অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তাব প্রসঙ্গে খালেদা-আবার ক্ষমতায় আসাই প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্য

আবারও ক্ষমতায় আসার জন্য প্রধানমন্ত্রী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রস্তাব দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, 'আমরা তাঁর এই প্রস্তাব মানি না। প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় থাকার জন্য এবং আবার ক্ষমতায় আসার জন্যই এ প্রস্তাব দিয়েছেন।


আমরা এটা প্রত্যাখ্যান করছি।'
গতকাল রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের উদ্যোগে আয়োজিত এক ইফতার পার্টিতে বিএনপি চেয়ারপারসন এসব কথা বলেন। এতে সিনিয়র সাংবাদিক, সাহিত্যিক, রাজনীতিক, চিকিৎসক, আইনজীবীসহ পেশাজীবী নেতারা অংশ নেন।
সম্প্রতি লন্ডনে বিবিসি বাংলা সার্ভিসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনকালে বিরোধী দলের সমন্বয়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রস্তাব দেন।
প্রধানমন্ত্রীর ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে খালেদা জিয়া বলেন, 'নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। ঈদের পর আমরা এক প্লাটফর্মে সবাইকে এনে আন্দোলন শুরু করব।' তিনি বলেন, দেশ এক কঠিন অবস্থার মধ্যে অতিক্রম করছে। তাই দেশের মানুষ এ দুরবস্থা থেকে পরিত্রাণ চায়। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ক্ষমতাসীনদের মদদে সারা দেশে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি চলছে। যখন তখন মানুষ হত্যা করা হচ্ছে।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সাড়ে তিন বছরে ১৬ জন সাংবাদিক হত্যা করা হয়েছে। সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন, মিথ্যা মামলা ও হয়রানি করা হচ্ছে। তারা (সরকার) একের পর এক অসাংবিধানিক কাজ করছে। দেশে আজ গণতন্ত্র বলতে কিছু নেই। তাই এ সরকারকে কোনোভাবে গণতান্ত্রিক সরকার বলা যাবে না।
রাস্তাঘাটের দুরবস্থার কথা তুলে ধরে খালেদা জিয়া বলেন, 'যোগাযোগমন্ত্রী নিজেই চাঁদপুরে স্বীকার করেছেন, রাস্তাঘাটের অবস্থা ভালো নয়। তারা সাড়ে তিন বছরে সড়ক-মহাসড়কের কোনো সংস্কার করেনি। এ অবস্থা আর চলতে দেওয়া যায় না। সে জন্য ব্যর্থ ও অযোগ্য সরকারকে হটাতে আমাদের সংগ্রামে নামতে হবে।'
মঞ্চে বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ইফতার করেন সিনিয়র সাংবাদিক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, আলমগীর মহিউদ্দিন, আমানউল্লাহ কবির, আতিকুল আলম, মাহমুদুর রহমান, রেজোয়ান সিদ্দিকী, বিএফইউজে একাংশের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, মহাসচিব শওকত মাহমুদ, ডিইউজে একাংশের সভাপতি আবদুস শহীদ, সাধারণ সম্পাদক বারেক হোসাইন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমাদ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা প্রমুখ।
এ ছাড়া মঞ্চে ইফতারে অংশ নেন বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, এম কে আনোয়ার, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এলডিপির অলি আহমদ, জামায়াতে ইসলামীর এ কে এম নাজির আহমেদ, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মনিরুজ্জামান মিঞা, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদিন, চলচ্চিত্রকার চাষী নজরুল ইসলাম প্রমুখ।
ইফতারে কবি মাহমুদ শফিক, আবু সালেহ, সিনিয়র সাংবাদিক অধ্যাপক আবদুল গফুর, মাহফুজ উল্লাহ, খন্দকার মনিরুল আলম, এম এ আজিজ, এলাহী নেওয়াজ খান সাজু, মোস্তফা কামাল মজুমদার, এস এম মেজবাহ উদ্দিন, কামরুল ইসলাম চৌধুরী, মাসুদুর রহমান খলিলি, সরদার ফরিদ আহমদ, কাজী রওনাক হোসেন, কাদের গনি চৌধুরী প্রমুখ ছিলেন।
ইফতার শেষে খালেদা জিয়া প্রেসক্লাবে মাগরিবের নামাজ আদায়ের পর সাংবাদিক লাউঞ্জে চা-চক্রে মিলিত হন। তিনি ওই সময় সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

No comments

Powered by Blogger.