Saturday, June 16, 2012
সাম্প্রতিক ঘটনাবলি ও পুলিশের জবাবদিহি
সাম্প্রতিক ঘটনাবলি ও পুলিশের জবাবদিহি
২ জুন ২০১২ প্রথম আলোর উদ্যোগে ‘সাম্প্রতিক ঘটনাবলি ও পুলিশের জবাবদিহি’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিরা আলোচনায় অংশ নেন। তাঁদের বক্তব্য এখানে সংক্ষিপ্ত আকারে ছাপা হলো।
আলোচনা আব্দুল কাইয়ুম
আলোচনা আব্দুল কাইয়ুম
সবাই লক্ষ করছি, সাম্প্রতিক সময় পুলিশ খুব বেপরোয়া আচরণ করছে। ইদানীং সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণের মাত্রা বেড়ে গেছে। আদালত প্রাঙ্গণে এক পরিবারকে হেনস্তা করা হয়েছে। গত ২২ এপ্রিল হরতালের সময় খুলনায় বিএনপির দুজন কর্মীকে থানায় দড়িতে ঝুলিয়ে পেটানো হয়েছিল। ফেনিতে ওসির হাতে অপদস্ত হলেন এসি ল্যান্ড। এসব ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলক সাজা না হওয়ায় একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে।
অন্যদিকে, পুলিশের অনেক সমস্যা আছে। অনেক সময় তাদের ১৫-১৬ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করতে হয়। এরপর ব্যারাকে ফিরে দেখে ঘুমোনোর জায়গা নেই। নিয়োগ-বদলি-পদোন্নতির ক্ষেত্রে দলীয়করণ ও আঞ্চলিকতায় মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হন। এসব কারণে পুলিশের মধ্যে হতাশা কাজ করে। এসব ঘটনা কীভাবে দেখছেন সা’দত হুসাইন?
সা’দত হুসাইন
আজকে এখানে যে আলোচনা হচ্ছে, এটি সরকারের উচ্চপর্যায়ে বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হওয়ার কথা। এটা যে শুধু দুটি রাজনৈতিক দলের সমস্যা তা নয়, পুলিশ প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই সমস্যা তৈরি হয়েছে। পুলিশের ভাবমূর্তি ও গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। ফলে তৈরি হচ্ছে প্রসাশনিক ও সামাজিক সমস্যা। কোনো দেশের পুলিশ বাহিনীর জন্য এটা বিশেষ উদ্বেগের কারণ। যেকোনো সময় বড় ধরনের বিপদ হতে পারে। আজকে দেশের সব মানুষ চিন্তিত। সবাই এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে চায়।
হঠাৎ করে বা এক দিনে এ সমস্যা তৈরি হয়নি। সম্ভবত কালীগঞ্জের সাম্প্রতিক ঘটনায় ওসিকে বলা হয়েছে পাগল। আরও কিছু কিছু জায়গায় এ রকম আছে। দীর্ঘ সময় ধরে এ প্রক্রিয়া চলে আসছে। নিজের ওপর আঘাত আসেনি বলে হয়তো খেয়াল করা হয়নি। আজকে সাংবাদিকের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় আঘাত করায় এত আলোচনা হচ্ছে। একই ঘটনা নিরীহ মানুষের ক্ষেত্রে হচ্ছে। কিন্তু সেটা আলোচনায় আসছে না। এসব কারণে পুরা বিষয়টি ভেবে দেখা জরুরি হয়ে পড়েছে।
পুলিশ বাহিনীর কাজকর্ম দেখে মনে হচ্ছে, চেইন অব কামান্ড ভেঙে পড়ছে। অনেকে মনে করছে, সে তার ওপরের কমকর্তার নির্দেশ পালনে বাধ্য নয় বা তার কোনো অদৃশ্য শক্তি আছে, যে কারণে সে আইনের ঊর্ধ্বে থাকবে। যারা এ ধরনের অপকর্মের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে। পরবর্তী সময় সবকিছু খতিয়ে দেখার পর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তারপর এরা কোথা থেকে এসেছে, তাদের পারিবারিক-সামাজিক অতীত (ব্যাকগ্রাউন্ড) দেখতে হবে। চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে একজন মোবাইল ফোন চুরি করেছিল। তখন তাদের সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে দেখা গেল, তাদের একজনের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট করে বলা আছে, সে ভবিষ্যতে সমস্যা তৈরি করতে পারে। এখন পুলিশ বাহিনীর নিয়োগ-প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে হবে। তাদের পোস্টিং কোথায় ছিল, সেখানে তাদের রেকর্ড কী—এগুলো দেখতে হবে।
আরেকটি বিপজ্জনক বিষয় হলো, কর্তৃপক্ষ এটিকে সমস্যা হিসেবে স্বীকারই করছে না। বিষয়টি নিয়ে যাদের চিন্তা করার কথা, অনুধাবন করার কথা, স্বীকার করার কথা, তাঁরা সেটা করছেন না। এটা নিয়ে অনেক সময় তাঁরা হাসিঠাট্টা করছেন। কোনো চিন্তাভাবনা করে কথা বলছেন না। তাঁরা পুলিশ থেকে দূরে থাকার কথা বলছেন। এ ধরনের সস্তা কথা বললে কখনো সমস্যার সমাধান হবে না।
বিষয়টি বিশেষ কোনো রাজনৈতিক দল বা বিশেষ কোনো শ্রেণী-পেশার মানুষের সমস্যা নয়। বিষয়টি একটি জাতীয় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সব দলের, সব শ্রেণী-পেশার মানুষ নিয়ে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। সবার আন্তরিকতা থাকলে সমস্যা থেকে উত্তরণ সম্ভব। কিন্তু সমস্যাকে হালকা করে দেখে হাসাহাসি করে উড়িয়ে দিলে তা সবার জন্য বিপদ ডেকে আনবে। সচেতন নাগরিক হিসেবে আমরা খুব শঙ্কিত, ভবিষ্যতে এটি কোন পর্যায়ে যায়। দেশের জন্য পুলিশ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। পুলিশ বাহিনীর যত ক্ষমতা আছে, অন্য কারও এত ক্ষমতা নেই। এই প্রতিষ্ঠানে চেইন অব কমান্ড না থাকলে, শৃঙ্খলা না থাকলে দেশের অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়ে যেতে পারে।
তিনটি প্রাতিষ্ঠান (অর্গানাইজেশন) —পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট ও বিচার বিভাগ—দেশের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখে। এর কোনো একটি যদি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়, দেশের মানুষের জন্য সেটি খুব শঙ্কার কারণ হয়। পুলিশের যাঁরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, তাঁরা আমাদের মতোই শঙ্কিত। তাঁরা নিশ্চয়ই চান না, তাঁদের বাহিনীর খারাপ কোনো পরিণতি হোক। গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে সম্পূর্ণ পেশাগত দিক থেকে ব্যবস্থা নিতে হবে।
আমি বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ও তার পরে আরও কয়েক মাস দায়িত্বে ছিলাম। সব আদেশ দিতাম আইজি সাহেবকে। কোনো দিন কোনো এসপি বা অন্য কাউকে সরাসরি আদেশ দিইনি। তত্ত্ব্বাবধায়ক সরকারের সময় সচিব ছিলাম। পরে যিনি এলেন, তিনি ওপর-নিচে সব জায়গায় আদেশ দিতেন। যেকোনো সময় যেকোনো জায়গায় চলেও যেতেন। এসব পদ যাঁরা ধারণ করেন, তাঁরা অনেক সময় তাঁদের মর্যাদা বুঝতে পারেন না। পরে অবশ্য তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আমাকে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে ভালো-খারাপ কিছু না বলে শুধু বলেছিলাম, তিনি এই পদের যোগ্য নন। সব সময় নিয়ম মানার চেষ্টা করতাম।
আব্দুল কাইয়ুম
পুলিশের কাছে অস্ত্র ও লাঠি থাকে। প্রায় সময় এগুলো মানুষের ওপর নিপীড়নের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আত্মরক্ষার্থে পুলিশ অবশ্যই গুলি চালাতে পারে। ওপরের দিক থেকে নির্দেশ কী থাকে, কীভাবে পুলিশ সেটি পালন করে। এ বিষয়ের ওপর বলবেন নুরুল হুদা।
নুরুল হুদা
প্রথমে দুটি ঘটনার বিষয় উল্লেখ করব। একটি দেশের, অন্যটি দেশের বাইরের। যত দূর মনে পড়ে, ১৯৯২ সালে বাংলাদেশে সাংবাদিকদের ওপর সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা হয়েছিল। সে সময় কমপক্ষে ৪০ থেকে ৫০ জন সাংবাদিককে পিটিয়ে প্রেসক্লাবের মধ্যে উঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ড. কামল হোসেন পুলিশ কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করেছিলেন। কিন্তু তখনকার রাজনৈতিক দল এটাকে নিজেদের স্বার্থে দেখেছে। তারা ভেবেছে, এই পুলিশই আমাদের দরকার। সেদিন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাই আজকে মনে হচ্ছে পুলিশ খুব বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। কিন্তু এর শুরু অনেক আগে থেকেই।
সাংবাদিকেরা জনসাধারণের তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করেন। এ জন্য ঘটনাস্থলের দূরে থাকার উপায় নেই। পুলিশের একটা অভিযোগ হলো, অন্যপক্ষ তাদের আক্রমণ করতে থাকে। যে কারণে পুলিশ কঠিন হতে বাধ্য হয়।
কিন্তু ক্যামেরা শুধু পুলিশের কাজকর্ম ধারণ করে। তাঁরা এমনভাবে চারপাশ ঘিরে থাকেন যে অনেক সময় প্রসাশনিক দায়িত্ব পালন করতে অসুবিধা হয়। পুলিশদের যারা আক্রমণ করছে, তাদের ছবি খুব একটা তোলা হয় না। সেটাও হয়তো একটু ভেবে দেখার বিষয়। এমন কিছু সময় আসে, যখন লাঠি ব্যবহার করা যায় না। লাঠি হয়তো চার থেকে পাঁচ ফুট। কিন্তু ২০ থেকে ৩০ ফুট দূরে যে মানুষ আছে, তার কাছে ইট-পাথর প্রভৃতি থাকে। এ ক্ষেত্রে তাকে ধরা এবং নিজেকে রক্ষা করা মুশকিল হয়ে পড়ে। ক্যামেরায় দুই দিকই আসা উচিত। যেমন, চট্টগ্রামে খেলার সময় পুলিশ কর্মকর্তা একজনকে ঘুষি মেরেছিল। ওই কর্মকর্তার অভিযোগ, সাংবাদিকেরা শুধু ঘুষি মারাটা দেখালেন, কিন্তু এর আগে কী হয়েছিল, তার কিছু দেখালেন না।
মনে হয় যে চেইন অব কামান্ডে কোনো সমস্যা হচ্ছে। জ্যোতি বসুকে একবার বলা হয়েছিল, ‘আপনাকে তো রাত ১০টার পর পাওয়া যায় না।’ তিনি বলেছিলেন, ‘আমাকে পাওয়ার তো দরকার নেই। আমাকে দরকার হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্রসচিব ও আইজি আছেন কেন। তাঁদের বেতন তো আমাকে দেওয়া হয় না!’ আমাদের দেশে রাত একটা, দুইটার সময় ডাকা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরাসরি জেলার সঙ্গে যোগাযোগ করে। শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শৃঙ্খলা মেনে কাজ করা উচিত। জেলার প্রধানের মাধ্যমে কাজ করলে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
সাম্প্র্রতিক ঘটনার কারণ হলো তত্ত্বাবধানে কোথায়ও শৈথিল্য আছে। শৈথিল্যের কারণ হতে পারে নিয়োগ-প্রক্রিয়া ঠিকমতো না মানা। সঠিকভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত না হওয়া। তা ছাড়া তাদের ব্যক্তিগত অতীত খুঁজে দেখতে হবে। যখনই কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হয়, তখনই সাজার ব্যবস্থা করা উচিত। সাজার ব্যবস্থা না থাকলে অন্যরা শিখবে না। রুবেল হত্যার ঘটনায় এসি আকরামের অন্যায় ছিল। এফআইআরের আগেই তাঁকে আটক করা হয়েছিল। তখন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়েছিল। গুরুত্ব না থাকলে শৃঙ্খলা থাকে না।
বাংলাদেশের মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে, এ লোক আমার, ও লোক তোমার। সরকারি কর্মচারীরা কখনো আমার-তোমার হতে পারেন না। তাঁরা হবেন সবার। যত দিন পর্যন্ত আমার-তোমার ধারা চলতে থাকবে, তত দিন আইনশৃঙ্খলাসহ সব ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হবে।
পুলিশের কাজ যদি পেশাগতভাবে মূল্যায়ন না করা হয়, এ বাহিনীর পেছনে যদি বিনিয়োগ করা না হয়, এর উৎকর্ষ যদি বৃদ্ধি করা না হয়, তাহলে এ পেশায় নিচু মান থেকে যাবে। নিচু মানের লোকজন মনে করবে, এটিই তাদের প্রকৃত জায়গা। মানুষও একে নিচু মানের কাজ হিসেবে দেখবে। তারা মনে করবে না যে এটি একটি দায়িত্বশীল কাজ, মানসম্মানের কাজ।
পুলিশ বাহিনী একটি শৃঙ্খলাপূর্ণ বাহিনী। এর মধ্যে জবাবদিহির যথেষ্ট জায়গা আছে। পুলিশের খসড়া আইনে একটি বিষয়ের উল্লেখ আছে, যেটির সঙ্গে আমি একমত। বিষয়টি হলো, সাধারণ জনগণ, বিচার বিভাগ ও নারী প্রতিনিধি নিয়ে একটি বড় পরিসরে (ব্রড বেজড) অভিযোগ কমিশন গঠন করতে হবে। তারা পুলিশের ব্যত্যয় খতিয়ে দেখবে। এ প্রস্তাব পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকে এসেছে। সরকার এটি বিবেচনায় নিতে পারে।
জবাবদিহি যে হচ্ছে না, তা কিন্তু নয়। তেজগাঁঁও পলিটেকনিকের ঘটনায় ১০ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত নয়জনের বিরুদ্ধে পুলিশ কর্মকর্তা বিশেষ বিধান অধ্যাদেশ ১৯৭৬ প্রয়োগ করা হয়েছে। এটা অত্যন্ত কঠিন আইন, যেখানে ৪৫ দিনের মধ্যে তাদের চাকরি থেকে বিদায় করে দেওয়া যায়। পরে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। এর বিরুদ্ধে কোনো আপিল গ্রহণ করা হয় না। প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তাদের ব্যাপারে পুলিশ সদর দপ্তরের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নিয়েছে, ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এটি আরও দ্রুত নিতে হবে এবং দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে, যাতে অন্যরা বুঝতে পারে, এগুলো করে পার পাওয়া যাবে না। আরেকটি বিষয় খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে, তাদের নিয়োগ কেমন করে হয়েছিল। প্রশিক্ষণ ঠিক ছিল কি না এবং কর্মস্থলে তাদের কাজের রেকর্ড কী। কিছু খারাপ কর্মী সব চাকরিতে থাকে। সেটা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
আব্দুল কাইয়ুম
ওপরের দিক থেকে যাদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রত্যয় থাকে এবং সেভাবে যদি নিচের দিকে নির্দেশ থাকে, তাহলেও কি নিচের দিকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কা থাকে? অর্থাৎ ওপরের কর্মকর্তার ভূমিকা কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ?
নুরুল হুদা
অনেক সময় হয়তো আমরা সঠিক নির্দেশ দিতে পারি না। কিন্তু এর দায়িত্ব যিনি আমাকে রাজনৈতিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন, তাঁর। নিচের মানুষেরা যদি বোঝেন তাঁর চাকরি, পদোন্নতি, বদলি ও বিদেশে যাওয়া রাজনৈতিক নেতারাই ঠিক করে দেবেন, স্থানীয় সাংসদ ঠিক করবেন কোন ওসি তাঁর থানায় কাজ করবেন, সে ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা (চেইন অব কমান্ড) ভেঙে পড়ে। সবকিছু নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তাই যিনি নির্দেশ দেবেন, তাঁর স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ থাকতে হবে। এমনও দেখা গেছে, একজন কর্মকর্তা দলের জন্য ক্ষতিকর। সেই দলেরই একজন নেতা বলছেন, ওই খারাপ কর্মকর্তাকে তাঁর জেলায় বদলি করতে। ওই নেতা কর্মকর্তাকে দিয়ে তাঁর উদ্দেশ্য হাসিল করতে চান। দলের ক্ষতি তাঁর কাছে কোনো বিষয় নয়, বিষয় হচ্ছে তাঁর উদ্দেশ্য পূরণ হচ্ছে কি না। এই হচ্ছে তথাকথিত নেতা আর কর্মকর্তার। এই চক্র থেকে বের হতে না পারলে সমস্যা থেকেই যাবে।
কোনো এলাকায় মন্ত্রী গেছেন। নিজের কাজ বাদ দিয়ে সারা দিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তাঁর সার্কিট হাউসে পড়ে আছেন। তাঁদের দেখে দেখে জুনিয়ররা একই কাজ করেন। কর্মকর্তাদের পেশাগত দায়িত্ব অনুধাবন করে তা পালনের সাহস অর্জন করতে হবে। রাজনীতিকে যাঁরা নিয়ন্ত্রণ করেন, তাঁদেরও বুঝতে হবে, সরকারি কর্মচারী কোনো দলের নয়, তাঁরা দেশের মানুষের সেবক। দেশের মানুষের পয়সার তাঁদের বেতন হয়, কোনো দলের পয়সায় নয়।
আব্দুল কাইয়ুম
পুলিশ বাহিনীর কোনো সদস্যের অন্যায় হলে বিভাগীয় কমিটি গঠন করা হয় তদন্তের জন্য। এই তদন্ত নিয়ে জনমনে অনেক প্রশ্ন তৈরি হয়। পুলিশের দোষত্রুটি ধরার উপায় কী?
ড. শাহদীন মালিক
সাম্প্রতিক সময় পুলিশের বেশ কিছু অনিয়ম সবাইকে ভাবিয়ে তুলেছে। কিন্তু বিষয়টি দীর্ঘদিন যাবৎ চলে আসছে। নব্বইয়ের দশকে ইয়াসমিন ও রুবেলের ঘটনায় পুলিশের ভাবমূর্তি সংকটের মুখে পড়েছিল। ইয়াসমিনের ঘটনায় একজনের ফাঁসি এবং দুজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছিল। রুবেলের ঘটনায়ও পুলিশের শাস্তি হয়েছিল। এখন যেমন পুলিশ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে, দেশে হত্যা, গুমের মতো ঘটনা ঘটছে, নব্বইয়ের দশকের পরে আর মনে পড়ে না এ রকম হয়েছে।
এ খারাপ অবস্থার জন্য তিনটি কারণ আমার কাছে মনে হয়। এক. গত এক দশকে রাজনৈতিক নেতৃত্বের দুর্বলতা। দুই. ২০০৩ সালে অপারেশন ক্লিন হার্টে প্রায় ৫০ জনের মতো মারা গিয়েছিল। অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। এই ৫০ জন মানুষ মারার অপরাধ থেকে তাদের দায়মুক্তি দেওয়া হলো। অর্থাৎ এ অপরাধে তাদের কখনো বিচার করা যাবে না। এই প্রথম আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেখল যে তারা যা-ই করুক, তাদের কোনো বিচার হবে না। বুঝে হোক না বুঝে হোক, সবচেয়ে খারাপ কাজের বৈধতা দেওয়া হয়েছে। ২০০৪ সাল থেকে আজ পর্যন্ত র্যাব-পুলিশ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। সমাজে এটি একটি খারাপ দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। এখন অন্যদের মধ্যেও ধারণা হয়েছে যে খারাপ কাজ করে পার পাওয়া যেতে পারে। তিন. এই বাহিনীতে দীর্ঘদিন কোনো সংস্কার হয়নি।
ফৌজদারি কার্যবিধির ২০৬ থেকে ২২০ পর্যন্ত ১৫টি ধারা ছিল। এই ধারাগুলো প্রাথমিকভাবে আটক হওয়া ব্যক্তিকে সাহায্য করত। পুলিশ কোনো ব্যক্তিকে আটক করলে, কেন আটক করা হয়েছে, কী তার অপরাধ, তার বিরুদ্ধে কী সাক্ষী আছে এই ১৫টি ধারা দিয়ে বিচারক আটকের যৌক্তিকতা যাচাই করতে পারতেন। পুলিশের আইন সংস্কারের সময় এ ধারাগুলো তুলে দেওয়া হয়। ফলে পুলিশের ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়। এখন পুলিশ যে কাউকে আটক করে যেকোনো মামলার সঙ্গে জড়িয়ে দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিচারকের কিছুই করার থাকে না। অর্থাৎ পুলিশ প্রাথমিকভাবে কারও নাম লিখলে তাকে হাজতে যেতে হবে। ১০ বছর ধরে রাজনৈতিক নেতৃত্বের দুর্বলতা লক্ষ করছি। এ ক্ষেত্রে আমাদের কিছু করার নেই। সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে পুলিশ বিভাগে সংস্কারের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ব্যবস্থা অনেকের পছন্দ হবে, অনেকের হবে না। তার পরও এ সংস্কারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। পুলিশি মামলায় দোষী সাব্যস্তের হার পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় খুবই হতাশাজনক। পুলিশের প্রতি ছয়টি মামলার একটি মামলায় আসামি দোষী সাব্যস্ত হন। পাঁচটি মামলায় সবাই খালাস পেয়ে যান। পাঁচটি মামলায় নির্দোষ প্রমাণ হতে হতে বিচারকসহ সবার যে পরিমাণ সময় এবং অর্থ নষ্ট হয়, সেটি দেশের জন্য বড় ক্ষতির বিষয়। পুলিশি মামলার এটি একটি খারাপ দৃষ্টান্ত।
আব্দুল কাইয়ুম
শাহদীন মালিকের আলোচনা থেকে আইনের কিছু বিষয়, পুলিশের একচ্ছত্র ক্ষমতার কিছু বিষয় জানা গেল। এবার বলবেন ইসমাইল হোসেন।
ইসমাইল হোসেন
পুলিশের সমস্যা আজ জাতীয় সমস্যা হিসেবে মনে করা হচ্ছে। মনে করা হচ্ছে পুলিশ এমন একটা পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যে তাদের সমস্যা তাৎক্ষণিক কে দেখবে। সরকার, আইজি, সুশীল সমাজ, না সবাই মিলে দেখবে। সমস্যাটা সবার কাছে প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। এ সমস্যা সমাধানের জন্য যে কাজগুলো করা দরকার সে বিষয়ে কিছু বলতে চাই। সবাই একটি কথা বলেছেন, এটি একদিনে হয়নি, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। তাঁদের সঙ্গে একমত পোষণ করছি। এখন এর গোড়া খুঁজে বের করতে হবে যে কেন এসব হচ্ছে।
গোড়া খুঁজতে গেলে প্রথমে আসবে নিয়োগ-পদ্ধতি। অভিজ্ঞতা থেকে জানি নিয়োগ-পদ্ধতিতে যথেষ্ট অনিয়ম রয়েছে। নিয়োগের সময় প্রার্থীর লেখাপড়া, অতীত, সামাজিক অবস্থান ইত্যাদির ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে। তা না হলে যত দিন দলীয় তালিকার ভিত্তিতে নিয়োগ হবে, তত দিন এই সমস্যা থাকবে। যত কথাই বলি এ সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে পারব না।
প্রশিক্ষণের অভাব রয়েছে। প্রশিক্ষণ বলতে শুধু কুচকাওয়াজ (লেফ্ট-রাইট) করা বোঝায় না। কর্মপরিকল্পনাকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য বর্তমান সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ নিতে হবে। বর্তমান সময়ের আলোচিত বিষয়, মানবাধিকার, শিশু নির্যাতন, নারী নির্যাতন—এসবের ওপর প্রশিক্ষণ নিতে হবে। তা না হলে সাংবাদিকদের ওপর হামলা হবে, আদালত প্রাঙ্গণে নারীকে অপমান করা হবে। যাঁরা এসব অন্যায় করছেন, তাঁরা বোঝেন কি না যে এটি অন্যায়, আজকে সেটিও একটি প্রশ্ন। এসব কারণে তার উপযুক্ত প্রশিক্ষণের প্রয়োজন। প্রশিক্ষণের মধ্যে শুধু আইনের কিছু ধারা থাকলে হবে না। বর্তমান যুগের চাহিদা অনুযায়ী আধুনিক প্রশিক্ষণ নিতে হবে।
থানার কর্মকর্তারা কীভাবে পরিচালিত হবেন। তাঁরা কী আইনের, না রাজনৈতিক নেতাদের নির্দেশের দ্বারা পরিচালিত হবেন, সেটি একটি প্রশ্ন এবং রাজনৈতিক নেতারা কতখানি অপব্যবহার করবেন তাঁদের, সেটি একটি বিষয়। কর্মকর্তারা তাঁদের নির্দেশ শুনতে বাধ্য। কারণ, তাঁদের নির্দেশ না শুনলে তাঁরা বদলি হবেন, পদোন্নতি হবে না, বহিষ্কারসহ নানাবিধ সমস্যা হবে। এ ধরনের অভিজ্ঞতা নিজেরই ছিল।
যত দিন পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলো তাদের স্বার্থ হাসিলের কাজে পুলিশকে ব্যবহার করবে, তত দিন পুলিশের কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করা যাবে না। এখন অনেকেই মনে করেন সরকার পরিবর্তন হলে আমি তো আর থাকব না। তাহলে রাজনৈতিক নেতারা কী পরিমাণ নিয়মবহির্ভূত কাজে তাঁকে ব্যবহার করেন যে তিনি ভাবতে থাকেন সরকার বদল হলে তাঁর পেশায় থাকা সম্ভব হবে না। রাজনৈতিক নেতাদেরও এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে।
পুলিশের সংস্কার নিয়ে সব সরকারের সময় কথা হয়। যে সরকারই আসুক সংস্কার বলতে বোঝে পুলিশের সদস্য নিয়োগ বা কোনো বিশেষ এলাকায় পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো। আসল সংস্কার যে তাদের মানসিক পরিবর্তনে, প্রশিক্ষণে, অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ্যে, আচরণে ইত্যাদি বিষয় এ পর্যন্ত কোনো সরকার তা বোঝেনি। পুলিশের দুর্নীতির কথা বলা হয়। পুলিশের মৌলিক প্রয়োজনের জন্য যদি টাকা বরাদ্দ না থাকে তাহলে সে অনিয়ম করবে।
চেইন অব কমান্ডের কথা অনেকে বলেছেন। এ ক্ষেত্রে যিনি নির্দেশ দেবেন, তাঁর যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। নিজের যদি যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, সাহস না থাকে, তাহলে তিনি কীভাবে নির্দেশ দেবেন। ঢাকা শহরের সবাই কমবেশি ট্রাফিক সমস্যায় ভোগেন। ট্রাফিকে পরিদর্শকের কাজ শুরু হয় ডেপুটি কমিশনার ট্রাফিক থেকে। ঢাকা শহরে যতজন ডেপুটি কমিশনার ট্রাফিক আছেন, খোঁজ নিয়ে দেখেন তাঁরা ট্রাফিক ট্রেনিংয়ের ‘ট’ জানেন কি না। তাহলে এই লোকটা কী কমান্ড করবেন। আর তাঁর কমান্ডে কিই বা ভেঙে পড়বে। কেউ কোথাও ভালো না করলে বলা হয়, যাও তুমি ট্রাফিকে যাও। যাও তুমি সারদায় ট্রেনিংয়ে যাও। সংস্কারের জন্য অনেক সুপারিশ এসেছে। তার কোনোটাই প্রয়োগ করা হয়নি। আজকে সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন, নারী নির্যাতন বিভিন্ন বিষয়ের ওপর পরিপত্র জারি করলে হবে না। পুলিশের সংস্কৃতির মধ্যে পরিবর্তন আনতে হবে। এবং এর জন্য যা যা করা দরকার তার সবকিছু করতে হবে।
আব্দুল কাইয়ুম
পুলিশের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সবাই আলোচনা করেছেন। এখন জবাবদিহির বিষয়ে অল্প কথায় যদি কিছু বলতে চান।
সা’দত হুসাইন
সম্প্রতি কিছু পুলিশ কর্মকর্তা যেসব কাজ করছেন তার সবই যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তা কিন্তু নয়। পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ছাত্রদের মধ্যে মারামারি হচ্ছে। ওই দিন কোনো হরতাল-অবরোধ ছিল না। বিরোধী দলের কোনো কর্মকাণ্ড ছিল না। সেখানে গিয়ে সাংবাদিকদের মারা, ছাত্রদের বেধড়ক পেটানো— এটার উদ্দেশ্য কী? এ ক্ষেত্রে সরকারের কোনো বাহবা পাওয়ার কথা নয়। কাদেরের ঘটনা পড়ার সময় দেখলাম খিলগাঁও থানার ওসি মারতে মারতে একপর্যায়ে বলছেন, ‘দেখি নতুন চাপাতিটা, ওটা একটু পরীক্ষা করি।’ বলেই নতুন চাপাতি দিয়ে কাদেরের পায়ে কোপ দিলেন। এর অর্থ কী, এখানে কি রাজনৈতিক কোনো উদ্দেশ্য আছে? চট্টগ্রামে এক ক্যাডার কর্মকর্তা বিদেশি মহিলার মুঠোফোন চুরি করেছেন। ওই মহিলা তাঁকে মার দিয়েছেন। পুলিশ ক্যাডারে ঢোকার জন্য ধানমন্ডিতে একজন মহিলা আইনজীবীকে খুন করা হয়েছিল। এখন যা দরকার তা হলো, এদের পারিবারিক ইতিহাস খুঁজে দেখা। এলাকায় এদের কর্মকাণ্ড কী ছিল। চাকরির ক্ষেত্রে কোথায় কী করেছে—সবকিছু খতিয়ে দেখতে হবে। এদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। কেন এরা এই অপকর্মগুলো করে থাকে। কী চায় এরা, এদের সমস্যা কোথায়। মনে হয় নিয়োগ থেকে শুরু করে সবকিছু খতিয়ে দেখলে আসল কারণ বেরিয়ে আসবে।
নুরুল হুদা
দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান আছে, যেখানে মেধাবী ও দায়িত্বশীলদের নিয়োগ দেওয়া দরকার। বাস্তবে দেখি, সব পরীক্ষায় তৃতীয় শ্রেণী পাওয়া অযোগ্যদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নীতিনির্ধারকদের ইশারায় এগুলো হচ্ছে। এখন কার কাছ থেকে কী আমরা আশা করব, কে আমাদের ভালো সেবা দেবে। পুলিশের পেশাটাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হয় এ জন্য যে পুলিশই একমাত্র বাহিনী, যে আমার স্বাধীনতাকে কেড়ে নিতে পারে। ৫৪ ধারা দিয়ে যে কাউকে পুলিশ আটক করতে পারে। এত বড় ক্ষমতা যাকে-তাকে না দিয়ে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের দেওয়া উচিত। নিয়োগ-প্রক্রিয়ায় গলদ থাকার জন্য রাষ্ট্রের এত বড় ক্ষমতা যার-তার হাতে চলে যাচ্ছে। যে কারণে আজ পুলিশের কাজকর্ম প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
পদানুসারে পুলিশের প্রত্যেক সদস্য আইন কাঠামোর মধ্যে আছেন। ওপরের কর্মকর্তা নিচের কর্মকর্তাকে আইনের বাইরে কোনো নির্দেশ দিতে পারেন না। দিলে তিনি শুনতে বাধ্য নন। এমন না যে আমি সাব ইন্সপেক্টর, উনি আইজি, ওনার কথা আমার শুনতেই হবে। সবাই সবার জায়গায় সম্পূর্ণ স্বাধীন। অনেক সময় শুনে থাকি—পদস্থ কর্মকর্তার আদেশ হলে করতে পারি। এটা বলাই বে-আইনি। ওই কর্মকর্তাকে স্যালুট করা দাপ্তরিক শৃঙ্খলার অংশ। আইনত যে কাজ, তার জন্য কোনো স্যালুট নেই।
আব্দুল কাইয়ুম
আদালতে এক পুলিশ কর্মকর্তা আইনজীবীকে বললেন, ‘ধর বেটাকে, জঙ্গি মামলায় ঢুকায়া দে।’ এই পুলিশ কর্মকর্তার ওপর কি কেউ নেই, যিনি বলবেন যে এটা তোমার অন্যায় কাজ হয়েছে। কেউ অপরাধ করার সঙ্গে সঙ্গে তার ওপরের কর্মকর্তা যদি তাকে জিজ্ঞাসা করেন যে তুমি কেন এটা করেছ, তাহলেও পুলিশের অন্যায় অনেকটা কমে আসবে।
নুরুল হুদা
জবাবদিহির যথেষ্ট জায়গা আছে। প্রয়োগ হচ্ছে কি না সেটি ভিন্ন প্রশ্ন। একজন ওসি যদি অপরাধ করেন, সে ক্ষেত্রে অ্যাসিসট্যান্ট, ডেপুটি, অ্যাডিশনাল, জয়েন্ট ও কমিশনারের কাছে তাঁর জবাবদিহি করার আছে। এলাকার যে বিচারিক ব্যবস্থা আছে তাঁরা দেখতে পারেন। সরকার তো দেখতেই পারে। জবাবদিহি করার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা আছে। ব্যক্তির বিচ্যুতি থাকলে জবাবদিহি কার্যকর হবে না। ম্যাজিট্রেটরা ইচ্ছা করলে জামিন দিতে পারেন। কিন্তু আমরা দেখি, অনেক নিরাপরাধ মানুষ জামিন পাচ্ছেন না। আজকাল নারী নির্যাতন, শিশু নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা অনেক বেড়ে গেছে। সে ক্ষেত্রে আলাদা একটা কমিশন তৈরি হতে পারে, যাঁরা এ বিষয়গুলো দেখবেন এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
ইসমাইল হোসেন
কেউ তদন্ত ঠিকমতো করেনি। কেউ মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। কেউ রিমান্ডে নিয়ে অত্যাচার করেছে। এগুলো দেখার জন্য পুলিশের নিজস্ব ব্যবস্থা আছে। এ কাজগুলো ঠিকমতো হচ্ছে কি না সেটা দেখার জন্য আইজি, অতিরিক্ত আইজিদের সুপারভিশন থাকতে হবে।
সা’দত হুসাইন
পিএসসিতে থাকার সময় পুলিশের অনেক ডিসিপ্লিন কেস আমাদের কাছে যেত। এ বিষয়ে অনেক লিখেছি। অনেকের দোষ প্রমাণ হয়ে সাজাও হয়েছে। পুলিশের মধ্যে ইন্সপেক্টর পর্যন্ত একটা বিষয় খেয়াল করেছি, যদি চাকরি না যায় তাহলে সাজাকে ওরা কিছু মনে করে না। ওরা শুধু দেখে চাকরি গেছে কি না। সাত বছর পর ফিরে এসে সুন্দর করে লিখছে তার শাস্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে।
তাই শাস্তি যেটা দিতে হবে সেটা দৃষ্টান্তমূলক দিতে হবে। আমি আবারও নিয়োগ-প্রক্রিয়ার কথা বলব। নিয়োগের ক্ষেত্রে, স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। নিবিড় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে। এমনও দেখা যায়, প্রশিক্ষণ চলাকালে তাকে তুলে এনে পোস্টিং দেওয়া হয়।
ইসমাইল হোসেন
পদোন্নতির বিষয়ে একটি কথা বিশেষ জোর দিয়ে বলতে চাই। তা হলো, পুলিশ বাহিনীতে পদোন্নতির যে ধারা বা পদ্ধতি, তা অবশ্যই পরিবর্তন করতে হবে। এখানে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতি দেওয়া হয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশে কৃতিত্ব বা কার্যসম্পাদনের ওপর নির্ভর করে পদোন্নতি হয়। একজন পুলিশ সদস্যের প্রতিবছরের কাজ রেকর্ড করা হবে। বছর শেষে মূল্যায়ন করা হবে এবং ভালো কাজের আলোকে পদোন্নতি হবে। জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতি দিলে কাজ না করে সময় পার করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। পদোন্নতির সেকেলে এই পদ্ধতির এখনই পরিবর্তন করতে হবে।
শাহ্দীন মালিক
দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশ বাহিনীর সংস্কারের বিষয়টি আলোচনা হচ্ছে। মনে হয় এখন আলোচনার মধ্যে থাকার সময় নেই। সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিতে হবে কীভাবে পুলিশ বাহিনীর সংস্কার করা যায়। এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা যেতে পারে।
আব্দুল কাইয়ুম
পুলিশকে কার্যকর করতে হলে এর ভেতরের যে জবাবদিহির ব্যবস্থা আছে তার সঠিক প্রয়োগ করতে হবে। কোথাও ব্যত্যয় ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে জবাবদিহির মধ্যে আনতে হবে।
আপনারা সবাই মূল্যবান আলোচনা করেছেন। পুলিশের নিয়োগ-প্রক্রিয়া, প্রশিক্ষণ, বদলি, পদোন্নতি ও সংস্কারের মতো মৌলিক বিষয়গুলো এখানে আলোচনায় এসেছে। পুলিশ বাহিনীকে জনবান্ধব করে তুলতে হলে আলোচিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। আপনাদের সবাইকে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে ধন্যবাদ।
যাঁরা অংশ নিলেন
সা’দত হুসাইন
সাবেক স্বরাষ্ট্রসচিব ও সরকারি কর্মকমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান
ইসমাইল হোসেন
সাবেক আইজিপি
নুরুল হুদা
সাবেক আইজিপি
ড. শাহ্দীন মালিক
আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট
সঞ্চালক
আব্দুল কাইয়ুম: যুগ্ম সম্পাদক, প্রথম আলো
অন্যদিকে, পুলিশের অনেক সমস্যা আছে। অনেক সময় তাদের ১৫-১৬ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করতে হয়। এরপর ব্যারাকে ফিরে দেখে ঘুমোনোর জায়গা নেই। নিয়োগ-বদলি-পদোন্নতির ক্ষেত্রে দলীয়করণ ও আঞ্চলিকতায় মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হন। এসব কারণে পুলিশের মধ্যে হতাশা কাজ করে। এসব ঘটনা কীভাবে দেখছেন সা’দত হুসাইন?
সা’দত হুসাইন
আজকে এখানে যে আলোচনা হচ্ছে, এটি সরকারের উচ্চপর্যায়ে বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হওয়ার কথা। এটা যে শুধু দুটি রাজনৈতিক দলের সমস্যা তা নয়, পুলিশ প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই সমস্যা তৈরি হয়েছে। পুলিশের ভাবমূর্তি ও গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। ফলে তৈরি হচ্ছে প্রসাশনিক ও সামাজিক সমস্যা। কোনো দেশের পুলিশ বাহিনীর জন্য এটা বিশেষ উদ্বেগের কারণ। যেকোনো সময় বড় ধরনের বিপদ হতে পারে। আজকে দেশের সব মানুষ চিন্তিত। সবাই এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে চায়।
হঠাৎ করে বা এক দিনে এ সমস্যা তৈরি হয়নি। সম্ভবত কালীগঞ্জের সাম্প্রতিক ঘটনায় ওসিকে বলা হয়েছে পাগল। আরও কিছু কিছু জায়গায় এ রকম আছে। দীর্ঘ সময় ধরে এ প্রক্রিয়া চলে আসছে। নিজের ওপর আঘাত আসেনি বলে হয়তো খেয়াল করা হয়নি। আজকে সাংবাদিকের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় আঘাত করায় এত আলোচনা হচ্ছে। একই ঘটনা নিরীহ মানুষের ক্ষেত্রে হচ্ছে। কিন্তু সেটা আলোচনায় আসছে না। এসব কারণে পুরা বিষয়টি ভেবে দেখা জরুরি হয়ে পড়েছে।
পুলিশ বাহিনীর কাজকর্ম দেখে মনে হচ্ছে, চেইন অব কামান্ড ভেঙে পড়ছে। অনেকে মনে করছে, সে তার ওপরের কমকর্তার নির্দেশ পালনে বাধ্য নয় বা তার কোনো অদৃশ্য শক্তি আছে, যে কারণে সে আইনের ঊর্ধ্বে থাকবে। যারা এ ধরনের অপকর্মের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে। পরবর্তী সময় সবকিছু খতিয়ে দেখার পর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তারপর এরা কোথা থেকে এসেছে, তাদের পারিবারিক-সামাজিক অতীত (ব্যাকগ্রাউন্ড) দেখতে হবে। চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে একজন মোবাইল ফোন চুরি করেছিল। তখন তাদের সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে দেখা গেল, তাদের একজনের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট করে বলা আছে, সে ভবিষ্যতে সমস্যা তৈরি করতে পারে। এখন পুলিশ বাহিনীর নিয়োগ-প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে হবে। তাদের পোস্টিং কোথায় ছিল, সেখানে তাদের রেকর্ড কী—এগুলো দেখতে হবে।
আরেকটি বিপজ্জনক বিষয় হলো, কর্তৃপক্ষ এটিকে সমস্যা হিসেবে স্বীকারই করছে না। বিষয়টি নিয়ে যাদের চিন্তা করার কথা, অনুধাবন করার কথা, স্বীকার করার কথা, তাঁরা সেটা করছেন না। এটা নিয়ে অনেক সময় তাঁরা হাসিঠাট্টা করছেন। কোনো চিন্তাভাবনা করে কথা বলছেন না। তাঁরা পুলিশ থেকে দূরে থাকার কথা বলছেন। এ ধরনের সস্তা কথা বললে কখনো সমস্যার সমাধান হবে না।
বিষয়টি বিশেষ কোনো রাজনৈতিক দল বা বিশেষ কোনো শ্রেণী-পেশার মানুষের সমস্যা নয়। বিষয়টি একটি জাতীয় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সব দলের, সব শ্রেণী-পেশার মানুষ নিয়ে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। সবার আন্তরিকতা থাকলে সমস্যা থেকে উত্তরণ সম্ভব। কিন্তু সমস্যাকে হালকা করে দেখে হাসাহাসি করে উড়িয়ে দিলে তা সবার জন্য বিপদ ডেকে আনবে। সচেতন নাগরিক হিসেবে আমরা খুব শঙ্কিত, ভবিষ্যতে এটি কোন পর্যায়ে যায়। দেশের জন্য পুলিশ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। পুলিশ বাহিনীর যত ক্ষমতা আছে, অন্য কারও এত ক্ষমতা নেই। এই প্রতিষ্ঠানে চেইন অব কমান্ড না থাকলে, শৃঙ্খলা না থাকলে দেশের অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়ে যেতে পারে।
তিনটি প্রাতিষ্ঠান (অর্গানাইজেশন) —পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট ও বিচার বিভাগ—দেশের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখে। এর কোনো একটি যদি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়, দেশের মানুষের জন্য সেটি খুব শঙ্কার কারণ হয়। পুলিশের যাঁরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, তাঁরা আমাদের মতোই শঙ্কিত। তাঁরা নিশ্চয়ই চান না, তাঁদের বাহিনীর খারাপ কোনো পরিণতি হোক। গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে সম্পূর্ণ পেশাগত দিক থেকে ব্যবস্থা নিতে হবে।
আমি বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ও তার পরে আরও কয়েক মাস দায়িত্বে ছিলাম। সব আদেশ দিতাম আইজি সাহেবকে। কোনো দিন কোনো এসপি বা অন্য কাউকে সরাসরি আদেশ দিইনি। তত্ত্ব্বাবধায়ক সরকারের সময় সচিব ছিলাম। পরে যিনি এলেন, তিনি ওপর-নিচে সব জায়গায় আদেশ দিতেন। যেকোনো সময় যেকোনো জায়গায় চলেও যেতেন। এসব পদ যাঁরা ধারণ করেন, তাঁরা অনেক সময় তাঁদের মর্যাদা বুঝতে পারেন না। পরে অবশ্য তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আমাকে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে ভালো-খারাপ কিছু না বলে শুধু বলেছিলাম, তিনি এই পদের যোগ্য নন। সব সময় নিয়ম মানার চেষ্টা করতাম।
আব্দুল কাইয়ুম
পুলিশের কাছে অস্ত্র ও লাঠি থাকে। প্রায় সময় এগুলো মানুষের ওপর নিপীড়নের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আত্মরক্ষার্থে পুলিশ অবশ্যই গুলি চালাতে পারে। ওপরের দিক থেকে নির্দেশ কী থাকে, কীভাবে পুলিশ সেটি পালন করে। এ বিষয়ের ওপর বলবেন নুরুল হুদা।
নুরুল হুদা
প্রথমে দুটি ঘটনার বিষয় উল্লেখ করব। একটি দেশের, অন্যটি দেশের বাইরের। যত দূর মনে পড়ে, ১৯৯২ সালে বাংলাদেশে সাংবাদিকদের ওপর সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা হয়েছিল। সে সময় কমপক্ষে ৪০ থেকে ৫০ জন সাংবাদিককে পিটিয়ে প্রেসক্লাবের মধ্যে উঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ড. কামল হোসেন পুলিশ কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করেছিলেন। কিন্তু তখনকার রাজনৈতিক দল এটাকে নিজেদের স্বার্থে দেখেছে। তারা ভেবেছে, এই পুলিশই আমাদের দরকার। সেদিন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাই আজকে মনে হচ্ছে পুলিশ খুব বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। কিন্তু এর শুরু অনেক আগে থেকেই।
সাংবাদিকেরা জনসাধারণের তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করেন। এ জন্য ঘটনাস্থলের দূরে থাকার উপায় নেই। পুলিশের একটা অভিযোগ হলো, অন্যপক্ষ তাদের আক্রমণ করতে থাকে। যে কারণে পুলিশ কঠিন হতে বাধ্য হয়।
কিন্তু ক্যামেরা শুধু পুলিশের কাজকর্ম ধারণ করে। তাঁরা এমনভাবে চারপাশ ঘিরে থাকেন যে অনেক সময় প্রসাশনিক দায়িত্ব পালন করতে অসুবিধা হয়। পুলিশদের যারা আক্রমণ করছে, তাদের ছবি খুব একটা তোলা হয় না। সেটাও হয়তো একটু ভেবে দেখার বিষয়। এমন কিছু সময় আসে, যখন লাঠি ব্যবহার করা যায় না। লাঠি হয়তো চার থেকে পাঁচ ফুট। কিন্তু ২০ থেকে ৩০ ফুট দূরে যে মানুষ আছে, তার কাছে ইট-পাথর প্রভৃতি থাকে। এ ক্ষেত্রে তাকে ধরা এবং নিজেকে রক্ষা করা মুশকিল হয়ে পড়ে। ক্যামেরায় দুই দিকই আসা উচিত। যেমন, চট্টগ্রামে খেলার সময় পুলিশ কর্মকর্তা একজনকে ঘুষি মেরেছিল। ওই কর্মকর্তার অভিযোগ, সাংবাদিকেরা শুধু ঘুষি মারাটা দেখালেন, কিন্তু এর আগে কী হয়েছিল, তার কিছু দেখালেন না।
মনে হয় যে চেইন অব কামান্ডে কোনো সমস্যা হচ্ছে। জ্যোতি বসুকে একবার বলা হয়েছিল, ‘আপনাকে তো রাত ১০টার পর পাওয়া যায় না।’ তিনি বলেছিলেন, ‘আমাকে পাওয়ার তো দরকার নেই। আমাকে দরকার হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্রসচিব ও আইজি আছেন কেন। তাঁদের বেতন তো আমাকে দেওয়া হয় না!’ আমাদের দেশে রাত একটা, দুইটার সময় ডাকা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরাসরি জেলার সঙ্গে যোগাযোগ করে। শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শৃঙ্খলা মেনে কাজ করা উচিত। জেলার প্রধানের মাধ্যমে কাজ করলে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
সাম্প্র্রতিক ঘটনার কারণ হলো তত্ত্বাবধানে কোথায়ও শৈথিল্য আছে। শৈথিল্যের কারণ হতে পারে নিয়োগ-প্রক্রিয়া ঠিকমতো না মানা। সঠিকভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত না হওয়া। তা ছাড়া তাদের ব্যক্তিগত অতীত খুঁজে দেখতে হবে। যখনই কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হয়, তখনই সাজার ব্যবস্থা করা উচিত। সাজার ব্যবস্থা না থাকলে অন্যরা শিখবে না। রুবেল হত্যার ঘটনায় এসি আকরামের অন্যায় ছিল। এফআইআরের আগেই তাঁকে আটক করা হয়েছিল। তখন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়েছিল। গুরুত্ব না থাকলে শৃঙ্খলা থাকে না।
বাংলাদেশের মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে, এ লোক আমার, ও লোক তোমার। সরকারি কর্মচারীরা কখনো আমার-তোমার হতে পারেন না। তাঁরা হবেন সবার। যত দিন পর্যন্ত আমার-তোমার ধারা চলতে থাকবে, তত দিন আইনশৃঙ্খলাসহ সব ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হবে।
পুলিশের কাজ যদি পেশাগতভাবে মূল্যায়ন না করা হয়, এ বাহিনীর পেছনে যদি বিনিয়োগ করা না হয়, এর উৎকর্ষ যদি বৃদ্ধি করা না হয়, তাহলে এ পেশায় নিচু মান থেকে যাবে। নিচু মানের লোকজন মনে করবে, এটিই তাদের প্রকৃত জায়গা। মানুষও একে নিচু মানের কাজ হিসেবে দেখবে। তারা মনে করবে না যে এটি একটি দায়িত্বশীল কাজ, মানসম্মানের কাজ।
পুলিশ বাহিনী একটি শৃঙ্খলাপূর্ণ বাহিনী। এর মধ্যে জবাবদিহির যথেষ্ট জায়গা আছে। পুলিশের খসড়া আইনে একটি বিষয়ের উল্লেখ আছে, যেটির সঙ্গে আমি একমত। বিষয়টি হলো, সাধারণ জনগণ, বিচার বিভাগ ও নারী প্রতিনিধি নিয়ে একটি বড় পরিসরে (ব্রড বেজড) অভিযোগ কমিশন গঠন করতে হবে। তারা পুলিশের ব্যত্যয় খতিয়ে দেখবে। এ প্রস্তাব পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকে এসেছে। সরকার এটি বিবেচনায় নিতে পারে।
জবাবদিহি যে হচ্ছে না, তা কিন্তু নয়। তেজগাঁঁও পলিটেকনিকের ঘটনায় ১০ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত নয়জনের বিরুদ্ধে পুলিশ কর্মকর্তা বিশেষ বিধান অধ্যাদেশ ১৯৭৬ প্রয়োগ করা হয়েছে। এটা অত্যন্ত কঠিন আইন, যেখানে ৪৫ দিনের মধ্যে তাদের চাকরি থেকে বিদায় করে দেওয়া যায়। পরে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। এর বিরুদ্ধে কোনো আপিল গ্রহণ করা হয় না। প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তাদের ব্যাপারে পুলিশ সদর দপ্তরের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নিয়েছে, ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এটি আরও দ্রুত নিতে হবে এবং দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে, যাতে অন্যরা বুঝতে পারে, এগুলো করে পার পাওয়া যাবে না। আরেকটি বিষয় খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে, তাদের নিয়োগ কেমন করে হয়েছিল। প্রশিক্ষণ ঠিক ছিল কি না এবং কর্মস্থলে তাদের কাজের রেকর্ড কী। কিছু খারাপ কর্মী সব চাকরিতে থাকে। সেটা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
আব্দুল কাইয়ুম
ওপরের দিক থেকে যাদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রত্যয় থাকে এবং সেভাবে যদি নিচের দিকে নির্দেশ থাকে, তাহলেও কি নিচের দিকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কা থাকে? অর্থাৎ ওপরের কর্মকর্তার ভূমিকা কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ?
নুরুল হুদা
অনেক সময় হয়তো আমরা সঠিক নির্দেশ দিতে পারি না। কিন্তু এর দায়িত্ব যিনি আমাকে রাজনৈতিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন, তাঁর। নিচের মানুষেরা যদি বোঝেন তাঁর চাকরি, পদোন্নতি, বদলি ও বিদেশে যাওয়া রাজনৈতিক নেতারাই ঠিক করে দেবেন, স্থানীয় সাংসদ ঠিক করবেন কোন ওসি তাঁর থানায় কাজ করবেন, সে ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা (চেইন অব কমান্ড) ভেঙে পড়ে। সবকিছু নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তাই যিনি নির্দেশ দেবেন, তাঁর স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ থাকতে হবে। এমনও দেখা গেছে, একজন কর্মকর্তা দলের জন্য ক্ষতিকর। সেই দলেরই একজন নেতা বলছেন, ওই খারাপ কর্মকর্তাকে তাঁর জেলায় বদলি করতে। ওই নেতা কর্মকর্তাকে দিয়ে তাঁর উদ্দেশ্য হাসিল করতে চান। দলের ক্ষতি তাঁর কাছে কোনো বিষয় নয়, বিষয় হচ্ছে তাঁর উদ্দেশ্য পূরণ হচ্ছে কি না। এই হচ্ছে তথাকথিত নেতা আর কর্মকর্তার। এই চক্র থেকে বের হতে না পারলে সমস্যা থেকেই যাবে।
কোনো এলাকায় মন্ত্রী গেছেন। নিজের কাজ বাদ দিয়ে সারা দিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তাঁর সার্কিট হাউসে পড়ে আছেন। তাঁদের দেখে দেখে জুনিয়ররা একই কাজ করেন। কর্মকর্তাদের পেশাগত দায়িত্ব অনুধাবন করে তা পালনের সাহস অর্জন করতে হবে। রাজনীতিকে যাঁরা নিয়ন্ত্রণ করেন, তাঁদেরও বুঝতে হবে, সরকারি কর্মচারী কোনো দলের নয়, তাঁরা দেশের মানুষের সেবক। দেশের মানুষের পয়সার তাঁদের বেতন হয়, কোনো দলের পয়সায় নয়।
আব্দুল কাইয়ুম
পুলিশ বাহিনীর কোনো সদস্যের অন্যায় হলে বিভাগীয় কমিটি গঠন করা হয় তদন্তের জন্য। এই তদন্ত নিয়ে জনমনে অনেক প্রশ্ন তৈরি হয়। পুলিশের দোষত্রুটি ধরার উপায় কী?
ড. শাহদীন মালিক
সাম্প্রতিক সময় পুলিশের বেশ কিছু অনিয়ম সবাইকে ভাবিয়ে তুলেছে। কিন্তু বিষয়টি দীর্ঘদিন যাবৎ চলে আসছে। নব্বইয়ের দশকে ইয়াসমিন ও রুবেলের ঘটনায় পুলিশের ভাবমূর্তি সংকটের মুখে পড়েছিল। ইয়াসমিনের ঘটনায় একজনের ফাঁসি এবং দুজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছিল। রুবেলের ঘটনায়ও পুলিশের শাস্তি হয়েছিল। এখন যেমন পুলিশ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে, দেশে হত্যা, গুমের মতো ঘটনা ঘটছে, নব্বইয়ের দশকের পরে আর মনে পড়ে না এ রকম হয়েছে।
এ খারাপ অবস্থার জন্য তিনটি কারণ আমার কাছে মনে হয়। এক. গত এক দশকে রাজনৈতিক নেতৃত্বের দুর্বলতা। দুই. ২০০৩ সালে অপারেশন ক্লিন হার্টে প্রায় ৫০ জনের মতো মারা গিয়েছিল। অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। এই ৫০ জন মানুষ মারার অপরাধ থেকে তাদের দায়মুক্তি দেওয়া হলো। অর্থাৎ এ অপরাধে তাদের কখনো বিচার করা যাবে না। এই প্রথম আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেখল যে তারা যা-ই করুক, তাদের কোনো বিচার হবে না। বুঝে হোক না বুঝে হোক, সবচেয়ে খারাপ কাজের বৈধতা দেওয়া হয়েছে। ২০০৪ সাল থেকে আজ পর্যন্ত র্যাব-পুলিশ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। সমাজে এটি একটি খারাপ দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। এখন অন্যদের মধ্যেও ধারণা হয়েছে যে খারাপ কাজ করে পার পাওয়া যেতে পারে। তিন. এই বাহিনীতে দীর্ঘদিন কোনো সংস্কার হয়নি।
ফৌজদারি কার্যবিধির ২০৬ থেকে ২২০ পর্যন্ত ১৫টি ধারা ছিল। এই ধারাগুলো প্রাথমিকভাবে আটক হওয়া ব্যক্তিকে সাহায্য করত। পুলিশ কোনো ব্যক্তিকে আটক করলে, কেন আটক করা হয়েছে, কী তার অপরাধ, তার বিরুদ্ধে কী সাক্ষী আছে এই ১৫টি ধারা দিয়ে বিচারক আটকের যৌক্তিকতা যাচাই করতে পারতেন। পুলিশের আইন সংস্কারের সময় এ ধারাগুলো তুলে দেওয়া হয়। ফলে পুলিশের ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়। এখন পুলিশ যে কাউকে আটক করে যেকোনো মামলার সঙ্গে জড়িয়ে দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিচারকের কিছুই করার থাকে না। অর্থাৎ পুলিশ প্রাথমিকভাবে কারও নাম লিখলে তাকে হাজতে যেতে হবে। ১০ বছর ধরে রাজনৈতিক নেতৃত্বের দুর্বলতা লক্ষ করছি। এ ক্ষেত্রে আমাদের কিছু করার নেই। সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে পুলিশ বিভাগে সংস্কারের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ব্যবস্থা অনেকের পছন্দ হবে, অনেকের হবে না। তার পরও এ সংস্কারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। পুলিশি মামলায় দোষী সাব্যস্তের হার পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় খুবই হতাশাজনক। পুলিশের প্রতি ছয়টি মামলার একটি মামলায় আসামি দোষী সাব্যস্ত হন। পাঁচটি মামলায় সবাই খালাস পেয়ে যান। পাঁচটি মামলায় নির্দোষ প্রমাণ হতে হতে বিচারকসহ সবার যে পরিমাণ সময় এবং অর্থ নষ্ট হয়, সেটি দেশের জন্য বড় ক্ষতির বিষয়। পুলিশি মামলার এটি একটি খারাপ দৃষ্টান্ত।
আব্দুল কাইয়ুম
শাহদীন মালিকের আলোচনা থেকে আইনের কিছু বিষয়, পুলিশের একচ্ছত্র ক্ষমতার কিছু বিষয় জানা গেল। এবার বলবেন ইসমাইল হোসেন।
ইসমাইল হোসেন
পুলিশের সমস্যা আজ জাতীয় সমস্যা হিসেবে মনে করা হচ্ছে। মনে করা হচ্ছে পুলিশ এমন একটা পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যে তাদের সমস্যা তাৎক্ষণিক কে দেখবে। সরকার, আইজি, সুশীল সমাজ, না সবাই মিলে দেখবে। সমস্যাটা সবার কাছে প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। এ সমস্যা সমাধানের জন্য যে কাজগুলো করা দরকার সে বিষয়ে কিছু বলতে চাই। সবাই একটি কথা বলেছেন, এটি একদিনে হয়নি, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। তাঁদের সঙ্গে একমত পোষণ করছি। এখন এর গোড়া খুঁজে বের করতে হবে যে কেন এসব হচ্ছে।
গোড়া খুঁজতে গেলে প্রথমে আসবে নিয়োগ-পদ্ধতি। অভিজ্ঞতা থেকে জানি নিয়োগ-পদ্ধতিতে যথেষ্ট অনিয়ম রয়েছে। নিয়োগের সময় প্রার্থীর লেখাপড়া, অতীত, সামাজিক অবস্থান ইত্যাদির ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে। তা না হলে যত দিন দলীয় তালিকার ভিত্তিতে নিয়োগ হবে, তত দিন এই সমস্যা থাকবে। যত কথাই বলি এ সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে পারব না।
প্রশিক্ষণের অভাব রয়েছে। প্রশিক্ষণ বলতে শুধু কুচকাওয়াজ (লেফ্ট-রাইট) করা বোঝায় না। কর্মপরিকল্পনাকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য বর্তমান সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ নিতে হবে। বর্তমান সময়ের আলোচিত বিষয়, মানবাধিকার, শিশু নির্যাতন, নারী নির্যাতন—এসবের ওপর প্রশিক্ষণ নিতে হবে। তা না হলে সাংবাদিকদের ওপর হামলা হবে, আদালত প্রাঙ্গণে নারীকে অপমান করা হবে। যাঁরা এসব অন্যায় করছেন, তাঁরা বোঝেন কি না যে এটি অন্যায়, আজকে সেটিও একটি প্রশ্ন। এসব কারণে তার উপযুক্ত প্রশিক্ষণের প্রয়োজন। প্রশিক্ষণের মধ্যে শুধু আইনের কিছু ধারা থাকলে হবে না। বর্তমান যুগের চাহিদা অনুযায়ী আধুনিক প্রশিক্ষণ নিতে হবে।
থানার কর্মকর্তারা কীভাবে পরিচালিত হবেন। তাঁরা কী আইনের, না রাজনৈতিক নেতাদের নির্দেশের দ্বারা পরিচালিত হবেন, সেটি একটি প্রশ্ন এবং রাজনৈতিক নেতারা কতখানি অপব্যবহার করবেন তাঁদের, সেটি একটি বিষয়। কর্মকর্তারা তাঁদের নির্দেশ শুনতে বাধ্য। কারণ, তাঁদের নির্দেশ না শুনলে তাঁরা বদলি হবেন, পদোন্নতি হবে না, বহিষ্কারসহ নানাবিধ সমস্যা হবে। এ ধরনের অভিজ্ঞতা নিজেরই ছিল।
যত দিন পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলো তাদের স্বার্থ হাসিলের কাজে পুলিশকে ব্যবহার করবে, তত দিন পুলিশের কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করা যাবে না। এখন অনেকেই মনে করেন সরকার পরিবর্তন হলে আমি তো আর থাকব না। তাহলে রাজনৈতিক নেতারা কী পরিমাণ নিয়মবহির্ভূত কাজে তাঁকে ব্যবহার করেন যে তিনি ভাবতে থাকেন সরকার বদল হলে তাঁর পেশায় থাকা সম্ভব হবে না। রাজনৈতিক নেতাদেরও এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে।
পুলিশের সংস্কার নিয়ে সব সরকারের সময় কথা হয়। যে সরকারই আসুক সংস্কার বলতে বোঝে পুলিশের সদস্য নিয়োগ বা কোনো বিশেষ এলাকায় পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো। আসল সংস্কার যে তাদের মানসিক পরিবর্তনে, প্রশিক্ষণে, অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ্যে, আচরণে ইত্যাদি বিষয় এ পর্যন্ত কোনো সরকার তা বোঝেনি। পুলিশের দুর্নীতির কথা বলা হয়। পুলিশের মৌলিক প্রয়োজনের জন্য যদি টাকা বরাদ্দ না থাকে তাহলে সে অনিয়ম করবে।
চেইন অব কমান্ডের কথা অনেকে বলেছেন। এ ক্ষেত্রে যিনি নির্দেশ দেবেন, তাঁর যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। নিজের যদি যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, সাহস না থাকে, তাহলে তিনি কীভাবে নির্দেশ দেবেন। ঢাকা শহরের সবাই কমবেশি ট্রাফিক সমস্যায় ভোগেন। ট্রাফিকে পরিদর্শকের কাজ শুরু হয় ডেপুটি কমিশনার ট্রাফিক থেকে। ঢাকা শহরে যতজন ডেপুটি কমিশনার ট্রাফিক আছেন, খোঁজ নিয়ে দেখেন তাঁরা ট্রাফিক ট্রেনিংয়ের ‘ট’ জানেন কি না। তাহলে এই লোকটা কী কমান্ড করবেন। আর তাঁর কমান্ডে কিই বা ভেঙে পড়বে। কেউ কোথাও ভালো না করলে বলা হয়, যাও তুমি ট্রাফিকে যাও। যাও তুমি সারদায় ট্রেনিংয়ে যাও। সংস্কারের জন্য অনেক সুপারিশ এসেছে। তার কোনোটাই প্রয়োগ করা হয়নি। আজকে সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন, নারী নির্যাতন বিভিন্ন বিষয়ের ওপর পরিপত্র জারি করলে হবে না। পুলিশের সংস্কৃতির মধ্যে পরিবর্তন আনতে হবে। এবং এর জন্য যা যা করা দরকার তার সবকিছু করতে হবে।
আব্দুল কাইয়ুম
পুলিশের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সবাই আলোচনা করেছেন। এখন জবাবদিহির বিষয়ে অল্প কথায় যদি কিছু বলতে চান।
সা’দত হুসাইন
সম্প্রতি কিছু পুলিশ কর্মকর্তা যেসব কাজ করছেন তার সবই যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তা কিন্তু নয়। পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ছাত্রদের মধ্যে মারামারি হচ্ছে। ওই দিন কোনো হরতাল-অবরোধ ছিল না। বিরোধী দলের কোনো কর্মকাণ্ড ছিল না। সেখানে গিয়ে সাংবাদিকদের মারা, ছাত্রদের বেধড়ক পেটানো— এটার উদ্দেশ্য কী? এ ক্ষেত্রে সরকারের কোনো বাহবা পাওয়ার কথা নয়। কাদেরের ঘটনা পড়ার সময় দেখলাম খিলগাঁও থানার ওসি মারতে মারতে একপর্যায়ে বলছেন, ‘দেখি নতুন চাপাতিটা, ওটা একটু পরীক্ষা করি।’ বলেই নতুন চাপাতি দিয়ে কাদেরের পায়ে কোপ দিলেন। এর অর্থ কী, এখানে কি রাজনৈতিক কোনো উদ্দেশ্য আছে? চট্টগ্রামে এক ক্যাডার কর্মকর্তা বিদেশি মহিলার মুঠোফোন চুরি করেছেন। ওই মহিলা তাঁকে মার দিয়েছেন। পুলিশ ক্যাডারে ঢোকার জন্য ধানমন্ডিতে একজন মহিলা আইনজীবীকে খুন করা হয়েছিল। এখন যা দরকার তা হলো, এদের পারিবারিক ইতিহাস খুঁজে দেখা। এলাকায় এদের কর্মকাণ্ড কী ছিল। চাকরির ক্ষেত্রে কোথায় কী করেছে—সবকিছু খতিয়ে দেখতে হবে। এদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। কেন এরা এই অপকর্মগুলো করে থাকে। কী চায় এরা, এদের সমস্যা কোথায়। মনে হয় নিয়োগ থেকে শুরু করে সবকিছু খতিয়ে দেখলে আসল কারণ বেরিয়ে আসবে।
নুরুল হুদা
দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান আছে, যেখানে মেধাবী ও দায়িত্বশীলদের নিয়োগ দেওয়া দরকার। বাস্তবে দেখি, সব পরীক্ষায় তৃতীয় শ্রেণী পাওয়া অযোগ্যদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নীতিনির্ধারকদের ইশারায় এগুলো হচ্ছে। এখন কার কাছ থেকে কী আমরা আশা করব, কে আমাদের ভালো সেবা দেবে। পুলিশের পেশাটাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হয় এ জন্য যে পুলিশই একমাত্র বাহিনী, যে আমার স্বাধীনতাকে কেড়ে নিতে পারে। ৫৪ ধারা দিয়ে যে কাউকে পুলিশ আটক করতে পারে। এত বড় ক্ষমতা যাকে-তাকে না দিয়ে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের দেওয়া উচিত। নিয়োগ-প্রক্রিয়ায় গলদ থাকার জন্য রাষ্ট্রের এত বড় ক্ষমতা যার-তার হাতে চলে যাচ্ছে। যে কারণে আজ পুলিশের কাজকর্ম প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
পদানুসারে পুলিশের প্রত্যেক সদস্য আইন কাঠামোর মধ্যে আছেন। ওপরের কর্মকর্তা নিচের কর্মকর্তাকে আইনের বাইরে কোনো নির্দেশ দিতে পারেন না। দিলে তিনি শুনতে বাধ্য নন। এমন না যে আমি সাব ইন্সপেক্টর, উনি আইজি, ওনার কথা আমার শুনতেই হবে। সবাই সবার জায়গায় সম্পূর্ণ স্বাধীন। অনেক সময় শুনে থাকি—পদস্থ কর্মকর্তার আদেশ হলে করতে পারি। এটা বলাই বে-আইনি। ওই কর্মকর্তাকে স্যালুট করা দাপ্তরিক শৃঙ্খলার অংশ। আইনত যে কাজ, তার জন্য কোনো স্যালুট নেই।
আব্দুল কাইয়ুম
আদালতে এক পুলিশ কর্মকর্তা আইনজীবীকে বললেন, ‘ধর বেটাকে, জঙ্গি মামলায় ঢুকায়া দে।’ এই পুলিশ কর্মকর্তার ওপর কি কেউ নেই, যিনি বলবেন যে এটা তোমার অন্যায় কাজ হয়েছে। কেউ অপরাধ করার সঙ্গে সঙ্গে তার ওপরের কর্মকর্তা যদি তাকে জিজ্ঞাসা করেন যে তুমি কেন এটা করেছ, তাহলেও পুলিশের অন্যায় অনেকটা কমে আসবে।
নুরুল হুদা
জবাবদিহির যথেষ্ট জায়গা আছে। প্রয়োগ হচ্ছে কি না সেটি ভিন্ন প্রশ্ন। একজন ওসি যদি অপরাধ করেন, সে ক্ষেত্রে অ্যাসিসট্যান্ট, ডেপুটি, অ্যাডিশনাল, জয়েন্ট ও কমিশনারের কাছে তাঁর জবাবদিহি করার আছে। এলাকার যে বিচারিক ব্যবস্থা আছে তাঁরা দেখতে পারেন। সরকার তো দেখতেই পারে। জবাবদিহি করার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা আছে। ব্যক্তির বিচ্যুতি থাকলে জবাবদিহি কার্যকর হবে না। ম্যাজিট্রেটরা ইচ্ছা করলে জামিন দিতে পারেন। কিন্তু আমরা দেখি, অনেক নিরাপরাধ মানুষ জামিন পাচ্ছেন না। আজকাল নারী নির্যাতন, শিশু নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা অনেক বেড়ে গেছে। সে ক্ষেত্রে আলাদা একটা কমিশন তৈরি হতে পারে, যাঁরা এ বিষয়গুলো দেখবেন এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
ইসমাইল হোসেন
কেউ তদন্ত ঠিকমতো করেনি। কেউ মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। কেউ রিমান্ডে নিয়ে অত্যাচার করেছে। এগুলো দেখার জন্য পুলিশের নিজস্ব ব্যবস্থা আছে। এ কাজগুলো ঠিকমতো হচ্ছে কি না সেটা দেখার জন্য আইজি, অতিরিক্ত আইজিদের সুপারভিশন থাকতে হবে।
সা’দত হুসাইন
পিএসসিতে থাকার সময় পুলিশের অনেক ডিসিপ্লিন কেস আমাদের কাছে যেত। এ বিষয়ে অনেক লিখেছি। অনেকের দোষ প্রমাণ হয়ে সাজাও হয়েছে। পুলিশের মধ্যে ইন্সপেক্টর পর্যন্ত একটা বিষয় খেয়াল করেছি, যদি চাকরি না যায় তাহলে সাজাকে ওরা কিছু মনে করে না। ওরা শুধু দেখে চাকরি গেছে কি না। সাত বছর পর ফিরে এসে সুন্দর করে লিখছে তার শাস্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে।
তাই শাস্তি যেটা দিতে হবে সেটা দৃষ্টান্তমূলক দিতে হবে। আমি আবারও নিয়োগ-প্রক্রিয়ার কথা বলব। নিয়োগের ক্ষেত্রে, স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। নিবিড় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে। এমনও দেখা যায়, প্রশিক্ষণ চলাকালে তাকে তুলে এনে পোস্টিং দেওয়া হয়।
ইসমাইল হোসেন
পদোন্নতির বিষয়ে একটি কথা বিশেষ জোর দিয়ে বলতে চাই। তা হলো, পুলিশ বাহিনীতে পদোন্নতির যে ধারা বা পদ্ধতি, তা অবশ্যই পরিবর্তন করতে হবে। এখানে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতি দেওয়া হয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশে কৃতিত্ব বা কার্যসম্পাদনের ওপর নির্ভর করে পদোন্নতি হয়। একজন পুলিশ সদস্যের প্রতিবছরের কাজ রেকর্ড করা হবে। বছর শেষে মূল্যায়ন করা হবে এবং ভালো কাজের আলোকে পদোন্নতি হবে। জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতি দিলে কাজ না করে সময় পার করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। পদোন্নতির সেকেলে এই পদ্ধতির এখনই পরিবর্তন করতে হবে।
শাহ্দীন মালিক
দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশ বাহিনীর সংস্কারের বিষয়টি আলোচনা হচ্ছে। মনে হয় এখন আলোচনার মধ্যে থাকার সময় নেই। সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিতে হবে কীভাবে পুলিশ বাহিনীর সংস্কার করা যায়। এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা যেতে পারে।
আব্দুল কাইয়ুম
পুলিশকে কার্যকর করতে হলে এর ভেতরের যে জবাবদিহির ব্যবস্থা আছে তার সঠিক প্রয়োগ করতে হবে। কোথাও ব্যত্যয় ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে জবাবদিহির মধ্যে আনতে হবে।
আপনারা সবাই মূল্যবান আলোচনা করেছেন। পুলিশের নিয়োগ-প্রক্রিয়া, প্রশিক্ষণ, বদলি, পদোন্নতি ও সংস্কারের মতো মৌলিক বিষয়গুলো এখানে আলোচনায় এসেছে। পুলিশ বাহিনীকে জনবান্ধব করে তুলতে হলে আলোচিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। আপনাদের সবাইকে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে ধন্যবাদ।
যাঁরা অংশ নিলেন
সা’দত হুসাইন
সাবেক স্বরাষ্ট্রসচিব ও সরকারি কর্মকমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান
ইসমাইল হোসেন
সাবেক আইজিপি
নুরুল হুদা
সাবেক আইজিপি
ড. শাহ্দীন মালিক
আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট
সঞ্চালক
আব্দুল কাইয়ুম: যুগ্ম সম্পাদক, প্রথম আলো
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1336)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
-
▼
2012
(33842)
-
▼
June
(2957)
-
▼
Jun 16
(104)
- গানওয়ালাদের গান শোনা
- প্রথম আলো গোলটেবিল বৈঠক-‘পার্বত্য শান্তিচুক্তি: দ্...
- শ্রদ্ধাঞ্জলি-দীক্ষাগুরু মোহাম্মদ ফরহাদ by সারওয়ার আলী
- কালের পুরাণ-খালেদার কণ্ঠে জামায়াতের সুর! by সোহরাব...
- দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি-লোনাপানির চিংড়ি আর কৃষকে...
- তথ্য অধিকার আইন-তথ্য দেওয়ার দায়িত্ব কে নেবেন by মশ...
- সময়চিত্র-আসুন, সরকারের প্রশংসা করি by আসিফ নজরুল
- অমানবিক কারা ব্যবস্থাপনার সংস্কার দরকার-দুঃসহ কারা...
- বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ান-অরক্ষিত উপকূলীয় জনপদ
- শ্রদ্ধাঞ্জলি-নীরবেই চলে গেলেন ডা. সোফিয়া খাতুন by ...
- সোজা কলমে-নদীর কান্না আমরা শুনতে পাই না by আহমদ রফিক
- অনলাইনে পাঠক মন্তব্য
- ধর্ম-শান্তি বিনির্মাণে আন্তধর্মীয় সম্প্রীতি by মু...
- টেলিভিশন-শিশুদের নিয়ে বড়দের বেহুঁশ বিনোদন থামান by...
- সময়ের প্রতিবিম্ব-গণমাধ্যম নিয়ে দিশেহারা সরকার by এ...
- এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ও মর্মান্তিক মৃত্যু আর দেখতে চাই ...
- সুশাসন ও সহনশীলতা গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত-বিবেকের কণ্...
- চার দিক-অনামিকা, তোমাকে বাঁচাবই by আশীষ কুমার চক্র...
- পাবনার ভাবনা-আত্মতুষ্টি নয়, প্রয়োজন আত্মবিশ্লেষণ b...
- ইউরোপ-অভিবাসীবিরোধী রাজনীতি কীভাবে মূল স্রোতে এল b...
- মুদ্রা-টাকার দাম কত হবে? by মামুন রশীদ
- সুশাসন-প্রশাসনের উন্নতিকল্পে এক গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের...
- রাসায়নিক গুদামগুলো কি সরানো যায় না?-গণবিধ্বংসী মৃত...
- জ্বালানি সংস্থানের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে-বিদ্যুৎ-পর...
- বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত-‘দ্রুত’ ও ‘বিশেষ’ আইনের বিপ...
- শুভ জন্মদিন মেঘ by জাকিয়া আহমেদ
- চারদিক-একটি দরিদ্র ছবি by নেয়ামত উল্যাহ
- নিশ্চিত হোক স্বাস্থ্যসেবা
- অভিমত ভিন্নমত
- এসিড-সন্ত্রাস-নিয়ন্ত্রণ আইন কতটুকু কার্যকর by ফেরদ...
- দায় অন্যের ওপর না চাপিয়ে সমস্যা সমাধানে মনোযোগী হো...
- বাজার স্থিতিশীল রাখতে জোগান বাড়াতে হবে-চালের দাম
- স্বাগত রূপসী বাংলায়
- পবিত্র কোরআনের আলো-নবী (সা.)-এর পক্ষে কোনো কিছু খে...
- ব্রিটেনে কয়েক তরুণের কর্মকাণ্ডে শঙ্কায় নতুন প্রজন্...
- বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক সমস্যা এবং প্রসঙ্গ কথা by ড...
- ধাঁধা দুনিয়া
- সত্যিকারের সবজান্তা-বিবিধ
- যে খবর নাড়া দেয়-কিশোরী সাহসিকা!
- ভিনদেশের চিঠি-স্বপ্নে তাঁর সাথে হয় দেখা
- চারদিক-ছাদের মানুষ ও আমরা by তুহিন ওয়াদুদ
- সাম্প্রতিক ঘটনাবলি ও পুলিশের জবাবদিহি
- শহীদ সাবেরকে যেন ভুলে না যাই by সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
- চরাচর-জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা প্রস্তুতি দিবস by তাম...
- আত্মশক্তির জোরে ঘুরে দাঁড়াতে হবে by লুৎফর রহমান রনো
- দুনিয়াজুড়ে খাদ্যঘাটতি ও মূল্য বিস্ফোরণ by শামসুল আ...
- কালান্তরের কড়চা : এবারের বঙ্গদর্শন (৩)-ছহি বড় ইউনূ...
- কলকাতার চিঠি-বাঙালির কাঁটা বাঙালি? by অমর সাহা
- সরকারদলীয় নেতা-কর্মীরা কি আইনের ঊর্ধ্বে?-ক্ষমতার দ...
- বন্ধের নীতিমালা মানা না-মানা নিয়ে সংশয়-কোচিং-বাণিজ্য
- শনিবারের সুসংবাদ-মোজাফ্ফরের চোখে আমবিপ্লবের স্বপ্...
- বীর মুক্তিযোদ্ধা-তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না
- রিহ্যাব মেলা-রাজউক কর্মকর্তাদের দেখে বন্ধ হয়ে যায় ...
- সময়মতো সেবা না পাওয়ায় বিদ্যুৎ গ্রাহকদের দুর্ভোগ by...
- সত্য প্রকাশ পাবেই by কামরান শফি
- লাদেনের মৃত্যু পাকিস্তানকে তাড়া করে ফিরবে by সাইমন...
- মর্ত্য থেকে সাগরে by একরামুল হক শামীম
- এই সমাজ-সামাজিক শক্তির জাগরণ চাই by শেখ জিনাত আলী
- কণ্ঠস্বর-লাদেন নেই কিন্তু তারপর? by রাহাত খান
- নদীর সেতু-অপরিণামদর্শী কাজের ফল
- জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়-নামবদলই যথেষ্ট নয়
- আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের এখনই স...
- ওসামা বিন লাদেন-আল কায়দা কঠিন সময় অতিক্রম করছে by ...
- আরেক আলোকে-ওসামা হত্যা, অতঃপর! by ইনাম আহমেদ চৌধুরী
- বিশ্ব মুক্ত সাংবাদিকতা দিবস by রুদ্র মাসুদ
- স্বল্পোন্নত দেশ সম্মেলন-নতুন অংশীদারিত্ব অথবা পুরন...
- সমকালীন প্রসঙ্গ-মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ওসামা বিন লাদ...
- সুন্দরবন ও জলবায়ু পরিবর্তন-দুর্নীতিমুক্ত ব্যবস্থাপ...
- লাদেন হত্যাকাণ্ড-স্বস্তির বিশ্ব চাই
- ব্রিফিংয়ে ফখরুল-আন্দোলন দমানোর চেষ্টা করে সরকার ব্...
- ভারতের রাষ্ট্রপতি পদে ইউপিএর প্রার্থী প্রণব
- সওজের টেন্ডার নিয়ে সহিংসতা-সন্ত্রাসীদের হাতে ছিল ৫...
- আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল শান্ত, ৫০ শতাংশ কারখানা খুলেছে
- ফেরত পাঠানো হলো আরো ৪৭ রোহিঙ্গাকে
- রশ্মি প্রযুক্তির চিকিৎসা নিয়ে ছেলেখেলা! by তৌফিক ...
- শ নি বা রে র বিশেষ প্রতিবেদন-কিষান কিষানিদের পাঠশা...
- টিপাইমুখ প্রকল্প-প্রস্তুতির কাজ থেমে নেই by রাহীদ ...
- ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক চার লেন-প্রকল্প এগোয় না, খরচ ...
- ফিরিয়ে আনা হচ্ছে ভারতে সমাহিত মুক্তিযোদ্ধাদের দেহা...
- পোশাক শিল্প নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন...
- ছোট মামলায় বড় ভোগান্তি by আশরাফ-উল-আলম
- নদীর অন্তিম দশা-অবিলম্বে দখলমুক্ত করা হোক
- ব্লগের শব্দ ব্লগের কথা-অশ্লীলতা থেকে দূরে থাকুক
- পবিত্র কোরআনের আলো-মুনাফিকদের জন্য আক্ষেপ এবং রাসু...
- বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে পরিসম্পদ বণ্টন কত দূর...
- শ্রম ও কর্মসংস্থান-মে দিবস ও আজকের বাংলাদেশ by মোঃ...
- মে দিবস-রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ট্রেড ইউনিয়ন চাই by শ...
- শ্রমিক আন্দোলন-সংগঠনের ধারণা নতুনভাবে বিন্যস্ত হচ্...
- পাবনা প্রেস ক্লাবের সুবর্ণজয়ন্তী by এবিএম ফজলুর রহমান
- চলতি প্রসঙ্গ-গৃহকর্মী বনাম গৃহশ্রমিক by নূর কামরুন...
- সমকালীন প্রসঙ্গ-আইএমএফের সোনায় আরও সোনা, নদীতেও অঢ...
- হিমাগারে আলুর পচন-কৃষক দায় নেবে কেন?
- মে দিবস-শ্রমজীবীদের স্বপ্ন ও প্রত্যয়ের দিন
- বিআইডবি্লউটিএর শূন্য পদ স্থায়ী করুন by মোঃ শামীম খান
- বিশুদ্ধ পানির নিশ্চয়তা by আরিফুল ইসলাম
- হৃদয়নন্দন বনে-কোথায় পেলে ভাই এমন রঙিন পাখা by আলী ...
- মুক্তি_ নতুন অভিজ্ঞতা by আনোয়ার হোসেন
- একই বৃত্তে ঘুরছে রাজনীতি by এম আবদুল হাফিজ
- শরণার্থী-মিয়ানমারকে যে প্রশ্নটি করতে হবে by মোহাম্...
- কালের আয়নায়-গ্রামীণ ব্যাংক ব্যবস্থার একজন উদ্ভাবকে...
- ধুনটের নদী-অবৈধ ড্রেজিংয়ের বিপদ
- কোচিংবাণিজ্য-নীতিমালা কার্যকর হোক
- সদরে অন্দরে-কোন ষড়যন্ত্রের শিকার গার্মেন্ট শিল্প b...
- মনের কোণে হীরে-মুক্তো-বাংলাদেশে দুর্নীতির দৈর্ঘ্য,...
-
▼
Jun 16
(104)
-
▼
June
(2957)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
ইরান
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
কালবেলা
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
ইউক্রেন
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
তরুণ প্রজন্ম
মানবাধিকার
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আলী যাকের
আইন ও বিচার
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
মালয়েশিয়া
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
স্বাস্থ্য
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
জ্যোতির্বিজ্ঞান
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
শিল্প ও সাহিত্য
সংবিধান ও রাষ্ট্র
বগুড়া
মিয়ানমার
ঢাকা
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
গবেষণা
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
জীবনযাপন
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
মেহেদী হাসান
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
মানসুরা হোসাইন
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
মসজিদ
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
ইয়েমেন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
Exclusive
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
উচ্চশিক্ষা
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
বিজ্ঞান
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
জনস্বাস্থ্য
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
ফরিদপুর
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লাতিন আমেরিকা
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মহাকাশচারী
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
জোহরান মামদানি
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
ইহুদি
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
স্পেন
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
বিশ্বকাপ ফুটবল
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment