ভেস্তে যেতে পারে ফিলিস্তিনের পূর্ণ সদস্যপদের আবেদন

ফিলিস্তিনের পূর্ণ সদস্যপদের আবেদনের বিষয়ে মতৈক্যে পেঁৗছতে ব্যর্থ হয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অ্যাডমিশন কমিটি। সাত সপ্তাহের বৈঠকের পর গত শুক্রবার এ বিষয়ে কমিটি তাদের প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে। মতৈক্য না হওয়ায় কোনো সুপারিশও করেনি কমিটি। এতে ফিলিস্তিনের সদস্যপদ পাওয়ার সম্ভাবনা আরও ক্ষীণ হয়ে গেল বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর রয়টার্স, সিএনএন, গার্ডিয়ান ও বিবিসি অনলাইনের।অ্যাডমিশন কমিটিতে কোনো সুরাহা না হওয়ায় ফিলিস্তিনের আবেদনটি এখন নিরাপত্তা পরিষদে চলে যাবে।


ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকেই এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা নিরাপত্তা পরিষদে তাদের আবেদনের ওপর ভোটাভুটিতে যাবেন, নাকি বিকল্প কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। বিকল্প হিসেবে তারা পর্যবেক্ষক রাষ্ট্রের মর্যাদা লাভের আবেদন করতে পারেন। আবার নতুন বছরে নতুন করে সদস্যপদের জন্য নিরাপত্তা পরিষদে আবেদনও জানাতে পারেন। কমিটির এ ফলাফল দেখে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভোটাভুটি হলে ফিলিস্তিন নিশ্চিতভাবেই পরাজিত হবে। সাত সপ্তাহ ধরে কমিটি এ নিয়ে বৈঠক করেছে। জাতিসংঘের সর্বকনিষ্ঠ পূর্ণ সদস্য দক্ষিণ সুদানের সদস্যপদ পেতে সময় লেগেছিল মাত্র ১০ মিনিট। অ্যাডমিশন কমিটিতে নিরাপত্তা পরিষদের ১৫টি সদস্য রাষ্ট্রেরই অংশগ্রহণ রয়েছে। শুক্রবার কমিটি এ বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরি করে। এতে বলা হয়, নিরাপত্তা পরিষদের কাছে কোনো সুপারিশ করার মতো ঐকমত্যে পেঁৗছতে ব্যর্থ হয়েছে অ্যাডমিশন কমিটি। এ কমিটির অনুমোদন ছাড়া কোনো রাষ্ট্রের সদস্যপদ পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয় মূলত রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার মতো প্রয়োজনীয় টেকনিক্যাল যোগ্যতা ফিলিস্তিনের রয়েছে কি-না তা নিয়ে। বিবেচ্য বিষয় টেকনিক্যাল হলেও অনেক দেশের জন্য তা ছিল রাজনৈতিক। কমিটির বৈঠকের পর নিরাপত্তা পরিষদের নভেম্বর মাসের কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট পর্তুগালের কূটনীতিক হোসে মোরায়েস জানান, প্রতিবেদনটি দেখে নিরাপত্তা পরিষদ ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। নিজেদের আবেদনের পক্ষে রায় পেতে ফিলিস্তিনের প্রয়োজন ৯টি ভোট। তবে যুক্তরাষ্ট্র ভেটো দেওয়ার হুমকি দেওয়ায় এ আবেদনটি ব্যর্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ফিলিস্তিন পূর্ণ সদস্যপদের জন্য আবেদন জানিয়েছিল। এর পর আবেদন জানিয়ে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর পূর্ণ সদস্যপদ লাভ করে ফিলিস্তিন।
সিদ্ধান্ত নেবে ফিলিস্তিন : প্রাথমিক কমিটি মতৈক্যে পেঁৗছতে ব্যর্থ হওয়ার পর এখন ফিলিস্তিনের আবেদনের বিষয়টি পুরো নির্ভর করছে দেশটির ওপরই। তবে কমিটির বৈঠকের পর ফিলিস্তিন তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। আরব নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণের কথা বলেছে দেশটি। জাতিসংঘে নিযুক্ত ফিলিস্তিনি কূটনীতিক রিয়াদ মনসৌর বলেন, আমরা গোটা প্রক্রিয়া ও প্রতিবেদন খতিয়ে দেখব। এরপরই জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায় তা নির্ধারণ করব। আগামী সপ্তাহে আরব লীগের বৈঠকের আগে এ বিষয়ে ফিলিস্তিন তাদের পরবর্তী পদক্ষেপের কথা খোলাসা করবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।