Friday, June 9, 2023
গল্প- জায়গিরদার ও তার কুকুর by পান্নালাল প্যাটেল
গল্প- জায়গিরদার ও তার কুকুর by পান্নালাল প্যাটেল
অনুবাদ : আন্দালিব রাশদী।
ইংল্যান্ড
থেকে ফেরার পর জায়গিরদার এই প্রথম আমাদের গ্রামে আসছেন। সবাই তার আগমনের
প্রতীক্ষায়। গায়ের তালাতি (হিসাবরক্ষক) সপ্তাহ ধরে দুধের ভাণ্ড ঠিক রাখছে।
কে জানে, কখন বাপুজির অভ্যুদয় ঘটবে। চারপেয়ে চৌকি এবং কাঁথা স্তূপ করা
হয়েছে। মুখির (গ্রামের মাতবর) ওপর হুকুম জারি হয়েছে এসময় তার গ্রাম ছেড়ে
যাওয়া চলবে না। মুচি, নাপিত, ভিস্তি সকলকেই প্রতি মুহূর্তের জন্য তৈরি
থাকতে বলা হয়েছে। কয়েকজন পুলিশ দিনভর-রাতভর পাহারা দিয়ে যাচ্ছে। এমনকি যখন
তারা খেতে যাচ্ছে, বদলা পুলিশ মোতায়েন করে যাচ্ছে।
আজ খুব সকালে জায়গিরদারের বাবুর্চি, কয়েকজন ভৃত্য ও বডিগার্ড এসে পৌঁছাতেই গ্রামে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
বাবুর্চি রান্নাঘরের দায়িত্ব নিয়ে নিল, তাকে সাহায্য করার জন্য গ্রামের চারজন পুরুষ নিয়োগ হলো। জায়গিরদারের সফরসঙ্গীদের ব্যবস্থাপনায় মুখি সারাক্ষণই ব্যস্ত। পুলিশরা রান্নার হাঁড়ি-পাতিল জোগাড় করতে, দুধ ও দই জোগাড় করতে গ্রাম চষে বেড়াচ্ছে। যেসব জিনিস পাওয়া যাচ্ছে না বানিয়ার দোকান থেকে কেনা হচ্ছে। খরচ যেভাবেই হোক, তা সম্মিলিতভাবে গ্রামবাসীকে বহন করতে হবে। জায়গিরদারের পরিচারক যা কিছু প্রয়োজন তার জোগাড়যন্ত্র শুরু করে দিলো, যাতে সবকিছু ঠিকঠাক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে। গ্রামের দর্জি দালাকে দিয়ে পাঁচ বছর আগে সেলাই করা কোট ও চোগা পরে মাথায় গোলাপি পাগড়ি চাপিয়ে তালাতি অধৈর্য হয়ে এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করছে আর নজর রাখছে রাস্তার ওপর – বাপুজি যদি এসে পড়েন!
হঠাৎ কেউ একজন বলল, ‘আমার মনে হয় গাড়ি আসছে’, আর তাতেই ধাবমান গাড়ির শব্দ শোনার জন্য সবাই কান খাড়া করে রাখল। রাস্তার বাঁকে বহু মানুষের সমাগম হলো। ‘এ যে আসছে… দেখতে পাচ্ছো না ধূলি উড়ছে… কিছুক্ষণ পর তোমাদের চোখে পড়বেই।’
পুলিশ জনতা সামলাতে ছুটল। ‘শালা সব আহম্মকের বাচ্চা, রাস্তার ওপর দাঁড়িয়েছিস ক্যান্? লাইন করে দাঁড়া। বেটা শয়তানের বাচ্চারা, এত হইচই কিসের! শান্ত হ। শুনতে পাচ্ছিস গাধার বাচ্চা গাধা, যখন বাপুজি আসবেন, কথা কানে ঢুকছে মূর্খের দল, যখন বাপু আসবেন সবাই মাথা নুইয়ে সম্মান দেখাবি।’
বাপুর গাড়ি এসে গেল, গ্রামবাসীর আনত মাথা ধুলোয় ভরে গাড়ি মাঠের পাশে থামল।
দরজা খুলে গেল, বাপু গাড়ি থেকে বেরিয়ে এলেন। তার পরপরই নেমে এলো সাদা ধবধবে একটি জন্তু, খাটো পা, লম্বা কান, শরীরটা পশমে জড়ানো। পেছনের সিট থেকে নেমে এলেন বাপুর সেক্রেটারি।
জায়গিরদার একজন যুবক, বয়স আটাশের মতো। তার মুখমণ্ডল তেমন আকর্ষণীয় নয়, তবে শরীরটা সুগঠিত। আর তার পোশাকের স্টাইল অসাধারণ – ট্রাউজার্স, কোট, টাই, মোজা, জুতো, হাতঘড়ি, গগলস এবং চমৎকার একটি আংটি। তার এক হাতে লাঠি, অন্য হাতে শেকলের মতো একটা কিছু। দেখে মনে হয় যেন এইমাত্র তিনি স্টিমার থেকে বেরিয়ে এসেছেন।
কিন্তু কেউই তার দিকে নজর দিচ্ছে না, যখন তাকে শ্রদ্ধা নিবেদন করছে তখনও না, তাদের সবার দৃষ্টি নিবন্ধ তার পায়ের কাছের ছোট অদ্ভুত জন্তুটির দিকে।
এমনকি তারা যখন নিজেদের মধ্যে কথাবলাবলি করছে বিলাতফেরত জায়গিরদার কতটা বদলে গেছেন সে-আলাপে না গিয়ে জন্তুটির কথা বলছে। কেউ-কেউ বলেছে, এটা আসলে ইংরেজ খরগোশ। অন্যরা ভেবেছে, এটা সম্ভবত একটা কুকুর। বিস্মিত কেউ-কেউ অবশ্য এটাও বলেছে, এটা আবার ইংরেজ প্রজাতির চিতাবাঘ নয় তো! কেউ-কেউ মনে করেছে, এটা কুকুরও নয়, বিড়ালও নয়, খরগোশও নয়! কিন্তু এই অদ্ভুত জিনিসটা যে কী তাও নির্ধারণ করতে পারল না। আলোচনা প্রতিমুহূর্তেই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কেউ-কেউ এমনকি এই অদ্ভুত জিনিসটাকে নিয়ে বাজি ধরেছে।
খবরটা যতই ছড়াচ্ছে ততই জনতার ঢল নামছে। প্রতিটি নতুন মানুষ এসে জিজ্ঞেস করছে, ‘এই অদ্ভুত জন্তুটা আসলে কী?’ কয়েকজন তো সত্যি-সত্যিই ভয় পেয়ে গেল। তারা বলল, ‘বাপুজির উচিত জন্তুটাকে শেকল দিয়ে বেঁধে রাখা, নতুবা এই জন্তু কাউকে মেরেও ফেলতে পারে।’
এর মধ্যে কয়েকজন যুবক সুনির্দিষ্ট তথ্য নিয়ে হাজির হলো। তারা জানালো, এটা আসলে একটা কুকুর। তারা এই কুকুরের নাম শুনে থাকলেও এখন তা গুলিয়ে ফেলেছে। একজন বলল, এই কুকুরের নাম শিভলার, অন্যজন জোর দিয়ে বলল, এটার নাম শিভলো। তৃতীয়জন শিশু কিংবা ফিলু জাতীয় কিছু একটা বলল। অন্যদের কেউ-কেউ নাম নিয়ে মোটেও মাথা ঘামালো না, তারা কুকুরের বর্ণনা দিতে শুরু কলল, ‘কী সুন্দর একটা কুকুর। কান দুটো এত লম্বা যে মাটিতে লেগে যায়। আর পাগুলো কেমন খাটো-খাটো। হায় খোদা! চুলগুলো এমন কেন – সাধুদের জটপাকানো চুলের মতো! আবার কী ধবধবে সাদা।’ কেউ একজন বলল, ‘আমার মনে হয় এগুলো রুপালি চুল। একদিন শেঠজি বলেছেন ইংরেজ মহিলাদের নাকি সোনালি চুল। তাহলে কুকুরটার রুপালি চুলও হতে পারে। কেউ তো আর ঠিকঠাক বলতে পারে না। ইংল্যান্ডের মতো দেশে সবকিছুই সম্ভব!’
এসব নিয়ে সবাই হাসাহাসি করল আবার প্রত্যেকে নিজেকে এটাও শোনালো, ‘বাপুর মতো মানুষ তো আর বিদেশ থেকে নেড়ি কুত্তা নিয়ে আসার কথা নয়।’
সারাগ্রামের মানুষই কুকুর নিয়ে বলাবলি করছে, এমনকি মাঠের উলটোদিকে দাঁড়িয়ে মহিলারাও মজার-মজার মন্তব্য করছে।
কিন্তু মুখি এসে সকলকে সতর্ক করে দিলো, ‘বাপুর কুকুর নিয়ে কেউ কোনো বাজে কথা বলবে না। বাপু তার কুকুরকে নিজের ছেলের চেয়ে বেশি ভালোবাসেন।’
অপর এক যুবক তাকে সমর্থন করে বলল, ‘জানু মিয়াও আমাদের একই কথা বলেছেন।’
বাপুর অবস্থান সম্পর্কে সচেতন অপর একজন বলল, ‘এটাকে শুধু কুকুর বলে অসম্মান করা ঠিক হবে না। মনে রাখা দরকার এটা বাপুর কুকুর।’ বাপুর পাশাপাশি হেঁটে আসা কুকুরের পেছনে শত-শত উৎসাহী চোখ তাকে অনুসরণ করছে।
বাপু খাটে বসতেই কুকুরটিও হাত-পা গুটিয়ে তার পেছনে এলো। বাপু ‘সিলাউন’ (সিট ডাউন) জাতীয় কিছু একটা বলতে কুকুরটিও শান্ত হয়ে খাটে বসল। লোকজন অবাক হয়ে গেল। কেউ ভাবল কুকুরটির নাম ‘সিলাউন’, অন্যরা ভাবল শব্দটা আসলে বসার আদেশ।
যে যা-ই হোক, সকলেই ততক্ষণ বুঝে গেছে, এই কুকুরটিকে বাপুর সেক্রেটারির চেয়ে বেশি সম্মান করতে হবে। এমনকি তার ছেলের চেয়েও বেশি সম্মান করতে হবে।
কেবল তিন বছর আগে জায়গিরদার যখন এখানে এসেছিলেন, এত স্বাধীনতা নিয়ে তার নিজের ছেলেও লাফিয়ে খাটে উঠতে পারেনি।
কুকুরটির নাম আসলে শিলু, সিলভার থেকে সংক্ষেপ করতে করতে শিলু। গ্রামবাসী সবাই ডাকতে শুরু করল শিলুভাই। তারা বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেল যখন শুনল জায়গিরদার পাঁচশো টাকা দিয়ে কুকুরটিকে কিনেছেন। তারা বলাবলি করল, ‘এই টাকায় বাপুজি এক কুড়ি বলদ কিনতে পারত কিংবা পাঁচটা ঘোড়া।’ কেউ একজন বলল, ‘শিলুভাইর দাম তো হাতির দামের সমান।’ ‘এর যা ওজন, এই টাকায় সমান ওজনের রুপা কেনা যেত। ভাবো তো দেখি একবার।’ মন্তব্য করল অন্য কেউ একজন।
কিন্তু গ্রামের কুকুরগুলো তো আর সুবিবেচক নয়। রাস্তার নেড়ে কুকুর দেখলে এই কুকুরগুলো যেমন ঘেউ-ঘেউ করতে থাকে, শিলুকে দেখে একই রকম ঘেউ-ঘেউ জুড়ে দিলো। শিলুও তীব্রস্বরে ঘেউ-ঘেউ করে জবাব দিলো। আর সবাই তখন ভয়ে কাঁপা শুরু করল। ‘হায় খোদা, এটা কেমন করে চিৎকার করে? মনে তো হচ্ছে একেবারে বাঘের গর্জন।’
গ্রামের এক যুবক প্রতিবাদ করল, ‘এসব বাজে প্যাচাল ছাড়ো। আমাদের গ্রামের কুকুরগুলোর সাথে এটাকে লড়তে দাও, দেখবে মুহূর্তের মধ্যেই এটাকে হারিয়ে দেবে। চেহারা দেখে কথা বলতে যেও না। আমাদের সবচেয়ে বাজে কুকুরগুলোও এটার চেয়ে ভালো।’
তার এই যুক্তিতে গ্রামবাসী মোটেও সন্তুষ্ট হলো না। বরং তারা মনে-মনে চাইল, বাপু তার কুকুরটিকে একবার ছেড়ে দিন, শিলু এসে গ্রামের ম্যাদামারা কুকুরগুলোকে তার শক্তি দেখিয়ে দিক। কেউ কেউ গিয়ে জানু মিয়াকে ধরল। বলল, ‘জানুভাই, শিলুভাইকে একবার ছেড়ে দাও না, অন্তত একবার ছেড়েই দেখ না – আমরা তো নিশ্চিত এই কুকুরগুলো সাথে সাথে ছুটে পালাবে। দারুণ মজা হবে।’
জায়গিরদার চেঁচিয়ে উঠলেন, ‘আহম্মকের দল, দাঁড়িয়ে-দাঁড়িয়ে কী দেখছ? এইসব নেড়ি কুত্তাগুলোকে তাড়াচ্ছো না কেন?’ সাথে- সাথেই হাতে ইট-পাথর নিয়ে তারা কুকুরের পেছনে ছুটল।
কুকুরগুলো পালিয়ে গেল সত্যি, কিন্তু ঘেউ-ঘেউ থামল না, অন্য রাস্তা থেকে এদের ঘেউ-ঘেউয়ের প্রতিধ্বনি শোনা গেল। কুকুরেরা মানুষের চেয়ে আরও বেশি মরিয়া হয়ে নিজের বাড়িঘর আঁকড়ে থাকে। ধাওয়াকারী গ্রামবাসী ফিরে আসতেই একই জায়গায় কুকুরদের আবার অভ্যুদয় ঘটল, এবার সাথে যোগ হয়েছে অন্য রাস্তার আরও কুকুর।
১০ মিনিটের মধ্যেই পরিস্থিতি আবার উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠল। এবার মুখি জায়গিরদারের কাছে হাজির হয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত জনতার বাসনা ব্যক্ত করল। ‘বাপুজি, শিলুভাইকে একবার ছেড়েই দেন না। এই কুকুরগুলোর একটিও আশেপাশে কোথাও দাঁড়াবার সাহস পাবে না।’
গোঁফে পাক দিয়ে বাপু বললেন, ‘না-না, তা কী করে হয়? এটা একবার ক্ষেপে গেলে নিয়ন্ত্রণ করাই তো অসম্ভব হয়ে পড়বে। এখানে বেশ চুপচাপ আমার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যান।’
মুখি বলল, ‘খাঁটি কথা বলেছেন – শিলুভাই তো খুবই সম্মানিত কুকুর।’ মুখে অবিবেচকের হাসি নিয়ে এক বুড়ো জিগ্যেস করলেন, ‘বাপুজি আপনার এই কুকুর কি বাঘের সাথে লড়াই করতে পারবে?’
অশালীনভাবে জায়গিরদারের কুকুরপ্রসঙ্গ উত্থাপনের বিষয়টি সংশোধন করার চেষ্টা করে অপর একজন বলল, ‘তার মানে আপনি শিলুভাইয়ের কথা বলতে চাচ্ছেন? শিলুভাইকে একবার দেখলেই তো সাধারণ চিতা দৌড়ে পালাবে।’
কিন্তু বুড়ো সহজে হারতে রাজি নন। বুড়ো বললেন, ‘বাপু, এটা কি ঠিক?’ উষ্ণ হাসি হেসে বাপু বললেন, ‘যাও একটা চিতা নিয়ে এসো, তারপর দেখি।’
আবার জায়গিরদারের দৃষ্টি পড়ল ঘেউ-ঘেউ করা কুকুরগুলোর ওপর। শিলুভাইও নিজের ক্ষমতা দেখাতে অস্থির হয়ে পড়ল। কিন্তু তার কী-ই বা করার আছে? বাপুর সামনে তাকে তো ভদ্রই থাকতে হয়।
বাপু শিলুভাইর ঘাড় পেঁচিয়ে শিকল বাঁধলেন এবং যখন উঠে দাঁড়ালেন মুখি এক কাপ চা নিয়ে হাজির।
বাপু চায়ের কাপের দিকে হাত বাড়িয়ে দিলেন। তারপর হঠাৎ মন পরিবর্তন করে হাত গুটিয়ে নিয়ে বললেন, ‘তোমাদের কি টেবিল জাতীয় কিছু একটা নেই?’
মুখি কথা শুনে হতবুদ্ধি হয়ে পড়ল। টেবিল যে কী জিনিস সে বুঝে উঠতে পারল না। জায়গিরদারের রাজধানী শহরে যখন সে গিয়েছিল তখনকার একটা হোটেলের কথা তার মনে পড়ল। বিচলিত হয়ে বলল, ‘আপনি চেয়ারের কথা বলছেন, তাই না? ঠিক আছে…’
‘তুই একটা আস্ত আহাম্মক। চেয়ার দিয়ে কী করব? আমি চায়ের কাপটা রাখতে চাই।’
গ্রামবাসী সবাই দিশেহারা হয়ে সেখানেই দাঁড়িয়ে রইল। তারপর যেন হঠাৎ তারা আলোর নিশানা দেখতে পেয়ে টেবিলের খোঁজে দিগি¦দিক ছুটল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা কী নিয়ে আসবে? একটা ঝুড়ি এনে উলটে বসিয়ে দিতে পারে। কিন্তু এটা তো নিচুই থেকে যাবে। এ কাজের জন্য একটা বড় পাথর যে তুলে আনবে, তাও পেল না। পেলে তা কোনো না কোনোভাবে জায়গিরদারের জন্য নিয়ে আসত।
হঠাৎ সেই বুড়ো জ্ঞানগর্ভ একটি পরামর্শ নিয়ে এলেন। বললেন, ‘তোমরা কোনো জায়গা থেকে একটা ড্রাম তুলে আনছো না কেন?’
বৃদ্ধের এত বুদ্ধি দেখে মুখি হিংসেতে জ্বলে উঠল। একসময় সে নিজেকেই শোনালো, ‘এরকম একটা সাধারণ ব্যাপার আমার মাথায় খেলল না কেন? অথচ আমার নাকের তলাতেই ড্রাম দেখতে পাচ্ছি। যদি একজন মানুষ কাজটা করতে যেত তাহলে এক মিনিটেই ড্রাম নিয়ে হাজির হতো। কিন্তু এ কাজে তিনজন ছুটে যাওয়াতে দেরি হতে তো বাধ্য।’
কিন্তু মুখি যখন ড্রামের ওপর চায়ের কাপ রাখতে যাচ্ছে জায়গিরদার চেঁচিয়ে উঠলেন, ‘তোমরা কি সবাই গাধা না অন্য কিছু? আগে অন্তত ড্রামের ময়লাটা ঝাড়বে তো।’
কয়েকজন গ্রামবাসী উঠে দাঁড়িয়ে ড্রাম মুছতে শুরু করল; একজন যুবক তার কাপড় দিয়ে ড্রামের ধুলো ঝাড়তে শুরু করল। ধুলো কুকুরের গায়ে পড়ল এবং জায়গিরদার খুব বিরক্ত হলেন।
বুড়ো বললেন, ‘সাবধানে ধুলো ঝেড়ো, শিলুভাইয়ের গায়ে যেন না পড়ে।’ বাপুও বললেন, ‘আহাম্মক।’
অপর এক যুবক বলল, ‘আমি কি শিলুভাইকে পরিষ্কার করে দেব?’
পরিহাসের হাসি মুখে ধরে জায়গিরদার বললেন, ‘কেন? তোর কাপড়টা পরিষ্কার করতে?’
জনগণ আবার কিছুক্ষণের জন্যে হতবুদ্ধি হয়ে পড়লে বুড়ো তাদের এই অবস্থা থেকে রক্ষা করলেন। তিনি বললেন, ‘শিলুভাইর গা তো কাপড়ের চেয়ে পরিষ্কার।’
সবাই হাসিতে ফেটে পড়ল। যুবক লজ্জা পেল এবং বিরক্ত হলো। বিড়বিড় করে বলল, ‘এটা বরফের মতো সাদা হতে পারে, তাই বলে এটা যে কুকুর তা তো আর বদলাচ্ছে না।’
অসহায় কণ্ঠে মুখি জিজ্ঞেস করল, ‘শিলুভাইর চা-টা আমি কী করব?’
কড়া স্বরে বাপু বললেন, ‘কেন, আর চা নেই?’
‘বাপুজি, চা তো তৈরিই আছে।’
বিলেত থেকে আনা সাদা মানুষের কুকুর কেমন করে চা খায় তা দেখার কৌতূহল সবার।
‘বেশ আমি তাহলে কাপটা ধরি, কেউ একজন গিয়ে আর একটা ড্রাম নিয়ে আসুক।’
বাপু আবার চিৎকার করে উঠলেন, ‘গাধা কোথাকার! ড্রাম দিয়ে কাজ কী? ড্রাম তো আর চায়ের কাপ-পিরিচ থেকে চা খেতে যাচ্ছে না। আমার বদমাশ ভৃত্যগুলো কোথায়?’
ভেতরে ধূমায়িত চা-পানরত কজন ভৃত্য ও পুলিশ ভয় পেয়ে গেল। তবে তারা বেরিয়ে আসার আগেই যা কিছু বন্দোবস্ত করার হয়ে গেল।
শিলুভাইর জন্য মেঝেতে একটি বিছানা পেতে কাঁসার প্লেটে চা ঢেলে দেওয়া হলো।
কিছুক্ষণের মধ্যে জনতা শিলুভাইকে নিয়ে তাদের আগ্রহ হারিয়ে ফেলল। তারা মন্তব্য করল, ‘আমাদের কুকুরগুলোও তো একইভাবে পান করে।’
স্থানীয় কুকুরগুলো আবার উত্তেজিত হয়ে উঠল। পাহারাদাররা শিলুভাইর চা পান করা দেখায় ব্যস্ত, এই সুযোগে আবার কুকুরগুলোর অভ্যুদয় ঘটল এবং সাহস করে এবার কাছাকাছি চলে এলো।
জায়গিরদার বললেন, ‘আগে বসে চাটা শেষ করে তারপর যা খুশি তা-ই কর গিয়ে।’
নিজের কুকুরকে এই নির্দেশ দেওয়ায় গ্রামবাসীর উৎসাহ আবার বেড়ে যায়। গ্রামের কুকুর আর শিলুভাইর লড়াই দেখার আশায় তারা নিকটে দাঁড়ানো কুকুরগুলোকে তাড়ানোর প্রয়োজন বোধ করল না।
শেষ পর্যন্ত বাপু তার কুকুর নিয়ে খোলা মাঠে এলেন। কয়েক মিনিটের মধ্যে গ্রামের চারদিক থেকে মানুষ এসে শিলুভাইর চারপাশে ভিড় জমালো। গলার শিকল রোদ্রালোকে রুপার মতো চকচক করে উঠল।
কুকুর নিয়ে ওত পেতে থাকা গ্রামবাসীকে বাপু সজোরে চেঁচিয়ে বললেন, ‘গাধা, পথ থেকে সরে দাঁড়া। শিলু যাও।’
শিলু গোঁ-গোঁ করতে শুরু করল এবং ডোরাকাটা কুকুরের দিকে ছুটল, সেই কুকুর কয়েক পা পিছিয়ে গেল।
‘পালাচ্ছিস কেন? সামনে আয়।’
ঠিক তখনই জায়গিরদারের চোখে পড়ল ডোরাকাটা উলটোদিকে ছুটে গিয়ে সুযোগের অপেক্ষায় ওত পেতে রইল। শিলু গোঁ-গোঁ শুরু করল কিন্তু ডোরাকাটা কুকুর অতটুকু ভয় পেয়েছে বলে মনে হলো না। হঠাৎ একজন চেঁচিয়ে উঠল, ‘বাপুজি, একটু সাবধানে থাকবেন।’
কিন্তু ততক্ষণে একটি কালো কুকুর বাপুর পায়ে কামড় বসিয়ে দিয়ে ছুটে পালালো।
পরবর্তী উত্তেজনা ও হইচইয়ের মুহূর্তে একসময় শিলু বাপুর হাত থেকে ছুটে গেল। সবাই তখন উত্তেজিত। কেউ বাপুর পা পরীক্ষা করছে। পাশের সব কুকুর মিলে চারদিক থেকে শিলুকে আক্রমণ করেছে; অন্যরা শিলুভাইকে উদ্ধার করতে ছুটল। তারা শিলুর করুণ কান্না শুনতে পেল কিন্তু তাকে খুঁজে পেল না। তারা গ্রামের কুকুরগুলোকে লাঠি দিয়ে পেটাল; পাথর ছুড়ে মারল। কয়েকটি কুকুর ভীষণ জখম হলো, কতগুলো কুকুর যতদ্রুত সম্ভব পালিয়ে গেল। কিন্তু কোথাও শিলুকে দেখা পেল না। বাপু-চেঁচিয়ে বললেন, ‘গাধার দল আমার বন্দুক নিয়ে আয়।’
মানুষ তখন সতর্ক। কেউ একজন বন্দুক নিয়ে এলো।
তিনি চেঁচালেন, ‘গাধা, এটা নয়, অন্য বন্দুক নিয়ে আয়।’
অন্য বন্দুক আনার আগেই গ্রামবাসী শ্বাসরোধ করে মারা বেশ কটি কুকুর সামনে এনে হাজির করল।
বাপু অসহায়ের মতো এই দৃশ্যটিতে চোখ রাখলেন। রক্তে ডুবে থাকা শিলু যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে, জীবিত কয়েকটি কুকুর পালিয়ে গেছে। শিলুর নীল চোখ বাপুর বন্দুকের চেয়েও ভয়াবহ দেখাচ্ছে। আর তার চেয়েও যন্ত্রণাদায়ক ছিল ভয়াবহ নীরবতা এবং মৃত্যু-উন্মুখ কুকুরের যন্ত্রণার কান্না। এই ভয়ঙ্কর দৃশ্য অনেকেই সহ্য করতে পারছিল না, তারা বাড়ি চলে গেল। এমনকি বাপুর খুব কাছাকাছি দাঁড়িয়ে থাকা লোকজনও দৃশ্যপট থেকে বিলীন হতে শুরু করল। কিন্তু কেউ কেউ এতোই আতঙ্কিত যে পা-ও নাড়াতে পারছিল না।
বাপু আর একবার চিৎকার করে বললেন, ‘গাধা! দাঁড়িয়ে দেখছিস কী? যা, অলিগলির যত কুকুর ধরে নিয়ে আয়। এদিকে কোনো মানুষ যেন না আসে। আমার এই সতর্কবার্তার পর যদি কেউ এসে আমার বন্দুকের গুলি খেয়ে মারা যায় আমি তার জন্য দায়ী থাকব না।’
সবাই ভাবলো এখন সরে যাওয়াই নিরাপদ। কয়েক মিনিটের মধ্যে জায়গাটা জনশূন্য হয়ে গেল। থাকলেন কেবল জায়গিরদার।
প্রায় সবাই নিজেদের যার-যার বাড়িতে আটকে রাখে। যারা জায়গিরদারের ভৃত্য ও পুলিশের হাত থেকে ছাড়া পায়নি, তারা কোনো না কোনো অজুহাতে তাদের কাছ থেকে গ্রামের কুকুরগুলোকে রক্ষা করার চেষ্টা করে। আসলে জায়গিরদারের ভৃত্যরাও চায় না কুকুরগুলোর মৃত্যু হোক। কিন্তু যেহেতু জায়গিরদারকে শান্ত করতে কুকুর ধরার কোনো বিকল্প নেই, অনিচ্ছাতেই তাদের এ-কাজে নামতে হয়। তারা গ্রামবাসীকে বোঝানোর চেষ্টা করে, অন্তত কয়েকটা কুকুর ধরে দাও। তাতে গ্রামটা ঝামেলা থেকে রক্ষা পাবে।
প্রায় ১০টা কুকুরকে ঘিরে ধরলেও বন্দুক নিয়ে অপেক্ষমাণ বাপুর কাছে এর অর্ধেক কুকুর নিয়ে আসতে সমর্থ হয়। বাপু কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই পাঁচটা কুকুরকে গুলি করে হত্যা করেন। তারপর চেঁচিয়ে ওঠেন, ‘আর সব কুকুর কোথায়?’
কেউ জবাব দেওয়ার সাহস পেল না। জানু মিয়া তার সকল সাহস সঞ্চয় করে বলল, ‘আমরা আর খুঁজে পাচ্ছি না। নিশ্চয়ই গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছে।’
‘বাজে বকছো কেন? বদমাশগুলো নিশ্চয়ই কুকুরগুলোকে নিজেদের বাড়িতে লুকিয়ে ফেলেছে। যাও, আবার গিয়ে বাড়ি-বাড়ি খোঁজ করো। কোনো বাড়িতে কুকুর পেলে সে বাড়ির মালিকসুদ্ধ বেঁধে নিয়ে আসবে।’
আদেশ পেয়ে ভৃত্যরা আবার বেরিয়ে গেল।
কিন্তু জায়গিরদার আবার উঠে দাঁড়ালেন। বললেন, ‘থাক জানু, তোরা কোনো কাজেরই না। বরং একটা কাপড়ে শিলুকে পেঁচিয়ে গাড়িতে এনে তোল।’
যে যুবকের ঘাড়ের কাপড় এক ঘণ্টা আগেও জীবন্ত শিলুকে মোছার প্রশ্নে অত্যন্ত নোংরা বিবেচিত হয়েছে জানু মিয়া তার সেই কাপড়টি ছাড়া কুকুরের জন্য কারো কাছ থেকে এক টুকরো কাপড় উদ্ধার করতে পারল না।
যুবক ভাবল, ‘হায় খোদা! আমি কী এমন অপরাধ করেছি যে আমার ঘাড়ের কাপড়টিও নিয়ে নিচ্ছে।’ এমনকি গ্রামের পথে ধূলি উড়িয়ে বাপুর গাড়ি যখন চলে যায়, তখনও তার একই প্রশ্ন। গ্রামের সবাই জানে কুকুরের যে দাম ভাগাভাগি করে তাদের সবাইকে তা পরিশোধ করতে হবে। তবে এরই সঙ্গে তারা একটি দুশ্চিন্তা থেকেও মুক্তি পেল। জায়গিরদার চলে যাওয়ার পর তাদের পাণ্ডুর মুখমণ্ডল আরেকবার উজ্জ্বল হয়ে উঠল, তাদের হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন স্বাভাবিক হয়ে এলো। আধঘণ্টার মধ্যে জায়গিরদারের সকল সফরসঙ্গী গ্রাম ত্যাগ করল।
রাস্তাঘাট জনশূন্য। মৃত কুকুরের ছিন্নভিন্ন দেহ ভয়াবহ দেখাচ্ছে। সর্বত্রই নীরবতা। ব্যতিক্রম শুধু কাকের ডানা ঝাপটার শব্দ, মৃত্যু-উন্মুখ কুকুরের গোঙানি – এসব ভয়াবহতাকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে। গ্রামে তখন যে নীরবতা বিরাজ করছে তা অদ্ভুত, ত্রাস সঞ্চারক ও নিষ্পেষক – এ যেন মৃত্যুর নীরবতা, যাকে স্পর্শ করে, তাকেই ধ্বংস করে ফেলে।
ততক্ষণে ভাঙ্গি গ্রামে এসে পৌঁছেছে, প্রেতাত্মার মতো সে কবরে-কবরে ঘুরে বেড়াচ্ছে; নির্বিকারভাবে যখন পাইপ টেনে যাচ্ছে, কুকুরগুলোর মৃত্যুর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে।
আজ খুব সকালে জায়গিরদারের বাবুর্চি, কয়েকজন ভৃত্য ও বডিগার্ড এসে পৌঁছাতেই গ্রামে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
বাবুর্চি রান্নাঘরের দায়িত্ব নিয়ে নিল, তাকে সাহায্য করার জন্য গ্রামের চারজন পুরুষ নিয়োগ হলো। জায়গিরদারের সফরসঙ্গীদের ব্যবস্থাপনায় মুখি সারাক্ষণই ব্যস্ত। পুলিশরা রান্নার হাঁড়ি-পাতিল জোগাড় করতে, দুধ ও দই জোগাড় করতে গ্রাম চষে বেড়াচ্ছে। যেসব জিনিস পাওয়া যাচ্ছে না বানিয়ার দোকান থেকে কেনা হচ্ছে। খরচ যেভাবেই হোক, তা সম্মিলিতভাবে গ্রামবাসীকে বহন করতে হবে। জায়গিরদারের পরিচারক যা কিছু প্রয়োজন তার জোগাড়যন্ত্র শুরু করে দিলো, যাতে সবকিছু ঠিকঠাক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে। গ্রামের দর্জি দালাকে দিয়ে পাঁচ বছর আগে সেলাই করা কোট ও চোগা পরে মাথায় গোলাপি পাগড়ি চাপিয়ে তালাতি অধৈর্য হয়ে এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করছে আর নজর রাখছে রাস্তার ওপর – বাপুজি যদি এসে পড়েন!
হঠাৎ কেউ একজন বলল, ‘আমার মনে হয় গাড়ি আসছে’, আর তাতেই ধাবমান গাড়ির শব্দ শোনার জন্য সবাই কান খাড়া করে রাখল। রাস্তার বাঁকে বহু মানুষের সমাগম হলো। ‘এ যে আসছে… দেখতে পাচ্ছো না ধূলি উড়ছে… কিছুক্ষণ পর তোমাদের চোখে পড়বেই।’
পুলিশ জনতা সামলাতে ছুটল। ‘শালা সব আহম্মকের বাচ্চা, রাস্তার ওপর দাঁড়িয়েছিস ক্যান্? লাইন করে দাঁড়া। বেটা শয়তানের বাচ্চারা, এত হইচই কিসের! শান্ত হ। শুনতে পাচ্ছিস গাধার বাচ্চা গাধা, যখন বাপুজি আসবেন, কথা কানে ঢুকছে মূর্খের দল, যখন বাপু আসবেন সবাই মাথা নুইয়ে সম্মান দেখাবি।’
বাপুর গাড়ি এসে গেল, গ্রামবাসীর আনত মাথা ধুলোয় ভরে গাড়ি মাঠের পাশে থামল।
দরজা খুলে গেল, বাপু গাড়ি থেকে বেরিয়ে এলেন। তার পরপরই নেমে এলো সাদা ধবধবে একটি জন্তু, খাটো পা, লম্বা কান, শরীরটা পশমে জড়ানো। পেছনের সিট থেকে নেমে এলেন বাপুর সেক্রেটারি।
জায়গিরদার একজন যুবক, বয়স আটাশের মতো। তার মুখমণ্ডল তেমন আকর্ষণীয় নয়, তবে শরীরটা সুগঠিত। আর তার পোশাকের স্টাইল অসাধারণ – ট্রাউজার্স, কোট, টাই, মোজা, জুতো, হাতঘড়ি, গগলস এবং চমৎকার একটি আংটি। তার এক হাতে লাঠি, অন্য হাতে শেকলের মতো একটা কিছু। দেখে মনে হয় যেন এইমাত্র তিনি স্টিমার থেকে বেরিয়ে এসেছেন।
কিন্তু কেউই তার দিকে নজর দিচ্ছে না, যখন তাকে শ্রদ্ধা নিবেদন করছে তখনও না, তাদের সবার দৃষ্টি নিবন্ধ তার পায়ের কাছের ছোট অদ্ভুত জন্তুটির দিকে।
এমনকি তারা যখন নিজেদের মধ্যে কথাবলাবলি করছে বিলাতফেরত জায়গিরদার কতটা বদলে গেছেন সে-আলাপে না গিয়ে জন্তুটির কথা বলছে। কেউ-কেউ বলেছে, এটা আসলে ইংরেজ খরগোশ। অন্যরা ভেবেছে, এটা সম্ভবত একটা কুকুর। বিস্মিত কেউ-কেউ অবশ্য এটাও বলেছে, এটা আবার ইংরেজ প্রজাতির চিতাবাঘ নয় তো! কেউ-কেউ মনে করেছে, এটা কুকুরও নয়, বিড়ালও নয়, খরগোশও নয়! কিন্তু এই অদ্ভুত জিনিসটা যে কী তাও নির্ধারণ করতে পারল না। আলোচনা প্রতিমুহূর্তেই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কেউ-কেউ এমনকি এই অদ্ভুত জিনিসটাকে নিয়ে বাজি ধরেছে।
খবরটা যতই ছড়াচ্ছে ততই জনতার ঢল নামছে। প্রতিটি নতুন মানুষ এসে জিজ্ঞেস করছে, ‘এই অদ্ভুত জন্তুটা আসলে কী?’ কয়েকজন তো সত্যি-সত্যিই ভয় পেয়ে গেল। তারা বলল, ‘বাপুজির উচিত জন্তুটাকে শেকল দিয়ে বেঁধে রাখা, নতুবা এই জন্তু কাউকে মেরেও ফেলতে পারে।’
এর মধ্যে কয়েকজন যুবক সুনির্দিষ্ট তথ্য নিয়ে হাজির হলো। তারা জানালো, এটা আসলে একটা কুকুর। তারা এই কুকুরের নাম শুনে থাকলেও এখন তা গুলিয়ে ফেলেছে। একজন বলল, এই কুকুরের নাম শিভলার, অন্যজন জোর দিয়ে বলল, এটার নাম শিভলো। তৃতীয়জন শিশু কিংবা ফিলু জাতীয় কিছু একটা বলল। অন্যদের কেউ-কেউ নাম নিয়ে মোটেও মাথা ঘামালো না, তারা কুকুরের বর্ণনা দিতে শুরু কলল, ‘কী সুন্দর একটা কুকুর। কান দুটো এত লম্বা যে মাটিতে লেগে যায়। আর পাগুলো কেমন খাটো-খাটো। হায় খোদা! চুলগুলো এমন কেন – সাধুদের জটপাকানো চুলের মতো! আবার কী ধবধবে সাদা।’ কেউ একজন বলল, ‘আমার মনে হয় এগুলো রুপালি চুল। একদিন শেঠজি বলেছেন ইংরেজ মহিলাদের নাকি সোনালি চুল। তাহলে কুকুরটার রুপালি চুলও হতে পারে। কেউ তো আর ঠিকঠাক বলতে পারে না। ইংল্যান্ডের মতো দেশে সবকিছুই সম্ভব!’
এসব নিয়ে সবাই হাসাহাসি করল আবার প্রত্যেকে নিজেকে এটাও শোনালো, ‘বাপুর মতো মানুষ তো আর বিদেশ থেকে নেড়ি কুত্তা নিয়ে আসার কথা নয়।’
সারাগ্রামের মানুষই কুকুর নিয়ে বলাবলি করছে, এমনকি মাঠের উলটোদিকে দাঁড়িয়ে মহিলারাও মজার-মজার মন্তব্য করছে।
কিন্তু মুখি এসে সকলকে সতর্ক করে দিলো, ‘বাপুর কুকুর নিয়ে কেউ কোনো বাজে কথা বলবে না। বাপু তার কুকুরকে নিজের ছেলের চেয়ে বেশি ভালোবাসেন।’
অপর এক যুবক তাকে সমর্থন করে বলল, ‘জানু মিয়াও আমাদের একই কথা বলেছেন।’
বাপুর অবস্থান সম্পর্কে সচেতন অপর একজন বলল, ‘এটাকে শুধু কুকুর বলে অসম্মান করা ঠিক হবে না। মনে রাখা দরকার এটা বাপুর কুকুর।’ বাপুর পাশাপাশি হেঁটে আসা কুকুরের পেছনে শত-শত উৎসাহী চোখ তাকে অনুসরণ করছে।
বাপু খাটে বসতেই কুকুরটিও হাত-পা গুটিয়ে তার পেছনে এলো। বাপু ‘সিলাউন’ (সিট ডাউন) জাতীয় কিছু একটা বলতে কুকুরটিও শান্ত হয়ে খাটে বসল। লোকজন অবাক হয়ে গেল। কেউ ভাবল কুকুরটির নাম ‘সিলাউন’, অন্যরা ভাবল শব্দটা আসলে বসার আদেশ।
যে যা-ই হোক, সকলেই ততক্ষণ বুঝে গেছে, এই কুকুরটিকে বাপুর সেক্রেটারির চেয়ে বেশি সম্মান করতে হবে। এমনকি তার ছেলের চেয়েও বেশি সম্মান করতে হবে।
কেবল তিন বছর আগে জায়গিরদার যখন এখানে এসেছিলেন, এত স্বাধীনতা নিয়ে তার নিজের ছেলেও লাফিয়ে খাটে উঠতে পারেনি।
কুকুরটির নাম আসলে শিলু, সিলভার থেকে সংক্ষেপ করতে করতে শিলু। গ্রামবাসী সবাই ডাকতে শুরু করল শিলুভাই। তারা বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেল যখন শুনল জায়গিরদার পাঁচশো টাকা দিয়ে কুকুরটিকে কিনেছেন। তারা বলাবলি করল, ‘এই টাকায় বাপুজি এক কুড়ি বলদ কিনতে পারত কিংবা পাঁচটা ঘোড়া।’ কেউ একজন বলল, ‘শিলুভাইর দাম তো হাতির দামের সমান।’ ‘এর যা ওজন, এই টাকায় সমান ওজনের রুপা কেনা যেত। ভাবো তো দেখি একবার।’ মন্তব্য করল অন্য কেউ একজন।
কিন্তু গ্রামের কুকুরগুলো তো আর সুবিবেচক নয়। রাস্তার নেড়ে কুকুর দেখলে এই কুকুরগুলো যেমন ঘেউ-ঘেউ করতে থাকে, শিলুকে দেখে একই রকম ঘেউ-ঘেউ জুড়ে দিলো। শিলুও তীব্রস্বরে ঘেউ-ঘেউ করে জবাব দিলো। আর সবাই তখন ভয়ে কাঁপা শুরু করল। ‘হায় খোদা, এটা কেমন করে চিৎকার করে? মনে তো হচ্ছে একেবারে বাঘের গর্জন।’
গ্রামের এক যুবক প্রতিবাদ করল, ‘এসব বাজে প্যাচাল ছাড়ো। আমাদের গ্রামের কুকুরগুলোর সাথে এটাকে লড়তে দাও, দেখবে মুহূর্তের মধ্যেই এটাকে হারিয়ে দেবে। চেহারা দেখে কথা বলতে যেও না। আমাদের সবচেয়ে বাজে কুকুরগুলোও এটার চেয়ে ভালো।’
তার এই যুক্তিতে গ্রামবাসী মোটেও সন্তুষ্ট হলো না। বরং তারা মনে-মনে চাইল, বাপু তার কুকুরটিকে একবার ছেড়ে দিন, শিলু এসে গ্রামের ম্যাদামারা কুকুরগুলোকে তার শক্তি দেখিয়ে দিক। কেউ কেউ গিয়ে জানু মিয়াকে ধরল। বলল, ‘জানুভাই, শিলুভাইকে একবার ছেড়ে দাও না, অন্তত একবার ছেড়েই দেখ না – আমরা তো নিশ্চিত এই কুকুরগুলো সাথে সাথে ছুটে পালাবে। দারুণ মজা হবে।’
জায়গিরদার চেঁচিয়ে উঠলেন, ‘আহম্মকের দল, দাঁড়িয়ে-দাঁড়িয়ে কী দেখছ? এইসব নেড়ি কুত্তাগুলোকে তাড়াচ্ছো না কেন?’ সাথে- সাথেই হাতে ইট-পাথর নিয়ে তারা কুকুরের পেছনে ছুটল।
কুকুরগুলো পালিয়ে গেল সত্যি, কিন্তু ঘেউ-ঘেউ থামল না, অন্য রাস্তা থেকে এদের ঘেউ-ঘেউয়ের প্রতিধ্বনি শোনা গেল। কুকুরেরা মানুষের চেয়ে আরও বেশি মরিয়া হয়ে নিজের বাড়িঘর আঁকড়ে থাকে। ধাওয়াকারী গ্রামবাসী ফিরে আসতেই একই জায়গায় কুকুরদের আবার অভ্যুদয় ঘটল, এবার সাথে যোগ হয়েছে অন্য রাস্তার আরও কুকুর।
১০ মিনিটের মধ্যেই পরিস্থিতি আবার উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠল। এবার মুখি জায়গিরদারের কাছে হাজির হয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত জনতার বাসনা ব্যক্ত করল। ‘বাপুজি, শিলুভাইকে একবার ছেড়েই দেন না। এই কুকুরগুলোর একটিও আশেপাশে কোথাও দাঁড়াবার সাহস পাবে না।’
গোঁফে পাক দিয়ে বাপু বললেন, ‘না-না, তা কী করে হয়? এটা একবার ক্ষেপে গেলে নিয়ন্ত্রণ করাই তো অসম্ভব হয়ে পড়বে। এখানে বেশ চুপচাপ আমার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যান।’
মুখি বলল, ‘খাঁটি কথা বলেছেন – শিলুভাই তো খুবই সম্মানিত কুকুর।’ মুখে অবিবেচকের হাসি নিয়ে এক বুড়ো জিগ্যেস করলেন, ‘বাপুজি আপনার এই কুকুর কি বাঘের সাথে লড়াই করতে পারবে?’
অশালীনভাবে জায়গিরদারের কুকুরপ্রসঙ্গ উত্থাপনের বিষয়টি সংশোধন করার চেষ্টা করে অপর একজন বলল, ‘তার মানে আপনি শিলুভাইয়ের কথা বলতে চাচ্ছেন? শিলুভাইকে একবার দেখলেই তো সাধারণ চিতা দৌড়ে পালাবে।’
কিন্তু বুড়ো সহজে হারতে রাজি নন। বুড়ো বললেন, ‘বাপু, এটা কি ঠিক?’ উষ্ণ হাসি হেসে বাপু বললেন, ‘যাও একটা চিতা নিয়ে এসো, তারপর দেখি।’
আবার জায়গিরদারের দৃষ্টি পড়ল ঘেউ-ঘেউ করা কুকুরগুলোর ওপর। শিলুভাইও নিজের ক্ষমতা দেখাতে অস্থির হয়ে পড়ল। কিন্তু তার কী-ই বা করার আছে? বাপুর সামনে তাকে তো ভদ্রই থাকতে হয়।
বাপু শিলুভাইর ঘাড় পেঁচিয়ে শিকল বাঁধলেন এবং যখন উঠে দাঁড়ালেন মুখি এক কাপ চা নিয়ে হাজির।
বাপু চায়ের কাপের দিকে হাত বাড়িয়ে দিলেন। তারপর হঠাৎ মন পরিবর্তন করে হাত গুটিয়ে নিয়ে বললেন, ‘তোমাদের কি টেবিল জাতীয় কিছু একটা নেই?’
মুখি কথা শুনে হতবুদ্ধি হয়ে পড়ল। টেবিল যে কী জিনিস সে বুঝে উঠতে পারল না। জায়গিরদারের রাজধানী শহরে যখন সে গিয়েছিল তখনকার একটা হোটেলের কথা তার মনে পড়ল। বিচলিত হয়ে বলল, ‘আপনি চেয়ারের কথা বলছেন, তাই না? ঠিক আছে…’
‘তুই একটা আস্ত আহাম্মক। চেয়ার দিয়ে কী করব? আমি চায়ের কাপটা রাখতে চাই।’
গ্রামবাসী সবাই দিশেহারা হয়ে সেখানেই দাঁড়িয়ে রইল। তারপর যেন হঠাৎ তারা আলোর নিশানা দেখতে পেয়ে টেবিলের খোঁজে দিগি¦দিক ছুটল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা কী নিয়ে আসবে? একটা ঝুড়ি এনে উলটে বসিয়ে দিতে পারে। কিন্তু এটা তো নিচুই থেকে যাবে। এ কাজের জন্য একটা বড় পাথর যে তুলে আনবে, তাও পেল না। পেলে তা কোনো না কোনোভাবে জায়গিরদারের জন্য নিয়ে আসত।
হঠাৎ সেই বুড়ো জ্ঞানগর্ভ একটি পরামর্শ নিয়ে এলেন। বললেন, ‘তোমরা কোনো জায়গা থেকে একটা ড্রাম তুলে আনছো না কেন?’
বৃদ্ধের এত বুদ্ধি দেখে মুখি হিংসেতে জ্বলে উঠল। একসময় সে নিজেকেই শোনালো, ‘এরকম একটা সাধারণ ব্যাপার আমার মাথায় খেলল না কেন? অথচ আমার নাকের তলাতেই ড্রাম দেখতে পাচ্ছি। যদি একজন মানুষ কাজটা করতে যেত তাহলে এক মিনিটেই ড্রাম নিয়ে হাজির হতো। কিন্তু এ কাজে তিনজন ছুটে যাওয়াতে দেরি হতে তো বাধ্য।’
কিন্তু মুখি যখন ড্রামের ওপর চায়ের কাপ রাখতে যাচ্ছে জায়গিরদার চেঁচিয়ে উঠলেন, ‘তোমরা কি সবাই গাধা না অন্য কিছু? আগে অন্তত ড্রামের ময়লাটা ঝাড়বে তো।’
কয়েকজন গ্রামবাসী উঠে দাঁড়িয়ে ড্রাম মুছতে শুরু করল; একজন যুবক তার কাপড় দিয়ে ড্রামের ধুলো ঝাড়তে শুরু করল। ধুলো কুকুরের গায়ে পড়ল এবং জায়গিরদার খুব বিরক্ত হলেন।
বুড়ো বললেন, ‘সাবধানে ধুলো ঝেড়ো, শিলুভাইয়ের গায়ে যেন না পড়ে।’ বাপুও বললেন, ‘আহাম্মক।’
অপর এক যুবক বলল, ‘আমি কি শিলুভাইকে পরিষ্কার করে দেব?’
পরিহাসের হাসি মুখে ধরে জায়গিরদার বললেন, ‘কেন? তোর কাপড়টা পরিষ্কার করতে?’
জনগণ আবার কিছুক্ষণের জন্যে হতবুদ্ধি হয়ে পড়লে বুড়ো তাদের এই অবস্থা থেকে রক্ষা করলেন। তিনি বললেন, ‘শিলুভাইর গা তো কাপড়ের চেয়ে পরিষ্কার।’
সবাই হাসিতে ফেটে পড়ল। যুবক লজ্জা পেল এবং বিরক্ত হলো। বিড়বিড় করে বলল, ‘এটা বরফের মতো সাদা হতে পারে, তাই বলে এটা যে কুকুর তা তো আর বদলাচ্ছে না।’
অসহায় কণ্ঠে মুখি জিজ্ঞেস করল, ‘শিলুভাইর চা-টা আমি কী করব?’
কড়া স্বরে বাপু বললেন, ‘কেন, আর চা নেই?’
‘বাপুজি, চা তো তৈরিই আছে।’
বিলেত থেকে আনা সাদা মানুষের কুকুর কেমন করে চা খায় তা দেখার কৌতূহল সবার।
‘বেশ আমি তাহলে কাপটা ধরি, কেউ একজন গিয়ে আর একটা ড্রাম নিয়ে আসুক।’
বাপু আবার চিৎকার করে উঠলেন, ‘গাধা কোথাকার! ড্রাম দিয়ে কাজ কী? ড্রাম তো আর চায়ের কাপ-পিরিচ থেকে চা খেতে যাচ্ছে না। আমার বদমাশ ভৃত্যগুলো কোথায়?’
ভেতরে ধূমায়িত চা-পানরত কজন ভৃত্য ও পুলিশ ভয় পেয়ে গেল। তবে তারা বেরিয়ে আসার আগেই যা কিছু বন্দোবস্ত করার হয়ে গেল।
শিলুভাইর জন্য মেঝেতে একটি বিছানা পেতে কাঁসার প্লেটে চা ঢেলে দেওয়া হলো।
কিছুক্ষণের মধ্যে জনতা শিলুভাইকে নিয়ে তাদের আগ্রহ হারিয়ে ফেলল। তারা মন্তব্য করল, ‘আমাদের কুকুরগুলোও তো একইভাবে পান করে।’
স্থানীয় কুকুরগুলো আবার উত্তেজিত হয়ে উঠল। পাহারাদাররা শিলুভাইর চা পান করা দেখায় ব্যস্ত, এই সুযোগে আবার কুকুরগুলোর অভ্যুদয় ঘটল এবং সাহস করে এবার কাছাকাছি চলে এলো।
জায়গিরদার বললেন, ‘আগে বসে চাটা শেষ করে তারপর যা খুশি তা-ই কর গিয়ে।’
নিজের কুকুরকে এই নির্দেশ দেওয়ায় গ্রামবাসীর উৎসাহ আবার বেড়ে যায়। গ্রামের কুকুর আর শিলুভাইর লড়াই দেখার আশায় তারা নিকটে দাঁড়ানো কুকুরগুলোকে তাড়ানোর প্রয়োজন বোধ করল না।
শেষ পর্যন্ত বাপু তার কুকুর নিয়ে খোলা মাঠে এলেন। কয়েক মিনিটের মধ্যে গ্রামের চারদিক থেকে মানুষ এসে শিলুভাইর চারপাশে ভিড় জমালো। গলার শিকল রোদ্রালোকে রুপার মতো চকচক করে উঠল।
কুকুর নিয়ে ওত পেতে থাকা গ্রামবাসীকে বাপু সজোরে চেঁচিয়ে বললেন, ‘গাধা, পথ থেকে সরে দাঁড়া। শিলু যাও।’
শিলু গোঁ-গোঁ করতে শুরু করল এবং ডোরাকাটা কুকুরের দিকে ছুটল, সেই কুকুর কয়েক পা পিছিয়ে গেল।
‘পালাচ্ছিস কেন? সামনে আয়।’
ঠিক তখনই জায়গিরদারের চোখে পড়ল ডোরাকাটা উলটোদিকে ছুটে গিয়ে সুযোগের অপেক্ষায় ওত পেতে রইল। শিলু গোঁ-গোঁ শুরু করল কিন্তু ডোরাকাটা কুকুর অতটুকু ভয় পেয়েছে বলে মনে হলো না। হঠাৎ একজন চেঁচিয়ে উঠল, ‘বাপুজি, একটু সাবধানে থাকবেন।’
কিন্তু ততক্ষণে একটি কালো কুকুর বাপুর পায়ে কামড় বসিয়ে দিয়ে ছুটে পালালো।
পরবর্তী উত্তেজনা ও হইচইয়ের মুহূর্তে একসময় শিলু বাপুর হাত থেকে ছুটে গেল। সবাই তখন উত্তেজিত। কেউ বাপুর পা পরীক্ষা করছে। পাশের সব কুকুর মিলে চারদিক থেকে শিলুকে আক্রমণ করেছে; অন্যরা শিলুভাইকে উদ্ধার করতে ছুটল। তারা শিলুর করুণ কান্না শুনতে পেল কিন্তু তাকে খুঁজে পেল না। তারা গ্রামের কুকুরগুলোকে লাঠি দিয়ে পেটাল; পাথর ছুড়ে মারল। কয়েকটি কুকুর ভীষণ জখম হলো, কতগুলো কুকুর যতদ্রুত সম্ভব পালিয়ে গেল। কিন্তু কোথাও শিলুকে দেখা পেল না। বাপু-চেঁচিয়ে বললেন, ‘গাধার দল আমার বন্দুক নিয়ে আয়।’
মানুষ তখন সতর্ক। কেউ একজন বন্দুক নিয়ে এলো।
তিনি চেঁচালেন, ‘গাধা, এটা নয়, অন্য বন্দুক নিয়ে আয়।’
অন্য বন্দুক আনার আগেই গ্রামবাসী শ্বাসরোধ করে মারা বেশ কটি কুকুর সামনে এনে হাজির করল।
বাপু অসহায়ের মতো এই দৃশ্যটিতে চোখ রাখলেন। রক্তে ডুবে থাকা শিলু যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে, জীবিত কয়েকটি কুকুর পালিয়ে গেছে। শিলুর নীল চোখ বাপুর বন্দুকের চেয়েও ভয়াবহ দেখাচ্ছে। আর তার চেয়েও যন্ত্রণাদায়ক ছিল ভয়াবহ নীরবতা এবং মৃত্যু-উন্মুখ কুকুরের যন্ত্রণার কান্না। এই ভয়ঙ্কর দৃশ্য অনেকেই সহ্য করতে পারছিল না, তারা বাড়ি চলে গেল। এমনকি বাপুর খুব কাছাকাছি দাঁড়িয়ে থাকা লোকজনও দৃশ্যপট থেকে বিলীন হতে শুরু করল। কিন্তু কেউ কেউ এতোই আতঙ্কিত যে পা-ও নাড়াতে পারছিল না।
বাপু আর একবার চিৎকার করে বললেন, ‘গাধা! দাঁড়িয়ে দেখছিস কী? যা, অলিগলির যত কুকুর ধরে নিয়ে আয়। এদিকে কোনো মানুষ যেন না আসে। আমার এই সতর্কবার্তার পর যদি কেউ এসে আমার বন্দুকের গুলি খেয়ে মারা যায় আমি তার জন্য দায়ী থাকব না।’
সবাই ভাবলো এখন সরে যাওয়াই নিরাপদ। কয়েক মিনিটের মধ্যে জায়গাটা জনশূন্য হয়ে গেল। থাকলেন কেবল জায়গিরদার।
প্রায় সবাই নিজেদের যার-যার বাড়িতে আটকে রাখে। যারা জায়গিরদারের ভৃত্য ও পুলিশের হাত থেকে ছাড়া পায়নি, তারা কোনো না কোনো অজুহাতে তাদের কাছ থেকে গ্রামের কুকুরগুলোকে রক্ষা করার চেষ্টা করে। আসলে জায়গিরদারের ভৃত্যরাও চায় না কুকুরগুলোর মৃত্যু হোক। কিন্তু যেহেতু জায়গিরদারকে শান্ত করতে কুকুর ধরার কোনো বিকল্প নেই, অনিচ্ছাতেই তাদের এ-কাজে নামতে হয়। তারা গ্রামবাসীকে বোঝানোর চেষ্টা করে, অন্তত কয়েকটা কুকুর ধরে দাও। তাতে গ্রামটা ঝামেলা থেকে রক্ষা পাবে।
প্রায় ১০টা কুকুরকে ঘিরে ধরলেও বন্দুক নিয়ে অপেক্ষমাণ বাপুর কাছে এর অর্ধেক কুকুর নিয়ে আসতে সমর্থ হয়। বাপু কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই পাঁচটা কুকুরকে গুলি করে হত্যা করেন। তারপর চেঁচিয়ে ওঠেন, ‘আর সব কুকুর কোথায়?’
কেউ জবাব দেওয়ার সাহস পেল না। জানু মিয়া তার সকল সাহস সঞ্চয় করে বলল, ‘আমরা আর খুঁজে পাচ্ছি না। নিশ্চয়ই গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছে।’
‘বাজে বকছো কেন? বদমাশগুলো নিশ্চয়ই কুকুরগুলোকে নিজেদের বাড়িতে লুকিয়ে ফেলেছে। যাও, আবার গিয়ে বাড়ি-বাড়ি খোঁজ করো। কোনো বাড়িতে কুকুর পেলে সে বাড়ির মালিকসুদ্ধ বেঁধে নিয়ে আসবে।’
আদেশ পেয়ে ভৃত্যরা আবার বেরিয়ে গেল।
কিন্তু জায়গিরদার আবার উঠে দাঁড়ালেন। বললেন, ‘থাক জানু, তোরা কোনো কাজেরই না। বরং একটা কাপড়ে শিলুকে পেঁচিয়ে গাড়িতে এনে তোল।’
যে যুবকের ঘাড়ের কাপড় এক ঘণ্টা আগেও জীবন্ত শিলুকে মোছার প্রশ্নে অত্যন্ত নোংরা বিবেচিত হয়েছে জানু মিয়া তার সেই কাপড়টি ছাড়া কুকুরের জন্য কারো কাছ থেকে এক টুকরো কাপড় উদ্ধার করতে পারল না।
যুবক ভাবল, ‘হায় খোদা! আমি কী এমন অপরাধ করেছি যে আমার ঘাড়ের কাপড়টিও নিয়ে নিচ্ছে।’ এমনকি গ্রামের পথে ধূলি উড়িয়ে বাপুর গাড়ি যখন চলে যায়, তখনও তার একই প্রশ্ন। গ্রামের সবাই জানে কুকুরের যে দাম ভাগাভাগি করে তাদের সবাইকে তা পরিশোধ করতে হবে। তবে এরই সঙ্গে তারা একটি দুশ্চিন্তা থেকেও মুক্তি পেল। জায়গিরদার চলে যাওয়ার পর তাদের পাণ্ডুর মুখমণ্ডল আরেকবার উজ্জ্বল হয়ে উঠল, তাদের হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন স্বাভাবিক হয়ে এলো। আধঘণ্টার মধ্যে জায়গিরদারের সকল সফরসঙ্গী গ্রাম ত্যাগ করল।
রাস্তাঘাট জনশূন্য। মৃত কুকুরের ছিন্নভিন্ন দেহ ভয়াবহ দেখাচ্ছে। সর্বত্রই নীরবতা। ব্যতিক্রম শুধু কাকের ডানা ঝাপটার শব্দ, মৃত্যু-উন্মুখ কুকুরের গোঙানি – এসব ভয়াবহতাকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে। গ্রামে তখন যে নীরবতা বিরাজ করছে তা অদ্ভুত, ত্রাস সঞ্চারক ও নিষ্পেষক – এ যেন মৃত্যুর নীরবতা, যাকে স্পর্শ করে, তাকেই ধ্বংস করে ফেলে।
ততক্ষণে ভাঙ্গি গ্রামে এসে পৌঁছেছে, প্রেতাত্মার মতো সে কবরে-কবরে ঘুরে বেড়াচ্ছে; নির্বিকারভাবে যখন পাইপ টেনে যাচ্ছে, কুকুরগুলোর মৃত্যুর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে।
----------------

লেখক পরিচিতি :
গুজরাটি কথাসাহিত্যিক পান্নালাল নানালাল প্যাটেল (৭ মে ১৯১২-৬ এপ্রিল ১৯৮৯)। ভারতে তাঁর জন্মশতবর্ষ উদ্যাপিত হচ্ছে। তাঁর জন্ম রাজস্থানের একটি গ্রামে। গ্রামের নাম মান্দলি। পান্নালাল ১৯৮৫ সালে জ্ঞানপীঠ পুরস্কার লাভ করেন। তাঁর উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে : ফকিরো, লাভুন লোহি, মানকাভতার, নগদ নারায়ণ, আল্লাদ জাকড়ি, এক আনোখি প্রীত, কচ-দেবযানী, লোকগুঞ্জন, মালেলা জিভ, মানাভিনি ভাবে ইত্যাদি।
বিখ্যাত ভারতীয় ঔপন্যাসিক উমাশঙ্কর যোশী মনে করেন, পান্নালাল শেক্সপিয়রের চেয়ে কম নন। দারিদ্র্য তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। কৃষিমজুর থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশায় জীবিকা অর্জনের চেষ্টা করতে করতে শেষ পর্যন্ত লেখক নিজেকে আত্মপ্রকাশ করেন। ৬ এপ্রিল ১৯৮৯ সালে মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণে পান্নালাল প্যাটেলের মৃত্যু হয়। জন্মশতবর্ষে পান্নালাল প্যাটেলের একটি গল্প ‘দ্য জায়গিরদার অ্যান্ড হিজ ডগ’ বাংলায় ভাষান্তরের মাধ্যমে লেখকের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1353)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
ইরান
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
কালবেলা
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
ইউক্রেন
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
তরুণ প্রজন্ম
মানবাধিকার
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আলী যাকের
আইন ও বিচার
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
তারেক শামসুর রেহমান
মালয়েশিয়া
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
স্বাস্থ্য
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
জ্যোতির্বিজ্ঞান
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
শিল্প ও সাহিত্য
সংবিধান ও রাষ্ট্র
বগুড়া
মিয়ানমার
ঢাকা
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
গবেষণা
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
জীবনযাপন
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
মেহেদী হাসান
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
মানসুরা হোসাইন
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
মসজিদ
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
ইয়েমেন
একরামুল হক
Exclusive
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
বিজ্ঞান
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
জনস্বাস্থ্য
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
ফরিদপুর
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লাতিন আমেরিকা
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মহাকাশচারী
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
জোহরান মামদানি
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
ইহুদি
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
স্পেন
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
বিশ্বকাপ ফুটবল
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment