৩৮ টাকা কেজিতে চাল ও ২৬ টাকা কেজিতে ধান সংগ্রহ করবে সরকার

প্রতিকেজি সিদ্ধ বোরো চাল ৩৮ টাকা দরে কিনবে সরকার। বোরো ধান সংগ্রহ করা হবে ২৬ টাকা কেজি দরে। গতকাল সচিবালয়ের খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সভা শেষে খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম জানান, এ বছর ১০ লাখ টন বোরো চাল সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। চাল উৎপাদনে কেজিপ্রতি কৃষকের জন্য মুনাফা ধরা হয়েছে ২ টাকা। এ হিসাবে প্রতি কেজি সিদ্ধ বোরো চাল সংগ্রহ করা হবে ৩৮ টাকা দরে। আর বোরো ধান সংগ্রহ করা হবে ২৬ টাকা কেজি দরে। উচ্চ পর্যায়ের এ বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, সিদ্ধ বোরো চাল সংগ্রহ করা হবে আট লাখ টন এবং আতপ চাল সংগ্রহ করা হবে ১ লাখ টন। বাকি ১ লাখ টন চালের জন্য দেড় লাখ টন বোরো ধান সংগ্রহ করা হবে। আগামী ২রা মে থেকে চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়ে চলবে ৩১শে আগস্ট পর্যন্ত। প্রতি কেজি সিদ্ধ বোরো চাল সংগ্রহ করা হবে ৩৮ টাকা দরে। আর আতপ বোরো চাল সংগ্রহ করা হবে প্রতি কেজি ৩৭ টাকা দরে। বোরো ধান সংগ্রহ করা হবে ২৬ টাকা কেজি দরে। তিনি জানান, বৈঠকে এ বছর প্রতি কেজি সিদ্ধ বোরো চালের উৎপাদন খরচ ৩৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এর সঙ্গে কৃষকদের ২ টাকা মুনাফা দিয়ে ৩৮ টাকা কেজি দরে সিদ্ধ বোরো চাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বৈঠকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ বছর দেশে ১ কোটি ৯০ লাখ টন বোরো চাল উৎপাদন হবে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, দেশে গত ২০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ মজুত খাদ্যশস্য (ধান ও চাল) রয়েছে। এর পরিমাণ হচ্ছে ১২ লাখ ৯৭ হাজার ৮৪৭ টন। এ বছর নির্বাচনের বছর, তারপরও বন্যা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলেও কোনো সমস্যা হবে না। এত ধান-চাল উৎপাদন হচ্ছে তারপরও বাজারে চালের দাম বেশি কেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, চালের দাম স্থিতিশীল আছে। সব সময় ভোক্তার স্বার্থ দেখা উচিত নয়, কৃষকের স্বার্থও দেখতে হবে। কৃষকের স্বার্থ চিন্তা না করলে ফসল উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে। কৃষক উৎপাদনবিমুখ হবেন। এরপর খাদ্যমন্ত্রী কেজিপ্রতি চালের দাম সাংবাদিকদের জানান।