Sunday, November 4, 2012
উদ্বাস্তু by দেবেশ রায়
উদ্বাস্তু by দেবেশ রায়
বিছানায় শুয়ে এক কাপ চা খাওয়া সারা দিনের পরিশ্রমের প্রথম বিলাসী ভূমিকা। স্ত্রী যদি উঠতে তাগাদা নাও দেয়, নিজের তাগাদাতেই বিছানা ছাড়তে হয় বেলা আটটার মধ্যে। হাত-মুখ ধোয়া, পায়খানা ও বাজার সারতে সারতে সাড়ে আটটা।
বাকি আধঘণ্টা সময় হাতে রাখতে হয় কয়লা ওষুধ কিংবা লন্ড্রির জামা-কাপড় ইত্যাদি কিছু না কিছুর জন্য। তারপর আট ঘণ্টা_বেশ্যা যেমন তার মেয়েত্বকে এক ঘণ্টা, দুই ঘণ্টা বা তিন ঘণ্টার জন্য বেচে_নিজের ইংরেজিতে চিঠি লিখবার বা ঠিকে যোগ দেবার ক্ষমতাকে বেচে, নিজ মেরুরেখার চারপাশে আবর্তিত হতে পৃথিবীর আরো যে-বার ঘণ্টা সময় লাগে তা ঝিমিয়েই কাটিয়ে দেয়া যায়। জীবনের জন্য জীবিকা_এই ধরনের প্রচারিত একটি সিদ্ধান্ত যখন নিজ অভিজ্ঞতার জোরে জীবিকার জন্যই জীবনধারণ এই প্রকার বিপরীত সিদ্ধান্তের দিকে ঝোঁকে, তখন যে-সকাল আটটায় ঘুম থেকে না-ওঠার কোনো উপায় নেই, সেই কালে স্ত্রী বা কন্যার ডাকাডাকি, সাধাসাধি, চায়ের কাপ ঠোঁটের কাছে এনে কাকুতি-মিনতি নিজেকে বেশ সম্পন্ন ব্যক্তি বলে মনে করায়। সেই ধাক্কাতেই আবার ঘুমিয়ে পড়ার আগে পর্যন্ত চলে যায় বেশ। প্রভিডেন্ট ফান্ডে যে-টাকা রেখে মারা যাওয়ার সুযোগ ঘটে, তাতে ঋণ বাদ দিয়ে দাহ-খরচ ও শ্রাদ্ধ ভালোভাবেই চুকে যায়। পঞ্চভূতে নির্মিত দেহ পঞ্চভূতে মিশে যাবার আগে শবহীন স্মৃতিস্তম্ভ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে গোটা দুনিয়া, আর 'লোকটা বেশ গোছান ছিল, টুকটুক করে জীবন চালিয়ে মরাটা পর্যন্ত রাইট টাইমে মরল'_এই প্রকার শোকবার্তা স্মৃতি বহন করে। সন্তানসন্ততিরা জানান দেয় লোকটার বেশ শক্ত মূল ছিল, বহুদূর প্রসারিত, আর কখনোই লোকটি নিজের জমি ছাড়িয়ে অন্য জমিতে শেকড় চালায়নি।
কেরোসিন কাঠের তক্তাপোষে সাড়ে চার টাকা দামের এক তাঁতের মশারির নিচে সত্যব্রত সেদিন এই রকম একটি আত্মনির্ভর স্বত্বাধিকারীর মতোই ঘুমোচ্ছিল। নিঃসংশয়ে তারই যে স্ত্রী, সেই মহিলা সত্যব্রতকে এসে ডাকাডাকি করছিল_'শুনছ, এই শুনছ, শুনছ, এই।' আপ্যায়িত সত্যব্রত অনাবশ্যক পাশ ফিরে শুলো। যেন ওপর দিকের কানের গর্ত দিয়ে অণিমার ডাকগুলো খুব ভালোভাবে ভেতরে গলে যাবে। কিন্তু অণিমা বলল, 'বাইরে তোমাকে কারা ডাকছেন।'
সুতরাং সত্যব্রত চোখ খুলে_'কে?'
'কী জানি? জানি না। বসতে বললাম, বসল না, দাঁড়িয়ে আছে' বলে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে যেতে অণিমা যোগ করল_'চা হয়ে গেছে, খেয়ে যাও, নইলে ঠাণ্ডা হয়ে যাবে।'
ততক্ষণে চৌকির কানায় পা ঝুলিয়ে বসে সত্যব্রত নিজেকে স্বত্বাধিকারী ভাবার বদলে যেন চারদিকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখল, তার বাড়িতে যেসব জিনিস থাকবে ধরে নিয়ে লোক দুটি এসেছে, তা আছে কি না। যেন, আদালত থেকে তার বাড়ি নিলামে চড়াতে এসেছে_এমনভাবে কয়েক সেকেন্ড ঘরের চারপাশে তাকাল। তারপর অপর চৌকিতে অঞ্জুকে শোয়া দেখে যেন অনেকখানি নিশ্চিন্ত হয়ে নিজের দিকে তাকাল। দু-টাকা চার আনা দামের লুঙি, রং উঠে গেছে, সত্যব্রত আন্ডারওয়্যার পরে না, অর্থাৎ লুঙিটা যেন দেবীদের শাড়ির মতো, আছে অথচ নেই। বালিশের পাশে গেঞ্জিটা পড়েছিল, সেটা গায়ে দিল। তারপর নিজের চেহারাটা কল্পনা করল_পাতলা লুঙি, ছেঁড়া গেঞ্জি, সদ্যনিদ্রোত্থিত_অচল। যেন বাইরের লোক দুটো সত্যব্রতকেই নিলামে তুলতে এসেছে। অণিমার পায়ের শব্দে চমকে দাঁড়িয়ে, কয়েক মিনিট আগে যে-লোকটা একটা মালিক মালিক ভাব নিয়ে ঘুমোচ্ছিল, দু-হাতের তালুতে মুখ ঘষতে ঘষতে সে এমনভাবে বাইরে গেল যেন সে তার নিজের নামটাই অস্বীকার করবে। অণিমা 'এই' পর্যন্ত বলে চায়ের কাপ টেবিলের ওপর ডিশ চাপা দিয়ে রেখে অঞ্জনাকে ধাক্কা দিতে শুরু করল_'এই অঞ্জু, ওঠ, অঞ্জু অঞ্জু, এই দেখো, কিরে, চড় খাবি নাকি?'
লোক দুজন সাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। সত্যব্রত গিয়েই বলল_'ভেতরে বসুন।'
'না না, দরকার নেই, একটা খবর দিতে এসেছি, এক্ষুনি চলে যাব।'
লোকটার হাসি থেকে সত্যব্রত অনুমান করার চেষ্টা করতে লাগল কাছাকাছি কোনো দিনে নিমন্ত্রণ পাবার কথা আছে কি না।
'ভেতরে এসেই বসুন না_'
'না। শুনুন, আপনাকে আজ বা কাল যেকোনো সময় থানায় গিয়ে একবার দারোগাবাবুর সঙ্গে দেখা করতে হবে। যখন আপনার সুবিধে_'
'থানায়! আমাকে?'
একজন বলল_'আজ্ঞে।' আরেকজন পকেট থেকে নোট বই বের করে কয়েকটা পাতা উল্টে পড়ল_'আপনার নাম তো শ্রীসত্যব্রত লাহিড়ী, পিতার নাম মৃত পুণ্যব্রত লাহিড়ী, হোল্ডিং নাম্বার দুই শ তিরিশ বাই এ বাই সিঙ্।' তারপর নোট বইটা পকেটে রাখতে রাখতে বলল, 'আজ্ঞে আপনিই।'
অপরে সাইকেল ঘোরাতে ঘোরাতে বলল, 'যখন আপনার সুবিধে হয় যাবেন, এতো তাড়াহুড়োর কিছু নেই, একদিন গেলেই হলো_'
লোক দুটো সাইকেলের প্যাডেলে পা দিচ্ছিল। সত্যব্রত তাদের ডেকে থামাল_'আচ্ছা, আপনারা বলতে পারেন একটু, কেন?'
লোক দুটো ওখান থেকেই ঘুরে দাঁড়াল, আরেকজন বলল, 'আরে কিছু না, কিছু না। বলেন কেন আর। গবমেন্ট থেকে অর্ডার এসেছে, তোমাদের দেশে_মানে শহর, আবার সীমান্ত শহর কিনা_আমরা খবর পেয়েছি তোমাদের ওখানে অনেক লোক আছে, যারা আসলে সে-লোক নয়।' তারপর যেন সত্যব্রতকে অভয় দেবার জন্যই লোক দুটো দেখে বা শুনে মহড়া-দেওয়া মনে হয় এমনি এক হাসি হেসে বলল, 'আর বলবেন না মশাই সেন্ট্রালের কাণ্ড, যারা আছে, তারা তারা নয়। ভাবুন দেখি, আমরাই বা কী করি, চাকরি তো রাখতেই হবে। আচ্ছা চলি, যাবেন একদিন, একটু আলাপ করে আসবেন।' লোক দুটি সাইকেলে চেপে চোখের বাইরে চলে যাবার আগেই সত্যব্রত পেছন ফিরে ঘরে ঢুকে পড়ল, যেন সে লোক দুটোকে দেখাতে চায় যে সে তাদের যাবার আগেই ঘরে ঢুকেছে। তাছাড়া নিঃসন্দেহে অণিমা ভেতর থেকে কথাবার্তা শুনেছে। বারান্দায় বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে সে অণিমাকে ভাবতে দিতে চায় না যে থানায় যাবার নামে সে ঘাবড়ে গেছে।
কিন্তু অণিমা কোনো কথাই শোনেনি। সত্যব্রত টেবিল থেকে চা-টা তুলে নিয়ে চুমুক দিলে, এমন সময় রুটি কামড়াতে কামড়াতে অঞ্জুর প্রবেশ, তার পেছনে অণিমা। অর্থাৎ অণিমা এতক্ষণ অঞ্জুকে নিয়ে রান্নাঘরে ছিল, এটুকু ভেবেই সে মনে মনে হেসে উঠল_সে কী, আমি কি চুরি না ডাকাতির দায়ে ধরা পড়েছি যে অণিমাকে জানতে দিতে চাইছি না!
'জানো, আমরা আমরা কিনা_তার খোঁজখবর নেবার জন্য গভর্নমেন্ট নাকি থানায় অর্ডার দিয়েছে, তাই থানায় যেতে হবে।'
'থানায় যেতে হবে, তোমাকে, কেন?'
'আমি যে আমি, এটা প্রমাণ দিতে।'
'কেন?'
'গভর্নমেন্টের হুকুম' বলে চায়ের কাপটা টেবিলের ওপর রেখে সত্যব্রত খুব দ্রুত কুয়োর পাড়ের দিকে গেল। হাত-মুখ ধোয়া সেরে বাজারে যেতে হবে।
বাজার থেকে ফেরার পর যে-আধঘণ্টা সময় টুকিটাকি কাজের জন্য আলাদা করে রাখা, তারই ফাঁকে সত্যব্রত থানা থেকে ঘুরে আসবে স্থির করল। সে জন্য বাজারটাও ধীরেসুস্থে করল না। খানিকটা দৌড়েই যা পেল তা কিনল। অথচ লোক দুটো বলে গিয়েছিল যে যখন সুবিধে তখন গেলেই হবে। থানায় কাজ থেকে ফেরার পথে গেলেই সব দিক থেকে সুবিধে। কিন্তু সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর এ-খবর শুনে ইস্তক থানায় যাবার জন্যই যে সে ছটফট করছে, তা আর নিজের কাছেও লুকনো থাকল না যখন বাজার ফেলেই সে বেরিয়ে পড়ল। অণিমা একবার বলেছিল_'এতো ছটফট করে যাবার দরকারটা কী, বিকেলে গেলেই তো হয়।' অঞ্জুও একটা অঙ্ক দেখিয়ে নেবার জন্য পিছু পিছু ঘুরছিল। সত্যব্রত তাড়াতাড়ি বেরিয়ে থানার দিকে হাঁটা শুরু করল।
আর ফিরল সূর্যাস্তের পর। অণিমা দুপুর থেকে ওঠা-বসা, ঘর-বারান্দা করছে। দশটার পর পাড়াতে বয়স্ক ছেলেপুলে পর্যন্ত নেই যে তাকে থানায় খবর নিতে পাঠাবে। বিকেলে পর্যন্ত এইভাবে কাটিয়ে শেষে একজনকে থানায় পাঠিয়েছিল। ছেলেটি এসে সংবাদ দিল সত্যব্রত ওখানে আছে। পাড়ায় ঘুরে অণিমা শুনে এসেছে একবার সবাইকেই নাকি থানায় যেতে বলেছে এবং ঐ একই কারণে, যে-যা সে-তা কি না সেটা চূড়ান্তভাবে যাচাই করতে এবং আত্মপরিচয় দিতে। যে-মাটিতে শেকড় চাড়িয়ে সে গাছ, সেই মাটি ছেড়ে, যে-পরিবারের মধ্যে সে স্বীকৃত, সেই পরিবার ছেড়ে; আজ বা কাল থানায় গিয়ে প্রমাণ দিতে হবে_তার আত্মার প্রমাণ, আজ অথবা কাল, তার অস্তিত্বের প্রমাণ, আজ অথবা কাল।
সত্যব্রত হাঁটছিল সমস্ত গা ছেড়ে দিয়ে পা টেনে টেনে। ঘাড়-ভাঙ্গা মুরগির মতো গলাটা ঝুলছে, ভেজা কুকুরের মতো চুলগুলো বিশৃঙ্খল, কণ্ঠার আশ্রয়ের মৃত্যুর মতো শীতলতা, আঙুলগুলো চামড়ার গ্লাভসের মতো যেন পাঞ্জার অনুকরণ। বাইরের দরজা থেকে কথাটি না-বলে পায়ে পায়ে অনুসরণ করছে অণিমা। একবার পিঠের ওপর হাত রেখেছিল, সহসা অনধিকারবোধে আক্রান্ত হয়ে সে হাত তুলে নিয়েছে। ভেতরের সিঁড়ির ওপর শ্মশান-প্রত্যাগতের মতো বসে পড়েছে। কিছুক্ষণ পর চোখ বুজে হেলান দিয়েছে। পেছনে থাম না-থাকলে হয়তো শুয়ে পড়ত। অণিমা নায়নি, খায়নি। সত্যব্রতর সমস্ত শরীরে উত্তর খুঁজে অণিমা বসে পড়ল, বোধ হয় তার বসার শব্দেই চোখ মেলে শুধু মণিটাকে আশপাশে ঘুরিয়ে সত্যব্রত কিছু একটা সন্ধান করল। এতক্ষণে অণিমা বলল, 'অঞ্জু ওর এক বন্ধুর বাড়িতে গেছে।' শুনে সত্যব্রত চোখটা যখন অণিমার মুখের ওপর স্থির করল, তখন অণিমার মনে হলো সেই দৃষ্টির বহু অভ্যন্তরে বুঝিবা কিছু দেখা গেল, যাতে সত্যব্রতকে সত্যব্রত মনে হলো। সত্যব্রত পকেট থেকে একতাড়া কাগজ বের করে অণিমার হাতে দিয়ে আবার চোখ বুজল। চারপাশ থেকে ঝুপ ঝুপ করে অন্ধকার ঝরছে। ক্ষণেক আলো পাবার আশায় অণিমা আকাশের আলোয় গিয়ে দাঁড়াল।
জনসাধারণের অবগতির জন্য প্রচারিত।
১৯৩৯ থেকে ৪৫ পর্যন্ত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলে পৃথিবীর ভূগোল ও ইতিহাসে যে-গুরুতর পরিবর্তন ঘটেছে, তার একটি সুসম্পাদিত ও সুসংগৃহীত তালিকা না-থাকায়, পৃথিবীর অধিবাসীদের দেশ, জাতি, ভাষা, বংশ ইত্যাদি চিহ্নিত করার কিছু ব্যাঘাত ঘটছে। সব দেশের ভূগোল ও ইতিহাস এত গুরুতর পরিবর্তনের সম্মুখীন হয়েছে যে, কে যে কে, সে-বিষয়ে স্থির নিশ্চিত জানার উপায় নেই। আমরা এক তথ্য সংগ্রহ অভিযানের সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারি যে পৃথিবী গ্রহে বর্তমানে বহু ফেরারি ও বেনামা ব্যক্তি আছে। বিশেষ করে ভারতবর্ষ-পাকিস্তান, উত্তর ভিয়েতনাম-দক্ষিণ ভিয়েতনাম, উত্তর কোরিয়া-দক্ষিণ কোরিয়া, পূর্ব জার্মানি-পশ্চিম জার্মানি ইত্যাদি দেশে। সে-কারণে 'খাঁটি ব্যক্তির সন্ধান' নামক রাষ্ট্রসংঘের কর্মসূচির ভিত্তিতে আমরা সমস্ত দেশেই যে-যা বলে পরিচিত, সে-তা কি না, তা পরীক্ষা করছি। এবং বিশ্ববাসীকে অনুরোধ করছি তাঁরা যেন স্ব স্ব আত্মপরিচয় নিয়ে নিকটবর্তী থানায় হাজিরা দেন।
বল্লভপুর থানার বিবরণ।
এক শ্রীসত্যব্রত লাহিড়ী, পিতা মৃত পুণ্যব্রত লাহিড়ী, আদি নিবাস পূর্ব পাকিস্তান, বর্তমানে ২৩০।এ।৬ হোল্ডিংস্থ মোকানে বাস করেন। এই হোল্ডিংয়ের জন্য দেয় মিউনিসিপ্যাল কর গত বারো বৎসর যাবৎ তিনি দিয়ে আসছেন। ও ইংরেজি ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দের ১০ই জুন তারিখে ঐ হোল্ডিংয়ের তৎপূর্ব মালিক শ্রীবনবিহারী মলি্লকের স্বাক্ষরযুক্ত বিক্রয়-দলিল পরীক্ষার পর উক্ত হোল্ডিং শ্রীসত্যব্রত লাহিড়ীর নামে বল্লভপুর রেজিস্ট্রেশন অফিসে রেজিস্ট্রিভুক্ত হয়। কিন্তু বিশেষ অনুসন্ধানের পর জানা যায় শেখ মনসুর আলী, পিতা মৃত কদম শেখ, হালসাকিন রায়চর, জেলা পাবনা, ঐ হোল্ডিংয়ের বর্তমান ন্যায়সংগত মালিক। ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দের হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গার পর মৃত কদম শেখ তাঁর পুত্র মনসুর, কন্যা আমিনা ও স্ত্রী নুরাকে নিয়ে পূর্ব পাকিস্তানে চলে যাবার পূর্বে তাঁর বাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ঐ পাড়ার তিন পুরুষের অধিবাসী শ্রীবনবিহারী মলি্লকের ওপর দিয়ে যান। এবং ঐ বৎসরই শ্রীবনবিহারী মলি্লক ঐ হোল্ডিংয়ের মালিক হিসাবে শ্রীসত্যব্রত লাহিড়ীর নিকট বিক্রয় করেন। পাবনা অন্তর্গত রায়চরে শেখ মনুসর আলীর নিকট ১৯২১ খ্রিস্টাব্দের ১৩ই ডিসেম্বর তারিখের মূল দলিলের নকল আছে।
সুতরাং শ্রীসত্যব্রত লাহিড়ী নামক কোনো ব্যক্তি বল্লভপুর মিউনিসিপ্যালিটির ২৩০/এ/৬ নং হোল্ডিংস্থ মোকানের মালিক নন। বা বল্লভপুর মিউনিসিপ্যালিটির ২৩০/এ/৬ নং হোল্ডিংস্থ মোকানের মালিকের নাম শ্রীসত্যব্রত লাহিড়ী নয়।
দুই মৃত পুণ্যব্রত লাহিড়ীর পুত্র বলে কথিত শ্রীসত্যব্রত লাহিড়ী ১৯৪৭ সালের পর ভারত ইউনিয়নের বহু জায়গায় সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রে ইস্কুল মাস্টারি, কেরানিগিরি ইত্যাদি কাজ করেন। সব জায়গাতেই তিনি শ্রীসত্যব্রত লাহিড়ী, পুণ্যব্রত লাহিড়ীর পুত্র, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৪৫ সালের বিএ বলে নিজের পরিচয় দিয়েছেন।
নির্দিষ্ট দিন কাজের পর যখনই তাঁর কাছে বিএ ডিপ্লোমা প্রভৃতি চাওয়া হয়, তিনি বলেন যে পরীক্ষা দেওয়ার পর দাঙ্গার ভয়ে দেশত্যাগ করায় তিনি বিএ মূল ডিপ্লোমা সংগ্রহ করতে পারেননি ও দেশভাগের পর এখন আর তা সম্ভব নয়। দু-একটি ক্ষেত্রে এর পরেও কর্তৃপক্ষ চাপ দেওয়ায় তিনি কাজ ছেড়ে দেন।
তদন্তে প্রকাশ : মৃত পুণ্যব্রত লাহিড়ীর পুত্র সত্যব্রত লাহিড়ী নামধেয় ব্যক্তি ১৯৪৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাস করেছিলেন বটে, কিন্তু পর বৎসরই তিনি খুলনা যাবার পথে ট্রেনের মধ্যেই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ফলে নিহত হন।
এমন হতে পারে বর্তমানে যে বা যারা মৃত সত্যব্রত লাহিড়ীর আত্মপরিচয় গাপ করেছে, তারা মৃত সত্যব্রত লাহিড়ীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ পরিচিত ও সেই কারণেই মৌলিক সত্যব্রত লাহিড়ীর পরিচয়ের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয়গুলোকেও নিজেদের কাজে লাগাতে পারছে। মৃত সত্যব্রত মরেও জীবিত হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এবং বর্তমানে জীবিত সত্যব্রত লাহিড়ী বস্তুত মৃত।
মৃত পুণ্যব্রত লাহিড়ীর এখন খুড়তুতো ভাই স্বাধীনতার বহু পূর্ব থেকেই কলকাতায় চাকরি করেন। তদন্ত কমিশনের এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন যে সত্যব্রত লাহিড়ীর পরিচয়ে চাকরির চেষ্টা হয়েছে এমন দশটি ক্ষেত্রের কথা তিনি জানেন। তাঁর জানা দশটি ক্ষেত্রের বিবরণ শোনার পর বোঝা গেল তাঁর অজ্ঞাতে বহু বহু জায়গায় চাকরির চেষ্টা করা হয়েছে। শুধু চাকরিই নয়, সত্যব্রত লাহিড়ীর পরিচয় দিয়ে এমনকি বিবাহের চেষ্টা পর্যন্ত হয়েছে এবং একটি বিবাহ যে সংঘটিত হয়েছে, সে-বিষয়ে নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া গেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গেজেট আলোচনা করে দেখা যায়, ১৯৪৫ সালে দুজন সত্যব্রত লাহিড়ী ঐ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাস করেন। এই দ্বিতীয় সত্যব্রত লাহিড়ীই সমস্ত সমস্যাকে আরো জটিল করে তুলেছেন। নইলে 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৪৫ সালের বিএ' এই পরিচয়দানকারী যেকোনো ব্যক্তিকেই নিশ্চিন্ত মনে গ্রেপ্তার করা যেত।
বিভিন্ন জেলা কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে প্রাপ্ত সংবাদে জানা যায়, সবসুদ্ধ এ পর্যন্ত মোট সাতাশি জন 'সত্যব্রত লাহিড়ী' ১৯৪৭ সালের পর বিবাহ করেছেন। তাঁদের কজন '১৯৪৫ সালের ঢাক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএ' তা জানা যায়নি।
দ্বিতীয় ঐ আরেকজন সত্যব্রত লাহিড়ী ঐ একই বৎসর বিএ পাস করেছেন বলে কে জীবিত আর কে মৃত সত্যব্রত, তা নিশ্চিতরূপে নির্ণয় করা যায় না। এমন হতে পারে 'মৃত' সত্যব্রত (বা জাল সত্যব্রত) নিজের সুবিধা অনুযায়ী কখনো মৌলিক মৃত সত্যব্রতের, কখনো মৌলিক জীবিত সত্যব্রতের বাবার নাম নিজের বাবার নাম হিসেবে বলে।
১৯৪৫ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএ_এই পরিচয়টিই জাল সত্যব্রতের নিজেকে অন্য পরিচয়ে পরিচিত করার একমাত্র কারণ বলে ঐ তথ্যটি সে কোনো ক্ষেত্রেই বদলায় না। এবং সেখানে তাকে অবিশ্বাসও করা যায় না, কারণ সত্যিই এক সত্যব্রত লাহিড়ী ১৯৪৫ সালে বিএ পাস করেছেন। পিতৃপরিচয়ে জাল সত্যব্রত লাহিড়ীর প্রয়োজন নেই বলেই তা পরিবর্তনশীল।
ফলে (ক) মৃত পুণ্যব্রত লাহিড়ীর পুত্র (খ) ১৯৪৫ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএ এবং (গ) শ্রীসত্যব্রত লাহিড়ী_এই তিনটি পরিচয় একত্রে পাওয়া যায় না।
পরন্তু সমস্যা আরো জটিল হয় মৌলিক সত্যব্রত লাহিড়ীর মৃত্যুর অনিশ্চয়তায়। সংবাদে প্রকাশ, ১৯৪৬ সালের প্রথম দিকে খুলনা যাবার পথে একবার এক গুণ্ডার দল ট্রেন আক্রমণ করে, ফলে বহুলোক হতাহত হয়। এই নিহতদের তালিকায় 'সত্যব্রত লাহিড়ী' এই নাম পাওয়া যায়। এই নাম ভুল ছাপা হতে পারে। এই সত্যব্রত লাহিড়ী অন্য কেউ হতে পারে। কিন্তু ঐ খুলনা রওনা হবার পর ১৯৪৫ সালের বিএ ও পুণ্যব্রত লাহিড়ীর পুত্র সত্যব্রত লাহিড়ী আর ফিরে আসেননি বলে তাঁকে মৃত ধরে নেওয়া হয়।
সুতরাং সমস্যা নিম্ন প্রকার। (১) মৃত পুণ্যব্রত লাহিড়ীর পুত্র, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৪৫ সালের বিএ, খুলনা ট্রেন আক্রমণে নিহত বলে ধরে নেওয়া কি অযৌক্তিক? অর্থাৎ মৌলিক সত্যব্রত জীবিত হওয়া সত্ত্বেও কি তাকে মৃত বলে ধরা হচ্ছে? (২) যদি মৌলিক সত্যব্রতের সত্য সত্যই মৃত্যু হয়ে থাকে, তবে তাঁর পরিচয় কে, কে আত্মসাৎ করেছে?
এই দুটি প্রশ্নের উত্তর মাত্র একজন দিতে পারেন। 'সত্যব্রত লাহিড়ী' এই নাম নিয়ে যে-কজন একজন হয়েছেন। সে কারণেই এই প্রশ্ন ঘরে ঘরে, ১৯৪৭-এর পর যাঁরা বিবাহ করেছেন, যাঁদের সন্তান হয়েছে, যাঁরা চাকরি-বাকরি নিয়ে ঘর-সংসার করছেন_তাঁদের প্রত্যেককে পেঁৗছে দেওয়া হচ্ছে।
যত দিন এই দুই প্রশ্নের উত্তর না-পাওয়া যায়, তত দিন কোনো সত্যব্রত লাহিড়ীই নিজেকে নিঃসংশয়িতরূপে সত্যব্রত লাহিড়ী বলে ভাবতে পারবেন না, কোনো স্ত্রীই তাঁর স্বামীকে মৃত পুণ্যব্রত লাহিড়ীর পুত্র সত্যব্রত লাহিড়ী বলে নিঃসন্দেহ হতে পারবেন না, কোনো সন্তানই তার পিতাকে অকৃত্রিম ও আদি সত্যব্রত লাহিড়ী বলে নিশ্চিন্ত থাকতে পারবে না।
নিজের আদি, অকৃত্রিম ও মৌলিক আত্মপরিচয়সহ নিকটবর্তী থানায় হাজিরা দিয়ে প্রমাণ করুন আপনি যে, আপনি সত্যিই সে।
তিন শ্রীসত্যব্রত লাহিড়ী ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দের ৩০এ জুলাই চবি্বশ পরগনা জেলার মুখেরা গ্রামের শ্রীহেমচন্দ্র সান্যালের দ্বিতীয় কন্যা শ্রীঅণিমা সান্যালকে হিন্দুশাস্ত্রমতে শালগ্রাম শিলা ও অগি্ন সাক্ষী রেখে বিবাহ করেন। মৃত বিশ্বনাথ ভট্টাচার্য ও শ্রীনরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী উভয়েই এই বিবাহে পৌরোহিত্য করেন ও তাঁদের উভয়ের সাক্ষ্য থেকেই এ-বিবাহ যে শাস্ত্রমতে নিষ্পন্ন হয়েছে, সে-বিষয়ে নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়। শ্রীসত্যব্রত লাহিড়ী ও শ্রীঅণিমা লাহিড়ী উভয়ে গত দশ বৎসর যাবৎ বল্লভপুর মিউনিসিপ্যালিটির ২৩০/এ/৬ নং হোল্ডিংস্থিত মোকানে স্বামী-স্ত্রীরূপে বসবাস করছেন। ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দের ১৭ই মার্চ বল্লভপুর সদর হাসপাতালে শ্রীঅণিমা সান্যাল একটি কন্যাসন্তান প্রসব করেন। এখানে উল্লেখযোগ্য যে বিবাহের সাত মাস পরে হলেও শিশু পূর্ণাঙ্গ, সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিল এবং প্রসবও অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই হয়েছে। এ-বিষয় বল্লভপুর সদর হাসপাতালের খাতায় দেখা যায় যে ভর্তি হবার মাত্র পাঁচ দিন পরই অণিমা লাহিড়ী খালাস হয়ে যান। এই সন্তানই শ্রীঅণিমা লাহিড়ী ও শ্রীসত্যব্রত লাহিড়ীর একমাত্র সন্তান শ্রীঅঞ্জনা লাহিড়ী।
'খাঁটি ব্যক্তির সন্ধান' নামক বিশ্বব্যাপী কর্মসূচীর আহ্বানে বর্তমানে পূর্ব পাকিস্তানের নাগরিক জনাব এনামুল হক চৌধুরীর স্বতঃপ্রণোদিত এক বিবরণে জানা যায় : পাকিস্তানে অণিমার পিতা শ্রীহেমচন্দ্র সান্যালের বাড়ি তাঁদের পাড়ায় ছিল। ইং ১৯৫০ সালে পূর্ববঙ্গে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময় শ্রীহেমচন্দ্র সান্যাল সপরিবারে জনাব এনামুল হক চৌধুরীর বাড়িতে আশ্রয় নেন। তখন এনামুল হক চৌধুরীর পিতা জনাব মইনুল হক চৌধুরী জীবিত। তিনি ও এনামুল অসাধারণ দৃঢ়তার সহিত হেমচন্দ্র সান্যালের পরিবারকে রক্ষা করেন। দিন পনর-বিশ পর হেমচন্দ্র ভারত ইউনিয়নে চলে আসেন। কিন্তু তাঁর কন্যা অণিমা পাকিস্তানে এনামুল হক চৌধুরীর বাড়িতেই থেকে যায়। হেমচন্দ্র সান্যালের দ্বিতীয় কন্যা শ্রীঅণিমা সান্যাল পাকিস্তানে থেকে তো গিয়েইছে, পরন্তু ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দের ৫ই ফেব্রুয়ারি তারিখে সে 'কুমকুম' এই নামে মইনুল হক চৌধুরীর পুত্র এনামুল হক চৌধুরীকে রেজিস্ট্রেশন বিবাহ করে। জনাব এনামুল হক চৌধুরী তাঁর এই বিবরণের সঙ্গে সেই বিবাহের সার্টিফিকেটের একটি নকল পাঠিয়েছেন। সে দলিলের পাত্রীর নাম আছে কুমকুম, পিতার নাম এইচ-সি-সান্যাল।
এই বিবরণের সপক্ষে নিম্ন প্রকার পরিস্থিতিগত সাক্ষ্য পাওয়া যায় : শ্রীহেমচন্দ্র স্যানাল যখন ভারত ইউনিয়নে আসেন, তখন তাঁর সঙ্গে কেউই তাঁর দ্বিতীয় কন্যা অণিমাকে দেখেনি। এমনকি মুখেরা গ্রামে আসার পর হেমচন্দ্র প্রতিবেশীদের বলেন যে তাঁর দ্বিতীয় কন্যা অণিমা তাঁর প্রথমা কন্যা অঞ্জলির কাছে আসামের এক চা-বাগানে আছে। আসামের এক চা-বাগানে হেমচন্দ্র সান্যালের বড় জামাতা কাজ করতেন। কিন্তু তাঁদের সাক্ষ্যে জানা যায়, অণিমা সেখানে কোনো দিনই যায়নি। অর্থাৎ এই সাক্ষ্যগুলো পরোক্ষভাবে এই সিদ্ধান্তের সমর্থন করে যে ১৯৫০ সালে যখন শ্রীহেমচন্দ্র সান্যাল পাকিস্তান ত্যাগ করেন, তখন অণিমা তাঁর সঙ্গে ছিল না।
তবে কি অণিমা কুমকুম নাম গ্রহণ করে এনামুলকে সত্যই বিবাহ করে? কিন্তু এইচ-সি-সান্যাল নামের আদ্যক্ষর ঘটিত এই সামান্য মিল ছাড়া আর কোনো প্রমাণই নেই যে কুমকুম ও অণিমা একই ব্যক্তি।
কিন্তু তাই যদি না-হবে, তাহলে অণিমা পাকিস্তানে থেকে গেল কেন?
এই বিষয়ে দুই প্রকার মত আছে।
প্রথম মত : জনাব এনামুল হক চৌধুরী ও অণিমা সান্যালের মধ্যে বাল্যকাল থেকেই প্রণয় ছিল। উভয়ের বাড়ি একই পাড়ায়। আট-নয় বছর বয়স পর্যন্ত তারা একই পাঠশালায় পড়ত। অণিমার মাকে এনামুল মা বলে ডাকত। এনামুলের পিতা মইনুল হক চৌধুরী ছিলেন ঐ অঞ্চলের অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি। সাতচলি্লশের পর থেকে এনামুল ও অণিমার হৃদয়-সম্পর্ক এবং এই দুই পরিবারের যোগাযোগ শ্রীহেমচন্দ্র সান্যালের পাকিস্তান ত্যাগ না-করার অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এনামুল একদিন সান্যাল বাড়িতে না-গেলে অণিমার বাবা তাকে ডেকে পাঠাতেন। এনামুলের খাবার জন্য আলাদা কাপ-ডিশ-থালা-গেলাস ছিল।
এই প্রকার অবস্থায় ১৯৫০ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হয়। নিজের বাড়িঘর ছেড়ে এনামুল তখন সান্যাল বাড়িতে চলে আসে। এনামুলের পিতা মইনুল হক চৌধুরী এই সমস্ত ব্যাপারে জড়িত হতে একেবারেই চাচ্ছিলেন না। কিন্তু তাঁর একমাত্র পুত্র যখন এই বিপদের সম্মুখীন হলো তখন তিনি আর স্থির থাকতে না-পেরে সপরিবারে হেমচন্দ্রকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং শহরের ঐ এলাকার শান্তিরক্ষার জন্য পুলিশ ও সরকারের সাহায্য আদায় করেন।
একটি মাত্র ঘরে সমস্ত দরজা-জানালা বন্ধ করে সান্যাল পরিবার ছিল। দরজার বাইরে প্রতিটি শব্দকেই তারা আশঙ্কার কানে শুনত। যখন তারা ভেতর থেকে টের পেত যে এনামুল বেরিয়ে গেল, তারপর এনামুলের ফেরা সম্পর্কে নিশ্চিত না-হয়ে কেউ স্বচ্ছন্দে নিঃশ্বাস পর্যন্ত ফেলতে পারত না। সেই মরণপুরীতে একমাত্র ভরসা ছিল এনামুল। তারই স্রোতে ভেসে এসেছে এই হক চৌধুরী পরিবার। এনামুলসহই কেবল তাদের বিশ্বাস করা যায়। দিনে চারবার করে দরজা ঠেলে খাবার দিয়ে যেত। এবং সান্যাল পরিবারের জন্য এখানে আলাদা বাসনকোসনের ব্যবস্থা ছিল না। সর্বক্ষণ চারদিকে হত্যাকারী ও আহতের উল্লাস ও আর্তনাদ, আগুনের নিঃশব্দ লেলিহানতাকে ঘোষণা করে মানুষের চিৎকার_এক-এক ধাক্কায় সংস্কারগুলোকে খানখান করে ভেঙে দিচ্ছিল; ভূমিকম্প যেমন এক-এক ধাক্কায় পৃথিবীতে কী চিরস্থায়ী তা যাচাই করে নেয়। আর সেই মৃত্যু-পরিবৃত অবস্থাতে সবাই বুঝছিল যে অণিমা আর এনামুলের সেই তরণী, যাতে এই তুফানের দরিয়া পার হবার চেষ্টা করা হচ্ছে। অণিমা-এনামুলের প্রেম না-থাকলে এ-বাড়িতে সান্যাল পরিবার আসতে পারত না ও সরকারকে এনামুলের বাবা এ-অঞ্চলে শান্তিরক্ষার কাজে বাধ্য করতেন না ও এনামুল শান্তি বাহিনী তৈরি করে কয়েকজন বন্ধুবান্ধব নিয়ে আগুন নেবান ও আহতের উদ্ধার সাধন করতে যেত না। এগুলো অঙ্কের মতো এত প্রমাণিত ছিল যে সেই অবস্থায় সান্যাল পরিবার আর হক চৌধুরী পরিবার সমবেতভাবে এই ভালোবাসাকে রক্ষা করবার চেষ্টা করছিল, ধোঁয়া বা ধুলো থেকে চোখের মণি দুটোকে রক্ষা করার জন্য যেমন আমাদের স্নায়ু অচেতনেই কাজ করে। মুহূর্তে মুহূর্তে প্রাণগুলো যে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচছিল, তাদের কাছে এ-ছিল আলোর মতো স্বচ্ছ।
আর এ-কথা সেদিন সবচাইতে বেশি করে বুঝেছিল অণিমা। আগে শান্তিপূর্ণ অবস্থায় যদি বা অণিমার সঙ্গে এনামুলের আলাদা দেখা-সাক্ষাৎ হতো, দাঙ্গার অবস্থায় কোনো সম্ভাবনাই ছিল না। দিনেরাতে এনামুল তিন-চারবার মাত্র এদের ঘরে ঢুকত।
স্নেহ, প্রেম ইত্যাদি প্রমাণ করা অসুবিধাজনক ঘটনাগুলোকে আইনগত অনুসন্ধানের কাজে সাক্ষ্য হিসেবে উপস্থিত করা সমীচীন না হলেও এনামুলের সঙ্গে অণিমার অবিচ্ছিন্ন দেখা-সাক্ষাৎ না-হওয়া অথচ বাইরে ঘোরাঘুরির পর পরিশ্রান্ত এনামুল যখন ও-ঘরে ঢুকত, তখন ঘাম মুছবার জন্য গামছাটা বা হাওয়া খাবার জন্য পাখাটা স্বেচ্ছাপ্রণোদিতভাবে অণিমার এগিয়ে দেওয়া প্রমাণ করে যে যদি এনামুলের প্রতি অণিমার প্রেম পরিণতিমুখী হয়েই থাকে তবে তা নিশ্চয়ই এই সময়, আর কোনো সময়েই নয়। কারণ সংস্কারগুলো তখন খানখান হয়ে ভেঙে যাচ্ছিল আর সেই মৃত্যুপরিকীর্ণ অবস্থায় সান্যাল পরিবারের অতগুলো লোকের নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃৎপিণ্ডধ্বনি অণিমার সম্মুখে প্রত্যক্ষ ও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যভাবে তার প্রতি এনামুলের ভালোবাসার শক্তি দর্শাচ্ছিল। নইলে পনর-বিশ দিনের অনবরত চেষ্টায় যখন মইনুল হক চৌধুরী সান্যাল পরিবারের ভারত ইউনিয়নে যাওয়ার ব্যবস্থা করলেন, তখন অণিমা ভারতে যেতে অস্বীকৃত হলো কেন।
অণিমাকে পাকিস্তানে রেখে আসতে হেমচন্দ্র সান্যাল নিশ্চয়ই একবারে সম্মত হননি। কিন্তু এনামুলের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ব্যতীতই মেয়ের আত্মঘোষণায় তাঁরা হয়তো ভয় পেয়েছিলেন। আবার তাঁদের প্রাণরক্ষার জন্য এনামুলের পরিশ্রম দেখে হয়তো তাঁরা অসম্মত হতে লজ্জা পেয়েছিলেন। সে যা-ই হোক, অণিমা পাকিস্তানে থেকে যায়।
এবং দাঙ্গা-হাঙ্গামা থামবার পর অণিমা স্ব-ইচ্ছায় ও স্ব-চেষ্টায় ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দের ৫ই ফেব্রুয়ারি 'কুমকুম' নামে জনাব এনামুল হক চৌধুরীকে বিবাহ করে। কুমকুমের সঙ্গে এনামুলের বিবাহের রেজিস্ট্রি দলিল আছে। কিন্তু নাম পরিবর্তন কেন?
এনামুল ও অণিমা দুজনই নাকি মনে করে যে এ-কথা জানাজানি হলে ভারত ইউনিয়নে সসম্মানে বসবাস করা সান্যাল পরিবারের পক্ষে অসুবিধাজনক হতে পারে, এবং সে-কারণেই পিতার পুরো নাম ব্যবহার করা হয়নি।
দ্বিতীয় মত : পাকিস্তান হবার পূর্ব থেকেই এনামুল অণিমার প্রতি আকৃষ্ট হয়। পাকিস্তান হওয়ার পর এনামুল প্রথমে অণিমাকে বেশ কিছু পত্র দেয়। তার কোনো জবাব না-পাওয়ায় পথেঘাটে অণিমার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করে। মাঝে মাঝেই সে অণিমাদের বাড়িতে এসে অণিমার মাকে মা বলে ডেকে জোর-জবরদস্তি করে চা ইত্যাদি খাওয়ার চেষ্টা করত। অবশেষে যেদিন সে এক চায়ের দোকান থেকে বেরিয়ে এসে অণিমাকে বলে যে তার বিবি হতে রাজি না-হলে সান্যাল পরিবারের সবাইকে কুচিকুচি করে কাটা হবে, সেদিন থেকে অণিমার বাইরে বেরুনো একেবারে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ইতিমধ্যে ১৯৫০ সালের দাঙ্গার সূত্রপাত ঘটে। তার শুরুতেই এনামুল দলবলসহ সান্যাল বাড়িতে চড়াও হয় ও প্রকাশ্যে ঘোষণা করে যে অণিমাকে তার সঙ্গে বিয়ে না-দিলে সান্যাল বাড়ির প্রত্যেকটি লোককে হত্যা করা হবে। সান্যাল মশাই এনামুলের বাবা মইনুল হক চৌধুরীকে এ-কথা জানালে তিনি পুলিশকে জানিয়ে দেন যে এনামুল তার দলবল নিয়ে ঐ পাড়ার শান্তিরক্ষা করছে। ফলে পুলিশ ঐ এলাকায় আসে না ও এনামুল ঐ এলাকার একমাত্র কর্তা হয়ে দাঁড়ায়।
একদিন রাত্রে গোটা দশেকের সময় প্রথমে বাড়িতে ভীষণ ঢিল পড়তে থাকে। সান্যাল বাড়ির সবাই দরজা-জানালা বন্ধ করে ঘরে বসে। ঘণ্টাখানেক পরে 'আল্লা হো আকবর' ধ্বনি দিতে দিতে একদল লোক সান্যাল বাড়ি ঘিরে ফেলে। এবং বাইরে থেকে চেঁচিয়ে বলে দরজা না-খুললে সেই মুহূর্তে আগুন দেয়া হবে। সেই সময়ই এনামুল এসে দরজার কাছে দাঁড়িয়ে বলে, 'দরজাটা একবার খুলুন, আমি সব ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।' বাধ্য হয়ে দরজা খুলতে হয়। এনামুল বলে, যদি তারা সপরিবারে হক চৌধুরী পরিবারে আশ্রয় নেয়, তবেই একমাত্র বাঁচার সম্ভাবনা। অনন্যোপায় সান্যাল পরিবারকে বাধ্য হয়ে এনামুলদের বাড়িতে এসে উঠতে হয়। সেখানে প্রতিটি মুহূর্ত তাঁদের মৃত্যুর মুখোমুখি হয়ে বাঁচতে হয়েছে।
মাঝে মাঝেই এনামুল ঘরে ঢুকত ও সবার সামনেই অণিমাকে বাতাস করতে কি ঘাম মুছিয়ে দিতে বলত। তখন সান্যাল পরিবারের পরিবারত্ব নেই, আত্মরক্ষাই একমাত্র সমস্যা, দেব-মন্দিরের পূজার্থীর যেমন প্রয়োজন শুধু নিজের প্রার্থনা পূরণের। সে জন্য বলিদানের রক্তও তাকে বিন্দুমাত্র বিচলিত করতে পারে না। এবং অণিমার প্রতি এনামুলের এই অশিষ্ট ও অশ্লীল ব্যবহারে এরা প্রত্যেকে আত্মরক্ষার স্বস্তি পেত। যেন অণিমা নামক প্রতিরোধক না-থাকলে ঐ অশিষ্টতা ও অশ্লীলতা হত্যার নেশা হয়ে উঠত। যেন অণিমার শরীরের ওপরকার চামড়া এনামুলকে তার শরীরের ভেতরকার রক্তের প্রতি দৃষ্টি হানবার সময় দেয়নি। যদি ঐ চামড়টাকে রক্ষা করবার কোনো চেষ্টা করা যেত, তাহলে ভেতরের রক্ত দিয়ে সে-চেষ্টার দাম শোধ করতে হতো।
আইনগত অনুসন্ধানের কাজে কাম, লোভ, অত্যাচার, বলাৎকার ইত্যাদি যে সমস্ত বিষয়ের উৎস ও উদ্দেশ্য থাকা স্বাভাবিক_তাকে যথেষ্ট মূল্য না-দিলে ঘটনার সত্যতা যাচাই হয় না। অণিমার শরীরের প্রতি এনামুলের লোভ স্বীকার না-করলে ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে না কেন দশ-পনর দিন হক চৌধুরী বাড়িতে থাকার পর এনামুল যখন প্রস্তাব দিল অণিমাকে রেখে গেলে সে তাদের ভারত ইউনিয়নে যাবার ব্যবস্থা করে দেবে, তখন সান্যাল পরিবার সম্মত হলো। দাঙ্গার কয়েক দিন হত্যা করার জন্য ও নিহত হবার ভয়ে মানুষের উল্লাস ও আর্তনাদ, আগুনের নীরব লেলিহানতাকে ঘোষণা করে মানুষের সমবেত কণ্ঠস্বর, সংস্কারগুলোকে খানখান করে ভেঙে ফেলেছিল।
অণিমাকে পাকিস্তানে রেখে আসতে হেমচন্দ্র সান্যাল নিশ্চয়ই একবারে সম্মত হননি। কিন্তু এতগুলো লোকের প্রাণ নষ্ট আর অণিমার কুল নষ্ট_এর মধ্যে যোগ-বিয়োগ করে তিনি নিশ্চয়ই বুঝেছিলেন কোনটা লাভজনক। এবং তিনি অণিমাকে পাকিস্তানে রেখেই ভারত ইউনিয়নে চলে আসেন।
দাঙ্গা-হাঙ্গামা থামবার পর ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দের ৫ই ফেব্রুয়ারি অণিমাকে মুসলমান ধর্মে ধর্মান্তরিত ও কুমকুম নামে নামান্তরিত করে এনামুল হক চৌধুরী রেজিস্ট্রি বিবাহ করে।
তখন এই প্রকার আশঙ্কা ছিল যে দাঙ্গা-হাঙ্গামা থামবার পর এই সব ঘটনা নিয়ে অনুসন্ধান শুরু হতে পারে। সে কারণেই অণিমার নামান্তর ও পিতৃপরিচয় গোপন রাখবার জন্য আদ্যক্ষর ব্যবহার।
পাকিস্তানে অণিমার থেকে যাওয়া সম্পর্কে এই দুটি মত ছাড়া সম্ভাব্য তৃতীয় একটি মত কিন্তু পাওয়া যায় না যে অণিমা ও কুমকুম আসলে এক ব্যক্তিই নয়। হেমচন্দ্র সান্যালের মুখেরাস্থিত প্রতিবেশী ও আসামস্থিত বড় জামাতা ও তদীয় পত্নী অঞ্জলির সাক্ষ্যে অণিমার ভারত ইউনিয়নে না-আসা এমনভাবে প্রমাণিত যে, সে কারণেই কুমুকুম ও অণিমার দুই ব্যক্তিত্বের যুক্তি পাওয়া যায় না। যদি অণিমা ও কুমকুম এক ব্যক্তি নয় এই মত প্রচলিত থাকত, তবে সমস্যাও এখানেই থাকত। তারা দুজন না একজন এর মীমাংসা না-হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো। কিন্তু সে-প্রশ্ন না-ওঠায় এরা যে একই ব্যক্তি তা পরোক্ষে সর্বসম্মত।
১৯৫২ সালের ৩০শে জুলাই এই অণিমা সান্যালের সঙ্গেই যদি সত্যব্রত লাহিড়ীর বিবাহ হয়ে থাকে, তবে অণিমা সান্যাল ওরফে কুমকুম হক চৌধুরী পাকিস্তান ছেড়ে ভারত ইউনিয়নে এলো কবে ও কেন?
এ-বিষয়ে দুই প্রকার মত আছে :
প্রথম মত : ১৯৫২ সালের জুন মাসে প্রথম বোঝা যায় যে অণিমা গর্ভবতী। বমি, মাথাঘোরা, অরুচি ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক লক্ষণও ইতিমধ্যে দেখা যায়। কিছুদিন পূর্বেই এনামুলের বাবা মইনুল হক চৌধুরী মারা যান। বাড়িতে শিক্ষিত বা অভিজ্ঞ মহিলারও একান্ত অভাব। তা ছাড়া শারীরিক কারণেই অণিমা অত্যন্ত নার্ভাস হয়ে পড়ে ও বারবার বাবা, মা, ভাই, বোন ইত্যাদির কথা বলতে থাকে।
এ ক্ষেত্রে একটি বিষয় বেশ প্রণিধানযোগ্য। অণিমা তার বাবা-মায়ের সঙ্গে ভারত ইউনিয়নে যেতে অস্বীকার করায় এনামুল এত দূর পর্যন্ত বিস্মিত হয়েছিল যে তাদের বিয়ের পর পরিবর্তিত অবস্থার সঙ্গে নিজে খাপ খাইয়ে নিতে ও অণিমাকে খাপ খাইয়ে নেবার সুযোগ দিতে সে দীর্ঘদিন বাইরে বাইরে ছিল। কেননা এনামুল জানত_অণিমা যে হিন্দু ও সে মুসলমান, এ-চিন্তা-সংস্কার দুজনের মনেই এত সুদূরে মূল প্রসারিত করে আছে যে ভেতর থেকে ক্ষয়ে না-গেলে শুধু বাইরের টানে তা উৎপাটন করা যাবে না। তা ছাড়া, তার জন্যই স্বেচ্ছায় পাকিস্তানে থেকে যাওয়ায় অণিমাকে এনামুল বোধ হয় এক প্রকারের সশ্রদ্ধ দূরত্বে রাখতে চাইছিল। বোধ হয় সে সর্বদাই সচেষ্ট ছিল যাতে কোনো প্রকারেই সে অণিমার ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি না-করে। মইনুল হক চৌধুরীর মৃত্যুর ফলে বাধ্য হয়ে এনামুলকে অণিমার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে হয় এবং তখন সে আবিষ্কার করে তারই মতো অণিমাও এত দিন এনামুলের কথা ভেবেই দূরত্ব রক্ষা করেছে। অতঃপর তাদের সুখী দাম্পত্যজীবন। এবং এ কারণেই বিবাহের এক বৎসর পর অণিমার গর্ভসঞ্চার।
অণিমার শারীরিক অবস্থায় বাপ-মায়ের কাছে থাকলে ভালো হবে ও শ্বশুর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপিত হবে বিবেচনায় এনামুল অণিমাকে মুখেরা পাঠাবার ব্যবস্থা করে। অথচ সে গেলে শ্বশুরবাড়ির সামাজিক অসুবিধা হতে পারে ভেবে নিজে যাবে না স্থির করে।
এবং এনামুলের সক্রিয় ইচ্ছায় উৎসাহে শারীরিক ও মানসিক স্বস্তি ও শান্তির জন্য অণিমা ভারত ইউনিয়নে আসে। সে যে নিরাপদে ভারত ইউনিয়নে এসেছে ও তার বাবার কাছে আছে এ-সংবাদ জানিয়ে অণিমা এনামুলকে একখানি পত্র দেয়। নাম লেখা ছিল অণিমা।
পাকিস্তান ছাড়ার পর এটিই তার একমাত্র চিঠি। তারপর এনামুল ঘন ঘন তিন-চারটি পত্র দেয়, অভিমান করে পত্র দেওয়া বন্ধ করে, আবার পত্র দেয় ও অবশেষে টেলিগ্রাম করে।
এদিকে অণিমা মুখেরা পেঁৗছবার সঙ্গে সঙ্গেই হেমচন্দ্র সকলকে বলেন যে অণিমার বিবাহ স্থির হওয়ায় সে বড়দির কাছ থেকে চলে এসেছে। এরপর গর্ভবতী অণিমাকে প্রায় রুদ্ধকক্ষে আটক রেখে, এনামুলকে চিঠিপত্র দেবার সমস্ত পথ বন্ধ করে ও এনামুলের সমস্ত চিঠি গাপ করে হেমচন্দ্র যেকোনো মূল্যে একটি বারেন্দ্র ব্রাহ্মণ, বাৎস্য ব্যতীত অন্য গোত্রের একটি পাত্র, খুঁজতে লাগলেন। মইনুল হক চৌধুরী ও এনামুলের চেষ্টায় যে টাকাপয়সা, গহনাপত্র আসবার সময় সঙ্গে আনতে পেরেছিলেন, তাতে মুখেরা গ্রামে জমিসহ বসতবাটি, ব্রাহ্মণত্ব ও ধর্মবোধ একই সঙ্গে তিনি ভারত ইউনিয়নে সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। মাঝখানের কয়েকটা দিন তিনি মুছে দিতে চাইছিলেন।
এবং অবশেষে ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দের ৩০শে জুলাই, অর্থাৎ অণিমা পাকিস্তান থেকে আসার মাত্র দেড় মাসের মধ্যেই, মৃত পুণ্যব্রত লাহিড়ীর পুত্র শ্রীসত্যব্রত লাহিড়ীর সঙ্গে হেমচন্দ্র দুই মাসের গর্ভবতী অণিমার বিবাহ দেন। ও সেই বিবাহের সাত মাস পরে সে ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দের ১৭ই মার্চ বপ্লভপুর হাসপাতালে একটি পূর্ণাঙ্গ সুস্থ ও স্বাস্থ্যবান সন্তান প্রসব করে। এ সন্তানের গর্ভসঞ্চার হয়েছে এনামুল হক চৌধুরীর স্ত্রীরূপে, প্রসব হয়েছে সত্যব্রত লাহিড়ীর স্ত্রীরূপে।
দ্বিতীয় মত : ভারত ইউনিয়নে চলে আসার পর দীর্ঘদিন হেমচন্দ্র অণিমার কোনো খবর পান না। অথচ তার আশা বা আশঙ্কা ছিল কোনো দিন হয়তো অণিমা ফিরে আসতেও পারে। তাই তিনি সবাইকে তার দ্বিতীয় কন্যার অস্তিত্বের কথা জানিয়েছেন ও বলেছেন যে সে তার বড়দির কাছে আসামের চা-বাগানে আছে। অবশেষে হঠাৎ ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দের জুন মাসে অণিমা অত্যন্ত অসুস্থ অবস্থায় মুখেরায় এসে উপস্থিত হয়। সে নাকি বলে যে হেমচন্দ্র সান্যাল পাকিস্তান ছাড়বার পরদিনই সে এনামুলের হাত থেকে পালায় ও তারপর বহু কষ্ট ও যাতনার পর পাকিস্তান থেকে বেরুতে পারে ও তারপর নানা সূত্রে চেষ্টা করে হেমচন্দ্র সান্যালের ঠিকানা বার করে।
হারানো সন্তান ফিরে পেয়ে হেমচন্দ্র প্রথমে তার ভগ্নশরীর সারিয়ে তুলবার চেষ্টা করেন ও সেই কারণে সব সময় সে ঘরের মধ্যে থাকত ও বাইরের কারো সঙ্গে মেশার সুযোগ পায়নি। মাসখানেকের মধ্যেই হৃতস্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার হয়। এবং যে-ডাক্তার চিকিৎসা করছিলেন, তার চিকিৎসা সম্পূর্ণ হবার আগেই মৃত পুণ্যব্রত লাহিড়ীর পুত্র শ্রীসত্যব্রত লাহিড়ী বিএর সঙ্গে অণিমার সম্বন্ধ আসে। কন্যার প্রতি কর্তব্যের তাড়ার ও নিজের ভগ্নস্বাস্থ্যের প্রতি সম্পূর্ণ নির্ভর রাখতে না-পেরে হেমচন্দ্র এ-বিবাহে সম্মত হন। এবং ১৯৫২ সালের ৩০এ জুলাই সত্যব্রতের সঙ্গে অণিমার বিবাহ হয়।
বিবাহের মাসখানেক-মাস দেড়েক পরে অণিমা যখন বাপের বাড়িতে আসে, তখনই তার গর্ভের লক্ষণ দেখা যায়। এ-বিষয়ে মুখেরার প্রতিবেশীরা সাক্ষ্য দিতে পারেন। চার মাসের মাথায় অণিমাকে বল্লভপুর পাঠানো হয়। এবং সাত মাসের শেষে ১৯৫৩ সালের ১৭ই মার্চ অণিমার একমাত্র সন্তানের জন্ম হয়। এ-গর্ভসঞ্চার সত্যব্রতের সঙ্গে বিবাহের পরে ও এ-সন্তানের একমাত্র পিতা সত্যব্রত।
যদি এনামুল অণিমাকে ব্যবহার করার সুযোগ পেত, তবে কি আর অণিমা ছাড়া পেত, আর সেই লম্পট গুণ্ডার সঙ্গেই যদি সে থাকত, তবে এক বৎসর পর তার গর্ভসঞ্চারের কারণ কী?
সমস্ত মতামত বিবেচনা করলে দেখা যায়_(ক) অণিমা এনামুলকে ভালোবাসত, নাকি এনামুল জোর করে অণিমাকে আটকে রেখেছিল; (খ) অণিমা এনামুলকে নামান্তরিত হয়ে স্বেচ্ছায় বিয়ে করেছিল, নাকি বাধ্য হয়ে; (গ) অণিমা সত্যব্রতকে গোত্রান্তরিত হয়ে স্বেচ্ছায় বিয়ে করেছিল, নাকি বাধ্য হয়ে। (ঘ) অঞ্জনা কার কন্যা, এনামুলের না সত্যব্রতের_এই চারটি প্রশ্নের সঠিক উত্তরের ওপর অণিমার প্রকৃত পরিচয় নির্ভর করছে, এবং অঞ্জনার। এবং প্রশ্নগুলো মানুষ সম্পর্কে কতগুলো মৌলিক প্রশ্নের কাছাকাছি নিয়ে যায়, অতি দ্রুত ও অতি সোজাসুজি।
যত দিন এই সোজাসুজি প্রশ্ন চারটির সত্য জবাব পাওয়া না-যাচ্ছে, তত দিন যাঁকে আপনি স্ত্রী বলে জানেন, তিনি আপনার স্ত্রী নন; যাকে আপনাদের সন্তান বলে জানেন, সে আপনাদের সন্তান নয়।
সুতরাং নিজের আদি, অকৃত্রিম ও মৌলিক আত্মপরিচয়সহ নিকটবর্তী থানায় হাজিরা দিয়ে প্রমাণ করুন আপনি যে, আপনি সত্যিই সে।
খিড়কিতে সদরে দাওয়ায় সিঁড়িতে তুলসিকোনায় ঘরের আনাচে-কানাচে অন্ধকার। দ্রুতবিস্তারী বন্যার মতো, প্রাণান্তিক মহামারির মতো, অন্ধকার। আত্মপরিচয়হীন উদ্বাস্তু অণিমা আর সত্যব্রত সে অন্ধকারকে তপ্ত তরল লোহার ফুটন্ত সমুদ্র ভেবে বিলীন হতে চাইল।
পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত যেগুলো সংসার ছিল, এখন সেগুলো আলোহীন চোখের গর্ত_যেন মিথ্যা পল্লব তুলে উঠোনে অণিমা আর সিঁড়িতে সত্যব্রতের দিকে তাকিয়ে আছে। সেই ঘর, সেই বাড়ি, সেই পরিবার, সেই সুখ, পা-গজানো রাক্ষসের মতো সত্যব্রত-অণিমার চারদিকে আচ্ছন্ন করে তোলে এবং সেই ক্রমঘনিষ্ঠ অন্ধকারের আকাশে নিঃশব্দ ঘোষণা_'তুমি, তুমি নও সত্যব্রত; তুমি, তুমি নও অণিমা।'
সম্পূর্ণ অনাত্মীয় দুটি আত্মা মাটিতে মুখ থুবড়ে পড়ে_বাইরে কচি করুণ, একা-কণ্ঠে তীরের মতো তীব্রস্বরে অন্ধকারকে ভেদ করে অঞ্জু তাদের আত্মার তর্পণের মন্ত্র হাঁকবে : 'বাবা', 'মা'_তারই অপেক্ষায়।
কেরোসিন কাঠের তক্তাপোষে সাড়ে চার টাকা দামের এক তাঁতের মশারির নিচে সত্যব্রত সেদিন এই রকম একটি আত্মনির্ভর স্বত্বাধিকারীর মতোই ঘুমোচ্ছিল। নিঃসংশয়ে তারই যে স্ত্রী, সেই মহিলা সত্যব্রতকে এসে ডাকাডাকি করছিল_'শুনছ, এই শুনছ, শুনছ, এই।' আপ্যায়িত সত্যব্রত অনাবশ্যক পাশ ফিরে শুলো। যেন ওপর দিকের কানের গর্ত দিয়ে অণিমার ডাকগুলো খুব ভালোভাবে ভেতরে গলে যাবে। কিন্তু অণিমা বলল, 'বাইরে তোমাকে কারা ডাকছেন।'
সুতরাং সত্যব্রত চোখ খুলে_'কে?'
'কী জানি? জানি না। বসতে বললাম, বসল না, দাঁড়িয়ে আছে' বলে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে যেতে অণিমা যোগ করল_'চা হয়ে গেছে, খেয়ে যাও, নইলে ঠাণ্ডা হয়ে যাবে।'
ততক্ষণে চৌকির কানায় পা ঝুলিয়ে বসে সত্যব্রত নিজেকে স্বত্বাধিকারী ভাবার বদলে যেন চারদিকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখল, তার বাড়িতে যেসব জিনিস থাকবে ধরে নিয়ে লোক দুটি এসেছে, তা আছে কি না। যেন, আদালত থেকে তার বাড়ি নিলামে চড়াতে এসেছে_এমনভাবে কয়েক সেকেন্ড ঘরের চারপাশে তাকাল। তারপর অপর চৌকিতে অঞ্জুকে শোয়া দেখে যেন অনেকখানি নিশ্চিন্ত হয়ে নিজের দিকে তাকাল। দু-টাকা চার আনা দামের লুঙি, রং উঠে গেছে, সত্যব্রত আন্ডারওয়্যার পরে না, অর্থাৎ লুঙিটা যেন দেবীদের শাড়ির মতো, আছে অথচ নেই। বালিশের পাশে গেঞ্জিটা পড়েছিল, সেটা গায়ে দিল। তারপর নিজের চেহারাটা কল্পনা করল_পাতলা লুঙি, ছেঁড়া গেঞ্জি, সদ্যনিদ্রোত্থিত_অচল। যেন বাইরের লোক দুটো সত্যব্রতকেই নিলামে তুলতে এসেছে। অণিমার পায়ের শব্দে চমকে দাঁড়িয়ে, কয়েক মিনিট আগে যে-লোকটা একটা মালিক মালিক ভাব নিয়ে ঘুমোচ্ছিল, দু-হাতের তালুতে মুখ ঘষতে ঘষতে সে এমনভাবে বাইরে গেল যেন সে তার নিজের নামটাই অস্বীকার করবে। অণিমা 'এই' পর্যন্ত বলে চায়ের কাপ টেবিলের ওপর ডিশ চাপা দিয়ে রেখে অঞ্জনাকে ধাক্কা দিতে শুরু করল_'এই অঞ্জু, ওঠ, অঞ্জু অঞ্জু, এই দেখো, কিরে, চড় খাবি নাকি?'
লোক দুজন সাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। সত্যব্রত গিয়েই বলল_'ভেতরে বসুন।'
'না না, দরকার নেই, একটা খবর দিতে এসেছি, এক্ষুনি চলে যাব।'
লোকটার হাসি থেকে সত্যব্রত অনুমান করার চেষ্টা করতে লাগল কাছাকাছি কোনো দিনে নিমন্ত্রণ পাবার কথা আছে কি না।
'ভেতরে এসেই বসুন না_'
'না। শুনুন, আপনাকে আজ বা কাল যেকোনো সময় থানায় গিয়ে একবার দারোগাবাবুর সঙ্গে দেখা করতে হবে। যখন আপনার সুবিধে_'
'থানায়! আমাকে?'
একজন বলল_'আজ্ঞে।' আরেকজন পকেট থেকে নোট বই বের করে কয়েকটা পাতা উল্টে পড়ল_'আপনার নাম তো শ্রীসত্যব্রত লাহিড়ী, পিতার নাম মৃত পুণ্যব্রত লাহিড়ী, হোল্ডিং নাম্বার দুই শ তিরিশ বাই এ বাই সিঙ্।' তারপর নোট বইটা পকেটে রাখতে রাখতে বলল, 'আজ্ঞে আপনিই।'
অপরে সাইকেল ঘোরাতে ঘোরাতে বলল, 'যখন আপনার সুবিধে হয় যাবেন, এতো তাড়াহুড়োর কিছু নেই, একদিন গেলেই হলো_'
লোক দুটো সাইকেলের প্যাডেলে পা দিচ্ছিল। সত্যব্রত তাদের ডেকে থামাল_'আচ্ছা, আপনারা বলতে পারেন একটু, কেন?'
লোক দুটো ওখান থেকেই ঘুরে দাঁড়াল, আরেকজন বলল, 'আরে কিছু না, কিছু না। বলেন কেন আর। গবমেন্ট থেকে অর্ডার এসেছে, তোমাদের দেশে_মানে শহর, আবার সীমান্ত শহর কিনা_আমরা খবর পেয়েছি তোমাদের ওখানে অনেক লোক আছে, যারা আসলে সে-লোক নয়।' তারপর যেন সত্যব্রতকে অভয় দেবার জন্যই লোক দুটো দেখে বা শুনে মহড়া-দেওয়া মনে হয় এমনি এক হাসি হেসে বলল, 'আর বলবেন না মশাই সেন্ট্রালের কাণ্ড, যারা আছে, তারা তারা নয়। ভাবুন দেখি, আমরাই বা কী করি, চাকরি তো রাখতেই হবে। আচ্ছা চলি, যাবেন একদিন, একটু আলাপ করে আসবেন।' লোক দুটি সাইকেলে চেপে চোখের বাইরে চলে যাবার আগেই সত্যব্রত পেছন ফিরে ঘরে ঢুকে পড়ল, যেন সে লোক দুটোকে দেখাতে চায় যে সে তাদের যাবার আগেই ঘরে ঢুকেছে। তাছাড়া নিঃসন্দেহে অণিমা ভেতর থেকে কথাবার্তা শুনেছে। বারান্দায় বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে সে অণিমাকে ভাবতে দিতে চায় না যে থানায় যাবার নামে সে ঘাবড়ে গেছে।
কিন্তু অণিমা কোনো কথাই শোনেনি। সত্যব্রত টেবিল থেকে চা-টা তুলে নিয়ে চুমুক দিলে, এমন সময় রুটি কামড়াতে কামড়াতে অঞ্জুর প্রবেশ, তার পেছনে অণিমা। অর্থাৎ অণিমা এতক্ষণ অঞ্জুকে নিয়ে রান্নাঘরে ছিল, এটুকু ভেবেই সে মনে মনে হেসে উঠল_সে কী, আমি কি চুরি না ডাকাতির দায়ে ধরা পড়েছি যে অণিমাকে জানতে দিতে চাইছি না!
'জানো, আমরা আমরা কিনা_তার খোঁজখবর নেবার জন্য গভর্নমেন্ট নাকি থানায় অর্ডার দিয়েছে, তাই থানায় যেতে হবে।'
'থানায় যেতে হবে, তোমাকে, কেন?'
'আমি যে আমি, এটা প্রমাণ দিতে।'
'কেন?'
'গভর্নমেন্টের হুকুম' বলে চায়ের কাপটা টেবিলের ওপর রেখে সত্যব্রত খুব দ্রুত কুয়োর পাড়ের দিকে গেল। হাত-মুখ ধোয়া সেরে বাজারে যেতে হবে।
বাজার থেকে ফেরার পর যে-আধঘণ্টা সময় টুকিটাকি কাজের জন্য আলাদা করে রাখা, তারই ফাঁকে সত্যব্রত থানা থেকে ঘুরে আসবে স্থির করল। সে জন্য বাজারটাও ধীরেসুস্থে করল না। খানিকটা দৌড়েই যা পেল তা কিনল। অথচ লোক দুটো বলে গিয়েছিল যে যখন সুবিধে তখন গেলেই হবে। থানায় কাজ থেকে ফেরার পথে গেলেই সব দিক থেকে সুবিধে। কিন্তু সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর এ-খবর শুনে ইস্তক থানায় যাবার জন্যই যে সে ছটফট করছে, তা আর নিজের কাছেও লুকনো থাকল না যখন বাজার ফেলেই সে বেরিয়ে পড়ল। অণিমা একবার বলেছিল_'এতো ছটফট করে যাবার দরকারটা কী, বিকেলে গেলেই তো হয়।' অঞ্জুও একটা অঙ্ক দেখিয়ে নেবার জন্য পিছু পিছু ঘুরছিল। সত্যব্রত তাড়াতাড়ি বেরিয়ে থানার দিকে হাঁটা শুরু করল।
আর ফিরল সূর্যাস্তের পর। অণিমা দুপুর থেকে ওঠা-বসা, ঘর-বারান্দা করছে। দশটার পর পাড়াতে বয়স্ক ছেলেপুলে পর্যন্ত নেই যে তাকে থানায় খবর নিতে পাঠাবে। বিকেলে পর্যন্ত এইভাবে কাটিয়ে শেষে একজনকে থানায় পাঠিয়েছিল। ছেলেটি এসে সংবাদ দিল সত্যব্রত ওখানে আছে। পাড়ায় ঘুরে অণিমা শুনে এসেছে একবার সবাইকেই নাকি থানায় যেতে বলেছে এবং ঐ একই কারণে, যে-যা সে-তা কি না সেটা চূড়ান্তভাবে যাচাই করতে এবং আত্মপরিচয় দিতে। যে-মাটিতে শেকড় চাড়িয়ে সে গাছ, সেই মাটি ছেড়ে, যে-পরিবারের মধ্যে সে স্বীকৃত, সেই পরিবার ছেড়ে; আজ বা কাল থানায় গিয়ে প্রমাণ দিতে হবে_তার আত্মার প্রমাণ, আজ অথবা কাল, তার অস্তিত্বের প্রমাণ, আজ অথবা কাল।
সত্যব্রত হাঁটছিল সমস্ত গা ছেড়ে দিয়ে পা টেনে টেনে। ঘাড়-ভাঙ্গা মুরগির মতো গলাটা ঝুলছে, ভেজা কুকুরের মতো চুলগুলো বিশৃঙ্খল, কণ্ঠার আশ্রয়ের মৃত্যুর মতো শীতলতা, আঙুলগুলো চামড়ার গ্লাভসের মতো যেন পাঞ্জার অনুকরণ। বাইরের দরজা থেকে কথাটি না-বলে পায়ে পায়ে অনুসরণ করছে অণিমা। একবার পিঠের ওপর হাত রেখেছিল, সহসা অনধিকারবোধে আক্রান্ত হয়ে সে হাত তুলে নিয়েছে। ভেতরের সিঁড়ির ওপর শ্মশান-প্রত্যাগতের মতো বসে পড়েছে। কিছুক্ষণ পর চোখ বুজে হেলান দিয়েছে। পেছনে থাম না-থাকলে হয়তো শুয়ে পড়ত। অণিমা নায়নি, খায়নি। সত্যব্রতর সমস্ত শরীরে উত্তর খুঁজে অণিমা বসে পড়ল, বোধ হয় তার বসার শব্দেই চোখ মেলে শুধু মণিটাকে আশপাশে ঘুরিয়ে সত্যব্রত কিছু একটা সন্ধান করল। এতক্ষণে অণিমা বলল, 'অঞ্জু ওর এক বন্ধুর বাড়িতে গেছে।' শুনে সত্যব্রত চোখটা যখন অণিমার মুখের ওপর স্থির করল, তখন অণিমার মনে হলো সেই দৃষ্টির বহু অভ্যন্তরে বুঝিবা কিছু দেখা গেল, যাতে সত্যব্রতকে সত্যব্রত মনে হলো। সত্যব্রত পকেট থেকে একতাড়া কাগজ বের করে অণিমার হাতে দিয়ে আবার চোখ বুজল। চারপাশ থেকে ঝুপ ঝুপ করে অন্ধকার ঝরছে। ক্ষণেক আলো পাবার আশায় অণিমা আকাশের আলোয় গিয়ে দাঁড়াল।
জনসাধারণের অবগতির জন্য প্রচারিত।
১৯৩৯ থেকে ৪৫ পর্যন্ত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলে পৃথিবীর ভূগোল ও ইতিহাসে যে-গুরুতর পরিবর্তন ঘটেছে, তার একটি সুসম্পাদিত ও সুসংগৃহীত তালিকা না-থাকায়, পৃথিবীর অধিবাসীদের দেশ, জাতি, ভাষা, বংশ ইত্যাদি চিহ্নিত করার কিছু ব্যাঘাত ঘটছে। সব দেশের ভূগোল ও ইতিহাস এত গুরুতর পরিবর্তনের সম্মুখীন হয়েছে যে, কে যে কে, সে-বিষয়ে স্থির নিশ্চিত জানার উপায় নেই। আমরা এক তথ্য সংগ্রহ অভিযানের সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারি যে পৃথিবী গ্রহে বর্তমানে বহু ফেরারি ও বেনামা ব্যক্তি আছে। বিশেষ করে ভারতবর্ষ-পাকিস্তান, উত্তর ভিয়েতনাম-দক্ষিণ ভিয়েতনাম, উত্তর কোরিয়া-দক্ষিণ কোরিয়া, পূর্ব জার্মানি-পশ্চিম জার্মানি ইত্যাদি দেশে। সে-কারণে 'খাঁটি ব্যক্তির সন্ধান' নামক রাষ্ট্রসংঘের কর্মসূচির ভিত্তিতে আমরা সমস্ত দেশেই যে-যা বলে পরিচিত, সে-তা কি না, তা পরীক্ষা করছি। এবং বিশ্ববাসীকে অনুরোধ করছি তাঁরা যেন স্ব স্ব আত্মপরিচয় নিয়ে নিকটবর্তী থানায় হাজিরা দেন।
বল্লভপুর থানার বিবরণ।
এক শ্রীসত্যব্রত লাহিড়ী, পিতা মৃত পুণ্যব্রত লাহিড়ী, আদি নিবাস পূর্ব পাকিস্তান, বর্তমানে ২৩০।এ।৬ হোল্ডিংস্থ মোকানে বাস করেন। এই হোল্ডিংয়ের জন্য দেয় মিউনিসিপ্যাল কর গত বারো বৎসর যাবৎ তিনি দিয়ে আসছেন। ও ইংরেজি ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দের ১০ই জুন তারিখে ঐ হোল্ডিংয়ের তৎপূর্ব মালিক শ্রীবনবিহারী মলি্লকের স্বাক্ষরযুক্ত বিক্রয়-দলিল পরীক্ষার পর উক্ত হোল্ডিং শ্রীসত্যব্রত লাহিড়ীর নামে বল্লভপুর রেজিস্ট্রেশন অফিসে রেজিস্ট্রিভুক্ত হয়। কিন্তু বিশেষ অনুসন্ধানের পর জানা যায় শেখ মনসুর আলী, পিতা মৃত কদম শেখ, হালসাকিন রায়চর, জেলা পাবনা, ঐ হোল্ডিংয়ের বর্তমান ন্যায়সংগত মালিক। ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দের হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গার পর মৃত কদম শেখ তাঁর পুত্র মনসুর, কন্যা আমিনা ও স্ত্রী নুরাকে নিয়ে পূর্ব পাকিস্তানে চলে যাবার পূর্বে তাঁর বাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ঐ পাড়ার তিন পুরুষের অধিবাসী শ্রীবনবিহারী মলি্লকের ওপর দিয়ে যান। এবং ঐ বৎসরই শ্রীবনবিহারী মলি্লক ঐ হোল্ডিংয়ের মালিক হিসাবে শ্রীসত্যব্রত লাহিড়ীর নিকট বিক্রয় করেন। পাবনা অন্তর্গত রায়চরে শেখ মনুসর আলীর নিকট ১৯২১ খ্রিস্টাব্দের ১৩ই ডিসেম্বর তারিখের মূল দলিলের নকল আছে।
সুতরাং শ্রীসত্যব্রত লাহিড়ী নামক কোনো ব্যক্তি বল্লভপুর মিউনিসিপ্যালিটির ২৩০/এ/৬ নং হোল্ডিংস্থ মোকানের মালিক নন। বা বল্লভপুর মিউনিসিপ্যালিটির ২৩০/এ/৬ নং হোল্ডিংস্থ মোকানের মালিকের নাম শ্রীসত্যব্রত লাহিড়ী নয়।
দুই মৃত পুণ্যব্রত লাহিড়ীর পুত্র বলে কথিত শ্রীসত্যব্রত লাহিড়ী ১৯৪৭ সালের পর ভারত ইউনিয়নের বহু জায়গায় সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রে ইস্কুল মাস্টারি, কেরানিগিরি ইত্যাদি কাজ করেন। সব জায়গাতেই তিনি শ্রীসত্যব্রত লাহিড়ী, পুণ্যব্রত লাহিড়ীর পুত্র, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৪৫ সালের বিএ বলে নিজের পরিচয় দিয়েছেন।
নির্দিষ্ট দিন কাজের পর যখনই তাঁর কাছে বিএ ডিপ্লোমা প্রভৃতি চাওয়া হয়, তিনি বলেন যে পরীক্ষা দেওয়ার পর দাঙ্গার ভয়ে দেশত্যাগ করায় তিনি বিএ মূল ডিপ্লোমা সংগ্রহ করতে পারেননি ও দেশভাগের পর এখন আর তা সম্ভব নয়। দু-একটি ক্ষেত্রে এর পরেও কর্তৃপক্ষ চাপ দেওয়ায় তিনি কাজ ছেড়ে দেন।
তদন্তে প্রকাশ : মৃত পুণ্যব্রত লাহিড়ীর পুত্র সত্যব্রত লাহিড়ী নামধেয় ব্যক্তি ১৯৪৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাস করেছিলেন বটে, কিন্তু পর বৎসরই তিনি খুলনা যাবার পথে ট্রেনের মধ্যেই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ফলে নিহত হন।
এমন হতে পারে বর্তমানে যে বা যারা মৃত সত্যব্রত লাহিড়ীর আত্মপরিচয় গাপ করেছে, তারা মৃত সত্যব্রত লাহিড়ীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ পরিচিত ও সেই কারণেই মৌলিক সত্যব্রত লাহিড়ীর পরিচয়ের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয়গুলোকেও নিজেদের কাজে লাগাতে পারছে। মৃত সত্যব্রত মরেও জীবিত হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এবং বর্তমানে জীবিত সত্যব্রত লাহিড়ী বস্তুত মৃত।
মৃত পুণ্যব্রত লাহিড়ীর এখন খুড়তুতো ভাই স্বাধীনতার বহু পূর্ব থেকেই কলকাতায় চাকরি করেন। তদন্ত কমিশনের এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন যে সত্যব্রত লাহিড়ীর পরিচয়ে চাকরির চেষ্টা হয়েছে এমন দশটি ক্ষেত্রের কথা তিনি জানেন। তাঁর জানা দশটি ক্ষেত্রের বিবরণ শোনার পর বোঝা গেল তাঁর অজ্ঞাতে বহু বহু জায়গায় চাকরির চেষ্টা করা হয়েছে। শুধু চাকরিই নয়, সত্যব্রত লাহিড়ীর পরিচয় দিয়ে এমনকি বিবাহের চেষ্টা পর্যন্ত হয়েছে এবং একটি বিবাহ যে সংঘটিত হয়েছে, সে-বিষয়ে নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া গেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গেজেট আলোচনা করে দেখা যায়, ১৯৪৫ সালে দুজন সত্যব্রত লাহিড়ী ঐ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাস করেন। এই দ্বিতীয় সত্যব্রত লাহিড়ীই সমস্ত সমস্যাকে আরো জটিল করে তুলেছেন। নইলে 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৪৫ সালের বিএ' এই পরিচয়দানকারী যেকোনো ব্যক্তিকেই নিশ্চিন্ত মনে গ্রেপ্তার করা যেত।
বিভিন্ন জেলা কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে প্রাপ্ত সংবাদে জানা যায়, সবসুদ্ধ এ পর্যন্ত মোট সাতাশি জন 'সত্যব্রত লাহিড়ী' ১৯৪৭ সালের পর বিবাহ করেছেন। তাঁদের কজন '১৯৪৫ সালের ঢাক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএ' তা জানা যায়নি।
দ্বিতীয় ঐ আরেকজন সত্যব্রত লাহিড়ী ঐ একই বৎসর বিএ পাস করেছেন বলে কে জীবিত আর কে মৃত সত্যব্রত, তা নিশ্চিতরূপে নির্ণয় করা যায় না। এমন হতে পারে 'মৃত' সত্যব্রত (বা জাল সত্যব্রত) নিজের সুবিধা অনুযায়ী কখনো মৌলিক মৃত সত্যব্রতের, কখনো মৌলিক জীবিত সত্যব্রতের বাবার নাম নিজের বাবার নাম হিসেবে বলে।
১৯৪৫ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএ_এই পরিচয়টিই জাল সত্যব্রতের নিজেকে অন্য পরিচয়ে পরিচিত করার একমাত্র কারণ বলে ঐ তথ্যটি সে কোনো ক্ষেত্রেই বদলায় না। এবং সেখানে তাকে অবিশ্বাসও করা যায় না, কারণ সত্যিই এক সত্যব্রত লাহিড়ী ১৯৪৫ সালে বিএ পাস করেছেন। পিতৃপরিচয়ে জাল সত্যব্রত লাহিড়ীর প্রয়োজন নেই বলেই তা পরিবর্তনশীল।
ফলে (ক) মৃত পুণ্যব্রত লাহিড়ীর পুত্র (খ) ১৯৪৫ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএ এবং (গ) শ্রীসত্যব্রত লাহিড়ী_এই তিনটি পরিচয় একত্রে পাওয়া যায় না।
পরন্তু সমস্যা আরো জটিল হয় মৌলিক সত্যব্রত লাহিড়ীর মৃত্যুর অনিশ্চয়তায়। সংবাদে প্রকাশ, ১৯৪৬ সালের প্রথম দিকে খুলনা যাবার পথে একবার এক গুণ্ডার দল ট্রেন আক্রমণ করে, ফলে বহুলোক হতাহত হয়। এই নিহতদের তালিকায় 'সত্যব্রত লাহিড়ী' এই নাম পাওয়া যায়। এই নাম ভুল ছাপা হতে পারে। এই সত্যব্রত লাহিড়ী অন্য কেউ হতে পারে। কিন্তু ঐ খুলনা রওনা হবার পর ১৯৪৫ সালের বিএ ও পুণ্যব্রত লাহিড়ীর পুত্র সত্যব্রত লাহিড়ী আর ফিরে আসেননি বলে তাঁকে মৃত ধরে নেওয়া হয়।
সুতরাং সমস্যা নিম্ন প্রকার। (১) মৃত পুণ্যব্রত লাহিড়ীর পুত্র, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৪৫ সালের বিএ, খুলনা ট্রেন আক্রমণে নিহত বলে ধরে নেওয়া কি অযৌক্তিক? অর্থাৎ মৌলিক সত্যব্রত জীবিত হওয়া সত্ত্বেও কি তাকে মৃত বলে ধরা হচ্ছে? (২) যদি মৌলিক সত্যব্রতের সত্য সত্যই মৃত্যু হয়ে থাকে, তবে তাঁর পরিচয় কে, কে আত্মসাৎ করেছে?
এই দুটি প্রশ্নের উত্তর মাত্র একজন দিতে পারেন। 'সত্যব্রত লাহিড়ী' এই নাম নিয়ে যে-কজন একজন হয়েছেন। সে কারণেই এই প্রশ্ন ঘরে ঘরে, ১৯৪৭-এর পর যাঁরা বিবাহ করেছেন, যাঁদের সন্তান হয়েছে, যাঁরা চাকরি-বাকরি নিয়ে ঘর-সংসার করছেন_তাঁদের প্রত্যেককে পেঁৗছে দেওয়া হচ্ছে।
যত দিন এই দুই প্রশ্নের উত্তর না-পাওয়া যায়, তত দিন কোনো সত্যব্রত লাহিড়ীই নিজেকে নিঃসংশয়িতরূপে সত্যব্রত লাহিড়ী বলে ভাবতে পারবেন না, কোনো স্ত্রীই তাঁর স্বামীকে মৃত পুণ্যব্রত লাহিড়ীর পুত্র সত্যব্রত লাহিড়ী বলে নিঃসন্দেহ হতে পারবেন না, কোনো সন্তানই তার পিতাকে অকৃত্রিম ও আদি সত্যব্রত লাহিড়ী বলে নিশ্চিন্ত থাকতে পারবে না।
নিজের আদি, অকৃত্রিম ও মৌলিক আত্মপরিচয়সহ নিকটবর্তী থানায় হাজিরা দিয়ে প্রমাণ করুন আপনি যে, আপনি সত্যিই সে।
তিন শ্রীসত্যব্রত লাহিড়ী ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দের ৩০এ জুলাই চবি্বশ পরগনা জেলার মুখেরা গ্রামের শ্রীহেমচন্দ্র সান্যালের দ্বিতীয় কন্যা শ্রীঅণিমা সান্যালকে হিন্দুশাস্ত্রমতে শালগ্রাম শিলা ও অগি্ন সাক্ষী রেখে বিবাহ করেন। মৃত বিশ্বনাথ ভট্টাচার্য ও শ্রীনরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী উভয়েই এই বিবাহে পৌরোহিত্য করেন ও তাঁদের উভয়ের সাক্ষ্য থেকেই এ-বিবাহ যে শাস্ত্রমতে নিষ্পন্ন হয়েছে, সে-বিষয়ে নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়। শ্রীসত্যব্রত লাহিড়ী ও শ্রীঅণিমা লাহিড়ী উভয়ে গত দশ বৎসর যাবৎ বল্লভপুর মিউনিসিপ্যালিটির ২৩০/এ/৬ নং হোল্ডিংস্থিত মোকানে স্বামী-স্ত্রীরূপে বসবাস করছেন। ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দের ১৭ই মার্চ বল্লভপুর সদর হাসপাতালে শ্রীঅণিমা সান্যাল একটি কন্যাসন্তান প্রসব করেন। এখানে উল্লেখযোগ্য যে বিবাহের সাত মাস পরে হলেও শিশু পূর্ণাঙ্গ, সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিল এবং প্রসবও অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই হয়েছে। এ-বিষয় বল্লভপুর সদর হাসপাতালের খাতায় দেখা যায় যে ভর্তি হবার মাত্র পাঁচ দিন পরই অণিমা লাহিড়ী খালাস হয়ে যান। এই সন্তানই শ্রীঅণিমা লাহিড়ী ও শ্রীসত্যব্রত লাহিড়ীর একমাত্র সন্তান শ্রীঅঞ্জনা লাহিড়ী।
'খাঁটি ব্যক্তির সন্ধান' নামক বিশ্বব্যাপী কর্মসূচীর আহ্বানে বর্তমানে পূর্ব পাকিস্তানের নাগরিক জনাব এনামুল হক চৌধুরীর স্বতঃপ্রণোদিত এক বিবরণে জানা যায় : পাকিস্তানে অণিমার পিতা শ্রীহেমচন্দ্র সান্যালের বাড়ি তাঁদের পাড়ায় ছিল। ইং ১৯৫০ সালে পূর্ববঙ্গে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময় শ্রীহেমচন্দ্র সান্যাল সপরিবারে জনাব এনামুল হক চৌধুরীর বাড়িতে আশ্রয় নেন। তখন এনামুল হক চৌধুরীর পিতা জনাব মইনুল হক চৌধুরী জীবিত। তিনি ও এনামুল অসাধারণ দৃঢ়তার সহিত হেমচন্দ্র সান্যালের পরিবারকে রক্ষা করেন। দিন পনর-বিশ পর হেমচন্দ্র ভারত ইউনিয়নে চলে আসেন। কিন্তু তাঁর কন্যা অণিমা পাকিস্তানে এনামুল হক চৌধুরীর বাড়িতেই থেকে যায়। হেমচন্দ্র সান্যালের দ্বিতীয় কন্যা শ্রীঅণিমা সান্যাল পাকিস্তানে থেকে তো গিয়েইছে, পরন্তু ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দের ৫ই ফেব্রুয়ারি তারিখে সে 'কুমকুম' এই নামে মইনুল হক চৌধুরীর পুত্র এনামুল হক চৌধুরীকে রেজিস্ট্রেশন বিবাহ করে। জনাব এনামুল হক চৌধুরী তাঁর এই বিবরণের সঙ্গে সেই বিবাহের সার্টিফিকেটের একটি নকল পাঠিয়েছেন। সে দলিলের পাত্রীর নাম আছে কুমকুম, পিতার নাম এইচ-সি-সান্যাল।
এই বিবরণের সপক্ষে নিম্ন প্রকার পরিস্থিতিগত সাক্ষ্য পাওয়া যায় : শ্রীহেমচন্দ্র স্যানাল যখন ভারত ইউনিয়নে আসেন, তখন তাঁর সঙ্গে কেউই তাঁর দ্বিতীয় কন্যা অণিমাকে দেখেনি। এমনকি মুখেরা গ্রামে আসার পর হেমচন্দ্র প্রতিবেশীদের বলেন যে তাঁর দ্বিতীয় কন্যা অণিমা তাঁর প্রথমা কন্যা অঞ্জলির কাছে আসামের এক চা-বাগানে আছে। আসামের এক চা-বাগানে হেমচন্দ্র সান্যালের বড় জামাতা কাজ করতেন। কিন্তু তাঁদের সাক্ষ্যে জানা যায়, অণিমা সেখানে কোনো দিনই যায়নি। অর্থাৎ এই সাক্ষ্যগুলো পরোক্ষভাবে এই সিদ্ধান্তের সমর্থন করে যে ১৯৫০ সালে যখন শ্রীহেমচন্দ্র সান্যাল পাকিস্তান ত্যাগ করেন, তখন অণিমা তাঁর সঙ্গে ছিল না।
তবে কি অণিমা কুমকুম নাম গ্রহণ করে এনামুলকে সত্যই বিবাহ করে? কিন্তু এইচ-সি-সান্যাল নামের আদ্যক্ষর ঘটিত এই সামান্য মিল ছাড়া আর কোনো প্রমাণই নেই যে কুমকুম ও অণিমা একই ব্যক্তি।
কিন্তু তাই যদি না-হবে, তাহলে অণিমা পাকিস্তানে থেকে গেল কেন?
এই বিষয়ে দুই প্রকার মত আছে।
প্রথম মত : জনাব এনামুল হক চৌধুরী ও অণিমা সান্যালের মধ্যে বাল্যকাল থেকেই প্রণয় ছিল। উভয়ের বাড়ি একই পাড়ায়। আট-নয় বছর বয়স পর্যন্ত তারা একই পাঠশালায় পড়ত। অণিমার মাকে এনামুল মা বলে ডাকত। এনামুলের পিতা মইনুল হক চৌধুরী ছিলেন ঐ অঞ্চলের অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি। সাতচলি্লশের পর থেকে এনামুল ও অণিমার হৃদয়-সম্পর্ক এবং এই দুই পরিবারের যোগাযোগ শ্রীহেমচন্দ্র সান্যালের পাকিস্তান ত্যাগ না-করার অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এনামুল একদিন সান্যাল বাড়িতে না-গেলে অণিমার বাবা তাকে ডেকে পাঠাতেন। এনামুলের খাবার জন্য আলাদা কাপ-ডিশ-থালা-গেলাস ছিল।
এই প্রকার অবস্থায় ১৯৫০ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হয়। নিজের বাড়িঘর ছেড়ে এনামুল তখন সান্যাল বাড়িতে চলে আসে। এনামুলের পিতা মইনুল হক চৌধুরী এই সমস্ত ব্যাপারে জড়িত হতে একেবারেই চাচ্ছিলেন না। কিন্তু তাঁর একমাত্র পুত্র যখন এই বিপদের সম্মুখীন হলো তখন তিনি আর স্থির থাকতে না-পেরে সপরিবারে হেমচন্দ্রকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং শহরের ঐ এলাকার শান্তিরক্ষার জন্য পুলিশ ও সরকারের সাহায্য আদায় করেন।
একটি মাত্র ঘরে সমস্ত দরজা-জানালা বন্ধ করে সান্যাল পরিবার ছিল। দরজার বাইরে প্রতিটি শব্দকেই তারা আশঙ্কার কানে শুনত। যখন তারা ভেতর থেকে টের পেত যে এনামুল বেরিয়ে গেল, তারপর এনামুলের ফেরা সম্পর্কে নিশ্চিত না-হয়ে কেউ স্বচ্ছন্দে নিঃশ্বাস পর্যন্ত ফেলতে পারত না। সেই মরণপুরীতে একমাত্র ভরসা ছিল এনামুল। তারই স্রোতে ভেসে এসেছে এই হক চৌধুরী পরিবার। এনামুলসহই কেবল তাদের বিশ্বাস করা যায়। দিনে চারবার করে দরজা ঠেলে খাবার দিয়ে যেত। এবং সান্যাল পরিবারের জন্য এখানে আলাদা বাসনকোসনের ব্যবস্থা ছিল না। সর্বক্ষণ চারদিকে হত্যাকারী ও আহতের উল্লাস ও আর্তনাদ, আগুনের নিঃশব্দ লেলিহানতাকে ঘোষণা করে মানুষের চিৎকার_এক-এক ধাক্কায় সংস্কারগুলোকে খানখান করে ভেঙে দিচ্ছিল; ভূমিকম্প যেমন এক-এক ধাক্কায় পৃথিবীতে কী চিরস্থায়ী তা যাচাই করে নেয়। আর সেই মৃত্যু-পরিবৃত অবস্থাতে সবাই বুঝছিল যে অণিমা আর এনামুলের সেই তরণী, যাতে এই তুফানের দরিয়া পার হবার চেষ্টা করা হচ্ছে। অণিমা-এনামুলের প্রেম না-থাকলে এ-বাড়িতে সান্যাল পরিবার আসতে পারত না ও সরকারকে এনামুলের বাবা এ-অঞ্চলে শান্তিরক্ষার কাজে বাধ্য করতেন না ও এনামুল শান্তি বাহিনী তৈরি করে কয়েকজন বন্ধুবান্ধব নিয়ে আগুন নেবান ও আহতের উদ্ধার সাধন করতে যেত না। এগুলো অঙ্কের মতো এত প্রমাণিত ছিল যে সেই অবস্থায় সান্যাল পরিবার আর হক চৌধুরী পরিবার সমবেতভাবে এই ভালোবাসাকে রক্ষা করবার চেষ্টা করছিল, ধোঁয়া বা ধুলো থেকে চোখের মণি দুটোকে রক্ষা করার জন্য যেমন আমাদের স্নায়ু অচেতনেই কাজ করে। মুহূর্তে মুহূর্তে প্রাণগুলো যে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচছিল, তাদের কাছে এ-ছিল আলোর মতো স্বচ্ছ।
আর এ-কথা সেদিন সবচাইতে বেশি করে বুঝেছিল অণিমা। আগে শান্তিপূর্ণ অবস্থায় যদি বা অণিমার সঙ্গে এনামুলের আলাদা দেখা-সাক্ষাৎ হতো, দাঙ্গার অবস্থায় কোনো সম্ভাবনাই ছিল না। দিনেরাতে এনামুল তিন-চারবার মাত্র এদের ঘরে ঢুকত।
স্নেহ, প্রেম ইত্যাদি প্রমাণ করা অসুবিধাজনক ঘটনাগুলোকে আইনগত অনুসন্ধানের কাজে সাক্ষ্য হিসেবে উপস্থিত করা সমীচীন না হলেও এনামুলের সঙ্গে অণিমার অবিচ্ছিন্ন দেখা-সাক্ষাৎ না-হওয়া অথচ বাইরে ঘোরাঘুরির পর পরিশ্রান্ত এনামুল যখন ও-ঘরে ঢুকত, তখন ঘাম মুছবার জন্য গামছাটা বা হাওয়া খাবার জন্য পাখাটা স্বেচ্ছাপ্রণোদিতভাবে অণিমার এগিয়ে দেওয়া প্রমাণ করে যে যদি এনামুলের প্রতি অণিমার প্রেম পরিণতিমুখী হয়েই থাকে তবে তা নিশ্চয়ই এই সময়, আর কোনো সময়েই নয়। কারণ সংস্কারগুলো তখন খানখান হয়ে ভেঙে যাচ্ছিল আর সেই মৃত্যুপরিকীর্ণ অবস্থায় সান্যাল পরিবারের অতগুলো লোকের নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃৎপিণ্ডধ্বনি অণিমার সম্মুখে প্রত্যক্ষ ও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যভাবে তার প্রতি এনামুলের ভালোবাসার শক্তি দর্শাচ্ছিল। নইলে পনর-বিশ দিনের অনবরত চেষ্টায় যখন মইনুল হক চৌধুরী সান্যাল পরিবারের ভারত ইউনিয়নে যাওয়ার ব্যবস্থা করলেন, তখন অণিমা ভারতে যেতে অস্বীকৃত হলো কেন।
অণিমাকে পাকিস্তানে রেখে আসতে হেমচন্দ্র সান্যাল নিশ্চয়ই একবারে সম্মত হননি। কিন্তু এনামুলের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ব্যতীতই মেয়ের আত্মঘোষণায় তাঁরা হয়তো ভয় পেয়েছিলেন। আবার তাঁদের প্রাণরক্ষার জন্য এনামুলের পরিশ্রম দেখে হয়তো তাঁরা অসম্মত হতে লজ্জা পেয়েছিলেন। সে যা-ই হোক, অণিমা পাকিস্তানে থেকে যায়।
এবং দাঙ্গা-হাঙ্গামা থামবার পর অণিমা স্ব-ইচ্ছায় ও স্ব-চেষ্টায় ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দের ৫ই ফেব্রুয়ারি 'কুমকুম' নামে জনাব এনামুল হক চৌধুরীকে বিবাহ করে। কুমকুমের সঙ্গে এনামুলের বিবাহের রেজিস্ট্রি দলিল আছে। কিন্তু নাম পরিবর্তন কেন?
এনামুল ও অণিমা দুজনই নাকি মনে করে যে এ-কথা জানাজানি হলে ভারত ইউনিয়নে সসম্মানে বসবাস করা সান্যাল পরিবারের পক্ষে অসুবিধাজনক হতে পারে, এবং সে-কারণেই পিতার পুরো নাম ব্যবহার করা হয়নি।
দ্বিতীয় মত : পাকিস্তান হবার পূর্ব থেকেই এনামুল অণিমার প্রতি আকৃষ্ট হয়। পাকিস্তান হওয়ার পর এনামুল প্রথমে অণিমাকে বেশ কিছু পত্র দেয়। তার কোনো জবাব না-পাওয়ায় পথেঘাটে অণিমার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করে। মাঝে মাঝেই সে অণিমাদের বাড়িতে এসে অণিমার মাকে মা বলে ডেকে জোর-জবরদস্তি করে চা ইত্যাদি খাওয়ার চেষ্টা করত। অবশেষে যেদিন সে এক চায়ের দোকান থেকে বেরিয়ে এসে অণিমাকে বলে যে তার বিবি হতে রাজি না-হলে সান্যাল পরিবারের সবাইকে কুচিকুচি করে কাটা হবে, সেদিন থেকে অণিমার বাইরে বেরুনো একেবারে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ইতিমধ্যে ১৯৫০ সালের দাঙ্গার সূত্রপাত ঘটে। তার শুরুতেই এনামুল দলবলসহ সান্যাল বাড়িতে চড়াও হয় ও প্রকাশ্যে ঘোষণা করে যে অণিমাকে তার সঙ্গে বিয়ে না-দিলে সান্যাল বাড়ির প্রত্যেকটি লোককে হত্যা করা হবে। সান্যাল মশাই এনামুলের বাবা মইনুল হক চৌধুরীকে এ-কথা জানালে তিনি পুলিশকে জানিয়ে দেন যে এনামুল তার দলবল নিয়ে ঐ পাড়ার শান্তিরক্ষা করছে। ফলে পুলিশ ঐ এলাকায় আসে না ও এনামুল ঐ এলাকার একমাত্র কর্তা হয়ে দাঁড়ায়।
একদিন রাত্রে গোটা দশেকের সময় প্রথমে বাড়িতে ভীষণ ঢিল পড়তে থাকে। সান্যাল বাড়ির সবাই দরজা-জানালা বন্ধ করে ঘরে বসে। ঘণ্টাখানেক পরে 'আল্লা হো আকবর' ধ্বনি দিতে দিতে একদল লোক সান্যাল বাড়ি ঘিরে ফেলে। এবং বাইরে থেকে চেঁচিয়ে বলে দরজা না-খুললে সেই মুহূর্তে আগুন দেয়া হবে। সেই সময়ই এনামুল এসে দরজার কাছে দাঁড়িয়ে বলে, 'দরজাটা একবার খুলুন, আমি সব ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।' বাধ্য হয়ে দরজা খুলতে হয়। এনামুল বলে, যদি তারা সপরিবারে হক চৌধুরী পরিবারে আশ্রয় নেয়, তবেই একমাত্র বাঁচার সম্ভাবনা। অনন্যোপায় সান্যাল পরিবারকে বাধ্য হয়ে এনামুলদের বাড়িতে এসে উঠতে হয়। সেখানে প্রতিটি মুহূর্ত তাঁদের মৃত্যুর মুখোমুখি হয়ে বাঁচতে হয়েছে।
মাঝে মাঝেই এনামুল ঘরে ঢুকত ও সবার সামনেই অণিমাকে বাতাস করতে কি ঘাম মুছিয়ে দিতে বলত। তখন সান্যাল পরিবারের পরিবারত্ব নেই, আত্মরক্ষাই একমাত্র সমস্যা, দেব-মন্দিরের পূজার্থীর যেমন প্রয়োজন শুধু নিজের প্রার্থনা পূরণের। সে জন্য বলিদানের রক্তও তাকে বিন্দুমাত্র বিচলিত করতে পারে না। এবং অণিমার প্রতি এনামুলের এই অশিষ্ট ও অশ্লীল ব্যবহারে এরা প্রত্যেকে আত্মরক্ষার স্বস্তি পেত। যেন অণিমা নামক প্রতিরোধক না-থাকলে ঐ অশিষ্টতা ও অশ্লীলতা হত্যার নেশা হয়ে উঠত। যেন অণিমার শরীরের ওপরকার চামড়া এনামুলকে তার শরীরের ভেতরকার রক্তের প্রতি দৃষ্টি হানবার সময় দেয়নি। যদি ঐ চামড়টাকে রক্ষা করবার কোনো চেষ্টা করা যেত, তাহলে ভেতরের রক্ত দিয়ে সে-চেষ্টার দাম শোধ করতে হতো।
আইনগত অনুসন্ধানের কাজে কাম, লোভ, অত্যাচার, বলাৎকার ইত্যাদি যে সমস্ত বিষয়ের উৎস ও উদ্দেশ্য থাকা স্বাভাবিক_তাকে যথেষ্ট মূল্য না-দিলে ঘটনার সত্যতা যাচাই হয় না। অণিমার শরীরের প্রতি এনামুলের লোভ স্বীকার না-করলে ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে না কেন দশ-পনর দিন হক চৌধুরী বাড়িতে থাকার পর এনামুল যখন প্রস্তাব দিল অণিমাকে রেখে গেলে সে তাদের ভারত ইউনিয়নে যাবার ব্যবস্থা করে দেবে, তখন সান্যাল পরিবার সম্মত হলো। দাঙ্গার কয়েক দিন হত্যা করার জন্য ও নিহত হবার ভয়ে মানুষের উল্লাস ও আর্তনাদ, আগুনের নীরব লেলিহানতাকে ঘোষণা করে মানুষের সমবেত কণ্ঠস্বর, সংস্কারগুলোকে খানখান করে ভেঙে ফেলেছিল।
অণিমাকে পাকিস্তানে রেখে আসতে হেমচন্দ্র সান্যাল নিশ্চয়ই একবারে সম্মত হননি। কিন্তু এতগুলো লোকের প্রাণ নষ্ট আর অণিমার কুল নষ্ট_এর মধ্যে যোগ-বিয়োগ করে তিনি নিশ্চয়ই বুঝেছিলেন কোনটা লাভজনক। এবং তিনি অণিমাকে পাকিস্তানে রেখেই ভারত ইউনিয়নে চলে আসেন।
দাঙ্গা-হাঙ্গামা থামবার পর ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দের ৫ই ফেব্রুয়ারি অণিমাকে মুসলমান ধর্মে ধর্মান্তরিত ও কুমকুম নামে নামান্তরিত করে এনামুল হক চৌধুরী রেজিস্ট্রি বিবাহ করে।
তখন এই প্রকার আশঙ্কা ছিল যে দাঙ্গা-হাঙ্গামা থামবার পর এই সব ঘটনা নিয়ে অনুসন্ধান শুরু হতে পারে। সে কারণেই অণিমার নামান্তর ও পিতৃপরিচয় গোপন রাখবার জন্য আদ্যক্ষর ব্যবহার।
পাকিস্তানে অণিমার থেকে যাওয়া সম্পর্কে এই দুটি মত ছাড়া সম্ভাব্য তৃতীয় একটি মত কিন্তু পাওয়া যায় না যে অণিমা ও কুমকুম আসলে এক ব্যক্তিই নয়। হেমচন্দ্র সান্যালের মুখেরাস্থিত প্রতিবেশী ও আসামস্থিত বড় জামাতা ও তদীয় পত্নী অঞ্জলির সাক্ষ্যে অণিমার ভারত ইউনিয়নে না-আসা এমনভাবে প্রমাণিত যে, সে কারণেই কুমুকুম ও অণিমার দুই ব্যক্তিত্বের যুক্তি পাওয়া যায় না। যদি অণিমা ও কুমকুম এক ব্যক্তি নয় এই মত প্রচলিত থাকত, তবে সমস্যাও এখানেই থাকত। তারা দুজন না একজন এর মীমাংসা না-হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো। কিন্তু সে-প্রশ্ন না-ওঠায় এরা যে একই ব্যক্তি তা পরোক্ষে সর্বসম্মত।
১৯৫২ সালের ৩০শে জুলাই এই অণিমা সান্যালের সঙ্গেই যদি সত্যব্রত লাহিড়ীর বিবাহ হয়ে থাকে, তবে অণিমা সান্যাল ওরফে কুমকুম হক চৌধুরী পাকিস্তান ছেড়ে ভারত ইউনিয়নে এলো কবে ও কেন?
এ-বিষয়ে দুই প্রকার মত আছে :
প্রথম মত : ১৯৫২ সালের জুন মাসে প্রথম বোঝা যায় যে অণিমা গর্ভবতী। বমি, মাথাঘোরা, অরুচি ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক লক্ষণও ইতিমধ্যে দেখা যায়। কিছুদিন পূর্বেই এনামুলের বাবা মইনুল হক চৌধুরী মারা যান। বাড়িতে শিক্ষিত বা অভিজ্ঞ মহিলারও একান্ত অভাব। তা ছাড়া শারীরিক কারণেই অণিমা অত্যন্ত নার্ভাস হয়ে পড়ে ও বারবার বাবা, মা, ভাই, বোন ইত্যাদির কথা বলতে থাকে।
এ ক্ষেত্রে একটি বিষয় বেশ প্রণিধানযোগ্য। অণিমা তার বাবা-মায়ের সঙ্গে ভারত ইউনিয়নে যেতে অস্বীকার করায় এনামুল এত দূর পর্যন্ত বিস্মিত হয়েছিল যে তাদের বিয়ের পর পরিবর্তিত অবস্থার সঙ্গে নিজে খাপ খাইয়ে নিতে ও অণিমাকে খাপ খাইয়ে নেবার সুযোগ দিতে সে দীর্ঘদিন বাইরে বাইরে ছিল। কেননা এনামুল জানত_অণিমা যে হিন্দু ও সে মুসলমান, এ-চিন্তা-সংস্কার দুজনের মনেই এত সুদূরে মূল প্রসারিত করে আছে যে ভেতর থেকে ক্ষয়ে না-গেলে শুধু বাইরের টানে তা উৎপাটন করা যাবে না। তা ছাড়া, তার জন্যই স্বেচ্ছায় পাকিস্তানে থেকে যাওয়ায় অণিমাকে এনামুল বোধ হয় এক প্রকারের সশ্রদ্ধ দূরত্বে রাখতে চাইছিল। বোধ হয় সে সর্বদাই সচেষ্ট ছিল যাতে কোনো প্রকারেই সে অণিমার ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি না-করে। মইনুল হক চৌধুরীর মৃত্যুর ফলে বাধ্য হয়ে এনামুলকে অণিমার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে হয় এবং তখন সে আবিষ্কার করে তারই মতো অণিমাও এত দিন এনামুলের কথা ভেবেই দূরত্ব রক্ষা করেছে। অতঃপর তাদের সুখী দাম্পত্যজীবন। এবং এ কারণেই বিবাহের এক বৎসর পর অণিমার গর্ভসঞ্চার।
অণিমার শারীরিক অবস্থায় বাপ-মায়ের কাছে থাকলে ভালো হবে ও শ্বশুর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপিত হবে বিবেচনায় এনামুল অণিমাকে মুখেরা পাঠাবার ব্যবস্থা করে। অথচ সে গেলে শ্বশুরবাড়ির সামাজিক অসুবিধা হতে পারে ভেবে নিজে যাবে না স্থির করে।
এবং এনামুলের সক্রিয় ইচ্ছায় উৎসাহে শারীরিক ও মানসিক স্বস্তি ও শান্তির জন্য অণিমা ভারত ইউনিয়নে আসে। সে যে নিরাপদে ভারত ইউনিয়নে এসেছে ও তার বাবার কাছে আছে এ-সংবাদ জানিয়ে অণিমা এনামুলকে একখানি পত্র দেয়। নাম লেখা ছিল অণিমা।
পাকিস্তান ছাড়ার পর এটিই তার একমাত্র চিঠি। তারপর এনামুল ঘন ঘন তিন-চারটি পত্র দেয়, অভিমান করে পত্র দেওয়া বন্ধ করে, আবার পত্র দেয় ও অবশেষে টেলিগ্রাম করে।
এদিকে অণিমা মুখেরা পেঁৗছবার সঙ্গে সঙ্গেই হেমচন্দ্র সকলকে বলেন যে অণিমার বিবাহ স্থির হওয়ায় সে বড়দির কাছ থেকে চলে এসেছে। এরপর গর্ভবতী অণিমাকে প্রায় রুদ্ধকক্ষে আটক রেখে, এনামুলকে চিঠিপত্র দেবার সমস্ত পথ বন্ধ করে ও এনামুলের সমস্ত চিঠি গাপ করে হেমচন্দ্র যেকোনো মূল্যে একটি বারেন্দ্র ব্রাহ্মণ, বাৎস্য ব্যতীত অন্য গোত্রের একটি পাত্র, খুঁজতে লাগলেন। মইনুল হক চৌধুরী ও এনামুলের চেষ্টায় যে টাকাপয়সা, গহনাপত্র আসবার সময় সঙ্গে আনতে পেরেছিলেন, তাতে মুখেরা গ্রামে জমিসহ বসতবাটি, ব্রাহ্মণত্ব ও ধর্মবোধ একই সঙ্গে তিনি ভারত ইউনিয়নে সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। মাঝখানের কয়েকটা দিন তিনি মুছে দিতে চাইছিলেন।
এবং অবশেষে ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দের ৩০শে জুলাই, অর্থাৎ অণিমা পাকিস্তান থেকে আসার মাত্র দেড় মাসের মধ্যেই, মৃত পুণ্যব্রত লাহিড়ীর পুত্র শ্রীসত্যব্রত লাহিড়ীর সঙ্গে হেমচন্দ্র দুই মাসের গর্ভবতী অণিমার বিবাহ দেন। ও সেই বিবাহের সাত মাস পরে সে ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দের ১৭ই মার্চ বপ্লভপুর হাসপাতালে একটি পূর্ণাঙ্গ সুস্থ ও স্বাস্থ্যবান সন্তান প্রসব করে। এ সন্তানের গর্ভসঞ্চার হয়েছে এনামুল হক চৌধুরীর স্ত্রীরূপে, প্রসব হয়েছে সত্যব্রত লাহিড়ীর স্ত্রীরূপে।
দ্বিতীয় মত : ভারত ইউনিয়নে চলে আসার পর দীর্ঘদিন হেমচন্দ্র অণিমার কোনো খবর পান না। অথচ তার আশা বা আশঙ্কা ছিল কোনো দিন হয়তো অণিমা ফিরে আসতেও পারে। তাই তিনি সবাইকে তার দ্বিতীয় কন্যার অস্তিত্বের কথা জানিয়েছেন ও বলেছেন যে সে তার বড়দির কাছে আসামের চা-বাগানে আছে। অবশেষে হঠাৎ ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দের জুন মাসে অণিমা অত্যন্ত অসুস্থ অবস্থায় মুখেরায় এসে উপস্থিত হয়। সে নাকি বলে যে হেমচন্দ্র সান্যাল পাকিস্তান ছাড়বার পরদিনই সে এনামুলের হাত থেকে পালায় ও তারপর বহু কষ্ট ও যাতনার পর পাকিস্তান থেকে বেরুতে পারে ও তারপর নানা সূত্রে চেষ্টা করে হেমচন্দ্র সান্যালের ঠিকানা বার করে।
হারানো সন্তান ফিরে পেয়ে হেমচন্দ্র প্রথমে তার ভগ্নশরীর সারিয়ে তুলবার চেষ্টা করেন ও সেই কারণে সব সময় সে ঘরের মধ্যে থাকত ও বাইরের কারো সঙ্গে মেশার সুযোগ পায়নি। মাসখানেকের মধ্যেই হৃতস্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার হয়। এবং যে-ডাক্তার চিকিৎসা করছিলেন, তার চিকিৎসা সম্পূর্ণ হবার আগেই মৃত পুণ্যব্রত লাহিড়ীর পুত্র শ্রীসত্যব্রত লাহিড়ী বিএর সঙ্গে অণিমার সম্বন্ধ আসে। কন্যার প্রতি কর্তব্যের তাড়ার ও নিজের ভগ্নস্বাস্থ্যের প্রতি সম্পূর্ণ নির্ভর রাখতে না-পেরে হেমচন্দ্র এ-বিবাহে সম্মত হন। এবং ১৯৫২ সালের ৩০এ জুলাই সত্যব্রতের সঙ্গে অণিমার বিবাহ হয়।
বিবাহের মাসখানেক-মাস দেড়েক পরে অণিমা যখন বাপের বাড়িতে আসে, তখনই তার গর্ভের লক্ষণ দেখা যায়। এ-বিষয়ে মুখেরার প্রতিবেশীরা সাক্ষ্য দিতে পারেন। চার মাসের মাথায় অণিমাকে বল্লভপুর পাঠানো হয়। এবং সাত মাসের শেষে ১৯৫৩ সালের ১৭ই মার্চ অণিমার একমাত্র সন্তানের জন্ম হয়। এ-গর্ভসঞ্চার সত্যব্রতের সঙ্গে বিবাহের পরে ও এ-সন্তানের একমাত্র পিতা সত্যব্রত।
যদি এনামুল অণিমাকে ব্যবহার করার সুযোগ পেত, তবে কি আর অণিমা ছাড়া পেত, আর সেই লম্পট গুণ্ডার সঙ্গেই যদি সে থাকত, তবে এক বৎসর পর তার গর্ভসঞ্চারের কারণ কী?
সমস্ত মতামত বিবেচনা করলে দেখা যায়_(ক) অণিমা এনামুলকে ভালোবাসত, নাকি এনামুল জোর করে অণিমাকে আটকে রেখেছিল; (খ) অণিমা এনামুলকে নামান্তরিত হয়ে স্বেচ্ছায় বিয়ে করেছিল, নাকি বাধ্য হয়ে; (গ) অণিমা সত্যব্রতকে গোত্রান্তরিত হয়ে স্বেচ্ছায় বিয়ে করেছিল, নাকি বাধ্য হয়ে। (ঘ) অঞ্জনা কার কন্যা, এনামুলের না সত্যব্রতের_এই চারটি প্রশ্নের সঠিক উত্তরের ওপর অণিমার প্রকৃত পরিচয় নির্ভর করছে, এবং অঞ্জনার। এবং প্রশ্নগুলো মানুষ সম্পর্কে কতগুলো মৌলিক প্রশ্নের কাছাকাছি নিয়ে যায়, অতি দ্রুত ও অতি সোজাসুজি।
যত দিন এই সোজাসুজি প্রশ্ন চারটির সত্য জবাব পাওয়া না-যাচ্ছে, তত দিন যাঁকে আপনি স্ত্রী বলে জানেন, তিনি আপনার স্ত্রী নন; যাকে আপনাদের সন্তান বলে জানেন, সে আপনাদের সন্তান নয়।
সুতরাং নিজের আদি, অকৃত্রিম ও মৌলিক আত্মপরিচয়সহ নিকটবর্তী থানায় হাজিরা দিয়ে প্রমাণ করুন আপনি যে, আপনি সত্যিই সে।
খিড়কিতে সদরে দাওয়ায় সিঁড়িতে তুলসিকোনায় ঘরের আনাচে-কানাচে অন্ধকার। দ্রুতবিস্তারী বন্যার মতো, প্রাণান্তিক মহামারির মতো, অন্ধকার। আত্মপরিচয়হীন উদ্বাস্তু অণিমা আর সত্যব্রত সে অন্ধকারকে তপ্ত তরল লোহার ফুটন্ত সমুদ্র ভেবে বিলীন হতে চাইল।
পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত যেগুলো সংসার ছিল, এখন সেগুলো আলোহীন চোখের গর্ত_যেন মিথ্যা পল্লব তুলে উঠোনে অণিমা আর সিঁড়িতে সত্যব্রতের দিকে তাকিয়ে আছে। সেই ঘর, সেই বাড়ি, সেই পরিবার, সেই সুখ, পা-গজানো রাক্ষসের মতো সত্যব্রত-অণিমার চারদিকে আচ্ছন্ন করে তোলে এবং সেই ক্রমঘনিষ্ঠ অন্ধকারের আকাশে নিঃশব্দ ঘোষণা_'তুমি, তুমি নও সত্যব্রত; তুমি, তুমি নও অণিমা।'
সম্পূর্ণ অনাত্মীয় দুটি আত্মা মাটিতে মুখ থুবড়ে পড়ে_বাইরে কচি করুণ, একা-কণ্ঠে তীরের মতো তীব্রস্বরে অন্ধকারকে ভেদ করে অঞ্জু তাদের আত্মার তর্পণের মন্ত্র হাঁকবে : 'বাবা', 'মা'_তারই অপেক্ষায়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1332)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
-
▼
2012
(33842)
-
▼
November
(2002)
-
▼
Nov 04
(50)
- রামলীলায় বিজেপির ওপর চড়াও সোনিয়া
- রান আউটে মৌসুমী নাগ by কামরুজ্জামান মিলু
- সরকারি আপত্তিতে বন্ধ ‘তিন কন্যা’র প্রদর্শন
- মুক্ত সারিকাঃ হিল্লোল ও নওশীনের বয়কটাদেশ বহাল
- আসছে পুনম পান্ডের ‘নেশা’
- বিশ্লেষণঃ র্যাব দপ্তরে কেন মেঘ? by জাকিয়া আহমেদ
- সাইবার ক্রাইম এবং নারীর অসহায়ত্ব
- মশিউর সস্পর্কে বিকালে জানাবে ইআরডিঃ অর্থমন্ত্রী
- সরকারকে বিব্রতকারী অপ্রয়োজনীয়দের বাদ দিতে হবেঃ নাসিম
- দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্ববৃহৎ প্যাগোডায় হাসিনা by শ...
- ‘জিয়া-এরশাদের পথে হাঁটছে মহাজোট’
- শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার কমছেঃ জেএসসি কেন্দ্র পরিদর...
- পদে পদে বন্ধুত্বের ফাঁদ! সাইবার অপরাধের জালে কিশোর...
- ‘ছুটি শেষ ভাবতেই কষ্ট লাগছে!’
- অনেক কিছু করতে রাজি থাকলেও...
- ঢাকায় আসছেন ক্যাটরিনা
- সাতঘরিয়া by প্রফুল্ল রায়
- বিশ্বাস খুনি by নাসরীন জাহান
- বন-জ্যোৎস্না by নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
- রস by নরেন্দ্রনাথ মিত্র
- উদ্বাস্তু by দেবেশ রায়
- বেদেনী by তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
- বীর মুক্তিযোদ্ধা- তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না
- মার্কিন অ্যাটর্নির মত- রেজওয়ানুলের জন্য দ্রুত আইনজ...
- ফুলবাড়ী কয়লাখনি উন্নয়নে এশিয়া এনার্জির নতুন প্রস্ত...
- প্রাথমিক শিক্ষার টাকা লুটপাট-আন্তমন্ত্রণালয় কমিটির...
- প্রধানমন্ত্রীর ভিয়েতনাম ও লাওস সফর-পূর্ব এশিয়ার সঙ...
- পবিত্র কোরআনের আলো-সব মানুষ একই উম্মতের অন্তর্ভুক্...
- রাজনৈতিক বিবেচনায় অপরাধের দায়মুক্তি ন্যায়বিচারের হ...
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন: জনমত জরিপ- এই অপেক্ষ...
- খালেদা জিয়ার ভারত সফর- নীতি পরিবর্তন নিয়ে বিএনপিতে...
- খালেদা জিয়ার ভারত সফর- ভারতবিরোধিতা ভুল ছিল, বুঝেছ...
- শুভেচ্ছা ও অভিবাদন by মতিউর রহমান
- মসিউর আজ দুদকে যাচ্ছেন- প্রধানমন্ত্রী ফিরলে ছুটির ...
- খালেদা জিয়ার ভারত সফরে প্রাপ্তি by তারেক শামসুর রে...
- চরাচর-সংবিধান দিবস by সুস্মিতা সাহা
- রঙ্গব্যঙ্গ-হায় পুলিশ! by মোস্তফা কামাল
- সুতরাং-নদ-নদীর মৃত্যুরোধ ও অভিন্ন নদীর সমস্যা সমাধ...
- মনের কোণে হীরে-মুক্তো-দুর্বৃত্তায়নের কেন্দ্রবিন্দু...
- লালন ফকিরের গান by ইলিনা সেন
- প্রমিত বাংলা বানান-মাতৃভাষার দুর্গতি দূর করতে হলে ...
- নেতিবাচকতা by একরামুল হক শামীম
- মার্কিন নির্বাচন-রমনির পালে মন্থর হাওয়া by চার্লস ...
- হৃদয়নন্দন বনে-সঠিক পথের দিশা by আলী যাকের
- ইবিতে অচলাবস্থা-শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করুন
- ইকোনমিস্টের প্রতিবেদন-দুঃসহ স্মৃতি মুছে ফেলে ঘুরে ...
- ‘শত্রু’কে বন্ধুর মতো বরণ নয়াদিল্লির by হিরন্ময় কার...
- বাবা নির্বাক, প্রতীক্ষায় মা by ইমরান আলী
- দেশে ফিরলেন খালেদা, সফর সফল দাবি
- এক নাচে এক কোটি রুপি
-
▼
Nov 04
(50)
-
▼
November
(2002)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
ইরান
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
দুর্নীতি
শিশু
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
কালবেলা
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
ইউক্রেন
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
তরুণ প্রজন্ম
মানবাধিকার
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আলী যাকের
আইন ও বিচার
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
মালয়েশিয়া
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
স্বাস্থ্য
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
জ্যোতির্বিজ্ঞান
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
শিল্প ও সাহিত্য
সংবিধান ও রাষ্ট্র
বগুড়া
মিয়ানমার
ঢাকা
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
গবেষণা
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
জীবনযাপন
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
মেহেদী হাসান
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
মানসুরা হোসাইন
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
মসজিদ
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
ইয়েমেন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
Exclusive
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
উচ্চশিক্ষা
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
বিজ্ঞান
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
জনস্বাস্থ্য
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
ফরিদপুর
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লাতিন আমেরিকা
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মহাকাশচারী
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
জোহরান মামদানি
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
ইহুদি
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
স্পেন
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
বিশ্বকাপ ফুটবল
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment