Wednesday, November 3, 2010

খবর- ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেনের মহাসড়কঃ২১৪ কোটি টাকা ব্যয় বেড়ে হয়েছে ২৩৮২ কোটি টাকা, প্রকল্প শেষ হবে ২০১৩ সালে

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার উড়াল ও পাতাল পথ নির্মাণের পরিকল্পনার কথা বললেও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করার কাজ চলছে অত্যন্ত ধীর গতিতে।

গত এক বছরে এ প্রকল্পের তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। ইতোমধ্যে প্রকল্পটি সংশোধন করায় ব্যয় বেড়েছে ২১৪ কোটি টাকা। বেড়েছে প্রকল্প শেষ করার মেয়াদও। সংশোধিত প্রকল্প অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ডিসেম্বরের আগে এ কাজ শেষ হবে না।

আলোচনা- 'বাংলাদেশে মিডিয়া ও তার ভবিষ্যৎ' by সাইফুল বারী

বাংলাদেশে মিডিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে হলে এর অতীত ও বর্তমান অবস্থার কথা বলতে হবে। এ দেশ স্বাধীন হওয়ার পর অন্যান্য সেক্টরের মতো পত্র-পত্রিকা, রেডিও এবং টেলিভিশনেও নতুন এক অবস্থার সৃষ্টি হয়।

সৃষ্টি হয় নতুন এক সম্ভাবনা এবং এক চ্যালেঞ্জের। নতুন আঙ্গিকে একটি স্বাধীন দেশের চাহিদা মেটানোর মতো লোকবল, কারিগরি সুযোগ, অবকাঠামো ও আর্থিক সুবিধা প্রচুর পরিমাণে না থাকলেও কিছুটা ছিল। পত্রিকার মধ্যে দৈনিক বাংলা এবং একটি মাত্র রেডিও_ বাংলাদেশ বেতার ও একটি টেলিভিশন_বাংলাদেশ টেলিভিশন সম্পূর্ণ সরকারি ব্যবস্থাপনায় চলত। এগুলো চালানোর মতো দক্ষ জনবল ও কারিগরি সুযোগ-সুবিধা কিছুটা থাকায় মিডিয়া জগৎ অন্যান্য ক্ষেত্রের মতো অতটা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েনি। পাকিস্তান আমলের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাই মূলত এগুলোকে চালু রাখতে সক্ষম হন। তবে দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিকতা বদলাতে একটু সময় লেগে যায়।

তেলের দাম বেড়ে ৬ মাসে সর্বোচ্চ

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত অক্টোবর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি দুই ডলার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩ দশমিক ৪৫ ডলারে। দাম বৃদ্ধির এই পরিমাণ শতকরা হারে প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ। অপরিশোধিত তেলের পাশাপাশি লন্ডন ব্রেন্টের মূল্য একই সময়ে ১ দশমিক ৯০ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৮৫ দশমিক ৪ ডলার। জ্বালানি তেলের এই মূল্য বৃদ্ধি গত দুই বছরের বৈশ্বিক মন্দার পর পৃথিবীর অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
এক হিসাবে দেখা গেছে, গত অক্টোবর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে উত্পাদন খাতে ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হচ্ছে। এই অগ্রগতি যা আশা করা হয়েছিল, তার চেয়েও অনেক বেশি বলে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি চীনের উত্পাদন খাতেও ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। চীনের সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাপক সূচক (পিএমআই) সেপ্টেম্বর-অক্টোবর এই এক মাসে ৫৩ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫৪ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রেও উত্পাদন খাতের পিএমআই সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ৫৪ দশমিক ৪ থেকে ৫৬ দশমিক ৯-এ দাঁড়িয়েছে। যেকোনো খাতের পিএমআই সূচক ৫০-এর ওপর থাকা, সেই খাতের ক্রমবর্ধমান অগ্রগতিরই পরিচায়ক। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের উত্পাদন খাতের পিএমআইয়ের এই তথ্য আন্তর্জাতিক শেয়ারবাজারে প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বাণিজ্য বিশ্লেষকেরা।

বিচার বিভাগ পৃথক্করণ

রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ আংশিক পৃথক করার নিস্তরঙ্গ তিন বছর পার হলো। চুয়ান্নর ঐতিহাসিক ২১ দফার অন্যতম ছিল এ দাবি। তারও আগে ব্রিটিশ-ভারতের প্রাদেশিক পরিষদে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক বিচার বিভাগ পৃথক করার দাবি তুলেছিলেন। সাতান্নতে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদে এ বিষয়ে আইন হলেও তা শুধু প্রজ্ঞাপন জারির অভাবে কার্যকর হয়নি। আমলারা ঠেকিয়ে রাখেন। বাহাত্তরের সংবিধানে শেষ মুহূর্তে ‘আমলাতান্ত্রিক’ চাপেই ২২ অনুচ্ছেদের জন্ম নেয়। এতে বলা হলো, রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক করা হবে। এত কাণ্ডের পরও সেই পৃথক্করণ আজও বারো আনার বেশি অধরা।
বহু টালবাহানার পর বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এ ক্ষেত্রে একটা বড় অগ্রগতি হলো। প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা বিচারিক হাকিমের দায়িত্ব পালনে ক্ষান্ত দিলেন। বিচারকদের বদলি, কর্মস্থল নির্ধারণ, শৃঙ্খলাবিধানে সরকারি খবরদারি খর্ব হলো। কিন্তু সাংবিধানিক অর্থে বিচার বিভাগ পৃথক হলো না। সে কারণে ১০ বিচারকের মামলায় আপিল বিভাগ বললেন, সংবিধানের ১১৫ ও ১১৬ অনুচ্ছেদকে বাহাত্তরের মূল সংবিধানের (চতুর্থ ও পঞ্চম সংশোধনীতে এ দুটো অনুচ্ছেদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়) আদলে ফিরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত একটা ‘ক্রন্দন’ হয়ে থাকবে। পঞ্চম সংশোধনী মামলার রায়েও আপিল বিভাগ আবার ‘যত তাড়াতাড়ি সম্ভব’ এ দুটো অনুচ্ছেদ সংশোধন করে বিচার বিভাগ পৃথক্করণ সার্থক করতে নির্দিষ্টভাবে নির্দেশনা দেন। কিন্তু এখনো এ বিষয়ে নীরবতা চলছে।
আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করি যে, বিচারিক ক্ষমতায় ভাগ বসাতে প্রশাসন ক্যাডারের অনভিপ্রেত বাসনা নানা অজুহাতে বাস্তবায়িত হতে চলেছে। মোবাইল কোর্ট আইনে নির্বাহী হাকিমদের বিচারিক ক্ষমতার সম্প্রসারণ ঘটছে। প্রশাসন ক্যাডার এতেও সন্তুষ্ট নয়। আমরা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের সপক্ষে গীত গাইব, আবার একই সঙ্গে তাৎক্ষণিক বিচারের নামে প্রশাসন ক্যাডারের হাতে বিচারিক ক্ষমতা তুলে দেব, এটি স্ববিরোধিতা ছাড়া কিছু নয়। কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রজাতন্ত্রের বিচারিক ক্ষমতা ভাগাভাগি হয় না।
বিচার বিভাগ পৃথক্করণের ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি হয়েছে, তাকে সার্থক করে তুলতে সুপ্রিম কোর্টকে অবশ্যই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। বিচারকদের কর্মস্থলের মেয়াদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো অভিযোগ থাকলে দ্রুত প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। বদলিসর্বস্ব পুলিশি প্রশাসন আমরা বিচারাঙ্গনে চাই না। পৃথক করার ফলে প্রাপ্ত সুফল জনগণের কাছে এখনো স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে না।
আমরা অবিলম্বে বিচারকদের জন্য করা পে-কমিশনের বাস্তবায়ন চাই। আর সেই সঙ্গে বিচারকদের কর্মস্থলসংক্রান্ত একটি গ্রহণযোগ্য নীতিমালা আশা করি। প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ে সম্মেলন করার উদ্যোগ নিয়েছেন। আমরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। একই সঙ্গে আশা করব, এটা নিছক উপলক্ষকেন্দ্রিক হবে না। বিচারকদের খোলামেলা মতামতের আলোকে বিচার বিভাগ পৃথক্করণের বাস্তব বাধাগুলো অপসারণ করা হবে।

চীনে আদমশুমারি শুরু

চীনে গতকাল সোমবার থেকে আদমশুমারি শুরু হয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল এ দেশটির জনসংখ্যা গণনায় এবার ৬০ লাখ লোক নিয়োগ করা হয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত পত্রিকা চায়না ডেইলি জানায়, এই গণনার কাজ সম্পূর্ণ গোপনীয়তার সঙ্গে সম্পাদনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চীন সরকার। কেউ তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানালে গণনাকারীরা পুলিশের সহায়তা নিতে পারবেন। এক মাস ধরে এ গণনার কাজ চলবে। গত বছর চীনের মোট জনসংখ্যা ছিল ১৩০ কোটির ওপরে।

বিহার বিধানসভা নির্বাচনে চতুর্থ দফায় ভোট গ্রহণ

ভারতের বিহার রাজ্যে বিধানসভার নির্বাচনে গতকাল সোমবার চতুর্থ দফা ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ শেষ হয়। আটটি জেলার ৪২টি আসনে এই ভোট গ্রহণ চলে। ৫৮ জন নারীসহ প্রার্থী রয়েছেন ৫৬৮ জন।
মাওবাদীরা দানাপুরের দুটি ভোটকেন্দ্রে বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। তারা বেতিয়া জঙ্গলের মধ্যে চাকাই-জামুই সড়কের একটি সেতুতেও বিস্ফোরণ ঘটায়। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি।
বিহার পুলিশের মহাপরিচালক নীলমণি বলেন, বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে ৩৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ এবং ৩৯টি যানবাহন আটক করা হয়।
দীঘা কেন্দ্রে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে বিহারের সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রী লালুপ্রসাদ যাদব ও তাঁর সহধর্মিণী রাবরি দেবীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন দীঘার বিডিও অশোক কুমার।
বিহার বিধানসভার শেষ দুই দফার ভোট নেওয়া হবে যথাক্রমে ৯ ও ২০ নভেম্বর। ফল ঘোষিত হবে ২৪ নভেম্বর।

নিলামে দেড় লাখ গুণ বেশি মূল্যে বিক্রি

ঊনিশ শতকের বিখ্যাত ঔপন্যাসিক জেন অস্টেনের প্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস-এর প্রথম সংস্করণের একটি কপি নিলামে বিক্রি হয়েছে প্রকৃত মূল্যের দেড় লাখ গুণ বেশি দামে। ব্রিটেনে ওই নিলাম অনুষ্ঠানে বইটির মূল্য ওঠে এক লাখ ৩৯ হাজার ২৫০ পাউন্ড। ডেইলি মেইল পত্রিকায় এ খবর প্রকাশিত হয়েছে।
লন্ডনে সদবিস নিলামঘর গত শনিবার এই নিলামের আয়োজন করে। এক ব্যক্তিগত সংগ্রাহক বইটি কিনে নেন। তবে তাঁর নাম জানা যায়নি।
১৮১৩ সালে প্রথমবার তিন খণ্ডে প্রকাশিত হয় প্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস। তখন এর মূল্য ছিল ১৮ শিলিং অর্থাৎ বর্তমান মূল্যে ৯০ পেনি। বিশ্বজুড়ে বইটি এ পর্যন্ত দুই কোটিরও বেশি কপি বিক্রি হয়েছে।
পত্রিকার খবরে বলা হয়, ওই নিলাম অনুষ্ঠানে চার্লস ডিকেন্সের আ ক্রিসমাস ক্যারোল-এর প্রথম সংস্করণের একটি কপি বিক্রি হয় এক লাখ ৮১ হাজার ২৫০ পাউন্ডে। এ ছাড়া ১৮৪৭ সালে প্রকাশিত এমিলি ব্রন্টের উইদারিং হাইটস-এর প্রথম সংস্করণের একটি কপি এক লাখ ৬৩ হাজার ২৫০ পাউন্ডে, ১৬৪০ সালে প্রকাশিত উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের একটি কবিতা সংগ্রহ এক লাখ ৩৫ হাজার পাউন্ডে এবং চার্লস ডারউইনের অন দ্য অরিজিন অব দ্য স্পেসিস এক লাখ ২৭ হাজার পাউন্ডে বিক্রি হয়।

কুরিল দ্বীপপুঞ্জে মেদভেদেভের সফর জাপানের ক্ষোভ

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ গতকাল সোমবার কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফর করেছেন। সেখানে তিনি প্রায় চার ঘণ্টা অবস্থান করেন। কুরিল দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে মস্কো ও টোকিওর মধ্যে কয়েক দশক ধরে বিরোধ চলা সত্ত্বেও মেদভেদেভের এ সফরে জাপান ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। এ সফরের প্রতিবাদে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় টোকিওতে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে।
রাশিয়ার কোনো নেতা হিসেবে এই প্রথমবারের মতো ওই দ্বীপপুঞ্জে মেদভেদেভের সফরের প্রতিক্রিয়ায় জাপানের প্রধানমন্ত্রী নাওতো কান পার্লামেন্টে বলেন, ‘উত্তরাঞ্চলীয় চারটি দ্বীপ আমাদের রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে অবস্থিত। তা সত্ত্বেও রুশ প্রেসিডেন্টের এ সফর সত্যি দুঃখজনক।’
জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেইজি মায়েহারা বলেছেন, মেদভেদেভের এ সফর জাপানের নাগরিকদের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে। এটা চরম পরিতাপের বিষয়। জিজি প্রেস জানিয়েছে, এ ঘটনায় জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুশ রাষ্ট্রদূত মিখাইল বেলিকে তলব করেন। মিখাইল তাঁকে জানিয়ে দেন, এটি রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ বিষয়ে জাপানকে ঠান্ডা মাথায় নড়াচড়া করার অনুরোধ জানান তিনি।
কুরিল দ্বীপপুঞ্জকে রাশিয়ার খুব গুরুত্বপূর্ণ এলাকা মন্তব্য করে গত সেপ্টেম্বর মাসে মেদভেদেভ ওই দ্বীপপুঞ্জ সফরের ঘোষণা দেন। তখনই জাপান হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলে, মেদভেদেভের এ ধরনের সফর দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটাবে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষদিকে সোভিয়েত সেনাসদস্যরা জাপানের হোক্কাইডো দ্বীপের উত্তরে অবস্থিত কুরিল দ্বীপপুঞ্জ নিয়ন্ত্রণে নেন। এর পর থেকে ওই দ্বীপপুঞ্জ মস্কোর দখলে রয়েছে। টোকিও ওই দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা দাবি করে আসছে।

ইরাকে গির্জায় জিম্মি উদ্ধার অভিযান, সংঘর্ষে নিহত ৫২

ইরাকের রাজধানী বাগদাদে একটি গির্জায় জিম্মি উদ্ধার অভিযানে ৫২ জন নিহত ও ৫৬ জন আহত হয়েছে। গত রোববার সন্ধ্যায় বাগদাদের কাররাদ এলাকার একটি গির্জায় এ ঘটনা ঘটে। আল-কায়েদার একটি গ্রুপ এ জিম্মি ঘটনার দায়দায়িত্ব স্বীকার করেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, রোববার সন্ধ্যায় সাইদাত আল-নিজাত ক্যাথলিক গির্জায় বন্দুকধারীরা ঢুকে পড়ে সেখানে থাকা প্রার্থনাকারীদের জিম্মি করে। খবর পেয়ে ইরাকি ও মার্কিন সেনারা পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে। গির্জার ওপর সামরিক হেলিকপ্টার চক্কর দিতে থাকে।
ইরাকের উপস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর জেনারেল হুসেইন কামাল জানান, জিম্মি উদ্ধারে ইরাকি ও মার্কিন সেনারা গির্জাটিতে ঢোকার চেষ্টা করলে বন্দুকধারীরা বেপরোয়াভাবে গুলি চালায় ও গ্রেনেড ছুড়তে থাকে। এক হামলাকারী প্রধান ফটকের সামনে গিয়ে নিজের শরীরে বাঁধা বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এ সময় বন্দুকধারীদের সঙ্গে সেনাদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। টানা চার ঘণ্টার এ উদ্ধার অভিযানে কমপক্ষে ৫২ জন নিহত হয়। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে সাতজন নিরাপত্তাকর্মী ও ছয়জন হামলাকারী, দুজন খ্রিষ্টান যাজক, পাঁচজন নারী ও সাতটি শিশু রয়েছে।
জিম্মিদশা থেকে পালিয়ে বাঁচা এক তরুণ বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেছেন, সেনাবাহিনীর পোশাক পরে জঙ্গিরা গির্জার প্রার্থনাকক্ষে ঢুকে পড়ে। সেখানে ঢুকেই তারা গির্জায় প্রধান যাজককে গুলি করে হত্যা করে। এরপর প্রার্থনাকারীদের ওপর গুলি চালায় এবং বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। নিরাপত্তাকর্মীরা এলাকা ঘিরে ফেললে তারা প্রার্থনাকারীদের জিম্মি করে ফেলে। তিনি জানান, এ সময় গির্জার ভেতরে শতাধিক প্রার্থনাকারী ছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই তরুণ জানান, গুলি ও বোমায় জানালা-দরজা ভেঙে এবং দেয়ালের আস্তরণ ধসে ভেতরে থাকা বহু লোক আহত হয়।
স্থানীয় টেলিভিশন আল বাগদাদিয়া বলেছে, বন্দুকধারীরা প্রার্থনাকারীদের জিম্মি করার পরপরই তাদের কাছে একটি ফোন আসে। যে ব্যক্তি ফোন করেন তিনি নিজেকে হামলাকারীদের একজন হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেন, তাঁরা সবাই আল-কায়েদার শাখা সংগঠন ইসলামিক স্টেট অব ইরাকের সদস্য। ওই ব্যক্তি জানান, ইরাকে আটক আল-কায়েদা সদস্যদের মুক্তি না দিলে জিম্মিদের হত্যা করা হবে। একই সঙ্গে তারা মিসরের একটি গির্জায় বন্দী থাকা মুসলিম নারীদেরও মুক্তির দাবি করে। আল বাগদাদিয়া টেলিভিশন ছাড়াও হামলাকারীরা বাইরে ঘিরে থাকা সেনাবাহিনীর সঙ্গেও মুঠোফোনে যোগাযোগ করে একই দাবি জানায়। তবে উদ্ধারকর্মীরা জঙ্গিদের সঙ্গে কোনো আপসরফায় না গিয়ে সাঁড়াশি অভিযান চালায়।
ইরাকের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আবদুল কাদির-আল-ওবাইদী বলেন, তাঁরা ত্বরিত পদক্ষেপ নেওয়ায় দ্রুত অভিযান শেষ করা গেছে। তিনি জানান, সন্ত্রাসীরা ব্যাপক হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা নিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন। হামলাকারীদের কয়েকজনকে হত্যা এবং বাকিদের বন্দী করা হয়েছে। কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, হামলাকারীরা ইরাকি নয়, তারা পার্শ্ববর্তী অন্য আরব দেশ থেকে আসা।
প্রসঙ্গত, গত কয়েক বছরে ইরাকে বেশ কয়েকবার বিভিন্ন গির্জায় জঙ্গিরা হামলা চালিয়েছে। ২০০৪ সালে আওয়ার লেডি অব স্যালভেশন নামের একটি গির্জা জঙ্গি হামলার মুখে পড়েছিল।
ইরাকে প্রায় পাঁচ লাখ আরব খ্রিষ্টানের বাস। তবে ২০০৩ সালে ইরাকে অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই এসব খ্রিষ্টান সাম্প্রদায়িক হামলার ভয়ে ইরাক ছাড়তে শুরু করে।

হেরোইন-কোকেনের চেয়ে মদ বেশি ক্ষতিকর

হেরোইন এবং ক্র্যাক কোকেনের মতো অবৈধ মাদকের চেয়ে মদ বেশি ক্ষতিকর। একদল ব্রিটিশ গবেষকের নতুন গবেষণায় এ রকমই দাবি করা হয়েছে। তাঁদের গবেষণা গতকাল সোমবার চিকিৎসাবিষয়ক জার্নাল ল্যানসেটে প্রকাশিত হয়েছে। ইনডিপেন্ডেন্ট সায়েন্টিফিক কমিটি অন ড্রাগস্ (আইএসসিডি) পরিচালিত গবেষণায় বলা হয়, বিজ্ঞানীরা ব্যক্তিবিশেষ ও বৃহত্তর সমাজে মাদকের ক্ষতির বিষয়টি খতিয়ে দেখেন। এতে তাঁরা দেখতে পান, মদে সবচেয়ে ভয়ংকর উপাদান রয়েছে।মাদক প্রতিরোধসংক্রান্ত ব্রিটেনের সরকারি প্রতিষ্ঠানের সাবেক উপদেষ্টা ডেভিড নাট ও তাঁর সহযোগীদের প্রকাশিত এই গবেষণা মাদক নিয়ে প্রচলিত চিন্তাভাবনাকে পাল্টে দিয়েছে। গবেষণায় দাবি করা হয়, বর্তমানে মাদকের যে শ্রেণীব্যবস্থা আছে তার সঙ্গে ক্ষতির মাত্রার সম্পর্ক তেমন একটা নেই। গবেষণায় মাদক সেবনের ফলে মাদকাসক্ত ব্যক্তির ক্ষতি এবং সমা জে এর যে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে তার ১৬টি মাত্রা তুলে ধরা হয়। সার্বিক ক্ষতির দিক বিবেচনায় রেখে গবেষণায় মাদকের ২০ ধরনের শ্রেণীবিন্যাস করা হয়। গবেষণায় বলা হয়, হেরোইন ও কোকেন নিঃসন্দেহে শরীরের জন্য ভয়ানক ক্ষতিকর। কিন্তু হেরোইন বা কোকেনসেবীর কারণে সমাজে যতটুকু ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে তার চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে মদ্যপরা। ক্ষতিকর প্রভাবের সূচক শূন্য থেকে ১০০ পর্যন্ত নির্ধারণ করে গবেষকেরা বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের বিপরীতে বিভিন্ন নম্বর দিয়েছেন। এতে দেখা গেছে, মদের বিপরীতে ৭২, হেরোইনের বিপরীতে ৫৫ এবং ক্র্যাক কোকেনের বিপরীতে পড়েছে ৫৪ নম্বর। ২০০৭ সালে অধ্যাপক নাট ব্রিটেনের মাদকবিষয়ক প্রধান উপদেষ্টা থাকাকালে গাঁজার ক্ষতির শ্রেণীবিন্যাস হালনাগাদ করা নিয়ে তৎকালীন সরকারের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ দেখা দেয়। এ নিয়ে সরকার তাঁকে বরখাস্ত করে।

সারকোজির আশঙ্কা, তাঁকে হত্যা করা হতে পারে

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজির আশঙ্কা, তাঁকে হত্যা করা হতে পারে। গত ৫০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ঘৃণিত প্রেসিডেন্টের অবস্থানে পৌঁছার পর এই আশঙ্কা দানা বেঁধেছে তাঁর মনে। গতকাল সোমবার দ্য সান পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে সারকোজির এই আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়।
নগদ অর্থরক্ষায় প্রেসিডেন্ট সারকোজি সম্প্রতি পেনশন সংস্কারের পরিকল্পনা নেন। এতে সরকারি কর্মচারীদের অবসর নেওয়ার বয়স ৬০ থেকে ৬২ বছর করা হয়। বিলটি এরই মধ্যে ফ্রান্সের পার্লামেন্টে অনুমোদিত হয়েছে। তবে সারকোজি এই প্রস্তাব উত্থাপনের সঙ্গে সঙ্গে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ও ধর্মঘট শুরু হয়।
সারকোজি তাঁর সহযোগীদের বলেন, ‘এই বিলের কারণে আমি এমনভাবে ঘৃণিত হয়েছি, এখন জীবন নিয়ে শঙ্কায় আছি। মনে হচ্ছে, কেউ একজন নিরাপত্তাব্যূহ ভেদ করে আমার ওপর হামলা চালাবে। আমি জানি না, আমার প্রতি ফ্রান্সের লোকজনের কেন এত ঘৃণা জন্মাল।’
গত সপ্তাহে এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ফ্রান্সে এখন প্রতি তিনজনে একজন নাগরিক সারকোজিকে সমর্থন করে। এই ফলাফল অনুযায়ী তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট জেনারেল চার্লস দ্য গলের চেয়ে অজনপ্রিয়। ১৯৬৮ সালে তাঁর পদত্যাগের দাবিতে সর্বস্তরের জনতা রাজপথে নেমেছিল।

সৌদি নাগরিকের দিকে সন্দেহের তীর

যুক্তরাষ্ট্রগামী পণ্যবাহী বিমান থেকে বিস্ফোরকভর্তি প্যাকেট উদ্ধারের ঘটনায় প্রধান ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে সৌদি আরবের এক নাগরিককে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাঁর নাম ইব্রাহিম হাসান আল-আসিরি। ইয়েমেনে পলাতক ২৮ বছরের এই যুবক আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদার বোমা প্রস্তুতকারী বলে কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তা বলেন, আল-আসিরির অতীত কর্মকাণ্ড ও বিস্ফোরক সম্পর্কে তাঁর দক্ষতাই ইঙ্গিত দেয়, এ ঘটনার সঙ্গে তিনিই প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে জড়িত। তিনি বলেন, আরব উপদ্বীপভিত্তিক আল-কায়েদার (একিউএপি) বড় বড় হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে আল-আসিরি জড়িত। অতীতে একিউএপির অনেক হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে তাঁর জড়িত থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবের একজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে হত্যার চেষ্টা এবং গত বছর বড়দিনে ব্যর্থ বোমা হামলার পরিকল্পনা।
ইয়েমেন থেকে পণ্যবাহী বিমানে করে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে বিস্ফোরকভর্তি প্যাকেট পাঠানো হচ্ছিল। হোয়াইট হাউস সৌদি আরবের গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে তথ্য পেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সব বিমানবন্দরে সতর্কাবস্থা জারির নির্দেশ দেয়। হামলার আশঙ্কায় ব্রিটেন ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বিমানবন্দরে সতর্কতা জারি করা হয়। পরে ব্রিটেনের ইস্ট মিডল্যান্ডস বিমানবন্দর ও দুবাইয়ের বিমানবন্দর থেকে বিস্ফোরকভর্তি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবিরোধী সেলের প্রধান জন ব্রেনান বলেছেন, গত বছর বড়দিনে ব্যর্থ বোমা হামলার পরিকল্পনা ও বিমান থেকে বিস্ফোরকের প্যাকেট উদ্ধারের মধ্যে সম্পৃক্ততা রয়েছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তে দেখা গেছে, প্যাকেট থেকে উদ্ধার করা বিস্ফোরক ও বড়দিনে ডেট্রয়েটগামী বিমানে হামলার উদ্দেশ্যে ব্যবহূত বিস্ফোরক একই ব্যক্তি তৈরি করেছেন। যে ব্যক্তিই তৈরি করুন না কেন, তিনি খুবই বিপজ্জনক এবং তাঁর এ বিষয়ে বিস্তর প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা রয়েছে।
২০০৯ সালের আগস্ট মাসে আল-আসিরি তাঁর ছোট ভাইকে এক আত্মঘাতী মিশনে পাঠান। ২৩ বছরের ওই যুবক ১০০ গ্রাম পিইটিএন বিস্ফোরক নিয়ে সৌদি গোয়েন্দা প্রধান প্রিন্স মোহাম্মদ বিন নায়েফকে হত্যা করতে গিয়েছিলেন। ওই হামলায় গোয়েন্দা কর্মকর্তা আহত হলেও বেঁচে যান।
ইয়েমেন সরকার বিমানবন্দরে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে কড়া সতর্কতা অবলম্বনের ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা সাবা জানায়, বেসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটি পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তা আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ছাড়া ইয়েমেনের সব বিমানবন্দরে সাধারণ নিরাপত্তা জোরদার করারও সিদ্ধান্ত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রগামী বিমান থেকে বিস্ফোরকের প্যাকেট উদ্ধারের ঘটনায় ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার গুজব উড়িয়ে দিয়েছে ব্রিটেন। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল স্যার ডেভিড রিচার্ড বলেছেন, আরেকটি আফগানিস্তান হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই ইয়েমেনের। ইয়েমেন সন্ত্রাসবাদের ঘোরতর বিরোধী। ইয়েমেনের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে ব্রিটেনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে।

ওবামার ভারত সফরের প্রতিবাদ জানাবে সিপিআই-এম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ভারত সফরের প্রতিবাদে ৮ নভেম্বর সারা পশ্চিমবঙ্গে বিক্ষোভ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিপিআই-এম। গতকাল সোমবার দুই দিনব্যাপী চলা দলীয় সভা শেষে এক বিবৃতিতে দলটির রাজ্যসচিব বিমান বসু এ তথ্য জানান।বিমান বসু জানান, চারটি বাম দলের নির্ধারিত ভারতজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ র্যালি বের করা হবে। ওবামা সরকারের মানবতাবিরোধী চুক্তি এবং সারা বিশ্বে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের প্রতিবাদে পশ্চিমবঙ্গে এ কর্মসূচি পালিত হবে বলে তিনি জানান।

ক্লাইস্টার্সের শিরোপা

আগের দিন মৃত্যুদুয়ার থেকে ফিরে সামান্থা স্টোসুরকে হারিয়ে উঠেছিলেন ফাইনালে। অদম্য ক্লাইস্টার্সকে ফাইনালেও আটকানো যায়নি। বিশ্বের এক নম্বর ক্যারোলিন ওজনিয়াকিকে হারিয়ে কাল দোহা ওপেন জিতলেন এই বেলজিয়ান।
প্রথম সেট ৬-৩ ব্যবধানে জিতে এগিয়ে যান ক্লাইস্টার্স। ঘুরে দাঁড়িয়ে ৭-৫-এ দ্বিতীয় সেট জিতে ম্যাচে ফেরেন ওজনিয়াকি। শেষ পর্যন্ত দুই ঘণ্টা ২০ মিনিটের লড়াইয়ে ক্লাইস্টার্স জিতেছেন ৬-৩, ৫-৭, ৬-৩ গেমে। কষ্টার্জিত জয়ে তৃপ্তিটা ছুঁয়ে যায় বিশেষ মাত্রা। ম্যাচ শেষে ক্লাইস্টার্সের কণ্ঠেও ঝরেছে সেই তৃপ্তি, ‘ম্যাচ শেষ করতে পেরে আমি খুবই স্বস্তি পেয়েছি। কারণ মনে হচ্ছিল এটা কখনোই শেষ হবে না। এটা ছিল খুবই কঠিন এক লড়াই। আমার ধারণা, এই ম্যাচটি ছিল মহিলা টেনিসের জন্য দারুণ এক বিজ্ঞাপন।’
শিরোপা জয়, নিজের ভবিষ্যৎ এবং প্রতিপক্ষ ক্যারোলিনের প্রশংসা করে বলেছেন, ‘শিরোপা জিতে আমি আনন্দিত। আমি জানি না আরও কত বছর আমি খেলব। কিন্তু আমার ধারণা, দুর্দান্ত এক ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে ক্যারোলিনের জন্য।’
ক্লাইস্টার্সের জন্য যে ম্যাচ আনন্দের সেটিই ক্যারোলিনের জন্য হতাশার। কোনো গ্র্যান্ড স্লাম না জিতেই এক নম্বর হওয়ার একটা জ্ব্বালা আছে। চারদিক থেকে সমালোচনা ঘিরে ধরে। এটা জিততে পারলে সাফল্যরেখাটাকে একটু উঁচুতে অন্তত রাখা যেত, তবে হেরেও অখুশি নন ওজনিয়াকি, ‘এই সপ্তাহটা ছিল আমার জন্য চমৎকার। আমি হয়তো আবার এখানে আসব এবং এসে শিরোপা জিততে চেষ্টা করব।’
এদিকে ক্রোয়েশিয়ার ইভান লুবিচিচকে ৬-২, ৫-৭, ৬-১ গেমে হারিয়ে ফ্রান্সের মন্টেপেলিয়ার টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতেছেন ঘরের ছেলে গায়েল মনফিলস। ক্যারিয়ারে এটি তাঁর তৃতীয় শিরোপা।

নাপোলির উপহার ম্যারাডোনাকে

ডিয়েগো ম্যারাডোনার ৫০তম জন্মদিন খুব ঘটা করেই পালন করছে তাঁর সাবেক ক্লাব নাপোলি। তবে সেরা উপহারটা তারা দিল মনে হয় জন্মদিনের পরদিন। ৩১ অক্টোবর ব্রেসিয়ার বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়টাই তো ম্যারাডোনার জন্য বড় উপহার।
উপহারের জয়টা যিনি এনে দিয়েছেন তিনিও একজন আর্জেন্টাইন। ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা দলে খেলা ইজেকুয়েল লাভেজ্জির ৭৭ মিনিটের গোলেই জয় পেয়েছে নাপোলি। আর এই জয় নাপোলিকে তুলে দিয়েছে সিরি ‘আ’র পয়েন্ট তালিকার পঞ্চম স্থানে। আগেই শীর্ষস্থানে ছিল লাৎসিও। পরশু পালের্মোকে ১-০ গোলে হারিয়ে ইন্টার মিলানের সঙ্গে পয়েন্ট ব্যবধানটা ৪ করে নিল তারা। ৯ ম্যাচে ২২ পয়েন্ট লাৎসিওর। সমান ম্যাচ খেলে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইন্টার মিলানের পয়েন্ট ১৮। এরপর এসি মিলান (১৭), জুভেন্টাস (১৫) ও নাপোলি (১৫)।
ইতালিতে লাৎসিও পয়েন্ট ব্যবধান বাড়াচ্ছে, ইংল্যান্ডে লিভারপুলের তা কমানোর মিশন। শীর্ষস্থানে থাকা চেলসির সঙ্গে ব্যবধান কমানোর চিন্তা এখনই করতে হয়তো পারবে না ‘অল রেড’রা, তাদের এখনকার মিশন অবনমন এলাকা থেকে বেরিয়ে আসা।
এই মিশনে দুই সপ্তাহ ধরে সফল রয় হজসনের দল। আগের সপ্তাহে ব্ল্যাকবার্নকে ২-১ গোলে হারানোর পর পরশু বোল্টনকে ১-০ গোলে হারিয়েছে লিভারপুল। গোল করেছেন আর্জেন্টাইন তারকা ম্যাক্সি রদ্রিগেজ। লিভারপুলের অবস্থান এখন পয়েন্ট তালিকার দ্বাদশ স্থানে। ১০ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট তাদের।
জার্মানিতে শীর্ষস্থানটা যেন হয়ে উঠেছে মিউজিক্যাল চেয়ার। একবার মেইঞ্জের হাতে চলে যায় তো আরেকবার ওঠে ডর্টমুন্ডের দখলে। পরশু বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের কাছে ২-০ গোলে হেরে যাওয়ার পর বুন্দেসলিগায় শীর্ষস্থানটা হারাতে হয়েছে মেইঞ্জকে। ১০ ম্যাচ থেকে বরুসিয়ার পয়েন্ট ২৫, মেইঞ্জের ২৪।

শেষ ষোলোয় চোখ ইন্টার-বার্সার

কারা খেলবে নকআউট পর্বে? ৩ ম্যাচ শেষেই শুরু হয়ে গেছে এই হিসাব-নিকাশ। আজ জিতলেই যে দুই ম্যাচ হাতে রেখেই নকআউট পর্বে উঠে যাবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ইন্টার মিলান, ২০০৯-এর ইউরোপ-সেরা বার্সেলোনা এবং গতবারের সেমিফাইনালিস্ট লিওঁ।
তিনটি দলই আজ খেলবে প্রতিপক্ষের মাঠে। ইতালিয়ান চ্যাম্পিয়ন ইন্টার যাচ্ছে ইংল্যান্ডে টটেনহামের মাঠে। বার্সেলোনা খেলবে ড্যানিশ ক্লাব এফসি কোপেনহেগেনের মাঠে। আর ফরাসি অলিম্পিক লিওঁকে আতিথ্য দেবে পর্তুগালের বেনফিকা।
হোসে মরিনহোর অধীন ৪৫ বছর পর ইন্টার মিলান চ্যাম্পিয়নস লিগের মুকুট পরেছে গত মৌসুমে। নতুন কোচ রাফায়েল বেনিতেজের ইন্টারও এবার ভালোই খেলছে। ৩ ম্যাচ থেকে ৭ পয়েন্ট পাওয়া ইন্টার নকআউট পর্বটাও দেখতে পাচ্ছে। তবে এর আগে গ্রুপ পর্বে সবচেয়ে বড় পরীক্ষাটা আজই দিতে হচ্ছে গত মৌসুমে ট্রেবলজয়ী ইতালিয়ানদের।
পরীক্ষা দিতে হচ্ছে বেনিতেজকেও। ইন্টার ও বেনিতেজের পরীক্ষার নাম টটেনহাম, পরীক্ষার নাম গ্যারেথ বেল। লিভারপুল ছাড়ার পর এই প্রথম ইংল্যান্ডে ফিরছেন বেনিতেজ। প্রথম ফিরছেন টটেনহামে। যে দলের বিপক্ষে লিভারপুলের হয়ে শেষ তিন ম্যাচেই হেরে ফিরেছিলেন তিনি। যদিও ইন্টারের সর্বশেষ ইংল্যান্ড সফরটা আনন্দেরই ছিল। গত মৌসুমে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে চেলসিকে তারা হারিয়েছিল ১-০ গোলে।
১৩ দিন আগে নিজেদের মাঠ সান সিরোতে ৪-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পরও টটেনহামের বিপক্ষে তাদের জয়টা ছিল ৪-৩ গোলে। হ্যাটট্রিক করেছিলেন উইংব্যাক গ্যারেথ বেল। এবার নিজেদের মাঠে বেল-উজ্জীবনী মন্ত্রে টটেনহামের তো আরও তেড়েফুঁড়ে খেলার কথা।
এই ওয়েলশ ফুটবলারকে নিয়ে ইন্টার মিলানের সত্যিই দুশ্চিন্তা! ক্লাব সভাপতি মাসিমো মোরাত্তির কথায়ই রয়েছে সেই ইঙ্গিত, ‘বেল দুর্দান্ত খেলেছে আগের ম্যাচটিতে। ওকে আগেই আমরা নজরে রেখেছিলাম। কিন্তু এখন দেখছি আরও খেয়াল রাখতে হবে।’
বার্সেলোনায় দুশ্চিন্তা নেই, বরং প্লে-মেকার জাভি হার্নান্দেজকে ফিরে পাওয়ার আনন্দ নিয়েই তারা খেলবে কোপেনহেগেনের মাঠে। চোটের অস্বস্তিটা পুরোপুরি না গেলেও হয়তো খেলবেন বলেই জানিয়েছেন জাভি, ‘আমাকে প্রায় শতভাগ ফিটই মনে হচ্ছে নিজের কাছে।’
জাভিকে পাওয়া ছাড়াও ফুরফুরেই থাকার কথা বার্সেলোনার। ৩ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে ‘ডি’ গ্রুপের শীর্ষে থাকা বার্সার আজকের প্রতিপক্ষ নিজের কিংবা অন্যের মাঠে কখনোই কোনো স্প্যানিশ প্রতিপক্ষকে হারাতে পারেনি। স্প্যানিশ প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ড্যানিশ দলটির সবচেয়ে ভালো ফল ১-১ ড্র। যেটা তারা করেছিল ১৯৯৭-৯৮-এর উয়েফা কাপে রিয়াল বেটিসের সঙ্গে।
প্রতিপক্ষের মাঠে যাচ্ছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডও। তবে তুরস্কের ক্লাব বুরসাসপরের বিপক্ষে এ ম্যাচ নিয়ে কোনো চিন্তা থাকার কথা নয় ইংলিশ পরাশক্তির। চ্যাম্পিয়নস লিগে সর্বশেষ ৮টি অ্যাওয়ে ম্যাচের ৭টিতেই জিতেছে অ্যালেক্স ফার্গুসনের দল।

আজ শুরু জাতীয় বাস্কেটবল

এসএ গেমস ও ইন্দো-বাংলা গেমসের জন্য গত বছর জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ হয়নি। এক বছর বাদে আজ শুরু হচ্ছে সিটিসেল ২৪তম জাতীয় বাস্কেটবল। ধানমন্ডি ইনডোর বাস্কেটবল জিমনেসিয়ামে চার গ্রুপে এবার অংশ নিচ্ছে জেলা ও সার্ভিসেস দল মিলিয়ে মোট ২০টি দল। চ্যাম্পিয়ন সেনাবাহিনীসহ গতবারের সেরা চারটি দল সরাসরি খেলবে দ্বিতীয় রাউন্ডে।
টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো পৃষ্ঠপোষকতা করছে মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান সিটিসেল। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন বাংলা টুর্নামেন্টের মিডিয়া পার্টনার।
সারা দেশ থেকে মাত্র ১৪টি জেলা দল অংশ নিচ্ছে এবারের জাতীয় প্রতিযোগিতায়। এত অল্প জেলার অংশগ্রহণের কারণটা জানালেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক লে. কমান্ডার (অব.) এ কে সরকার, ‘অবকাঠামোগত অসুবিধার কারণে সারা দেশে চাইলেও বাস্কেটবল খেলাটা ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। যে জন্য নিয়মিত বাস্কেটবল খেলা জেলাগুলোকেই আমন্ত্রণ জানিয়েছি।’ কাল এ সম্পর্কিত এক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশনের সভাপতি সাংসদ মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, সিটিসেলের সিওও (প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা) ডেভিড লি, প্রধান বিপণন কর্মকর্তা (হেড অব মার্কেটিং কমিউনিকেশনস) তাসলিম আহমেদ। বাস্কেটবলের সঙ্গে সিটিসেলের মেলবন্ধন হওয়ায় খুশি ডেভিড লি, ‘বাস্কেটবলের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে আমরা খুশি।’

প্রবন্ধ- রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেনের 'অবরোধবাসিনী' থেকে

আমরা বহু কাল হইতে অবরোধ থাকিয়া থাকিয়া অভ্যস্ত হইয়া গিয়াছি সুতরাং অবরোধের বিরুদ্ধে বলিবার আমাদের-বিশেষতঃ আমার কিছুই নাই। মেছোণীকে যদি জিজ্ঞাসা করা যায় যে, “পচা মাছের দুর্গন্ধ ভাল না মন্দ?”-সে কি উত্তর দিবে?
এস্থলে আমাদের ব্যক্তিগত কয়েকটি ঘটনার বর্ণনা পাঠিকা ভগিনীদেরকে উপহার দিব-আশা করি, তাঁহাদের ভাল লাগিবে। এস্থলে বলিয়া রাখা আবশ্যক যে গোটা ভারতবর্ষে কুলবালাদের অবরোধ কেবল পুরুষের বিরুদ্ধে নহে, মেয়েমানুষদের বিরুদ্ধেও। অবিবাহিতা বালিকাদিগকে অতি ঘনিষ্ঠ আত্মীয়া এবং বাড়ীর চাকরাণী ব্যতীত অপর কোন স্ত্রীলোকে দেখিতে পায় না। বিবাহিতা নারীগণও বাজীকর-ভানুমতী ইত্যাদি তামাসাওয়ালী স্ত্রীলোকদের বিরুদ্ধে পর্দ্দা করিয়া থাকেন।

ফিচার- ‘হিমশীতল শহরগুলোর দিনরাত' by তামান্না মিনহাজ

ওইমিয়াকন গ্রাম। লোকসংখ্যা মাত্র কয়েক শ। সবেধন নীলমনি একটিমাত্র হোটেল, যেখানে গরম পানির ব্যবস্থা নেই, বাথরুমও বাইরে। তাপমাত্রা যখন ৫২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যায় তখন গ্রামের একমাত্র স্কুলটি বন্ধ করে দেয়া হয়।
এটিই হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে শীতল বসতিপূর্ণ এলাকা। অবস্থান রাশিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় প্রজাতন্ত্র শাখায় (ইয়াকুতিয়া)। শীতকালে গড়পড়তায় এ গ্রামের তাপমাত্রা থাকে মাইনাস ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে একবার তা হিমাঙ্কের ৭১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে গিয়েছিল। এখন পর্যন্ত এটাই মনুষ্যবসতি এলাকার সর্বনিম্নে তাপমাত্রা। সাইবেরিয়া অঞ্চলের এ এলাকাটির একটি ডাকনাম আছে, 'স্ট্যালিনের মৃত্যু উপত্যকা' (রাজনৈতিক নির্বাসনের সাবেক গন্তব্যস্থল)। অথচ ওইমিয়াকনের শাব্দিক অর্থ 'পানি যেখানে কখনো শীতল হয়ে জমে যায় না'।

গল্পালোচনা- ''সে কহে বিস্তর মিছা যে কহে বিস্তর' by মোস্তফা হোসেইন

জিহ্বা সংবরণ করতে হয়। অসংযত জিহ্বা মানুষের সব অর্জন শেষ করে দিতে পারে। মধুর কথাও বিষিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

জিহ্বা মানুষের এমন একটি অঙ্গ, যা মানুষকে শ্রদ্ধাশীল করে, আবার তা সাপের জিহ্বার মতোও হয়ে যায় কখনো কখনো। আবার ভাঁড়দেরও প্রধান অস্ত্র এই জিহ্বা। ভাঁড়দের কারণে ভাঁড়ামো শব্দের উৎপত্তি হলেও সব ভাঁড়ের ভাঁড়ামো আবার ভাঁড়ামো থাকে না। উল্লসিত হওয়া কিংবা সুখানুভূতির পরিবর্তে অসুখ আর দুঃখবোধও হতে পারে এই জিহ্বার অপব্যবহারে। আর সেই জিহ্বা যদি হয় রাজনীতিবিদের, তাহলে তাঁকে আগপাছ হরেক চিন্তা করেই তা ব্যবহার করতে হয়। চিন্তা করতে হয়_জিহ্বার নড়াচড়া যেন সাপের জিহ্বার মতো না হয়। সুখেরই বারতা পরিবেশনকারী হয় যেন। সবই আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের জানা কথা।

সাক্ষাৎকার- হুমায়ূন আহমেদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ইমদাদুল হক মিলন

কালের কণ্ঠের ঈদ আনন্দ সংখ্যা ২০১০ এর জন্য কালের কণ্ঠের পক্ষ থেকে হুমায়ূন আহমেদের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন ইমদাদুল হক মিলন।

ইমদাদুল হক মিলন : হুমায়ূন আহমেদ, আপনি কেমন আছেন?
হুমায়ূন আহমেদ : বেঁচে আছি।
ইমদাদুল হক মিলন : বেশির ভাগ মানুষকে যদি এ প্রশ্নটা করা হয়, তাঁরা বলেন, ভালো আছি। অথবা 'এই আছি আর কি'। কেউ কেউ কোনো কোনো সমস্যার কথা বলেন। আর আপনি শুধু বলেন, বেঁচে আছি। এ রকম বলার কারণ কী?

ইতিহাস- পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ডাইনোসরের ফসিল 'স্যু' এর কাহিনী

নামটা খুব সাধারণ- 'স্যু'। কিন্তু এ নামের পিছনে রয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে রহস্যময় আর এ যাবৎকালের সবচেয়ে বেশি গবেষণালব্ধ প্রাণী ডাইনোসরের নাম। এই স্যু হচ্ছে

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় টি রেক্সের নমুনার ডাক নাম। এফএমএনএইচপি আর ২০৮১ নামের এই টাইরানোসোরাস রেক্স বা ডাইনোসরের ফসিলটি এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এবং সংরক্ষিত ডাইনোসরের নমুনা। ডাইনোসর পৃথিবীর প্রাগৈতিহাসিক অধিবাসী। এই প্রভাবশালী মেরুদণ্ডী প্রাণীটি প্রায় ১৬০ মিলিয়ন বছর ধরে পৃথিবীতে রাজত্ব করেছে। ডাইনোসরের সৃষ্টি হয়েছিল আনুমানিক ২৩০ মিলিয়ন বছর আগে। ঈৎবঃধপবড়ঁং যুগের শেষে প্রায় ৬৫ মিলিয়ন বছর আগে একটি বিধ্বংসী প্রাকৃতিক বিপর্যয় ডাইনোসরকে পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করে দেয়। তাদের একটি শ্রেণীই কেবল বর্তমান যুগ পর্যন্ত টিকে রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

খাদ্য আলোচনা- 'অপুষ্টির প্রধান কারণ দারিদ্র্য ও অজ্ঞতা' by শেখ সাবিহা আলম

যে পরিবার নিয়মিত মাছ, মাংস, ডিম বা দুধ কিনতে পারে না, ডাল তাদের আমিষের অভাব পূরণ করতে পারে
দেশে ব্যাপক অপুষ্টির প্রধান কারণ দারিদ্র্য ও খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা। দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে দেশের ৪০ শতাংশ মানুষ। খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকায় দেশের এই বিপুলসংখ্যক মানুষ

প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার জোটাতে পারছে না। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যথাযথ পুষ্টিজ্ঞানের অভাবও অপুষ্টির বড় কারণ। সামর্থ্য থাকলেও মানুষ সঠিক খাদ্য কিনে খায় না। এ ছাড়া আছে পুষ্টি সম্পর্কিত নীতি ও কর্মকৌশলে দুর্বলতা।
দেশের পুষ্টি পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক বলেন, বর্তমান সরকার পুষ্টির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। আগামী বছর থেকে পুরো দেশকে পুষ্টি কার্যক্রমের আওতায় আনতে চায় সরকার। তিনি বলেন, কৃষি, খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করারও চেষ্টা চলছে।