়বে।
যুগান্তর : আমাদের বিরোধীদলীয় নেত্রী চীনকে সার্কের সদস্য করার দাবি তুলেছেন।
ই. আ. : চীন নিজেও বলেছে, তারা এলিভেটেড হতে চায়। চীনের অবজারভার স্ট্যাটাস বাড়ানোর কথা নেপাল, মালদ্বীপ, পাকিস্তান, এমনকি শ্রীলংকাও বলেছে। মজার ব্যাপার হল, দিল্লিতে এক ধরনের মানসিকতা রয়েছে- চীনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে হলে আমি রাখব। আর তোমরা আমার সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে। এ মানসিকতায় পরিবর্তন আনা দরকার। দেখা হচ্ছে, সার্কের ব্যাপারে বড় কোনো দায়িত্বই এবার বাংলাদেশ নেয়নি। ভারত যা বলেছে, তাই বলা হয়েছে। ফরেন পলিসিতে একটা বিষয় সব সময় খেয়াল রাখতে হবে- আমি তখনই বড় আকারের কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলতে পারব, যখন আমার অবস্থা খুব শক্তিশালী হবে। সরকার ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে অস্বস্তিতে আছে। তারা হয়তো ভাবছেন, নরেন্দ্র মোদিকে ক্ষ্যাপালে তিনি সাপোর্ট নাও করতে পারেন। নিজের পায়ে শক্ত অবস্থানে দাঁড়িয়ে থাকার মতো অবস্থায় সরকারের থাকলে একটা পদক্ষেপ নিতে পারত। ভারতের সঙ্গে চীনের অলরেডি ৬০ বিলিয়ন প্লাস একটা ট্রেডিং রেজিম হয়ে গেছে। লার্জেস্ট সিঙ্গেল কান্ট্রি ট্রেডিং রেজিম যদি আমরা ধরি তাহলে দেখা যাচ্ছে, সেটা হচ্ছে ভারতের। তার মানে, সে তো ’৫২-তে নেই। ভারতও ভালো করেই জানে, দিন দিন চীনের সঙ্গে তার সম্পর্ক আরও গভীর হচ্ছে। কিন্তু ওই যে মানসিকতাটা আছে, বিশেষ করে তাদের আমলাতন্ত্রের মানসিকতা হল- প্রতিবেশীরা আমাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে। চীনের সঙ্গে রাখবে না। এর বাইরে যাওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের আগ্রহ না থাকায় চীনের ব্যাপারে সেভাবে উদ্যোগী হয়নি। এতে কিন্তু পুরো উপমহাদেশেরই ক্ষতি হচ্ছে। চীনের বড় ধরনের একটা সারপ্লাস ক্যাপিটেল আছে। সে ইনভেস্ট করার ক্ষমতা রাখে। স্বাভাবিকভাবে বিরোধী দল দেখল, এটা তার জন্য একটা সুযোগ। তারা জানে, তাদেরও আন্তর্জাতিক সমর্থন দরকার। তখন তারা এগিয়ে গিয়ে বলল, চীনকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এ কাজটা যদি শেখ হাসিনা করে ফেলতেন, তাহলে হয়তো অপশন থাকত না। তারা চুপচাপ থাকত।
যুগান্তর : জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘জলবায়ু পরিষদ’ গঠন করার প্রস্তাব দিয়েছেন। এটাকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
ই.আ.: এগুলো দীর্ঘমেয়াদি বিষয়। এখানে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু করার নেই। এ ধরনের সম্মেলনে কিছু জিনিস নিয়ে আসা হয়- এটাও নিয়ে আসা হয়েছে।
যুগান্তর : সার্কভুক্ত ৬ দেশে অভিন্ন ভিসা পদ্ধতির উদ্যোগ সম্পর্কে বলুন। জঙ্গিবাদ কি এক্ষেত্রে কোনো বাধা?
ই.আ.: আমাদের দিক থেকে এ ধরনের একটা দাবি ছিল। আমরা এটা নিয়ে কাজও করেছিলাম। বাংলাদেশের সঙ্গে যেসব দেশের অন অ্যারাইভ্যাল ভিসা আছে- আমরা একটা পাসপোর্ট ইউনিয়ন করব। ভুটান, নেপাল, শ্রীলংকা, মালদ্বীপ আমরা অন-অ্যারাইভাল ভিসা করি। এ ব্যাপারে নরেন্দ্র মোদির বোধহয় একটা প্রস্তাব ছিল। আমাদের মন থেকে একটা জিনিস সরাতে হবে- জঙ্গিবাদের সঙ্গে ভিসা রেজিমের কোনো সম্পর্ক নেই। কেউ যদি জঙ্গিবাদ করতে চায়, তাহলে ভিসা সে ভালো করেই পাবে। কারণ সে জানে ভিসা কিভাবে পেতে হয়?
যুগান্তর : কাঠমান্ডু ঘোষণায় অনুপ্রাণিত হওয়ার মতো কিছু আছে কি?
ই.আ.: সার্কের এবারের ঘোষণা নিয়ে আমি খুব এক্সাইটেড হইনি। আমার কাছে মনে হয়েছে, আমরা ব্যাক টু স্কয়ার ওয়ান। সেই যে আগের পাকিস্তান-ভারতের যে বিষয়- এখানে হ্যান্ডশেকটাই হয়ে গেল বড় খবর।
যুগান্তর : সার্কভুক্ত দেশে সড়ক ও রেল ট্রানজিট হলে বাংলাদেশ কতটুকু লাভবান হবে?
ই.আ.: প্রথমত, সড়ক ও রেল ট্রানজিট হওয়ার জন্য যে অবকাঠামো দরকার, বাংলাদেশের সেটা নেই। ঢাকা বা চট্টগ্রামের ট্রাফিক সিস্টেমই আমরা ঠিক করতে পারিনি। কাজেই অবকাঠামো না হওয়া পর্যন্ত এটা সমস্যা হয়েই থাকবে। আরেকটা বিষয় দেখতে হবে- এটা বাংলাদেশের জনগণের কোনো উপকারে আসছে কিনা। দেশের মানুষ যদি এ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো উপকার না পায়, তাহলে এটা রাজনৈতিকভাবে একটা সমস্যা হয়ে থাকবে।
যুগান্তর : আন্তর্জাতিক মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে দেশে-বিদেশে প্রশ্ন উঠেছে। কেন?
ই.আ.: এখানে একটা বড় ডেফিসিট হচ্ছে, যুদ্ধাপরাধের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক মহলকে পরিষ্কারভাবে অবহিত করার কোনো পরিকল্পনা নিয়ে আমরা অগ্রসর হইনি। বাংলাদেশের গণহত্যা সম্পর্কে সারা পৃথিবীকে জানানো এবং তাদের বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি কনফারেন্স করে বোঝানোর গুরুত্বটা আমরা উপলব্ধি করতে পারিনি। ফলে যারা বিপক্ষ দল, এতে তাদের সুবিধা হয়ে গেছে। তারা তো বিদেশে গিয়ে ক্যাম্পেইনটা ঠিকই করে ফেলেছে।
যুগান্তর : অর্থাৎ আমাদের অস্পষ্টতার সুযোগ নেয়া হচ্ছে?
ই.আ.: ঠিক। আমার তো এখানে ঢেকে রাখার কিছু নেই। সংখ্যার বিতর্ক বাদ দিলেও গণহত্যার বিষয়টি তো প্রতিষ্ঠিত সত্য। সেই জায়গাটায় সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে পুরো বিষয়টি যে জায়গায় নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল, সেখানে ঘাটতি রয়ে গেছে।
যুগান্তর : পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর বিচারের প্রশ্ন উঠেছে। বিচার করা যাবে কি?
ই.আ.: যে চুক্তি হয়েছে, তাতে এটা একেবারেই সম্ভব নয়। কেবল পাকিস্তানের মধ্যে জনমত তৈরি করেই এটা করা সম্ভব। পাকিস্তানের জনগণ যখন দেখবে- এরা আসলেই যুদ্ধাপরাধী, তারা বেসামরিক মানুষকে মেরেছে, নারী ধর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েছে, তখন পাকিস্তানের আইনস্বীকৃত অপরাধ হিসেবেই এর বিচার হবে। একটা ভুল হয়েছে, ১৯৫ জনের ট্রায়ালটা করা উচিত ছিল। তাহলে আমার হাতে প্রমাণ থাকত। অবশ্য তখন একটা কমপালশন ছিল, পাকিস্তানের স্বীকৃতির একটা ব্যাপার ছিল, বাংলাদেশীদের দেশে আনার একটা ব্যাপার ছিল। তারপরও আমরা যদি প্রমাণ রেখে দিতে পারতাম, পাকিস্তানের তরুণ প্রজন্ম দেখত যে, এরা আসলেই যুদ্ধাপরাধী।
যুগান্তর : কোন প্রেক্ষাপটে একটা দেশে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধি পায়?
ই.আ. : বাংলাদেশে দুটি জিনিস ধরা পড়ছে। একটা হল, মাঝে মাঝেই আমরা দেখি- এখানে অস্ত্র পাওয়া যাচ্ছে, ওখানে পাওয়া যাচ্ছে- পরে ওই বিষয়ে আর কোনো আলোচনা দেখি না। তাতে সন্দেহ হয়, এসব খবর কেউ তৈরি করছে কিনা? মূলত এ ধরনের খবরগুলো তৈরি করা হয় সহানুভূতি পাওয়ার জন্য- যাতে বলা যায়, বাংলাদেশে এখনও সমস্যা রয়ে গেছে ইত্যাদি। একেক সময় একেক নিউজ দেয়া হচ্ছে। এভাবে বলতে থাকলে সত্যিকারের সমস্যার সময় মানুষ কিন্তু এসব বিশ্বাস করবে না।
যুগান্তর : রাখাল বালকের গল্পের মতো?
ই.আ. : ঠিক। বিষয়টা ওই রকমই হয়ে গেছে। দেখা যাচ্ছে, বিদেশী কেউ এখানে এলে বা আসার আগে-পরে এ রকম একটা কিছু হয়। শুধু বাংলাদেশ নয়, উপমহাদেশের বা পৃথিবীর বড় একটা অংশে অস্ত্র চোরাচালানের নেটওয়ার্ক আছে। অবৈধ অস্ত্রের একটা বিলিয়ন ডলারের মার্কেট কিন্তু বিশ্বব্যাপী রয়েছে। সেখানে বাংলাদেশ যে একটা চ্যানেল হবে না, এটা ভাবা ঠিক নয়।
যুগান্তর : দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অস্ত্রের অভিযান বন্ধ থাকায় কি সন্ত্রাস বাড়ছে?
ই. আ. : যখন আমরা সন্ত্রাস বলি, তখন দুই ধরনের সন্ত্রাসের বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। আগে যারা সন্ত্রাসী ছিল- পিচ্চি হান্নান, মুরগি মিলন, কালা জাহাঙ্গীর- এদের সন্ত্রাসটা যে প্যাটার্নের ছিল, সেখানে একটা মৌলিক পরিবর্তন এসেছে। সন্ত্রাসীদের কাছে এখন একে-৪৭সহ অন্যান্য অস্ত্র চলে এসেছে। সন্ত্রাসীরা এখন আর ক্ষুদ্র অস্ত্র দিয়ে সন্ত্রাস করছে না। এই হল একটা দিক। দ্বিতীয় দিকটা হল, ধর্মের নামে যে সন্ত্রাস হচ্ছে, যে অসহিষ্ণু ধারা তৈরি হয়েছে, তারাও কিন্তু বাজারে গেলে অস্ত্র পাচ্ছে।
যুগান্তর : অস্ত্রের সহজলভ্যতার সঙ্গে জঙ্গিবাদের সম্পর্ক কতটুকু?
ই.আ. : অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার জঙ্গিবাদের আগেও ছিল। এটা সহজে থামবে না। আমাদের মধ্যে যদি একটা অসহিষ্ণু ধারা বজায় থাকে, আমাদের রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে বড় দুই দল যে রকম চোখাচুখি অবস্থায় আছে, সেটা অব্যাহত থাকলে সন্ত্রাসীরা অস্ত্রের মাধ্যমে কোথাও কোনো ঘটনা ঘটালে রাজনৈতিক দল একে অন্যকে দোষারোপ করবে এবং সহজেই পার পেয়ে যাবে। তাই হচ্ছে। তার মানে হল, বড় দুই রাজনৈতিক দলের এ বিভাজন সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের একটা শেড তৈরি করে দিচ্ছে।
যুগান্তর : সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিস্তার দেশের জনশক্তি রফতানি বা অভিবাসনের ক্ষেত্রে কতটুকু সমস্যা তৈরি করবে?
ই.আ. : প্রতি মাসে আমি যদি ঘোষণা দিই, অমুক জায়গায় এ অস্ত্র পাওয়া গেছে, অমুক সংগঠন আছে। তারপর কাউকে মেরে ফেলার পর বলা হল- এটা অমুক সংগঠনের কাজ, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই আন্তর্জাতিক মহলে একটা ইমেজ সংকট তৈরি হবে। এর ফলে স্বাভাবিকভাবে যে কোনো দেশের বর্ডার পোস্টে বাংলাদেশীদের আসার ব্যাপারে একটা সন্দেহ জাগবে। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের ইনডেক্স যদি দেখি- সেই ইনডেক্সে বাংলাদেশের অবস্থান ২৩। ভারত ৬ ও পাকিস্তান ৩ নম্বরে আছে। আমাদের মিডিয়া পাকিস্তানের দিকে নজর দিল না, ভারত যে ৬ নম্বরে সেটাও কেউ দেখল না। সব নজর পড়ল প্রথম ১০-এর ঘরেও যে নেই, ২৩ নম্বরে থাকা বাংলাদেশের ওপর। সবাই বলা শুরু করল, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ বেড়ে যাচ্ছে। যেখানে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ হচ্ছে, সে দেশ দুটির ওপর আমি দৃষ্টি কেন দিলাম না, কেউ জানে না।
যুগান্তর : মিডিয়া তো খবর তৈরি করে না, সার্ভ করে। মিডিয়াকে ঢালাওভাবে দোষারোপ করা কি ঠিক?
ই.আ.: না, আমি মিডিয়াকে এখানে দোষ দেব না। আমার মনে হয়, আমাদের এখানে যে ইন্টেলেকচ্যুয়াল বা পলিটিক্যাল সার্কেল আছে, সেখানটায় সমস্যাটা রয়ে গেছে। আমাদের সিকিউরিটি সম্পর্কে পার্শ্ববর্তী দেশ যা বলছে, আমরা সেটাই মেনে নিচ্ছি। অথচ বিদেশে বলা হয়, বাংলাদেশ ইন্ডিয়া-পাকিস্তানের চেয়ে অনেক পিসফুল। তারা বলে, হোয়াই পিপলস টকিং অ্যাবাউট সিকিউরিটি প্রবলেম অব বাংলাদেশ? এদেশে যেটাকে রিস্ক বলা হচ্ছে, সেটা কিন্তু বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও নারী নির্যাতনের কারণে। জঙ্গিবাদের কারণে নয়। আমি মনে করি, বাংলাদেশ ইন্ডিয়া-পাকিস্তানের চেয়ে অনেক ভালো অবস্থানে আছে।
যুগান্তর : তাহলে আমরা এর প্রতিবাদ করছি না কেন?
ই. আ.: প্রতিবাদ হচ্ছে না পরস্পর পরস্পরকে দায়ী করার কারণে। এক দল আরেক দলের ওপর দোষ চাপানোর কারণে। এখানে একটা পরিবর্তন আসা দরকার। অনেক সময় দেখা যায়, সরকার নিজেই এসব করে থাকে। সরকার নিজেই যদি প্রচার করে, তাহলে সেটার প্রতিবাদ কেমন করে হবে? আমি তো অবাক হয়ে গেছি- ভারতের এনআইএস ঘুরে গেল প্রথমে, আমরা অবশ্য পরে গেছি হৈচৈ হওয়ায়। কিন্তু হোয়াই ডু ইউ কাম টু মি? তুমি তো বিশ্বে ৬ নম্বর ঝুঁকির জায়গায় আছ। তোমার অবস্থার কারণেই আমার অবস্থা খারাপ।
যুগান্তর : আমাদের যাওয়া উচিত তাদের অবস্থা দেখতে?
ই. আ. : ঠিক। কিছুদিন আগে মাওবাদীরা ভারতের ১৯ জন পুলিশকে মেরে ফেলল। সেই নিউজ এসেছে পত্রিকার ভেতরের পৃষ্ঠায়, মাত্র ৪ লাইনে। আমাদের এখানে একটা সামান্য ঘটনা ঘটলেও সেটা বিশাল আকারে প্রকাশিত হয়। অথচ ভারতে ১৯ জন পুলিশ মেরে ফেলা হল, আমরা এটাকে নিউজই মনে করলাম না। আমরা ভাবলাম, হেডলাইন তো পরের কথা, নিউজ করাটাই বোধহয় ঠিক হবে না।
যুগান্তর : আপনি সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। এ সম্পর্কে বলুন।
ই.আ. : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেহেতু ’৭১ সালে গণহত্যার ঘটনা ঘটেছে- কর্তৃপক্ষ মনে করল এ নিয়ে গবেষণা ও চর্চা হওয়া দরকার। সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ এ লক্ষ্যেই গড়ে উঠেছে। এটা ফ্যাকাল্টি অব সোশ্যাল সায়েন্সের অধীনে তিন মাস মেয়াদি ডিপ্লোমা কোর্স পরিচালনা করছে।
যুগান্তর : মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি নিয়ে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস কি তুলে ধরতে পারবে?
ই.আ. : এটা গবেষণার বিষয়। আমরা এ লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছি।
যুগান্তর : আপনার কি মনে হয়নি, স্বাধীনতার পরপরই এ ধরনের একটি সেন্টার গড়ে তোলা উচিত ছিল আমাদের?
ই.আ. : আমি একটু অবাক হয়েছি- এটা কেন তখন কেউ চিন্তা করেনি? আমরাও বলতে গেলে অনেক পরে চিন্তা করেছি।
যুগান্তর : সঙ্গে সঙ্গে করলে ইতিহাস নিয়ে বিতর্কের সুযোগ থাকত না!
ই.আ. : হ্যাঁ। সঙ্গে সঙ্গে করা গেলে আজকে যেসব ডকুমেন্ট নিয়ে সমস্যা হচ্ছে, সেটা হতো না। সেগুলো উদ্ধার করতে গিয়ে এখন অনেক কষ্ট করতে হচ্ছে।
যুগান্তর : সময়ের এক ফোঁড়, অসময়ের নয় ফোঁড়।
ই.আ. : একজাক্টলি। তবে আমি মনে করি, শুরু তো করা গেছে। লেট ইজ বেটার দ্যান নাথিং।
যুগান্তর : করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনাটা বলুন তো!
ই.আ. : করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা আন্তর্জাতিক কনফারেন্সের জন্য আমাকে কী-নোট পেপার দিতে অনুরোধ করা হয়েছিল। এর সঙ্গে ’৭১-এর কোনো সম্পর্ক নেই। আমি রাজি হয়েছিলাম। পাকিস্তান হাইকমিশন আমাকে ৬ মাসের ভিসাও দিয়েছিল। দু’দিন পর করাচি বিশ্ববিদ্যালয় জানাল- আমরা দুঃখিত, তোমার আসাটা বন্ধ করতে হবে। পরে জেনেছি, একটা ছাত্র সংগঠন ভিসিকে বলেছে, অধ্যাপক আহমেদকে আমরা এখানে আসতে দেব না। কেন দেব না- কারণ সে ’৭১-এর গণহত্যার ওপর কাজ করে। বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীকে ধরার জন্য অধ্যাপক আহমেদের বই ব্যবহার করা হয়েছে। ইত্যাদি। একজন বাংলাদেশী ’৭১ নিয়ে লিখবেন- এটাই তো স্বাভাবিক। আমার মনে হয়, শুধু পাকিস্তান নয়, গোটা দক্ষিণ এশিয়া একটা অসহিষ্ণুতার জায়গায় চলে যাচ্ছে।
যুগান্তর : চিন্তা-চেতনার দিক থেকে পাকিস্তান এখনও একই জায়গায় ঘুরপাক খাচ্ছে- এ কথা বলা অন্যায় হবে কি?
ই.আ. : মজার ব্যাপার হচ্ছে, পাকিস্তানের মিডিয়াগুলো আমার পক্ষ নিয়ে কথা বলেছে। এ নিয়ে ওদের মধ্যেও অস্বস্তিকর একটা ভাব তৈরি হয়েছে। আমি বলব- বিষয়টা নিয়ে তারা যেন ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করেন। যারা গবেষণা করেন বা কথা বলেন, অন্তত সেসব জায়গায় যেন কোনো বাধা না আসে।
যুগান্তর : আপনাকে ধন্যবাদ।
ই. আ. : আপনাকেও ধন্যবাদ।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1432)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
-
▼
2014
(9799)
-
▼
December
(1878)
-
▼
Dec 16
(55)
- বছরজুড়ে অবহেলা, শুধু দুই দিবসে ধোয়ামোছা by অরূপ ...
- তাপসকে খুনের ঘটনায় মামলা: আসামি অর্ধশত
- রাজধানীতে শিবিরের ‘বিজয়’ র্যালী
- ‘কবে দিব স্বীকৃতি?’ by মানসুরা হোসাইন
- স্কুলে তালেবানের হামলায় ৮৪ শিক্ষার্থী সহ ১২৬ জন নিহত
- ৪০০ টাকায় মেলে ১০০০ টাকার নোট
- জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
- শিক্ষকদের শ্রদ্ধাঞ্জলীতে ছাত্রলীগের বাধা
- পাকিস্তানের স্কুলে জঙ্গি হামলায় নিহত ১০৪
- জয় নিশ্চিত না হলে নির্বাচন দেবেন না হাসিনা -ডিএনএ’...
- সিডনিতে ১৬ ঘণ্টার জিম্মিদশা
- ‘মুক্তিযুদ্ধে আওয়ামী লীগের কোন ভুমিকা নেই’ -তারেক ...
- সিআইএর নির্যাতকদের ‘বীর’ বললেন চেনি
- শ্রদ্ধা ভালবাসায় শহীদদের স্মরণ
- নারী চালাবেন, নারীই চড়বেন
- রাজধানীতে শিবিরের ‘বিজয়’ র্যালী
- কৈলাসের আহ্বান
- ঐতিহ্য- গয়ঘর খোজার মসজিদ by আকমল হোসেন
- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দ্বন্দ্বে- নির...
- একই সঙ্গে একটি ইতিহাস
- নরসিংদীতে ছাত্রলীগ নেতাসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা
- গণতন্ত্রের সব স্পেস সংকুচিত হচ্ছে : ফখরুল
- লোপাট লাখ লাখ টাকা নেপথ্যে দলীয় কর্মীরা
- নববধূকে রেখে যুদ্ধে
- কাত্তরে গোপনে পতাকা তৈরি করতেন আবু বক্কর
- ‘ভিক্ষা করে খাইয়েছেন মুক্তিযোদ্ধাদের’
- সড়ক দুর্ঘটনায় ৫জন নিহত
- ঋণ পরিশোধে ২০২৬ পর্যন্ত সময় পেলো বেক্সিমকো
- বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার স্থপতি ছাত্রলীগ কারিগর
- কাফরুলে বিএনপি নেতার মৃত্যু
- মুক্তিযোদ্ধাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা হয়নি আজও
- স্মৃতিসৌধে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
- ‘মুক্তিযুদ্ধে আওয়ামী লীগের কোন ভুমিকা নেই’
- জয় নিশ্চিত না হলে নির্বাচন দেবেন না হাসিনা
- অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে গেলেও রাজনীতিতে পিছিয়ে গেছি : ...
- পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পণ পর্ব by আলমগীর হোসেন
- এবারের বিজয় দিবস ও ভবিষ্যতের বাংলাদেশ by ড. মাহবুব...
- আমেরিকা কি শিক্ষা নেবে?
- ৮৩ হানাদার বধের নায়ক লোকমান by রিপন আনসারী
- নববধূকে রেখে যুদ্ধে by এমএ সাইদ খোকন
- একাত্তরে গোপনে পতাকা তৈরি করতেন আবু বক্কর by আসলাম...
- প্রধান বিচারপতি বেছে নেওয়া by মিজানুর রহমান খান
- ছদ্মবেশী যোদ্ধা তারামন by মো. সাওরাত হোসেন সোহেল
- চার বীরকন্যা by এস এম জাকির হোসেন
- একজন মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীর কান্না by মাহবুব খান বাবুল
- মুক্তাব্দ : একটি ঐতিহাসিক প্রস্তাবনা ও প্রাসঙ্গিক ...
- ‘রক্ত দিয়ে নাম লিখেছি, বাংলাদেশের নাম’ by কেয়া চৌধুরী
- ‘ভিক্ষা করে খাইয়েছেন মুক্তিযোদ্ধাদের’ by নূর ইসলাম
- মৌলভীবাজারের ব্যবসায়ী আনোয়ারকে নরসিংদীতে উদ্ধার
- রাজধানীতে প্রকাশ্যে ছিনতাইয়ে পুলিশ
- ঋণ পরিশোধে ২০২৬ পর্যন্ত সময় পেলো বেক্সিমকো- ব্যবসা...
- মুক্তিযোদ্ধাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা হয়নি আজও by দীন ই...
- বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার স্থপতি ছাত্রলীগ কারিগর by নূর...
- বিজয়ের ৪৩তম বার্ষিকী আজ
- অনড় মুক্তিযুদ্ধের উপ-সেনাপতি এ কে খন্দকার
-
▼
Dec 16
(55)
-
▼
December
(1878)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ইরান
ক্রিকেট
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
কালবেলা
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
রাশিয়া
মুক্তিযুদ্ধ
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
ইউক্রেন
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
হিন্দু
রুদ্র মিজান
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
স্বাস্থ্য
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
জ্যোতির্বিজ্ঞান
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
শুভ্র দেব
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
জীবনযাপন
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কলকাতা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
তথ্য প্রযুক্তি
অস্ট্রেলিয়া
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
মসজিদ
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ইয়েমেন
ফেনী
বরিশাল
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
Exclusive
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
জনস্বাস্থ্য
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
লাতিন আমেরিকা
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
জোহরান মামদানি
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
ইহুদি
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
স্পেন
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
বেলজিয়াম
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
জর্দান
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
আহমেদ মুনির
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment