Thursday, March 29, 2012
সমুদ্রসীমা জয়: সম্ভাবনা ও করণীয়
সমুদ্রসীমা জয়: সম্ভাবনা ও করণীয়
১৮ মার্চ, রোববার ২০১২ প্রথম আলোর উদ্যোগে ‘সমুদ্রসীমা জয়: সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা আলোচনায় অংশ নেন। তাঁদের বক্তব্য এখানে সংক্ষিপ্ত আকারে ছাপা হলো। আলোচনা
মতিউর রহমান
মতিউর রহমান
সমুদ্রসীমা বিষয়টি নিয়ে আমাদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছিল। সম্প্রতি হামবুর্গে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশের পক্ষে সমুদ্রসীমা নিয়ে একটি ইতিবাচক রায় হয়েছে। আমরা মনে করি, বাংলাদেশের জন্য এটি একটি বড় অর্জন। এ জন্য সরকার, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আমরা অভিনন্দন জানাই। এ রায়ের মধ্য দিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধের একটি স্থায়ী নিষ্পত্তি হলো। ভারতের সঙ্গেও ২০১৪ সালের মধ্যে সমাধান হবে বলে আশা করছি। আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশের পক্ষে রায়, আমাদের জন্য অনেক সুযোগ ও সম্ভাবনা তৈরি করেছে। আমরা আশা করি, ভারতের ক্ষেত্রে মিয়ানমারের মতো একই ধরনের রায় পাব। আমাদের সমুদ্রসীমায় তেল, গ্যাসসহ যে প্রাকৃতিক সম্পদ আছে, তা যেন দেশের স্বার্থে ব্যবহার করা হয়। প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলন নিয়ে তর্কবিতর্ক আছে। আমরা আশা করি, এ ক্ষেত্রে পেট্রোবাংলাকে শক্তিশালী করা হবে। এ বিষয়ে আমাদের অনেক কিছু জানার আছে। আমরা চাই আরও বেশি বেশি আলোচনা হোক। এখন আলোচনা শুনব খুরশেদ আলমের কাছ থেকে।
মো. খুরশেদ আলম
এটি একটি সময়োপযোগী আলোচনা। আপনারা ইতিমধ্যে বুঝতে পেরেছেন কোনো দিক থেকেই সমুদ্র খুব একটা গুরুত্ব পায়নি। আমরা অনেক দেরিতে আন্তর্জাতিক আদালতে গিয়েছি। আমরা আশির দশকে বা তারও পর যদি সচেতন হতাম, তাহলে অনেক সহজভাবে বিষয়টি সমাধান হতে পারত। তালপট্টি নিয়ে যখন সমস্যা হলো, তখন আমি ছিলাম। তালপট্টির পশ্চিম দিকে নদী ও সাগর আছে। সেটা আমরা প্রমাণ করতে পেরেছি। এসব বিষয় নিয়ে আমি একটি বই লিখেছি। ১৫ বছর আগে পত্রিকায় লিখেছি। তবে দুঃখের বিষয়, নীতিনির্ধারণী মহল থেকে কোনো সাড়া পাইনি। ১৯৭৪-৭৫ সাল থেকে জানি ১৩০ মাইলের বেশি সাগর আমরা পাচ্ছি না। এমন নয় যে সমস্যাটি আজকে সৃষ্টি হয়েছে। ১৯৭৪ সালে দুই দেশের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। তখন থেকেই নীতিনির্ধারণী মহল জানত যে ১৩০ মাইলের বেশি সমুদ্রসীমা আমরা পাব না। তখন থেকে বিষয়টি কারও কাছে তেমন একটা গুরুত্ব পায়নি। কিন্তু আমি লিখেছি। ১০ বছর আগে প্রথম আলোয় লিখেছি। আমি চেয়েছিলাম দেশের মানুষ জানুক। কারণ, তারা জানলে নীতিনির্ধারণী মহলের ওপর চাপ তৈরি করবে।
আমরা আদালতে কী বক্তব্য দিয়েছি, তা স্পষ্টভাবে বলতে চাই। আমাদের বক্তব্য, মিয়ানমারের বক্তব্য ও ১৪ তারিখে সমুদ্রসীমা নিয়ে আমাদের পক্ষে আন্তর্জাতিক রায়—সবই ওয়েবসাইটে আছে। আপনারা যেকোনো বিষয় জানতে চাইলে ওয়েবসাইট দেখুন। আমাকেও প্রশ্ন করতে পারেন। জয় যেটি এসেছে, সেটি দেশের জয়, সবার জয়। সংবাদের হেডলাইন করার জন্য এমন কোনো বক্তব্য দেবেন না, যার সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই। কারণ, এ দেশের মানুষ সমুদ্র এবং এ বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইন সম্পর্কে তারা জানে না। জানার তেমন কোনো সুযোগও নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমুদ্র নিয়ে আমি একটি সেমিনার করেছি। তারা স্বীকার করেছে এ বিষয় নিয়ে তাদের খুব বেশি জানা নেই।
এ বিষয়ের ওপর তাদের কোনো পাঠক্রমও নেই। জাতিগতভাবে আমাদের এই সীমাবদ্ধতা আছে। সমুদ্র-সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য আমার কাছে আছে। ওয়েবসাইটে আছে। রায়ের পক্ষে-বিপক্ষে অনেক যুক্তিতর্ক আছে। এসব যুক্তিতর্কের সব উত্তর আমাদের কাছে আছে। আপনারা যেকোনো জায়গা থেকে জেনে নিতে পারেন। কিন্তু অনুরোধ করব, না জেনে, না বুঝে এমন কোনো মন্তব্য করবেন না, যাতে জাতি বিভ্রান্ত হয়। এত বড় অর্জন ম্লান হয়ে যায়।
কৌশলগত কারণে আমরা আদালতের কাছে সমুদ্রসীমা কিছুটা বেশি চেয়েছি। সবটা টিকবে না জেনেও অধিক তথ্য-উপাত্ত আমরা আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে জমা দিয়েছি। আমরা চেয়েছি আমাদের ন্যায্যটা যেন ঠিক থাকে। ১৯৭৪ সালে জলসীমা-বিষয়ক একটি আইন সংসদে পাস করা হয়েছিল। কিন্তু এ বিষয়ে দেশবাসী জানে না। এই আইনের মাধ্যমে আমরা ১২ মাইল সমুদ্র জলসীমা চেয়েছিলাম। ১৯৭৪ সালে মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নিয়ে আমাদের মতৈক্য হয়। সেন্ট মার্টিন দ্বীপ ও মিয়ানমার সমুদ্রসীমা থেকে সমদূরত্ব পদ্ধতিতে ১২ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত আমাদের সমুদ্রসীমা নির্ধারিত হয়েছিল। কিন্তু এটা ছিল একটি সম্মত কার্যবিবরণী। ১৯৭৫ থেকে আজ পর্যন্ত এই সম্মত কার্যবিবরণীকে চুক্তিতে পরিণত করা হয়নি। কেন করা হয়নি তার উত্তর আমাদের কাছে নেই। যদি করা হতো, ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী দুই দেশ এটা মানতে বাধ্য হতো। তাহলে আজ আর বিষয়টি এত জটিল হতো না।
১৯৮২ সালের ১০ ডিসেম্বর বর্তমান আইন স্বাক্ষরিত হয়। স্বাক্ষরের পর আর অনুস্বাক্ষর করা হয়নি। ২০০১ সালে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার তাদের শেষ মন্ত্রিসভা বৈঠকে ১২ জুলাই অনুস্বাক্ষরের সিদ্ধান্ত নেয়। অনুস্বাক্ষর এই জন্য জরুরি যে, ২০০ মাইলের বাইরে আমরা মহীসোপান দাবি করতে চাই। ২০০ মাইলের বেশি দাবি করতে চাইলে, অনুস্বাক্ষরের ১০ বছরের মধ্যে তথ্য-উপাত্ত দিয়ে জাতিসংঘের কাছে দাবি উপস্থাপন করতে হয়। দাবি উপস্থাপনের শেষ সময় ছিল ২০১১ সালের ২৬ আগস্ট। বিশেষ দুটি জরিপ ছাড়া এই দাবি উপস্থাপন করা সম্ভব ছিল না। ২০০৯ সালের এপ্রিল মাসে নিয়োগ পাওয়ার পর প্রথম আমি জরিপ করার জন্য চেষ্টা করি। সরকারের উচ্চপর্যায় পর্যন্ত আমরা বলি, জরিপ ছাড়া দাবি উপস্থাপন করলে এ থেকে কোনো ফল পাওয়া যাবে না। তিন হাজার কিলোমিটার জরিপ করার জন্য সরকার আমাদের ৮০ কোটি টাকা দিয়েছিল। কিন্তু আমরা ২৫ কোটি টাকা দিয়ে জরিপটি শেষ করেছি। আইনে আছে বেজ লাইন থেকে ৩৫০ কিলেমিটার পর্যন্ত দাবি করা যায়। কিন্তু আমাদের বেজ লাইনে সমস্যা থাকায় অন্য একটি পদ্ধতিতে আরও বেশি দাবি করি। সেটি হলো, সমুদ্রের দুই হাজার ৫০০ মিটার গভীরতা থেকে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দাবি করা যায়। কিন্তু এটি করার জন্য আমাদের জরিপ করার জাহাজ ছিল না। ১৯৮০ সাল থেকে সব রকম চেষ্টা করার পরও নৌবাহিনীর সঙ্গে একটি জরিপ-জাহাজ যুক্ত করা যায়নি। অবশেষে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে একটি জরিপ-জাহাজ কেনার অনুমতি দেন। ২০১০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জাহাজটি বাংলাদেশে আসে। অনেক সমস্যা থাকা সত্ত্বেও দ্রুততম সময়ের মধ্যে দুই হাজার ৫০০ মিটার জরিপ করা হয়। এ জন্য আমাদের আরও ১০০ কিলোমিটার বেশি দাবি করার সুযোগ তৈরি হয়।
তথ্য-উপাত্ত দিয়ে ২০১১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ৩৮০ থেকে ৪৬০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত অর্থাৎ ২৫০ মাইলের বেশি আমরা মহীসোপানের দাবি উপস্থাপন করি। অথচ মিয়ানমার পুরো অঞ্চল দাবি করে নথিপত্র জমা দিয়েছে ২০০৮ সালের ১৬ ডিসেম্বর এবং ভারত জমা দেয় ২০০৯ সালের ১১ মে। ২০১০ সালে যদি আমরা এ কাজটি না করতে পারতাম, তাহলে আমাদের আজকের এই অর্জন কোনোভাবেই সম্ভব হতো না। ২০০৯ সালে ভারত মিয়ানমারের জন্য মহীসোপানের কিছু অংশ রাখে, বাংলাদেশের জন্য কোনো অংশ না রেখে পুরো মহীসোপানের দাবি উপস্থাপন করে।
এখন ব্লক নিয়ে কথা হচ্ছে। নৌসীমা ঠিক না করে ২০০৫ সালে ব্লক করা হয়েছে। এটা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। আমরা কেন আদালতে গেলাম? ভারত ও মিয়ানমার আমাদের বলল, প্রকৃতিগতভাবে তোমরা যে অংশ পেয়েছ, এর বেশি তোমরা পাবে না। কারণ, প্রকৃতির ওপর আমাদের কোনো ভূমিকা নেই। অর্থাৎ সমদূরত্বের ভিত্তিতে তোমাদের সমুদ্রসীমা নির্ধারিত হবে।
আমরা ভারত ও মিয়ানমারের যুক্তি গ্রহণ করি নাই। আদালতে বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারের ভৌগোলিক অবস্থান ব্যাখ্যা করি। এবং আদালতকে বোঝাতে চেষ্টা করি, সমদূরত্বের ভিত্তিতে সমুদ্রসীমা নির্ধারিত হলে বাংলাদেশ তার ন্যায্যতা হারাবে। আমরা অবতলতার (কনকেভিটি) ভিত্তিতে সমুদ্রসীমা নিষ্পত্তির কথা বলি। এবং এভাবে যেসব দেশের সমুদ্রসীমা নির্ধারিত হয়েছে তাদের রায় সমনে নিয়ে আসি। জার্মানি, নেদারল্যান্ড ও ডেনমার্কের অবস্থান ঠিক আমাদের মতো।
এ ক্ষেত্রে আমরা বলি, ১৯৬৭ সালে জার্মান আমাদের যুক্তির পক্ষে রায় পেয়ে থাকলে ২০১২ সালে এসে আমরা কেন পাব না? শুধু জার্মানি, নেদারল্যান্ড ও ডেনমার্ক নয়, আমরা গিনি, গিনি বিসাও, শারজাহ, মোনাকো, ব্রুনাইসহ বিভিন্ন দেশের উদাহরণ দিই। এ দেশগুলো আমাদের যুক্তির পক্ষে রায় পেয়েছে। কারণ, তাদের অবস্থান আমাদের মতো ছিল। তাহলে আমরা কেন পাব না? অন্যদিকে মিয়ানমারের আইনজীবীরাও তাঁদের পক্ষে অনেক যুক্তি দেখিয়েছেন। বিশ্বের ২১ জন বিশেষজ্ঞ বিচারক আমাদের তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে, অনেক বিচার-বিবেচনা করে এই রায় দিয়েছেন। এটি আমাদের জন্য অনেক বড় অর্জন। সমুদ্রসীমা নিয়ে অনেক রায় আছে। আমি বলব, সেগুলো আপনারা পড়ুন এবং বুঝুন। তারপর আমাদের রায় নিয়ে মন্তব্য করুন। কোনো কিছু না জেনে, না বুঝে ধারণাপ্রসূত বিরূপ মন্তব্য করলে ওই সব বিচারককে অসম্মান করা হবে। কারণ, তাঁদের জন্য আমাদের এত বড় অর্জন সম্ভব হয়েছে।
আমরা ১৩০ মাইলের বাইরে আরও ২০০ মাইল গভীর সমুদ্রে যাওয়ার সুযোগ পেলাম। আমাদের ২০০ মাইল গভীর সমুদ্রে যেতে হলে মিয়ানমারের ইইজেড পার হয়ে যেতে হয়। এক দেশের ইইজেড অতিক্রম করে অন্য দেশের গভীর সমুদ্রে যাওয়ার নজির বিশ্বে একটিও নেই। ২০০ মাইল মহীসোপানের আমাদের দাবি আদালত এখানেই বন্ধ করে দিতে পারতেন। কিন্তু আদালত সেটা করেননি। কেন যেন সবকিছু আমাদের পক্ষে ছিল। মিয়ানমারের আইনজীবীরা আরও একটি শক্ত যুক্তি উপস্থাপন করলেন। তাঁরা বললেন, বাংলাদেশ জাতিসংঘে সমুদ্রসীমার দাবি তুলেছে। সে দাবিতে তারা মহীসোপানের কথা বলেনি। তাহলে কেন এখন তাদের মহীসোপানের দাবি গ্রহণ করা হবে। আমাদের ১৩০ মাইল নৌসীমা নির্ধারণ হয়ে গেছে। ধারা ৭৬-৭৮-এ বলা আছে, একবার নৌসীমা নির্ধারণের পর আর কোনো দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। আরও একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আজ পর্যন্ত কোনো আদালত মহীসোপানের বিভাজন করেননি। কানাডা ও ফ্রান্সের একটি মামলায় মহীসোপানের দাবি আদালত গ্রহণ করেননি।
এত কিছুর পরও আমরা আমাদের দাবির পক্ষে অনড় থাকি। এ ক্ষেত্রে আদালতকে আমরা রবীন্দ্রনাথের একটি কবিতার প্রসঙ্গ টেনে বলি, মহামান্য আদালত, বিধাতার সময়ের কোনো শেষ নেই। তার হাতে সময় অনন্ত। তার কাছে রাত-দিন বলে কিছু নেই। কিন্তু মানুষের সময় সংক্ষিপ্ত। তার রাত-দিন হয়, তার মৃত্যু হয়। মহামান্য আদালত, আপনারা যদি আমাদের সমাধান না দেন, তাহলে আমরা কার কাছে যাব? কে আমাদের কথা শুনবে? কে আমাদের সমাধান দেবে? আপনারা সমাধান না দিলে তিন দেশের মধ্যে জীবনভর বিরোধ থেকে যাবে। তখন আদালত আমাদের যুক্তিকে যুক্তিযুক্ত মনে করে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেন। সবশেষে আমি দেশের মানুষকে বলব, সমুদ্রসীমা জয় নিয়ে কোনো অপব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। সুযোগ ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে যাব।
মতিউর রহমান
আমরা খুরশেদ আলমের কাছ থেকে আন্তর্জাতিক আদালতের রায়, রায়ের পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তিতর্ক এবং সমুদ্রবিষয়ক অনেক তথ্য জানলাম। এবার শুনব এম এইচ খানের কাছ থেকে।
এম এইচ খান
প্রযুক্তি ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া কোনো কিছু করা সম্ভব নয়। ১৯৭৪ সালে মিয়ানমারের সঙ্গে মতৈক্য হয়েছিল। প্রশ্ন হচ্ছে, সেটি কেন এত দিন পড়েছিল? পড়ে থাকার কারণ হলো, সরকারের এ বিষয়ে কোনো ভাবনা ছিল না, সদিচ্ছা ছিল না। বিশেষ করে এসব ক্ষেত্রে প্রযুক্তি ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার একসঙ্গে সমন্বয় না ঘটলে কোনো কিছু অর্জন করা সম্ভব নয়। আমি বলব, রাজনৈতিক উদাসীনতার কারণে এত দেরি হয়েছে। অনেকে মনে করে এটা নৌবাহিনীর দায়িত্ব। কিন্তু সবাইকে বুঝতে হবে, নৌবাহিনী হচ্ছে সরকারের একটি অংশ। তারা পরামর্শ দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে নির্বাহী সিদ্ধান্ত আসতে হবে সরকারের কাছ থেকে।
আজকে যে জরিপ-জাহাজের কথা বলা হচ্ছে, আমি নিশ্চিত, বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে ১৯৭৬ সালে এই জাহাজ নৌবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত হতো। তাঁর মৃত্যুর পর রাজনৈতিক দৃশ্যপট পরিবর্তন হয়। জরিপ ছাড়া সমুদ্রবিষয়ক কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া সম্ভব নয়। নৌবাহিনীর জন্য এ জাহাজটি ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমার দিক থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করার পরও আমি ব্যর্থ হই। ১৯৭৬ সালে জরিপ-জাহাজ থাকলে আজকে বাংলাদেশের জন্য সমুদ্রসীমার ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হতে পারত। বাংলাদেশের মানুষ অনেক বিষয় নিয়ে চিন্তাভাবনা করে। আমার খুব অবাক লাগে, সমুদ্র নামের এত বড় একটি সম্পদ নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। ক্রিকেটে জয়লাভের পর জনসাধারণের উচ্ছ্বাস দেখে অভিভূত হয়েছি। কিন্তু সমুদ্র নিয়ে এত বড় একটা অর্জন হওয়ার পরও তাদের খুব বেশি সাড়া দেখলাম না। ওশানোগ্রাফি ও ম্যানেজমেন্ট অব দ্য সি নামে সমুদ্র-বিষয়ক দুটো বিশেষ বিষয় আছে। খুব দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে এটি পড়ানো হয় না। এত কিছুর পরও আন্তর্জাতিক আদালতের রায় আমাদের পক্ষে গেছে। আমি মনে করি এটি একটি বড় প্রাপ্তি। এখন যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে সীমা বুঝে নিতে হবে। বন্ধু বন্ধু করে কোনো লাভ নেই। কেউ কারও বন্ধু নয়। নিজেই নিজের বন্ধু। এটি কোনো আবেগতাড়িত বিষয় নয়। তাই এ ক্ষেত্রে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে। ইতিমধ্যে আমাদের যথেষ্ট তথ্য-উপাত্ত তৈরি হয়েছে। এখন আমাদের অধিকার আমাদের বুঝে নিতে হবে।
মতিউর রহমান
এম এইচ খানের আলোচনার মাধ্যমে জানা গেল, ১৯৭৪ সাল থেকে প্রযুক্তি ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার সমন্বিত উদ্যোগের অভাব লক্ষ করা গেছে। ফলে এ ক্ষেত্রে আশানুরূপ অগ্রগতি হয়নি। এখন এ বিষয়ের ওপর বলবেন হাবিবুর রহমান।
হাবিবুর রহমান
সাধারণভাবে এ বিষয়টি মানুষ কম জানে। এ ক্ষেত্রে আলোচনার সময় অনেক পরিভাষাগত শব্দ ব্যবহার করা হয়। ফলে এ বিষয়ের ওপর বিশেষজ্ঞ ছাড়া সাধারণ মানুষের বুঝতে অসুবিধা হয়। বিষয়টিকে আরও সহজভাবে কী করে জনসাধারণের মধ্যে আনা যায়, সেটি ভাবতে হবে। উপকূল থেকে বিশেষ অর্থনৈতিক জোন এবং মহীসোপানসহ মোট ৪৬০ মাইল পর্যন্ত আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ২০০ মাইল পর্যন্ত আমাদের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল। এ জায়গাটি আমরা আমাদের ইচ্ছামতো ব্যবহার করতে পারব। অবশিষ্ট ২৬০ মাইল ব্যবহারের জন্য আন্তর্জাতিক বিধিবিধান রয়েছে। এই ২৬০ মাইল মহীসোপান আমরা একচেটিয়াভাবে ব্যবহার করতে পারব না। ধারা ৮২-তে বলা আছে, মহীসোপান ব্যবহার করতে হলে একটি অংশ দিতে হবে। এখান থেকে যে সম্পদ আহরিত হবে, আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষকে পাঁচ বছর করে ১২ বছর যাবৎ কিছু কিছু দিতে হবে। ১২ বছর পর ৭ শতাংশ হারে নিয়মিতভাবে দিতে হবে। আমি মনে করি, এই রায়ের ফলে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। এই রায়ের পর বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার কোনো দেশই একচেটিয়াভাবে বঙ্গোপসাগরের কোনো অংশ দাবি করতে পারবে না। নেদারল্যান্ডসের দি হেগে আন্তর্জাতিক সালিসি আদালতে এ বিষয়টি উঠবে। ভারতের হাইকমিশনার আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।
বদরুল ইমাম
সমুদ্র বিষয়ে বিভাগ খুলতে কেউ উদ্যোগ নিচ্ছে?
মো. খুরশেদ আলম
ওশানোগ্রাফি বিষয় নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে এ বিষয়টি পড়ানোর জন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চিঠি দিয়েছি। ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পড়াতে রাজি হয়েছে। সিনেটের অনুমোদন পেলে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে এ দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ওশানোগ্রাফি বিষয়টি পড়ানো হবে। ওশানোগ্রাফি পড়াটা অত্যন্ত জরুরি। কারণ, সাগরে শুধু তেল-গ্যাস ও মাছ ছাড়া অনেক সম্পদ আছে, যা আমাদের দেশের মানুষ জানে না। যেমন—সালফাইট, কপার, ম্যাঙ্গানিজ, অ্যালুমিনিয়াম, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি মূল্যবান সম্পদ সাগরে পাওয়া যেতে পারে।
আব্দুল কাইয়ুম
হাবিবুর রহমানের আলোচনা থেকে গভীর সমুদ্র ব্যবহারের কিছু আন্তর্জাতিক বিধিবিধানের বিষয় জানতে পারলাম। এখন বলবেন জিয়াউদ্দিন আহমদ।
এ এ জিয়াউদ্দিন আহমদ
এই রায়ের ফলে ৩৮ বছরের ঝুলে থাকা সমস্যার সমাধান হলো। ফলে আমাদের সম্ভাবনা ও করণীয় জায়গাটি আরও অনেক বেশি বিস্তৃত হলো। আমাদের বিশাল সমুদ্রসৈকত রয়েছে। এর আয়তন আরও বৃদ্ধি পাবে। তেল-গ্যাসসহ সমুদ্রের বিভিন্ন সম্পদ আহরণ, সমুদ্রসৈকতসহ সমুদ্রের নানা ধরনের জরিপকাজের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে।
সম্প্রতি পেট্রোবাংলা নিজস্ব উদ্যোগে খুব কম সময়ে ও কম ব্যয়ে সফলভাবে গ্যাস উত্তোলন করতে সক্ষম হয়েছে। তাই বিদেশিদের ওপর নির্ভরশীলতা বন্ধ করতে হবে এবং পেট্রোবাংলাকে ঢেলে সাজাতে হবে; যাতে পেট্রোবাংলা সব ধরনের কাজ করতে সক্ষম হয়। আমরা সাগরের এত কাছে থেকেও এর সম্পর্কে প্রায় কিছুই জানি না। আমাদের নোয়ামিতে (ন্যাশনাল ওশেনোগ্রাফি অ্যান্ড মেরিটাইম ইনস্টিটিউট) সামুদ্রিক বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ মানবসম্পদ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে তাদের কাজে লাগানো যেতে পারে। আমাদের দেশে এখনো ওশানোগ্রাফি পড়ানো হয় না। অথচ কুয়েতের মতো দেশ এ বিষয়ে আমাদের থেকে অনেক বেশি সমৃদ্ধ। সেখানে ওশানোগ্রাফির জন্য অনেক বড় প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ভারতে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিষয়ে অনেক বছর আগে থেকে পড়ানো হচ্ছে। আর আমরা? আমরা এখনো পড়ানোর বিষয়টি চিন্তাভাবনা করছি।
আমাদের এখানে জিওগ্রাফিক্যাল, ফিজিক্যাল, বায়োলজিক্যাল ও কেমিক্যাল ওশানোগ্রাফি, ওসান ইঞ্জিনিয়ারিং, ল অব দ্য সি, মেরিন পলিউশন ইত্যাদি বিষয় তিন মাসের একটি কোর্সের মধ্যে দেওয়া হয়েছে। ওশানোগ্রাফির ওপর কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা উচ্চতর ডিগ্রি চালু করার চেষ্টা করছি। আমরা যদি এ বিষয়ে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে না পারি, তাহলে এত বড় অর্জন আমাদের কোনো কাজে আসবে না। এই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে আমাদের ওশানোগ্রাফি ইনস্টিটিউট গড়ে তুলতে হবে। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে হবে। নৌশক্তি অনেক গুণ বৃদ্ধি করতে হবে।
এম. শাহ আলম
কোনো কোনো পত্রিকা পড়ে আমি বিভ্রান্ত হয়েছি। সমুদ্রজয় সম্পর্কে তারা কী বলতে চাইছে, আমি বুঝে উঠতে পারছিলাম না। অনেকে এ বিজয়কে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছে। আবার অনেকে বলার চেষ্টা করেছে, আমরা তাহলে ব্লক হারালাম কি না। আমাদের মূল বিষয় ছিল কোন পদ্ধতিতে সমুদ্রসীমা নির্ধারিত হবে। সেদিক থেকে আমরা একটি সঠিক দিক নির্দেশনা পেয়েছি। বলা যেতে পারে, এত দিন যা আশা করেছিলাম, তেমনই পেয়েছি। এখন ব্লকসহ যাবতীয় বিষয় ঠিক করে নিতে হবে। আমি মনে করি, ওয়েবসাইটসহ নানা উৎস থেকে এ বিষয়ে আমাদের আরও অনেক জানতে হবে।
মো. খুরশেদ আলম
আমি রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বলছি না। সত্যিকার অর্থে প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী একটি সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাঁরা যদি সঠিক সময়ে এ সিদ্ধান্ত না নিতেন, তাহলে আজকের এই অর্জন কোনো দিন সম্ভব হতো না। সরকারে আসার মাত্র চার মাসের মধ্যে তাঁরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। আমি পাঁচ মাসের মধ্যে সব কাগজপত্র তৈরি করেছি। ভারত ও মিয়ানমার কাউকে জানতে দিইনি। তারা যদি জানত তাহলে এই আদালত থেকে নিজেদের আগেই সরিয়ে নিত। চীন, অস্ট্রেলিয়াসহ অনেক দেশই এভাবে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে।
একবার সরিয়ে নিলে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে আমাদের আর কোনো দিন আদালতে যাওয়ার সুযোগ থাকত না। আমরা গোপনীয়তা, বিশেষজ্ঞ আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ, দিনের পর দিন অনেক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে এ কাজটি করেছি। কোথাও একটু ভুল হলে সব শেষ হয়ে যেত।
বদরুল ইমাম
আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে দেওয়া বাংলাদেশ-মিয়ানমার সমুদ্রসীমা রায় বাংলাদেশের পক্ষে গেছে। এর জন্য বাংলাদেশ সরকারি প্রশাসন কৃতিত্বের দাবিদার, বিশেষ করে যে বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞ দল যথার্থ বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত দিয়ে বাংলাদেশের দাবিটি উপস্থাপন করেছে, তাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। রায়ের বিষয়বস্তু যথেষ্ট কারিগরি। তাই অনেকের মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে সুস্পষ্ট ধারণার অভাব থাকতে পারে। আজকের বিশেষ আলোচক খুরশেদ আলম তাঁর সচিত্র বক্তব্যে সুস্পষ্ট করে রায়ের বিভিন্ন দিক ব্যাখ্যা করেছেন। সে জন্য আমি অত্যন্ত খুশি হয়েছি। দেশের গ্যাস সম্পদ বিষয়ে আমার বিশেষ আগ্রহের কারণে আমি সেই পরিপ্রেক্ষিতে সমুদ্র-রায়ের বিষয়টির ওপর কিছুটা আলোকপাত করতে চাই।
সমুদ্রসীমা নির্ধারণে বাংলাদেশের দাবি অনুযায়ী সমদূরত্বের নীতির (যা কিনা মিয়ানমার চেয়েছিল) পরিবর্তে ন্যায়পরায়ণতার নীতি অবলম্বন করাতে বাংলাদেশের সমুদ্র অঞ্চল সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা থেকে মুক্তি পায়। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে যে সমুদ্রসীমাটি ২১৫ ডিগ্রি লাইন বরাবর টানা হয়েছে, তা বাংলাদেশের প্রস্তাবিত লাইনের অনুরূপ, তবে তা কিছুটা পশ্চিমে এনে টানা হয়। ফলে বাংলাদেশের গভীর সমুদ্র ব্লকগুলোর চারটি সম্পূর্ণভাবে এবং চারটি আংশিকভাবে মিয়ানমারের পক্ষে চলে যাবে। আপাতদৃষ্টিতে দেশের সাগরবক্ষে গ্যাস ব্লক হারানো বলে মনে হলেও আজকের আলোচনা থেকে এটি বোঝা গেল যে ওই সব গ্যাস ব্লকের ওপর বাংলাদেশের দাবি অযৌক্তিক ছিল বলে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল নির্ধারণ করে।
তাই এটি প্রতীয়মান হয় যে বাংলাদেশ ইতিপূর্বে তার গভীর সমুদ্রসীমা নির্ধারণে দেশের সমুদ্র আইন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেয়নি। পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে ওই সব সমুদ্র ব্লকে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো হয় এবং তাতে মিয়ানমার আপত্তি তোলে। বর্তমানে বাংলাদেশকে নতুন করে তার সমুদ্র ব্লকগুলো চিহ্নিত করতে হবে। এটি কেবল পূর্বে মিয়ানমারের জন্যই নয়, পশ্চিমে ভারতের সঙ্গে সমুদ্র ব্লক নির্ধারণেও এসব বিষয় লক্ষ রাখতে হবে। তবে এই রায়ের মধ্য দিয়ে সমুদ্র ব্লকগুলো নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে বিরোধের অবসান হয়েছে বিধায় এখন বাংলাদেশ তার নিষ্কণ্টক সমুদ্র অঞ্চলে পুরোদমে গ্যাস অনুসন্ধান করবে বলে আমরা আশা করি।
আনু মুহাম্মদ
২০০৮ সালে এ বিষয়টি নিয়ে সরকারের বাইরে একধরনের উদ্যোগ ছিল। ওই সময় আমরা জানতে পারি, ভারত ও মিয়ানমার তাদের নথিপত্র জমা দিয়েছে। বাংলাদেশের সময় ছিল ২০১১ সাল পর্যন্ত। এ বিষয়ে সরকারের কোনো ধরনের প্রস্তুতি নেই। কোনো ধরনের জরিপ নেই। ওই সময় আমরা খুব শঙ্কা বোধ করি। বিষয়টির জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত মানুষ যিনি, তিনি ছিলেন খুরশেদ আলম। শেষ পর্যন্ত তিনি এ বিষয়ের ওপর একটি সাফল্য আমাদের এনে দিয়েছেন। আজকের এই দিনে তাঁকে আমি বিশেষভাবে অভিনন্দন জানাই। ২০০৮ সালে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য জনমত গঠন করা হয়। এ বিষয়ের ওপর একটি কমিটি গঠন করা হয়। খুরশেদ আলম ছিলেন এ কমিটির সদস্যসচিব। ওই সময় আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করেছি। আমরা আনন্দিত যে ২০১১ সালে ভয়াবহ বিপর্যয় হয়নি। যেটা হতে পারত।
আরেক দিক থেকে এ বিজয় গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এর ওপর নির্ভর করবে ভারতের সঙ্গে এ বিষয়ে কীভাবে নিষ্পত্তি হবে। মিয়ানমারের তুলনায় ভারতের সঙ্গে আলোচনা করা আরও কঠিন। ভারতের হাইকমিশনার যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার কথা বলেছেন, সেখানে আমি শঙ্কিত। কারণ, ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার অভিজ্ঞতা আমাদের মোটেই ভালো নয়। তবে মিয়ানমারের ক্ষেত্রে আমরা যে রায় পেয়েছি, সেটি একটি বড় শক্তি হিসেবে কাজ করবে। এ ধরনের মামলার জন্য যে ধরনের কাগজপত্র তৈরি করা দরকার, মিয়ানমারের সঙ্গে মামলা করতে গিয়ে তার প্রায় সবই আমাদের প্রস্তুত হয়েছে। আন্তর্জাতিক আদালতের বক্তব্যও একটি শক্তি হিসেবে কাজ করবে। আইনি ব্যবস্থা ছাড়া অন্য কোনোভাবে ভারতের সঙ্গে সমাধান হবে বলে আমার মনে হয় না।
এই রায়ের মধ্য দিয়ে আরেকটি দিক প্রমাণিত, বাংলাদেশের মানুষ যদি সুযোগ পায় তাহলে তারা সবকিছু পারে। তার একটি বড় উদাহরণ খুরশেদ আলম। ২০০৮ সালে বলা হয়েছিল বাংলাদেশের মানুষের পক্ষে সমুদ্র জরিপ করা সম্ভব নয়। অথচ বাংলাদেশের মানুষই অতি অল্প খরচে, অল্প সময়ে এ কাজ করেছে। আমাদের যে জাতীয় হীনম্মন্যতা আছে, যেমন—বিদেশি সাহায্য, বিদেশি নির্ভরতা, বিশ্বব্যাংক কী বলে, ইত্যাদি। এ রায় এই সবকিছুর বিরুদ্ধে বিজয়। সম্ভাবনার মধ্যে একটি হলো, এর মাধ্যমে আমাদের একটি আইনি ভিত্তি তৈরি হয়েছে। এটা আমাদের জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ শুধু নদীমাতৃক দেশ নয়, সমুদ্রমাতৃকও। সেদিক থেকে সমুদ্র যতটুকু গুরুত্ব পাওয়া দরকার ছিল, তা পায়নি। আমি মনে করি, এখন এই রায়ের ফলে সমুদ্র জনসাধারণের কাছে ভিন্নমাত্রা পাবে।
আরেকটি সম্ভাবনা হচ্ছে, সমুদ্রে যে সম্পদ আছে, এর ওপর জনগণের সার্বভৌমত্ব ও মালিকানা। এই দুটো সম্ভাবনা নিয়ে আমি অনেক আশাবাদী, পাশাপাশি আতঙ্কিত। উদ্বেগের কারণ, দেশে ও বিদেশের অভিজ্ঞতা হলো, সম্পদ পেলেই জনগণ সেই সম্পদের ব্যবহার করতে পারবে তা নয়, সম্পদ পেলেই তার ওপর জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে তা নয়। কারণ, রায় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, সমুদ্রে তেল-গ্যাস ইজারা দেওয়ায় আর কোনো বাধা রইল না।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক তেল কোম্পানি কনোকোফিলিপস যে চুক্তির ভিত্তিতে আমাদের সমুদ্রের গ্যাসক্ষেত্র ইজারা নিয়েছে, তাতে এ দেশের জনগণের কোনো লাভ হবে না। লাভ হবে কনোকোফিলিপসের। এ ধরনের ইজারা নেওয়ার জন্য অনেক কোম্পানি অপেক্ষা করছে। আমরা যে সুযোগ পেলে সব ধরনের কাজ করতে পারি, এই বিশ্বাসটুকু আমাদের নীতিনির্ধারণী মহলে নেই। এটিও আতঙ্কের একটি বড় কারণ। অথচ সমুদ্রে যে সম্পদ আছে, তার ওপর যদি জনসাধারণের সঠিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে কয়েকটি প্রজন্ম সচ্ছলতার মধ্য দিয়ে চলতে পারবে। এখন এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে আমাদের জাতীয় সক্ষমতাকে আরও বাড়াতে হবে। নৌশক্তি বৃদ্ধি করতে হবে। সমুদ্রের ওপর গবেষণা প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে হবে।
বর্তমানে আমাদের যে পরিমাণ সমুদ্রসীমা আছে এবং ভারতের কাছ থেকে পাওয়ার পর আরও যে পরিমাণ হবে, তা কাজে লাগানোর মতো প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ আমাদের নেই। এ জন্য পেট্রোবাংলাকে ঢেলে সাজাতে হবে। বিদেশে আমাদের অনেক দক্ষ মানবসম্পদ আছে, তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। প্রয়োজনে বিদেশি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দিতে হবে।
পৃথিবীর যেকোনো দেশের মানবসম্পদ থেকে আমাদের মানবসম্পদ অনেক বেশি দক্ষ ও যোগ্য। তারা অনেক সীমাবদ্ধতা নিয়ে অনেক ভালো মানের কাজ করে। তাই যেকোনো সস্তা অজুহাত দেখিয়ে যেন দেশের সম্পদ বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া না হয়, সেদিকটি আমাদের ভাবতে হবে। আরও একটি আতঙ্কের বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গোপসাগরের দিকে মনোযোগ দিয়েছে। তারা আমাদের জঙ্গিবাদীদের হাত থেকে রক্ষা করতে চায়। এ জন্য বঙ্গোপসাগরে তাদের ঘাঁটি তৈরি করা দরকার। যুক্তরাষ্ট্র পৃথিবীর যেখানেই গেছে, সেখানে হত্যা, লুটপাট, অশান্তি, নিরাপত্তাহীনতা ও ধ্বংস ছাড়া আর কিছু আসেনি। এ ক্ষেত্রে এখন আমাদের প্রধান করণীয় হলো সমুদ্রের ওপর কর্তৃত্ব রাখা। দীর্ঘমেয়াদে কর্তৃত্ব ধরে রাখার জন্য জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
এম এইচ খান
একটি বিষয় আমি জোর দিয়েবলতে চাই, আমাদের দেশের সমুদ্রবিষয়ক শিক্ষার গুরুত্ব অনেক গুণবাড়াতে হবে। প্রযুক্তিগত শিক্ষার উন্নতি না হলে আমরা সামনের দিকে এগোতে পারব না। আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের রায়ের সুযোগ কাজে লাগাতে হলে সমুদ্রের ওপর ব্যাপক গবেষণা ও জ্ঞানের প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনই ওশানোগ্রাফি, ওশানো ইঞ্জিনিয়ারিং, ল অব দ্য সি ইত্যাদি বিষয় চালু করতে হবে।
আব্দুল কাইয়ুম
আলোচনায় অংশগ্রহণ করার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।
যাঁরা অংশ নিলেন
এম এইচ খান
রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.), নৌবাহিনীর
সাবেক প্রধান (১৯৭৩-১৯৭৯)
মো. খুরশেদ আলম
রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.),
অতিরিক্ত সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
এ এ জিয়াউদ্দিন আহমদ
চেয়ারম্যান, নোয়ামি (ন্যাশনাল ওশানোগ্রাফি অ্যান্ড মেরিটাইম ইনস্টিটিউট)
ও অধ্যাপক ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়
হাবিবুর রহমান
অধ্যাপক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
আনু মুহাম্মদ
অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
এম. শাহ আলম
চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত), আইন কমিশন
বদরুল ইমাম
অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
সঞ্চালক
মতিউর রহমান
সম্পাদক, প্রথম আলো
আব্দুল কাইয়ুম
যুগ্ম সম্পাদক, প্রথম আলো
মো. খুরশেদ আলম
এটি একটি সময়োপযোগী আলোচনা। আপনারা ইতিমধ্যে বুঝতে পেরেছেন কোনো দিক থেকেই সমুদ্র খুব একটা গুরুত্ব পায়নি। আমরা অনেক দেরিতে আন্তর্জাতিক আদালতে গিয়েছি। আমরা আশির দশকে বা তারও পর যদি সচেতন হতাম, তাহলে অনেক সহজভাবে বিষয়টি সমাধান হতে পারত। তালপট্টি নিয়ে যখন সমস্যা হলো, তখন আমি ছিলাম। তালপট্টির পশ্চিম দিকে নদী ও সাগর আছে। সেটা আমরা প্রমাণ করতে পেরেছি। এসব বিষয় নিয়ে আমি একটি বই লিখেছি। ১৫ বছর আগে পত্রিকায় লিখেছি। তবে দুঃখের বিষয়, নীতিনির্ধারণী মহল থেকে কোনো সাড়া পাইনি। ১৯৭৪-৭৫ সাল থেকে জানি ১৩০ মাইলের বেশি সাগর আমরা পাচ্ছি না। এমন নয় যে সমস্যাটি আজকে সৃষ্টি হয়েছে। ১৯৭৪ সালে দুই দেশের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। তখন থেকেই নীতিনির্ধারণী মহল জানত যে ১৩০ মাইলের বেশি সমুদ্রসীমা আমরা পাব না। তখন থেকে বিষয়টি কারও কাছে তেমন একটা গুরুত্ব পায়নি। কিন্তু আমি লিখেছি। ১০ বছর আগে প্রথম আলোয় লিখেছি। আমি চেয়েছিলাম দেশের মানুষ জানুক। কারণ, তারা জানলে নীতিনির্ধারণী মহলের ওপর চাপ তৈরি করবে।
আমরা আদালতে কী বক্তব্য দিয়েছি, তা স্পষ্টভাবে বলতে চাই। আমাদের বক্তব্য, মিয়ানমারের বক্তব্য ও ১৪ তারিখে সমুদ্রসীমা নিয়ে আমাদের পক্ষে আন্তর্জাতিক রায়—সবই ওয়েবসাইটে আছে। আপনারা যেকোনো বিষয় জানতে চাইলে ওয়েবসাইট দেখুন। আমাকেও প্রশ্ন করতে পারেন। জয় যেটি এসেছে, সেটি দেশের জয়, সবার জয়। সংবাদের হেডলাইন করার জন্য এমন কোনো বক্তব্য দেবেন না, যার সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই। কারণ, এ দেশের মানুষ সমুদ্র এবং এ বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইন সম্পর্কে তারা জানে না। জানার তেমন কোনো সুযোগও নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমুদ্র নিয়ে আমি একটি সেমিনার করেছি। তারা স্বীকার করেছে এ বিষয় নিয়ে তাদের খুব বেশি জানা নেই।
এ বিষয়ের ওপর তাদের কোনো পাঠক্রমও নেই। জাতিগতভাবে আমাদের এই সীমাবদ্ধতা আছে। সমুদ্র-সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য আমার কাছে আছে। ওয়েবসাইটে আছে। রায়ের পক্ষে-বিপক্ষে অনেক যুক্তিতর্ক আছে। এসব যুক্তিতর্কের সব উত্তর আমাদের কাছে আছে। আপনারা যেকোনো জায়গা থেকে জেনে নিতে পারেন। কিন্তু অনুরোধ করব, না জেনে, না বুঝে এমন কোনো মন্তব্য করবেন না, যাতে জাতি বিভ্রান্ত হয়। এত বড় অর্জন ম্লান হয়ে যায়।
কৌশলগত কারণে আমরা আদালতের কাছে সমুদ্রসীমা কিছুটা বেশি চেয়েছি। সবটা টিকবে না জেনেও অধিক তথ্য-উপাত্ত আমরা আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে জমা দিয়েছি। আমরা চেয়েছি আমাদের ন্যায্যটা যেন ঠিক থাকে। ১৯৭৪ সালে জলসীমা-বিষয়ক একটি আইন সংসদে পাস করা হয়েছিল। কিন্তু এ বিষয়ে দেশবাসী জানে না। এই আইনের মাধ্যমে আমরা ১২ মাইল সমুদ্র জলসীমা চেয়েছিলাম। ১৯৭৪ সালে মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নিয়ে আমাদের মতৈক্য হয়। সেন্ট মার্টিন দ্বীপ ও মিয়ানমার সমুদ্রসীমা থেকে সমদূরত্ব পদ্ধতিতে ১২ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত আমাদের সমুদ্রসীমা নির্ধারিত হয়েছিল। কিন্তু এটা ছিল একটি সম্মত কার্যবিবরণী। ১৯৭৫ থেকে আজ পর্যন্ত এই সম্মত কার্যবিবরণীকে চুক্তিতে পরিণত করা হয়নি। কেন করা হয়নি তার উত্তর আমাদের কাছে নেই। যদি করা হতো, ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী দুই দেশ এটা মানতে বাধ্য হতো। তাহলে আজ আর বিষয়টি এত জটিল হতো না।
১৯৮২ সালের ১০ ডিসেম্বর বর্তমান আইন স্বাক্ষরিত হয়। স্বাক্ষরের পর আর অনুস্বাক্ষর করা হয়নি। ২০০১ সালে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার তাদের শেষ মন্ত্রিসভা বৈঠকে ১২ জুলাই অনুস্বাক্ষরের সিদ্ধান্ত নেয়। অনুস্বাক্ষর এই জন্য জরুরি যে, ২০০ মাইলের বাইরে আমরা মহীসোপান দাবি করতে চাই। ২০০ মাইলের বেশি দাবি করতে চাইলে, অনুস্বাক্ষরের ১০ বছরের মধ্যে তথ্য-উপাত্ত দিয়ে জাতিসংঘের কাছে দাবি উপস্থাপন করতে হয়। দাবি উপস্থাপনের শেষ সময় ছিল ২০১১ সালের ২৬ আগস্ট। বিশেষ দুটি জরিপ ছাড়া এই দাবি উপস্থাপন করা সম্ভব ছিল না। ২০০৯ সালের এপ্রিল মাসে নিয়োগ পাওয়ার পর প্রথম আমি জরিপ করার জন্য চেষ্টা করি। সরকারের উচ্চপর্যায় পর্যন্ত আমরা বলি, জরিপ ছাড়া দাবি উপস্থাপন করলে এ থেকে কোনো ফল পাওয়া যাবে না। তিন হাজার কিলোমিটার জরিপ করার জন্য সরকার আমাদের ৮০ কোটি টাকা দিয়েছিল। কিন্তু আমরা ২৫ কোটি টাকা দিয়ে জরিপটি শেষ করেছি। আইনে আছে বেজ লাইন থেকে ৩৫০ কিলেমিটার পর্যন্ত দাবি করা যায়। কিন্তু আমাদের বেজ লাইনে সমস্যা থাকায় অন্য একটি পদ্ধতিতে আরও বেশি দাবি করি। সেটি হলো, সমুদ্রের দুই হাজার ৫০০ মিটার গভীরতা থেকে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দাবি করা যায়। কিন্তু এটি করার জন্য আমাদের জরিপ করার জাহাজ ছিল না। ১৯৮০ সাল থেকে সব রকম চেষ্টা করার পরও নৌবাহিনীর সঙ্গে একটি জরিপ-জাহাজ যুক্ত করা যায়নি। অবশেষে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে একটি জরিপ-জাহাজ কেনার অনুমতি দেন। ২০১০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জাহাজটি বাংলাদেশে আসে। অনেক সমস্যা থাকা সত্ত্বেও দ্রুততম সময়ের মধ্যে দুই হাজার ৫০০ মিটার জরিপ করা হয়। এ জন্য আমাদের আরও ১০০ কিলোমিটার বেশি দাবি করার সুযোগ তৈরি হয়।
তথ্য-উপাত্ত দিয়ে ২০১১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ৩৮০ থেকে ৪৬০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত অর্থাৎ ২৫০ মাইলের বেশি আমরা মহীসোপানের দাবি উপস্থাপন করি। অথচ মিয়ানমার পুরো অঞ্চল দাবি করে নথিপত্র জমা দিয়েছে ২০০৮ সালের ১৬ ডিসেম্বর এবং ভারত জমা দেয় ২০০৯ সালের ১১ মে। ২০১০ সালে যদি আমরা এ কাজটি না করতে পারতাম, তাহলে আমাদের আজকের এই অর্জন কোনোভাবেই সম্ভব হতো না। ২০০৯ সালে ভারত মিয়ানমারের জন্য মহীসোপানের কিছু অংশ রাখে, বাংলাদেশের জন্য কোনো অংশ না রেখে পুরো মহীসোপানের দাবি উপস্থাপন করে।
এখন ব্লক নিয়ে কথা হচ্ছে। নৌসীমা ঠিক না করে ২০০৫ সালে ব্লক করা হয়েছে। এটা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। আমরা কেন আদালতে গেলাম? ভারত ও মিয়ানমার আমাদের বলল, প্রকৃতিগতভাবে তোমরা যে অংশ পেয়েছ, এর বেশি তোমরা পাবে না। কারণ, প্রকৃতির ওপর আমাদের কোনো ভূমিকা নেই। অর্থাৎ সমদূরত্বের ভিত্তিতে তোমাদের সমুদ্রসীমা নির্ধারিত হবে।
আমরা ভারত ও মিয়ানমারের যুক্তি গ্রহণ করি নাই। আদালতে বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারের ভৌগোলিক অবস্থান ব্যাখ্যা করি। এবং আদালতকে বোঝাতে চেষ্টা করি, সমদূরত্বের ভিত্তিতে সমুদ্রসীমা নির্ধারিত হলে বাংলাদেশ তার ন্যায্যতা হারাবে। আমরা অবতলতার (কনকেভিটি) ভিত্তিতে সমুদ্রসীমা নিষ্পত্তির কথা বলি। এবং এভাবে যেসব দেশের সমুদ্রসীমা নির্ধারিত হয়েছে তাদের রায় সমনে নিয়ে আসি। জার্মানি, নেদারল্যান্ড ও ডেনমার্কের অবস্থান ঠিক আমাদের মতো।
এ ক্ষেত্রে আমরা বলি, ১৯৬৭ সালে জার্মান আমাদের যুক্তির পক্ষে রায় পেয়ে থাকলে ২০১২ সালে এসে আমরা কেন পাব না? শুধু জার্মানি, নেদারল্যান্ড ও ডেনমার্ক নয়, আমরা গিনি, গিনি বিসাও, শারজাহ, মোনাকো, ব্রুনাইসহ বিভিন্ন দেশের উদাহরণ দিই। এ দেশগুলো আমাদের যুক্তির পক্ষে রায় পেয়েছে। কারণ, তাদের অবস্থান আমাদের মতো ছিল। তাহলে আমরা কেন পাব না? অন্যদিকে মিয়ানমারের আইনজীবীরাও তাঁদের পক্ষে অনেক যুক্তি দেখিয়েছেন। বিশ্বের ২১ জন বিশেষজ্ঞ বিচারক আমাদের তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে, অনেক বিচার-বিবেচনা করে এই রায় দিয়েছেন। এটি আমাদের জন্য অনেক বড় অর্জন। সমুদ্রসীমা নিয়ে অনেক রায় আছে। আমি বলব, সেগুলো আপনারা পড়ুন এবং বুঝুন। তারপর আমাদের রায় নিয়ে মন্তব্য করুন। কোনো কিছু না জেনে, না বুঝে ধারণাপ্রসূত বিরূপ মন্তব্য করলে ওই সব বিচারককে অসম্মান করা হবে। কারণ, তাঁদের জন্য আমাদের এত বড় অর্জন সম্ভব হয়েছে।
আমরা ১৩০ মাইলের বাইরে আরও ২০০ মাইল গভীর সমুদ্রে যাওয়ার সুযোগ পেলাম। আমাদের ২০০ মাইল গভীর সমুদ্রে যেতে হলে মিয়ানমারের ইইজেড পার হয়ে যেতে হয়। এক দেশের ইইজেড অতিক্রম করে অন্য দেশের গভীর সমুদ্রে যাওয়ার নজির বিশ্বে একটিও নেই। ২০০ মাইল মহীসোপানের আমাদের দাবি আদালত এখানেই বন্ধ করে দিতে পারতেন। কিন্তু আদালত সেটা করেননি। কেন যেন সবকিছু আমাদের পক্ষে ছিল। মিয়ানমারের আইনজীবীরা আরও একটি শক্ত যুক্তি উপস্থাপন করলেন। তাঁরা বললেন, বাংলাদেশ জাতিসংঘে সমুদ্রসীমার দাবি তুলেছে। সে দাবিতে তারা মহীসোপানের কথা বলেনি। তাহলে কেন এখন তাদের মহীসোপানের দাবি গ্রহণ করা হবে। আমাদের ১৩০ মাইল নৌসীমা নির্ধারণ হয়ে গেছে। ধারা ৭৬-৭৮-এ বলা আছে, একবার নৌসীমা নির্ধারণের পর আর কোনো দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। আরও একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আজ পর্যন্ত কোনো আদালত মহীসোপানের বিভাজন করেননি। কানাডা ও ফ্রান্সের একটি মামলায় মহীসোপানের দাবি আদালত গ্রহণ করেননি।
এত কিছুর পরও আমরা আমাদের দাবির পক্ষে অনড় থাকি। এ ক্ষেত্রে আদালতকে আমরা রবীন্দ্রনাথের একটি কবিতার প্রসঙ্গ টেনে বলি, মহামান্য আদালত, বিধাতার সময়ের কোনো শেষ নেই। তার হাতে সময় অনন্ত। তার কাছে রাত-দিন বলে কিছু নেই। কিন্তু মানুষের সময় সংক্ষিপ্ত। তার রাত-দিন হয়, তার মৃত্যু হয়। মহামান্য আদালত, আপনারা যদি আমাদের সমাধান না দেন, তাহলে আমরা কার কাছে যাব? কে আমাদের কথা শুনবে? কে আমাদের সমাধান দেবে? আপনারা সমাধান না দিলে তিন দেশের মধ্যে জীবনভর বিরোধ থেকে যাবে। তখন আদালত আমাদের যুক্তিকে যুক্তিযুক্ত মনে করে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেন। সবশেষে আমি দেশের মানুষকে বলব, সমুদ্রসীমা জয় নিয়ে কোনো অপব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। সুযোগ ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে যাব।
মতিউর রহমান
আমরা খুরশেদ আলমের কাছ থেকে আন্তর্জাতিক আদালতের রায়, রায়ের পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তিতর্ক এবং সমুদ্রবিষয়ক অনেক তথ্য জানলাম। এবার শুনব এম এইচ খানের কাছ থেকে।
এম এইচ খান
প্রযুক্তি ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া কোনো কিছু করা সম্ভব নয়। ১৯৭৪ সালে মিয়ানমারের সঙ্গে মতৈক্য হয়েছিল। প্রশ্ন হচ্ছে, সেটি কেন এত দিন পড়েছিল? পড়ে থাকার কারণ হলো, সরকারের এ বিষয়ে কোনো ভাবনা ছিল না, সদিচ্ছা ছিল না। বিশেষ করে এসব ক্ষেত্রে প্রযুক্তি ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার একসঙ্গে সমন্বয় না ঘটলে কোনো কিছু অর্জন করা সম্ভব নয়। আমি বলব, রাজনৈতিক উদাসীনতার কারণে এত দেরি হয়েছে। অনেকে মনে করে এটা নৌবাহিনীর দায়িত্ব। কিন্তু সবাইকে বুঝতে হবে, নৌবাহিনী হচ্ছে সরকারের একটি অংশ। তারা পরামর্শ দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে নির্বাহী সিদ্ধান্ত আসতে হবে সরকারের কাছ থেকে।
আজকে যে জরিপ-জাহাজের কথা বলা হচ্ছে, আমি নিশ্চিত, বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে ১৯৭৬ সালে এই জাহাজ নৌবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত হতো। তাঁর মৃত্যুর পর রাজনৈতিক দৃশ্যপট পরিবর্তন হয়। জরিপ ছাড়া সমুদ্রবিষয়ক কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া সম্ভব নয়। নৌবাহিনীর জন্য এ জাহাজটি ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমার দিক থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করার পরও আমি ব্যর্থ হই। ১৯৭৬ সালে জরিপ-জাহাজ থাকলে আজকে বাংলাদেশের জন্য সমুদ্রসীমার ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হতে পারত। বাংলাদেশের মানুষ অনেক বিষয় নিয়ে চিন্তাভাবনা করে। আমার খুব অবাক লাগে, সমুদ্র নামের এত বড় একটি সম্পদ নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। ক্রিকেটে জয়লাভের পর জনসাধারণের উচ্ছ্বাস দেখে অভিভূত হয়েছি। কিন্তু সমুদ্র নিয়ে এত বড় একটা অর্জন হওয়ার পরও তাদের খুব বেশি সাড়া দেখলাম না। ওশানোগ্রাফি ও ম্যানেজমেন্ট অব দ্য সি নামে সমুদ্র-বিষয়ক দুটো বিশেষ বিষয় আছে। খুব দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে এটি পড়ানো হয় না। এত কিছুর পরও আন্তর্জাতিক আদালতের রায় আমাদের পক্ষে গেছে। আমি মনে করি এটি একটি বড় প্রাপ্তি। এখন যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে সীমা বুঝে নিতে হবে। বন্ধু বন্ধু করে কোনো লাভ নেই। কেউ কারও বন্ধু নয়। নিজেই নিজের বন্ধু। এটি কোনো আবেগতাড়িত বিষয় নয়। তাই এ ক্ষেত্রে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে। ইতিমধ্যে আমাদের যথেষ্ট তথ্য-উপাত্ত তৈরি হয়েছে। এখন আমাদের অধিকার আমাদের বুঝে নিতে হবে।
মতিউর রহমান
এম এইচ খানের আলোচনার মাধ্যমে জানা গেল, ১৯৭৪ সাল থেকে প্রযুক্তি ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার সমন্বিত উদ্যোগের অভাব লক্ষ করা গেছে। ফলে এ ক্ষেত্রে আশানুরূপ অগ্রগতি হয়নি। এখন এ বিষয়ের ওপর বলবেন হাবিবুর রহমান।
হাবিবুর রহমান
সাধারণভাবে এ বিষয়টি মানুষ কম জানে। এ ক্ষেত্রে আলোচনার সময় অনেক পরিভাষাগত শব্দ ব্যবহার করা হয়। ফলে এ বিষয়ের ওপর বিশেষজ্ঞ ছাড়া সাধারণ মানুষের বুঝতে অসুবিধা হয়। বিষয়টিকে আরও সহজভাবে কী করে জনসাধারণের মধ্যে আনা যায়, সেটি ভাবতে হবে। উপকূল থেকে বিশেষ অর্থনৈতিক জোন এবং মহীসোপানসহ মোট ৪৬০ মাইল পর্যন্ত আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ২০০ মাইল পর্যন্ত আমাদের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল। এ জায়গাটি আমরা আমাদের ইচ্ছামতো ব্যবহার করতে পারব। অবশিষ্ট ২৬০ মাইল ব্যবহারের জন্য আন্তর্জাতিক বিধিবিধান রয়েছে। এই ২৬০ মাইল মহীসোপান আমরা একচেটিয়াভাবে ব্যবহার করতে পারব না। ধারা ৮২-তে বলা আছে, মহীসোপান ব্যবহার করতে হলে একটি অংশ দিতে হবে। এখান থেকে যে সম্পদ আহরিত হবে, আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষকে পাঁচ বছর করে ১২ বছর যাবৎ কিছু কিছু দিতে হবে। ১২ বছর পর ৭ শতাংশ হারে নিয়মিতভাবে দিতে হবে। আমি মনে করি, এই রায়ের ফলে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। এই রায়ের পর বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার কোনো দেশই একচেটিয়াভাবে বঙ্গোপসাগরের কোনো অংশ দাবি করতে পারবে না। নেদারল্যান্ডসের দি হেগে আন্তর্জাতিক সালিসি আদালতে এ বিষয়টি উঠবে। ভারতের হাইকমিশনার আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।
বদরুল ইমাম
সমুদ্র বিষয়ে বিভাগ খুলতে কেউ উদ্যোগ নিচ্ছে?
মো. খুরশেদ আলম
ওশানোগ্রাফি বিষয় নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে এ বিষয়টি পড়ানোর জন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চিঠি দিয়েছি। ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পড়াতে রাজি হয়েছে। সিনেটের অনুমোদন পেলে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে এ দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ওশানোগ্রাফি বিষয়টি পড়ানো হবে। ওশানোগ্রাফি পড়াটা অত্যন্ত জরুরি। কারণ, সাগরে শুধু তেল-গ্যাস ও মাছ ছাড়া অনেক সম্পদ আছে, যা আমাদের দেশের মানুষ জানে না। যেমন—সালফাইট, কপার, ম্যাঙ্গানিজ, অ্যালুমিনিয়াম, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি মূল্যবান সম্পদ সাগরে পাওয়া যেতে পারে।
আব্দুল কাইয়ুম
হাবিবুর রহমানের আলোচনা থেকে গভীর সমুদ্র ব্যবহারের কিছু আন্তর্জাতিক বিধিবিধানের বিষয় জানতে পারলাম। এখন বলবেন জিয়াউদ্দিন আহমদ।
এ এ জিয়াউদ্দিন আহমদ
এই রায়ের ফলে ৩৮ বছরের ঝুলে থাকা সমস্যার সমাধান হলো। ফলে আমাদের সম্ভাবনা ও করণীয় জায়গাটি আরও অনেক বেশি বিস্তৃত হলো। আমাদের বিশাল সমুদ্রসৈকত রয়েছে। এর আয়তন আরও বৃদ্ধি পাবে। তেল-গ্যাসসহ সমুদ্রের বিভিন্ন সম্পদ আহরণ, সমুদ্রসৈকতসহ সমুদ্রের নানা ধরনের জরিপকাজের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে।
সম্প্রতি পেট্রোবাংলা নিজস্ব উদ্যোগে খুব কম সময়ে ও কম ব্যয়ে সফলভাবে গ্যাস উত্তোলন করতে সক্ষম হয়েছে। তাই বিদেশিদের ওপর নির্ভরশীলতা বন্ধ করতে হবে এবং পেট্রোবাংলাকে ঢেলে সাজাতে হবে; যাতে পেট্রোবাংলা সব ধরনের কাজ করতে সক্ষম হয়। আমরা সাগরের এত কাছে থেকেও এর সম্পর্কে প্রায় কিছুই জানি না। আমাদের নোয়ামিতে (ন্যাশনাল ওশেনোগ্রাফি অ্যান্ড মেরিটাইম ইনস্টিটিউট) সামুদ্রিক বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ মানবসম্পদ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে তাদের কাজে লাগানো যেতে পারে। আমাদের দেশে এখনো ওশানোগ্রাফি পড়ানো হয় না। অথচ কুয়েতের মতো দেশ এ বিষয়ে আমাদের থেকে অনেক বেশি সমৃদ্ধ। সেখানে ওশানোগ্রাফির জন্য অনেক বড় প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ভারতে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিষয়ে অনেক বছর আগে থেকে পড়ানো হচ্ছে। আর আমরা? আমরা এখনো পড়ানোর বিষয়টি চিন্তাভাবনা করছি।
আমাদের এখানে জিওগ্রাফিক্যাল, ফিজিক্যাল, বায়োলজিক্যাল ও কেমিক্যাল ওশানোগ্রাফি, ওসান ইঞ্জিনিয়ারিং, ল অব দ্য সি, মেরিন পলিউশন ইত্যাদি বিষয় তিন মাসের একটি কোর্সের মধ্যে দেওয়া হয়েছে। ওশানোগ্রাফির ওপর কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা উচ্চতর ডিগ্রি চালু করার চেষ্টা করছি। আমরা যদি এ বিষয়ে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে না পারি, তাহলে এত বড় অর্জন আমাদের কোনো কাজে আসবে না। এই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে আমাদের ওশানোগ্রাফি ইনস্টিটিউট গড়ে তুলতে হবে। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে হবে। নৌশক্তি অনেক গুণ বৃদ্ধি করতে হবে।
এম. শাহ আলম
কোনো কোনো পত্রিকা পড়ে আমি বিভ্রান্ত হয়েছি। সমুদ্রজয় সম্পর্কে তারা কী বলতে চাইছে, আমি বুঝে উঠতে পারছিলাম না। অনেকে এ বিজয়কে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছে। আবার অনেকে বলার চেষ্টা করেছে, আমরা তাহলে ব্লক হারালাম কি না। আমাদের মূল বিষয় ছিল কোন পদ্ধতিতে সমুদ্রসীমা নির্ধারিত হবে। সেদিক থেকে আমরা একটি সঠিক দিক নির্দেশনা পেয়েছি। বলা যেতে পারে, এত দিন যা আশা করেছিলাম, তেমনই পেয়েছি। এখন ব্লকসহ যাবতীয় বিষয় ঠিক করে নিতে হবে। আমি মনে করি, ওয়েবসাইটসহ নানা উৎস থেকে এ বিষয়ে আমাদের আরও অনেক জানতে হবে।
মো. খুরশেদ আলম
আমি রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বলছি না। সত্যিকার অর্থে প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী একটি সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাঁরা যদি সঠিক সময়ে এ সিদ্ধান্ত না নিতেন, তাহলে আজকের এই অর্জন কোনো দিন সম্ভব হতো না। সরকারে আসার মাত্র চার মাসের মধ্যে তাঁরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। আমি পাঁচ মাসের মধ্যে সব কাগজপত্র তৈরি করেছি। ভারত ও মিয়ানমার কাউকে জানতে দিইনি। তারা যদি জানত তাহলে এই আদালত থেকে নিজেদের আগেই সরিয়ে নিত। চীন, অস্ট্রেলিয়াসহ অনেক দেশই এভাবে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে।
একবার সরিয়ে নিলে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে আমাদের আর কোনো দিন আদালতে যাওয়ার সুযোগ থাকত না। আমরা গোপনীয়তা, বিশেষজ্ঞ আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ, দিনের পর দিন অনেক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে এ কাজটি করেছি। কোথাও একটু ভুল হলে সব শেষ হয়ে যেত।
বদরুল ইমাম
আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে দেওয়া বাংলাদেশ-মিয়ানমার সমুদ্রসীমা রায় বাংলাদেশের পক্ষে গেছে। এর জন্য বাংলাদেশ সরকারি প্রশাসন কৃতিত্বের দাবিদার, বিশেষ করে যে বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞ দল যথার্থ বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত দিয়ে বাংলাদেশের দাবিটি উপস্থাপন করেছে, তাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। রায়ের বিষয়বস্তু যথেষ্ট কারিগরি। তাই অনেকের মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে সুস্পষ্ট ধারণার অভাব থাকতে পারে। আজকের বিশেষ আলোচক খুরশেদ আলম তাঁর সচিত্র বক্তব্যে সুস্পষ্ট করে রায়ের বিভিন্ন দিক ব্যাখ্যা করেছেন। সে জন্য আমি অত্যন্ত খুশি হয়েছি। দেশের গ্যাস সম্পদ বিষয়ে আমার বিশেষ আগ্রহের কারণে আমি সেই পরিপ্রেক্ষিতে সমুদ্র-রায়ের বিষয়টির ওপর কিছুটা আলোকপাত করতে চাই।
সমুদ্রসীমা নির্ধারণে বাংলাদেশের দাবি অনুযায়ী সমদূরত্বের নীতির (যা কিনা মিয়ানমার চেয়েছিল) পরিবর্তে ন্যায়পরায়ণতার নীতি অবলম্বন করাতে বাংলাদেশের সমুদ্র অঞ্চল সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা থেকে মুক্তি পায়। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে যে সমুদ্রসীমাটি ২১৫ ডিগ্রি লাইন বরাবর টানা হয়েছে, তা বাংলাদেশের প্রস্তাবিত লাইনের অনুরূপ, তবে তা কিছুটা পশ্চিমে এনে টানা হয়। ফলে বাংলাদেশের গভীর সমুদ্র ব্লকগুলোর চারটি সম্পূর্ণভাবে এবং চারটি আংশিকভাবে মিয়ানমারের পক্ষে চলে যাবে। আপাতদৃষ্টিতে দেশের সাগরবক্ষে গ্যাস ব্লক হারানো বলে মনে হলেও আজকের আলোচনা থেকে এটি বোঝা গেল যে ওই সব গ্যাস ব্লকের ওপর বাংলাদেশের দাবি অযৌক্তিক ছিল বলে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল নির্ধারণ করে।
তাই এটি প্রতীয়মান হয় যে বাংলাদেশ ইতিপূর্বে তার গভীর সমুদ্রসীমা নির্ধারণে দেশের সমুদ্র আইন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেয়নি। পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে ওই সব সমুদ্র ব্লকে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো হয় এবং তাতে মিয়ানমার আপত্তি তোলে। বর্তমানে বাংলাদেশকে নতুন করে তার সমুদ্র ব্লকগুলো চিহ্নিত করতে হবে। এটি কেবল পূর্বে মিয়ানমারের জন্যই নয়, পশ্চিমে ভারতের সঙ্গে সমুদ্র ব্লক নির্ধারণেও এসব বিষয় লক্ষ রাখতে হবে। তবে এই রায়ের মধ্য দিয়ে সমুদ্র ব্লকগুলো নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে বিরোধের অবসান হয়েছে বিধায় এখন বাংলাদেশ তার নিষ্কণ্টক সমুদ্র অঞ্চলে পুরোদমে গ্যাস অনুসন্ধান করবে বলে আমরা আশা করি।
আনু মুহাম্মদ
২০০৮ সালে এ বিষয়টি নিয়ে সরকারের বাইরে একধরনের উদ্যোগ ছিল। ওই সময় আমরা জানতে পারি, ভারত ও মিয়ানমার তাদের নথিপত্র জমা দিয়েছে। বাংলাদেশের সময় ছিল ২০১১ সাল পর্যন্ত। এ বিষয়ে সরকারের কোনো ধরনের প্রস্তুতি নেই। কোনো ধরনের জরিপ নেই। ওই সময় আমরা খুব শঙ্কা বোধ করি। বিষয়টির জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত মানুষ যিনি, তিনি ছিলেন খুরশেদ আলম। শেষ পর্যন্ত তিনি এ বিষয়ের ওপর একটি সাফল্য আমাদের এনে দিয়েছেন। আজকের এই দিনে তাঁকে আমি বিশেষভাবে অভিনন্দন জানাই। ২০০৮ সালে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য জনমত গঠন করা হয়। এ বিষয়ের ওপর একটি কমিটি গঠন করা হয়। খুরশেদ আলম ছিলেন এ কমিটির সদস্যসচিব। ওই সময় আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করেছি। আমরা আনন্দিত যে ২০১১ সালে ভয়াবহ বিপর্যয় হয়নি। যেটা হতে পারত।
আরেক দিক থেকে এ বিজয় গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এর ওপর নির্ভর করবে ভারতের সঙ্গে এ বিষয়ে কীভাবে নিষ্পত্তি হবে। মিয়ানমারের তুলনায় ভারতের সঙ্গে আলোচনা করা আরও কঠিন। ভারতের হাইকমিশনার যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার কথা বলেছেন, সেখানে আমি শঙ্কিত। কারণ, ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার অভিজ্ঞতা আমাদের মোটেই ভালো নয়। তবে মিয়ানমারের ক্ষেত্রে আমরা যে রায় পেয়েছি, সেটি একটি বড় শক্তি হিসেবে কাজ করবে। এ ধরনের মামলার জন্য যে ধরনের কাগজপত্র তৈরি করা দরকার, মিয়ানমারের সঙ্গে মামলা করতে গিয়ে তার প্রায় সবই আমাদের প্রস্তুত হয়েছে। আন্তর্জাতিক আদালতের বক্তব্যও একটি শক্তি হিসেবে কাজ করবে। আইনি ব্যবস্থা ছাড়া অন্য কোনোভাবে ভারতের সঙ্গে সমাধান হবে বলে আমার মনে হয় না।
এই রায়ের মধ্য দিয়ে আরেকটি দিক প্রমাণিত, বাংলাদেশের মানুষ যদি সুযোগ পায় তাহলে তারা সবকিছু পারে। তার একটি বড় উদাহরণ খুরশেদ আলম। ২০০৮ সালে বলা হয়েছিল বাংলাদেশের মানুষের পক্ষে সমুদ্র জরিপ করা সম্ভব নয়। অথচ বাংলাদেশের মানুষই অতি অল্প খরচে, অল্প সময়ে এ কাজ করেছে। আমাদের যে জাতীয় হীনম্মন্যতা আছে, যেমন—বিদেশি সাহায্য, বিদেশি নির্ভরতা, বিশ্বব্যাংক কী বলে, ইত্যাদি। এ রায় এই সবকিছুর বিরুদ্ধে বিজয়। সম্ভাবনার মধ্যে একটি হলো, এর মাধ্যমে আমাদের একটি আইনি ভিত্তি তৈরি হয়েছে। এটা আমাদের জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ শুধু নদীমাতৃক দেশ নয়, সমুদ্রমাতৃকও। সেদিক থেকে সমুদ্র যতটুকু গুরুত্ব পাওয়া দরকার ছিল, তা পায়নি। আমি মনে করি, এখন এই রায়ের ফলে সমুদ্র জনসাধারণের কাছে ভিন্নমাত্রা পাবে।
আরেকটি সম্ভাবনা হচ্ছে, সমুদ্রে যে সম্পদ আছে, এর ওপর জনগণের সার্বভৌমত্ব ও মালিকানা। এই দুটো সম্ভাবনা নিয়ে আমি অনেক আশাবাদী, পাশাপাশি আতঙ্কিত। উদ্বেগের কারণ, দেশে ও বিদেশের অভিজ্ঞতা হলো, সম্পদ পেলেই জনগণ সেই সম্পদের ব্যবহার করতে পারবে তা নয়, সম্পদ পেলেই তার ওপর জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে তা নয়। কারণ, রায় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, সমুদ্রে তেল-গ্যাস ইজারা দেওয়ায় আর কোনো বাধা রইল না।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক তেল কোম্পানি কনোকোফিলিপস যে চুক্তির ভিত্তিতে আমাদের সমুদ্রের গ্যাসক্ষেত্র ইজারা নিয়েছে, তাতে এ দেশের জনগণের কোনো লাভ হবে না। লাভ হবে কনোকোফিলিপসের। এ ধরনের ইজারা নেওয়ার জন্য অনেক কোম্পানি অপেক্ষা করছে। আমরা যে সুযোগ পেলে সব ধরনের কাজ করতে পারি, এই বিশ্বাসটুকু আমাদের নীতিনির্ধারণী মহলে নেই। এটিও আতঙ্কের একটি বড় কারণ। অথচ সমুদ্রে যে সম্পদ আছে, তার ওপর যদি জনসাধারণের সঠিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে কয়েকটি প্রজন্ম সচ্ছলতার মধ্য দিয়ে চলতে পারবে। এখন এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে আমাদের জাতীয় সক্ষমতাকে আরও বাড়াতে হবে। নৌশক্তি বৃদ্ধি করতে হবে। সমুদ্রের ওপর গবেষণা প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে হবে।
বর্তমানে আমাদের যে পরিমাণ সমুদ্রসীমা আছে এবং ভারতের কাছ থেকে পাওয়ার পর আরও যে পরিমাণ হবে, তা কাজে লাগানোর মতো প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ আমাদের নেই। এ জন্য পেট্রোবাংলাকে ঢেলে সাজাতে হবে। বিদেশে আমাদের অনেক দক্ষ মানবসম্পদ আছে, তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। প্রয়োজনে বিদেশি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দিতে হবে।
পৃথিবীর যেকোনো দেশের মানবসম্পদ থেকে আমাদের মানবসম্পদ অনেক বেশি দক্ষ ও যোগ্য। তারা অনেক সীমাবদ্ধতা নিয়ে অনেক ভালো মানের কাজ করে। তাই যেকোনো সস্তা অজুহাত দেখিয়ে যেন দেশের সম্পদ বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া না হয়, সেদিকটি আমাদের ভাবতে হবে। আরও একটি আতঙ্কের বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গোপসাগরের দিকে মনোযোগ দিয়েছে। তারা আমাদের জঙ্গিবাদীদের হাত থেকে রক্ষা করতে চায়। এ জন্য বঙ্গোপসাগরে তাদের ঘাঁটি তৈরি করা দরকার। যুক্তরাষ্ট্র পৃথিবীর যেখানেই গেছে, সেখানে হত্যা, লুটপাট, অশান্তি, নিরাপত্তাহীনতা ও ধ্বংস ছাড়া আর কিছু আসেনি। এ ক্ষেত্রে এখন আমাদের প্রধান করণীয় হলো সমুদ্রের ওপর কর্তৃত্ব রাখা। দীর্ঘমেয়াদে কর্তৃত্ব ধরে রাখার জন্য জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
এম এইচ খান
একটি বিষয় আমি জোর দিয়েবলতে চাই, আমাদের দেশের সমুদ্রবিষয়ক শিক্ষার গুরুত্ব অনেক গুণবাড়াতে হবে। প্রযুক্তিগত শিক্ষার উন্নতি না হলে আমরা সামনের দিকে এগোতে পারব না। আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের রায়ের সুযোগ কাজে লাগাতে হলে সমুদ্রের ওপর ব্যাপক গবেষণা ও জ্ঞানের প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনই ওশানোগ্রাফি, ওশানো ইঞ্জিনিয়ারিং, ল অব দ্য সি ইত্যাদি বিষয় চালু করতে হবে।
আব্দুল কাইয়ুম
আলোচনায় অংশগ্রহণ করার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।
যাঁরা অংশ নিলেন
এম এইচ খান
রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.), নৌবাহিনীর
সাবেক প্রধান (১৯৭৩-১৯৭৯)
মো. খুরশেদ আলম
রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.),
অতিরিক্ত সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
এ এ জিয়াউদ্দিন আহমদ
চেয়ারম্যান, নোয়ামি (ন্যাশনাল ওশানোগ্রাফি অ্যান্ড মেরিটাইম ইনস্টিটিউট)
ও অধ্যাপক ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়
হাবিবুর রহমান
অধ্যাপক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
আনু মুহাম্মদ
অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
এম. শাহ আলম
চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত), আইন কমিশন
বদরুল ইমাম
অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
সঞ্চালক
মতিউর রহমান
সম্পাদক, প্রথম আলো
আব্দুল কাইয়ুম
যুগ্ম সম্পাদক, প্রথম আলো
About: নিজাম কুতুবী
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1406)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
-
▼
2012
(33842)
-
▼
March
(2875)
-
▼
Mar 29
(93)
- সরকারের কি টনক বলে কিছু আছে?-বুড়িগঙ্গায় ট্যানারি-ব...
- প্রণব ও দুবের মতের প্রতিফলন ঘটাক দিল্লি-ভারতীয় প্র...
- চারদিক-মুক্তিযোদ্ধা চত্বর ঘিরে পুনর্মিলনী by গাজীউ...
- ছাত্ররাজনীতি-আবার শিরোনামে ছাত্রলীগ by মাহমুদুর রহ...
- বাম্পার ফলন’-উৎপাদনের প্রকৃত তথ্য কোথায় পাব by শাই...
- লাদেন হত্যাকাণ্ড-মিথ্যা অভিযোগ, বেআইনি হত্যা by নো...
- নারী উন্নয়ন নীতি-বিরোধিতাকারীদের আসল উদ্দেশ্য কী b...
- একটি বাজে দৃষ্টান্ত-বিলখেলাপি সরকারি প্রতিষ্ঠান
- স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা প্রয়োজ...
- সেই তিব্বতির মৃত্যু
- জীবন ছিলো দাসত্বের তাই সুইসাইড?
- চলমান এই জীবন by আতাউর রহমান
- প্রস্তাবিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০০৯- সম্পূ...
- সংসদে জিয়া প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী by ড. মাহবুব উল...
- এক বছর পরও উপজেলা পরিষদ অকার্যকরঃ আঙুল বাঁকানোর ঘোষণা
- ঢাকার চারপাশে শিল্প-কারখানায় গ্যাস রেশনিং- এতে কি...
- আসুন হাইতিবাসীর পাশে দাঁড়াই by কাজী জহিরুল ইসলাম
- টঙ্গীর তাবলিগি বিশ্ব ইজতেমা by জুলফিকার আহমদ কিসমতী
- রাজনীতির বাজারে উত্তাপ
- এই নগরীর দিনরাত্রিঃ শীত জমে আছে ঘন হয়ে by রেজোয়া...
- এখনও সবার হাতে পাঠ্যবই পৌঁছেনিঃ সরকারের দাবি সঠিক নয়
- ভিওআইপি ব্যবসায় হরিলুটঃ নিয়ন্ত্রক সংস্থাকেই নিয়...
- রং চড়ানো ইতিহাস-৪ by মাহমুদ শামসুল হক
- গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে কি ধর্মভিত্তিক দল নিষিদ্ধ? b...
- প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে কিছু কথা by শাহ আহমদ রেজা
- সড়ক ও নদীপথে দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে by বদরুদ্দীন উমর
- ঢাকা মেডিকেলে নিয়োগ-বাণিজ্যঃ ক্ষমতার কামান দাগছেন...
- ঢাবি ক্যাম্পাসে অস্ত্রধারীদের তাণ্ডবঃ বিরোধী পক্ষক...
- গ্রামীণ ব্যাংক বিষয়ে ড. ইউনূস-রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত...
- চারদিক-তোমাকে ভালোবাসি, মা by শারমিন নাহার
- লাদেন হত্যাকাণ্ড-মার্কিনদের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে না...
- শিক্ষকদের শিক্ষা-শিক্ষা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা জর...
- বিশেষ সাক্ষাৎকার-আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে জন-অংশগ্র...
- পেশার সঙ্গে মানানসই নয়-চিকিৎসক ধর্মঘট
- মৈত্রী ও মানবিকতার প্রাণপুরুষকে অভিবাদন-সার্ধশততম ...
- শ্রদ্ধাঞ্জলি-অন্য রকম গণযোদ্ধা
- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়-ছাত্রলীগের মাস্তানি ও একটি...
- বিন লাদেন হত্যা-সোনার হাঁস মারল কে? by তারিক আলি
- পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন-দুই জোটে পাঁচফোড়ন by ...
- কালের পুরাণ-ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন কত দূর? by...
- সহিংসতা নয়, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হোক-কারখানা বন্ধ
- উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগ চাই-জ্বালানি ত...
- গন্তব্য ঢাকা-এই গ্রীষ্মে শীতের পিঠার স্মৃতি by শর্...
- দূরদেশ-নিরক্ষরতা দূরীকরণের দায়িত্ব পাচ্ছে ছাত্রলীগ...
- ধর্ম-মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা by মুহাম্মদ আ...
- নারীনীতি-শুভংকরের ফাঁকিতে নারী ও রাজনীতি by ফারুক ...
- পার্বত্য আদিবাসীদের ভূমি অধিকার সংরক্ষণের দাবি
- স্মরণ-সেই মহত্তম মানুষটির কথা by আখতার হুসেন
- সমুদ্রসীমা জয়: সম্ভাবনা ও করণীয়
- সপ্তাহের হালচাল-আওয়ামী লীগের সামনে কঠিন পরীক্ষা by...
- যুদ্ধাপরাধের বিচার-আন্তর্জাতিক মানের প্রশ্ন ও করণী...
- বাঘা তেঁতুল-দুই কান লাল by সৈয়দ আবুল মকসুদ
- নগরজুড়ে মেজবান by হামিদ উল্লাহ
- সম্প্রীতির ঐতিহ্য নিয়েই এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ: প্রধা...
- যেতে যেতে দেখা গেল by মিঠুন চৌধুরী
- প্রথম উড়াল সড়ক উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
- মহাসমাবেশে নির্বাচনী হাওয়া by প্রণব বল
- ভক্তিতেই মুক্তি by কবির হোসেন
- সৈয়দ বদরুদ্দীন হোসাইন নাট্যোৎসব
- নাটকের ক্লাস: আবদুল্লাহেল মাহমুদ-নাটক নামানো যায় না
- তনিমা হামিদ ৫ প্রশ্ন
- তারায় তারায় যুদ্ধ by কামরুজ্জামান
- চারদিক-আলোর মিছিল থেকে দৃপ্ত শপথে
- ব্লগ থেকে...
- জনমত জরিপের ফলাফল
- ব দ লে যা ও ব দ লে দা ও মি ছি ল-অবশেষে লাশটা আমরা ...
- গোধূলির ছায়াপথে-লক্ষৌর সার্ক সাহিত্য সম্মেলনে by...
- রাজনীতি-শুধু প্রশ্ন করলে হবে না, পথও দেখাতে হবে by...
- সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিন-ছাত্র নিহত, অত...
- জাতীয় ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ থাকুন-বিদেশি বন্ধুদের শুভকামনা
- দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস-আমরা কতটা প্রস্তুত? by মাহব...
- আশার আলো ফুটছে by শবনম হক
- সমকালীন প্রসঙ্গ-বাঙালির সমুদ্র বিজয় by এমএ হাসান
- বন্যরা যে কারণে বনে সুন্দর by জামান সরদার
- জাবিতে শিক্ষক নিয়োগ-অস্বচ্ছতা থেকেই অস্থিরতা by শা...
- পদ্মা সেতু-মেঘ কাটাতে হবে আমাদেরই by আহসান মনসুর
- যানবাহন ভাংচুর-বিপন্ন নাগরিক জীবন
- মুক্তিযুদ্ধ ও মৈত্রী সম্মাননা-কৃতজ্ঞ জাতির বিনম্র ...
- সাদাকালো-মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার দক্ষতার সঙ্গে ...
- তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না
- সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলা-জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে গ্র...
- কেলেঙ্কারি-পুঁজিবাজারে কারসাজি মামলায় তিনজন অভিযুক...
- অবরোধ ভাঙচুর সমাবেশ রাস্তায় রাস্তায় দুর্ভোগ
- অপরাধী ধরতে এসে ধরেছেন মাছ! by আনোয়ার পারভেজ
- আই-জিনিয়াস গ্র্যান্ডমাস্টার-সাদিদ পেল শিক্ষাবৃত্তি...
- তিনজনই গান করেন, তিনজনই গানের অনুষ্ঠান উপস্থাপনা ক...
- পাখি-ছোট পাখি মোচাটুনি by শরীফ খান
- সংঘাত-রাজনীতিবিদেরা যা পারেন না by ফারুক ওয়াসিফ
- কালের পুরাণ-দেশ চালাচ্ছে কে? by সোহরাব হাসান
- নিখোঁজ শিশুর লাশ মিলল ভাড়াটের ঘরে ব্যাগের ভেতর
- সাংবাদিকদের অ্যালেন-দুর্নীতির তদন্ত চলছে, প্রতিবেদ...
- তিস্তার পানি-২-তিস্তার বুকজুড়ে শুধুই চর by ইফতেখার...
- বিদ্যুতের দাম বাড়ছে, বাড়ছে লোডশেডিংও by অরুণ কর্মকার
-
▼
Mar 29
(93)
-
▼
March
(2875)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ইরান
ক্রিকেট
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
কালবেলা
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
ইউক্রেন
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
স্বাস্থ্য
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
জ্যোতির্বিজ্ঞান
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
জীবনযাপন
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
মসজিদ
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
ইয়েমেন
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
Exclusive
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
জনস্বাস্থ্য
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
লাতিন আমেরিকা
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
জোহরান মামদানি
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
ইহুদি
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
স্পেন
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment