ইরান-ইসরাইল কথার লড়াই
ক্রমশ আইআরজিসি’র ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তার সঙ্গে সঙ্গে তাদের এই বাগাড়ম্বরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে পরিস্থিতি যেকোনো সময় বদলে যেতে পারে। এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, সম্প্রতি রকেটের জ্বালানি বিষয়ক রাসায়নিকের এক হাজার টনের চালান বুঝে পেয়েছে ইরান। উপরন্তু আইআরজিসি নতুন একটি আন্ডারগ্রাউন্ড ‘মিসাইল সিটি’র কথা প্রকাশ করেছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় কৌশলগত সমুদ্র এলাকায় টার্গেট ধ্বংস করতে এখানে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা হয়। সম্প্রতি জেরুজালেম পোস্ট সিআইএ’র বর্ষীয়ান কর্মকর্তা এবং আমেরিকান-ইসরাইল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটির সাবেক গবেষণা বিষয়ক প্রধান কলিন উইনস্টোন বলেছেন, এখনই সময় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনার ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলা চালানোর। তিনি আরও বলেন, ইসরাইলের জন্য এখন আর কোনো হুমকি নয় হিজবুল্লাহ ও হামাস। অন্যদিকে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের ‘প্রতিরোধের অক্ষ’ বর্তমানে ধ্বংসের পথে রয়েছে। ইরান এবং সিরিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বিষয়ক কর্মকাণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু পারমাণবিক বোমা তৈরির মতো উইপোন গ্রেডের ইউরেনিয়াম আর উৎপাদন করতে পারছে না ইরান। তাই ইরানকে ভেঙে ফেলা এখন বড় কোনো কঠিন কাজ নয়। এজন্য জেরুজালেম এবং ওয়াশিংটনের সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। উইনস্টোনকে উদ্ধৃত করে জেরুজালেম পোস্ট বলছে, ইরান শতকরা ৬০ ভাগ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে। পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ইউরেনিয়ামের চেয়ে নাটকীয়ভাবে তা কম। তবে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা আইএইএ’র হিসাব অনুযায়ী, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অস্ত্র তৈরিতে সক্ষম এমন মানের ইউরেনিয়াম তৈরিতে সক্ষম ইরান।
এর আগে জানুয়ারিতে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেছেন, ইসরাইল অথবা যুক্তরাষ্ট্র যে কেউ যদি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা করে, তাহলে তা থেকে ওই অঞ্চলে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে।
No comments