Thursday, January 26, 2012
কৈশোর প্রজননস্বাস্থ্য: অভিভাবকদের করণীয়
কৈশোর প্রজননস্বাস্থ্য: অভিভাবকদের করণীয়
১৬ জানুয়ারি প্ল্যান বাংলাদেশের সহযোগিতায় ও প্রথম আলোর আয়োজনে ‘কৈশোর প্রজননস্বাস্থ্য: অভিভাবকদের করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা আলোচনায় অংশ নেন। তাঁদের বক্তব্য এখানে সংক্ষিপ্ত আকারে ছাপা হলো।
যাঁরা অংশ নিলেন
এম এম নিয়াজ উদ্দিন
মহাপরিচালক, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।
ডা. মোহাম্মদ শরীফ
ডিরেক্টর, এমসিএইচ সার্ভিস ও লাইন ডিরেক্টর (এমসিআরএইচ), পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর।
ডা. জহির উদ্দিন আহমেদ
সাবেক মহাপরিচালক, বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতি।
প্রফেসর এ কে এম নূর-উন-নবী
প্রকল্প পরিচালক, পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
ড. মেহতাব খানম
অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
ডা. ইশরাত জাহান
কর্মসূচি ব্যবস্থাপক (এআরএইচ), পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর।
ডা. সেলিনা আমিন
কান্ট্রি প্রজেক্টস ম্যানেজার, প্ল্যান বাংলাদেশ।
অ্যাডভোকেট সালমা আলী
নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি।
ডা. কামরুন নাহার
সহযোগী বিজ্ঞানী, আইসিডিডিআর’বি।
সৈয়দা সেলিনা পারভীন
দলনেতা, প্রিসেট প্রজেক্ট, হাসাব
ডা. রাবেয়া খাতুন
ন্যাশনাল প্রোগ্রাম অফিসার, কৈশোর স্বাস্থ্য, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
ডা. তাহমিনা মির্জা
প্রকল্প ব্যবস্থাপক, কৈশোর প্রজননস্বাস্থ্য, প্ল্যান বাংলাদেশ।
লায়লা রহমান
জ্যেষ্ঠ কর্মসূচি কর্মকর্তা, পপুলেশন কাউন্সিল।
ডা. ইফতেখার হাসান খান
স্বাস্থ্য উপদেষ্টা, প্ল্যান বাংলাদেশ।
সঞ্চালক
আব্দুল কাইয়ুম: যুগ্ম সম্পাদক, প্রথম আলো
আলোচনা
আব্দুল কাইয়ুম
কৈশোর প্রজননস্বাস্থ্য বিষয়টি সাধারণত আলোচনায় আসে না। একজন শিশু যখন বড় হয়, তখন তার শরীর ও মনে কিছু পরিবর্তন আসে। এ পরিবর্তনটা তার কাছে নতুন মনে হয়। এ সময় সে কিছু প্রশ্নের উত্তর জানতে চায়। তাকে কোনো বিশ্বাসযোগ্য উৎস থেকে জানতে হবে যে তার সমস্যাটা কী, করণীয় কী এবং সমাধানটা কী। এ জায়গাটায় একটা বিরাট শূন্যতা আছে। অভিভাবকেরা মনে করেন, এটাতে বলার কী আছে, আবার বলতে গেলে হিতে বিপরীতও হতে পারে। এসব বিষয়ে আলোচনা করছেন প্রধান অতিথি, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এম এম নিয়াজউদ্দিন।
এম এম নিয়াজউদ্দিন
কৈশোর প্রজননস্বাস্থ্য একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সিটি করপোরেশনের বস্তি এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক কিশোর-কিশোরী সাধারণ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। তাদের মধ্যে এ প্রচার আরও বেশি করা দরকার। বাংলাদেশ সরকারের পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে কৈশোর প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে প্রকল্প রয়েছে। আমাদের কর্মীরা মাঠপর্যায়ে কাজ করেন। কিন্তু আমি মনে করি, এটা যথেষ্ট নয়। কারণ তাঁরা সব কিশোর-কিশোরীর কাছে যেতে পারছেন না। শিশুরা যখন কৈশোরে পদার্পণ করে, তখন তাদের শারীরিক পরিবর্তন হয়। এ পরিবর্তনটা মোকাবিলা করার যথেষ্ট জ্ঞান যদি না থাকে, তাহলে অনেক সময় তারা বিপথগামী হবে। একসময় এটা জীবনের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করবে।
এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। কিন্তু অভিভাবকেরা ছেলেমেয়ের সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করতে ইতস্তত বোধ করেন। তার থেকে বড় কথা হলো, অনেক অভিভাবক জানেন না বিষয়টি কী এবং কীভাবে আলোচনা করতে হবে। এমনকি যাঁরা শিক্ষিত, তাঁরাও প্রজননস্বাস্থ্য সম্পর্কে ছেলেমেয়ের সঙ্গে আলোচনা করেন না। আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে প্রজননস্বাস্থ্যের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে একটি ছোট বই প্রকাশ করার ব্যবস্থা হয়েছে।
আমাদেরই অফিসের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বললেন যে তিনি একটা বই গোপনে তাঁর সন্তানের টেবিলে রেখে আসবেন। একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা তাঁর সন্তানের সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করতে পারছেন না। শুধু উনি কেন, আমরা অনেকেই পারছি না। এ থেকে সাধারণ মানুষের অবস্থা খুব সহজেই বোঝা যায়।
এদিক থেকে আমাদের মায়েরা কিছুটা এগিয়ে আছেন। তাঁরা প্রজননস্বাস্থ্য বিষয়ে মেয়েদের সহযোগিতা করেন। আমি তাঁদের প্রশংসা করি। কিন্তু ব্যাপক প্রচার ছাড়া এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। আমরা আপনাদের পরামর্শ এবং সহযোগিতা চাই। আপনাদের পরামর্শ সরকারকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমগুলো অবশ্যই একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। ‘দুটি সন্তানের বেশি নয়, একটি হলে ভালো হয়’, ‘মা ও শিশুর যত্ন নিন’, ‘কিশোর-কিশোরীদের সহযোগিতা করুন’—এ স্লোগানগুলো খুব ছোট করে গণমাধ্যমগুলো যদি তাদের প্রচারমাধ্যমে প্রকাশ করে, তাহলে তাদের কোনো ক্ষতি হবে না। কিন্তু জাতির অনেক উপকার হবে।
সেলিনা আমিন
কৈশোর প্রজননস্বাস্থ্য ও অভিভাবকদের করণীয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিশোর-কিশোরীদের সঠিক তথ্য জানার জন্য এখন কিছু প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। এ ব্যাপারে সরকারও একটি ভালো উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে একটি কর্মকৌশলপত্র বের করা হয়। কৈশোর প্রজননস্বাস্থ্য-সম্পর্কিত অনেক বিষয় এখানে খুব ভালোভাবে উল্লেখ থাকে। যেমন, কী করতে হবে, কখন করতে হবে, কীভাবে করতে হবে। কিশোর-কিশোরীদের সঠিক তথ্য পাওয়ার জন্য এটি খুব সহযোগিতা করে। অতএব, এটিকে আমরা সামনে নিয়ে আসতে পারি। ২০০৬ সালে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর থেকে একটি গবেষণাপত্র বের করা হয়েছিল। সেখানে কিশোরদের সঙ্গে বাবা-মায়ের আচরণের ধরন (গুড প্যারেন্টিং) উল্লেখ আছে। যেমন, একেক বয়সে সন্তানদের সঙ্গে একেক রকম আচরণ করতে হবে। সন্তানদের মানসিক অবস্থা বোঝার চেষ্টা করতে হবে। তাদের ভালো পরিবেশ দিতে হবে। তারা যেন ভাবতে পারে বাবা-মা তাদের বন্ধু। তাদের প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। বাবা-মায়ের মধ্যে সব সময় হাসিখুশি সম্পর্ক থাকবে। আরও নানা দিক এখানে উল্লেখ আছে। আমরা প্ল্যান বাংলাদেশ থেকে কিশোর-কিশোরীদের জন্য প্রজননস্বাস্থ্য পরামর্শসহ কিছু সেবাদানের ব্যবস্থা করছি।
আব্দুল কাইয়ুম
আলোচনা থেকে একটি বিষয় বেরিয়ে আসছে, তা হলো, ছেলেমেয়েদের সঙ্গে মা-বাবার খুব যত্ন নিয়ে কথা বলতে হবে। শিক্ষা অধিদপ্তরের পাঠ্যপুুস্তকেও এ বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এবার বলবেন ডা. তাহমিনা মির্জা।
তাহমিনা মির্জা
বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের এক-পঞ্চমাংশ কিশোর-কিশোরী। এদের বয়স ১০ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে। এদের মধ্যে ৪৭ শতাংশ বিবাহিত। এরা প্রজনন-প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট। কিন্তু প্রজননস্বাস্থ্য সম্পর্কে তাদের অনেকের সঠিক ধারণা নেই। এ জন্য তারা গ্রাম্য চিকিৎসক, হকার-কবিরাজ ও বন্ধুদের কাছে যায়। সেখানে তারা প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাবে বিপদে পড়ে। এ বিষয়ে মা-বাবাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। তাঁরা যদি না জানেন, তাঁদের নিয়ে কর্মশালার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রজননস্বাস্থ্য বিষয়ে আমাদের কর্মশালা হয়। একজন মা কর্মশালা করার পর তাঁর মেয়েকে পাঠান। কারণ তিনি বুঝতে পারেন, তাঁর মেয়ের জন্য এটি কত জরুরি। গবেষণায় দেখা যায়, যেসব কিশোর-কিশোরী বাবা-মায়ের আদর-যত্ন কম পায়, তারা মাদকাসক্ত হওয়াসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে লিপ্ত হয়। যারা বেশি পারিবারিক সহায়তা পায়, তাদের মধ্যে এ প্রবণতা কম। যেসব মা-বাবা প্রজননস্বাস্থ্য সম্পর্কে বাসায় বা বাড়িতে কথা বলেন, তাঁদের সন্তানেরা অনেক পরিচ্ছন্ন জীবন যাপন করে।
জহির উদ্দিন আহমেদ
ছেলেমেয়ে এবং অভিভাবক সবার জন্য অবাধ তথ্যের ব্যবস্থা করতে হবে। কিশোর-কিশোরীদের যত বেশি তথ্য দেওয়া যাবে, তারা তত বেশি উপকৃত হবে। তথ্যের অভাব থাকলে নানাবিধ কুসংস্কার তাদের ঘিরে ধরবে। কিশোর-কিশোরীদের প্রজননতন্ত্র আলাদা এবং এর কার্যাবলিও ভিন্ন। ফলে এর গঠন ও কার্যাবলি সম্পর্কে তাদের জানতে হবে। অবাধ মিলনের ফলে নানা রোগের সংক্রমণ ঘটে। এখনো বাংলাদেশের মেয়েরা স্বাস্থ্যসম্মত শোষক-পেটি (স্যানিটারি ন্যাপকিন) লুকিয়ে রাখে অন্ধকারে, স্যাঁতসেঁতে জায়গায়, বালিশের নিচে, এ ব্যাপারে সতর্ক না হলে এ থেকেও মারাত্মক রোগ সংক্রমিত হতে পারে। এ বিষয়ে জ্ঞান না থাকলে তারা ক্ষতির সম্মুখীন হবে। অল্প বয়সে বিবাহের কারণে কিশোর-কিশোরীরা নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত হয়। ছেলেরা মাদকাসক্ত হওয়াসহ বিভিন্ন অসামাজিক কাজে জড়িত হয়। বিভিন্ন কারণে মেয়েদের শরীরে পুষ্টির অভাব থাকে, শরীর দুর্বল থাকে। এ অবস্থায় গর্ভধারণের মতো ঝুঁকি নিতে গিয়ে মৃত্যুর মুখে পতিত হয়। হস্তমৈথুন, স্বপ্নদোষ শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়, কৈশোরের স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া। যদি মনে করা হয়, এর কারণে আমি শেষ হয়ে যাচ্ছি, তাহলে ক্ষতি হতে পরে। এখানে তথ্যের অভাব রয়েছে। কিশোর-কিশোরীদের বিভিন্ন তথ্য সামগ্রিকভাবে উপস্থাপন করা দরকার। তাহলে তাদের মধ্যে একটা ভালো ধারণা গড়ে উঠবে। দেশের সব অভিভাবককে, কিশোর-কিশোরীকে প্রশিক্ষণ দিতে পারলে, আমরা একটি ভালো জাতি হিসেবে গড়ে উঠতে পারব।
সালমা আলী
প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে যতটা আলোচনা হওয়া দরকার সেটি যেমন হয় না, তেমনি এ বিষয়টিও আমাদের সবার কাছে পরিষ্কার নয়। আমরা অভিভাবকদের করণীয় নিয়ে কথা বলছি। কিন্তু কত শতাংশ অভিভাবক এ বিষয়টি জানেন তা নিয়ে রয়েছে বড় প্রশ্ন। বাংলাদেশ সংবিধান এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারে কিছু অধিকার আছে, যেগুলো বাস্তবায়নের জন্য আমাদের কিছু কর্মপরিকল্পনা নিতে হবে। ক্লিনিকগুলো সহিংসতার বিষয় নিয়ে আমাদের সঙ্গে চুক্তি করেছিল, কিন্তু কোনো দিন তারা একটি ঘটনা নিয়েও আসেনি। আমাদের দেশের সামাজিক অবস্থা এখনো ওই পর্যায়ে যায়নি যে বাবা-মায়েরা তাঁদের সন্তানদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করবেন। আমি মনে করি, এ বিষয়ে কাজ যতটুকু হচ্ছে, তা দিয়ে পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে দরকার ব্যাপক শিক্ষার উন্নতি, স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত প্রজননস্বাস্থ্য বিষয়ে একটি বিস্তৃত পাঠক্রম। কিন্তু এখন যা আছে, সেটিও পড়ানো হয় না। শিক্ষকেরা বলেন, বাসায় পড়ে নিয়ো। নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক সনদে সুপারিশের কারণে নারীবান্ধব হাসপাতাল, শিশুবান্ধব হাসপাতাল করা হয়েছে, কিন্তু সেটা কী অবস্থায় চলছে, তার কোনো খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে না। সমতাভিত্তিক স্বাস্থ্য-পুষ্টির বিষয়টি এখনো সেভাবে নিশ্চিত হয়নি।
পারিবারিক সুরক্ষা ও প্রতিরোধ আইনে বৈবাহিক ও দৈহিক মিলনের বিষয়টি খুব ভালোভাবে এসেছে, যৌন হয়রানির কথা এসেছে—যেমন, স্বামী যদি যৌন নির্যাতন (অ্যাবিউজ) করে সেটা কিন্তু অ্যাবিউজ নয়, কিন্তু সে বিষয়টিও এখানে এসেছে।
যৌন নির্যাতনের মধ্যে জোর করে এবং অল্প বয়সে বিয়ের বিষয়টি আছে। শুধু এটি নয়, মানসিক নির্যাতনের বিষয়টিও এখানে এসেছে।
যৌন হয়রানি নিয়ে একটি যুগান্তকারী দিকনির্দেশনা (গাইড) আসছে, যেটি কিশোরীদের অনেক অধিকার নিশ্চিত করবে। এখানে বাড়ি, কর্মক্ষেত্র, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় সব জায়গায় নারীদের অধিকার যেন নিশ্চিত হয়, সে ব্যবস্থা আছে। এখন সময় এসেছে প্রজননস্বাস্থ্য বিষয়টি নিয়ে ব্যাপকভাবে ভাবার। প্রজননস্বাস্থ্য বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা করতে হবে। সেটি বাড়িতে ও স্কুলে উভয় জায়গাতেই হওয়া উচিত। যৌন হয়রানি নিরসনে ভুক্তভোগীকে সহায়তা দিতে হবে। যখন একজন ভুক্তভোগী আসবে তাকে আদালত, পুলিশ স্টেশন থেকে শুরু করে সব জায়গায় তার প্রাপ্য অধিকারটুকু দিতে হবে।
মোহাম্মদ শরীফ
কৈশোরস্বাস্থ্য নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে আলোচনা হচ্ছে। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিবছর বিভাগীয় শহরগুলোতে একবার কর্মশালার আয়োজন করা ছাড়া খুব একটা কাজ হয় না। এ বার্তা নিয়ে কীভাবে প্রান্তিক পর্যায়ে যাওয়া যায়, তা নিয়ে আমরা কাজ করছি।
এটি বাস্তবায়ন করতে আমাদের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে যেতে হবে। অভিভাবকদের পাশাপাশি বড় ভূমিকা স্কুলশিক্ষকদের, তাঁদের প্রশিক্ষিত করতে হবে। এর জন্য আমরা কিছু বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নিয়েছি। মাতৃমৃত্যুর একটি বড় কারণ হলো, কৈশোরে গর্ভধারণের মতো ঘটনা। এ জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাভাবিক সন্তান প্রসব নিয়ে অধিদপ্তর থেকে আমরা কাজ করছি। এতে স্বাভাবিকভাবে সন্তান প্রসব করার হার বেড়েছে।
সারা দেশে স্কুল ও মাদ্রাসার প্রধানদের নিয়ে কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে কৈশোরস্বাস্থ্য ও যৌনতা নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা হয়। তাদের আগ্রহে বিষয়গুলো এখন পুস্তক আকারে প্রকাশের কাজ চলছে।
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ব্যাপক প্রচার দরকার। এখনো অনেক বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটছে। অনেক বাবা নিরাপত্তা ও সুপাত্রের জন্য মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছেন। এ জন্য সামাজিক আন্দোলন জোরদার করতে হবে।
নূর-উন-নবী
আমাদের জনসংখ্যা বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রছাত্রীদের পড়ার একটা অংশ আছে ‘দেখে শেখা’। মাস খানেক আগে আমরা উত্তরবঙ্গে গিয়েছিলাম। সেখানে কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র, উপজেলা সহায়তাকেন্দ্রসহ কমিউনিটি হাসপাতালে আমরা গিয়েছি।
কমিউনিটি ক্লিনিক যখন যাত্রা শুরু করে, এর অবস্থা তখন ভালো ছিল না। মানুষের ধারণা জন্মেছিল, এটি একটি ছোট হাসপাতাল। যেহেতু উপজেলা ও ইউনিয়নে একটি করে হাসপাতাল আছে। এ বিষয়ে তাদের ধারণার অভাব ছিল, কমতি ছিল সচেতনতারও। অনেকে ভাবতেন এটি যেহেতু ছোট হাসপাতাল, তাহলে ছোট রোগের ওষুধ পাওয়া যাবে।
কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো সচল রাখতে হলে সমাজের মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে। আর এ সম্পৃক্ততা গড়তে একটি সমর্থক দল (সাপোর্ট গ্রুপ) থাকতে হবে। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর অবস্থান কোথায় হবে, এটি একটি বড় বিবেচ্য বিষয়। যেমন একটি বিদ্যালয়ের পাশে এ রকম ক্লিনিক থাকলে কিশোর-কিশোরীরা সহজে বিভিন্ন উপদেশ-সেবা পেতে পারে।
আমরা যে আলোচনাগুলো করি, তা সাধারণত বিমূর্ত পর্যায়ে, তার কার্যকর প্রতিফলন কী হবে, তা অনেক সময় বুঝতে পারি না, দেখতেও পারি না। আমরা যাদের জন্য পরামর্শ, সিদ্ধান্ত দিচ্ছি; তাদের এসব বিষয়ে অংশগ্রহণ করাতে হবে। কারণ, যে পরামর্শ তাদের জন্য দেব, সেটি যেন নির্দেশমূলক না হয়, তা যেন অংশগ্রহণমূলক হয়।
সামাজিক উন্নয়নে আমরা অন্যান্য দেশের তুলনায় অগ্রগতি অর্জন করলেও এ বিষয়ে আমরা খুব অগ্রগতি অর্জন করতে পারিনি। আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, আজ থেকে ৪০-৫০ বছর আগেও যেমন এ বিষয়গুলো এড়িয়ে চলা হতো, বর্তমান সময়েও তা-ই হচ্ছে।
সন্তানদের সঙ্গে অভিভাবকদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকতে হবে। প্রত্যেক অভিভাবকের দায়িত্ব হবে কোনোভাবেই যেন কোনো সিদ্ধান্ত সন্তানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া না হয়। ছোটবেলা থেকে স্বাধীনচেতা করে গড়ে তুলতে হবে।
বিয়ের বয়স নিয়ে যে আইন আছে, তাতে একটি মৌলিক ত্রুটি রয়েছে। আইনে নারীর ক্ষেত্রে ১৮ বছরে বিয়ে দিতে বলা হয়েছে। যদি কেউ এর ব্যত্যয় ঘটায় তাহলে মা-বাবার শাস্তি হচ্ছে, কিন্তু বিয়ে সম্পন্ন হয়ে যাচ্ছে। আরও দেখা যায়, কাবিননামায় লেখা হচ্ছে ১৮ বছর কিন্তু সত্যিকারের বয়স হচ্ছে ১৩ বা ১৪। এ জন্য জন্মনিবন্ধন বাধ্যতামূলক অনুশীলন করতে হবে।
লায়লা রহমান
আইনগতভাবে মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ বছর। আবার সরকার ঘোষণা করেছে, ১৮ বছর পর্যন্ত ছেলেমেয়েকে শিশু বলা হবে। তাহলে আমরা প্রাতিষ্ঠানিকভাবেই শিশুর বিয়েকে সমর্থন করছি। আইন আসলে একটি দিকনির্দেশনা দেয়; আইন যে পুরোপুরি অনুশীলন করা হয়, এমনটি নয়। আমরা সবাই এটি মেনে চলছি, তাই কেউ এর দায় এড়াতে পারি না।
১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ আইসিপিডি কর্মসূচিতে স্বাক্ষর করে। তখন থেকে কৈশোর প্রজননস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। এর জন্য কৃতিত্ব আছে সরকার, সাহায্যকারী সংস্থা ও এনজিওগুলোর। সেই ধারাবাহিকতায় ২০০০ সালে পপুলেশন কাউন্সিল অন্যান্য অংশীদারের সঙ্গে একটা গবেষণা করেছিল। এতে দেখা গেছে, শুরুতে অভিভাবকেরা প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে সন্তানদের সঙ্গে কথা বলতে চান না; তাঁরা এটা শিক্ষকদের দায়িত্ব বলে এড়িয়ে যান। কিন্তু কিছুদিন পর তাঁরা এ বিষয়ে জানতে ও জানাতে আগ্রহী হন। এখানে আমরা যাঁরা কথা বলছি, আমাদের কিন্তু দীর্ঘ প্রশিক্ষণ ও প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ পরিবর্তন এসেছে। অতএব, অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে অনুকূল পরিবেশ তৈরির জন্য মিডিয়া ও শিক্ষকেরাও বড় ভূমিকা রাখতে পারেন। সে জন্য সংবেদনশীল ও উপস্থাপনের দক্ষতা আছে—এমন শিক্ষক নির্বাচন করে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
প্রজননস্বাস্থ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যৌনস্বাস্থ্য। কিন্তু এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য দিতে আমরা সংকোচ বোধ করি। বয়ঃসন্ধিকালে শরীরে বিভিন্ন পরিবর্তন ও যৌন অনুভূতি হয়—এটি প্রাকৃতিক নিয়ম। এর জন্য এ বিষয়ে সুস্পষ্ট তথ্য জানতে ও জানাতে হবে। পপুলেশন কাউন্সিলের ওয়ান কারিকুলাম বইটি প্রজনন ও যৌনস্বাস্থ্য এবং অধিকার বিষয়ে সম্যক ও সমৃদ্ধ দিকনির্দেশনা দেয়, যাতে ঝুঁকি এড়িয়ে সুস্থ ও আনন্দময় জীবন যাপন করা যায়। বইটি যে কেউ কাজে লাগাতে পারে।
রাবেয়া খাতুন
আমাদের প্রথম যেটি সক্রিয় হস্তক্ষেপের কেন্দ্র হওয়া উচিত, সেটি হচ্ছে নিজ ঘর। আসলে ঘর থেকেই সক্রিয় হতে হবে, যেখানে মা-বাবা প্রধান ভূমিকা পালন করেন। কৈশোরস্বাস্থ্যে কিছু সুস্পষ্ট প্রভাব অভিভাবকদের কাছ থেকে আসে। এর জন্য নিয়ন্ত্রিত আচরণ, পারিবারিক শ্রদ্ধা ও যথোপযুক্ত ব্যবহার অভিভাবকদের করা উচিত। অভিভাবকদের যা করণীয় তা যথাযথভাবে পালন করলে কিশোর-কিশোরীরা সঠিকভাবে বেড়ে উঠতে পারবে এবং এর মাধ্যমে একটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে তাদের জীবনের জন্য।
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা সব সময় সরকারকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে থাকে। এখন বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে আমরা কৈশোরস্বাস্থ্যকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিতে চাচ্ছি। বাংলাদেশে এইচপিএনএসডিপিতে এ বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গত সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) সম্মেলনে আমরা কিছু অঙ্গীকার করেছি, ২০১৫ সালের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে। এর মধ্যে কৈশোরস্বাস্থ্য নিয়ে আমরা অঙ্গীকার করেছি সেবা দেওয়ার জন্য। এ ছাড়া বাল্যবিবাহ, অকাল গর্ভধারণ বন্ধে আমাদের কিছু অঙ্গীকার আছে। এর জন্য আমরা প্রশিক্ষণ কাঠামো তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছি। সরকারকে এ বিষয়ে আমরা সহায়তা করেছি। তারাও এগিয়ে এসেছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত দুটি অধিদপ্তর যদি একসঙ্গে এগিয়ে আসে, তাহলে আমরা কৈশোরস্বাস্থ্য নিয়ে যে অঙ্গীকার করেছি, তা বাস্তবায়নে সুবিধা হবে।
সন্তান লালনপালনে অভিভাবকদের ভূমিকা কী হবে, তার দিকনির্দেশনা দরকার। এ ব্যাপারে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা যে কাজ করবে, তা নিয়ে আমাদের কিছু দিকনির্দেশনা আছে। বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে এখন তা করতে চেষ্টা করব।
ইশরাত জাহান
আমাদের প্রজননস্বাস্থ্য-সম্পর্কিত বিষয়ের গভীরে ঢুকতে হবে। তা ছাড়া এর পরিবর্তন সম্ভব হবে না। এ জন্য সঠিক তথ্য জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। অভিভাবক ও শিক্ষকদের এর মধ্যে অবশ্যই সম্পৃক্ত করতে হবে। তা ছাড়া সম্প্রদায়ের ভূমিকা তো থাকতেই হবে।
আমাদের অধিকাংশ অভিভাবকই চিকিৎসার বিষয়ে খুব বেশি শিক্ষিত নন। অতএব কোন তথ্য দেব, কখন দেব, তা নিয়ে ভাবতে হবে। তাঁদের তথ্য সরবরাহ করার মাধ্যমে শিক্ষিত করে তুলতে হবে। আর বিদ্যালয়ের শিক্ষক শুধু শিক্ষকই নন, তিনি একজন অভিভাবকও বটে। সে জন্য অভিভাবক ও শিক্ষক দুই পক্ষকেই কাজে লাগাতে হবে।
আমরা যখন সচেতনতা বৃদ্ধি করতে প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রচারণা চালিয়েছি, কৈশোরস্বাস্থ্যের যে পরিবর্তন তা নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেছি। এতে দেখা গেছে, মসজিদের ইমামসহ সবাই এ বিষয়ে খোলামেলা জানতে চেয়েছেন। সুতরাং নীতিনির্ধারকদের কিন্তু আরও এগোতে হবে।
কামরুন নাহার
আমি অভিভাবকদের করণীয় বিষয়গুলো দুই ভাগে ভাগ করি। প্রথমত, অভিভাবকেরা নিজেরাই জানেন না, তাঁদের জানা দরকার। দ্বিতীয়ত, তাঁরা আসলে কিশোর-কিশোরীদের কী তথ্য জানাবেন?
বয়ঃসন্ধিকালে কিশোর-কিশোরীর শারীরিক ও মানসিক নানা পরিবর্তন আসে। এ সময় তাদের এ পরিবর্তন নিয়ে জানার আগ্রহ তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ ঠিক রেখে তাদের এ তথ্যগুলো দিতে হবে। আজ বিশ্বায়নের যুগে তারা নানাভাবে তথ্য পাচ্ছে, কিন্তু কোন তথ্য আমাদের সংস্কৃতির জন্য উপযুক্ত, সে জিনিসটি মাথায় রাখতে হবে।
কোন বয়সে কোন তথ্য দরকার, এটি নির্দিষ্ট করে তথ্য প্রদান যদিও কষ্টসাধ্য; তবু এ কাজটি করতে হবে। আমাদের গবেষণায় দেখা গেছে, একজন বয়ঃসন্ধিকালীন কিশোর বা কিশোরী তাদের অভিভাবক অথবা শিক্ষকদের কাছ থেকে স্বাস্থ্যগত তথ্য পাওয়ার চেয়ে তারা নিজেদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়াকে উপযুক্ত ভেবেছে। যেমন—এ বিষয়ে তারা যদি একটি বই পড়ে তাহলে কিন্তু আর অভিভাবক বা শিক্ষকের কাছে যেতে হচ্ছে না।
এ মুহূর্তে আইসিডিডিআর,বি বয়ঃসন্ধিকালীন কিশোর-কিশোরীদের নিয়ে গবেষণা করছে। একজন কিশোর বা কিশোরী প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে কোনো তথ্য দিতে গেলে কী কী বিষয়ে, কীভাবে দিলে তাদের জন্য ব্যবহারযোগ্য হয় এবং তা বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে কতটা উপযোগী, এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যদি প্রত্যেকে নিজেদের ভূমিকা সঠিকভাবে পালন করি, তাহলেই এ বিষয়গুলো সহজ হয়ে আসবে।
ইফতেখার হাসান খান
আমরা মূলত ঐতিহ্যগতভাবেই প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করি। দেশের জনসংখ্যার ২৩ শতাংশই কিশোর-কিশোরী আর প্রতি এক হাজার জন গর্ভবতী মহিলার মধ্যে দেখা যাচ্ছে ছয়জন কিশোরী গর্ভবতী, যার সঙ্গে আবার বাল্যবিবাহ জড়িত। বাংলাদেশে চার কোটি কিশোর-কিশোরী আছে। বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে আর্থসামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কারণগুলো অন্যতম। এ ছাড়া অনেকে বাল্যবিবাহের কুফল এবং আইনগত বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে জানে না।
বাল্যবিবাহ বন্ধে জন্মনিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা, বিয়ে নিবন্ধন করা দরকার। এ ছাড়া সরকারি ও বেসরকারিভাবে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করতে হবে এবং প্রচলিত আইনের সঠিক প্রয়োগ জরুরি।
কৈশোর প্রজননস্বাস্থ্য-সম্পর্কিত তথ্য সর্বজনীন করতে মুঠোফোন সেবাদাতা কোম্পানিগুলো এগিয়ে আসতে পারে। তারা হটলাইনের মাধ্যমে বিনা মূল্যে এ সেবা দিতে পারে। এর বাইরে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত পাঠ্যবইয়ের পড়া বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে। সেই সঙ্গে পাঠ্যপুস্তকে ‘প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে অধ্যায়’ দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত পড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
সৈয়দা সেলিনা পারভীন
বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে কৈশোর প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে অন্তত ১০ বছর ধরে কাজ হচ্ছে। এতে যে সমস্যাগুলো দেখা গেছে তার প্রধান হলো, কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা, ধরে রাখা। যেহেতু এটি প্রকল্পভিত্তিক হয়ে থাকে, তার মেয়াদ শেষ হলেই কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
এ ক্ষেত্রে কেবল সরকারই পারে প্রকল্পগুলোর দীর্ঘমেয়াদি রূপ দিতে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত যে অধিদপ্তর দুটি আছে, তাদের যে মাঠকর্মী এবং অবকাঠামো আছে, তা একটি বিরাট সুযোগ। মাঠকর্মীদের কাজের মধ্যে এ বিষয়টি সংযোজন করা যেতে পারে।
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে আমাদের পৌঁছাতে হবে। এ জন্য কর্মশালা, আলোচনা ইত্যাদি চালিয়ে যাওয়া। তার সঙ্গে দুটি বিষয় যোগ করতে হবে। প্রথমত, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাঠকর্মীদের। দ্বিতীয়ত, গণমাধ্যম, বিশেষ করে ইলেকট্রনিক মিডিয়া। কারণ, সংবাদপত্র পড়তে হলে পাঠককে শিক্ষিত হতে হবে, কিন্তু টিভিতে প্রচারিত তথ্য সবার জন্যই বোধগম্য।
মেহতাব খানম
আমরা সবাই গণমাধ্যমের কথা বলছি। আমরা জানি, অধিকাংশ গণমাধ্যম কীভাবে চলছে, তাদের মান কেমন। আর সেখানে যাঁরা কাজ করছেন, সেসব গণমাধ্যমকর্মী এ বিষয়ে শিক্ষিত কি না, তা আগে দেখতে হবে।
প্রথমত, তাঁদের মনের উন্নতি ঘটাতে হবে। আরেকটি বিষয় হলো, গণমাধ্যমগুলোতে নেতিবাচক খবর বেশি প্রচার হয়। আমরা কেন ইতিবাচক খবর পরিবেশন করব না। শুধু বাল্যবিবাহ হলেই খবর প্রচারিত হবে, যেসব অভিভাবক বাল্যবিবাহ দিচ্ছেন না, তাঁদের নিয়ে কেন খবর হবে না। এ দেশে এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সঠিকভাবে সন্তান লালনপালন পদ্ধতি (প্যারেন্টিং)। এটি নিয়ে কাজ করতে হবে। কারণ, আমরা ভুলভাবে বাচ্চাদের বড় করছি। আজকাল ছাত্রছাত্রীদের শাস্তি নিয়ে কথা হচ্ছে। কিন্তু সন্তানের ওপর মা-বাবার শাস্তি কে বন্ধ করবে। এ জন্য বাড়িটাকে স্বাস্থ্যকর করতে হবে। কারণ, একজন শিক্ষক, একজন অভিভাবকও বটে। আমাদের স্কুলগুলোতে দুটি বিষয় ঐচ্ছিক আছে। একটি কৃষি এবং অন্যটি গার্হস্থ্য শিক্ষা। এর মধ্যে গার্হস্থ্য শিক্ষা শুধু মেয়েদের পড়ানো হয়। আমি মনে করি, গার্হস্থ্য শিক্ষাকে আবশ্যিক করা উচিত। আর এ স্পর্শকাতর বিষয় পড়ানোর জন্য শিক্ষকদের প্রশিক্ষিত করতে হবে।
আব্দুল কাইয়ুম
আমরা সবার আলোচনা শুনলাম। সবকিছু মিলিয়ে সমাপনী আলোচনা করছেন এম এম নিয়াজ উদ্দিন।
এম এম নিয়াজ উদ্দিন
আজ আলোচনার যে বিষয়গুলো এসেছে, তা যেন আমরা সবাই চর্চা করি, বিশেষ করে, গণমাধ্যমগুলো যেন এ বিষয়ে এগিয়ে আসে। বাংলাদেশ স্বাস্থ্যক্ষেত্রে অনেক অগ্রগতি লাভ করেছে। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর থেকে বিভাগীয় শহরগুলোতে কৈশোর প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে কর্মশালার আয়োজন করা হয়। যেখানে স্কুল, কলেজের শিক্ষক, সরকারি চাকরিজীবী, জনপ্রশাসনের লোক, অভিভাবক এবং কিশোর-কিশোরীদের উপস্থিত রাখা হয়। এ কার্যক্রম ইউনিয়ন পর্যায়ে নেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে।
পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে যতটা কাজ হওয়া দরকার, হয়তো ততটা হচ্ছে না। ব্যাপক কাজ কিন্তু হচ্ছে। এ অধিদপ্তরের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এখানে দীর্ঘ ১৪ বছরে কোনো নিয়োগ ছিল না। প্রায় ১৫-২০ হাজার শূন্যপদ ছিল, যার মধ্যে সাত হাজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শূন্যপদগুলো পূরণ হলে আমরা আরও ব্যাপকভাবে কাজ করতে পারব।
আব্দুল কাইয়ুম
আপনাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। ধন্যবাদ সবাইকে।
এম এম নিয়াজ উদ্দিন
মহাপরিচালক, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।
ডা. মোহাম্মদ শরীফ
ডিরেক্টর, এমসিএইচ সার্ভিস ও লাইন ডিরেক্টর (এমসিআরএইচ), পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর।
ডা. জহির উদ্দিন আহমেদ
সাবেক মহাপরিচালক, বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতি।
প্রফেসর এ কে এম নূর-উন-নবী
প্রকল্প পরিচালক, পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
ড. মেহতাব খানম
অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
ডা. ইশরাত জাহান
কর্মসূচি ব্যবস্থাপক (এআরএইচ), পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর।
ডা. সেলিনা আমিন
কান্ট্রি প্রজেক্টস ম্যানেজার, প্ল্যান বাংলাদেশ।
অ্যাডভোকেট সালমা আলী
নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি।
ডা. কামরুন নাহার
সহযোগী বিজ্ঞানী, আইসিডিডিআর’বি।
সৈয়দা সেলিনা পারভীন
দলনেতা, প্রিসেট প্রজেক্ট, হাসাব
ডা. রাবেয়া খাতুন
ন্যাশনাল প্রোগ্রাম অফিসার, কৈশোর স্বাস্থ্য, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
ডা. তাহমিনা মির্জা
প্রকল্প ব্যবস্থাপক, কৈশোর প্রজননস্বাস্থ্য, প্ল্যান বাংলাদেশ।
লায়লা রহমান
জ্যেষ্ঠ কর্মসূচি কর্মকর্তা, পপুলেশন কাউন্সিল।
ডা. ইফতেখার হাসান খান
স্বাস্থ্য উপদেষ্টা, প্ল্যান বাংলাদেশ।
সঞ্চালক
আব্দুল কাইয়ুম: যুগ্ম সম্পাদক, প্রথম আলো
আলোচনা
আব্দুল কাইয়ুম
কৈশোর প্রজননস্বাস্থ্য বিষয়টি সাধারণত আলোচনায় আসে না। একজন শিশু যখন বড় হয়, তখন তার শরীর ও মনে কিছু পরিবর্তন আসে। এ পরিবর্তনটা তার কাছে নতুন মনে হয়। এ সময় সে কিছু প্রশ্নের উত্তর জানতে চায়। তাকে কোনো বিশ্বাসযোগ্য উৎস থেকে জানতে হবে যে তার সমস্যাটা কী, করণীয় কী এবং সমাধানটা কী। এ জায়গাটায় একটা বিরাট শূন্যতা আছে। অভিভাবকেরা মনে করেন, এটাতে বলার কী আছে, আবার বলতে গেলে হিতে বিপরীতও হতে পারে। এসব বিষয়ে আলোচনা করছেন প্রধান অতিথি, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এম এম নিয়াজউদ্দিন।
এম এম নিয়াজউদ্দিন
কৈশোর প্রজননস্বাস্থ্য একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সিটি করপোরেশনের বস্তি এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক কিশোর-কিশোরী সাধারণ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। তাদের মধ্যে এ প্রচার আরও বেশি করা দরকার। বাংলাদেশ সরকারের পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে কৈশোর প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে প্রকল্প রয়েছে। আমাদের কর্মীরা মাঠপর্যায়ে কাজ করেন। কিন্তু আমি মনে করি, এটা যথেষ্ট নয়। কারণ তাঁরা সব কিশোর-কিশোরীর কাছে যেতে পারছেন না। শিশুরা যখন কৈশোরে পদার্পণ করে, তখন তাদের শারীরিক পরিবর্তন হয়। এ পরিবর্তনটা মোকাবিলা করার যথেষ্ট জ্ঞান যদি না থাকে, তাহলে অনেক সময় তারা বিপথগামী হবে। একসময় এটা জীবনের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করবে।
এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। কিন্তু অভিভাবকেরা ছেলেমেয়ের সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করতে ইতস্তত বোধ করেন। তার থেকে বড় কথা হলো, অনেক অভিভাবক জানেন না বিষয়টি কী এবং কীভাবে আলোচনা করতে হবে। এমনকি যাঁরা শিক্ষিত, তাঁরাও প্রজননস্বাস্থ্য সম্পর্কে ছেলেমেয়ের সঙ্গে আলোচনা করেন না। আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে প্রজননস্বাস্থ্যের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে একটি ছোট বই প্রকাশ করার ব্যবস্থা হয়েছে।
আমাদেরই অফিসের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বললেন যে তিনি একটা বই গোপনে তাঁর সন্তানের টেবিলে রেখে আসবেন। একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা তাঁর সন্তানের সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করতে পারছেন না। শুধু উনি কেন, আমরা অনেকেই পারছি না। এ থেকে সাধারণ মানুষের অবস্থা খুব সহজেই বোঝা যায়।
এদিক থেকে আমাদের মায়েরা কিছুটা এগিয়ে আছেন। তাঁরা প্রজননস্বাস্থ্য বিষয়ে মেয়েদের সহযোগিতা করেন। আমি তাঁদের প্রশংসা করি। কিন্তু ব্যাপক প্রচার ছাড়া এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। আমরা আপনাদের পরামর্শ এবং সহযোগিতা চাই। আপনাদের পরামর্শ সরকারকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমগুলো অবশ্যই একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। ‘দুটি সন্তানের বেশি নয়, একটি হলে ভালো হয়’, ‘মা ও শিশুর যত্ন নিন’, ‘কিশোর-কিশোরীদের সহযোগিতা করুন’—এ স্লোগানগুলো খুব ছোট করে গণমাধ্যমগুলো যদি তাদের প্রচারমাধ্যমে প্রকাশ করে, তাহলে তাদের কোনো ক্ষতি হবে না। কিন্তু জাতির অনেক উপকার হবে।
সেলিনা আমিন
কৈশোর প্রজননস্বাস্থ্য ও অভিভাবকদের করণীয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিশোর-কিশোরীদের সঠিক তথ্য জানার জন্য এখন কিছু প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। এ ব্যাপারে সরকারও একটি ভালো উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে একটি কর্মকৌশলপত্র বের করা হয়। কৈশোর প্রজননস্বাস্থ্য-সম্পর্কিত অনেক বিষয় এখানে খুব ভালোভাবে উল্লেখ থাকে। যেমন, কী করতে হবে, কখন করতে হবে, কীভাবে করতে হবে। কিশোর-কিশোরীদের সঠিক তথ্য পাওয়ার জন্য এটি খুব সহযোগিতা করে। অতএব, এটিকে আমরা সামনে নিয়ে আসতে পারি। ২০০৬ সালে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর থেকে একটি গবেষণাপত্র বের করা হয়েছিল। সেখানে কিশোরদের সঙ্গে বাবা-মায়ের আচরণের ধরন (গুড প্যারেন্টিং) উল্লেখ আছে। যেমন, একেক বয়সে সন্তানদের সঙ্গে একেক রকম আচরণ করতে হবে। সন্তানদের মানসিক অবস্থা বোঝার চেষ্টা করতে হবে। তাদের ভালো পরিবেশ দিতে হবে। তারা যেন ভাবতে পারে বাবা-মা তাদের বন্ধু। তাদের প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। বাবা-মায়ের মধ্যে সব সময় হাসিখুশি সম্পর্ক থাকবে। আরও নানা দিক এখানে উল্লেখ আছে। আমরা প্ল্যান বাংলাদেশ থেকে কিশোর-কিশোরীদের জন্য প্রজননস্বাস্থ্য পরামর্শসহ কিছু সেবাদানের ব্যবস্থা করছি।
আব্দুল কাইয়ুম
আলোচনা থেকে একটি বিষয় বেরিয়ে আসছে, তা হলো, ছেলেমেয়েদের সঙ্গে মা-বাবার খুব যত্ন নিয়ে কথা বলতে হবে। শিক্ষা অধিদপ্তরের পাঠ্যপুুস্তকেও এ বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এবার বলবেন ডা. তাহমিনা মির্জা।
তাহমিনা মির্জা
বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের এক-পঞ্চমাংশ কিশোর-কিশোরী। এদের বয়স ১০ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে। এদের মধ্যে ৪৭ শতাংশ বিবাহিত। এরা প্রজনন-প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট। কিন্তু প্রজননস্বাস্থ্য সম্পর্কে তাদের অনেকের সঠিক ধারণা নেই। এ জন্য তারা গ্রাম্য চিকিৎসক, হকার-কবিরাজ ও বন্ধুদের কাছে যায়। সেখানে তারা প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাবে বিপদে পড়ে। এ বিষয়ে মা-বাবাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। তাঁরা যদি না জানেন, তাঁদের নিয়ে কর্মশালার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রজননস্বাস্থ্য বিষয়ে আমাদের কর্মশালা হয়। একজন মা কর্মশালা করার পর তাঁর মেয়েকে পাঠান। কারণ তিনি বুঝতে পারেন, তাঁর মেয়ের জন্য এটি কত জরুরি। গবেষণায় দেখা যায়, যেসব কিশোর-কিশোরী বাবা-মায়ের আদর-যত্ন কম পায়, তারা মাদকাসক্ত হওয়াসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে লিপ্ত হয়। যারা বেশি পারিবারিক সহায়তা পায়, তাদের মধ্যে এ প্রবণতা কম। যেসব মা-বাবা প্রজননস্বাস্থ্য সম্পর্কে বাসায় বা বাড়িতে কথা বলেন, তাঁদের সন্তানেরা অনেক পরিচ্ছন্ন জীবন যাপন করে।
জহির উদ্দিন আহমেদ
ছেলেমেয়ে এবং অভিভাবক সবার জন্য অবাধ তথ্যের ব্যবস্থা করতে হবে। কিশোর-কিশোরীদের যত বেশি তথ্য দেওয়া যাবে, তারা তত বেশি উপকৃত হবে। তথ্যের অভাব থাকলে নানাবিধ কুসংস্কার তাদের ঘিরে ধরবে। কিশোর-কিশোরীদের প্রজননতন্ত্র আলাদা এবং এর কার্যাবলিও ভিন্ন। ফলে এর গঠন ও কার্যাবলি সম্পর্কে তাদের জানতে হবে। অবাধ মিলনের ফলে নানা রোগের সংক্রমণ ঘটে। এখনো বাংলাদেশের মেয়েরা স্বাস্থ্যসম্মত শোষক-পেটি (স্যানিটারি ন্যাপকিন) লুকিয়ে রাখে অন্ধকারে, স্যাঁতসেঁতে জায়গায়, বালিশের নিচে, এ ব্যাপারে সতর্ক না হলে এ থেকেও মারাত্মক রোগ সংক্রমিত হতে পারে। এ বিষয়ে জ্ঞান না থাকলে তারা ক্ষতির সম্মুখীন হবে। অল্প বয়সে বিবাহের কারণে কিশোর-কিশোরীরা নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত হয়। ছেলেরা মাদকাসক্ত হওয়াসহ বিভিন্ন অসামাজিক কাজে জড়িত হয়। বিভিন্ন কারণে মেয়েদের শরীরে পুষ্টির অভাব থাকে, শরীর দুর্বল থাকে। এ অবস্থায় গর্ভধারণের মতো ঝুঁকি নিতে গিয়ে মৃত্যুর মুখে পতিত হয়। হস্তমৈথুন, স্বপ্নদোষ শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়, কৈশোরের স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া। যদি মনে করা হয়, এর কারণে আমি শেষ হয়ে যাচ্ছি, তাহলে ক্ষতি হতে পরে। এখানে তথ্যের অভাব রয়েছে। কিশোর-কিশোরীদের বিভিন্ন তথ্য সামগ্রিকভাবে উপস্থাপন করা দরকার। তাহলে তাদের মধ্যে একটা ভালো ধারণা গড়ে উঠবে। দেশের সব অভিভাবককে, কিশোর-কিশোরীকে প্রশিক্ষণ দিতে পারলে, আমরা একটি ভালো জাতি হিসেবে গড়ে উঠতে পারব।
সালমা আলী
প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে যতটা আলোচনা হওয়া দরকার সেটি যেমন হয় না, তেমনি এ বিষয়টিও আমাদের সবার কাছে পরিষ্কার নয়। আমরা অভিভাবকদের করণীয় নিয়ে কথা বলছি। কিন্তু কত শতাংশ অভিভাবক এ বিষয়টি জানেন তা নিয়ে রয়েছে বড় প্রশ্ন। বাংলাদেশ সংবিধান এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারে কিছু অধিকার আছে, যেগুলো বাস্তবায়নের জন্য আমাদের কিছু কর্মপরিকল্পনা নিতে হবে। ক্লিনিকগুলো সহিংসতার বিষয় নিয়ে আমাদের সঙ্গে চুক্তি করেছিল, কিন্তু কোনো দিন তারা একটি ঘটনা নিয়েও আসেনি। আমাদের দেশের সামাজিক অবস্থা এখনো ওই পর্যায়ে যায়নি যে বাবা-মায়েরা তাঁদের সন্তানদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করবেন। আমি মনে করি, এ বিষয়ে কাজ যতটুকু হচ্ছে, তা দিয়ে পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে দরকার ব্যাপক শিক্ষার উন্নতি, স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত প্রজননস্বাস্থ্য বিষয়ে একটি বিস্তৃত পাঠক্রম। কিন্তু এখন যা আছে, সেটিও পড়ানো হয় না। শিক্ষকেরা বলেন, বাসায় পড়ে নিয়ো। নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক সনদে সুপারিশের কারণে নারীবান্ধব হাসপাতাল, শিশুবান্ধব হাসপাতাল করা হয়েছে, কিন্তু সেটা কী অবস্থায় চলছে, তার কোনো খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে না। সমতাভিত্তিক স্বাস্থ্য-পুষ্টির বিষয়টি এখনো সেভাবে নিশ্চিত হয়নি।
পারিবারিক সুরক্ষা ও প্রতিরোধ আইনে বৈবাহিক ও দৈহিক মিলনের বিষয়টি খুব ভালোভাবে এসেছে, যৌন হয়রানির কথা এসেছে—যেমন, স্বামী যদি যৌন নির্যাতন (অ্যাবিউজ) করে সেটা কিন্তু অ্যাবিউজ নয়, কিন্তু সে বিষয়টিও এখানে এসেছে।
যৌন নির্যাতনের মধ্যে জোর করে এবং অল্প বয়সে বিয়ের বিষয়টি আছে। শুধু এটি নয়, মানসিক নির্যাতনের বিষয়টিও এখানে এসেছে।
যৌন হয়রানি নিয়ে একটি যুগান্তকারী দিকনির্দেশনা (গাইড) আসছে, যেটি কিশোরীদের অনেক অধিকার নিশ্চিত করবে। এখানে বাড়ি, কর্মক্ষেত্র, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় সব জায়গায় নারীদের অধিকার যেন নিশ্চিত হয়, সে ব্যবস্থা আছে। এখন সময় এসেছে প্রজননস্বাস্থ্য বিষয়টি নিয়ে ব্যাপকভাবে ভাবার। প্রজননস্বাস্থ্য বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা করতে হবে। সেটি বাড়িতে ও স্কুলে উভয় জায়গাতেই হওয়া উচিত। যৌন হয়রানি নিরসনে ভুক্তভোগীকে সহায়তা দিতে হবে। যখন একজন ভুক্তভোগী আসবে তাকে আদালত, পুলিশ স্টেশন থেকে শুরু করে সব জায়গায় তার প্রাপ্য অধিকারটুকু দিতে হবে।
মোহাম্মদ শরীফ
কৈশোরস্বাস্থ্য নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে আলোচনা হচ্ছে। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিবছর বিভাগীয় শহরগুলোতে একবার কর্মশালার আয়োজন করা ছাড়া খুব একটা কাজ হয় না। এ বার্তা নিয়ে কীভাবে প্রান্তিক পর্যায়ে যাওয়া যায়, তা নিয়ে আমরা কাজ করছি।
এটি বাস্তবায়ন করতে আমাদের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে যেতে হবে। অভিভাবকদের পাশাপাশি বড় ভূমিকা স্কুলশিক্ষকদের, তাঁদের প্রশিক্ষিত করতে হবে। এর জন্য আমরা কিছু বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নিয়েছি। মাতৃমৃত্যুর একটি বড় কারণ হলো, কৈশোরে গর্ভধারণের মতো ঘটনা। এ জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাভাবিক সন্তান প্রসব নিয়ে অধিদপ্তর থেকে আমরা কাজ করছি। এতে স্বাভাবিকভাবে সন্তান প্রসব করার হার বেড়েছে।
সারা দেশে স্কুল ও মাদ্রাসার প্রধানদের নিয়ে কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে কৈশোরস্বাস্থ্য ও যৌনতা নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা হয়। তাদের আগ্রহে বিষয়গুলো এখন পুস্তক আকারে প্রকাশের কাজ চলছে।
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ব্যাপক প্রচার দরকার। এখনো অনেক বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটছে। অনেক বাবা নিরাপত্তা ও সুপাত্রের জন্য মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছেন। এ জন্য সামাজিক আন্দোলন জোরদার করতে হবে।
নূর-উন-নবী
আমাদের জনসংখ্যা বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রছাত্রীদের পড়ার একটা অংশ আছে ‘দেখে শেখা’। মাস খানেক আগে আমরা উত্তরবঙ্গে গিয়েছিলাম। সেখানে কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র, উপজেলা সহায়তাকেন্দ্রসহ কমিউনিটি হাসপাতালে আমরা গিয়েছি।
কমিউনিটি ক্লিনিক যখন যাত্রা শুরু করে, এর অবস্থা তখন ভালো ছিল না। মানুষের ধারণা জন্মেছিল, এটি একটি ছোট হাসপাতাল। যেহেতু উপজেলা ও ইউনিয়নে একটি করে হাসপাতাল আছে। এ বিষয়ে তাদের ধারণার অভাব ছিল, কমতি ছিল সচেতনতারও। অনেকে ভাবতেন এটি যেহেতু ছোট হাসপাতাল, তাহলে ছোট রোগের ওষুধ পাওয়া যাবে।
কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো সচল রাখতে হলে সমাজের মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে। আর এ সম্পৃক্ততা গড়তে একটি সমর্থক দল (সাপোর্ট গ্রুপ) থাকতে হবে। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর অবস্থান কোথায় হবে, এটি একটি বড় বিবেচ্য বিষয়। যেমন একটি বিদ্যালয়ের পাশে এ রকম ক্লিনিক থাকলে কিশোর-কিশোরীরা সহজে বিভিন্ন উপদেশ-সেবা পেতে পারে।
আমরা যে আলোচনাগুলো করি, তা সাধারণত বিমূর্ত পর্যায়ে, তার কার্যকর প্রতিফলন কী হবে, তা অনেক সময় বুঝতে পারি না, দেখতেও পারি না। আমরা যাদের জন্য পরামর্শ, সিদ্ধান্ত দিচ্ছি; তাদের এসব বিষয়ে অংশগ্রহণ করাতে হবে। কারণ, যে পরামর্শ তাদের জন্য দেব, সেটি যেন নির্দেশমূলক না হয়, তা যেন অংশগ্রহণমূলক হয়।
সামাজিক উন্নয়নে আমরা অন্যান্য দেশের তুলনায় অগ্রগতি অর্জন করলেও এ বিষয়ে আমরা খুব অগ্রগতি অর্জন করতে পারিনি। আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, আজ থেকে ৪০-৫০ বছর আগেও যেমন এ বিষয়গুলো এড়িয়ে চলা হতো, বর্তমান সময়েও তা-ই হচ্ছে।
সন্তানদের সঙ্গে অভিভাবকদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকতে হবে। প্রত্যেক অভিভাবকের দায়িত্ব হবে কোনোভাবেই যেন কোনো সিদ্ধান্ত সন্তানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া না হয়। ছোটবেলা থেকে স্বাধীনচেতা করে গড়ে তুলতে হবে।
বিয়ের বয়স নিয়ে যে আইন আছে, তাতে একটি মৌলিক ত্রুটি রয়েছে। আইনে নারীর ক্ষেত্রে ১৮ বছরে বিয়ে দিতে বলা হয়েছে। যদি কেউ এর ব্যত্যয় ঘটায় তাহলে মা-বাবার শাস্তি হচ্ছে, কিন্তু বিয়ে সম্পন্ন হয়ে যাচ্ছে। আরও দেখা যায়, কাবিননামায় লেখা হচ্ছে ১৮ বছর কিন্তু সত্যিকারের বয়স হচ্ছে ১৩ বা ১৪। এ জন্য জন্মনিবন্ধন বাধ্যতামূলক অনুশীলন করতে হবে।
লায়লা রহমান
আইনগতভাবে মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ বছর। আবার সরকার ঘোষণা করেছে, ১৮ বছর পর্যন্ত ছেলেমেয়েকে শিশু বলা হবে। তাহলে আমরা প্রাতিষ্ঠানিকভাবেই শিশুর বিয়েকে সমর্থন করছি। আইন আসলে একটি দিকনির্দেশনা দেয়; আইন যে পুরোপুরি অনুশীলন করা হয়, এমনটি নয়। আমরা সবাই এটি মেনে চলছি, তাই কেউ এর দায় এড়াতে পারি না।
১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ আইসিপিডি কর্মসূচিতে স্বাক্ষর করে। তখন থেকে কৈশোর প্রজননস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। এর জন্য কৃতিত্ব আছে সরকার, সাহায্যকারী সংস্থা ও এনজিওগুলোর। সেই ধারাবাহিকতায় ২০০০ সালে পপুলেশন কাউন্সিল অন্যান্য অংশীদারের সঙ্গে একটা গবেষণা করেছিল। এতে দেখা গেছে, শুরুতে অভিভাবকেরা প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে সন্তানদের সঙ্গে কথা বলতে চান না; তাঁরা এটা শিক্ষকদের দায়িত্ব বলে এড়িয়ে যান। কিন্তু কিছুদিন পর তাঁরা এ বিষয়ে জানতে ও জানাতে আগ্রহী হন। এখানে আমরা যাঁরা কথা বলছি, আমাদের কিন্তু দীর্ঘ প্রশিক্ষণ ও প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ পরিবর্তন এসেছে। অতএব, অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে অনুকূল পরিবেশ তৈরির জন্য মিডিয়া ও শিক্ষকেরাও বড় ভূমিকা রাখতে পারেন। সে জন্য সংবেদনশীল ও উপস্থাপনের দক্ষতা আছে—এমন শিক্ষক নির্বাচন করে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
প্রজননস্বাস্থ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যৌনস্বাস্থ্য। কিন্তু এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য দিতে আমরা সংকোচ বোধ করি। বয়ঃসন্ধিকালে শরীরে বিভিন্ন পরিবর্তন ও যৌন অনুভূতি হয়—এটি প্রাকৃতিক নিয়ম। এর জন্য এ বিষয়ে সুস্পষ্ট তথ্য জানতে ও জানাতে হবে। পপুলেশন কাউন্সিলের ওয়ান কারিকুলাম বইটি প্রজনন ও যৌনস্বাস্থ্য এবং অধিকার বিষয়ে সম্যক ও সমৃদ্ধ দিকনির্দেশনা দেয়, যাতে ঝুঁকি এড়িয়ে সুস্থ ও আনন্দময় জীবন যাপন করা যায়। বইটি যে কেউ কাজে লাগাতে পারে।
রাবেয়া খাতুন
আমাদের প্রথম যেটি সক্রিয় হস্তক্ষেপের কেন্দ্র হওয়া উচিত, সেটি হচ্ছে নিজ ঘর। আসলে ঘর থেকেই সক্রিয় হতে হবে, যেখানে মা-বাবা প্রধান ভূমিকা পালন করেন। কৈশোরস্বাস্থ্যে কিছু সুস্পষ্ট প্রভাব অভিভাবকদের কাছ থেকে আসে। এর জন্য নিয়ন্ত্রিত আচরণ, পারিবারিক শ্রদ্ধা ও যথোপযুক্ত ব্যবহার অভিভাবকদের করা উচিত। অভিভাবকদের যা করণীয় তা যথাযথভাবে পালন করলে কিশোর-কিশোরীরা সঠিকভাবে বেড়ে উঠতে পারবে এবং এর মাধ্যমে একটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে তাদের জীবনের জন্য।
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা সব সময় সরকারকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে থাকে। এখন বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে আমরা কৈশোরস্বাস্থ্যকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিতে চাচ্ছি। বাংলাদেশে এইচপিএনএসডিপিতে এ বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গত সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) সম্মেলনে আমরা কিছু অঙ্গীকার করেছি, ২০১৫ সালের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে। এর মধ্যে কৈশোরস্বাস্থ্য নিয়ে আমরা অঙ্গীকার করেছি সেবা দেওয়ার জন্য। এ ছাড়া বাল্যবিবাহ, অকাল গর্ভধারণ বন্ধে আমাদের কিছু অঙ্গীকার আছে। এর জন্য আমরা প্রশিক্ষণ কাঠামো তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছি। সরকারকে এ বিষয়ে আমরা সহায়তা করেছি। তারাও এগিয়ে এসেছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত দুটি অধিদপ্তর যদি একসঙ্গে এগিয়ে আসে, তাহলে আমরা কৈশোরস্বাস্থ্য নিয়ে যে অঙ্গীকার করেছি, তা বাস্তবায়নে সুবিধা হবে।
সন্তান লালনপালনে অভিভাবকদের ভূমিকা কী হবে, তার দিকনির্দেশনা দরকার। এ ব্যাপারে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা যে কাজ করবে, তা নিয়ে আমাদের কিছু দিকনির্দেশনা আছে। বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে এখন তা করতে চেষ্টা করব।
ইশরাত জাহান
আমাদের প্রজননস্বাস্থ্য-সম্পর্কিত বিষয়ের গভীরে ঢুকতে হবে। তা ছাড়া এর পরিবর্তন সম্ভব হবে না। এ জন্য সঠিক তথ্য জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। অভিভাবক ও শিক্ষকদের এর মধ্যে অবশ্যই সম্পৃক্ত করতে হবে। তা ছাড়া সম্প্রদায়ের ভূমিকা তো থাকতেই হবে।
আমাদের অধিকাংশ অভিভাবকই চিকিৎসার বিষয়ে খুব বেশি শিক্ষিত নন। অতএব কোন তথ্য দেব, কখন দেব, তা নিয়ে ভাবতে হবে। তাঁদের তথ্য সরবরাহ করার মাধ্যমে শিক্ষিত করে তুলতে হবে। আর বিদ্যালয়ের শিক্ষক শুধু শিক্ষকই নন, তিনি একজন অভিভাবকও বটে। সে জন্য অভিভাবক ও শিক্ষক দুই পক্ষকেই কাজে লাগাতে হবে।
আমরা যখন সচেতনতা বৃদ্ধি করতে প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রচারণা চালিয়েছি, কৈশোরস্বাস্থ্যের যে পরিবর্তন তা নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেছি। এতে দেখা গেছে, মসজিদের ইমামসহ সবাই এ বিষয়ে খোলামেলা জানতে চেয়েছেন। সুতরাং নীতিনির্ধারকদের কিন্তু আরও এগোতে হবে।
কামরুন নাহার
আমি অভিভাবকদের করণীয় বিষয়গুলো দুই ভাগে ভাগ করি। প্রথমত, অভিভাবকেরা নিজেরাই জানেন না, তাঁদের জানা দরকার। দ্বিতীয়ত, তাঁরা আসলে কিশোর-কিশোরীদের কী তথ্য জানাবেন?
বয়ঃসন্ধিকালে কিশোর-কিশোরীর শারীরিক ও মানসিক নানা পরিবর্তন আসে। এ সময় তাদের এ পরিবর্তন নিয়ে জানার আগ্রহ তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ ঠিক রেখে তাদের এ তথ্যগুলো দিতে হবে। আজ বিশ্বায়নের যুগে তারা নানাভাবে তথ্য পাচ্ছে, কিন্তু কোন তথ্য আমাদের সংস্কৃতির জন্য উপযুক্ত, সে জিনিসটি মাথায় রাখতে হবে।
কোন বয়সে কোন তথ্য দরকার, এটি নির্দিষ্ট করে তথ্য প্রদান যদিও কষ্টসাধ্য; তবু এ কাজটি করতে হবে। আমাদের গবেষণায় দেখা গেছে, একজন বয়ঃসন্ধিকালীন কিশোর বা কিশোরী তাদের অভিভাবক অথবা শিক্ষকদের কাছ থেকে স্বাস্থ্যগত তথ্য পাওয়ার চেয়ে তারা নিজেদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়াকে উপযুক্ত ভেবেছে। যেমন—এ বিষয়ে তারা যদি একটি বই পড়ে তাহলে কিন্তু আর অভিভাবক বা শিক্ষকের কাছে যেতে হচ্ছে না।
এ মুহূর্তে আইসিডিডিআর,বি বয়ঃসন্ধিকালীন কিশোর-কিশোরীদের নিয়ে গবেষণা করছে। একজন কিশোর বা কিশোরী প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে কোনো তথ্য দিতে গেলে কী কী বিষয়ে, কীভাবে দিলে তাদের জন্য ব্যবহারযোগ্য হয় এবং তা বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে কতটা উপযোগী, এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যদি প্রত্যেকে নিজেদের ভূমিকা সঠিকভাবে পালন করি, তাহলেই এ বিষয়গুলো সহজ হয়ে আসবে।
ইফতেখার হাসান খান
আমরা মূলত ঐতিহ্যগতভাবেই প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করি। দেশের জনসংখ্যার ২৩ শতাংশই কিশোর-কিশোরী আর প্রতি এক হাজার জন গর্ভবতী মহিলার মধ্যে দেখা যাচ্ছে ছয়জন কিশোরী গর্ভবতী, যার সঙ্গে আবার বাল্যবিবাহ জড়িত। বাংলাদেশে চার কোটি কিশোর-কিশোরী আছে। বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে আর্থসামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কারণগুলো অন্যতম। এ ছাড়া অনেকে বাল্যবিবাহের কুফল এবং আইনগত বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে জানে না।
বাল্যবিবাহ বন্ধে জন্মনিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা, বিয়ে নিবন্ধন করা দরকার। এ ছাড়া সরকারি ও বেসরকারিভাবে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করতে হবে এবং প্রচলিত আইনের সঠিক প্রয়োগ জরুরি।
কৈশোর প্রজননস্বাস্থ্য-সম্পর্কিত তথ্য সর্বজনীন করতে মুঠোফোন সেবাদাতা কোম্পানিগুলো এগিয়ে আসতে পারে। তারা হটলাইনের মাধ্যমে বিনা মূল্যে এ সেবা দিতে পারে। এর বাইরে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত পাঠ্যবইয়ের পড়া বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে। সেই সঙ্গে পাঠ্যপুস্তকে ‘প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে অধ্যায়’ দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত পড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
সৈয়দা সেলিনা পারভীন
বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে কৈশোর প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে অন্তত ১০ বছর ধরে কাজ হচ্ছে। এতে যে সমস্যাগুলো দেখা গেছে তার প্রধান হলো, কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা, ধরে রাখা। যেহেতু এটি প্রকল্পভিত্তিক হয়ে থাকে, তার মেয়াদ শেষ হলেই কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
এ ক্ষেত্রে কেবল সরকারই পারে প্রকল্পগুলোর দীর্ঘমেয়াদি রূপ দিতে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত যে অধিদপ্তর দুটি আছে, তাদের যে মাঠকর্মী এবং অবকাঠামো আছে, তা একটি বিরাট সুযোগ। মাঠকর্মীদের কাজের মধ্যে এ বিষয়টি সংযোজন করা যেতে পারে।
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে আমাদের পৌঁছাতে হবে। এ জন্য কর্মশালা, আলোচনা ইত্যাদি চালিয়ে যাওয়া। তার সঙ্গে দুটি বিষয় যোগ করতে হবে। প্রথমত, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাঠকর্মীদের। দ্বিতীয়ত, গণমাধ্যম, বিশেষ করে ইলেকট্রনিক মিডিয়া। কারণ, সংবাদপত্র পড়তে হলে পাঠককে শিক্ষিত হতে হবে, কিন্তু টিভিতে প্রচারিত তথ্য সবার জন্যই বোধগম্য।
মেহতাব খানম
আমরা সবাই গণমাধ্যমের কথা বলছি। আমরা জানি, অধিকাংশ গণমাধ্যম কীভাবে চলছে, তাদের মান কেমন। আর সেখানে যাঁরা কাজ করছেন, সেসব গণমাধ্যমকর্মী এ বিষয়ে শিক্ষিত কি না, তা আগে দেখতে হবে।
প্রথমত, তাঁদের মনের উন্নতি ঘটাতে হবে। আরেকটি বিষয় হলো, গণমাধ্যমগুলোতে নেতিবাচক খবর বেশি প্রচার হয়। আমরা কেন ইতিবাচক খবর পরিবেশন করব না। শুধু বাল্যবিবাহ হলেই খবর প্রচারিত হবে, যেসব অভিভাবক বাল্যবিবাহ দিচ্ছেন না, তাঁদের নিয়ে কেন খবর হবে না। এ দেশে এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সঠিকভাবে সন্তান লালনপালন পদ্ধতি (প্যারেন্টিং)। এটি নিয়ে কাজ করতে হবে। কারণ, আমরা ভুলভাবে বাচ্চাদের বড় করছি। আজকাল ছাত্রছাত্রীদের শাস্তি নিয়ে কথা হচ্ছে। কিন্তু সন্তানের ওপর মা-বাবার শাস্তি কে বন্ধ করবে। এ জন্য বাড়িটাকে স্বাস্থ্যকর করতে হবে। কারণ, একজন শিক্ষক, একজন অভিভাবকও বটে। আমাদের স্কুলগুলোতে দুটি বিষয় ঐচ্ছিক আছে। একটি কৃষি এবং অন্যটি গার্হস্থ্য শিক্ষা। এর মধ্যে গার্হস্থ্য শিক্ষা শুধু মেয়েদের পড়ানো হয়। আমি মনে করি, গার্হস্থ্য শিক্ষাকে আবশ্যিক করা উচিত। আর এ স্পর্শকাতর বিষয় পড়ানোর জন্য শিক্ষকদের প্রশিক্ষিত করতে হবে।
আব্দুল কাইয়ুম
আমরা সবার আলোচনা শুনলাম। সবকিছু মিলিয়ে সমাপনী আলোচনা করছেন এম এম নিয়াজ উদ্দিন।
এম এম নিয়াজ উদ্দিন
আজ আলোচনার যে বিষয়গুলো এসেছে, তা যেন আমরা সবাই চর্চা করি, বিশেষ করে, গণমাধ্যমগুলো যেন এ বিষয়ে এগিয়ে আসে। বাংলাদেশ স্বাস্থ্যক্ষেত্রে অনেক অগ্রগতি লাভ করেছে। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর থেকে বিভাগীয় শহরগুলোতে কৈশোর প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে কর্মশালার আয়োজন করা হয়। যেখানে স্কুল, কলেজের শিক্ষক, সরকারি চাকরিজীবী, জনপ্রশাসনের লোক, অভিভাবক এবং কিশোর-কিশোরীদের উপস্থিত রাখা হয়। এ কার্যক্রম ইউনিয়ন পর্যায়ে নেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে।
পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে যতটা কাজ হওয়া দরকার, হয়তো ততটা হচ্ছে না। ব্যাপক কাজ কিন্তু হচ্ছে। এ অধিদপ্তরের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এখানে দীর্ঘ ১৪ বছরে কোনো নিয়োগ ছিল না। প্রায় ১৫-২০ হাজার শূন্যপদ ছিল, যার মধ্যে সাত হাজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শূন্যপদগুলো পূরণ হলে আমরা আরও ব্যাপকভাবে কাজ করতে পারব।
আব্দুল কাইয়ুম
আপনাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। ধন্যবাদ সবাইকে।
About: নিজাম কুতুবী
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1338)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
-
▼
2012
(33842)
-
▼
January
(4234)
-
▼
Jan 26
(121)
- সীমান্তে বিনাবিচারে হত্যা
- মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকার
- অধিকার-এর তথ্যানুসন্ধানী প্রতিবেদনঃ স্ত্রী-সন্তানে...
- অন্যায়-অবিচার ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে চির সোচ্চার মও...
- অসুন্দরের মভান by আতাউর রহমান
- জিয়ার নাম মুছে ফেলার দুঃসাহসের পরিণতি হবে ভয়াবহ by...
- দশ হাজার এমপিওভুক্তির আবেদন বস্তাবন্দিঃ বেসরকারি শ...
- চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হ্রাসের আশঙ্কা এডিবিরঃ অবস...
- সুন্দর শহরের নিঃসঙ্গতা by কাজী জহিরুল ইসলাম
- এই নগরীর দিনরাত্রিঃ উৎসবের অনুষঙ্গ নেই by রেজোয়ান ...
- বিজয় দিবসেও জাতীয় প্যারেড হলো নাঃ কারণ বলা হয়নি
- ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাচ্ছে বরেন্দ্র অঞ্চলে :...
- অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাসের প্রতিশ্রুতি দিলেন ওবামা
- মিসরে বিদ্রোহের বর্ষপূর্তি উদ্যাপিত-কায়রোর তাহিরর ...
- সংঘর্ষের নেপথ্যে গাদ্দাফিপন্থীরা হলে পাল্টা পদক্ষে...
- সততা কমেছে ব্রিটিশদের!
- বিমানের গতিপথ পরিবর্তন-এক দশকের বৃহত্তম সৌরঝড়ের ঝা...
- মুন্সিগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা-সব খাল থেকে অবৈ...
- সাভারে শত্রুতাবশত সহকারীকে খুন-ধামরাইয়ে চালককে হত্...
- বিপদে বিভাজন নয় চাই ঐক্য by মাসুম মাহবুব
- বাঘ আসিলো বাঘ আসিলো by আবিদ রহমান
- বেলা শেষের গান by ফজল হাসান
- বিডিআরের মত ছাত্রলীগের নাম পাল্টানোও কি জরুরি? by ...
- ছাত্রলীগের চিতার ‘আগুন’! by ফজলুল বারী
- খুলনার ডুমুরিয়া-পাউবোর ভুল সিদ্ধান্ত নদী গিলছে সড়ক!
- বরিশাল আধুনিক নৌবন্দর-নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ...
- জনজীবনের দুর্ভোগ নিয়ে সভা-নিম্ন আয়ের মানুষ হিমশিম ...
- জরিপে জালিয়াতির অভিযোগ-সাতারকুল খালের দুই হাজার বর...
- রিকশাচাপায় অন্তঃসত্ত্বা পোশাকশ্রমিকের মৃত্যু
- সরকারি সেবা শীর্ষক জাতীয় কনভেনশন-গণতান্ত্রিক ব্যবস...
- বাস খাদে পড়ে মা-মেয়ের মৃত্যু
- সংসদের দ্বাদশ অধিবেশন শুরু-রাজ্জাকের মৃত্যুতে শোক ...
- রঙধনুর রঙে রঙিন স্বপ্ন উৎসব by বৃত্বা রায় দীপা
- বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় চাই, বাণিজ্য নয়-শিক্ষা by ত...
- যেভাবে সর্বাঙ্গীণ সুন্দর হতে পারে-ভূমি ব্যবহার আইন...
- জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের প্রশ্নবিদ্ধ চিঠি-যুদ্ধা...
- জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল ও আমাদের নিরাপত্তা দর্শন-...
- শেয়ারবাজার-আস্থা দূর অস্ত!
- জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়-ছাত্রলীগ সামলাবে কে?
- চারদিক-শতবর্ষী এক স্কুলের গল্প
- জেলহত্যা দিবস-কতটুকু দুঃখ পেলে দুঃখগুলো প্রতিবাদী ...
- নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন-জনতার বিজয়, পরাজিত অপরাজন...
- যুক্তরাষ্ট্রের উচিত বিশ্বজনমত আমলে নেওয়া-ইউনেসকোয় ...
- সব অভিযোগই আমলে নিন-নরসিংদীর মেয়র হত্যা
- খাদ্য ও ওষুধে ভেজাল-সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে আগে
- আবার ছাত্রলীগ-প্রতিরোধের এখনই সময়
- পবিত্র কোরআনের আলো-যুদ্ধনিষিদ্ধ চার মাসসংক্রান্ত চ...
- চাই রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন by ড. নিয়াজ আহম্মেদ
- কালান্তরের কড়চা-বাংলাদেশে ব্যর্থ ক্যু এবং পাকিস্তা...
- চরাচর-অর্ধবঙ্গেশ্বরীর রাজপ্রাসাদ by আলম শাইন
- নিপা ভাইরাস সর্বাগ্রে দরকার জনসচেতনতা by ড. মাহবুব...
- এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ এবং বাস্তবতা by মুহা...
- সাদাকালো-সীমান্তের ঘটনাদি বন্ধুসুলভ নয় by আহমদ রফিক
- বিপিসির দুরবস্থা-লোকসান কাটিয়ে ওঠার পথ খুঁজে দেখা ...
- নদীগুলো মরে যাচ্ছে-খননসহ পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে
- পবিত্র কোরআনের আলো-হজরত ইব্রাহিম (আ.) ছিলেন একত্বব...
- বিশেষ সাক্ষাৎকার : সৈয়দ আবুল মকসুদ-সরকার নয়, অব্যব...
- চরাচর-অলিপুর গেট : যেন মরণ ফাঁদ by শরদিন্দু ভট্টাচ...
- ৩১তম বিসিএস এবং কিছু প্রশ্ন by ড. সৌমিত্র শেখর
- নিত্যজাতম্-রানার, রানার ভোর তো হয়েছে! by মহসীন হাবিব
- ভিন্নমত-শেয়ারবাজার ছিল বলেই ব্যাংক কম্পানির ডিরেক্...
- এডিপির অগ্রাধিকার প্রকল্প-বাস্তবসম্মত ও যথাযথ বাস্...
- দায়িত্ববোধ থেকে আয়কর প্রদান-দুর্নীতি কাটিয়ে এনবিআর...
- পবিত্র কোরআনের আলো-একত্ববাদের মর্ম অনুসন্ধান করেছি...
- শ্রদ্ধাঞ্জলি-বড় অভিমান ছিল তাঁর
- পরিবর্তন-যুবশক্তিই হোক তৃতীয় শক্তি by মুহাম্মদ জাহ...
- চিকিৎসাসেবা-স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বিএমডিসির ভূমিকা by...
- মধ্যপ্রাচ্য-গাদ্দাফি হত্যাকাণ্ড, সিরিয়ার চোখে by র...
- বাঘা তেঁতুল-কথা কত কিসিম by সৈয়দ আবুল মকসুদ
- অরণ্যে রোদন-জনতা কী চায় আর নেতারা কী করেন? by আনিস...
- টিকিট কেনাবেচায় কারসাজি বন্ধ করুন-ঈদে ঘরে ফেরা
- জনগণের চাওয়া রাজনৈতিক দলগুলোকে বুঝতে হবে-নারায়ণগঞ্...
- লিবিয়া : যুদ্ধে হতাহতদের সঠিক পরিসংখ্যান নেওয়া উচি...
- সচল থাকবে হুমায়ূনের সোনার কলম by মুহম্মদ নূরুল হুদা
- চরাচর-নড়াইল সর্বমঙ্গলা কালী মন্দির by ফখরে আলম
- রঙ্গব্যঙ্গ-পদ্মা সেতুর আত্মকাহিনী by মোস্তফা কামাল
- বৃত্তের ভেতরে বৃত্ত-ভিজিএফ কর্মসূচি : কার খাবার কে...
- ডিসিদের কার্যপরিধির সংস্কার by এ এম এম শওকত আলী
- খাদ্যসহায়তা নিয়ে দুর্নীতি-প্রয়োজনে টাস্কফোর্স গঠন ...
- প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভ-গতিশীল প্রশাসনের জন্য সচিবদের...
- শিক্ষা দিবস-জীবনের জন্য শিক্ষা by বনরূপা
- ন্যান্সি নির্জনে by রুহিনা তাসকিন
- রাজ্জাকের উল্লেখযোগ্য কিছু ছবি
- রাজ্জাক, শতায়ু হোন: কবরী
- আমার সমালোচনা ভালোভাবেই নেয়: লক্ষ্মী
- কৈশোর প্রজননস্বাস্থ্য: অভিভাবকদের করণীয়
- শ্রদ্ধাঞ্জলি-প্রফেসর শরফুদ্দিন: স্মৃতি অম্লান
- পবিত্র কোরআনের আলো-আল্লাহ আমাদের সরল পথ দেখিয়েছেন,...
- কুড়িয়ে পাওয়া সংলাপ-মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক ফান্ডামেন্টালি...
- সদরে অন্দরে-জাতীয় স্বার্থেই যেন চলে জাতীয় বিশ্ববিদ...
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-ইতিহাস পাঠ কেন জরুরি? by পুলক চাকমা
- গণমাধ্যম-শিশুদের জন্য বাংলায় বিনোদন চাই by শওকত আলী
- যুক্তি তর্ক গল্প-গণতন্ত্রের ভিতকেই শক্তিশালী করতে ...
- আলোচনার ভিত্তিতে সুরাহা করুন-ঘাটশ্রমিকদের কর্মবিরতি
- মনোনয়ন-প্রক্রিয়ায় নজর দেওয়ার এখনই সময়-সংসদে সময়ের ...
- ইতিউতি-শরতের আকাশেও দুর্ভাবনার কালো মেঘ by আতাউস স...
- চায়ের বাজারও যাচ্ছে-উৎপাদন ও মান বাড়াতে পদক্ষেপ নিন
- আইএমএফের খবরদারি-কবে ছিন্ন হবে এই শর্তের জাল?
- ওজোন দিবস-ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে ওজোন স্তর by আজিজুর রহমান
- আলোকের এই ঝরনাধারায় (পর্ব-৪১)-নীল আকাশ আর সাদা মেঘ...
- শেকড়ের ডাক-যে ঐতিহ্য আমাদের নেই by ফরহাদ মাহমুদ
- মৃদুকণ্ঠ-ড. মনমোহনের সফর এবং অতঃপর by খোন্দকার ইব্...
- ঘাটশ্রমিকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার
- মিরপুরে ট্রাক নিয়ে এসে স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি
- পথের ফুল দ্রোণপুষ্প by মোকারম হোসেন
- বীর মুক্তিযোদ্ধা-তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না
- সাক্ষ্য দিলেন সাবেক শিল্পসচিব-‘নিজামী বললেন, শিল্প...
- ঢাকা-কাপাসিয়া-কিশোরগঞ্জ সড়কে বাস ধর্মঘট শুরু
- বাতেনি চিকিৎসক আব্দুস সোবাহান by হুমায়ূন আহমেদ
- আইভরি কোস্টে লাল-সবুজের পাশে-প্রশংসা পেশাদারির গল্...
- শুধু বাংলাদেশ সীমান্তেই ভারতের হত্যাযজ্ঞ by বশীর আ...
- দূর দেশ-পাকিস্তান সংকট: শেখার আছে অনেক কিছুই by আল...
- ভয়ংকর রূপে ছাত্রলীগ
- গজদন্তের কারণেই নাকি আমার হাসি সুন্দরঃ আমব্রিন by ...
- মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার-‘সাঈদী বোরকা পরে গরুর গ...
- মাতাল মনীষা! by অনন্যা আশরাফ
- নালায় নবজাতকের লাশ!
- নির্বাচন কমিশন গঠন: অনুসন্ধান কমিটির বৈঠক-দলগুলোর ...
- দুর্নীতির অভিযোগ মাথায় নিয়েই দুদকের ডিজি by অনিকা ...
- সেপটিক ট্যাংক থেকে ‘খুনি’ বন্ধুরাই বের করল নাদিমের...
- প্রজ্ঞাপন জারি করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, অপেক্ষায় অভ...
-
▼
Jan 26
(121)
-
▼
January
(4234)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
ইরান
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
কালবেলা
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
ইউক্রেন
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
তরুণ প্রজন্ম
মানবাধিকার
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আলী যাকের
আইন ও বিচার
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
তারেক শামসুর রেহমান
মালয়েশিয়া
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
স্বাস্থ্য
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
জ্যোতির্বিজ্ঞান
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
শিল্প ও সাহিত্য
সংবিধান ও রাষ্ট্র
বগুড়া
মিয়ানমার
ঢাকা
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
গবেষণা
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
জীবনযাপন
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
মেহেদী হাসান
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
মানসুরা হোসাইন
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
মসজিদ
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
ইয়েমেন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
Exclusive
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
উচ্চশিক্ষা
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
বিজ্ঞান
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
জনস্বাস্থ্য
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
ফরিদপুর
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লাতিন আমেরিকা
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মহাকাশচারী
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
জোহরান মামদানি
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
ইহুদি
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
স্পেন
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
বিশ্বকাপ ফুটবল
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment