সভ্যতা গাছের প্রাণহানিও মেনে নেয় না by রফিকুজ্জামান রুমান

সারাবিশ্ব এগিয়ে চলেছে উন্নয়নের দিকে, অগ্রগতি ও প্রগতির দিকে। উন্নয়ন মানে শুধুমাত্র ‘অবকাঠামো’ নয়; উন্নয়ন মানে মানসিকতার উন্নয়ন, চেতনার উন্নয়ন, চিন্তার উন্নয়ন, সৃজনশীলতার উন্নয়ন, গণতন্ত্রের উন্নয়ন, পরমতসহিষ্ণুতার উন্নয়ন, সর্বোপরি মানবিকতার উন্নয়ন। এমনকি এই আমাদের দেশেই তো রাস্তার ধারের কিংবা পার্কের কোন গাছ কেটে ফেললে সমালোচনা হয়, গণমাধ্যমে রিপোর্ট হয়। সভ্যতা এখন শুধু মানুষের নয়; অহেতুক গাছের প্রাণহানিও মেনে নেয় না। জাহাজের তেলে সুন্দরবনের ক্ষতি দেখতে ছুটে আসে জাতিসংঘও। স্কুলে কোন শিশুকে শিক্ষক প্রহার করলে রাস্তায় মানববন্ধন হয় তার প্রতিবাদ। প্রগতির এমন বিকাশের সময় এ হতেই পারে না যে, পেট্রলবোমায়, গুলিতে সাধারণ মানুষ মারা যাবে অহরহ। অথচ নির্মম শিকার হচ্ছেন মানুষ। কেউ মারা যাচ্ছেন দুর্বৃত্তদের পেট্রলবোমায়, কেউ মারা যাচ্ছেন পুলিশের গুলিতে।
রফিকুজ্জামান রুমান
জনগণই প্রজাতন্ত্রের মালিক। রাজনৈতিক সরকার আজ আসে কাল যায়। কিন্তু রাষ্ট্র এবং তার জনগণ তো ধ্রুব। অস্বীকার করার উপায় নেই, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি এমন উচ্চ মার্গে পৌঁছায়নি যে সব প্রতিষ্ঠান ‘রাজনীতিমুক্ত’ হয়ে যাবে। সেই আশা করাও হচ্ছে না। কিন্তু একেবারেই রাজনীতি করছেন না সাধারণ মানুষ- তারা কেন হয়রানির শিকার হবেন। আর যারা রাজনীতি করেন তাদেরকে গ্রেপ্তার করতে পারেন। কিন্তু বিনা বিচারে মেরে ফেলার সংস্কৃতি একেবারেই কাম্য নয়। কারণ বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী বিচার পাওয়ার অধিকার প্রতিটি নাগরিকেরই রয়েছে। অতিসম্প্রতি রাজধানীর কাজীপাড়ায় চার যুবকের মৃতদেহ পাওয়ার পরে পুলিশ বলেছে, গণপিটুনিতে তারা মারা গেছে। অথচ প্রায় সবগুলো পত্রিকায় রিপোর্ট হয়েছে, নিহতদের একজনের শরীরে ১৮টি, একজনের ১৬টি, আরেকজনের শরীরে ২১টি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। একজনের কথা পুলিশ স্বীকার করেছে যে, সে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা গেছে। প্রতিদিনই গ্রেপ্তার হচ্ছে অসংখ্য মানুষ, যাদের একটা বড় অংশই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়। যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করছে, যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমা মারার মতো ক্ষমার অযোগ্য পাপ যারা করছে, তাদেরকে অবশ্যই দমন করতে হবে। কিন্তু একজন সন্ত্রাসীরও বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। সেই অধিকারকে নষ্ট করার অধিকার রাষ্ট্র কাউকে দেয়নি। রাষ্ট্রের জন্মের এক বছরের মধ্যে সংবিধান প্রণয়ন করে পৃথিবীর বুকে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল বাংলাদেশ। যে সংবিধানকে পৃথিবীর অন্যতম উন্নত সংবিধান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সংবিধানের প্রধানতম দাবি হচ্ছে এই, কারও বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে হলে- তা  কেবল আইনের অধীনেই হতে হবে।