Wednesday, July 15, 2020
গল্প- আমার বাবার মাথা by ওকউইরি ওদুর
গল্প- আমার বাবার মাথা by ওকউইরি ওদুর

অনুবাদ : তানভীর আহসান।
ওকউইরি
ওদুর জন্ম কেনিয়ার নাইরোবিতে। তার উপন্যাসিকা দ্য ড্রিম চেজারস কমনওয়েলথ
বুক প্রাইজ ২০১২-তে খুব প্রশংসিত হয়েছে। তিনি সম্প্রতি উগান্ডার কাম্পালায়
রাইটিভিজম ফেস্টিভ্যাল পরিচালনা করেছেন। তিনি তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই তরুণ
লেখিকাদের ক্রিয়েটিভ রাইটিং-এর শিক্ষক এবং বর্তমানে তার পূর্ণদৈর্ঘ্য
উপন্যাসের কাজটি করছেন। >>>>>>
আমি বাবাকে ডেকেছিলাম ওর মাথাটা দেখতে কেমন হয়েছে সেটা দেখার জন্যই, কিন্তু এখন ও এখানেই রয়েছে আর আমি জানিও না যে, ওকে কী করে ফেরত পাঠাবো।
ঘটনাটা শুরু হয়েছিল সেই বিষ্যুদবারে যেবার ফাদার ইগনাটিয়াস কিটগুমে মা মেরির নিষ্পাপ গর্ভ উৎসব থেকে ফেরত এলেন। বয়স্ক মহিলারা তাদের রবিবাসরিয় ফ্রক পরেছিল, আর বয়স্ক লোকগুলো বেড়া থেকে বাগানবিলাসের থোকা তুলে তাদের বুক পকেটে গুঁজে রেখেছিল। একজন বুড়ো তার শিকওয়ারুসিটা খুঁজে পাচ্ছিল না বলে ডরমিটরি থেকে আসতে চাইছিলো না। আমি পীড়াপীড়ি করলে সে তার চুলে চাপড় দিয়ে বলল, ‘খোদার কিরে, তুমি কী আমাকে সবসময় কেমন দেখায় তাই উগাণ্ডার পাদ্রীকে দেখাতে চাও?’
আমি সামনের উঠানে এভোকাডো গাছের তলায় চেয়ারগুলো সাজিয়ে রাখলাম, আর বুড়োবুড়িরা সেখানে বসে তাদের হাসিটা প্র্যাকটিস করে নিতে লাগলো। যে জনাকয়েক হোমে থাকতো না তারাও এলো, এই যেমন ঐ মহিলা যে উত্তর মাতাহারির স্টেজকোচ বাসে ক্যান্ডির হকারি করতো, সেই লোকটা যার একরুমের এপার্টমেন্টটা দিনের বেলায় কিন্ডারগার্টেন আর সন্ধ্যায় বেশ্যাবাড়ি হয়ে যায়, আর সেই মহিলা যার অবৈধ চোলাই খেয়ে গত জানুয়ারিতে পাঁচজন অন্ধ হয়ে গেছে।
ফাদার ইগনাটিয়াস একটা বোদাবোদার পিছনে চড়ে এলেন, আর সবাই তার টুপির ভিতরে একটা করে কয়েন ফেলার পর বোদাবোদার লোকটাকে পঞ্চাশ শিলিং দিলেন। বোদাবোদার লোকটা বলল, ‘ঈশ্বর মহান’, আর তারপর যে রাস্তায় এসেছিল সেই রাস্তায়ই আবার চলে গেল।
ফাদার ইগিনাটিয়াস কোটটা খুললেন আর তার জন্য, ‘ফাদার ইগনাটিয়াস ওকেলো, নতুন পাদ্রি,’ লিখে রাখা চেয়ারটাতে বসলেন, আর বুড়ো মানুষগুলো এতক্ষণ যে হাসিটা প্র্যাকটিস করছিলো সেই হাসিটাই তাকে দিল। হাসি যেটা ঘিয়ের মতন গলে গেল, যেটা তাদের ঠোঁটের কোণা ধরে পিচপিচ করে বেরিয়ে এলো আর তাদের কোলের উপর টুপটুপ করে পড়তে লাগলো, যতক্ষণ না যার জন্য এই হাসি সে বাতাসে টকে ওঠে।
ফাদার ইগনাটিয়াস বললেন, ‘ঈশ্বর আপনাদের সহায় হোন’—মানুষগুলোও বলে উঠলো, ‘আপনারও সহায় হোন’। তারপর তারা গান গাইলো আর চায়ে পাউরুটির টুকরো চুবিয়ে চুবিয়ে ভোজ খেল। যখন তাদের পশমী সোয়েটারের হাতায় ফোঁটা ফোঁটা চা পড়ল, তাদের ধূমায়িত, দারুচিনি জিহ্বা দিয়ে তা চুষেও নিল।
ফাদার ইগনাটিয়াসের সর্বপ্রথম ধর্মোপদেশ ছিল ভালোবাসা নিয়ে : ভালোবাসো তোমার প্রতিবেশিকে যেমন ভালোবাসো নিজেকে, এরকম সব আত্মোপলব্ধি মার্কা কথা। বুড়ো মানুষগুলোর ভালোবাসা নিয়ে কমই আগ্রহ ছিলো। ওরা আসলে কিটগুম জায়গাটা কেমন, আর বাগিসু লোকেরা সত্যি সত্যিই জংলি মানুষখেকো কিনা তাই শুনতেই উন্মুখ ছিল।
আমার জানার আগ্রহ হচ্ছিল যে, ফাদার ইগনাটিয়াস আসলে নিজেকে কী মনে করেন, অন্যদেরকে এমনভাবে ভালোবাসা বিলাতে বলেছেন, যেন ভালোবাসা পাল্লায় ওজন করে গ্লাসের জারে ভরে প্রতিবেশিদের ইচ্ছেমতো নিয়ে যাওয়ার জন্য, তাকের উপর সাজিয়ে রাখা যায়। যেন কেউ একজন দেখে বলতে পারে, ‘দেখ : আমার সবমিলিয়ে দশখানা ভালোবাসা আছে। আচ্ছা, তিনখানা আমার দেশের জন্য রাখলাম আর বাকিসব আমার প্রতিবেশিদের দিয়ে দিলাম’।
মনে হয় যেমন করে ফাদার ইগনাটিয়াস তার মগটা ভরে নিতেন—যতক্ষণ না চা মগটার মেটে কানা উপচে টুলের পায়া ধরে গড়িয়ে তার ক্যানভাসের জুতোটা ভিজিয়ে দিচ্ছে—সেটাই আমার নিজের বাবার কথা ভাবিয়ে তুলেছিল। এই আমি আচোলি শৌর্যের গল্প শুনছি, আর তারপরই আমি আমার বাবার ছবিগুলোকে একসাথে গেঁথে চলেছি, তার হাত-পা নাড়াচ্ছি, তার মুখ দিয়ে কথা বলাচ্ছি। তাই শেষ পর্যন্ত—সে আমার হাতে একটা পুতুল, আর তার সাথে আমার স্মৃতিগুলো একটা নাটকের দৃশ্যের মতন হয়ে গেল।
এমনকি যখন আমি ফাদার ইগনাটিয়াসকে তার ঘর দেখিয়ে দিলাম, টেবিল পরিষ্কার করে চেয়ারগুলো ভেতরে নিয়ে গেলাম, আমার পার্সটা নিলাম আর নিজেকে টেনে উহিরু পর্যন্ত একটা মাতাতু ধরার জন্য ওডেনে নিয়ে গেলাম—আমি আমার বাবার চোখের ভুট্টারঙা ছুলির কথা ভাবলাম, আর তার কোটের পকেটের সেই পঞ্চাশ সেন্টের কয়েন, যার কথা সে সবসময় ভুলে যেত, আর যেরকম করে শনিবার সকালে লোকেরা এসে আমাদের দরজায় ঘা দিত আর বলত, ‘জনসন, এখন তো বাইরে আসা লাগে; পানির পাইপটা ফেটে গেছে আর আমাদের গ্লাসে গু ভরছি’, আর ‘জনসন, কাপড় পরার সময় নেইরে ভাই; যেরম আছো ওরমই বেরিয়ে এসো। মাতারিটা রাতেই বিইয়েছে আর বাচ্চাকে পায়খানায় ফ্ল্যাশ করে দিয়েছে’।
প্রত্যেকদিন কাজের পরে, আমি রাস্তা থেকে একটা পোড়ানো ভুট্টা কিনে ওটার একটা একটা দানা চিবাতাম, আর যখন বাড়িতে পৌঁছতাম, আমার মসলিনের পোশাকটা থেকে মুচড়ে বেরিয়ে একটা ডাংগেরি পরতাম আর এককাপ মসলা-চা খেতাম। তারপর আমি বাবার যন্ত্রপাতির বাক্সটা বাথরুমে নিয়ে যেতাম। আমি ভাঙা টাইলসগুলো ছেনি দিয়ে দেয়াল থেকে খুলে নিতাম, আর ওগুলো আমার বুটের উপর পড়তো আর ধুলো উড়তো, রঙিন কাচের ফাটলের ভিতর দিয়ে লাফিয়ে আসা আগুনের লকলকে জিহ্বার উপর বিস্ফোরিত হতো।
এইবার, যখন আমি এইসব করছি, আমি সেই দিনটার কথা ভাবলাম—যেদিন আমি বাবার পায়ের কাছে বসে ছিলাম। সে মুঠোভর্তি চিনাবাদাম তুলে নিয়ে দু’হাতের তালুতে ঘষলো, এরপর সেগুলোকে চিবালো, তারপর মুখ থেকে নিয়ে আমাকে সেটা খাওয়ালো। ওই বয়সে আমি কৌতূহলীই ছিলাম; নিজের দাঁতে চিবানোর মতো বড় হয়ে গেছি, তারপরও ঐ উষ্ণ, চর্বিত ভালোবাসার লোভ করার মতো ছোট রয়ে গেছি, ভালোবাসা হিতোপদেশমূলক কিংবা কফ সিরাপের কাপে মাপার মতো নয়।
যে বিষ্যুদবারে ফাদার ইগনাটিয়াস কিটগুম থেকে এলেন, আমি বসার ঘরে পুরোটা রাত পেটের উপর শুয়ে আমার বাবার ছবি আঁকলাম। মনে মনে আমি তার চোখ দেখতে পেলাম, মুখের চারপাশের বলিরেখা দেখতে পেলাম, দেখতে পেলাম তার চোখের মনিতে ছোট্ট আলোর বিন্দুটা, যেখানটাতে কান তার মাথার সাথে জুড়েছে সেখানকার ভাঁজও দেখতে পেলাম। এমনকি আমি তার শার্টের কলারে তেল আর ঘামের মোটা দাগটাও দেখতে পেলাম—ছোট ছোট বাদামী শিরা যেগুলো ময়লার মূলস্রোত ভেঙে বেরিয়ে নিজেরাই নেমে এসেছিল।
এইসব আমি দেখতে পাচ্ছিলাম, তারপরও আমি যাই করি না কেনো, তার মাথাটা কাগজের সীমানার ভিতরে কিছুতেই আসতে রাজি হচ্ছিলো না। আমি তার পা থেকে শুরু করলাম আর ক্রমশ উপরের দিকে আঁকতে থাকলাম আর শেষে আমার বাবার মাথাটা কাগজের প্রান্তে, ঘষা তিসির তেল, প্লাস্টিকের গাঁদাফুল আর ভেঁজা বাথরুম চপ্পলের উপরে টুপ করে ভেসে উঠলো।
আমি বউইবোকে কয়েকটা ড্রয়িং দেখালাম। বউইবো বুড়ো মানুষগুলোর হোমের রাঁধুনি ছিল। ওর সাথে আমি একটা সহজ আস্থার সম্পর্ক গড়ে নিয়েছিলাম।
‘ঈশ্বর!’ বউইবো ওগুলো দেখতে দেখতে বিড়বিড় করে বলল, ‘সিমবি, এতো অস্বাভাবিক’।
‘অস্বাভাবিক’ শব্দটা ঝুরঝুরে হয়ে বেরিয়ে এলো, আর এটা টেবিলের তীক্ষ্ণ কানায় লেগে ভেঙে গেল এবং মেঝের প্লাস্টিক কভারের উপর একটা আঠালো দলা হয়ে রইলো। বউইবো হাতের তালুতে ওর মাথাটা রাখলো, আর ওর ক্রিমরঙা কাফতানের ঘটি হাতাটা এমন ফুলে উঠলো যেন ওগুলোর ভিতরে কুমড়ো ঠাসা রয়েছে।
আমি যেটা বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলাম সেটা ওকে বললাম, যে খুব সম্ভবত আমার বাবার একটা মুখ থাকলেও তার কোনও মাথা ছিল না। আর যদি আমার বাবার মাথাটা থেকেও থাকে, আমি তা দেখিনি : মানুষের মাথাটা এমন কিছু না যেটা কেউ দেখে। কেউ একজনের দিকে তাকায়, আর যা দেখে সেটা হলো তার মুখ : একটি সাধারণ মুখের আদলের মুখ, যেটা একটি সাধারণ মাথার আদলের মাথাকে ঢেকে রাখে। মুখটা মনে রাখার মতো হলে কেউ দুবার তাকায়। কিন্তু, একজনের চোখকে আরেকজনের মাথার গতানুগতিকতায় আঁকার মধ্যে আসলে কী আছে? বেশিরভাগ সময়ই যখন কেউ কারোর দিকে তাকায়, ওখানে তাদের মাথাটা দেখতেই পায় না।
বউইবো কোমর উঁচু জিকোটার সামনে দাঁড়ালো, আর একটি পাত্রে ফুটন্ত পানির মধ্যে কাসাভা ময়দা ঢাললো আর একটা রান্নার হাতা দিয়ে ওটা নাড়তে শুরু করলো। ‘বাছা,’ সে বললো, ‘তুমি কি করে বুঝেছো যে ঐসব ড্রয়িংয়ের লোকটা তোমার বাবা? ওরতো কোনো মাথাই নেই, কোনো মুখ নেই’।
‘আমি ওর পোশাক চিনেছি। ওই লাল কর্ডুরয়টা, যেটা সে সবসময় হলুদ শার্টটার সাথে মিলিয়ে পরতো’।
বউইবো মাথা নাড়লো। ‘শুধু একটা হালকা ঝুড়ি দিয়েই যে কেউ বৃষ্টি থেকে বাঁচতে পারে’।
দিনের এই সময়টায় বুড়ো মানুষগুলো তাদের কাঠের পুঁতির ছড়ায় হাত বুলাতো আর মন্ত্রপাঠের মধ্যে মধ্যে ঘুম তাড়াতে নাক দিয়ে বিকট শব্দ করতো। আমি তাদেরকে একটি ছোট, অপ্রতিভ ঝিমুনি দিতে দিতাম, ততটুকুই যতক্ষণে তারা বিশ্বাস করত যে, পুরো জপটাই তারা শেষ করেছে। তারপর আমি দড়ি ধরে টানলে দুপুরের খাবারের ঘণ্টা টুংটাং বেজে উঠত। বুড়ো মানুষগুলো প্রতি টেবিলে আটজন করে বসত, আর উগালি, টক ডাল আর ঢেঁড়সের স্যুপে তাদের মুখ ভর্তি করে বলে উঠত, ‘কাদিমা’র দোকান থেকে চাপাতি কিনো না—কাদিমা’র বউ ময়ানের উপর বসে আর ওর পাছা দিয়ে ওটা তুকতাক করে’ অথবা, ‘তোমায় কি ওয়ামবুয়ার কথা বলেছি, ওই যে, যার গরুটা একটা বাচ্চাকে চিবিয়ে খেয়ে ফেলল, বাচ্চাটা কান্না থামাচ্ছিল না তাই’।
বিকেলে আমি বেডপ্যানগুলো খালি করে দিতাম আর বুড়ো মানুষগুলোর পা উষ্ণ জল আর বেকিং সোডায় ভিজিয়ে দিতাম, আর যখন তারা দলবেঁধে প্রার্থনায় রওনা দিত, আমি আমার পার্সটা নিতাম আর বাড়ি যেতাম।
আখের ট্র্যাক্টর আমার বাবাকে মেরে ফেলার আগের বড়দিনে, সে প্লেট থেকে চা খেয়েছিল, কফি জারের ঢাকনার উপর ডিম ভেজেছিল আর ঘরের পেছনের আবছায়া, টিকটিকি ভরা কোণা থেকে তার ইয়ামাহা ড্রাম সেটটা এনে বারান্দায় বসে যতক্ষণ না তার আঙুল ফেটে রক্ত বেরোয় ততক্ষণ বাজিয়েছিল ।
একদিন সে তার টুল আর হাত রেডিওটা নিয়ে বারান্দায় গেল, আমি তার পায়ের কাছে বসে রইলাম, তার জুতোর ফিতে খুলে দিলাম আর পা থেকে চটচটে মোজাটা ছাড়িয়ে নিলাম। সে খানিক্ষণ তার আঙুল নাড়ালো। ওগুলোয় খানিকটা পচা গন্ধ ছিল, টক ছানার মতো।
আমার বাবা ধূমপান করত আর আফ্রিকার শিংয়ের আরও ভেতরে যে দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়ছে তার বর্ণনা শুনতো, আর ঘড়িতে আটটা বাজলে নব ঘুরিয়ে মৃত্যুর খবরগুলো শুনতো। তার চেনা কারোর নাম তার কানে লাগতে সময় নিতো না। সে বিষম খেতো আর ধোঁয়া তার গলায় আটকে যেত।
আমার বাবা বলতো, ‘শুনলে ওটা? সোপস্টার চলে গেল! সোপস্টার, মিকাহ’র ছেলে, মিরেকে মাধ্যমিকে যে কৃষি পড়াতো। ঈশ্বর, আমি বলছি, সবাই চলে যাচ্ছে। এমনকি আমিও, আমার নামও খুব শিগগিরই মৃত্যুর খবরে শুনবে’।
আমি তাকে বিকেলের চা নিয়ে এসে দিলাম। বারান্দায় সে তার সিগারেটটা পিষে দিল, তারপর ধীরে ধীরে কাপটা তার ঠোঁটের কাছে তুললো। কাপটা তার পছন্দ মতোই ভরা ছিল, এতটাই যে, একটু ঝাঁকুনিতেই তার আঙুল আর কোল ভেসে যাবে।
আমার বাবা চায়ে একটা চুমুক দিত আর বলত, ‘সোপস্টার আমার ভাইয়ের মতো ছিল। ওর মরার খবর কেন আমায় এমন করে জানতে হবে, এরকম রেডিওতে?’
তারপর আমার বাবা ভাঁজ করা সোফাটায় শুতো, আমি টুলে বসে তাকে দেখতাম, ভয় পেতাম, যদি আমি নজর ফেরাই তাহলে সেও চলে যাবে। সেবারই প্রথম আমি তার মৃত্যু কল্পনা করি, প্রথম আমি শোক করি।
আর তারপরও আমি আসলে আমার বাবার জন্য শোক করছিলাম না, বাবার মৃত্যুর অসম্ভব বার্তাবরণের মাঝে আমার আমির জন্য শোক করছিলাম। আমি কল্পনা করছিলাম এটা কেমন লাগবে : মৃত্যু সংবাদটা জানাবে যে, আমার বাবা একটা নরককুণ্ডের ভিতর ডুবে গেছে, আর মানুষ এমনভাবে আমার দিকে তাকাবে যেন, আমি রাস্তার ম্যানহোলে আটকে পড়া একটা গুঁইসাপ। আমি কল্পনা করলাম যে, যখন আমি খবরটা পাব তখন আমার পরনে একটা সবুজ পোশাক থাকবে—যেটার জমিনে লাল গন্ধরাজ বোনা থাকবে—মানুষ আসবে, আমার কাঁধে চাপড় দেবে আর প্লাস্টিকের কাপে উষ্ণ কোকাকোলা আমার হাতে দিয়ে বলবে, ‘খবরটা পাওয়ার সাথে সাথেই আমি আমার সব শোক একটা ঝুড়িতে ভরে এখানে চলে চলে এসেছি। আর কীভাবে তোমার বাবার আত্মা জানবে যে, তার মৃত্যুতে আমার কোনো দোষ নেই’।
আমার বাবার মাথাটা আমি কেনো স্মরণ করতে পারছিলাম না, তা নিয়ে বউইবোর একটা ব্যাখ্যা ছিল।
ও বলল, ‘যদিও সবার মাথাই তাদের মুখের পেছনে থাকে, কেউ কেউ সহজেই তাদেরটা দেখিয়ে দেয়; যখন তারা তোমার দিকে পেছন ফেরে আর তাদের মাথাটাই শুধু তুমি দেখতে পাও। তোমার বাবা ভালো মানুষ ছিল আর ভালো মানুষেরা কখনও তাদের মাথা দেখায় না; তারা তোমাকে তাদের মুখ দেখায়’।
হয়তো ও ঠিকই বলছিলো। এমনকি যেদিন আমার বাবার সাথের লোকেরা ফোন করে বলছিলো যে শিবালে যাওয়ার পথে একটা আখের ট্র্যাক্টর তাকে রাস্তার সাথে পিষে ফেলেছে, কেউই তার মাথা দেখার কথা কিছু বলেনি। মাপা সূক্ষ্মতায় তারা বাকি শরীরটার বর্ণনা দিচ্ছিল : কীভাবে তার পা রাস্তায় টাটকা পিচে চটচটে আর চকচকে হয়ে ছড়িয়ে গিয়েছিল, কীভাবে তখনও তার একটা পা টায়ারের স্যান্ডেলের মধ্যে থেকে বাইসাইকেলের প্যাডেল মেরেই চলেছে, কীভাবে আখের রসে তার মুখ ভর্তি হয়ে গিয়েছিল আর তার পলিয়েস্টার শার্টের কলার ভিজিয়ে দিয়েছিল, কীভাবে তখনও তার মুখে একটা ধৈর্যশীল প্রশান্তি লেপ্টে ছিল, এমনকি তার চোখদুটো কোটর ছেড়ে বেরিয়ে বৃষ্টি জলে গড়াচ্ছিল।
যখন তারা আমাকে এইসব বলছিল, সেসব শুনেই কাঁদার বদলে আমি ভাবছিলাম, আমার বাবা কী সত্যিই ওবাওয়ামিদের দীর্ঘ ধারা থেকে এসেছিল আর তার লোকেরা তাকে গলায় রাজকীয় কড়ির একটা মালা ঝুলিয়ে বসা অবস্থায় কবর দেবে কিনা।
‘যাই হোক’ বউইবো বলে চলল, ‘তোমার বাবাকে নিয়ে আর চিন্তা করে কী হবে, হ্যাঁ? ও দুধ বহু আগেই উপচে গেছে আর মাটিতে মিশেও গেছে’।
দিনটা আমি ডরমিটরিতে কাটালাম, বিছানা তুললাম, তোষক রোদে দিলাম, পিভিসি ম্যাট্রেস ঘষে পরিষ্কার করলাম। একটা বুড়ো লোক আমার সাথেই থাকলো। সে শোনালো কিভাবে সে তার জীবনের অস্তগামী বছরগুলো কাটানোর জন্যে এই হোমে এসেছিলো—১৯৯৮ সালের আগস্টে সে মোম্বাসায় তার বাড়িতে ফেরার জন্য বিকেলের ট্রেনে উঠতে স্টেশনে অপেক্ষা করছিল। আমেরিকান দূতাবাসে বোমা ফাটলে পুলিশ সারা শহরে চিরুনি চালালো আরব বংশোদ্ভূত সব লোককেই হাজত করলো। যেহেতু সে বাহাত্তুরে বুড়ো ছিল আর খুব দ্রুতই ভীমরতির লক্ষণ দেখাচ্ছিল, তাই ওরা তাকে এই বৃদ্ধাশ্রমে ফেলে যায়, আর তখন থেকে সে এখানেই আছে।
‘তোমার লোকেরা তোমাকে কখনও নিতে আসেনি?’ হতভম্ব হয়ে আমি জানতে চাইলাম।
বুড়োটা নাক টানলো। ‘আমার লোকেরা?’
‘সবারই তো নিজের নিজের লোকেরা আছে’
বুড়োটা হেসে ফেললো। ‘যে খাবারটা তুমি খেয়ে ফেলেছো কেবল সেটাই তোমার নিজের, বাছা’
পরে বুড়ো মানুষগুলো ঝুলঝুলে গোছা হয়ে উঠানে বসলো। বউইবো আর আমি রান্নাঘরের পেছনের সিঁড়ি থেকে তাই দেখলাম। ঘাসের মধ্যে পিঁপড়েরা একটি শুয়োপোকা সাবাড় করছে। কুকুরটা ঘষা গোলাপি রঙের উপর সবুজ শিরার আঁকিবুঁকি করা নাকটা কুঁচকাচ্ছে। কাঠচাঁপা গাছটার ওপরে পাখিগুলো একটি আরেকটির সাথে পাল্লা দিচ্ছে। ওদের একটি বিদ্যুতের তারে ধাক্কা খেল আর শ্যাওলা-ঢাকা বিদ্যুতের খুঁটিটায় মাথাটা থেতলে ফেলল।
বোলতারা ঘাসের ওপর নিচুতে উড়ছে। শ্যাওলায় দম আটকে ধরা একটি গাছের গুড়ির উপর একটি টিকিটিকি বেয়ে উঠলো। কুকুরটা নিজের পায়ের ভেতর দিকটা চেটে নিল। রাজকীয় নৃত্যশিল্পী প্রজাপতির একটা দল লিলির সারির উপর ভেসে এল, ওদের বর্ণিল নাচের ঘাগরা অশ্রুত বাতাসের দাপটে কাঁপছিল। কুকুরটা ঘাসের উপর পাশ ফিরে শুয়ে নিঃশেষিত শুয়োপোকা আর সেটাকে চিবিয়ে চলা পিঁপড়েদের দলাই-মলাই করছিল। কুকুরটার লোমশ পেট থেকে বেরিয়ে থাকা স্তনের বোঁটাগুলো থুতু লেগে থাকা ছাগলের লাদির মতো লাগছিল।
বউইবো বলল, ‘আমি তোমার বাবার মাথা মনে করতে তোমায় সাহায্য করতে পারি’।
আমি বললাম, ‘কী সব ফ্যালদা কথা শুরু করলে তুমি এখন?’
বউইবো তার তর্জনিটা চাটলো আর পরমবিশ্বাসে তুলে ধরল। ‘লাল বাইবেলের কসম! আমি তোমাকে সাহায্য করতে পারি, আর আমি তোমাকে সাহায্য করতে পারি’।
তোমায় বলি : একদিন তুমি তোমার নির্বাসন অস্বীকার করবে, তুমি বাড়ি ফিরে যাবে, আর তোমার মা সবচেয়ে সুন্দর চিনামাটির বাসনগুলো বের করবে, আর তোমার বাবা তোমার জন্য একটি তেজি মোরগ জবাই করবে, আর তোমার বোন তার নেভি ব্লু পি. ই. র্যাপারটা পরবে, আর তোমার ভাই আঙুলের ফাঁক দিয়ে হড়কে যাওয়া ভাত আর সুরুয়া চটকানোর বদলে চামচ দিয়ে খাবে।
আর তুমি তাদের সেই জায়গার গল্প বলবে যেগুলো এখানের না, আর সেইসব লোকদের গল্প : যারা জিক ব্লিচে টেবিল ন্যাপকিন ভেজায় আর লন্ডন নিয়ে এমনভাবে কথা বলে যেন লন্ডন এমন একটা জায়গা যে লাফ দিয়ে একটা বাসে উঠে নাকুরু, আর কিসুমু। এবং কাকামেগার ভিতর দিয়ে গিয়েই ওরা সেখানে পৌঁছে যায়।
তুমি সেইসব লোকেদের গল্প বলবে, যারা তরমুজ ফালি ফালি করে কাটে না বরং তরমুজটাকে দুই ভাগ করে প্রতিটি ভাগ থেকেই চামচ দিয়ে খায় এবং সেইসব মহিলাদের গল্প করবে যারা হাত ধরাধরি করে রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের চারিধারে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ায়, ধূসর মাদার ইউনিয়নরঙা ঘটি অন্তর্বাসের ছিটেফোঁটা দেখিয়ে ফেলে এই গানটা গাইতে গাইতে :
কিজেমবে নি কিকালি, পারাম-পারাম
কিলিকাতা মওয়ালিমু, পারাম-পারাম
তুমি মনে কর যে, তোমার লোকেরা আসলে তোমার, সবসময়ই তাদের মনে আর দিলে তোমার জন্যে একটা জায়গা রাখা আছে। তুমি মনে কর যে, তোমার লোকেরা সবসময় তোমার ফেরার পথ চেয়ে থাকে।
হয়তো তুমি যেদিন ঘরে তোমার লোকদের কাছে ফিরে যাবে, বারান্দায় বেতের একটা চেয়ারে তুমি একা বসতে পারবে, একা তামাক টানতে পারবে কারণ তোমার লোকেরা তোমায় ফেরত চাইলেও কেউই আসলে চায়নি যে তুমি থেকে যাও।
আমার বাবা বারান্দায় বেতের চেয়ারটার উপর ঝুলে ছিল, পুরাতন দিনগুলোর মতোই তামাক তানছিল আর হাতরেডিওটা দেখছিল। রেডিও থেকে মৃত্যুসংবাদটা উঠে এলো, আর নিচুতে ভাসতে ভাসতে, বসার ঘরের জানালার শীতল কাঁচে লেপ্টে থাকা ধোঁয়াশা হয়ে গেল।
আমার বাবার জামা বাতাসে ঝাঁপটালো, আর ধোঁয়ার সরু শুড়গুলো তার মুখের সামনে ফট করে ভেঙে গেল। সে আপনমনে শিস দিয়ে উঠলো। প্রথমে সুরটার মুখায়বয়ব ছিল না, যাচ্ছেতাই জিনিস, যেন কেউ পথের উপর একটি বোতল পেয়েছে আর লাথি দিতে দিতে ওটা বাড়ি পর্যন্ত নিয়ে এসেছে। তারপর সুরটা নিজের ভিতর অন্য সুরের খণ্ডগুলি ধরতে পেল, আর তখন নিজের মনখোলা ওঠা-নামাটা হারিয়ে ফেলল।
আমার বাবার একটা মাথা ছিল। এখন যখন আমি এটার দিকে তাকাতে মনস্থির করলাম আমি এটা দেখতে পেলাম। তার মাথাটা একটি চালকুমড়োর মতো দেখতে ছিল। সম্ভবত সে কারণেই আমি এটার সবকিছু ভুলে গিয়েছিলাম; এটা ভয়াবহ, মাথা আউলা করে দেওয়ার মতো দেখতে।
আমার বাবা কলের মিস্ত্রি ছিল। সে যে নর্দমার পাইপগুলো সে নাড়াচাড়া করতো তার নখে তখনোও সেগুলোর গায়ের রঙ লাগানো, আর তার বুটে তখনোও যতসব অবর্ণনীয় কিচেনসিংকগুলোর চিটচিটে ময়লায় ছিবড়ানো। তাকে দেখে আমার সেই দিনটার কথা মনে পড়ল যেদিন সে কারোর বর্জ্যের আঁশে একটা সোনার হার পেঁচানো দেখতে পেয়েছিল, আর সে তার কর্ডুরয়ে ময়লাটা মুছে হারটা নাগিনপত্নীর কাছে বিক্রি করে দিয়েছিল, আর সেই সন্ধ্যায় কাঁধে করে লাল গ্রেটওয়েল টেলিভিশনটা বাড়িতে নিয়ে এসেছিল। বসার ঘরের এক কোণায় সে ওটা বসালো আর বলল, ‘দেখতো জিনিসটা কেমন ঝকঝক করছে, যেন এটার ভিতর কোন গু-ই পোরা নেই’।
আর প্রতিদিনই আমি একগোছা লবঙ্গফুল তুলে নিয়ে আসতাম আর ওদের ডাঁটাগুলি তেরছা করে ভেঙে একটা কাঁচের বাটিতে করে টেলিভিশনের উপরে রাখতাম যাতে করে আমার বাবা সন্ধ্যার খবর দেখতে দেখতে গুয়ের কথা না ভাবে।
আমি বউইবোকে বললাম, ‘আমাদের ওকে ফেরত পাঠাতে হবে’
বউইবো বলল, ‘সেই কলিজাটাই তো চাইলে যেটা তুমি খাও’
‘কিন্তু আমি ঠিক তাকে ফেরত চাইনি, আমি শুধু তার মাথাটা দেখতে চেয়েছিলাম’
বউইবো বলল, ‘শেষতক সে তো তোমার কাছে ফিরেই এলো আর এরও তো কিছু একটা ব্যাপার আছে, তাই না?’
সম্ভবত আমার বাবার ফিরে আসায় আর কোনো ব্যাপার নেই, শুধুমাত্র সারাবাড়িটা তার গন্ধ গন্ধ হয়ে যাওয়া ছাড়া—পোড়া ডাল, গলন্ত নখ আর তেতো কুইনিনের বাকল আর ভাঙা সিগারেটের টুকরায় ভেজা নেকড়ার অম্লতা।
আমার বাবার দিকে আমি জিনিসপত্র ছুঁড়ে দিয়েছিলাম; রসুন, আগর, লবণ, শুকরের মাংস, আর যখন কোনোকিছুই তাকে ফেরাতে পারলো না, আমি বাড়িটার শান্তি-সস্ত্যয়ন করে দেওয়ার জন্য ফাদার ইগনাটিয়াসকে অনুরোধ করলাম। উনি এক শিশি পবিত্র জল নিয়ে এলেন, আর সব ঘরে ছিটিয়ে দিলেন, আমার বাবার উপরেও ছিটালেন। ফাদার ইগনাটিয়াস বললেন, আমার আরোও সুরক্ষা দরকার, তার আগে তাকে আমার একটি চেক লিখে দিতে হবে।
একদিন যখন আমি রাস্তার কোণা থেকে পোড়ানো ভুট্টা কিনছিলাম, দোকানদারটা আমাকে জিজ্ঞেস করলো, ‘সবজির দোকানি যা বলছে, এটা কি সত্যি নাকি যে, তুমি শেষ পর্যন্ত তোমাকে ভালোবাসার মানুষটা খুঁজে পেয়েছো কিন্তু তাকে দরজা দিয়ে ঢুকতেই দিচ্ছ না?’
সেই সন্ধ্যায় আমি আমার বাবাকে ভিতরে ডেকে নিলাম। আমরা ভাঁজ করা সোফাটায় পাশাপাশি বসলাম, আর একটা মাছিকে জানালার কাঁচ আর গ্রিলের মাঝের স্ক্রিনটায় বেয়ে উঠতে দেখলাম। বেয়ে উঠতে উঠতে ওটা একটু ভনভনালো। ছাদের পাখাটা ক্যাঁচকোঁচ করলো আর ওটা করিডোরের মেঝেতে ছায়া বিছালো। ছায়াটা উঁচুতে লাফ দিলো আর দরজায় চড়ে বসলো আর দেয়ালের ঘুলঘুলিতে উঁকি দিল।
বাতাস একটি কাপ উল্টে ফেলল। কয়েক সেকেন্ডের জন্য কাপটা জানলার কার্নিশে কাত হয়ে রইলো। তারপর এটি একপাশে গড়িয়ে পড়লো আর মেঝের উপর দিয়ে গড়গড়িয়ে চলে গেল। আমি ছিটকিনিটা তুলে জানালাটা আটকে দিলাম। কাঁচের গায়ে বাতাস-ভেজা ঠোঁট বুলিয়ে দিল। ধুলো আর লালার একটি দাগ রেখে গেলো, আর গ্লাসের কানা ধরে লালাটা ধীরে গড়িয়ে নেমে গেল। বাতাসের মুখটা লালাভর্তি ছিলো। শিগগিরিই লালায় সারা জানালা ঢেকে গেলো, ততক্ষণ ধরে ছড়াতে লাগলো যতক্ষণে জানালার বাইরের রোজমেরি ব্রাশউডের ঝোপটা ঝাপসা হয়ে যায়। বাইরে জাকারান্ডা নিচু হয়ে ছাদে আঁচল কেটে গেলো। পাশের ঘরে দরজা জানালা দমদম বাড়ি খেলো।
আমি আমার বাবার দিকে তাকালাম। তাকে একইসাথে অচেনা আর চেনা লাগছিলো, একই সাথে দারুণ আর ভীতিকর—সে ঝুরঝুরে ছিলো, চিনামাটির চিড়ধরা হাতলের মতো, আর সে ছিলো পেঁচার শীতল পীতবর্ণ দৃষ্টির মতো।
আমার বাবা আমার হাত ছুঁলো—এতো হাল্কা, এতো নরম করে যেন, ভয় পাচ্ছিলো আমি শিউরে উঠবো আর হাত সরিয়ে নেব। আমি চোখ তোলার সাহস করলাম না, কিন্তু সে আমার চিবুক ছুঁলো আর উপরে তুললো যাতে করে তার দিকে তাকানো ছাড়া আমার আর উপায় রইলো না।
আমার মনে পড়লো সেই সময়ের কথা যখন আমি ছোট ছিলাম, যখন আমি প্রায় এরকমভাবেই আমার বাবার চোখের দিকে তাকাতাম। ওখানে আমি দেখতাম বিভিন্ন আকৃতি; বৃত্ত, ত্রিভুজ আর চতুর্ভুজের একটি মাতাল, বুদ্ধিহীন পিণ্ড। আমি বিস্মিত হতাম আমার বাবার চোখের ভিতরে ওগুলো ঢুকলো কীভাবে। আমি কল্পনা করতাম সে টেবিলে বসে, রঙিন বই থেকে চকচকে স্মৃতিগুলো কেটে নিয়েছে, আর আঠা দিয়ে মেখে ওগুলো চোখের ভিতর দিকে সেটে দিয়েছে যাতে তার মণির ভিতরে একটা উদ্ভট এলোমেলো কোলাজ তৈরি হয়।
আমার বাবা বলল, ‘একটু চা হবে, সিমবি?’
আমি নিয়ে এলাম, আর সে জানতে চাইলো তার পুরনো বন্ধু পাইয়াস ওবোতে এখনো শনিবারগুলোতে বাড়িতে আসে কি না, এখনোও বাদাম সাবান আর কুমড়ো পাতা আর পোস্ট অফিস থেকে আসার পথে তোলা চিঠির গাদা হাতে হাজির হয় কিনা।
আমি বললাম, ‘পাইয়াস ওবোতে চার বছর হলো মারা গেছে’
আমার বাবা তার কাপটা ঠেলে সরিয়ে দিলো। সে বলল, ‘যদি চাও যে তোমার চা না খাই, বললেই পারো, তোমার মুখ দিয়ে লোক মারা-মারা খেলো না’
আমার বাবা খানিকক্ষণ চুপ রইলেন, এই পাইয়াস ওবোতে লোকটার জন্য দুঃখ করলেন, যে আমাকে সবসময় হাঁটুতে হাঁটুতে বাড়ি খাবার কথা মনে করিয়ে দেয়। পাইয়াস ওবোতে খুব চোখ পিটপিট করতো, পকেটের মধ্যে বলপেনের জন্য হাতড়াতো আর হাতে উঠে আসতো একটা মুরগির হাড়, তখনো লালা, তখনো রসালো।
আমার বাবা আমাকে বলল, ‘তোমার সাথে দেখা হলো। তুমি চা খাওয়ালে। এখন আমি যাব’।
‘কোথায় যাবে?’
‘এখান থেকে দূরে কোনো শহরে কাজ খুঁজে নেব। হয়তো এলদোরেতে। ওখানে একসময় আমার লোকেরা ছিল।‘
আমি বললাম, ‘তুমি এখানে আর কয়েকটা দিন থেকে যেতে, বাবা’।
আমি বাবাকে ডেকেছিলাম ওর মাথাটা দেখতে কেমন হয়েছে সেটা দেখার জন্যই, কিন্তু এখন ও এখানেই রয়েছে আর আমি জানিও না যে, ওকে কী করে ফেরত পাঠাবো।
ঘটনাটা শুরু হয়েছিল সেই বিষ্যুদবারে যেবার ফাদার ইগনাটিয়াস কিটগুমে মা মেরির নিষ্পাপ গর্ভ উৎসব থেকে ফেরত এলেন। বয়স্ক মহিলারা তাদের রবিবাসরিয় ফ্রক পরেছিল, আর বয়স্ক লোকগুলো বেড়া থেকে বাগানবিলাসের থোকা তুলে তাদের বুক পকেটে গুঁজে রেখেছিল। একজন বুড়ো তার শিকওয়ারুসিটা খুঁজে পাচ্ছিল না বলে ডরমিটরি থেকে আসতে চাইছিলো না। আমি পীড়াপীড়ি করলে সে তার চুলে চাপড় দিয়ে বলল, ‘খোদার কিরে, তুমি কী আমাকে সবসময় কেমন দেখায় তাই উগাণ্ডার পাদ্রীকে দেখাতে চাও?’
আমি সামনের উঠানে এভোকাডো গাছের তলায় চেয়ারগুলো সাজিয়ে রাখলাম, আর বুড়োবুড়িরা সেখানে বসে তাদের হাসিটা প্র্যাকটিস করে নিতে লাগলো। যে জনাকয়েক হোমে থাকতো না তারাও এলো, এই যেমন ঐ মহিলা যে উত্তর মাতাহারির স্টেজকোচ বাসে ক্যান্ডির হকারি করতো, সেই লোকটা যার একরুমের এপার্টমেন্টটা দিনের বেলায় কিন্ডারগার্টেন আর সন্ধ্যায় বেশ্যাবাড়ি হয়ে যায়, আর সেই মহিলা যার অবৈধ চোলাই খেয়ে গত জানুয়ারিতে পাঁচজন অন্ধ হয়ে গেছে।
ফাদার ইগনাটিয়াস একটা বোদাবোদার পিছনে চড়ে এলেন, আর সবাই তার টুপির ভিতরে একটা করে কয়েন ফেলার পর বোদাবোদার লোকটাকে পঞ্চাশ শিলিং দিলেন। বোদাবোদার লোকটা বলল, ‘ঈশ্বর মহান’, আর তারপর যে রাস্তায় এসেছিল সেই রাস্তায়ই আবার চলে গেল।
ফাদার ইগিনাটিয়াস কোটটা খুললেন আর তার জন্য, ‘ফাদার ইগনাটিয়াস ওকেলো, নতুন পাদ্রি,’ লিখে রাখা চেয়ারটাতে বসলেন, আর বুড়ো মানুষগুলো এতক্ষণ যে হাসিটা প্র্যাকটিস করছিলো সেই হাসিটাই তাকে দিল। হাসি যেটা ঘিয়ের মতন গলে গেল, যেটা তাদের ঠোঁটের কোণা ধরে পিচপিচ করে বেরিয়ে এলো আর তাদের কোলের উপর টুপটুপ করে পড়তে লাগলো, যতক্ষণ না যার জন্য এই হাসি সে বাতাসে টকে ওঠে।
ফাদার ইগনাটিয়াস বললেন, ‘ঈশ্বর আপনাদের সহায় হোন’—মানুষগুলোও বলে উঠলো, ‘আপনারও সহায় হোন’। তারপর তারা গান গাইলো আর চায়ে পাউরুটির টুকরো চুবিয়ে চুবিয়ে ভোজ খেল। যখন তাদের পশমী সোয়েটারের হাতায় ফোঁটা ফোঁটা চা পড়ল, তাদের ধূমায়িত, দারুচিনি জিহ্বা দিয়ে তা চুষেও নিল।
ফাদার ইগনাটিয়াসের সর্বপ্রথম ধর্মোপদেশ ছিল ভালোবাসা নিয়ে : ভালোবাসো তোমার প্রতিবেশিকে যেমন ভালোবাসো নিজেকে, এরকম সব আত্মোপলব্ধি মার্কা কথা। বুড়ো মানুষগুলোর ভালোবাসা নিয়ে কমই আগ্রহ ছিলো। ওরা আসলে কিটগুম জায়গাটা কেমন, আর বাগিসু লোকেরা সত্যি সত্যিই জংলি মানুষখেকো কিনা তাই শুনতেই উন্মুখ ছিল।
আমার জানার আগ্রহ হচ্ছিল যে, ফাদার ইগনাটিয়াস আসলে নিজেকে কী মনে করেন, অন্যদেরকে এমনভাবে ভালোবাসা বিলাতে বলেছেন, যেন ভালোবাসা পাল্লায় ওজন করে গ্লাসের জারে ভরে প্রতিবেশিদের ইচ্ছেমতো নিয়ে যাওয়ার জন্য, তাকের উপর সাজিয়ে রাখা যায়। যেন কেউ একজন দেখে বলতে পারে, ‘দেখ : আমার সবমিলিয়ে দশখানা ভালোবাসা আছে। আচ্ছা, তিনখানা আমার দেশের জন্য রাখলাম আর বাকিসব আমার প্রতিবেশিদের দিয়ে দিলাম’।
মনে হয় যেমন করে ফাদার ইগনাটিয়াস তার মগটা ভরে নিতেন—যতক্ষণ না চা মগটার মেটে কানা উপচে টুলের পায়া ধরে গড়িয়ে তার ক্যানভাসের জুতোটা ভিজিয়ে দিচ্ছে—সেটাই আমার নিজের বাবার কথা ভাবিয়ে তুলেছিল। এই আমি আচোলি শৌর্যের গল্প শুনছি, আর তারপরই আমি আমার বাবার ছবিগুলোকে একসাথে গেঁথে চলেছি, তার হাত-পা নাড়াচ্ছি, তার মুখ দিয়ে কথা বলাচ্ছি। তাই শেষ পর্যন্ত—সে আমার হাতে একটা পুতুল, আর তার সাথে আমার স্মৃতিগুলো একটা নাটকের দৃশ্যের মতন হয়ে গেল।
এমনকি যখন আমি ফাদার ইগনাটিয়াসকে তার ঘর দেখিয়ে দিলাম, টেবিল পরিষ্কার করে চেয়ারগুলো ভেতরে নিয়ে গেলাম, আমার পার্সটা নিলাম আর নিজেকে টেনে উহিরু পর্যন্ত একটা মাতাতু ধরার জন্য ওডেনে নিয়ে গেলাম—আমি আমার বাবার চোখের ভুট্টারঙা ছুলির কথা ভাবলাম, আর তার কোটের পকেটের সেই পঞ্চাশ সেন্টের কয়েন, যার কথা সে সবসময় ভুলে যেত, আর যেরকম করে শনিবার সকালে লোকেরা এসে আমাদের দরজায় ঘা দিত আর বলত, ‘জনসন, এখন তো বাইরে আসা লাগে; পানির পাইপটা ফেটে গেছে আর আমাদের গ্লাসে গু ভরছি’, আর ‘জনসন, কাপড় পরার সময় নেইরে ভাই; যেরম আছো ওরমই বেরিয়ে এসো। মাতারিটা রাতেই বিইয়েছে আর বাচ্চাকে পায়খানায় ফ্ল্যাশ করে দিয়েছে’।
প্রত্যেকদিন কাজের পরে, আমি রাস্তা থেকে একটা পোড়ানো ভুট্টা কিনে ওটার একটা একটা দানা চিবাতাম, আর যখন বাড়িতে পৌঁছতাম, আমার মসলিনের পোশাকটা থেকে মুচড়ে বেরিয়ে একটা ডাংগেরি পরতাম আর এককাপ মসলা-চা খেতাম। তারপর আমি বাবার যন্ত্রপাতির বাক্সটা বাথরুমে নিয়ে যেতাম। আমি ভাঙা টাইলসগুলো ছেনি দিয়ে দেয়াল থেকে খুলে নিতাম, আর ওগুলো আমার বুটের উপর পড়তো আর ধুলো উড়তো, রঙিন কাচের ফাটলের ভিতর দিয়ে লাফিয়ে আসা আগুনের লকলকে জিহ্বার উপর বিস্ফোরিত হতো।
এইবার, যখন আমি এইসব করছি, আমি সেই দিনটার কথা ভাবলাম—যেদিন আমি বাবার পায়ের কাছে বসে ছিলাম। সে মুঠোভর্তি চিনাবাদাম তুলে নিয়ে দু’হাতের তালুতে ঘষলো, এরপর সেগুলোকে চিবালো, তারপর মুখ থেকে নিয়ে আমাকে সেটা খাওয়ালো। ওই বয়সে আমি কৌতূহলীই ছিলাম; নিজের দাঁতে চিবানোর মতো বড় হয়ে গেছি, তারপরও ঐ উষ্ণ, চর্বিত ভালোবাসার লোভ করার মতো ছোট রয়ে গেছি, ভালোবাসা হিতোপদেশমূলক কিংবা কফ সিরাপের কাপে মাপার মতো নয়।
যে বিষ্যুদবারে ফাদার ইগনাটিয়াস কিটগুম থেকে এলেন, আমি বসার ঘরে পুরোটা রাত পেটের উপর শুয়ে আমার বাবার ছবি আঁকলাম। মনে মনে আমি তার চোখ দেখতে পেলাম, মুখের চারপাশের বলিরেখা দেখতে পেলাম, দেখতে পেলাম তার চোখের মনিতে ছোট্ট আলোর বিন্দুটা, যেখানটাতে কান তার মাথার সাথে জুড়েছে সেখানকার ভাঁজও দেখতে পেলাম। এমনকি আমি তার শার্টের কলারে তেল আর ঘামের মোটা দাগটাও দেখতে পেলাম—ছোট ছোট বাদামী শিরা যেগুলো ময়লার মূলস্রোত ভেঙে বেরিয়ে নিজেরাই নেমে এসেছিল।
এইসব আমি দেখতে পাচ্ছিলাম, তারপরও আমি যাই করি না কেনো, তার মাথাটা কাগজের সীমানার ভিতরে কিছুতেই আসতে রাজি হচ্ছিলো না। আমি তার পা থেকে শুরু করলাম আর ক্রমশ উপরের দিকে আঁকতে থাকলাম আর শেষে আমার বাবার মাথাটা কাগজের প্রান্তে, ঘষা তিসির তেল, প্লাস্টিকের গাঁদাফুল আর ভেঁজা বাথরুম চপ্পলের উপরে টুপ করে ভেসে উঠলো।
আমি বউইবোকে কয়েকটা ড্রয়িং দেখালাম। বউইবো বুড়ো মানুষগুলোর হোমের রাঁধুনি ছিল। ওর সাথে আমি একটা সহজ আস্থার সম্পর্ক গড়ে নিয়েছিলাম।
‘ঈশ্বর!’ বউইবো ওগুলো দেখতে দেখতে বিড়বিড় করে বলল, ‘সিমবি, এতো অস্বাভাবিক’।
‘অস্বাভাবিক’ শব্দটা ঝুরঝুরে হয়ে বেরিয়ে এলো, আর এটা টেবিলের তীক্ষ্ণ কানায় লেগে ভেঙে গেল এবং মেঝের প্লাস্টিক কভারের উপর একটা আঠালো দলা হয়ে রইলো। বউইবো হাতের তালুতে ওর মাথাটা রাখলো, আর ওর ক্রিমরঙা কাফতানের ঘটি হাতাটা এমন ফুলে উঠলো যেন ওগুলোর ভিতরে কুমড়ো ঠাসা রয়েছে।
আমি যেটা বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলাম সেটা ওকে বললাম, যে খুব সম্ভবত আমার বাবার একটা মুখ থাকলেও তার কোনও মাথা ছিল না। আর যদি আমার বাবার মাথাটা থেকেও থাকে, আমি তা দেখিনি : মানুষের মাথাটা এমন কিছু না যেটা কেউ দেখে। কেউ একজনের দিকে তাকায়, আর যা দেখে সেটা হলো তার মুখ : একটি সাধারণ মুখের আদলের মুখ, যেটা একটি সাধারণ মাথার আদলের মাথাকে ঢেকে রাখে। মুখটা মনে রাখার মতো হলে কেউ দুবার তাকায়। কিন্তু, একজনের চোখকে আরেকজনের মাথার গতানুগতিকতায় আঁকার মধ্যে আসলে কী আছে? বেশিরভাগ সময়ই যখন কেউ কারোর দিকে তাকায়, ওখানে তাদের মাথাটা দেখতেই পায় না।
বউইবো কোমর উঁচু জিকোটার সামনে দাঁড়ালো, আর একটি পাত্রে ফুটন্ত পানির মধ্যে কাসাভা ময়দা ঢাললো আর একটা রান্নার হাতা দিয়ে ওটা নাড়তে শুরু করলো। ‘বাছা,’ সে বললো, ‘তুমি কি করে বুঝেছো যে ঐসব ড্রয়িংয়ের লোকটা তোমার বাবা? ওরতো কোনো মাথাই নেই, কোনো মুখ নেই’।
‘আমি ওর পোশাক চিনেছি। ওই লাল কর্ডুরয়টা, যেটা সে সবসময় হলুদ শার্টটার সাথে মিলিয়ে পরতো’।
বউইবো মাথা নাড়লো। ‘শুধু একটা হালকা ঝুড়ি দিয়েই যে কেউ বৃষ্টি থেকে বাঁচতে পারে’।
দিনের এই সময়টায় বুড়ো মানুষগুলো তাদের কাঠের পুঁতির ছড়ায় হাত বুলাতো আর মন্ত্রপাঠের মধ্যে মধ্যে ঘুম তাড়াতে নাক দিয়ে বিকট শব্দ করতো। আমি তাদেরকে একটি ছোট, অপ্রতিভ ঝিমুনি দিতে দিতাম, ততটুকুই যতক্ষণে তারা বিশ্বাস করত যে, পুরো জপটাই তারা শেষ করেছে। তারপর আমি দড়ি ধরে টানলে দুপুরের খাবারের ঘণ্টা টুংটাং বেজে উঠত। বুড়ো মানুষগুলো প্রতি টেবিলে আটজন করে বসত, আর উগালি, টক ডাল আর ঢেঁড়সের স্যুপে তাদের মুখ ভর্তি করে বলে উঠত, ‘কাদিমা’র দোকান থেকে চাপাতি কিনো না—কাদিমা’র বউ ময়ানের উপর বসে আর ওর পাছা দিয়ে ওটা তুকতাক করে’ অথবা, ‘তোমায় কি ওয়ামবুয়ার কথা বলেছি, ওই যে, যার গরুটা একটা বাচ্চাকে চিবিয়ে খেয়ে ফেলল, বাচ্চাটা কান্না থামাচ্ছিল না তাই’।
বিকেলে আমি বেডপ্যানগুলো খালি করে দিতাম আর বুড়ো মানুষগুলোর পা উষ্ণ জল আর বেকিং সোডায় ভিজিয়ে দিতাম, আর যখন তারা দলবেঁধে প্রার্থনায় রওনা দিত, আমি আমার পার্সটা নিতাম আর বাড়ি যেতাম।
আখের ট্র্যাক্টর আমার বাবাকে মেরে ফেলার আগের বড়দিনে, সে প্লেট থেকে চা খেয়েছিল, কফি জারের ঢাকনার উপর ডিম ভেজেছিল আর ঘরের পেছনের আবছায়া, টিকটিকি ভরা কোণা থেকে তার ইয়ামাহা ড্রাম সেটটা এনে বারান্দায় বসে যতক্ষণ না তার আঙুল ফেটে রক্ত বেরোয় ততক্ষণ বাজিয়েছিল ।
একদিন সে তার টুল আর হাত রেডিওটা নিয়ে বারান্দায় গেল, আমি তার পায়ের কাছে বসে রইলাম, তার জুতোর ফিতে খুলে দিলাম আর পা থেকে চটচটে মোজাটা ছাড়িয়ে নিলাম। সে খানিক্ষণ তার আঙুল নাড়ালো। ওগুলোয় খানিকটা পচা গন্ধ ছিল, টক ছানার মতো।
আমার বাবা ধূমপান করত আর আফ্রিকার শিংয়ের আরও ভেতরে যে দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়ছে তার বর্ণনা শুনতো, আর ঘড়িতে আটটা বাজলে নব ঘুরিয়ে মৃত্যুর খবরগুলো শুনতো। তার চেনা কারোর নাম তার কানে লাগতে সময় নিতো না। সে বিষম খেতো আর ধোঁয়া তার গলায় আটকে যেত।
আমার বাবা বলতো, ‘শুনলে ওটা? সোপস্টার চলে গেল! সোপস্টার, মিকাহ’র ছেলে, মিরেকে মাধ্যমিকে যে কৃষি পড়াতো। ঈশ্বর, আমি বলছি, সবাই চলে যাচ্ছে। এমনকি আমিও, আমার নামও খুব শিগগিরই মৃত্যুর খবরে শুনবে’।
আমি তাকে বিকেলের চা নিয়ে এসে দিলাম। বারান্দায় সে তার সিগারেটটা পিষে দিল, তারপর ধীরে ধীরে কাপটা তার ঠোঁটের কাছে তুললো। কাপটা তার পছন্দ মতোই ভরা ছিল, এতটাই যে, একটু ঝাঁকুনিতেই তার আঙুল আর কোল ভেসে যাবে।
আমার বাবা চায়ে একটা চুমুক দিত আর বলত, ‘সোপস্টার আমার ভাইয়ের মতো ছিল। ওর মরার খবর কেন আমায় এমন করে জানতে হবে, এরকম রেডিওতে?’
তারপর আমার বাবা ভাঁজ করা সোফাটায় শুতো, আমি টুলে বসে তাকে দেখতাম, ভয় পেতাম, যদি আমি নজর ফেরাই তাহলে সেও চলে যাবে। সেবারই প্রথম আমি তার মৃত্যু কল্পনা করি, প্রথম আমি শোক করি।
আর তারপরও আমি আসলে আমার বাবার জন্য শোক করছিলাম না, বাবার মৃত্যুর অসম্ভব বার্তাবরণের মাঝে আমার আমির জন্য শোক করছিলাম। আমি কল্পনা করছিলাম এটা কেমন লাগবে : মৃত্যু সংবাদটা জানাবে যে, আমার বাবা একটা নরককুণ্ডের ভিতর ডুবে গেছে, আর মানুষ এমনভাবে আমার দিকে তাকাবে যেন, আমি রাস্তার ম্যানহোলে আটকে পড়া একটা গুঁইসাপ। আমি কল্পনা করলাম যে, যখন আমি খবরটা পাব তখন আমার পরনে একটা সবুজ পোশাক থাকবে—যেটার জমিনে লাল গন্ধরাজ বোনা থাকবে—মানুষ আসবে, আমার কাঁধে চাপড় দেবে আর প্লাস্টিকের কাপে উষ্ণ কোকাকোলা আমার হাতে দিয়ে বলবে, ‘খবরটা পাওয়ার সাথে সাথেই আমি আমার সব শোক একটা ঝুড়িতে ভরে এখানে চলে চলে এসেছি। আর কীভাবে তোমার বাবার আত্মা জানবে যে, তার মৃত্যুতে আমার কোনো দোষ নেই’।
আমার বাবার মাথাটা আমি কেনো স্মরণ করতে পারছিলাম না, তা নিয়ে বউইবোর একটা ব্যাখ্যা ছিল।
ও বলল, ‘যদিও সবার মাথাই তাদের মুখের পেছনে থাকে, কেউ কেউ সহজেই তাদেরটা দেখিয়ে দেয়; যখন তারা তোমার দিকে পেছন ফেরে আর তাদের মাথাটাই শুধু তুমি দেখতে পাও। তোমার বাবা ভালো মানুষ ছিল আর ভালো মানুষেরা কখনও তাদের মাথা দেখায় না; তারা তোমাকে তাদের মুখ দেখায়’।
হয়তো ও ঠিকই বলছিলো। এমনকি যেদিন আমার বাবার সাথের লোকেরা ফোন করে বলছিলো যে শিবালে যাওয়ার পথে একটা আখের ট্র্যাক্টর তাকে রাস্তার সাথে পিষে ফেলেছে, কেউই তার মাথা দেখার কথা কিছু বলেনি। মাপা সূক্ষ্মতায় তারা বাকি শরীরটার বর্ণনা দিচ্ছিল : কীভাবে তার পা রাস্তায় টাটকা পিচে চটচটে আর চকচকে হয়ে ছড়িয়ে গিয়েছিল, কীভাবে তখনও তার একটা পা টায়ারের স্যান্ডেলের মধ্যে থেকে বাইসাইকেলের প্যাডেল মেরেই চলেছে, কীভাবে আখের রসে তার মুখ ভর্তি হয়ে গিয়েছিল আর তার পলিয়েস্টার শার্টের কলার ভিজিয়ে দিয়েছিল, কীভাবে তখনও তার মুখে একটা ধৈর্যশীল প্রশান্তি লেপ্টে ছিল, এমনকি তার চোখদুটো কোটর ছেড়ে বেরিয়ে বৃষ্টি জলে গড়াচ্ছিল।
যখন তারা আমাকে এইসব বলছিল, সেসব শুনেই কাঁদার বদলে আমি ভাবছিলাম, আমার বাবা কী সত্যিই ওবাওয়ামিদের দীর্ঘ ধারা থেকে এসেছিল আর তার লোকেরা তাকে গলায় রাজকীয় কড়ির একটা মালা ঝুলিয়ে বসা অবস্থায় কবর দেবে কিনা।
‘যাই হোক’ বউইবো বলে চলল, ‘তোমার বাবাকে নিয়ে আর চিন্তা করে কী হবে, হ্যাঁ? ও দুধ বহু আগেই উপচে গেছে আর মাটিতে মিশেও গেছে’।
দিনটা আমি ডরমিটরিতে কাটালাম, বিছানা তুললাম, তোষক রোদে দিলাম, পিভিসি ম্যাট্রেস ঘষে পরিষ্কার করলাম। একটা বুড়ো লোক আমার সাথেই থাকলো। সে শোনালো কিভাবে সে তার জীবনের অস্তগামী বছরগুলো কাটানোর জন্যে এই হোমে এসেছিলো—১৯৯৮ সালের আগস্টে সে মোম্বাসায় তার বাড়িতে ফেরার জন্য বিকেলের ট্রেনে উঠতে স্টেশনে অপেক্ষা করছিল। আমেরিকান দূতাবাসে বোমা ফাটলে পুলিশ সারা শহরে চিরুনি চালালো আরব বংশোদ্ভূত সব লোককেই হাজত করলো। যেহেতু সে বাহাত্তুরে বুড়ো ছিল আর খুব দ্রুতই ভীমরতির লক্ষণ দেখাচ্ছিল, তাই ওরা তাকে এই বৃদ্ধাশ্রমে ফেলে যায়, আর তখন থেকে সে এখানেই আছে।
‘তোমার লোকেরা তোমাকে কখনও নিতে আসেনি?’ হতভম্ব হয়ে আমি জানতে চাইলাম।
বুড়োটা নাক টানলো। ‘আমার লোকেরা?’
‘সবারই তো নিজের নিজের লোকেরা আছে’
বুড়োটা হেসে ফেললো। ‘যে খাবারটা তুমি খেয়ে ফেলেছো কেবল সেটাই তোমার নিজের, বাছা’
পরে বুড়ো মানুষগুলো ঝুলঝুলে গোছা হয়ে উঠানে বসলো। বউইবো আর আমি রান্নাঘরের পেছনের সিঁড়ি থেকে তাই দেখলাম। ঘাসের মধ্যে পিঁপড়েরা একটি শুয়োপোকা সাবাড় করছে। কুকুরটা ঘষা গোলাপি রঙের উপর সবুজ শিরার আঁকিবুঁকি করা নাকটা কুঁচকাচ্ছে। কাঠচাঁপা গাছটার ওপরে পাখিগুলো একটি আরেকটির সাথে পাল্লা দিচ্ছে। ওদের একটি বিদ্যুতের তারে ধাক্কা খেল আর শ্যাওলা-ঢাকা বিদ্যুতের খুঁটিটায় মাথাটা থেতলে ফেলল।
বোলতারা ঘাসের ওপর নিচুতে উড়ছে। শ্যাওলায় দম আটকে ধরা একটি গাছের গুড়ির উপর একটি টিকিটিকি বেয়ে উঠলো। কুকুরটা নিজের পায়ের ভেতর দিকটা চেটে নিল। রাজকীয় নৃত্যশিল্পী প্রজাপতির একটা দল লিলির সারির উপর ভেসে এল, ওদের বর্ণিল নাচের ঘাগরা অশ্রুত বাতাসের দাপটে কাঁপছিল। কুকুরটা ঘাসের উপর পাশ ফিরে শুয়ে নিঃশেষিত শুয়োপোকা আর সেটাকে চিবিয়ে চলা পিঁপড়েদের দলাই-মলাই করছিল। কুকুরটার লোমশ পেট থেকে বেরিয়ে থাকা স্তনের বোঁটাগুলো থুতু লেগে থাকা ছাগলের লাদির মতো লাগছিল।
বউইবো বলল, ‘আমি তোমার বাবার মাথা মনে করতে তোমায় সাহায্য করতে পারি’।
আমি বললাম, ‘কী সব ফ্যালদা কথা শুরু করলে তুমি এখন?’
বউইবো তার তর্জনিটা চাটলো আর পরমবিশ্বাসে তুলে ধরল। ‘লাল বাইবেলের কসম! আমি তোমাকে সাহায্য করতে পারি, আর আমি তোমাকে সাহায্য করতে পারি’।
তোমায় বলি : একদিন তুমি তোমার নির্বাসন অস্বীকার করবে, তুমি বাড়ি ফিরে যাবে, আর তোমার মা সবচেয়ে সুন্দর চিনামাটির বাসনগুলো বের করবে, আর তোমার বাবা তোমার জন্য একটি তেজি মোরগ জবাই করবে, আর তোমার বোন তার নেভি ব্লু পি. ই. র্যাপারটা পরবে, আর তোমার ভাই আঙুলের ফাঁক দিয়ে হড়কে যাওয়া ভাত আর সুরুয়া চটকানোর বদলে চামচ দিয়ে খাবে।
আর তুমি তাদের সেই জায়গার গল্প বলবে যেগুলো এখানের না, আর সেইসব লোকদের গল্প : যারা জিক ব্লিচে টেবিল ন্যাপকিন ভেজায় আর লন্ডন নিয়ে এমনভাবে কথা বলে যেন লন্ডন এমন একটা জায়গা যে লাফ দিয়ে একটা বাসে উঠে নাকুরু, আর কিসুমু। এবং কাকামেগার ভিতর দিয়ে গিয়েই ওরা সেখানে পৌঁছে যায়।
তুমি সেইসব লোকেদের গল্প বলবে, যারা তরমুজ ফালি ফালি করে কাটে না বরং তরমুজটাকে দুই ভাগ করে প্রতিটি ভাগ থেকেই চামচ দিয়ে খায় এবং সেইসব মহিলাদের গল্প করবে যারা হাত ধরাধরি করে রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের চারিধারে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ায়, ধূসর মাদার ইউনিয়নরঙা ঘটি অন্তর্বাসের ছিটেফোঁটা দেখিয়ে ফেলে এই গানটা গাইতে গাইতে :
কিজেমবে নি কিকালি, পারাম-পারাম
কিলিকাতা মওয়ালিমু, পারাম-পারাম
তুমি মনে কর যে, তোমার লোকেরা আসলে তোমার, সবসময়ই তাদের মনে আর দিলে তোমার জন্যে একটা জায়গা রাখা আছে। তুমি মনে কর যে, তোমার লোকেরা সবসময় তোমার ফেরার পথ চেয়ে থাকে।
হয়তো তুমি যেদিন ঘরে তোমার লোকদের কাছে ফিরে যাবে, বারান্দায় বেতের একটা চেয়ারে তুমি একা বসতে পারবে, একা তামাক টানতে পারবে কারণ তোমার লোকেরা তোমায় ফেরত চাইলেও কেউই আসলে চায়নি যে তুমি থেকে যাও।
আমার বাবা বারান্দায় বেতের চেয়ারটার উপর ঝুলে ছিল, পুরাতন দিনগুলোর মতোই তামাক তানছিল আর হাতরেডিওটা দেখছিল। রেডিও থেকে মৃত্যুসংবাদটা উঠে এলো, আর নিচুতে ভাসতে ভাসতে, বসার ঘরের জানালার শীতল কাঁচে লেপ্টে থাকা ধোঁয়াশা হয়ে গেল।
আমার বাবার জামা বাতাসে ঝাঁপটালো, আর ধোঁয়ার সরু শুড়গুলো তার মুখের সামনে ফট করে ভেঙে গেল। সে আপনমনে শিস দিয়ে উঠলো। প্রথমে সুরটার মুখায়বয়ব ছিল না, যাচ্ছেতাই জিনিস, যেন কেউ পথের উপর একটি বোতল পেয়েছে আর লাথি দিতে দিতে ওটা বাড়ি পর্যন্ত নিয়ে এসেছে। তারপর সুরটা নিজের ভিতর অন্য সুরের খণ্ডগুলি ধরতে পেল, আর তখন নিজের মনখোলা ওঠা-নামাটা হারিয়ে ফেলল।
আমার বাবার একটা মাথা ছিল। এখন যখন আমি এটার দিকে তাকাতে মনস্থির করলাম আমি এটা দেখতে পেলাম। তার মাথাটা একটি চালকুমড়োর মতো দেখতে ছিল। সম্ভবত সে কারণেই আমি এটার সবকিছু ভুলে গিয়েছিলাম; এটা ভয়াবহ, মাথা আউলা করে দেওয়ার মতো দেখতে।
আমার বাবা কলের মিস্ত্রি ছিল। সে যে নর্দমার পাইপগুলো সে নাড়াচাড়া করতো তার নখে তখনোও সেগুলোর গায়ের রঙ লাগানো, আর তার বুটে তখনোও যতসব অবর্ণনীয় কিচেনসিংকগুলোর চিটচিটে ময়লায় ছিবড়ানো। তাকে দেখে আমার সেই দিনটার কথা মনে পড়ল যেদিন সে কারোর বর্জ্যের আঁশে একটা সোনার হার পেঁচানো দেখতে পেয়েছিল, আর সে তার কর্ডুরয়ে ময়লাটা মুছে হারটা নাগিনপত্নীর কাছে বিক্রি করে দিয়েছিল, আর সেই সন্ধ্যায় কাঁধে করে লাল গ্রেটওয়েল টেলিভিশনটা বাড়িতে নিয়ে এসেছিল। বসার ঘরের এক কোণায় সে ওটা বসালো আর বলল, ‘দেখতো জিনিসটা কেমন ঝকঝক করছে, যেন এটার ভিতর কোন গু-ই পোরা নেই’।
আর প্রতিদিনই আমি একগোছা লবঙ্গফুল তুলে নিয়ে আসতাম আর ওদের ডাঁটাগুলি তেরছা করে ভেঙে একটা কাঁচের বাটিতে করে টেলিভিশনের উপরে রাখতাম যাতে করে আমার বাবা সন্ধ্যার খবর দেখতে দেখতে গুয়ের কথা না ভাবে।
আমি বউইবোকে বললাম, ‘আমাদের ওকে ফেরত পাঠাতে হবে’
বউইবো বলল, ‘সেই কলিজাটাই তো চাইলে যেটা তুমি খাও’
‘কিন্তু আমি ঠিক তাকে ফেরত চাইনি, আমি শুধু তার মাথাটা দেখতে চেয়েছিলাম’
বউইবো বলল, ‘শেষতক সে তো তোমার কাছে ফিরেই এলো আর এরও তো কিছু একটা ব্যাপার আছে, তাই না?’
সম্ভবত আমার বাবার ফিরে আসায় আর কোনো ব্যাপার নেই, শুধুমাত্র সারাবাড়িটা তার গন্ধ গন্ধ হয়ে যাওয়া ছাড়া—পোড়া ডাল, গলন্ত নখ আর তেতো কুইনিনের বাকল আর ভাঙা সিগারেটের টুকরায় ভেজা নেকড়ার অম্লতা।
আমার বাবার দিকে আমি জিনিসপত্র ছুঁড়ে দিয়েছিলাম; রসুন, আগর, লবণ, শুকরের মাংস, আর যখন কোনোকিছুই তাকে ফেরাতে পারলো না, আমি বাড়িটার শান্তি-সস্ত্যয়ন করে দেওয়ার জন্য ফাদার ইগনাটিয়াসকে অনুরোধ করলাম। উনি এক শিশি পবিত্র জল নিয়ে এলেন, আর সব ঘরে ছিটিয়ে দিলেন, আমার বাবার উপরেও ছিটালেন। ফাদার ইগনাটিয়াস বললেন, আমার আরোও সুরক্ষা দরকার, তার আগে তাকে আমার একটি চেক লিখে দিতে হবে।
একদিন যখন আমি রাস্তার কোণা থেকে পোড়ানো ভুট্টা কিনছিলাম, দোকানদারটা আমাকে জিজ্ঞেস করলো, ‘সবজির দোকানি যা বলছে, এটা কি সত্যি নাকি যে, তুমি শেষ পর্যন্ত তোমাকে ভালোবাসার মানুষটা খুঁজে পেয়েছো কিন্তু তাকে দরজা দিয়ে ঢুকতেই দিচ্ছ না?’
সেই সন্ধ্যায় আমি আমার বাবাকে ভিতরে ডেকে নিলাম। আমরা ভাঁজ করা সোফাটায় পাশাপাশি বসলাম, আর একটা মাছিকে জানালার কাঁচ আর গ্রিলের মাঝের স্ক্রিনটায় বেয়ে উঠতে দেখলাম। বেয়ে উঠতে উঠতে ওটা একটু ভনভনালো। ছাদের পাখাটা ক্যাঁচকোঁচ করলো আর ওটা করিডোরের মেঝেতে ছায়া বিছালো। ছায়াটা উঁচুতে লাফ দিলো আর দরজায় চড়ে বসলো আর দেয়ালের ঘুলঘুলিতে উঁকি দিল।
বাতাস একটি কাপ উল্টে ফেলল। কয়েক সেকেন্ডের জন্য কাপটা জানলার কার্নিশে কাত হয়ে রইলো। তারপর এটি একপাশে গড়িয়ে পড়লো আর মেঝের উপর দিয়ে গড়গড়িয়ে চলে গেল। আমি ছিটকিনিটা তুলে জানালাটা আটকে দিলাম। কাঁচের গায়ে বাতাস-ভেজা ঠোঁট বুলিয়ে দিল। ধুলো আর লালার একটি দাগ রেখে গেলো, আর গ্লাসের কানা ধরে লালাটা ধীরে গড়িয়ে নেমে গেল। বাতাসের মুখটা লালাভর্তি ছিলো। শিগগিরিই লালায় সারা জানালা ঢেকে গেলো, ততক্ষণ ধরে ছড়াতে লাগলো যতক্ষণে জানালার বাইরের রোজমেরি ব্রাশউডের ঝোপটা ঝাপসা হয়ে যায়। বাইরে জাকারান্ডা নিচু হয়ে ছাদে আঁচল কেটে গেলো। পাশের ঘরে দরজা জানালা দমদম বাড়ি খেলো।
আমি আমার বাবার দিকে তাকালাম। তাকে একইসাথে অচেনা আর চেনা লাগছিলো, একই সাথে দারুণ আর ভীতিকর—সে ঝুরঝুরে ছিলো, চিনামাটির চিড়ধরা হাতলের মতো, আর সে ছিলো পেঁচার শীতল পীতবর্ণ দৃষ্টির মতো।
আমার বাবা আমার হাত ছুঁলো—এতো হাল্কা, এতো নরম করে যেন, ভয় পাচ্ছিলো আমি শিউরে উঠবো আর হাত সরিয়ে নেব। আমি চোখ তোলার সাহস করলাম না, কিন্তু সে আমার চিবুক ছুঁলো আর উপরে তুললো যাতে করে তার দিকে তাকানো ছাড়া আমার আর উপায় রইলো না।
আমার মনে পড়লো সেই সময়ের কথা যখন আমি ছোট ছিলাম, যখন আমি প্রায় এরকমভাবেই আমার বাবার চোখের দিকে তাকাতাম। ওখানে আমি দেখতাম বিভিন্ন আকৃতি; বৃত্ত, ত্রিভুজ আর চতুর্ভুজের একটি মাতাল, বুদ্ধিহীন পিণ্ড। আমি বিস্মিত হতাম আমার বাবার চোখের ভিতরে ওগুলো ঢুকলো কীভাবে। আমি কল্পনা করতাম সে টেবিলে বসে, রঙিন বই থেকে চকচকে স্মৃতিগুলো কেটে নিয়েছে, আর আঠা দিয়ে মেখে ওগুলো চোখের ভিতর দিকে সেটে দিয়েছে যাতে তার মণির ভিতরে একটা উদ্ভট এলোমেলো কোলাজ তৈরি হয়।
আমার বাবা বলল, ‘একটু চা হবে, সিমবি?’
আমি নিয়ে এলাম, আর সে জানতে চাইলো তার পুরনো বন্ধু পাইয়াস ওবোতে এখনো শনিবারগুলোতে বাড়িতে আসে কি না, এখনোও বাদাম সাবান আর কুমড়ো পাতা আর পোস্ট অফিস থেকে আসার পথে তোলা চিঠির গাদা হাতে হাজির হয় কিনা।
আমি বললাম, ‘পাইয়াস ওবোতে চার বছর হলো মারা গেছে’
আমার বাবা তার কাপটা ঠেলে সরিয়ে দিলো। সে বলল, ‘যদি চাও যে তোমার চা না খাই, বললেই পারো, তোমার মুখ দিয়ে লোক মারা-মারা খেলো না’
আমার বাবা খানিকক্ষণ চুপ রইলেন, এই পাইয়াস ওবোতে লোকটার জন্য দুঃখ করলেন, যে আমাকে সবসময় হাঁটুতে হাঁটুতে বাড়ি খাবার কথা মনে করিয়ে দেয়। পাইয়াস ওবোতে খুব চোখ পিটপিট করতো, পকেটের মধ্যে বলপেনের জন্য হাতড়াতো আর হাতে উঠে আসতো একটা মুরগির হাড়, তখনো লালা, তখনো রসালো।
আমার বাবা আমাকে বলল, ‘তোমার সাথে দেখা হলো। তুমি চা খাওয়ালে। এখন আমি যাব’।
‘কোথায় যাবে?’
‘এখান থেকে দূরে কোনো শহরে কাজ খুঁজে নেব। হয়তো এলদোরেতে। ওখানে একসময় আমার লোকেরা ছিল।‘
আমি বললাম, ‘তুমি এখানে আর কয়েকটা দিন থেকে যেতে, বাবা’।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1406)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
-
▼
2020
(416)
-
▼
July
(46)
-
▼
Jul 15
(9)
- সৈয়দ ইসমাঈল হোসেন শিরাজী by সৈয়দ শামীম শিরাজী
- জাকাত কে কাকে দেবেন by মুফতি এহছানুল হক মুজাদ্দেদী
- বিদেশি সবজি স্কোয়াস চাষ করবেন যেভাবে
- গল্প- আমার বাবার মাথা by ওকউইরি ওদুর
- গল্প- আত্ম+সুখ+হনন by চাণক্য বাড়ৈ
- আধুনিক গদ্যের রূপকার আন্তন চেখভ by কাজী মাহবুবুর র...
- হজের আহকাম
- কিভাবে চিনবেন ডেঙ্গু ও এনকেফেলাইটিসের মশা
- ডেঙ্গু মায়োকার্ডিটিস রূপ নিলেই সর্বনাশ! ঝুঁকি কমাত...
-
▼
Jul 15
(9)
-
▼
July
(46)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ইরান
ক্রিকেট
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
কালবেলা
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
ইউক্রেন
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
স্বাস্থ্য
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
জ্যোতির্বিজ্ঞান
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
জীবনযাপন
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
মসজিদ
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
ইয়েমেন
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
Exclusive
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
জনস্বাস্থ্য
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
লাতিন আমেরিকা
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
জোহরান মামদানি
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
ইহুদি
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
স্পেন
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment