Monday, January 14, 2019

রাহাফের মতো পালিয়েছিলেন আরেক সৌদি তরুণী

বাড়ি থেকে পালিয়ে কানাডায় সদ্য আশ্রয় পাওয়া রাহাফ মোহাম্মদ আল-কুনের গল্প এখন মানুষের মুখে মুখে। তবে পরিবারের অতিমাত্রায় শাসন থেকে বেরিয়ে দম ফেলার জন্য কোনো সৌদি তরুণীর এটাই প্রথম পলায়ন নয়। আট মাস আগে সালওয়া নামের আরেক সৌদি নারী বাড়ি থেকে পালিয়েছিলেন। তবে তিনি একা পালাননি। সঙ্গে নিয়েছিলেন ছোট বোনকে। দুই বোন এখন বাস করছেন কানাডার মনট্রিয়লে। আজ রোববার বিবিসি অনলাইনের খবরে প্রকাশ করা হয়েছে বাড়ি পালানো সালওয়ার গল্প।
বাড়ি থেকে পালানো ১৮ বছর বয়সী সৌদি তরুণী রাহাফ গতকাল শনিবার কানাডায় পৌঁছেছেন। পরিবারের বিরুদ্ধে অতিশাসনের অভিযোগ এনে বাড়ি থেকে পালিয়ে ব্যাংকক গিয়ে বিমানবন্দরে আটকে পড়েন। তাঁর পরিবারের সদস্যরা কুয়েতে ছিলেন। তিনি কুয়েত থেকে ব্যাংকক হয়ে অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে ব্যাংকক থেকে তাঁকে কুয়েতে ফেরত পাঠানোর জন্য বিমানবন্দরের ভেতরে অবস্থিত হোটেলে রাখলে সেখানে তিনি নিজেকে তালাবদ্ধ করে রাখেন। রাহাফ কুয়েতে ফিরতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, তিনি ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করেছেন। পরিবারে ফিরলে তাঁকে মেরে ফেলা হবে। তিনি টুইটারে এ নিয়ে একের পর এক পোস্ট দিলে তা আন্তর্জাতিক মহলের নজরে পড়ে।
সালওয়ার গল্পটিও প্রায় একই রকম। তবে তাঁর বিষয়টি টুইটারে প্রচার না করায় সে সম্পর্কে লোকজন কমই জানেন। রাহাফের ঘটনাটি সামনে নিয়ে এসেছে সালওয়ার ঘটনাটিকেও। সেই সঙ্গে উঠে এসেছে সৌদি আরবের পরিবারগুলোতে নারীর প্রতি অতিরক্ষণশীলতার বিষয়টি।
সালওয়া জানান, তিনি ও তাঁর ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন ছয় বছর ধরে বাড়ি থেকে পালানোর পরিকল্পনা করেন। কিন্তু এর জন্য তাঁদের প্রয়োজন ছিল পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্র। আর প্রয়োজনীয় এ দুটি জিনিস হাতে পেতে হলে তাঁদের অভিভাবকের সম্মতি লাগবে। সৌদি আরবের নিয়ম অনুসারে, এ ধরনের বিষয়ে পরিবারের পুরুষ সদস্যদের অনুমতি থাকতে হয়। সালওয়া জানান, ভাগ্যক্রমে এ দুটি তাঁর ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন বলে তাঁর পরিবার জাতীয় পরিচয়পত্র নেওয়ার অনুমতি দিয়েছিল। এ ছাড়া দুই বছর আগে ইংরেজি ভাষার একটি পরীক্ষার জন্য তাঁকে পাসপোর্ট করতে হয়েছিল। কিন্তু জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট থাকলেও সেগুলো তাঁর হাতে ছিল না। পরিবারের কাছে ছিল। এগুলো নিজের হাতে আনার প্রয়োজন ছিল তাঁর।

এগুলো হাতে পেতে ভাইয়ের বাসার চাবি চুরি করেন সালওয়া। পরে সেই চাবি থেকে একটি হুবহু চাবি বানিয়ে নেন। পরিবারের লোকজনের সম্মতি ছাড়া তিনি কোথাও বের হতে পারতেন না। তাই তাঁরা ঘুমিয়ে গেলে বাইরে বের হতেন। ব্যাপারটি খুবই বিপজ্জনক ছিল। ধরা পড়লেই তাঁকে মার খেতে হবে। সালওয়া জানান, চাবি বানানোর পর তিনি নিজের এবং ছোট বোনের পাসপোর্ট নিজের কাছে নিয়ে আসেন। বাবা ঘুমিয়ে থাকার সময় বাবার ফোনও নিয়ে নেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাবার অ্যাকাউন্টে তিনি লগড ইন করে প্রবেশ করেন এবং তাঁর নিবন্ধিত নম্বরটি নিজের নম্বরে পরিবর্তন করে নেন। বাবার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে তিনি দুই বোনের দেশ ছাড়ার ব্যাপারে বাবার সম্মতি দেওয়ার কথা জানান।
দুই বোন এক রাতে বাড়ি থেকে পালান এবং বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে জার্মানির উদ্দেশে রওনা দেন। ওই দিনের কথা মনে হলে এখনো তাঁর দম বন্ধ হয়ে আসে বলে জানালেন সালওয়া। বাড়ির সবাই ঘুমাচ্ছিলেন, ওই সময় তাঁরা চুপিচুপি বেরিয়ে আসেন। প্রতি মুহূর্তে ধরা পড়ার ভয়ে বুকের ভেতরে ঢিপঢিপ করছিল। তাঁরা একটি ট্যাক্সি ভাড়া করেন। সৌদি আরবের বেশির ভাগ ট্যাক্সিচালক বিদেশি হওয়ায় তাঁদের একা চলার বিষয়টি নিয়ে চালক মাথা ঘামাননি। তাঁর মনে হচ্ছিল, কেউ যদি এটা খেয়াল করত যে তাঁরা দুই বোন বাসা থেকে পালিয়েছেন, তাহলে নির্ঘাত খুন হতেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষে সালওয়া একটি হাসপাতালে চাকরি করেছিলেন। বেতনের অর্থ জমিয়ে রেখেছিলেন। এ ছাড়া বেকার ভাতা থেকেও যা পেতেন, জমিয়ে রেখেছিলেন। ফলে উড়োজাহাজের টিকিট কিনতে কোনো অসুবিধা হয়নি। সালওয়া বলেন, তিনি ও তাঁর বোন জার্মানি যাওয়ার ফ্লাইটে চড়ে বসেন। জীবনে প্রথম তিনি উড়োজাহাজে চড়েছিলেন। তাঁর একই সঙ্গে আনন্দ হচ্ছিল, আবার ভয়ও লাগছিল। পরে বাবা তাঁদের বাড়িতে দেখতে না পেয়ে পুলিশে খবর দিয়েছিলেন। তবে ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাবার অ্যাকাউন্টে ঢুকে ফোন নম্বর পাল্টে দেওয়ার কারণে কর্তৃপক্ষ তাঁর বাবাকে ফোন করার চেষ্টা করেও পায়না। কারণ, ফোন চলে আসছিল তাঁর নম্বরে। উড়োজাহাজ থেকে নামার পর তিনি নিজের ফোনে কর্তৃপক্ষের বার্তা পান। আসলে তো সেই বার্তাগুলো পাঠানো হয়েছিল তাঁর বাবাকে। ফোন নম্বর বদলে দেওয়ায় সেসব বার্তা চলে আসে তাঁর কাছে।
সালওয়া বলেন, সৌদি আরবে কোনো জীবন ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতেন আর ঘরে ফিরে আসতেন। সারা দিন তাঁর কিছুই করার ছিল না। বাসা থেকে সব সময় বলা হতো পুরুষেরাই সব। জার্মানিতে পৌঁছে তিনি আশ্রয় চেয়ে আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং নিজের ঘটনা খুলে বলেন। তিনি বলেন, ‘আশ্রয়ের জন্য আমি কানাডাকে বেছে নিই। কারণ মানবাধিকারের জন্য কানাডার খ্যাতি আছে। সিরিয়ার শরণার্থীদের কানাডার আশ্রয় পাওয়ার খবর পড়ে মনে হয়েছিল, কানাডাই হতে পারে আমার জন্য সবচেয়ে ভালো জায়গা। আমার আবেদন মঞ্জুর হওয়ার পর টরন্টোতে চলে আসি। কোনো কিছু অর্জনের এক অদ্ভুত অনুভূতি কাজ করছিল আমার।’
ছোট বোনকে নিয়ে এখন মনট্রিয়লে থাকেন সালওয়া। তিনি বলেন, এখানে কোনো দুশ্চিন্তা নেই। কেউ তাঁকে কিছু করার জন্য বাধ্য করে না। সৌদি আরবে তাঁদের অর্থ ছিল বেশি, কিন্তু এরপরও কানাডার জীবন তাঁর কাছে আগের চেয়ে অনেক ভালো লাগে। ফরাসি ভাষা শিখছেন। সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা ও আইস স্কেটিং শিখছেন। পরিবারের সঙ্গে তাঁদের কোনো যোগাযোগ নেই। দুই পক্ষের জন্যই এটা ভালো বলে মনে করেন তিনি।
সালওয়া বলেন, ‘এখন বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় আমার কারও অনুমতি নিতে হয় না। এটা আমাকে খু্ব আনন্দ দেয়। নিজেকে মুক্ত মনে হয়। আমার যা ইচ্ছে হয়, তা-ই পরি। শরতের রং এবং তুষারপাত ভালোবাসি। মনে হয়, জীবনে কিছু একটা করছি।’

আরব বসন্ত কী দিল তিউনিসিয়ার তরুণদের?

এমনই এক জানুয়ারিতে তিউনিসিয়ায় বইতে শুরু করে আরব বসন্তের বাতাস। যদিও শুরুটা হয়েছিল ২০১০ সালের ১৭ ডিসেম্বর। ওই দিন নিজের গায়ে আগুন জ্বেলে আরব বসন্তের আবহ তৈরি করেছিলেন তিউনিসিয়ার সবজিবিক্রেতা বাওয়াজিজি। তাঁর আত্মাহুতি ছিল ঘুষ, দুর্নীতি আর বেকারত্বের প্রতিবাদে। পরে মিসর, লিবিয়া, ইয়েমেন, বাহরাইন ও সিরিয়ায় দোলা দিয়ে সেই বাতাস মিলিয়েও যায়। এসবের পেরিয়ে গেছে আটটি বছরও। এত দিন পর এসে যে প্রশ্নটি বড় হয়ে দেখা দিল, তা হলো—এই আরব বসন্ত তিউনিসিয়ার তরুণদের কী দিল?
এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিউনিসিয়ার তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আরব বসন্তের ফল নিয়ে আছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সবাই মানছেন, ওই বিপ্লবের কারণে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন একনায়ক জয়নাল আবেদিন বেন আলী। নতুন দিনের স্বপ্ন বুনেছিলেন ওই আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণেরা। এত দিন পর এসে বেশির ভাগই মনে করেন, তাঁদের সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। মানুষ হিসেবে তাঁদের মর্যাদা যেমন প্রতিষ্ঠিত হয়নি, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাও আসেনি।
রাজধানী তিউনিস থেকে পশ্চিমে অবস্থিত কর্মজীবী মানুষের বসতি দুয়ার হিচার। সেখানকার বাসিন্দা সোফিনি জেবেলি। বেকার এই কম্পিউটার কারিগর বলেন, ‘আরব বসন্তের পর আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, তবে এখনো মর্যাদা পাইনি।’ আরব বসন্তে অংশগ্রহণের জন্য অনুশোচনা বোধ করেন না তিনি। বরং বেন আলীর মতো শাসককে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারায় স্বস্তিবোধ করেন। ৩৫ বছর বয়সী এই যুবক বলেন, এ বছর প্রেসিডেন্ট ও আইনসভার নির্বাচন হওয়ার কথা আছে। পরিবর্তন আনতে হবে। প্রচলিত ব্যবস্থায় যদি পরিবর্তন না আসে, তাহলে কিছুই বদলাবে না।
জেবেলির কথার বেশির ভাগের সঙ্গে একমত পোষণ করলেন এনজিও ইন্টারন্যাশনাল অ্যালার্টের সমাজবিজ্ঞানী ওলফা লামলুম। তবে দেশটিতে আরব বসন্তের সেই বিপ্লব পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে, এটা মানতে নারাজ তিনি। সেই বিপ্লবের মূল কথা ছিল—‘কাজ, মর্যাদা আর স্বাধীনতা’। স্বাধীনতা অর্জিত হলেও বাকি দুটি এখনো অধরা রয়ে গেছে বলে মন্তব্য তাঁর।
দেশটির গণতান্ত্রিক পালাবদলের প্রশংসা হলেও সম্পদ ও অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ এখনো মুষ্টিমেয় ধনীর হাতে। তিউনিসিয়ায় মূল্যস্ফীতির হার সাড়ে ৭ শতাংশ। বেকারত্বের হার ১৫ শতাংশের বেশি। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য স্নাতক হওয়াদের জন্য চাকরির বাজার খুবই খারাপ। তবে আশার কথা হলো, তরুণেরা এখনো হাল ছাড়েননি। গত বছরের মে মাসে দেশটির মিউনিসিপ্যালের প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তাতে ৫৭ হাজারের বেশি প্রার্থী অংশ নেন। তাঁদের প্রায় অর্ধেক নারী ও তরুণ প্রজন্ম।
ওলফা লামলুম নির্বাচনে নারী ও তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণকে গণতন্ত্রের পথে যাত্রার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলে মন্তব্য করেন। তবে তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মের জীবনমানের উন্নয়নের জন্য কিছু করা হয়নি। সামাজিকভাবে তাদের অবস্থা আসলেই অনেক খারাপ। এই সমাজবিজ্ঞানীর মতে, বিপ্লবের একটি বড় অর্জন হলো—বিতর্কের একটি জায়গা তৈরি হয়েছে। যেকোনো বিষয় নিয়ে মানুষ এখন প্রশ্ন তুলতে পারে। যদিও রাজনীতিবিদেরা এটাকে ভালো কোনো কাজে লাগিয়ে জনগণের সমস্যার কোনো ধরনের সমাধান করেন না।
নাগরিকদের নিয়ন্ত্রণ করার ঘটনা এখনো অব্যাহত আছে। ২০১৫ সালে দেশটিতে বেশ কয়েকটি ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। তখন ৩৫ বছরের কম বয়সী বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষকে অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। সরকারের এমন আচরণকে অমানবিক বলে সমালোচনা করেন মানবাধিকার সংগঠনের কর্মীরা। এটা নিয়ে সে সময়ের বিপ্লবীদের যেমন আক্ষেপ আছে, আক্ষেপ আছে এ সময়কার তরুণদেরও।
হামজা ধিফালি নামে উচ্চমাধ্যমিকের এক ছাত্র বলেন, ‘আমরা পুরোপুরি নাগরিক হওয়ার জন্য বিপ্লব করেছিলাম। তবে আমরা শুধু মত প্রকাশের স্বাধীনতা পেয়েছি। আগে আমি মুক্তভাবে নিজের মত প্রকাশ করতে পারতাম না, এখন পারি। এটা ভালো। তবে কেউ আমাদের কথা শোনে না।’
আরব বসন্ত আন্দোলনের কর্মী ও বর্তমানে ৩১ বছরের যুবক ইসাম ইলাহি বলেন, নানা প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষ তরুণদের ঋণ দেওয়ার কথা বলেছিল। তবে সেটা কোনোভাবেই সহায়ক না। তাঁর ভাষায়, ‘ছোট হার্ডওয়্যারের দোকান দেওয়ার জন্য আমি ২ হাজার ৪০০ ডলার ঋণ নিয়েছিলাম। সুদের হার ২১ শতাংশ। এত চড়া সুদের ভার আমি সইতে পারছি না। আমাদের কোনো ভবিষ্যৎ নেই।’ আক্ষেপ নিয়ে বলেন, ‘আমরা এমন নৌকায় চড়েছি, যার নাবিক দেখছেন নৌকাটি ডুবে যাচ্ছে।’ তিনি নিজে এখন এই নৌকা থেকে নেমে যেতে চান। চান, দেশের বাইরে কোথাও নতুনভাবে জীবন শুরু করতে।
১৭ বছর বয়সী জেইনাব রানেন মনে করেন, সফলভাবে উচ্চমাধ্যমিক পাস করতে পারলে তিনি মর্যাদা অর্জন করতে পারবেন। শিক্ষার মাধ্যমেই কেবল এটা অর্জন করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। তাঁর ভাষায়, ‘এখানে যে সম্মান ও মর্যাদা আমি পাইনি, সেটা অর্জনের জন্য প্রয়োজনে আমি বিদেশ যেতে চাই।’ তাঁর এই কথা থেকেই স্পষ্ট, মানুষ হিসেবে সম্মান আর মর্যাদা পাওয়ার যে স্বপ্ন তিউনিসিয়ার তরুণেরা দেখেন, তা এখনো অধরা।

আলাদা চলার প্রস্তুতি শরিক দলগুলোর

  • • ২০০৪ সাল থেকে আ.লীগের নেতৃত্বে কাজ করছে ১৪-দলীয় জোট
  • • আন্দোলনের পাশাপাশি গত তিন নির্বাচনেও জোটবদ্ধ ছিল তারা
  • • আগের দুই মন্ত্রিসভায় থাকলেও এবার শরিকদের রাখা হয়নি
  • • শরিকদের বিরোধী দলের ভূমিকায় দেখতে চায় আ.লীগ
  • • শরিকেরা মনঃক্ষুণ্ন হয়ে ঘর গোছাতে শুরু করেছে
নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় জায়গা পাওয়ার আর কোনো সম্ভাবনা দেখছে না আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪–দলীয় জোটের শরিকেরা। সরকারের বাইরে থেকেই সংসদের ভেতরে ও বাইরে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে—সরকারের এ মনোভাব এখন অনেকটাই পরিষ্কার। এর ফলে এক দশক ধরে সরকারের সঙ্গে অন্য দলের মিলেমিশে থাকার ধারাবাহিকতায় একধরনের ছেদ পড়ছে। শরিক দলগুলোর সামনেও নিজেদের ঘর গোছানো ছাড়া বিকল্প কিছু নেই।
সরকারপ্রধানসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বক্তব্যে স্পষ্ট যে শরিক দলগুলোকে বিরোধী দল হিসেবে কার্যকর ভূমিকায় দেখতে চায় আওয়ামী লীগ। এর আরেকটি লক্ষ্য, বিএনপিকে চাপে রাখা। তবে সরকারের লক্ষ্য যা–ই হোক, শরিক দলগুলো নিজ নিজ ফোরামে সভা করে তাদের অবস্থান চূড়ান্ত করবে। ইতিমধ্যে ওয়ার্কার্স পার্টি পলিটব্যুরোর এবং জাসদ জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা ডেকেছে।
২০০৪ সাল থেকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে কাজ করছে ১৪–দলীয় জোট। আন্দোলনের পাশাপাশি গত তিনটি নির্বাচনেও জোটবদ্ধ ছিল তারা। তবে এর আগের দুই মন্ত্রিসভায় থাকলেও এবার তাদের রাখা হয়নি। পরবর্তী সময়ে মন্ত্রিসভায় যুক্ত হওয়ার আশা করা হলেও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের বক্তৃতা-বিবৃতিতে সেই সম্ভাবনা দেখছে না তারা। এমনকি ভবিষ্যৎ নির্বাচনেও জোট না থাকার আভাস পাচ্ছে শরিকেরা।
শরিক দলের দুজন নেতা প্রথম আলোকে জানান, একাদশ সংসদ নির্বাচনে আগের চেয়ে কম প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এ ছাড়া ওই সময় আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এবার শরিকদের দেওয়া হচ্ছে, ভবিষ্যতে সব নৌকার প্রার্থী করা হবে। আর গত শনিবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তো শরিকদের নিজের পায়ে দাঁড়ানোর কথা বলেই দিয়েছেন। নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী সরকারি দলের কথায় মনে হচ্ছে তাদের আর কাউকে প্রয়োজন নেই।
এ প্রসঙ্গে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা যাঁরা রাজনৈতিক দল করি, তাঁরা নিজের পায়ে দাঁড়িয়েই রাজনীতি করি। তাই প্রধানমন্ত্রী কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা ঠিক পরিষ্কার নয়।’ এখন উপজেলা নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় প্রস্তুতির দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন তাঁরা।
তবে শরিক দলের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোটকে গত ১০ বছরে অনেক দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে। বিএনপিকে আরও চাপে রাখতে সরকারি দলের সঙ্গে সম্পর্কিত দলগুলোকে বিরোধী দলের ভূমিকায় রাখতে চায় আওয়ামী লীগ। তাই জাতীয় পার্টিকেও এবার পুরোপুরি বিরোধী দলের ভূমিকায় রাখা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ১৪ দলের সমন্বয়ক ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম প্রথম আলোকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা সরকার ও বিরোধী দলে থাকুক মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তি। তাই সরকারে না থেকে সংসদের ভেতরে ও বাইরে ভূমিকা রাখতে পারে শরিকেরা। আওয়ামী লীগের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে তাদের সাংগঠনিক শক্তিও বাড়াতে পারে। তবে আদর্শিক জোট হিসেবে ১৪ দল টিকে থাকবে বলেও জানান তিনি।
সূত্র জানায়, ২০ জানুয়ারি পলিটব্যুরোর সদস্যদের বৈঠক ডেকেছে ওয়ার্কার্স পার্টি। ২ ও ৩ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা ডেকেছে হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)। আর ১ ও ২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা ডেকেছে জাসদের (আম্বিয়া) একাংশ। সরকারি দলের সঙ্গে রাজনৈতিক বোঝাপড়া, সরকারের বাইরে থেকে বিরোধী দল হিসেবে সংসদের ভেতরে ও বাইরে কার্যকর ভূমিকা রাখার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে সভায়। মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া উপজেলা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা করা হবে।
জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার প্রথম আলোকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী অনেক দিন ধরেই শরিক দলগুলোকে আরও শক্তিশালী হওয়ার তাগিদ দিয়ে আসছেন। জাসদও দলের শক্তিমত্তা বাড়ানোর বিষয়ে আরও মনোযোগী হচ্ছে।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এবার ৪৭ জনের নতুন মন্ত্রিসভার সবাইকে নেওয়া হয়েছে আওয়ামী লীগ থেকে। ১৯৭৩ সালের পর শতভাগ দলীয় মন্ত্রিসভা পেয়ে খুশি হয়েছেন তৃণমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা। তবে মন্ত্রিসভায় জায়গা না পেয়ে হতাশ হয়েছেন ১৪–দলীয় জোটের শরিকেরা। তাঁরা মনে করছেন, শরিকদের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে গেছে।
জাসদ একাংশের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া প্রথম আলোকে বলেন, রাজনৈতিক কারণে জোট হয়েছে, রাজনৈতিক কারণেই তাঁরা জোটে থাকবেন। তবে জোটের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অবশ্যই প্রধানমন্ত্রীর ওপর নির্ভর করে।
লম্বা বিরতির পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালে ১৪৬ আসনে বিজয়ী হয় আওয়ামী লীগ। সরকার গঠনের জন্য ৩২টি আসন নিয়ে জাপা ও একটি আসন নিয়ে জেএসডির সমর্থন পায় তারা। জাপা থেকে আনোয়ার হোসেন ও জেএসডি থেকে আ স ম আবদুর রবকে মন্ত্রিসভার সদস্য করা হয়। এরপর ২০০৮ সাল থেকে গত তিনটি নির্বাচনেই জোটবদ্ধভাবে অংশ নেয় আওয়ামী লীগ। এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও গত দুই সরকারের মন্ত্রিসভায় শরিকদের রেখেছিল আওয়ামী লীগ। তবে এবার সে ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন থাকেনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন গঠিত মন্ত্রিসভার ৪৭ জনের মধ্যে ২৪ জন মন্ত্রী, ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী এবং ৩ জন উপমন্ত্রীর ৪৩ জন আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত সাংসদ। আর টেকনোক্র্যাট কোটায় আসা তিনজনও আওয়ামী লীগের।
জানতে চাইলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হারুন-অর-রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচন ও নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের মাধ্যমে রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের শুরু হয়েছে। ১৪ দলের শরিক দলগুলো মন্ত্রিসভায় নেই, তবে তারা যদি বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করে, তাহলে সাংবিধানিক কোনো বাধা নেই। বরং তারা যদি সংসদের ভেতরে ও বাইরে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করে, তাহলে গণতান্ত্রিক চর্চার যে ধারা শুরু হয়েছে, তা আরও এগিয়ে যাবে এবং রাজনীতিতে নতুন মাত্রা ও সংস্কৃতি গড়ে উঠবে।

ইরানে হামলা চালানোর পরিকল্পনা নিতে পেন্টাগনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল

পেন্টাগনকে ইরানে সামরিক হামলা চালানোর পরিকল্পনা নিতে গত বছর নির্দেশ দিয়েছিল হোয়াইট হাউস। সেপ্টেম্বরে ইরাকে দুটি ঘটনার পর এমন নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। প্রথম ঘটনায় বাগদাদের যে কূটনৈতিক এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস তার কাছে শিয়া মিলিশিয়ারা তিনটি মর্টার শেল নিক্ষেপ করে। এর দু’একদিন পরেই বসরা নগরীতে যুক্তরাষ্ট্রের কনসুলেটের কাছে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। এরপরই প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বল্টন নেতৃত্বাধীন জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল ওই পরিকল্পনার নির্দেশ দিয়েছিল পেন্টাগনকে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে লন্ডনের অনলাইন দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট।
এতে বলা হয়, এমন নির্দেশের পর পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা বলশূন্য হয়ে পড়েছিলেন। এসব কথা বলেছেন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তারা।
যদিও প্রশাসনের ক্ষেত্রে ভবিষ্যত একটি যুদ্ধের পরিকল্পনা স্বাভাবিক অংশ, কিন্তু যেভাবে যে সুরে ওই নির্দেশ দেয়া হয়েছিল তাতে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মতে, জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক সাবেক উপ উপদেষ্টা মিরা রিকার্ডেল। তিনি ইরাকের ওই হামলাকে যুদ্ধের পরিণতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সে অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ নেয়া উচিত।
যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের সাবেক একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, এমন নির্দেশে লোকজন অবশ্যই হতাশ হয়েছিল। কিভাবে ইরানে হামলা চালানো হবে তা নিয়ে অনেকেরই মন চমকে উঠেছিল।
জন বল্টনের নির্দেশের পর পেন্টাগন কাজ সম্পন্ন করেছিল। তবে এ বিষয়টি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানতেন কিনা অথবা পরিকল্পনাটি কতটা গুরুত্বপূর্ণভাবে এগুচ্ছিল সে সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু জানা যায় নি। ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর নীতি অবলম্বন করেন জন বল্টন। সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে তিনি ইরানকে সতর্ক করেছিলেন। বলেছিলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র বা তার কোনো মিত্রের কোনো ক্ষতি করে ইরান তাহলে তাদেরকে নরকে পাঠিয়ে দেয়া হবে।
উল্লেখ্য, ইরানের সঙ্গে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার করা পারমাণবিক চুক্তি ২০১৮ সালের মাসে প্রত্যাহার করেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ওই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন বারাক ওবামা। এর বাইরে ছিলেন বৃটেন, চীন, রাশিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইউরোপিয় ইউনিয়নের নেতারা। চুক্তিটি হয়েছিল ২০১৫ সালে। রোববার জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের গ্যারেট মারকুইস এক বিবৃতিতে বলেছেন, বিভিন্ন রকম হুমকির বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে প্রেসিডেনটকে নীতিগ্রহণে সমন্বয় করে তার প্রতিষ্ঠান। তিনি আরো জানান, বাগদাদে দূতাবাস ও বসরায় যুক্তরাষ্ট্রের কনসুলেটে হামলা করার উদ্দেশ্য রিভিউ করা হচ্ছে। তাদের নিরাপত্তা ও যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণাঙ্গ স্বার্থ রক্ষা করবো আমরা।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য সফর শুরু করেছেন। এর উদ্দেশ্য ইরানের বিরুদ্ধে তার প্রশাসনের অবস্থানকে সামনে ঠেলে দেয়া। রোববার কাতার থেকে তিনি সৌদি আরবে গিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে ওই অঞ্চলে ইরান যে হুমকি হয়ে উঠছে তার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছেন। গত সপ্তাহে মাইকেল পম্পেও একটি ঘোষণা দিয়েছেন। তাতে তিনি বলেছেন, ফেব্রুয়ারিতে ইরান ইস্যুতে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করবে পোল্যান্ড। তার এ ঘোষণায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইরান। এর জবাবে রোববার পোল্যান্ডের ওয়ারশতে নিযুক্ত ইরানের শীর্ষ কূটনীতিককে দেশে তলব করে এবং পোলিশ চলচ্চিত্র উৎসব থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়।

প্রধানমন্ত্রীর সংলাপে যাবে বিএনপি, যদি...

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আবার সংলাপে অবশ্যই ‘নির্বাচন বাতিলের’ বিষয়টি এজেন্ডা হিসেবে থাকতে হবে। এ দাবি করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, এজেন্ডা জানলে সংলাপে যাওয়ার বিষয়টি তাঁরা বিবেচনা করবেন। আজ সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.)–এর মাজার জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গতকাল রোববার বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে যেসব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ হয়েছিল, তাদের আবার আমন্ত্রণ জানাবেন প্রধানমন্ত্রী। আজ মির্জা ফখরুলকে ওই সংলাপের বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। তখন তিনি বলেন, ‘সংলাপের এজেন্ডা তো আমরা জানি না। নিঃসন্দেহে যখন আমাদের এজেন্ডা জানাবেন, তখন আমরা সে বিষয়ে বিবেচনা করব।’
বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘সংলাপ যদি গতবারের মতো হয়, তাহলে সেটি অর্থবহ হবে না। সংলাপের আহ্বান করা হলে আমাদের এজেন্ডা একটি—এই নির্বাচন (একাদশ জাতীয় সংসদ) বাতিল করতে হবে। পুনরায় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে জনগণের অধিকারকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’
গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় পায় আওয়ামী লীগ। বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে আটটি আসন পায়। এর মধ্যে বিএনপি ছয়টি এবং ঐক্যফ্রন্টের আরেক শরিক গণফোরাম দুটি আসন পায়। এই আট বিজয়ী এখনো সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্ট ওই নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছে। এ নির্বাচন নিয়ে আজ মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নির্বাচনে জনগণের রায়কে ডাকাতের মতো ডাকাতি করা হয়েছে।’
মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে কলঙ্কিত অধ্যায়। দখলদারি সরকার জনগণের অধিকার হরণ করে নিয়ে গেছে। সংবিধান লঙ্ঘন করেছে। জনগণের রায়কে তারা ডাকাতের মতো ডাকাতি করে নিয়ে গেছে।’ উপজেলা নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্ট কিংবা বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো সরকারের পরিবর্তন ঘটায় না। সুতরাং এ নির্বাচনগুলো মুখ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায় না। এখন যে নির্বাচন কমিশন আছে, যার অধীনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হলো; সারা বিশ্বের সবাই দেখেছে কতটা অযোগ্য এই নির্বাচন কমিশন। তাদের কোনো যোগ্যতাই নেই সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনা করার। সুতরাং তাদের অধীনে নির্বাচন করার কোনো প্রশ্নই নেই।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী, গণফোরামের নেতা সুব্রত চৌধুরী, মোস্তফা মহসিন মন্টু এবং সিলেট বিএনপি ও অঙ্গ–সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

উত্তর প্রদেশে একাই লড়বে কংগ্রেস

উত্তর প্রদেশে কংগ্রেস সম্ভবত একাই লড়বে। প্রার্থী দেবে ৮০ আসনেই। আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো এই কথা ঘোষণা না হলেও, সম্ভবত এটাই হতে চলেছে দলীয় সিদ্ধান্ত। রোববার উত্তর প্রদেশ নিয়ে বৈঠকে বসেন দলের শীর্ষ নেতা গুলাম নবি আজাদ ও উত্তর প্রদেশের ভারপ্রাপ্ত নেতা রাজ বব্বর। ঠিক হয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী মোট ১৩টি জনসভা করবেন।
গতকাল শনিবার লক্ষ্ণৌয়ে সংবাদ সম্মেলন করে রাজ্যের মোট ৮০ আসনের মধ্যে ৭৬টি নিজেদের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি) নেত্রী মায়াবতী এবং সমাজবাদী পার্টির (এসপি) নেতা অখিলেশ সিং যাদব। যে চারটি আসন তাঁরা ছেড়ে রেখেছেন, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে রাহুল গান্ধীর আমেঠি ও সোনিয়ার রায়বেরিলি। এই দুই আসনে বহুদিন থেকেই এসপি-বিএসপি প্রার্থী দেয় না। অন্য দুটি আসন ছাড়া হচ্ছে অজিত সিংয়ের রাষ্ট্রীয় লোকদলের (আরএলডি) জন্য। লক্ষণীয়, ওই ঘোষণা সত্ত্বেও রাহুল বা অজিত সিং কেউই ‘বুয়া-ভাতিজা’র একতরফা ঘোষণার বিন্দুমাত্র সমালোচনা করেননি। বরং দুবাইয়ে থাকা রাহুল ওই জোটবদ্ধতাকে স্বাগত জানিয়ে বলেছিলেন, ‘দুই দলের নেত্রী ও নেতার প্রতি আমি গভীরভাবে শ্রদ্ধাশীল। নিজেদের মতো সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার ওঁদের আছে। তবে আমরাও দু-একটা চমক দেখাব। আমরা নিজেদের মতো করে লড়ব।’
কংগ্রেস ৮০ আসনেই লড়লে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ত্রিমুখী। বিজেপির এতে উৎফুল্লই হওয়ার কথা। কিন্তু উত্তর প্রদেশের জাতভিত্তিক রাজনীতিতে কংগ্রেস সব আসনে একা দাঁড়ালে তা বিজেপির বিরুদ্ধে যাওয়ার সম্ভাবনাই প্রবল বলে কংগ্রেসের একটা বড় অংশের ধারণা।
গত লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে কংগ্রেসের প্রাপ্ত ভোটের হার ছিল ৭ দশমিক ৬ শতাংশ। তিন বছর পর ২০১৭ সালের বিধানসভা ভোটে সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে জোট বেঁধে লড়ে কংগ্রেস পেয়েছিল ৬ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট ও ৭টি আসন। ১৯৮৯ সালের পর এই রাজ্যে কংগ্রেস আর ক্ষমতায় আসেনি। দলের তফসিল ভোট চলে যায় বিএসপিতে, মুসলমান ভোট টেনে নেয় এসপি। সামান্য যা কিছু ভোট অবশিষ্ট তা উচ্চবর্ণের, যাদের ভোট কখনো এসপি ও বিএসপিতে ‘ট্রান্সফার’ হয়নি। ১৯৯১ সালে কংগ্রেস-বিএসপি জোট বাঁধলেও কংগ্রেসের উচ্চবর্ণ ভোট বিএসপির বাক্সে না পড়ে চলে যায় বিজেপিতে। ২০১৭ সালেও তা এসপিতে না গিয়ে যায় বিজেপিতে। ৮০ আসনে কংগ্রেস প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে বিজেপির তাই ক্ষতি বলেই এই মহলের ধারণা।
দলীয় সূত্র অনুযায়ী, তিন রাজ্য জয়ের পর রাজ্যের কংগ্রেসিদের মধ্যে প্রত্যাশা বেড়ে গেছে। একা লড়লে অনেককে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ করে দেওয়া যাবে। আবার বিজেপির পথেও কাঁটা ফেলা যাবে। দলের এক বড় নেতা অবশ্য মনে করছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হলেও হতে পারে।

রেমন্ড সাম্রাজ্যের কর্ণধার এখন ভাড়া বাড়িতে

ভারতে পরিবারের মালিকানাধীন ব্যবসায়িক সংস্থাগুলির মধ্যে রেমন্ডগোষ্ঠীর নাম একেবারে প্রথম সারিতে। মূলত বস্ত্র ব্যবসায় সুনাম অর্জন করলেও সিমেন্ট, ডেয়রি ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রেও ব্যবসাকে প্রসারিত হয়েছে। আর এই সুবিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলার  কারিগর ছিলেন বিজয়পত সিংহানিয়া। তিনিই বস্ত্র ব্যবসার ছোট সংস্থা থেকে বিশ্বের অন্যতম নামী ব্র্যান্ডে পরিণত করেছেন রেমন্ডকে। কিন্তু পুত্রের হাতে ব্যবসার সব দায়িত্ব তুলে দিয়ে এখন পস্তাচ্ছেন ৮০ বছরের বৃদ্ধ বিজয়পত। পুত্রের হাতে সব খুইয়ে এখন একসময়ের এই ধনকুবের  আশ্রয় নিযেছেন ভাড়া বাড়িতে। মর্যাদা ফিরে পেতে পুত্র গৌতমের বিরুদ্ধে  আইনি লড়াইয়ে নামতে চলেছেন রেমন্ড গোষ্ঠীর সাবেক কর্ণধার বিজয়পত সিংহানিয়া। পুত্রের হাতে মান-মর্যাদা সব খুইয়ে এখন তিনি সকলের উদ্দেশ্যে বলেছেন,সব বাবা-মাকেই পরামর্শই দেব, জীবিত অবস্থায় সন্তানকে নিজের সারা জীবনের সঞ্চয় তুলে দেয়ার মতো বোকামি করবেন না।
অথচ তিল তিল করে  গড়ে তোলা ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের দায়িত্ব তুলে দিয়েছিলেন একমাত্র ছেলে গৌতম সিংহানিয়ার হাতে। কিন্তু ক্ষমতা গ্রহণের পর পিতার কাছ থেকে এক এক করে সমস্ত সুযোগ-সুবিধা কেড়ে নিয়েছে গৌতম। পুত্রের হাতে ব্যবসায়িক মালিকানা তুলে দেয়ার সিদ্ধান্তকে এখন নিজের ‘চূড়ান্ত বোকামি’ বলেই কপাল চাপড়াচ্ছেন বৃদ্ধ বিজয়পত। বিজয়পতের দাবি, ‘ইমোশনাল ব্ল্যাকমেল’ করেই তাঁর কাছ থেকে সব কিছু কেড়ে নিয়েছেন গৌতম। বিজয়পত জানিয়েছেন, তাঁর দুর্দশার শুরুটা হয়েছিল ২০১৫ সালে। সেই সময় ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের ৩৭ শতাংশ মালিকানা ছেলে গৌতমের হাতে তুলে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু, এর পর থেকেই ছেলের সঙ্গে সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ শুরু হযেছে। মুম্বইয়ের অভিজাত এলাকা মালাবার হিলে সিংহানিয়া পরিবারের ৩৬তলা বহুতলে  ৫,১৮৫ বর্গফুট আয়তনের একটি ডুপ্লে অ্যাপার্টমেন্ট নিয়ে ঝামেলার সূত্রপাত। বিজয়পত সিংহানিয়ার অভিযোগ, অন্য আত্মীয়দের সঙ্গে তাঁকেও ওই কোটি কোটি টাকার ডুপ্লের মালিকানা থেকে বঞ্চিত করে গৌতম। এক সময় তাঁর কাছ থেকে ড্রাইভার-সহ গাড়ির সুবিধাও কেড়ে নিয়েছে গৌতম। সংস্থার ‘চেয়ারম্যান এমিরেটাস’ পদটিও কেড়ে নেয়া হযেছে।  তাঁকে রেমন্ডের বোর্ড থেকেও সরিয়ে দেয়া হয়েছে। এরপর থেকে পিতা-পুত্রের সম্পর্কে তিক্ততা চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে। তবে পিতার সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গৌতম। পাল্টা বলেছেন, আমি নিজেই তো নির্যাতনের শিকার।

ব্রেক্সিট আটকে দেয়ার আতঙ্কে তেরেসা মে

মঙ্গলবার বৃটিশ পার্লামেন্টে ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে ভোট। সেখানে কোনো চুক্তি ছাড়াই ইউরোপিয় ইউনিয়ন ছাড়ার পরিবর্তে ব্রেক্সিটকে আটকে দেয়ার বড় আশঙ্কা করছেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে। তাই তিনি শেষ মুহূর্তে এমপিদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছেন, যেন তারা ব্রেক্সিট চুক্তিতে সায় দেন। আগেই তেরেসা মে মন্তব্য করেছেন ব্রেক্সিট চুক্তি সম্পন্ন না হলে তা হবে বৃটেনের জন্য বিপর্যয়। এ অবস্থায় মঙ্গলবার বৃটিশ পার্লামেন্টের হাউস অব কমন্সে ওই চুক্তির ওপর ভোট হবে। তার আগে আজ সোমবার তার ভাষণ দেয়ার কথা রয়েছে। তাতে তিনি পার্লামেন্টকে সতর্ক করবেন। এই সতর্কতায় তিনি বলবেন, কোনো চুক্তি ছাড়াই ইউরোপিয় ইউনিয়ন ছাড়ার চেয়ে ব্রেক্সিটকেই আটকে দিতে পারে পার্লামেন্ট।
বিভিন্ন রিপোর্টে বলা হচ্ছে, পার্লামেন্টে তেরেসা মে পরাজিত হলে ব্রেক্সিটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারেন এমপিরা।
এর আগে তিনি বলেছেন, যদি ব্রেক্সিটের পক্ষে গণভোটের রায়কে বাস্তবায়ন করা না হয় তাহলে রাজনৈতিক আস্থা চরম আকারে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যদি পার্লামেন্টের ভোটে তেরেসা মে পরাজিত হন তাহলে তার বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট আনতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বিরোধী লেবার দল। দলটির নেতা জেরেমি করবিন বলেছেন, এই চুক্তির বিরুদ্ধে ভোট দেবে লেবার দল। তা ছাড়া যদি ভোটে পরাজিত করা যায় সরকারকে তাহলে তার ওপর ভিত্তি করে একটি জাতীয় নির্বাচনের দিকে যাত্রা শুরু হতে পারে। তিনি বিবিসির অ্যানড্রু মার শোতে বলেন, এ অবস্থায় আমরা সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনবো। লেবার দলের সঙ্গে যোগ দিয়ে এই চুক্তির বিপক্ষে ভোট দেবেন ক্ষমতাসীন কনজার্ভেটিভ পার্টির প্রায় ১০০ এমপি, ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টির ১০ জন এমপি। এ ছাড়া আছেন অন্য বিরোধী দলীয় এমপিরা।
এমন অবস্থায় আজ সোমবার কারখানা শ্রমিকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখবেন তেরেসা মে। সেখানে তিনি বলবেন, গত কয়েক সপ্তাহে আমরা দেখতে পেয়েছি ওয়েস্টমিনস্টারে এমন অনেকে আছেন, যারা ব্রেক্সিট প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত বা থামিয়ে দিতে চান। তা করতে তারা সম্ভাব্য সব কিছুই ব্যবহার করবেন।
কি ঘটতে যাচ্ছে বৃটেনে- সোমবার ব্রেক্সিট নিয়ে চতুর্থ দিনের মতো বিতর্ক করবেন এমপিরা। পাঁচদিনের বিতর্কের পর পার্লামেন্টে অর্থপূর্ণ ভোট হবে। সংশোধনীর ওপরও ভোট দিতে পারেন এমপিরা, যাতে চুক্তিকে নতুন করে সাজানো যায়। যদি চুক্তি প্রত্যাখ্যাত হয় তাহলে ব্রেক্সিট নিয়ে ‘পরিকল্পনা-বি’ সাজাতে তিন দিনের সময় পাবেন তেরেসা মে। বুধবার ইউরোপিয় ইউনিয়ন থেকে আরো সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করতে ব্রাসেলসে যেতে পারেন তিনি। এরপর ‘পরিকল্পনা-বি’ এর ওপর হাউস অব কমন্সে ভোট হতে পারে ২১শে জানুয়ারি সোমবার। যদি এমপিরা ব্রেক্সিটকে বিলম্বিত বা বাতিল না করেন তাহলে ২৯ শে মার্চ ইউরোপিয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাবে বৃটেন।

এরশাদের ‘অবর্তমানে’ জাপার নেতৃত্বে কে

  • • এরশাদের ‘অবর্তমানে’ দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব কে পালন করবেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা
  • • এরশাদ এখন খুবই অসুস্থ
  • • তিনি সিঙ্গাপুর গেলে কি চেয়ারম্যান পদে বদল আসবে
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ‘অবর্তমানে’ দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব কে পালন করবেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এরশাদ ১ জানুয়ারি এক চিঠিতে তাঁর অবর্তমানে জাপার চেয়ারম্যান পদে তাঁর ভাই জি এম কাদেরের নাম ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু এই ‘অবর্তমান’ শব্দটি স্পষ্ট নয় বলছেন জাপার একাধিক নেতা।
এরশাদ এখন খুবই অসুস্থ। ৫ জানুয়ারি থেকে তিনি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি উঠে দাঁড়াতে পারেন না বলে জানিয়েছেন দলের একজন নেতা। আগামী শুক্রবার উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁর সিঙ্গাপুরে যাওয়ার কথা। তিনি সিঙ্গাপুর গেলে কি চেয়ারম্যান পদে বদল আসবে? দলীয় নেতাদের কাছে তা স্পষ্ট হয়নি। এদিকে এরশাদের অবর্তমানে জাপার চেয়ারম্যান পদটি পেতে চান রওশন এরশাদ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দলের কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের গতকাল রোববার রাতে প্রথম আলোকে মুঠোফোনে বলেন, ‘হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার আগে নিশ্চয়ই তাঁর “অবর্তমানে” শব্দের ব্যাখ্যা দিয়ে যাবেন। তখন বোঝা যাবে, অবর্তমানে বোঝাতে তিনি আসলে কী বুঝিয়েছেন।’
গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর এরশাদের নেওয়া দুটি সিদ্ধান্ত নিয়ে জাপায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সিদ্ধান্ত দুটি হলো: এক. এরশাদের অবর্তমানে জি এম কাদেরের চেয়ারম্যান হওয়া। দুই. জাপা বিরোধী দলে থাকবে। দলটির কেউ মন্ত্রী হতে পারবেন না।
এ বিষয়ে কাদের বলেন, ‘একটি সংসদ প্রকৃত বিরোধী দল ছাড়া চলতে পারে না। সংসদ হতে হবে জবাবদিহিমূলক। সে কারণে আমরা সরকারে ও বিরোধী দলে একসঙ্গে থাকতে পারি না। এটা নিয়ে হাসাহাসি হয়। আমরা বিরোধী দলে থেকে সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিতে চাই। এতে সরকারকেও সহায়তা করা হয়। জনগণের পক্ষে থেকে সরকারকে আমরা নজরদারিতে রাখতে চাই।’
এই দুই সিদ্ধান্ত রওশনপন্থী হিসেবে পরিচিত অংশকে ক্ষুব্ধ করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ৩ জানুয়ারি জাপার ২১ সাংসদকে নিয়ে বনানী কার্যালয়ে রুদ্ধদার বৈঠকে বসেন রওশন এরশাদ ও জি এম কাদের। বৈঠকে সরকারে থাকা না-থাকা নিয়ে আলোচনায় হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। অধিকাংশ সাংসদ সরকারি দলে থাকার পক্ষে মত দেন।
দলের বিরোধ সম্পর্কে জানতে চাইলে জি এম কাদের বলেন, দলে যদি কেউ নিজেকে ‘রওশনপন্থী’ হিসেবে ঘোষণা দেন, তাহলে এটি দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী। দলের একটি কাঠামো রয়েছে। সেখানে সবাইকে দলের গঠনতন্ত্র মেনেই চলতে হবে। তবে দলে কোন্দল থাকার কথা অস্বীকার করেন তিনি।

কানাডায় পৌঁছেছেন সেই সৌদি টিনেজার কুনুন

অবশেষে কানাডায় পৌঁছেছেন সৌদি আরবের বহুল আলোচিত সেই তরুণী রাহাফ মোহাম্মদ আল কুনুন (১৮)। শনিবার তিনি সিউল থেকে বিমানযোগে টরন্টোতে অবতরণের পর তাকে গ্রহণ করেছেন কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড। ফলে নতুন জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে কুনুনের। এখন থেকে তিনি কানাডার নাগরিক। ধর্ম ত্যাগ করার কারণে তাকে তার পরিবার হত্যা করবে এমন অভিযোগে কুনুন নিজেকে ব্যাংককের একটি হোটেলে অবরুদ্ধ করে রাখে। কারণ, তাকে কুয়েত হয়ে সৌদি আরবে ফেরত পাঠানোর কথা ছিল। তার পিতা সৌদি আরবের হেইল প্রদেশের গভর্নর। তিনি মেয়ের সঙ্গে সাক্ষাত করতে ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে ব্যাংককে গিয়েছিলেন।
কিন্তু কুনুন তাদের সঙ্গে সাক্ষাত দেন নি। এ অবস্থায় পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। তাদের হস্তক্ষেপে কুনুনকে শরণার্থী হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়। এরপর প্রাথমিকভাবে কুনুনকে অস্ট্রেলিয়া গ্রহণ করতে পারে বলে খবর বের হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার ঠিকানা হয়েছে কানাডা।
এ সপ্তাহটা তাকে নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা ছিল। সারা বিশ্ব থেকে তিনি পেয়েছেন বিপুল সমর্থন। তার পিতা ও ভাই ব্যাংককে তার সঙ্গে সাক্ষাত করতে গেলে তিনি শুক্রবার কোরিয়ান এয়ারযোগে ব্যাংকক থেকে উড়াল দেন সিউলে। সেখান থেকে টরন্টোগামী বিমানে চেপে বসেন। যাত্রাপথে বিমানের ভিতর থেকে টুইটারে ছবি পোস্ট করতে থাকেন। তাতে তাকে বিজনেস ক্লাসে বেশ স্বস্তিতে আছেন বলে দেখা যায়। টুইটে লিখেছেন, আমাকে সমর্থন দিয়ে আমার জীবন বাঁচানোর জন্য আপনাদের ধন্যবাদ জানাতে চাই। তিনি আরো লিখেছেন, সত্যিকারভাবে আমি কখনো এত ভালবাসা পাবো, আপনাদের সমর্থন পাবো এমনটা কখনো স্বপ্নেও ভাবি নি। আপনাদের সমর্থন আমাকে একজন উন্নত মানুষ হতে সহায়তা করবে।
বিমানবন্দরে কুনুনকে গ্রহণ করে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রিল্যান্ড সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি নিজের হাতে কুনুনকে জড়িয়ে ধরে ছিলেন। তিনি বলেন, ইনি হলেন রাহাফ মোহাম্মদ আল কুনুন। একজন অতি সাহসী নতুন কানাডিয়ান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী শুনলেন ১০ ঘণ্টা, বললেন কম by মিজানুর রহমান

৩ দিনে ১০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের কথা শুনলেন নয়া মন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। পুনঃনিয়োগ পাওয়া পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপির উপস্থিতিতে মন্ত্রী প্রত্যেক বিভাগ-অনুবিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের ব্রিফ নিলেন।
পরিচালক থেকে সিনিয়র সচিব পর্যন্ত সর্বস্তরের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত সিনিয়র অফিসিয়াল মিটিং (এসওএম) শুরু হয়েছিল গত বৃহস্পতিবার। সেদিন প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা, সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবার প্রায় ৫ ঘণ্টা এবং গতকাল আড়াই ঘণ্টা (এসওএম) চলার পর বিশেষ বৈঠকটি শেষ হয়েছে। ৪ দফা মুলতবির মধ্য দিয়ে চলা তিন দিনের ওই স্পেশাল ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের কূটনৈতিক কার্যক্রমের (দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্ক) বিস্তারিত হাল নাগাদ করলেন দেশের পেশাদার কূটনীতিকরা। বর্তমানে কেমন চলছে, ভবিষ্যতের জন্য কোথায় গুরুত্ব দেয়া জরুরি এবং এসব কাজে কী কী বাধা বা চ্যালেঞ্জ হতে পারে- তা নিয়ে কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ধারণা পাওয়ার চেষ্টা করেন শিক্ষাবিদ কাম কূটনীতিক ও রাজনীতিক ড. মোমেন।
সিনিয়র অফিসিয়াল মিটিং বা এসওএম সূত্র বলছে, টানা ওই ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী শুনেছেন প্রায় পুরো সময়, বলেছেন খুবই সামান্য। মন্ত্রী বিভাগ-অনুবিভাগের প্রধানদের লিখিত বক্তব্যের বাইরেও বিভিন্ন বিষয়ে তাদের কাছে জানতে চেয়েছেন।
যত সামান্য পরামর্শও দিয়েছেন। সেখানে তিনি ইকোনমিক ডিপ্লোমেসি বা অর্থনৈতিক কূটনীতিতে জোর দিয়েছেন। ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির টার্গেট রেখে পেশাদারদের পরবর্তী কার্যক্রম চালানোর তাগিদ দিয়েছেন। সাউথ সাউথ কো-অপারেশন বা দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা জোরদার এবং এ সংক্রান্ত বৈশ্বিক ম্যাকানিজমকে (টায়েঙ্গেল ফর্মুলা) কাজে লাগিয়ে দ্বিপক্ষীয়ভাবে স্বার্থ উদ্ধারে কূটনৈতিক কার্যক্রম জোরদারের পরামর্শ দিয়েছেন। সম্ভাবনাময় ব্লু-ইকোনমির সুফল ঘরে তুলতে এখনই কার্যকর কর্ম-পরিকল্পনা গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন।
সার্ক কোন অবস্থায় আছে তা জানতে চেয়েছেন। প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বিশেষ করে দূতাবাসগুলোর কার্যক্রম মনিটরিংয়ের নির্দেশনা দিয়েছেন। বিভিন্ন মিশনের অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্তসাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম দৃশ্যমান করা তথা মন্ত্রণালয়ের ভাবমূর্তি বাড়াতেও তাগিদ ছিল নয়া মন্ত্রীর। এ জন্য বহিঃপ্রচার অনুবিভাগকে আরও শক্তিশালীকরণে জোর দিয়েছেন। বৈঠকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো ব্যবহারে সতর্কতার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। জানতে চাওয়া হয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ভেরিফাইড কি-না?। জবাবে বিভ্রান্তিকর তথ্যে খানিক বিরক্তিও প্রকাশ করা হয়েছে।

সুবর্ণচরে ধর্ষণ: বাদির সঙ্গে মিলছে না কমিশনের বক্তব্য

নির্বাচনের রাতে নোয়াখালীর সুবর্ণচরে গৃহবধূ ধর্ষণের ঘটনায় পুলিশ বাদির মন্তব্য বিকৃত করে নিজের মতো এজাহার সাজিয়েছে৷ মানবাধিকার কমিশনও তদন্ত প্রতিবেদনে তাঁদের মন্তব্য ঠিকভাবে উপস্থাপন করেনি বলে দাবি মামলার বাদির৷
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে চার সন্তানের জননীকে ধর্ষণ ও নির্যাতনের সত্যতা খুঁজে পেলেও মানবাধিকার কমিশন বলছে পূর্ব শত্রুতার জেরে ওই ঘটনা ঘটেছে৷ কিন্তু কমিশনের প্রতিবেদনের সাথে মিলছে না নির্যাতিতার বক্তব্য৷
মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত কমিটি বলছে, এ ঘটনায় তারা কোনো রাজনৈতিক কারণ খুঁজে পায়নি৷
ঘটনার শিকার নারী এবং মামলার বাদি তাঁর স্বামীর বরাত দিয়ে তদন্ত কমিটি বলছে, তাঁরাই তাঁদের পূর্ব শত্রুতার জেরের কথা বলেছেন৷ ভোট দেয়ার ঘটনা বা রাজনৈতিক কারণ এর পেছনে নেই৷
স্বামী-স্ত্রীর জবানবন্দির কথা উল্লেখ করে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘‘একাদশ সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দেওয়া বা ভোট দেওয়ার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে বা আসামিরা আওয়ামী লীগের কর্মী হওয়া বা আওয়ামী লীগের কোনো কর্মীর মাধ্যমে ওই নারীকে মারপিট ও ধর্ষণের শিকার হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায় না৷''
কিন্তু তদন্ত প্রতিবেদনে তাঁদের বরাত দিয়ে ‘পুর্ব শত্রুতার' বিষয় উল্লেখ করা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন ধর্ষণের শিকার নারী ও তাঁর স্বামী৷ তারা  দু'জনই ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, ‘‘ধানের শীষে ভোট দেয়ার কারণেই স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিনের নির্দেশে ধর্ষণ এবং নির্যাতনের ঘটনা ঘটানো হয়৷ আমরা তদন্ত কমিটির কাছেও একই কথা বলেছি৷ পূর্ব শত্রুতার কোনো কথা বলিনি৷''
গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর গভীর রাতে এই ধর্ষণ এবং নির্যাতনের ঘটনা ঘটে৷ বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ হলে ব্যাপক তোলপাড় হয়৷ ৩১ ডিসেম্বর এ ঘটনায় মামলা দায়ের হয়৷ পুলিশ এখন পর্যন্ত সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য রহুল আমিনসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে৷ এর মধ্যে পাঁচ জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন৷
এর আগেও ডয়চে ভেলের কাছে ‘ধানের শীষে ভোট দেয়ার কারণেই' ধর্ষনের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন ওই নারী এবং তার স্বামী৷ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর রবিবার রাতে আবার কথা হয় তাঁদের সঙ্গে৷ ওই নারী এখনো নোয়াখালী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন৷
স্বামীর মোবাইল ফোনে ডয়চে ভেলের প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় তাঁর৷ তিনি আবারও পুরো ঘটনা তুলে ধরেন, ‘‘আমি দুপুর ২টার দিকে ভোট দিতে গিয়েছি৷ জসিম ভাই নৌকায় ভোট দিতে বলেন৷ কিন্তু আমি ধানে ভোট দিতাম৷ এরপর আমাকে সবার সামনেই ভোট দিতে বলে৷ কিন্তু আমি তা না করে গোপন কক্ষে গিয়ে ধানে ভোট দিই৷ এরপর জসিম, জুয়েলসহ আরো কয়েকজন গিয়ে বলে রাতে খবর আছে৷ ওই সময় রহুল আমিন ছিল কিনা আমি দেখিনি৷ তবে এরা সবাই রুহুল আমিন বাহিনীর৷''
তিনি বলেন, ‘‘রাতে রহুল আমিনের অর্ডারেই আমার ওপর নির্যাতন করা হয়৷ তাঁরা আমাকে ধর্ষণ করে৷ তাঁর নির্দেশেই হয়েছে৷''
তদন্ত কমিটির কাছে পূর্ব শত্রুতার কথা বলেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘অনেকেই এসেছেন, আমার বক্তব্য নিয়েছেন৷ কারা তদন্ত কমিটি, তা আমি জানিনা৷ তবে সবার কাছেই আপনাকে যা বলেছি সেই একই কথা বলেছি৷ পূর্ব শত্রুতার কথা বলিনি৷ পূর্ব শত্রুতার কারণে নয়, ধানের শীষে ভোট দেয়ার কারণেই রুহুল আমিনের নির্দেশে আমার ওপর নির্যাতন হয়৷''
পূর্ব শত্রুতা কখনো ছিল কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘চার বছর আগে ছিল৷ তা তখনই মিটমাট হয়ে যায়৷ আর পূর্ব শত্রুতার কারণে নির্যাতন করলে, কিছু হলে তো চার বছর আগেই হত৷''
৩০ ডিসেম্বর পাংখারবাজার ১৪ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ধানের শীষে ভোট দেয়ায় ওই নারীকে হুমকি দেয়া হয়৷ আর  রাতেই বাড়িতে ঢুকে ধর্ষণ এবং নির্যাতন করে দুর্বৃত্তরা৷
ধর্ষণের শিকার নারীর স্বামী ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমিতো আর ভোট দেয়ার সময় ছিলাম না৷ ওই সময় যা হয়েছিল তা আমি আমার স্ত্রীর কাছ থেকে শুনেছি৷ সে আমাকে বলেছে ধানের শীষে ভোট দেয়ায় তাঁকে হুমকি দেয়া হয়৷ আর রাতে তো আমাকে বেঁধে, আমার সামনেই ধর্ষণ করা হয়৷ আমি তদন্ত কমিটির কাছেও একই কথা বলেছি৷ পূর্ব শত্রুতার কোনো কথা বলিনি৷''
তাহলে মামলার এজাহারে কেন ধানের শীষে ভোট দেয়ার কারণ বলা হয়নি, পূর্ব শত্রুতার কথা কেন বলেছেন? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘আমি মৌখিকভাবে পুরো ঘটনা বলেছি৷ পুলিশ এজাহার লিখেছে৷ এজাহার লিখে আমাকে পড়েও শোনায়নি৷ শুধু আমাকে বলেছে সই কর৷ তারা আমার কথা এজাহারে না লিখে তাদের মতো এজাহার বনিয়েছে৷''
তিনি আরো অভিযোগ করেন, ‘‘আমি রহুল আমিনসহ ১২ জনের নাম বলেছি অভিযুক্ত হিসেবে৷ কিন্তু পুলিশ রহুল আমিনসহ ৩ জনের নাম বাদ দিয়ে ৯ জনকে এজাহারে আসামি করে৷'' অবশ্য চাপের মুখে পুলিশ পরে আওয়ামী লীগ নেতা রহুল আমিনকে সন্দেহজনক আসামি হিসেবে আটক করে৷
এর জবাবে সুবর্ণচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বাদি সঠিক কথা বলছেন না৷ আর এজাহার না দেখে তাঁর অভিযোগ সম্পর্কে আমি এখন কিছু বলতে পারবো না৷ মামলাটি এখন ডিবি তদন্ত করছে৷''
এদিকে মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত কমিটি পূর্ব শত্রুতার জেরের কথা বললেও কী সেই পূর্ব শত্রুতা তা উল্লেখ করেনি প্রতিবেদেন৷ ধর্ষণের শিকার নারী ও তার স্বামীর এই বক্তব্যসহ এইসব বিষয় তুলে ধরে কমিটির আহ্বায়ক আল মাহমুদ ফায়জুল কবীরের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি৷ তিনি বলেন, ‘‘আমরা প্রতিবেদন দিয়েছি, এখন কমিশন মূল্যায়ন করবে৷ এ নিয়ে কমিশন চেয়ারম্যান বলতে পারবেন৷''
মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হকের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে, তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘তদন্ত কমিটিই ভালো বলতে পারবে৷ এ নিয়ে আমি কোনো কথা বলতে চাইনা৷''
তবে তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘ওই নারীকে দলবদ্ধভাবে নির্যাতন এবং ধর্ষণ করা হয়েছে এটা প্রমাণিত৷ এখন সরকারের কাছে দাবি, বিচার নিশ্চিত করা৷ তদন্ত কমিটি বলেছে পূর্ব শত্রুতার জেরে এই ঘটনা ঘটেছে৷ ওরা মনে হয় সেটা পরিস্কার করতে পারেনি৷ এটা ওরাই ভালো বলতে পারবে৷ আমার কথা হল অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে৷''
সূত্রঃ DW

বের হয়ে গেছেন ২০ কারখানার শ্রমিকরা: আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভ চলছেই

মজুরি বৃদ্ধির পরও অষ্টম দিনের মতো সাভারের আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। আজ সকালে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার এনভয় গার্মেন্টস, সেতারা ফ্যাশন, স্টারলিং অ্যাপারেলস, হামিম গ্রুপ ও শারমিন গ্রুপের এম ডিজাইন লিমিটেড সহ প্রায় ২০ টি কারখানার শ্রমিকরা প্রতিদিনের মতো কারখানায় প্রবেশের পর কার্ড পাঞ্চ করে বের হয়ে যান। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর সড়ক অবরোধ করে।  পুলিশ শ্রমিকদেরকে ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
শিল্প পুলিশ জানায়, সকালে হা-মীম গ্রুপের তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কারখানায় প্রবেশের পর কাজ না করে বিক্ষোভ করতে থাকে। একপর্যায়ে শ্রমিকরা রাস্তায় অবস্থান নিয়ে সড়কে অবরোধ করে। এ সময় পুলিশ সদস্যরা শ্রমিকদেরকে বুঝিয়ে কারখানার ভেতরে ঢুকিয়ে দেন। কিন্তু  শ্রমিকরা কারখানার ভেতরে প্রবেশ করে কাজ না করে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন। সকাল ৯ টার দিকে আবারও কিছু শ্রমিক কারখানা থেকে বের হয়ে আসে।
এছাড়া জামগড়া এলাকার পলমল গ্রুপ, এনভয় গ্রুপ সাফা নিটিং সহ প্রায় ২০টি কারখানার শ্রমিকরা রাস্তায় বের হয়ে আসে। এ সময় বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ শ্রমিকদের কে ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বিক্ষোভের কারণ জানতে চাইলে, শাহনাজ ও আক্তারসহ অনেক শ্রমিক জানান, সবাই বের হয়ে এসেছে তাই আমরাও বের হয়ে এসেছি। এছাড়া আমরা ভেতর কাজ করতে গেলে বহিরাগত কিছু লোকজন এসে আমাদের মারধর করে। তাই ইচ্ছা থাকলেও কাজ করতে না পেরে বের হয়ে আসতে বাধ্য হই।
আলপনা নামে একজন অপারেটর জানান, ভেতরে কাজ করলেও নিরাপত্তা পাই না, স্টাফরা আমাদের কে মারধর করে, আবার বাইরে গেলেও একদল লোক আমাদের ওপর হামলা করে। এখন আমরা কি করব বুঝতে পারছি না।

টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কাস ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, শ্রমিকরা কোন কিছু না বুঝেই কারখানা থেকে বের হয়ে আসছে। যেহেতু সরকার মজুরি বৃদ্ধি করেছে তাই এখন শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়া উচিত। এরপরও যদি শ্রমিকদের কোন দাবি-দাওয়া থাকে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যেতে পারে।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ রেজাউল হক বলেন, সকালে প্রতিদিনের মতো কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা রাস্তায় বের হয়ে এসে অবস্থান নেয়। এ সময় আমরা শ্রমিকদের কে প্রথমে বুঝিয়ে সারানোর চেষ্টা করি। আমাদের কথায় কিছু শ্রমিক রাস্তা থেকে সরে গেলেও অন্যরা বিক্ষোভ অব্যাহত রেখে সড়কে বসে থাকে। এ সময় আমরা লাঠিচার্জ করে তাদেরকে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয় । বর্তমানে পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক আছে।
তিনি আরো বলেন জামগড়া নরসিংহপুর এলাকার কয়েকটি কারখানা বাদে শিল্প এলাকার অন্যান্য এলাকার কারখানাগুলো চালু রয়েছে এবং শ্রমিকরা সেখানে শান্তিপূর্ণভাবে কাজ করছেন। এছাড়া যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শিল্প পুলিশের পাশাপাশি আমাদের সদস্যরাও  প্রস্তুত রয়েছে।
শ্রমিক বিক্ষোভে থমথমে আশুলিয়া
শ্রমিক-মালিক-সরকার ত্রিপক্ষীয় সমঝোতার পর আজ সকালেও সাভারে শ্রমিক বিক্ষোভ হয়েছে। আজ সকালে সাভারের আশুলিয়ায় হামীম গুপের পোষাক শ্রমিকরা বিক্ষোভ করে। এসময় বেশ কিছু গাড়ি ভাঙচুর করে তারা। পরে পুলিশ এসে শ্রমিকদের রাস্তা থেকে সরাতে গেলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক। তবে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

কী নিয়ে সংলাপ জানতে চান ড. কামাল হোসেন

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আবারও সংলাপে বসার যে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, তাতে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে কী নিয়ে এই সংলাপ তা জানতে চান গণফোরামের নেতা ড: কামাল হোসেন।
বিবিসি বাংলার মিজানুর রহমান খানকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, " প্রধানমন্ত্রী সবাইকে ডাকবেন সংলাপে, একটু তো ইঙ্গিত থাকবে কী কী বিষয় নিয়ে এই সংলাপ। যদি সেটা আমাদের কাছে বিবেচনাযোগ্য হয়, তখন আমরা কমিটিতে সিদ্ধান্ত নেব এব্যাপারে।"
প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সংলাপের আমন্ত্রণ এলে তাতে সাড়া দেবেন কীনা, এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, "নীতিগতভাবে আমি একে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে বিবেচনা করবো। কিন্তু সেটা জানতে হবে কী প্রেক্ষাপটে এটার আয়োজন করা হচ্ছে, কী বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।"
উল্লেখ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, গতকাল দলের এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই এই সংলাপের কথা বলেন। তিনি জানান, নির্বাচনের আগে যেসব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ হয়েছিল তাদের সঙ্গে আবারও সংলাপ হবে।
নির্বাচনের আগে ঐ সংলাপে অংশ নিয়েছিল বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, জাতীয় পার্টি, যুক্তফ্রন্ট সহ আরও বহু দল। ঐ সংলাপের সময়েই বিরোধী দলগুলো নির্বাচনে অংশ নেয়ার কথা ঘোষণা করে।
কেন সংলাপ
নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকার গঠনের পর কেন এরকম একটি সংলাপের উদ্যোগ নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী?
বিবিসির বাংলার মিজানুর রহমান খানকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সরকারের একজন মন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, "প্রধানমন্ত্রী চান সবাইকে নিয়ে দেশ পরিচালনা করতে। সেই লক্ষ্যেই তিনি কিন্তু ৭০টির বেশি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করেছিলেন নির্বাচনের আগে। তখন শুধু রাজনীতি নয়, দেশ গঠনের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যে তাদের ভুলে যাননি, তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করার আগ্রহ যে তাঁর আছে, সেই বিষয়টাই এখানে পরিস্ফুটিত হয়েছে।"
কী কথা হতে পারে সংলাপে
যদি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপে যোগ দেন, সেখানে কী জানাবেন তাঁকে? এ প্রশ্নের উত্তরে ডঃ কামাল হোসেন বিবিসিকে বলেন, সেখানে অবশ্যই নির্বাচনের ব্যাপারে কথা হবে।
তিনি বলেন, "সংলাপের প্রস্তাব আসলে প্রথমে আমরা জানতে চাইবো যে কী বিষয় নিয়ে হবে।
তারপর আমাদের কমিটির বৈঠক হবে। ওখানে বসে আমরা আমরা আলোচনা করে সুচিন্তিত উত্তর দেব।"
ড: কামাল হোসেন বলেন, সংলাপে যোগ দেয়া বা না দেয়ার সিদ্ধান্তটি তারা প্রথম নিজ দল গণফোরাম থেকেই নেবেন। বিরোধী জোট জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগের অবস্থার সঙ্গে এখনকার অবস্থার একটা পার্থক্য রয়েছে। কাজেই যে কোন প্রস্তাবের ব্যাপারে এখন নতুন করে চিন্তা করতে হবে।
জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের চেয়ে এখন তিনি গণফোরামকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন কীনা, এ প্রশ্নের জবাবে ডঃ কামাল হোসেন বলেন, "এটা তো সবসময় দিতে হয়। নিজের পার্টিকে গুরুত্ব দিয়ে তার পর তো ঐক্য ফ্রন্ট।"
যদি বিএনপি এই সংলাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তখন কী গণফোরাম সংলাপ যাবে? এর উত্তরে ডঃ কামাল হোসেন বলেন, এটা একদম স্পেকুলেট করা উচিৎ নয়। এটা যখন ঘটবে তখন আমরা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।"

পার্লামেন্টের বাইরেও বিরোধী দল হয় -বেগম খালেদা জিয়া

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘পার্লামেন্টের বাইরে থেকেও জনগণের সমর্থন থাকলে বিরোধী দল হয়।’ নাইকো মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানিতে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ শুনানিতে বলেছিলেন, বলতে কষ্ট হয়, আমরা বিরোধী দলে থাকায় এ মামলার বিচার শুরু হচ্ছে। এ সময় পাশে থাকা কয়েকজন আইনজীবী বলেন, বিএনপি বিরোধী দলেও নেই। তাদের এ কথার পরিপ্রেক্ষিতে এজলাসে বসা বিএনপি চেয়ারপারসন এ মন্তব্য করেন। গতকাল পুরনো ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডে অবস্থিত পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারের অস্থায়ী বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ হাফিজুর রহমানের আদালতে নাইকো মামলার অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানি চলছিল। পরে এ মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২১শে জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত। এর আগে গত ৩রা জানুয়ারি এ মামলার শুনানি হয়।
শুনানি শেষে দুপুর ১টা ৫৩ মিনিটে খালেদা জিয়াকে হুইল চেয়ারে করে আবার কারাগারে নিয়ে যায় পুলিশ ও কারা রক্ষীরা। এর আগে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে তাকে আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শুরু হয়।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শুনানিতে ছিলেন। আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনজীবী ছিলেন, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন, সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, আইনজীবী মো. আক্তারুজ্জামান প্রমুখ।
শুনানির শুরুতে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ থাকা আলামতের অনুলিপি চেয়ে বলেন, আলামতের নথি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এগুলো ছাড়া শুনানিতে বক্তব্য রাখবো কীভাবে? দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল জবাবে বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ নথিপত্র দিতে বাধ্য। কিন্তু আসামিপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী দেয়া যাবে না। ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৪ অনুযায়ী ভুলবশত কারারুদ্ধ হলে দেয়ার বিধান রয়েছে। তার পরেও অভিযোগপত্রে যে আলামতের নাম রয়েছে সেগুলো আসামিপক্ষ পাবেন।
আদালত বলেন, যে নথির অনুলিপি চেয়েছেন সে বিষয়ে আপনার মত কী? জবাবে দুদকের আইনজীবী বলেন, সত্যায়িত অনুলিপি নিতে পারবেন। কিন্তু উনারা বারবার মামলা কার্যক্রম বিলম্বিত করেছেন।
জবাবে আসামিপক্ষের আইনজীবী বোরহানউদ্দিন বলেন, আমাদের প্রয়োজনে উচ্চ আদালতে গিয়েছি। এখনো পর্যন্ত আমাদের আরজি সেখানে নাকচ হয়নি।
আদালত বলেন, যথা শিগগির আপনাদের আলামতের নথি দেয়া হবে। আপনারা এগুলো পাবেন। আপনারা বিধি অনুসারে আবেদন করুন।
মোশাররফ হোসেন কাজল আদালতের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনি এ মামলার সপ্তম বিচারক। উনারা শুনানি বিলম্বিত করতে নথি চাইছেন। মামলা এখন অভিযোগ গঠনের পর্যায়ে রয়েছে। মামলার নথি বিশাল আকারের। আমরা কোনটি ব্যবহার করবো কোনটি করবো না, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।
এরপর আদালত শুনানি শুরু করতে বললে বেলা ১২টা ৫৫ মিনিটে মওদুদ আহমেদ অভিযোগপত্র পড়া শুরু করেন। তিনি বলেন, আমি প্রাসঙ্গিক অংশ পড়তে চাই। অভিযোগ থেকে পড়ে তিনি বলেন, ২০০১ সালের ১১ই জুন নাইকোকে গ্যাসক্ষেত্রের কাজ দেয়া হয়েছে। এটা ছিল একটি চলমান প্রক্রিয়া। আগের আওয়ামী লীগ সরকারের করা চুক্তির ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছে পরবর্তী সরকার। আগের সরকারের চুক্তির জন্য মামলা করা হলে কোনো সরকার চলতে পারবে না।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে কোনোভাবে চুক্তির জন্য দায়ী করা যায় না। তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে একবার চুক্তি ফেরত পাঠিয়েছিলেন। চুক্তি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলেন। তিনি যে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হতে চেয়েছেন এ ব্যাপারে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই। নাইকো যদি অদক্ষও হয় সেটার জন্য দায়ী আগের আওয়ামী লীগ সরকার। এর জন্য খালেদা জিয়া দায়ী হবেন কেন?
মওদুদ আহমেদ বলেন, চারদলীয় জোট সরকার আগের সরকারের ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছেন মাত্র। এটা চলমান প্রক্রিয়া থেকে করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক চুক্তির প্রথা হলো আগের সরকার যেটা করবে সেটা পরবর্তী সরকারও রক্ষা করবে। ক্ষমতায় কোনো দল ছিল, সেটা মুখ্য নয়। যখন যে সরকার থাকবে, তারা চুক্তির সুরক্ষা দেবে।
১৯৯৮ সালের ২৮শে জুন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব তৌফিক ইলাহী নাইকোর সঙ্গে চুক্তির বিষয়টি বিবেচনায় নেয়ার সুপারিশ করেন। এ সময় একটু হেসে মওদুদ বলেন, তিনি আমার ভায়রা। এ পর্যায়ে দুদকের আইনজীবী বলেন, আপনার আনন্দের জন্য আমরা আনন্দিত।
মওদুদ আহমেদ বলেন, নাইকো চুক্তির আগে ফ্রেমওয়ার্ক অন আন্ডারস্ট্যান্ডিং হয়েছিল। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর অধীনে চুক্তি হয়েছিল। ফ্রেমওয়ার্ক অন আন্ডারস্ট্যান্ডিং করেছিল পূর্ববতী আওয়ামী লীগ সরকার।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে চুক্তির ক্ষেত্রে অবৈধভাবে গ্রহণের (আনসলিসিট অফার) চিত্র পাওয়া যায়। এটা পূর্ববর্তী সরকারের জন্য প্রযোজ্য হবে। কারণ, তারা ২৩টি ব্লকের ৯ ও ১০ নম্বর ব্লকের দরপত্র আহ্বান করে। এর আগে নাইকো ১৯৯৭ ও ১৯৯৮ সালে কয়েকবার আবেদন করেও ব্যর্থ হয়েছিল। ১৯৯৯ সালের ২৬শে জুন মন্ত্রিসভায় প্রান্তিক গ্যাস ক্ষেত্রের উন্নয়নের সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে বলে সিদ্ধান্ত নেয়। এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে তখনকার আওয়ামী লীগ সরকার।
মওদুদ আহমদ বলেন, বলতে কষ্ট হয় আমরা বিরোধী দলে আছি বলে মামলাটি চলছে। বিএনপি সমর্থক কয়েকজন আইনজীবী বলেন, এখন তো বিরোধী দলেও নেই। তখন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেন, ‘সংসদের বাইরে থেকেও জনগণের পক্ষে থাকলে বিরোধী দল হয়।’
মওদুদ আহমেদ বলেন, এ পর্যন্ত পড়ে মনে হচ্ছে আমাদের বিরুদ্ধে নয়, যারা আগের সরকারে ছিল তাদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগপত্র।
এ পর্যায়ে মওদুদ আহমদ উচ্চ আদালতে ৩৬৫ জনের আগাম জামিন আবেদনের শুনানি করতে হবে জানিয়ে সময় চাইলে আদালত তার আবেদন মঞ্জুর করেন।
আদালত গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের পক্ষে শুনানি করতে বললে আইনজীবী মো. জাহেদুল ইসলাম (কোয়েল) বলেন, আগের অভিযোগপত্রে আমার মক্কেলের নাম ছিল না। শুধু একজন আসামির জবানবন্দির ভিত্তিতে তাকে আসামি করা হয়েছে। আমার মক্কেলের আসামি হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ তিনি সরকারের কেউ না। তার পরিচয় একজন ব্যবসায়ী।
এরপর জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউসুফ হোসাইন কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে নিজের পক্ষে বলেন, আমি এক বছর মন্ত্রণালয়ে ছিলাম। পরে পদোন্নতি পেয়ে অন্যত্র বদলি হই। একজন সিনিয়র সহকারী সচিবের এত বড় চুক্তিতে ভূমিকার রাখার সুযোগ কোথায়? আমার ওপরে উপসচিব, যুগ্ম সচিব, অতিরিক্ত সচিব ও সচিব ছিলেন। তাদের অনেকে পরের বিএনপি সরকার, জরুরি অবস্থার সরকার ও আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দায়িত্ব পালন করে সচিব হয়ে অবসরে গেছেন।
তিনি বলেন, এ মামলা ভুয়া। মামলার কারণে আমার অবসর ভাতা আটকে গেছে। স্ত্রী ছেলে-মেয়েকে নিয়ে সংসার চালাতে পারছি না। আমাকে অব্যাহতি দেয়া হোক।
জরুরি আমলের সরকারের সময় ২০০৭ সালের ৯ই ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কানাডীয় কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে গ্যাসচুক্তি করায় রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার ক্ষতির অভিযোগে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০০৮ সালের ৫ই মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগপত্র দেয়া হয়।

জামায়াত নিজ থেকে জোট ছাড়বে না

জামায়াত নিজ থেকে বিশদলীয় জোট ছাড়বে না। বিএনপি যদি বলে তখনই তারা সিদ্ধান্ত নেবে। জামায়াত নিজেদের মধ্যে জোট ছাড়ার ব্যাপারে আলোচনা করেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কর্মপরিষদের একজন নেতা বলেন, জামায়াত তো দরখাস্ত করে জোটে যায়নি। তাই দরখাস্ত দিয়ে জোট ত্যাগ করবে না। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেন জামায়াত ছাড়ার ব্যাপারে বিএনপিতে সিদ্ধান্ত কি হয় তা দেখতে চেয়েছেন। নির্বাচনের আগে একটি ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমকে কামাল হোসেন বলেন, জামায়াতকে ধানের শীষ প্রতীক দেয়া হবে তিনি তা জানতেন না। আগে জানলে ঐক্য করতেন না।
বিএনপি এ সম্পর্কে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। শনিবার কামাল হোসেন বলেন, জামায়াতকে নিয়ে তিনি রাজনীতি করবেন না। জোটে থাকবেন কিনা সেটা অবশ্য খোলাসা করেননি। কামাল হোসেনের সর্বশেষ বক্তব্য নিয়ে জামায়াত আবার আলোচনায় এসেছে। ৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচনে নিবন্ধনহীন জামায়াতের ২২ জন নেতা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। জামায়াতকে ধানের শীষ প্রতীক দেয়া নিয়ে বিএনপির ভেতরে ভিন্নমত ছিল। শীর্ষ কয়েকজন নেতা বিপক্ষে থাকলেও কয়েকজন নেতার অতি আগ্রহের কাছে তারা পরাজিত হন। যুক্তি ছিল জামায়াত তো রাজনৈতিক দল হিসেবে এই মুহূর্তে স্বীকৃত নয়।
আদালতের রায়ে জামায়াত নামে কোনো রাজনৈতিক দল নেই। এই অবস্থায় স্বতন্ত্র অবস্থান থেকে ধানের শীষ প্রতীক দেয়া যেতে পারে। শেষ পর্যন্ত এই যুক্তিতেই জামায়াতকে ধানের শীষ প্রতীক দেয়া হয়। বিএনপি এখন বলছে, জামায়াতকে তারা ধানের শীষ দেয়নি। এই যুক্তি কতটা গ্রহণযোগ্য। এরা কারা? কি তাদের পরিচয় সবার জানা। ঢাকা-১৫তে  ডা. শফিকুর রহমানকে ধানের শীষ প্রতীক দেয়া হয়। কে না জানে ডা. শফিক জামায়াতের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার বিরুদ্ধে অবশ্য যুদ্ধাপরাধের কোনো অভিযোগ নেই। জামায়াতকে নিয়ে বিএনপি আগা গোড়াই নেতিবাচক প্রচারণার মুখোমুখি। এটা শুধু দেশে নয়, বিদেশেও।
বিএনপির গায়ে ময়লা লেগেছে এই জামায়াতকে নিয়েই। ভোটের রাজনীতিতে জামায়াত একটা ফ্যাক্টর- এমনটাই বলাবলি ছিল। এখন তো ভোটই নেই। কবে ভোট হবে কে জানে? রাজনৈতিক পণ্ডিতরাও হিসাব মেলাতে ব্যর্থ। পণ্ডিতদের কেউ কেউ বলছেন, জোর যার ভোট তার- এটা অন্তত বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে।
জামায়াত নিজেদের মধ্যে ঐক্য এবং ভোট নিয়ে আলাপ-আলোচনা করছে। তারা মনে করে সরকার এমন কৌশল নেবে- এটা তাদের ধারণার বাইরে। আবার কোনো দাবি না মানা সত্ত্বেও ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে যাবে তারা ভাবতে পারেনি। বিশ দলীয় জোটে শুধু স্বপ্নই দেখানো হয়েছে। সুনির্দিষ্ট কোনো রূপরেখা কেউ দেননি। নির্বাচনে অংশ নেয়া ঠিক হয়েছে, কি হয়নি এ নিয়ে জামায়াতে যেমন ভিন্নমত রয়েছে, তেমনি বিএনপিতেও এই স্রোত প্রবল।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজ দলের মধ্যেই এখন কোণঠাসা। নির্বাচনে শেষ দিন পর্যন্ত থাকার ঘোষণাকে কেউ কেউ সাধুবাদ জানান। তারা অবশ্য এটাও বলেন, একদম হাত-পা গুটিয়ে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করার মধ্যে কি যুক্তি ছিল বিএনপি নেতারাই ভাল বলতে পারবেন। প্রার্থীরা জেলে যাচ্ছে। বাড়িতেও হামলা হচ্ছে। ভোটকেন্দ্রে যেতে পারছে না। এটা দেখার পরও কৌশলের কোনো পরিবর্তন করেননি বিএনপির শীর্ষ নেতারা। যদিও এর পক্ষে হাজারো যুক্তি রয়েছে। বেশির ভাগ নেতা-কর্মীই মনে করেন নির্বাচনে না গেলে দেশবাসী প্রত্যক্ষ করতে পারতো না। এই সরকার ভোটকে কোথায় নিয়ে গেছে, দিনে-রাতের ভোট কি দেখতে পারতো? পশ্চিমা বিশ্বও তাজ্জব হয়েছে নির্বাচন দেখে। তারাই তো সব সময় বলতো, ২০১৪ সালে নির্বাচন বয়কট করাটা বিএনপির জন্য মস্তবড় ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। মির্জা ফখরুল ভোটের পর বলেছেন, খালেদা জিয়ার সিদ্ধান্ত যে সঠিক ছিল তা এখন আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

ছয় গ্রেডে পোশাক শ্রমিকদের বেতন বাড়লো: আশুলিয়ায় বিক্ষোভ, সংঘর্ষ

পোশাক শ্রমিকদের মজুরি কাঠামোর গ্রেডে সমন্বয় করেছে সরকার। যৌক্তিক হারে বেতন বৃদ্ধি করে গ্রেডগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি কাঠামোর ছয়টি গ্রেডে বেতন বাড়িয়েছে সরকার। গতকাল শ্রম মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মালিক-শ্রমিক ও প্রশাসনের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এই সিদ্ধান্ত জানান। নতুন কাঠামোতে চিকিৎসা, যাতায়াত, বাড়িভাড়া বাড়ানো ছাড়াও মূল মজুরির সঙ্গে ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট ঘোষণা করা হয়েছে। পর্যালোচনা কমিটির ঘোষিত কাঠামোতে দেখা গেছে, এক নম্বর গ্রেডে শ্রমিকদের মজুরি ৭৪৭ টাকা, দুই নম্বর গ্রেডে ৭৮৬ টাকা, তিন নম্বর গ্রেডে ২৫৫ টাকা, চার নম্বর গ্রেডে ১০২ টাকা ও পাঁচ নম্বর গ্রেডে মজুরি ২০ টাকা বেড়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, প্রথম গ্রেডের একজন কর্মী সব মিলিয়ে ১৮ হাজার ২৫৭ টাকা বেতন পাবেন। ২০১৩ সালের বেতন কাঠামোতে এই গ্রেডের মজুরি ছিল ১৩ হাজার টাকা।
২০১৮ সালে নতুন মজুরি কাঠামোর গেজেটে তা ১৭ হাজার ৫১০ টাকা করা হয়েছিল।
দ্বিতীয় গ্রেডের সর্বমোট বেতন ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ৪১৬ টাকা। ২০১৩ সালের বেতন কাঠামোতে এই গ্রেডের বেতন ১০ হাজার ৯০০ টাকা এবং ২০১৮ সালের গেজেটে তা ১৪ হাজার ৬৩০ টাকা করা হয়েছিল।
তৃতীয় গ্রেডের সর্বমোট বেতন ঠিক হয়েছে ৯ হাজার ৮৪৫ টাকা, যা ২০১৩ সালের বেতন কাঠামোতে ৬ হাজার ৮০৫ টাকা এবং ২০১৮ সালের গেজেটে ৯ হাজার ৮৪৫ টাকা করা হয়েছিল।
চতুর্থ গ্রেডের সর্বমোট বেতন ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৩৪৭ টাকা। ২০১৩ সালের বেতন কাঠামোতে এই গ্রেডের বেতন ৬ হাজার ৪২০ টাকা ছিল। ২০১৮ সালের নতুন কাঠামোর করা হয়েছিল ৯ হাজার ২৪৫ টাকা।
পঞ্চম গ্রেডে সর্বমোট বেতন ঠিক হয়েছে ৮ হাজার ৮৭৫ টাকা, যা ২০১৩ সালের বেতন কাঠামোতে ৬ হাজার ৪২ টাকা এবং ২০১৮ সালের গেজেটে ৮ হাজার ৮৭৫ টাকা ছিল।
ষষ্ঠ গ্রেডের সর্বমোট বেতন ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৪২০ টাকা। ২০১৩ সালের বেতন কাঠামোতে তা ছিল ৫ হাজার ৬৭৮। আর ২০১৮ সালে মজুরি কাঠামোর গেজেটে তা বাড়িয়ে ৮ হাজার ৪০৫ টাকা করা হয়েছিল।
সপ্তম গ্রেডের মজুরি সব মিলিয়ে আট হাজার টাকাই রাখা হয়েছে। ২০১৩ সালের কাঠামোতে সর্বনিম্ন গ্রেডের বেতন ছিল ৫৩০০ টাকা।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সংশোধিত এই কাঠামো ২০১৮ সালের ১লা ডিসেম্বর থেকেই কার্যকর ধরা হবে। বর্ধিত অংশের টাকা ফেব্রুয়ারির বেতনের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। আগামী সাত দিনের মধ্যে সংশোধিত কাঠামোর গেজেট প্রকাশ করা হবে জানিয়ে শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, শ্রমিকদের অধিকাংশই ভাঙচুর চায় না। কাজ করতে চায়। আমি আশা করবো, তারা সবাই শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগ দেবেন।
তিনটির বদলে ৬টি গ্রেড পর্যালোচনার কারণ ব্যাখ্যা করে বাণিজ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ১০ তারিখে যখন আলোচনা হয়েছিল তখন শুধু ৩, ৪, ও ৫ নম্বর গ্রেড নিয়ে আলোচনার করার জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু আমরা মালিক-শ্রমিক উভয়পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বললাম যে ১ থেকে ৫ পর্যন্ত করবো, তাহলে ৬ কেন বাদ যাবে। এজন্য আমরা ছয়টি গ্রেড সমন্বয় করে দিয়েছি।
বৈঠকে উপস্থিত শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আমিরুল হক আমিনও সংশোধিত মজুরি কাঠামোকে স্বাগত জানিয়ে শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানান। আরেক শ্রমিক নেত্রী নাজমা আক্তার বলেন, প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত দিয়েছেন আমরা তা মেনে নিয়েছি। তবে শ্রমিকরা এখন কি সিদ্ধান্ত নেবেন তা তাদের ব্যাপার।
বৈঠক শেষে পোশাক মালিকদের পক্ষে শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, গত কয়েকদিনে আন্দোলনের নামে যারা পোশাক কারখানা ভাঙচুর করেছে তাদের কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। সম্পদ রক্ষায় সরকারকে সচেষ্ট হতে হবে। সরকার যেন কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় না দেয়। এ সময় পোশাক শ্রমিকদের অনতিবিলম্বে কাজে যোগ দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বেতন কাঠামো সংশোধনের প্রস্তাবে মালিক ও শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধিরা স্বাক্ষর করেন। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ানের সভাপতিত্বে বৈঠকে বাণিজ্য সচিব মফিজুল ইসলাম, পোশাক কারখানা মালিকদের পক্ষে বিজিএমই’ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, সালাম মুর্শেদী, আতিকুর রহমান, শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, এ কে আজাদ এবং শ্রমিকদের পক্ষে নাজমা আকতার, ফজলুল হক মন্টু, আমিরুল হক আমিন উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি আট হাজার টাকা নির্ধারণ করে গত ২৫শে নভেম্বর গেজেট প্রকাশ করে সরকার। ডিসেম্বরের ১ তারিখ থেকে তা কার্যকর করার নির্দেশনা দেয়া হয় সেখানে। ওই মজুরি কাঠামোর কয়েকটি গ্রেডে বেতন কমে যাওয়ার অভিযোগ জানিয়ে বিক্ষোভ করে শ্রমিকরা। এরপর শ্রম সচিবকে প্রধান করে ১২ সদস্যের পর্যালোচনা কমিটি করে শ্রম মন্ত্রণালয়। ওই কমিটি গতকাল নতুন করে মজুরি কাঠামোর সমন্বয় করার সিদ্ধান্ত জানান।
আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভ অব্যাহত, পাঁচ শতাধিক কারখানা বন্ধ ঘোষণা
ঘোষিত মজুরি কাঠামোতে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে টানা ৭ম দিনের মতো আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন তৈরিপোশাক শ্রমিকরা। এসময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কারখানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ শ্রমিকদের বাধা দিলে দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে আহত হয়েছে অন্তত ২০ শ্রমিক। এছাড়া শ্রমিক বিক্ষোভের ঘটনায় জামগড়া, নরসিংহপুর, জিরাবো, কাঠগড়াসহ বিভিন্ন এলাকার পাঁচ শতাধিক কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছে মালিকপক্ষ। ওদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বৈষম্য দূরীকরণে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হলে গাজীপুর, উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকার শ্রমিকরা কাজে যোগদান করেছেন। তবে শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় শ্রমিকদের আন্দোলনে ঘি ঢেলে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ভূঁইফোড় শ্রমিক সংগঠন, স্থানীয় ঝুট ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি, ভূঁইফোড় শ্রমিক সংগঠন এবং পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
গতকাল  জামগড়া এলাকার শ্রমিকরা কারখানায় প্রবেশ করে কাজ না করে শুধু হাজিরা কার্ড পাঞ্চ করে বের হয়ে যান। পরবর্তীকালে তারা সড়কে অবস্থান নিয়ে যানবাহনে ভাঙচুরের চেষ্টা চালান। এ ঘটনায় পুলিশ বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও জলকামান ব্যবহারসহ লাঠিচার্জ করে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এভাবে উভয়পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় চলা সংঘর্ষের ঘটনায় কমপক্ষে আহত হয়েছে অন্তত ২০। তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে টানা শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনায় অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে তৈরিপোশাক  মালিকরা। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেছে তৈরিপোশাক মালিক রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। সংবাদ সম্মেলন থেকে বিজিএমইএ’র সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান শ্রমিকদের সোমবারের মধ্যে কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। এসময় সিদ্দিকুর রহমান বলেন, পোশাকশিল্পকে ধ্বংস করার জন্য একটি মহল শ্রমিকদের সরলতার সুযোগ নিয়ে কারখানায় ভাঙচুর-হামলা করেছে।
এ ঘটনায় তিনি সরকারের কাছে জানমালের নিরাপত্তা চেয়ে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানান। ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইদুর রহমান বলেন, টানা শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনায়  রোববার শিল্পাঞ্চলের পাঁচ শতাধিক কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছে মালিকপক্ষ। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা রাস্তা অবরোধের চেষ্টা করলে তাদের সরিয়ে দেয়া হয়। এছাড়া যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও বিজিবির টহলের পাশাপাশি প্রতিটি কারখানার সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হতে চান ‘উদীয়মান তারকা’ জুলিয়ান

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের এখনো প্রায় দুই বছর বাকি। কিন্তু এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে প্রাথমিক প্রস্তুতি। রিপাবলিকান দল থেকে আবার নির্বাচন করতে চেয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু তার সামনে বড় এক লড়াই গড়ে তুলতে ডেমোক্রেট থেকে সামনে চলে এসেছেন একঝাঁক মুখ। তাদের কেউ কেউ এরই মধ্যে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছেন প্রার্থিতা। কেউবা প্রাথমিক পর্যায়ের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। কেউ মনের ভিতর লুকিয়ে রেখেছেন। এমন এক ডজনের বেশি প্রার্থীর নাম ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে এরই মধ্যে ভারতীয় বংশোদ্ভূত তুলসি গাব্বার নির্বাচন করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে প্রথম হিস্পানিক হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ঘনিষ্ঠ ৪৪ বছর বয়সী জুলিয়ান ক্যাস্ত্রো। তিনি বলেছেন, আমি যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট পদে একজন প্রার্থী। সান অ্যান্টোনিওর গুয়াডালুপে প্লাজায় তিনি এ ঘোষণা দিয়েছেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
জুলিয়ান ক্যাস্ট্রোম টেক্সাসের সান অ্যান্টনিওর সাবেক মেয়র এবং ওবামার সময়ের মন্ত্রীপরিষদে একজন সদস্য। শনিবার তিনি প্রার্থিতার ঘোষণা দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে যখন অভিবাসন ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র বিতর্ক, দেয়াল নির্মাণ নিয়ে কঠিন অবস্থায় ট্রাম্প প্রশাসন তখন প্রথম হিস্প্যানিক হিসেবে তিনি এই ঘোষণা দিলেন। তিনি আশা ও বহুত্ববাদের গুরুত্ব সামনে তুলে ধরেছেন।
তার পরিবার মেক্সিকো থেকে এসে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছে। তিনি বক্তব্য দেয়ার সময় ঘন ঘন অভিবাসন বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন। তাকে ডেমোক্রেট দলে ডাকা হয় একজন উদীয়মান তারকা বা রাইজিং স্টার হিসেবে। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়ে তিনি গৃহায়ণ বিষয়ক মন্ত্রী ছিলেন এবং একই সঙ্গে ওবামার মন্ত্রীপরিষদে তিনি ছিলেন বয়সে সবচেয়ে ছোট। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন অভিবাসন ইস্যুতে কঠোর অবস্থানে তখন ক্যাস্ত্রো অনেকটা উদার হবেন বলে ভাবা হয়।
মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অর্থ দাবি করছেন কংগ্রেসের কাছে। কিন্তু ডেমোক্রেটরা সেই অর্থ ছাড় দিতে নারাজ। এতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ডেমোক্রেটরা যখন এমন অবস্থান নিয়েছে তখন ভিন্ন বার্তা দিয়েছেন ক্যাস্ত্রো। তিনি বলেছেন, সান অ্যান্টোনিও শহরে বসবাসকারীদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ হলেন হিস্পানিক। তারাই যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যত: বৈচিত্র, দ্রুত বর্ধনশীল ও আশাবাদের প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি বলেন, হ্যাঁ, আমাদের অবশ্যই সীমান্ত নিরাপত্তা করতে হবে। তবে এক্ষেত্রে তা হতে হবে স্মার্ট ও মানবিক উপায়ে। (সীমান্ত পেরিয়ে আসা) বাচ্চাদেরকে খাঁচায় ভরে আমাদের নিরাপদ থাকার কোনো পথ নেই। সীমান্ত দেয়াল নির্মাণের বিষয়ে আমরা না বলি। তবে বলি আসুন সম্প্রদায়কে গড়ে তুলি। তার এ বক্তব্যের পর উল্লসিত জনতার মধ্যে হর্ষধ্বনি পড়ে যায়।
উল্লেখ্য, ডনাল্ড ট্রাম্প অপরাধ, মাদক ও গ্যাং বা অপরাধ চক্রকে থামানোর জন্য সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ করতে চান। এ বিষয়ে ক্যাস্ত্রো বলেন, এখন যে সঙ্কট আছে তা হলো নেতৃত্বের সঙ্কট। আমাদের মহান জাতীয় যে মূল্যবোধ আছে তা সমুন্নত রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন ট্রাম্প।
আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে শুরু হবে প্রাইমারি নির্বাচন। সেই নির্বাচন চলতে থাকবে কয়েক মাস। তাতে চূড়ান্ত দফায় যিনি ডেমোক্রেট দল থেকে মনোনয়ন পাবেন তিনিই নির্বাচনে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লিপ্ত হবেন।

ওয়াদা পূরণ করতেই হবে -প্রথম দিন কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী

টানা তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে প্রথম কার্যালয়ে এসে কর্মকর্তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের তাগিদ দিলেন শেখ হাসিনা। গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ তাগাদা দিয়ে বলেন, যে ওয়াদা আমরা জাতির কাছে দিয়ে এসেছি সেটা বাস্তবায়ন করতেই হবে। এটা করতে হলে কাজ করতে হবে।  সেজন্য নির্বাচনী ইশতেহারকে আমরা গুরুত্ব  দেই। ক্ষমতাটা শুধু চেয়ারে বসে ভোগ করা নয়, এটা জনগণের  কাছে দায়িত্ববোধ।
প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এবং এর অর্জনসমূহ সমুন্নত রাখার জন্য সরকার দুর্নীতি বিরোধী লড়াই অব্যাহত রাখবে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চতুর্থবারের মতো পুনঃনির্বাচিত হওয়ার পর আজ পিএমও অফিসে তার প্রথম কর্মদিবসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) সিনিয়র কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, যদিও কোনো দেশের পক্ষেই শতভাগ দুর্নীতি নির্মূল করা সম্ভব নয়, তবে আমাদের সরকারের একটা দায়িত্ব হলো এই দুর্নীতি প্রতিরোধ করা যাতে এটি দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে না পারে এবং আমাদের সকল সাফল্য ম্লান করে না দেয়। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, সন্ত্রাসবাদ, দুর্নীতি ও মাদক নির্মূলের ক্ষেত্রে আমাদের যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে।
শেখ হাসিনা বলেন, টেন্ডার ছিনতাইয়ের ঘটনা  দেশে বারংবার ঘটেছে। ‘কিন্তু আমরা দেশকে এই অবস্থা থেকে মুক্ত করতে পেরেছি।
প্রযুক্তির বদৌলতে এই সাফল্য এসেছে এবং এটা ডিজিটাল বাংলাদেশের একটা ভালো ফল। প্রধানমন্ত্রী সরকারি কর্মকর্তাদের দেশের উন্নয়নের জন্য কঠোর পরিশ্রম করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের জনগণের কল্যাণে সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কঠোর পরিশ্রম করতে হবে, যাতে জনগণ তার সুফল ভোগ করতে পারে। আমরা দেশকে উন্নত ও সম্ভাবনাময় জাতিতে পরিণত করতে চাই। ইতিমধ্যে আমরা দেশকে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি লাভ করেছি।
এটাকে অবশ্যই আমাদের ধরে রাখতে হবে। তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সহযোগিতায় সকল প্রকার উন্নয়ন কাজ শেষ করতে চাই, যাতে করে দেশ আরো এগিয়ে যাবে। দেশ সকল  ক্ষেত্রে নিজস্ব সক্ষমতা অর্জন করতে চায়। বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশও শান্তি বজায় রাখতে সচেষ্ট রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা আর অপরের ওপর নির্ভরশীল থাকবো না। আমরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর যেন দেশে স্বাধীনতাবিরোধীরা ক্ষমতায় আসতে না পারে তার জন্য সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, আমরা চাই যে বা যারা দেশের ক্ষমতায় আসুক না কেন তারা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করবে এবং উন্নয়নকে সামনের দিকে নিয়ে যাবে। বাংলাদেশের ব্যাপক উন্নয়নের কারণে বিশ্ববাসী আমাদের দেশকে সম্মানের চোখে দেখে থাকে। কিন্তু এক সময় বাংলাদেশকে খরা, দুর্ভিক্ষ, বন্যার দেশ হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি লাভ করেছিলো। যা আমাদের কষ্ট দিতো। আর আমরা এটাকে সহ্য করতে চাই না। তিনি বলেন, ‘সেই সময় থেকে আমি মনে করতাম আর কাউকে দেশকে খাটো করতে দেবো না। মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন করেছি, তাই সব সময় মাথা উঁচু করে থাকতে চাই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমনকি পাকিস্তানি জনগণ আমাদের ব্যাপক উন্নয়ন দেখে বাংলাদেশের মতো তাদের দেশকে রূপান্তরিত হতে দেখতে চায় এবং এর চেয়ে আনন্দের মুহূর্ত আর হতে পারে না’। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীদের জনগণের  সেবা করার ব্যাপারে কোনো চিন্তা ছিল না। ‘কিন্তু একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ জনগণের জন্য কীভাবে কাজ করা যায়  সেকথা চিন্তা করে এবং ওই চিন্তার কারণে আমরা তাদের জন্য সব করেছি।’
প্রধানমন্ত্রী চলমান প্রকল্পসমূহ দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করার জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, তাদের (সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী) কর্মকাণ্ডে গতি আনতে তিনি তার আগের মেয়াদগুলোর মতো শিগগিরই মন্ত্রণালয়সমূহ পরিদর্শন শুরু করবেন। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করার ব্যাপারে লক্ষ্যের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ. টি. ইমাম, ড. মসিউর রহমান, ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী ও  মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক সমন্বয়কারী এম. আবুল কালাম আজাদ। এর আগে, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সামরিক সচিব, প্রেস সচিব, উপদেষ্টাবৃন্দ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিভিন্ন অনুবিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দ, এসএসএফ-এর মহাপরিচালক ও অন্যান্য পরিচালকরা ফুলের তোড়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান।
সশস্ত্র বাহিনীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা: চতুর্থ বার এবং টানা তৃতীয় বারের মতো দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করায় সশস্ত্র বাহিনীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি গতকাল সকালে ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে এই শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শেখ হাসিনা শিখা অনির্বাণের বেদিতে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণের পর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর বীর শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবে সেখানে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল এ সময় গার্ড অব অনার প্রদান করে।
এ সময় বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর। প্রধানমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত শেখ হাসিনা পরে শিখা অনির্বাণ চত্বরে সংরক্ষিত দর্শনার্থী বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শিখা অনির্বাণে পৌঁছলে সেনাবাহিনী প্রধান  জেনারেল আজিজ আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল মো. নিজাম উদ্দিন আহমেদ, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাশিহুজ্জামান  সেরনিয়াবাত এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও)  লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাহফুজুর রহমান প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। পুপার্ঘ্য অর্পণের পর নতুন মেয়াদে দায়িত্ব পালনে এদিনই প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে তার প্রথম অফিস করেন। শেখ হাসিনা সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে  পৌঁছলে তাকে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের পিএসও এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের মহাপরিচালক অভ্যর্থনা জানান। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

ফের সংলাপে বসবেন প্রধানমন্ত্রী: জানালেন ওবায়দুল কাদের

নির্বাচনের আগে যেসব দল এবং জোট সংলাপে অংশ নিয়েছে, তাদের নিয়ে ফের সংলাপে বসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শিগগিরই এই সংলাপের জন্য দলগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তবে কবে নাগাদ এই সংলাপ শুরু হবে তা তিনি স্পষ্ট করেননি। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আলোচিত ওই সংলাপে দলগুলো ব্যাপক আগ্রহ ও সাড়া দিয়েছিল। যদিও সংলাপের ফল নিয়ে দলগুলোর ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য রয়েছে। নির্বাচন পরবর্তী প্রেক্ষাপটে সংলাপে আগের মতো অংশগ্রহণ থাকবে কিনা তা এখনো স্পষ্ট হয়নি। আওয়ামী লীগের তরফে সংলাপের আগ্রহ প্রকাশের পর গতকাল  অবশ্য বিরোধী জোট ঐক্যফ্রন্টের নেতারা অবশ্য আরেকটি নির্বাচনের ইস্যুকে সামনে এনেছেন।
এ ইস্যু ছাড়া তারা সংলাপে বসতে রাজি নন।
একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে আচমকা সংলাপের ঘোষণা দিয়ে রাজনীতিতে ইতিবাচক আশা জাগিয়েছিল আওয়ামী লীগ। ১লা নভেম্বর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপ কোনো ফল ছাড়াই শেষ হলেও দ্বিতীয় দফা ৭ই নভেম্বর আবার সংলাপে বসেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা। ওই সংলাপ থেকেও কোনো ফল পাননি বলে জানিয়েছিলেন নেতারা। যদিও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সংলাপ সফল হয়েছে এবং ঐক্যফ্রন্টের দাবি মেনে নেয়া হয়েছে। সে সময় প্রায় সব নিবন্ধিত দল ও জোটের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সংলাপ করেন। দল ও জোটগুলো নির্বাচন সামনে রেখে তাদের দাবি ও প্রস্তাব তুলে ধরে। ৩০শে ডিসেম্বর নির্বাচনের পর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে নতুন নির্বাচনের দাবি করেছে। পুনরায় নির্বাচন করতে আবারো সংলাপ দাবি করা হয় ফ্রন্টের পক্ষ থেকে। তবে তাদের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ঐক্যফ্রন্টের দাবিকে মামাবাড়ির আবদার বলে আখ্যায়িত করেন।
গতকাল বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা এবং এর আশেপাশের জেলা, উপজেলা, পৌরসভা পর্যায়ের দলীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়রদের সঙ্গে যৌথ সভা শুরুর আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সংলাপের বার্তা দেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের নেত্রী শনিবার আমাদের সঙ্গে ওয়ার্কিং কমিটির উপদেষ্টা পরিষদের যৌথ বৈঠকে বলেছেন, নির্বাচনের আগে যাদের সঙ্গে সংলাপ হয়েছে, তাদের আবারো আমন্ত্রণ করবেন, আহ্বান করবেন, নিমন্ত্রণ করবেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশের সব রাজনৈতিক দলকে সংলাপের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। ঐক্যফ্রন্ট ও যুক্তফ্রন্টসহ ৭৫টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে গণভবনে সংলাপ হয়। যারা সংলাপে এসেছিলেন তাদের আবারো নেত্রী সংলাপের আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন। একই সঙ্গে সবাইকে দাওয়াত দেয়া হবে বলে জানান তিনি। এ ব্যাপারে আমরাও সবাই একমত। আওয়ামী লীগের এই সাধারণ সম্পাদক বলেন, প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কিছু মতবিনিময় করবেন এবং সেখানে নেতাদের আপ্যায়নের ব্যবস্থাও থাকবে।
আমন্ত্রণের বিষয়ে তিনি বলেন, সব রাজনৈতিক দলই গণভবনে আমন্ত্রিত। ঐক্যফ্রন্ট আছে, যুক্তফ্রন্ট আছে, ১৪ দল আছে, জাতীয় পার্টি আছে, এ ছাড়া অন্য যেসব দল আছে, সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। যাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সংলাপ করেছিলেন, তাদের আবারো চিঠি দিয়ে আমন্ত্রণ জানানো হবে। আর সেটা খুব শিগগিরই জানিয়ে দেয়া হবে। এ সময় আগামী উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলে তাতে আওয়ামী লীগের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রতিপক্ষকে আমরা কখনো দুর্বল মনে করি না। আর সেটা মনে করেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করি। সেদিক থেকে বিএনপি বা তাদের ফ্রন্ট নির্বাচনে যদি আসে, সেক্ষেত্রে তাদেরকে স্বাগত জানাই। প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনেরও আলাদা একটি মজা আছে। আমরা সেই রকম নির্বাচনই আশা করি।
নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের প্রার্থী করা ‘ভুল’ ছিল  কামাল হোসেনের এমন বক্তব্যের বিষয়ে কাদের বলেন, জেনে শুনে বিষ করেছি পান-বিষয়টি এমন। তিনি বলেন, আমাদের দেশের নেতারা একেক সময় একেক কথা বলেন, আর কামাল হোসেনের বক্তব্য এখানে আমরা স্ববিরোধী বলে মনে করছি। কেননা তিনি জেনে শুনেই তো বিএনপির সঙ্গে ঐক্য করেছেন। জামায়াত ছাড়া তো বিএনপির কোনো অস্তিত্ব নেই। বিএনপি মানেই জামায়াত, জামায়াত মানেই বিএনপি। এ অবস্থায় কামাল হোসেন সাহেব জেনে শুনে কেন এত বড় ভুল করলেন? এ ভুলের খেসারত তাকেই দিতে হবে। সভায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, উপ দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়াসহ প্রমুখ।

বাড়ছে অপরাধ, কমছে সহনশীলতা by তৌহিদুল হক

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী দেশের সামাজিক পরিস্থিতি একটি আতঙ্কের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের সামাজিক অপরাধ বাড়ছে। এসব অপরাধ আচরণগত বিচ্যুতির সর্বোচ্চ প্রদর্শন। নির্বাচনের পরে নোয়াখালীতে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণ, হত্যা, ধর্ষণ পরবর্তী হত্যা প্রভৃতি অপরাধগুলো চলতি বছরের প্রথম মাসের প্রথমার্ধেই যে পরিমাণে ঘটেছে তা সমাজ ও রাষ্ট্রিক কাঠামোর মানব সম্পর্ক তৈরির প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
সংঘটিত অপরাধের পশ্চাতে বিদ্যমান কারণ ও প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে দেখা যায়, অপরাধগুলো সামাজিক চিত্রপটে বিশ্লেষিত হলেও ভিন্নমাত্রা রয়েছে। এই মাত্রাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- প্রথমত, আমাদের দেশে অপরাধ ও অপরাধীর রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা। রাজনৈতিক ক্ষমতা কিংবা দাপট অনেক ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক দাপটের চেয়েও বেশি শক্তিশালী।
কারণ রাজনৈতিক ক্ষমতা বলে সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংগঠনকে অপরাধী নিজের বলয়ে কাজ করার শক্তি প্রয়োগ করে। ফলশ্রুতিতে সমাজের মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক ক্ষমতা কিংবা দর্শন সম্পর্কে বিভক্তি সৃষ্টি হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর একটি কার্যকর ঘোষণা দেশের অপরাধের চিত্র পরিবর্তন করার সুযোগ রাখে। ঘোষণাটি হলো- অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নাই। নোয়াখালীসহ অন্যান্য ধর্ষণের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এটি প্রশংসিত। তবে বিচারের কাজটি সংক্ষিপ্ত সময়ে শেষ করতে হবে। অন্যথায়    ধর্ষণের শিকার নারী ও তার পরিবারের সদস্যদের কাছে এবং সমাজের নিকট সরকার ও রাষ্ট্রের সামাজিক জবাবদিহিতা এককেন্দ্রিক ভূমিকা সৃষ্টি করবে। এর ফলে সম্পর্ক ও বিশ্বাসের ঘাটতি তৈরি হয়।
দ্বিতীয়ত, বর্তমান সময়ে মানুষের সামাজিক ও আচরণগত সুস্থতার বিষয়টি সর্বাধিক আলোচিত। যে সমস্ত দেশ সামাজিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, তারা সামাজিক ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করেছে। কারণ সামাজিক সুস্থতা ও প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য সামাজিক উদ্যোগ তথা মানুষের মধ্যে সমষ্টিগত চেতনা জাগ্রত করা অপরিহার্য। এই সমষ্টিগত চেতনায় মানুষ পরস্পর আলিঙ্গনবদ্ধ হবে এবং সমষ্টি সম্প্রীতি বাড়াবে।
চলমান রাজনীতিবেষ্টিত অপরাধ ও আচরণগত বৈকল্যকেন্দ্রিক অন্যান্য সামাজিক অপরাধ নিরসনে তথা নিয়ন্ত্রণে তিনটি কৌশলের প্রয়োগ অধিক কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে। প্রথমত, দেশীয় সংস্কৃতি ও সামাজিকীকরণের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী সংশোধনের সুযোগ রেখে আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত প্রয়োগ করা, দ্বিতীয়, নিজস্ব সংস্কৃতি চর্চার মধ্যদিয়ে সমাজে রুচিশীল আচরণকে স্বাগত জানানো যা পরস্পর সহনশীলতা ও শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করবে। তৃতীয়ত, সমাজের সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলো রাষ্ট্রের সহযোগিতায় ক্রিয়াশীল করা যাতে প্রতিটি নির্দিষ্ট সমষ্টিতে বা এলাকায় পরস্পর উপলব্ধি ও সমঝোতামূলক সংস্কৃতির জয়যাত্রা শুরু হয়। এ উদ্যোগ মানুষকে মানুষে পরিণত করবে, অপরাধী হিসেবে নয়।
লেখক
কবি এবং
সহকারী অধ্যাপক
সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ই-মেইল:  tawohid@gmail.com

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে মারধরের অভিযোগ

দায়িত্ব পালনকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে বিজিবি’র এক কর্মকর্তা মারধর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মারধরে আহত ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার রাজিবুল ইসলামকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। গতকাল সকালে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস এসোসিয়েশন। এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও পানি সম্পদ সচিব কবীর বিন আনোয়ার বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। রহমত নামে বিজিবি’র একজন মেজরের বিরুদ্ধে রাজিবুলকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর পুরো বিষয়টি সম্পর্কে খোলাসা হওয়া যাবে।
অপরাধী যেই হোক তার শাস্তি হবে বলে আমরা আশাবাদী। সাভারের ইউএনও শেখ রাসেল হাসান বলেন, বিজিবি’র একজন কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেটের মধ্যে বিধিবহির্ভূত ঘটনা ঘটেছে।
এটি অনাকাঙ্ক্ষিত। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবগত আছেন। তারা আইনসম্মত সমাধানের চেষ্টা করছেন। সাভারে কর্মরত প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা জানান, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে ১২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাভারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে বিজিবি’র একটি দলের সঙ্গে সাভারের উলাইল এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাজিবুল ইসলাম। সেখানে বিজিবি’র দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন মেজর রহমত। রাজিবুল সেখানে যাওয়ার পরে মেজর রহমত তাকে ‘আল মুসলিম’ পোশাক কারখানার ভেতরে একটি কক্ষে নিয়ে বসান। রাজিবুল জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে এ বিষয়ে যে প্রতিবেদন দিয়েছেন সেখানে তিনি লিখেছেন, আল মুসলিম কারখানার ভেতরে ওই কক্ষে মেজর রহমত তার অধীনস্থ বিজিবি’র দুই সদস্যকে ডেকে বলেন পরিস্থিতি খারাপ হলে সরাসরি গুলি করতে হবে, পরে ম্যাজিস্ট্রেটকে জানাবেন।
বিষয়টির প্রতিবাদ করে রাজিবুল বলেন, নিয়মানুযায়ী উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিয়েই গুলি করতে হবে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মেজর রহমত চড়াও হন রাজিবুলের ওপর। তাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে আহত করেন। রাজিবুল কোনো রকমে ঘর থেকে বের হয়ে বাইরে রাখা গাড়ির কাছে গিয়ে আশ্রয় নেন। পরে জেলা প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তারা গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। কয়েকটি জেলা থেকে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস এসোসিয়েশনের ব্যানারে প্রতিবাদপত্র জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আসছে।

ছবিতে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ by জীবন আহমেদ

টানা সপ্তম দিনের মতো বিক্ষোভ করেছে পোশাক শ্রমিকরা। গতকাল সকালে শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার বিভিন্ন কারখানার তৈরি পোশাক শ্রমিকরা কারখানায় প্রবেশ করলেও কাজ না করে কার্ড পাঞ্চ করে বের হয়ে যায়। পরে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা বাইপাইল আবদুল্লাহপুর মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে। এসময় পুলিশ সদস্যরা শ্রমিকদেরকে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রোগীর পেটে মিললো কাপড়ের টুকরা

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে রুগীর পেটের মধ্যে কাপড়ের টুকরা (মফ) রেখেই সেলাই করা হয়েছে। ঘটনা ঘটেছে ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলা শহরে অবস্থিত ফাতেমা প্রাইভেট হাসপাতালে। জানা যায় গত ১০ই জানুয়ারি বৃহস্পতিবার রাত ৮ টার দিকে কালীগঞ্জ উপজেলার রায়গ্রাম ইউনিয়নের ভাটাডাঙ্গা গ্রামের মোসারেফের স্ত্রী চামেলী (২৭) কে ঝিনাইদহ শহরে প্রাইম হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অপারেশন করে ডাঃ মাছুদুল হক নামের এক ডাক্তার। অপারেশন করার পর রোগীর পেটের ভিতর থেকে বেরিয়ে আসে রক্ত পরিষ্কার করার কাপড়ের টুকরা (মফ)। যাহা দেখে ডাক্তার নিজেই হতবাগ হয়ে পড়ে।
চামেলীর স্বামী মোসারফ জানায়, যে গত ডিসেম্বর মাসের ১৩ তারিখে কালীগঞ্জ বাসস্টান্ডে ফাতেমা প্রাইভেট হাসপাতালে তার স্ত্রী অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করেন। তারপর বাড়ি নিয়ে যাবার পর ফের চামেলী অসুস্থ হয়ে পড়েন। পুনরায় তাকে সেখানেই ভর্তি করানো হয়। ৭৫ হাজার টাকা খরচ করার পরও অসুস্থই রয়ে যান তিনি।
তখন গত ৮ তারিখে ফাতেমা হাসপাতাল থেকে আমাদের ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। তখন সদর হাসপাতালের ডাক্তার জানায়, রোগীর অবস্থা ভাল না বলে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার জন্য ছাড়পত্র দিয়ে দেয়। এই অবস্থায় আমার এক আত্মীয়র মাধ্যমে ঝিনাইদহ প্রাইম হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করে ডাঃ অপারেশন করলে রোগীর পেটের মধ্যে রক্ত পরিষ্কার করা কাপড়ের টুকরা (মফ) পাওয়া যায়। সেই সঙ্গে প্রায় ২ কজি পুজ বের করেন।
এই প্রসঙ্গে অপারেশনকারী ডাঃ মাছুদুল হকের সঙ্গে কথা বললে সে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অপারেশন করে চামেলির পেটের মধ্যে থেকে (মফ) পাওয়া গেছে। তাছাড়া প্রায় ২ কেজি মত পুজ পেটের মধ্যে জমা হয়ে ছিল। পূর্বে যে ডাক্তার অপারেশণ করেছিল সে ভুল বসত এই মফ রেখে সেলাই করে দেয়।
কালীগঞ্জে অবস্থিত ফাতেমা প্রাইভেট হাসপাতালের মালিক একরামুল হকের সঙ্গে কথা বললে সে বলে যে গত মাসের দিকে চামেলীকে আমার হাসপাতালে ডাক্তার আব্দুল্লাহ কাফী সিজার করে। তারপরে সে বাড়ি চলে যায় এবং ঠিক মত চিকিৎসা না হওয়ার কারণে ইউট্রাস ইনফেকশন হয়। তাছাড়া তার পেটের মধ্যে (মফ) থাকার কথা না।

মোদি সরকারকে উৎখাতে পাকিস্তানের সাহায্য চাইছে কংগ্রেস: নির্মলা সিথারমন

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সিথারমন
ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সিথারমন অভিযোগ করেছেন, নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারকে উৎখাতের জন্য বিরোধীদল কংগ্রেস পাকিস্তানের সাহায্য চাইছে। ভারতের টাইমস অব ইন্ডিয়া গত শনিবার এ খবর দিয়েছে।
ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি’র দুদিনব্যাপী সম্মেলনে দেয়া বক্তৃতায় নির্মলা বলেন, “মোদি সরকারকে উৎখাতে পাকিস্তানের সাহায্য চেয়ে কংগ্রেস নেতারা নোংরা রাজনীতির খেলায় মেতেছেন। এসময় তিনি বিজেপি কর্মীদের মোদি সরকারের সাফল্য তুলে ধরে প্রচারণা চালানোর আহ্বান জানান। নির্মলা দাবি করেন, মোদি সরকার ভারতকে দুর্নীতিমুক্ত পাঁচটি বছর উপহার দিয়েছে। এসময় ভারতে বড় রকমের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাও ঘটে নি। তিনি বলেন, মোদি সরকার ভারতে নানা সমাজকল্যাণমূলক কাজ করতে সক্ষম হয়েছে কারণ দেশ এসময় শান্তিতে ছিল।
ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সম্প্রতি ভারতের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যের নির্বাচনে পরাজয়বরণ করেছে। এরপর থেকে দলটি ভারতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সমর্থন লাভের চেষ্টায় মরিয়া হয়ে উঠেছে। ফ্রান্স থেকে রাফায়েল যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে এবং ভারতের রাজনৈতিক দলগুলো তার পদত্যাগ দাবি করছে।
ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ এ নিয়ে বলেছেন যে, বিমান কেনার বিষয়ে নয়াদিল্লি সরকার স্থানীয় পার্টনারদেরকে প্রভাবিত করেছে। ভারতের রাজনৈতিক দলগুলো বলছে, ২০১৬ সালে ৩৬টি রাফায়েল বিমান কেনার ক্ষেত্রে নরেন্দ্র মোদি বেশি অর্থ ব্যয় করেছেন এবং লেনদেনে তার সরকার স্বচ্ছ ছিল না। রাফায়েল বিমান কিনতে ভারত ৮৭০ কোটি ডলার খরচ করেছে। বিমান কেনার টেন্ডার পেয়েছে ধনকুবের অনিল আম্বানির রিল্যায়েন্স গ্রুপ।