মধ্যরাতের বাজার, দামও কম

রংপুরে মধ্যরাতের বাজারে প্রকারভেদে বিভিন্ন সবজি কেজিপ্রতি গড়ে চার টাকা কম মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিন রাত ১১টা থেকে দুইটা পর্যন্ত রংপুর শহরের প্রাণকেন্দ্র জেলা পরিষদ সুপার মার্কেটের পাশে ট্রাফিক মোড় থেকে কৈলাশরঞ্জন স্কুলের মোড় পর্যন্ত প্রধান সড়কের পাশে এ বাজার বসে।


রংপুর বেতার ও মঞ্চের নাট্যশিল্পী শিলা মনসুর বলেন, আলু, করলাসহ পাঁচ ধরনের সবজি কিনলে ২০ টাকা কম পড়ে। আর সেই টাকা দিয়ে খোলাবাজারে এক কেজি আটা কেনা যায়।
বুধবার রাতে সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিকেজি ২০ টাকার পেঁয়াজ ১৬ টাকা, ২০ টাকার আলু ১৬ টাকা, ২০ টাকার সাজনা ১৫ টাকা, ২০ টাকার বেগুন ১৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এমন করে দ্রব্যসামগ্রী পৌর বাজার থেকে কম দামে বিক্রি হয়।
ব্যবসায়ীরা জানান, মধ্যরাতে বাজার করতে আসা ক্রেতারা সবাই শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার। তাঁরা বিভিন্ন কারণে এই রাতে বাজার করে থাকেন। আবার কেউ কেউ একটু কম দামের আশায় বাড়ি ফেরার পথে বাজার করে যান। এসব ক্রেতা বেশ সচেতন।
পীরগাছা উপজেলা কল্যাণী ইউনিয়নের নবদিগঞ্জ গ্রামের আতিয়ার রহমান তিন বছর থেকে মধ্যরাতের বাজারে সবজি বিক্রি করে আসছেন। তিনি বলেন, ‘দিনোত অন্য কাম করি। আর রাইতোত এই রাস্তার পাশোত আসিয়া সবজি বিক্রি করছি।’
সদর উপজেলার পরশুরাম ইউনিয়নের আবু জাফর সাড়ে তিন বছর ধরে মধ্যরাতের এই বাজারে সবজি বিক্রি করছেন। তিনি বলেন, ‘বাজার থেকে কম দাম পায় বলেই ক্রেতারা বেশ খুশি। আর তাই দিন দিন ক্রেতার ভিড় বাড়তোছে।’
হারাগাছের সারাই গ্রামের নান্টু মিয়া বলেন, ‘পৌর বাজারোত ব্যবসা করার মতো হামার পুঁজি নাই বাহে। আর তাই এটে বসা। এটে বসি ব্যবসা করতে কোনো টোলও দেওয়া লাগে না, যা মাল আনি তা দুই-তিন ঘণ্টার মধ্যেই বিক্রি হয়ে যায়।’
শহরের হনুমানতলার জাহাঙ্গীর আলম ও সোহাগ মিয়া দুজনেই নবাবগঞ্জ বাজারে ব্যবসা করেন। সময়ের অভাবে তাঁদের সকালের দিকে বাজার করা হয় না। তাই বাড়ি ফেরার সময় রাতে তাঁরা বাজার করেন। জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মধ্যরাতের এই বাজারে কোনো ঠকবাজি হয় না। দামও কম। রিকশাচালক আউয়াল মিয়া বলেন, ‘বাজার থাকিয়া অনেক কম দামে পাই বলিয়া এটে থাকি কিনি থাকি। রাইতোত বাড়ি ফেরার সময় এই বাজার অনেক উপকারোত আসছে।’