Saturday, October 13, 2018
বাংলাদেশে এবার নতুন রাজনৈতিক সংকট by ড. আলী রীয়াজ
বাংলাদেশে এবার নতুন রাজনৈতিক সংকট by ড. আলী রীয়াজ

বাংলাদেশ
এখন এমন এক রাজনৈতিক সংকট মোকাবেলা করছে যে সংকট অতীতের যে কোন ধরণের
সংকটের চেয়ে ভিন্ন এবং গভীর। এই নিবন্ধে সেই সংকটের গভীরতা ব্যাখা করা
হয়েছে এবং বাংলাদেশের রাজনীতির ভবিষ্যৎ পথরেখা চিহ্নিত করার জন্য চারটি
বিষয়ের দিকে দৃষ্টিপাত করা হয়েছে; সেগুলো হচ্ছে বাংলাদেশে বিরাজমান শাসনের
রূপ, বাংলাদেশের সমাজে নতুন শ্রেণী বিন্যাসের প্রতিক্রিয়া, সমাজ ও
রাজনীতিতে ইসলামপন্থীদের প্রভাব এবং ভারতের ভূমিকা। বাংলাদেশের বিরাজমান
শাসন ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে দৃশ্যত গণতান্ত্রিক উপাদানের পাশাপাশি
শক্তিশালী কর্তৃত্ববাদী প্রবণতার উপস্থিতি এবং শাসন পরিচালনার জন্য শক্তি
প্রয়োগের ওপরে নির্ভরতা। একে এই নিবন্ধে হাইব্রিড রেজিম বা দো-আঁশলা শাসন
ব্যবস্থা বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
বাংলাদেশের সমাজে এক নতুন ধনিক শ্রেণীর উদ্ভবের মধ্য দিয়ে সমাজে নতুন শ্রেণী বিন্যাস ঘটেছে। রাষ্ট্রের আনূকূল্যে ও ক্ষমতাসীনদের পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা এই শ্রেণীর মধ্যে জবাবদিহি ও অংশগ্রহণমূলক ব্যবস্থার আকাঙ্খার ঘাটতি আছে, যা রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইতিমধ্যেই রক্ষণশীল ইসলামপন্থীদের প্রভাব বেড়েছে এবং আগামীতে অংশগ্রহণমূলক রাজনীতির ক্ষেত্র যতই সীমিত হবে, এই শক্তির প্রভাব ও ক্ষমতা বাড়বে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতের প্রভাব ক্রমবৃদ্ধিমান এবং সব প্রধান রাজনৈতিক দলই তা মেনে নিয়েছে। ফলে বাংলাদেশের রাজনীতির ভারত এক নির্ধারক শক্তিতে পরিণত হয়েছে।
ভারত বাংলাদেশে তার ঘনিষ্ঠ মিত্র সরকার চায়, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের কারণে এখন তা আরো বেশি জরুরি হয়ে পড়েছে। তবে এতে করে দীর্ঘমেয়াদে ভারতের লাভবান না হবার সম্ভাবনাই বেশি।
বাংলাদেশের রাজনীতি আগামীতে কোন পথে যাবে সেই বিষয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন আছে, উদ্বেগ আছে এবং আশংকাও আছে। বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংকট ও অনিশ্চয়তা কোনো নতুন বিষয় নয়; গত কয়েক দশকে বাংলাদেশ বারবার রাজনৈতিক সংকট ও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হয়েছে। ১৯৯১ সালে দেশে নির্বাচিত বেসামরিক শাসন চালুর পরে আশা করা হয়েছিল যে এই ধরণের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটবে। কিন্তু তার পরিবর্তে ১৯৯৬, ২০০৬ এবং ২০১৪ সালে আমরা আবারও এই ধরণের অনিশ্চয়তা প্রত্যক্ষ করেছি। এই অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ আপাতদৃষ্টে আসন্ন নির্বাচন-কেন্দ্রিক- সংবিধানের বিধান অনুযায়ী নির্ধারিত এই বছর একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কী না, কী ধরণের নির্বাচন হবে, কাদের অংশগ্রহণে এই নির্বাচন হবে, ২০১৪ সালের নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি ঘটবে কী না এই সব প্রশ্নই সাধারণত আলোচনা হয়ে থাকে। এই প্রশ্নগুলো অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু কেন এই সব প্রশ্ন ওঠার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সেই বিষয়ে মনোনিবেশ না করলে এই সংকটের গভীরতা ও ব্যপ্তি বোঝা যাবেনা।
অতীতে বাংলাদেশ যত ধরণের রাজনৈতিক সংকট বা অনিশ্চয়তার মোকাবেলা করেছে এখনকার রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে তার আপাত সাদৃশ্য থাকলেও এবারের সংকট অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে ভিন্ন এবং এই সংকট আরো গভীর।
এই সংকট কেন গভীর তা উপলব্ধি এবং বাংলাদেশের রাজনীতির ভবিষ্যৎ পথরেখা চিহ্নিত করতে চাইলে আমাদের চারটি বিষয়ের দিকে নজর দিতে হবে। সেগুলো হচ্ছে বাংলাদেশে বিরাজমান শাসনের রূপ, বাংলাদেশের সমাজে নতুন শ্রেণী বিন্যাসের প্রতিক্রিয়া, সমাজ ও রাজনীতিতে ইসলামপন্থীদের প্রভাব এবং ভারতের ভূমিকা।
বাংলাদেশের বিরাজমান শাসনের রূপ
১৯৯০ সালে বাংলাদেশে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে কেবল জেনারেল এরশাদের নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন হয়নি, তা তৈরি করেছিল একটি অংশগ্রহণমূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা। স্বল্প সময়ের একদলীয় ব্যবস্থা, দেড় দশকের প্রত্যক্ষ সামরিক শাসন ও বেসামরিক সরকারের মোড়কে সামরিক শাসন সব মিলে প্রায় দুই দশক ধরে চালু থাকা কর্তৃত্ববাদী ধরণের শাসনের অবসান ঘটেছিল এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। সুনির্দিষ্টভাবে রাষ্ট্রের চরিত্র বদলের কর্মসূচির ভিত্তিতে আন্দোলন হয়েছিল এমন দাবি করার কোনো সুযোগ নেই, কিন্তু একথা অতিরঞ্জন নয় যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরে লোকরঞ্জনবাদী কর্তৃত্ববাদ (পপুলিস্ট অথরিটারিয়ানইজম) এবং সামরিক কর্তৃত্ববাদের যে ইতিহাস তা থেকে বেরুবার আকাঙ্খা এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়েছিল। সাধারণত কর্তৃত্ববাদী শাসনের কেন্দ্রে থাকেন একজন ব্যক্তি, কিন্তু এই ব্যবস্থা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমনভাবে সাজিয়ে তোলে, যা সবার অংশগ্রহণমূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। ফলে, সারা পৃথিবীর গত কয়েক দশকের অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, যে কোনো দেশেই কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসানের হলেই সেখানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মনে করার কারণ নেই।
১৯৭০-এর দশকে অনেক রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, রাজনীতিবিদ, নীতি-নির্ধারক এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান গণতন্ত্র বলতে নির্বাচনের ওপরেই বেশি জোর দিতেন। যে কারণে সেই সময়ে দেশে দেশে স্বৈরাচারী বা কর্তৃত্ববাদী শাসকেরাও নির্বাচনের আয়োজন করে নিজেদের গণতান্ত্রিক বলে জাহির করার চেষ্টা করেছেন, সামরিক শাসকদেরও ‘গণতান্ত্রিক’ বলে বর্ণনা করার ঘটনা দেখতে পাই। কিন্তু ক্রমান্বয়ে এটা স্পষ্ট হয় যে, নির্বাচন গণতন্ত্রের একটি প্রয়োজনীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ উপাদান; কিন্তু নির্বাচনই গণতন্ত্র নয়। নির্বাচনের ওপরে অতিরিক্ত জোর দেয়াকে কেউ কেউ ‘ফ্যালাসি অব ইলেক্টোরালইজম’ বলে বর্ণনা করলেন (স্মিটার ও কার্ল ১৯৯১)। অনেকেই এই বিষয়ে উৎসাহী হলেন যে কর্তৃত্ববাদ থেকে গণতন্ত্রে উত্তরণের পথ কী? আর কেউ কেউ দেখতে চাইলেন উত্তরণের পর কীভাবে সেখানে গণতন্ত্র সংহত হয়।
এই সব আলোচনার সূচনা পর্বেই ১৯৯১ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় স্যামুয়েল হান্টিংটন দেখান, শাসনব্যবস্থা হিসেবে ইতিহাসে তিন দফা গণতন্ত্রের প্রসার হয়েছে; একে তিনি বলেন ‘গণতন্ত্রের তিন ঢেউ’ (হান্টিংটন ১৯৯১)।
তিনি বলেন, প্রতিটি ঢেউয়ের পরেই এসেছে ভাটার টান। প্রথম ঢেউয়ের ঘটনা ১৮২৬ থেকে ১৯২৬ সাল। দ্বিতীয় ঢেউ দেখতে পাই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে, যার শেষ হয়েছে ১৯৬২ সালে। তৃতীয় ঢেউয়ের সূচনা হয় ১৯৭৪ সালে। ১৯৯১ সালে তাঁর গবেষণার শেষে তিনি আশঙ্কা করেছিলেন যে খুব শিগগির ভাটার টান আসবে। তাঁর ‘তিন ঢেউ তত্ত্বের’ সমর্থন পাওয়া গেলো তথ্যের মধ্যেই। ১৯৭৩ সালে সারা পৃথিবীর মোট দেশের এক-চর্তুাংশ ছিল গণতান্ত্রিক, ১৯৮০ সালে তা দাঁড়ায় এক-তৃতীয়াংশে এবং ১৯৯২ সালে প্রায় অর্ধেকে। নব্বইয়ের দশকে এসে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন এবং পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলোতে একদলীয় শাসনের অবসান থেকে এটাই বোঝা গেলো যে এই ধারা অব্যাহত রয়েছে।
এই সময়ে অনেকেই বিস্মৃত হলেন যে, জোয়ারের শেষে আসে ভাটার টান। ১৯৮০-এর দশকে গণতন্ত্রায়ণ নিয়ে আশাবাদের জোয়ারের মধ্যেও উদ্বিগ্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের কেউ কেউ, যেমন গুয়েলারমো ও’ডানেল এবং ফিলিপ স্মিটার, ১৯৮৬ সালে এই বলে সতর্ক করেছিলেন যে কর্তৃত্ববাদী শাসন থেকে উত্তরণের ফল হতে পারে তুলনামূলক উন্মুক্ত কর্তৃত্ববাদী শাসন অথবা নিয়ন্ত্রণমূলক অনুদার (Illiberal) গণতন্ত্র (ও’ডানেল এবং স্মিটার ১৯৮৬: ৯)। তাঁদের এই উদ্বেগ গবেষকদের কাছে সুস্পষ্ট হয়ে পড়লো ২০০০-এর দশকে এসে। দেখা গেলো যে, এই ‘নতুন গণতান্ত্রিক দেশগুলো’র অনেকেই গণতন্ত্রের পথে খুব বেশি অগ্রসর হয়নি, অর্থাৎ সেখানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে নিয়মিতভাবে, নাগরিকেরা সীমিতভাবে অধিকার পাচ্ছেন এবং যদিও অধিকাংশ দেশ আগের স্বৈরাচারী বা প্রত্যক্ষভাবে কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থায় ফিরে যায়নি (কয়েকটি দেশে যদিও আবার পুরোনো ব্যবস্থা ফিরেও এসেছিল), কিন্তু এসব দেশে বড়জোর নির্বাচন হচ্ছে কিন্তু এর বাইরে গণতন্ত্রের আর কোনো দিকই বিকশিত হচ্ছে না। কেউ কেউ এই রকম আশা করলেন যে, এগুলো আসলে উত্তরণের পথে আছে।
এই ধরণের ব্যবস্থাকে কী বলা যায় এই প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা বিভিন্ন বিশেষণ ব্যবহার করতে শুরু করেন। এইসব বিশেষণের মধ্যে রয়েছে আধা গণতন্ত্র (Semi-democracy), প্রায়-গণতন্ত্র (Virtual democracy), নির্বাচনী গণতন্ত্র (Electoral democracy), ছদ্ম গণতন্ত্র (Pseudo-democracy), অনুদার গণতন্ত্র (Illiberaldemocracy), আধা কর্তৃত্ববাদ (Semi-authoritarianism); কোমল কর্তৃত্ববাদ (Soft authoritarianism) এবং নির্বাচনী কর্তৃত্ববাদ (Electoral authoritarianism) (লেভিটস্কি এবং ওয়ে, ২০০২)। ল্যারি ডায়মন্ড এই ধরনের বিভিন্ন শাসনকে একত্রে হাইব্রিড রেজিম (Hybrid Regime) বা সংকর/ দোআঁশলা শাসনব্যবস্থা বলে বর্ণনা করেন (ডায়মন্ড, ২০০২)।
গোড়ার দিকে এসব শাসনব্যবস্থার সঙ্গে ‘আধা’, ‘প্রায়’ ইত্যাদি বিশেষণ যুক্ত করে একে গণতন্ত্র বা কর্তৃত্ববাদী শাসনের পূর্ববর্তী বা পরবর্তী স্তর বলে ধারণা দেওয়ার চেষ্টা হলেও পরবর্তী সময় বিশেষজ্ঞরা ক্রমেই স্বীকার করে নেন যে এগুলো গণতন্ত্র বা কর্তৃত্ববাদের কোনো উপরূপ নয়। বরং এগুলো হচ্ছে একটি বিশেষ ধরনের শাসন, নিজেই একটা বিশেষ রূপ। ফলে এদের গণতন্ত্র বা কর্তৃত্ববাদ বলে বর্ণনার সুযোগ নেই (বোগার্ড ২০০৯)। ল্যারি ডায়মন্ড ২০০২ সালে খুব জোর দিয়ে বলেন যে হাইব্রিড রেজিম বা ‘দোআঁশলা শাসন’কে উত্তরণের পথে রয়েছে এমন শাসনব্যবস্থার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা ঠিক হবে না। উত্তরণ পর্যায় হচ্ছে শাসনব্যবস্থা এক ধরন থেকে অন্য ধরনে যাওয়ার অন্তর্বর্তী অবস্থান হাইব্রিড রেজিম তা নয়, এগুলো নিজেই একধরনের শাসনব্যবস্থা। এই ধরণের ব্যবস্থার নির্ধারক চরিত্র হচ্ছে যে, এগুলোতে একই সময়ে গণতন্ত্রের কিছু, আর স্বৈরতন্ত্রের কিছু বৈশিষ্ট্য বিরাজ করে।
এখানে লক্ষ্যণীয় বিষয় দু’টি; প্রথমত একে এক বিশেষ ধরণের সরকার না বলে ‘রেজিম’ বলা হয়েছে; দ্বিতীয়ত হাইব্রিড রেজিম এই ধারণার মধ্যে বিভিন্ন ধরণের শাসন ব্যবস্থা রয়েছে, এটা একটি মাত্র শাসন ব্যবস্থা নয়। রেজিম বলা হচ্ছে এই কারণে যে, এগুলো যে কোনো সরকারের চেয়ে বেশি স্থায়ী ধরণের রাজনৈতিক সংগঠন ‘more permanent form of political organization’ (ফিশম্যান ১৯৯০)। যে কোনো রেজিম আনুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিক ক্ষমতা কাঠামোর সমন্বয়ে গড়ে ওঠে, ক্ষমতার সঙ্গে বৃহত্তর সমাজের সম্পর্ক নির্ধারণ করে। রেজিম নির্ধারণ করে ক্ষমতায় কার প্রবেশযোগ্যতা থাকবে, আর কার থাকবে না। এই ধরণের রেজিমে বেশ কয়েক ধরণের শাসন থাকতে পারে সেটা নির্ভর করে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কী ধরণের সম্পর্ক আছে এবং রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের কি ধরণের বোঝাপড়া হয়েছে।
বাংলাদেশে ১৯৯১ সালের পরে যে ব্যবস্থা তৈরি হয় তাঁকে আমরা ইলেকটোরাল ডেমোক্রেসি বা নির্বাচনী গণতন্ত্র বলে বর্ণনা করতে পারি। এই ধরণের ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন, বহু দলের উপস্থিতি, সকল প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের ভোটাধিকার, নিয়মিত গোপন ভোটের মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠান যাতে বড় ধরণের জালিয়াতির অনুপস্থিত এবং যাতে জনমতের প্রতিফলন ঘটে; যেখানে গণমাধ্যম এবং নিয়ন্ত্রণহীন নির্বাচনী প্রচারণার মাধ্যমে বড় দলগুলোর ভোটারদের কাছে যাবার সুযোগ আছে (ফ্রিডম হাউস ২০১২)। এই ব্যবস্থাটা চালু হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের সংবিধান প্রধানমন্ত্রীর হাতে এমন ক্ষমতা অর্পণ করে যা ক্ষমতার এককেন্দ্রীকরণের সুযোগ বহাল রাখে এবং গোটা ব্যবস্থাই হয়ে ওঠে ‘প্রধানমন্ত্রীর শাসন’ ব্যবস্থা। তদুপরি, বাংলাদেশের সংবিধানে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া বিষয়ে যে অস্পষ্টতা যা ১৯৭২ সালের সংবিধানে ছিল তাই বহাল থাকল।
সাংবিধানিক বিধিবিধান, স্বাধীন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান (যেমন নির্বাচন কমিশন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন) গঠনে অনুৎসাহীতা, দলের ভেতরে গণতন্ত্রহীনতা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহার করে দল ও ব্যক্তির পৃষ্ঠপোষকতার ফলে এই ব্যবস্থাটিতে ক্রমেই অগণতান্ত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলো প্রধান হয়ে ওঠে। দুই প্রধান প্রতিদ্বন্ধী দলের উপস্থিতি এবং ক্ষমতার হাত বদলের মধ্য দিয়ে শাসনের রূপ হয়ে দাঁড়ায় প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক কর্তৃত্ববাদ বা কমপিটিটিভ অথরিটারিয়ানইজম। প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থায় নির্বাচন একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এই কারণে যে ক্ষমতাসীনদের কাজের বৈধতা তৈরি হয় একমাত্র নির্বাচনে বিজয়ের মধ্য দিয়েই, সেই নির্বাচন অবাধ এবং নিরপেক্ষ হল কিনা সেটা আর বিবেচ্য থাকে না (কিলিঞ্চ ২০১৭)। বাংলাদেশে ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বা ২০০৬ সালের নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা তাই প্রমাণ করে। কিন্তু বাংলাদেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) উপলব্ধি করলো যে এই ব্যবস্থার ভিত্তি এবং যেই ক্ষমতায় থাকুক তার বৈধতার ভিত্তি হচ্ছে নির্বাচন।
২০০৮ সালের নির্বাচনের পর, বিশেষ করে ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর পর, বাংলাদেশে নতুন ধরণের রাজনৈতিক ব্যবস্থার উদ্ভব ঘটেছে। অন্যান্য দেশে বিরাজমান এই ধরণের ব্যবস্থা নিয়ে এন্ড্রিয়াস স্যাডলার বলেছেন, এই ব্যবস্থায় যা চলে তা ‘বহুদলীয় রাজনীতির খেলা’ এবং নির্বাচন গণতন্ত্রের নয়, কর্তৃত্ববাদের হাতিয়ারে পরিণত হয় (স্যাডলার ২০০৬)। ২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচন বর্জনের ফলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষে এই ধরণের ব্যবস্থা সহজেই প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে, কিন্তু বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলেই তা ভিন্ন হত কিনা, কিংবা এর কারণ ২০১৫ সালের গোড়াতে বিএনপি’র সহিংস আন্দোলন কিনা সেটা এখন প্রশ্নসাপেক্ষ। কেননা ২০১৪ সালের নির্বাচনের পরপরই স্পষ্ট হয়ে যায় যে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বিএনপি’কে আর কোনভাবেই রাজনীতিতে জায়গা দিতে আগ্রহী নয়। ২০১৫ সালে ১লা জানুয়ারি প্রকাশিত ‘দেয়ার ক্যান বি অনলি ওয়ান’ (কেবল এক পক্ষই থাকতে পারবে) শিরোনামের এক নিবন্ধে জাফর সোবহান সুস্পষ্টভাবেই বলেছিলেন যে, ‘ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের গেম প্ল্যান খুব স্পষ্ট। আগামী বছরে আওয়ামী লীগের পরিকল্পনা খুব সোজাসাপ্টা চেপে ধরে বিএনপি’র প্রাণবায়ু বের করে ফেলা অব্যাহত রাখা’ (সোবহান ২০১৫) (তাঁর ভাষায়, The game plan for the ruling Awami League is clear. The AL plan for the coming year is therefore straightforward: Continue to squeeye life out of the BNP.) ১৯৮২ সালের পর থেকে এই দুই দলের মধ্যে যে অলিখিত চুক্তি বা সমঝোতা ছিল তা ছিল কার্যত সেনা-আমলাতন্ত্রের বিপরীতে বেসামরিক রাজনৈতিক দলের শাসন প্রতিষ্ঠার।
২০০৯ সালের পরে সেটার আর কোনো তাগিদ থাকেনি। তদুপরি যে কোনো হাইব্রিড রেজিম অবশ্যই নির্বাচন করতে চায় কিন্তু ক্ষমতাসীন দল কখনো চায় না যে এমন প্রতিপক্ষ উপস্থিত থাকুক যা তাকে পরাজিত করতে পারবে এমন সম্ভাবনা আছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের পরে এমন নির্বাচনের ব্যবস্থা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে যেখানে ক্ষমতাসীনরা পরাজিত হবেন। বাংলাদেশের অতীত নির্বাচনের ইতিহাসই কেবল সেই সাক্ষ্যই দেয়না, স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনের অভিজ্ঞতাও তাই বলে।
এখন বাংলাদেশের রাজনীতিতে আমরা যে অবস্থা দেখতে পাচ্ছি তা আসলে যে কোনো হাইব্রিড রেজিম বা দোআঁশলা ব্যবস্থায় যা হয় তা থেকে ভিন্ন কিছু নয়। ইকনোমিস্ট ইন্টিলেজিন্স ইউনিটের হিসেব অনুযায়ী, পৃথিবীর ১৬৭টি দেশের মধ্যে ৩৭টি দেশের অবস্থাই এই রকম; পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ১৬.৭% মানুষ এখন এই ধরণের ব্যবস্থার অধীন। সারা পৃথিবীতেই এখন গণতন্ত্রের পিছু হটার ঘটনা ঘটছে। রাশিয়া, ভেনেজুয়েলা, ফিলিপাইন, তুরস্ক, কম্বোডিয়া, ইথিওপিয়া এর সহজে উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। ১৯৯০-এর দশকে যখন গণতন্ত্রে উত্তরণের পথে কিছু দেশ এই ধরণের ব্যবস্থায় উপনীত হল তখন অনেক আশাবাদী গবেষক, বিশেষজ্ঞরা মনে করতেন যে এই ধরণের দেশগুলোর শাসন ব্যবস্থা সম্ভবত আস্তে আস্তে গণতন্ত্রের দিকেই অগ্রসর হবে, অন্যরা একে এক ধরণের নিশ্চল ব্যবস্থা বলেই মনে করতেন, মনে করতেন যে স্থিতাবস্থা অব্যাহত থাকবে। কিন্তু গত দুই দশকের অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হয়ে বলা যায় যে এগুলো নিশ্চল নয়, হাইব্রিড রেজিমের পরিবর্তনের পথরেখা গণতন্ত্র অভিমুখী নয়, বরঞ্চ কর্তৃত্ববাদের দিকেই।
যে কোনো হাইব্রিড রেজিমকে টিকে থাকার জন্যে দরকার হয় তিনটি ক্ষেত্রের ওপরে নিয়ন্ত্রণ সেগুলো হচ্ছে নির্বাচন, নির্বাহী ও আইন সভা, এবং বিচার ব্যবস্থা (লেভিতস্কি এবং ওয়ে ২০০২; একম্যান ২০০৯)। গবেষণায় এও দেখা যাচ্ছে যে নির্বাহী বিভাগ, আইন সভা এবং বিচার ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্র তৈরি হয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। যে কোনো হাইব্রিড রেজিমের জন্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দরকার হয় আন্তর্জাতিক বৈধতা অর্জন, ক্ষমতাসীনদের পৃষ্ঠপোষকতার বা পেট্রনেজ নেটওয়ার্ক বজায় রাখা এবং তাঁদের অপরাজেয়তার প্রমাণ হিসেবে। ফলে আমরা দেখতে পাই যে, হাইব্রিড রেজিম, তুরস্ক বা রাশিয়া যে দেশেই হোক না কেন, নির্বাচনের আয়োজনের কথা তাঁরা জোর দিয়ে বলে, কিন্তু সেই নির্বাচন অবাধ এবং সরকারি প্রভাব মুক্ত হলো কীনা, সেই নির্বাচনের সততা বা ইন্টিগ্রিটি প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার বিষয়ে তাঁরা নীরবতা পালন করে থাকে।
এক্ষেত্রে বড় প্রশ্নটি হচ্ছে এই ধরণের নির্বাচনে বিরোধী দলগুলোর ভূমিকা কী হওয়া উচিত। কেউ কেউ মনে করেন যে এই ধরণের নির্বাচনে অংশগ্রহণ ক্ষমতাসীনদের বৈধতা প্রদান করে, ফলে তাঁরা নির্বাচন বর্জনের পক্ষে। কেউ কেউ মনে করেন যে, নির্বাচনে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই ক্ষমতাসীনদের ওপর চাপ তৈরি, জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করে গণতন্ত্রায়নের সম্ভাবনা তৈরি করা যাতে পারে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত রাশিয়া, তুরস্ক এবং মালয়েশিয়ার নির্বাচনের শিক্ষাগুলো এ ক্ষেত্রে মনোযোগ দাবি করে। মালয়েশিয়ায় বিরোধী দল ও শক্তিগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টাই কেবল ক্ষমতাসীনদের পরাজিত করতে পেরেছে।
বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচনে বিরোধী দলগুলোর অংশগ্রহণের প্রশ্নটি এই দৃষ্টিকোণ থেকেই বিবেচনা করতে হবে। সে সব দল ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করেছে তাঁদের এই প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়া দরকার যে তাঁরা যে সব বিবেচনায় নির্বাচন বর্জন করেছিলেন তার কোনো পরিবর্তন ঘটেছে কিনা এবং অপরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও তাঁরা নির্বাচনে অংশ নেবেন কিনা, নিলে কী বিবেচনা থেকে অংশ নেবেন। আগামী নির্বাচন সংক্রান্ত আলোচনায় দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি অংশগ্রহণ করবে কিনা তা যথাযথ কারণেই বিশদভাবে আলোচিত হয়; বিএনপি’র ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্তের সমালোচনাও করা হয়ে থাকে। ২০১৫ সালে কথিত আন্দোলনের কৌশল এবং সে সময়কার ঘটনা প্রবাহের দায় বিএনপি’কে বহন করতে হয়। কিন্তু আসন্ন নির্বাচন কী ধরণের হবে, আদৌ অংশগ্রহণমূলক এবং অবাধ হবে কী না সেই প্রশ্নটিকে কেবল বিএনপি’র অংশগ্রহণের প্রশ্ন, কিংবা দলের প্রধান খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে বিএনপি’র অংশগ্রহণের প্রশ্ন বলে আলোচনা করা সঠিক নয়। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সিটি কর্পোরেশনগুলোর নির্বাচনের অভিজ্ঞতার আলোকেই এই বিষয়ে আলোচনা হওয়া দরকার। আলোচিত হওয়া দরকার যে, দোআঁশলা এই ব্যবস্থায় কী ভাবে একটি নির্বাচন করা সম্ভব যা জনগণের অংশগ্রহণের অধিকার নিশ্চিত করবে এবং নির্ভয়ে তাঁদের রায় প্রদান করতে পারবে। এই নির্বাচন কেবল অভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষকদের সামনে অনুষ্ঠানই যথেষ্ট নয় তা স্থানীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণে তাঁদের প্রশ্নবিদ্ধ আচরণেই স্পষ্ট (আহমেদ, কামাল, ২০১৮)।
একইভাবে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বিএনপি’র ওপরেও এই দায়িত্ব বর্তায় যে তাঁরা একে কেবল দলীয় বিবেচনা থেকে বা দলের ক্ষমতায় অধিষ্ঠানের সুযোগ হিসেবে দেখছে কীনা তা পরিষ্কার করা এবং সেই আলোকেই পদক্ষেপ নেয়া।
সব হাইব্রিড রেজিমেই দৃশ্যত গণতন্ত্রের কিছু কিছু উপাদান থাকলেও হাইব্রিড রেজিম প্রধানত শক্তি প্রয়োগের ওপরে নির্ভর করে। শক্তি প্রয়োগের এই প্রবণতার ফলে রাষ্ট্রের নিপীড়ক যন্ত্রগুলো আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি ক্ষমতাশালী হয়ে ওঠে এবং তাঁদেরকে একধরনের দায়মুক্তি দেয়া হয়। কিন্তু হাইব্রিড রেজিম একই সঙ্গে তার পক্ষে সমর্থক গোষ্ঠীদের সমাবেশ ঘটায়, তাঁদেরকে শক্তিশালী করে, নাগরিকদের মধ্যে তাঁদের যে সমর্থন আছে তাকে বহুভাবে তুলে ধরতে চেষ্টা করে। এ জন্যে গণমাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার, মিথ্যা প্রচার, বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে প্রচলিত পদ্ধতি।
বাংলাদেশে গত এক দশকে রাষ্ট্রের বিভিন্ন বিভাগ যেমন নির্বাহী বিভাগ এবং আইন সভার ওপরে ক্ষমতাসীন দলের নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একথা বলার অপেক্ষা রাখেনা যে ২০১৪ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যে সংসদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তা না প্রতিনিধিত্বশীল, না কার্যকর। অতীতে সংসদ কার্যকর ভূমিকা পালনে সমর্থ না হলেও যে অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক ব্যবস্থা বজায় রাখতে পেরেছিল গত চার বছরে তা অবসিত হয়েছে।
বাংলাদেশে এক সময় যে প্রাণবন্ত সিভিল সোসাইটি ছিল আজ তার চিহ্ন পর্যন্ত অবশিষ্ট নেই। সিভিল সোসাইটিকে দলীয়করণের যে ধারা ১৯৯১ সালের পরে তৈরি হয়েছিল সেই সুযোগকে ব্যবহার করে, গত এক দশকে রাষ্ট্র এবং ক্ষমতাসীনদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ‘সিভিল সোসাইটি’র বিরুদ্ধে অব্যাহতভাবে প্রচার চালানো হয়েছে।
এর অন্যতম কারণ হচ্ছে জবাবদিহির একমাত্র ব্যবস্থা হিসেবে নির্বাচনকে প্রতিষ্ঠিত করা। যেহেতু নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপরে ক্ষমতাসীনদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এখন ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদকের ভাষায় নির্বাচনে তাঁদের বিজয় ‘আনুষ্ঠানিকতা’ মাত্র (প্রথম আলো, ১৬ই মার্চ ২০১৮), সেহেতু আর সব ধরণের জবাবদিহির ব্যবস্থা চূর্ণ করে ফেলাই হচ্ছে ক্ষমতাকে নিরঙ্কুশ করার উপায়। গণতান্ত্রিক সমাজে জবাবদিহির ব্যবস্থা যেমন সুষ্ঠু, অবাধ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন, তেমনিভাবে আরো দুই ধরণের জবাদিহির ব্যবস্থা থাকে সাংবিধানিকভাবে তৈরি করা ক্ষমতাসীনদের প্রভাবমুক্ত প্রতিষ্ঠান (যেমন দুর্নীতি কমিশন) যারা ক্ষমতাসীনদের ওপরে নজরদারি করতে পারেন, আর হচ্ছে সিভিল সোসাইটি যার মধ্যে আছে স্বাধীন গণমাধ্যম এবং অন্যান্য ধরণের প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশের গণমাধ্যমের অবস্থা এমন এক জায়গায় এসে উপস্থিত হয়েছে যে এর সঙ্গে যুক্ত সাংবাদিক এবং নীতি-নির্ধারকরা দলের প্রতি অন্ধ আনুগত্যের কারণে নিজেদের সিভিল সোসাইটির অংশ মনে করেন না, সিভিল সোসাইটির মানহানি (ভিলিফাই) করার কাজে তারাই অগ্রণী ভূমিকা নিচ্ছেন। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণ, স্বতঃপ্রণোদিত সেন্সরশিপ এবং দলীয় আনুগত্য এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছে যাতে করে গণমাধ্যমগুলো এখন সমাজের বৃহদাংশের কাছে কতটা আবেদন রাখেন তা প্রশ্নসাপেক্ষ।
রাশিয়া, তানজানিয়া এবং ভেনেজুয়েলায় বিরাজমান হাইব্রিড রেজিমের টিকে থাকার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে একম্যান তাঁর গবেষণায় দেখান যে, দুর্বল বা অকার্যকর বিরোধী দল এবং দলগুলোর জনবিচ্ছিন্নতা অন্যতম কারণ।
তিনি আরো দেখান যে, রাজনীতি বিষয়ে অনাগ্রহ বা হতাশা সাহায্যকারী উপাদান হিসেবে কাজ করে (একম্যান ২০০৯)। বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-ই শুধু নয়, অন্য দলগুলোর ভূমিকা এবং রাজনীতিকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক করে তোলার ফলে দলগুলোর আবেদন সীমিত হয়েছে। রাজনৈতিক কৌশলের ক্ষেত্রে তাঁরা যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের চেয়ে কম সফল তা সহজেই বোধগম্য। বাংলাদেশে রাজনীতিবিদদের আচরণের কারণে দল-নির্বিশেষে রাজনীতিকেই দোষারোপ, তরুণদের মধ্যে রাজনীতির প্রতি অনীহা তৈরি এবং এই ধারণা সৃষ্টি যে তাঁদের ব্যক্তিগত সাফল্য দেশের সার্বিক রাজনীতি থেকে আলাদা সেটা ইচ্ছে করেই তৈরি করে হয়েছে। সমাজে এখন যারা সক্রিয় আছেন তাঁদেরকে ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা এখন প্রতিদিনের বিষয়। সে কারণে বিচার বহির্ভূত হত্যা এবং গুমকে স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত করা হয়েছে (এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্যে দেখুন, রীয়াজ ২০১৪)।
বাংলাদেশের বর্তমান শাসন ব্যবস্থাকে হাইব্রিড রেজিম বলে চিহ্নিত করলে বাংলাদেশের রাজনীতির ভবিষ্যৎ পথরেখা অনুধাবন করা দুরূহ হয়না। ইতিমধ্যেই দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে শক্তি প্রয়োগের যে প্রবণতা লক্ষ্য করেছি তার মাত্রা যে ক্রমবর্ধমান তাও সহজেই দৃষ্ট। শুধু তাই নয়, এই শক্তি প্রয়োগের বিষয়টি কেবল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতেই সীমিত তা নয়, ক্ষমতাসীন দলের নিমড়বতম স্তরের কর্মীদের মধ্যেও তা বিস্তার লাভ করেছে এবং সমাজের সর্বস্তরে এই ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতাই দায়মুক্তির জন্যে যথেষ্ট। বাংলাদেশের সমাজে অসহিষ্ণুতা বৃদ্ধি, সহিংসতার ব্যাপক বিস্তারের যে সব ঘটনা আমরা প্রত্যক্ষ করেছি তা আগামীতে আরো বৃদ্ধি পাবার আশঙ্কার বাস্তব ভিত্তি এইখানেই।
যেসব দেশে গণতন্ত্র ক্রমাগতভাবে দুর্বল হয়েছে এবং ক্ষয়ের পথে অগ্রসর হয়েছে, বিশেষ করে যেখানে হাইব্রিড রেজিমের উত্থান ঘটেছে, সেখানেই ক্ষমতাসীনরা অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিপরীতে তাদের ক্ষমতায় থাকার যুক্তি হিসেবে, এক ধরণের আদর্শিক বাতাবরণ তৈরি করেছেন। এই সব আদর্শিক বাতাবরণের মধ্যে আছে উগ্র জাতীয়তাবাদ, জাতীয় উন্নয়ন, জাতীয় নিরাপত্তা, ধর্মীয় আদর্শ। এও দেখা গেছে যে, গত কয়েক এক দশকে যে সব দেশে এই ধরণের হাইব্রিড রেজিম তৈরি হয়েছে সেখানে এক ধরণের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে (মাহমুদ ২০১৮)। বাংলাদেশে তার ব্যতিক্রম হয়নি। এই ধরণের প্রবৃদ্ধিকে সাধারণত ‘উন্নয়ন’ বলে বলা হলেও তার সুফল সকলে সমানভাবে ভোগ করে তা নয়। তদুপরি এই ধরণের প্রবৃদ্ধি সমাজের শ্রেণী বিন্যাস বদলে দেয়
এবং তার প্রভাব পরে রাজনীতিতে।
উৎস: সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস)-এর জন্য আলোচনাপত্র
লেখক পরিচিতি : লেখক, যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর
বাংলাদেশের সমাজে এক নতুন ধনিক শ্রেণীর উদ্ভবের মধ্য দিয়ে সমাজে নতুন শ্রেণী বিন্যাস ঘটেছে। রাষ্ট্রের আনূকূল্যে ও ক্ষমতাসীনদের পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা এই শ্রেণীর মধ্যে জবাবদিহি ও অংশগ্রহণমূলক ব্যবস্থার আকাঙ্খার ঘাটতি আছে, যা রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইতিমধ্যেই রক্ষণশীল ইসলামপন্থীদের প্রভাব বেড়েছে এবং আগামীতে অংশগ্রহণমূলক রাজনীতির ক্ষেত্র যতই সীমিত হবে, এই শক্তির প্রভাব ও ক্ষমতা বাড়বে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতের প্রভাব ক্রমবৃদ্ধিমান এবং সব প্রধান রাজনৈতিক দলই তা মেনে নিয়েছে। ফলে বাংলাদেশের রাজনীতির ভারত এক নির্ধারক শক্তিতে পরিণত হয়েছে।
ভারত বাংলাদেশে তার ঘনিষ্ঠ মিত্র সরকার চায়, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের কারণে এখন তা আরো বেশি জরুরি হয়ে পড়েছে। তবে এতে করে দীর্ঘমেয়াদে ভারতের লাভবান না হবার সম্ভাবনাই বেশি।
বাংলাদেশের রাজনীতি আগামীতে কোন পথে যাবে সেই বিষয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন আছে, উদ্বেগ আছে এবং আশংকাও আছে। বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংকট ও অনিশ্চয়তা কোনো নতুন বিষয় নয়; গত কয়েক দশকে বাংলাদেশ বারবার রাজনৈতিক সংকট ও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হয়েছে। ১৯৯১ সালে দেশে নির্বাচিত বেসামরিক শাসন চালুর পরে আশা করা হয়েছিল যে এই ধরণের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটবে। কিন্তু তার পরিবর্তে ১৯৯৬, ২০০৬ এবং ২০১৪ সালে আমরা আবারও এই ধরণের অনিশ্চয়তা প্রত্যক্ষ করেছি। এই অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ আপাতদৃষ্টে আসন্ন নির্বাচন-কেন্দ্রিক- সংবিধানের বিধান অনুযায়ী নির্ধারিত এই বছর একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কী না, কী ধরণের নির্বাচন হবে, কাদের অংশগ্রহণে এই নির্বাচন হবে, ২০১৪ সালের নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি ঘটবে কী না এই সব প্রশ্নই সাধারণত আলোচনা হয়ে থাকে। এই প্রশ্নগুলো অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু কেন এই সব প্রশ্ন ওঠার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সেই বিষয়ে মনোনিবেশ না করলে এই সংকটের গভীরতা ও ব্যপ্তি বোঝা যাবেনা।
অতীতে বাংলাদেশ যত ধরণের রাজনৈতিক সংকট বা অনিশ্চয়তার মোকাবেলা করেছে এখনকার রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে তার আপাত সাদৃশ্য থাকলেও এবারের সংকট অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে ভিন্ন এবং এই সংকট আরো গভীর।
এই সংকট কেন গভীর তা উপলব্ধি এবং বাংলাদেশের রাজনীতির ভবিষ্যৎ পথরেখা চিহ্নিত করতে চাইলে আমাদের চারটি বিষয়ের দিকে নজর দিতে হবে। সেগুলো হচ্ছে বাংলাদেশে বিরাজমান শাসনের রূপ, বাংলাদেশের সমাজে নতুন শ্রেণী বিন্যাসের প্রতিক্রিয়া, সমাজ ও রাজনীতিতে ইসলামপন্থীদের প্রভাব এবং ভারতের ভূমিকা।
বাংলাদেশের বিরাজমান শাসনের রূপ
১৯৯০ সালে বাংলাদেশে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে কেবল জেনারেল এরশাদের নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন হয়নি, তা তৈরি করেছিল একটি অংশগ্রহণমূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা। স্বল্প সময়ের একদলীয় ব্যবস্থা, দেড় দশকের প্রত্যক্ষ সামরিক শাসন ও বেসামরিক সরকারের মোড়কে সামরিক শাসন সব মিলে প্রায় দুই দশক ধরে চালু থাকা কর্তৃত্ববাদী ধরণের শাসনের অবসান ঘটেছিল এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। সুনির্দিষ্টভাবে রাষ্ট্রের চরিত্র বদলের কর্মসূচির ভিত্তিতে আন্দোলন হয়েছিল এমন দাবি করার কোনো সুযোগ নেই, কিন্তু একথা অতিরঞ্জন নয় যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরে লোকরঞ্জনবাদী কর্তৃত্ববাদ (পপুলিস্ট অথরিটারিয়ানইজম) এবং সামরিক কর্তৃত্ববাদের যে ইতিহাস তা থেকে বেরুবার আকাঙ্খা এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়েছিল। সাধারণত কর্তৃত্ববাদী শাসনের কেন্দ্রে থাকেন একজন ব্যক্তি, কিন্তু এই ব্যবস্থা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমনভাবে সাজিয়ে তোলে, যা সবার অংশগ্রহণমূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। ফলে, সারা পৃথিবীর গত কয়েক দশকের অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, যে কোনো দেশেই কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসানের হলেই সেখানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মনে করার কারণ নেই।
১৯৭০-এর দশকে অনেক রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, রাজনীতিবিদ, নীতি-নির্ধারক এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান গণতন্ত্র বলতে নির্বাচনের ওপরেই বেশি জোর দিতেন। যে কারণে সেই সময়ে দেশে দেশে স্বৈরাচারী বা কর্তৃত্ববাদী শাসকেরাও নির্বাচনের আয়োজন করে নিজেদের গণতান্ত্রিক বলে জাহির করার চেষ্টা করেছেন, সামরিক শাসকদেরও ‘গণতান্ত্রিক’ বলে বর্ণনা করার ঘটনা দেখতে পাই। কিন্তু ক্রমান্বয়ে এটা স্পষ্ট হয় যে, নির্বাচন গণতন্ত্রের একটি প্রয়োজনীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ উপাদান; কিন্তু নির্বাচনই গণতন্ত্র নয়। নির্বাচনের ওপরে অতিরিক্ত জোর দেয়াকে কেউ কেউ ‘ফ্যালাসি অব ইলেক্টোরালইজম’ বলে বর্ণনা করলেন (স্মিটার ও কার্ল ১৯৯১)। অনেকেই এই বিষয়ে উৎসাহী হলেন যে কর্তৃত্ববাদ থেকে গণতন্ত্রে উত্তরণের পথ কী? আর কেউ কেউ দেখতে চাইলেন উত্তরণের পর কীভাবে সেখানে গণতন্ত্র সংহত হয়।
এই সব আলোচনার সূচনা পর্বেই ১৯৯১ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় স্যামুয়েল হান্টিংটন দেখান, শাসনব্যবস্থা হিসেবে ইতিহাসে তিন দফা গণতন্ত্রের প্রসার হয়েছে; একে তিনি বলেন ‘গণতন্ত্রের তিন ঢেউ’ (হান্টিংটন ১৯৯১)।
তিনি বলেন, প্রতিটি ঢেউয়ের পরেই এসেছে ভাটার টান। প্রথম ঢেউয়ের ঘটনা ১৮২৬ থেকে ১৯২৬ সাল। দ্বিতীয় ঢেউ দেখতে পাই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে, যার শেষ হয়েছে ১৯৬২ সালে। তৃতীয় ঢেউয়ের সূচনা হয় ১৯৭৪ সালে। ১৯৯১ সালে তাঁর গবেষণার শেষে তিনি আশঙ্কা করেছিলেন যে খুব শিগগির ভাটার টান আসবে। তাঁর ‘তিন ঢেউ তত্ত্বের’ সমর্থন পাওয়া গেলো তথ্যের মধ্যেই। ১৯৭৩ সালে সারা পৃথিবীর মোট দেশের এক-চর্তুাংশ ছিল গণতান্ত্রিক, ১৯৮০ সালে তা দাঁড়ায় এক-তৃতীয়াংশে এবং ১৯৯২ সালে প্রায় অর্ধেকে। নব্বইয়ের দশকে এসে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন এবং পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলোতে একদলীয় শাসনের অবসান থেকে এটাই বোঝা গেলো যে এই ধারা অব্যাহত রয়েছে।
এই সময়ে অনেকেই বিস্মৃত হলেন যে, জোয়ারের শেষে আসে ভাটার টান। ১৯৮০-এর দশকে গণতন্ত্রায়ণ নিয়ে আশাবাদের জোয়ারের মধ্যেও উদ্বিগ্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের কেউ কেউ, যেমন গুয়েলারমো ও’ডানেল এবং ফিলিপ স্মিটার, ১৯৮৬ সালে এই বলে সতর্ক করেছিলেন যে কর্তৃত্ববাদী শাসন থেকে উত্তরণের ফল হতে পারে তুলনামূলক উন্মুক্ত কর্তৃত্ববাদী শাসন অথবা নিয়ন্ত্রণমূলক অনুদার (Illiberal) গণতন্ত্র (ও’ডানেল এবং স্মিটার ১৯৮৬: ৯)। তাঁদের এই উদ্বেগ গবেষকদের কাছে সুস্পষ্ট হয়ে পড়লো ২০০০-এর দশকে এসে। দেখা গেলো যে, এই ‘নতুন গণতান্ত্রিক দেশগুলো’র অনেকেই গণতন্ত্রের পথে খুব বেশি অগ্রসর হয়নি, অর্থাৎ সেখানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে নিয়মিতভাবে, নাগরিকেরা সীমিতভাবে অধিকার পাচ্ছেন এবং যদিও অধিকাংশ দেশ আগের স্বৈরাচারী বা প্রত্যক্ষভাবে কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থায় ফিরে যায়নি (কয়েকটি দেশে যদিও আবার পুরোনো ব্যবস্থা ফিরেও এসেছিল), কিন্তু এসব দেশে বড়জোর নির্বাচন হচ্ছে কিন্তু এর বাইরে গণতন্ত্রের আর কোনো দিকই বিকশিত হচ্ছে না। কেউ কেউ এই রকম আশা করলেন যে, এগুলো আসলে উত্তরণের পথে আছে।
এই ধরণের ব্যবস্থাকে কী বলা যায় এই প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা বিভিন্ন বিশেষণ ব্যবহার করতে শুরু করেন। এইসব বিশেষণের মধ্যে রয়েছে আধা গণতন্ত্র (Semi-democracy), প্রায়-গণতন্ত্র (Virtual democracy), নির্বাচনী গণতন্ত্র (Electoral democracy), ছদ্ম গণতন্ত্র (Pseudo-democracy), অনুদার গণতন্ত্র (Illiberaldemocracy), আধা কর্তৃত্ববাদ (Semi-authoritarianism); কোমল কর্তৃত্ববাদ (Soft authoritarianism) এবং নির্বাচনী কর্তৃত্ববাদ (Electoral authoritarianism) (লেভিটস্কি এবং ওয়ে, ২০০২)। ল্যারি ডায়মন্ড এই ধরনের বিভিন্ন শাসনকে একত্রে হাইব্রিড রেজিম (Hybrid Regime) বা সংকর/ দোআঁশলা শাসনব্যবস্থা বলে বর্ণনা করেন (ডায়মন্ড, ২০০২)।
গোড়ার দিকে এসব শাসনব্যবস্থার সঙ্গে ‘আধা’, ‘প্রায়’ ইত্যাদি বিশেষণ যুক্ত করে একে গণতন্ত্র বা কর্তৃত্ববাদী শাসনের পূর্ববর্তী বা পরবর্তী স্তর বলে ধারণা দেওয়ার চেষ্টা হলেও পরবর্তী সময় বিশেষজ্ঞরা ক্রমেই স্বীকার করে নেন যে এগুলো গণতন্ত্র বা কর্তৃত্ববাদের কোনো উপরূপ নয়। বরং এগুলো হচ্ছে একটি বিশেষ ধরনের শাসন, নিজেই একটা বিশেষ রূপ। ফলে এদের গণতন্ত্র বা কর্তৃত্ববাদ বলে বর্ণনার সুযোগ নেই (বোগার্ড ২০০৯)। ল্যারি ডায়মন্ড ২০০২ সালে খুব জোর দিয়ে বলেন যে হাইব্রিড রেজিম বা ‘দোআঁশলা শাসন’কে উত্তরণের পথে রয়েছে এমন শাসনব্যবস্থার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা ঠিক হবে না। উত্তরণ পর্যায় হচ্ছে শাসনব্যবস্থা এক ধরন থেকে অন্য ধরনে যাওয়ার অন্তর্বর্তী অবস্থান হাইব্রিড রেজিম তা নয়, এগুলো নিজেই একধরনের শাসনব্যবস্থা। এই ধরণের ব্যবস্থার নির্ধারক চরিত্র হচ্ছে যে, এগুলোতে একই সময়ে গণতন্ত্রের কিছু, আর স্বৈরতন্ত্রের কিছু বৈশিষ্ট্য বিরাজ করে।
এখানে লক্ষ্যণীয় বিষয় দু’টি; প্রথমত একে এক বিশেষ ধরণের সরকার না বলে ‘রেজিম’ বলা হয়েছে; দ্বিতীয়ত হাইব্রিড রেজিম এই ধারণার মধ্যে বিভিন্ন ধরণের শাসন ব্যবস্থা রয়েছে, এটা একটি মাত্র শাসন ব্যবস্থা নয়। রেজিম বলা হচ্ছে এই কারণে যে, এগুলো যে কোনো সরকারের চেয়ে বেশি স্থায়ী ধরণের রাজনৈতিক সংগঠন ‘more permanent form of political organization’ (ফিশম্যান ১৯৯০)। যে কোনো রেজিম আনুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিক ক্ষমতা কাঠামোর সমন্বয়ে গড়ে ওঠে, ক্ষমতার সঙ্গে বৃহত্তর সমাজের সম্পর্ক নির্ধারণ করে। রেজিম নির্ধারণ করে ক্ষমতায় কার প্রবেশযোগ্যতা থাকবে, আর কার থাকবে না। এই ধরণের রেজিমে বেশ কয়েক ধরণের শাসন থাকতে পারে সেটা নির্ভর করে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কী ধরণের সম্পর্ক আছে এবং রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের কি ধরণের বোঝাপড়া হয়েছে।
বাংলাদেশে ১৯৯১ সালের পরে যে ব্যবস্থা তৈরি হয় তাঁকে আমরা ইলেকটোরাল ডেমোক্রেসি বা নির্বাচনী গণতন্ত্র বলে বর্ণনা করতে পারি। এই ধরণের ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন, বহু দলের উপস্থিতি, সকল প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের ভোটাধিকার, নিয়মিত গোপন ভোটের মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠান যাতে বড় ধরণের জালিয়াতির অনুপস্থিত এবং যাতে জনমতের প্রতিফলন ঘটে; যেখানে গণমাধ্যম এবং নিয়ন্ত্রণহীন নির্বাচনী প্রচারণার মাধ্যমে বড় দলগুলোর ভোটারদের কাছে যাবার সুযোগ আছে (ফ্রিডম হাউস ২০১২)। এই ব্যবস্থাটা চালু হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের সংবিধান প্রধানমন্ত্রীর হাতে এমন ক্ষমতা অর্পণ করে যা ক্ষমতার এককেন্দ্রীকরণের সুযোগ বহাল রাখে এবং গোটা ব্যবস্থাই হয়ে ওঠে ‘প্রধানমন্ত্রীর শাসন’ ব্যবস্থা। তদুপরি, বাংলাদেশের সংবিধানে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া বিষয়ে যে অস্পষ্টতা যা ১৯৭২ সালের সংবিধানে ছিল তাই বহাল থাকল।
সাংবিধানিক বিধিবিধান, স্বাধীন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান (যেমন নির্বাচন কমিশন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন) গঠনে অনুৎসাহীতা, দলের ভেতরে গণতন্ত্রহীনতা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহার করে দল ও ব্যক্তির পৃষ্ঠপোষকতার ফলে এই ব্যবস্থাটিতে ক্রমেই অগণতান্ত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলো প্রধান হয়ে ওঠে। দুই প্রধান প্রতিদ্বন্ধী দলের উপস্থিতি এবং ক্ষমতার হাত বদলের মধ্য দিয়ে শাসনের রূপ হয়ে দাঁড়ায় প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক কর্তৃত্ববাদ বা কমপিটিটিভ অথরিটারিয়ানইজম। প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থায় নির্বাচন একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এই কারণে যে ক্ষমতাসীনদের কাজের বৈধতা তৈরি হয় একমাত্র নির্বাচনে বিজয়ের মধ্য দিয়েই, সেই নির্বাচন অবাধ এবং নিরপেক্ষ হল কিনা সেটা আর বিবেচ্য থাকে না (কিলিঞ্চ ২০১৭)। বাংলাদেশে ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বা ২০০৬ সালের নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা তাই প্রমাণ করে। কিন্তু বাংলাদেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) উপলব্ধি করলো যে এই ব্যবস্থার ভিত্তি এবং যেই ক্ষমতায় থাকুক তার বৈধতার ভিত্তি হচ্ছে নির্বাচন।
২০০৮ সালের নির্বাচনের পর, বিশেষ করে ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর পর, বাংলাদেশে নতুন ধরণের রাজনৈতিক ব্যবস্থার উদ্ভব ঘটেছে। অন্যান্য দেশে বিরাজমান এই ধরণের ব্যবস্থা নিয়ে এন্ড্রিয়াস স্যাডলার বলেছেন, এই ব্যবস্থায় যা চলে তা ‘বহুদলীয় রাজনীতির খেলা’ এবং নির্বাচন গণতন্ত্রের নয়, কর্তৃত্ববাদের হাতিয়ারে পরিণত হয় (স্যাডলার ২০০৬)। ২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচন বর্জনের ফলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষে এই ধরণের ব্যবস্থা সহজেই প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে, কিন্তু বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলেই তা ভিন্ন হত কিনা, কিংবা এর কারণ ২০১৫ সালের গোড়াতে বিএনপি’র সহিংস আন্দোলন কিনা সেটা এখন প্রশ্নসাপেক্ষ। কেননা ২০১৪ সালের নির্বাচনের পরপরই স্পষ্ট হয়ে যায় যে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বিএনপি’কে আর কোনভাবেই রাজনীতিতে জায়গা দিতে আগ্রহী নয়। ২০১৫ সালে ১লা জানুয়ারি প্রকাশিত ‘দেয়ার ক্যান বি অনলি ওয়ান’ (কেবল এক পক্ষই থাকতে পারবে) শিরোনামের এক নিবন্ধে জাফর সোবহান সুস্পষ্টভাবেই বলেছিলেন যে, ‘ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের গেম প্ল্যান খুব স্পষ্ট। আগামী বছরে আওয়ামী লীগের পরিকল্পনা খুব সোজাসাপ্টা চেপে ধরে বিএনপি’র প্রাণবায়ু বের করে ফেলা অব্যাহত রাখা’ (সোবহান ২০১৫) (তাঁর ভাষায়, The game plan for the ruling Awami League is clear. The AL plan for the coming year is therefore straightforward: Continue to squeeye life out of the BNP.) ১৯৮২ সালের পর থেকে এই দুই দলের মধ্যে যে অলিখিত চুক্তি বা সমঝোতা ছিল তা ছিল কার্যত সেনা-আমলাতন্ত্রের বিপরীতে বেসামরিক রাজনৈতিক দলের শাসন প্রতিষ্ঠার।
২০০৯ সালের পরে সেটার আর কোনো তাগিদ থাকেনি। তদুপরি যে কোনো হাইব্রিড রেজিম অবশ্যই নির্বাচন করতে চায় কিন্তু ক্ষমতাসীন দল কখনো চায় না যে এমন প্রতিপক্ষ উপস্থিত থাকুক যা তাকে পরাজিত করতে পারবে এমন সম্ভাবনা আছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের পরে এমন নির্বাচনের ব্যবস্থা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে যেখানে ক্ষমতাসীনরা পরাজিত হবেন। বাংলাদেশের অতীত নির্বাচনের ইতিহাসই কেবল সেই সাক্ষ্যই দেয়না, স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনের অভিজ্ঞতাও তাই বলে।
এখন বাংলাদেশের রাজনীতিতে আমরা যে অবস্থা দেখতে পাচ্ছি তা আসলে যে কোনো হাইব্রিড রেজিম বা দোআঁশলা ব্যবস্থায় যা হয় তা থেকে ভিন্ন কিছু নয়। ইকনোমিস্ট ইন্টিলেজিন্স ইউনিটের হিসেব অনুযায়ী, পৃথিবীর ১৬৭টি দেশের মধ্যে ৩৭টি দেশের অবস্থাই এই রকম; পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ১৬.৭% মানুষ এখন এই ধরণের ব্যবস্থার অধীন। সারা পৃথিবীতেই এখন গণতন্ত্রের পিছু হটার ঘটনা ঘটছে। রাশিয়া, ভেনেজুয়েলা, ফিলিপাইন, তুরস্ক, কম্বোডিয়া, ইথিওপিয়া এর সহজে উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। ১৯৯০-এর দশকে যখন গণতন্ত্রে উত্তরণের পথে কিছু দেশ এই ধরণের ব্যবস্থায় উপনীত হল তখন অনেক আশাবাদী গবেষক, বিশেষজ্ঞরা মনে করতেন যে এই ধরণের দেশগুলোর শাসন ব্যবস্থা সম্ভবত আস্তে আস্তে গণতন্ত্রের দিকেই অগ্রসর হবে, অন্যরা একে এক ধরণের নিশ্চল ব্যবস্থা বলেই মনে করতেন, মনে করতেন যে স্থিতাবস্থা অব্যাহত থাকবে। কিন্তু গত দুই দশকের অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হয়ে বলা যায় যে এগুলো নিশ্চল নয়, হাইব্রিড রেজিমের পরিবর্তনের পথরেখা গণতন্ত্র অভিমুখী নয়, বরঞ্চ কর্তৃত্ববাদের দিকেই।
যে কোনো হাইব্রিড রেজিমকে টিকে থাকার জন্যে দরকার হয় তিনটি ক্ষেত্রের ওপরে নিয়ন্ত্রণ সেগুলো হচ্ছে নির্বাচন, নির্বাহী ও আইন সভা, এবং বিচার ব্যবস্থা (লেভিতস্কি এবং ওয়ে ২০০২; একম্যান ২০০৯)। গবেষণায় এও দেখা যাচ্ছে যে নির্বাহী বিভাগ, আইন সভা এবং বিচার ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্র তৈরি হয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। যে কোনো হাইব্রিড রেজিমের জন্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দরকার হয় আন্তর্জাতিক বৈধতা অর্জন, ক্ষমতাসীনদের পৃষ্ঠপোষকতার বা পেট্রনেজ নেটওয়ার্ক বজায় রাখা এবং তাঁদের অপরাজেয়তার প্রমাণ হিসেবে। ফলে আমরা দেখতে পাই যে, হাইব্রিড রেজিম, তুরস্ক বা রাশিয়া যে দেশেই হোক না কেন, নির্বাচনের আয়োজনের কথা তাঁরা জোর দিয়ে বলে, কিন্তু সেই নির্বাচন অবাধ এবং সরকারি প্রভাব মুক্ত হলো কীনা, সেই নির্বাচনের সততা বা ইন্টিগ্রিটি প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার বিষয়ে তাঁরা নীরবতা পালন করে থাকে।
এক্ষেত্রে বড় প্রশ্নটি হচ্ছে এই ধরণের নির্বাচনে বিরোধী দলগুলোর ভূমিকা কী হওয়া উচিত। কেউ কেউ মনে করেন যে এই ধরণের নির্বাচনে অংশগ্রহণ ক্ষমতাসীনদের বৈধতা প্রদান করে, ফলে তাঁরা নির্বাচন বর্জনের পক্ষে। কেউ কেউ মনে করেন যে, নির্বাচনে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই ক্ষমতাসীনদের ওপর চাপ তৈরি, জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করে গণতন্ত্রায়নের সম্ভাবনা তৈরি করা যাতে পারে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত রাশিয়া, তুরস্ক এবং মালয়েশিয়ার নির্বাচনের শিক্ষাগুলো এ ক্ষেত্রে মনোযোগ দাবি করে। মালয়েশিয়ায় বিরোধী দল ও শক্তিগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টাই কেবল ক্ষমতাসীনদের পরাজিত করতে পেরেছে।
বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচনে বিরোধী দলগুলোর অংশগ্রহণের প্রশ্নটি এই দৃষ্টিকোণ থেকেই বিবেচনা করতে হবে। সে সব দল ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করেছে তাঁদের এই প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়া দরকার যে তাঁরা যে সব বিবেচনায় নির্বাচন বর্জন করেছিলেন তার কোনো পরিবর্তন ঘটেছে কিনা এবং অপরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও তাঁরা নির্বাচনে অংশ নেবেন কিনা, নিলে কী বিবেচনা থেকে অংশ নেবেন। আগামী নির্বাচন সংক্রান্ত আলোচনায় দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি অংশগ্রহণ করবে কিনা তা যথাযথ কারণেই বিশদভাবে আলোচিত হয়; বিএনপি’র ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্তের সমালোচনাও করা হয়ে থাকে। ২০১৫ সালে কথিত আন্দোলনের কৌশল এবং সে সময়কার ঘটনা প্রবাহের দায় বিএনপি’কে বহন করতে হয়। কিন্তু আসন্ন নির্বাচন কী ধরণের হবে, আদৌ অংশগ্রহণমূলক এবং অবাধ হবে কী না সেই প্রশ্নটিকে কেবল বিএনপি’র অংশগ্রহণের প্রশ্ন, কিংবা দলের প্রধান খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে বিএনপি’র অংশগ্রহণের প্রশ্ন বলে আলোচনা করা সঠিক নয়। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সিটি কর্পোরেশনগুলোর নির্বাচনের অভিজ্ঞতার আলোকেই এই বিষয়ে আলোচনা হওয়া দরকার। আলোচিত হওয়া দরকার যে, দোআঁশলা এই ব্যবস্থায় কী ভাবে একটি নির্বাচন করা সম্ভব যা জনগণের অংশগ্রহণের অধিকার নিশ্চিত করবে এবং নির্ভয়ে তাঁদের রায় প্রদান করতে পারবে। এই নির্বাচন কেবল অভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষকদের সামনে অনুষ্ঠানই যথেষ্ট নয় তা স্থানীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণে তাঁদের প্রশ্নবিদ্ধ আচরণেই স্পষ্ট (আহমেদ, কামাল, ২০১৮)।
একইভাবে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বিএনপি’র ওপরেও এই দায়িত্ব বর্তায় যে তাঁরা একে কেবল দলীয় বিবেচনা থেকে বা দলের ক্ষমতায় অধিষ্ঠানের সুযোগ হিসেবে দেখছে কীনা তা পরিষ্কার করা এবং সেই আলোকেই পদক্ষেপ নেয়া।
সব হাইব্রিড রেজিমেই দৃশ্যত গণতন্ত্রের কিছু কিছু উপাদান থাকলেও হাইব্রিড রেজিম প্রধানত শক্তি প্রয়োগের ওপরে নির্ভর করে। শক্তি প্রয়োগের এই প্রবণতার ফলে রাষ্ট্রের নিপীড়ক যন্ত্রগুলো আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি ক্ষমতাশালী হয়ে ওঠে এবং তাঁদেরকে একধরনের দায়মুক্তি দেয়া হয়। কিন্তু হাইব্রিড রেজিম একই সঙ্গে তার পক্ষে সমর্থক গোষ্ঠীদের সমাবেশ ঘটায়, তাঁদেরকে শক্তিশালী করে, নাগরিকদের মধ্যে তাঁদের যে সমর্থন আছে তাকে বহুভাবে তুলে ধরতে চেষ্টা করে। এ জন্যে গণমাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার, মিথ্যা প্রচার, বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে প্রচলিত পদ্ধতি।
বাংলাদেশে গত এক দশকে রাষ্ট্রের বিভিন্ন বিভাগ যেমন নির্বাহী বিভাগ এবং আইন সভার ওপরে ক্ষমতাসীন দলের নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একথা বলার অপেক্ষা রাখেনা যে ২০১৪ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যে সংসদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তা না প্রতিনিধিত্বশীল, না কার্যকর। অতীতে সংসদ কার্যকর ভূমিকা পালনে সমর্থ না হলেও যে অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক ব্যবস্থা বজায় রাখতে পেরেছিল গত চার বছরে তা অবসিত হয়েছে।
বাংলাদেশে এক সময় যে প্রাণবন্ত সিভিল সোসাইটি ছিল আজ তার চিহ্ন পর্যন্ত অবশিষ্ট নেই। সিভিল সোসাইটিকে দলীয়করণের যে ধারা ১৯৯১ সালের পরে তৈরি হয়েছিল সেই সুযোগকে ব্যবহার করে, গত এক দশকে রাষ্ট্র এবং ক্ষমতাসীনদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ‘সিভিল সোসাইটি’র বিরুদ্ধে অব্যাহতভাবে প্রচার চালানো হয়েছে।
এর অন্যতম কারণ হচ্ছে জবাবদিহির একমাত্র ব্যবস্থা হিসেবে নির্বাচনকে প্রতিষ্ঠিত করা। যেহেতু নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপরে ক্ষমতাসীনদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এখন ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদকের ভাষায় নির্বাচনে তাঁদের বিজয় ‘আনুষ্ঠানিকতা’ মাত্র (প্রথম আলো, ১৬ই মার্চ ২০১৮), সেহেতু আর সব ধরণের জবাবদিহির ব্যবস্থা চূর্ণ করে ফেলাই হচ্ছে ক্ষমতাকে নিরঙ্কুশ করার উপায়। গণতান্ত্রিক সমাজে জবাবদিহির ব্যবস্থা যেমন সুষ্ঠু, অবাধ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন, তেমনিভাবে আরো দুই ধরণের জবাদিহির ব্যবস্থা থাকে সাংবিধানিকভাবে তৈরি করা ক্ষমতাসীনদের প্রভাবমুক্ত প্রতিষ্ঠান (যেমন দুর্নীতি কমিশন) যারা ক্ষমতাসীনদের ওপরে নজরদারি করতে পারেন, আর হচ্ছে সিভিল সোসাইটি যার মধ্যে আছে স্বাধীন গণমাধ্যম এবং অন্যান্য ধরণের প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশের গণমাধ্যমের অবস্থা এমন এক জায়গায় এসে উপস্থিত হয়েছে যে এর সঙ্গে যুক্ত সাংবাদিক এবং নীতি-নির্ধারকরা দলের প্রতি অন্ধ আনুগত্যের কারণে নিজেদের সিভিল সোসাইটির অংশ মনে করেন না, সিভিল সোসাইটির মানহানি (ভিলিফাই) করার কাজে তারাই অগ্রণী ভূমিকা নিচ্ছেন। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণ, স্বতঃপ্রণোদিত সেন্সরশিপ এবং দলীয় আনুগত্য এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছে যাতে করে গণমাধ্যমগুলো এখন সমাজের বৃহদাংশের কাছে কতটা আবেদন রাখেন তা প্রশ্নসাপেক্ষ।
রাশিয়া, তানজানিয়া এবং ভেনেজুয়েলায় বিরাজমান হাইব্রিড রেজিমের টিকে থাকার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে একম্যান তাঁর গবেষণায় দেখান যে, দুর্বল বা অকার্যকর বিরোধী দল এবং দলগুলোর জনবিচ্ছিন্নতা অন্যতম কারণ।
তিনি আরো দেখান যে, রাজনীতি বিষয়ে অনাগ্রহ বা হতাশা সাহায্যকারী উপাদান হিসেবে কাজ করে (একম্যান ২০০৯)। বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-ই শুধু নয়, অন্য দলগুলোর ভূমিকা এবং রাজনীতিকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক করে তোলার ফলে দলগুলোর আবেদন সীমিত হয়েছে। রাজনৈতিক কৌশলের ক্ষেত্রে তাঁরা যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের চেয়ে কম সফল তা সহজেই বোধগম্য। বাংলাদেশে রাজনীতিবিদদের আচরণের কারণে দল-নির্বিশেষে রাজনীতিকেই দোষারোপ, তরুণদের মধ্যে রাজনীতির প্রতি অনীহা তৈরি এবং এই ধারণা সৃষ্টি যে তাঁদের ব্যক্তিগত সাফল্য দেশের সার্বিক রাজনীতি থেকে আলাদা সেটা ইচ্ছে করেই তৈরি করে হয়েছে। সমাজে এখন যারা সক্রিয় আছেন তাঁদেরকে ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা এখন প্রতিদিনের বিষয়। সে কারণে বিচার বহির্ভূত হত্যা এবং গুমকে স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত করা হয়েছে (এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্যে দেখুন, রীয়াজ ২০১৪)।
বাংলাদেশের বর্তমান শাসন ব্যবস্থাকে হাইব্রিড রেজিম বলে চিহ্নিত করলে বাংলাদেশের রাজনীতির ভবিষ্যৎ পথরেখা অনুধাবন করা দুরূহ হয়না। ইতিমধ্যেই দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে শক্তি প্রয়োগের যে প্রবণতা লক্ষ্য করেছি তার মাত্রা যে ক্রমবর্ধমান তাও সহজেই দৃষ্ট। শুধু তাই নয়, এই শক্তি প্রয়োগের বিষয়টি কেবল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতেই সীমিত তা নয়, ক্ষমতাসীন দলের নিমড়বতম স্তরের কর্মীদের মধ্যেও তা বিস্তার লাভ করেছে এবং সমাজের সর্বস্তরে এই ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতাই দায়মুক্তির জন্যে যথেষ্ট। বাংলাদেশের সমাজে অসহিষ্ণুতা বৃদ্ধি, সহিংসতার ব্যাপক বিস্তারের যে সব ঘটনা আমরা প্রত্যক্ষ করেছি তা আগামীতে আরো বৃদ্ধি পাবার আশঙ্কার বাস্তব ভিত্তি এইখানেই।
যেসব দেশে গণতন্ত্র ক্রমাগতভাবে দুর্বল হয়েছে এবং ক্ষয়ের পথে অগ্রসর হয়েছে, বিশেষ করে যেখানে হাইব্রিড রেজিমের উত্থান ঘটেছে, সেখানেই ক্ষমতাসীনরা অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিপরীতে তাদের ক্ষমতায় থাকার যুক্তি হিসেবে, এক ধরণের আদর্শিক বাতাবরণ তৈরি করেছেন। এই সব আদর্শিক বাতাবরণের মধ্যে আছে উগ্র জাতীয়তাবাদ, জাতীয় উন্নয়ন, জাতীয় নিরাপত্তা, ধর্মীয় আদর্শ। এও দেখা গেছে যে, গত কয়েক এক দশকে যে সব দেশে এই ধরণের হাইব্রিড রেজিম তৈরি হয়েছে সেখানে এক ধরণের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে (মাহমুদ ২০১৮)। বাংলাদেশে তার ব্যতিক্রম হয়নি। এই ধরণের প্রবৃদ্ধিকে সাধারণত ‘উন্নয়ন’ বলে বলা হলেও তার সুফল সকলে সমানভাবে ভোগ করে তা নয়। তদুপরি এই ধরণের প্রবৃদ্ধি সমাজের শ্রেণী বিন্যাস বদলে দেয়
এবং তার প্রভাব পরে রাজনীতিতে।
উৎস: সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস)-এর জন্য আলোচনাপত্র
লেখক পরিচিতি : লেখক, যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1406)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ▼ 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ইরান
ক্রিকেট
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
কালবেলা
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
ইউক্রেন
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
স্বাস্থ্য
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
জ্যোতির্বিজ্ঞান
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
জীবনযাপন
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
মসজিদ
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
ইয়েমেন
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
Exclusive
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
জনস্বাস্থ্য
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
লাতিন আমেরিকা
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
জোহরান মামদানি
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
ইহুদি
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
স্পেন
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment