Tuesday, January 3, 2012
প্রচ্ছদ রচনা : ভারতীয় চলচ্চিত্র আমদানি-স্ব-সংস্কৃতি ধ্বংসের আত্মঘাতী পাঁয়তারা!
প্রচ্ছদ রচনা : ভারতীয় চলচ্চিত্র আমদানি-স্ব-সংস্কৃতি ধ্বংসের আত্মঘাতী পাঁয়তারা!
দীর্ঘ প্রায় ৪৭ বছর পর আবারও ভারতীয় ছবি আমদানির পাঁয়তারা চলছে। উর্দু ভাষার আগ্রাসন রুখে দিতে গিয়ে জন্ম নিয়েছিল বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন; আপন ভাষা-সংস্কৃতি-মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাস্তবায়িত হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধ। যে জাতি নিজের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য লাখো শহীদের রক্ত দিতে পারে, বিশ্বে বিস্ময়কর ইতিহাসের জন্ম দিতে পারে, সে জাতি আজ কালের স্রোতে আপন স্বকীয়তা ভুলে নিজেই নিজের গলা টিপে ধরছে।
নানা সাম্রাজ্যবাদী-সম্প্রসারণবাদী আগ্রাসনীর ফাঁদে নিজের স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক পরিচয় ব্যক্তি ও বিশেষ মহলের স্বার্থে বিলিয়ে দিচ্ছে। আমাদের চলচ্চিত্রের ঐতিহ্য কম দিনের নয়। আবার তার ব্যর্থতাও অনেক! সাফল্য-ব্যর্থতা যা-ই থাকুক না কেন, তার অধিকারী আমরাই। কানা ছেলে বলে তাকে ত্যাগ করব_এ হওয়ার নয়। কিন্তু আজ মুক্তবাজারের যুগে সবই সম্ভব। সরাসরি তাকে ত্যাগ করতে না বললেও এমন বিধি-ব্যবস্থা করা হয়, যাতে কানা ছেলে নিজেই ঘর ছেড়ে ভাগে। ভারতীয় ছবি আমদানির ঘটনাটি ঠিক তেমনি। আমরা পৃথিবীর সব দেশের সিনেমা দেখতে চাই; এমনকি ভারতীয়ও। ভারতেও বাজারি সিনেমা ছাড়া আরো অনেক ভালো ছবি নির্মিত হয়। আমরা সেগুলোও উপভোগ করতে চাই। যখন কেবল বাজারি ছবিই আমাদের দেওয়া হচ্ছে তখনই আমাদের প্রতিবাদ। আমাদের বাংলা সিনেমায় যা হচ্ছে, তার পক্ষ নেওয়ার কোনো কারণ নেই। আকাশ-সংস্কৃতির প্রবল আগ্রাসনে নিজের অস্তিত্ব আজও জানান দিয়ে যাচ্ছে কোনোমতে। আমাদের নিজেদের ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতি শানিত করতে, আরো বিশ্বময় করে তুলতে বিশ্ব সংস্কৃতি দর্শন করব, তাই বলে আপন সংস্কৃতিকে আত্মঘাতী পথে ঠেলে দিয়ে নয়। তাই সবার আগে দেশীয় চলচ্চিত্রের সুষ্ঠু বিকাশের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে আমরা এগিয়ে যাব বিশ্ব সংস্কৃতির হাত ধরে। ভারতীয় ছবি আমদানির রাজনীতির আদ্যোপান্ত বিশ্লেষণ করে লিখেছেন_মাহবুব রশিদ
১৯৬৫ সালের পাকিস্তান-ভারত ভাগের আগ পর্যন্ত আমাদের দেশে বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি ও উর্দু ভাষায় সিনেমা চলত। ১৯৬৫ সালে যুদ্ধের প্রতিক্রিয়া হিসেবে আইয়ুব সরকার এক ডিক্রি জারি করে ভারতীয় ছবি এ দেশে নিষিদ্ধ করে। দেশীয় চলচ্চিত্রের স্বার্থরক্ষায় ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে ভারতীয় ছবি প্রচারে নিষেধাজ্ঞা বহাল রইল এবং উর্দু ছবিও নিষিদ্ধ করা হলো। শুরু হলো এফডিসির স্বর্ণযুগ, বিনোদনভিত্তিক ছবি তারা বানাতে থাকল, একে একে দ্রুত বাজার বিস্তার হলো এবং প্রায় দেড় হাজারের মতো তৈরি হলো, যেখানে ১৯৭২ সালে হলো শতাধিক। এমনকি লাভের মুখ দেখেন হল মালিকরা। প্রযোজক হয়ে গেলেন অনেকে। অনেকেই একাধিক হল দিয়ে ব্যবসা জাঁকিয়ে বসলেন। আশির দশকে চলচ্চিত্র শিল্প হিসেবে অভিহিত হওয়ার গৌরব অর্জন করল। এরপর প্রথম আঘাত এল স্যাটেলাইট টিভির মাধ্যমে নব্বই দশকে অবিবেচকের মতো আকাশ মুক্ত করে দেওয়ায়। ফলে হুমকির মুখোমুখি হলো দেশি চলচ্চিত্র শিল্প। সেই সঙ্গে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী হংকং থেকে পর্নোগ্রাফি আমদানি করে হলে প্রদর্শন করতে থাকল। এতে মধ্যবিত্ত ও পারিবারিক দর্শক হলবিমুখ হলো, প্রতিভাবান নির্মাতা ও কলাকুশলীরা সরে গেলেন। আর নতুন যাঁরা এলেন তাঁরা দেশি ছবিতেই অশ্লীলতার জোয়ার বইয়ে দিলেন। যেনতেনভাবে কিছু ছবি শুট করে তার সঙ্গে রিল ভরে পর্নোগ্রাফি ঢুকিয়ে দেওয়া হতো সে সময়। অনেক সময় তাঁরা নিজেরাই রগরগে দৃশ্যের কাটপিস রাখতেন। এসব করার জন্য কোনো সৃষ্টিশীল নির্মাতা বা কলাকুশলীর দরকার হতো না। কম পয়সায় এসব ছবি দিয়ে নব্বই দশক পর্যন্ত হল মালিকরা চুটিয়ে ব্যবসা করলেন। কিন্তু পরবর্তী সময় সরকারি কঠোর হস্তক্ষেপে যখন এসব বন্ধ হলো, তখন হল মালিকসহ সব চলচ্চিত্র শিল্প কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল। দেশি চলচ্চিত্রের দর্শকদের মানসিক পরিবর্তন হলো, দেশি চলচ্চিত্র থেকে অনেক দূরে চলে গেছে। এই ১০ বছরে সুস্থ চলচ্চিত্র চর্চা না হওয়ায় এর মান এগোয়নি; কিন্তু দর্শকের কাছে টিভি-ভিসিডির মাধ্যমে অনেক বিকল্প চলে এসেছে, তার অভ্যস্ততা পরিবর্তিত হয়েছে, মানুষ আর হলমুখী নয়। বিনোদনের জন্য তাকে আর প্রেক্ষাগৃহে যেতে হয় না। আর যদিওবা যায়, গ্লামারাস হিন্দি বা হলিউডি সিনেমার তুলনায় বাংলা ছবি তার কাছে পানসে মনে হয়। এ বাস্তবতায় ব্যাপকভাবে একে একে হল ধ্বংস হতে লাগল। হল বাঁচানোর জন্য সরকার ২০১০ সালে জানুয়ারিতে ভারতীয় বাজারি ছবি আমদানির সিদ্ধান্ত নিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ভারতীয় ছবি প্রবেশের বিষয়ে আমদানি নীতিমালায় বিধি-নিষেধ নিজেই তুলে নেয়। ১৯৭২ সাল থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের আমদানিনীতির প্রায় সবটিতেই স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ আছে, 'উপমহাদেশের ভাষায় প্রস্তুতকৃত কোনো ছায়াছবি (সাব টাইটেলসহ বা সাব টাইটেল ব্যতীত) আমদানি করা যাবে না। ইংরেজি ভাষায় নির্মিত চলচ্চিত্র সাব টাইটেল ছাড়াও অন্যান্য ভাষায় নির্মিত চলচ্চিত্র বাংলা বা ইংরেজি সাবটাইটেলসহ আমদানি করা যাবে। এ উপধারাটিতেও বন্ধনীর মধ্যে বলা আছে 'উপমহাদেশের ভাষা প্রস্তুতকৃত ছবি ব্যতীত'। সরকার আমদানি নীতি আদেশ ২০০৯-২০১২-এ উপরোক্ত ধারাটি বিলোপ করে। ফলে উপমহাদেশে কোনো ছবি সাব টাইটেলসহ বা সাব টাইটেল ছাড়া আমদানির আর বাধা থাকে না। কিন্তু দেশি চলচ্চিত্র পরিচালক শিল্পী কলাকুশলীদের প্রবল আপত্তির মুখে সরকার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলে সরকার আবার বিধি-নিষেধ আরোপ করেন।
সরকারের এ নিষেধাজ্ঞার বিচারে আমদানিকারক ও প্রদর্শকদের উচ্চ আদালতে রিট করলে আদালতের নির্দেশে উল্লেখিত সময়ে যেসব ছবি আমদানির জন্য ঋণপত্র বা এলসি খোলা হয়, সেসব ছবিকে তথ্য মন্ত্রণালয় অনাপত্তিপত্র দেয়। এই অনাপত্তিপত্রের মাধ্যমই প্রথম দফায় তিনটি ভারতীয় বাংলা ছবি আমদানি করা হয়। পরে ছবি তিনটি চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পাওয়ার পর গত ২৩ ডিসেম্বর সেগুলো ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের ছয়টি হলে প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি আগেই ঋণপত্র খোলা হয়েছে এমন অজুহাত দেখিয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে আরো ৯টি ভারতীয় হিন্দি ছবি আমদানির।
গত ২০ বছর যথেচ্ছ স্যাটেলাইট চ্যানেলের প্রাদুর্ভাবে ও বাংলা ছবির ব্যর্থতায় পরিবর্তিত রুচির দর্শক সৃষ্টি হয়েছে। তাদের হলে ফিরিয়ে ব্যবসা করা সম্ভব নয়। তারা যদি ভারতীয় বাজারি ছবি এনে হল ভরতে পারে তবে এসব ভোক্তা সাংস্কৃতিক উপকরণ আমদানি করার চেষ্টা বৈধতা পাবে। এতে দেশি চলচ্চিত্র শিল্পের কী ক্ষতি হবে, তা বিবেচ্য নয়। মুনাফাই আসল কথা। ২০ বছর ধরে আকাশ খুলে দিয়ে ও পর্নোগ্রাফি চর্চা করে যে ভুল করা হয়েছিল তারই প্রলম্বিত ও পরিণত রূপ হলে হিন্দি ছবি প্রদর্শন। দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের কফিনের শেষ পেরেক। ইতিমধ্যে দেশে তরুণ কিছু নির্মাতার উদ্ভব হয়েছে। ২০ বছরের ঘন অন্ধকার সরিয়ে টানেলের প্রান্তে যখন কিছু আলোর মুখ দেখা যাচ্ছে, সমাজের গতিশীল মানুষের সিনেমা যখন তৈরি করার চেষ্টা হচ্ছে, তখন তাদের এমন প্রয়াস কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। তারা বাংলা চলচ্চিত্রের স্বকীয় বিকাশ, বাংলাদেশের মানুষের কথা, লোকসাহিত্যের সরলতা চায় না। তারা কেবল মুনাফা করতে চায়।
ঘরে বসে সিনেমা দেখতে বাধা না থাকলে
হলে দেখতে বাধা কোথায়?
মানুষ সৃষ্টিশীল প্রাণী_রস সৃষ্টিতেও সে যেমন সৃষ্টিশীল, তেমনি রস আস্বাদনেও তার সৃষ্টিশীলতা না থাকলে যেকোনো মহৎ সৃষ্টি ব্যর্থ হতে বাধ্য। মানুষ তার পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে সব ধরনের অনুভূতি গ্রহণ করে এবং তা থেকে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টিশীলভাবে ব্যক্ত করে। যথাক্রমে চক্ষু-কর্ণ-নাসিকা-জিহ্বা-তক। তার অনুভূতি যন্ত্রগুলোকে অনুরণিত করার জন্য তাই রয়েছে টেঙ্ট, ছবি, শব্দ, ঘ্রাণ-স্বাদ-প্রভৃতি। যা শিল্পরূপ লাভ করে সাহিত্য-চিত্রকলা বা সংগীত-সুরভি বা খাদ্যে। সাহিত্য সব অনুভূতি শব্দ বা বাক্যের মাধ্যমে বিমূর্তভাবে সবার অনুভূতিতে আসে। সিনেমা আধুনিকতম শিল্প মাধ্যম। সেখানে চক্ষু-কর্ণ একই সঙ্গে তথ্য গ্রহণ করে। তাই এর প্রভাব অনেক বেশি।
ভালো ছবি যেমন কোনো জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য সংস্কৃতি ও জীবনধারার প্রতিফলন ঘটাতে পারে, তেমনি দর্শকের দেশ কাল ইতিহাসের পরিচয় মুছে দিয়ে তাকে স্রেফ ভোক্তায় পরিণত করতে পারে চলচ্চিত্র। তখন নির্মাতা ও দর্শকের মধ্যে সৃষ্টিশীলতার সম্পর্ক থাকে না। তাদের মধ্যে সম্পর্ক হয় বিকিকিনির, দোকানদার আর খদ্দেরের। লক্ষ্য তখন লাভ-ক্ষতির। নির্মাতা, প্রযোজক তখন দর্শককে দেখেন ভোক্তা হিসেবে, তুলে আনতে চান সর্বোচ্চ মুনাফা। ভোক্তার চাহিদা পূরণের জন্য দরকার পড়ে আইটেম গান- অ্যাকশন, যৌনতায় ভরপুর সব উপকরণ। ফিটফাট এসব পণ্য তখন মুগ্ধ করে খদ্দেররূপী দর্শককে।
তথাকথিত ভারতীয় জাতীয়তাবাদের কালচারাল অ্যাম্বাসাডর হলো বলিউডি সিনেমা। তিন মহাদেশ দাপিয়ে বেড়ায় যে ভারতীয় সিনেমা, এ শুধু সিনেমা নয়, একই সঙ্গে ভারতের বিজ্ঞাপন, তার আঞ্চলিক দাপটের প্রকাশ এবং তার সাংস্কৃতিক শক্তির আগ্রাসনী চিহ্ন। তার পুঁজির ক্ষমতা প্রকাশও বটে। অস্কার-কানের লাল গালিচায় পদচারণ করে তারা বলতে চায় আমরাও আছি, শক্তভাবেই আছি এবং আরো বড় হয়ে আসছি। ইংল্যান্ড-আমেরিকার বঙ্ অফিসের প্রথম দশে দু-একটি বলিউডি সিনেমা মাঝেমধ্যেই থাকে। সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক-সামরিক শক্তি হিসেবে তারা যে দখলদারিত্ব কায়েম করতে চায়, তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে এসব সিনেমায়। মিডিয়া একটি রাজনৈতিক সামরিক হাতিয়ার, সে তো গোয়েবলসই দেখিয়ে দিয়েছিলেন গত শতকের প্রথমার্ধে। এই দখলদারিত্ব কায়েমের প্রথম পদক্ষেপ হলো তাদের ছোট পর্দা দখল। সেখানে কেবল বলিউডি সংস্কৃতির (ভুল বুঝবেন না, ভারতীয় সংস্কৃতির নয়, ভারতীয় সংস্কৃতি বলে কিছু নেই। ভারতবর্ষ বহু সাংস্কৃতিক সত্তার সমাবেশ) দখলদারিত্বই কেবল বিস্তার হয় না, ভারতীয় পণ্যের প্রচার-প্রসার ও বিজ্ঞাপনও হয়। একটু একটু করে মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয় পণ্য সংস্কৃতি। সেখানে পণ্যের বিজ্ঞাপন করেন সিনেমার নায়ক-নায়িকারা। আবার একটু পরই তাঁদের দেখা যায় বাজারি সিনেমায়, অ্যাকশন বা যৌন সুড়সুড়ি দেওয়া দৃশ্যে। টিভি চ্যানেলগুলো আসলে বিজ্ঞাপন বা অনুষ্ঠান দর্শকদের কাছে বিক্রি করে না, বরং দর্শকদের বিক্রি করে ভারতীয় পুঁজিপতি ব্যবসায়ী নির্মাতা-প্রযোজকদের কাছে। তাই আমাদের মগজ-মননের চরদখল যেমন টিভি চ্যানেলে হয়, তেমনি তার প্রসার হয় সিনামা হলে। এ কারণে টিভি যেমন জায়েজ হয় না, তেমনি প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়ে হলে ভারতীয় বাজারি সিনেমা আনাও নৈতিক বৈধতা পায় না।
প্রতিযোগিতা হচ্ছে না বলে কি ভালো সিনেমা হচ্ছে না!
দেশি চলচ্চিত্রের মানহীনতা আর সিনেমা শিল্পের মন্দার দোহাই দিয়ে একদল লোক বলছে প্রতিযোগিতা নেই বলে ভালো সিনেমা হচ্ছে না! উত্তম বচন। আমাদের দেশের ক্রিকেট দলের মান তুলনামূলক খারাপ। ভারতের 'এ' দল আমাদের জাতীয় দলের চেয়ে ভালো বলেই বোধ হয়। তবে আমরা একই যুক্তিতে আমাদের জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের নিজ গ্রামে ফেরত পাঠিয়ে ভারতীয় 'এ' দলের খেলোয়াড়দের জাতীয় দলে নিয়োগ করি না কেন? আমার যা আছে, তা ভালো হোক মন্দ হোক আমারই। আর যতক্ষণ তা আছে, তার বিকাশের পথও উন্মুক্ত আছে। আমাদের চলচ্চিত্র আপাত মানহীন, তাই বলে আমরা তাকে ভারতীয় চলচ্চিত্র দিয়ে প্রতিস্থাপন করতে পারি না। আসলে আমাদের তরুণ প্রজন্মের কিছু চলচ্চিত্রকার খুব সম্ভাবনা দেখাচ্ছেন বলেই বাজার দখল করার জন্য স্থায়ী পুঁজির এ রকম তড়িঘড়ি।
আর প্রতিযোগিতা সৃষ্টির কথা যাঁরা বলেন, তাঁদের কথা আরো হাস্যকর। তিন মহাদেশ দাপিয়ে বেড়ানো বলিউডি ছবির প্রবল পুুঁজির সঙ্গে টিকে থাকবে দুর্বল বাংলা ছবির ফটকাপুঁজি। অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা কী বলে? হলিউডি-বলিউডি ছবির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় কি টিকে আছে ব্রাজিল মেক্সিকো, ফিলিপাইন, নাইজেরিয়ার ছবি? উত্তর সোজা। টিকে থাকতে না পেরে এসব দেশের ছবির বাজার এখন মার্কিন ও ভারতীয় পুঁজির দখলে। এর পরও ইন্ডাস্ট্রি বাঁচাতে ভারতীয় ছবির ড্রিম ফ্যাক্টরি কী করে ভরসাস্থল হয়?
তাঁরা বলছেন প্রটেকশন আর প্রতিযোগিতাহীনতাই মূল সমস্যা। এ কথা মেনে নেওয়া যাচ্ছে না, কারণ দুই দশক ধরে চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিকে স্যাটেলাইট চ্যানেলের মোকাবিলা করতে হয়েছে। টেলিভিশনের দাপটে দেশি সিনেমা হলগুলো হারিয়েছে মধ্যবিত্ত দর্শক। আর এখন ভারতীয় বাজারি ছবি দেশি চলচ্চিত্রকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে উৎখাতের মুখে। আগেই উল্লেখ করেছি, বাংলা সিনেমার মান একটি বিশেষ দিকে মোড় নেয় ৯০ দশকে। দুর্বল অবকাঠামো আর পুঁজিতে তাকে অসম প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতে হয়েছে। আজ পর্যন্ত রাষ্ট্র একটি ফিল্ম ইনস্টিটিউট গড়ে তুলতে পারেনি। কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এ সম্পর্কিত কোর্স নেই, গবেষণা নেই, স্থায়ী পুঁজি নেই। এ অবস্থাকে কিভাবে প্রটেকশনরূপে চিহ্নিত করা যায় তা বিবেচ্য।
আরেকটি কথা বলেন অনেকে; ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত ভারত ও পাকিস্তানি ছবির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে ঢাকায় চলচ্চিত্র নির্মিত হতো। কিন্তু তাঁরা ভুলে যান ১৯৬৫ সালে ঢাকায় বছরে কয়টি চলচ্চিত্র নির্মিত হতো? তিন-চারটির বেশি নয়। বাংলা ভাষায় দেশি কলাকুশলী ও শিল্পীদের ছবি বলেই দর্শক বিপুল সমারোহে সেগুলো দেখতে যেত। ঢাকার তখনো ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি বলতে কিছু তৈরি হয়নি। ১৯৬৫ সালের পর ভারতীয় চলচ্চিত্র বন্ধ করে দেওয়ার পরই ঢাকায় বাস্তবিক অর্থে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি সৃষ্টি হয়েছে। জহির রায়হান, খান আতা, কাজী জহির, এহতেশাম মুস্তাফিজ, নারায়ণ ঘোষ মিতা, কামাল আহমেদের মতো পরিচালক কলাকুশলী শিল্পীরা সামনে উঠে আসতে পেরেছেন প্রটেকশন দেওয়ার পরই। তাঁরা তাঁদের স্বাধীন পথ চিনে নিতে পেরেছেন।
অধুনা চলচ্চিত্রকার টিভি ব্যক্তিত্ব গদ্যলেখক হুমায়ূন আহমেদ সংবাদপত্রের মন্তব্য প্রতিবেদনে লেখেন 'বহুত দিন হোয়ে' নামে। তিনি মন্তব্য করেন, বাংলা চলচ্চিত্র এমন কোনো 'রসগোল্লা' নয় এবং তিনি সারভাইভাল অব দ্য ফিটেস্ট তত্ত্ব বিস্তার করেন। তাঁর কাছে হাস্যকর মনে হয়, 'এ দেশের আইন হলো আনফিটকে সারভাইভ করার সুযোগ করে দেওয়া।'
বটে! তাঁর যুক্তি মতে, দেশে কনসেনট্রেশন ক্যাম্প খুলে সব প্রতিবন্ধী হত্যা করা উচিত। চমৎকার ফ্যাসিস্ট তিনি। তিনি রম্যলেখক, রম্য চলচ্চিত্রকার। বাণিজ্যিক ছবির মতো ৪০-৫০টি প্রিন্ট তিনি করেন না। অল্প বিনিয়োগে কয়েকটি প্রিন্ট করিয়ে ধাপে ধাপে কয়েকটি হলে ছবি চালিয়ে তিনি টাকা তুলে নেন। ব্যবসায়িক বুদ্ধিমত্তা তাঁর প্রখর। ধারণা করা যায়, প্রয়োজন হলে তিনি বাংলা চলচ্চিত্র বানানো ছেড়ে হিন্দি চলচ্চিত্রের আমদানিকারক, পরিবেশক হয়ে যাবেন। নতুবা সরকারি অনুদান নিয়ে দেশেই হিন্দি চলচ্চিত্র বানানো শুরু করবেন। আমরা তাঁর নতুন সৃষ্টিশীলতা দেখতে পাব সে ক্ষেত্রে। আশা করি, তিনি উত্তম প্রতিযোগিতা তৈরি করতে পারবেন।
সিনেমা বাঁচাব না হল বাঁচাব!
যখন এ প্রশ্নটি করা হয়, তখন এর অন্তর্গত ত্রুটিটি চোখ এড়িয়ে যায়। দুটি ভিন্ন মূল্যমানের বিষয়কে আমরা একই নিক্তিতে বিবেচনা করি। এরা পরস্পরের সঙ্গে বিনিময়যোগ্য নয়। একটি দেশের চলচ্চিত্র শিল্প না বাঁচলে তার হল বাঁচানোর প্রশ্ন কিভাবে আসতে পারে তা বোধগোম্য নয়। যেন পাকা ধানে মই দিয়ে এসে ধানের গোলা রক্ষা করার জন্য ছুটে আসা। চলচ্চিত্র তার আপন কালের, আপন সমাজের বাস্তবতার জীবনবোধের প্রতিনিধি। আর হল হলো একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। সিনেমা না বাঁচলে হল বাঁচবে না। এ সহজ সত্যটি মুনাফালোভী হল মালিকরা অনুধাবন করতে চান না। ষাটের দশকে এ দেশে প্রায় ১৫০টি সিনেমা হল ছিল। স্বাধীনতার-উত্তর যুগে তা বাড়তে বাড়তে এসে ঠেকেছে এক হাজার ৪৩৫টিতে। সিনেমার রমরমা যুগে একেকজন হল মালিক তিন-চারটা পর্যন্ত হল প্রতিষ্ঠা করেছেন। আমাদের চলচ্চিত্র শিল্পীদের পরিশ্রম-প্রয়াসে লাভের গুড়টুকু তাঁরা ঠিকই খেয়েছেন। তারপর যখন খারাপ দিন এল, হলের পরিমাণ কমতে কমতে আজ মাত্র ৬০৮টি অবশিষ্ট আছে। প্রেক্ষাগৃহ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, এর মালিকরা সব সময় মুনাফা করতে চান। সে লক্ষ্যেই নব্বইয়ের দশকে তাঁরা হংকং থেকে পর্নোগ্রাফি আমদানি করে এক টিকিটে দুই ছবি দেখিয়ে মুনাফা করেছেন। আমাদের চলচ্চিত্র শিল্পের পতনে তাঁদের দায়িত্বও কম নয়। এসব সুবিধাভোগী হল মালিক তাঁদের মুনাফার মোহেই আজ ঢালাওভাবে ভারতীয় বাজারি ছবি আমদানির চক্রান্ত করছেন। নব্বইয়ের দশকে তাঁদের পর্নোগ্রাফি আমদানি এ দেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে পিছিয়ে দিয়েছে ২০ বছর। আরো শতবর্ষ পিছিয়ে দেওয়ার পথ প্রশস্ত করতে দেশি চলচ্চিত্রকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করার জন্য এখন ভারতীয় বাজারি ছবি আমদানি করার সুর তুলেছেন। মুনাফার জন্য তাঁরা সব করতে পারেন।
সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অর্থনৈতিক কারণ। আগে নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের দর্শক মাসে এক দিন সিনেমা হলে যেতে পারতেন। কিন্তু জীবন নির্বাহের ব্যয় ক্রমান্বয়ে বেড়ে যেতে থাকলে কেবল বিনোদনের জন্য মধ্যবিত্তরা বছরেও এক দিন সিনেমা হলে যাওয়া থেকে বিরত থাকলে হলগুলো বাধ্য হয়ে পর্নোগ্রাফি দেখানো শুরু করে।
তাদের এ কর্মকাণ্ডই মধ্যবিত্তদের হলবিমুখ করল। নারীরা হলে যাওয়া বন্ধ করে দিল, সপরিবারে হলে যাওয়ার উপায় থাকল না। হলগুলোর পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেল_ছারপোকার দৌরাত্ম্য বাড়ল। হলগুলোর ধ্বংসের জন্য হল মালিকদের মুনাফা লোভই অনেকাংশে দায়ী। কিন্তু এ দায় চাপানো হচ্ছে চলচ্চিত্র শিল্পের ওপর।
সিনেমা হলগুলোর আসন ব্যবস্থা ভালো নয়। হলে ইয়ারকুলার ঠিকমতো কাজ করে না। মানুষ হলে যায় বিনোদনের জন্য। কিন্তু বিনোদনের উপযুক্ত ব্যবস্থা সিনেমা হলে নেই। উপরন্তু মন্দার এ যুগে মালিকরা হল সংস্কারে আরো বিনিয়োগে আগ্রহী নন। তাঁদের পর্নোগ্রাফির সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার জন্য এবং টিভি চ্যানেলের দৌরা@ে@@@্য টিকে থাকতে গিয়ে চলচ্চিত্র পরিচালকরাও বাংলা চলচ্চিত্রে যুক্ত করেছেন কাটপিস। কিন্তু ঘটনা ঘটনার নিয়মে চলে। তাঁরা মুনাফার লোভে যে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তা বুমেরাং হয়ে তাঁদের ঘাড়ে পড়েছে। একে একে হলগুলো বন্ধ হয়ে গেছে আর মধ্যবর্তী যে শূন্যতা চলচ্চিত্রাঙ্গনে সৃষ্টি হয়েছে, তার স্থান দখল করে নিয়েছে ভারতীয় বাজারি ছবি। এখন তাঁরা আরো আত্মঘাতী হয়ে সেসব ছবিই দেখাতে চাইছেন হলে। এতে যদি দেশি সিনেমা ধ্বংস হয়ে যায়, তবে শিগগিরই দেশে একটা সিনেমা হলও থাকবে না।
টিভি চ্যানেলের নৈরাজ্য!
ডরেমন কার্টুনের নাম শুনেছেন? না শুনলে তিন বছরের অধিক বয়সী যেকোনো মধ্যবিত্ত পরিবারের শিশুর কাছে গিয়ে শব্দটি উচ্চারণ করুন। যদি তার চোখে বা চেহারায় চাঞ্চল্য দেখতে না পান, তবে বর্তমান লেখককে অভিশাপ দিন, কোনো আপত্তি থাকবে না। কার্টুনটি জাপানি; ভাষান্তর করা হয়েছে হিন্দিতে। বিপুল জনপ্রিয় এ কার্টুনটি দিনে ১০ ঘণ্টা বা তার চেয়েও বেশি সময় দেখানো হয়। এতে শিশুদের উপযোগী কিছুই নেই। শুধু তা-ই নয়, এর ভাষা অশিষ্ট হিন্দিবহুল শব্দ ও কাহিনী প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী। এসব কার্টুনের মাধ্যমে যেসব শিশুর সামাজিকীকরণ হচ্ছে, তা আমাদের বাংলাদেশের বাস্তব সমাজজাত নয়। এর মাধ্যমে শিশুরা শিখছে হিন্দি ভাষা, অনেকেই ভালো বাংলা বলতে পারে না, আর কিছু কিছু আবেগ তারা হিন্দি ছাড়া প্রকাশই করতে পারে না। কোনো বিষয়ে অস্বীকৃতি জানায় আমাদের শিশুরা এভাবে, 'কভি নেহি হো সক্তা'। আপনার-আমার সন্তানরা এখন স্বপ্ন দেখে, ভাবে হিন্দিতে। একটি প্রজন্ম এরই মধ্যে সৃষ্টি হয়ে গেছে, যারা ভাবনায়, মননে বিদেশি চেতনা ধারণ করে। বাংলার কাদা-মাটি, জল-হাওয়া তাদের স্বপ্নে নেই। স্বভূমে পরবাসীর মতো তারা রাজস্থানের মরুভূমিতে, দিলি্লর গলিপথে, মুম্বাইয়ের ফুটপাতে পাঞ্জাবের হাবেলিতে জীবনযাপন করে। তারা যখন আমাদের দেশের হাল ধরবে, তখন কী হবে বলে আপনার ধারণা?
এভাবে কিশোর-কিশোরীরা বা তরুণরা আসক্ত নানা ধরনের ভালগার গান ও রিয়ালিটি শোতে, হিন্দি সিনেমায়_তার উপজাত জীবনযাপন পদ্ধতিতেও সুলভ। ঈদ এলে দেখা যায়, বিপণী বিতান তার আক্রা দরের পোশাকের নাম দিচ্ছে সিনেমার বা সিরিয়ালের নায়িকার নামে। ভোক্তা সাংস্কৃতিক বিকাশ হচ্ছে এভাবেই। শাহরুখ-সালমানরা আমাদের মাঠ দাবিয়ে যাচ্ছেন এসে। বাসায় মা-বোন-খালারা সিরিয়ালের মোহে রিমোর্ট হাতছাড়া করছেন না। উচ্চবিত্তদের বাসায় ভিন্ন ভিন্ন সিরিয়াল রুচি চরিতার্থ করার জন্য একাধিক টিভিও দেখা যাচ্ছে। বাজার প্রসারিত হচ্ছে এভাবেই। দু-চার লাইন বলিউডি হিন্দি বলতে না পারলে এখন 'আনকালচারড' প্রতিভাত হচ্ছে তরুণ-তরুণীরা। এ দায় তারা কেন নিতে যাবে? অতএব গড্ডালিকায় গা ভাসানোই সমীচীন। সব দেশেই টিভি চ্যানেলের ওপর সেন্সরশিপ আছে। আকাশ কখনোই মুক্ত নয়।
আমাদের দেশে স্যাটেলাইট চ্যানেল আসা শুরু হয়েছিল নব্বই দশকের শুরুতে এবং এ দশকেই এই সংস্কৃতি চরম বিকাশ লাভ করে। আমাদের ভবিষ্যৎ কী হতে পারে, সে বিষয়ে কোনো ধরনের বিবেচনা না করেই আমাদের আকাশ সবার জন্য মুক্ত করে দিই। এর প্রভাব হয় সুদূর বিস্তারি। মধ্যবিত্তরা হলবিমুখ হয়ে পড়ে। আমাদের সংস্কৃতিক স্বকীয়তা হুমকির মুখে পড়ে। অন্যদিকে ভারতে আমাদের টিভি চ্যানেলগুলোর জনপ্রিয়তা থাকলেও তারা নিজেরা সাংস্কৃতিক ঐক্য রক্ষার জন্য সে দেশে আমাদের চ্যানেল দেখায় না। কেবল ভারত নয়, পৃথিবীর সব দেশই বিদেশি সংস্কৃতির চ্যানেল বিষয়ে রক্ষণশীল। কেবল আমরাই গড্ডালিকায় গা ভাসিয়ে দিই; আবার মুক্তবাজার অর্থনীতির কথা বলে, তথ্য অধিকারের কথা বলে একে বৈধ করি। আসলে মুক্তবাজার অর্থনীতি একটি ভণ্ডামি ছাড়া আর কিছুই নয়।
বিষয়টি কেবল সরলরৈখিক ভারতবিরোধিতার প্রশ্ন নয়!
আগেই বলেছি, তথাকথিত ভারতীয় জাতীয়তাবাদের কালচারাল অ্যাম্বাসাডর হলো বলিউডি বাজারি সিনেমা। ভারতীয় জাতীয়তাবাদ আসলে একটা পলকা সুতোর ওপর টিকে আছে। ভারত বহুজাতির দেশ। তাই একক ভারতীয় জাতীয়তাবাদ বলে কিছু থাকা সম্ভব নয়। সম্ভব নয় বলেই একে ভারতীয় জাতীয়তাবাদ কথাটা কয়েকবার প্রচার করতে হয়। এভাবে ভারতীয় সংস্কৃতি বলতে একক কিছু নেই, তাই বলিউডে তাদের বিকল্প সর্বভারতীয় সংস্কৃতি তৈরি করার একটি ফ্যাক্টরি আছে। সেই সর্বভারতীয় ভারতের সংস্কৃতি আসলে সর্বভারতীয়ও নয়। কেবল উত্তর ভারতের মহারাষ্ট্র, পাঞ্জাব ও দিলি্লর প্রতিনিধিত্ব করে তারা। এমনকি ভাষার ঐক্যও নেই ভারতে। ভারতের ৪০ শতাংশ লোক হিন্দি বলতে বা বুঝতে পারে আর মাতৃভাষা হিন্দি আরো অনেক কমসংখ্যক লোকের। সেই হিন্দি ভাষার মারফতে ভারত নিজেদের বেঁধে রাখার আয়োজন করেছে বলিউডে, তিনটি প্রধান সংস্কৃতির মাধ্যমে নিজেদের ঐক্যবদ্ধ রাখার চেষ্টা করছে। এই তিনটি সংস্কৃতি আবার চরিত্রে শাসকশ্রেণীর প্রতিনিধি বা বুর্জোয়া বা ব্যবসায়ী। তারা তাদের পুঁজির জোরে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে ভারতীয় সংস্কৃতির মুখপাত্র হিসেবে। তাই বলছি, বলিউডি ছবি ভারতীয় ছবির মুখপাত্র নয়। এমনকি এর আগ্রাসনে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারছে না ভারতের অন্যান্য সংস্কৃতির ছবি ইত্যাদি। অনেক স্বকীয়তা, সামর্থ্য ও সম্ভাবনা এবং সর্বোপরি বাজার থাকা সত্ত্ব্বেও দক্ষিণী ছবি মূল ধারায় আসতে পারছে না বলিউডি ছবির দৌরা@ে@@@্য। তেলেগু-মালয়লাম ছবি তো অস্তিত্বের সংকটে পড়ে আছে। কলকাতার বাংলা ছবি স্বকীয়তা হারিয়ে বলিউডি ছবির অনুকরণসর্বস্ব হয়ে পড়ছে। অন্যান্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ইন্ডাস্ট্রিতে একই প্রভাব। সব জায়গায় বৃহৎ পুঁজির হিন্দি সিনেমার চমক ও চটক। হাল ফ্যাশনের গাড়ি, আধুনিক বাড়ি, সুইচ টেপা প্রেম, যৌনতার প্রতীক শান্ত নারী ও পুরুষালি দাপটওয়ালা সহিংস নায়ক আর জীবনবিরোধী মূল্যবোধে সংস্কৃতি হয়ে পড়ছে হিন্দি সিনেমার মতো। তাই বলিউডি হিন্দি সিনেমা কেবল আমাদের দেশের ইন্ডাস্ট্রির জন্য হুমকি নয়। হুমকি তার নিজের দেশের ভিন্ন সংস্কৃতির জন্যও। নিজের দেশের ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতির সত্তাকে সে এরই মধ্যে ধ্বংস করেছে। এখন হাত বাড়িয়ে দিয়েছে আমাদের দিকে। বিষয়টি সরলরৈখিক ভারতবিরোধিতার নয়। বরং বিষয়টির ভরকেন্দ্র হলো ভোক্তা সংস্কৃতির আধিপত্য বিস্তারের বিরোধিতায়। ভারতীয় ভোক্তা সংস্কৃতির প্রচার করে ফ্যাসিস্ট নন্দনতত্ত্ব, যা গ্রাস করে নেয় সবার স্বকীয়তা, নিজস্বতা। সবাইকে পরিণত করে পণ্যে। নিজ দেশে সে যেমন বাজার বাড়াতে সর্বগ্রাসী হয়েছে, তেমনি হাত বাড়িয়েছে বিশ্ব বাজারের দিকে। আর তুলনামূলক দুর্বল শক্তির কারণে আমাদের প্রেক্ষাপটে তাদের প্রভাব নিরঙ্কুশ হবে, তা বুঝতে বেশি আয়াস লাগে না।
সাম্প্রতিক বাংলা সিনেমার হালচাল
বাঙালির মানসে এক দুর্নিবার ঔপনিবেশিকতা আস্তানা গাড়ে প্রধানত কম্পানি আমলে, বেঙ্গল রেনেসাঁর পর। তারা হয়ে পড়ে শক্তিশালীর দুর্বল অনুকারী। ব্রিটিশ শাসকচক্রের সযত্ন তত্ত্বাবধানে সৃষ্ট মধ্যবিত্ত শ্রেণী যারা 'দেখতে নেটিভ, কিন্তু মনে-মননে ব্রিটিশ ও ব্রিটিশ স্বার্থসিদ্ধ করে' তারা এই দুর্বল অনুকরণের পরম্পরা আজও জারি রেখেছে। বিদ্যাসাগর, বঙ্কিম, রবীন্দ্রনাথ, কল্লোল গোষ্ঠীসহ আমরা আজ পর্যন্ত সাহিত্যে পশ্চিমে প্রাপ্ত নির্দেশিকার অনুকরণ করে গেছি। শেখ মুজিব পশ্চিমাধারার জাতীয়তাবাদ চর্চা করে নেতা হয়েছেন আর দেশি ধারার চর্চা করে ভাসানী ১৯৬৯ সালের পর হালে পানি কমই পেয়েছেন। আমাদের বাংলা ছবিও অধুনা ও সর্বদাই ভারতীয় ছবির উপনিবেশ। ১৯৬০-৭০ এর দশকে কিছু ব্যতিক্রম বাদ দিয়ে অনুকরণ করা হতো দিলীপ কুমার ও উত্তম কুমারকে। আজ করা হয় বলিউডি সিনেমাকে। কিন্তু বলিউডি স্থায়ী পুঁজি, কারিগরি দক্ষতা না থাকায় তা দুর্বল অনুকরণেই পর্যবসিত হচ্ছে। ভারতীয় বাজারি ছবির মতো আজগুবি কাহিনী নর্তন-কুর্দন আর জবরজং মারপিটের ব্যবহার পাওয়া যাবে বাংলা ছবিতেও। ফলে ঢাকাই ছবির নির্বিচার পক্ষ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যদিও তার ক্ষমতা তুলনীয় নয় বলিউডি ছবির সঙ্গে। তবু এতেও থাকে ভোক্তা-সংস্কৃতির নানা উপকরণ। গুণগতভাবে হলিউড, বলিউড, ঢালিউডের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। হলিউডি-বলিউডি বাজারি সিনেমা খুব সুস্থধারার সিনেমা হাজির করে এমন নয়। এদের কোনো মূলগত অনৈক্য নেই। উন্নত কারিগরি দক্ষতা, অকর্ষণীয় সংলাপের সুবাদে হলিউড-বলিউড যৌনতা, ভালগার আর ভায়োলেন্স খুব সুন্দর মোড়কে হাজির করে। অন্যদিকে ফাটকা পুঁজির কম বাজেটের বাংলা ছবির সে সামর্থ্য নেই, কারিগরি দক্ষতা নেই, তাই এসব জিনিস তারা সরাসরি দর্শককে দেখায়। ছলটুকু করতে তারা জানে না, পারে না।
আন্দোলনের প্রেক্ষাপট
২০১০ সালে সরকার ভারতীয় বাজারি ছবি আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সচেতন মহলে এই প্রবল প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। সংবাদপত্র ও ব্লগে বিস্তর লেখালেখি শুরু হয় এ নিয়ে। চলচ্চিত্র নির্মাতা, শিল্পী ও কলাকুশলীরা প্রবল প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তাঁদের মধ্যে আছেন প্রকৌশলী কল্লোল মোস্তফা, চলচ্চিত্রশিল্পী রাজ্জাক, আলমগীর, রামেন্দু মজুমদার, নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলাম, গীতিকার মোহাম্মদ রফিকুজ্জামান, ডা. এম এ করিম প্রমুখ। আবার মুদ্রার অপর পিঠও আছে। গদ্য লেখক হুমায়ূন আহমেদ, অধ্যাপক ফাহমিদুল হক, চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির প্রধান কে এম আর মঞ্জুর, বিভিন্ন সিনেমা হল মালিকসহ অনেকে এর পক্ষে কথা বলতে থাকেন। ২০১০ সালের এপ্রিলে চলচ্চিত্র ঐক্য পরিষদ গঠিত হয় এবং তারা ঘোষণা করে, 'দেশে কোনোমতেই ভারতীয় চলচ্চিত্র আসতে দেওয়া হবে না। যদি দেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে ধ্বংস করার জন্য ভারতীয় চলচ্চিত্র আসার সুযোগ করে দেওয়া হয়, তাহলে আমরা আন্দোলনের পথ বেছে নেব। শিল্পী, কলাকুশলীরা তখন ভারতীয় ছবি প্রদর্শনের বিরুদ্ধে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করবে।' এই ঐক্য পরিষদে সংশ্লিষ্ট ছিলেন মিজু আহমেদ, শওকত জামিল, আবদুল লতিফ, গাজী মাজহারুল আনোয়ার, শাহ আলম কিরণ, খসরু প্রমুখ। এ ছাড়া ২০১১ সালের বিভিন্ন সময়ে প্রতিবাদ জানায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম সোসাইটি 'স্ট্যামফোর্ড সিনে ফোরাম'। তারা মানবন্ধন কর্মসূচি পালন করে। সংস্কৃতি মঞ্চ ও নানা ধরনের কর্মসূচি পালন করে। তারপর ২৩ ডিসেম্বর ২০১১ সালে যখন আইনের ফাঁকফোকর গলে এসব ছবি দেখানোর সুযোগ করে দেওয়া হয়। আদালতের নির্দেশনার অজুহাতে তখন অনেকেই চুপ থাকেন, পাছে আদালত অবমাননার ঘেরাটোপে পড়ে যেতে হয়_ এই ভেবে। এফডিসিকেন্দ্রিক আন্দোলনকারীরা মৌন থাকেন। কিন্তু কিছু তরুণ 'ভারতীয় বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র আগ্রাসন প্রতিরোধ আন্দোলন' নাম দিয়ে কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তাঁরা ২১ ডিসেম্বর প্রেসক্লাবে সমাবেশ করেন এবং তথ্য মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের উদ্দেশে যান। কিন্তু পুলিশি বাধায় তা সম্পন্ন করা যায় না। তবে ২৩ ডিসেম্বর যেসব হলে ভারতীয় পর্ন সিনেমা দেখানো হবে, তার সামনে অবস্থান ধর্মঘটের ডাক দেন। প্রবল পুলিশি বাধা সত্ত্বেও শান্তিপূর্ণভাবে তাঁরা অবস্থান ধর্মঘট পালন করেন। এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন নানা বাম রাজনৈতিক দলের নেতারা, বিভিন্ন সমমনা ফিল্ম সোসাইটি, সাংস্কৃতিক সংগঠন, সংবাদপত্র কর্মী, শিল্পী ও কলাকুশলীরা। তাঁরা নিজেদের সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার সিন্ধান্ত নেন।
উত্তরণের উপায়
আমরা পৃথিবীর সব দেশের সিনেমা দেখার পক্ষে। এমনকি সব ধরনের সিনেমা দেখারও পক্ষে। কোনোভাবেই বিদেশি ছবি আমদানিকে সরলরৈখিক প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড়ানো উচিত নয়। বরং সারা দুনিয়ার ভালো ভালো ছবি যাতে আমাদের দেশের সবাই দেখতে পারে, সে জন্য ব্যবস্থা গ্রহণই আমাদের লক্ষ্য। যেখানে বাজারি সিনেমা আমদানি করে বাজারের দখল নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং মানুষকে নিছক ভোক্তায় পরিণত করা হচ্ছে, তা কোনোমতেই সমর্থনযোগ্য নয়। সেই সঙ্গে এটাও বুঝতে বেশি আয়াস লাগে না, ভারতীয় ছবি আমদানি করে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে প্রদর্শন করলেই প্রতিযোগিতা করে আমাদের চলচ্চিত্রের মান ভালো হয়ে উঠবে না, তেমন সমন্বিত চেষ্টা ছাড়া সোনার ডিম পাড়া চলচ্চিত্র শিল্পের প্রভূত উন্নতি হয়ে যাবে। এ শিল্প নানা ঘটনা পরম্পরায় প্রায় ২০ বছর পিছিয়ে গেছে। তবু আমাদের অনেক মেধাবী তরুণ প্রজন্ম পরিচালক ও নির্মাতা উদ্যোগী আছেন। তাঁরা আমাদের ছবি বানানোর জন্য তাঁদের সংগ্রাম জারি রেখেছেন। তাঁদের সংগ্রামের পথ আরেকটু সহজ করার জন্য আমাদের প্রয়াসী হতে হবে। চলচ্চিত্র শিল্পের বিকাশের লক্ষ্যে একটি সমন্বিত জাতীয় চলচ্চিত্র নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। বিদেশি চলচ্চিত্র আমদানি ও প্রদর্শনসংক্রান্ত বিষয়টি এই নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত হতে হবে। চলচ্চিত্র শিল্পের বিকাশে আজ পর্যন্ত একটি ফিল্ম ইনস্টিটিউট নেই। একটি ফিল্ম ইনস্টিটিউট তৈরিতে সরকারি পদক্ষেপ খুবই জরুরি। হলগুলোর অবস্থা খুবই বেগতিক। সেখানে পর্দা ময়লা, প্রজেক্টর নষ্ট। হল মালিকদের দিক থেকে যেমন এসব বিষয়ে সচেতনতা প্রয়োজন, তেমনি অবকাঠামোগত উন্নয়নে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। হলগুলোয় ডিজিটাল সাউন্ড সিস্টেম যুক্ত করতে হবে, সিনেমাস্কোপ লেন্স লাগাতে হবে। বন্ধ সিনেমা হলগুলো আবার চালুর ব্যবস্থা করতে হবে। টিকিটের ওপর আরোপিত কর মুক্ত করে দিতে হবে। এতে হলে জনসমাগম বাড়বে। চলচ্চিত্র নিয়ন্ত্রণ আইন বাতিল করতে হবে। এ ছাড়া ঠুনকো সেন্সর নীতিমালা পরিবর্তন ও কার্যকর সেন্সর বোর্ড গঠন করতে হবে। চলচ্চিত্র শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি কাঁচামাল ও অনুষঙ্গিক বিষয়ের ওপর আমদানি কর সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করতে হবে। মানসম্পন্ন চলচ্চিত্রের চাহিদা পূরণে প্রতিবছর সরকারি অনুদানে নির্মিত চলচ্চিত্রের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে। কেবল মুখ দেখানো অনুদান নয়, প্রদত্ত অনুদান যেন চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য পর্যাপ্ত হয়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। অনুদান কাকে, কেন দেওয়া হচ্ছে_অনুদান প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। দেশি-বিদেশি স্যাটেলাইট চ্যানেল ও অনুষ্ঠান প্রচার বিষয়েও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা আবশ্যক। এমন নানা দিক থেকে সুপরিকল্পিত কাজ করার মাধ্যমে চলচ্চিত্র শিল্পকে এগিয়ে নেওয়া খুবই সম্ভব। কিন্তু একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, সিদ্ধান্তগুলো যেন আগের মতোই আত্মঘাতী না হয়।
কায়েমি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর নানা নতুন নতুন ফিকিরে একটু একটু করে নষ্ট হয়েছে ঢাকাই সিনেমা। অবাধ আকাশ দিয়ে অনুপ্রবেশ করেছে, মগজের ওপর দখল প্রতিষ্ঠা করেছে বাজারি ছবি, সেই সঙ্গে জনগণের পকেটও কাটা হয়েছে, পর্নোগ্রাফি চর্চা করা হয়েছে, ইন্দ্রিয়বৃত্তি উসকে দিয়ে মস্তিষ্ক নিশ্চল করার কাজে সিনেমা ব্যবহার হয়েছে। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ফাহমিদুল হক বলেন 'আইনগত দিক থেকে এভাবে সরকার ভারতীয় ছবির প্রদর্শন নিষিদ্ধ করে রাখতে পারে না।' আমরা বলি, আইন না থাকলে আইন প্রণয়ন করলেই তো ল্যাঠা চুকে যায়। আগ্রাসনবিরোধী আইন নেই দেখিয়ে আগ্রাসন জায়েজ করা আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক দৈন্য প্রকাশ। শুধু অধ্যাপকরাই নন, একই ধরনের চিন্তার মন্ত্রী, আমলা ও নীতিনির্ধারকদের কারণে আমাদের চলচ্চিত্র শিল্প আজ হুমকির মুখে। চলচ্চিত্র ডোবে ডুবুক, আমরা আমাদের টাকা উঠাতে চাই লাভ করে, আঙুল ফুলে কলাগাছ হতে চাই_এরূপ মানসিকতার কারণে বিলুপ্তির আশঙ্কা আরো বেড়েছে। চলচ্চিত্র কখনো আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে অতি বুদ্ধিবৃত্তিক আঁতেল উদ্ধারকর্তাদের মাধ্যমেও। এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে আমরা বাংলা চলচ্চিত্রের বিকাশ কুসুমাস্তীর্ণ করব, নাকি কণ্টকাকীর্ণ করব।
শেষ কথা
শেষ কথা সহজভাবে বলতে গেলে লড়াইটা পুঁজির, লড়াইটা রাজনীতির, দখলদারিত্ব বিস্তারের, আধিপত্যবাদ কায়েমের। সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আমাদের নিজেদের দৈন্য। ভারতীয় বাজারি ছবি আমাদের দেশে আসার এক হাজার একটা যুক্তি থাকতে পারে কিন্তু একই যুক্তি ভারতের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হওয়া উচিত। কিন্তু হবে না। এই হলো উদার নীতির উদারতা, মুক্তবাজারের মুক্তি। উদারতা কেবল দেখায় কম শক্তির গরিবরা। মুক্ত থাকে কেবল গরিবের বাজার। আর শক্তিশালীদের বাজারে ঢুকতে গেলেই নানা নিয়ম-নীতির চোখ রাঙানিতে পালানো ছাড়া গতি থাকে না। ভারতের আকাশ সংস্কৃতি যেভাবে বিস্তার লাভ করেছে আমাদের দেশে, আমাদের টিভি চ্যানেলগুলো সেভাবে কেন যেতে পারছে না ভারতে? আমাদের কিছু তো ভালো ছবি আছে, ভারতের তিনটি ছবি আমাদের দেশের হলে এল, আমাদের তিনটি ছবি কেন একই সমারোহে ভারতের হলে দেখানো হচ্ছে না? রক্ষণশীলতা দেখাচ্ছে কেবল ভারতই। আমাদের যেন রক্ষা করার মতো কিছুই নেই। আমাদের অনেক ব্যর্থতা আছে, চলচ্চিত্রে ভিন্ন সফলতাও তো কম নয়। সেই সাফল্য খুঁজতেও খুব কষ্ট হয় না। জহির রায়হান থেকে শুরু করে আমাদের তারেক মাসুদ, মোস্তফা সরয়ার ফারুকি, নুরুল আলম আতিক কম কিছু অর্জন করেননি। কিন্তু তাঁদের পদে পদে নানা আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় পড়তে হয়েছে। তাঁদের অবাধ বিচরণের পথ বন্ধ করা হয়েছে। জহির রায়হানের সময় ছিল বিদেশি বুর্জোয়া শাসকরা। আজ এসেছে তাদেরই দেশি প্রতিনিধিরা। শোষণের পদ্ধতি, দাবিয়ে রাখার উপায় একই আছে। কিন্তু বিরুদ্ধ পরিস্থিতিতেই সত্য সবচেয়ে শানিতভাবে বেরিয়ে আসবে, সবচেয়ে শক্তি নিয়ে প্রকাশিত হবে_তা এসব বিদেশি আধিপত্যবাদী ও তার দেশি গোলামরা ভুলে গেছেন। ইতিহাস তাঁরা পড়েন না, পড়লে তা জানতেন।
আমরা ইমেজের নিরঙ্কুশ ক্ষমতায় আস্থা রাখি। যে ইমেজের ভিত্তি অসত্য, অন্যায় শোষণ; তার পরাজয় নিশ্চিত জেনেই আমাদের প্রতিরোধ অব্যাহত রাখতে হবে। সিনেমায় আমরা আমাদের জীবন ও সংস্কৃতির প্রকাশ দেখতে চাই, সিনেমাকে পুঁজির দাসত্বমুক্ত ও জনগণের স্বার্থের প্রতিনিধি হিসেবে চাই।
১৯৬৫ সালের পাকিস্তান-ভারত ভাগের আগ পর্যন্ত আমাদের দেশে বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি ও উর্দু ভাষায় সিনেমা চলত। ১৯৬৫ সালে যুদ্ধের প্রতিক্রিয়া হিসেবে আইয়ুব সরকার এক ডিক্রি জারি করে ভারতীয় ছবি এ দেশে নিষিদ্ধ করে। দেশীয় চলচ্চিত্রের স্বার্থরক্ষায় ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে ভারতীয় ছবি প্রচারে নিষেধাজ্ঞা বহাল রইল এবং উর্দু ছবিও নিষিদ্ধ করা হলো। শুরু হলো এফডিসির স্বর্ণযুগ, বিনোদনভিত্তিক ছবি তারা বানাতে থাকল, একে একে দ্রুত বাজার বিস্তার হলো এবং প্রায় দেড় হাজারের মতো তৈরি হলো, যেখানে ১৯৭২ সালে হলো শতাধিক। এমনকি লাভের মুখ দেখেন হল মালিকরা। প্রযোজক হয়ে গেলেন অনেকে। অনেকেই একাধিক হল দিয়ে ব্যবসা জাঁকিয়ে বসলেন। আশির দশকে চলচ্চিত্র শিল্প হিসেবে অভিহিত হওয়ার গৌরব অর্জন করল। এরপর প্রথম আঘাত এল স্যাটেলাইট টিভির মাধ্যমে নব্বই দশকে অবিবেচকের মতো আকাশ মুক্ত করে দেওয়ায়। ফলে হুমকির মুখোমুখি হলো দেশি চলচ্চিত্র শিল্প। সেই সঙ্গে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী হংকং থেকে পর্নোগ্রাফি আমদানি করে হলে প্রদর্শন করতে থাকল। এতে মধ্যবিত্ত ও পারিবারিক দর্শক হলবিমুখ হলো, প্রতিভাবান নির্মাতা ও কলাকুশলীরা সরে গেলেন। আর নতুন যাঁরা এলেন তাঁরা দেশি ছবিতেই অশ্লীলতার জোয়ার বইয়ে দিলেন। যেনতেনভাবে কিছু ছবি শুট করে তার সঙ্গে রিল ভরে পর্নোগ্রাফি ঢুকিয়ে দেওয়া হতো সে সময়। অনেক সময় তাঁরা নিজেরাই রগরগে দৃশ্যের কাটপিস রাখতেন। এসব করার জন্য কোনো সৃষ্টিশীল নির্মাতা বা কলাকুশলীর দরকার হতো না। কম পয়সায় এসব ছবি দিয়ে নব্বই দশক পর্যন্ত হল মালিকরা চুটিয়ে ব্যবসা করলেন। কিন্তু পরবর্তী সময় সরকারি কঠোর হস্তক্ষেপে যখন এসব বন্ধ হলো, তখন হল মালিকসহ সব চলচ্চিত্র শিল্প কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল। দেশি চলচ্চিত্রের দর্শকদের মানসিক পরিবর্তন হলো, দেশি চলচ্চিত্র থেকে অনেক দূরে চলে গেছে। এই ১০ বছরে সুস্থ চলচ্চিত্র চর্চা না হওয়ায় এর মান এগোয়নি; কিন্তু দর্শকের কাছে টিভি-ভিসিডির মাধ্যমে অনেক বিকল্প চলে এসেছে, তার অভ্যস্ততা পরিবর্তিত হয়েছে, মানুষ আর হলমুখী নয়। বিনোদনের জন্য তাকে আর প্রেক্ষাগৃহে যেতে হয় না। আর যদিওবা যায়, গ্লামারাস হিন্দি বা হলিউডি সিনেমার তুলনায় বাংলা ছবি তার কাছে পানসে মনে হয়। এ বাস্তবতায় ব্যাপকভাবে একে একে হল ধ্বংস হতে লাগল। হল বাঁচানোর জন্য সরকার ২০১০ সালে জানুয়ারিতে ভারতীয় বাজারি ছবি আমদানির সিদ্ধান্ত নিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ভারতীয় ছবি প্রবেশের বিষয়ে আমদানি নীতিমালায় বিধি-নিষেধ নিজেই তুলে নেয়। ১৯৭২ সাল থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের আমদানিনীতির প্রায় সবটিতেই স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ আছে, 'উপমহাদেশের ভাষায় প্রস্তুতকৃত কোনো ছায়াছবি (সাব টাইটেলসহ বা সাব টাইটেল ব্যতীত) আমদানি করা যাবে না। ইংরেজি ভাষায় নির্মিত চলচ্চিত্র সাব টাইটেল ছাড়াও অন্যান্য ভাষায় নির্মিত চলচ্চিত্র বাংলা বা ইংরেজি সাবটাইটেলসহ আমদানি করা যাবে। এ উপধারাটিতেও বন্ধনীর মধ্যে বলা আছে 'উপমহাদেশের ভাষা প্রস্তুতকৃত ছবি ব্যতীত'। সরকার আমদানি নীতি আদেশ ২০০৯-২০১২-এ উপরোক্ত ধারাটি বিলোপ করে। ফলে উপমহাদেশে কোনো ছবি সাব টাইটেলসহ বা সাব টাইটেল ছাড়া আমদানির আর বাধা থাকে না। কিন্তু দেশি চলচ্চিত্র পরিচালক শিল্পী কলাকুশলীদের প্রবল আপত্তির মুখে সরকার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলে সরকার আবার বিধি-নিষেধ আরোপ করেন।
সরকারের এ নিষেধাজ্ঞার বিচারে আমদানিকারক ও প্রদর্শকদের উচ্চ আদালতে রিট করলে আদালতের নির্দেশে উল্লেখিত সময়ে যেসব ছবি আমদানির জন্য ঋণপত্র বা এলসি খোলা হয়, সেসব ছবিকে তথ্য মন্ত্রণালয় অনাপত্তিপত্র দেয়। এই অনাপত্তিপত্রের মাধ্যমই প্রথম দফায় তিনটি ভারতীয় বাংলা ছবি আমদানি করা হয়। পরে ছবি তিনটি চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পাওয়ার পর গত ২৩ ডিসেম্বর সেগুলো ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের ছয়টি হলে প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি আগেই ঋণপত্র খোলা হয়েছে এমন অজুহাত দেখিয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে আরো ৯টি ভারতীয় হিন্দি ছবি আমদানির।
গত ২০ বছর যথেচ্ছ স্যাটেলাইট চ্যানেলের প্রাদুর্ভাবে ও বাংলা ছবির ব্যর্থতায় পরিবর্তিত রুচির দর্শক সৃষ্টি হয়েছে। তাদের হলে ফিরিয়ে ব্যবসা করা সম্ভব নয়। তারা যদি ভারতীয় বাজারি ছবি এনে হল ভরতে পারে তবে এসব ভোক্তা সাংস্কৃতিক উপকরণ আমদানি করার চেষ্টা বৈধতা পাবে। এতে দেশি চলচ্চিত্র শিল্পের কী ক্ষতি হবে, তা বিবেচ্য নয়। মুনাফাই আসল কথা। ২০ বছর ধরে আকাশ খুলে দিয়ে ও পর্নোগ্রাফি চর্চা করে যে ভুল করা হয়েছিল তারই প্রলম্বিত ও পরিণত রূপ হলে হিন্দি ছবি প্রদর্শন। দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের কফিনের শেষ পেরেক। ইতিমধ্যে দেশে তরুণ কিছু নির্মাতার উদ্ভব হয়েছে। ২০ বছরের ঘন অন্ধকার সরিয়ে টানেলের প্রান্তে যখন কিছু আলোর মুখ দেখা যাচ্ছে, সমাজের গতিশীল মানুষের সিনেমা যখন তৈরি করার চেষ্টা হচ্ছে, তখন তাদের এমন প্রয়াস কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। তারা বাংলা চলচ্চিত্রের স্বকীয় বিকাশ, বাংলাদেশের মানুষের কথা, লোকসাহিত্যের সরলতা চায় না। তারা কেবল মুনাফা করতে চায়।
ঘরে বসে সিনেমা দেখতে বাধা না থাকলে
হলে দেখতে বাধা কোথায়?
মানুষ সৃষ্টিশীল প্রাণী_রস সৃষ্টিতেও সে যেমন সৃষ্টিশীল, তেমনি রস আস্বাদনেও তার সৃষ্টিশীলতা না থাকলে যেকোনো মহৎ সৃষ্টি ব্যর্থ হতে বাধ্য। মানুষ তার পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে সব ধরনের অনুভূতি গ্রহণ করে এবং তা থেকে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টিশীলভাবে ব্যক্ত করে। যথাক্রমে চক্ষু-কর্ণ-নাসিকা-জিহ্বা-তক। তার অনুভূতি যন্ত্রগুলোকে অনুরণিত করার জন্য তাই রয়েছে টেঙ্ট, ছবি, শব্দ, ঘ্রাণ-স্বাদ-প্রভৃতি। যা শিল্পরূপ লাভ করে সাহিত্য-চিত্রকলা বা সংগীত-সুরভি বা খাদ্যে। সাহিত্য সব অনুভূতি শব্দ বা বাক্যের মাধ্যমে বিমূর্তভাবে সবার অনুভূতিতে আসে। সিনেমা আধুনিকতম শিল্প মাধ্যম। সেখানে চক্ষু-কর্ণ একই সঙ্গে তথ্য গ্রহণ করে। তাই এর প্রভাব অনেক বেশি।
ভালো ছবি যেমন কোনো জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য সংস্কৃতি ও জীবনধারার প্রতিফলন ঘটাতে পারে, তেমনি দর্শকের দেশ কাল ইতিহাসের পরিচয় মুছে দিয়ে তাকে স্রেফ ভোক্তায় পরিণত করতে পারে চলচ্চিত্র। তখন নির্মাতা ও দর্শকের মধ্যে সৃষ্টিশীলতার সম্পর্ক থাকে না। তাদের মধ্যে সম্পর্ক হয় বিকিকিনির, দোকানদার আর খদ্দেরের। লক্ষ্য তখন লাভ-ক্ষতির। নির্মাতা, প্রযোজক তখন দর্শককে দেখেন ভোক্তা হিসেবে, তুলে আনতে চান সর্বোচ্চ মুনাফা। ভোক্তার চাহিদা পূরণের জন্য দরকার পড়ে আইটেম গান- অ্যাকশন, যৌনতায় ভরপুর সব উপকরণ। ফিটফাট এসব পণ্য তখন মুগ্ধ করে খদ্দেররূপী দর্শককে।
তথাকথিত ভারতীয় জাতীয়তাবাদের কালচারাল অ্যাম্বাসাডর হলো বলিউডি সিনেমা। তিন মহাদেশ দাপিয়ে বেড়ায় যে ভারতীয় সিনেমা, এ শুধু সিনেমা নয়, একই সঙ্গে ভারতের বিজ্ঞাপন, তার আঞ্চলিক দাপটের প্রকাশ এবং তার সাংস্কৃতিক শক্তির আগ্রাসনী চিহ্ন। তার পুঁজির ক্ষমতা প্রকাশও বটে। অস্কার-কানের লাল গালিচায় পদচারণ করে তারা বলতে চায় আমরাও আছি, শক্তভাবেই আছি এবং আরো বড় হয়ে আসছি। ইংল্যান্ড-আমেরিকার বঙ্ অফিসের প্রথম দশে দু-একটি বলিউডি সিনেমা মাঝেমধ্যেই থাকে। সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক-সামরিক শক্তি হিসেবে তারা যে দখলদারিত্ব কায়েম করতে চায়, তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে এসব সিনেমায়। মিডিয়া একটি রাজনৈতিক সামরিক হাতিয়ার, সে তো গোয়েবলসই দেখিয়ে দিয়েছিলেন গত শতকের প্রথমার্ধে। এই দখলদারিত্ব কায়েমের প্রথম পদক্ষেপ হলো তাদের ছোট পর্দা দখল। সেখানে কেবল বলিউডি সংস্কৃতির (ভুল বুঝবেন না, ভারতীয় সংস্কৃতির নয়, ভারতীয় সংস্কৃতি বলে কিছু নেই। ভারতবর্ষ বহু সাংস্কৃতিক সত্তার সমাবেশ) দখলদারিত্বই কেবল বিস্তার হয় না, ভারতীয় পণ্যের প্রচার-প্রসার ও বিজ্ঞাপনও হয়। একটু একটু করে মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয় পণ্য সংস্কৃতি। সেখানে পণ্যের বিজ্ঞাপন করেন সিনেমার নায়ক-নায়িকারা। আবার একটু পরই তাঁদের দেখা যায় বাজারি সিনেমায়, অ্যাকশন বা যৌন সুড়সুড়ি দেওয়া দৃশ্যে। টিভি চ্যানেলগুলো আসলে বিজ্ঞাপন বা অনুষ্ঠান দর্শকদের কাছে বিক্রি করে না, বরং দর্শকদের বিক্রি করে ভারতীয় পুঁজিপতি ব্যবসায়ী নির্মাতা-প্রযোজকদের কাছে। তাই আমাদের মগজ-মননের চরদখল যেমন টিভি চ্যানেলে হয়, তেমনি তার প্রসার হয় সিনামা হলে। এ কারণে টিভি যেমন জায়েজ হয় না, তেমনি প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়ে হলে ভারতীয় বাজারি সিনেমা আনাও নৈতিক বৈধতা পায় না।
প্রতিযোগিতা হচ্ছে না বলে কি ভালো সিনেমা হচ্ছে না!
দেশি চলচ্চিত্রের মানহীনতা আর সিনেমা শিল্পের মন্দার দোহাই দিয়ে একদল লোক বলছে প্রতিযোগিতা নেই বলে ভালো সিনেমা হচ্ছে না! উত্তম বচন। আমাদের দেশের ক্রিকেট দলের মান তুলনামূলক খারাপ। ভারতের 'এ' দল আমাদের জাতীয় দলের চেয়ে ভালো বলেই বোধ হয়। তবে আমরা একই যুক্তিতে আমাদের জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের নিজ গ্রামে ফেরত পাঠিয়ে ভারতীয় 'এ' দলের খেলোয়াড়দের জাতীয় দলে নিয়োগ করি না কেন? আমার যা আছে, তা ভালো হোক মন্দ হোক আমারই। আর যতক্ষণ তা আছে, তার বিকাশের পথও উন্মুক্ত আছে। আমাদের চলচ্চিত্র আপাত মানহীন, তাই বলে আমরা তাকে ভারতীয় চলচ্চিত্র দিয়ে প্রতিস্থাপন করতে পারি না। আসলে আমাদের তরুণ প্রজন্মের কিছু চলচ্চিত্রকার খুব সম্ভাবনা দেখাচ্ছেন বলেই বাজার দখল করার জন্য স্থায়ী পুঁজির এ রকম তড়িঘড়ি।
আর প্রতিযোগিতা সৃষ্টির কথা যাঁরা বলেন, তাঁদের কথা আরো হাস্যকর। তিন মহাদেশ দাপিয়ে বেড়ানো বলিউডি ছবির প্রবল পুুঁজির সঙ্গে টিকে থাকবে দুর্বল বাংলা ছবির ফটকাপুঁজি। অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা কী বলে? হলিউডি-বলিউডি ছবির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় কি টিকে আছে ব্রাজিল মেক্সিকো, ফিলিপাইন, নাইজেরিয়ার ছবি? উত্তর সোজা। টিকে থাকতে না পেরে এসব দেশের ছবির বাজার এখন মার্কিন ও ভারতীয় পুঁজির দখলে। এর পরও ইন্ডাস্ট্রি বাঁচাতে ভারতীয় ছবির ড্রিম ফ্যাক্টরি কী করে ভরসাস্থল হয়?
তাঁরা বলছেন প্রটেকশন আর প্রতিযোগিতাহীনতাই মূল সমস্যা। এ কথা মেনে নেওয়া যাচ্ছে না, কারণ দুই দশক ধরে চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিকে স্যাটেলাইট চ্যানেলের মোকাবিলা করতে হয়েছে। টেলিভিশনের দাপটে দেশি সিনেমা হলগুলো হারিয়েছে মধ্যবিত্ত দর্শক। আর এখন ভারতীয় বাজারি ছবি দেশি চলচ্চিত্রকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে উৎখাতের মুখে। আগেই উল্লেখ করেছি, বাংলা সিনেমার মান একটি বিশেষ দিকে মোড় নেয় ৯০ দশকে। দুর্বল অবকাঠামো আর পুঁজিতে তাকে অসম প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতে হয়েছে। আজ পর্যন্ত রাষ্ট্র একটি ফিল্ম ইনস্টিটিউট গড়ে তুলতে পারেনি। কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এ সম্পর্কিত কোর্স নেই, গবেষণা নেই, স্থায়ী পুঁজি নেই। এ অবস্থাকে কিভাবে প্রটেকশনরূপে চিহ্নিত করা যায় তা বিবেচ্য।
আরেকটি কথা বলেন অনেকে; ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত ভারত ও পাকিস্তানি ছবির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে ঢাকায় চলচ্চিত্র নির্মিত হতো। কিন্তু তাঁরা ভুলে যান ১৯৬৫ সালে ঢাকায় বছরে কয়টি চলচ্চিত্র নির্মিত হতো? তিন-চারটির বেশি নয়। বাংলা ভাষায় দেশি কলাকুশলী ও শিল্পীদের ছবি বলেই দর্শক বিপুল সমারোহে সেগুলো দেখতে যেত। ঢাকার তখনো ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি বলতে কিছু তৈরি হয়নি। ১৯৬৫ সালের পর ভারতীয় চলচ্চিত্র বন্ধ করে দেওয়ার পরই ঢাকায় বাস্তবিক অর্থে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি সৃষ্টি হয়েছে। জহির রায়হান, খান আতা, কাজী জহির, এহতেশাম মুস্তাফিজ, নারায়ণ ঘোষ মিতা, কামাল আহমেদের মতো পরিচালক কলাকুশলী শিল্পীরা সামনে উঠে আসতে পেরেছেন প্রটেকশন দেওয়ার পরই। তাঁরা তাঁদের স্বাধীন পথ চিনে নিতে পেরেছেন।
অধুনা চলচ্চিত্রকার টিভি ব্যক্তিত্ব গদ্যলেখক হুমায়ূন আহমেদ সংবাদপত্রের মন্তব্য প্রতিবেদনে লেখেন 'বহুত দিন হোয়ে' নামে। তিনি মন্তব্য করেন, বাংলা চলচ্চিত্র এমন কোনো 'রসগোল্লা' নয় এবং তিনি সারভাইভাল অব দ্য ফিটেস্ট তত্ত্ব বিস্তার করেন। তাঁর কাছে হাস্যকর মনে হয়, 'এ দেশের আইন হলো আনফিটকে সারভাইভ করার সুযোগ করে দেওয়া।'
বটে! তাঁর যুক্তি মতে, দেশে কনসেনট্রেশন ক্যাম্প খুলে সব প্রতিবন্ধী হত্যা করা উচিত। চমৎকার ফ্যাসিস্ট তিনি। তিনি রম্যলেখক, রম্য চলচ্চিত্রকার। বাণিজ্যিক ছবির মতো ৪০-৫০টি প্রিন্ট তিনি করেন না। অল্প বিনিয়োগে কয়েকটি প্রিন্ট করিয়ে ধাপে ধাপে কয়েকটি হলে ছবি চালিয়ে তিনি টাকা তুলে নেন। ব্যবসায়িক বুদ্ধিমত্তা তাঁর প্রখর। ধারণা করা যায়, প্রয়োজন হলে তিনি বাংলা চলচ্চিত্র বানানো ছেড়ে হিন্দি চলচ্চিত্রের আমদানিকারক, পরিবেশক হয়ে যাবেন। নতুবা সরকারি অনুদান নিয়ে দেশেই হিন্দি চলচ্চিত্র বানানো শুরু করবেন। আমরা তাঁর নতুন সৃষ্টিশীলতা দেখতে পাব সে ক্ষেত্রে। আশা করি, তিনি উত্তম প্রতিযোগিতা তৈরি করতে পারবেন।
সিনেমা বাঁচাব না হল বাঁচাব!
যখন এ প্রশ্নটি করা হয়, তখন এর অন্তর্গত ত্রুটিটি চোখ এড়িয়ে যায়। দুটি ভিন্ন মূল্যমানের বিষয়কে আমরা একই নিক্তিতে বিবেচনা করি। এরা পরস্পরের সঙ্গে বিনিময়যোগ্য নয়। একটি দেশের চলচ্চিত্র শিল্প না বাঁচলে তার হল বাঁচানোর প্রশ্ন কিভাবে আসতে পারে তা বোধগোম্য নয়। যেন পাকা ধানে মই দিয়ে এসে ধানের গোলা রক্ষা করার জন্য ছুটে আসা। চলচ্চিত্র তার আপন কালের, আপন সমাজের বাস্তবতার জীবনবোধের প্রতিনিধি। আর হল হলো একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। সিনেমা না বাঁচলে হল বাঁচবে না। এ সহজ সত্যটি মুনাফালোভী হল মালিকরা অনুধাবন করতে চান না। ষাটের দশকে এ দেশে প্রায় ১৫০টি সিনেমা হল ছিল। স্বাধীনতার-উত্তর যুগে তা বাড়তে বাড়তে এসে ঠেকেছে এক হাজার ৪৩৫টিতে। সিনেমার রমরমা যুগে একেকজন হল মালিক তিন-চারটা পর্যন্ত হল প্রতিষ্ঠা করেছেন। আমাদের চলচ্চিত্র শিল্পীদের পরিশ্রম-প্রয়াসে লাভের গুড়টুকু তাঁরা ঠিকই খেয়েছেন। তারপর যখন খারাপ দিন এল, হলের পরিমাণ কমতে কমতে আজ মাত্র ৬০৮টি অবশিষ্ট আছে। প্রেক্ষাগৃহ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, এর মালিকরা সব সময় মুনাফা করতে চান। সে লক্ষ্যেই নব্বইয়ের দশকে তাঁরা হংকং থেকে পর্নোগ্রাফি আমদানি করে এক টিকিটে দুই ছবি দেখিয়ে মুনাফা করেছেন। আমাদের চলচ্চিত্র শিল্পের পতনে তাঁদের দায়িত্বও কম নয়। এসব সুবিধাভোগী হল মালিক তাঁদের মুনাফার মোহেই আজ ঢালাওভাবে ভারতীয় বাজারি ছবি আমদানির চক্রান্ত করছেন। নব্বইয়ের দশকে তাঁদের পর্নোগ্রাফি আমদানি এ দেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে পিছিয়ে দিয়েছে ২০ বছর। আরো শতবর্ষ পিছিয়ে দেওয়ার পথ প্রশস্ত করতে দেশি চলচ্চিত্রকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করার জন্য এখন ভারতীয় বাজারি ছবি আমদানি করার সুর তুলেছেন। মুনাফার জন্য তাঁরা সব করতে পারেন।
সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অর্থনৈতিক কারণ। আগে নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের দর্শক মাসে এক দিন সিনেমা হলে যেতে পারতেন। কিন্তু জীবন নির্বাহের ব্যয় ক্রমান্বয়ে বেড়ে যেতে থাকলে কেবল বিনোদনের জন্য মধ্যবিত্তরা বছরেও এক দিন সিনেমা হলে যাওয়া থেকে বিরত থাকলে হলগুলো বাধ্য হয়ে পর্নোগ্রাফি দেখানো শুরু করে।
তাদের এ কর্মকাণ্ডই মধ্যবিত্তদের হলবিমুখ করল। নারীরা হলে যাওয়া বন্ধ করে দিল, সপরিবারে হলে যাওয়ার উপায় থাকল না। হলগুলোর পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেল_ছারপোকার দৌরাত্ম্য বাড়ল। হলগুলোর ধ্বংসের জন্য হল মালিকদের মুনাফা লোভই অনেকাংশে দায়ী। কিন্তু এ দায় চাপানো হচ্ছে চলচ্চিত্র শিল্পের ওপর।
সিনেমা হলগুলোর আসন ব্যবস্থা ভালো নয়। হলে ইয়ারকুলার ঠিকমতো কাজ করে না। মানুষ হলে যায় বিনোদনের জন্য। কিন্তু বিনোদনের উপযুক্ত ব্যবস্থা সিনেমা হলে নেই। উপরন্তু মন্দার এ যুগে মালিকরা হল সংস্কারে আরো বিনিয়োগে আগ্রহী নন। তাঁদের পর্নোগ্রাফির সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার জন্য এবং টিভি চ্যানেলের দৌরা@ে@@@্য টিকে থাকতে গিয়ে চলচ্চিত্র পরিচালকরাও বাংলা চলচ্চিত্রে যুক্ত করেছেন কাটপিস। কিন্তু ঘটনা ঘটনার নিয়মে চলে। তাঁরা মুনাফার লোভে যে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তা বুমেরাং হয়ে তাঁদের ঘাড়ে পড়েছে। একে একে হলগুলো বন্ধ হয়ে গেছে আর মধ্যবর্তী যে শূন্যতা চলচ্চিত্রাঙ্গনে সৃষ্টি হয়েছে, তার স্থান দখল করে নিয়েছে ভারতীয় বাজারি ছবি। এখন তাঁরা আরো আত্মঘাতী হয়ে সেসব ছবিই দেখাতে চাইছেন হলে। এতে যদি দেশি সিনেমা ধ্বংস হয়ে যায়, তবে শিগগিরই দেশে একটা সিনেমা হলও থাকবে না।
টিভি চ্যানেলের নৈরাজ্য!
ডরেমন কার্টুনের নাম শুনেছেন? না শুনলে তিন বছরের অধিক বয়সী যেকোনো মধ্যবিত্ত পরিবারের শিশুর কাছে গিয়ে শব্দটি উচ্চারণ করুন। যদি তার চোখে বা চেহারায় চাঞ্চল্য দেখতে না পান, তবে বর্তমান লেখককে অভিশাপ দিন, কোনো আপত্তি থাকবে না। কার্টুনটি জাপানি; ভাষান্তর করা হয়েছে হিন্দিতে। বিপুল জনপ্রিয় এ কার্টুনটি দিনে ১০ ঘণ্টা বা তার চেয়েও বেশি সময় দেখানো হয়। এতে শিশুদের উপযোগী কিছুই নেই। শুধু তা-ই নয়, এর ভাষা অশিষ্ট হিন্দিবহুল শব্দ ও কাহিনী প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী। এসব কার্টুনের মাধ্যমে যেসব শিশুর সামাজিকীকরণ হচ্ছে, তা আমাদের বাংলাদেশের বাস্তব সমাজজাত নয়। এর মাধ্যমে শিশুরা শিখছে হিন্দি ভাষা, অনেকেই ভালো বাংলা বলতে পারে না, আর কিছু কিছু আবেগ তারা হিন্দি ছাড়া প্রকাশই করতে পারে না। কোনো বিষয়ে অস্বীকৃতি জানায় আমাদের শিশুরা এভাবে, 'কভি নেহি হো সক্তা'। আপনার-আমার সন্তানরা এখন স্বপ্ন দেখে, ভাবে হিন্দিতে। একটি প্রজন্ম এরই মধ্যে সৃষ্টি হয়ে গেছে, যারা ভাবনায়, মননে বিদেশি চেতনা ধারণ করে। বাংলার কাদা-মাটি, জল-হাওয়া তাদের স্বপ্নে নেই। স্বভূমে পরবাসীর মতো তারা রাজস্থানের মরুভূমিতে, দিলি্লর গলিপথে, মুম্বাইয়ের ফুটপাতে পাঞ্জাবের হাবেলিতে জীবনযাপন করে। তারা যখন আমাদের দেশের হাল ধরবে, তখন কী হবে বলে আপনার ধারণা?
এভাবে কিশোর-কিশোরীরা বা তরুণরা আসক্ত নানা ধরনের ভালগার গান ও রিয়ালিটি শোতে, হিন্দি সিনেমায়_তার উপজাত জীবনযাপন পদ্ধতিতেও সুলভ। ঈদ এলে দেখা যায়, বিপণী বিতান তার আক্রা দরের পোশাকের নাম দিচ্ছে সিনেমার বা সিরিয়ালের নায়িকার নামে। ভোক্তা সাংস্কৃতিক বিকাশ হচ্ছে এভাবেই। শাহরুখ-সালমানরা আমাদের মাঠ দাবিয়ে যাচ্ছেন এসে। বাসায় মা-বোন-খালারা সিরিয়ালের মোহে রিমোর্ট হাতছাড়া করছেন না। উচ্চবিত্তদের বাসায় ভিন্ন ভিন্ন সিরিয়াল রুচি চরিতার্থ করার জন্য একাধিক টিভিও দেখা যাচ্ছে। বাজার প্রসারিত হচ্ছে এভাবেই। দু-চার লাইন বলিউডি হিন্দি বলতে না পারলে এখন 'আনকালচারড' প্রতিভাত হচ্ছে তরুণ-তরুণীরা। এ দায় তারা কেন নিতে যাবে? অতএব গড্ডালিকায় গা ভাসানোই সমীচীন। সব দেশেই টিভি চ্যানেলের ওপর সেন্সরশিপ আছে। আকাশ কখনোই মুক্ত নয়।
আমাদের দেশে স্যাটেলাইট চ্যানেল আসা শুরু হয়েছিল নব্বই দশকের শুরুতে এবং এ দশকেই এই সংস্কৃতি চরম বিকাশ লাভ করে। আমাদের ভবিষ্যৎ কী হতে পারে, সে বিষয়ে কোনো ধরনের বিবেচনা না করেই আমাদের আকাশ সবার জন্য মুক্ত করে দিই। এর প্রভাব হয় সুদূর বিস্তারি। মধ্যবিত্তরা হলবিমুখ হয়ে পড়ে। আমাদের সংস্কৃতিক স্বকীয়তা হুমকির মুখে পড়ে। অন্যদিকে ভারতে আমাদের টিভি চ্যানেলগুলোর জনপ্রিয়তা থাকলেও তারা নিজেরা সাংস্কৃতিক ঐক্য রক্ষার জন্য সে দেশে আমাদের চ্যানেল দেখায় না। কেবল ভারত নয়, পৃথিবীর সব দেশই বিদেশি সংস্কৃতির চ্যানেল বিষয়ে রক্ষণশীল। কেবল আমরাই গড্ডালিকায় গা ভাসিয়ে দিই; আবার মুক্তবাজার অর্থনীতির কথা বলে, তথ্য অধিকারের কথা বলে একে বৈধ করি। আসলে মুক্তবাজার অর্থনীতি একটি ভণ্ডামি ছাড়া আর কিছুই নয়।
বিষয়টি কেবল সরলরৈখিক ভারতবিরোধিতার প্রশ্ন নয়!
আগেই বলেছি, তথাকথিত ভারতীয় জাতীয়তাবাদের কালচারাল অ্যাম্বাসাডর হলো বলিউডি বাজারি সিনেমা। ভারতীয় জাতীয়তাবাদ আসলে একটা পলকা সুতোর ওপর টিকে আছে। ভারত বহুজাতির দেশ। তাই একক ভারতীয় জাতীয়তাবাদ বলে কিছু থাকা সম্ভব নয়। সম্ভব নয় বলেই একে ভারতীয় জাতীয়তাবাদ কথাটা কয়েকবার প্রচার করতে হয়। এভাবে ভারতীয় সংস্কৃতি বলতে একক কিছু নেই, তাই বলিউডে তাদের বিকল্প সর্বভারতীয় সংস্কৃতি তৈরি করার একটি ফ্যাক্টরি আছে। সেই সর্বভারতীয় ভারতের সংস্কৃতি আসলে সর্বভারতীয়ও নয়। কেবল উত্তর ভারতের মহারাষ্ট্র, পাঞ্জাব ও দিলি্লর প্রতিনিধিত্ব করে তারা। এমনকি ভাষার ঐক্যও নেই ভারতে। ভারতের ৪০ শতাংশ লোক হিন্দি বলতে বা বুঝতে পারে আর মাতৃভাষা হিন্দি আরো অনেক কমসংখ্যক লোকের। সেই হিন্দি ভাষার মারফতে ভারত নিজেদের বেঁধে রাখার আয়োজন করেছে বলিউডে, তিনটি প্রধান সংস্কৃতির মাধ্যমে নিজেদের ঐক্যবদ্ধ রাখার চেষ্টা করছে। এই তিনটি সংস্কৃতি আবার চরিত্রে শাসকশ্রেণীর প্রতিনিধি বা বুর্জোয়া বা ব্যবসায়ী। তারা তাদের পুঁজির জোরে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে ভারতীয় সংস্কৃতির মুখপাত্র হিসেবে। তাই বলছি, বলিউডি ছবি ভারতীয় ছবির মুখপাত্র নয়। এমনকি এর আগ্রাসনে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারছে না ভারতের অন্যান্য সংস্কৃতির ছবি ইত্যাদি। অনেক স্বকীয়তা, সামর্থ্য ও সম্ভাবনা এবং সর্বোপরি বাজার থাকা সত্ত্ব্বেও দক্ষিণী ছবি মূল ধারায় আসতে পারছে না বলিউডি ছবির দৌরা@ে@@@্য। তেলেগু-মালয়লাম ছবি তো অস্তিত্বের সংকটে পড়ে আছে। কলকাতার বাংলা ছবি স্বকীয়তা হারিয়ে বলিউডি ছবির অনুকরণসর্বস্ব হয়ে পড়ছে। অন্যান্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ইন্ডাস্ট্রিতে একই প্রভাব। সব জায়গায় বৃহৎ পুঁজির হিন্দি সিনেমার চমক ও চটক। হাল ফ্যাশনের গাড়ি, আধুনিক বাড়ি, সুইচ টেপা প্রেম, যৌনতার প্রতীক শান্ত নারী ও পুরুষালি দাপটওয়ালা সহিংস নায়ক আর জীবনবিরোধী মূল্যবোধে সংস্কৃতি হয়ে পড়ছে হিন্দি সিনেমার মতো। তাই বলিউডি হিন্দি সিনেমা কেবল আমাদের দেশের ইন্ডাস্ট্রির জন্য হুমকি নয়। হুমকি তার নিজের দেশের ভিন্ন সংস্কৃতির জন্যও। নিজের দেশের ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতির সত্তাকে সে এরই মধ্যে ধ্বংস করেছে। এখন হাত বাড়িয়ে দিয়েছে আমাদের দিকে। বিষয়টি সরলরৈখিক ভারতবিরোধিতার নয়। বরং বিষয়টির ভরকেন্দ্র হলো ভোক্তা সংস্কৃতির আধিপত্য বিস্তারের বিরোধিতায়। ভারতীয় ভোক্তা সংস্কৃতির প্রচার করে ফ্যাসিস্ট নন্দনতত্ত্ব, যা গ্রাস করে নেয় সবার স্বকীয়তা, নিজস্বতা। সবাইকে পরিণত করে পণ্যে। নিজ দেশে সে যেমন বাজার বাড়াতে সর্বগ্রাসী হয়েছে, তেমনি হাত বাড়িয়েছে বিশ্ব বাজারের দিকে। আর তুলনামূলক দুর্বল শক্তির কারণে আমাদের প্রেক্ষাপটে তাদের প্রভাব নিরঙ্কুশ হবে, তা বুঝতে বেশি আয়াস লাগে না।
সাম্প্রতিক বাংলা সিনেমার হালচাল
বাঙালির মানসে এক দুর্নিবার ঔপনিবেশিকতা আস্তানা গাড়ে প্রধানত কম্পানি আমলে, বেঙ্গল রেনেসাঁর পর। তারা হয়ে পড়ে শক্তিশালীর দুর্বল অনুকারী। ব্রিটিশ শাসকচক্রের সযত্ন তত্ত্বাবধানে সৃষ্ট মধ্যবিত্ত শ্রেণী যারা 'দেখতে নেটিভ, কিন্তু মনে-মননে ব্রিটিশ ও ব্রিটিশ স্বার্থসিদ্ধ করে' তারা এই দুর্বল অনুকরণের পরম্পরা আজও জারি রেখেছে। বিদ্যাসাগর, বঙ্কিম, রবীন্দ্রনাথ, কল্লোল গোষ্ঠীসহ আমরা আজ পর্যন্ত সাহিত্যে পশ্চিমে প্রাপ্ত নির্দেশিকার অনুকরণ করে গেছি। শেখ মুজিব পশ্চিমাধারার জাতীয়তাবাদ চর্চা করে নেতা হয়েছেন আর দেশি ধারার চর্চা করে ভাসানী ১৯৬৯ সালের পর হালে পানি কমই পেয়েছেন। আমাদের বাংলা ছবিও অধুনা ও সর্বদাই ভারতীয় ছবির উপনিবেশ। ১৯৬০-৭০ এর দশকে কিছু ব্যতিক্রম বাদ দিয়ে অনুকরণ করা হতো দিলীপ কুমার ও উত্তম কুমারকে। আজ করা হয় বলিউডি সিনেমাকে। কিন্তু বলিউডি স্থায়ী পুঁজি, কারিগরি দক্ষতা না থাকায় তা দুর্বল অনুকরণেই পর্যবসিত হচ্ছে। ভারতীয় বাজারি ছবির মতো আজগুবি কাহিনী নর্তন-কুর্দন আর জবরজং মারপিটের ব্যবহার পাওয়া যাবে বাংলা ছবিতেও। ফলে ঢাকাই ছবির নির্বিচার পক্ষ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যদিও তার ক্ষমতা তুলনীয় নয় বলিউডি ছবির সঙ্গে। তবু এতেও থাকে ভোক্তা-সংস্কৃতির নানা উপকরণ। গুণগতভাবে হলিউড, বলিউড, ঢালিউডের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। হলিউডি-বলিউডি বাজারি সিনেমা খুব সুস্থধারার সিনেমা হাজির করে এমন নয়। এদের কোনো মূলগত অনৈক্য নেই। উন্নত কারিগরি দক্ষতা, অকর্ষণীয় সংলাপের সুবাদে হলিউড-বলিউড যৌনতা, ভালগার আর ভায়োলেন্স খুব সুন্দর মোড়কে হাজির করে। অন্যদিকে ফাটকা পুঁজির কম বাজেটের বাংলা ছবির সে সামর্থ্য নেই, কারিগরি দক্ষতা নেই, তাই এসব জিনিস তারা সরাসরি দর্শককে দেখায়। ছলটুকু করতে তারা জানে না, পারে না।
আন্দোলনের প্রেক্ষাপট
২০১০ সালে সরকার ভারতীয় বাজারি ছবি আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সচেতন মহলে এই প্রবল প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। সংবাদপত্র ও ব্লগে বিস্তর লেখালেখি শুরু হয় এ নিয়ে। চলচ্চিত্র নির্মাতা, শিল্পী ও কলাকুশলীরা প্রবল প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তাঁদের মধ্যে আছেন প্রকৌশলী কল্লোল মোস্তফা, চলচ্চিত্রশিল্পী রাজ্জাক, আলমগীর, রামেন্দু মজুমদার, নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলাম, গীতিকার মোহাম্মদ রফিকুজ্জামান, ডা. এম এ করিম প্রমুখ। আবার মুদ্রার অপর পিঠও আছে। গদ্য লেখক হুমায়ূন আহমেদ, অধ্যাপক ফাহমিদুল হক, চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির প্রধান কে এম আর মঞ্জুর, বিভিন্ন সিনেমা হল মালিকসহ অনেকে এর পক্ষে কথা বলতে থাকেন। ২০১০ সালের এপ্রিলে চলচ্চিত্র ঐক্য পরিষদ গঠিত হয় এবং তারা ঘোষণা করে, 'দেশে কোনোমতেই ভারতীয় চলচ্চিত্র আসতে দেওয়া হবে না। যদি দেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে ধ্বংস করার জন্য ভারতীয় চলচ্চিত্র আসার সুযোগ করে দেওয়া হয়, তাহলে আমরা আন্দোলনের পথ বেছে নেব। শিল্পী, কলাকুশলীরা তখন ভারতীয় ছবি প্রদর্শনের বিরুদ্ধে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করবে।' এই ঐক্য পরিষদে সংশ্লিষ্ট ছিলেন মিজু আহমেদ, শওকত জামিল, আবদুল লতিফ, গাজী মাজহারুল আনোয়ার, শাহ আলম কিরণ, খসরু প্রমুখ। এ ছাড়া ২০১১ সালের বিভিন্ন সময়ে প্রতিবাদ জানায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম সোসাইটি 'স্ট্যামফোর্ড সিনে ফোরাম'। তারা মানবন্ধন কর্মসূচি পালন করে। সংস্কৃতি মঞ্চ ও নানা ধরনের কর্মসূচি পালন করে। তারপর ২৩ ডিসেম্বর ২০১১ সালে যখন আইনের ফাঁকফোকর গলে এসব ছবি দেখানোর সুযোগ করে দেওয়া হয়। আদালতের নির্দেশনার অজুহাতে তখন অনেকেই চুপ থাকেন, পাছে আদালত অবমাননার ঘেরাটোপে পড়ে যেতে হয়_ এই ভেবে। এফডিসিকেন্দ্রিক আন্দোলনকারীরা মৌন থাকেন। কিন্তু কিছু তরুণ 'ভারতীয় বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র আগ্রাসন প্রতিরোধ আন্দোলন' নাম দিয়ে কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তাঁরা ২১ ডিসেম্বর প্রেসক্লাবে সমাবেশ করেন এবং তথ্য মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের উদ্দেশে যান। কিন্তু পুলিশি বাধায় তা সম্পন্ন করা যায় না। তবে ২৩ ডিসেম্বর যেসব হলে ভারতীয় পর্ন সিনেমা দেখানো হবে, তার সামনে অবস্থান ধর্মঘটের ডাক দেন। প্রবল পুলিশি বাধা সত্ত্বেও শান্তিপূর্ণভাবে তাঁরা অবস্থান ধর্মঘট পালন করেন। এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন নানা বাম রাজনৈতিক দলের নেতারা, বিভিন্ন সমমনা ফিল্ম সোসাইটি, সাংস্কৃতিক সংগঠন, সংবাদপত্র কর্মী, শিল্পী ও কলাকুশলীরা। তাঁরা নিজেদের সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার সিন্ধান্ত নেন।
উত্তরণের উপায়
আমরা পৃথিবীর সব দেশের সিনেমা দেখার পক্ষে। এমনকি সব ধরনের সিনেমা দেখারও পক্ষে। কোনোভাবেই বিদেশি ছবি আমদানিকে সরলরৈখিক প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড়ানো উচিত নয়। বরং সারা দুনিয়ার ভালো ভালো ছবি যাতে আমাদের দেশের সবাই দেখতে পারে, সে জন্য ব্যবস্থা গ্রহণই আমাদের লক্ষ্য। যেখানে বাজারি সিনেমা আমদানি করে বাজারের দখল নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং মানুষকে নিছক ভোক্তায় পরিণত করা হচ্ছে, তা কোনোমতেই সমর্থনযোগ্য নয়। সেই সঙ্গে এটাও বুঝতে বেশি আয়াস লাগে না, ভারতীয় ছবি আমদানি করে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে প্রদর্শন করলেই প্রতিযোগিতা করে আমাদের চলচ্চিত্রের মান ভালো হয়ে উঠবে না, তেমন সমন্বিত চেষ্টা ছাড়া সোনার ডিম পাড়া চলচ্চিত্র শিল্পের প্রভূত উন্নতি হয়ে যাবে। এ শিল্প নানা ঘটনা পরম্পরায় প্রায় ২০ বছর পিছিয়ে গেছে। তবু আমাদের অনেক মেধাবী তরুণ প্রজন্ম পরিচালক ও নির্মাতা উদ্যোগী আছেন। তাঁরা আমাদের ছবি বানানোর জন্য তাঁদের সংগ্রাম জারি রেখেছেন। তাঁদের সংগ্রামের পথ আরেকটু সহজ করার জন্য আমাদের প্রয়াসী হতে হবে। চলচ্চিত্র শিল্পের বিকাশের লক্ষ্যে একটি সমন্বিত জাতীয় চলচ্চিত্র নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। বিদেশি চলচ্চিত্র আমদানি ও প্রদর্শনসংক্রান্ত বিষয়টি এই নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত হতে হবে। চলচ্চিত্র শিল্পের বিকাশে আজ পর্যন্ত একটি ফিল্ম ইনস্টিটিউট নেই। একটি ফিল্ম ইনস্টিটিউট তৈরিতে সরকারি পদক্ষেপ খুবই জরুরি। হলগুলোর অবস্থা খুবই বেগতিক। সেখানে পর্দা ময়লা, প্রজেক্টর নষ্ট। হল মালিকদের দিক থেকে যেমন এসব বিষয়ে সচেতনতা প্রয়োজন, তেমনি অবকাঠামোগত উন্নয়নে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। হলগুলোয় ডিজিটাল সাউন্ড সিস্টেম যুক্ত করতে হবে, সিনেমাস্কোপ লেন্স লাগাতে হবে। বন্ধ সিনেমা হলগুলো আবার চালুর ব্যবস্থা করতে হবে। টিকিটের ওপর আরোপিত কর মুক্ত করে দিতে হবে। এতে হলে জনসমাগম বাড়বে। চলচ্চিত্র নিয়ন্ত্রণ আইন বাতিল করতে হবে। এ ছাড়া ঠুনকো সেন্সর নীতিমালা পরিবর্তন ও কার্যকর সেন্সর বোর্ড গঠন করতে হবে। চলচ্চিত্র শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি কাঁচামাল ও অনুষঙ্গিক বিষয়ের ওপর আমদানি কর সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করতে হবে। মানসম্পন্ন চলচ্চিত্রের চাহিদা পূরণে প্রতিবছর সরকারি অনুদানে নির্মিত চলচ্চিত্রের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে। কেবল মুখ দেখানো অনুদান নয়, প্রদত্ত অনুদান যেন চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য পর্যাপ্ত হয়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। অনুদান কাকে, কেন দেওয়া হচ্ছে_অনুদান প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। দেশি-বিদেশি স্যাটেলাইট চ্যানেল ও অনুষ্ঠান প্রচার বিষয়েও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা আবশ্যক। এমন নানা দিক থেকে সুপরিকল্পিত কাজ করার মাধ্যমে চলচ্চিত্র শিল্পকে এগিয়ে নেওয়া খুবই সম্ভব। কিন্তু একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, সিদ্ধান্তগুলো যেন আগের মতোই আত্মঘাতী না হয়।
কায়েমি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর নানা নতুন নতুন ফিকিরে একটু একটু করে নষ্ট হয়েছে ঢাকাই সিনেমা। অবাধ আকাশ দিয়ে অনুপ্রবেশ করেছে, মগজের ওপর দখল প্রতিষ্ঠা করেছে বাজারি ছবি, সেই সঙ্গে জনগণের পকেটও কাটা হয়েছে, পর্নোগ্রাফি চর্চা করা হয়েছে, ইন্দ্রিয়বৃত্তি উসকে দিয়ে মস্তিষ্ক নিশ্চল করার কাজে সিনেমা ব্যবহার হয়েছে। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ফাহমিদুল হক বলেন 'আইনগত দিক থেকে এভাবে সরকার ভারতীয় ছবির প্রদর্শন নিষিদ্ধ করে রাখতে পারে না।' আমরা বলি, আইন না থাকলে আইন প্রণয়ন করলেই তো ল্যাঠা চুকে যায়। আগ্রাসনবিরোধী আইন নেই দেখিয়ে আগ্রাসন জায়েজ করা আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক দৈন্য প্রকাশ। শুধু অধ্যাপকরাই নন, একই ধরনের চিন্তার মন্ত্রী, আমলা ও নীতিনির্ধারকদের কারণে আমাদের চলচ্চিত্র শিল্প আজ হুমকির মুখে। চলচ্চিত্র ডোবে ডুবুক, আমরা আমাদের টাকা উঠাতে চাই লাভ করে, আঙুল ফুলে কলাগাছ হতে চাই_এরূপ মানসিকতার কারণে বিলুপ্তির আশঙ্কা আরো বেড়েছে। চলচ্চিত্র কখনো আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে অতি বুদ্ধিবৃত্তিক আঁতেল উদ্ধারকর্তাদের মাধ্যমেও। এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে আমরা বাংলা চলচ্চিত্রের বিকাশ কুসুমাস্তীর্ণ করব, নাকি কণ্টকাকীর্ণ করব।
শেষ কথা
শেষ কথা সহজভাবে বলতে গেলে লড়াইটা পুঁজির, লড়াইটা রাজনীতির, দখলদারিত্ব বিস্তারের, আধিপত্যবাদ কায়েমের। সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আমাদের নিজেদের দৈন্য। ভারতীয় বাজারি ছবি আমাদের দেশে আসার এক হাজার একটা যুক্তি থাকতে পারে কিন্তু একই যুক্তি ভারতের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হওয়া উচিত। কিন্তু হবে না। এই হলো উদার নীতির উদারতা, মুক্তবাজারের মুক্তি। উদারতা কেবল দেখায় কম শক্তির গরিবরা। মুক্ত থাকে কেবল গরিবের বাজার। আর শক্তিশালীদের বাজারে ঢুকতে গেলেই নানা নিয়ম-নীতির চোখ রাঙানিতে পালানো ছাড়া গতি থাকে না। ভারতের আকাশ সংস্কৃতি যেভাবে বিস্তার লাভ করেছে আমাদের দেশে, আমাদের টিভি চ্যানেলগুলো সেভাবে কেন যেতে পারছে না ভারতে? আমাদের কিছু তো ভালো ছবি আছে, ভারতের তিনটি ছবি আমাদের দেশের হলে এল, আমাদের তিনটি ছবি কেন একই সমারোহে ভারতের হলে দেখানো হচ্ছে না? রক্ষণশীলতা দেখাচ্ছে কেবল ভারতই। আমাদের যেন রক্ষা করার মতো কিছুই নেই। আমাদের অনেক ব্যর্থতা আছে, চলচ্চিত্রে ভিন্ন সফলতাও তো কম নয়। সেই সাফল্য খুঁজতেও খুব কষ্ট হয় না। জহির রায়হান থেকে শুরু করে আমাদের তারেক মাসুদ, মোস্তফা সরয়ার ফারুকি, নুরুল আলম আতিক কম কিছু অর্জন করেননি। কিন্তু তাঁদের পদে পদে নানা আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় পড়তে হয়েছে। তাঁদের অবাধ বিচরণের পথ বন্ধ করা হয়েছে। জহির রায়হানের সময় ছিল বিদেশি বুর্জোয়া শাসকরা। আজ এসেছে তাদেরই দেশি প্রতিনিধিরা। শোষণের পদ্ধতি, দাবিয়ে রাখার উপায় একই আছে। কিন্তু বিরুদ্ধ পরিস্থিতিতেই সত্য সবচেয়ে শানিতভাবে বেরিয়ে আসবে, সবচেয়ে শক্তি নিয়ে প্রকাশিত হবে_তা এসব বিদেশি আধিপত্যবাদী ও তার দেশি গোলামরা ভুলে গেছেন। ইতিহাস তাঁরা পড়েন না, পড়লে তা জানতেন।
আমরা ইমেজের নিরঙ্কুশ ক্ষমতায় আস্থা রাখি। যে ইমেজের ভিত্তি অসত্য, অন্যায় শোষণ; তার পরাজয় নিশ্চিত জেনেই আমাদের প্রতিরোধ অব্যাহত রাখতে হবে। সিনেমায় আমরা আমাদের জীবন ও সংস্কৃতির প্রকাশ দেখতে চাই, সিনেমাকে পুঁজির দাসত্বমুক্ত ও জনগণের স্বার্থের প্রতিনিধি হিসেবে চাই।
About: নিজাম কুতুবী
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1338)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
-
▼
2012
(33842)
-
▼
January
(4234)
-
▼
Jan 03
(160)
- সাংসদের হাতে সাংবাদিকদের মার খাওয়ার অভিযোগ
- পুলিশ বাহিনীতে ‘এ’ গ্রেডভুক্ত পাঁচটি নতুন পদ-পরিদর...
- সিরিয়ায় গোলাগুলি বন্ধে আরব লিগের আহ্বান
- রোডমার্চ বানচালের ষড়যন্ত্র করছে সরকার: ফখরুল
- ১৭ জানুয়ারি সব বিদ্যুৎকেন্দ্র ঘেরাও করবে জাতীয় কমিটি
- দুর্ঘটনার পর মাইক্রোবাসে আগুন লেগে নিহত ৪
- স্বাধীনতার ৪০ বছর-তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না
- লাল-হলুদ ক্যান্ডিকর্ন by ফারুখ আহমেদ
- জেরায় সাক্ষী মোস্তফা-এক দেলোয়ার হোসেন শিকদারকে চেন...
- দরপত্র মূল্যায়নের আগেই সিদ্ধান্ত? by অনিকা ফারজানা
- ফিলিপাইনে বর্ষবরণের সময় আহত ৫০০
- ৩ হাজার মানুষের মধ্যে এইডস ছড়িয়েছে এক মার্কিনি
- সার্র্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি ছিল উদ্বেগজনক: আসক
- বীর আর্টেমিসিয়া
- চীনে ফের বার্ড ফ্লু আতঙ্ক ১ জনের মৃত্যু
- পুলিশের সহায়তা চেয়ে চট্টগ্রাম বিএনপির চিঠি
- ঘৃণাকারীকে উৎসর্গ করে গান লিখলেন অভিষেক
- ৪ সেতুর টোল আদায়ে দুর্নীতির অভিযোগ
- ঘৃণাকারীকে উৎসর্গ করে গান লিখলেন অভিষেক
- বুয়েটের ৩ ছাত্রলীগ কর্মী বহিষ্কার, ১৯ ঘণ্টা পর প্র...
- রেলের সঙ্গে জাইকা’র দ্বন্দ্ব মেট্রোরেল নাও হতে পারে
- এবার টয়লেট পেপারে
- সূচক সামান্য কমেছে
- প্রেমিকের সঙ্গে এক ফ্ল্যাটে বিদ্যা!
- এবার উল্টো ঘটনা
- এবার সানজিদা প্রীতি
- অগ্রগতি নেই বালামের চতুর্থ অ্যালবামের
- ছো ট প র্দা য় আ জ
- প্রথম উপার্জন দিয়ে বাড়ির বকেয়া ভাড়া শোধ করেছিলেন
- ২০১১-এর ‘হলিউড হট ফিমেল মুভিস্টার’ ক্রিস্টেন স্টুয়...
- অপ-সংস্কৃতির আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সচেতন নাগরিক সমাজে...
- বা ণি জ্য মে লা-ক্রেতা আকর্ষণে এগিয়ে ভোগ্যপণ্য প্র...
- ‘গোল্ডেন বিয়ার’ পাচ্ছেন মেরিল স্ট্রিপ
- বিপাশা-সোনমের খোলামেলা হওয়ার প্রতিযোগিতা
- পুরনো গান নিয়ে দিলরুবা খান
- ‘সবুজ কেন অপরাধী’র মহরত দিয়ে শুরু হলো চলচ্চিত্রের ...
- থার্টি ফার্স্টে তিশমার 'এক্সপেরিমেন্ট'
- সারা বছরই ছিল সিক্যুয়েল ছবির জয়জয়কার
- ডিসেম্বরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স
- কলকাতা ছেড়ে ইসলামাবাদের পথে হোয়াটমোর!
- ভেস্তে গেল ১৫০তম গোল
- ম্যানসিটি-ও হারলো
- স্ত্রীকে নিয়ে ডিনার- কোচের রোষানলে রুনি
- পপির পারিশ্রমিক এবার দ্বিগুণ! by প্রীতি ওয়ারেছা
- ‘দে আর ইডিয়টস’
- হতাশা ছাড়া তিন বছরে জনগণ কিছুই পায়নি: ফখরুল
- অস্ট্রেলিয়া-ভারত দ্বিতীয় টেস্ট-সিডনি ম্যাজিকের অপে...
- সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জবাসীর মতো গর্জে উঠুন...
- সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জবাসীর মতো গর্জে উঠুন...
- স্ত্রীকে নিয়ে ডিনার- কোচের রোষানলে রুনি
- বাংলাদেশে ফিরতে চান জেমি সিডন্স
- কারও পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ!
- প্রতিমন্ত্রীর ভাগ্নে খুন: ২২ আসামির কললিস্ট পরীক্ষ...
- মোহামেডানের ফ্লপ শো-মোহামেডান ০ :০ বিজেএমসি
- ৫ ইস্যুতে বিএনপি স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক
- সুসংবাদ
- নারীবিষয়ক মার্কিন দূত বুধবার ঢাকা আসছেন
- সারাদেশে বই উৎসব
- রাবিতে শিবিরকর্মীকে পেটালো ছাত্রলীগ
- প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এরশাদ - ক্ষমতায় যাওয়ার লক্ষ্যে...
- আইওয়া ককাসে আজ মুখোমুখি রিপাবলিকান মনোনয়ন প্রত্যাশ...
- আদালতের আদেশ অমান্য করে স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়া হচ্ছে...
- জাতীয় পার্টির দুই অংশ এক হলেও ক্ষমতায় যেতে পারবে ন...
- পাকিস্তানের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত
- অস্ট্রেলিয়ায় ১০ বছরের এক জাহানারার বাঁচার লড়াই
- দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল ইরান-এ...
- সাঈদীর বিরুদ্ধে সপ্তম ও অষ্টম সাক্ষী যা বললেন-
- প্রকাশিত সংবাদের ব্যাখ্যা
- কুড়িগ্রামে মিনি বিশ্ব ইজতেমা সম্পন্ন
- বরিশাল সরকারি বালিকা বিদ্যালয়-ভর্তি নিয়ে তুঘলকি কা...
- এক বছরে পণ্যমূল্য বেড়েছে ১২.৭৭ শতাংশ
- চট্টগ্রামে রোড মার্চের তোরণে আগুন
- নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন, জেলা পরিষদ প্রশাসকদের প্...
- কড়াইল বস্তিতে সরকারি আবাসন প্রকল্প-খসড়া মাস্টারপ্ল...
- সিলেটে ইনু: টিপাইমুখ বাঁধ ইস্যুতে সরকারের অবস্থান ...
- সিলেটে গানের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন শাবনূরের পিতা
- বিএনপি-জামায়াতের ১৭ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার আদেশ
- সম্ভাবনা-পদ্মার চরে পর্যটন কেন্দ্র
- ‘ব্যবসা করতে ক্ষমতায় আসিনি’
- তত্ত্বাবধায়ক সমস্যার সমাধান করুন- প্রেসিডেন্টের প্...
- লোকসানের পাল্লাই ভারী
- আগামী তিন বছর বিদ্যুতের দাম আরও বাড়বে: অর্থমন্ত্রী
- ‘বেসিক ব্যাংকের সফলতা অব্যাহত’
- মৃত্যুর পরও ত্যাগ! by কামাল লোহানী
- স্মৃতিময় ১৫ অক্টোবর by তরুণ কান্তি শিকদার
- উপজেলা পরিষদ-যথা পূর্বং তথা পরং! by ফয়জুর রহমান ফকির
- কালের আয়নায়-নারায়ণগঞ্জের মেয়র নির্বাচন এবং আওয়ামী ...
- সাধুগুরু-বাউলদের গান by নজরুল জাহিদ
- আর কত রূপা বৈষম্যের শিকার হবে? by অনুপম
- দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ হতে পারে পণ্যমূল্যের লাগাম by আ...
- ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন নয় by মোঃ রাইসুল ইসলাম সৌরভ
- যশোরে গণবিয়ে-স্বপ্নযাত্রায় সহমর্মিতার ছোঁয়া
- দীপু মনি-হিলারি বৈঠক-সম্পর্ক উন্নয়নে ইতিবাচক উদ্যোগ
- এমন বার্তা কে চায়! by তালুকদার মোঃ ইউনুছ
- তথ্য কমিশন-এখনও ব্যর্থতার পাল্লাই ভারী by রোবায়েত ...
- ধর নির্ভয় গান-আশ্বিনেরই আঙিনায় by আলী যাকের
- ধর্ম ও সমাজসেবা by দিদার-উল আলম
- কিস্তিতে পণ্য বেচাকেনা by মুফতি মাহফূযুল হক
- দয়া ও ক্ষমা প্রসঙ্গে ইসলাম by মুফতি এনায়েতুল্লাহ
- ওষুধ বাজার-মুনাফার কাছে জিম্মি জীবন!
- ঝুঁকিপূর্ণ মেঘনা সেতু-সময়ের কাজ সময়ে করা চাই
- প্রতিশ্রুতির বন্যায় ভাসছে কুমিল্লা by সাবি্বর নেওয়...
- বাসাবাড়িতে আর গ্যাস সংযোগ দেওয়া হবে না by সবুজ ইউনুস
- কুয়েট বন্ধ ঘোষণা-ছাত্রলীগের হামলা আহত ২৫
- বিদ্যুতে ভর্তুকি তুললে সর্বক্ষেত্রে ব্যয় বাড়বে by ...
- গরম পোশাকে নয় গরমকালের পোশাকে by আসিফ আহমেদ
- সংখ্যা নয়, মানবিকতাই মুখ্য-প্রতিবন্ধী by মোঃ মোতাহ...
- রাজনৈতিক সদিচ্ছা না নির্বাচনী কৌশল?-খাদ্য নিরাপত্...
- বাংলাদেশে নববর্ষের কথা-সমকালীন প্রসঙ্গ by বদরুদ্দী...
- ইতিহাসের বাঁকে : মতিউল-কাদের হত্যাকাণ্ড-সমঝোতার রা...
- প্রতিক্রিয়া-'টিপাইমুখ বাঁধ তৈরি করা কেন জরুরি'
- সাম্প্রতিক-নিখিলের পা এবং কানামাছি ভোঁ ভোঁ... by শ...
- আন্তর্জাতিক-বিশ্ব আলোড়িত ২০১১-এর ছয় পরিস্থিতি!
- হামহাম জলপ্রপাত by মুমিত আল রশিদ
- আসুন আমরা শিকড়ের সন্ধান করি-সুশাসন by এম আবদুল হাফিজ
- ওসির স্বেচ্ছাচারিতা-এসপিকেও জিডি করতে হয়!
- পাঠ্যপুস্তক উৎসব-সদিচ্ছা থাকলে সবই সম্ভব
- যোগাযোগমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি by আরিফ জেবতিক
- প্রচ্ছদ রচনা : ভারতীয় চলচ্চিত্র আমদানি-স্ব-সংস্কৃত...
- হুবহু-বিএনপির চেয়ারপারসন অর্থের বিনিময়ে যুদ্ধাপরাধ...
- জলদস্যুতার অপবাদমোচন-জলদস্যুতার অপবাদমোচন
- বই উৎসব-...লুকিয়ে থাকা স্বপ্নগুলো ধরব'
- পবিত্র কোরআনের আলো-বদর যুদ্ধের পর কাফিরদের প্রতি স...
- মহাজোট সরকারের ৩ বছর-বিদ্যুৎ খাত : পরিকল্পনা ও নীত...
- চরাচর-মাছের ভাণ্ডার বঙ্গোপসাগর by আজিজুর রহমান
- সহজ-সরল-ঝিকঝিক ঝিকঝিক ঝিকঝিক ঝিকঝিক চলে রেলের গাড়ি...
- কল্পকথার গল্প-নতুন বর্ষে থাকিব হর্ষে by আলী হাবিব
- কালান্তরের কড়চা : মহাজোট সরকারের ৩ বছর-২০১২ : হাসি...
-
▼
Jan 03
(160)
-
▼
January
(4234)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
ইরান
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
কালবেলা
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
ইউক্রেন
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
তরুণ প্রজন্ম
মানবাধিকার
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আলী যাকের
আইন ও বিচার
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
তারেক শামসুর রেহমান
মালয়েশিয়া
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
স্বাস্থ্য
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
জ্যোতির্বিজ্ঞান
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
শিল্প ও সাহিত্য
সংবিধান ও রাষ্ট্র
বগুড়া
মিয়ানমার
ঢাকা
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
গবেষণা
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
জীবনযাপন
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
মেহেদী হাসান
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
মানসুরা হোসাইন
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
মসজিদ
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
ইয়েমেন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
Exclusive
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
উচ্চশিক্ষা
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
বিজ্ঞান
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
জনস্বাস্থ্য
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
ফরিদপুর
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লাতিন আমেরিকা
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মহাকাশচারী
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
জোহরান মামদানি
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
ইহুদি
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
স্পেন
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
বিশ্বকাপ ফুটবল
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment