Thursday, March 12, 2015
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে বোঝাবুঝির অভাব by সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে বোঝাবুঝির অভাব by সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক
দুই প্রকারের ‘গ্যাপ’
দু’টি ইংরেজি শব্দযুগল উপস্থাপন করছি। একটা হলো ‘কমিউনিকেশন গ্যাপ’; আরেকটি হলো ‘জেনারেশন গ্যাপ’। প্রথমে কমিউনিকেশন গ্যাপ সম্বন্ধে বলি। এটা বলতে বুঝায়, দু’জন ব্যক্তির মধ্যে বোঝাবুঝির অভাব। এর মানে এই নয় যে, যোগাযোগের অভাব। ফোন আছে, ফোনে আলাপ হচ্ছে অথবা সামনে দেখা হচ্ছে, হাত মেলানো হচ্ছে, কথাবার্তা হচ্ছে। কিন্তু বক্তা যা বলতে চাচ্ছেন, অথবা যা বললেন, শ্রোতা সেটা না বুঝে অন্য কিছু বুঝলেন। অনেক সময় তৃতীয় ব্যক্তির মাধ্যমে অনেক বার্তা আদান-প্রদান হয়; সেই সময়ও কী বার্তা প্রদান করা হলো এবং প্রাপক কী বুঝলেন, তার মধ্যে অনেক পার্থক্য হয়ে যায়। দু’জন ব্যক্তির মধ্যে এ ধরনের পরিস্থিতি হতেই পারে। এইরূপ পরিস্থিতিতে তিও হয়ে যেতে পারে। এখন জেনারেশন গ্যাপ নিয়ে বলি। সাধারণত ত্রিশ-বত্রিশ বছরকে একটা জেনারেশন বা প্রজন্ম হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়। আমি রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা। যখন যুদ্ধ করি তখন বয়স ছিল সাড়ে একুশ থেকে সাড়ে বাইশ। সার্বিকভাবে যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন, তারা এখন ষাট বছরের বেশি বয়স্ক। আমরা একটা প্রজন্ম। যাদের বয়স এখন পঁচিশ-ত্রিশ-পঁয়ত্রিশ-চল্লিশ, তারা আরেকটা প্রজন্ম। আমার নাতিরা বা তাদের চেয়ে পাঁচ-সাত বছরের বড় যারা তারা আরেকটা প্রজন্ম। পোশাক-আশাকের ধরন, কথা বলার ধরন, শব্দচয়নের ধরন, খাওয়া-দাওয়ার অভ্যাস, বিয়েশাদিতে সামাজিকতার নিয়মকানুন ইত্যাদি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে তারতম্য হয় কিছুটা। আবার এটাও সত্য যে, আমাদের প্রজন্মের কষ্ট ও ত্যাগ (১৯৬৬-১৯৭২) অথবা স্বাধীন বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীতে আমাদের কষ্ট ও ত্যাগ (১৯৭২-১৯৯০) সাধারণভাবে বর্তমান প্রজন্ম মূল্যায়ন করে কূল পাবে না। তাই প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ইতিহাস-জ্ঞান প্রচার করতে হয়, যেন গ্যাপ কম থাকে। দেশের মানুষের মানসিক চিন্তার প্রকৃতি ও ধারা বদলে যাচ্ছে। এখন মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কিছু বলতে গেলে শ্রোতার কাছে এটা রূপকথার মতো মনে হয়। অনুরূপ আরো বিষয় আছে যেগুলো আজ ২০১৫ সালে অনেকের কাছে খুবই আশ্চর্যজনক মনে হবে। উদাহরণস্বরূপ, আজকের সেনাবাহিনীর একজন মেজরকে কষ্ট করে চিন্তা করতে হবে, মেজর মোহসিন নামক একজন সাহসী অফিসার কেন ঘণ্টাছড়ি নামক জায়গায় অ্যাম্বুশে পড়ে অনেক সৈনিকসহ শহীদ হয়েছিলেন। উদাহরণস্বরূপ, আজকে যিনি রাঙ্গামাটি জেলার বরকল উপজেলায় এসি ল্যান্ডের দায়িত্ব পালন করছেন, তিনি কল্পনাই করতে পারবেন না হয়তো, পঁচিশ বছর আগে এখানে আসতে হলে সপ্তাহে মাত্র দুই দিন সুযোগ হতো এবং তা-ও অনেক পাহারার মধ্য দিয়ে।
গ্যাপ সম্বন্ধে আলোচনা কেন?
কমিউনিকেশন গ্যাপ এবং জেনারেশন গ্যাপÑ এ দুটো কথা ব্যাখ্যা করার কারণ হলো, আজকে ২০১৫ সালে যাদের বয়স ত্রিশ এবং তার কম অথবা সেনাবাহিনীতে কর্মরত যাদের চাকরি বাইশ বছরের কম, তারা পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং সেখানে বিরাজমান সমস্যা সম্বন্ধে সম্যক অবহিত না থাকার সম্ভাবনা আছে। আমার ধারণা ভুলও হতে পারে, কিন্তু লজ্জায় যদি ধারণাটা প্রকাশ না করি, সেটাও ভুল হতে পারে। আমাদের জেনারেশন এবং যাদের কথা উল্লেখ করলাম এই তরুণদের জেনারেশনের মধ্যে একটা ‘ভালো গ্যাপ’ সৃষ্টি হয়েছে। সেজন্য আজ এই কলামে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে আলোচনা করছি। সেখানে একটি সমস্যা বিদ্যমান ছিল, আছে এবং থাকবে। পার্বত্য চট্টগ্রামে শত শত (অফিসারসহ) সেনা-বিডিআর-পুলিশ সদস্য প্রাণ দিয়েছেন বাংলাদেশের প,ে সরকারের হুকুমে দায়িত্ব পালনকালে। পার্বত্য চট্টগ্রামে হাজার হাজার বাঙালি নারী-পুরুষ-শিশু প্রাণ দিয়েছেন বাংলাদেশের স্বার্থে। পার্বত্য চট্টগ্রামে হাজার হাজার নিরীহ পাহাড়ি নারী-পুরুষ-শিশু প্রাণ দিয়েছেন দুই পরে যুদ্ধের মাঝখানে পড়ে। পার্বত্য চট্টগ্রামে শত শত পাহাড়ি তরুণ প্রাণ দিয়েছেন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তথা বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধ পরিচালনা করতে গিয়ে। আজকের ২০১৫ সালে আমার মতে, পার্বত্য চট্টগ্রামে একটি কৃত্রিম শান্তি বিরাজ করছে। এই কৃত্রিম শান্তিও যদি লঙ্ঘিত হয়ে যায়, তখন শান্তি পুনঃস্থাপনের জন্য বাংলাদেশ সরকার এবং আমাদের সামরিক বাহিনীর সদস্যরা নতুন প্রোপটে ব্যস্ত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রচুর।
পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলা ও সার্কেল
এখন পার্বত্য চট্টগ্রামে তিনটি জেলা। ১৯৮৪ সালের আগে পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলা সদর ছিল রাঙ্গামাটি। ওই জেলার তিনটি মহকুমার মধ্যে সদর মহকুমার নাম ছিল রাঙ্গামাটি। আরেকটি মহকুমার নাম ছিল বান্দরবান। তৃতীয় মহকুমার নাম একসময়ে ছিল রামগড়, কিন্তু হেডকোয়ার্টার খাগড়াছড়ি। রামগড় নামক ুদ্র শহরটি অতি সীমান্তবর্তী (জিরো লাইন সংলগ্ন) শহর হওয়ায় মহকুমার সদর দফতর ছিল কিছু দূরে খাগড়াছড়ি শহরে। ১৯০১ সাল থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম নামক জেলা ও প্রশাসনিক অঞ্চলকে তিনটি সার্কেলে ভাগ করা হয়েছিল। রাঙ্গামাটি-কেন্দ্রিক সার্কেলটির নাম চাকমা সার্কেল। কারণ, এখানে চাকমা উপজাতীয় মানুষের প্রাধান্য ছিল। বান্দরবানকেন্দ্রিক সার্কেলটির নাম ছিল বোমাং সার্কেল এবং এখানে মার্মা উপজাতীয় মানুষের প্রাধান্য ছিল। খাগড়াছড়িকেন্দ্রিক কোনো সার্কেল ছিল না। তৃতীয় সার্কেলটির নাম ছিল মং সার্কেল এবং এটি ছিল মানিকছড়িকেন্দ্রিক। মানিকছড়ি হচ্ছে বর্তমানে একটি উপজেলা বা থানার নাম; চট্টগ্রাম মহানগর থেকে হাটহাজারী ফটিকছড়ি হয়ে মানিকছড়ির ওপর দিয়ে খাগড়াছড়ি যেতে হয়। মানিকছড়ি থেকে ৪০ মাইল উত্তরে এবং রামগড় থেকে ১২ মাইল পূর্বে খাগড়াছড়ি শহর। ব্রিটিশ আমল থেকে সার্কেলের প্রধানগণকে বলা হতো ইংরেজি ভাষায় ‘চিফ’। বাংলা ভাষায় বলা হয় ‘রাজা’; কিন্তু ইংরেজিতে কিং নয়। বর্তমান তিন সার্কেলের তিনজন চিফ তথা তিনজন রাজার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিচিত এবং বিবিধ অঙ্গনে সক্রিয় হলেন চাকমা রাজা ব্যারিস্টার দেবাশিস রায়।
জনসংহতি সমিতি ও শান্তিবাহিনী
পার্বত্য চট্টগ্রামে রাজনীতি ছিল একটি গৌণ বিষয়। প্রথাগত বা ট্র্যাডিশনাল নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য এবং সামাজিক একতা ছিল পাহাড়ি সমাজের বৈশিষ্ট্য। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী তিন বছরে এই বৈশিষ্ট্যগুলো বড় রকমের ঝাঁকি খায়। ১৯৭০ সালে রাঙ্গামাটি শহরে একটা গোপন মিটিং হয়েছিল, যে মিটিংয়ের মাধ্যমে রাঙ্গামাটি কমিউনিস্ট পার্টি নামে একটি গোপন রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। ১৯৭২ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি নামে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল একটি রাজনৈতিক দল । ১৯৭৩ সালে এর অঙ্গ সংগঠন হিসেবে একটি সশস্ত্র শাখা খোলা হয়েছিল; যার নাম ছিল ‘শান্তিবাহিনী’। এর সর্বাধিক পরিচিত রাজনৈতিক নেতা ছিলেন মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা। তিনি ১৯৭০ সালে তদানীন্তন প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। অতএব, ১৯৭২-এ তিনি গণপরিষদ সদস্য ছিলেন। ১৯৭২ সালে সংবিধান রচনার সময় তিনি তার যৌক্তিক আপত্তিগুলো তুলে ধরেছিলেন; কিন্তু বঙ্গবন্ধু বা তৎকালীন আওয়ামী লীগ সেদিকে কর্ণপাত করেনি। হাতেগোনা যে দু’চারজন গণপরিষদ সদস্য ১৯৭২ সালের শেষাংশে নতুনভাবে লেখা বাংলাদেশের সংবিধানে স্বার করেননি, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা। ১৯৭৩ সালে রাঙ্গামাটি শহরে একটি জনসভায় বঙ্গবন্ধু নিজে পাহাড়িদের উদ্দেশ করে বলেছিলেন, ‘আজ থেকে তোরা সবাই বাঙালি।’ এটা ছিল টিমটিম করে জ্বলা আগুনে কেরোসিন ঢেলে দেয়ার মতো একটি ঘটনা। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫-এর আগস্ট পর্যন্ত সময়ে শান্তিবাহিনী ভারতের মাটিতে এবং দেশের মাটিতে প্রশিণ গ্রহণ করে নিজেদের সুসংগঠিত করে। ভারতীয় সাহায্যে গোলাবারুদ সরঞ্জাম সংরতি করে। ১৯৭৫-এর ডিসেম্বরে শান্তিবাহিনী প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সরকারের বাহিনীর ওপর আক্রমণ করে। এটাই হলো পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিবাহিনীর প থেকে বিদ্রোহ বা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ।
একেকজনের মূল্যায়নের একেক রকম প্রোপট
পার্বত্য চট্টগ্রামের ইন্সার্জেন্সি, অর্থাৎ শান্তিবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত সশস্ত্র বিদ্রোহের ইতিহাস ও ঘটনাপরিক্রমা দীর্ঘ। একেকজন বুদ্ধিজীবী বা সমাজবিজ্ঞানী বা সামরিক বিশ্লেষক বা ইতিহাসবিদ এই বিদ্রোহের ইতিহাস ও ঘটনাপরিক্রমাকে একেক রকম দৃষ্টিতে রচনা ও মূল্যায়ন করবেনÑ এটাই স্বাভাবিক। তবে রচনা ও মূল্যায়নে কিছু মৌলিক বিষয়ে পার্থক্য না থাকাই ভালো। মারাত্মক দুঃখজনক হলেও সত্য, বাংলাদেশের েেত্র এই স্বাভাবিকতা থাকেনি। অর্থাৎ অস্বাভাবিক হয়েছে। অর্থাৎ বুদ্ধিজীবী বা সমাজবিজ্ঞানী বা ইতিহাসবিদ, এমনকি রাজনৈতিক কারণে সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যেও মূল্যায়নের যে পার্থক্য, সেটা কয়েকটি মৌলিক বিষয়ে দৃশ্যমানভাবেই পরস্পর বিপরীতমুখী। তাই আজ ২০১৫ সালে এ প্রসঙ্গে অতি সংক্ষেপে কিছু কথা তুলে ধরছি। যারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ১৯৯৬ সালের পরে কমিশন পেয়েছেন, তারা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে মতামত প্রদান ও মূল্যায়ন করবেন একভাবে। যারা ১৯৭০ দশকের শেষাংশে বা পুরো ১৯৮০-এর দশকব্যাপী বা ১৯৯০-এর দশকের প্রথম অংশে পার্বত্য চট্টগ্রামে চাকরি করেছেন, তারা মতামত প্রদান ও মূল্যায়ন করবেন অন্যভাবে। অনুরূপ মন্তব্য বেসামরিক কর্মকর্তাদের জন্যও প্রযোজ্য। বেসামরিক ত্রে থেকে দু-একটি উদাহরণ দিই। যিনি ১৯৮৮-৮৯ সালে খাগড়াছড়ি জেলায় জেলা প্রশাসনে অথবা কোনো উপজেলায় চাকরি করেছেন, তিনি এক রকম দেখেছেন ও উপলব্ধি করেছেন। অপর দিকে, যে বেসামরিক কর্মকর্তা ১৯৯৬-৯৭ সালে জেলা প্রশাসনে বা কোনো উপজেলায় চাকরি করেছেন, তিনি আরেক রকম উপলব্ধি করেছেন।
আমার সম্পৃক্ততা
ব্যক্তিগতভাবে আমি ১৯৭৮ সালের জানুয়ারি থেকে একই বছরে জুন মাস পর্যন্ত সাড়ে ছয় মাস সপ্তম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের উপ-অধিনায়ক হিসেবে কাপ্তাইয়ের সন্নিকটে তৎকালীন ফারুয়া ও রাজস্থলী থানার ভৌগোলিক এলাকায় কাপ্তাইয়ে অবস্থিত পদাতিক ব্রিগেডের অধীনে কাজ করেছি। এরপর ১৯৮৭ সালের জানুয়ারি থেকে জুন সাড়ে পাঁচ মাস, আশ্চর্যজনক ঘটনাক্রমে পঁচিশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অধিনায়ক হিসেবে ফারুয়া (নতুন নাম বিলাইছড়ি) থানার ভৌগোলিক এলাকায় কাজ করেছি। এরপর ১৯৮৭ সালের জুলাই থেকে ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাস রাঙ্গামাটিতে অবস্থিত পদাতিক ব্রিগেডের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। তারপর ২২ ডিসেম্বর ১৯৮৭ থেকে ২৭ জুন ১৯৮৯ পর্যন্ত দেড় বছর খাগড়াছড়িতে অবস্থিত পদাতিক ব্রিগেডের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। কাউন্টার ইন্সার্জেন্সির প্রয়োজনে, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে রিজিওন কমান্ডারের দায়িত্বও পালন করতাম। মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের জন্য কর্মযজ্ঞ প্রস্তুত রাখেন। আমি যে দুই বছর ব্রিগেড কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেছি, তার আগেও যেমন পরেও তেমন, সম্মানিত জ্যেষ্ঠ সেনাকর্মকর্তারা ব্রিগেড কমান্ডার ছিলেন। প্রত্যেকের আমলই ঘটনাবহুল ছিল, তারা সর্বোৎকৃষ্ট অবদান রেখেছেন তাদের সহকর্মীদের নিয়ে। কিন্তু আমার ওই খাগড়াছড়ির সময়টুকু ইতিহাসের দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
১৯৮৮-৮৯ সাল ব্যতিক্রমী সময়
পার্বত্য চট্টগ্রামে অনেকবারই পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে সঙ্ঘাত হয়েছে; এবং উভয়পরে মানুষের প্রচুর য়তি হয়েছে। শান্তিবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত নৃশংসতাও হয়েছে প্রচুর। সরকারি বাহিনীগুলো কর্তৃক পরিচালিত অপারেশনের কারণেও অনেক তি হয়েছে। কিন্তু ১৯৮৮-৮৯ সালটি ব্যতিক্রম এ জন্য যে, য়তি যেমন প্রচুর হচ্ছিল, তেমনই শান্তি স্থাপনের জন্যও সর্বাঙ্গীণ প্রচেষ্টা অব্যাহত ছিল। চারবার আমি নিজে শান্তিবাহিনীর সাথে সংলাপ করার জন্য গভীর জঙ্গলে নিরস্ত্র ও পাহারাবিহীন অবস্থায়, সিভিল পোশাকে গিয়েছি; এর মধ্যে তিনবার ছিলাম সরকারি প্রতিনিধিদলের প্রধান। এ জন্য মহান আল্লাহ তায়ালার দয়ায় একটি বিশেষ অভিজ্ঞতা লাভ করেছি। সেনাবাহিনীর অধিনায়ক হয়েও আমাকে গভীরভাবে জনসম্পৃক্ততা গড়ে তুলতে হয়েছিল। বেসামরিক প্রশাসনের সাথে নিবিড় ও আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হয়েছিল। শান্তি স্থাপনের জন্য মানুষের মনে আগ্রহ সৃষ্টি করতে অনেক ধরনের পদপে নিতে হয়েছিল। শান্তি স্থাপনের জন্য বিদ্রোহী শান্তি বাহিনীর মনেও যেন সংলাপের প্রতি আগ্রহ থাকে, তার জন্য অনেক পদপে নিতে হয়েছিল। দেড় বছরে আমি ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের ৪৯টি আলোচনা সভার আয়োজন করেছিলাম বিভিন্ন ময়দানে; ঘরের ভেতরে ঘরোয়া বৈঠকের কথা বলছি না। আমার জন্য জনসম্পৃক্ত রাজনীতির হাতেখড়ি ওখানেই। অবশ্যই উল্লেখযোগ্য যে, বাংলাদেশে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, এই শান্তিপ্রক্রিয়ার প্রধান উদার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। আমার তাৎণিক ওপরে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা চট্টগ্রামে অবস্থিত ডিভিশনের জিওসি (বৃহত্তর ময়মনসিংহের নান্দাইলের সন্তান) মেজর জেনারেল আব্দুস সালামও নিবিড় ও উদারভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন। আমাদেরকে অনেক ব্যতিক্রমধর্মী পদপে নিতে হয়েছিল। প্রথমেই আমাকে আমার কনিষ্ঠ সহযোগী ও সহকর্মীদের বোঝাতে হয়েছে, আশ্বস্ত করতে হয়েছে, উদ্দীপ্ত করতে হয়েছে। কারণ এ ধরনের বড় ও জোরালো কাজ কোনো দিনও একজনের পে সম্ভব নয়। একটা টিম লাগে। টিম বিল্ডিং একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আল্লাহর রহমতে আমরা ভালো টিম গড়ে তুলতে পেরেছিলাম। তাই আমি ওই সহকর্মী ও সহযোগীদের প্রতি কৃতজ্ঞ। এখানে নাম লিপিবদ্ধ না করলেও, ছোট-বড় শতাধিক অফিসার যারা আমার সহকর্মী ছিলেন এবং প্রায় পাঁচ হাজারের অধিক বিভিন্ন পদবির সৈনিক যারা সহকর্মী ছিলেন, তারাও আপ্রাণ আন্তরিকতার সাথে সহযোগিতা করেছেন। অফিসার ও সৈনিক বলতে সেনাবাহিনী, বিডিআর, জেলা পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, আনসার এবং ভিডিপি- সব সংস্থার মানুষকেই বুঝাচ্ছি।
বিস্তারিত তথ্যভাণ্ডার
আমার বক্তব্যে কেউ-না-কেউ দ্বিমত পোষণ করতেই পারেন। তর্ক-বিতর্ক করার স্বাধীনতা বহাল রাখতেই হবে। এই ুদ্র কলামে সব কথা যেহেতু কোনো অবস্থাতেই উপস্থাপন করা সম্ভব নয়, সেহেতু অবশ্যই সম্মানিত পাঠক সমাজকে আহ্বান জানাব একটি পুস্তক সংগ্রহ করে পড়ার জন্য। পুস্তকটির নাম ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিপ্রক্রিয়া ও পরিবেশ পরিস্থিতির মূল্যায়ন’। পুস্তকটির লেখক আমি নিজে। প্রকাশক মওলা ব্রাদার্স। ঠিকানা : ৩৯, বাংলা বাজার, ঢাকা। মওলা ব্রাদার্সের ফোন নম্বর : ৭১৭৫২২৭ অথবা ৭১১৯৪৬৩। তাদের ইমেইল : mowlabrothers@gmail.com. বইটি ঢাকায় অনেক দোকানে পাওয়া যায়, আবার অনেক দোকানে পাওয়া যাবেও না। কারণ পুস্তকের বিষয়বস্তু কঠিন এবং ‘আনকমন’। তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরের সন্নিকটে ‘বুক ওয়ার্ম’ নামের দোকানে অথবা বেইলি রোডে (অপর নাম নাটক সরণি) সাগর পাবলিশার্সে পুস্তকটি পাওয়া যাবেই। চট্টগ্রাম মহানগরে প্রেস কাব বিল্ডিংয়ে ‘বাতিঘর’ নামের দোকানে বইটি পাবেন। সম্মানিত পাঠক, আমি কি ব্যক্তিগত বইয়ের বিজ্ঞাপন দিয়ে কোনো নৈতিক অপরাধ করছি? উত্তর হলো, না। কারণ এই পুস্তকের বিক্রয়লব্ধ কোনো রয়েলটি নিই না বা আমার কাছে আসে না এবং এ নিয়ে আগ্রহী নই। কিন্তু পুস্তকটির বিষয়বস্তু আমার মতে, জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ; সেজন্য বিস্তারিতভাবে জানালাম। আমার ওয়েবসাইট, এই কলামের নিচে দেয়া আছে; ওই ওয়েবসাইটেও বইটির সারমর্ম পাবেন। বিশেষ করে সব ধরনের গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্য, সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিডিআর ও প্রশাসনের কর্মকর্তা যারা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে জড়িত, তাদের জন্য বর্তমান পার্বত্য চট্টগ্রামকে বুঝতে হলে এর প্রোপট জানতেই হবে। অনেক জ্ঞানী ব্যক্তি অনেক বই লিখেছেন; সেগুলোও অবশ্যই পড়তে পারেন। কারণ, পড়া উচিত। নয়া দিগন্ত পত্রিকা, কিছু বিশেষ শ্রেণীর পাঠকের কাছে, সরকারি প্রশাসনিক নির্দেশে, পৌঁছায় না। তাই পাঠক সম্প্রদায়ের মধ্যে যাদের কাছে এই নয়া দিগন্ত পত্রিকা পৌঁছায়, তাদের মাধ্যমেই এই সচেতনতা সৃষ্টির আহ্বান রাখছি।
শান্তিপ্রক্রিয়ার দুইটি প্রধান ধাপ
পার্বত্য চট্টগ্রামের ঘটনাবলির সূত্রপাত (১৯৭১-৭৬) হয়েছিল আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক রাজনীতি এবং আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্কের প্রোপটে। পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র বিদ্রোহ দুধ কলা খেয়ে, ভিটামিন খেয়ে হৃষ্টপুষ্ট হয়েছিল (১৯৭৭-৯০) আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক রাজনীতি এবং আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্কের প্রোপটে। বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য অনেক রকম পদপে নেয়া হয়েছিল; যার মধ্যে দুইটি প্রধান পদেেপর উল্লেখ করছি। একগুচ্ছ পদপে হলো ১৯৮৮-৮৯ সালের; যথা একাধিক দফায় সংলাপ, তিন জেলার সামাজিক ও নাগরিক নেতাদের সাথে তিনটি আলাদা চুক্তি, পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের পার্লামেন্টে তিন জেলার জন্য তিনটি ও সার্বিকভাবে একটি, মোট চারটি আইন পাস; আরো পরে ২৫ জুন ১৯৮৯ তারিখে তিন জেলায় প্রত্য ভোটের মাধ্যমে জেলা পরিষদের নির্বাচন। অপর পদেেপর গুচ্ছ হলো, ১৯৯৬-৯৭ সালের যথা একাধিক দফায় সংলাপ এবং ২ ডিসেম্বর ১৯৯৭ সরকার এবং জনসংহতি সমিতির মধ্যে চুক্তি স্বার। ১৯৮৮-৮৯ সালের পরিশ্রমের ফসল ছিল ওই সময়ের চুক্তি ও আইনগুলো। এই পরিশ্রম ও ফসলের ওপর ভিত্তি করে ১৯৯৬-৯৭ সালে নতুন করে চুক্তি করা হয়েছিল। এই চুক্তিগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে সতেরো বছর ধরেই বিতর্ক অব্যাহত আছে।
ছাই চাপা আগুন
আমার সামরিক অভিজ্ঞতা এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার আলোকে নিবেদন করছি, আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রোপট বদলেছে, আঞ্চলিক রাজনীতির প্রোপট বদলেছে, আঞ্চলিক আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্কের রূপ বদলেছে ইত্যাদি যেমন সত্য, এটাও সত্য যে, পার্বত্য চট্টগ্রামের ইন্সার্জেন্সির আগুন কোনোমতেই সম্পূর্ণভাবে নিভে যায়নি। যে আগুন নেভেনি, সেটা ছাই দিয়ে চাপা রাখা যায়। কিন্তু সে আগুন যে আবার জ্বলবে না, তার গ্যারান্টি কেউ দিতে পারে না। সাম্প্রতিককালের পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক সংবাদগুলোর মূল্যায়ন করেই এই কথাগুলো বলছি। আগামী সপ্তাহেও এই কলামের মতোই পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে আরো একটু লিখব বলে আশা করি।
লেখক : মেজর জেনারেল (অব:) ও চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি
www.generalibrahim.com
দু’টি ইংরেজি শব্দযুগল উপস্থাপন করছি। একটা হলো ‘কমিউনিকেশন গ্যাপ’; আরেকটি হলো ‘জেনারেশন গ্যাপ’। প্রথমে কমিউনিকেশন গ্যাপ সম্বন্ধে বলি। এটা বলতে বুঝায়, দু’জন ব্যক্তির মধ্যে বোঝাবুঝির অভাব। এর মানে এই নয় যে, যোগাযোগের অভাব। ফোন আছে, ফোনে আলাপ হচ্ছে অথবা সামনে দেখা হচ্ছে, হাত মেলানো হচ্ছে, কথাবার্তা হচ্ছে। কিন্তু বক্তা যা বলতে চাচ্ছেন, অথবা যা বললেন, শ্রোতা সেটা না বুঝে অন্য কিছু বুঝলেন। অনেক সময় তৃতীয় ব্যক্তির মাধ্যমে অনেক বার্তা আদান-প্রদান হয়; সেই সময়ও কী বার্তা প্রদান করা হলো এবং প্রাপক কী বুঝলেন, তার মধ্যে অনেক পার্থক্য হয়ে যায়। দু’জন ব্যক্তির মধ্যে এ ধরনের পরিস্থিতি হতেই পারে। এইরূপ পরিস্থিতিতে তিও হয়ে যেতে পারে। এখন জেনারেশন গ্যাপ নিয়ে বলি। সাধারণত ত্রিশ-বত্রিশ বছরকে একটা জেনারেশন বা প্রজন্ম হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়। আমি রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা। যখন যুদ্ধ করি তখন বয়স ছিল সাড়ে একুশ থেকে সাড়ে বাইশ। সার্বিকভাবে যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন, তারা এখন ষাট বছরের বেশি বয়স্ক। আমরা একটা প্রজন্ম। যাদের বয়স এখন পঁচিশ-ত্রিশ-পঁয়ত্রিশ-চল্লিশ, তারা আরেকটা প্রজন্ম। আমার নাতিরা বা তাদের চেয়ে পাঁচ-সাত বছরের বড় যারা তারা আরেকটা প্রজন্ম। পোশাক-আশাকের ধরন, কথা বলার ধরন, শব্দচয়নের ধরন, খাওয়া-দাওয়ার অভ্যাস, বিয়েশাদিতে সামাজিকতার নিয়মকানুন ইত্যাদি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে তারতম্য হয় কিছুটা। আবার এটাও সত্য যে, আমাদের প্রজন্মের কষ্ট ও ত্যাগ (১৯৬৬-১৯৭২) অথবা স্বাধীন বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীতে আমাদের কষ্ট ও ত্যাগ (১৯৭২-১৯৯০) সাধারণভাবে বর্তমান প্রজন্ম মূল্যায়ন করে কূল পাবে না। তাই প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ইতিহাস-জ্ঞান প্রচার করতে হয়, যেন গ্যাপ কম থাকে। দেশের মানুষের মানসিক চিন্তার প্রকৃতি ও ধারা বদলে যাচ্ছে। এখন মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কিছু বলতে গেলে শ্রোতার কাছে এটা রূপকথার মতো মনে হয়। অনুরূপ আরো বিষয় আছে যেগুলো আজ ২০১৫ সালে অনেকের কাছে খুবই আশ্চর্যজনক মনে হবে। উদাহরণস্বরূপ, আজকের সেনাবাহিনীর একজন মেজরকে কষ্ট করে চিন্তা করতে হবে, মেজর মোহসিন নামক একজন সাহসী অফিসার কেন ঘণ্টাছড়ি নামক জায়গায় অ্যাম্বুশে পড়ে অনেক সৈনিকসহ শহীদ হয়েছিলেন। উদাহরণস্বরূপ, আজকে যিনি রাঙ্গামাটি জেলার বরকল উপজেলায় এসি ল্যান্ডের দায়িত্ব পালন করছেন, তিনি কল্পনাই করতে পারবেন না হয়তো, পঁচিশ বছর আগে এখানে আসতে হলে সপ্তাহে মাত্র দুই দিন সুযোগ হতো এবং তা-ও অনেক পাহারার মধ্য দিয়ে।
গ্যাপ সম্বন্ধে আলোচনা কেন?
কমিউনিকেশন গ্যাপ এবং জেনারেশন গ্যাপÑ এ দুটো কথা ব্যাখ্যা করার কারণ হলো, আজকে ২০১৫ সালে যাদের বয়স ত্রিশ এবং তার কম অথবা সেনাবাহিনীতে কর্মরত যাদের চাকরি বাইশ বছরের কম, তারা পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং সেখানে বিরাজমান সমস্যা সম্বন্ধে সম্যক অবহিত না থাকার সম্ভাবনা আছে। আমার ধারণা ভুলও হতে পারে, কিন্তু লজ্জায় যদি ধারণাটা প্রকাশ না করি, সেটাও ভুল হতে পারে। আমাদের জেনারেশন এবং যাদের কথা উল্লেখ করলাম এই তরুণদের জেনারেশনের মধ্যে একটা ‘ভালো গ্যাপ’ সৃষ্টি হয়েছে। সেজন্য আজ এই কলামে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে আলোচনা করছি। সেখানে একটি সমস্যা বিদ্যমান ছিল, আছে এবং থাকবে। পার্বত্য চট্টগ্রামে শত শত (অফিসারসহ) সেনা-বিডিআর-পুলিশ সদস্য প্রাণ দিয়েছেন বাংলাদেশের প,ে সরকারের হুকুমে দায়িত্ব পালনকালে। পার্বত্য চট্টগ্রামে হাজার হাজার বাঙালি নারী-পুরুষ-শিশু প্রাণ দিয়েছেন বাংলাদেশের স্বার্থে। পার্বত্য চট্টগ্রামে হাজার হাজার নিরীহ পাহাড়ি নারী-পুরুষ-শিশু প্রাণ দিয়েছেন দুই পরে যুদ্ধের মাঝখানে পড়ে। পার্বত্য চট্টগ্রামে শত শত পাহাড়ি তরুণ প্রাণ দিয়েছেন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তথা বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধ পরিচালনা করতে গিয়ে। আজকের ২০১৫ সালে আমার মতে, পার্বত্য চট্টগ্রামে একটি কৃত্রিম শান্তি বিরাজ করছে। এই কৃত্রিম শান্তিও যদি লঙ্ঘিত হয়ে যায়, তখন শান্তি পুনঃস্থাপনের জন্য বাংলাদেশ সরকার এবং আমাদের সামরিক বাহিনীর সদস্যরা নতুন প্রোপটে ব্যস্ত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রচুর।
পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলা ও সার্কেল
এখন পার্বত্য চট্টগ্রামে তিনটি জেলা। ১৯৮৪ সালের আগে পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলা সদর ছিল রাঙ্গামাটি। ওই জেলার তিনটি মহকুমার মধ্যে সদর মহকুমার নাম ছিল রাঙ্গামাটি। আরেকটি মহকুমার নাম ছিল বান্দরবান। তৃতীয় মহকুমার নাম একসময়ে ছিল রামগড়, কিন্তু হেডকোয়ার্টার খাগড়াছড়ি। রামগড় নামক ুদ্র শহরটি অতি সীমান্তবর্তী (জিরো লাইন সংলগ্ন) শহর হওয়ায় মহকুমার সদর দফতর ছিল কিছু দূরে খাগড়াছড়ি শহরে। ১৯০১ সাল থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম নামক জেলা ও প্রশাসনিক অঞ্চলকে তিনটি সার্কেলে ভাগ করা হয়েছিল। রাঙ্গামাটি-কেন্দ্রিক সার্কেলটির নাম চাকমা সার্কেল। কারণ, এখানে চাকমা উপজাতীয় মানুষের প্রাধান্য ছিল। বান্দরবানকেন্দ্রিক সার্কেলটির নাম ছিল বোমাং সার্কেল এবং এখানে মার্মা উপজাতীয় মানুষের প্রাধান্য ছিল। খাগড়াছড়িকেন্দ্রিক কোনো সার্কেল ছিল না। তৃতীয় সার্কেলটির নাম ছিল মং সার্কেল এবং এটি ছিল মানিকছড়িকেন্দ্রিক। মানিকছড়ি হচ্ছে বর্তমানে একটি উপজেলা বা থানার নাম; চট্টগ্রাম মহানগর থেকে হাটহাজারী ফটিকছড়ি হয়ে মানিকছড়ির ওপর দিয়ে খাগড়াছড়ি যেতে হয়। মানিকছড়ি থেকে ৪০ মাইল উত্তরে এবং রামগড় থেকে ১২ মাইল পূর্বে খাগড়াছড়ি শহর। ব্রিটিশ আমল থেকে সার্কেলের প্রধানগণকে বলা হতো ইংরেজি ভাষায় ‘চিফ’। বাংলা ভাষায় বলা হয় ‘রাজা’; কিন্তু ইংরেজিতে কিং নয়। বর্তমান তিন সার্কেলের তিনজন চিফ তথা তিনজন রাজার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিচিত এবং বিবিধ অঙ্গনে সক্রিয় হলেন চাকমা রাজা ব্যারিস্টার দেবাশিস রায়।
জনসংহতি সমিতি ও শান্তিবাহিনী
পার্বত্য চট্টগ্রামে রাজনীতি ছিল একটি গৌণ বিষয়। প্রথাগত বা ট্র্যাডিশনাল নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য এবং সামাজিক একতা ছিল পাহাড়ি সমাজের বৈশিষ্ট্য। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী তিন বছরে এই বৈশিষ্ট্যগুলো বড় রকমের ঝাঁকি খায়। ১৯৭০ সালে রাঙ্গামাটি শহরে একটা গোপন মিটিং হয়েছিল, যে মিটিংয়ের মাধ্যমে রাঙ্গামাটি কমিউনিস্ট পার্টি নামে একটি গোপন রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। ১৯৭২ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি নামে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল একটি রাজনৈতিক দল । ১৯৭৩ সালে এর অঙ্গ সংগঠন হিসেবে একটি সশস্ত্র শাখা খোলা হয়েছিল; যার নাম ছিল ‘শান্তিবাহিনী’। এর সর্বাধিক পরিচিত রাজনৈতিক নেতা ছিলেন মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা। তিনি ১৯৭০ সালে তদানীন্তন প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। অতএব, ১৯৭২-এ তিনি গণপরিষদ সদস্য ছিলেন। ১৯৭২ সালে সংবিধান রচনার সময় তিনি তার যৌক্তিক আপত্তিগুলো তুলে ধরেছিলেন; কিন্তু বঙ্গবন্ধু বা তৎকালীন আওয়ামী লীগ সেদিকে কর্ণপাত করেনি। হাতেগোনা যে দু’চারজন গণপরিষদ সদস্য ১৯৭২ সালের শেষাংশে নতুনভাবে লেখা বাংলাদেশের সংবিধানে স্বার করেননি, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা। ১৯৭৩ সালে রাঙ্গামাটি শহরে একটি জনসভায় বঙ্গবন্ধু নিজে পাহাড়িদের উদ্দেশ করে বলেছিলেন, ‘আজ থেকে তোরা সবাই বাঙালি।’ এটা ছিল টিমটিম করে জ্বলা আগুনে কেরোসিন ঢেলে দেয়ার মতো একটি ঘটনা। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫-এর আগস্ট পর্যন্ত সময়ে শান্তিবাহিনী ভারতের মাটিতে এবং দেশের মাটিতে প্রশিণ গ্রহণ করে নিজেদের সুসংগঠিত করে। ভারতীয় সাহায্যে গোলাবারুদ সরঞ্জাম সংরতি করে। ১৯৭৫-এর ডিসেম্বরে শান্তিবাহিনী প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সরকারের বাহিনীর ওপর আক্রমণ করে। এটাই হলো পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিবাহিনীর প থেকে বিদ্রোহ বা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ।
একেকজনের মূল্যায়নের একেক রকম প্রোপট
পার্বত্য চট্টগ্রামের ইন্সার্জেন্সি, অর্থাৎ শান্তিবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত সশস্ত্র বিদ্রোহের ইতিহাস ও ঘটনাপরিক্রমা দীর্ঘ। একেকজন বুদ্ধিজীবী বা সমাজবিজ্ঞানী বা সামরিক বিশ্লেষক বা ইতিহাসবিদ এই বিদ্রোহের ইতিহাস ও ঘটনাপরিক্রমাকে একেক রকম দৃষ্টিতে রচনা ও মূল্যায়ন করবেনÑ এটাই স্বাভাবিক। তবে রচনা ও মূল্যায়নে কিছু মৌলিক বিষয়ে পার্থক্য না থাকাই ভালো। মারাত্মক দুঃখজনক হলেও সত্য, বাংলাদেশের েেত্র এই স্বাভাবিকতা থাকেনি। অর্থাৎ অস্বাভাবিক হয়েছে। অর্থাৎ বুদ্ধিজীবী বা সমাজবিজ্ঞানী বা ইতিহাসবিদ, এমনকি রাজনৈতিক কারণে সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যেও মূল্যায়নের যে পার্থক্য, সেটা কয়েকটি মৌলিক বিষয়ে দৃশ্যমানভাবেই পরস্পর বিপরীতমুখী। তাই আজ ২০১৫ সালে এ প্রসঙ্গে অতি সংক্ষেপে কিছু কথা তুলে ধরছি। যারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ১৯৯৬ সালের পরে কমিশন পেয়েছেন, তারা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে মতামত প্রদান ও মূল্যায়ন করবেন একভাবে। যারা ১৯৭০ দশকের শেষাংশে বা পুরো ১৯৮০-এর দশকব্যাপী বা ১৯৯০-এর দশকের প্রথম অংশে পার্বত্য চট্টগ্রামে চাকরি করেছেন, তারা মতামত প্রদান ও মূল্যায়ন করবেন অন্যভাবে। অনুরূপ মন্তব্য বেসামরিক কর্মকর্তাদের জন্যও প্রযোজ্য। বেসামরিক ত্রে থেকে দু-একটি উদাহরণ দিই। যিনি ১৯৮৮-৮৯ সালে খাগড়াছড়ি জেলায় জেলা প্রশাসনে অথবা কোনো উপজেলায় চাকরি করেছেন, তিনি এক রকম দেখেছেন ও উপলব্ধি করেছেন। অপর দিকে, যে বেসামরিক কর্মকর্তা ১৯৯৬-৯৭ সালে জেলা প্রশাসনে বা কোনো উপজেলায় চাকরি করেছেন, তিনি আরেক রকম উপলব্ধি করেছেন।
আমার সম্পৃক্ততা
ব্যক্তিগতভাবে আমি ১৯৭৮ সালের জানুয়ারি থেকে একই বছরে জুন মাস পর্যন্ত সাড়ে ছয় মাস সপ্তম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের উপ-অধিনায়ক হিসেবে কাপ্তাইয়ের সন্নিকটে তৎকালীন ফারুয়া ও রাজস্থলী থানার ভৌগোলিক এলাকায় কাপ্তাইয়ে অবস্থিত পদাতিক ব্রিগেডের অধীনে কাজ করেছি। এরপর ১৯৮৭ সালের জানুয়ারি থেকে জুন সাড়ে পাঁচ মাস, আশ্চর্যজনক ঘটনাক্রমে পঁচিশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অধিনায়ক হিসেবে ফারুয়া (নতুন নাম বিলাইছড়ি) থানার ভৌগোলিক এলাকায় কাজ করেছি। এরপর ১৯৮৭ সালের জুলাই থেকে ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাস রাঙ্গামাটিতে অবস্থিত পদাতিক ব্রিগেডের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। তারপর ২২ ডিসেম্বর ১৯৮৭ থেকে ২৭ জুন ১৯৮৯ পর্যন্ত দেড় বছর খাগড়াছড়িতে অবস্থিত পদাতিক ব্রিগেডের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। কাউন্টার ইন্সার্জেন্সির প্রয়োজনে, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে রিজিওন কমান্ডারের দায়িত্বও পালন করতাম। মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের জন্য কর্মযজ্ঞ প্রস্তুত রাখেন। আমি যে দুই বছর ব্রিগেড কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেছি, তার আগেও যেমন পরেও তেমন, সম্মানিত জ্যেষ্ঠ সেনাকর্মকর্তারা ব্রিগেড কমান্ডার ছিলেন। প্রত্যেকের আমলই ঘটনাবহুল ছিল, তারা সর্বোৎকৃষ্ট অবদান রেখেছেন তাদের সহকর্মীদের নিয়ে। কিন্তু আমার ওই খাগড়াছড়ির সময়টুকু ইতিহাসের দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
১৯৮৮-৮৯ সাল ব্যতিক্রমী সময়
পার্বত্য চট্টগ্রামে অনেকবারই পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে সঙ্ঘাত হয়েছে; এবং উভয়পরে মানুষের প্রচুর য়তি হয়েছে। শান্তিবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত নৃশংসতাও হয়েছে প্রচুর। সরকারি বাহিনীগুলো কর্তৃক পরিচালিত অপারেশনের কারণেও অনেক তি হয়েছে। কিন্তু ১৯৮৮-৮৯ সালটি ব্যতিক্রম এ জন্য যে, য়তি যেমন প্রচুর হচ্ছিল, তেমনই শান্তি স্থাপনের জন্যও সর্বাঙ্গীণ প্রচেষ্টা অব্যাহত ছিল। চারবার আমি নিজে শান্তিবাহিনীর সাথে সংলাপ করার জন্য গভীর জঙ্গলে নিরস্ত্র ও পাহারাবিহীন অবস্থায়, সিভিল পোশাকে গিয়েছি; এর মধ্যে তিনবার ছিলাম সরকারি প্রতিনিধিদলের প্রধান। এ জন্য মহান আল্লাহ তায়ালার দয়ায় একটি বিশেষ অভিজ্ঞতা লাভ করেছি। সেনাবাহিনীর অধিনায়ক হয়েও আমাকে গভীরভাবে জনসম্পৃক্ততা গড়ে তুলতে হয়েছিল। বেসামরিক প্রশাসনের সাথে নিবিড় ও আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হয়েছিল। শান্তি স্থাপনের জন্য মানুষের মনে আগ্রহ সৃষ্টি করতে অনেক ধরনের পদপে নিতে হয়েছিল। শান্তি স্থাপনের জন্য বিদ্রোহী শান্তি বাহিনীর মনেও যেন সংলাপের প্রতি আগ্রহ থাকে, তার জন্য অনেক পদপে নিতে হয়েছিল। দেড় বছরে আমি ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের ৪৯টি আলোচনা সভার আয়োজন করেছিলাম বিভিন্ন ময়দানে; ঘরের ভেতরে ঘরোয়া বৈঠকের কথা বলছি না। আমার জন্য জনসম্পৃক্ত রাজনীতির হাতেখড়ি ওখানেই। অবশ্যই উল্লেখযোগ্য যে, বাংলাদেশে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, এই শান্তিপ্রক্রিয়ার প্রধান উদার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। আমার তাৎণিক ওপরে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা চট্টগ্রামে অবস্থিত ডিভিশনের জিওসি (বৃহত্তর ময়মনসিংহের নান্দাইলের সন্তান) মেজর জেনারেল আব্দুস সালামও নিবিড় ও উদারভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন। আমাদেরকে অনেক ব্যতিক্রমধর্মী পদপে নিতে হয়েছিল। প্রথমেই আমাকে আমার কনিষ্ঠ সহযোগী ও সহকর্মীদের বোঝাতে হয়েছে, আশ্বস্ত করতে হয়েছে, উদ্দীপ্ত করতে হয়েছে। কারণ এ ধরনের বড় ও জোরালো কাজ কোনো দিনও একজনের পে সম্ভব নয়। একটা টিম লাগে। টিম বিল্ডিং একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আল্লাহর রহমতে আমরা ভালো টিম গড়ে তুলতে পেরেছিলাম। তাই আমি ওই সহকর্মী ও সহযোগীদের প্রতি কৃতজ্ঞ। এখানে নাম লিপিবদ্ধ না করলেও, ছোট-বড় শতাধিক অফিসার যারা আমার সহকর্মী ছিলেন এবং প্রায় পাঁচ হাজারের অধিক বিভিন্ন পদবির সৈনিক যারা সহকর্মী ছিলেন, তারাও আপ্রাণ আন্তরিকতার সাথে সহযোগিতা করেছেন। অফিসার ও সৈনিক বলতে সেনাবাহিনী, বিডিআর, জেলা পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, আনসার এবং ভিডিপি- সব সংস্থার মানুষকেই বুঝাচ্ছি।
বিস্তারিত তথ্যভাণ্ডার
আমার বক্তব্যে কেউ-না-কেউ দ্বিমত পোষণ করতেই পারেন। তর্ক-বিতর্ক করার স্বাধীনতা বহাল রাখতেই হবে। এই ুদ্র কলামে সব কথা যেহেতু কোনো অবস্থাতেই উপস্থাপন করা সম্ভব নয়, সেহেতু অবশ্যই সম্মানিত পাঠক সমাজকে আহ্বান জানাব একটি পুস্তক সংগ্রহ করে পড়ার জন্য। পুস্তকটির নাম ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিপ্রক্রিয়া ও পরিবেশ পরিস্থিতির মূল্যায়ন’। পুস্তকটির লেখক আমি নিজে। প্রকাশক মওলা ব্রাদার্স। ঠিকানা : ৩৯, বাংলা বাজার, ঢাকা। মওলা ব্রাদার্সের ফোন নম্বর : ৭১৭৫২২৭ অথবা ৭১১৯৪৬৩। তাদের ইমেইল : mowlabrothers@gmail.com. বইটি ঢাকায় অনেক দোকানে পাওয়া যায়, আবার অনেক দোকানে পাওয়া যাবেও না। কারণ পুস্তকের বিষয়বস্তু কঠিন এবং ‘আনকমন’। তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরের সন্নিকটে ‘বুক ওয়ার্ম’ নামের দোকানে অথবা বেইলি রোডে (অপর নাম নাটক সরণি) সাগর পাবলিশার্সে পুস্তকটি পাওয়া যাবেই। চট্টগ্রাম মহানগরে প্রেস কাব বিল্ডিংয়ে ‘বাতিঘর’ নামের দোকানে বইটি পাবেন। সম্মানিত পাঠক, আমি কি ব্যক্তিগত বইয়ের বিজ্ঞাপন দিয়ে কোনো নৈতিক অপরাধ করছি? উত্তর হলো, না। কারণ এই পুস্তকের বিক্রয়লব্ধ কোনো রয়েলটি নিই না বা আমার কাছে আসে না এবং এ নিয়ে আগ্রহী নই। কিন্তু পুস্তকটির বিষয়বস্তু আমার মতে, জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ; সেজন্য বিস্তারিতভাবে জানালাম। আমার ওয়েবসাইট, এই কলামের নিচে দেয়া আছে; ওই ওয়েবসাইটেও বইটির সারমর্ম পাবেন। বিশেষ করে সব ধরনের গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্য, সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিডিআর ও প্রশাসনের কর্মকর্তা যারা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে জড়িত, তাদের জন্য বর্তমান পার্বত্য চট্টগ্রামকে বুঝতে হলে এর প্রোপট জানতেই হবে। অনেক জ্ঞানী ব্যক্তি অনেক বই লিখেছেন; সেগুলোও অবশ্যই পড়তে পারেন। কারণ, পড়া উচিত। নয়া দিগন্ত পত্রিকা, কিছু বিশেষ শ্রেণীর পাঠকের কাছে, সরকারি প্রশাসনিক নির্দেশে, পৌঁছায় না। তাই পাঠক সম্প্রদায়ের মধ্যে যাদের কাছে এই নয়া দিগন্ত পত্রিকা পৌঁছায়, তাদের মাধ্যমেই এই সচেতনতা সৃষ্টির আহ্বান রাখছি।
শান্তিপ্রক্রিয়ার দুইটি প্রধান ধাপ
পার্বত্য চট্টগ্রামের ঘটনাবলির সূত্রপাত (১৯৭১-৭৬) হয়েছিল আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক রাজনীতি এবং আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্কের প্রোপটে। পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র বিদ্রোহ দুধ কলা খেয়ে, ভিটামিন খেয়ে হৃষ্টপুষ্ট হয়েছিল (১৯৭৭-৯০) আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক রাজনীতি এবং আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্কের প্রোপটে। বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য অনেক রকম পদপে নেয়া হয়েছিল; যার মধ্যে দুইটি প্রধান পদেেপর উল্লেখ করছি। একগুচ্ছ পদপে হলো ১৯৮৮-৮৯ সালের; যথা একাধিক দফায় সংলাপ, তিন জেলার সামাজিক ও নাগরিক নেতাদের সাথে তিনটি আলাদা চুক্তি, পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের পার্লামেন্টে তিন জেলার জন্য তিনটি ও সার্বিকভাবে একটি, মোট চারটি আইন পাস; আরো পরে ২৫ জুন ১৯৮৯ তারিখে তিন জেলায় প্রত্য ভোটের মাধ্যমে জেলা পরিষদের নির্বাচন। অপর পদেেপর গুচ্ছ হলো, ১৯৯৬-৯৭ সালের যথা একাধিক দফায় সংলাপ এবং ২ ডিসেম্বর ১৯৯৭ সরকার এবং জনসংহতি সমিতির মধ্যে চুক্তি স্বার। ১৯৮৮-৮৯ সালের পরিশ্রমের ফসল ছিল ওই সময়ের চুক্তি ও আইনগুলো। এই পরিশ্রম ও ফসলের ওপর ভিত্তি করে ১৯৯৬-৯৭ সালে নতুন করে চুক্তি করা হয়েছিল। এই চুক্তিগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে সতেরো বছর ধরেই বিতর্ক অব্যাহত আছে।
ছাই চাপা আগুন
আমার সামরিক অভিজ্ঞতা এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার আলোকে নিবেদন করছি, আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রোপট বদলেছে, আঞ্চলিক রাজনীতির প্রোপট বদলেছে, আঞ্চলিক আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্কের রূপ বদলেছে ইত্যাদি যেমন সত্য, এটাও সত্য যে, পার্বত্য চট্টগ্রামের ইন্সার্জেন্সির আগুন কোনোমতেই সম্পূর্ণভাবে নিভে যায়নি। যে আগুন নেভেনি, সেটা ছাই দিয়ে চাপা রাখা যায়। কিন্তু সে আগুন যে আবার জ্বলবে না, তার গ্যারান্টি কেউ দিতে পারে না। সাম্প্রতিককালের পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক সংবাদগুলোর মূল্যায়ন করেই এই কথাগুলো বলছি। আগামী সপ্তাহেও এই কলামের মতোই পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে আরো একটু লিখব বলে আশা করি।
লেখক : মেজর জেনারেল (অব:) ও চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি
www.generalibrahim.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1406)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
-
▼
2015
(11541)
-
▼
March
(1092)
-
▼
Mar 12
(25)
- উপহার দিয়ে যায় কাক
- সুযোগ এখনও ফুরিয়ে যায়নি -ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ
- পোড়া শরীরেই চলে গেল ফুটফুটে মরিয়ম
- সিসিইউতে মান্না- ফোনকারী সেই ব্যক্তিকে চিনেন না by...
- ভাঙনের দ্বীপে সাফল্যের আলো by মাসুদ মিলাদ
- সঙ্কট সমাধানে সংলাপ শুরুর আহ্বান -অ্যালায়েন্সের উদ...
- সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাঙ্কিং : শীর্ষ স্থানে...
- অপেক্ষা শুধু সময়ের by মাসুদ মজুমদার
- কে বড় স্বৈরাচার? by এম আবদুল্লাহ
- এবার ইসরাইলি চর হত্যার ভিডিও প্রকাশ
- পাকিস্তানে মুত্তাহিদ পার্টির কার্যালয় সিলগালা
- ভারতের ভ্রাম্যমাণ শিক্ষক
- ভারত ফেলনা নয় by কুলদীপ নায়ার
- ভারতের ভ্রাম্যমাণ শিক্ষক
- সোহরাওয়ার্দীতে অন্য রকম চিত্র by মাহমুদ মানজুর
- বিনিয়োগে ধস by হামিদ বিশ্বাস
- শিক্ষাই হওয়া উচিত প্রধান অগ্রাধিকার -সাক্ষাৎকারে :...
- বিদ্যুৎ ভবনে গুলি- অস্ত্র তোমার বাহকেই পরিচয়
- সুপ্রিম কোর্টের ফতোয়ার রায় পাঠ্যপুস্তকে নিতে হবে...
- মিয়ানমারের জাতিগত সংঘাতে ভারত-চীনের ইন্ধন!
- পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে বোঝাবুঝির অভাব by সৈয়দ মু...
- আশ্চর্য গুহা ইয়ার ওয়াং ডং by মুহাম্মদ মোস্তাফিজুর ...
- আপনার কম্পিউটারের কার্যক্ষমতা আরও দ্রুত করবেন যেভা...
- জঙ্গিবাদের রাজনীতি ও একটি বিশ্লেষণ by রাশেদা বেগম ...
- দেশকে রাজনীতিশূন্য করার পাঁয়তারা by মো: শায়খুল ইসলাম
-
▼
Mar 12
(25)
-
▼
March
(1092)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ইরান
ক্রিকেট
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
কালবেলা
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
ইউক্রেন
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
স্বাস্থ্য
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
জ্যোতির্বিজ্ঞান
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
জীবনযাপন
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
মসজিদ
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
ইয়েমেন
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
Exclusive
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
জনস্বাস্থ্য
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
লাতিন আমেরিকা
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
জোহরান মামদানি
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
ইহুদি
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
স্পেন
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট

No comments:
Post a Comment