Wednesday, January 28, 2015
অঘোষিত জরুরি অবস্থার কবলে বাংলাদেশ by সাদেক খান
অঘোষিত জরুরি অবস্থার কবলে বাংলাদেশ by সাদেক খান

কার্যত
একটি অঘোষিত জরুরি অবস্থার ভয়ঙ্কর অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে দুঃসময় যাপন করছে
বাংলাদেশ। ২০ জানুয়ারি কর্মসপ্তাহ-মধ্যবর্তী খবর, বিগত সপ্তাহান্তের
দু’দিনসহ চার দিনে ক্রসফায়ারে তিনজন বিরোধীদলীয় নেতা নিহত। তাদের মধ্যে
দু’জন ছাত্রদল আর একজন জামায়াত নেতা। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি)
ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছেন দু’জন। আর র্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছেন এক
ছাত্রদল নেতা। ডিবির ক্রসফায়ারের সর্বশেষ শিকার বিশ্ব ইজতেমার আখেরি
মুনাজাতের পরদিন খিলগাঁও থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান জনি।
খিলগাঁও জোড়াপুকুর মাঠে ডিবি পুলিশের ক্রসফায়ারে নিহত হন তিনি। নিহত জনির
বাবা ইয়াকুব আলী জানান, ছোট ভাই মনিরুজ্জামানকে দেখতে সোমবার ঢাকা
কেন্দ্রীয় কারাগারে যায় জনি। সেখান থেকে সাদা পোশাকধারী পুলিশ সদস্যরা তাকে
ধরে নিয়ে যান। একই দিনে দিবাগত রাতে নড়াইলের পৌর কাউন্সিলর ইমরুল কায়েস
ঢাকায় ডিবির ক্রসফায়ারে নিহত হন। ১৫ জানুয়ারি থেকে নিখোঁজ ছিলেন তিনি। ১৯
জানুয়ারি রাত সাড়ে ৩টার দিকে মতিঝিলের এজিবি কলোনির কাঁচাবাজার এলাকায়
ক্রসফায়ারে নিহত হয়ে অজ্ঞাত হিসেবে পড়ে ছিল তার লাশ। একটি নয়, দু’টি নয়,
১০টি বুলেটবিদ্ধ ছিল তার বুক। পুলিশের কাছ থেকে খবর পেয়ে তার পরিবারের
সদস্যরা ঢাকায় আসেন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তারা তার লাশ শনাক্ত
করেন। পরিবারের অভিযোগ, গ্রেফতারের পর ঠাণ্ডামাথায় তাকে গুলি করে হত্যা করা
হয়েছে।
এর আগে ১৫ জানুয়ারি রাতে যৌথবাহিনীর অভিযানের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাটে র্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত হন আরেক ছাত্রদল নেতা। নিহত মতিউর রহমান শিবগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি ছিলেন। বিএনপির দাবি, গ্রেফতারের পর পরিকল্পিতভাবে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। মতিউর রহমানকে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী আটক করে। তার বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা বা একটি জিডিও ছিল না। মফস্বল এলাকায় পুলিশ-র্যাবের হাতে গুম-গ্রেফতার, নির্যাতনে বিরোধী জোটের নেতাকর্মীরা কেউ পালিয়ে কেউ নিরুদ্দেশ। প্রতিবাদে জেলাওয়ারি হরতাল চলেছে থেকে থেকে, দেশব্যাপী টানা অবরোধ কর্মসূচির ১৫ দিন ধরে। অবরোধের ষোড়শ দিবস থেকে চলছে ঢাকা ও খুলনা বিভাগে ৪৮ ঘণ্টার টানা হরতাল, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে আগে থেকে চলা হরতাল এদিন শেষ হচ্ছে। পুলিশ-বিজিবি-র্যাবের কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থায় স্বাভাবিকতার একটা চেহারা বজায় রাখতে সরকার সম বলে দাবি করছে রাষ্ট্রীয় প্রচারযন্ত্র। কিন্তু রাস্তাঘাটে যানবাহনের স্বল্পতা, দোকানপাটের বন্ধ দরজা আর পেট্রলবোমার আতঙ্কগ্রস্ত পথচারী অন্য চেহারা তুলে ধরছে। আর দূরযাত্রার মহাসড়ক রেলপথ নৌপথে অবরোধ সমানে চলেছে। যার ফলে সারা দেশে বাণিজ্যিক তৎপরতা স্থবির। কলকারখানা চলছে বন্ধ ফটকের আবডালে। কৃষকের ঘরে সবজি, ফলমূল পচছে, বাজারজাত হতে পারছে না। অথচ চাহিদা মোতাবেক আমদানির অভাবে দাম চড়ছে কাঁচামালের হাটবাজারে। সরবরাহ বিভ্রাটে চালের দরও ঊর্ধ্বমুখী। সরকার বাহাদুর জোরগলায় বলছে, আর ১০ দিনে সব অবরোধকারী পিটিয়ে ঠাণ্ডা করে দেয়া হবে; সন্ত্রাসবিরোধী কমিটি গঠন হচ্ছে পাড়ায় পাড়ায়, মতাসীন দলের কর্মীদের হাতেই নাস্তানাবুদ হবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট। হুমকি-ধমকি দিতে সরব পুলিশপ্রধান, র্যাবপ্রধান, বিজিবিপ্রধান। দেখামাত্র ‘সন্ত্রাসী’কে গুলি করা হবে, বলছেন তারা। কেউ কেউ এমন কথায় ’৭৪ সালের রীবাহিনীর অভিযানকালে তৎকালীন সরকারের গুলি করার নির্দেশ সম্পর্কে মওলানা ভাসানীর মন্তব্য স্মরণ করছেন। মওলানা ভাসানী বলেছিলেন : মুজিব, সন্ত্রাসী কি কারো গায়ে লেখা থাকে?
বিএনপি গোষ্ঠী এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো সমস্বরে প্রতিবাদ করেছে, সরকারের নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর কর্মকর্তাদের এমন নির্দেশ সংবিধানের ও মৌলিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন, বর্বরতা। অন্য দিকে, পুলিশি হামলার পাল্টা সহিংসতা, চোরাগোপ্তা বোমাবাজি, গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, কোথাও কোথাও সামনা-সামনি প্রতিরোধ সংঘর্ষ বেড়েই চলেছে। পুলিশও মারা পড়ছে। অপমৃত্যুর শিকার হচ্ছে অগ্নিদগ্ধ হচ্ছে যাত্রী গাড়িচালক পথচারী অনেকে। সুশীলসমাজের নৈরাশ্য প্রকাশ পেয়েছে প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল-হকের মন্তব্যে : ‘মনে হয় এই অবস্থা চলতেই থাকবে। চলতে চলতে দেশটা ধ্বংস হয়ে যাবে। ধ্বংসের পর একটা সমাধানের পথ বের হয়ে আসবে। ভালো থাকতে তো আর কেউ সমঝোতায় বসবে না!’
বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মুনাজাতের পরদিন বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার গুলশান কার্যালয়ের গেটে পুলিশের তালাবদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি পেয়েই সংবাদ সম্মেলন করেন। অবরোধে দেশব্যাপী নাশকতার জন্য সরকারকেই দায়ী করে খালেদা জিয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগ অতীতেও এ ধরনের কাজ করেছে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন সম্পর্কে দেশে-বিদেশে বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে মতাসীনেরা নাশকতা ও অন্তর্ঘাতের পথ বেছে নিয়েছে। পুলিশি পাহারার মধ্যে নারী, শিশু, ছাত্রছাত্রীদের বহনকারী যানবাহনে পেট্রলবোমা মেরে অনেক নিরপরাধ মানুষকে হতাহত ও দগ্ধ করা হয়েছে। এসব পৈশাচিক বর্বরতার আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতিতে ইতোমধ্যে জাতিসঙ্ঘ প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন পর্যায়ে যে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, তার প্রতি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। দেশের চলমান সঙ্কট নিছক কোনো আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়। এটি রাজনৈতিক সঙ্কট। এর রাজনৈতিক সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য আমরা মতাসীনদের আবারো আহ্বান জানাচ্ছি।’
সরকারের উদ্দেশে তিনি আরো বলেন, ‘অত্যাচার, দমন অভিযান, গণগ্রেফতার বন্ধ করুন। মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা বন্দীদের মুক্তি দিন। গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকারের ওপর থেকে সব বাধা তুলে নিন। যে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছেন, তা স্বাভাবিক করুন। মানুষকে স্বস্তি ও শান্তি দিন। উসকানি, ষড়যন্ত্র ও মিথ্যাচারের অপরাজনীতি বন্ধ করুন। জনগণের ভোট দেয়ার যে অধিকার কেড়ে নিয়েছেন, তা ফিরিয়ে দিন এবং অবিলম্বে গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের পদপে নিন।’
অন্য দিকে, আগের দিন ১৮ জানুয়ারি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মচারীদের সাথে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কটা করে বলেন, ‘কেউ যদি ভেবে থাকে যে (ভারতের) বিজেপি ও (মার্কিন) কংগ্রেসম্যানরা সরকার উৎখাত করে বিএনপিকে মতায় বসাবে, তা হবে দুর্ভাগ্যের কথা। (সংবিধান মোতাবেক) বিএনপি-জামায়াত সরকারেও নেই, বিরোধী দলেও নেই। তাদের হাহাকারের আগুন পুড়িয়ে মারছে দেশের মানুষকে। চোখের সামনে দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে তা সহ্য করা হবে না। অগ্নিসংযোগ করা ছাড়া বিএনপির আর কোনো আন্দোলন নেই। বিএনপি নেত্রীর আন্দোলনের অর্থ হচ্ছে মানুষ পুড়িয়ে মারা, বাস-ট্রাকে অগ্নিসংযোগ এবং তারা একের পর এক ভয়াবহ ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে। এমনকি গর্ভবতী মহিলাও তাদের সহিংসতা থেকে রেহাই পাচ্ছে না। বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে না। এ দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিশ্বাস করে না। তারা এখনো পাকিস্তানপ্রীতিতে বিশ্বাসী, যা বাঙালি জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক। বিএনপি বেশ কয়েকবার মতায় এসেছিল এবং প্রতিবারই তারা দেশকে পেছনের দিকে ঠেলে দিয়েছে। সরকার দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়তে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ অচিরেই বিশ্বে মর্যাদাশীল দেশ হিসেবে পরিণত হবে। দেশের জনগণ বিশ্বাস করে, কেবলমাত্র আওয়ামী লীগই দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে এবং সরকার জনগণের আকাক্সা পূরণে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু বিএনপি এ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করেতে চেষ্টা চালাচ্ছে।’
তারপর ২০ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে বোমা হামলায় দগ্ধদের ছবির পেপার কাটিং দেখালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি দেখানোর সময় প্রধানমন্ত্রী নিজে কাঁদলেন, কাঁদালেন সংসদ সদস্য সবাইকে। তার মন্ত্রী-এমপিদের দিয়ে সংসদে বলালেন : সহিংসতা কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি হতে পারে না, দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে অপারেশন কিনহার্ট অথবা যৌথবাহিনী নামিয়ে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পদপে দিতে হবে, খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করে মানবতাবিরোধী অপরাধে বিচার করতে হবে; বিএনপি-জামায়াতের সাথে কোনো সংলাপ বা আলোচনা হবে না। বিএনপি-জামায়াতকে জঙ্গি সংগঠন উল্লেখ করে দল দু’টিকে নিষিদ্ধ করার দাবিও তোলা হয়। সেই দাবির প্রতিধ্বনি করে মিডিয়ায় বিবৃতি পাঠালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী : ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর কূটনীতিকেরা কেউ কেউ বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধ করার বিষয়ে সরকার উদ্যোগ নিলে তার প্রতি তারা সমর্থন দেবে। সাংবাদিকেরা খবর নিয়ে জানল, কেউ কেউ নয়, শুধু ঘোর কর্তৃত্ববাদী মিলিটারি শাসক জেনারেল সিসির তথা মিসরের রাষ্ট্রদূত তার দেশে মুসলিম ব্রাদারহুডকে নিষিদ্ধ করার নজির দিয়ে এ কথা বলেছে।
প্রসঙ্গত, ভূরাজনৈতিক পর্যবেক দু’জন প্রবীণ বৈদেশিক কূটনীতিবিদ বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তার উদ্ধৃতি দিচ্ছি। ভারতের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক-রাষ্ট্রদূত কুলদীপ নায়ার শেখ হাসিনার সরকারের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের সাফাইও তিনি গেয়েছেন এ কথা বলে : (মূলধারার বিরোধী জোটের) ‘বর্জন সত্ত্বেও সামগ্রিক অর্থে নির্বাচন হয়েছে অবাধ ও সুষ্ঠু। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক জেনারেল এইচ এম এরশাদ কিছু আসন পেতে সম হয়েছেন। এর ভিত্তিতে এটি এখন পার্লামেন্টের প্রধান বিরোধী দল।’ এখন অবস্থাদৃষ্টে এ বছর ৭ জানুয়ারি লিখিত একটি ভাষ্যে তিনি বলেছেন : ‘শেখ হাসিনার শাসন হলো এক ব্যক্তির শাসন। তিনি ুব্ধ হতে পারেন এমন রায় দেয়ার েেত্র বিচার বিভাগও দ্বিধাবোধ করেন। আমলাতন্ত্র, সেটা তো পরিণত হয়েছে তল্পিবাহকে।’
বেগম জিয়ার অভিযোগ হলো, তাকে সারা রাত অফিসে অবরুদ্ধ থাকতে বাধ্য করা হয়েছে। এ অভিযোগ সত্য হতে পারে। পুলিশ নিজেরাও স্বীকার করেছে যে, তারা খালেদার নিরাপত্তা জোরদার করেছে এবং তিনি চাইলে তাকে তারা তার বাসায় পৌঁছে দিতে পারে। দৃশ্যত, তিনি চাইছিলেন বাইরে এমন কোনো স্থানে যেতে, যেখান থেকে বর্জন করা নির্বাচনের প্রথম বর্ষপূর্তিতে সমাবেশে যোগ দিতে পারেন।
তৎকালীন পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে লাখ লাখ মানুষের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এত দিনে এ দেশে শান্তিপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করা উচিত ছিল। অনেক স্বাধীন দেশে স্বাধীনতাযোদ্ধারা একে অন্যের বিরুদ্ধে প্রাধান্য বিস্তারে নিজেদের মধ্যে লড়াই করেছেন। তাদের থেকে বাংলাদেশে কোনো ভিন্নতা নেই।
বাংলাদেশের জন্মের সময় স্বাধীনতাযোদ্ধা ও গণতন্ত্রের রকেরা যে সামাজিক কাঠামো অর্জন করেছিলেন, তা ছিন্নভিন্ন করে ফেলার প্রচেষ্টা সব থেকে বেদনাদায়ক। সময়ের সাথে সাথে তারা বেশি বেশি মতা দখলের দিকে মনোযোগ দিয়েছেন, চেয়েছেন প্রাধান্য বিস্তার করতে। তাদের ল্য অর্জনের েেত্র তারা দৃশ্যত কোনো কিছুতে থামেন না। বাংলাদেশ এমনই একটি অবস্থার মাঝে অবস্থান করছে। সেনাবাহিনী যখন মতা দখল করেছে, তখন তারা শাসন করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু সেনারা দেখতে পেয়েছে যে, বাংলাদেশীরা নিজেদের নিজেরাই কঠোরতা ও বিচারবুদ্ধিহীনতার সাথে শাসন করা ভালোবাসেন।
‘ইসলামের প্রতি স্পর্শকাতর অনুভূতি থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ ধর্মনিরপে ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা করেছিল ইন্ডিয়ান মুসলিম লীগ। পূর্ব বাংলা থেকে জন্ম হওয়া ইন্ডিয়ান মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা করেছিল পাকিস্তান। পরে পূর্ববাংলা হয় পূর্ব পাকিস্তান। এই পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতার দাবিকে দমিয়ে রাখা যায়নি, স্বাধীনতার আকাক্সা এখানে সুপ্রতিষ্ঠিত। এখানকার মানুষ উদার মনের। তারা আধুনিক সময়ে ক্রমাগত ধর্মীয় মানসিকতার হয়ে উঠছেন। প্রায় ১০ লাখ হিন্দু বাস করেন বাংলাদেশে। কোনো বাধা-বিপত্তি ছাড়াই তারা তাদের ধর্মীয় রীতি পালন করেন।
‘বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থে স্বাধীন হয়নি, কেননা দেশটি এখনো চরমমাত্রায় বিদেশী সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল। ঢাকাকে বৈদেশিক মুদ্রাবিনিময় এবং বড় অঙ্কের টাকা সরবরাহ করার জন্য সহযোগিতামূলক একটি আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী রয়েছে, যেখানে নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করছে আমেরিকা।
বাংলাদেশী নেতারা যত দিন পর্যন্ত না নিজেদের খতিয়ে দেখবেন, তত দিন অব্যাহতভাবে বিদেশী শক্তির ওপর নির্ভরশীল থাকবেন, যারা স্বভাবতই মূল্য আদায় করে নেবে। তারা যেভাবে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে জড়িয়ে আছে, তাতে বিদেশী প্রভাব থেকে নিজেদের মুক্ত করতে কোনো বলিষ্ঠ কার্যক্রম রাজনৈতিক দলগুলোর নেই। বরঞ্চ অভ্যন্তরীণ সমস্যা মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক শক্তির সহায়তা চাওয়া হয়েছে। এটা দীর্ঘমেয়াদি কোনো সমাধান নয়। বাংলাদেশের ট্র্যাজেডি হলোÑ উভয় বেগম তাদের ব্যক্তিগত বৈরিতার কারণে বহির্বিশ্বের শক্তির সাহায্যে সমর্থন গড়ে তোলা অব্যাহত রেখেছেন। যত দিন তারা বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রোপটে আধিপত্য করবেন, বাংলাদেশের সামান্যই ভবিষ্যৎ রয়েছে। কিন্তু এটা তা হলে পরিবর্তন হবে কিভাবে? দুর্ভাগ্যের কথা, কোনো বিকল্প আবির্ভূত হচ্ছে না।’
‘প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে নতুন নির্বাচনের ঘোষণার প্রত্যাশা করাটা হয়তো অনেক বেশি চাওয়া হবে। এ প্রক্রিয়ায় নিয়মের মধ্যে থেকে ভাগ্য যাচাইয়ে বিএনপিকে একটা সুযোগ দেয়া উচিত। চরম বিভক্ত এবং রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে লিপ্ত একটি দেশে মনে হচ্ছে এটাই একমাত্র সমাধানের উপায়। ন্যায়সঙ্গত স্বাভাবিক পরিস্থিতি না আসা পর্যন্ত দেশের মানুষের দরিদ্রতা ঘুচানো সম্ভব নয়, যার যেটা করার প্রতিশ্রুতি উভয় দলই দিয়েছে। রাজনৈতিক েেত্র নতুন সূচনা ব্যতীত এটা সম্ভব নয়, ঘটবেও না।’ কুলদীপ নিজেই আভাস দিচ্ছেন যে, এমন সমাধান (সামরিক হস্তেেপর অস্ত্রোপচার ছাড়া) দুরাশা মাত্র।
অন্য দিকে, বাংলাদেশে অতীতে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত (বর্তমানে গ্রন্থকার-গবেষক) উইলিয়াম বি মাইলাম ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের ভোটারবঞ্চনার নির্বাচনকে প্রথম থেকেই একদলীয় রাষ্ট্রব্যবস্থা চালু করার অশুভ পাঁয়তারা বলে চিহ্নিত করেছিলেন। এখন বাংলাদেশ প্রসঙ্গে কুলদীপ নায়ারের ওই ভাষ্য রচনার প্রায় একই সময়ে রচিত ১৬ জানুয়ারি প্রকাশিত একটি মন্তব্য প্রতিবেদনে মাইলাম লিখেছেন :
‘সব ধরনের বিরোধিতার বিরুদ্ধে নিপীড়নমূলক ব্যবস্থা তীব্র করার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ নেতারা (প্রকৃতপে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যাকে আজকের দিনে কারো কাছেই জবাব দিতে হয় না) তাদের সিদ্ধান্তের এই সঙ্কেতবার্তাই পাঠাচ্ছেন যে, আওয়ামী লীগের একদলীয় সরকারকে সংহত করে একদলীয় রাষ্ট্রে রূপান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এই প্রক্রিয়া তারা সম্পন্ন করতে চাইছে জনগণ তাদের মোহভঙ্গের রোষানলে গণ-প্রতিরোধ গড়ে তোলার আগেই। যদি তা-ই হয়ে থাকে, তাহলে সেটাই সম্ভবত নিপীড়নের চক্রকে তীব্রতা দিচ্ছে। বৃদ্ধি ঘটাচ্ছে সহিংসতা এবং উসকে দিচ্ছে আরো অনেক বেশি অস্থিতিশীলতা।
এই নিবন্ধ ছাপা হওয়ার আগেই সহিংসতা শুরু হয়ে যেতে পারে। সরকারি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে বিএনপি একটি সমাবেশ করতে চায়। সরকার সম্প্রতি রাজপথের আন্দোলনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। নিষেধাজ্ঞা ধরে রাখতে যদি তারা চাপ সৃষ্টি করে চলে তাহলে সেটা হবে সহিংসতা পাকানোর মালমসলা।
স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতাসম্পন্ন যেকোনো রাজনৈতিক দলের প্রধান এজেন্ডাই থাকে নিরঙ্কুশ মতা কুগিত করা। আর সেই মতাকে ব্যবহার করে তারা যেকোনো বিরোধী দল, যারা বৈধতা দাবি করতে পারে, তাদের ধ্বংস করতে চায়। বিএনপি যদিও মতায় থাকতে খারাপ রেকর্ড করেছে, কিন্তু তারা বৈধতা দাবি করতে পারে। উভয় দলই দুঃশাসন চালিয়েছে। বেশ কয়েক মাস ধরে এই গুজব চালু রয়েছে যে, কোনো-না-কোনো অভিযোগে বেগম জিয়াকে গ্রেফতার করা হবে। সেটা সম্ভবত দুর্নীতি কিংবা সম্ভবত ইকোনমিস্টের ভাষ্য মতে, রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে। আদালতগুলোর ওপর সরকারের যে নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং তাদের স্বৈরতান্ত্রিক মনমানসিকতার যা লণ, তাতে আওয়ামী লীগ কার্যত তাদের সরকারের বিরোধী ভূমিকায় থাকা দলনেতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনতে পারে এবং আদালত সে অভিযোগ বহাল রাখবেন। আদপে দেশের অভ্যন্তরে অসন্তোষ দানা বাঁধার আশঙ্কা করে সরকার সব বিরোধী দলের ওপর আগাম আঘাত হানতেই এই আকস্মিক দমনপীড়ন শুরু করেছে।
অনেক পর্যবেকের মতে, আওয়ামী লীগ এ পর্যন্ত জনরোষ এড়াতে পেরেছে কারণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ৫ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে থেকেছে। দারিদ্র্য ক্রমাগতভাবে হ্রাস পেয়েছে, যদিও তা ঘটেছে নিতান্ত মন্থরগতিতে। প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি মিডিয়ায় তাঁর পরিকল্পিত নারীর মতায়ন এবং অনগ্রসর শ্রেণীর ভাগ্য উন্নয়নের ছক তুলে ধরেছেন। কেউ হয়তো ভাবতে পারেন যে, পরিসংখ্যান যা-ই বলুক, সরকারের অবস্থা বাস্তবে যা, তার চেয়ে অনেক বেশি ইতিবাচকভাবে চিত্রিত করা হচ্ছে। যে রকম পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে, জাতীয় অর্থনীতির চেহারা বিশেষ করে গ্রাম এলাকায় চেহারা মোটেও সে রকম নয়। সেটা যা-ই হোক না কেন, (রাষ্ট্রনৈতিকভাবে) শেখ হাসিনার বৈধতা কখনোই ততটা শক্ত ভিত্তির ওপর ছিল না, যতটা তিনি নিজে ভাবেন। আর তাই তিনি এক দিকে বিরোধী দলকে শায়েস্তা করতে চেয়েছেন, অন্য দিকে জনসাধারণের চোখে এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন (নতুনভাবে) তুলে ধরছেন।
‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সম্ভবত ধরে নিয়েছে যে, বাংলাদেশের জন্য গণতন্ত্র এখন একটি হারানো বিষয়। যদি অস্থিতিশীলতা অব্যাহত থাকে এবং বাংলাদেশ অকার্যকর হয়ে পড়ে তাহলে ভারতের হারাবার অনেক কিছুই রয়েছে, কিন্তু তাকে এখনো পর্যন্ত নিরুদ্বেগ মনে হচ্ছে। বাংলাদেশে যারা আওয়ামী লীগের কর্তৃত্ববাদী মনোভাবের বিরোধী তাদের কাছে এ অবস্থা উৎসাহব্যঞ্জক নয়। পাশ্চাত্য শক্তিগুলো আদৌ কি করতে পারে? তারা কি চেষ্টা করে দেখবে, যাতে বাংলাদেশের বিরোধী দলের নেতাদের জেলের বাইরে রাখা যায় এবং যাতে তাদের কোনো তি না হয় তেমন কোনো পন্থা উদ্ভাবন করা যায় কিনা?
এক রসিক ব্যক্তি সম্প্রতি লিখেছেন যে, ‘শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগকে প্রশিতি করেছেন, কী করে পীড়ন করা যায়, কী করে চরিত্র হনন করা যায়, কী করে মুক্তকণ্ঠকে স্তব্ধ করা যায়। আর লোক ঠগানোরও প্রশিণ দিয়েছেন, যেমন সাজানো আন্দোলন (শাহবাগ আন্দোলনের মতো) কী করে পাকিয়ে তোলা ও রদ করা যায়; সৃষ্টি করা যায় পোষ্য বিরোধী দল, যেটি হবে তার সরকারের অংশ, যে দলের নেতারা তার মন্ত্রিসভায় বসবে, শাসকদলের পে ভোট দেবে।’ এই অজ্ঞাতনামা লেখক আরো লিখেছেন, ‘তিনি বিশ্বের প্রথম স্বৈরতান্ত্রিক গণতন্ত্রের মডেল সৃষ্টি করেছেন।’
আমার অনুমান, সুশীলসমাজের গণতান্ত্রিক ব্যক্তিরা এবং বিরোধী দল লড়াই ব্যতিরেকে নতি স্বীকার করবে না। আজ হোক কাল হোক, শান্তিপূর্ণভাবে একটি সরকারের পালাবদলের অনুপস্থিতিতে সহিংসতা হবে এবং তা যথেষ্ট মারাত্মক হতে পারে। আমরা (আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়) আমাদের ঔদাসিন্যের জন্য পরে পস্তাতে পারি। সহিংসতার পরিণামে যেসব অবাঞ্ছিত পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটতে পারে তার মধ্যে সাধারণত সেনাবাহিনীর মতা দখল অন্যতম।
লেখক : প্রবীণ সাংবাদিক, কলামিস্ট
এর আগে ১৫ জানুয়ারি রাতে যৌথবাহিনীর অভিযানের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাটে র্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত হন আরেক ছাত্রদল নেতা। নিহত মতিউর রহমান শিবগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি ছিলেন। বিএনপির দাবি, গ্রেফতারের পর পরিকল্পিতভাবে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। মতিউর রহমানকে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী আটক করে। তার বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা বা একটি জিডিও ছিল না। মফস্বল এলাকায় পুলিশ-র্যাবের হাতে গুম-গ্রেফতার, নির্যাতনে বিরোধী জোটের নেতাকর্মীরা কেউ পালিয়ে কেউ নিরুদ্দেশ। প্রতিবাদে জেলাওয়ারি হরতাল চলেছে থেকে থেকে, দেশব্যাপী টানা অবরোধ কর্মসূচির ১৫ দিন ধরে। অবরোধের ষোড়শ দিবস থেকে চলছে ঢাকা ও খুলনা বিভাগে ৪৮ ঘণ্টার টানা হরতাল, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে আগে থেকে চলা হরতাল এদিন শেষ হচ্ছে। পুলিশ-বিজিবি-র্যাবের কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থায় স্বাভাবিকতার একটা চেহারা বজায় রাখতে সরকার সম বলে দাবি করছে রাষ্ট্রীয় প্রচারযন্ত্র। কিন্তু রাস্তাঘাটে যানবাহনের স্বল্পতা, দোকানপাটের বন্ধ দরজা আর পেট্রলবোমার আতঙ্কগ্রস্ত পথচারী অন্য চেহারা তুলে ধরছে। আর দূরযাত্রার মহাসড়ক রেলপথ নৌপথে অবরোধ সমানে চলেছে। যার ফলে সারা দেশে বাণিজ্যিক তৎপরতা স্থবির। কলকারখানা চলছে বন্ধ ফটকের আবডালে। কৃষকের ঘরে সবজি, ফলমূল পচছে, বাজারজাত হতে পারছে না। অথচ চাহিদা মোতাবেক আমদানির অভাবে দাম চড়ছে কাঁচামালের হাটবাজারে। সরবরাহ বিভ্রাটে চালের দরও ঊর্ধ্বমুখী। সরকার বাহাদুর জোরগলায় বলছে, আর ১০ দিনে সব অবরোধকারী পিটিয়ে ঠাণ্ডা করে দেয়া হবে; সন্ত্রাসবিরোধী কমিটি গঠন হচ্ছে পাড়ায় পাড়ায়, মতাসীন দলের কর্মীদের হাতেই নাস্তানাবুদ হবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট। হুমকি-ধমকি দিতে সরব পুলিশপ্রধান, র্যাবপ্রধান, বিজিবিপ্রধান। দেখামাত্র ‘সন্ত্রাসী’কে গুলি করা হবে, বলছেন তারা। কেউ কেউ এমন কথায় ’৭৪ সালের রীবাহিনীর অভিযানকালে তৎকালীন সরকারের গুলি করার নির্দেশ সম্পর্কে মওলানা ভাসানীর মন্তব্য স্মরণ করছেন। মওলানা ভাসানী বলেছিলেন : মুজিব, সন্ত্রাসী কি কারো গায়ে লেখা থাকে?
বিএনপি গোষ্ঠী এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো সমস্বরে প্রতিবাদ করেছে, সরকারের নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর কর্মকর্তাদের এমন নির্দেশ সংবিধানের ও মৌলিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন, বর্বরতা। অন্য দিকে, পুলিশি হামলার পাল্টা সহিংসতা, চোরাগোপ্তা বোমাবাজি, গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, কোথাও কোথাও সামনা-সামনি প্রতিরোধ সংঘর্ষ বেড়েই চলেছে। পুলিশও মারা পড়ছে। অপমৃত্যুর শিকার হচ্ছে অগ্নিদগ্ধ হচ্ছে যাত্রী গাড়িচালক পথচারী অনেকে। সুশীলসমাজের নৈরাশ্য প্রকাশ পেয়েছে প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল-হকের মন্তব্যে : ‘মনে হয় এই অবস্থা চলতেই থাকবে। চলতে চলতে দেশটা ধ্বংস হয়ে যাবে। ধ্বংসের পর একটা সমাধানের পথ বের হয়ে আসবে। ভালো থাকতে তো আর কেউ সমঝোতায় বসবে না!’
বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মুনাজাতের পরদিন বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার গুলশান কার্যালয়ের গেটে পুলিশের তালাবদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি পেয়েই সংবাদ সম্মেলন করেন। অবরোধে দেশব্যাপী নাশকতার জন্য সরকারকেই দায়ী করে খালেদা জিয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগ অতীতেও এ ধরনের কাজ করেছে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন সম্পর্কে দেশে-বিদেশে বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে মতাসীনেরা নাশকতা ও অন্তর্ঘাতের পথ বেছে নিয়েছে। পুলিশি পাহারার মধ্যে নারী, শিশু, ছাত্রছাত্রীদের বহনকারী যানবাহনে পেট্রলবোমা মেরে অনেক নিরপরাধ মানুষকে হতাহত ও দগ্ধ করা হয়েছে। এসব পৈশাচিক বর্বরতার আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতিতে ইতোমধ্যে জাতিসঙ্ঘ প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন পর্যায়ে যে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, তার প্রতি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। দেশের চলমান সঙ্কট নিছক কোনো আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়। এটি রাজনৈতিক সঙ্কট। এর রাজনৈতিক সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য আমরা মতাসীনদের আবারো আহ্বান জানাচ্ছি।’
সরকারের উদ্দেশে তিনি আরো বলেন, ‘অত্যাচার, দমন অভিযান, গণগ্রেফতার বন্ধ করুন। মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা বন্দীদের মুক্তি দিন। গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকারের ওপর থেকে সব বাধা তুলে নিন। যে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছেন, তা স্বাভাবিক করুন। মানুষকে স্বস্তি ও শান্তি দিন। উসকানি, ষড়যন্ত্র ও মিথ্যাচারের অপরাজনীতি বন্ধ করুন। জনগণের ভোট দেয়ার যে অধিকার কেড়ে নিয়েছেন, তা ফিরিয়ে দিন এবং অবিলম্বে গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের পদপে নিন।’
অন্য দিকে, আগের দিন ১৮ জানুয়ারি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মচারীদের সাথে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কটা করে বলেন, ‘কেউ যদি ভেবে থাকে যে (ভারতের) বিজেপি ও (মার্কিন) কংগ্রেসম্যানরা সরকার উৎখাত করে বিএনপিকে মতায় বসাবে, তা হবে দুর্ভাগ্যের কথা। (সংবিধান মোতাবেক) বিএনপি-জামায়াত সরকারেও নেই, বিরোধী দলেও নেই। তাদের হাহাকারের আগুন পুড়িয়ে মারছে দেশের মানুষকে। চোখের সামনে দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে তা সহ্য করা হবে না। অগ্নিসংযোগ করা ছাড়া বিএনপির আর কোনো আন্দোলন নেই। বিএনপি নেত্রীর আন্দোলনের অর্থ হচ্ছে মানুষ পুড়িয়ে মারা, বাস-ট্রাকে অগ্নিসংযোগ এবং তারা একের পর এক ভয়াবহ ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে। এমনকি গর্ভবতী মহিলাও তাদের সহিংসতা থেকে রেহাই পাচ্ছে না। বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে না। এ দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিশ্বাস করে না। তারা এখনো পাকিস্তানপ্রীতিতে বিশ্বাসী, যা বাঙালি জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক। বিএনপি বেশ কয়েকবার মতায় এসেছিল এবং প্রতিবারই তারা দেশকে পেছনের দিকে ঠেলে দিয়েছে। সরকার দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়তে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ অচিরেই বিশ্বে মর্যাদাশীল দেশ হিসেবে পরিণত হবে। দেশের জনগণ বিশ্বাস করে, কেবলমাত্র আওয়ামী লীগই দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে এবং সরকার জনগণের আকাক্সা পূরণে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু বিএনপি এ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করেতে চেষ্টা চালাচ্ছে।’
তারপর ২০ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে বোমা হামলায় দগ্ধদের ছবির পেপার কাটিং দেখালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি দেখানোর সময় প্রধানমন্ত্রী নিজে কাঁদলেন, কাঁদালেন সংসদ সদস্য সবাইকে। তার মন্ত্রী-এমপিদের দিয়ে সংসদে বলালেন : সহিংসতা কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি হতে পারে না, দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে অপারেশন কিনহার্ট অথবা যৌথবাহিনী নামিয়ে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পদপে দিতে হবে, খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করে মানবতাবিরোধী অপরাধে বিচার করতে হবে; বিএনপি-জামায়াতের সাথে কোনো সংলাপ বা আলোচনা হবে না। বিএনপি-জামায়াতকে জঙ্গি সংগঠন উল্লেখ করে দল দু’টিকে নিষিদ্ধ করার দাবিও তোলা হয়। সেই দাবির প্রতিধ্বনি করে মিডিয়ায় বিবৃতি পাঠালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী : ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর কূটনীতিকেরা কেউ কেউ বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধ করার বিষয়ে সরকার উদ্যোগ নিলে তার প্রতি তারা সমর্থন দেবে। সাংবাদিকেরা খবর নিয়ে জানল, কেউ কেউ নয়, শুধু ঘোর কর্তৃত্ববাদী মিলিটারি শাসক জেনারেল সিসির তথা মিসরের রাষ্ট্রদূত তার দেশে মুসলিম ব্রাদারহুডকে নিষিদ্ধ করার নজির দিয়ে এ কথা বলেছে।
প্রসঙ্গত, ভূরাজনৈতিক পর্যবেক দু’জন প্রবীণ বৈদেশিক কূটনীতিবিদ বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তার উদ্ধৃতি দিচ্ছি। ভারতের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক-রাষ্ট্রদূত কুলদীপ নায়ার শেখ হাসিনার সরকারের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের সাফাইও তিনি গেয়েছেন এ কথা বলে : (মূলধারার বিরোধী জোটের) ‘বর্জন সত্ত্বেও সামগ্রিক অর্থে নির্বাচন হয়েছে অবাধ ও সুষ্ঠু। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক জেনারেল এইচ এম এরশাদ কিছু আসন পেতে সম হয়েছেন। এর ভিত্তিতে এটি এখন পার্লামেন্টের প্রধান বিরোধী দল।’ এখন অবস্থাদৃষ্টে এ বছর ৭ জানুয়ারি লিখিত একটি ভাষ্যে তিনি বলেছেন : ‘শেখ হাসিনার শাসন হলো এক ব্যক্তির শাসন। তিনি ুব্ধ হতে পারেন এমন রায় দেয়ার েেত্র বিচার বিভাগও দ্বিধাবোধ করেন। আমলাতন্ত্র, সেটা তো পরিণত হয়েছে তল্পিবাহকে।’
বেগম জিয়ার অভিযোগ হলো, তাকে সারা রাত অফিসে অবরুদ্ধ থাকতে বাধ্য করা হয়েছে। এ অভিযোগ সত্য হতে পারে। পুলিশ নিজেরাও স্বীকার করেছে যে, তারা খালেদার নিরাপত্তা জোরদার করেছে এবং তিনি চাইলে তাকে তারা তার বাসায় পৌঁছে দিতে পারে। দৃশ্যত, তিনি চাইছিলেন বাইরে এমন কোনো স্থানে যেতে, যেখান থেকে বর্জন করা নির্বাচনের প্রথম বর্ষপূর্তিতে সমাবেশে যোগ দিতে পারেন।
তৎকালীন পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে লাখ লাখ মানুষের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এত দিনে এ দেশে শান্তিপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করা উচিত ছিল। অনেক স্বাধীন দেশে স্বাধীনতাযোদ্ধারা একে অন্যের বিরুদ্ধে প্রাধান্য বিস্তারে নিজেদের মধ্যে লড়াই করেছেন। তাদের থেকে বাংলাদেশে কোনো ভিন্নতা নেই।
বাংলাদেশের জন্মের সময় স্বাধীনতাযোদ্ধা ও গণতন্ত্রের রকেরা যে সামাজিক কাঠামো অর্জন করেছিলেন, তা ছিন্নভিন্ন করে ফেলার প্রচেষ্টা সব থেকে বেদনাদায়ক। সময়ের সাথে সাথে তারা বেশি বেশি মতা দখলের দিকে মনোযোগ দিয়েছেন, চেয়েছেন প্রাধান্য বিস্তার করতে। তাদের ল্য অর্জনের েেত্র তারা দৃশ্যত কোনো কিছুতে থামেন না। বাংলাদেশ এমনই একটি অবস্থার মাঝে অবস্থান করছে। সেনাবাহিনী যখন মতা দখল করেছে, তখন তারা শাসন করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু সেনারা দেখতে পেয়েছে যে, বাংলাদেশীরা নিজেদের নিজেরাই কঠোরতা ও বিচারবুদ্ধিহীনতার সাথে শাসন করা ভালোবাসেন।
‘ইসলামের প্রতি স্পর্শকাতর অনুভূতি থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ ধর্মনিরপে ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা করেছিল ইন্ডিয়ান মুসলিম লীগ। পূর্ব বাংলা থেকে জন্ম হওয়া ইন্ডিয়ান মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা করেছিল পাকিস্তান। পরে পূর্ববাংলা হয় পূর্ব পাকিস্তান। এই পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতার দাবিকে দমিয়ে রাখা যায়নি, স্বাধীনতার আকাক্সা এখানে সুপ্রতিষ্ঠিত। এখানকার মানুষ উদার মনের। তারা আধুনিক সময়ে ক্রমাগত ধর্মীয় মানসিকতার হয়ে উঠছেন। প্রায় ১০ লাখ হিন্দু বাস করেন বাংলাদেশে। কোনো বাধা-বিপত্তি ছাড়াই তারা তাদের ধর্মীয় রীতি পালন করেন।
‘বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থে স্বাধীন হয়নি, কেননা দেশটি এখনো চরমমাত্রায় বিদেশী সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল। ঢাকাকে বৈদেশিক মুদ্রাবিনিময় এবং বড় অঙ্কের টাকা সরবরাহ করার জন্য সহযোগিতামূলক একটি আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী রয়েছে, যেখানে নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করছে আমেরিকা।
বাংলাদেশী নেতারা যত দিন পর্যন্ত না নিজেদের খতিয়ে দেখবেন, তত দিন অব্যাহতভাবে বিদেশী শক্তির ওপর নির্ভরশীল থাকবেন, যারা স্বভাবতই মূল্য আদায় করে নেবে। তারা যেভাবে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে জড়িয়ে আছে, তাতে বিদেশী প্রভাব থেকে নিজেদের মুক্ত করতে কোনো বলিষ্ঠ কার্যক্রম রাজনৈতিক দলগুলোর নেই। বরঞ্চ অভ্যন্তরীণ সমস্যা মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক শক্তির সহায়তা চাওয়া হয়েছে। এটা দীর্ঘমেয়াদি কোনো সমাধান নয়। বাংলাদেশের ট্র্যাজেডি হলোÑ উভয় বেগম তাদের ব্যক্তিগত বৈরিতার কারণে বহির্বিশ্বের শক্তির সাহায্যে সমর্থন গড়ে তোলা অব্যাহত রেখেছেন। যত দিন তারা বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রোপটে আধিপত্য করবেন, বাংলাদেশের সামান্যই ভবিষ্যৎ রয়েছে। কিন্তু এটা তা হলে পরিবর্তন হবে কিভাবে? দুর্ভাগ্যের কথা, কোনো বিকল্প আবির্ভূত হচ্ছে না।’
‘প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে নতুন নির্বাচনের ঘোষণার প্রত্যাশা করাটা হয়তো অনেক বেশি চাওয়া হবে। এ প্রক্রিয়ায় নিয়মের মধ্যে থেকে ভাগ্য যাচাইয়ে বিএনপিকে একটা সুযোগ দেয়া উচিত। চরম বিভক্ত এবং রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে লিপ্ত একটি দেশে মনে হচ্ছে এটাই একমাত্র সমাধানের উপায়। ন্যায়সঙ্গত স্বাভাবিক পরিস্থিতি না আসা পর্যন্ত দেশের মানুষের দরিদ্রতা ঘুচানো সম্ভব নয়, যার যেটা করার প্রতিশ্রুতি উভয় দলই দিয়েছে। রাজনৈতিক েেত্র নতুন সূচনা ব্যতীত এটা সম্ভব নয়, ঘটবেও না।’ কুলদীপ নিজেই আভাস দিচ্ছেন যে, এমন সমাধান (সামরিক হস্তেেপর অস্ত্রোপচার ছাড়া) দুরাশা মাত্র।
অন্য দিকে, বাংলাদেশে অতীতে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত (বর্তমানে গ্রন্থকার-গবেষক) উইলিয়াম বি মাইলাম ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের ভোটারবঞ্চনার নির্বাচনকে প্রথম থেকেই একদলীয় রাষ্ট্রব্যবস্থা চালু করার অশুভ পাঁয়তারা বলে চিহ্নিত করেছিলেন। এখন বাংলাদেশ প্রসঙ্গে কুলদীপ নায়ারের ওই ভাষ্য রচনার প্রায় একই সময়ে রচিত ১৬ জানুয়ারি প্রকাশিত একটি মন্তব্য প্রতিবেদনে মাইলাম লিখেছেন :
‘সব ধরনের বিরোধিতার বিরুদ্ধে নিপীড়নমূলক ব্যবস্থা তীব্র করার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ নেতারা (প্রকৃতপে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যাকে আজকের দিনে কারো কাছেই জবাব দিতে হয় না) তাদের সিদ্ধান্তের এই সঙ্কেতবার্তাই পাঠাচ্ছেন যে, আওয়ামী লীগের একদলীয় সরকারকে সংহত করে একদলীয় রাষ্ট্রে রূপান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এই প্রক্রিয়া তারা সম্পন্ন করতে চাইছে জনগণ তাদের মোহভঙ্গের রোষানলে গণ-প্রতিরোধ গড়ে তোলার আগেই। যদি তা-ই হয়ে থাকে, তাহলে সেটাই সম্ভবত নিপীড়নের চক্রকে তীব্রতা দিচ্ছে। বৃদ্ধি ঘটাচ্ছে সহিংসতা এবং উসকে দিচ্ছে আরো অনেক বেশি অস্থিতিশীলতা।
এই নিবন্ধ ছাপা হওয়ার আগেই সহিংসতা শুরু হয়ে যেতে পারে। সরকারি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে বিএনপি একটি সমাবেশ করতে চায়। সরকার সম্প্রতি রাজপথের আন্দোলনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। নিষেধাজ্ঞা ধরে রাখতে যদি তারা চাপ সৃষ্টি করে চলে তাহলে সেটা হবে সহিংসতা পাকানোর মালমসলা।
স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতাসম্পন্ন যেকোনো রাজনৈতিক দলের প্রধান এজেন্ডাই থাকে নিরঙ্কুশ মতা কুগিত করা। আর সেই মতাকে ব্যবহার করে তারা যেকোনো বিরোধী দল, যারা বৈধতা দাবি করতে পারে, তাদের ধ্বংস করতে চায়। বিএনপি যদিও মতায় থাকতে খারাপ রেকর্ড করেছে, কিন্তু তারা বৈধতা দাবি করতে পারে। উভয় দলই দুঃশাসন চালিয়েছে। বেশ কয়েক মাস ধরে এই গুজব চালু রয়েছে যে, কোনো-না-কোনো অভিযোগে বেগম জিয়াকে গ্রেফতার করা হবে। সেটা সম্ভবত দুর্নীতি কিংবা সম্ভবত ইকোনমিস্টের ভাষ্য মতে, রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে। আদালতগুলোর ওপর সরকারের যে নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং তাদের স্বৈরতান্ত্রিক মনমানসিকতার যা লণ, তাতে আওয়ামী লীগ কার্যত তাদের সরকারের বিরোধী ভূমিকায় থাকা দলনেতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনতে পারে এবং আদালত সে অভিযোগ বহাল রাখবেন। আদপে দেশের অভ্যন্তরে অসন্তোষ দানা বাঁধার আশঙ্কা করে সরকার সব বিরোধী দলের ওপর আগাম আঘাত হানতেই এই আকস্মিক দমনপীড়ন শুরু করেছে।
অনেক পর্যবেকের মতে, আওয়ামী লীগ এ পর্যন্ত জনরোষ এড়াতে পেরেছে কারণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ৫ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে থেকেছে। দারিদ্র্য ক্রমাগতভাবে হ্রাস পেয়েছে, যদিও তা ঘটেছে নিতান্ত মন্থরগতিতে। প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি মিডিয়ায় তাঁর পরিকল্পিত নারীর মতায়ন এবং অনগ্রসর শ্রেণীর ভাগ্য উন্নয়নের ছক তুলে ধরেছেন। কেউ হয়তো ভাবতে পারেন যে, পরিসংখ্যান যা-ই বলুক, সরকারের অবস্থা বাস্তবে যা, তার চেয়ে অনেক বেশি ইতিবাচকভাবে চিত্রিত করা হচ্ছে। যে রকম পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে, জাতীয় অর্থনীতির চেহারা বিশেষ করে গ্রাম এলাকায় চেহারা মোটেও সে রকম নয়। সেটা যা-ই হোক না কেন, (রাষ্ট্রনৈতিকভাবে) শেখ হাসিনার বৈধতা কখনোই ততটা শক্ত ভিত্তির ওপর ছিল না, যতটা তিনি নিজে ভাবেন। আর তাই তিনি এক দিকে বিরোধী দলকে শায়েস্তা করতে চেয়েছেন, অন্য দিকে জনসাধারণের চোখে এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন (নতুনভাবে) তুলে ধরছেন।
‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সম্ভবত ধরে নিয়েছে যে, বাংলাদেশের জন্য গণতন্ত্র এখন একটি হারানো বিষয়। যদি অস্থিতিশীলতা অব্যাহত থাকে এবং বাংলাদেশ অকার্যকর হয়ে পড়ে তাহলে ভারতের হারাবার অনেক কিছুই রয়েছে, কিন্তু তাকে এখনো পর্যন্ত নিরুদ্বেগ মনে হচ্ছে। বাংলাদেশে যারা আওয়ামী লীগের কর্তৃত্ববাদী মনোভাবের বিরোধী তাদের কাছে এ অবস্থা উৎসাহব্যঞ্জক নয়। পাশ্চাত্য শক্তিগুলো আদৌ কি করতে পারে? তারা কি চেষ্টা করে দেখবে, যাতে বাংলাদেশের বিরোধী দলের নেতাদের জেলের বাইরে রাখা যায় এবং যাতে তাদের কোনো তি না হয় তেমন কোনো পন্থা উদ্ভাবন করা যায় কিনা?
এক রসিক ব্যক্তি সম্প্রতি লিখেছেন যে, ‘শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগকে প্রশিতি করেছেন, কী করে পীড়ন করা যায়, কী করে চরিত্র হনন করা যায়, কী করে মুক্তকণ্ঠকে স্তব্ধ করা যায়। আর লোক ঠগানোরও প্রশিণ দিয়েছেন, যেমন সাজানো আন্দোলন (শাহবাগ আন্দোলনের মতো) কী করে পাকিয়ে তোলা ও রদ করা যায়; সৃষ্টি করা যায় পোষ্য বিরোধী দল, যেটি হবে তার সরকারের অংশ, যে দলের নেতারা তার মন্ত্রিসভায় বসবে, শাসকদলের পে ভোট দেবে।’ এই অজ্ঞাতনামা লেখক আরো লিখেছেন, ‘তিনি বিশ্বের প্রথম স্বৈরতান্ত্রিক গণতন্ত্রের মডেল সৃষ্টি করেছেন।’
আমার অনুমান, সুশীলসমাজের গণতান্ত্রিক ব্যক্তিরা এবং বিরোধী দল লড়াই ব্যতিরেকে নতি স্বীকার করবে না। আজ হোক কাল হোক, শান্তিপূর্ণভাবে একটি সরকারের পালাবদলের অনুপস্থিতিতে সহিংসতা হবে এবং তা যথেষ্ট মারাত্মক হতে পারে। আমরা (আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়) আমাদের ঔদাসিন্যের জন্য পরে পস্তাতে পারি। সহিংসতার পরিণামে যেসব অবাঞ্ছিত পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটতে পারে তার মধ্যে সাধারণত সেনাবাহিনীর মতা দখল অন্যতম।
লেখক : প্রবীণ সাংবাদিক, কলামিস্ট
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1427)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
-
▼
2015
(11541)
-
▼
January
(1455)
-
▼
Jan 28
(46)
- ‘জানাজায় বিপুল উপস্থিতি শোক কাটিয়ে শক্তি সঞ্চয়ে সা...
- সমঝোতার দাবিতে লাগাতার ‘নিরবচ্ছিন্ন’ অবস্থানে কাদে...
- মর্যাদা বাড়িয়ে দেওয়া রায় পক্ষপাতমূলক: প্রধানমন...
- এস এস সি পরীক্ষার্থীদের সাফল্য কামনায় মেরন সানে দো...
- রাজধানীতে সন্ধ্যার পর ৭ গাড়ীতে আগুন : ৯ ককটেল বিস্...
- সঙ্কট উত্তরণে জাতীয় ঐক্যমতের সরকার প্রতিষ্ঠার প্রস...
- কুতুবদিয়ায় কোকোর গায়েবানা জানাযায় শোকার্ত মানুষের ...
- হিজবুল্লাহর হামলায় ১৭ ইসরাইলি সেনা নিহত, আটক ১
- সহিংতা বন্ধের দাবিতে প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ
- পাঁচ গ্রহ নিয়ে যে নক্ষত্রের সংসার
- ‘ট্রাক চাপায়’ শিবির নেতা নিহত: অজ্ঞাত চালকের বিরুদ...
- পুলিশকে যেকোনো ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
- ‘বাংলাদেশেও নাৎসী সহযোগীদের বিচার হবে’
- সঙ্কটের সমাধান দাবি পোশাক শিল্প মালিকদের- দুই নেত্...
- কোকোর কবরে সবুজ ঘাস
- পুতিনকে প্রধান অতিথি করবে চীন
- ভারত সফর শেষ- সম্পর্ক অনন্য উচ্চতায় তুলে ওবামার বি...
- যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করি না : ফিদেল ক্যাস্ত্রো
- ওবামার সফরে লাভবান বিজেপি!
- জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন এমাজউদ্দীন
- উত্তর,পূর্ব ও পশ্চিমের ২২ জেলায় হরতাল চলছে
- কোকোর জানাজা- জয়নাল হাজারীর মূল্যায়ন
- শোকাতুর জননীর পাশে সমগ্র বাংলাদেশ by সৈয়দ আবদাল আহমদ
- কোকোর জানাজায় জনসমুদ্র by মঈন উদ্দিন খান, খালিদ সা...
- পিতার জানাজার কথা মনে করিয়ে দিলো by আলফাজ আনাম
- কোকো আমাদের সবাইকে অপরাধী বানিয়ে গেছে by মিনার রশীদ
- অঘোষিত জরুরি অবস্থার কবলে বাংলাদেশ by সাদেক খান
- যৌথবাহিনীর হাতে আটকের পর শিবির নেতা নিহত
- পুলিশকে জনগণের আস্থা অর্জনের পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর
- নরেন্দ্র মোদিকে নওয়াজের চিঠি
- সৌদি আরব সফরে ‘মস্তকাবরণ’ ছাড়া মিশেল, বিতর্ক
- ‘আবাহনী-মোহামেডান লড়াই হয়, মাঝখানে শেখ জামাল জিতে ...
- চট্টগ্রামে কোকোর গায়েবানা জানাজায় মহিউদ্দিন চৌধুরী
- লিবিয়ায় হোটেলে হামলায় ৫ বিদেশীসহ নিহত ৯
- শান্তিরক্ষীদের অবদান কি ম্লান হবে! by ইকতেদার আহমেদ
- ওবামা-মোদির অঙ্গীকারে বাংলাদেশ কি বার্তা পাবে?
- আমার কোকো বলেই কেঁদে ওঠেন খালেদা
- কোকোর জানাজায় লাখো মানুষের আহাজারি
- বন্দুকযুদ্ধে নিহত সুলতানও ৩৫ দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন
- অবরোধের ২১তম দিনেও ভাঙচুর, আগুন, রাজশাহী, কুমিল্লা...
- অবরোধ-হরতাল পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ২২৯৬ জন -সরকারি ত...
- ট্রাইব্যুনালে ক্ষমা চাইলেন ১৪ বিবৃতিদাতা
- শিষ্টাচারের নসিহত : বাচ্চালোগ তালিয়া বাজাও by ফরহা...
- বিতর্কিত বিশেষ বিধানের মেয়াদ চার বছর বাড়িয়ে বিল পাস
- কোকোর শেষ যাত্রা- একনজর দেখতে
- এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে শঙ্কা
-
▼
Jan 28
(46)
-
▼
January
(1455)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ইরান
ক্রিকেট
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
কালবেলা
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
রাশিয়া
মুক্তিযুদ্ধ
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
ইউক্রেন
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
হিন্দু
রুদ্র মিজান
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
স্বাস্থ্য
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
জ্যোতির্বিজ্ঞান
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
জীবনযাপন
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কলকাতা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
মসজিদ
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ইয়েমেন
ফেনী
বরিশাল
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
Exclusive
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
জনস্বাস্থ্য
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
লাতিন আমেরিকা
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
জোহরান মামদানি
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
ইহুদি
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
স্পেন
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
জর্দান
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
আহমেদ মুনির
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment