Thursday, February 4, 2016
জনগণের সমর্থন ছাড়া পুলিশ বাহিনীর পক্ষে সফল হওয়া সম্ভব নয় : মুহাম্মদ নুরুল হুদা by মোকাম্মেল হোসেন
জনগণের সমর্থন ছাড়া পুলিশ বাহিনীর পক্ষে সফল হওয়া সম্ভব নয় : মুহাম্মদ নুরুল হুদা by মোকাম্মেল হোসেন
পুলিশের
সাবেক আইজি মুহাম্মদ নুরুল হুদার জন্ম ১৯৪৫ সালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে
সমাজকল্যাণে মাস্টার্স শেষ করে সেন্ট্রাল সুপিরিয়র সার্ভিস পরীক্ষার
মাধ্যমে ১৯৭০ সালে তিনি পুলিশ বিভাগে যোগ দেন। সম্প্রতি সমাপ্ত পুলিশ
সপ্তাহ এবং পুলিশ বিভাগের সমস্যা, সম্ভাবনাসহ অন্যান্য বিষয়ে যুগান্তরের
সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি খোলামেলা মত প্রদান করেছেন। সাক্ষাৎকার
নিয়েছেন-
যুগান্তর :
সম্প্রতি শেষ হওয়া পুলিশ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী পুলিশকে জনগণের সেবক হওয়ার
আহ্বান জানিয়ে অসহায় ও বিপন্ন মানুষের পাশে বিশ্বস্ত বন্ধুর মতো দাঁড়াতে
বলেছেন। দেশের পুলিশ বাহিনী প্রধানমন্ত্রীর এ আহ্বানের মর্যাদা রাখতে সক্ষম
হবে?
মুহাম্মদ নুরুল হুদা : না রাখতে পারার কোনো কারণ দেখি না। পুলিশের যে প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য আছে, তার আলোকে বিচার করলে উন্নত কিংবা উন্নয়নশীল- যে দেশই হোক, জনগণের সাহায্য-সহযোগিতা ও স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন ছাড়া পুলিশ বাহিনীর পক্ষে সফল হওয়া সম্ভব নয়; পুলিশ বিভাগ যে আইন-কানুন দ্বারা চলে, বিশেষ করে ১৯৪৩ সালের পুলিশ রেগুলেশনের প্রথমদিকেই পরিষ্কার করে বলা আছে, পুলিশ বাহিনীকে সফল হতে হলে জনগণের সাহায্য-সহযোগিতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে পেতে হবে। এটাই যদি মাপকাঠি হয় সাফল্যের, তাহলে জনগণের জন্য কাজ করা তো অবশ্যই দরকার। স্বাধীন দেশে পুলিশ তো আর অন্য কারও প্রতিনিধি নয়; জনগণের প্রতিনিধি। আমাদের শাসনতন্ত্রে তো বলাই আছে- সব ক্ষমতা জনগণের কাছে আছে। তো জনগণের জন্য কাজ করলে পুলিশের পেশাগত উৎকর্ষসাধনে কোনো বাধা আসে না। এটা বরং ভালো হয় এবং সেখানে জনগণের সমর্থন থাকে। দেশের সমগ্র জনগণের মধ্যে পুলিশ বাহিনীর সংখ্যা তো একটা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশ। সমগ্র জনগণের আইনশৃঙ্খলাজনিত পরিস্থিতি যখন আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, তখন তাদের সমর্থন থাকলেই তো আপনি ভালো করবেন।
যুগান্তর : পুলিশ সপ্তাহে প্যারেডের ইতিহাসে এই প্রথম একজন নারী পুলিশ কর্মকর্তা অধিনায়ক হিসেবে প্যারেডে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিষয়টি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
মু. নু. হুদা : এজন্য সরকার যথেষ্ট বাহবা পেতে পারে। অতীতের দিকে তাকালে দেখব- বঙ্গবন্ধু সরকারের সময়, সম্ভবত ১৯৭৪-৭৫ সালে প্রথম মহিলা পুলিশ নিয়োগ দেয়া হয়। এটা তারই ধারাবাহিকতা। মাঝখানে একটা সময় ছিল, তখন অদ্ভুত কিছু কারণে মহিলা পুলিশ থাকলেও তাদের দৃশ্যমান করা হতো না। আমরা সে সময়টা পার হয়ে এসেছি। এখন প্রচুর মহিলা পুলিশ আছে এবং মহিলা পুলিশের যে ইন্টারন্যাশনাল বডি আছে, সেখানেও তাদের একটা উজ্জ্বল ভূমিকা রয়েছে। আইইউএন কন্টিনজেন্টে মহিলা পুলিশরা প্রশংসনীয় দক্ষতা দেখিয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশে এখন এডিশনাল আইজি অর্থাৎ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদেও মহিলা কর্মকর্তা নিয়োজিত আছেন। সেই আলোকে বিচার করলে এবারের প্যারেড কন্টিনজেন্টে একজন মহিলা থাকার বিষয়টি নিয়ে অবাক হওয়ার কিছু নেই।
যুগান্তর : পুলিশ সপ্তাহে পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকে উত্থাপিত ১৮টি দাবির মধ্যে অন্যতম ছিল পুলিশের প্রশাসনিক কাজে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা। এ দাবি পূরণ হওয়া কতটা জরুরি?
মু. নু. হুদা : এটা তো দাবি করা লাগে না। পুলিশ বাহিনী একটা আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত বাহিনী। দেশে যেসব প্রতিষ্ঠিত আইন-কানুন আছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বড় আইন হচ্ছে শাসনতন্ত্র অর্থাৎ আমাদের সংবিধানে নির্দেশনা দেয়া আছে- কীভাবে কাজ করতে হবে। এছাড়াও নির্দিষ্ট কিছু আইন, পুলিশ রেগুলেশন্স অব বেঙ্গল ও স্থানীয় আইন আছে। অপরাধের ব্যাপারে সাবজেক্টিভ ল’ হচ্ছে বাংলাদেশ পেনাল কোড। আর অ্যাডজেক্টিভ বা প্রসিডিউরাল ল’ হচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিমিনাল প্রসিডিউর কোড। এগুলোকে সাহায্য করার জন্য বিচারিক পর্যায়ে রয়েছে অ্যাভিডেন্স অ্যাক্ট। এগুলোর আলোকেই পুলিশকে কাজ করতে হবে। যদি রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকে, অবাঞ্ছিত ও বেআইনি হস্তক্ষেপ থেকে থাকে, এটা তো বলেই দেয়া হয়ছে, কীভাবে কাজ করতে হবে? আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে কারও যদি মনে হয়, তিনি অন্যায়ভাবে অ্যাফেক্টেড হচ্ছেন, আর যদি আপনার অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে, তাহলে তাকে প্রটেকশন দেয়ার জন্য সুপিরিয়র অফিসাররা আছেন। বিভাগীয় প্রধান আছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় আছে। এছাড়া বিচারিক পর্যায়েও তাকে সুরক্ষা দেয়ার বিধান রয়েছে।
যুগান্তর : পুলিশের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লংঘন, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের যত অভিযোগ ওঠে, তার বেশির ভাগই সংঘটিত হয় পুলিশকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের ফলে- এ অভিযোগ কতটা সত্য?
মু. নু. হুদা : এর পক্ষে কোনো পরিসংখ্যান সম্পর্কে আমি ওয়াকিবহাল নই। যদি কারও কাছে থাকে, তিনি ভালো বলতে পারবেন। তবে আপাতদৃষ্টিতে আমার কাছে মনে হয়, এটা এক ধরনের সুইপিং কমেন্ট। এ রকম গুরুতর একটা ব্যাপারে সঠিক পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে কথা হবে।
যুগান্তর : সাধারণত স্থানীয় পর্যায়ের অভিজ্ঞতা থেকে এ ধরনের কথা বলা হয়।
মু. নু. হুদা : না, স্থানীয় পর্যায়ের অভিজ্ঞতা থেকে বললে হবে না। আপনি যখন দেশব্যাপী কোনো বিষয়ে কথা বলবেন, তার একটা ভিত্তি থাকা জরুরি। ভিত্তিটা হচ্ছে পরিসংখ্যান বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে জরিপ হতে পারে। এনজিও, রাইট বডি কিংবা সরকার জরিপ করতে পারে। কোনো থিংক ট্যাংকও করতে পারে। কিন্তু তা না হয়ে শুধু অনুমানের ওপর নির্ভর করে এ ধরনের মতামত দেয়া সঙ্গত নয়। রাজনৈতিক ছাড়া কি কারও অন্য উদ্দেশ্য থাকতে পারে না? বিভিন্ন গ্রুপের কোনো অসৎ উদ্দেশ্য থাকতে পারে না? এটা তো সত্য- যেখানে ক্ষমতা আছে, সেখানে ক্ষমতা অপব্যবহারের সম্ভাবনা থেকেই যায়।
যুগান্তর : গত বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও পুলিশ সপ্তাহে পুলিশ বহিনীর জন্য স্বতন্ত্র পুলিশ ডিভিশন গঠনের দাবি তোলা হয়েছিল, যা পূরণ হয়নি। এ দাবি পূরণ হওয়া উচিত মনে করেন?
মু. নু. হুদা : এর একটা আপাত যৌক্তিকতা আছে। পৃথিবীর বেশকিছু দেশে পুলিশ মন্ত্রীর সঙ্গে কাজ করে। সেখানে প্রফেশনালরা থাকে; অন্যরাও থাকে। তবে বাংলাদেশে আমি মনে করি, এটা আলোচনা করে করা উচিত। যে জন্য আমরা পুলিশ ডিভিশন চাচ্ছি, সেটা যদি অধিকতর জনবল দিয়ে এবং বেশ কয়েকজন সচিব দিয়ে করা যায়, যার ইঙ্গিত প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন, তাহলেও হতে পারে। পুলিশ ডিভিশন হলে সুবিধা হল- পুলিশের পেশাগত কাজকর্ম, তার জনবল ঠিক করা, আর্থিক দিকটি নিরূপণ করা ও অপারেশনাল রিকয়্যারমেন্ট কী হবে, ইত্যাদি বিষয়গুলো সাধারণত যারা প্রফেশনাল, তারাই ভালো বুঝবেন এবং এতে অটোনমিও অনেকখানি থাকে। তবে পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক যে কর্তৃত্ব, রাজনৈতিক যে নির্বাহী, তার নিয়ন্ত্রণেই কাজ করতে হবে। সব জায়গায় এটাই প্রতিষ্ঠিত। ইংল্যান্ডে বিভিন্ন ফোর্স আছে; তাদের একটা ফান্ড দিয়ে দেয়া হলেও তাকে একটা নিয়ম-কানুনের মধ্যে কাজ করতে হয়। কাজেই এখানে একচ্ছত্রভাবে বা নিরঙ্কুশ ক্ষমতার কোনো বিষয় নয়। নিরঙ্কুশ ক্ষমতা কখনোই বাঞ্ছনীয় নয়। তবে হ্যাঁ, আমাদের দেশে যেহেতু আর্মড ফোর্সেস ডিভিশন আছে, এর আলোকে অনেকে তো বলতে পারে- ডিফেন্স মিনিস্ট্রি আছে, তার ওপরে আর্মড ফোর্সেস কেন লাগে? এ বিষয়টি যেহেতু আমাদের চলছে, কাজেই এর নিশ্চয়ই যৌক্তিকতা আছে। আমি বলব- এগুলো হল সিদ্ধান্তের ব্যাপার। তার আগে স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে একটা নির্মোহ আলোচনা হওয়া উচিত। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সংস্থাপন মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং এর সঙ্গে পাবলিক থিংকট্যাংকও থাকতে পারে। সবার সঙ্গে একটা নির্মোহ আলোচনা করে সিদ্ধান্তে আসা যেতে পারে। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যে অবজারভেশন, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশ বাহিনীর যে চাহিদা ও প্রয়োজন আছে, সেগুলো পূরণ করার জন্য কয়েকজন সেক্রেটারি এবং মন্ত্রণালয়ের কলেবর বৃদ্ধি করে যদি কাজ করা যায়, সুফল পাওয়া যাবে। এখানে প্রফেশনাল লোকজন বেশি আসা উচিত।
যুগান্তর : পুলিশের ইন্সপেক্টর থেকে আইজিপি পর্যন্ত কোনো ঝুঁকি-ভাতা পান না। পুলিশের সব সদস্যের জন্য ঝুঁকি-ভাতা চালু করা উচিত কি?
মু. নু. হুদা : ঝুঁকি তো চাকরিতে সবারই আছে। তবে মনে হয়, বেশি ঝুঁকি কার- সেই ভিত্তিতে বিচার করলে এখন যে পদ্ধতি বা যে বন্দোবস্ত চালু আছে, সেটা যথেষ্ট যৌক্তিক। একজন ইন্সপেক্টর কিন্তু আগের মতো তত্ত্বাবধানকারী নন, একজন নির্বাহী। কাজেই ইন্সপেক্টর পর্যায়ে নিশ্চয়ই হতে পারে। তবে ওপরেরগুলো হবে কিনা, সেটা আলোচনাসাপেক্ষ বিষয়। পুলিশের চাকরিতে ঝুঁকি যে আছে, এটা জেনেই তো তারা এসেছেন।
যুগান্তর : বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে যে ২৯টি ক্যাডার রয়েছে, এগুলোয় কোনো কর্মকর্তা অপরাধ করলে অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের দিয়ে তদন্ত করার আইন নেই। অথচ পুলিশের অপরাধ অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা করতে পারেন। এ আইন বাতিল করা প্রয়োজন বলে মনে করেন?
মু. নু. হুদা : পুলিশের কোনো কাজ যখন ফৌজদারি অপরাধের পর্যায়ে পড়ে, তখন সেখানে কোন ক্যাডারের লোকজন কাজ করছে- বিষয়টা আমি এভাবে দেখতে চাই না। আমি দেখতে চাই- তার পরিচয়টা কী? যিনি কাজটা করছেন, তার বিচারিক ক্ষমতা আছে কিনা। ক্ষমতার চেয়েও বড় জিনিস, তার অভিজ্ঞতা এবং প্রশিক্ষণ ও যোগ্যতা আছে কিনা। তবে পুলিশের ব্যাপারে একটা আলাদা ইন্ডিপেনডেন্ট কমপ্লায়েন্স বডি থাকলেই ভালো- যারা এটা দেখবেন। অন্য কারও নয়, মন্ত্রণালয়ের কাছে জবাবদিহি করবেন- এমন বডি থাকতে পারে।
যুগান্তর : এবারের পুলিশ সপ্তাহে আমলাতান্ত্রিক হস্তক্ষেপ ও সময়ক্ষেপণের হাত থেকে রক্ষা পেতে পুলিশের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ খরচের ক্ষমতা আইজিপির ওপর ন্যস্ত করার দাবি তোলা হয়েছে। এ দাবি যৌক্তিক মনে করেন?
মু. নু. হুদা : যৌক্তিকতা তো অবশ্যই আছে। বর্তমান ব্যবস্থায় আইজিপিকে অন্যান্য বিভাগের সার্বোচ্চ পদের মতোই মর্যাদা দেয়া হয়। আপনি ১৬ কোটি মানুষের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য প্রধানতম প্রতিষ্ঠান হিসেবে তাকে চিহ্নিত করেছেন এবং দায়িত্ব দিয়েছেন, তার তো আর্থিক ক্ষমতা থাকা উচিত। আর্থিক ক্ষমতা দিলেই তো আর এটার অপব্যবহার হচ্ছে না। তাকে কাজগুলো করতে হবে রুলস অ্যান্ড রেগুলেশন্সের মধ্য দিয়েই। অতএব, আইজিপির ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়া এবং তাকে অন্যান্য বিভাগের ওপর স্থাপন করা কোনো অযৌক্তিক ব্যাপার নয়। সাধারণত যে ধরনের দায়িত্বশীল ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তি আইজিপি হন- সেই আলোকে বিচার করলে এ দাবির যৌক্তিতা আছে। আইজিপির ক্ষমতা অবশ্যই বাড়ানো দরকার, যাতে তাকে দৌড়াদৌড়ি করতে না হয়। আইজিপির কাজের মধ্যে একটা তাৎক্ষণিকতা আছে। অনেক কিছুর ব্যাপারেই তিনি দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে পারেন না।
যুগান্তর : পুলিশ বাহিনীতে বর্তমানে সচিব পদমর্যাদায় ২টি গ্রেড-১ পদ রয়েছে। পুলিশের জন্য আরও ৩টি গ্রেড-১ পদ সৃষ্টির দাবি জানানো হয়েছে। এ দাবি পূরণ হওয়া উচিত?
মু. নু. হুদা : হ্যাঁ, এটা অবশ্যই পূরণ হওয়া উচিত। এটা এখন ১ লাখ ৭০ হাজার সদস্যের একটি বাহিনী। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের একটা অঙ্গ হচ্ছে পুলিশ। অতএব তাকে তো বিচ্ছিন্নভাবে দেখার উপায় নেই। অন্যদিকে পুলিশ ক্যাডারে এখন তুলনামূলকভাবে উন্নতমানের অফিসাররা আসেন। উন্নতমানের অফিসারদের যদি এখানে আকৃষ্ট করতে হয় এবং লিডারশিপটা যদি উন্নত করতে হয়, তাহলে পুলিশের কাজের স্বীকৃতি ও সমতা রাখার জন্য, সর্বোপরি ভালো অফিসারদের আকৃষ্ট করার জন্য এখানে সচিব পর্যায়ের পদ অন্তত ১০টি হওয়া উচিত।
যুগান্তর : পুলিশ বিভাগে আর ৫০ হাজার পদ সৃষ্টির বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?
মু. নু. হুদা : এটা তো দরকার। পুলিশ ও জনসংখ্যায় যে অনুপাত থাকে- কোনো বেঞ্চমার্ক হয় তো ওভাবে নেই, তবে আমরা দেখতে পারি, অন্যান্য জায়গায় কীভাবে আছে? আমাদের দেশ যেহেতু অত্যন্ত জনবহুল। এখানে আপনি ক্যাপিটেল এক্সপেনডিচার তো খুব বেশি করতে পারবেন না। অনেক কাজ, যেগুলো মেশিন করতে পারে না, এর মধ্যে ইন্টেলিজেন্স কালেকশনসহ অন্যান্য কাজ ‘হিউম্যান আই’ দিয়ে করা সম্ভব হয়। তাছাড়া কর্মসংস্থানের দিকটা যদি দেখি, বহুলোকের কর্মসংস্থান তো হচ্ছে। আমাদের দেশে অপরাধ ও শৃঙ্খলাজনিত সমস্যা মোকাবেলায় অনেক লোক লাগে। যেখানে লাখ লাখ লোকের প্রশ্ন, সেখানে আইনশৃঙ্খলা যারা রক্ষা করেন, তাদের সংখ্যাটাও সাইজেবল হওয়া দরকার। পুলিশ লোকবল এখনও তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রতিকূলই বলা যায়। এ প্রেক্ষাপটে বিচার করলে পুলিশের জনবল বৃদ্ধির বিষয়টি যৌক্তিক।
যুগান্তর : প্রধানমন্ত্রী পুলিশকে কোনোরকম তদবির না শুনতে এবং দলীয় নেতাদের চাপের বিষয়ে সরাসরি তাকে জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এটা পুলিশের মনোবল বাড়াবে বলে মনে করেন?
মু. নু. হুদা : এটা সদার্থক একটা ইঙ্গিত। রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহীর কাছ থেকে এরকম আশ্বাস পাওয়ায় নিশ্চয়ই পুলিশের মনোবল বাড়বে। তবে পুলিশের যে আইন-কানুন রয়েছে, সেখানে কিন্তু বলাই আছে- ‘উইদাউট ফেয়ার অ্যান্ড ফেভার’ কাজ করার জন্য। আইনে এরকম কোনো বিধান নেই যে, বিশেষ কাউকে খাতির করতে হবে।
যুগান্তর : পুলিশ ও অধীনস্থ বিভাগগুলো নিয়ে একাধিক ডিভিশন গঠন করার ইঙ্গিত সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে পাওয়া গেছে। ডিভিশন গঠনকে সময়ের দাবি মনে করেন?
মু. নু. হুদা : স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ৭০ থেকে ৮০ ভাগ কাজ পুলিশেরই। ডিভিশনগুলো যদি কাজ ওরিয়েন্টেড ও ফাংশন ওরিয়েন্টেড হয়, তাহলে সুফল পাওয়া যাবে। একজন সেক্রেটারি যে কাজগুলো দেখেন, সেটা যদি ভাগ ভাগ হয়ে যায়, তাহলে নিঃসন্দেহে সুবিধা হবে। প্রশাসনে দুটি কথা প্রচলিত আছে। একটা হল, ফাংশনাল হোমোজিনিটি অর্থাৎ এক ধরনের কাজ। আরেকটা হল, অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কনভেনিয়েন্স। এ দুটো বিষয় চিন্তায় রাখলে অধিকতর ডিভিশন আমার মনে হয় একটা সুফল দেবে।
যুগান্তর : অত্যাধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের পুলিশ বাহিনী গঠন করতে হলে কোন কোন বিষয়ে নজর দেয়া জরুরি?
মু. নু. হুদা : প্রথমে হল নিয়োগ প্রক্রিয়া, যাতে নিরপেক্ষভাবে, কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ের শিক্ষিত লোকজন এ বিভাগে আসে- এটা নিশ্চিত করা। এরপর আসবে প্রশিক্ষণের বিষয়। প্রশিক্ষণটা আন্তর্জাতিক মানের হতে হবে। এছাড়া প্রচুর ক্যাপিটাল ইনভেস্টমেন্ট হতে হবে। বিশেষজ্ঞ জ্ঞান থাকতে হবে। পুলিশের বড় কাজ দুটি- একটা ক্রাইম প্রিভেনশন অ্যান্ড ডিটেকশন, আরেকটা হচ্ছে অর্ডার মেইনটেন্স। এসব জায়গায় প্রচুর ক্যাপিটাল ইনভেস্টমেন্ট হতে পারে। মনে রাখা দরকার- দুটো জিনিস একসঙ্গে হতে হবে। অ্যাপ্রোপ্রিয়েট রিক্রুটমেন্ট, ট্রেনিং অ্যান্ড অ্যাপ্রোপ্রিয়েট ক্যাপিটাল ইনভেস্টমেন্ট। এগুলো একসঙ্গে চললে পুলিশের পেশাগত উন্নতি ও উৎকর্ষ সম্ভব হবে।
যুগান্তর : আইজিপি র্যাংক ব্যাজ প্রসঙ্গে বলুন।
মু. নু. হুদা : আইজিপি র্যাংক ব্যাজ তো আগে ছিল। সামরিক শাসনের আমলে এক সময় উইথড্র করা হয়- যা ঠিক ছিল না। পুলিশ বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ১ লাখ ৭০ হাজার। এখানে র্যাংক থাকা তো খুবই স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। এটা পুলিশ বাহিনীর ব্যাপার। এর সঙ্গে অন্য কারও তুলনা করা উচিত নয়। পৃথিবীর অন্য পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে এর তুলনা হতে পারে। কিন্তু আমি মনে করি, অন্য বাহিনীর সঙ্গে তুলনা করা উচিত নয়। বাস্তবে, মাঠপর্যায়ে বা ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সের আলোকে বিচার করলে পুলিশ একটা সিভিল বাহিনী। তাকে তুলনা করা উচিত আরেকটা সিভিল বাহিনীর সঙ্গে।
যুগান্তর : বিভিন্ন ঘটনায়, বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংক ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের দুই কর্মকর্তাকে নির্যাতনের পর মাঠ পর্যায়ে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের আচরণগত ও অপরাধ প্রবণতা চিহ্নিত করতে পুলিশ সুপার, স্ব স্ব ইউনিট ও সংস্থাপ্রধানকে পর্যবেক্ষণ টিম গঠনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর ফলে অপরাধ প্রবণতা ও পুলিশের আচরণে গুণগত পরিবর্তন আসবে?
মু. নু. হুদা : এটা অতিরিক্ত একটা বন্দোবস্ত। অফিসাররা কী করছেন, তাদের কাজকর্মে বাড়াবাড়ি হচ্ছে কিনা, ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন কিনা, জেলা পর্যায়ে যিনি সুপারিনটেন্ডেন্ট অব পুলিশ, তার কাজই হল এটা। এখন নতুন করে কমিটি করলে বাড়তি একটা রেসপনসিবিলিটি তৈরি হবে এবং এর ফলে তারা মনে করবে, এ কাজটা তাদের করতে হবে। মাসওয়ারি বা ত্রৈমাসিক একটা রিপোর্ট দিতে হবে।
যুগান্তর : ১৬ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার বিপরীতে ১ লাখ ৭০ হাজার পুলিশ কি যথেষ্ট?
মু. নু. হুদা : এটা যথেষ্ট মনে নাও হতে পারে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, মূলত পুলিশ বাহিনীর টাকাটা আসে রাজস্ব খাত থেকে। দেশের অর্থনীতি উন্নত হচ্ছে ঠিকই কিন্তু রেভিনিউ তো আশ্চর্যরকমভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে না। অর্থনীতি যখন সক্ষম হবে, তখন এ বাহিনীর জন্য খরচ বাড়ানোও সম্ভব হবে। আর একটি বিষয়, পুলিশ বাহিনী যদি কাজের মাধ্যমে নিজেদের গুরুত্ব প্রমাণ করতে পারে, তখন জনবল বাড়ানোর দাবি করতে হবে না, সমাজের ভেতর থেকেই একটা চাহিদা আসবে, জনগণ বলবে- আমাদের একটা উন্নত পুলিশ বাহিনী দরকার। এজন্য যে সম্পদ বিনিয়োগ করা দরকার, আমরা তা বিনিয়োগ করতে রাজি আছি।
যুগান্তর : থানার ওসি পদে ক্যাডার কর্মকর্তা নিয়োগে কতটা সুফল পাওয়া যাবে?
মু. নু. হুদা : কাজটা না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাবে না। থানার অফিসার-ইনচার্জ পদের সঙ্গে কিন্তু দু’রকমের সম্পর্ক আছে। একটা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ব্যাপার, আরেকটা অপরাধ তদন্তের ব্যাপার। এখন অপরাধ তদন্তের ব্যাপারে যদি কারও পূর্বঅভিজ্ঞতা না থাকে, তিনি যদি নিচের লেবেল থেকে কাজটা না করে আসনে, তাহলে অসুবিধা হওয়ার কথা। তারপরও এটা চালু হওয়ার পর দেখা যাক, কী দাঁড়ায়? সাধারণত ১২ থেকে ১৫ বছরের অপরাধ তদন্তের অভিজ্ঞতা নিয়ে একজন থানার অফিসার-ইনচার্জ হন। এ ব্যবস্থায় অপরাধ তদন্তের অভিজ্ঞতাটা তার থাকবে না। সরাসরি নিযুক্ত অফিসাররা ইনচার্জ হলে একটা ব্যত্যয় থেকে যাবে। এটা অতিক্রমের প্রক্রিয়া কী হবে, তার ওপরই সবকিছু নির্ভর করছে।
যুগান্তর : যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গ্যালাপ পোল বিদায়ী বছরের বৈশ্বিক আইনশৃঙ্খলার জরিপে বাংলাদেশ ৭৮ পয়েন্ট পেয়েছে। তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের ও অস্ট্রেলিয়ার পয়েন্ট ৭৭, ফ্রান্সের ৭৫ এবং ভারতের ৬৭। এটাকে দেশের পুলিশ বাহিনীর অর্জন মনে করা হচ্ছে। মন্তব্য করুন।
মু. নু. হুদা : হ্যাঁ, এটাকে আমি আমাদের পুলিশ বাহিনীর অর্জন বলব। যেহেতু আন্তর্জাতিক একটা সংস্থার মতামত- এটাকে গুরুত্ব দিতেই হবে। আমাদের দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য, প্রকারান্তরে গণতন্ত্রের ভিত শক্ত করতে পুলিশ বাহিনীর যথেষ্ট অবদান এবং আত্মত্যাগ রয়েছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা ও অপরাধ পরিস্থিতি যুক্তিসঙ্গত বলব না, তবে এটা সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। প্রচুর জনসংখ্যার একটা দেশে, যেখানে নানা ধরনের সমস্যা রয়েছে, সেখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং জঙ্গিবাদ দমন- এসব বিবেচনায় রাখলে নিশ্চয়ই সন্তুষ্টির অবকাশ রয়েছে। তবে এর ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হব। তবে রাজনৈতিক নির্বাহী যারা, তাদের প্রজ্ঞার ওপরও অনেক কিছু নির্ভর করে। মনে রাখতে হবে, দেশে একটা ভালো পুলিশ বাহিনী থাকা সরকারেরই সুনামের বিষয়। সবাই বলবে- সরকার দেশ ভালোভাবে চালাচ্ছে। আমরা সুশাসন প্রতিষ্ঠার কথা বলি। দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে ভালো এবং দক্ষ পুলিশ বাহিনী দরকার। দক্ষ ও ভালো পুলিশ বাহিনীর অর্জনগুলো রাজনৈতিক সরকারের অর্জনের পাল্লা ভারি করে- এই বোধটা যদি রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে, তখনই দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এ লক্ষণ আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি।
যুগান্তর : আপনাকে ধন্যবাদ।
মুহাম্মদ নুরুল হুদা : না রাখতে পারার কোনো কারণ দেখি না। পুলিশের যে প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য আছে, তার আলোকে বিচার করলে উন্নত কিংবা উন্নয়নশীল- যে দেশই হোক, জনগণের সাহায্য-সহযোগিতা ও স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন ছাড়া পুলিশ বাহিনীর পক্ষে সফল হওয়া সম্ভব নয়; পুলিশ বিভাগ যে আইন-কানুন দ্বারা চলে, বিশেষ করে ১৯৪৩ সালের পুলিশ রেগুলেশনের প্রথমদিকেই পরিষ্কার করে বলা আছে, পুলিশ বাহিনীকে সফল হতে হলে জনগণের সাহায্য-সহযোগিতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে পেতে হবে। এটাই যদি মাপকাঠি হয় সাফল্যের, তাহলে জনগণের জন্য কাজ করা তো অবশ্যই দরকার। স্বাধীন দেশে পুলিশ তো আর অন্য কারও প্রতিনিধি নয়; জনগণের প্রতিনিধি। আমাদের শাসনতন্ত্রে তো বলাই আছে- সব ক্ষমতা জনগণের কাছে আছে। তো জনগণের জন্য কাজ করলে পুলিশের পেশাগত উৎকর্ষসাধনে কোনো বাধা আসে না। এটা বরং ভালো হয় এবং সেখানে জনগণের সমর্থন থাকে। দেশের সমগ্র জনগণের মধ্যে পুলিশ বাহিনীর সংখ্যা তো একটা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশ। সমগ্র জনগণের আইনশৃঙ্খলাজনিত পরিস্থিতি যখন আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, তখন তাদের সমর্থন থাকলেই তো আপনি ভালো করবেন।
যুগান্তর : পুলিশ সপ্তাহে প্যারেডের ইতিহাসে এই প্রথম একজন নারী পুলিশ কর্মকর্তা অধিনায়ক হিসেবে প্যারেডে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিষয়টি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
মু. নু. হুদা : এজন্য সরকার যথেষ্ট বাহবা পেতে পারে। অতীতের দিকে তাকালে দেখব- বঙ্গবন্ধু সরকারের সময়, সম্ভবত ১৯৭৪-৭৫ সালে প্রথম মহিলা পুলিশ নিয়োগ দেয়া হয়। এটা তারই ধারাবাহিকতা। মাঝখানে একটা সময় ছিল, তখন অদ্ভুত কিছু কারণে মহিলা পুলিশ থাকলেও তাদের দৃশ্যমান করা হতো না। আমরা সে সময়টা পার হয়ে এসেছি। এখন প্রচুর মহিলা পুলিশ আছে এবং মহিলা পুলিশের যে ইন্টারন্যাশনাল বডি আছে, সেখানেও তাদের একটা উজ্জ্বল ভূমিকা রয়েছে। আইইউএন কন্টিনজেন্টে মহিলা পুলিশরা প্রশংসনীয় দক্ষতা দেখিয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশে এখন এডিশনাল আইজি অর্থাৎ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদেও মহিলা কর্মকর্তা নিয়োজিত আছেন। সেই আলোকে বিচার করলে এবারের প্যারেড কন্টিনজেন্টে একজন মহিলা থাকার বিষয়টি নিয়ে অবাক হওয়ার কিছু নেই।
যুগান্তর : পুলিশ সপ্তাহে পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকে উত্থাপিত ১৮টি দাবির মধ্যে অন্যতম ছিল পুলিশের প্রশাসনিক কাজে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা। এ দাবি পূরণ হওয়া কতটা জরুরি?
মু. নু. হুদা : এটা তো দাবি করা লাগে না। পুলিশ বাহিনী একটা আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত বাহিনী। দেশে যেসব প্রতিষ্ঠিত আইন-কানুন আছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বড় আইন হচ্ছে শাসনতন্ত্র অর্থাৎ আমাদের সংবিধানে নির্দেশনা দেয়া আছে- কীভাবে কাজ করতে হবে। এছাড়াও নির্দিষ্ট কিছু আইন, পুলিশ রেগুলেশন্স অব বেঙ্গল ও স্থানীয় আইন আছে। অপরাধের ব্যাপারে সাবজেক্টিভ ল’ হচ্ছে বাংলাদেশ পেনাল কোড। আর অ্যাডজেক্টিভ বা প্রসিডিউরাল ল’ হচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিমিনাল প্রসিডিউর কোড। এগুলোকে সাহায্য করার জন্য বিচারিক পর্যায়ে রয়েছে অ্যাভিডেন্স অ্যাক্ট। এগুলোর আলোকেই পুলিশকে কাজ করতে হবে। যদি রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকে, অবাঞ্ছিত ও বেআইনি হস্তক্ষেপ থেকে থাকে, এটা তো বলেই দেয়া হয়ছে, কীভাবে কাজ করতে হবে? আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে কারও যদি মনে হয়, তিনি অন্যায়ভাবে অ্যাফেক্টেড হচ্ছেন, আর যদি আপনার অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে, তাহলে তাকে প্রটেকশন দেয়ার জন্য সুপিরিয়র অফিসাররা আছেন। বিভাগীয় প্রধান আছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় আছে। এছাড়া বিচারিক পর্যায়েও তাকে সুরক্ষা দেয়ার বিধান রয়েছে।
যুগান্তর : পুলিশের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লংঘন, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের যত অভিযোগ ওঠে, তার বেশির ভাগই সংঘটিত হয় পুলিশকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের ফলে- এ অভিযোগ কতটা সত্য?
মু. নু. হুদা : এর পক্ষে কোনো পরিসংখ্যান সম্পর্কে আমি ওয়াকিবহাল নই। যদি কারও কাছে থাকে, তিনি ভালো বলতে পারবেন। তবে আপাতদৃষ্টিতে আমার কাছে মনে হয়, এটা এক ধরনের সুইপিং কমেন্ট। এ রকম গুরুতর একটা ব্যাপারে সঠিক পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে কথা হবে।
যুগান্তর : সাধারণত স্থানীয় পর্যায়ের অভিজ্ঞতা থেকে এ ধরনের কথা বলা হয়।
মু. নু. হুদা : না, স্থানীয় পর্যায়ের অভিজ্ঞতা থেকে বললে হবে না। আপনি যখন দেশব্যাপী কোনো বিষয়ে কথা বলবেন, তার একটা ভিত্তি থাকা জরুরি। ভিত্তিটা হচ্ছে পরিসংখ্যান বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে জরিপ হতে পারে। এনজিও, রাইট বডি কিংবা সরকার জরিপ করতে পারে। কোনো থিংক ট্যাংকও করতে পারে। কিন্তু তা না হয়ে শুধু অনুমানের ওপর নির্ভর করে এ ধরনের মতামত দেয়া সঙ্গত নয়। রাজনৈতিক ছাড়া কি কারও অন্য উদ্দেশ্য থাকতে পারে না? বিভিন্ন গ্রুপের কোনো অসৎ উদ্দেশ্য থাকতে পারে না? এটা তো সত্য- যেখানে ক্ষমতা আছে, সেখানে ক্ষমতা অপব্যবহারের সম্ভাবনা থেকেই যায়।
যুগান্তর : গত বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও পুলিশ সপ্তাহে পুলিশ বহিনীর জন্য স্বতন্ত্র পুলিশ ডিভিশন গঠনের দাবি তোলা হয়েছিল, যা পূরণ হয়নি। এ দাবি পূরণ হওয়া উচিত মনে করেন?
মু. নু. হুদা : এর একটা আপাত যৌক্তিকতা আছে। পৃথিবীর বেশকিছু দেশে পুলিশ মন্ত্রীর সঙ্গে কাজ করে। সেখানে প্রফেশনালরা থাকে; অন্যরাও থাকে। তবে বাংলাদেশে আমি মনে করি, এটা আলোচনা করে করা উচিত। যে জন্য আমরা পুলিশ ডিভিশন চাচ্ছি, সেটা যদি অধিকতর জনবল দিয়ে এবং বেশ কয়েকজন সচিব দিয়ে করা যায়, যার ইঙ্গিত প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন, তাহলেও হতে পারে। পুলিশ ডিভিশন হলে সুবিধা হল- পুলিশের পেশাগত কাজকর্ম, তার জনবল ঠিক করা, আর্থিক দিকটি নিরূপণ করা ও অপারেশনাল রিকয়্যারমেন্ট কী হবে, ইত্যাদি বিষয়গুলো সাধারণত যারা প্রফেশনাল, তারাই ভালো বুঝবেন এবং এতে অটোনমিও অনেকখানি থাকে। তবে পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক যে কর্তৃত্ব, রাজনৈতিক যে নির্বাহী, তার নিয়ন্ত্রণেই কাজ করতে হবে। সব জায়গায় এটাই প্রতিষ্ঠিত। ইংল্যান্ডে বিভিন্ন ফোর্স আছে; তাদের একটা ফান্ড দিয়ে দেয়া হলেও তাকে একটা নিয়ম-কানুনের মধ্যে কাজ করতে হয়। কাজেই এখানে একচ্ছত্রভাবে বা নিরঙ্কুশ ক্ষমতার কোনো বিষয় নয়। নিরঙ্কুশ ক্ষমতা কখনোই বাঞ্ছনীয় নয়। তবে হ্যাঁ, আমাদের দেশে যেহেতু আর্মড ফোর্সেস ডিভিশন আছে, এর আলোকে অনেকে তো বলতে পারে- ডিফেন্স মিনিস্ট্রি আছে, তার ওপরে আর্মড ফোর্সেস কেন লাগে? এ বিষয়টি যেহেতু আমাদের চলছে, কাজেই এর নিশ্চয়ই যৌক্তিকতা আছে। আমি বলব- এগুলো হল সিদ্ধান্তের ব্যাপার। তার আগে স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে একটা নির্মোহ আলোচনা হওয়া উচিত। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সংস্থাপন মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং এর সঙ্গে পাবলিক থিংকট্যাংকও থাকতে পারে। সবার সঙ্গে একটা নির্মোহ আলোচনা করে সিদ্ধান্তে আসা যেতে পারে। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যে অবজারভেশন, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশ বাহিনীর যে চাহিদা ও প্রয়োজন আছে, সেগুলো পূরণ করার জন্য কয়েকজন সেক্রেটারি এবং মন্ত্রণালয়ের কলেবর বৃদ্ধি করে যদি কাজ করা যায়, সুফল পাওয়া যাবে। এখানে প্রফেশনাল লোকজন বেশি আসা উচিত।
যুগান্তর : পুলিশের ইন্সপেক্টর থেকে আইজিপি পর্যন্ত কোনো ঝুঁকি-ভাতা পান না। পুলিশের সব সদস্যের জন্য ঝুঁকি-ভাতা চালু করা উচিত কি?
মু. নু. হুদা : ঝুঁকি তো চাকরিতে সবারই আছে। তবে মনে হয়, বেশি ঝুঁকি কার- সেই ভিত্তিতে বিচার করলে এখন যে পদ্ধতি বা যে বন্দোবস্ত চালু আছে, সেটা যথেষ্ট যৌক্তিক। একজন ইন্সপেক্টর কিন্তু আগের মতো তত্ত্বাবধানকারী নন, একজন নির্বাহী। কাজেই ইন্সপেক্টর পর্যায়ে নিশ্চয়ই হতে পারে। তবে ওপরেরগুলো হবে কিনা, সেটা আলোচনাসাপেক্ষ বিষয়। পুলিশের চাকরিতে ঝুঁকি যে আছে, এটা জেনেই তো তারা এসেছেন।
যুগান্তর : বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে যে ২৯টি ক্যাডার রয়েছে, এগুলোয় কোনো কর্মকর্তা অপরাধ করলে অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের দিয়ে তদন্ত করার আইন নেই। অথচ পুলিশের অপরাধ অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা করতে পারেন। এ আইন বাতিল করা প্রয়োজন বলে মনে করেন?
মু. নু. হুদা : পুলিশের কোনো কাজ যখন ফৌজদারি অপরাধের পর্যায়ে পড়ে, তখন সেখানে কোন ক্যাডারের লোকজন কাজ করছে- বিষয়টা আমি এভাবে দেখতে চাই না। আমি দেখতে চাই- তার পরিচয়টা কী? যিনি কাজটা করছেন, তার বিচারিক ক্ষমতা আছে কিনা। ক্ষমতার চেয়েও বড় জিনিস, তার অভিজ্ঞতা এবং প্রশিক্ষণ ও যোগ্যতা আছে কিনা। তবে পুলিশের ব্যাপারে একটা আলাদা ইন্ডিপেনডেন্ট কমপ্লায়েন্স বডি থাকলেই ভালো- যারা এটা দেখবেন। অন্য কারও নয়, মন্ত্রণালয়ের কাছে জবাবদিহি করবেন- এমন বডি থাকতে পারে।
যুগান্তর : এবারের পুলিশ সপ্তাহে আমলাতান্ত্রিক হস্তক্ষেপ ও সময়ক্ষেপণের হাত থেকে রক্ষা পেতে পুলিশের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ খরচের ক্ষমতা আইজিপির ওপর ন্যস্ত করার দাবি তোলা হয়েছে। এ দাবি যৌক্তিক মনে করেন?
মু. নু. হুদা : যৌক্তিকতা তো অবশ্যই আছে। বর্তমান ব্যবস্থায় আইজিপিকে অন্যান্য বিভাগের সার্বোচ্চ পদের মতোই মর্যাদা দেয়া হয়। আপনি ১৬ কোটি মানুষের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য প্রধানতম প্রতিষ্ঠান হিসেবে তাকে চিহ্নিত করেছেন এবং দায়িত্ব দিয়েছেন, তার তো আর্থিক ক্ষমতা থাকা উচিত। আর্থিক ক্ষমতা দিলেই তো আর এটার অপব্যবহার হচ্ছে না। তাকে কাজগুলো করতে হবে রুলস অ্যান্ড রেগুলেশন্সের মধ্য দিয়েই। অতএব, আইজিপির ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়া এবং তাকে অন্যান্য বিভাগের ওপর স্থাপন করা কোনো অযৌক্তিক ব্যাপার নয়। সাধারণত যে ধরনের দায়িত্বশীল ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তি আইজিপি হন- সেই আলোকে বিচার করলে এ দাবির যৌক্তিতা আছে। আইজিপির ক্ষমতা অবশ্যই বাড়ানো দরকার, যাতে তাকে দৌড়াদৌড়ি করতে না হয়। আইজিপির কাজের মধ্যে একটা তাৎক্ষণিকতা আছে। অনেক কিছুর ব্যাপারেই তিনি দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে পারেন না।
যুগান্তর : পুলিশ বাহিনীতে বর্তমানে সচিব পদমর্যাদায় ২টি গ্রেড-১ পদ রয়েছে। পুলিশের জন্য আরও ৩টি গ্রেড-১ পদ সৃষ্টির দাবি জানানো হয়েছে। এ দাবি পূরণ হওয়া উচিত?
মু. নু. হুদা : হ্যাঁ, এটা অবশ্যই পূরণ হওয়া উচিত। এটা এখন ১ লাখ ৭০ হাজার সদস্যের একটি বাহিনী। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের একটা অঙ্গ হচ্ছে পুলিশ। অতএব তাকে তো বিচ্ছিন্নভাবে দেখার উপায় নেই। অন্যদিকে পুলিশ ক্যাডারে এখন তুলনামূলকভাবে উন্নতমানের অফিসাররা আসেন। উন্নতমানের অফিসারদের যদি এখানে আকৃষ্ট করতে হয় এবং লিডারশিপটা যদি উন্নত করতে হয়, তাহলে পুলিশের কাজের স্বীকৃতি ও সমতা রাখার জন্য, সর্বোপরি ভালো অফিসারদের আকৃষ্ট করার জন্য এখানে সচিব পর্যায়ের পদ অন্তত ১০টি হওয়া উচিত।
যুগান্তর : পুলিশ বিভাগে আর ৫০ হাজার পদ সৃষ্টির বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?
মু. নু. হুদা : এটা তো দরকার। পুলিশ ও জনসংখ্যায় যে অনুপাত থাকে- কোনো বেঞ্চমার্ক হয় তো ওভাবে নেই, তবে আমরা দেখতে পারি, অন্যান্য জায়গায় কীভাবে আছে? আমাদের দেশ যেহেতু অত্যন্ত জনবহুল। এখানে আপনি ক্যাপিটেল এক্সপেনডিচার তো খুব বেশি করতে পারবেন না। অনেক কাজ, যেগুলো মেশিন করতে পারে না, এর মধ্যে ইন্টেলিজেন্স কালেকশনসহ অন্যান্য কাজ ‘হিউম্যান আই’ দিয়ে করা সম্ভব হয়। তাছাড়া কর্মসংস্থানের দিকটা যদি দেখি, বহুলোকের কর্মসংস্থান তো হচ্ছে। আমাদের দেশে অপরাধ ও শৃঙ্খলাজনিত সমস্যা মোকাবেলায় অনেক লোক লাগে। যেখানে লাখ লাখ লোকের প্রশ্ন, সেখানে আইনশৃঙ্খলা যারা রক্ষা করেন, তাদের সংখ্যাটাও সাইজেবল হওয়া দরকার। পুলিশ লোকবল এখনও তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রতিকূলই বলা যায়। এ প্রেক্ষাপটে বিচার করলে পুলিশের জনবল বৃদ্ধির বিষয়টি যৌক্তিক।
যুগান্তর : প্রধানমন্ত্রী পুলিশকে কোনোরকম তদবির না শুনতে এবং দলীয় নেতাদের চাপের বিষয়ে সরাসরি তাকে জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এটা পুলিশের মনোবল বাড়াবে বলে মনে করেন?
মু. নু. হুদা : এটা সদার্থক একটা ইঙ্গিত। রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহীর কাছ থেকে এরকম আশ্বাস পাওয়ায় নিশ্চয়ই পুলিশের মনোবল বাড়বে। তবে পুলিশের যে আইন-কানুন রয়েছে, সেখানে কিন্তু বলাই আছে- ‘উইদাউট ফেয়ার অ্যান্ড ফেভার’ কাজ করার জন্য। আইনে এরকম কোনো বিধান নেই যে, বিশেষ কাউকে খাতির করতে হবে।
যুগান্তর : পুলিশ ও অধীনস্থ বিভাগগুলো নিয়ে একাধিক ডিভিশন গঠন করার ইঙ্গিত সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে পাওয়া গেছে। ডিভিশন গঠনকে সময়ের দাবি মনে করেন?
মু. নু. হুদা : স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ৭০ থেকে ৮০ ভাগ কাজ পুলিশেরই। ডিভিশনগুলো যদি কাজ ওরিয়েন্টেড ও ফাংশন ওরিয়েন্টেড হয়, তাহলে সুফল পাওয়া যাবে। একজন সেক্রেটারি যে কাজগুলো দেখেন, সেটা যদি ভাগ ভাগ হয়ে যায়, তাহলে নিঃসন্দেহে সুবিধা হবে। প্রশাসনে দুটি কথা প্রচলিত আছে। একটা হল, ফাংশনাল হোমোজিনিটি অর্থাৎ এক ধরনের কাজ। আরেকটা হল, অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কনভেনিয়েন্স। এ দুটো বিষয় চিন্তায় রাখলে অধিকতর ডিভিশন আমার মনে হয় একটা সুফল দেবে।
যুগান্তর : অত্যাধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের পুলিশ বাহিনী গঠন করতে হলে কোন কোন বিষয়ে নজর দেয়া জরুরি?
মু. নু. হুদা : প্রথমে হল নিয়োগ প্রক্রিয়া, যাতে নিরপেক্ষভাবে, কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ের শিক্ষিত লোকজন এ বিভাগে আসে- এটা নিশ্চিত করা। এরপর আসবে প্রশিক্ষণের বিষয়। প্রশিক্ষণটা আন্তর্জাতিক মানের হতে হবে। এছাড়া প্রচুর ক্যাপিটাল ইনভেস্টমেন্ট হতে হবে। বিশেষজ্ঞ জ্ঞান থাকতে হবে। পুলিশের বড় কাজ দুটি- একটা ক্রাইম প্রিভেনশন অ্যান্ড ডিটেকশন, আরেকটা হচ্ছে অর্ডার মেইনটেন্স। এসব জায়গায় প্রচুর ক্যাপিটাল ইনভেস্টমেন্ট হতে পারে। মনে রাখা দরকার- দুটো জিনিস একসঙ্গে হতে হবে। অ্যাপ্রোপ্রিয়েট রিক্রুটমেন্ট, ট্রেনিং অ্যান্ড অ্যাপ্রোপ্রিয়েট ক্যাপিটাল ইনভেস্টমেন্ট। এগুলো একসঙ্গে চললে পুলিশের পেশাগত উন্নতি ও উৎকর্ষ সম্ভব হবে।
যুগান্তর : আইজিপি র্যাংক ব্যাজ প্রসঙ্গে বলুন।
মু. নু. হুদা : আইজিপি র্যাংক ব্যাজ তো আগে ছিল। সামরিক শাসনের আমলে এক সময় উইথড্র করা হয়- যা ঠিক ছিল না। পুলিশ বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ১ লাখ ৭০ হাজার। এখানে র্যাংক থাকা তো খুবই স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। এটা পুলিশ বাহিনীর ব্যাপার। এর সঙ্গে অন্য কারও তুলনা করা উচিত নয়। পৃথিবীর অন্য পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে এর তুলনা হতে পারে। কিন্তু আমি মনে করি, অন্য বাহিনীর সঙ্গে তুলনা করা উচিত নয়। বাস্তবে, মাঠপর্যায়ে বা ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সের আলোকে বিচার করলে পুলিশ একটা সিভিল বাহিনী। তাকে তুলনা করা উচিত আরেকটা সিভিল বাহিনীর সঙ্গে।
যুগান্তর : বিভিন্ন ঘটনায়, বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংক ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের দুই কর্মকর্তাকে নির্যাতনের পর মাঠ পর্যায়ে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের আচরণগত ও অপরাধ প্রবণতা চিহ্নিত করতে পুলিশ সুপার, স্ব স্ব ইউনিট ও সংস্থাপ্রধানকে পর্যবেক্ষণ টিম গঠনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর ফলে অপরাধ প্রবণতা ও পুলিশের আচরণে গুণগত পরিবর্তন আসবে?
মু. নু. হুদা : এটা অতিরিক্ত একটা বন্দোবস্ত। অফিসাররা কী করছেন, তাদের কাজকর্মে বাড়াবাড়ি হচ্ছে কিনা, ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন কিনা, জেলা পর্যায়ে যিনি সুপারিনটেন্ডেন্ট অব পুলিশ, তার কাজই হল এটা। এখন নতুন করে কমিটি করলে বাড়তি একটা রেসপনসিবিলিটি তৈরি হবে এবং এর ফলে তারা মনে করবে, এ কাজটা তাদের করতে হবে। মাসওয়ারি বা ত্রৈমাসিক একটা রিপোর্ট দিতে হবে।
যুগান্তর : ১৬ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার বিপরীতে ১ লাখ ৭০ হাজার পুলিশ কি যথেষ্ট?
মু. নু. হুদা : এটা যথেষ্ট মনে নাও হতে পারে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, মূলত পুলিশ বাহিনীর টাকাটা আসে রাজস্ব খাত থেকে। দেশের অর্থনীতি উন্নত হচ্ছে ঠিকই কিন্তু রেভিনিউ তো আশ্চর্যরকমভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে না। অর্থনীতি যখন সক্ষম হবে, তখন এ বাহিনীর জন্য খরচ বাড়ানোও সম্ভব হবে। আর একটি বিষয়, পুলিশ বাহিনী যদি কাজের মাধ্যমে নিজেদের গুরুত্ব প্রমাণ করতে পারে, তখন জনবল বাড়ানোর দাবি করতে হবে না, সমাজের ভেতর থেকেই একটা চাহিদা আসবে, জনগণ বলবে- আমাদের একটা উন্নত পুলিশ বাহিনী দরকার। এজন্য যে সম্পদ বিনিয়োগ করা দরকার, আমরা তা বিনিয়োগ করতে রাজি আছি।
যুগান্তর : থানার ওসি পদে ক্যাডার কর্মকর্তা নিয়োগে কতটা সুফল পাওয়া যাবে?
মু. নু. হুদা : কাজটা না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাবে না। থানার অফিসার-ইনচার্জ পদের সঙ্গে কিন্তু দু’রকমের সম্পর্ক আছে। একটা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ব্যাপার, আরেকটা অপরাধ তদন্তের ব্যাপার। এখন অপরাধ তদন্তের ব্যাপারে যদি কারও পূর্বঅভিজ্ঞতা না থাকে, তিনি যদি নিচের লেবেল থেকে কাজটা না করে আসনে, তাহলে অসুবিধা হওয়ার কথা। তারপরও এটা চালু হওয়ার পর দেখা যাক, কী দাঁড়ায়? সাধারণত ১২ থেকে ১৫ বছরের অপরাধ তদন্তের অভিজ্ঞতা নিয়ে একজন থানার অফিসার-ইনচার্জ হন। এ ব্যবস্থায় অপরাধ তদন্তের অভিজ্ঞতাটা তার থাকবে না। সরাসরি নিযুক্ত অফিসাররা ইনচার্জ হলে একটা ব্যত্যয় থেকে যাবে। এটা অতিক্রমের প্রক্রিয়া কী হবে, তার ওপরই সবকিছু নির্ভর করছে।
যুগান্তর : যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গ্যালাপ পোল বিদায়ী বছরের বৈশ্বিক আইনশৃঙ্খলার জরিপে বাংলাদেশ ৭৮ পয়েন্ট পেয়েছে। তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের ও অস্ট্রেলিয়ার পয়েন্ট ৭৭, ফ্রান্সের ৭৫ এবং ভারতের ৬৭। এটাকে দেশের পুলিশ বাহিনীর অর্জন মনে করা হচ্ছে। মন্তব্য করুন।
মু. নু. হুদা : হ্যাঁ, এটাকে আমি আমাদের পুলিশ বাহিনীর অর্জন বলব। যেহেতু আন্তর্জাতিক একটা সংস্থার মতামত- এটাকে গুরুত্ব দিতেই হবে। আমাদের দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য, প্রকারান্তরে গণতন্ত্রের ভিত শক্ত করতে পুলিশ বাহিনীর যথেষ্ট অবদান এবং আত্মত্যাগ রয়েছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা ও অপরাধ পরিস্থিতি যুক্তিসঙ্গত বলব না, তবে এটা সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। প্রচুর জনসংখ্যার একটা দেশে, যেখানে নানা ধরনের সমস্যা রয়েছে, সেখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং জঙ্গিবাদ দমন- এসব বিবেচনায় রাখলে নিশ্চয়ই সন্তুষ্টির অবকাশ রয়েছে। তবে এর ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হব। তবে রাজনৈতিক নির্বাহী যারা, তাদের প্রজ্ঞার ওপরও অনেক কিছু নির্ভর করে। মনে রাখতে হবে, দেশে একটা ভালো পুলিশ বাহিনী থাকা সরকারেরই সুনামের বিষয়। সবাই বলবে- সরকার দেশ ভালোভাবে চালাচ্ছে। আমরা সুশাসন প্রতিষ্ঠার কথা বলি। দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে ভালো এবং দক্ষ পুলিশ বাহিনী দরকার। দক্ষ ও ভালো পুলিশ বাহিনীর অর্জনগুলো রাজনৈতিক সরকারের অর্জনের পাল্লা ভারি করে- এই বোধটা যদি রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে, তখনই দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এ লক্ষণ আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি।
যুগান্তর : আপনাকে ধন্যবাদ।
মু. নু. হুদা : আপনাকেও ধন্যবাদ।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1331)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
-
▼
2016
(3416)
-
▼
February
(648)
-
▼
Feb 04
(45)
- ক্যামেরনের চাওয়া কতটা পূরণ হলো?
- খালেদার সঙ্গে স্পেনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
- সু চির গণতন্ত্রের পথে অভিযাত্রা by মাসুমুর রহমান খ...
- জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে ‘অবৈধভাবে আটক করেছে’ বৃটেন: জা...
- ট্রাফিক পুলিশ বেশে ফাঁকা গুলি ছুড়ে ৪০ লাখ টাকা ছিনতাই
- ‘কিছু পুলিশ সদস্য পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে’
- পুলিশ এখন নিজেই সন্ত্রাস করছে
- জিকা ভাইরাস ঠেকাতে বিমানবন্দরসহ প্রবেশ পথে কড়াকড়ির...
- শিশু শান্তকে ফিরিয়ে দিতে চান মা! by কাজী আনিছ
- চা-দোকানি বাবুলের মৃত্যু, চার পুলিশ প্রত্যাহার
- পাকিস্তানের সঙ্গে তিক্ততা বাড়ছেই by রাহীদ এজাজ
- বুধ গ্রহে মহাকাশযান অভিযান by আশরাফুল আলম পিনটু
- জনগণের সমর্থন ছাড়া পুলিশ বাহিনীর পক্ষে সফল হওয়া সম...
- নির্মোহ ইতিহাস রচনা কতটা কঠিন by ড. মাহবুব উল্লাহ
- সড়ক দুর্ঘটনায় রাজধানীতে পথচারীদের মৃত্যুই বেশি by ...
- ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি by মো. নিজাম উদ্দিন
- জীবন বাঁচাতে চাই বিশুদ্ধ রক্ত by ডা. মাওলানা লোকমা...
- তামাক চাষের খেসারত আমাদেরই দিতে হবে by আর কে চৌধুরী
- প্রফেসর ড. কে. মউদুদ ইলাহী আবার স্টামফোর্ডের প্রো-...
- বাল্টিমোরের মসজিদে ওবামা
- যুগান্তরের ১৬ বছর ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা by তারেক ...
- যুগান্তর এগিয়ে যাক সমৃদ্ধির পথে by হাসান আজিজুল হক
- কেন মানুষ পাষণ্ড হয় by ড. মোহিত কামাল
- অতীতমুখী যাত্রাকে ফেরাতে হবে by ড. আমিনুল ইসলাম
- সিরিয়া শান্তি আলোচনা ও বিদ্রোহীদের আবদার! by মাইক ...
- ভাষার শুদ্ধ রূপ টিকিয়ে রাখতে হলে শোনানোর রূপ শুদ্ধ...
- নিপারের জন্য লড়াই
- শিশু অপহরণ ও হত্যা- অপরাধীদের বিচার ও শাস্তি নিশ্চ...
- বাংলাদেশ-পাকিস্তান টানাপোড়েন- কূটনৈতিক সম্পর্কের ভ...
- জাপাকে আলোচনায় রাখতেই এরশাদ–রওশন বিরোধ by সেলিম ...
- রাজপথে ছাত্রীর বস্ত্রহরণ
- ইস্তাম্বুলে বোমা হামলা ও আড়ালের কিছু কথা by নেয়ামত...
- তারুণ্যের সামাজিক দায় by ফিরোজ আহমাদ
- সত্য কথার জন্য আইজিপিকে ধন্যবাদ by প্রকৌশলী রুমা র...
- প্রশাসন ও জনজীবন : পাঁচটি বিষয় by সামসুল ইসলাম টুকু
- পরিবেশ-প্রতিবেশ ও দেশ-বিদেশ by ড. নুরজাহান সরকার
- সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য by জিয়াউল হক মিজান
- ৭ বছর বয়সেই বুড়ি, ১৮ মাসে বুড়ো!
- বৃটিশ ছাত্রীর শারীরিক সম্পর্কের আকাঙ্খা
- যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত ১
- জীবনের বাঁক নেওয়ার গল্প by সাঈদা ইসলাম
- বাংলাদেশে কুমারী মা বা স্বীকৃতিহীন শিশুর আশ্রয় কো...
- মার্শাল আইল্যান্ডসে ৬৭ বার মার্কিন পরমাণু বোমা
- যোগব্যয়াম বাধ্যতামূলক হলে নামাজও শেখাতে হবে
- এরশাদ জিয়ার বিরুদ্ধে ক্যু সংগটিত করেন
-
▼
Feb 04
(45)
-
▼
February
(648)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
ইরান
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
দুর্নীতি
শিশু
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
কালবেলা
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
ইউক্রেন
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
তরুণ প্রজন্ম
মানবাধিকার
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আলী যাকের
আইন ও বিচার
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
মালয়েশিয়া
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
স্বাস্থ্য
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
জ্যোতির্বিজ্ঞান
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
শিল্প ও সাহিত্য
সংবিধান ও রাষ্ট্র
বগুড়া
মিয়ানমার
ঢাকা
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
গবেষণা
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
জীবনযাপন
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
মেহেদী হাসান
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
মানসুরা হোসাইন
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
মসজিদ
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
ইয়েমেন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
Exclusive
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
উচ্চশিক্ষা
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
বিজ্ঞান
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
জনস্বাস্থ্য
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
ফরিদপুর
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লাতিন আমেরিকা
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মহাকাশচারী
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
জোহরান মামদানি
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
ইহুদি
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
স্পেন
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
বিশ্বকাপ ফুটবল
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হুগজিল্ট

No comments:
Post a Comment