Tuesday, January 28, 2025
৭ কলেজ: অবশেষে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত
৭ কলেজ: অবশেষে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত
এ ছাড়াও অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা সংক্রান্ত পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে এক বছর এগিয়ে এনে এ বছর থেকেই অর্থাৎ ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ভর্তি না নেয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়; শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী ২০২৪ সালের ২৯শে ডিসেম্বর থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য সভায় জোর সুপারিশ করা হয়; ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী আসন সংখ্যা ও ভর্তি ফি নির্ধারণসহ যাবতীয় বিষয়ে মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে; যেসব শিক্ষার্থী বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান শিক্ষা কার্যক্রমের অধীনে রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দায়িত্বশীল থাকবেন, যাতে তাদের শিক্ষাজীবন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তবে এমন সিদ্ধান্তে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয় সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের পক্ষে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী মইনুল ইসলাম বলেন, আমাদের এক নম্বর দাবি অধিভুক্তি বাতিল হয়েছে। এ জন্য আমরা সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু আমাদের আরও পাঁচটি দাবি আছে। প্রো-ভিসির পদত্যাগসহ পাঁচ দফা দাবি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মেনে নিতে হবে। অন্যথায় আমরা নিউ মার্কেট থানা ঘেরাও করবো।
শিক্ষার মানোন্নয়ন ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চাপ কমানোর লক্ষ্যে সরকারের উদ্যোগে রাজধানীর সরকারি সাত কলেজকে অধিভুক্ত করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের। যেখানে এ দু’টি বিষয় ছাড়াও গুরুত্ব পেয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভিসি প্রফেসর ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. হারুন-অর-রশীদের কোন্দল। কোনো রকম পর্যালোচনা ছাড়াই এক বিকালে হুট করে ঘোষণা করা হয়- ‘রাজধানীর সরকারি সাত কলেজ আজ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত।’ এরপর কেটেছে প্রায় ৮ বছর। কিন্তু সাত কলেজের শিক্ষাব্যবস্থার কোনো উন্নয়ন হয়নি। বরং কিছুদিন পর পর রাজপথে নেমে আসতে হয়েছে এসব কলেজের শিক্ষার্থীদের। অন্যদিকে সাত কলেজের এত বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থীর দায়িত্ব নিয়ে নিজের ঘরেই আলো দিতে ব্যর্থ হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনেক সময় দাবি তুলেছিল- সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের। যে দাবি করতে গিয়ে তৎকালীন সরকারের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ) হামলার শিকারও হতে হয়েছে তাদের। নিপীড়নের শিকার হয়েছেন নারী শিক্ষার্থীরা। এরই ধারাবাহিকতায় ৫ই জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. নিয়াজ আহমেদ খানকে পাঁচ দফা দাবি জানায় সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা।
দাবিগুলো হলো- ২০২৪-২৫ সেশন থেকেই সাত কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় অযৌক্তিক কোটা পদ্ধতি বাতিল করা; শ্রেণিকক্ষের ধারণক্ষমতার বাইরে শিক্ষার্থী ভর্তি না করানো; শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো; নেগেটিভ মার্ক যুক্ত করা; সাত কলেজের ভর্তি ফি’র স্বচ্ছতা নিশ্চিতে, মন্ত্রণালয় গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে ঢাবি ব্যতীত নতুন অ্যাকাউন্টে ভর্তি ফি’র টাকা জমা রাখা। এরই ধারাবাহিকতায় গত রোববার সন্ধ্যায় অফিস সময়ের পরে সাত কলেজের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (শিক্ষা) প্রফেসর ড. মামুন আহমেদের কার্যালয়ে যান। সেখানে এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা প্রো-ভিসির সঙ্গে হট্টগোল শুরু করেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় মব তৈরি না করতে প্রো-ভিসি শিক্ষার্থীদের কড়া ভাষায় সতর্ক করেন। যে ঘটনাকে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের অপমান বলে দাবি করেন তারা। এরপর সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা সায়েন্স ল্যাব, শাহবাগ, মিরপুর, তাঁতীবাজার, নিউমার্কেট সড়কে অবরোধ করেন। দাবি করা হয় প্রো-ভিসির ক্ষমা চাওয়ার। চার ঘণ্টায়ও দাবি মানা না হলে অবরোধ তুলে নিয়ে প্রো-ভিসির বাসা ঘেরাওয়ের ঘোষণা দেন তারা। রওয়ানা হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অভিমুখে। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা নীলক্ষেত মোড়ে গেলে পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণের নিচে অবস্থান নেয়। অন্যদিকে এমন খবরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও ক্ষুব্ধ হন। তারা ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের ঠেকাতে পাল্টা অবস্থান নেয় স্যার এ এফ রহমান হলের সামনে। মুহূর্তের মধ্যে হলগুলো থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী সেখানে অবস্থান নেয়। উত্তেজনা বাড়তে থাকলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একযোগে সাত কলেজ শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দেয়। তাড়া খেয়ে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা যখন ঢাকা কলেজের সামনে চলে যায় তখন পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। এ সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। যাদের পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা দেয়া হয়। এমন পরিস্থিতিতে রাতে প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ এক ভিডিও বার্তায় উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। অন্যদিকে চলতে থাকে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। ঢাবি শিক্ষার্থীদের একটি অংশ আবার এগিয়ে গেলে আবার সংঘর্ষ শুরু হয়। রাত ২টার দিকে মোতায়েন করা হয় বিজিবি। এরই মধ্যে ইডেন কলেজের মেয়েরা রাস্তায় নেমে এসে বিক্ষোভ দেখান। রাত ৩টার দিকে পরিস্থিতি শান্ত হয়। দুই পক্ষ স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানে ফিরে আসেন। এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. নিয়াজ আহমেদ উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। আর সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা পরদিন সকাল ৯টা থেকে অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কিন্তু মিটিংয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থেকে তারা এক পর্যায়ে ৪ ঘণ্টার জন্য সে কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দেন। সবশেষ সন্ধ্যায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পাঁচ দফা দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে এদিনের মতো কর্মসূচি শেষ করেন।
এদিকে সাত কলেজ ইস্যুতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে বিএনপি-জামায়াতপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের দুই গ্রুপ। পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে সাত কলেজ বাতিলকরণের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। অন্যদিকে বিকালে আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে জগন্নাথ হল ও স্যার এ এফ রহমান হল পরিদর্শন করেন ভিসি ড. নিয়াজ আহমদ খান। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমদ, জগন্নাথ হলের প্রভোস্ট দেবাশীষ পালসহ সংশ্লিষ্ট হলের আবাসিক শিক্ষকগণ উপস্থিত ছিলেন।
এখন কী হবে সাত কলেজের
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্তের পর এখন সরকারি সাত কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম কীভাবে চলবে এই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও অন্ধকারে। আপাতত বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও শিক্ষার্থীদের মাঝে শঙ্কা কাজ করছে ভবিষ্যৎ নিয়ে। নতুন কোনো জটিলতা যাতে না হয় সেদিকে দৃষ্টি দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা। টানা ১৮ ঘণ্টার উদ্বেগ শেষে গতকাল সিনেট সভার পর ঢাবি ভিসি অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত জানান। এই ঘোষণার পর প্রশ্ন উঠেছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান প্রক্রিয়া কী হবে? এ বিষয়ে ঢাবি ভিসি বলেন, আমাদের সিদ্ধান্ত ছিল আগামী বছর অর্থাৎ, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে সাত কলেজের ভর্তি কার্যক্রম ঢাবি পরিচালনা করবে না। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আমরা সেই সিদ্ধান্ত এক বছর এগিয়ে এনেছি। তিনি আরও বলেন, যেসব শিক্ষার্থী বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান শিক্ষা কার্যক্রমের অধীনে রয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দায়িত্বশীল থাকবে। যাতে তাদের শিক্ষাজীবন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রানিং শিক্ষার্থীদের ঢাবি প্রশাসন দেখভাল করবে নাকি আলাদা কোনো ফরমেটে হবে- সেটি মিটিংয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হবে। শিক্ষার্থীরা ঢাবি থেকে বেরিয়ে খুশি হলেও শঙ্কাও আছে তাদের মাঝে। ভবিষ্যতে কোনভাবে প্রতিষ্ঠানগুলো চলবে- তা নিয়েও রয়েছে ধোঁয়াশা। শিক্ষার্থীরা বলছেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তাদের দাবি অনুযায়ী স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাও জটিল বিষয়।
তিতুমীর
কলেজের শিক্ষার্থী মো. সাগর আহমেদ বলেন, আমরা খুশি আমাদের দাবির একটা অংশ
আদায় হয়েছে। তবে এখন পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে চিন্তিত। ঢাবি আমাদের
পরীক্ষা নেবে, তারা চাইবে আমাদের দ্রুত বের করে দিতে। কোনো বিষয়ে অকৃতকার্য
হলে সে বিষয়ে তাদের মনোভাব কেমন হবে এসব নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। এছাড়াও তারা
নতুন করে শিফটের মাধ্যমে পরীক্ষা নিলেও আমরা ক্ষতিগ্রস্থ হবো। এখন আমাদের
জন্য শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরণের দাবি জানাই। ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী
ফয়সাল বলেন, ঢাবি থেকে বের হওয়ার সিদ্ধান্তকে আমরা সাধুবাদ জানাই। তবে
দ্রুত সময়ের মধ্যে আমাদের কলেজগুলো নিয়ে একটি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় করার
জোর দাবি জানাই। এখনো ভিসি’র দেয়া সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে আমরা পরিষ্কার হতে
পারিনি কোন প্রক্রিয়ায় আগামী দিনের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা হবে। আগামী
দিনে কীভাবে শিক্ষা কার্যক্রম চলবে সেটিও দ্রুত জানানো হবে।
সাত কলেজের
বিষয়ে নেয়া সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে সরকারি তিতুমীর কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক
শিপ্রা রাণী মণ্ডল বলেন, মিটিংয়ে যে সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে তা ঢাকা
বিশ্ববদ্যালয় নিয়েছে। আমরা তা অবহিত হয়েছি মাত্র। দাবিগুলো ছিল
শিক্ষার্থীদের। সেই দাবি পূরণ করেছে ঢাবি। এই সিদ্ধান্ত কীভাবে কার্যকর করা
হবে- সেটা শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন জানে। একটা
বিশেষজ্ঞ কমিটি করা আছে। সেই কমিটি যেভাবে নির্দেশনা দিবে সেভাবে হয়তো
চলবে। সাত কলেজ নিয়ে কি করা হবে তার জন্য মন্ত্রণালয় আর ইউজিসি’র কাজ তো
চলমান আগে থেকেই। তাদের থেকে যে নির্দেশনা আসবে আমরা সে অনুযায়ী বাস্তবায়ন
করবো।
ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক একেএম ইলিয়াস বলেন, ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এসএমএ ফায়েজের নেতৃত্বে যে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠিত হয়েছে তারাই একটা রূপরেখা দেবেন। তাদের এই পরিকল্পনার আলোকে সাত কলেজ নিয়ে একটা কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটির তত্ত্বাবধানেই চলতি বছরের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এই কমিটির আওতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে চলতি দায়িত্ব নেয়ার মাধ্যমে অধিভুক্তি বাতিল প্রক্রিয়া শুরু হবে। চলমান শিক্ষার্থীদের নিয়ে আলোচনা হবে। আমরা আলোচনার মাধ্যমে চলতি সেশনগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবো। এ ছাড়া চলমান পরীক্ষাগুলো নিয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলেও তিনি জনান।
গতকাল সাত কলেজের বিষয়ে জরুরি সভায় নেয়া সিদ্ধান্তে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২৯শে ডিসেম্বর থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য সভায় জোর সুপারিশ করা হয়। এছাড়া ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী আসন সংখ্যা ও ভর্তি ফি নির্ধারণসহ যাবতীয় বিষয়ে মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বলেও জানানো হয়। তবে এই প্রসঙ্গে ইউজিসি ও বিশেষজ্ঞ কমিটি সদস্য অধ্যাপক তানজিমউদ্দিন খান বলেন, এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নাই। এটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বিষয়। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনাও হয়নি। আমরা আমাদের মতো করে কাজ করছি। আমাদেরকে বলা হয়েছিল, সাত কলেজের সমস্যার সমাধান কীভাবে করা যায় তার একটা রূপরেখা দিতে। আমরা সেটা দেয়ার চেষ্টা করছি।
শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী আসন সংখ্যা ও ভর্তি ফি নির্ধারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা যখন ২০২৪-২৫ এর ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে তখন কি আমাদের সঙ্গে আলাপ করেছেন? তারা আমাদের সঙ্গে কোনো আলাপ করেনি। তারা তাদের মতো স্বাভাবিকভাবে করেছে। আর বিশেষজ্ঞ কমিটি তো ডিফারেন্ট টার্মস অফ রেফারেন্স। এটার সঙ্গে আমাদের কেন জড়াচ্ছে তাই তো বুঝলাম না। এটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একান্ত এখতিয়ার। কলেজের উপর আমাদের কোনো এখতিয়ার নাই। ইউজিসি দায়িত্বও নেয় নাই এটা অফিসিয়ালি। আমরা কীভাবে এই সিদ্ধান্ত দেবো।
ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক এসএম এ ফায়েজ বলেন, নিয়মমাফিক সাত কলেজ স্বতন্ত্র কাঠামোতে নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। অধিভুক্তি বাতিলে সাত কলেজের ভর্তি নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়বে। তিনি বলেন, ঢাবি আমাদের উপর দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা কী চায় তা বিবেচনা করে সরল ও যৌক্তিক পথে হাঁটতে হবে।
![]() |
| ৭ কলেজের শিক্ষার্থীদের সংবাদ সম্মেলন ছবি: নিজস্ব |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1402)
-
▼
2025
(3281)
-
▼
January
(191)
-
▼
Jan 28
(9)
- ‘আমার বাড়িটা আর নেই’: উত্তর গাজায় ফিরে যা দেখছেন ফ...
- কম দামে হাতে বানানো চামড়ার জুতা পাওয়া যাবে যেখানে ...
- রেলওয়ে কর্মীরা কী চান, কর্তৃপক্ষ কী ভাবছে by আনোয়া...
- ইসরাইলের মতো আমেরিকার আকাশে নিজস্ব 'আয়রন ডোম' চান ...
- মার্কিন চাপ সত্ত্বেও আফগানিস্তানে ইরানের পররাষ্ট্র...
- ভয়ংকর ড্রোন বানাল ইরান, ঘুম হারাম ইসরায়েলের
- পরীমনির জামিনদার কে এই তরুণ by মনজুর কাদের ও আসাদু...
- ৭ কলেজ: অবশেষে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত
- আওয়ামী লীগে বিভক্তি চ্যালেঞ্জের মুখে হাসিনা -আল জা...
-
▼
Jan 28
(9)
-
▼
January
(191)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...

No comments:
Post a Comment