উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

দ্রুত সমস্যার বৃত্ত ভাঙতে হবে ১৯৯২ সালে যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, সে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য যে সফল কিংবা বাস্তবায়িত হয়নি ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১২ কালের কণ্ঠে প্রকাশিত 'উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে অশনিসংকেত' শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সেটাই স্পষ্ট ফুটে উঠেছে।


সাধারণ স্তরের শিক্ষাবঞ্চিত ছেলেমেয়েদের শিক্ষা গ্রহণের পথ প্রশস্ত করার জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হলেও এর পথ রয়ে গেছে কণ্টকাকীর্ণই। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠার ২০ বছরের মাথায় এসে বিশ্ববিদ্যালয়টির সামনে মহাবিপদ সংকেত ঝুলছে। দেশের সামগ্রিক শিক্ষাচিত্র কতটা উজ্জ্বল_এ নিয়ে নানা রকম বিতর্ক থাকলেও এটা অনেকটাই সত্য, শিক্ষাকে যুগোপযোগী করা কিংবা সবার জন্য শিক্ষা লাভের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে যাতে সহজে শিক্ষা লাভ করা যায়, সে রকম কর্মপরিকল্পনা নিয়েই এর যাত্রা শুরু হয়েছিল। কিন্তু এযাবৎ তা কতটা সফল হয়েছে, এ নিয়ে প্রশ্ন আছে। অন্তহীন সমস্যায় নিমজ্জিত উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন নতুন সমস্যারও সৃষ্টি হচ্ছে। সম্প্রতি পরীক্ষার ফি আলাদাভাবে নেওয়াসহ আরো কয়েকটি সিদ্ধান্তের কারণে একটি প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছে। একই সঙ্গে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, সিদ্ধান্তটি অন্যান্য প্রোগ্রামের জন্যও প্রযোজ্য বলে এ জটিলতা সামনে আরো বাড়বে। এমনিতেই জটিলতার আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। এর মধ্যে যদি এখন আরো সমস্যা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, তাহলে এর সার্বিক কার্যক্রম কিংবা অগ্রগতি ব্যাহত হতে বাধ্য। যে প্রোগ্রামের পরীক্ষার্থী, শিক্ষার্থীদের বাড়তি ফি দেওয়ার বিধান রেখে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ জারি করেছে, তা সংগতই বিরূপ প্রভাব ফেলবে। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রোগ্রামে শিক্ষার্থীর সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। এখন যে সিদ্ধান্তের কারণে রাজধানী ঢাকাসহ বিশ্ববিদ্যালয়টির সারা দেশের আঞ্চলিক কেন্দ্রে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করছে, এর দ্রুত প্রশমন প্রয়োজন।
উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে যারা শিক্ষা লাভের চেষ্টা করছে, তাদের অধিকাংশই আর্থিকভাবে অসচ্ছল। ভর্তির সময় কিংবা পরবর্তী ধাপে যাদের কাছ থেকে সব ফি নিয়ে নেওয়া হয়েছে, সেখানে এখন অতিরিক্ত ফি আদায়ের সিদ্ধান্ত কতটা যৌক্তিক কিংবা সংগত, এ নিয়ে কথা ওঠাটাই তো স্বাভাবিক। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এসব ব্যাপারে যে যুক্তি দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে, তা খোঁড়া যুক্তি। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রোগ্রামে যে হারে শিক্ষার্থীর সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে, তা কোনো শুভ লক্ষণ নয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উচিত, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়ে বিদ্যমান সব সমস্যা নিরসনে দূরদর্শী পরিকল্পনার ভিত্তিতে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া এবং উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে এগিয়ে যাওয়া। অজস্র সমস্যার বৃত্তে বন্দি থেকে এ প্রতিষ্ঠানটি কত দূর এগোতে পারবে, এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়েরও বিশেষভাবে ভাবা দরকার।

No comments

Powered by Blogger.