আইভরি কোস্টে আবার সংঘর্ষ ওয়াতারাকে এইউর স্বীকৃতি

আইভরি কোস্টে গত বৃহস্পতিবার নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। আফ্রিকান ইউনিয়ন (এইউ) দেশটির বিরোধী নেতা আলাসেন ওয়াতারাকে নির্বাচিত বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসিবে স্বীকৃতি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এই সংঘর্ষ শুরু হয়।
আইভরি কোস্টের ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট লরা বাগবো এইউর এই সিদ্ধান্তে প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি জাতিসংঘ ও ফ্রান্সের বিমান তাঁর দেশের ওপর দিয়ে যাওয়া বা অবতরণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন।
বিদ্রোহীদের ও সরকার-নিয়ন্ত্রিত এলাকার মাঝামাঝি অবস্থিত তাইবিসউ শহর ও ইয়ামোসোকরোর কাছে বৃহস্পতিবার ভারী অস্ত্রের গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটে।
ওই এলাকার এক বাসিন্দা সাংবাদিকদের বলেন, রাত আটটার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক গুলিবিনিময় শুরু হয়। রাতভর তা চলে। অপর একজন জানান, কালাশনিকভ রাইফেল থেকে গুলি ছোড়া হচ্ছে।
এ ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবা থেকে এইউ ঘোষণা করে, গত নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ওয়াতারাই বৈধভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। আদ্দিস আবাবা থেকে ওয়াতারা বলেন, এ ঘোষণা বাগবোকে মানতেই হবে। শিগগিরই তাঁকে ক্ষমতা ছাড়তে হবে।
ওয়াতারা বলেন, এইউ তাঁকে সরকার গঠন করতে বলেছে এবং একই সঙ্গে বাগবোকে সম্মানজনক অপসারণের সুযোগ দিতে বলেছে। তিনি বলেন, ‘শান্তির স্বার্থে আমি তাঁদের কথা মেনে নিয়েছি।’
বাগবোর সরকার এইউর এই ঘোষণা মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। আবিদজান থেকে বাগবোর মুখপাত্র আহোয়া ডন মেল্লো বলেন, যেখানে ক্ষমতা ভাগাভাগির কথা হচ্ছে, সেখানে এই ঘোষণা মেনে নেওয়া যায় না।
আদ্দিস আবাবায় এইউর বৈঠক শেষে ওয়াতারা গতকাল শুক্রবার নাইজেরিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। সেখানে তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট গুডলাক জোনাথনের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
জাতিসংঘ ও ফ্রান্সের বিমানের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আবিদজান থেকে বিবিসির সাংবাদিক জন জেমস জানান, ওয়াতারার দেশে ফেরার পথ বন্ধ করতে সম্ভবত এই পদক্ষেপ নিয়েছেন বাগবো। গত নভেম্বরের নির্বাচনের পর থেকে ওয়াতারা আবিদজানের গলফ হোটেলে ছিলেন। সেখানে তাঁর নিরাপত্তা দিচ্ছে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীরা।