Tuesday, October 29, 2013
আওয়ামী রাজনীতির স্বরূপ by শিমুল বিশ্বাস
আওয়ামী রাজনীতির স্বরূপ by শিমুল বিশ্বাস
আসন্ন
নির্বাচনে বিজয়ের জন্য আওয়ামী লীগ রাজপথ দখলে রাখতে চায় যে কোনো পন্থায়।
তাদের ধারণা, রাজপথ দখলে রেখে নির্বাচনে কারচুপি করলে তা নিয়ে কোনো
প্রতিবাদ হবে না। আওয়ামী লীগ পেশিশক্তির বলে নির্বাচনী জয় ও ক্ষমতায় থাকা
নিরাপদ মনে করে। এটি আওয়ামী লীগের অতি সনাতন স্ট্র্যাটেজি। রাজপথ দখলে
রাখতে আওয়ামী লীগ সব সময় দলীয় গুন্ডাবাহিনী দিয়ে অন্য দলের সমাবেশ ও
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ভণ্ডুল করে। মুজিব আমলে ১৯৭৩ সালে যে নির্বাচন হয়েছিল,
সে নির্বাচনেও বিরোধী দলগুলোকে রাজপথে নামতে দেয়া হয়নি, এমনকি নমিনেশন
পেপারও জমা দিতে দেয়া হয়নি। বিরোধী দলের প্রার্থীকে ঘরে বন্দি রেখে আওয়ামী
লীগের অনেক প্রার্থীকে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছিল।
আওয়ামী লীগের নির্বাচনী জয়ের জন্য রাজপথের দখলদারিত্ব খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা থাকলে আওয়ামী লীগের পক্ষে রাজপথ দখলে নেয়া
সম্ভব হয় না। ফলে আওয়ামী লীগের বিপদ বাড়ে। এ জন্য তত্ত্বাবধায়ক
সরকারব্যবস্থা বিদায় করে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল
করে আওয়ামী লীগ বলছে, জনগণের ভোটের অধিকার পুরুজ্জীবিত করা হয়েছে। ২০০৯-এর
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতিশ্র“তির অগ্রাধিকার
তালিকায় ছিল পাঁচটি বিষয়- ১. দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি প্রতিরোধ এবং অর্থনৈতিক
স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা ২. দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা ৩.
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবেলা ৪. দারিদ্র্য বিমোচন ও বৈষম্য দূর করা
এবং ৫. সুশাসন প্রতিষ্ঠা। নির্বাচনী ইশতেহারে ‘কেমন বাংলাদেশ দেখতে চাই’তে
ছিল- ১. তত্ত্বাবধায়ক সরকার, গণতন্ত্র ও কার্যকর সংসদ ২. রাজনৈতিক কাঠামো,
ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও গণঅংশায়ন ৩. সুশাসনের জন্য আইনের শাসন ও দলীয়করণ
প্রতিরোধ ৪. রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন ৫. দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন ৬.
নারীর ক্ষমতায়ন ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা। একটু লক্ষ্য করলে দেখা যায়,
প্রতিশ্র“তিগুলো রক্ষায় আওয়ামী লীগ শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
অতীতের কিছু ঘটনাবলি
অনেক রক্ত, অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশে বিজয়ের লাল সূর্য উদিত হয়। এটা মনে রাখা জরুরি, আওয়ামী লীগ একা দেশ স্বাধীন করেনি। মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময় শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি এবং আওয়ামী লীগের গোটা নেতৃত্ব ছিল ভারতে। স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান। ছাত্র-জনতা বাঙালি সৈনিক সে ডাকে সাড়া দিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। শহীদ জননী জাহানারা ইমাম বলেছেন, তার জ্যেষ্ঠ পুত্র রুমি ইমাম মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল মেজর জিয়ার ডাকে। বাংলাদেশের মানুষের একটাই ভাবনা ছিল তখন- কী করে তারা শত্র“কে বিতাড়িত করবে, দেশ স্বাধীন করবে। সেটাই ছিল তাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বলতে তারা স্বাধীনতাকেই বুঝিয়েছে, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বকে নয়।
মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ এবং অসামান্য ত্যাগ স্বীকারকারী ব্যক্তি, রাজনীতিক, প্রতিষ্ঠান ও দলের সমন্বয়ে জাতীয় সরকার গঠনের দাবিকে অগ্রাহ্য করে যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন হয় এককভাবে আওয়ামী লীগ। অতঃপর শুরু হয় বাংলাদেশের মানুষের ওপর অপ্রত্যাশিত এক তাণ্ডব। শুরু হয় লুটপাট, হত্যা, গুম, খুন, মজুদদারি, চোরাকারবারি, হাইজ্যাক ও খোলা সীমান্ত দিয়ে দেশের সম্পদ পাচার এবং বিদেশী নিুমানের পণ্য দিয়ে বাংলাদেশের বাজার দখলের খেলা।
১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের পর রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন শেখ মুজিব। ১১ জানুয়ারি প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় আদেশ জারি শেষে ১২ তারিখ থেকে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে নিজে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে করেন রাষ্ট্রপতি। কিন্তু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারের যাত্রার প্রায় শুরু থেকেই সাধারণ মানুষের আশা ভঙ্গ ঘটে। প্রশাসন ও আইন-শৃংখলায় এবং দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে চরম নৈরাজ্য ও বিশৃংখলা বিরাজ করতে থাকে। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে শেখ মুজিব স্বৈরাচারী নেতৃত্ব প্রদান করেন এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তিনি হাল ধরতে পারেননি। সব ব্যর্থতার সঙ্গে এসে যোগ হয় চরম দুর্নীতি। সেই সর্বগ্রাসী দুর্নীতির শাখা-প্রশাখা বিস্মৃত হয় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিজ পরিবার-পরিজনদের ভেতরে। শাসক দল আওয়ামী লীগ ও শেখ মুজিবুর রহমানের কাছ থেকে জনগণ আশাহত হতে থাকে। জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে আওয়ামী লীগ। এমন এক পরিস্থিতিতে স্বাধীন বাংলাদেশে অর্থনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে সমস্যা তীব্র থেকে তীব্রতর হয়। বছর খানেকের মধ্যেই অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী স্বেচ্ছায় রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অব্যাহতি গ্রহণ করেন। তার স্থলে আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক মোহাম্মদ উল্লাহ রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত হন। তিনি সরকারপ্রধানের ইচ্ছা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির আদেশ [প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডার (পিও)] বলে নতুন নতুন আইন জারি করতে কোনো দ্বিধা করেননি। বছর দুয়েকের মধ্যে আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক নির্যাতনের কারণে সাধারণ মানুষের জীবন-যাপন হয়ে ওঠে দুর্বিষহ। অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ে।
১৯৭২ সালে একদিকে বন্যা, অন্যদিকে ব্যাপক চোরাচালান ও লুটপাটের ফলে খাদ্যদ্রব্যসহ সব নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের চরম মূল্যবৃদ্ধি পায়। চাল ডাল, পরিধানের বস্ত্র ও অন্যান্য দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি, মজুদদারি ও সমাজবিরোধীদের বেপরোয়া দৌরাত্ম্য বেড়ে যায়। দুর্নীতি ও সরকারি নিপীড়নের ব্যাপকতায় ১৯৭৪ সাল নাগাদ দেশে এক গুরুতর অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। দেশে আইন-শৃংখলা ব্যবস্থা বলতে কোনো কিছুই ছিল না, ছিল চরম নৈরাজ্য। সরকারি ও বেসরকারি বাহিনী রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি চালায় ডাকাতি, রাহাজানি, হাইজ্যাক, লুটপাট, ধর্ষণ ইত্যাদি। ব্যাংক, বীমাসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চালায় অবাধ লুটপাট। সরকার ও তার প্রশাসনযন্ত্রের ওপর মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে যায়। দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসমূহ একেবারেই প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকারের বরকন্দাজ বাহিনীতে পরিণত হয়।
১৯৭৩ সালের মার্চ মাসে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো অংশগ্রহণ করে। কিন্তু যেহেতু আওয়ামী লীগ জনগণের রায় বিশ্বাস করে না, তাই তারা নির্বাচনে ব্যালট বাক্স ছিনতাই ও ব্যাপক কারচুপি করে। এমনকি সশস্ত্র রক্ষীবাহিনী প্রকাশ্যে ভোট কারচুপিতে অংশগ্রহণ করে। ভোটগণনা শেষে ফলাফল ঘোষণাকালেও শাসক দলের পক্ষে চরম দুর্নীতির আশ্রয় নেয়া হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, চট্টগ্রাম থেকে একটি আসনে মোজাফ্ফর ন্যাপের একজন প্রার্থীকে রাতে নির্বাচনে জয়ী ঘোষণা করা হলেও পরদিন সকালে তাকে পরাজিত বলে ঘোষণা করা হয়। জাসদ সভাপতি মেজর জলিল, ন্যাপের রাশেদ খান মেনন, ড. আলীম আল রাজী, অলি আহাদসহ ৮ জনের বিজয় নাকচ করে দেয়া হয়।
১৯৭৪ সালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ ও অপশাসন
১৯৭৪-এর দুর্ভিক্ষের জন্য এককভাবে দায়ী আওয়ামী লীগের দুঃশাসন। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষে প্রায় ৬ লাখ মানুষ মারা যায়। ১৯৭৪-এর দুর্ভিক্ষের কারণসমূহের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হল : ১. দুর্নীতি ২. স্বজনপ্রীতি ৩. চোরাচালান ৪. বর্ডার ট্রেড ৫. রিলিফ আত্মসাৎ ইত্যাদি। বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম সেসব কলংকিত ইতিহাসের দিনগুলোর কথা জানে কি? বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের সেগুলো জানার প্রয়োজন আছে বলে আমরা মনে করি।
১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর মুক্তি, সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা
স্বাধীনতার পর ৯৩ হাজার পাকিস্তানি সৈন্য আত্মসমর্পণ করে মিত্র বাহিনীর কাছে। এর মধ্যে ১৯৫ জনকে গুরুতর যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পাকবাহিনীর সহযোগী হিসেবে ৩৭ হাজার এ দেশীয় নাগরিককে গ্রেফতার করা হয় এবং দালাল আইনে বিচার শুরু হয়। বিচার চলার মাঝামাঝি অবস্থায়ই ৯ এপ্রিল, ১৯৭৪ উপমহাদেশের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের লক্ষ্যে ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে নয়াদিল্লিতে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শরণ সিং ও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আজিজ আহমেদ। এই চুক্তির বলেই বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদনে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ১৯৫ জন পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীকে মুক্তি প্রদান করা হয়। উল্লেখ্য, ২ জুলাই, ১৯৭২ পাকিস্তান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে সিমলা চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকেই যুদ্ধাপরাধীদের ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার নমনীয়তা প্রদর্শন শুরু করে। পরে শেখ মুজিব সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করলে হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগসহ সুনির্দিষ্ট অভিযোগে অভিযুক্ত ছাড়া ২৬ হাজার ব্যক্তি (যারা রাজাকার-আলবদর-আল শামস, পিস কমিটির সদস্য) সাধারণ ক্ষমার আওতায় মুক্তি পান।
২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে শেখ হাসিনা নতুন করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রক্রিয়া শুরু করেন। ২৫ মার্চ, ২০০৯ জাতীয় সংসদে সিদ্ধান্ত হয়, সরকার ১৯৭৩ সালের যুদ্ধাপরাধ আইন সংশোধনপূর্বক যুদ্ধাপরাধীদের ১৯৭৩ সালের আইনের আওতায় বিচার করবে। আইনমন্ত্রী কর্তৃক উত্থপিত তথ্য-উপাত্ত থেকে দেখা যায়, ১৬ মে, ১৯৭৩ এবং ৩০ নভেম্বর, ১৯৭৩ অপরাধ মার্জনা সংক্রান্ত ঘোষণা প্রদান করা হয়। উল্লেখ্য, বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম রাষ্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক থাকাবস্থায় ১৯৭৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর দালাল আইনটি বাতিল করেন। এর ফলে দণ্ডিত ব্যক্তিরা ব্যতীত অন্যরা পর্যায়ক্রমে খালাস পায়। আওয়ামী লীগ নেতারা সব জানা সত্ত্বেও দেশবাসীকে সেই সত্য জানাননি।
সরকার পরিচালনায় সীমাহীন ব্যর্থতা, অযোগ্যতা ও ভয়াবহ দুর্নীতির কারণে মুজিব আমলের শেষ সময়ে ভারত ব্যতীত আন্তর্জাতিক দুনিয়ার প্রায় সব দেশ আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করে বিবৃতি দেয়। স্বাধীনতা-পরবর্তী যুদ্ধাপরাধ ও স্বাধীনতাবিরোধীদের বিচার ইস্যু, আওয়ামী লীগের কয়েক বছরের অপশাসনে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছিল। সরকারের ভ্রান্তনীতি ও সর্বগ্রাসী দুর্নীতি বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেয়। দুর্নীতির কারণে দেশের শিল্প ও কৃষি উন্নয়ন স্থবির হয়ে পড়ে। ব্যবসা-বাণিজ্য হয়ে পড়ে অচল। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হয় দ্রুত নিুগামী।
ক্ষুধার্ত দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের জন্য বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা কর্তৃক প্রেরিত বিপুল ত্রাণসামগ্রী বাংলাদেশের ভেতরে ও সীমান্তের ওপারে অবাধ লুণ্ঠনের বস্তুতে পরিণত হয়। দেশে দেখা দেয় দুর্ভিক্ষ। অতীতের দুর্ভিক্ষের ন্যায় চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষও খাদ্যশস্যের অভাবের জন্য হয়নি। দুর্ভিক্ষের সময় দেশে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য মজুদ ছিল বলে এক পরিসংখ্যানে জানা যায়। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষে অনাহারে লাখ লাখ লোক মারা যায়। নোবেল বিজয়ী ভারতীয় বাঙালি অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন তার ‘দারিদ্র্য ও দুর্ভিক্ষ’ গ্রন্থে লিখেছেন : বাংলাদেশে তখন যথেষ্ট খাদ্য মজুদ ছিল কিন্তু প্রশাসনিক ত্র“টি ও বণ্টনের সুব্যবস্থার অভাবে ১৯৭৪-এর দুর্ভিক্ষ হয়।
১৯৭৪ সালের ২২ নভেম্বর জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী ফণীভূষণ মজুমদার জানান, দুর্ভিক্ষে মৃতের সংখ্যা ২০,৫০০। বেসরকারি সূত্র মতে এ সংখ্যা ছয় লাখ। সরকার সে সময় ৫,৮৬২টি লঙ্গরখানা খোলে। সে সময় নারীর লজ্জা নিবারণের জন্য বস্ত্রের অভাবে বাসন্তী-দুর্গাদের মাছ ধরার জাল পরার চিত্র বিশ্ব-বিবেককে স্তম্ভিত করে। কাফনের কাপড়ের অভাবে কলাপাতা মুড়ে লাশ দাফন ছিল তখনকার নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা।
একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা
১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ওপর চতুর্থ সংবিধান সংশোধনী বিল চাপিয়ে দেন। সে সংশোধনী কোনো আলোচনা ছাড়াই কয়েক মিনিটের মধ্যে পার্লামেন্টে গৃহীত হয়। সেই বিলে শেখ মুজিবকে রাষ্ট্রপতি করা হয়। সংশোধনীটি আইনগতভাবে ছিল অবৈধ এবং রাজনৈতিকভাবে ছিল দেশে গণতন্ত্র হত্যার শামিল। পার্লামেন্টের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী সংশোধনী বিলটি ফার্স্ট রিডিং বা প্রথম পাঠে সংসদে উত্থাপন, দ্বিতীয় পাঠে আলোচনা এবং তৃতীয় পাঠে ভোট গ্রহণের আইনি প্রক্রিয়া অগ্রাহ্য করে শুধু সংসদ সদস্যদের টেবিলে দিয়ে পাঠ বা আলোচনা ছাড়াই সরাসরি কণ্ঠ ভোটে পাস করানোর ফলে সংশোধনীটি হয়ে পড়ে অবৈধ। কিন্তু স্পিকার মালেক উকিল আইন, বিধি সব ভুলে বিলের পক্ষে কাজ করে যান। সংসদীয় ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ নজির স্থাপিত হয়। বহুদলীয় গণতন্ত্রকে হত্যা করে এভাবেই একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা হয়। এজন্য আওয়ামী লীগ ও শেখ মুজিবকে অনেক মাশুল দিতে হয়েছে।
২০১৩ সালে ক্ষমতার শেষ বেলায় এসে বাকশালের নব প্রজন্মওয়ালারা আবার আওয়ামী লীগকে ফ্যাসিবাদী পথে ধাবিত করতে তৎপর হয়েছে।
আওয়ামী-জামায়াত সখ্য
আওয়ামী লীগ তাদের নিজস্বার্থে সব কিছুই করতে পারে। যে জামায়াতকে নির্মূল করার জন্য আজ তারা উঠেপড়ে লেগেছে, ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সেই জামায়াতের সঙ্গে তাদের বিভিন্ন সময় গভীর সখ্যের প্রমাণ রয়েছে। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে বিএনপিকে বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ ও জামায়াত একসঙ্গে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল এবং যথারীতি সংসদেও যোগ দিয়েছিল। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠনে জামায়াত বিএনপিকে সমর্থন দিলে আওয়ামী লীগ ক্ষুব্ধ হয় জামায়াতের ওপর। এরপরও রাষ্ট্রপতি পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী জামায়াতের সমর্থন লাভের জন্য অধ্যাপক গোলাম আযমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সমর্থন আদায় এবং জামায়াতকে তাদের পক্ষে আনার জন্য আওয়ামী লীগ আপ্রাণ চেষ্টা করে। ১৯৯২ সালে জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি গোলাম আযমের ফাঁসির দাবিতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সামনে গণআদালত বসে। ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির পাশাপাশি আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করে সুকৌশলে সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ আবদুর রাজ্জাককে দিয়ে কুক্ষিগত করে। আওয়ামী লীগের নির্দেশে তাদের নেতাকর্মীরা গোলাম আযমের বাড়ি ঘেরাও করে তাকে ধরে এনে প্রকাশ্য দিবালোকে ফাঁসির রায় কার্যকর করার ঘোষণা দেয় এবং গোলাম আযমের বাড়ি ঘেরাও করতে মিছিল করে। বিএনপি সরকার গোলাম আযমকে গ্রেফতার করে। ফলে বিএনপির ওপর জামায়াত ক্ষুব্ধ হয় এবং বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের দূরত্ব সৃষ্টি হয়। আওয়ামী লীগ সে সুযোগে আবার জামায়াতের সঙ্গে আঁতাত করে। ১৯৯৬ সালে বিএনপির বিরুদ্ধে যৌথ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে জামায়াত এবং আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আসতে সাহায্য করে। সে সময় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে জামায়াত নেতাদের সুসম্পর্ক দেখা যায়। ১৯৯৬ সালে বিএনপির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ, জামায়াত ও জাতীয় পার্টি যুগপৎ আন্দোলনের নামে এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল। মাগুরা উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই জোট নির্দলীয়-নিরপেক্ষ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনের ডাক দেয়। ২৪ ফেব্র“য়ারি, ১৯৯৪ শেখ হাসিনা সংসদের সব বিরোধী দল ও গ্র“পের সঙ্গে যৌথ বৈঠক করেন। সে সভায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে যৌথ আন্দোলন করতে তারা ঐকমত্যে পৌঁছায়। ২৭ জুন ১৯৯৪ জাতীয় প্রেস ক্লাবে আওয়ামী লীগ, জামায়াত ও জাতীয় পার্টি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা ঘোষণা করে যৌথ আন্দোলনের ঘোষণা দেয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে তারা শুরু করে ভয়াবহ আন্দোলন ও পরিকল্পিত নাশকতামূলক কার্যকলাপ। হরতাল, অবরোধ, জ্বালাও-পোড়াওয়ের মাধ্যমে দেশে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। আন্দোলনের এক পর্যায়ে তারা সংসদ থেকে পদত্যাগ করে এবং শেষ পর্যন্ত জনতার মঞ্চ প্রতিষ্ঠা করে আমলা বিদ্রোহের মতো রাষ্ট্রবিরোধী কাজে প্রকাশ্যে মদদ দেয়। ১২ জুন, ১৯৯৬ অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত ও জাতীয় পার্টির সহায়তায় আওয়ামী লীগ ১৪৬টি আসনে জয়লাভ করে এবং মিত্রদের সমর্থনে সরকার গঠন করে।
১৯৯৬-২০০১ সময়কালে আওয়ামী লীগ একটিবারের জন্যও জামায়াতের নেতাদের যুদ্ধাপরাধী বা মানবতাবিরোধী অপরাধী ভাবেনি বা তাদের বিচারের জন্য টুঁ-শব্দটিও করেনি। তখন জামায়াত ছিল আওয়ামী লীগের মহান বন্ধু। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতিশ্র“তির বরখেলাপ, দুর্নীতি, অবাধ লুটপাট, হত্যা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজির কারণে ১৯৯৯ সালে যখন তাদের জনপ্রিয়তায় ধস নামে, সে পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ নভেম্বর, ১৯৯৯ বিএনপির নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ঐক্যজোট নিয়ে গঠিত হয় চারদলীয় জোট। আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টিকে চাপে ফেলে জোট থেকে বের করে নিতে পারলেও জামায়াতকে পারেনি।
তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগের চার বছরের শাসনামলে দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন ঊর্ধ্বগতি, গ্যাস, বিদ্যুতের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, সরকারি দলের ক্যাডারদের হত্যা, রাহাজানি, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, শেয়ারবাজার থেকে লাখো কোটি টাকা লুণ্ঠন করে ৩৩ লাখ বিনিয়োগকারীকে সর্বঃস্বান্তকরণ, হলমার্ক, ডেসটিনি, ইউনিপে-টু নামক ভূঁইফোড় সংগঠনের নামে জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট, পদ্মা সেতুর নামে লুটপাট এবং সরকারি বাহিনী কর্তৃক গুম-খুনের কারণে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তায় ধস নামে।
কোনো পরিবর্তন নেই
আওয়ামী লীগের প্রথম শাসনকাল, দ্বিতীয় শাসনকাল এবং তৃতীয় শাসনকালের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। আওয়ামী লীগ একই ধারাবাহিকতায় চরম নির্যাতন-নিপীড়নের মাধ্যমে দেশ শাসন করে। বিরোধী দলের মতামতকে কখনোই তারা সহ্য করতে পারে না। আওয়ামী লীগের নিষ্ঠুরতা ও ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। অথচ জাসদ ও বামপন্থীদের একাংশ তাদের নিজস্ব রাজনীতি ত্যাগ করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমবেত হয়েছে। আওয়ামী লীগের মহা গুণগান করছে। তাদের দলের নিজস্ব নির্বাচনী প্রতীক ত্যাগ করে আওয়ামী লীগের প্রতীক গ্রহণ করে নির্বাচন করেছে। তারা এমপি, মন্ত্রী হয়েছেন। এটা জাসদ ও বামপন্থীদের জন্য কতটুকু সম্মানজনক?
যে আওয়ামী লীগ ’৭২-’৭৫ সময়কালে রাজাকার, আলবদর, আল শামস, জামায়াতকে নিরাপদ রেখে জাসদ, বামপন্থীদের নির্বিচারে হত্যা করেছিল, সেই আওয়ামী লীগ ২০১৩ সালে এসে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এবং ১৮ দলভুক্ত জামায়াত, ইসলামী ঐক্যজোট, জাগপা, এলডিপি ও অন্য সমমনাদের নির্মূল করতে গোপনে, প্রকাশ্যে হত্যার কৌশল নিয়েছে। আওয়ামী লীগের এই দ্বিমুখী নীতি ও আদর্শ বিচ্যুতির কারণেই ওই দলের প্রতিষ্ঠাতা মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী ১৯৫৭ সালে দল ত্যাগ করে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেছিলেন।
নতুন প্রজন্মের জন্য এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা খন্দকার মোশতাক আহমেদের নেতৃত্বে ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ মুজিবের দুঃখজনক মৃত্যু ও বাকশাল সরকারের পতন হয়। তখন বিএনপি নামে কোনো দলই ছিল না। বিএনপি গঠিত হয়েছিল জাতির এমন এক ক্রান্তিলগ্নে যখন বাকশাল সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক শূন্যতা বিরাজ করছিল। প্রেসিডেন্ট জিয়া একজন সামরিক ব্যক্তিত্ব হওয়া সত্ত্বেও জাতিকে সম্পূর্ণ অবাক করে দিয়ে সামরিক শাসনের বদলে জাতিকে উপহার দেন বহুদলীয় গণতন্ত্র। সংবিধানে ৫ম সংশোধনী এনে প্রেসিডেন্ট জিয়া বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেন এবং সব সংবাদপত্রের ওপর থেকে বিধিনিষেধ তুলে নিয়ে মানুষের বাক স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেন। রাজনীতিশূন্য বাংলাদেশে রাজনীতি করার সুযোগ পায় বাংলাদেশের জনগণ। জাতির উন্নয়নের পূর্বশর্ত যে গণতন্ত্র তা মুক্তি পায় রাষ্ট্রপতি জিয়ার হাতে।
আসুন আমরা সব ধরনের ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে, গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করি। বিভেদ আর হানাহানির রাজনীতিকে পরাজিত করি। প্রভাবমুক্ত অবাধ, নিরপেক্ষ ও সব দলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তরের স্বীকৃত ব্যবস্থা ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি’ ফিরিয়ে আনি। আমরা সবাই মিলেমিশে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে একুশ শতকের উপযোগী মডেল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলি। রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনি দেশপ্রেম, সততা, সহমর্মিতা, শৃংখলা এবং গণতান্ত্রিক শিষ্টাচার।
শিমুল বিশ্বাস : বিআইডব্লিউটিসির সাবেক চেয়ারম্যান; বিরোধীদলীয় নেতার বিশেষ সহকারী
অতীতের কিছু ঘটনাবলি
অনেক রক্ত, অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশে বিজয়ের লাল সূর্য উদিত হয়। এটা মনে রাখা জরুরি, আওয়ামী লীগ একা দেশ স্বাধীন করেনি। মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময় শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি এবং আওয়ামী লীগের গোটা নেতৃত্ব ছিল ভারতে। স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান। ছাত্র-জনতা বাঙালি সৈনিক সে ডাকে সাড়া দিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। শহীদ জননী জাহানারা ইমাম বলেছেন, তার জ্যেষ্ঠ পুত্র রুমি ইমাম মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল মেজর জিয়ার ডাকে। বাংলাদেশের মানুষের একটাই ভাবনা ছিল তখন- কী করে তারা শত্র“কে বিতাড়িত করবে, দেশ স্বাধীন করবে। সেটাই ছিল তাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বলতে তারা স্বাধীনতাকেই বুঝিয়েছে, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বকে নয়।
মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ এবং অসামান্য ত্যাগ স্বীকারকারী ব্যক্তি, রাজনীতিক, প্রতিষ্ঠান ও দলের সমন্বয়ে জাতীয় সরকার গঠনের দাবিকে অগ্রাহ্য করে যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন হয় এককভাবে আওয়ামী লীগ। অতঃপর শুরু হয় বাংলাদেশের মানুষের ওপর অপ্রত্যাশিত এক তাণ্ডব। শুরু হয় লুটপাট, হত্যা, গুম, খুন, মজুদদারি, চোরাকারবারি, হাইজ্যাক ও খোলা সীমান্ত দিয়ে দেশের সম্পদ পাচার এবং বিদেশী নিুমানের পণ্য দিয়ে বাংলাদেশের বাজার দখলের খেলা।
১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের পর রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন শেখ মুজিব। ১১ জানুয়ারি প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় আদেশ জারি শেষে ১২ তারিখ থেকে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে নিজে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে করেন রাষ্ট্রপতি। কিন্তু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারের যাত্রার প্রায় শুরু থেকেই সাধারণ মানুষের আশা ভঙ্গ ঘটে। প্রশাসন ও আইন-শৃংখলায় এবং দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে চরম নৈরাজ্য ও বিশৃংখলা বিরাজ করতে থাকে। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে শেখ মুজিব স্বৈরাচারী নেতৃত্ব প্রদান করেন এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তিনি হাল ধরতে পারেননি। সব ব্যর্থতার সঙ্গে এসে যোগ হয় চরম দুর্নীতি। সেই সর্বগ্রাসী দুর্নীতির শাখা-প্রশাখা বিস্মৃত হয় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিজ পরিবার-পরিজনদের ভেতরে। শাসক দল আওয়ামী লীগ ও শেখ মুজিবুর রহমানের কাছ থেকে জনগণ আশাহত হতে থাকে। জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে আওয়ামী লীগ। এমন এক পরিস্থিতিতে স্বাধীন বাংলাদেশে অর্থনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে সমস্যা তীব্র থেকে তীব্রতর হয়। বছর খানেকের মধ্যেই অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী স্বেচ্ছায় রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অব্যাহতি গ্রহণ করেন। তার স্থলে আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক মোহাম্মদ উল্লাহ রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত হন। তিনি সরকারপ্রধানের ইচ্ছা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির আদেশ [প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডার (পিও)] বলে নতুন নতুন আইন জারি করতে কোনো দ্বিধা করেননি। বছর দুয়েকের মধ্যে আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক নির্যাতনের কারণে সাধারণ মানুষের জীবন-যাপন হয়ে ওঠে দুর্বিষহ। অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ে।
১৯৭২ সালে একদিকে বন্যা, অন্যদিকে ব্যাপক চোরাচালান ও লুটপাটের ফলে খাদ্যদ্রব্যসহ সব নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের চরম মূল্যবৃদ্ধি পায়। চাল ডাল, পরিধানের বস্ত্র ও অন্যান্য দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি, মজুদদারি ও সমাজবিরোধীদের বেপরোয়া দৌরাত্ম্য বেড়ে যায়। দুর্নীতি ও সরকারি নিপীড়নের ব্যাপকতায় ১৯৭৪ সাল নাগাদ দেশে এক গুরুতর অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। দেশে আইন-শৃংখলা ব্যবস্থা বলতে কোনো কিছুই ছিল না, ছিল চরম নৈরাজ্য। সরকারি ও বেসরকারি বাহিনী রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি চালায় ডাকাতি, রাহাজানি, হাইজ্যাক, লুটপাট, ধর্ষণ ইত্যাদি। ব্যাংক, বীমাসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চালায় অবাধ লুটপাট। সরকার ও তার প্রশাসনযন্ত্রের ওপর মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে যায়। দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসমূহ একেবারেই প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকারের বরকন্দাজ বাহিনীতে পরিণত হয়।
১৯৭৩ সালের মার্চ মাসে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো অংশগ্রহণ করে। কিন্তু যেহেতু আওয়ামী লীগ জনগণের রায় বিশ্বাস করে না, তাই তারা নির্বাচনে ব্যালট বাক্স ছিনতাই ও ব্যাপক কারচুপি করে। এমনকি সশস্ত্র রক্ষীবাহিনী প্রকাশ্যে ভোট কারচুপিতে অংশগ্রহণ করে। ভোটগণনা শেষে ফলাফল ঘোষণাকালেও শাসক দলের পক্ষে চরম দুর্নীতির আশ্রয় নেয়া হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, চট্টগ্রাম থেকে একটি আসনে মোজাফ্ফর ন্যাপের একজন প্রার্থীকে রাতে নির্বাচনে জয়ী ঘোষণা করা হলেও পরদিন সকালে তাকে পরাজিত বলে ঘোষণা করা হয়। জাসদ সভাপতি মেজর জলিল, ন্যাপের রাশেদ খান মেনন, ড. আলীম আল রাজী, অলি আহাদসহ ৮ জনের বিজয় নাকচ করে দেয়া হয়।
১৯৭৪ সালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ ও অপশাসন
১৯৭৪-এর দুর্ভিক্ষের জন্য এককভাবে দায়ী আওয়ামী লীগের দুঃশাসন। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষে প্রায় ৬ লাখ মানুষ মারা যায়। ১৯৭৪-এর দুর্ভিক্ষের কারণসমূহের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হল : ১. দুর্নীতি ২. স্বজনপ্রীতি ৩. চোরাচালান ৪. বর্ডার ট্রেড ৫. রিলিফ আত্মসাৎ ইত্যাদি। বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম সেসব কলংকিত ইতিহাসের দিনগুলোর কথা জানে কি? বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের সেগুলো জানার প্রয়োজন আছে বলে আমরা মনে করি।
১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর মুক্তি, সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা
স্বাধীনতার পর ৯৩ হাজার পাকিস্তানি সৈন্য আত্মসমর্পণ করে মিত্র বাহিনীর কাছে। এর মধ্যে ১৯৫ জনকে গুরুতর যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পাকবাহিনীর সহযোগী হিসেবে ৩৭ হাজার এ দেশীয় নাগরিককে গ্রেফতার করা হয় এবং দালাল আইনে বিচার শুরু হয়। বিচার চলার মাঝামাঝি অবস্থায়ই ৯ এপ্রিল, ১৯৭৪ উপমহাদেশের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের লক্ষ্যে ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে নয়াদিল্লিতে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শরণ সিং ও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আজিজ আহমেদ। এই চুক্তির বলেই বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদনে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ১৯৫ জন পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীকে মুক্তি প্রদান করা হয়। উল্লেখ্য, ২ জুলাই, ১৯৭২ পাকিস্তান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে সিমলা চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকেই যুদ্ধাপরাধীদের ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার নমনীয়তা প্রদর্শন শুরু করে। পরে শেখ মুজিব সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করলে হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগসহ সুনির্দিষ্ট অভিযোগে অভিযুক্ত ছাড়া ২৬ হাজার ব্যক্তি (যারা রাজাকার-আলবদর-আল শামস, পিস কমিটির সদস্য) সাধারণ ক্ষমার আওতায় মুক্তি পান।
২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে শেখ হাসিনা নতুন করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রক্রিয়া শুরু করেন। ২৫ মার্চ, ২০০৯ জাতীয় সংসদে সিদ্ধান্ত হয়, সরকার ১৯৭৩ সালের যুদ্ধাপরাধ আইন সংশোধনপূর্বক যুদ্ধাপরাধীদের ১৯৭৩ সালের আইনের আওতায় বিচার করবে। আইনমন্ত্রী কর্তৃক উত্থপিত তথ্য-উপাত্ত থেকে দেখা যায়, ১৬ মে, ১৯৭৩ এবং ৩০ নভেম্বর, ১৯৭৩ অপরাধ মার্জনা সংক্রান্ত ঘোষণা প্রদান করা হয়। উল্লেখ্য, বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম রাষ্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক থাকাবস্থায় ১৯৭৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর দালাল আইনটি বাতিল করেন। এর ফলে দণ্ডিত ব্যক্তিরা ব্যতীত অন্যরা পর্যায়ক্রমে খালাস পায়। আওয়ামী লীগ নেতারা সব জানা সত্ত্বেও দেশবাসীকে সেই সত্য জানাননি।
সরকার পরিচালনায় সীমাহীন ব্যর্থতা, অযোগ্যতা ও ভয়াবহ দুর্নীতির কারণে মুজিব আমলের শেষ সময়ে ভারত ব্যতীত আন্তর্জাতিক দুনিয়ার প্রায় সব দেশ আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করে বিবৃতি দেয়। স্বাধীনতা-পরবর্তী যুদ্ধাপরাধ ও স্বাধীনতাবিরোধীদের বিচার ইস্যু, আওয়ামী লীগের কয়েক বছরের অপশাসনে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছিল। সরকারের ভ্রান্তনীতি ও সর্বগ্রাসী দুর্নীতি বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেয়। দুর্নীতির কারণে দেশের শিল্প ও কৃষি উন্নয়ন স্থবির হয়ে পড়ে। ব্যবসা-বাণিজ্য হয়ে পড়ে অচল। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হয় দ্রুত নিুগামী।
ক্ষুধার্ত দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের জন্য বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা কর্তৃক প্রেরিত বিপুল ত্রাণসামগ্রী বাংলাদেশের ভেতরে ও সীমান্তের ওপারে অবাধ লুণ্ঠনের বস্তুতে পরিণত হয়। দেশে দেখা দেয় দুর্ভিক্ষ। অতীতের দুর্ভিক্ষের ন্যায় চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষও খাদ্যশস্যের অভাবের জন্য হয়নি। দুর্ভিক্ষের সময় দেশে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য মজুদ ছিল বলে এক পরিসংখ্যানে জানা যায়। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষে অনাহারে লাখ লাখ লোক মারা যায়। নোবেল বিজয়ী ভারতীয় বাঙালি অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন তার ‘দারিদ্র্য ও দুর্ভিক্ষ’ গ্রন্থে লিখেছেন : বাংলাদেশে তখন যথেষ্ট খাদ্য মজুদ ছিল কিন্তু প্রশাসনিক ত্র“টি ও বণ্টনের সুব্যবস্থার অভাবে ১৯৭৪-এর দুর্ভিক্ষ হয়।
১৯৭৪ সালের ২২ নভেম্বর জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী ফণীভূষণ মজুমদার জানান, দুর্ভিক্ষে মৃতের সংখ্যা ২০,৫০০। বেসরকারি সূত্র মতে এ সংখ্যা ছয় লাখ। সরকার সে সময় ৫,৮৬২টি লঙ্গরখানা খোলে। সে সময় নারীর লজ্জা নিবারণের জন্য বস্ত্রের অভাবে বাসন্তী-দুর্গাদের মাছ ধরার জাল পরার চিত্র বিশ্ব-বিবেককে স্তম্ভিত করে। কাফনের কাপড়ের অভাবে কলাপাতা মুড়ে লাশ দাফন ছিল তখনকার নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা।
একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা
১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ওপর চতুর্থ সংবিধান সংশোধনী বিল চাপিয়ে দেন। সে সংশোধনী কোনো আলোচনা ছাড়াই কয়েক মিনিটের মধ্যে পার্লামেন্টে গৃহীত হয়। সেই বিলে শেখ মুজিবকে রাষ্ট্রপতি করা হয়। সংশোধনীটি আইনগতভাবে ছিল অবৈধ এবং রাজনৈতিকভাবে ছিল দেশে গণতন্ত্র হত্যার শামিল। পার্লামেন্টের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী সংশোধনী বিলটি ফার্স্ট রিডিং বা প্রথম পাঠে সংসদে উত্থাপন, দ্বিতীয় পাঠে আলোচনা এবং তৃতীয় পাঠে ভোট গ্রহণের আইনি প্রক্রিয়া অগ্রাহ্য করে শুধু সংসদ সদস্যদের টেবিলে দিয়ে পাঠ বা আলোচনা ছাড়াই সরাসরি কণ্ঠ ভোটে পাস করানোর ফলে সংশোধনীটি হয়ে পড়ে অবৈধ। কিন্তু স্পিকার মালেক উকিল আইন, বিধি সব ভুলে বিলের পক্ষে কাজ করে যান। সংসদীয় ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ নজির স্থাপিত হয়। বহুদলীয় গণতন্ত্রকে হত্যা করে এভাবেই একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা হয়। এজন্য আওয়ামী লীগ ও শেখ মুজিবকে অনেক মাশুল দিতে হয়েছে।
২০১৩ সালে ক্ষমতার শেষ বেলায় এসে বাকশালের নব প্রজন্মওয়ালারা আবার আওয়ামী লীগকে ফ্যাসিবাদী পথে ধাবিত করতে তৎপর হয়েছে।
আওয়ামী-জামায়াত সখ্য
আওয়ামী লীগ তাদের নিজস্বার্থে সব কিছুই করতে পারে। যে জামায়াতকে নির্মূল করার জন্য আজ তারা উঠেপড়ে লেগেছে, ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সেই জামায়াতের সঙ্গে তাদের বিভিন্ন সময় গভীর সখ্যের প্রমাণ রয়েছে। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে বিএনপিকে বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ ও জামায়াত একসঙ্গে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল এবং যথারীতি সংসদেও যোগ দিয়েছিল। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠনে জামায়াত বিএনপিকে সমর্থন দিলে আওয়ামী লীগ ক্ষুব্ধ হয় জামায়াতের ওপর। এরপরও রাষ্ট্রপতি পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী জামায়াতের সমর্থন লাভের জন্য অধ্যাপক গোলাম আযমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সমর্থন আদায় এবং জামায়াতকে তাদের পক্ষে আনার জন্য আওয়ামী লীগ আপ্রাণ চেষ্টা করে। ১৯৯২ সালে জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি গোলাম আযমের ফাঁসির দাবিতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সামনে গণআদালত বসে। ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির পাশাপাশি আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করে সুকৌশলে সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ আবদুর রাজ্জাককে দিয়ে কুক্ষিগত করে। আওয়ামী লীগের নির্দেশে তাদের নেতাকর্মীরা গোলাম আযমের বাড়ি ঘেরাও করে তাকে ধরে এনে প্রকাশ্য দিবালোকে ফাঁসির রায় কার্যকর করার ঘোষণা দেয় এবং গোলাম আযমের বাড়ি ঘেরাও করতে মিছিল করে। বিএনপি সরকার গোলাম আযমকে গ্রেফতার করে। ফলে বিএনপির ওপর জামায়াত ক্ষুব্ধ হয় এবং বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের দূরত্ব সৃষ্টি হয়। আওয়ামী লীগ সে সুযোগে আবার জামায়াতের সঙ্গে আঁতাত করে। ১৯৯৬ সালে বিএনপির বিরুদ্ধে যৌথ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে জামায়াত এবং আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আসতে সাহায্য করে। সে সময় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে জামায়াত নেতাদের সুসম্পর্ক দেখা যায়। ১৯৯৬ সালে বিএনপির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ, জামায়াত ও জাতীয় পার্টি যুগপৎ আন্দোলনের নামে এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল। মাগুরা উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই জোট নির্দলীয়-নিরপেক্ষ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনের ডাক দেয়। ২৪ ফেব্র“য়ারি, ১৯৯৪ শেখ হাসিনা সংসদের সব বিরোধী দল ও গ্র“পের সঙ্গে যৌথ বৈঠক করেন। সে সভায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে যৌথ আন্দোলন করতে তারা ঐকমত্যে পৌঁছায়। ২৭ জুন ১৯৯৪ জাতীয় প্রেস ক্লাবে আওয়ামী লীগ, জামায়াত ও জাতীয় পার্টি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা ঘোষণা করে যৌথ আন্দোলনের ঘোষণা দেয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে তারা শুরু করে ভয়াবহ আন্দোলন ও পরিকল্পিত নাশকতামূলক কার্যকলাপ। হরতাল, অবরোধ, জ্বালাও-পোড়াওয়ের মাধ্যমে দেশে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। আন্দোলনের এক পর্যায়ে তারা সংসদ থেকে পদত্যাগ করে এবং শেষ পর্যন্ত জনতার মঞ্চ প্রতিষ্ঠা করে আমলা বিদ্রোহের মতো রাষ্ট্রবিরোধী কাজে প্রকাশ্যে মদদ দেয়। ১২ জুন, ১৯৯৬ অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত ও জাতীয় পার্টির সহায়তায় আওয়ামী লীগ ১৪৬টি আসনে জয়লাভ করে এবং মিত্রদের সমর্থনে সরকার গঠন করে।
১৯৯৬-২০০১ সময়কালে আওয়ামী লীগ একটিবারের জন্যও জামায়াতের নেতাদের যুদ্ধাপরাধী বা মানবতাবিরোধী অপরাধী ভাবেনি বা তাদের বিচারের জন্য টুঁ-শব্দটিও করেনি। তখন জামায়াত ছিল আওয়ামী লীগের মহান বন্ধু। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতিশ্র“তির বরখেলাপ, দুর্নীতি, অবাধ লুটপাট, হত্যা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজির কারণে ১৯৯৯ সালে যখন তাদের জনপ্রিয়তায় ধস নামে, সে পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ নভেম্বর, ১৯৯৯ বিএনপির নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ঐক্যজোট নিয়ে গঠিত হয় চারদলীয় জোট। আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টিকে চাপে ফেলে জোট থেকে বের করে নিতে পারলেও জামায়াতকে পারেনি।
তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগের চার বছরের শাসনামলে দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন ঊর্ধ্বগতি, গ্যাস, বিদ্যুতের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, সরকারি দলের ক্যাডারদের হত্যা, রাহাজানি, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, শেয়ারবাজার থেকে লাখো কোটি টাকা লুণ্ঠন করে ৩৩ লাখ বিনিয়োগকারীকে সর্বঃস্বান্তকরণ, হলমার্ক, ডেসটিনি, ইউনিপে-টু নামক ভূঁইফোড় সংগঠনের নামে জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট, পদ্মা সেতুর নামে লুটপাট এবং সরকারি বাহিনী কর্তৃক গুম-খুনের কারণে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তায় ধস নামে।
কোনো পরিবর্তন নেই
আওয়ামী লীগের প্রথম শাসনকাল, দ্বিতীয় শাসনকাল এবং তৃতীয় শাসনকালের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। আওয়ামী লীগ একই ধারাবাহিকতায় চরম নির্যাতন-নিপীড়নের মাধ্যমে দেশ শাসন করে। বিরোধী দলের মতামতকে কখনোই তারা সহ্য করতে পারে না। আওয়ামী লীগের নিষ্ঠুরতা ও ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। অথচ জাসদ ও বামপন্থীদের একাংশ তাদের নিজস্ব রাজনীতি ত্যাগ করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমবেত হয়েছে। আওয়ামী লীগের মহা গুণগান করছে। তাদের দলের নিজস্ব নির্বাচনী প্রতীক ত্যাগ করে আওয়ামী লীগের প্রতীক গ্রহণ করে নির্বাচন করেছে। তারা এমপি, মন্ত্রী হয়েছেন। এটা জাসদ ও বামপন্থীদের জন্য কতটুকু সম্মানজনক?
যে আওয়ামী লীগ ’৭২-’৭৫ সময়কালে রাজাকার, আলবদর, আল শামস, জামায়াতকে নিরাপদ রেখে জাসদ, বামপন্থীদের নির্বিচারে হত্যা করেছিল, সেই আওয়ামী লীগ ২০১৩ সালে এসে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এবং ১৮ দলভুক্ত জামায়াত, ইসলামী ঐক্যজোট, জাগপা, এলডিপি ও অন্য সমমনাদের নির্মূল করতে গোপনে, প্রকাশ্যে হত্যার কৌশল নিয়েছে। আওয়ামী লীগের এই দ্বিমুখী নীতি ও আদর্শ বিচ্যুতির কারণেই ওই দলের প্রতিষ্ঠাতা মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী ১৯৫৭ সালে দল ত্যাগ করে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেছিলেন।
নতুন প্রজন্মের জন্য এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা খন্দকার মোশতাক আহমেদের নেতৃত্বে ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ মুজিবের দুঃখজনক মৃত্যু ও বাকশাল সরকারের পতন হয়। তখন বিএনপি নামে কোনো দলই ছিল না। বিএনপি গঠিত হয়েছিল জাতির এমন এক ক্রান্তিলগ্নে যখন বাকশাল সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক শূন্যতা বিরাজ করছিল। প্রেসিডেন্ট জিয়া একজন সামরিক ব্যক্তিত্ব হওয়া সত্ত্বেও জাতিকে সম্পূর্ণ অবাক করে দিয়ে সামরিক শাসনের বদলে জাতিকে উপহার দেন বহুদলীয় গণতন্ত্র। সংবিধানে ৫ম সংশোধনী এনে প্রেসিডেন্ট জিয়া বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেন এবং সব সংবাদপত্রের ওপর থেকে বিধিনিষেধ তুলে নিয়ে মানুষের বাক স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেন। রাজনীতিশূন্য বাংলাদেশে রাজনীতি করার সুযোগ পায় বাংলাদেশের জনগণ। জাতির উন্নয়নের পূর্বশর্ত যে গণতন্ত্র তা মুক্তি পায় রাষ্ট্রপতি জিয়ার হাতে।
আসুন আমরা সব ধরনের ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে, গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করি। বিভেদ আর হানাহানির রাজনীতিকে পরাজিত করি। প্রভাবমুক্ত অবাধ, নিরপেক্ষ ও সব দলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তরের স্বীকৃত ব্যবস্থা ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি’ ফিরিয়ে আনি। আমরা সবাই মিলেমিশে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে একুশ শতকের উপযোগী মডেল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলি। রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনি দেশপ্রেম, সততা, সহমর্মিতা, শৃংখলা এবং গণতান্ত্রিক শিষ্টাচার।
শিমুল বিশ্বাস : বিআইডব্লিউটিসির সাবেক চেয়ারম্যান; বিরোধীদলীয় নেতার বিশেষ সহকারী
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1338)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
-
▼
2013
(14877)
-
▼
October
(362)
-
▼
Oct 29
(16)
- সহজিয়া কড়চা- মুহূর্তটির দাবি মিলের—গোঁজামিলের নয...
- আন্দোলন- অহিংস হরতালের সহিংস রূপান্তর by আলী ইমাম ...
- ঝড়ে বিপর্যস্ত যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স
- শ্রদ্ধাঞ্জলি- কবি দিলওয়ার ও তাঁর মাটির ঘর by মফিদ...
- জীবনের সাইকেল- হরতালের আগের মধ্যরাতের বিচিত্র চিন্...
- মূল প্রতিবেদন- শিশুদের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতির বাস্ত...
- ক্ষতির মুখে শিশু- রাজনৈতিক কর্মসূচিতে শিশুদের ক্ষত...
- ৩৭ মিনিট কাটে যেভাবে: ফোনালাপের পূর্ণ বিবরণ
- মুহূর্তটির দাবি মিলের—গোঁজামিলের নয়
- অনিশ্চিত স্বদেশ
- গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ
- গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ
- আওয়ামী রাজনীতির স্বরূপ by শিমুল বিশ্বাস
- ককটেল মারে কারা? by নুরুল ইসলাম বিএসসি
- আশার দোলাচলে by ড. মোকাম্মেল এইচ ভূঁইয়া
- তিনি তো একচুল নড়লেন, উনি কী করলেন? by বদিউর রহমান
-
▼
Oct 29
(16)
-
▼
October
(362)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
ইরান
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
কালবেলা
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
ইউক্রেন
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
তরুণ প্রজন্ম
মানবাধিকার
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আলী যাকের
আইন ও বিচার
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
তারেক শামসুর রেহমান
মালয়েশিয়া
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
স্বাস্থ্য
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
জ্যোতির্বিজ্ঞান
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
শিল্প ও সাহিত্য
সংবিধান ও রাষ্ট্র
বগুড়া
মিয়ানমার
ঢাকা
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
গবেষণা
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
জীবনযাপন
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
মেহেদী হাসান
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
মানসুরা হোসাইন
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
মসজিদ
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
ইয়েমেন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
Exclusive
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
উচ্চশিক্ষা
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
বিজ্ঞান
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
জনস্বাস্থ্য
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
ফরিদপুর
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লাতিন আমেরিকা
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মহাকাশচারী
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
জোহরান মামদানি
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
ইহুদি
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
স্পেন
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
বিশ্বকাপ ফুটবল
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হুগজিল্ট

No comments:
Post a Comment