Thursday, April 25, 2019

বাংলাদেশের মিডিয়ায় কাজ করতে চান নূর by নূর ইসলাম

যশোর ঝুমঝুমপুর বিডিআর মার্কেটের পেছনে গাজী ম্যানসনে সকাল থেকে জনতার ভিড়। তাদের প্রিয় অভিনেতা রাজা রামচন্দ্রকে দেখার সুযোগ হারাতে চাচ্ছে না কেউ। তাই ভোর হতে না হতেই ভিড় জমাচ্ছেন গাজী ম্যানসনে। জনতার ভিড় ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করতেই দেখা গেল একটি ইজি চেয়ারে বসে উৎসুক দর্শকের নানা প্রশ্নের জবাব দিচ্ছেন রাজা রামচন্দ্র খ্যাত গাজী আবদুন নূর। নানা বয়সের মানুষের হাজারো প্রশ্নের জবাব দিচ্ছেন অবলীলায়। কেউ কেউ আবার সেলফি তুলতে ব্যস্ত। কেউ আবার গায়ে হাত দিয়ে শান্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন। পাশের চেয়ারে বসা তার মামা।
নূরের জনপ্রিয়তায় মুগ্ধ তিনিও। বহুদিন পর নূর বাড়ি ফিরেছেন তাই গাজী ম্যানসনে জনতার ভিড়ের কমতি নেই।
পরিচয় দিয়ে প্রশ্ন করতেই বললেন, তার স্বপ্নের কথা। ভারত ছেড়ে দেশে ফেরার কথা। বললেন দেশের মিডিয়া জগৎ নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা। সুযোগ পেলে তিনি দেশীয় মিডিয়া তথা ছোট পর্দা বা বড় পর্দা দুই মিডিয়াতেই কাজ করতে আগ্রহী রাজা রামচন্দ্র খ্যাত যশোরের ছেলে গাজী আবদুন নূর।
বললেন “আমাকে কেউ বের করে দেয়নি। ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। কাজের চাপের কারণে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য যাওয়া হয়নি। তাই ভিসার মেয়াদ বাড়াতে এসেছি। ভিসা পেলেই চলে যাবো”।  ভারতের বাংলা টিভি চ্যানেলের দর্শকদের কাছে এখন তিনি রামচন্দ্র নামে খুবই জনপ্রিয়। জি বাংলায় প্রচারিত জনপ্রিয় সিরিয়াল ‘করুণাময়ী রাণী রাসমণি’র রাজা রাজচন্দ্রের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন তিনি। বললেন, ‘সেখানে সবাই জানে, আমি বাংলাদেশের ছেলে। কিন্তু বাংলাদেশের অনেক দর্শকই তা জানতেন না। আমাকে নিয়ে এখানে কোনো পত্রিকায় তেমন কোনো খবর ছাপা হয়নি। কেউ কিন্তু আমাকে নিয়ে গর্ব করেনি। অথচ দেখেন, কলকাতার একটি ঘটনা নিয়ে এখানে খবরে সয়লাব হয়ে গেছে। সবাই লিখেছে, আমাকে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে।’ আসলে কিন্তু তা নয়। আমার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তাই দেশে ফিরে এসেছি। ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে আবার যাবো- বললেন অভিনেতা গাজী আবদুন নূর।
গাজী আবদুন নুর গত সোমবার সন্ধ্যায়  বেনাপোল পোর্ট দিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন। রাতে জানালেন, সন্ধ্যায় ভারত থেকে সড়কপথে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে তিনি বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন। তার বাসা যশোর শহরের ঝুমঝুমপুর এলাকায়।
ভারতের লোকসভা নির্বাচনে কলকাতার দমদম কেন্দ্রের তৃণমূলের প্রার্থী সৌগত রায়ের প্রচার মিছিলে সাবেক মন্ত্রী মদন মিত্রের সঙ্গে যোগ দেন গাজী আবদুন নূর। এ ঘটনার পর কলকাতার অভিবাসন দপ্তর তার ভিসাসংক্রান্ত তথ্য তদন্ত শেষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দেয়। এরপর ভিসার মেয়াদ না বাড়িয়ে বেআইনিভাবে অবস্থান করার দায়ে তাকে অবিলম্বে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
জি বাংলা টিভিতে প্রচারিত মেগা সিরিয়াল ‘করুণাময়ী রাণী রাসমণি’ সিরিয়ালে রাণী রাসমণির স্বামী রাজা রামচন্দ্রের চরিত্রে অভিনয়কারী গাজী আবদুন নূর বললেন, ‘আমি বাংলাদেশের নাগরিক। ২০১১ সালে ভারতে গিয়েছিলাম পড়াশোনা করার জন্য। এরপর সেখানে ছোট পর্দায় কাজ করার সুযোগ পেয়ে যাই। সেখানে অল্পদিনে দর্শক আমাকে গ্রহণ করেন। গল্প অনুযায়ী আমার চরিত্রটি অনেক দিন আগেই শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমার ব্যাপারে দর্শকের আগ্রহের কারণে জি বাংলা কর্তৃপক্ষ রাজা রাজচন্দ্রের চরিত্রটি বড় করে। এই সিরিয়ালে রাজা রাজচন্দ্র মারা গেছেন। আমি খুব ভালো করে জানি, সেখানে আমি কী করতে পারবো আর কী পারবো না। সেখানে লোকসভা নির্বাচনে প্রচারের জন্য আমি কেন যাবো?’
কিন্তু কলকাতার পত্রিকায় প্রকাশিত ছবিতে নির্বাচনী প্রচারণার মিছিলে সাবেক মন্ত্রী মদন মিত্রের সঙ্গে আপনাকে দেখা গেছে। এ প্রশ্নে গাজী আবদুন নূর বলেন, ‘এমএলএ মদন মিত্র আমাকে স্নেহ করেন। নিজের প্রয়োজনে সেদিন আমি তার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। তিনি তখন নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত ছিলেন। আমাকে দেখে তিনি গাড়িতে উঠতে বলেন। তার গাড়িতে কিছুক্ষণ ছিলাম। আমাকে দেখে আশেপাশের সবাই রাজা রামচন্দ্র বলে চিৎকার করে ওঠেন। মদন মিত্র বললেন, দেখ দেখ, তোকে দেখে সবাই কী খুশি হয়েছে। ওদের দিকে তাকিয়ে একটু হাতটা নেড়ে দে। আমি যদি তৃণমূলের হয়ে প্রচারণায় অংশ নিতাম, তাহলে তো সেই দলের উত্তরীয় গলায় ঝুলিয়ে ঘুরে বেড়াতাম। কিন্তু আমি কি তা করেছি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। সেখানেও তা বলেছি।’
ভারত ছাড়ার নির্দেশের ব্যাপারে গাজী আবদুন নূর বলেন, ‘এ সময় আমি এমনিতেই দেশে আসার পরিকল্পনা করে রেখেছিলাম। কয়েক মাস একটু বিরতি নেবো। কারণ, অনেক দিন ‘করুণাময়ী রাণী রাসমণি’ সিরিয়ালে রাজা রাজচন্দ্রের চরিত্রে নিজেকে আটকে রেখেছিলাম। এবার সেই চরিত্র থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা করছি। নিজের লুকটাও পরিবর্তন করবো। আর এই সিরিয়ালে কাজ করার ফলে অনেক দিন দেশে আসতে পারি নি। এবার কিছুদিন দেশে থাকবো।
ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে গাজী আবদুন নূর বললেন, হয়তো কলকাতায়ই কাজ করবো। ১৫-২০টা কাজ করবো না। আমার অনেক টাকার লোভ নেই। বাড়ি-গাড়ি হবে, তাও চাই না। আমি শুধু কিছু ভালো কাজ করতে চাই। সেখানে ভালো কাজের যে স্বাদ পেয়েছি, তা অসাধারণ!’
‘করুণাময়ী রাণী রাসমণি’ সিরিয়ালের জন্য শুধু ভারতের বাংলা টিভি চ্যানেলের দর্শকদের কাছেই নয়, বাংলাদেশের টিভির দর্শকদের কাছেও এখন সমান জনপ্রিয় গাজী আবদুন নূর। তিনি বাংলাদেশের বাগেরহাটের ছেলে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের পড়াশোনা করেছেন সেখানেই। পিতা গাজী আবদুল মান্নান বিডিআরে কর্মরত ছিলেন। পিতার কর্মসূত্রে যশোরে আগমন। যোগ দেন নাট্য সংগঠন বিবর্তন যশোরে। শুরু করেন অভিনয় জীবন। বিবর্তন যশোরের প্রবাদ পুরুষ সানোয়ার আলম খান দুলুর হাত ধরে তার মঞ্চ নাটকে হাতে খড়ি। এরপর তাকে আর পেছনে ফিরতে হয়নি। বিবর্তন যশোরের সদস্য হিসেবেই তিনি কলকাতায় যান ২০১১ সালে। অনিক থিয়েটার আয়োজিত গঙ্গা-যমুনা নাট্যোৎসবে ‘রাজা প্রতাপাদিত্য’ নাটক নিয়ে অংশ নেয় বিবর্তন যশোর। এই নাটকে রাজা প্রতাপাদিত্যের চরিত্রে অভিনয় করেন সানোয়ার আলম খান দুলু। তার পার্শ্ব অভিনেতা ছিলেন গাজী আবদুন নূর। ওই সময় সেখানে নাটক নিয়ে পড়াশোনা করার ব্যাপারে আগ্রহ তৈরি হয়। যোগাযোগ করেন রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে। নাটক নিয়ে পড়াশোনা করার সুযোগ পেয়ে যান। পরের বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রামা বিভাগে ভর্তি হন। সাফল্যের সঙ্গে স্নাতক শেষ করার পর স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ভারত সরকারের আইসিসিআর বৃত্তি পান। একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
এবার জানালেন, ঊনবিংশ শতকের থিয়েটার নিয়ে তিনি পিএইচডি করছেন। এমন কয়েকজনকে নিয়ে কাজ করছেন, থিয়েটারে যাদের অসামান্য অবদান রয়েছে, কিন্তু তাদের কথা অনেকেই জানেন না।
বাংলাদেশের একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন গাজী আবদুন নূর। নাম ‘যুবতী কন্যার মন’। সেলিম-আল-দীনের কাহিনী থেকে ছবিটি তৈরি করেছেন নারগিস আক্তার। ছবিটি শিগগিরই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা আছে বলে জানান তিনি।
দেশের নাট্যাঙ্গন নিয়েও তিনি তার ভাবনার কথা জানান। বলেন, সুযোগ পেলে তিনি তার অভিনয় প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে চান দেশীয় মিডিয়াতেও। ছোট পর্দার পাশাপাশি তিনি বড় পর্দাতেও কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

মাতৃগর্ভে যমজ শিশুর মারামারি!

দুই ছোট্ট সদস্য, দেখতে অবিকল এক, বাড়িতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে৷ কে না চায় বলুন তো? যমজ সন্তান পছন্দ করেন না এমন মানুষের সংখ্যা নেহাতই কম৷ বড় হলেও দু’জনের মধ্যে কখনো ঝগড়া আবার কখনো ভাব৷ এই দেখতে দেখতে বেশ সময় কেটে যায়৷ ভাইবোনেদের খুনসুটি ছাড়া আর কি-ই বা আছে? এত কাণ্ড তো নয় ঘটবে পৃথিবীতে আসার পর৷ কিন্তু জন্ম নেয়ার আগে অর্থাৎ গর্ভস্থ অবস্থায় ঝগড়াঝাটি কিংবা মারামারি করছে তারা, এটা শুনেছেন কখনো? শোনেননি তো৷ না শুনলেও, এটাই সত্যি৷ কারণ আলট্রাসাউন্ড রিপোর্টেই ধরা পড়েছে সেই দৃশ্য৷ পরিষ্কার দেখা গেছে যমজ দুই সন্তান পেটের ভিতরে বক্সিং করছে৷ ওই ভিডিওটি নেটদুনিয়ায় ভাইরাল৷ তা নিয়ে চলছে জোর আলোচনা৷ অবাক হয়ে মা-দাদিরা একটাই প্রশ্ন করছেন, এ-ও সম্ভব?
বছর আঠাশের মিস্টার তাও বর্তমানে দুই মেয়ে চেরি ও স্ট্রবেরির বাবা৷ সদ্যই তার স্ত্রীর চার মাসের সন্তানসম্ভবা অবস্থার অবাক করা এক কাহিনী নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়৷ চীনের ইয়ানচুয়ান প্রদেশের একটি হাসপাতালে তার স্ত্রীর আলট্রাসাউন্ড হচ্ছিল৷ অধীর আগ্রহে স্ক্রিনের দিকে চোখ রেখেছিলেন হবু মা-বাবা৷ বাচ্চাদের অবস্থা জানতে নজর রেখেছিলেন চিকিৎসকও৷ আর সেই সময়ে অবাক করা মুহূর্তের সাক্ষী রইলেন সবাই৷ ভিডিওতে তারা দেখলেন পেটের ভিতরে বক্সিং করছে দু’জনে৷ একজন থামছে তো আরেকজন শুরু করছে৷ কেউই হার মানার পাত্রী নয়৷ ফুটফুটে কন্যাসন্তানদের জন্মের পরই এই ভিডিও সোশ্যাল সাইটে আপলোড করেন ওই চিকিৎসক৷ তারপর যদিও তা ভাইরাল হতে বেশি সময় নেয়নি৷ চীনা একটি দৈনিকেও প্রকাশিত হয়েছে এমন আশ্চর্য ঘটনার কথা৷
এই ভিডিও যে-ই দেখছেন সেই অবাক হয়েছেন৷ অনেকেই বলছেন, জন্মের আগে এমন বক্সিং করলেও, দুই বোনের নাকি দারুণ ভাবও হবে৷ আবার নেটিজেনদের একাংশ তো গর্ভস্থ ওই দুই সন্তানের মধ্যে কে বড় আর কে ছোট, তাও ওই আলট্রাসাউন্ড রিপোর্ট দেখেই নির্ধারণ করতে শুরু করেছেন৷ তাদের দাবি, যে বক্সিংয়ে জিতে গিয়েছে সেই বড়৷ চেরি-স্ট্রবেরিকে নিয়ে বেজায় খুশি তাদের বাবা-মা৷
তাও দম্পতির দাবি, বক্সিং করতে যেমন দেখা গেছে৷ তেমনই আবার জানুয়ারির আলট্রাসাউন্ড রিপোর্টে দু’জনকে জড়িয়ে থাকার ছবিও দেখেছেন বাবা-মা৷ জন্মানোর পর যদিও চেরি-স্ট্রবেরির বেজায় ভাব৷ কান্না, খিদে, ঘুম-সবই নাকি এখন একসঙ্গে করতেই বেশি ভালোবাসে দুই খুদে৷

একটি অভিনব প্রতিবাদ

টেলিফোনে অভিযোগ করা হয়েছে। কয়েক হাজার মানুষের সাক্ষর সংগ্রহ করে আবেদন জমা দেয়া হয়েছে। কিন্তু সমস্যার কোন সুরাহা মিলেনি। অভিযোগকারীদের দাবি উল্টো অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ঠাট্টা মশকরা করা হয়েছে। তাই এক অভিনব প্রতিবাদের কৌশল বেছে নেন ঢাকা ওয়াসার কয়েকজন গ্রাহক। পাইপ লাইনে আসা পানি বোতল বা জগে করে নিয়ে এসেছিলেন ঢাকা ওয়াসার কাওরান বাজারের প্রধান কার্যালয়ে। আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন এই পানি দিয়ে শরবত তৈরি করে তা ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খানকে খাওয়াবেন। তাই পানির সঙ্গে লেবু-চিনিও এনেছিলেন প্রতিবাদকারীরা।
তবে কয়েক ঘণ্টা অবস্থান করেও এমডির দেখা পাননি তারা।
প্রতিবাদকারীদের অবস্থানের সময় নিজের কার্যালয়ে আসেননি তাকসিম এ খান। প্রতিবাদকারীদের দাবি অতীতে বহুবার ওয়াসার পানির মান নিয়ে অভিযোগ করা হয়েছে। কেউ কর্ণপাত করেনি। উল্টো সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলন করে ওয়াসার এমডি দাবি করেছেন ওয়াসার পানি শতভাগ সুপেয়। যা একেবারেই হাস্যকর। আর যদি এ পানি সুপেয়ই হয়ে থাকে তাহলে তা পান করতেতো কোন সমস্যা নেই। এ কারণে পাইপের পানিই তারা নিয়ে এসেছেন এমডিকে শরবত বানিয়ে খাওয়ানোর জন্য। কার্যালয়ে না আসলেও টেলিফোনে ওয়াসা এমডি সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, অন্যের তৈরি শরবত তিনি খাবেন না। কার পানি খাবেন আর কারটা খাবেন না এটি একান্তই তার ব্যক্তিগত বিষয়।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) সম্প্রতি ওয়াসার অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করে। ওই রিপোর্টে ওয়াসার পানির মান নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। মান খারাপ হওয়ায় পানি ফুটিয়ে পান উপযোগী করতে বছরে অন্তত ৩৩২ কোটি টাকার গ্যাস অপচয় হয় বলে টিআইবির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এ রিপোর্টের প্রতিক্রিয়া জানাতে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে ওয়াসার এমডি দাবি করেন তাদের সরবরাহ করা পানি শতভাগ সুপেয়। যদিও একই সংবাদ সম্মেলনে তাকসিম এ খান জানান, তিনি নিজেই তিন ধরনের পানি পান করেন। তার বাসায়ই পানি বিশুদ্ধ করতে ফুটানো হয়। ২৮শে মার্চ নিজ কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে ওয়াসা এমডি নিজেই গ্রাহকদের পরামর্শ দিয়েছিলেন ১০ মিনিট ফুটিয়ে পানি পান করতে।
টিআইবির রিপোর্ট প্রকাশের পর ওয়াসার পানি শতভাগ সুপেয় এমন দাবির তীব্র সমালোচনা শুরু হয় চারপাশে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে ট্রল করেন অনেকে। ওয়াসা কর্তৃপক্ষের এ দাবির বিরুদ্ধেই অভিনব প্রতিবাদে প্রধান কার্যালয়ে এসেছিলেন জুরাইন ও রামপুরা এলাকার কয়েকজন গ্রাহক।
সকাল ১১টা। ওয়াসা ভবনের প্রবেশপথে প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে চার জন। তাতে লেখা ‘আর কতকাল কালা পানি খাওয়াবেন?’, ‘দূষিত পানির দায় নিতে হবে?’, ‘পানি দাও ময়লা না’। তাদের সঙ্গে জগ-বোতলে ওয়াসার পানি ও শরবত বানানোর সামগ্রী। প্রতিবাদকারীদের ওপর চোখ রাখতে ওয়াসা ভবনের প্রবেশপথে জনা বিশেক নিরাপত্তাকর্মী। ওয়াসা কর্মী ও সাধারণের প্রবেশে কড়াকড়ি না থাকলেও প্রতিবাদকারীদের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করেন নিরাপত্তা কর্মীরা। তারা ভেতরে প্রবেশ করে এমডির সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করলে নিরাপত্তা কর্মীরা জানান ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তার কার্যালয়ে নেই। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদকারীরা প্রবেশ পথে বসে পড়েন। তারা নিরাপত্তা কর্মী ও উপস্থিত গণমাধ্যমকে জানান এমডির সাক্ষাৎ না পেলে তারা এখান থেকে সরবেন না। এক পর্যায়ে তাদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়। তাদের নিয়ে যাওয়া হয় পরিচালক (টেকনিক্যাল) এ কে এম সহিদ উদ্দিন এর কক্ষে।
প্রতিবাদকারীরা ওয়াসা পরিচালককে জানালেন তাদের সরবরাহ করা পাইপ লাইনের পানি এবং শরবত তৈরির উপকরণ সঙ্গে নিয়ে এসেছেন এমডিকে শরবত তৈরি করে খাওয়ানোর জন্য। যেহেতু তিনি নেই তাই তাদের তৈরি শরবত পরিচালককে পরখ করতে হবে। যেহেতু ওয়াসার পানি শতভাগ সুপেয় তাই তা পানে আপত্তি থাকার কথা না। কিন্তু পরিচালক আর রাজি হলেন না শরবত খেতে। উল্টো প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে বিতন্ডায় জড়ান তিনি। এক পর্যায়ে বলেন, শরবত তিনি খাবেন। সঙ্গে ওয়াসার এমডি ও অন্য কর্মকর্তারাও সেই শরবত খাবেন। তবে এখনই না। ওয়াসার পাইপ লাইন পুরো সংস্কারের পর পানি শতভাগ নিরাপদ হলে।
ওয়াসার পানিতে সমস্যা আছে এটা মানতেও নারাজ সহিদ উদ্দিন। তার ভাষ্য অনুযায়ী ওয়াসার পানি বিশুদ্ধ। সুপেয়। ওয়াসার পানি পানে কোন ব্যক্তি ডায়ারিয়ায় আক্রান্ত হলে এর দায়ভার কে নেবে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এর দায়ভার ওয়াসা বহন করতে প্রস্তুত। পরক্ষণেই তিনি বলেন, ওয়াসা’র পানি বিশুদ্ধ। তবে বিভিন্ন স্থানে অসাধু লোকজন যখন অবৈধভাবে লাইন নিয়ে থাকেন ফলে যুক্ত হয় দূষিত পানি। তার কথার পিঠেই প্রশ্ন-এই বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করার দায়িত্ব কাদের? তখন তিনি বলেন, আমাদের। তবে আমরা সবসময় তা করে উঠতে পারি না।
জুরাইনের পানি সমস্যার বিষয়ে অভিযোগ জানানোর পরেও কেন ব্যবস্থা নেয়া হলো না? এই প্রশ্নের জবাবে বলেন, যথাযথভাবে আপনারা অভিযোগ দায়ের করেননি। তখন পাল্টা কাগজ উপস্থাপন করায় সৃষ্টি হয় হট্টগোল। বাকবিতন্ডা। গণমাধ্যমকর্মীদের হস্তক্ষেপে কিছুটা নীরব হয় পরিবেশ। সহিদ উদ্দিন সংগ্রহ করেন তাদের তাদের ঠিকানা এবং অতিদ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাসও দেন। তখন ভিন্নধর্মী এই আন্দোলনকারীরা বলেন, যেহেতু সমস্যা সমাধানের বিষয় আছে। সেহেতু এমডি’র বক্তব্য ভুল ছিলো। তাকে ক্ষমা চাইতে হবে। ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগ করতে হবে।
শরবত খাওয়ানোর অভিনব প্রতিবাদে অংশ নিয়েছিলেন জুরাইন নাগরিক অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদের সমন্বয়কারী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। ব্যবসায়ী মতিয়ার রহমান ও গণমাধ্যমকর্মী মনিরুল ইসলাম।
মিজানুর রহমান এসেছিলেন স্ত্রী ও সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে। তার মেয়ে সন্তানটি মায়ের কোলে চড়ে আসে। মিজানুরের সঙ্গে তার এক পারিবারিক বন্ধুও ছিলেন। একটি পরিস্কার জগে করে তিনি নিয়ে এসেছিলেন ওয়াসার পানি। সঙ্গে এনেছিলেন লেবু ও চিনি। মিজানুর রহমান বলেন, জুরাইন এলাকায় ৩০/৪০ বছরের পুরনো পাইপে পানি সরবরাহ করা হয়। এই পানি বাধ্য হয়ে বিভিন্ন কাজে তারা ব্যবহার করেন। তবে তা পান করা যায় না। তিনি জগে করে যে পানি নিয়ে আসেন তা সবাইকে দেখিয়ে বলেন, এটি মাঝারি মানের পানি। এরচেয়েও খারাপ পানি আসে এলাকায়। আমরা ওয়াসাকে জানিয়েছি একাধিক বার। আবেদন করেছি। তারা কিছু করেনি। উল্টো তারা আমাদের দুর্ভোগ নিয়ে তামাশা করেছে। তাই ওয়াসার এমডির সেই শতভাগ সুপেয় পানি নিয়ে এসেছি। তিনি বলেন, দুষিত পানির জন্য আমরা কেন বিল দেবো। যতোদিন পানি সুপেয় না হবে ততোদিন আমরা বিল দেব না।
রামপুরা এলাকা থেকে এসেছিলেন মনিরুল ইসলাম। তিনি একটি বোতলে করে পানি নিয়ে এসেছিলেন। তিনি ওই বোতল দেখিয়ে বলেন, চকচক করলেই সোনা হয় না। এই বোতলের পানি দেখলে পরিস্কার সুপেয় পানিই মনে হবে। কিন্তু নাকে গন্ধ নিলে কেউ এ পানি মুখে নিতে যাবে না। এমন পানিই এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এই পানির কারণে অনেকের মাথার চুল পড়ে যাচ্ছে। গায়ে সমস্যা হচ্ছে। দীর্ঘ দিন অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। এমন অবস্থায় ওয়াসা এমডির বক্তব্য এক ধরনের তামাশা।

শপথ নেবেন না বিএনপির এমপিরা: খালেদাকে নিয়ে লেখা বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

শপথ নেবেন না বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকেই এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। গত শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট বার মিলনায়তনে শত নাগরিক আয়োজিত ‘খালেদা জিয়া তৃতীয় বিশ্বের কণ্ঠস্বর’ বইয়ের প্রকাশনা উৎসবে বিএনপি নেতারা এ তথ্য জানান। অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশনেত্রী শুধুমাত্র একটি কারণে আজ কারাগারে। সেটা হলো- বিএনপিকে নিঃশ্বেস করে দেয়া। বিএনপির রাজনীতিকে ধ্বংস করে দেয়া এবং দেশনেত্রীকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেয়া। কিন্তু দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেয়া সম্ভব হবে না, হতে পারে না। বিএনপি মহাসচিব বলেন, খালেদা জিয়া একজন জীবন্ত কিংবদন্তি।
কারণ তিনি একজন সেনানায়ককের স্ত্রী। তিনি হঠাৎ ক্ষমতায় বসে পড়েননি। দীর্ঘ ৯ বছর লড়াই সংগ্রাম করে জনগণকে ভালোবেসে, তাদের ভালবাসায় রাষ্ট্র পরিচালার দায়িত্বভার গ্রহন করেছেন। গণতন্ত্রের জন্য স্বাধীন বাংলাদেশে দুই জন মানুষের অবদান সবচেয়ে বেশি।
তার একজন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান অপরজন হলেন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া। জিয়াউর রহমান একদলীয় শাসন ব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আর দেশনেত্রী খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্র নিয়ে এসেছিলেন। এই বিষয়টা আমাদের মনে করতে হবে। তিনি বলেন, এখানে মুরুব্বি যারা আছেন তারা জানেন, বিএনপির ঘোষণাপত্র ছিলো প্রেসিডেন্ট শাসিত রাষ্ট্র ব্যবস্থা। কিন্তু যখন স্বৈরাচার এরশাদকে সরাতে জাতীয় ঐক্যের বিষয় আসলো। আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঐক্য করার প্রেক্ষাপট তৈরি হল। তখন এটা একটা বড় বিষয় হয়ে দাড়ালো। ওই সময় প্রেসিডেন্ট শাসিত রাষ্ট্রের ঘোষণার কারণে ঐক্য হচ্ছিল না অথবা ভেঙে যাচ্ছিল। তখন সংসদীয় গণতন্ত্রের ঘোষণা দিয়েছিলেন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া। সুতরাং মনে রাখতে হবে বাংলাদেশে গণতন্ত্র বলতে যা কিছু এর সব অবদান জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার ক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার অবদান সবচেয়ে বেশি।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বিএনপিকে ভেঙে ফেলার জন্য বারবার চেষ্টা হয়েছে। নিশ্চিহ্ন করার জন্য বারবার চেষ্টা হয়েছে। এবারও দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে একটি কারণে কারাগারে রাখা হয়েছে। সেটা হলো- বিএনপিকে নিঃশেষ করা। বিএনপিকে ধ্বংস করে খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে দুরে সরিয়ে দেয়া। কিন্তু সম্ভব হবে না, হতে পারে না। কারণ বিএনপি ও খালেদা জিয়ার রাজনীতি হচ্ছে, এদেশের মানুষের রাজনীতি। তাই কখনো হতাশ হবেন না। হতাশার কথা বলবেনও না। হতাশার কথা শুনতে চাইনা। যারা বলেন, বিএনপি নিঃশেষ হয়ে গেছে- আমি তাদের সঙ্গে একমত না। বিএনপি প্রতিটি সংকটের সময় উঠে দাঁড়িয়েছে এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। কারণ বিএনপি দেশের জনগণের দল। আমরা সবাই অত্যান্ত আশাবাদী, আমরা বিশ্বাস করি- আমাদের নেত্রী জেলে থাকুন আর বাইরে থাকুন, তিনিই আমাদের অনুপ্রেরণা। তিনিই আমাদের নেতৃত্ব দিয়ে গণতন্ত্রকে মুক্ত করে আনবেন ইনশাআল্লাহ। 
খালেদা জিয়ার অসুস্থতার বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা জানি তিনি অত্যন্ত অসুস্থ। এতো অসুস্থ যা আপনাদের বলে বুঝাতে পারব না। আমরা নববর্ষে দেশনেত্রীকে দেখতে গিয়েছিলাম। তিনি হাটতেও পারেন না। চেয়ারেও ঠিকমতো বসতে পারেন না। বিছানা থেকে উঠার জন্য তাকে সাহায্য করতে হয়। তারপরও এতোটুকু মনোবল তিনি হারাননি। এই মনোবল আমাদের মধ্যে সঞ্চার করতে হবে। তরুণদের মধ্যে সঞ্চার করতে হবে। এর মাধ্যমে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণতন্ত্রকে এবং আমাদের দেশমাতাকে মুক্ত করতে হবে। 
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, দেশে একটি অস্বাভাবিক অবস্থা চলছে। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হবে। গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। আর খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হলে কার্যকর আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তাছাড়া তাকে মুক্ত করা সম্ভব হবে না।
স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, বিএনপি থেকে নির্বাচিত ৬ জন এমপির সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ার প্রশ্নই উঠে না। কারণ আমরা দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কেউ শপথ নেবে না। আমরা স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটা নির্বাচিতদের জানিয়ে দেয়া হবে। সুতরাং এখানে কোনো পরিবর্তন ও ফিরে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। এই বিষয়টি এখানে নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়া দরকার। তিনি বলেন, আমরা অনেকে হতাশ হয়ে যাই। বলি, দেশে তো আর কোনো রাজনীতি নেই। সরকার দেশে বিরোধী দল রাখতে চায় না।
তারপরও আমাদের মহাসচিব প্রতিদিন কিছু না কিছু বলে জানান দেন আমরা বিরোধী দল আছি। সরকারের নির্যাতন ও অত্যাচার বিএনপিকে আরও মুজবত করে দিয়েছে। আওয়ামী লীগের এই নির্যাতন দূর্বিচারের কারণে বিএনপি আগামী শত বছর রাজনৈতিক দল হিসেবে টিকে থাকবে। বিএনপির কিছু হবে না। তিনি বলেন, রাজনৈতিক কারণে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় খালেদা জিয়া আজ কারারুদ্ধ। সরকারের ইচ্ছা থাকলে তিনি আরও আগেই মুক্তি পেতেন। তার সবগুলো মামলা জামিন যোগ্য হলেও আমরা তাকে মুক্ত করতে পারছি না। তারপরও বলতে চাই তিনি আমাদের মাঝে যত শিগগিরই ফিরে আসবে ততই আমাদের মঙ্গল। তার ফিরে আসার মানেই হলো বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরে আসা।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, খালেদা জিয়ার একটা ব্যর্থতা আছে, যা আমি আগেও একদিন তাকে বলেছিলাম। আজকেও বলতে চাই। তা হলো, তিনি তার চারপাশে নির্ভীক, সৎ, সাহসী লোক তৈরি করতে পারেননি। এ কারণে আমরা সংকট মোকাবিলা করতে ভয় পাচ্ছি। আর সরকার প্যারোলে মুক্তি নিয়ে উস্কানি দেয়ার সাহস পাচ্ছে। তিনি বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি ঠাট্টা ও মসকরা ছাড়া আর কিছু নয়। আর এ ধরণের অসঙ্গতি প্রস্তাব সরকারের কাছ থেকে আসতে পারে না এবং আসবে না। তিনি বলেন, আজকে বিএনপি থেকে নির্বাচিতরা বলছেন, এলাকার মানুষের চাপ আছে শপথ নেয়ার বিষয়ে। কিন্তু শুনতে চেয়েছিলাম, তারা বলবেন খালেদা জিয়া আগে মুক্ত হবেন। এরপর দলীয় সিদ্ধান্ত হলে সংসদে যাওয়ার বিষয় বিবেচনা করবো।  কিন্তু তাদের কথা শুনে মনে হচ্ছে তারা সংসদে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত এবং তাদের কাপড়-চোপড়ও প্রস্তুত রয়েছে।
সূচনা বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, এই বইটি বিক্রি করে যে পয়সা হবে, সেই পয়সা আমি নেবো না। এই অঙ্গিকার নিয়ে আমি বইটি লেখেছি। আর এই টাকা দিয়ে আমরা একটি ফাউন্ডেশন তৈরি করবো।
বিএনপির নেতাদের হাত-পা বেঁধে দেয়া হয়েছে কিনা: বিএনপির সিনিয়র নেতাদের হাত-পা বেঁধে দেয়া হয়েছে কিনা এমন প্রশ্ন তুলে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আমাদের আশাহত হওয়ার কোন কারণ নেই। তবে একটা আলোচনা হতে পারে। আন্দোলনটা কেনো হচ্ছে না? এই যে আমাদের নেতারা আছেন, তারা অনেক সিনিয়র নেতা, জ্ঞানীগুনী নেতা এবং নিবেদিত। তারা কি নিজেরা চলতে পারছেন না।
না কি তাদের হাত-পা বেঁধে দেয়া হয়েছে? নেতাদের  হাত-পা বেঁধে দিলে কখনো সংগ্রাম হয় না। আমাদের সামনে যারা বসে আছেন, তাদের মধ্যে বিশ্বাস প্রয়োজন। তাদের চলাফেলার সুযোগ করে দেয়া উচিত। তাদের যদি আমরা দল চালানোর সুযোগ করে দেই এবং  বাইরে থেকে ওহি না পাঠিয়ে এখানেই বসে আলোচনা করে আন্দোলন করি। কারণ আন্দোলন ছাড়া খালেদা জিয়ার মুক্তি আমরা পাবো না। আমাদেরও কারো মঙ্গল হবে না। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হলে রাস্তার নামতে। তাই আমাদের এখন একমাত্র আলোচনা হবে, আমরা কখন কিভাবে রাস্তায় নামতে পারবো। জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, এতো বড় একজন নেত্রী কারাগারে। এতো বড় দল, অথচ কোন আন্দোলন নেই। আর একে অপরের বিরুদ্ধে আলোচনা-সমালোচনা করে আমাদের খুব বেশী লাভ হবে না।
৯০-এর ছাত্রনেতাদের নেতৃত্বে আনতে হবে: বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আমাদের মতো বয়স্কদের দলের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দিতে হবে। ৯০-এর ছাত্রনেতা ও তরুণদের দলের নেতৃত্বে এনে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। কবে থেকে আন্দোলন হবে সেই সিদ্ধান্ত এই মুহূর্তে নিতে হবে।
তারেক রহমানকে ফেরানোর ক্ষমতা সরকারের নেই: সুপ্রিমকোর্ট বারের সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষমতা সরকার কিংবা দুদকের নেই। এই কারণে সরকার ভিন্ন পথে হাঁটছে। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক স্ট্যান্ডবাজির জন্য সরকার এসব করছে। এছাড়া, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা বইয়ের প্রকাশনা উৎসবকে নানা আত্মসমালোচনায় পরিণত করেন দলটির নেতারা। পাশাপাশি তারা খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের সফলতাগুলো তুলে ধরেন।
‘খালেদা জিয়া-তৃতীয় বিশ্বের কণ্ঠস্বর’ বইটি সম্পাদনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. এমাজউদ্দীন আহমদ ও কবি আব্দুল হাই শিকদার। তারাসহ আরো ১০ জন লেখক রয়েছে বইটির। মোট ১২ জন লেখকের বইটির বিষয় সূচিও করা হয়েছে ১২ টি। বইটির ১২ জন লেখক হলেন- ড. এমাজউদ্দীন আহমদ, ড. মুস্তাফিজুর রহমান, ড. হাসান মোহাম্মদ, ড. আবদুল লতিফ মাসুম, শওকত মাহমুদ, আবদুল হাই শিকদার, ড. দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন, ড. মাহফুজ পারভেজ, সৈয়দ আবদাল আহমদ, ড. ফজলুল হক সৈকত, কাজী মোহাম্মদ মাহাবুবুর রহমান, মাহাবুবুর রহমান। বইটি প্রকাশ করে বুক এভিনিউ। দাম রাখা হয়েছে ২ হাজার টাকা। ৮৬০ পৃষ্ঠার বইটিতে খালেদা জিয়ার ১০ বছরের শাসনামলে শিক্ষার প্রসার, ভিশন-২০৩০, ১/১১ সরকারের সময়ের বিভিন্ন বক্তব্য, বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে তার সাক্ষাতের ছবি তুলে ধরা হয়েছে।
বইয়ের লেখক আব্দুল হাই শিকদার বলেন, আজকের প্রকাশনা উৎসব প্রতিবাদ সমাবেশে পরিণত হয়েছে। এই বইয়ের নাম খালেদা জিয়া নিজে পছন্দ করে দিয়েছেন। আমরা বেশক’টি নাম নিয়ে তার কাছে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে তিনি এই নামটি পছন্দ করেন।
শত নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. এমাজউদ্দীন আহমদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দীন খোকন, খায়রুল কবির খোকন প্রমুখ।

পোশাক শ্রমিকদের বেতন বাড়েনি প্রকৃতপক্ষে কমেছে -টিআইবি’র প্রতিবেদন

তৈরি পোশাক খাতে ২০১৮ সালের নতুন কাঠামোয় মজুরি বাড়েনি, প্রকৃতপক্ষে ২৬ শতাংশ কমেছে বলে দাবি করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলেছে পোশাক শিল্প মালিক পক্ষের মজুরি বৃদ্ধির দাবির মধ্যে শুভঙ্করের ফাঁকি রয়েছে। রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে টিআইবি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করা হয়। ‘তৈরি পোশাক খাতে সুশাসন: অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ২০১৩ সালে মজুরি কাঠামো অনুযায়ী প্রতিবছর পাঁচ শতাংশ হারে মজুরি বাড়ানোর নিয়ম রয়েছে। এ হিসেবে মজুরি বাড়েনি, সার্বিকভাবে ২৬ শতাংশ কমেছে। যদিও মালিক পক্ষের দাবি ২০১৮ সালের বেতন কাঠামোতে ২৩ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধি করা হয়েছে। কিন্তু তা নামেমাত্র প্রকৃত অর্থে নয়।
টিআইবি তাদের গবেষণা পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানায়, ২০১৩ সালের ঘোষিত মজুরি অনুযায়ী প্রথম গ্রেডে মজুরি ছিল ৮ হাজার ৫০০ টাকা। চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি ঘোষিত প্রথম গ্রেডে নতুন মজুরি করা হয়েছে ১০ হাজার ৯৩৮ টাকা।
কিন্তু প্রতিবছর ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্টসহ ২০১৩ সালের বেতন কাঠামো অনুসারে ২০১৮ সালেই এ গ্রেডে মজুরি হওয়ার কথা ছিল ১৩ হাজার ৩৪৩ টাকা। সেই হিসেবে এ মজুরি ২৮ শতাংশ তথা ২ হাজার ৪০৫ টাকা কমেছে। একইভাবে প্রতিটি গ্রেডে নতুন কাঠামোতে ২৫ থেকে ৩৬ শতাংশ পর্যন্ত মজুরি কমেছে। যা গড়ে ২৬ শতাংশ মজুরি কমেছে।
এছাড়া জিডিপির হারে তুলনাযোগ্য দেশের মধ্যে বাংলাদেশে মজুরি সব থেকে কম। বাংলাদেশে নূন্যতম মজুরি ১০১ ডলার। অথচ পার্শ্ববর্তী দেশ কম্বোডিয়ায় ১৯৭ ডলার, ভারতে ১৬০ ডলার, ভিয়েতনামে ১৩৬ ডলার, ফিলিপাইনে ১৭০ ডলার। কম্বোডিয়ার সঙ্গে তুলনা করলে বাংলাদেশে নূন্যতম মজুরি হওয়ার কথা ২০২ ডলার। এছাড়া অসঙ্গত মজুরি বৃদ্ধির কারণে সংগঠিত শ্রমিক আন্দোলনে যুক্ত ৫ হাজার শ্রমিকের বিরুদ্ধে ৩৫ টি মামলা করা হয়েছে। আরো নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে তাদের। এছাড়া এ আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ১৬৮টি কারখানায় প্রায় ১০ হাজার শ্রমিককে চাকুরিচ্যুত, ৪০ বছরের ঊর্ধের শ্রমিকদের চাকুরিচ্যুত ও জোর করে ইস্তফাপত্রে সাক্ষর নেয়া হয়। এসব কারাখানায় আবার চাকুরিচ্যুতের ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে কাজ করানো হচ্ছে।
অন্যদিকে টিআইবি তাদের গবেষণায় বলেছে, গবেষণার আওতাযুক্ত বেশির ভাগ কারখানায় মজুরি বৃদ্ধির জন্য উৎপাদন টার্গেট ৩০ থেকে ৩৬ ভাগ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এসব কারখানায় টার্গেট পূরণ করতে গিয়ে শ্রমিকরা তাদের কাজ ও টয়লেটে পর্যন্ত যেতে পারছে না। অনেক কারখানায় আবার টার্গেট পূরণ করতে মজুরিবিহীন অতিরিক্ত সময় কাজ করিয়ে নেয়। এছাড়া শ্রমিকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ, গালমন্দ করার অভিযোগ তো রয়েছেই।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে মার্তৃত্বকালীন ছুটি ৬ মাস কার্যকর হলেও শ্রম আইনে সেটি ১৬ সপ্তাহ রয়ে গেছে। যদিও প্রসবকালীন সময়ের ৮ সপ্তাহ আগে ছুটি সুবিধা কার্যকর হতে শুরু করেছে। এরপরেও অনেক কারখানার বিরুদ্ধে মাতৃত্বকালীন সময়ে শ্রমিকদের চাকুরিচ্যুত করার অভিযোগ রয়ে গেছে। এর বাইরে অধিকাংশ শ্রমিক তার প্রাপ্য ছুটি সম্পর্কে জানে না। কারখানাগুলোও তাদের প্রাপ্য ছুটি সম্পর্কে জানায় না এবং ছুটি প্রদান করে না। এদিকে পোশাক খাতের সব থেকে বড় ট্রাজেডি রানা প্লাজা ধ্বসের (২৪শে এপ্রিল) ঘটনার বার্ষিকী সামনে রেখে প্রতিবছরের ন্যায় করা এ গবেষণা প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত সব শ্রমিককে ন্যায্য পাওনা ও পুনর্বাসন করা হয়নি। এখনও রানা প্লাজার ৫১ শতাংশ শ্রমিক বেকার রয়েছে। শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণও যথাযথভাবে দেয়া হয়নি। রানা প্লাজার মালিক ও কারখানা মালিকদের বিরুদ্ধে ফোজদারি ও শ্রমিক আদালতে একাধিক মামলা দায়ের করা হলেও কার্যকর কোনো অগ্রগতি হয়নি। রানা প্লাজার মামলা দ্রুত বিচার আইনে নিষ্পত্তি করে দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিতের কথা বলা হয়। এছাড়া তাজরিন ফ্যাশনের মালিকের বিরুদ্ধে মামলার ২০১৫ সালে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হলেও এ পর্যন্ত ১০৪ জন সাক্ষীর মধ্যে মাত্র ৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। একইভাবে স্পেকট্রাম ফ্যাশন মালিকের বিরুদ্ধে ২০০৫ সালে মামলা করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষমান রাখা হয়। মামলার অগ্রগতি না হলে মালিকপক্ষ মনে করবে, আইন অমান্য করে পার পাওয়া যায়।
এছাড়া কারখানাগুলোয় অগ্নি নির্বাপন বিধিমালা, ২০১৪ মালিকপক্ষের চাপে বিধিমালা অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রতা, অগ্নি নিরাপত্তা নিশ্চিতে ঝুঁকি অব্যাহত, মাসুল হালনাগাদ না হওয়াতে সরকার বিপুল রাজস্ব হারিয়েছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাজউকভুক্ত অঞ্চলে রাজউকের এখতিয়ারকে পাশ কাটিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের ভবন নকশা অনুমোদনের অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে রাজউক নিজেরা এ ধরনের নকশা তদারকি ও ভবন পরিদর্শন করছে না।
তিনি আরে বলেন, ট্রেড ইউনিয়নের ক্ষেত্রে আইনি ও প্রায়োগিক দুর্বলতা রয়েছে। মাত্র ৩ শতাংশ কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন গঠিত হয়েছে। যার অধিকাংশ আবার মালিকদের দ্বারা প্রভাবিত। নের্তৃত্বের কোন্দল ও রাজনৈতিক আশ্রয়ও রয়েছে। টিআইবি তাদের গবেষণায় পোশাক খাতের আরো নানা অসঙ্গতি ও অগ্রগতি উপস্থাপনের পাশাপাশি ১২ দফা সুপারিশ তুলে ধরে। গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রণয়ন করেন সংস্থার সহকারি প্রোগ্রাম ম্যানেজার (রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি) নাজমুল হুদা মিনা ও ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার (রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি) মো. মোস্তফা কামাল।

কচুরিপানা ফুল by হাসান মাহমুদ

সড়কের পাশে বিস্তৃত সবুজের মধ্যে ফুটে আছে রাশি রাশি কচুরিপানা ফুল। এই ফুল দেখতে প্রতিদিন সেখানে ছুটে আসছেন সৌন্দর্যপ্রেমীরা। তুলছেন সেলফি। পাবনার জালারপুরের নতুনপাড়া এলাকার কচুরিপানা ফুলের ছবিগুলো ছবি।
বিস্তৃত সবুজের মধ্যে ফুটে আছে রাশি রাশি কচুরিপানা ফুল। আর এই ফুল দেখতে প্রতিদিন সেখানে ছুটে আসছেন সৌন্দর্যপ্রেমীরা।
ছবিগুলো ১৫ এপ্রিল ২০১৯ @প্রথম আলো
বিস্তৃত সবুজের মধ্যে ফুটে আছে রাশি রাশি কচুরিপানা ফুল। আর এই ফুল দেখতে প্রতিদিন সেখানে ছুটে আসছেন সৌন্দর্যপ্রেমীরা।সবুজের মধ্যে ফুটে আছে কচুরিপানা ফুল।সড়কের পাশে বিস্তৃত সবুজের মধ্যে ফুটে আছে রাশি রাশি কচুরিপানা ফুল।সারি সারি কচুরিপানা ফুল দেখতে আসেন অনেকেই।বিশাল এলাকাজুড়ে ফুটে আছে ফুল। প্রতিদিন ছুটে আসছেন সৌন্দর্যপ্রেমীরা।অনেকেই আসেন ছবি তুলতে।ছোটরা কচুরিপানা ফুল সংগ্রহ করে খেলার জন্য।ঘুরতে এসে তুলেছেন সেলফি।

ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি না করতে রিট

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। বুধবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট দায়ের করেন।
রিটে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি), দেশের সব জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) রেসপনডেন্ট করা হয়েছে বলে বাসসকে জানান আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। কাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রিট আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সৈয়দ সায়েদুল হক বলেন, রোগের চাহিদা ছাড়াও ফার্মেসিগুলোতে রোগীকে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। শরীরে অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের একপর্যায়ে এসব রোগীর শরীরে আর অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না। সম্প্রতি অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের কারণে মানুষ মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। জাতীয় একটি দৈনিকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ কারণে রিট করা হয়েছে।
সৈয়দ সায়েদুল হক বলেন, প্রেসক্রিপশন ছাড়া ফার্মেসিতে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রির নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু অনেকেই অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ সেবন করেন চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই। তিনি বলেন, ২০১৬ সালে প্রকাশিত আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুপারবাগ দিন দিন এতটাই ভয়াবহ হয়ে উঠছে যে ২০৫০ সালের মধ্যে প্রতিবছর ১ কোটি মানুষের মৃত্যুর কারণ হতে পারে এটি।

‘ভাড়ায়’ চরিত্র হনন করে ওরা

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন জনের কুৎসা রটানো তাদের কাজ। অচেনা, অজানা ব্যক্তির বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে যেকোনো ধরনের অপপ্রচার করে চক্রটি। ফেসবুকে নামে-বেনামে একাধিক পেইজ, গ্রুপ রয়েছে তাদের। কুৎসা রটাতে, ভুয়া সংবাদ ভাইরাল করতে ব্যবহার করা হয় এসব। এই চক্রের দুই জনকে গ্রেপ্তারের পর চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে সিটিটিসি’র সাইবার ক্রাইম ডিভিশন। এমনকি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিও দিয়েছে গ্রেপ্তারকৃতরা।
রাজধানীর রামপুরা এলাকার শাম্মি আক্তার সীমা নামের এক নারীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্তে নামে সিটিটিসি’র সাইবার ক্রাইম ইউনিট। তদন্তে পাওয়া যায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ইউটিউব ও বিভিন্ন  অপরিচিত পোর্টালে ওই নারীকে নিয়ে ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচার করেছে চক্রটি।
গ্রেপ্তারের পর তারা জানায়, অর্থের বিনিময়ে ওই নারীকে ইয়াবা ব্যবসায়ী ও দেহব্যবসায়ী সাজিয়ে অপপ্রচার করছিলো তারা। এতে আরও বেশ কয়েক জনের সম্পৃক্ততার বিষয়ে মুখ খুলেছে। যদিও বাস্তবে ওই নারী সম্পর্কে তেমন কিছুই জানতো না তারা। গ্রেপ্তারকৃতরা জানায়, শুধু শাম্মি না, এরকম আরও অনেক মানুষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় এভাবেই অপপ্রচার করেছে তারা। খিলগাঁও এলাকায় রয়েছে তাদের এ সংক্রান্ত অফিস। নিজেদের অনলাইন এক্টিভিস্ট, ইউটিউবার, সাংবাদিকসহ নানা পরিচয়ে পরিচয় দেয় তারা।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, রাজনৈতিক নেতা-নেত্রী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণির ব্যক্তিরা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতো। অনেক সময় সরাসরি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়, আবার অনেক সময় বিভিন্ন মাধ্যম হয়ে তাদের এই ধরণের অপকর্ম করার দায়িত্ব দেয়া হয়। ব্যক্তির আর্থিক অবস্থা ও কাজের ধরণ বুঝেই টাকা আদায় করা হতো। কখনও কখনও ভিত্তিহীন সংবাদ, ভিডিও তৈরি করে তা বুস্ট করে লাখ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়। এই চক্রের অপকর্মের শিকার শাম্মি আক্তার সীমা। গত বছরের ঘটনা।
তিনি জানান, হঠাৎ করেই বিভিন্নস্থান থেকে আত্মীয়-স্বজন, পরিচিত জনরা তাকে ফোন করে জানান সংবাদটি। শোনার পর তিনি যেন আকাশ থেকে পড়েন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গিয়ে দেখেন তার ছবি দিয়ে ভিত্তিহীন সংবাদ ভাইরাল হয়ে গেছে। তারপর দীর্ঘদিন তিনি বাসার বাইরে বের হননি। তার স্কুল পড়ুয়া দুই মেয়েও গৃহবন্দি ছিলো। লজ্জ্বায় বের হতো না তারা। বাইরে বের হলে, কারও সঙ্গে দেখা হলেই নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হতো। তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে সংরক্ষিত ওয়ার্ডে কাউন্সিলর হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কারণেই একটি পক্ষ তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে। তার ধারণা ওই পক্ষই অর্থের বিনিময়ে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে নামে। একের পর এক ফেসবুকে, ইউটিউবে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলছিলো।
ফেসুবুকের মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছিলো, তিনি মাদক ও অনৈতিক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এমনকি তাকে পুরুষ শিকারী নারী হিসেবে প্রচার করা হয়। বাধ্য হয়েই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নেন তিনি। থানায় সাধারণ ডায়রি করেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছিলো না। গত বছরের শেষ দিকে এ বিষয়ে একটি মামলা করেন তিনি। ওই মামলার তদন্তে নামে সিটিটিসি’র সাইবার ক্রাইম ডিভিশন। তারপরই গ্রেপ্তার করা হয় দু’জনকে। গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছে, খিলগাঁওয়ের ৪১৬/বি উত্তর গোড়ানের আব্দুল হামিদের পুত্র জাভেদ শোয়েব। তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের মকিমাবাদে। গ্রেপ্তার অপর জন হচ্ছে, সিলেট সদরের শাহপরাণ থানার নবারুন আবাসিক এলাকার বাসিন্দা মৃত আব্দুল খালিকের পুত্র সলিম আহমেদ সলু। দুজনেই থাকতো ঢাকার খিলগাঁও এলাকায়।
গ্রেপ্তারের পর গত বছরের ২৬শে সেপ্টেম্বর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় জাভেদ শোয়েব। পরবর্তীতে তার দেয়ার তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয় সলিম আহমেদ সলুকে।
গত ১১ই এপ্রিল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় সলু। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আব্দুল্লাহ আল মাসুদ জানান, ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে সলু স্বীকার করেছে মানহানিকর পোস্টগুলো সে ফেসবুক পেইজ থেকে প্রচার করেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এটি একটি সিন্ডিকেট। যারা অর্থের বিনিময়ে এসব অপকর্ম করে। নামে বেনামে বিভিন্ন ফেসবুক পেইজ, গ্রুপ ও অনলাইনপোর্টাল রয়েছে তাদের। পেইজ ও গ্রুপগুলোতে লাখ-লাখ সদস্য রয়েছে। অর্ধকোটি সসদ্যের একটি গ্রুপ রয়েছে এই চক্রের। এসব গ্রুপে, ফেসবুকে পোস্ট করার পর অল্প সময়েই তা ভাইরাল হয়ে যায়।
এসব বিষয়ে সিটিটিসি’র সাইবার ক্রাইম ডিভিশনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নাজমুল ইসলাম বলেন, চক্রটি ফেইসবুক আইডি ও ফেইক ইউটিউব কন্টেন্ট বানিয়ে শাম্মি আক্তার সীমার নামে মিথ্যাচার করেছে। এ ঘটনায় দুই জন মিথ্যা প্রোপাগান্ডাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিও দিয়েছে। এটি একটি চক্র। যারা অর্থের বিনিময়ে ভিত্তিহীন প্রচার করে অন্যের মানহানি করে। এতে জড়িত অন্যান্যদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানান তিনি।

ওরাও পারে

অটিজম শিশুদের নিয়ে হতাশা নয়, বরং তাদের স্বাভাবিক জীবন যাপন করার সুযোগ দিতে হবে। তাদের সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করার সুযোগ করে দিতে হবে পরিবার থেকে শুরু করে সমাজের। নিজেদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পেলে সমাজের বোঝা হয়ে থাকবে না, দেশের সকল উন্নয়নমূলক কাজে অংশ নিতে পারবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় ‘আর্ট ফর অটিজম’ বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। অটিজম নিয়ে জন্মগ্রহণ করা শিশুদের স্বাভাবিক মিথস্ক্রিয়া ও এ বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আর্ট ক্যাম্পের আয়োজন করেছে চাইল্ড ফাউন্ডেশন। আর এতে সহযোগী হিসেবে ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ। দুইদিন ব্যাপী এ আর্টক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন। আর্টক্যাম্পের উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পী হাশেম খান ও রফিকুন নবী।
উদ্বোধনী দিনে বিশেষায়িত ১৪টি স্কুল ও সংগঠনের মোট ৮৩ জন শিশু-কিশোর এই ক্যাম্পে অংশ নেয়। শিশু-কিশোর আঁকিয়েদের সঙ্গে ৪৯ জন শিল্পী ছবি আঁকায় অংশ নেন।
আজ আর্টক্যাম্পের চিত্রকর্মগুলো নিয়ে একটি প্রদর্শনী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক নিসার হোসেন বলেন, অটিজম নিয়ে জন্মগ্রহণ করা শিশুরা অধিকাংশ সময় স্বাভাবিক জীবন যাপন করার সুযোগ পায় না। তাদের সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করার সুযোগ পায় না। তারা তাদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশের সুযোগ পেলে সমাজের বোঝা হযে থাকবে না, দেশের সকল উন্নয়নমূলক কাজে অংশ নিতে পারবে। আর সেজন্য এ শিশুদের অভিভাবককে সচেতন হতে হবে। শিল্পী হাশেম খান বলেন, আমি ‘অটিজম’ শব্দটি ব্যবহার করার পক্ষপাতি নই। আমি মনে করি, একটি শিশু যেভাবে আছে, সেটাই স্বাভাবিকতা। প্রত্যেকটা মানুষ এক রকম চেহারার হয় না। কেউ অভিনেতা বা অভিনেত্রী হয়ে জন্মায় না। মা-বাবাদের এ বিষয়গুলো বুঝতে হবে।
অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শিশুর কোথায় দুর্বলতা তা দেখতে হবে। সেই দুর্বলতা দূর করার জন্য আনন্দের মাধ্যমে শিখিয়ে তাকে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে হবে। কেবল স্পেশাল চাইল্ড নয়, স্বাভাবিক শিশুদের ক্ষেত্রেও একই আচরণ করতে হবে। তিনি বলেন, একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত শিশুদের ছবি আঁকার ক্ষেত্রে কোনো কিছু বলে দেবেন না, কোনো শিক্ষক রাখবেন না। শিক্ষকরা আরও ক্ষতি করবে। চারুকলার ছাত্র বা শিক্ষক যেই স্কুল করুক না কেন, তাতে যদি শিশুদের ঠিকমত মনস্তাত্ত্বিক পরিচর্যা না করতে পারে, তাহলে শেখানোর প্রয়োজন নেই। বেশিরভাগ জায়গায় আমি দেখেছি কোনো পুরস্কার পাওয়া ছবি শিশুদের সামনে টানিয়ে দিয়ে ওই রকম করে আঁকতে বলা হয়। এটা অন্যায়। নাচ, গান আর ছবি আঁকা এক জিনিস নয়। শিল্পী রফিকুন নবী বলেন, যখন এসব শিশুরা ছঁবি আঁকবে, তখন তাদের চিন্তার জগৎ খুলে যাবে। তারা চিন্তাশীল হবে যে তারা কী আঁকছে। এজন্য তাদের আঁকার ক্ষেত্রে স্বাধীনতা দিতে হবে। তিনি বলেন, সংস্কৃতির চর্চা মানুষকে তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে পথ প্রদর্শকের ভূমিকা রাখে। তাই শিশুদের এসবের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। সংস্কৃতির চর্চার মাধ্যমে যেন শিশুরা নিজেদের ভবিষ্যৎকে রাঙাতে পারে। সে জন্য আমাদের অভিভাবকদের কাজ করতে হবে।

সবুজ ট্রেনে চড়ে রাশিয়ায় উন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে প্রথম দফা বৈঠকে অংশ নিতে রাশিয়ায় পৌঁছেছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন। ওয়াশিংটনের সঙ্গে বিরোধ নিষ্পত্তিতে আন্তর্জাতিক সহায়তা চাইতে আজ বুধবার দেশটিতে পৌঁছান তিনি।
বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক অচলাবস্থা বিবেচনায় দেশ দুটির মধ্যে মিল রয়েছে। পিয়ংইয়ং তাই তার দীর্ঘদিনের মিত্র মস্কোর সঙ্গে পুরোনো সম্পর্ক ঝালাই করতে চাইছে। বৃহস্পতিবার ভ্লাদিভস্তোকের প্রশান্ত মহাসাগরীয় শহরে মুখোমুখি হবেন রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার দুই নেতা। গত ফেব্রুয়ারিতে ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর এই প্রথম কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন কিম।
এর আগে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) জানায়, ট্রেনে করে রাশিয়ার পথে রওনা হয়েছেন কিম। ভিয়েতনাম বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রি ইয়ং হো সাংবাদিকদের জানান, যাহোক না কেন, দেশটির আগের অবস্থান ‘কখনোই পাল্টাবে না’।
কিমের ব্যক্তিগত সাঁজোয়া ট্রেন আজ বুধবার রাশিয়ার সীমান্তবর্তী শহর খাসানে পৌঁছায়। রাশিয়ার বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, রাশিয়ার ঐতিহ্য অনুযায়ী রুটি ও লবণ দিয়ে কিমকে বরণ করে নেওয়া হয়েছে। ভ্লাদিভস্তোকের রাস্কি আইল্যান্ডে এরই মধ্যে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার পতাকা পাশাপাশি উড়ছে। এখানকার এক বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনটি।
গত বছর কিমের কূটনৈতিক প্রস্তাবের পর থেকে বারবার তাঁকে দেশে আসার আমন্ত্রণ জানাচ্ছিলেন পুতিন। ফলে শুরু হতে যাচ্ছে এই বৈঠক। ২০১৮ সালের মার্চ মাস থেকে উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ এই নেতা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে চারটি, দক্ষিণ কোরিয়ার নেতা মুন জে-ইনের সঙ্গে তিনটি, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দুটি ও ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একটি আলোচনায় অংশ নেন কিম।
বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে বিরোধ নিষ্পত্তিতে আন্তর্জাতিক সহায়তা চাইছেন কিম। একই সঙ্গে পশ্চিমা কূটনীতিকদের দাবি, একসময় মস্কোর যে প্রতাপ ছিল, বর্তমান বিশ্বে তাদের নানা ভূমিকায় তারই প্রতিফলন খুঁজে পাওয়া যায়।
হ্যানয়ের সম্মেলনে নগদ অর্থের সংকটে থাকা উত্তর কোরিয়া তাৎক্ষণিকভাবে অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবি জানায়। পারমাণবিক অস্ত্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর অবরোধ দিয়ে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে অবরোধ তুলে নেওয়ার বিনিময়ে পিয়ংইয়ং তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম বন্ধ রাখতে অস্বীকৃতি জানালে কোনো সর্বসম্মত চুক্তি ছাড়াই ভেস্তে যায় সেই বৈঠক।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি এই অবরোধ শিথিল করার আহ্বান জানিয়েছে মস্কোও। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি পারমাণবিক কর্মসূচিতে পিয়ংইয়ংকে নানাভাবে সাহায্য করার চেষ্টা করছে রাশিয়া। অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে ক্রেমলিন।
ক্রেমলিনের বৈদেশিক নীতি সহায়ক ইউরি উশাকোভ গত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানিয়ে দিয়েছেন যে আলোচনার প্রধান বিষয়বস্তু হবে কোরীয় উপদ্বীপে পারমাণবিক সমস্যার রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক সমাধান। তিনি আরও জানান, কোনো যৌথ চুক্তি বা বিবৃতিতে স্বাক্ষর করার পরিকল্পনা তাঁদের নেই।