পাঠানকোট হামলায় মাওলানা মাসুদ গ্রেপ্তার পাকিস্তানে

ভারতের পাঞ্জাবে পাঠানকোট বিমানঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে কট্টরপন্থি সংগঠন জৈশ ই মোহাম্মদের প্রধান মাওলানা মাসুদ আজহারকে গ্রেপ্তার করেছে পাকিস্তান। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে বলা হয়, পাঠানকোট হামলার মূল হোতা তিনি। ২০০১ সালে ভারতের পার্লামেন্টে হামলার দায়েও তিনি অভিযুক্ত। দু’দিন আগে তার ভাই ও শ্যালকসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদেরকে কমপক্ষে ৩০ দিনের নিরাপত্তা হেফাজতে নেয়া হয়েছে। পাকিস্তান আগেই বলেছে, তারা আজহার গ্রুপের বেশ কয়েকজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তাদের অফিস সিল করে দিয়েছে। ভারত বলছে, ২রা জানুয়ারি পাঠানকোট হামলায় সাতজন হামলাকারী নিহত হয়েছে। এর পর থেকে পাকিস্তান তদন্ত শুরু করেছে। ভারত ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সচিবরা আগে থেকে নির্ধারিত একটি বৈঠকে বসার কথা রয়েছে শুক্রবার। দীর্ঘদিনের পারমাণবিক অস্ত্রধর এই দুটি দেশের মধ্যে এমন বৈঠক বিরল। তবে এবার সেই বৈরিতা পিছনে ফেলে দেশ দুটি কূটনৈতিক পথে এগুচ্ছে। এক্ষেত্রে পাকিস্তান যেন ২রা জানুয়ারির হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ত্বরিত ব্যবস্থা নেয় তেমনটাই দাবি করছে ভারত। পাকিস্তান সরকারের এক কর্মকর্তা, যিনি তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, তিনি বলেছেন, এবার যদি সত্যি অকাট্য প্রমাণ মেলে যে মাওলানা মাসুদ আজহার পাঠানকোট হামলার সঙ্গে জড়িত তাহলে তার বিচার করা হবে। আটক করার আগে তাকে রাখা হয়েছিল গৃহবন্দি। এর আগে তার কোন বিচার করা হয় নি। বুধবার ওই বিমান হামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত দল ঘোষণা করে পাকিস্তান। সচরাচর এমনটা দেখা যায় না। ওই তদন্ত দলে রাখা হয় দেশের শীর্ষ সন্ত্রাস বিরোধী কর্মকর্তা, সামরিক কর্মকর্তা ও বেসামরিক গোয়েন্দাদের। ওদিকে মাওলানা আজহারকে গ্রেপ্তারের পর ভারতের কোন মন্তব্য পাওয়া যায় নি। তবে বুধবার দিনশেষে তাদের এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা। ভারত বলেছিল, পাঠানকোট হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হলেই কেবল শুক্রবারের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে ইসলামাবাদে বৈঠক হতে পারে। এখন মাওলানা আজহারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু শুক্রবার ইসলামাবাদে বৈঠক বসছে কিনা তা নিশ্চিত করার কথা ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব সুব্রামনিয়াম জয়শঙ্করের। ভারত দীর্ঘদিন দাবি করছে সন্ত্রাসী হামলার পিছনে হাত আছে ইসলামাবাদের। পাঠানকোট হামলার নেপথ্যে কারা রয়েছে তাদের কিন্তু ধরে আইনের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইসলামাবাদ। তারই অংশ হিসেবে মাওলানা মাসুদ আজহারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের অফিস থেকে বলা হয়েছে, ওই হামলার পর তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।