Monday, October 20, 2014
জাতির স্বপ্ন ও প্রেস কাবের দায়- প্রেস কাবের হীরক জয়ন্তী by শওকত মাহমুদ
জাতির স্বপ্ন ও প্রেস কাবের দায়- প্রেস কাবের হীরক জয়ন্তী by শওকত মাহমুদ
“সাংবাদিকতা যেন এক অপ্রশম্য অনুরাগ যা কেবলমাত্র বাস্তবের মুখোমুখি হওয়ার মধ্য দিয়েই ধারণ ও আত্মস্থ করা সম্ভব। যার ধমনীতে এর শোণিত প্রবাহ নেই, যা শুধু অনিশ্চয়তায় জীবনকে তাড়িত করে, তার দ্বারা সাংবাদিকতার চুম্বকীয় আকর্ষণ উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। যার অভিজ্ঞানে সাংবাদিকতার পরিচিতি নেই, তার পক্ষে সংবাদকর্মের টানটান উত্তেজনা, প্রথম সফল প্রচেষ্টার শিহরিত আনন্দ কিংবা ব্যর্থ প্রয়াসের মানসিক বিপর্যয় রোধ করা সম্ভব নয়। যে সাংবাদিকতার জন্য জন্মায়নি অথবা এর জন্য জীবনপাত করতে প্রস্তুত নয়, সে এই বোধাতীত ও নিমগ্ন কাজে লেগে থাকতে পারে না Ñ যেখানে দিনান্তের সংবাদের পদযাত্রা এক্ষণ শেষ হতে না হতেই পরক্ষণে ঊর্ধ্বশ্বাস। এমনকি এক মুহূর্তের স্বস্তির অবকাশটুকুও নেই।”
কলাম্বিয়ার সাংবাদিক ও নোবেলবিজয়ী ঔপন্যাসিক গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস-এর সাংবাদিক সম্বন্ধীয় এই নিখুঁত পর্যবেক্ষণকে উল্লেখপূর্বক বাংলাদেশের অগ্রগণ্য সাংবাদিক জাতীয় প্রেস কাবের ডাকসাইটে সাবেক সভাপতি মরহুম এ জেড এম এনায়েতুল্লাহ খান (মিন্টু ভাই) আরও এগিয়ে বলেছিলেনÑ “চার দশকেরও বেশি সময় ধরে মার্কেসের মূর্ত ভাষাশৈলীর বিস্তারের মতো অনুপম রোমান্টিকতায় আচ্ছন্ন হয়েছি, বেগবান অশ্বের মতো ধাবিত হয়েছি, যুধ্যমান সৈনিকের মতো শব্দের হাতিয়ার দিয়ে বৈরী শক্তিকে বিদ্ধ করেছি। আবার পরম মমত্ব দিয়ে তৈরি শব্দাবলীর ঝাঁপি দিয়ে অনুরাগের মিনার সোপানে অর্পণ করেছি।” মিন্টু ভাইয়ের অনুপম রোমান্টিকতার অর্থ সাংবাদিক নিজে স্বপ্ন দেখে, পাঠক-দর্শককে স্বপ্ন দেখায়। এর বাইরেও আরেক দায়িত্ব, সমাজে হস্তক্ষেপের। বিদ্ধ করা বৈরী শক্তিই অন্যায় অবিচার পরাধীনতা অগণতান্ত্রিকতা।
জন্ম থেকেই সাংবাদিকতা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার প্রতিস্পর্ধী ভূমিকায়। এ সত্যটা আরও বেশি করে বাঙময় বঙ্গ-পাক-ভারত উপমহাদেশে তথা বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে এবং ধারাবাহিকভাবেই তাদের দিনলিপি নির্মিত হয়েছে শুধু সত্য-তথ্যের জ্ঞাপনে নয়, বরঞ্চ দ্রোহে এবং জাতি গঠনে, ভাষা-সংস্কৃতির সুস্থ বিকাশের বুনিয়াদে। বিশ্বের আর কোনো অঞ্চলে বা জাতিতে সাংবাদিকতা এমন প্রবলভাবে স্বাধীনতা-দেশমুখী, ফ্যাসিবাদবিরোধী, গণতন্ত্রকেন্দ্রিক, সত্য-ন্যায়ের নিশান-বরদার কি না জানি না। নইলে পাকিস্তান সৃষ্টির আগেই কেন সাংবাদিকেরা স্বাধীন পূর্ব পাকিস্তানের জন্য, স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য আওয়াজ দেবেন, চিন্তার রাজ্যের বৈপ্লবিক পরিবর্তনের জন্য রেনেসাঁর উদ্যোগ নেবেন, বাংলাকে মাতৃভাষা করার জন্য ১৯৪২ থেকেই আন্দোলন শুরু করবেন এবং ’৪৭ সালে ‘পূর্ববঙ্গ সাংবাদিক সংঘ’ সরকারের কাছে স্মারকলিপি দেবে। কেন বায়ান্নর একুশেতে ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণের প্রতিবাদে ‘আজাদ’ সম্পাদক আবুল কালাম শামসুদ্দীন প্রাদেশিক পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেন? ২৬ ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনারের উদ্বোধক তিনি। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো ২১ ফেব্রুয়ারি’-অমর এই গানটির রচয়িতা সাংবাদিক আবদুল গাফফার চৌধুরী এবং একুশের প্রথম এবং অপ্রতিদ্বন্দ্বী সঙ্কলনটির সম্পাদক একজন সাংবাদিক হাসান হাফিজুর রহমান। ’৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান ও স্বাধীনতা সংগ্রামের সম্মুখ-সৈনিক হয়েছেন এই সাংবাদিক সমাজ এবং বাংলাদেশের সকল স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে অনাপোস আন্দোলন করবেন এবং এসব আবর্তিত হয়েছে ‘জাতীয় প্রেস কাব’ নামক নিরন্তর সংগ্রামে অমলিন প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে।
১৯৫৪ সালে প্রেস কাবের আনুষ্ঠানিক জন্ম এবং এর গঠনতন্ত্রে ‘জাতীয় মুক্তি সংগ্রাম’ শব্দত্রয়ের সন্নিবেশন কোনো রোমান্টিকতা ছিল না বরং গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার জন্য জাতীয় আত্মার আকুতি ধারণেরই পরিচয়। এক সংগ্রামী প্রয়াস ছিল সে পর্বটি। জীবনের নানাক্ষেত্রে কৃতী পুরুষ এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম উদযোগী পুরুষ এবং সংবাদ-এর সাবেক সম্পাদক মরহুম খায়রুল কবীর কী আবেগেই না বলেছিলেন Ñ “আমার জীবনের বড় সাফল্য ‘জাতীয় প্রেস কাব’ প্রতিষ্ঠা।” তারুণ্যে টগবগ খায়রুল কবীরের বয়স তখন সাতাশ-আটাশ। আরেক প্রবীণ সদস্য ও এক সময়ের চোস্ত রিপোর্টার আবদুর রহিমের মতে ‘প্রেস কাব বাংলাদেশের রাজনীতির সূতিকাগার’। দৈনিক বাংলার বরেণ্য রিপোর্টার, পর্যবেক্ষণ-বিশ্লেষণে তীè মরহুম মাশির হোসেন এই সত্যই উচ্চারণ করেছিলেন Ñ ‘প্রেস কাব শুধু ভবনগত অবকাঠামোই নয়। এর মানসবিহার অনেক বিস্তৃত। বর্তমানের বারান্দায় দাঁড়িয়ে টের পাই অতীত ও ভাবীকালের করমর্দন। প্রেস কাবের ব্যাপ্তি ৫৬ হাজার বর্গমাইলজুড়েই।”
আমাদের সাংবাদিকতার ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত রাজনীতির ইতিহাস। ‘বাংলাদেশের দেড় শ’ বছরের সংবাদপত্র বাংলাদেশের প্রকৃত ইতিহাস, (সৈয়দ আবুল মকসুদ) ইতিহাসের এক পর্বে প্রাধান্য পেয়েছে কলকাতাকেন্দ্রিক স্বাধিকারমুখী সাংবাদিকতা। ’৪৭ সালের পর থেকে স্বকীয়তা নির্মাণের ও স্বাধীনতার সংগ্রামের অভিনিবেশে আরেক অধ্যায়। আর বাংলাদেশ আমলে গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের লড়াইয়ে ঠাসা আরেক চলমান ইতিহাস। সংবাদচর্চার মূলে রয়েছে সামাজিক চর্চা। সময় ও সমাজ যেমন তার পশ্চাৎপট, তেমনই ইতিহাসসচেতনতা হলো তার অস্তিত্বের গুরুত্ব নিয়ামক (বিংশ শতাব্দীর সংবাদপত্র : বাংলা দৈনিক পত্রিকা : কৃষ্ণ ধর)। ঊনবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে শ্রীরামপুরের মিশনারিদের উদ্যোগে ‘সমাচার দর্পণ’ (১৮১৮) ও দিগদর্শন (১৮১৮) এবং একই বছরের গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্যের ‘বঙ্গাল গেজেটি’ পত্রিকা প্রকাশের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষায় মুদ্রণমাধ্যমের সূত্রপাত। ১৮৩১ সালের ৭ মার্চ বেরোয় মুসলমান সম্পাদিত প্রথম বাংলা পত্রিকা ‘সমাচার সভা রাজেন্দ্র’। খ্রিষ্টধর্ম বাংলাসহ স্থানীয় ভাষাগুলোতে প্রচারের জন্য শ্রীরামপুরে ছাপাখানা আমদানি এবং বাংলা গদ্যের প্রচলন করেন পাদ্রি উইলিয়াম কেরি। এর আগে সুলতান কুতুবউদ্দিনের আমল (১২০১) থেকে ইংরেজ গভর্নর জেনারেল উইলিয়াম বেন্টিংক (১৮৩৬) পর্যন্ত সাড়ে ৬ শ’ বছর ফার্সি ভাষা উপমহাদেশে লিংগুয়া ফ্রাঙ্কা, অফিস-আদালত ও শিক্ষার মাধ্যম ছিল। আর পল্লী অঞ্চলে পুঁথির ভাষা ছিল বহুলভাবে প্রচলিত। মধ্যযুগে গৌড়ের সুলতানি আমলে পুঁথিসাহিত্য অনুবাদ সাহিত্য এবং পরে গদ্যের মাধ্যমে বাংলা ভাষার বিবর্তনে যে বৈপ্লবিক বিকাশ সাধিত হয় তাতে কবি শাহ মুহম্মদ সগীর, সৈয়দ হামজা, সৈয়দ সুলতান, সৈয়দ আলাউদ্দিন আর সপ্তদশ শতকে কাব্য ও পুঁথিতে বাংলা ভাষা-বিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ধ্বনি উচ্চারণকারী কবি আবদুল হাকিম রাখেন অসামান্য অবদান। আজও আবদুল হাকিমের এই পঙ্ক্তিগুলি রাষ্ট্রভাষা দিবসে আমরা স্মরণ করি : “যে জন বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী/ সে জন কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি” (সানাউল্লাহ নূরী, সভ্যতার বিবর্তন এবং বাংলা সংবাদপত্র বিকাশের যুগ)। ‘যদি পলাশী ক্ষেত্রে বাংলার মুসলমানদের ভাগ্য বিপর্যয় না ঘটিত, তবে হয়ত এই পুঁথির ভাষাই বাংলার হিন্দু মুসলমানদের পুস্তকের ভাষা হইত।” (ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সংবর্ধনা গ্রন্থ) বাংলাক্রমে সংস্কৃতপ্রধান হয়ে ওঠে।
বাঙালি মুসলমান কর্তৃক সংবাদপত্র প্রকাশের চেষ্টা সম্ভবত ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দে। তখন কয়েকজন উদ্যমশীল মুসলমান সাহিত্যিকের আবির্ভাব হয় Ñ যাঁদের সমাজ হিতৈষণা মুসলিম বাংলার ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই সমাজপ্রাণ সাহিত্যিক গোষ্ঠী হচ্ছে : মুন্সী মোহাম্মদ রিয়াজউদ্দিন আহমদ, পণ্ডিত রেয়াজউদ্দিন মাশহাদী, মৌলভী সেরাজুদ্দীন, মুন্সী মোহাম্মদ মেহেরুল্লাহ, মীর্জা মোহাম্মদ ইউসুফ আলী, শেখ আবদুর রহীম, শান্তিপুরের কবি মোজাম্মেল হক, মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, ইসমাইল হোসেন সিরাজী, মওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ, শেখ ফজলুল করিম, এয়াকুব আলী চৌধুরী, ডা. লুৎফর রহমান প্রমুখ। বাংলার মুসলমানের দুঃখ-দৈন্য, অভাব-অভিযোগ এদের প্রাণে তীব্র জ্বালার সৃষ্টি করেছিল। এঁরা বুঝতে পারেন বাংলার মুসলমানের অভাব-অভিযোগ দুঃখ-বেদনা ব্যক্ত করার জন্য চাই তার একটা বাংলা ভাষার সাপ্তাহিক মুখপত্র। ১৮৮৯ সালে বের হয় ‘সুধাকর’, বিষাদ সিন্ধু খ্যাত মীর মশাররফ হোসেন সে যুগের শুধু আদি সাহিত্যিকই নন, তিনি আমাদের আদি সাংবাদিকও। ‘হিতকরী’ নামে একটি বাংলা সাপ্তাহিক সংবাদপত্রের তিনি সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতা। (মুসলিম বাংলার সাংবাদিকতা ও আবুল কালাম শামসুদ্দীন, মোহাম্মদ মাহ্ফুজউল্লাহ্)।
মূলত সাহিত্যিক-সাংবাদিক এবং সাংবাদিক-সাহিত্যিক এ দু’টি পরিচয় প্রায় অভিন্ন হয়ে উঠেছিল ব্রিটিশবিরোধী সাংবাদিকতায়। আমাদের সাংবাদিকতার ইতিহাসে সাহিত্য সেবক ও সংবাদজীবীর যুগ্মসত্তাকে ধারণ করা গুণীজনের সংখ্যা অনেক বেশি। এখনও এবং তালিকাটা ঈর্ষণীয়ভাবেই দীর্ঘ। “তথ্যকে ন্যায্যভাবে যুক্তি দিয়ে বিন্যস্ত করাই সাংবাদিকতার ধর্ম। ভাষা তার কাঠকাঠ। সংবাদপত্র হচ্ছে এক সম্মিলিত স্বপ্ন, যা আমরা দেখি দিনের পর দিন। রচিত হয় Literature in hurry সাহিত্যও এক ধরনের স্বপ্ন। রোজ দিনজুড়ে রাতজুড়ে তৈরি হচ্ছে না বা প্রাতঃরাশের টেবিল থেকে সংক্রামকভাবে বিস্তারিত হচ্ছে না, তবে এক ব্যাপক বিস্তীর্ণ সূক্ষ্ম, অলক্ষ্য, চোরাগোপ্তা ধারায় ছেয়ে থাকছে আমাদের জীবনে। সংবাদপত্রের সাড়াজাগানো শিরোনামের তুলনায় সাহিত্যের এই প্রচার অনেক সীমিত, অনেক নির্জন, কিন্তু এর দ্বারা অঙ্কুরিত স্বপ্নের চরিত্র অনেক বেশি। সাহিত্যের জন্মই এক অদৃশ্য কিন্তু অপ্রতর্ক্য হস্তক্ষেপে, জীবন, সমাজ, ঘটনা ও ইতিহাসকে একেবারে নিজের মতো করে ভেঙে-গড়ে, ভেঙে-গড়ে, ভেঙে-গড়ে, ভেঙে-গড়ে, গড়ে-গড়ে, গড়ে একেবারে এক সমান্তরাল, বিকল্প সত্যে নির্মিত করায় (সাহিত্য ও সাংবাদিকতা : শংকরলাল ভট্টাচার্য)।”
আমাদের কিংবদন্তির পূর্বসূরিরা সংবাদ ও সাহিত্যচর্চার মধ্য দিয়ে জাতির মনোরাজ্যে এক বিপ্লব সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম একাধিক পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। ১৮৮৯ সালের নবজাগ্রত স্বাধীনতাকে দমন করার লক্ষ্যে ইংরেজ সরকার কুখ্যাত সিডিশন বিল পাস করে। বিল পাস হওয়ার আগের দিনে কলকাতার টাউন হলে আহূত প্রতিবাদ সভায় ‘কণ্ঠরোধ’ শিরোনামের এক প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদ প্রকাশের অধিকারকে ‘একটি পরশাসিত জাতির আত্মসম্মান প্রতিষ্ঠার একটি অপরিহার্য অবলম্বন’ বলে ঘোষণা করেছিলেন। ইংরেজ শাসকদের উদ্দেশে বলেছিলেন “সিপাহী বিদ্রোহের পূর্বে হাতে হাতে যে রুটি বিলি হইয়াছিল তাহাতে একটি অক্ষরও লেখা ছিল না Ñ সেই নির্বাক নিরক্ষর সংবাদপত্র কি যথার্থ ভয়ঙ্কর নহে? সর্পের গতি গোপন এবং দংশন নিঃশব্দ। সেই জন্যই কি তাহা নিদারুণ নহে? সংবাদপত্র যতই অধিক এবং যতই অবাধ হইবে, স্বাভাবিক নিয়ম অনুসারে দেশ ততই আত্মগোপন করিতে পারিবে না।”
ষাট দশকে সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধে প্রেস অর্ডিন্যান্স জারির প্রতিবাদে বরেণ্য জাতীয় সন্তান সাংবাদিক-সাহিত্যিক মওলানা আকরম খাঁর নেতৃত্বে আবদুস সালাম, তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া, জহুর হোসেন চৌধুরী প্রমুখের অংশগ্রহণে জাতীয় প্রেস কাব থেকে এক ঐতিহাসিক মিছিল বেরিয়েছিল। বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানীর ভাষায় : আমার তো মনে হয় এত বড় মিছিল বোধহয় পাকিস্তান কিংবা বাংলাদেশে আমলে আর বেরোয়নি (পঞ্চাশ বছরের সাংবাদিকতা : জাতীয় প্রেস কাব)।
যা হোক, ওই কুখ্যাত সিডিশন বা রাজদ্রোহ আইনে কারানির্যাতিত প্রথম সাংবাদিক ছিলেন কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তাঁর সম্পাদিত ‘ধূমকেত’ু পত্রিকায় প্রকাশিত আনন্দময়ীর আগমনে (আর কতকাল থাকবি বেটি মাটির ঢেলার মূর্তি আড়াল) কবিতার জন্য এক বছরের কারাদণ্ড পান। নজরুলের সম্পাদকীয় রচনার ভাষা ছিল তেজোদৃপ্ত। উদ্ধৃতি দিচ্ছি একটি সম্পাদকীয় (নিশান-বরদার) থেকে : “আমাদের বিজয় পতাকা তুলে ধরবার জন্য এসো সৈনিক। পতাকার রং হবে লাল তাকে রং করতে হবে খুন দিয়ে। বল আমরা পেছোব না। বল আমরা সিংহ শাবক আমরা খুন দেখে ভয় করি না। আমরা খুন নিয়ে খেলা করি, খুন দিয়ে কাপড় ছোপাই, খুন নিয়ে নিশান রাঙাই। বল আমি আছি আমি পুরুষোত্তম জয়। বল মাভৈঃ জয় সত্যের জয়। আমি আছি বলে নিশান হাতে তুলে নাও। এসো দলে দলে নিশানধারী বীর সৈনিক ভাইরা আমরা। নিজেকে সৈনিক বলে প্রচার করি এসো। এসো শয়তানকে অর্ধেক পুঁতে ফেলে তার মাথার উপর তাদেরি মাথার মগজের চর্বি দিয়ে চেরাগ জ্বালাই। শয়তানকে দগ্ধ করে মারতে হবে। এই কথা বলে বেরিয়ে এসো Ñ আমি আছি আমাতে আমিত্ব আছে, আমি পশু নই, আমি মনুষ্য, আমি পুরুষ সিংহ। আমাদের বিজয়ী হতে হবে। বিজয় পতাকা ওড়াতে হলে খুন খোসরোজ খেলতে হবে। ধর ধর এক হাতে ভীম খড়গ সর্বনাশের ঝাণ্ডা Ñ আর এক হাতে ধর রক্তমাখা পতাকা। আমাদের এই বিজয় মঙ্গলের সময় যদি কেউ বাধা দিতে আসে তবে তাকে বড় থেকে অর্ধেক ছাড়িয়ে নিয়ে অর্ধেক সাগর জলে ভাসিয়ে দাঁড় আর অর্ধেক খানা সেখানে পড়ে দুপায়ের গিঁটে যেন ঠোকাঠুকি করে।”
সে সময় ইউরোপীয় বণিকদের স্বার্থ রক্ষার জন্য যেমন ইংরেজি পত্রিকা প্রকাশিত হতো তেমনি ভারতীয় হিন্দুরাও দ্য হিন্দু প্যাট্রিয়ট, দ্য বেঙ্গলি, ইন্ডিয়ান মিরর, অমৃতবাজার পত্রিকা, দ্য ট্রিবিউন, দ্য মারাঠা প্রকাশ করে। ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়, অরবিন্দ ঘোষ, ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত, বিপিনচন্দ্র পাল প্রমুখ তাদের সংবাদপত্র দ্বারা স্বদেশী আন্দোলন চাঙ্গা ও বঙ্গভঙ্গ রোধে উত্তপ্ত ভূমিকা রাখেন। প্রথম মহাযুদ্ধের শেষ (১৯১৯) এবং দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের শুরুর (১৯৩৯) মধ্যবর্তী দুই দশকে বাংলার সংবাদপত্রের চেহারা বদলে যায়। রাজনৈতিক দিক দিয়ে তিন ধরনের পত্রিকা ছিল। এক পক্ষ কংগ্রেসের সমর্থক, অন্যপক্ষ নবজাগ্রত মুসলিম লীগের অনুসারী (আজাদ, মোহাম্মদী, স্টার অব ইন্ডিয়া, মর্নিং নিউজ) আর তৃতীয় পথ বামধারার। সংবাদপত্র, সাময়িকপত্রের সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করে প্রেস কাবের সদস্য, পরিশ্রমী গবেষক মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া ‘হিস্টরি অব দ্য প্রেস ইন বাংলাদেশ’ প্রকাশ করে জাতির সশ্রদ্ধ সমীহা অর্জন করেছেন।
“১৯৩৫ এর ভারত শাসন আইন অনুযায়ী সাম্প্রদায়িক বাটোয়ারার ভিত্তিতে ১৯৩৭ এর জানুয়ারিতে প্রাদেশিক আইনসভার প্রথম ভোট থেকে বাংলা কাগজগুলোর ভেতরের এসব রাজনীতির সূক্ষ্ম ভাগাভাগি মুছে গেল। সব কাগজই তারস্বরে সাম্প্রদায়িক হয়ে গেল। সাম্প্রদায়িকতার জিভ ছিল সাপের জিভের মতো কাটা। তার এক ডগা মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিষ ছড়াত, আর এক ডগা তপশিলি জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। এই দুই শত্রুর কাছে ব্রিটিশবিরোধী জাতীয়তাবাদ এত তুচ্ছ হয়ে গিয়েছিল যে আগস্ট আন্দোলনের খবরও এসব কাগজে যথেষ্ট কম বেরোয়। হিন্দু কাগজগুলোর এই সাম্প্রদায়িকতার প্রতিক্রিয়া ও মুসলমান সমাজের রাজনৈতিক স্বাধিকারের আন্দোলনের প্রয়োজনে আজাদ ও ইত্তেফাক দুইটি মুসলিম সাম্প্রদায়িকতার পোষকতা শুরু করে। বাংলা খবরের কাগজে বাঙালির যে বৈশিষ্ট্য তৈরি হয়েছিল, তার জায়গায় নতুন এই বাঙালি বৈশিষ্ট্য এল চিৎকৃত সাম্প্রদায়িকতা। ১৯৪০ থেকে প্রায় ১৯৭০ পর্যন্ত এই বিদ্বিষ্ট, চিৎকৃত, বিকারগ্রস্ত ও অপ্রমাণিত সংবাদনির্ভর সাংবাদিকতা বাংলার প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল (ঔপন্যাসিক দেবেশ রায় : খবর বলছি ..... সম্প্রচারের ভাষা ও ভঙ্গি)। “মুসলিম লীগ সমর্থক পত্রিকাগুলি” ৪৭-এর পর ঢাকায় চলে যায়। রাজনীতির প্রশ্নে এই পত্রিকাগুলির সঙ্গে কলকাতার অন্যান্য সংবাদপত্রগুলির নিয়মিত চাপান উতোর চলত। এমনকি আজাদ পত্রিকার আরবি ফারসি শব্দ মেশানো বাংলা ভাষার ব্যবহার নিয়ে নানা রকম ব্যঙ্গবিদ্রƒপও করা হতো। কিন্তু ইতিহাসের এমনই অনির্দেশ্য কুটিল গতি যে পূর্ব পাকিস্তানে উর্দু চাপাবার ষড়যন্ত্র হলে আজাদ ও ইত্তেফাক তার বিরোধিতা করে। (কৃষ্ণ ধর : বিংশ শতাব্দীর সংবাদপত্র : বাংলা দৈনিক পত্রিকা, বাংলা আকাদেমী পত্রিকা)।
মোহাম্মদ মাহ্ফুজউল্লাহ্র বয়ানে জানা যায়, মুসলিম বাংলার সাহিত্য-সাংবাদিকতার অগ্রনায়কদের উদ্যোগে এবং অকান্ত প্রচেষ্টায় প্রকাশিত পরিচালিত ও সম্পাদিত মাসিক, পাক্ষিক, সাপ্তাহিক পত্রপত্রিকার মাধ্যমেই বাংলার মুসলমানের সাহিত্যচর্চা ও সাংবাদিকতা ব্যাপকতা লাভ করে.... বিভাগপূর্বকালে যেমনি বিভাগ পরবর্তীকালেও তেমনি আমাদের অনেক সাংবাদিক-সাহিত্যিকের রচনাই সাংবাদিকতার প্রয়োজনে সৃষ্ট হলেও স্থানীয় আবেদনের অধিকার অর্জন করেছে।
স্বতন্ত্র জাতীয়তা
ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী জাতীয় মুসলমানদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের দাবির পটভূমি সম্পর্কে বলেছেন, কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা ১৮৮৫ সালে, মুসলমানরা কংগ্রেসের পাল্টা সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন ঢাকায়, ১৯০৬ সালে। শুরুতে কংগ্রেস ও লীগের ভেতর উদ্দেশ্যগতভাবে এক বিষয়ে মিলন ছিল উভয় প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য, ছিল ভারতীয়দের ভেতর শাসকদের প্রতি আনুগত্য গড়ে তোলা। বিচিত্র অভিজ্ঞতা সমাকীর্ণ পতন বন্ধুর যাত্রাপথে সংগঠন দু’টি ক্রমান্বয়ে শাসকদের পরিবর্তে দেশের স্বাধীনতার নিকটবর্তী হতে চেয়েছে, কিন্তু কখনো সম্পূর্ণভাবে এক হয়ে যেতে পারেনি। তাদের প্রবাহ ছিল সময়েই কম-বেশি সমান্তরাল। তার কারণ স্পষ্টতই এই যে, মুসলিম সংখ্যালঘুরা হিন্দু সংখ্যাগুরুকে ভয় না করে পারেননি। কংগ্রেস যে স্বাধীনতার কথা বলতেন সেখানে ভারতীয় মুসলিম নিজের জন্য নতুন এক পরাধীনতার নিগড় দেখে শিউরে উঠেছেন। সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক জীবনেও এই ভীতির কারণগুলো অত্যন্ত স্পষ্ট ও বাস্তব (সাহিত্যে আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের দাবি : পাকিস্তান আন্দোলন ও মুসলিম সাহিত্য)।
রেনেসাঁ আন্দোলন
মুসলিম মানসে স্বকীয়তার উত্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কলকাতায় ১৯৪২ সালে সাংবাদিক-সাহিত্যিকেরা রেনেসাঁ আন্দোলনের সূচনা ঘটান। ১৯৪০ সালের ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব পাসের পরবর্তী পর্যায়ে এবং রাজনৈতিক আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আন্দোলন সূচিত হলেও রাজনৈতিক স্বাধীনতা তথা মুক্তি অর্জনের লক্ষ্যে সাংস্কৃতিক অর্থনৈতিক ও জাতীয় জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রে নবজাগরণ তথা রেনেসাঁ আনয়নই ছিল এর অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য। ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবে পাকিস্তান কথাটি ছিল না বটে, তবে তাতে ছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল নিয়ে দু’টি স্বতন্ত্র স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার। এ সূত্রেই রেনেসাঁ আন্দোলনের নায়করা ধরে নিয়েছিলেন যে, পাকিস্তান পরিকল্পনা অনুসারে ও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল নিয়ে গঠিত পূর্বাঞ্চলীয় রাষ্ট্র পূর্ব পাকিস্তান হবে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র, কিন্তু পরবর্তীকালে বাস্তবে তা ঘটেনি এবং ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগ ও (সাবেক) পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হয় লাহোর প্রস্তাবের মর্মবাণীকে অগ্রাহ্য করে; ১৯৪৬ সালে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগের কনভেনশনে অনুমোদিত দুই রাষ্ট্রের বদলে এক রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব অনুসারে। কিন্তু দেশ ভাগের আগেই ১৯৪২ এরও আগে, পূর্ব পাকিস্তান কথাটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও প্রতীক হিসেবে চালু হয়ে গিয়েছিল এবং বুদ্ধিজীবীদের মনোরাজ্যেও ঠাঁই করে নিয়েছিল। এ কারণেই পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আগে ১৯৪২ সালে কলকাতায় ‘পূর্ব পাকিস্তান রেনেসাঁ সোসাইটি’ এবং ঢাকায় ‘পূর্ব পাকিস্তান সাহিত্য সংসদ’ প্রতিষ্ঠিত হতে পেরেছিল। দু’টি সংস্থা গঠনেই ‘আজাদ’ সম্পাদক আবুল কালাম শামসুদ্দীনের অনুপ্রেরণা এবং মুজীবুর রহমান খাঁর উদ্যোগী ভূমিকা ছিল। বস্তুত দু’টি সংস্থাই মূলত সাংস্কৃতিক আন্দোলনের উদ্দেশ্যে গঠিত এবং পরিচালিত হলেও রাজনৈতিক লক্ষ্যও এতে অন্তরিত ছিল’। (মুসলিম বাংলার সাংবাদিকতা ও আবুল কালাম শামসুদ্দীন : মোহাম্মদ মাহ্ফুজউল্লাহ্)
রাষ্ট্রভাষা বাংলা
রেনেসাঁর নায়কেরা ১৯৪২-৪৩ সাল থেকেই বাংলাকে পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চিন্তা করেছেন। ‘পাকিস্তানের আন্দোলনকালে ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবোধই প্রবল হয়। কিন্তু এ দেশের মুসলমান সমাজ যে বাঙালি পরিচয়কে গৌণ করে দেখেনি, তারও নানা প্রমাণ আছে। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আগেই বাংলাভাষাকে নতুন রাষ্ট্রের, রাষ্ট্রভাষার মর্যাদাদানের দাবি উঠেছিল (জাতীয়তাবিষয়ক ভাবনা, ডক্টর আনিসুজ্জামান, এপিটাফ ১৯৮০)।
মওলানা আকরম খাঁ, মুজীবুর রহমান খাঁ, হবীবুল্লাহ বাহার, আবুল কালাম শামসুদ্দীন, আবুল মনসুর আহমদ, তালেবুর রহমান, আবদুল হক, ফররুখ আহমদ তাঁদের নানা রচনায় এ বিষয়টি তুলে ধরেন।
সে সময় আরও তিনটি জাতীয় দৈনিকের উল্লেখ না করলে সাংবাদিকতা ও বাংলাদেশের ইতিহাস অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। পাকিস্তান অবজার্ভার, ইত্তেফাক ও সংবাদ আমাদের জাতীয় মুক্তিসংগ্রামকে উচ্চশিখরে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করে। এই তিনটি পত্রিকাকে বিশেষ বিশেষ রাজনৈতিক বক্তব্যের জন্য সরকার কয়েকবার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। মানিক মিয়া, আবদুস সালাম ও জহুর হোসেন চৌধুরী Ñ এই তিন সম্পাদক আইয়ুব-মোনেমের জন্য ছিলেন মস্ত শিরঃপীড়া। তাঁরা প্রেস কাবকে তরুণ সাংবাদিকদের মতো সম্পৃক্ত করে নিতে চেষ্টা করতেন। তখন থেকেই প্রেস কাবের ‘কাব চরিত্রের’ বুনিয়াদ (আমাদের পৃথিবী, সেলবিদ্ধ প্রেস কাব : ফয়েজ আহমদ)। পাকিস্তান অবজার্ভার বেরুল ১৯৪৯-এ। মালিক স্মরণীয় আইনজীবী ও মুসলিম লীগ নেতা হামিদুল হক চৌধুরী। পত্রিকাটি প্রথম রোটারি মেশিনে ছাপা উপলক্ষে সগর্বে ঘোষণা দিয়েছিল Ñ এখন থেকে অবজারভার ইংল্যান্ড থেকে আনা রোটারি মেশিনে, রাশিয়ান নিউজপ্রিন্টে ভারত থেকে আনা কালিতে ছাপা হয়ে পাঠকদের হাতে পৌঁছবে। কিংবদন্তি সাংবাদিক আবদুস সালাম পরের বছর এর সম্পাদক হিসেবে যোগ দিলেন। মাহবুব জামাল জাহেদী, এসএম আলী, ওবায়দুল হক, এবিএম মূসা, এজেডএম এনায়েতুল্লাহ খান, শহীদুল হক, আবদুল মতিন, বদরুল হক, আসাদুজ্জামান বাচ্চু, আবদুর রহিম, আতাউস সামাদ প্রমুখ উজ্জ্বল সাংবাদিকগণ পাকিস্তান অবজারভারকে বাঙালি জাতির অন্যতম দিশারিতে পরিণত করেন। মওলানা ভাসানীর তত্ত্বাবধানে ইয়ার মোহাম্মদ খানের অর্থানুকূল্যে ও সম্পাদনায় ১৯৪৯ সালে সাপ্তাহিক ইত্তেফাক বেরোয়। আবু জাফর শামসুদ্দীন পরে সম্পাদক হন। ১৯৫১ তে তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া (কলকাতার ‘ইত্তেহাদ’ পত্রিকা, যার সম্পাদক ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ) তার সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নির্দেশে তিনি ইত্তেফাক হাতে নেন। এমআর আখতার মুকুল, ফয়েজ ভাই। ১৯৫৩-তে তিনি এটিকে দৈনিকে রূপান্তরিত করেন। মানিক মিয়ার লেখনী আওয়ামী লীগের পক্ষে দেশবাসীকে উদ্বোধনী মন্ত্রে উজ্জীবিত করেছিল। ১৯৬৯-এ তিনি মারা গেলে জ্যেষ্ঠপুত্র ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন দায়িত্ব নেন। প্রথিতযশা সাংবাদিক সিরাজউদ্দিন হোসেন হন নির্বাহী সম্পাদক। মুসলিম লীগের মুখপত্র হয়ে বের হলেও পরে সংবাদ বামধারার শক্তিশালী দৈনিকে পরিণত হয়। সংবাদ-এ ছিলেন আহমদুল কবির, সৈয়দ নূরুদ্দীন, সরদার ফজলুল করিম, সত্যেন সেন, রণেশ দাশগুপ্ত, কাজী মোহাম্মদ ইদরিস, মোহাম্মদ ওয়ালীউল্লাহ, মন্টু লোহানী, মুস্তাফা নূরউল ইসলাম, সাদেক খান, আবু তাহের আওয়াল খান, শহীদুল্লাহ কায়সার, সন্তোষ গুপ্ত, বজলুর রহমান, ফয়েজ আহমদ, কে জি মুস্তফা, মোহাম্মদ তোহা খান, শহীদ সাবের, তোয়াব খান, আলী আকসাদ। অন্য দিকে মর্নিং নিউজে ছিলেন এসজিএম বদরুদ্দীন, ওয়াহিদুল হক, হাসানুজ্জামান খান।
সাংবাদিকদের সেই স্বাধিকার আন্দোলনে ফটো সাংবাদিকদের স্মরণে না আনলে গুনাহ হবে। মোজাম্মেল হোসেন, লাল ভাই, মোয়াজ্জেম হোসেন বুলু, রশীদ তালুকদার, আফতাব আহমেদ, গোলাম মাওলা, জহিরুল হক, কামরুজ্জামান, ওয়াসে আনসারী, মোকাদ্দাস ভাই, মানু মুন্সী, মোহাম্মদ আলম, আকিল খান, জালালউদ্দিন হায়দার, রফিকুর রহমান প্রমুখ আন্দোলনের এক ফটোগ্রাফিক কাব্য রচনা করে পাঠকদের উজ্জীবিত করেছেন।
জাতীয় প্রেস কাব গঠন ও বিকাশ আজকের জাতীয় প্রেস কাবের প্রতিষ্ঠার পেছনে মূল উদ্যোগী পুরুষ ছিলেন সংবাদ সম্পাদক খায়রুল কবীর। স্বাধীন রাষ্ট্রে সাংবাদিকদের একটা প্রতিষ্ঠান চাই। খায়রুল কবীরের টিকাটুলিস্থ নাহা ম্যানসনের বাড়িতে তখন সাংবাদিকদের আড্ডা হতো। ঢাকাস্থ ভারতীয় সাংবাদিক বালান (অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস অব ইন্ডিয়া), বিলাতের ডেইলি মেইল প্রতিনিধি উইলিয়াম ননী, ‘সংবাদ’-এর সৈয়দ নূরুদ্দীন, পূর্ব পাকিস্তান সরকারের ডাইরেক্টর (ইনফরমশন) সৈয়দ মোহাম্মদ হোসেন, পাকিস্তান অবজারভার সম্পাদক আবদুল সালাম। সেস্টসম্যান পত্রিকা প্রতিনিধি এমএ ওহাব, এস জি এম বদরুদ্দীন আলোচনায় অংশ নিতেন। তাদের সঙ্গে নাজির আহমদ, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, সফিউদ্দিন আহমেদ, কামরুল হাসান, সুরশিল্পী আবদুল আহাদ প্রেস কাব গঠনে উৎসাহী ছিলেন। বিবিসি খ্যাত যশস্বী সাংবাদিক, তৎকালীন দৈনিক মিল্লাত-এর বার্তা সম্পাদক সিরাজুর রহমান বলেছেন, ১৯৫২-এর গোড়ার দিকে সংবাদ-এর বার্তা সম্পাদক সৈয়দ নূরুদ্দীন, যুগ্ম সম্পাদক জহুর হোসেন চৌধুরী ও আমাকে নিয়ে প্রেস কাব গঠনার্থে একটি কমিটি গঠিত হয়। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনকে সার্থক করার প্রক্রিয়ায় অগ্রসেনানি সাংবাদিক সমাজ একুশে ফেব্রুয়ারির পর নাব উদ্দীপনায় আরো সোৎসাহী হয়ে ওঠেন। নবগঠিত পূর্ব পাকিস্তান সাংবাদিক ইউনিয়নের সম্মেলন হল কার্জন হলে ৭ ডিসেম্বর ১৯৫২-তে। সেখানেই আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব গৃহীত হলো প্রেস কাব প্রতিষ্ঠার। বাড়ি খোঁজাখুঁজিও শুরু হলো। কিন্তু তদানীন্তন চিফ সেক্রেটারি আজিজ আহমদ রাজি নন। জনাব খায়রুল কবীর ১৯৫৪ সালে তথ্য মন্ত্রণালয়ে স্পেশাল অফিসার হিসেবে যোগ দেয়ার পর তাঁর তদবির বেড়ে যায়।
তিনি জানাচ্ছেন, ১৯৫৪ সালে ৯২ ধারার অধীনে পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক পরিবর্তন হয়ে যায়। প্রায় সামরিক শাসন। সব সামরিক শাসন বা গোত্রছাড়া কঠোর শাসন যখন প্রবর্তিত হয়, তার শুরুর দিকটাতে দুই রকম আধিক্য দেখা যায় Ñ কঠোরতার আধিক্য এবং উদারতার আধিক্য। প্রেস কাবের জন্য শহরের কেন্দ্রস্থলে অনেকখানি জায়গাজুড়ে একটি মনোরম বাড়ি বরাদ্দ করা হয় সম্ভবত শেষোক্ত কারণে। কারণ যা-ই হোক, ১৯৫৪ সালে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম প্রেস কাব আনুষ্ঠানিকভাবে স্থাপিত হয়ে গেল ঢাকাতে।
জাতীয় প্রেস কাবকে ঘিরে জাতির অগ্রগণ্য সব সাংবাদিক, যাঁদেরকে জাতীয় সত্তা বললে অত্যুক্তি হবে না, তাঁদের সাংবাদিকতা ও জাতীয় দায়িত্বে আবর্তিত হয়েছেন। পুরনো সেই লাল বাড়িটার স্মৃতি মুছে ফেলা কঠিন। মরহুম ফয়েজ আহমদ তাঁর মূল্যবান গ্রন্থ ‘সত্যবাবু মারা গেছেন’ জাতীয় প্রেস কাবকে উৎসর্গ করে লিখেছেন, যাকে কেন্দ্র করে সমস্ত সংবাদের উৎস সন্ধান ও পরিসমাপ্তি।
বাংলাদেশের সাংবাদিক-সাহিত্যিক ’৪৭-এর আগে ও পরে দু’টি ধারায় জাতির সেবায় নিয়োজিত থাকলেও (পূর্ব পাকিস্তান রেনেসাঁ সোসাইটি ও পূর্ব পাকিস্তান সাহিত্য সংসদ) ভাষা আন্দোলনে এক সুরে বাংলাভাষার পক্ষে থেকেছেন। একই সঙ্গে মিলেমিশে সাংবাদিক ইউনিয়ন গঠন করেছেন। আবার প্রেস কাবের প্রথম ব্যবস্থাপনা কমিটিতে রেনেসাঁর সভাপতি মুজীবুর রহমান খাঁকে সভাপতি এবং ‘সংবাদ’ এর যুগ্ম-সম্পাদক জহুর হোসেন চৌধুরীকে সম্পাদক করেছেন। দু’ধারার অপূর্ব সম্মিলন। ফয়েজ ভাই লিখেছেন, কাব সদস্যগণ যে কোনো রাজনৈতিক মতের সাংবাদিক হতে পারেন, যে কোনো প্রতিক্রিয়াশীল বা বিপ্লবী পত্রিকার সাংবাদিক হলেও আপত্তি নেই। সহ-অবস্থানের এক আদর্শ বিচরণ ভূমি। সহাবস্থানের ভারসাম্য রক্ষা করার ঐতিহ্য প্রেস কাব প্রতিষ্ঠার সময় থেকে এবং সিনিয়র মেম্বার বা কয়েকজন সম্পাদকই এই পরিবেশ সৃষ্টির পথপ্রদর্শক। আর একই সঙ্গে সাংবাদিকতা ও সাহিত্যের অন্তঃজ বন্ধনকে ক্রমাগত পুষ্ট করেছেন। দেশের কোন একটি সংঘে এতো সাহিত্যিক, যাঁদের অনেকেই জাতীয়ভাবে সম্মানিত, আছে কি না জানা নেই। আমাদের পূর্বসূরিরা বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠায় পর্যন্ত উদযোগী ছিলেন। এর মধ্যে সেই আমলে সাংবাদিক ইউনিয়ন প্রেস কাবের অন্যতম চালিকাশক্তি ছিল। ষাটের দশকে গোটা পাকিস্তানে ১৭ দিনের ধর্মঘট করেছিল সাংবাদিক ইউনিয়ন।
জাতীয় প্রেস কাব নিয়ে এর সদস্যরা পর্বতপ্রমাণ গৌরব বোধ করেন। পাকিস্তান আমলে স্বৈরশাসক আইয়ুবের বশংবদ গভর্নর মোনায়েম খাঁকে প্রেস কাবে ঢুকতে দেয়া হয়নি। আমন্ত্রণ জানানো তো দূরের কথা, আরেক স্বৈরাচার হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকেও কখনও দাওয়াত দেয়া হয়নি। এ নিয়ে তার যথেষ্ট আক্ষেপ। এরশাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলনে প্রেস কাব ছিল রাজনীতিকদের তীর্থকেন্দ্র, আশ্রয়স্থল।
এই প্রেস কাবের সঙ্গে প্রতিজন সদস্যের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। প্রেস কাব সবার কাছে সেকেন্ড হোম। কারো কারো ‘ফার্স্ট হোম’। জনাব ননী, খতিব সাহেব এই কাবেই থাকতেন। একবার বন্যার সময় আবদুস সালাম পরিবার অর্থাৎ জামাতা এবিএম মূসাসহ কাবেই আশ্রয় নেন। মূসা ভাইয়ের এক সন্তানের প্রজন্ম প্রেস কাবে এবং দুই মেয়ের বিয়ে সেখানেই। আর ব্যাচেলর সদস্যরা একে শ্বশুরালয়ের মতোই ব্যবহার করেছেন ও করছেন। মরহুম হুমায়ুন কবীর চৌধুরীর দুনিয়াটা ছিল প্রেস কাবেই।
প্রায় তিন একর জমির ওপর সেই ছোট্ট লাল দালানটুকু একবার হাতছাড়া হয়ে গিয়েছিল। রমনা পার্কের বিপরীতে শিল্পকলা একাডেমি সংলগ্ন স্থান কাবকে সরিয়ে দিতে বদ্ধপরিকর ছিল মুজিব সরকার। এ সংক্রান্ত ফাইলেও সরকারপ্রধান সই করেন ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি। কিন্তু এর মধ্যে পটপরিবর্তন হয়ে গেলে কাব কর্তৃপক্ষ ও শিল্পকলা একাডেমির যৌথ সম্মতিতে জিয়াউর রহমানের সরকার কাবের বর্তমান স্থানে জমি বরাদ্দ, পুরাতন বিল্ডিংয়ের মূল্য পরিশোধ এবং নতুন কাব ভবন নির্মাণে সম্পূর্ণ খরচ বহনের সহযোগিতা প্রদান করেন। কাবের ৫ বার নির্বাচিত সম্পাদক এ এস এম হাবিবুল্লাহ জানিয়েছেন : “বর্তমান স্থানে নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের জন্য প্রেসিডেন্ট জিয়ার নাম কার্যনির্বাহী পরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় (৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী স্মরণিকা)”। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কাবের অবরাদ্দকৃত আরো প্রায় ২ একর জমি বরাদ্দ দেন এবং পশ্চিম পাশে নতুন বহুতল ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। জমি রেজিস্ট্রির ওই দলিলে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমার স্বাক্ষর থাকায় আমি অহঙ্কার বোধ করি।
বাংলাদেশ রাষ্ট্র হওয়ার পর সংবাদপত্রকে অসভ্যতার আক্রোশে পড়তে হয়েছে বেশি। তাই সাংবাদিক ইউনিয়ন ও প্রেস কাবের পথ চলায় অনিশ্চয়তা ছিল বরাবরের মতোই। বাংলাভাষার অন্যতম প্রধান কবি ও গণকণ্ঠ সম্পাদক আল মাহমুদ, হলিডে সম্পাদক এ জেড এম এনায়েতুল্লাহ খান, রয়টার্স-এর আতিকুল আলম গ্রেফতার হন, অসংখ্য পত্রিকা বন্ধ ও সাংবাদিকের কর্মচ্যুত করা হয়। বিবিসির আতাউস সামাদ ও আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে কারাগারে নিক্ষেপ, চ্যানেল ওয়ান ও দিগন্ত টিভি বন্ধ, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ড, আইসিটি অ্যাক্ট এবং গণবিরোধী জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা প্রভৃতি নিয়ে এবং বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন প্রেস কাব এখনো সাহসের জায়গা। এরশাদের বিরুদ্ধে গণ-অভ্যুত্থানটা প্রেস কাবকে সামনে রেখেই হয়েছে।
‘কিছু করার দায়িত্ব’ সাংবাদিকতা, সাহিত্য ও প্রেস কাবকে জন্মদিন থেকেই ব্যস্ত রেখেছে। স্বপ্ন দেখা ও দেখানো ছাড়া সাংবাদিকতার লক্ষ্যে তৃতীয় ও শেষ স্বপ্ন যদি কিছু থেকে থাকে তবে সেটা সমাজ ও জীবনের প্রবাহে এক ধরনের হস্তক্ষেপের। জাতীয় জীবনে কালো মেঘের সঞ্চার হলেই আলোর জন্য মানুষ ধাবিত হয় তোপখানা রোডে প্রেস কাবের দিকে। এর পরও অন্তরঙ্গে কাব আমাদের জন্য এমন যে, দার্শনিক পাস্কালের সেই উচ্চারণেই আমরা আশ্রয় নিই Ñ ‘হৃদয়েরও কিছু যুক্তি আছে, যুক্তি যার কিছুই জানে না।’ ফয়েজ ভাইয়ের কথাটা এখনো কানে বাজে, “বুঝলা শওকত, প্রেস কাবটা সাংবাদিকদের কাছে একটা ছোটখাটো পৃথিবী। এই ধর আনন্দ উল্লাস, হাসি-কান্না, মিষ্টি-ঝাল খাবার, তাস-দাবা, বন্ধুতা-শত্রুতা, সাংস্কৃতিক আন্দোলন, রাজনৈতিক চেতনা, চিত্রকলা প্রদর্শনী, সুসময়-দুঃসময়, জ্ঞান বিকাশ, জ্ঞান প্রকাশ, স্ফূর্তিতে হাসাহাসি, বৈরিতায় হাতাহাতি, এমনকি গ্রেফতার, মুক্তি ঘোষণা এবং বুলেট-শেল পর্যন্ত।”
শওকত মাহমুদ : সাবেক সভাপতি
জাতীয় প্রেস কাব
সভাপতি, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন
কলাম্বিয়ার সাংবাদিক ও নোবেলবিজয়ী ঔপন্যাসিক গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস-এর সাংবাদিক সম্বন্ধীয় এই নিখুঁত পর্যবেক্ষণকে উল্লেখপূর্বক বাংলাদেশের অগ্রগণ্য সাংবাদিক জাতীয় প্রেস কাবের ডাকসাইটে সাবেক সভাপতি মরহুম এ জেড এম এনায়েতুল্লাহ খান (মিন্টু ভাই) আরও এগিয়ে বলেছিলেনÑ “চার দশকেরও বেশি সময় ধরে মার্কেসের মূর্ত ভাষাশৈলীর বিস্তারের মতো অনুপম রোমান্টিকতায় আচ্ছন্ন হয়েছি, বেগবান অশ্বের মতো ধাবিত হয়েছি, যুধ্যমান সৈনিকের মতো শব্দের হাতিয়ার দিয়ে বৈরী শক্তিকে বিদ্ধ করেছি। আবার পরম মমত্ব দিয়ে তৈরি শব্দাবলীর ঝাঁপি দিয়ে অনুরাগের মিনার সোপানে অর্পণ করেছি।” মিন্টু ভাইয়ের অনুপম রোমান্টিকতার অর্থ সাংবাদিক নিজে স্বপ্ন দেখে, পাঠক-দর্শককে স্বপ্ন দেখায়। এর বাইরেও আরেক দায়িত্ব, সমাজে হস্তক্ষেপের। বিদ্ধ করা বৈরী শক্তিই অন্যায় অবিচার পরাধীনতা অগণতান্ত্রিকতা।
জন্ম থেকেই সাংবাদিকতা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার প্রতিস্পর্ধী ভূমিকায়। এ সত্যটা আরও বেশি করে বাঙময় বঙ্গ-পাক-ভারত উপমহাদেশে তথা বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে এবং ধারাবাহিকভাবেই তাদের দিনলিপি নির্মিত হয়েছে শুধু সত্য-তথ্যের জ্ঞাপনে নয়, বরঞ্চ দ্রোহে এবং জাতি গঠনে, ভাষা-সংস্কৃতির সুস্থ বিকাশের বুনিয়াদে। বিশ্বের আর কোনো অঞ্চলে বা জাতিতে সাংবাদিকতা এমন প্রবলভাবে স্বাধীনতা-দেশমুখী, ফ্যাসিবাদবিরোধী, গণতন্ত্রকেন্দ্রিক, সত্য-ন্যায়ের নিশান-বরদার কি না জানি না। নইলে পাকিস্তান সৃষ্টির আগেই কেন সাংবাদিকেরা স্বাধীন পূর্ব পাকিস্তানের জন্য, স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য আওয়াজ দেবেন, চিন্তার রাজ্যের বৈপ্লবিক পরিবর্তনের জন্য রেনেসাঁর উদ্যোগ নেবেন, বাংলাকে মাতৃভাষা করার জন্য ১৯৪২ থেকেই আন্দোলন শুরু করবেন এবং ’৪৭ সালে ‘পূর্ববঙ্গ সাংবাদিক সংঘ’ সরকারের কাছে স্মারকলিপি দেবে। কেন বায়ান্নর একুশেতে ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণের প্রতিবাদে ‘আজাদ’ সম্পাদক আবুল কালাম শামসুদ্দীন প্রাদেশিক পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেন? ২৬ ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনারের উদ্বোধক তিনি। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো ২১ ফেব্রুয়ারি’-অমর এই গানটির রচয়িতা সাংবাদিক আবদুল গাফফার চৌধুরী এবং একুশের প্রথম এবং অপ্রতিদ্বন্দ্বী সঙ্কলনটির সম্পাদক একজন সাংবাদিক হাসান হাফিজুর রহমান। ’৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান ও স্বাধীনতা সংগ্রামের সম্মুখ-সৈনিক হয়েছেন এই সাংবাদিক সমাজ এবং বাংলাদেশের সকল স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে অনাপোস আন্দোলন করবেন এবং এসব আবর্তিত হয়েছে ‘জাতীয় প্রেস কাব’ নামক নিরন্তর সংগ্রামে অমলিন প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে।
১৯৫৪ সালে প্রেস কাবের আনুষ্ঠানিক জন্ম এবং এর গঠনতন্ত্রে ‘জাতীয় মুক্তি সংগ্রাম’ শব্দত্রয়ের সন্নিবেশন কোনো রোমান্টিকতা ছিল না বরং গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার জন্য জাতীয় আত্মার আকুতি ধারণেরই পরিচয়। এক সংগ্রামী প্রয়াস ছিল সে পর্বটি। জীবনের নানাক্ষেত্রে কৃতী পুরুষ এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম উদযোগী পুরুষ এবং সংবাদ-এর সাবেক সম্পাদক মরহুম খায়রুল কবীর কী আবেগেই না বলেছিলেন Ñ “আমার জীবনের বড় সাফল্য ‘জাতীয় প্রেস কাব’ প্রতিষ্ঠা।” তারুণ্যে টগবগ খায়রুল কবীরের বয়স তখন সাতাশ-আটাশ। আরেক প্রবীণ সদস্য ও এক সময়ের চোস্ত রিপোর্টার আবদুর রহিমের মতে ‘প্রেস কাব বাংলাদেশের রাজনীতির সূতিকাগার’। দৈনিক বাংলার বরেণ্য রিপোর্টার, পর্যবেক্ষণ-বিশ্লেষণে তীè মরহুম মাশির হোসেন এই সত্যই উচ্চারণ করেছিলেন Ñ ‘প্রেস কাব শুধু ভবনগত অবকাঠামোই নয়। এর মানসবিহার অনেক বিস্তৃত। বর্তমানের বারান্দায় দাঁড়িয়ে টের পাই অতীত ও ভাবীকালের করমর্দন। প্রেস কাবের ব্যাপ্তি ৫৬ হাজার বর্গমাইলজুড়েই।”
আমাদের সাংবাদিকতার ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত রাজনীতির ইতিহাস। ‘বাংলাদেশের দেড় শ’ বছরের সংবাদপত্র বাংলাদেশের প্রকৃত ইতিহাস, (সৈয়দ আবুল মকসুদ) ইতিহাসের এক পর্বে প্রাধান্য পেয়েছে কলকাতাকেন্দ্রিক স্বাধিকারমুখী সাংবাদিকতা। ’৪৭ সালের পর থেকে স্বকীয়তা নির্মাণের ও স্বাধীনতার সংগ্রামের অভিনিবেশে আরেক অধ্যায়। আর বাংলাদেশ আমলে গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের লড়াইয়ে ঠাসা আরেক চলমান ইতিহাস। সংবাদচর্চার মূলে রয়েছে সামাজিক চর্চা। সময় ও সমাজ যেমন তার পশ্চাৎপট, তেমনই ইতিহাসসচেতনতা হলো তার অস্তিত্বের গুরুত্ব নিয়ামক (বিংশ শতাব্দীর সংবাদপত্র : বাংলা দৈনিক পত্রিকা : কৃষ্ণ ধর)। ঊনবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে শ্রীরামপুরের মিশনারিদের উদ্যোগে ‘সমাচার দর্পণ’ (১৮১৮) ও দিগদর্শন (১৮১৮) এবং একই বছরের গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্যের ‘বঙ্গাল গেজেটি’ পত্রিকা প্রকাশের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষায় মুদ্রণমাধ্যমের সূত্রপাত। ১৮৩১ সালের ৭ মার্চ বেরোয় মুসলমান সম্পাদিত প্রথম বাংলা পত্রিকা ‘সমাচার সভা রাজেন্দ্র’। খ্রিষ্টধর্ম বাংলাসহ স্থানীয় ভাষাগুলোতে প্রচারের জন্য শ্রীরামপুরে ছাপাখানা আমদানি এবং বাংলা গদ্যের প্রচলন করেন পাদ্রি উইলিয়াম কেরি। এর আগে সুলতান কুতুবউদ্দিনের আমল (১২০১) থেকে ইংরেজ গভর্নর জেনারেল উইলিয়াম বেন্টিংক (১৮৩৬) পর্যন্ত সাড়ে ৬ শ’ বছর ফার্সি ভাষা উপমহাদেশে লিংগুয়া ফ্রাঙ্কা, অফিস-আদালত ও শিক্ষার মাধ্যম ছিল। আর পল্লী অঞ্চলে পুঁথির ভাষা ছিল বহুলভাবে প্রচলিত। মধ্যযুগে গৌড়ের সুলতানি আমলে পুঁথিসাহিত্য অনুবাদ সাহিত্য এবং পরে গদ্যের মাধ্যমে বাংলা ভাষার বিবর্তনে যে বৈপ্লবিক বিকাশ সাধিত হয় তাতে কবি শাহ মুহম্মদ সগীর, সৈয়দ হামজা, সৈয়দ সুলতান, সৈয়দ আলাউদ্দিন আর সপ্তদশ শতকে কাব্য ও পুঁথিতে বাংলা ভাষা-বিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ধ্বনি উচ্চারণকারী কবি আবদুল হাকিম রাখেন অসামান্য অবদান। আজও আবদুল হাকিমের এই পঙ্ক্তিগুলি রাষ্ট্রভাষা দিবসে আমরা স্মরণ করি : “যে জন বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী/ সে জন কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি” (সানাউল্লাহ নূরী, সভ্যতার বিবর্তন এবং বাংলা সংবাদপত্র বিকাশের যুগ)। ‘যদি পলাশী ক্ষেত্রে বাংলার মুসলমানদের ভাগ্য বিপর্যয় না ঘটিত, তবে হয়ত এই পুঁথির ভাষাই বাংলার হিন্দু মুসলমানদের পুস্তকের ভাষা হইত।” (ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সংবর্ধনা গ্রন্থ) বাংলাক্রমে সংস্কৃতপ্রধান হয়ে ওঠে।
বাঙালি মুসলমান কর্তৃক সংবাদপত্র প্রকাশের চেষ্টা সম্ভবত ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দে। তখন কয়েকজন উদ্যমশীল মুসলমান সাহিত্যিকের আবির্ভাব হয় Ñ যাঁদের সমাজ হিতৈষণা মুসলিম বাংলার ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই সমাজপ্রাণ সাহিত্যিক গোষ্ঠী হচ্ছে : মুন্সী মোহাম্মদ রিয়াজউদ্দিন আহমদ, পণ্ডিত রেয়াজউদ্দিন মাশহাদী, মৌলভী সেরাজুদ্দীন, মুন্সী মোহাম্মদ মেহেরুল্লাহ, মীর্জা মোহাম্মদ ইউসুফ আলী, শেখ আবদুর রহীম, শান্তিপুরের কবি মোজাম্মেল হক, মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, ইসমাইল হোসেন সিরাজী, মওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ, শেখ ফজলুল করিম, এয়াকুব আলী চৌধুরী, ডা. লুৎফর রহমান প্রমুখ। বাংলার মুসলমানের দুঃখ-দৈন্য, অভাব-অভিযোগ এদের প্রাণে তীব্র জ্বালার সৃষ্টি করেছিল। এঁরা বুঝতে পারেন বাংলার মুসলমানের অভাব-অভিযোগ দুঃখ-বেদনা ব্যক্ত করার জন্য চাই তার একটা বাংলা ভাষার সাপ্তাহিক মুখপত্র। ১৮৮৯ সালে বের হয় ‘সুধাকর’, বিষাদ সিন্ধু খ্যাত মীর মশাররফ হোসেন সে যুগের শুধু আদি সাহিত্যিকই নন, তিনি আমাদের আদি সাংবাদিকও। ‘হিতকরী’ নামে একটি বাংলা সাপ্তাহিক সংবাদপত্রের তিনি সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতা। (মুসলিম বাংলার সাংবাদিকতা ও আবুল কালাম শামসুদ্দীন, মোহাম্মদ মাহ্ফুজউল্লাহ্)।
মূলত সাহিত্যিক-সাংবাদিক এবং সাংবাদিক-সাহিত্যিক এ দু’টি পরিচয় প্রায় অভিন্ন হয়ে উঠেছিল ব্রিটিশবিরোধী সাংবাদিকতায়। আমাদের সাংবাদিকতার ইতিহাসে সাহিত্য সেবক ও সংবাদজীবীর যুগ্মসত্তাকে ধারণ করা গুণীজনের সংখ্যা অনেক বেশি। এখনও এবং তালিকাটা ঈর্ষণীয়ভাবেই দীর্ঘ। “তথ্যকে ন্যায্যভাবে যুক্তি দিয়ে বিন্যস্ত করাই সাংবাদিকতার ধর্ম। ভাষা তার কাঠকাঠ। সংবাদপত্র হচ্ছে এক সম্মিলিত স্বপ্ন, যা আমরা দেখি দিনের পর দিন। রচিত হয় Literature in hurry সাহিত্যও এক ধরনের স্বপ্ন। রোজ দিনজুড়ে রাতজুড়ে তৈরি হচ্ছে না বা প্রাতঃরাশের টেবিল থেকে সংক্রামকভাবে বিস্তারিত হচ্ছে না, তবে এক ব্যাপক বিস্তীর্ণ সূক্ষ্ম, অলক্ষ্য, চোরাগোপ্তা ধারায় ছেয়ে থাকছে আমাদের জীবনে। সংবাদপত্রের সাড়াজাগানো শিরোনামের তুলনায় সাহিত্যের এই প্রচার অনেক সীমিত, অনেক নির্জন, কিন্তু এর দ্বারা অঙ্কুরিত স্বপ্নের চরিত্র অনেক বেশি। সাহিত্যের জন্মই এক অদৃশ্য কিন্তু অপ্রতর্ক্য হস্তক্ষেপে, জীবন, সমাজ, ঘটনা ও ইতিহাসকে একেবারে নিজের মতো করে ভেঙে-গড়ে, ভেঙে-গড়ে, ভেঙে-গড়ে, ভেঙে-গড়ে, গড়ে-গড়ে, গড়ে একেবারে এক সমান্তরাল, বিকল্প সত্যে নির্মিত করায় (সাহিত্য ও সাংবাদিকতা : শংকরলাল ভট্টাচার্য)।”
আমাদের কিংবদন্তির পূর্বসূরিরা সংবাদ ও সাহিত্যচর্চার মধ্য দিয়ে জাতির মনোরাজ্যে এক বিপ্লব সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম একাধিক পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। ১৮৮৯ সালের নবজাগ্রত স্বাধীনতাকে দমন করার লক্ষ্যে ইংরেজ সরকার কুখ্যাত সিডিশন বিল পাস করে। বিল পাস হওয়ার আগের দিনে কলকাতার টাউন হলে আহূত প্রতিবাদ সভায় ‘কণ্ঠরোধ’ শিরোনামের এক প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদ প্রকাশের অধিকারকে ‘একটি পরশাসিত জাতির আত্মসম্মান প্রতিষ্ঠার একটি অপরিহার্য অবলম্বন’ বলে ঘোষণা করেছিলেন। ইংরেজ শাসকদের উদ্দেশে বলেছিলেন “সিপাহী বিদ্রোহের পূর্বে হাতে হাতে যে রুটি বিলি হইয়াছিল তাহাতে একটি অক্ষরও লেখা ছিল না Ñ সেই নির্বাক নিরক্ষর সংবাদপত্র কি যথার্থ ভয়ঙ্কর নহে? সর্পের গতি গোপন এবং দংশন নিঃশব্দ। সেই জন্যই কি তাহা নিদারুণ নহে? সংবাদপত্র যতই অধিক এবং যতই অবাধ হইবে, স্বাভাবিক নিয়ম অনুসারে দেশ ততই আত্মগোপন করিতে পারিবে না।”
ষাট দশকে সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধে প্রেস অর্ডিন্যান্স জারির প্রতিবাদে বরেণ্য জাতীয় সন্তান সাংবাদিক-সাহিত্যিক মওলানা আকরম খাঁর নেতৃত্বে আবদুস সালাম, তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া, জহুর হোসেন চৌধুরী প্রমুখের অংশগ্রহণে জাতীয় প্রেস কাব থেকে এক ঐতিহাসিক মিছিল বেরিয়েছিল। বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানীর ভাষায় : আমার তো মনে হয় এত বড় মিছিল বোধহয় পাকিস্তান কিংবা বাংলাদেশে আমলে আর বেরোয়নি (পঞ্চাশ বছরের সাংবাদিকতা : জাতীয় প্রেস কাব)।
যা হোক, ওই কুখ্যাত সিডিশন বা রাজদ্রোহ আইনে কারানির্যাতিত প্রথম সাংবাদিক ছিলেন কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তাঁর সম্পাদিত ‘ধূমকেত’ু পত্রিকায় প্রকাশিত আনন্দময়ীর আগমনে (আর কতকাল থাকবি বেটি মাটির ঢেলার মূর্তি আড়াল) কবিতার জন্য এক বছরের কারাদণ্ড পান। নজরুলের সম্পাদকীয় রচনার ভাষা ছিল তেজোদৃপ্ত। উদ্ধৃতি দিচ্ছি একটি সম্পাদকীয় (নিশান-বরদার) থেকে : “আমাদের বিজয় পতাকা তুলে ধরবার জন্য এসো সৈনিক। পতাকার রং হবে লাল তাকে রং করতে হবে খুন দিয়ে। বল আমরা পেছোব না। বল আমরা সিংহ শাবক আমরা খুন দেখে ভয় করি না। আমরা খুন নিয়ে খেলা করি, খুন দিয়ে কাপড় ছোপাই, খুন নিয়ে নিশান রাঙাই। বল আমি আছি আমি পুরুষোত্তম জয়। বল মাভৈঃ জয় সত্যের জয়। আমি আছি বলে নিশান হাতে তুলে নাও। এসো দলে দলে নিশানধারী বীর সৈনিক ভাইরা আমরা। নিজেকে সৈনিক বলে প্রচার করি এসো। এসো শয়তানকে অর্ধেক পুঁতে ফেলে তার মাথার উপর তাদেরি মাথার মগজের চর্বি দিয়ে চেরাগ জ্বালাই। শয়তানকে দগ্ধ করে মারতে হবে। এই কথা বলে বেরিয়ে এসো Ñ আমি আছি আমাতে আমিত্ব আছে, আমি পশু নই, আমি মনুষ্য, আমি পুরুষ সিংহ। আমাদের বিজয়ী হতে হবে। বিজয় পতাকা ওড়াতে হলে খুন খোসরোজ খেলতে হবে। ধর ধর এক হাতে ভীম খড়গ সর্বনাশের ঝাণ্ডা Ñ আর এক হাতে ধর রক্তমাখা পতাকা। আমাদের এই বিজয় মঙ্গলের সময় যদি কেউ বাধা দিতে আসে তবে তাকে বড় থেকে অর্ধেক ছাড়িয়ে নিয়ে অর্ধেক সাগর জলে ভাসিয়ে দাঁড় আর অর্ধেক খানা সেখানে পড়ে দুপায়ের গিঁটে যেন ঠোকাঠুকি করে।”
সে সময় ইউরোপীয় বণিকদের স্বার্থ রক্ষার জন্য যেমন ইংরেজি পত্রিকা প্রকাশিত হতো তেমনি ভারতীয় হিন্দুরাও দ্য হিন্দু প্যাট্রিয়ট, দ্য বেঙ্গলি, ইন্ডিয়ান মিরর, অমৃতবাজার পত্রিকা, দ্য ট্রিবিউন, দ্য মারাঠা প্রকাশ করে। ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়, অরবিন্দ ঘোষ, ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত, বিপিনচন্দ্র পাল প্রমুখ তাদের সংবাদপত্র দ্বারা স্বদেশী আন্দোলন চাঙ্গা ও বঙ্গভঙ্গ রোধে উত্তপ্ত ভূমিকা রাখেন। প্রথম মহাযুদ্ধের শেষ (১৯১৯) এবং দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের শুরুর (১৯৩৯) মধ্যবর্তী দুই দশকে বাংলার সংবাদপত্রের চেহারা বদলে যায়। রাজনৈতিক দিক দিয়ে তিন ধরনের পত্রিকা ছিল। এক পক্ষ কংগ্রেসের সমর্থক, অন্যপক্ষ নবজাগ্রত মুসলিম লীগের অনুসারী (আজাদ, মোহাম্মদী, স্টার অব ইন্ডিয়া, মর্নিং নিউজ) আর তৃতীয় পথ বামধারার। সংবাদপত্র, সাময়িকপত্রের সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করে প্রেস কাবের সদস্য, পরিশ্রমী গবেষক মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া ‘হিস্টরি অব দ্য প্রেস ইন বাংলাদেশ’ প্রকাশ করে জাতির সশ্রদ্ধ সমীহা অর্জন করেছেন।
“১৯৩৫ এর ভারত শাসন আইন অনুযায়ী সাম্প্রদায়িক বাটোয়ারার ভিত্তিতে ১৯৩৭ এর জানুয়ারিতে প্রাদেশিক আইনসভার প্রথম ভোট থেকে বাংলা কাগজগুলোর ভেতরের এসব রাজনীতির সূক্ষ্ম ভাগাভাগি মুছে গেল। সব কাগজই তারস্বরে সাম্প্রদায়িক হয়ে গেল। সাম্প্রদায়িকতার জিভ ছিল সাপের জিভের মতো কাটা। তার এক ডগা মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিষ ছড়াত, আর এক ডগা তপশিলি জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। এই দুই শত্রুর কাছে ব্রিটিশবিরোধী জাতীয়তাবাদ এত তুচ্ছ হয়ে গিয়েছিল যে আগস্ট আন্দোলনের খবরও এসব কাগজে যথেষ্ট কম বেরোয়। হিন্দু কাগজগুলোর এই সাম্প্রদায়িকতার প্রতিক্রিয়া ও মুসলমান সমাজের রাজনৈতিক স্বাধিকারের আন্দোলনের প্রয়োজনে আজাদ ও ইত্তেফাক দুইটি মুসলিম সাম্প্রদায়িকতার পোষকতা শুরু করে। বাংলা খবরের কাগজে বাঙালির যে বৈশিষ্ট্য তৈরি হয়েছিল, তার জায়গায় নতুন এই বাঙালি বৈশিষ্ট্য এল চিৎকৃত সাম্প্রদায়িকতা। ১৯৪০ থেকে প্রায় ১৯৭০ পর্যন্ত এই বিদ্বিষ্ট, চিৎকৃত, বিকারগ্রস্ত ও অপ্রমাণিত সংবাদনির্ভর সাংবাদিকতা বাংলার প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল (ঔপন্যাসিক দেবেশ রায় : খবর বলছি ..... সম্প্রচারের ভাষা ও ভঙ্গি)। “মুসলিম লীগ সমর্থক পত্রিকাগুলি” ৪৭-এর পর ঢাকায় চলে যায়। রাজনীতির প্রশ্নে এই পত্রিকাগুলির সঙ্গে কলকাতার অন্যান্য সংবাদপত্রগুলির নিয়মিত চাপান উতোর চলত। এমনকি আজাদ পত্রিকার আরবি ফারসি শব্দ মেশানো বাংলা ভাষার ব্যবহার নিয়ে নানা রকম ব্যঙ্গবিদ্রƒপও করা হতো। কিন্তু ইতিহাসের এমনই অনির্দেশ্য কুটিল গতি যে পূর্ব পাকিস্তানে উর্দু চাপাবার ষড়যন্ত্র হলে আজাদ ও ইত্তেফাক তার বিরোধিতা করে। (কৃষ্ণ ধর : বিংশ শতাব্দীর সংবাদপত্র : বাংলা দৈনিক পত্রিকা, বাংলা আকাদেমী পত্রিকা)।
মোহাম্মদ মাহ্ফুজউল্লাহ্র বয়ানে জানা যায়, মুসলিম বাংলার সাহিত্য-সাংবাদিকতার অগ্রনায়কদের উদ্যোগে এবং অকান্ত প্রচেষ্টায় প্রকাশিত পরিচালিত ও সম্পাদিত মাসিক, পাক্ষিক, সাপ্তাহিক পত্রপত্রিকার মাধ্যমেই বাংলার মুসলমানের সাহিত্যচর্চা ও সাংবাদিকতা ব্যাপকতা লাভ করে.... বিভাগপূর্বকালে যেমনি বিভাগ পরবর্তীকালেও তেমনি আমাদের অনেক সাংবাদিক-সাহিত্যিকের রচনাই সাংবাদিকতার প্রয়োজনে সৃষ্ট হলেও স্থানীয় আবেদনের অধিকার অর্জন করেছে।
স্বতন্ত্র জাতীয়তা
ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী জাতীয় মুসলমানদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের দাবির পটভূমি সম্পর্কে বলেছেন, কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা ১৮৮৫ সালে, মুসলমানরা কংগ্রেসের পাল্টা সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন ঢাকায়, ১৯০৬ সালে। শুরুতে কংগ্রেস ও লীগের ভেতর উদ্দেশ্যগতভাবে এক বিষয়ে মিলন ছিল উভয় প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য, ছিল ভারতীয়দের ভেতর শাসকদের প্রতি আনুগত্য গড়ে তোলা। বিচিত্র অভিজ্ঞতা সমাকীর্ণ পতন বন্ধুর যাত্রাপথে সংগঠন দু’টি ক্রমান্বয়ে শাসকদের পরিবর্তে দেশের স্বাধীনতার নিকটবর্তী হতে চেয়েছে, কিন্তু কখনো সম্পূর্ণভাবে এক হয়ে যেতে পারেনি। তাদের প্রবাহ ছিল সময়েই কম-বেশি সমান্তরাল। তার কারণ স্পষ্টতই এই যে, মুসলিম সংখ্যালঘুরা হিন্দু সংখ্যাগুরুকে ভয় না করে পারেননি। কংগ্রেস যে স্বাধীনতার কথা বলতেন সেখানে ভারতীয় মুসলিম নিজের জন্য নতুন এক পরাধীনতার নিগড় দেখে শিউরে উঠেছেন। সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক জীবনেও এই ভীতির কারণগুলো অত্যন্ত স্পষ্ট ও বাস্তব (সাহিত্যে আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের দাবি : পাকিস্তান আন্দোলন ও মুসলিম সাহিত্য)।
রেনেসাঁ আন্দোলন
মুসলিম মানসে স্বকীয়তার উত্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কলকাতায় ১৯৪২ সালে সাংবাদিক-সাহিত্যিকেরা রেনেসাঁ আন্দোলনের সূচনা ঘটান। ১৯৪০ সালের ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব পাসের পরবর্তী পর্যায়ে এবং রাজনৈতিক আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আন্দোলন সূচিত হলেও রাজনৈতিক স্বাধীনতা তথা মুক্তি অর্জনের লক্ষ্যে সাংস্কৃতিক অর্থনৈতিক ও জাতীয় জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রে নবজাগরণ তথা রেনেসাঁ আনয়নই ছিল এর অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য। ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবে পাকিস্তান কথাটি ছিল না বটে, তবে তাতে ছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল নিয়ে দু’টি স্বতন্ত্র স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার। এ সূত্রেই রেনেসাঁ আন্দোলনের নায়করা ধরে নিয়েছিলেন যে, পাকিস্তান পরিকল্পনা অনুসারে ও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল নিয়ে গঠিত পূর্বাঞ্চলীয় রাষ্ট্র পূর্ব পাকিস্তান হবে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র, কিন্তু পরবর্তীকালে বাস্তবে তা ঘটেনি এবং ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগ ও (সাবেক) পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হয় লাহোর প্রস্তাবের মর্মবাণীকে অগ্রাহ্য করে; ১৯৪৬ সালে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগের কনভেনশনে অনুমোদিত দুই রাষ্ট্রের বদলে এক রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব অনুসারে। কিন্তু দেশ ভাগের আগেই ১৯৪২ এরও আগে, পূর্ব পাকিস্তান কথাটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও প্রতীক হিসেবে চালু হয়ে গিয়েছিল এবং বুদ্ধিজীবীদের মনোরাজ্যেও ঠাঁই করে নিয়েছিল। এ কারণেই পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আগে ১৯৪২ সালে কলকাতায় ‘পূর্ব পাকিস্তান রেনেসাঁ সোসাইটি’ এবং ঢাকায় ‘পূর্ব পাকিস্তান সাহিত্য সংসদ’ প্রতিষ্ঠিত হতে পেরেছিল। দু’টি সংস্থা গঠনেই ‘আজাদ’ সম্পাদক আবুল কালাম শামসুদ্দীনের অনুপ্রেরণা এবং মুজীবুর রহমান খাঁর উদ্যোগী ভূমিকা ছিল। বস্তুত দু’টি সংস্থাই মূলত সাংস্কৃতিক আন্দোলনের উদ্দেশ্যে গঠিত এবং পরিচালিত হলেও রাজনৈতিক লক্ষ্যও এতে অন্তরিত ছিল’। (মুসলিম বাংলার সাংবাদিকতা ও আবুল কালাম শামসুদ্দীন : মোহাম্মদ মাহ্ফুজউল্লাহ্)
রাষ্ট্রভাষা বাংলা
রেনেসাঁর নায়কেরা ১৯৪২-৪৩ সাল থেকেই বাংলাকে পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চিন্তা করেছেন। ‘পাকিস্তানের আন্দোলনকালে ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবোধই প্রবল হয়। কিন্তু এ দেশের মুসলমান সমাজ যে বাঙালি পরিচয়কে গৌণ করে দেখেনি, তারও নানা প্রমাণ আছে। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আগেই বাংলাভাষাকে নতুন রাষ্ট্রের, রাষ্ট্রভাষার মর্যাদাদানের দাবি উঠেছিল (জাতীয়তাবিষয়ক ভাবনা, ডক্টর আনিসুজ্জামান, এপিটাফ ১৯৮০)।
মওলানা আকরম খাঁ, মুজীবুর রহমান খাঁ, হবীবুল্লাহ বাহার, আবুল কালাম শামসুদ্দীন, আবুল মনসুর আহমদ, তালেবুর রহমান, আবদুল হক, ফররুখ আহমদ তাঁদের নানা রচনায় এ বিষয়টি তুলে ধরেন।
সে সময় আরও তিনটি জাতীয় দৈনিকের উল্লেখ না করলে সাংবাদিকতা ও বাংলাদেশের ইতিহাস অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। পাকিস্তান অবজার্ভার, ইত্তেফাক ও সংবাদ আমাদের জাতীয় মুক্তিসংগ্রামকে উচ্চশিখরে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করে। এই তিনটি পত্রিকাকে বিশেষ বিশেষ রাজনৈতিক বক্তব্যের জন্য সরকার কয়েকবার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। মানিক মিয়া, আবদুস সালাম ও জহুর হোসেন চৌধুরী Ñ এই তিন সম্পাদক আইয়ুব-মোনেমের জন্য ছিলেন মস্ত শিরঃপীড়া। তাঁরা প্রেস কাবকে তরুণ সাংবাদিকদের মতো সম্পৃক্ত করে নিতে চেষ্টা করতেন। তখন থেকেই প্রেস কাবের ‘কাব চরিত্রের’ বুনিয়াদ (আমাদের পৃথিবী, সেলবিদ্ধ প্রেস কাব : ফয়েজ আহমদ)। পাকিস্তান অবজার্ভার বেরুল ১৯৪৯-এ। মালিক স্মরণীয় আইনজীবী ও মুসলিম লীগ নেতা হামিদুল হক চৌধুরী। পত্রিকাটি প্রথম রোটারি মেশিনে ছাপা উপলক্ষে সগর্বে ঘোষণা দিয়েছিল Ñ এখন থেকে অবজারভার ইংল্যান্ড থেকে আনা রোটারি মেশিনে, রাশিয়ান নিউজপ্রিন্টে ভারত থেকে আনা কালিতে ছাপা হয়ে পাঠকদের হাতে পৌঁছবে। কিংবদন্তি সাংবাদিক আবদুস সালাম পরের বছর এর সম্পাদক হিসেবে যোগ দিলেন। মাহবুব জামাল জাহেদী, এসএম আলী, ওবায়দুল হক, এবিএম মূসা, এজেডএম এনায়েতুল্লাহ খান, শহীদুল হক, আবদুল মতিন, বদরুল হক, আসাদুজ্জামান বাচ্চু, আবদুর রহিম, আতাউস সামাদ প্রমুখ উজ্জ্বল সাংবাদিকগণ পাকিস্তান অবজারভারকে বাঙালি জাতির অন্যতম দিশারিতে পরিণত করেন। মওলানা ভাসানীর তত্ত্বাবধানে ইয়ার মোহাম্মদ খানের অর্থানুকূল্যে ও সম্পাদনায় ১৯৪৯ সালে সাপ্তাহিক ইত্তেফাক বেরোয়। আবু জাফর শামসুদ্দীন পরে সম্পাদক হন। ১৯৫১ তে তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া (কলকাতার ‘ইত্তেহাদ’ পত্রিকা, যার সম্পাদক ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ) তার সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নির্দেশে তিনি ইত্তেফাক হাতে নেন। এমআর আখতার মুকুল, ফয়েজ ভাই। ১৯৫৩-তে তিনি এটিকে দৈনিকে রূপান্তরিত করেন। মানিক মিয়ার লেখনী আওয়ামী লীগের পক্ষে দেশবাসীকে উদ্বোধনী মন্ত্রে উজ্জীবিত করেছিল। ১৯৬৯-এ তিনি মারা গেলে জ্যেষ্ঠপুত্র ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন দায়িত্ব নেন। প্রথিতযশা সাংবাদিক সিরাজউদ্দিন হোসেন হন নির্বাহী সম্পাদক। মুসলিম লীগের মুখপত্র হয়ে বের হলেও পরে সংবাদ বামধারার শক্তিশালী দৈনিকে পরিণত হয়। সংবাদ-এ ছিলেন আহমদুল কবির, সৈয়দ নূরুদ্দীন, সরদার ফজলুল করিম, সত্যেন সেন, রণেশ দাশগুপ্ত, কাজী মোহাম্মদ ইদরিস, মোহাম্মদ ওয়ালীউল্লাহ, মন্টু লোহানী, মুস্তাফা নূরউল ইসলাম, সাদেক খান, আবু তাহের আওয়াল খান, শহীদুল্লাহ কায়সার, সন্তোষ গুপ্ত, বজলুর রহমান, ফয়েজ আহমদ, কে জি মুস্তফা, মোহাম্মদ তোহা খান, শহীদ সাবের, তোয়াব খান, আলী আকসাদ। অন্য দিকে মর্নিং নিউজে ছিলেন এসজিএম বদরুদ্দীন, ওয়াহিদুল হক, হাসানুজ্জামান খান।
সাংবাদিকদের সেই স্বাধিকার আন্দোলনে ফটো সাংবাদিকদের স্মরণে না আনলে গুনাহ হবে। মোজাম্মেল হোসেন, লাল ভাই, মোয়াজ্জেম হোসেন বুলু, রশীদ তালুকদার, আফতাব আহমেদ, গোলাম মাওলা, জহিরুল হক, কামরুজ্জামান, ওয়াসে আনসারী, মোকাদ্দাস ভাই, মানু মুন্সী, মোহাম্মদ আলম, আকিল খান, জালালউদ্দিন হায়দার, রফিকুর রহমান প্রমুখ আন্দোলনের এক ফটোগ্রাফিক কাব্য রচনা করে পাঠকদের উজ্জীবিত করেছেন।
জাতীয় প্রেস কাব গঠন ও বিকাশ আজকের জাতীয় প্রেস কাবের প্রতিষ্ঠার পেছনে মূল উদ্যোগী পুরুষ ছিলেন সংবাদ সম্পাদক খায়রুল কবীর। স্বাধীন রাষ্ট্রে সাংবাদিকদের একটা প্রতিষ্ঠান চাই। খায়রুল কবীরের টিকাটুলিস্থ নাহা ম্যানসনের বাড়িতে তখন সাংবাদিকদের আড্ডা হতো। ঢাকাস্থ ভারতীয় সাংবাদিক বালান (অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস অব ইন্ডিয়া), বিলাতের ডেইলি মেইল প্রতিনিধি উইলিয়াম ননী, ‘সংবাদ’-এর সৈয়দ নূরুদ্দীন, পূর্ব পাকিস্তান সরকারের ডাইরেক্টর (ইনফরমশন) সৈয়দ মোহাম্মদ হোসেন, পাকিস্তান অবজারভার সম্পাদক আবদুল সালাম। সেস্টসম্যান পত্রিকা প্রতিনিধি এমএ ওহাব, এস জি এম বদরুদ্দীন আলোচনায় অংশ নিতেন। তাদের সঙ্গে নাজির আহমদ, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, সফিউদ্দিন আহমেদ, কামরুল হাসান, সুরশিল্পী আবদুল আহাদ প্রেস কাব গঠনে উৎসাহী ছিলেন। বিবিসি খ্যাত যশস্বী সাংবাদিক, তৎকালীন দৈনিক মিল্লাত-এর বার্তা সম্পাদক সিরাজুর রহমান বলেছেন, ১৯৫২-এর গোড়ার দিকে সংবাদ-এর বার্তা সম্পাদক সৈয়দ নূরুদ্দীন, যুগ্ম সম্পাদক জহুর হোসেন চৌধুরী ও আমাকে নিয়ে প্রেস কাব গঠনার্থে একটি কমিটি গঠিত হয়। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনকে সার্থক করার প্রক্রিয়ায় অগ্রসেনানি সাংবাদিক সমাজ একুশে ফেব্রুয়ারির পর নাব উদ্দীপনায় আরো সোৎসাহী হয়ে ওঠেন। নবগঠিত পূর্ব পাকিস্তান সাংবাদিক ইউনিয়নের সম্মেলন হল কার্জন হলে ৭ ডিসেম্বর ১৯৫২-তে। সেখানেই আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব গৃহীত হলো প্রেস কাব প্রতিষ্ঠার। বাড়ি খোঁজাখুঁজিও শুরু হলো। কিন্তু তদানীন্তন চিফ সেক্রেটারি আজিজ আহমদ রাজি নন। জনাব খায়রুল কবীর ১৯৫৪ সালে তথ্য মন্ত্রণালয়ে স্পেশাল অফিসার হিসেবে যোগ দেয়ার পর তাঁর তদবির বেড়ে যায়।
তিনি জানাচ্ছেন, ১৯৫৪ সালে ৯২ ধারার অধীনে পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক পরিবর্তন হয়ে যায়। প্রায় সামরিক শাসন। সব সামরিক শাসন বা গোত্রছাড়া কঠোর শাসন যখন প্রবর্তিত হয়, তার শুরুর দিকটাতে দুই রকম আধিক্য দেখা যায় Ñ কঠোরতার আধিক্য এবং উদারতার আধিক্য। প্রেস কাবের জন্য শহরের কেন্দ্রস্থলে অনেকখানি জায়গাজুড়ে একটি মনোরম বাড়ি বরাদ্দ করা হয় সম্ভবত শেষোক্ত কারণে। কারণ যা-ই হোক, ১৯৫৪ সালে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম প্রেস কাব আনুষ্ঠানিকভাবে স্থাপিত হয়ে গেল ঢাকাতে।
জাতীয় প্রেস কাবকে ঘিরে জাতির অগ্রগণ্য সব সাংবাদিক, যাঁদেরকে জাতীয় সত্তা বললে অত্যুক্তি হবে না, তাঁদের সাংবাদিকতা ও জাতীয় দায়িত্বে আবর্তিত হয়েছেন। পুরনো সেই লাল বাড়িটার স্মৃতি মুছে ফেলা কঠিন। মরহুম ফয়েজ আহমদ তাঁর মূল্যবান গ্রন্থ ‘সত্যবাবু মারা গেছেন’ জাতীয় প্রেস কাবকে উৎসর্গ করে লিখেছেন, যাকে কেন্দ্র করে সমস্ত সংবাদের উৎস সন্ধান ও পরিসমাপ্তি।
বাংলাদেশের সাংবাদিক-সাহিত্যিক ’৪৭-এর আগে ও পরে দু’টি ধারায় জাতির সেবায় নিয়োজিত থাকলেও (পূর্ব পাকিস্তান রেনেসাঁ সোসাইটি ও পূর্ব পাকিস্তান সাহিত্য সংসদ) ভাষা আন্দোলনে এক সুরে বাংলাভাষার পক্ষে থেকেছেন। একই সঙ্গে মিলেমিশে সাংবাদিক ইউনিয়ন গঠন করেছেন। আবার প্রেস কাবের প্রথম ব্যবস্থাপনা কমিটিতে রেনেসাঁর সভাপতি মুজীবুর রহমান খাঁকে সভাপতি এবং ‘সংবাদ’ এর যুগ্ম-সম্পাদক জহুর হোসেন চৌধুরীকে সম্পাদক করেছেন। দু’ধারার অপূর্ব সম্মিলন। ফয়েজ ভাই লিখেছেন, কাব সদস্যগণ যে কোনো রাজনৈতিক মতের সাংবাদিক হতে পারেন, যে কোনো প্রতিক্রিয়াশীল বা বিপ্লবী পত্রিকার সাংবাদিক হলেও আপত্তি নেই। সহ-অবস্থানের এক আদর্শ বিচরণ ভূমি। সহাবস্থানের ভারসাম্য রক্ষা করার ঐতিহ্য প্রেস কাব প্রতিষ্ঠার সময় থেকে এবং সিনিয়র মেম্বার বা কয়েকজন সম্পাদকই এই পরিবেশ সৃষ্টির পথপ্রদর্শক। আর একই সঙ্গে সাংবাদিকতা ও সাহিত্যের অন্তঃজ বন্ধনকে ক্রমাগত পুষ্ট করেছেন। দেশের কোন একটি সংঘে এতো সাহিত্যিক, যাঁদের অনেকেই জাতীয়ভাবে সম্মানিত, আছে কি না জানা নেই। আমাদের পূর্বসূরিরা বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠায় পর্যন্ত উদযোগী ছিলেন। এর মধ্যে সেই আমলে সাংবাদিক ইউনিয়ন প্রেস কাবের অন্যতম চালিকাশক্তি ছিল। ষাটের দশকে গোটা পাকিস্তানে ১৭ দিনের ধর্মঘট করেছিল সাংবাদিক ইউনিয়ন।
জাতীয় প্রেস কাব নিয়ে এর সদস্যরা পর্বতপ্রমাণ গৌরব বোধ করেন। পাকিস্তান আমলে স্বৈরশাসক আইয়ুবের বশংবদ গভর্নর মোনায়েম খাঁকে প্রেস কাবে ঢুকতে দেয়া হয়নি। আমন্ত্রণ জানানো তো দূরের কথা, আরেক স্বৈরাচার হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকেও কখনও দাওয়াত দেয়া হয়নি। এ নিয়ে তার যথেষ্ট আক্ষেপ। এরশাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলনে প্রেস কাব ছিল রাজনীতিকদের তীর্থকেন্দ্র, আশ্রয়স্থল।
এই প্রেস কাবের সঙ্গে প্রতিজন সদস্যের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। প্রেস কাব সবার কাছে সেকেন্ড হোম। কারো কারো ‘ফার্স্ট হোম’। জনাব ননী, খতিব সাহেব এই কাবেই থাকতেন। একবার বন্যার সময় আবদুস সালাম পরিবার অর্থাৎ জামাতা এবিএম মূসাসহ কাবেই আশ্রয় নেন। মূসা ভাইয়ের এক সন্তানের প্রজন্ম প্রেস কাবে এবং দুই মেয়ের বিয়ে সেখানেই। আর ব্যাচেলর সদস্যরা একে শ্বশুরালয়ের মতোই ব্যবহার করেছেন ও করছেন। মরহুম হুমায়ুন কবীর চৌধুরীর দুনিয়াটা ছিল প্রেস কাবেই।
প্রায় তিন একর জমির ওপর সেই ছোট্ট লাল দালানটুকু একবার হাতছাড়া হয়ে গিয়েছিল। রমনা পার্কের বিপরীতে শিল্পকলা একাডেমি সংলগ্ন স্থান কাবকে সরিয়ে দিতে বদ্ধপরিকর ছিল মুজিব সরকার। এ সংক্রান্ত ফাইলেও সরকারপ্রধান সই করেন ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি। কিন্তু এর মধ্যে পটপরিবর্তন হয়ে গেলে কাব কর্তৃপক্ষ ও শিল্পকলা একাডেমির যৌথ সম্মতিতে জিয়াউর রহমানের সরকার কাবের বর্তমান স্থানে জমি বরাদ্দ, পুরাতন বিল্ডিংয়ের মূল্য পরিশোধ এবং নতুন কাব ভবন নির্মাণে সম্পূর্ণ খরচ বহনের সহযোগিতা প্রদান করেন। কাবের ৫ বার নির্বাচিত সম্পাদক এ এস এম হাবিবুল্লাহ জানিয়েছেন : “বর্তমান স্থানে নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের জন্য প্রেসিডেন্ট জিয়ার নাম কার্যনির্বাহী পরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় (৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী স্মরণিকা)”। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কাবের অবরাদ্দকৃত আরো প্রায় ২ একর জমি বরাদ্দ দেন এবং পশ্চিম পাশে নতুন বহুতল ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। জমি রেজিস্ট্রির ওই দলিলে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমার স্বাক্ষর থাকায় আমি অহঙ্কার বোধ করি।
বাংলাদেশ রাষ্ট্র হওয়ার পর সংবাদপত্রকে অসভ্যতার আক্রোশে পড়তে হয়েছে বেশি। তাই সাংবাদিক ইউনিয়ন ও প্রেস কাবের পথ চলায় অনিশ্চয়তা ছিল বরাবরের মতোই। বাংলাভাষার অন্যতম প্রধান কবি ও গণকণ্ঠ সম্পাদক আল মাহমুদ, হলিডে সম্পাদক এ জেড এম এনায়েতুল্লাহ খান, রয়টার্স-এর আতিকুল আলম গ্রেফতার হন, অসংখ্য পত্রিকা বন্ধ ও সাংবাদিকের কর্মচ্যুত করা হয়। বিবিসির আতাউস সামাদ ও আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে কারাগারে নিক্ষেপ, চ্যানেল ওয়ান ও দিগন্ত টিভি বন্ধ, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ড, আইসিটি অ্যাক্ট এবং গণবিরোধী জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা প্রভৃতি নিয়ে এবং বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন প্রেস কাব এখনো সাহসের জায়গা। এরশাদের বিরুদ্ধে গণ-অভ্যুত্থানটা প্রেস কাবকে সামনে রেখেই হয়েছে।
‘কিছু করার দায়িত্ব’ সাংবাদিকতা, সাহিত্য ও প্রেস কাবকে জন্মদিন থেকেই ব্যস্ত রেখেছে। স্বপ্ন দেখা ও দেখানো ছাড়া সাংবাদিকতার লক্ষ্যে তৃতীয় ও শেষ স্বপ্ন যদি কিছু থেকে থাকে তবে সেটা সমাজ ও জীবনের প্রবাহে এক ধরনের হস্তক্ষেপের। জাতীয় জীবনে কালো মেঘের সঞ্চার হলেই আলোর জন্য মানুষ ধাবিত হয় তোপখানা রোডে প্রেস কাবের দিকে। এর পরও অন্তরঙ্গে কাব আমাদের জন্য এমন যে, দার্শনিক পাস্কালের সেই উচ্চারণেই আমরা আশ্রয় নিই Ñ ‘হৃদয়েরও কিছু যুক্তি আছে, যুক্তি যার কিছুই জানে না।’ ফয়েজ ভাইয়ের কথাটা এখনো কানে বাজে, “বুঝলা শওকত, প্রেস কাবটা সাংবাদিকদের কাছে একটা ছোটখাটো পৃথিবী। এই ধর আনন্দ উল্লাস, হাসি-কান্না, মিষ্টি-ঝাল খাবার, তাস-দাবা, বন্ধুতা-শত্রুতা, সাংস্কৃতিক আন্দোলন, রাজনৈতিক চেতনা, চিত্রকলা প্রদর্শনী, সুসময়-দুঃসময়, জ্ঞান বিকাশ, জ্ঞান প্রকাশ, স্ফূর্তিতে হাসাহাসি, বৈরিতায় হাতাহাতি, এমনকি গ্রেফতার, মুক্তি ঘোষণা এবং বুলেট-শেল পর্যন্ত।”
শওকত মাহমুদ : সাবেক সভাপতি
জাতীয় প্রেস কাব
সভাপতি, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1402)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
-
▼
2014
(9799)
-
▼
October
(1240)
-
▼
Oct 20
(33)
- ‘সরকারকে আর সময় দেয়া হবে না’ -খালেদা জিয়া
- হৈমন্তী কদম by মৃত্যুঞ্জয় রায়
- ভালোবাসার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় by রাজীব মীর
- গাছ কী কাজে লাগে by মুহাম্মদ রোকনুদ্দৌলাহ্
- ৫ বছরের শিশুর এভারেস্ট জয়!
- নাটোরে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় নিহত ৩৩- আহত অর্ধশত by ...
- সৎ বাবার অসৎ কাণ্ড
- বিষফোঁড়া সময় হলেই ফেটে বের হয় by বঙ্গবীর কাদের সি...
- মুক্তিযুদ্ধ ও ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার ছাড়পত্র by ও...
- জাতির স্বপ্ন ও প্রেস কাবের দায়- প্রেস কাবের হীরক জ...
- স্মরণ- বাংলার শাসক মূসা খাঁ by মো: আবদুর রউফ
- দু’দশকে অর্থনৈতিক অগ্রগতি সত্ত্বেও বাংলাদেশ এখনও ন...
- দুই ঘণ্টার তাণ্ডবে ক্ষতি ২ কোটি টাকা
- বাড়ছে নৃশংস খুনের ঘটনা by নুরুজ্জামান লাবু
- বাংলাদেশের পুলিশকে অস্ত্র দেবে না যুক্তরাজ্য by দী...
- ‘শহীদ মিনার কোন দল বা গোষ্ঠির সম্পত্তি নয়’ -সুলতা...
- ৩৩ বছর পর ফিরলো দৃষ্টিশক্তি
- ১০ বছরে ২ কোটি ৫০ লাখ মানুষ হজ করেছেন
- রায়হানকে মেরে ফেলা হয়েছে -পরিবারের দাবি
- ভয় দেখিয়ে ছাত্রের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক, কাঠগড়ায় শিক্ষিকা
- নাকফুলটা বিক্রি করে আমার কাফনের কাপড় কিনে দিও.... ...
- দুর্ঘটনার কারণ সড়ক অব্যস্থাপনা by সাহস রতন
- মানব পাচার থামছে না by আব্দুল কুদ্দুস ও গিয়াস উদ্দিন
- অধ্যাপক সালাহ্উদ্দীন আহমদ আর নেই- চলে গেলেন ইতিহাস...
- শিশু ফাতিমা হত্যাকাণ্ড- খুনিদের ফাঁসির দাবিতে নয়টি...
- ছাত্রদলের পদবঞ্চিতদের দিনভর বিক্ষোভ, সংঘর্ষ
- মেডিকেল শিক্ষা চলছে ঠেকা দিয়ে -সরকারি-বেসরকারি মে...
- লতিফ সিদ্দিকীর কলকাতায় অবস্থান- দল ও সরকারে অস্বস...
- আপাতত নতুন কোন বিজ্ঞাপন নেই
- জামিনে মুক্ত জয়ললিতা
- মার্কিন প্রেসিডেন্টরা কি পকেটে টাকাকড়ি রাখেন?
- ফিরেছে রহস্যময় মহাকাশযান
- কাল মুক্তি মিলতে পারে অপহৃত ২১৯ স্কুলছাত্রীর
-
▼
Oct 20
(33)
-
▼
October
(1240)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ইরান
ক্রিকেট
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
কালবেলা
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
ইউক্রেন
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
স্বাস্থ্য
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
জ্যোতির্বিজ্ঞান
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
জীবনযাপন
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
মসজিদ
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
ইয়েমেন
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
Exclusive
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
জনস্বাস্থ্য
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
লাতিন আমেরিকা
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
জোহরান মামদানি
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
ইহুদি
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
স্পেন
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment