Monday, December 29, 2014
শিশু জিহাদের মৃত্যুর ঘটনাই যেন শেষ ঘটনা হয় : ড. মো. ইফতেখারুল আলম by মোকাম্মেল হোসেন
শিশু জিহাদের মৃত্যুর ঘটনাই যেন শেষ ঘটনা হয় : ড. মো. ইফতেখারুল আলম by মোকাম্মেল হোসেন
যুগান্তর : জিহাদের মৃত্যু পুরো জাতিকে
স্পর্শ করেছে। এ ধরনের অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যু রোধ করতে হলে কোন কোন বিষয়ের
ওপর আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে?
ড. মো. ইফতেখারুল আলম : জীবন এবং মৃত্যু- এ শব্দ দুটির সঙ্গে আমরা প্রতিনিয়তই সম্পৃক্ত হচ্ছি। তবে কিছু কিছু মৃত্যু মানুষের মনে দীর্ঘস্থায়ী কষ্টদায়ক চিত্র এঁকে দেয়, যা সহজে ভোলা যায় না। এ ধরনের মৃত্যু আমাদের মনকে গভীরভাবে নাড়া দেয় এবং হৃদয়ে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করে। জিহাদের মৃত্যুর কথা ভাবলেই চোখের সামনে যে চিত্রটি ভেসে ওঠে তা হল- একটি চার বছরের উজ্জ্বল, হাসিখুশি প্রাণবন্ত শিশু খেলতে খেলতে মৃত্যুকূপে পড়ে দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা গভীর সরু পাইপের মধ্যে অসহায়ভাবে ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল। এখানে প্রথম কথা হচ্ছে, ঘটনাটি যে একটি দুর্যোগ বা ঝুঁকির দিকে গড়াবে- এ বিষয়টিই আমাদের ভাবনায় ছিল না। দুর্যোগ বলতে সাধারণত আমরা মনে করি, সাইক্লোন, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা ইত্যাদিকে। এ জাতীয় ঘটনাও যে ঝুঁকি বা দুর্যোগ হয়ে উঠতে পারে- এটা আমাদের ভাবনা বা চিন্তায় আনতে হবে এবং এ ব্যাপারে মানুষের মধ্যে প্রয়োজনীয় সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। সাধারণত যেসব স্থানে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়- সেখানে বড় আকারের সাইনবোর্ড দিয়ে গণবিজ্ঞপ্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া সার্বক্ষণিক পাহারার ব্যবস্থা থাকা উচিত। তারপরও দুর্ভাগ্যবশত কোনো দুঃখজনক ঘটনা ঘটলে তা মোকাবেলার জন্য ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সসহ অন্যদের যথার্থ প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা থাকতে হবে।
যুগান্তর : জিহাদের মৃত্যুর দায় কি রাষ্ট্রের? যদি তাই হয়, তাহলে এ ঘটনা থেকে রাষ্ট্রের জন্য শিক্ষণীয় কী আছে?
ই. আ. : কোটি কোটি মানুষের ইচ্ছা ও আগ্রহের বিষয়টি অনুধাবন করে রাষ্ট্র তাকে বাঁচানোর জন্য সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু ২০০ ফুট গভীর নলকূপের নিচের ৩৬০ ফুট শীতল পানিতে ভর্তি আর ওপরে ২৪০ ফুট বায়ুপূর্ণ অংশের নিচেরটুকু বিষাক্ত ঈড়২ পূর্ণ। শিশু জিহাদ কূপের ওপর থেকে ২১০ ফুট গভীরতায় প্রথম পানিকে স্পর্শ করে এবং কয়েক মিনিট বা ঘণ্টা পর ৩৬০ ফুট পানির গভীরে চলে যায়, আবার ধীরে ধীরে পানি থেকে ওপরে ভাসতে থাকে। ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধারকারী কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। উদ্ধারকর্মীরা এ ধরনের মানবসৃষ্ট দুর্যোগের সঙ্গে আগে কখনোই পরিচিত ছিল না। তাই কী করা উচিত, কী করব, কীভাবে করব- কিছুই তাদের জানা ছিল না। তবুও তাদের নিজস্ব বিচার-বুদ্ধি, জ্ঞান-দক্ষতা দিয়ে উদ্ধার কার্য শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। এখানে রাষ্ট্রকে সরাসরি দায়ী করা ঠিক হবে না। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি অবশ্যই ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। এ ধরনের দায়িত্ব অবহেলাকারী ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান- যে বা যারাই হোক, তারা যদি কারও মৃত্যুর কারণ হয়, তখন তাদের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করার ভার রাষ্ট্রের ওপর বর্তায়।
যুগান্তর : জিহাদের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে আমাদের দুর্যোগ বা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার করুণ চিত্র পরিস্ফুট হয়েছে। এ ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনকারী সংস্থাকে কার্যকর ও যুগোপযোগী করতে হলে কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন?
ই. আ. : গভীর নলকূপটি হয়তো ডিসচার্জ কম হওয়ার কারণে পরিত্যক্ত ঘোষিত হয়। পাশেই অন্য একটি নলকূপ স্থাপন করা হয় এবং এটির মাথায় একটি পাথর দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়, যাতে কেউ এর ভেতর পড়তে না পারে। পাথর দিয়ে ঢাকনা দেয়া কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা নয়। এ চিত্র থেকে অনুমান করা যায়, পুরনো পরিত্যক্ত নলকূপের ভেতরে ৩৬০ ফুট গভীরতার একটি সাব-মার্সিবল পাম্প স্থাপন করে পানি উত্তোলন করে নতুন নলকূপটি স্থাপন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, একটি গভীর নলকূপ স্থাপন করতে হলে প্রচুর পানির প্রয়োজন হয়, যা ক্রয় করে ব্যবহার করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এজন্য নতুন নলকূপটি খননকালে পরিত্যক্ত নলকূপ থেকে পানি উত্তোলন করা হয়েছে। এ কাজে কয়েকদিন থেকে কয়েক সপ্তাহ লেগেছে। নতুন নলকূপটি খনন কাজ শেষ হওয়ার পর পরিত্যক্ত নলকূপটি সিল করা হয়নি। যে কারণে এটি একটি বিপজ্জনক মরণফাঁদে পরিণত হয়। বলা প্রয়োজন, গভীর নলকূপ খননের কয়েকটি ধাপ আছে। এগুলো হল- ১. প্রথমে ড্রিলিং করা এবং ড্রিলিংয়ের গভীরতা হবে পর্যাপ্ত পানি সমৃদ্ধ একুইফার পর্যন্ত ২. ওয়েল ডিজাইন ৩. ফিকচার লোয়ারিং, ৪. গ্রাভেল প্যাকিং ৫. টেস্টিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ও ৬. কমিশনিং। সম্ভবত নতুন নলকূপটি ৪ ধাপ পর্যন্ত সমাপ্ত হয়েছিল।
সাধারণত দুর্যোগ বলতে আমরা যা বুঝি, সেগুলো মোকাবেলায় বাংলাদেশ ইতিমধ্যে অনেক সামর্থ্য-সক্ষমতা ও সফলতা অর্জন করেছে। ’৭০-এর দশকে জলোচ্ছ্বাসে লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটেছে। বর্তমানে এটাকে সফলভাবে আমরা মোকাবেলা করতে পারছি। একই মাত্রার দুর্যোগে মৃত্যুর সংখ্যা এখন সিঙ্গেল ডিজেটে নেমে এসেছে। এটা বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত।
যুগান্তর : রানা প্লাজা ট্রাজেডির পর আমাদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক পরিবর্তন সঙ্গত কারণেই প্রত্যাশিত ছিল। জিহাদ মরে প্রমাণ করল- প্রত্যাশার ন্যূনতম মাত্রাও পূরণ হয়নি। প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির এই যে ব্যবধান- এটা ঘোচাতে হলে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া জরুরি?
ই. আ. আমাদের চারপাশে অদৃশ্যমান অনেক দুর্যোগ আছে, যেগুলোর ব্যাপারে আগেভাগে সতর্ক হওয়া সম্ভব নয়। রানা প্লাজা বা জিহাদের অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যুর জন্য দায়ী যে ভবনধস বা পরিত্যক্ত ও অরক্ষিত গভীর নলকূপ- এসব হচ্ছে তারই দৃষ্টান্ত। এক্ষেত্রে আমাদের সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। ঢাকাসহ গাজীপুর ও ভালুকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর সমুদ্রের গড় উচ্চতার ৩০ থেকে ৫৫ মিটার নিচে নেমে যাওয়া, দক্ষিণের সাগরের লবণ পানি ভূগর্ভস্থ হয়ে ধীরগতিতে উত্তর দিকে প্রবাহিত হওয়াসহ অন্যান্য কারণে আমরা খুবই ঝুঁকির মধ্যে আছি। আমাদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সেল আছে। এর সঙ্গে অপ্রচলিত দুর্যোগ ও ঝুঁকি মোকাবেলায় এ সেলের অধীনে আলাদা একটা ডিভিশন থাকা উচিত। তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম ব্যবহারের সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান বা বিষয় সম্পর্কে আগাম সতর্কবার্তা বা পূর্বাভাস প্রচারের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
যুগান্তর : ওয়াসা-ডিসিসি-বাংলাদেশ রেলওয়ে- এ ত্রয়ীর দায়িত্বহীনতার বিষয়টিকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
ই. আ. : এখানে মূল দায়বদ্ধতার জায়গাটি হচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও তাকে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর। সড়কের ম্যানহোল, ড্রেন ও খালের ব্যাপারে ডিসিসির দায়-দায়িত্ব আছে। গভীর নলকূপের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা মন্ত্রণালয়ের ওপর তাদের কোনো হাত নেই।
যুগান্তর : ওয়াসার অনুমতি ছাড়া তো ঢাকা শহরে কোনো নলকূপ স্থাপন সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে তাদেরও তো দায়িত্বের প্রশ্নটি এসে যায়?
ই. আ. : হ্যাঁ। ওয়াসা অনুমতি না দিলে ঢাকায় কোনো নলকূপ বা গভীর নলকূপ স্থাপন করা যায় না। কাজেই শাহজাহানপুরের পরিত্যক্ত ঘোষিত গভীর নলকূপের ক্ষেত্রে তাদেরও একটা দায়িত্ব আছে। বস্তুত কতটুকু দূরত্বে একেকটি নলকূপ স্থাপন করা যাবে- আমি জানি না, এ ধরনের কোনো নীতিমালা ওয়াসার আছে কিনা। না থাকলে দ্রুত নীতিমালা প্রণয়ন করা উচিত।
যুগান্তর : অগ্নিকাণ্ড, ভূমিধস, দুর্ঘটনা ইত্যাদি মানুষসৃষ্ট দুর্যোগ ছাড়াও আমাদের সামনে বহুবিদ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এ রকম একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ হচ্ছে ভূমিকম্প। বিশ্বের ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলগুলোর মধ্যে ঢাকা অন্যতম। ৬ রিখটার স্কেল বা তার চেয়ে বেশি মাত্রার একটি ভূমিকম্প ঢাকায় আঘাত হানলে আমাদের পরিণতি কী হবে?
ই. আ. : ভূমিকম্প সম্পর্কে পূর্বাভাস দেয়ার মতো কোনো প্রযুক্তি এখন পর্যন্ত পৃথিবীতে আবিষ্কার হয়নি। তবে মাটির গর্তে বাস করা কিছু কিছু অনুজীব ভূমিকম্পের আভাস পায় বলে জনশ্র“তি আছে। এ বিষয়ে গবেষণার পাশাপাশি ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি কতটা সহনশীল অবস্থায় নিয়ে আসা যায়- সেদিকে মনোযোগ দিতে হবে। ’৮০ দশকে ঢাকায় ভূপৃষ্ঠ থেকে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ১০ থেকে ২০ ফুটের মধ্যে ওঠানামা করত। এখন সেটা ২২০ থেকে ২৪০ ফুট নিচে নেমে গেছে। একই সঙ্গে মাটির সহনক্ষমতা অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। এ অবস্থায় ঢাকায় ভূমিকম্প হলে একটা অংশ দেবে যাবে। সবচেয়ে বড় ক্ষতি হবে ভূগর্ভস্থ পানির। মাটি থেকে ৭০ ফুট গভীরে আছে বুড়িগঙ্গাসহ আশপাশের নদী ও জলাশয়ের বিষাক্ত পানি। এ বিষাক্ত পানির নিচে কাদা ও পলিথিনের ১০ থেকে ১৮ ফুটের স্তর রয়েছে, যা বিষাক্ত পানিকে ঢাকার পানযোগ্য মিঠাপানি থেকে আলাদা করে রেখেছে। ভূমিকম্পে নদীর তলদেশ এবং কাদা ও পলিথিনের স্তর ফেটে গেলে পানীয় জলের পুরোটাই দূষিত হবে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, ভূ-উপরিস্থ পানি দূষণমুক্ত করতে যে প্রযুক্তি, সময় ও অর্থ লাগবে, তার চেয়ে ১০ গুণ বেশি প্রযুক্তি, সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হবে ভূগর্ভস্থ পানি দূষণমুক্ত করতে। ভূমিকম্পে অন্য ক্ষয়ক্ষতির কথা বাদ দিলেও পানির অভাবেই ঢাকা শহর বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে। ঢাকা জনশূন্য হয়ে পড়বে।
যুগান্তর : আগাম কোনো ঘোষণা ছাড়াই ভূমিকম্প পাল্টে দিতে পারে একটি দেশের পুরো মানচিত্র। এ ধরনের ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় আমাদের কী ধরনের প্রস্তুতি থাকা দরকার।
ই. আ. : পানির স্তর নেমে যাওয়ার বিষয়টি অদৃশ্যমান। তাই বিপদের ভয়াবহতা সম্পর্কে আমরা আঁচ করতে পারছি না। এটা জানতে ও বুঝতে হলে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নিতে হবে। এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট একটা সংস্থা বা বিভাগকে দায়িত্ব দেয়ার পাশাপাশি এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ও কর্মী তৈরি করার পদক্ষেপ নিতে হবে।
যুগান্তর : নিজের সন্তান যখন গভীর অন্ধকার একটি পাইপে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে, তখন পুলিশ জিহাদের বাবাকে ধরে থানায় নিয়ে অমানবিক আচরণ করেছে। পুলিশের এ আচরণ কী প্রমাণ করে?
ই. আ. : নিষ্পাপ হাসিখুশি কোনো শিশু যখন গভীর কোনো নলকূপে পড়ে যায়, তখন যে বিপদগুলো তার সামনে আসে তা হল- একটি অন্ধকার জনমানবশূন্য ভুতুড়ে ভয়াবহ পরিবেশ, কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই সে ২৫-২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার অন্ধকার গভীর পানিতে হাবুডুবু খেতে থাকে। তার শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। বাতাসের পরিবর্তে ঈড়২ এবং পরে পানি তার নাক-মুখ দিয়ে পেটে চলে যায়। তার শ্বাসরুদ্ধ হয়ে যায়। সে কথা বলার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। তবে তখনও সে যে জীবন্ত, বাঁচার একটি আকুতি, করুণ আবেদন তার মনের কোণে ভাসতে থাকে। তার আজন্ম চেনা মমতাময়ী মায়ের ছবি তার মনে জাগতে থাকে। বিশ্বাস করে- মা তাকে এ বিপদ থেকে উদ্ধার করবে। পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় মায়ের কোলে সে ফিরে যাবে। কিন্তু জিহাদের এ আকুতি তার মায়ের কাছে পৌঁছায়নি। পৃথিবীর আলো দেখার আর সুযোগ তার হয়নি। অনেক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে তাকে চলে যেতে হল না ফেরার দেশে। এই ছেলেটি যদি আমার বা আপনার বা ওই ঠিকাদারের হতো, তাহলে তার কেমন লাগত? জিহাদ সবার কাছে একটি প্রশ্ন রেখে গেল- আমার কী অপরাধ? যাদের জন্য আমার এই অকালমৃত্যু- তারা কি কেউ বিচারের সম্মুখীন হবে? জনগণের বন্ধু হিসেবে এ বিষয়গুলো পুলিশের মাথায় থাকা উচিত ছিল। পুলিশের অনেক সফলতার পাশাপাশি কিছু কিছু ব্যর্থতাও রয়েছে। ভুল তথ্য বা প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও দক্ষতার অভাবেই এমনটি ঘটে থাকে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায়, আসল সত্যটা তারা জানতে পারে না। পুলিশেরও এ ধরনের দুর্ঘটনা, ঝুঁকি ও দুর্যোগ সম্পর্কে যথাযথ প্রশিক্ষণ থাকা দরকার।
যুগান্তর : কোনো ঘটনা বা দুর্ঘটনা ঘটলে আমরা আমাদের ব্যর্থতাগুলোকে ধামাচাপা দিতে চাই। জিহাদের ঘটনায়ও তা লক্ষ্য করা গেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে শুরু করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তাদের কথাবার্তায় তা প্রমাণও হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের এ জাতীয় আচরণ জাতিকে কী বার্তা দেয়?
ই. আ. : দেশের মানুষ এ ধরনের মৃত্যু দেখতে চায় না। আর এজন্যই স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, অন্যান্য উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালকসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষ শীতের রাতে ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং দীর্ঘসময় উদ্ধার কাজে বিভিন্নভাবে অংশগ্রহণ করেন। টিভি চ্যানেলগুলো নিয়মিত সংবাদ পরিবেশন করতে থাকে। উৎসুক কোটি কোটি মানুষ জিহাদের সুস্থ অবস্থায় ফিরে আসার অপেক্ষায় থাকলেও তাকে পাওয়া যায় না। তখন এক ধরনের ধূম্রজাল তৈরি হয়। এটা মূলত অজ্ঞতার কারণে ঘটেছে। বিষয়টি তাদের কাছে অস্পষ্ট ছিল। পুলিশ বা সংশ্লিষ্টদের কাছে যে কোনোভাবেই হোক, একটা ভুলবার্তা চলে গেছে। এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। শিশু জিহাদের মৃত্যুর ঘটনাই যেন শেষ ঘটনা হয়।
যুগান্তর : জিহাদের উদ্ধার কার্যক্রমে সমন্বয়হীনতা লক্ষ্য করা গেছে। দেখা গেছে, পুলিশ পুলিশের মতো চিন্তা করছে, ফায়ার সার্ভিস তাদের মতো চিন্তা করছে। মন্ত্রী আরেক রকম। যে কোনো দুর্যোগে বিভিন্ন সংস্থা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সমন্বয় কতটা জরুরি।
ই. আ. : এটা একটা বড় জিনিস। কো-অপারেশন অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশনের দারুণ অভাব রয়েছে আমাদের মধ্যে। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটা নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে এ ধরনের ঝুঁকি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করতে হবে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।
যুগান্তর : জাতি হিসেবে চরিত্রগতভাবেই কি আমরা বিশৃঙ্খল? জিহাদের ঘটনা কি তাই প্রমাণ করে?
ই. আ. : আমি বিশৃংখল বলব না। মনে রাখতে হবে, বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী একটা সেনাবাহিনীর সঙ্গে সুশৃঙ্খলভাবে যুদ্ধ করেই আমরা স্বাধীন হয়েছি। মূলত ব্রিটিশদের যে কলোনিয়াল সিস্টেম, তা থেকে আমরা এখনও পুরোপুরি মুক্ত হতে পারিনি। জিহাদের উদ্ধার তৎপরতার ক্ষেত্রে প্রথমে এর মধ্যে স্থাপিত সাব-মার্সিবল পাম্পটি উত্তোলনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ৩৬০ ফুট দীর্ঘ এ পাম্পটি তুলতে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা সময় লেগে যায়। আশা ছিল, এ পাম্পটির নিচে এমন কিছু আছে যার সঙ্গে আটকে জিহাদ উঠে আসবে আমাদের কাছে। কিন্তু সে প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হল। শুধু আবেগের বশবর্তী হয়ে এক যুবক এগিয়ে এলো নলকূপে নেমে জিহাদকে উঠানোর জন্য। কিন্তু ওই ১৪ ইঞ্চি ব্যাসের ৬০০ ফুট দৈর্ঘ্যরে পাইপের ভেতরে কোনো মানুষকে রশি বেঁধে নামানো হলে তার নিজের মৃত্যুকে বরণ করে নেয়া ছাড়া আর কিছুই করার থাকবে না। এ বিষয়টি যখন টিভি চ্যানেল থেকে জানানো হল, তখন এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে বিরত হল সে। এটা একটি বুদ্ধিমানের কাজ হয়েছে। অন্যথায় অজ্ঞতার কারণে পুরো জাতি আর একজন জীবন্ত যুবককে মারার দায়িত্ব থেকে মুক্তি পেত না। এরপর শোনা গেল, বুয়েটের কিছু প্রকৌশলী ‘ক্যাচার’ নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়েছেন এবং এর দ্বারা ওই শিশুকে সহজে ওপরে তুলে আনা সম্ভব হবে। মানুষ আবার নতুন আশায় ভর করে অপেক্ষা করছিল। এ সময় ওয়াসা ও একটি বেসরকারি সংস্থা কূপের মধ্যে ক্যামেরা নামিয়ে ছবি সংগ্রহ করে এবং জানায়- কূপের ভেতর কোনো শিশুর অস্তিত্ব নেই। সবাই হতাশ হয়ে গেল। তখন সন্দেহ হল- জিহাদ আসলেই ওই কূপে পড়েছে কিনা। এর মধ্যে অন্যান্য টিভি চ্যানেলে প্রচারিত সংবাদে উদ্ধার কর্মীরাও সন্দিহান হয়ে গেল। ক্যামেরা সরিয়ে নেয়া হল, ক্যাচারের যন্ত্রাংশ খোলা হল এবং তারা ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিল। এসব বিশৃঙ্খলার মধ্যে ঘটেছে- এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
যুগান্তর : মৃত জিহাদকে উদ্ধারে স্থানীয় প্রযুক্তি সফলতা পেয়েছে। কিন্তু এ ধরনের প্রযুক্তি বড় মাপের কোনো দুর্যোগ বা ঝুঁকি মোকাবেলা করতে সক্ষম নয়। এ ক্ষেত্রে দুর্যোগ ও ঝুঁকি মোকাবেলায় জনআগ্রহকে কাজে লাগিয়ে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গড়ে তুলে সুফল পাওয়া যাবে কি?
ই. আ. : যে কোনো মুহূর্তে উদ্ধার কাজ পরিত্যক্ত ঘোষণা হতে পারে- এমন একটা অবস্থায় একজন বিশেষজ্ঞের কথা প্রচার করা হল- যেহেতু দুজন শিশু একসঙ্গে মাঠে খেলা করছিল, তাদের একজন কূপের মধ্যে পড়ে যাওয়ার পর আরেকজন দৌড়ে গিয়ে জিহাদের মাকে খবর দিয়েছে, জিহাদ কূপে পড়ে গেছে। এ সংবাদ মিথ্যা হতে পারে না। নিষ্পাপ শিশুরা মিথ্যা বলতে পারে না। জিহাদের দেহ অবশ্যই ওই কূপে আছে এবং এটা তোলা সম্ভব। স্থানীয় জনতা আগ্রহী হয়ে উঠলেন তাদের নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহার করে জিহাদকে তোলার জন্য। দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেল, কিন্তু তাদের অনুমতি দেয়া হল না। অনেকের ধারণা, যারা এ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী, তারা প্রভাব খাটিয়ে জিহাদের মৃতদেহ নলকূপ থেকে না তুলে নলকূপে আদৌ কেউ পড়েনি, তা প্রমাণ করার জন্য নানাভাবে প্রচেষ্টা শুরু করে। ফলে এক সময় বলা হয়, কূপের মধ্যে জিহাদ নেই এবং উদ্ধার কাজ সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। উৎসুক জনতা বিষয়টি বুঝতে পেরে ক্ষোভে ফেটে পড়লে কয়েক মিনিট পর স্থানীয় লোকদের স্থানীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে অব্যাহত প্রচেষ্টার ফসল হিসেবে ৬০০ ফুট গভীরতার ৩৮৫ ফুট গভীর থেকে তুলে আনা হল জিহাদকে। সবাই অবাক দৃষ্টিতে দেখল- বাঁ-হাতের বাহু দিয়ে চোখ ঢেকে সে ঘুমিয়ে আছে। সবাই আনন্দে উচ্ছ্বসিত হল। কিন্তু পরক্ষণেই দেখা গেল, জিহাদের দেহে প্রাণ নেই। এটা অবশ্যই একটা শিক্ষণীয় ঘটনা। এ থেকে শিক্ষা নিয়ে দুর্যোগ মোকাবেলায় স্বেচ্ছাসেবী দল গঠন করা যেতে পারে। রানা প্লাজা দুর্ঘটনার সময় এ দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। সাধারণ মানুষ সরকারি বাহিনীর পাশাপাশি উদ্ধার কাজে অংশ নিয়েছিল। তবে এ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রযুক্তির সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে ফলপ্রসূ ব্যবস্থা উদ্ভাবন ও ব্যবহারের ওপর জোর দিতে হবে।
যুগান্তর : যে কোনো দুর্ঘটনা রোধে রাষ্ট্রের পাশাপাশি সমাজ ও পরিবারের কী ভূমিকা হওয়া উচিত?
ই. আ. : ছেলেমেয়ে কোথায় যাচ্ছে, কোথায় আড্ডা বা খেলাধুলা করছে, কাদের সঙ্গে মিশছে- এটার দেখার দায়িত্ব মূলত পরিবারের। রাষ্ট্রের পক্ষে তো প্রতিটি মানুষের দেখভাল করা সম্ভব নয়। এ কাজ বাবা-মা ও আত্মীয়-স্বজনদেরই করতে হবে। তবে রাষ্ট্র যেটা করতে পারে তা হল- একটা জ্ঞানভিত্তিক সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, যত্নশীল হতে পারে।
যুগান্তর : আপনাকে ধন্যবাদ।
ই. আ. : আপনাকেও ধন্যবাদ।
ড. মো. ইফতেখারুল আলম : জীবন এবং মৃত্যু- এ শব্দ দুটির সঙ্গে আমরা প্রতিনিয়তই সম্পৃক্ত হচ্ছি। তবে কিছু কিছু মৃত্যু মানুষের মনে দীর্ঘস্থায়ী কষ্টদায়ক চিত্র এঁকে দেয়, যা সহজে ভোলা যায় না। এ ধরনের মৃত্যু আমাদের মনকে গভীরভাবে নাড়া দেয় এবং হৃদয়ে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করে। জিহাদের মৃত্যুর কথা ভাবলেই চোখের সামনে যে চিত্রটি ভেসে ওঠে তা হল- একটি চার বছরের উজ্জ্বল, হাসিখুশি প্রাণবন্ত শিশু খেলতে খেলতে মৃত্যুকূপে পড়ে দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা গভীর সরু পাইপের মধ্যে অসহায়ভাবে ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল। এখানে প্রথম কথা হচ্ছে, ঘটনাটি যে একটি দুর্যোগ বা ঝুঁকির দিকে গড়াবে- এ বিষয়টিই আমাদের ভাবনায় ছিল না। দুর্যোগ বলতে সাধারণত আমরা মনে করি, সাইক্লোন, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা ইত্যাদিকে। এ জাতীয় ঘটনাও যে ঝুঁকি বা দুর্যোগ হয়ে উঠতে পারে- এটা আমাদের ভাবনা বা চিন্তায় আনতে হবে এবং এ ব্যাপারে মানুষের মধ্যে প্রয়োজনীয় সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। সাধারণত যেসব স্থানে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়- সেখানে বড় আকারের সাইনবোর্ড দিয়ে গণবিজ্ঞপ্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া সার্বক্ষণিক পাহারার ব্যবস্থা থাকা উচিত। তারপরও দুর্ভাগ্যবশত কোনো দুঃখজনক ঘটনা ঘটলে তা মোকাবেলার জন্য ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সসহ অন্যদের যথার্থ প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা থাকতে হবে।
যুগান্তর : জিহাদের মৃত্যুর দায় কি রাষ্ট্রের? যদি তাই হয়, তাহলে এ ঘটনা থেকে রাষ্ট্রের জন্য শিক্ষণীয় কী আছে?
ই. আ. : কোটি কোটি মানুষের ইচ্ছা ও আগ্রহের বিষয়টি অনুধাবন করে রাষ্ট্র তাকে বাঁচানোর জন্য সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু ২০০ ফুট গভীর নলকূপের নিচের ৩৬০ ফুট শীতল পানিতে ভর্তি আর ওপরে ২৪০ ফুট বায়ুপূর্ণ অংশের নিচেরটুকু বিষাক্ত ঈড়২ পূর্ণ। শিশু জিহাদ কূপের ওপর থেকে ২১০ ফুট গভীরতায় প্রথম পানিকে স্পর্শ করে এবং কয়েক মিনিট বা ঘণ্টা পর ৩৬০ ফুট পানির গভীরে চলে যায়, আবার ধীরে ধীরে পানি থেকে ওপরে ভাসতে থাকে। ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধারকারী কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। উদ্ধারকর্মীরা এ ধরনের মানবসৃষ্ট দুর্যোগের সঙ্গে আগে কখনোই পরিচিত ছিল না। তাই কী করা উচিত, কী করব, কীভাবে করব- কিছুই তাদের জানা ছিল না। তবুও তাদের নিজস্ব বিচার-বুদ্ধি, জ্ঞান-দক্ষতা দিয়ে উদ্ধার কার্য শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। এখানে রাষ্ট্রকে সরাসরি দায়ী করা ঠিক হবে না। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি অবশ্যই ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। এ ধরনের দায়িত্ব অবহেলাকারী ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান- যে বা যারাই হোক, তারা যদি কারও মৃত্যুর কারণ হয়, তখন তাদের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করার ভার রাষ্ট্রের ওপর বর্তায়।
যুগান্তর : জিহাদের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে আমাদের দুর্যোগ বা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার করুণ চিত্র পরিস্ফুট হয়েছে। এ ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনকারী সংস্থাকে কার্যকর ও যুগোপযোগী করতে হলে কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন?
ই. আ. : গভীর নলকূপটি হয়তো ডিসচার্জ কম হওয়ার কারণে পরিত্যক্ত ঘোষিত হয়। পাশেই অন্য একটি নলকূপ স্থাপন করা হয় এবং এটির মাথায় একটি পাথর দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়, যাতে কেউ এর ভেতর পড়তে না পারে। পাথর দিয়ে ঢাকনা দেয়া কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা নয়। এ চিত্র থেকে অনুমান করা যায়, পুরনো পরিত্যক্ত নলকূপের ভেতরে ৩৬০ ফুট গভীরতার একটি সাব-মার্সিবল পাম্প স্থাপন করে পানি উত্তোলন করে নতুন নলকূপটি স্থাপন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, একটি গভীর নলকূপ স্থাপন করতে হলে প্রচুর পানির প্রয়োজন হয়, যা ক্রয় করে ব্যবহার করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এজন্য নতুন নলকূপটি খননকালে পরিত্যক্ত নলকূপ থেকে পানি উত্তোলন করা হয়েছে। এ কাজে কয়েকদিন থেকে কয়েক সপ্তাহ লেগেছে। নতুন নলকূপটি খনন কাজ শেষ হওয়ার পর পরিত্যক্ত নলকূপটি সিল করা হয়নি। যে কারণে এটি একটি বিপজ্জনক মরণফাঁদে পরিণত হয়। বলা প্রয়োজন, গভীর নলকূপ খননের কয়েকটি ধাপ আছে। এগুলো হল- ১. প্রথমে ড্রিলিং করা এবং ড্রিলিংয়ের গভীরতা হবে পর্যাপ্ত পানি সমৃদ্ধ একুইফার পর্যন্ত ২. ওয়েল ডিজাইন ৩. ফিকচার লোয়ারিং, ৪. গ্রাভেল প্যাকিং ৫. টেস্টিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ও ৬. কমিশনিং। সম্ভবত নতুন নলকূপটি ৪ ধাপ পর্যন্ত সমাপ্ত হয়েছিল।
সাধারণত দুর্যোগ বলতে আমরা যা বুঝি, সেগুলো মোকাবেলায় বাংলাদেশ ইতিমধ্যে অনেক সামর্থ্য-সক্ষমতা ও সফলতা অর্জন করেছে। ’৭০-এর দশকে জলোচ্ছ্বাসে লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটেছে। বর্তমানে এটাকে সফলভাবে আমরা মোকাবেলা করতে পারছি। একই মাত্রার দুর্যোগে মৃত্যুর সংখ্যা এখন সিঙ্গেল ডিজেটে নেমে এসেছে। এটা বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত।
যুগান্তর : রানা প্লাজা ট্রাজেডির পর আমাদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক পরিবর্তন সঙ্গত কারণেই প্রত্যাশিত ছিল। জিহাদ মরে প্রমাণ করল- প্রত্যাশার ন্যূনতম মাত্রাও পূরণ হয়নি। প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির এই যে ব্যবধান- এটা ঘোচাতে হলে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া জরুরি?
ই. আ. আমাদের চারপাশে অদৃশ্যমান অনেক দুর্যোগ আছে, যেগুলোর ব্যাপারে আগেভাগে সতর্ক হওয়া সম্ভব নয়। রানা প্লাজা বা জিহাদের অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যুর জন্য দায়ী যে ভবনধস বা পরিত্যক্ত ও অরক্ষিত গভীর নলকূপ- এসব হচ্ছে তারই দৃষ্টান্ত। এক্ষেত্রে আমাদের সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। ঢাকাসহ গাজীপুর ও ভালুকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর সমুদ্রের গড় উচ্চতার ৩০ থেকে ৫৫ মিটার নিচে নেমে যাওয়া, দক্ষিণের সাগরের লবণ পানি ভূগর্ভস্থ হয়ে ধীরগতিতে উত্তর দিকে প্রবাহিত হওয়াসহ অন্যান্য কারণে আমরা খুবই ঝুঁকির মধ্যে আছি। আমাদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সেল আছে। এর সঙ্গে অপ্রচলিত দুর্যোগ ও ঝুঁকি মোকাবেলায় এ সেলের অধীনে আলাদা একটা ডিভিশন থাকা উচিত। তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম ব্যবহারের সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান বা বিষয় সম্পর্কে আগাম সতর্কবার্তা বা পূর্বাভাস প্রচারের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
যুগান্তর : ওয়াসা-ডিসিসি-বাংলাদেশ রেলওয়ে- এ ত্রয়ীর দায়িত্বহীনতার বিষয়টিকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
ই. আ. : এখানে মূল দায়বদ্ধতার জায়গাটি হচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও তাকে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর। সড়কের ম্যানহোল, ড্রেন ও খালের ব্যাপারে ডিসিসির দায়-দায়িত্ব আছে। গভীর নলকূপের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা মন্ত্রণালয়ের ওপর তাদের কোনো হাত নেই।
যুগান্তর : ওয়াসার অনুমতি ছাড়া তো ঢাকা শহরে কোনো নলকূপ স্থাপন সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে তাদেরও তো দায়িত্বের প্রশ্নটি এসে যায়?
ই. আ. : হ্যাঁ। ওয়াসা অনুমতি না দিলে ঢাকায় কোনো নলকূপ বা গভীর নলকূপ স্থাপন করা যায় না। কাজেই শাহজাহানপুরের পরিত্যক্ত ঘোষিত গভীর নলকূপের ক্ষেত্রে তাদেরও একটা দায়িত্ব আছে। বস্তুত কতটুকু দূরত্বে একেকটি নলকূপ স্থাপন করা যাবে- আমি জানি না, এ ধরনের কোনো নীতিমালা ওয়াসার আছে কিনা। না থাকলে দ্রুত নীতিমালা প্রণয়ন করা উচিত।
যুগান্তর : অগ্নিকাণ্ড, ভূমিধস, দুর্ঘটনা ইত্যাদি মানুষসৃষ্ট দুর্যোগ ছাড়াও আমাদের সামনে বহুবিদ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এ রকম একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ হচ্ছে ভূমিকম্প। বিশ্বের ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলগুলোর মধ্যে ঢাকা অন্যতম। ৬ রিখটার স্কেল বা তার চেয়ে বেশি মাত্রার একটি ভূমিকম্প ঢাকায় আঘাত হানলে আমাদের পরিণতি কী হবে?
ই. আ. : ভূমিকম্প সম্পর্কে পূর্বাভাস দেয়ার মতো কোনো প্রযুক্তি এখন পর্যন্ত পৃথিবীতে আবিষ্কার হয়নি। তবে মাটির গর্তে বাস করা কিছু কিছু অনুজীব ভূমিকম্পের আভাস পায় বলে জনশ্র“তি আছে। এ বিষয়ে গবেষণার পাশাপাশি ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি কতটা সহনশীল অবস্থায় নিয়ে আসা যায়- সেদিকে মনোযোগ দিতে হবে। ’৮০ দশকে ঢাকায় ভূপৃষ্ঠ থেকে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ১০ থেকে ২০ ফুটের মধ্যে ওঠানামা করত। এখন সেটা ২২০ থেকে ২৪০ ফুট নিচে নেমে গেছে। একই সঙ্গে মাটির সহনক্ষমতা অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। এ অবস্থায় ঢাকায় ভূমিকম্প হলে একটা অংশ দেবে যাবে। সবচেয়ে বড় ক্ষতি হবে ভূগর্ভস্থ পানির। মাটি থেকে ৭০ ফুট গভীরে আছে বুড়িগঙ্গাসহ আশপাশের নদী ও জলাশয়ের বিষাক্ত পানি। এ বিষাক্ত পানির নিচে কাদা ও পলিথিনের ১০ থেকে ১৮ ফুটের স্তর রয়েছে, যা বিষাক্ত পানিকে ঢাকার পানযোগ্য মিঠাপানি থেকে আলাদা করে রেখেছে। ভূমিকম্পে নদীর তলদেশ এবং কাদা ও পলিথিনের স্তর ফেটে গেলে পানীয় জলের পুরোটাই দূষিত হবে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, ভূ-উপরিস্থ পানি দূষণমুক্ত করতে যে প্রযুক্তি, সময় ও অর্থ লাগবে, তার চেয়ে ১০ গুণ বেশি প্রযুক্তি, সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হবে ভূগর্ভস্থ পানি দূষণমুক্ত করতে। ভূমিকম্পে অন্য ক্ষয়ক্ষতির কথা বাদ দিলেও পানির অভাবেই ঢাকা শহর বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে। ঢাকা জনশূন্য হয়ে পড়বে।
যুগান্তর : আগাম কোনো ঘোষণা ছাড়াই ভূমিকম্প পাল্টে দিতে পারে একটি দেশের পুরো মানচিত্র। এ ধরনের ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় আমাদের কী ধরনের প্রস্তুতি থাকা দরকার।
ই. আ. : পানির স্তর নেমে যাওয়ার বিষয়টি অদৃশ্যমান। তাই বিপদের ভয়াবহতা সম্পর্কে আমরা আঁচ করতে পারছি না। এটা জানতে ও বুঝতে হলে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নিতে হবে। এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট একটা সংস্থা বা বিভাগকে দায়িত্ব দেয়ার পাশাপাশি এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ও কর্মী তৈরি করার পদক্ষেপ নিতে হবে।
যুগান্তর : নিজের সন্তান যখন গভীর অন্ধকার একটি পাইপে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে, তখন পুলিশ জিহাদের বাবাকে ধরে থানায় নিয়ে অমানবিক আচরণ করেছে। পুলিশের এ আচরণ কী প্রমাণ করে?
ই. আ. : নিষ্পাপ হাসিখুশি কোনো শিশু যখন গভীর কোনো নলকূপে পড়ে যায়, তখন যে বিপদগুলো তার সামনে আসে তা হল- একটি অন্ধকার জনমানবশূন্য ভুতুড়ে ভয়াবহ পরিবেশ, কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই সে ২৫-২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার অন্ধকার গভীর পানিতে হাবুডুবু খেতে থাকে। তার শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। বাতাসের পরিবর্তে ঈড়২ এবং পরে পানি তার নাক-মুখ দিয়ে পেটে চলে যায়। তার শ্বাসরুদ্ধ হয়ে যায়। সে কথা বলার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। তবে তখনও সে যে জীবন্ত, বাঁচার একটি আকুতি, করুণ আবেদন তার মনের কোণে ভাসতে থাকে। তার আজন্ম চেনা মমতাময়ী মায়ের ছবি তার মনে জাগতে থাকে। বিশ্বাস করে- মা তাকে এ বিপদ থেকে উদ্ধার করবে। পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় মায়ের কোলে সে ফিরে যাবে। কিন্তু জিহাদের এ আকুতি তার মায়ের কাছে পৌঁছায়নি। পৃথিবীর আলো দেখার আর সুযোগ তার হয়নি। অনেক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে তাকে চলে যেতে হল না ফেরার দেশে। এই ছেলেটি যদি আমার বা আপনার বা ওই ঠিকাদারের হতো, তাহলে তার কেমন লাগত? জিহাদ সবার কাছে একটি প্রশ্ন রেখে গেল- আমার কী অপরাধ? যাদের জন্য আমার এই অকালমৃত্যু- তারা কি কেউ বিচারের সম্মুখীন হবে? জনগণের বন্ধু হিসেবে এ বিষয়গুলো পুলিশের মাথায় থাকা উচিত ছিল। পুলিশের অনেক সফলতার পাশাপাশি কিছু কিছু ব্যর্থতাও রয়েছে। ভুল তথ্য বা প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও দক্ষতার অভাবেই এমনটি ঘটে থাকে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায়, আসল সত্যটা তারা জানতে পারে না। পুলিশেরও এ ধরনের দুর্ঘটনা, ঝুঁকি ও দুর্যোগ সম্পর্কে যথাযথ প্রশিক্ষণ থাকা দরকার।
যুগান্তর : কোনো ঘটনা বা দুর্ঘটনা ঘটলে আমরা আমাদের ব্যর্থতাগুলোকে ধামাচাপা দিতে চাই। জিহাদের ঘটনায়ও তা লক্ষ্য করা গেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে শুরু করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তাদের কথাবার্তায় তা প্রমাণও হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের এ জাতীয় আচরণ জাতিকে কী বার্তা দেয়?
ই. আ. : দেশের মানুষ এ ধরনের মৃত্যু দেখতে চায় না। আর এজন্যই স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, অন্যান্য উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালকসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষ শীতের রাতে ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং দীর্ঘসময় উদ্ধার কাজে বিভিন্নভাবে অংশগ্রহণ করেন। টিভি চ্যানেলগুলো নিয়মিত সংবাদ পরিবেশন করতে থাকে। উৎসুক কোটি কোটি মানুষ জিহাদের সুস্থ অবস্থায় ফিরে আসার অপেক্ষায় থাকলেও তাকে পাওয়া যায় না। তখন এক ধরনের ধূম্রজাল তৈরি হয়। এটা মূলত অজ্ঞতার কারণে ঘটেছে। বিষয়টি তাদের কাছে অস্পষ্ট ছিল। পুলিশ বা সংশ্লিষ্টদের কাছে যে কোনোভাবেই হোক, একটা ভুলবার্তা চলে গেছে। এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। শিশু জিহাদের মৃত্যুর ঘটনাই যেন শেষ ঘটনা হয়।
যুগান্তর : জিহাদের উদ্ধার কার্যক্রমে সমন্বয়হীনতা লক্ষ্য করা গেছে। দেখা গেছে, পুলিশ পুলিশের মতো চিন্তা করছে, ফায়ার সার্ভিস তাদের মতো চিন্তা করছে। মন্ত্রী আরেক রকম। যে কোনো দুর্যোগে বিভিন্ন সংস্থা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সমন্বয় কতটা জরুরি।
ই. আ. : এটা একটা বড় জিনিস। কো-অপারেশন অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশনের দারুণ অভাব রয়েছে আমাদের মধ্যে। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটা নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে এ ধরনের ঝুঁকি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করতে হবে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।
যুগান্তর : জাতি হিসেবে চরিত্রগতভাবেই কি আমরা বিশৃঙ্খল? জিহাদের ঘটনা কি তাই প্রমাণ করে?
ই. আ. : আমি বিশৃংখল বলব না। মনে রাখতে হবে, বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী একটা সেনাবাহিনীর সঙ্গে সুশৃঙ্খলভাবে যুদ্ধ করেই আমরা স্বাধীন হয়েছি। মূলত ব্রিটিশদের যে কলোনিয়াল সিস্টেম, তা থেকে আমরা এখনও পুরোপুরি মুক্ত হতে পারিনি। জিহাদের উদ্ধার তৎপরতার ক্ষেত্রে প্রথমে এর মধ্যে স্থাপিত সাব-মার্সিবল পাম্পটি উত্তোলনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ৩৬০ ফুট দীর্ঘ এ পাম্পটি তুলতে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা সময় লেগে যায়। আশা ছিল, এ পাম্পটির নিচে এমন কিছু আছে যার সঙ্গে আটকে জিহাদ উঠে আসবে আমাদের কাছে। কিন্তু সে প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হল। শুধু আবেগের বশবর্তী হয়ে এক যুবক এগিয়ে এলো নলকূপে নেমে জিহাদকে উঠানোর জন্য। কিন্তু ওই ১৪ ইঞ্চি ব্যাসের ৬০০ ফুট দৈর্ঘ্যরে পাইপের ভেতরে কোনো মানুষকে রশি বেঁধে নামানো হলে তার নিজের মৃত্যুকে বরণ করে নেয়া ছাড়া আর কিছুই করার থাকবে না। এ বিষয়টি যখন টিভি চ্যানেল থেকে জানানো হল, তখন এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে বিরত হল সে। এটা একটি বুদ্ধিমানের কাজ হয়েছে। অন্যথায় অজ্ঞতার কারণে পুরো জাতি আর একজন জীবন্ত যুবককে মারার দায়িত্ব থেকে মুক্তি পেত না। এরপর শোনা গেল, বুয়েটের কিছু প্রকৌশলী ‘ক্যাচার’ নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়েছেন এবং এর দ্বারা ওই শিশুকে সহজে ওপরে তুলে আনা সম্ভব হবে। মানুষ আবার নতুন আশায় ভর করে অপেক্ষা করছিল। এ সময় ওয়াসা ও একটি বেসরকারি সংস্থা কূপের মধ্যে ক্যামেরা নামিয়ে ছবি সংগ্রহ করে এবং জানায়- কূপের ভেতর কোনো শিশুর অস্তিত্ব নেই। সবাই হতাশ হয়ে গেল। তখন সন্দেহ হল- জিহাদ আসলেই ওই কূপে পড়েছে কিনা। এর মধ্যে অন্যান্য টিভি চ্যানেলে প্রচারিত সংবাদে উদ্ধার কর্মীরাও সন্দিহান হয়ে গেল। ক্যামেরা সরিয়ে নেয়া হল, ক্যাচারের যন্ত্রাংশ খোলা হল এবং তারা ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিল। এসব বিশৃঙ্খলার মধ্যে ঘটেছে- এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
যুগান্তর : মৃত জিহাদকে উদ্ধারে স্থানীয় প্রযুক্তি সফলতা পেয়েছে। কিন্তু এ ধরনের প্রযুক্তি বড় মাপের কোনো দুর্যোগ বা ঝুঁকি মোকাবেলা করতে সক্ষম নয়। এ ক্ষেত্রে দুর্যোগ ও ঝুঁকি মোকাবেলায় জনআগ্রহকে কাজে লাগিয়ে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গড়ে তুলে সুফল পাওয়া যাবে কি?
ই. আ. : যে কোনো মুহূর্তে উদ্ধার কাজ পরিত্যক্ত ঘোষণা হতে পারে- এমন একটা অবস্থায় একজন বিশেষজ্ঞের কথা প্রচার করা হল- যেহেতু দুজন শিশু একসঙ্গে মাঠে খেলা করছিল, তাদের একজন কূপের মধ্যে পড়ে যাওয়ার পর আরেকজন দৌড়ে গিয়ে জিহাদের মাকে খবর দিয়েছে, জিহাদ কূপে পড়ে গেছে। এ সংবাদ মিথ্যা হতে পারে না। নিষ্পাপ শিশুরা মিথ্যা বলতে পারে না। জিহাদের দেহ অবশ্যই ওই কূপে আছে এবং এটা তোলা সম্ভব। স্থানীয় জনতা আগ্রহী হয়ে উঠলেন তাদের নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহার করে জিহাদকে তোলার জন্য। দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেল, কিন্তু তাদের অনুমতি দেয়া হল না। অনেকের ধারণা, যারা এ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী, তারা প্রভাব খাটিয়ে জিহাদের মৃতদেহ নলকূপ থেকে না তুলে নলকূপে আদৌ কেউ পড়েনি, তা প্রমাণ করার জন্য নানাভাবে প্রচেষ্টা শুরু করে। ফলে এক সময় বলা হয়, কূপের মধ্যে জিহাদ নেই এবং উদ্ধার কাজ সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। উৎসুক জনতা বিষয়টি বুঝতে পেরে ক্ষোভে ফেটে পড়লে কয়েক মিনিট পর স্থানীয় লোকদের স্থানীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে অব্যাহত প্রচেষ্টার ফসল হিসেবে ৬০০ ফুট গভীরতার ৩৮৫ ফুট গভীর থেকে তুলে আনা হল জিহাদকে। সবাই অবাক দৃষ্টিতে দেখল- বাঁ-হাতের বাহু দিয়ে চোখ ঢেকে সে ঘুমিয়ে আছে। সবাই আনন্দে উচ্ছ্বসিত হল। কিন্তু পরক্ষণেই দেখা গেল, জিহাদের দেহে প্রাণ নেই। এটা অবশ্যই একটা শিক্ষণীয় ঘটনা। এ থেকে শিক্ষা নিয়ে দুর্যোগ মোকাবেলায় স্বেচ্ছাসেবী দল গঠন করা যেতে পারে। রানা প্লাজা দুর্ঘটনার সময় এ দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। সাধারণ মানুষ সরকারি বাহিনীর পাশাপাশি উদ্ধার কাজে অংশ নিয়েছিল। তবে এ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রযুক্তির সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে ফলপ্রসূ ব্যবস্থা উদ্ভাবন ও ব্যবহারের ওপর জোর দিতে হবে।
যুগান্তর : যে কোনো দুর্ঘটনা রোধে রাষ্ট্রের পাশাপাশি সমাজ ও পরিবারের কী ভূমিকা হওয়া উচিত?
ই. আ. : ছেলেমেয়ে কোথায় যাচ্ছে, কোথায় আড্ডা বা খেলাধুলা করছে, কাদের সঙ্গে মিশছে- এটার দেখার দায়িত্ব মূলত পরিবারের। রাষ্ট্রের পক্ষে তো প্রতিটি মানুষের দেখভাল করা সম্ভব নয়। এ কাজ বাবা-মা ও আত্মীয়-স্বজনদেরই করতে হবে। তবে রাষ্ট্র যেটা করতে পারে তা হল- একটা জ্ঞানভিত্তিক সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, যত্নশীল হতে পারে।
যুগান্তর : আপনাকে ধন্যবাদ।
ই. আ. : আপনাকেও ধন্যবাদ।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1340)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
-
▼
2014
(9799)
-
▼
December
(1878)
-
▼
Dec 29
(65)
- ‘৭১ বাংলাদেশ’ ওয়েবসাইটের উদ্বোধন
- সিলেটে আগামীকাল আধাবেলা হরতাল
- ‘ওর মুখের দিকে তাকাতে পারি না’ by মানসুরা হোসাইন
- সংঘাত চাই না, শান্তি চাই: প্রধানমন্ত্রী
- ‘দেশব্যাপী ব্যাপক দমননীতি চালিয়েছে সরকার’ -ফখরুল
- সেই ব্যবসায়ীর মাথা, হাত–পা উদ্ধার
- পটুয়াখালীতে উপ মহাদেশের প্রথম পানি জাদুঘরের যাত্রা...
- দ্য ইন্টারভিউ অনলাইনে আয় করেছে দেড় কোটি ডলার
- মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে ভয়াবহ বন্যায় নিহত ২৪
- পিতা-পুত্র দ্বন্দ্ব পিপিপি’র পরিণতি কি!
- বেঙ্গালুরুতে বোমা বিস্ফোরণ নিহত ১, আহত ৫
- কাভার্ড ভ্যানে ট্রেনের ধাক্কা, নিহত ৫
- শিশু জিহাদের মৃত্যুর ঘটনাই যেন শেষ ঘটনা হয় : ড. মো...
- ডিএমপি কমিশনারের জবাবদিহি চাই by মহিউদ্দিন আহমদ
- শিশুটির মৃত্যু এড়ানো যেত by প্রফেসর এমআর কবির
- ডায়াবেটিক ও সিজোফ্রেনিকের লড়াই by মাহবুব কামাল
- রাজনৈতিক সহিংসতা- ক্ষমতায় থেকেও খুনোখুনি by শরিফু...
- পম্পার প্রেমে বাধা হয়ে দাঁড়াল সীমানা
- চার শিশুকে থানায় জেরা by কাজী আনিছ
- হরতালে নোয়াখালিতে স্কুল শিক্ষিকা নিহত, বিভিন্ন জায...
- ছয় বছরে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে বিএনপির ৩৪ খুন
- খুনের কথা স্বীকার করলো প্রেমিকা
- কুড়িল ফ্লাইওভার-পূর্বাচল রাস্তার দুপাশে খাল খননের ...
- আজ ২০ দলের হরতাল
- আজহারের মানবতাবিরোধী মামলার রায় কাল
- মালিবাগে জামায়াতের মিছিলে আওয়ামী লীগের হামলা
- সরকারের দমন-পীড়নের মুখেও নেতাকর্মীরা রাস্তায় নেমে ...
- পল্লবীতে পিকেটারদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ
- বিক্ষোভ-সংঘর্ষে চলছে ২০ দলীয় জোটের হরতাল
- জামায়াত নেতা আজহারের মামলার রায় মঙ্গলবার
- ব্যস্ত সড়কে জলহস্তী!
- নিজ শহরে উপেক্ষিত কবি মির্জা গালিব
- মাদুরোর অভিনন্দন
- বিশ্বের রহস্যময় ১০ বিমান দুর্ঘটনা
- ন্যাটোর আফগান যুদ্ধ শেষ
- রাজনীতিবিদদের ব্যাংক হিসাব তদারকির নির্দেশ
- রাজনীতিবিদদের ব্যাংক হিসাব তদারকির নির্দেশ
- ১৬২ আরোহীসহ এয়ার এশিয়ার বিমান নিখোঁজ
- খেলাপি ঋণের চাপে ভেঙে পড়ছে ব্যাংকিং খাত
- টার্গেট ঢাকার নেতারা
- ছয় বছরে ২৯ জনপ্রতিনিধি খুন, আ.লীগের কোন্দলেই ১৮
- রাজনৈতিক সহিংসতায় ছয় বছরে খুন ৯০৮, ১৫১ জনের প্রা...
- গিরা বাত থেকে রক্ষার উপায় by ডা. মিজানুর রহমান কল্লোল
- ‘রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা প্রয়োজন’ -খালেদার স...
- নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর সম্পাদকীয় মন্তব্যে ট্রাইব্যুনাল...
- সালতামামি ২০১৪- আলোচনার শীর্ষে ছিল মানব পাচার by র...
- সমস্যার বেড়াজালে চা-চাষিরা by সাবিবুর রহমান সাবিব
- প্রিন্স হ্যারির পিতা কে!
- বৃটিশ আমলের দালান রাখার প্রয়োজন নেই -প্রধানমন্ত্রী
- চট্টগ্রামে মহিউদ্দিনের মেজবান নিয়ে কৌতূহল by মহিউদ...
- বন্দিদশায় জিহাদের দুই খেলার সাথি by শাহীন কাওসার
- স্বর্ণ চোরাচালান সিন্ডিকেটের সদস্য মোহাম্মদ আলী by...
- পিতার বিরুদ্ধে কন্যার নালিশ by সিরাজুস সালেকিন
- দুই কারণে জিহাদের মৃত্যু
- একটি জাতীয় ব্যর্থতা by সাজেদুল হক
- মামলাজট ও দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে সংসদীয় কমিটির উদ্বেগ
- আলাল হাসপাতালে
- হবিগঞ্জের মেয়র কারাগারে, সংঘর্ষ
- গাড়িতে আগুন, দগ্ধ ৩ ককটেল বিস্ফোরণ, আতঙ্ক- ২০ দলের...
- উদ্ধারে দৈন্যদশা by নুরুজ্জামান লাবু
- ১৬২ আরোহী নিয়ে নিখোঁজ এয়ারএশিয়া- রুট পরিবর্তন করতে...
- চেনা পথেই হাঁটছে সরকার by কাজী সুমন
- ট্যাংকারডুবির বিরূপ প্রভাব মংলা বন্দরে
- বড় দুই দলে সংলাপ চায় চীন
- বাংলাদেশের পাশে থাকবে চীন: ওয়াং
-
▼
Dec 29
(65)
-
▼
December
(1878)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
ইরান
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
কালবেলা
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
ইউক্রেন
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
তরুণ প্রজন্ম
মানবাধিকার
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আলী যাকের
আইন ও বিচার
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
তারেক শামসুর রেহমান
মালয়েশিয়া
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
স্বাস্থ্য
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
জ্যোতির্বিজ্ঞান
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
শিল্প ও সাহিত্য
সংবিধান ও রাষ্ট্র
বগুড়া
মিয়ানমার
ঢাকা
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
গবেষণা
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
জীবনযাপন
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
মেহেদী হাসান
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
মানসুরা হোসাইন
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
মসজিদ
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
ইয়েমেন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
Exclusive
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
বিজ্ঞান
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
জনস্বাস্থ্য
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
ফরিদপুর
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লাতিন আমেরিকা
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মহাকাশচারী
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
জোহরান মামদানি
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
ইহুদি
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
স্পেন
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
বিশ্বকাপ ফুটবল
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment