Wednesday, June 25, 2025
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করতে পারেনি মার্কিন হামলা: নিউ ইয়র্ক টাইমসের রিপোর্ট
যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা এবং ইসরাইলি বিমানবাহিনীর টানা কয়েকদিনের আক্রমণের পর, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার (ডিআইএ) রিপোর্টে বলা হয়েছে, কর্মসূচিটি কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে, তবে তা ছয় মাসের কম সময়ের জন্য। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি বড় অংশ হামলার আগেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফলে পারমাণবিক উপাদানের খুব কমই ধ্বংস হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই উপাদানগুলোর কিছু গোপন স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। কিছু ইসরাইলি কর্মকর্তা মনে করে, ইরান হয়তো ছোট আকারের গোপন সমৃদ্ধিকরণ কেন্দ্র চালু রেখেছে, যাতে বৃহৎ কেন্দ্রগুলো আক্রমণের শিকার হলেও তারা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে। অন্য কিছু কর্মকর্তারা বলেন, রিপোর্টে দেখা গেছে ফরদো, নাতানজ ও ইসফাহান- এই তিনটি পারমাণবিক স্থাপনাই মাঝারি থেকে গুরুতর ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এর মধ্যে নাতানজ ছিল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। তবে ইরান এসব স্থাপনা পুনর্নির্মাণের চেষ্টা করবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
সাবেক কর্মকর্তারা বলেন, যদি ইরান দ্রুত পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে চায়, তবে তা হবে অপেক্ষাকৃত ছোট ও অপরিপক্ব একটি বোমা। একটি ক্ষুদ্রায়িত ওয়ারহেড তৈরি করা আরও জটিল এবং সেই গবেষণার উপর কতটুকু প্রভাব পড়েছে তা এখনও অজানা। বর্তমান ও সাবেক সামরিক কর্মকর্তারা আগেই সতর্ক করেছিলেন, ফরদো স্থাপনাটি যা একটি পাহাড়ের নিচে ২৫০ ফুট গভীরে অবস্থিত, তা ধ্বংস করতে একাধিক দিনের বিমান হামলার প্রয়োজন হবে। শনিবার মার্কিন যুদ্ধবিমান অন্তত দু’বার একই লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। বি-২ বোমারু বিমান ফরদোতে ১২টি জিবিইউ-৫৭ ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স পেনিট্রেটর (এমওপি) বোমা ফেলে। এগুলোকে ‘বাংকার বাস্টার’ বলা হয়। আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক ব্যবস্থাপক ব্রায়ান কার্টার বলেন, বর্তমানে ছয়টি বড় আকারের গর্ত ফরদোর ওপরে দেখা যাচ্ছে। তবে সামরিক বোমা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কাজ সম্পূর্ণ করতে এক দিনের চেয়েও বেশি সময়ের হামলা দরকার ছিল।
প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়নে দেখা যাচ্ছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি যে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ হয়েছে- তা অতিরঞ্জিত। কংগ্রেসে মঙ্গলবার হামলার বিষয়ে ব্রিফিং হওয়ার কথা থাকলেও তা স্থগিত করা হয়েছে। সিনেটররা বৃহস্পতিবার এবং হাউজ সদস্যরা শুক্রবার ব্রিফিং পাবেন। হামলার পর থেকে ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে উপদেষ্টাদের কাছে অভিযোগ করে যাচ্ছেন যে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্টগুলো হামলার সফলতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করছে। তিনি বিভিন্ন কর্মকর্তার প্রকাশ্য বক্তব্যও ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
মঙ্গলবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ট্রাম্পের দাবি পুনরায় সমর্থন করে বলেন, আমরা যা দেখেছি এবং আমি সবই দেখেছি- তাতে স্পষ্ট, আমাদের বোমাবর্ষণ ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতাকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করেছে। আমাদের বিশাল বোমাগুলো প্রতিটি লক্ষ্যে নিখুঁতভাবে আঘাত করেছে এবং পুরোপুরি কাজ করেছে।
কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেন, পাঁচ পাতার এই গোপন রিপোর্টটি ছিল কেবল প্রাথমিক মূল্যায়ন এবং আরও বিশ্লেষণ আসবে যখন ইরান নিজে ক্ষয়ক্ষতি পর্যবেক্ষণ করবে ও আরও তথ্য সংগ্রহ করা হবে। একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রশাসনের ভেতরে যে রিপোর্ট দেখানো হয়েছে তা ‘মিশ্র’, অর্থাৎ চূড়ান্ত মূল্যায়ন এখনও বাকি। তবে ডিআইএ’র রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, এই সাইটগুলো প্রত্যাশার চেয়ে কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ইরান এখনো তাদের অধিকাংশ পারমাণবিক উপাদান নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। অর্থাৎ তারা চাইলে খুব অল্প সময়েই আবার কর্মসূচি শুরু করতে পারে। রিপোর্টের তথ্য গোপন থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন।
হোয়াইট হাউজ এই মূল্যায়নের তীব্র বিরোধিতা করেছে। প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, এই তথাকথিত মূল্যায়নের ফাঁস একটি পরিকল্পিত অপপ্রচার, যার উদ্দেশ্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হেয় করা এবং আমাদের সাহসী ফাইটার পাইলটদের সম্মানহানি করা। সবাই জানে, যদি ১৪টি ৩০,০০০ পাউন্ড ওজনের বোমা নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে ফেলা হয়, তাহলে সেটা সম্পূর্ণ ধ্বংস ঘটায়।
ওদিকে সিএনএন আগে থেকেই গোয়েন্দা রিপোর্টের কিছু অংশ প্রকাশ করেছিল। কর্মকর্তারা বলেন, হামলায় ফরদোর বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোতে ইরান কবে নাগাদ পুনরায় প্রবেশ করতে পারবে, বা পুনঃস্থাপন শুরু করতে পারবে- তা এখনো অনিশ্চিত। মিস্টার কার্টার বলেন, এই বোমা হামলায় তিনটি সাইটই ‘গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত’ হয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে ইসরাইলের প্রাথমিক মূল্যায়নেও হামলার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাদের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা বলেন, ভূগর্ভস্থ ফরদো সাইট পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি- এমন প্রমাণ তারা পেয়েছেন। হামলার আগেই মার্কিন সেনাবাহিনী বিভিন্ন সম্ভাবনার মাত্রা দিয়েছিল- সর্বনিম্নে কয়েক মাস, সর্বোচ্চ কয়েক বছর বিলম্ব হতে পারে বলে ধারণা ছিল। কিছু কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, এই ধরনের অনুমান কখনোই নিখুঁত হয় না এবং ইরান যদি চায়, তাহলে তারা কতদিনে পুনর্গঠন করতে পারবে তা বলা কঠিন।
ট্রাম্প ও হেগসেথ যদিও সাইটগুলো ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছেন, তবে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন ছিলেন তুলনামূলকভাবে সংযত। তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামোকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করা। তিনি আরও বলেন, চূড়ান্ত ব্যাটল ড্যামেজ অ্যাসেসমেন্ট অর্থাৎ যুদ্ধের পর চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এখনো বাকি। সেন্ট্রাল কমান্ডের সাবেক কমান্ডার জেনারেল জোসেফ ভোটেল বলেন, ব্যবহৃত অস্ত্র নিয়ে আমার আত্মবিশ্বাস ছিল যথেষ্ট। তবে কিছু উপাদান টিকে থাকবে, এটা অপ্রত্যাশিত নয়। এজন্যই আমরা ব্যাটল ড্যামেজ অ্যাসেসমেন্ট করি। কারণ সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী গেলেও বাস্তবতার ভিন্নতা থাকতে পারে।
সিনেটে মঙ্গলবারের শুনানিতে ডেমোক্রেটরা আরও সংযত মন্তব্য করেন। সিনেটর জ্যাক রিড বলেন, চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্টের অপেক্ষায় আছি আমরা। সামরিক কর্মকর্তারা আগেই বলেছিলেন, ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোতে বেশি ক্ষতি করতে হলে একাধিক দফায় আঘাত করা প্রয়োজন। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রথম দফার হামলার পরপরই তা বন্ধের ঘোষণা দেন। হামলার আগে মার্কিন গোয়েন্দারা বলেছিলেন, ইরান এখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে তাদের কাছে যথেষ্ট সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আছে- অর্থাৎ তারা চাইলে দ্রুত বোমা তৈরি করতে পারে।
যদিও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, এই ধরনের হামলা ইরানকে পারমাণবিক বোমা তৈরিতে প্ররোচিত করতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো নিশ্চিত নয় যে ইরান সে পথে এগোচ্ছে কি না। প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার (ডিআইএ) পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ন্যায়ের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া by শহীদুল্লাহ ফরায়জী
একজনের উপর হিংস্রতা চালিয়ে কি সত্যিই আমাদের অভ্যন্তরের বিচারের ক্ষুধা মেটে, নাকি এটা আসলে আমাদের নৈতিক দেউলিয়াত্বের বহিঃপ্রকাশ! এই ধরনের ঘটনা আমাদের গণতান্ত্রিক চর্চার গভীর সংকট এবং প্রতিশোধপরায়ণ সামাজিক চেতনাকেই তুলে ধরে। এটা কোনো বিচারেই বিচারের প্রতীক নয়, বরং প্রতিশোধের উৎসবে রূপ নেওয়া এক নিষ্ঠুরতার সংস্কৃতি। ব্যক্তিকে অপমান করে সমাজ যেন নিজেই নিজেকে নগ্ন করে ফেলছে; এখানেই প্রশ্ন জাগে—আমরা কী ধরনের নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও বিচারবোধের উত্তরাধিকার রেখে যাচ্ছি? আমরা কোন পথে এগোচ্ছি—ন্যায় ও সংবেদনশীলতার পথে, নাকি প্রতিশোধ ও অবমাননার চোরাবালিতে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর না খুঁজে আমরা যদি কেবল প্রতিপক্ষকে লাঞ্ছিত করেই আত্মতুষ্টি পাই, তবে একদিন আমাদের বিবেকও লাঞ্ছনার পরিণতি ভোগ করবে।
সবচেয়ে করুণ সত্য হলো—পৃথিবীর অধিকাংশ অশুভতার সৃষ্টি করে তারাই, যারা কখনোই স্থির করেনি তাদের কী হওয়া উচিত, ন্যায়পরায়ণ নাকি অন্যায়কারী। এই নৈতিক-উদাসীনতা আমাদের সমাজের গভীরে যে-অবক্ষয়ের জন্ম দিয়েছে, আজকের অপমান-সংস্কৃতি তারই নিছক বহিঃপ্রকাশ।
এটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন প্রতিক্রিয়া নয়; এটি আমাদের বিচারবোধ, শিষ্টাচার এবং গণতান্ত্রিক চেতনার বিরুদ্ধে এক প্রতীকী বিদ্রোহ। গণতান্ত্রিক-প্রতিবাদ কখনোই অবমাননার সমার্থক নয়—বরং যেখানে যুক্তি ও নীতির অবসান ঘটে, সেখানেই অপমানের উন্মত্ততা জন্ম নেয়। যেখানে যুক্তি নেই, নীতি নেই, সেখানে অবমাননা এসে দাঁড়ায় বেপরোয়া অস্ত্র হয়ে।
মনস্তাত্ত্বিকভাবে—এই আচরণ আমাদের সামাজিক অবদমনের কুফল। যখন দীর্ঘদিন ধরে একটি রাষ্ট্রে বিচারের পথ রুদ্ধ থাকে, আইন ন্যায় দিতে ব্যর্থ হয়, ভয়ঙ্কর অন্যায়কারী সম্মানের জায়গা দখল করে নেয়, তখন জনমানুষের ভেতরে জমে ওঠে এক অনিয়ন্ত্রিত ক্রোধ, যা একসময় ব্যক্তিগত প্রতিশোধের ভাষায় বিস্ফোরিত হয়। কিন্তু এই উত্তাল ক্ষোভ গন্তব্যহীন। এর ফলে যেমন ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হয় না, তেমনি ভবিষ্যতের জন্য কোনো গঠনমূলক দৃষ্টান্তও গড়ে ওঠে না। বরং আমরা এমন এক সমাজে পরিণত হই—যেখানে সম্মান নয়, অপমানই প্রতিবাদের নতুন মানদণ্ড হয়ে দাঁড়ায়।
সমাজে প্রতিহিংসা এমন পর্যায়ে গেছে—যেখানে একজনের সম্মান মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া অন্যের জন্য আনন্দদায়ক হয়ে ওঠে! পৈশাচিক এই আনন্দ—পরস্পরের মর্যাদা হরণ করা এক ভয়াবহ সামাজিক ভাষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারো প্রতি ক্ষোভ কিংবা কাউকে অসম্মান করার বাসনা শুধু জীবিত থাকাকালেই যে-প্রয়োগ হচ্ছে তা নয়, মৃত্যুতেও সে-জিঘাংসার অবসান হয় না। বরং একের মৃত্যু অন্যের কাছে আনন্দের বার্তা হয়ে উঠছে! আমাদের নৈতিক বধিরতা এতোটাই গভীর যে—শবযাত্রা আর অবমাননার মধ্যে পার্থক্য করাও অসম্ভব হয়ে গেছে! আজকের সমাজে জুতোর মালা কেবল একজন অপরাধীর গলায় নয়, বরং একটি সমাজের নিজের বিবেকহীনতার গলায়ও পরানো হচ্ছে। এটি একটি প্রতীকী আত্ম-অপমান, যেখানে প্রতিশোধ নিতে গিয়ে সমাজ নিজেই তার নৈতিক অধঃপতনের ঘোষণা দিচ্ছে।
আমরা বিচার চাই না, অপমান চাই। যুক্তি চাই না, উত্তেজনা চাই। কিন্তু একটি সভ্য সমাজ কখনোই তার ন্যায়বিচার প্রক্রিয়া—প্রতিশোধের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে পারে না। ‘জুতোর মালা’ হচ্ছে—প্রাতিষ্ঠানিক ন্যায়ের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া।
গণ-অপমান বা এই ধরনের প্রতীকী অপমান বহু মানুষের সমর্থন পায়, ঠিক যেমন জনরোষের ঢেউয়ে ডুবে যায় ব্যক্তিগত ন্যায় বা মানবিকতা। হান্না আরেন্ড বলেন—'The sad truth is that most evil is done by people who never make up their minds to be good or evil.' অর্থাৎ, ‘সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সত্য এই যে, অধিকাংশ অমঙ্গল সংঘটিত হয় তাদের হাতেই, যারা ভালো কিংবা মন্দ—কোন পথ বেছে নেবে, সে সিদ্ধান্তেই পৌঁছায় না কখনো।’ এই ধরনের অপমান একপ্রকার Banality of irresponsibility.' ‘Banality of irresponsibility-’ বলতে বোঝায় এমন এক সমাজ-মানসিকতা, যেখানে মানুষ নিজের কাজের পরিণতি সম্পর্কে চিন্তা না করেই কাজ করে। তারা নিজেকে ভাবেই না কোনো নৈতিক কর্তব্যের অধিকারী হিসেবে। এটা অশুভতার মতোই বিপজ্জনক, কারণ তা জেনে বা না জেনে অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়।এটি যখন ঘটে মানুষ তখন ভাবে— ‘আমি শুধু আদেশ পালন করছি’ আরও ভাবে—‘সবাই করছে, আমিও করলাম।’ মানুষ না বুঝে, না ভেবে—অবমাননার সঙ্গে একাত্ম হয়ে পড়ে। এই মনোভাবের ফলে অপরাধ বা অন্যায়ের দায় নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। অথচ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ থেকেই যায়, প্রতিষ্ঠান ভেঙে পড়ে, সমাজ বিবেক হারায়। যে সমাজে বিচারকে কেন্দ্র না করে অপমানকে কেন্দ্র করে গণআন্দোলন হয়, সেখানে কেবল শাসকের নয়, সমাজের ও নৈতিকতার মৃত্যু ঘটে। কারণ, সমাজ তখন আর যুক্তিবান নয়, প্রতিক্রিয়াশীল। জুতোর মালা তখন যেন এক প্রতীক নয়, সমাজের নৈতিক শবযাত্রার মালা।
জুতোর মালা যেমন একজন দুর্নীতিবাজের গলায় অপমানের প্রতীক, তেমনই তা আমাদের সমাজের মূল্যবোধের ব্যর্থতারও প্রতীক। এর বদলে চাই— সংবেদনশীল, সংহত ন্যায়বোধ, যেখানে আমরা অপরাধের বিচার করবো, অপরাধীকে নয়। মানুষের সম্মানহানির মাধ্যমে নয়, আইনের শাসনের মাধ্যমে প্রতিকার চাইবো। আমাদের মনে রাখতে হবে—একটি জাতির নৈতিক উন্নতি বিচার করা যায়, তারা কাকে কীভাবে বিচার করে তা দেখে। তারা কাকে অপমান করে তা নয়, বরং তারা কীভাবে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করে—সেইটিই সেই জাতির পরিপক্বতার মাপকাঠি।
একটি জাতির সভ্যতা ও নৈতিক উন্নতির সূচক নির্ধারিত হয় এই দিয়ে যে—সে অপরাধীর প্রতি কেমন আচরণ করে, কীভাবে বিচার করে এবং কী প্রক্রিয়ায় ন্যায়ের সাধন করে। ন্যায় মানে শুধু শাস্তি নয়, ন্যায়ের পদ্ধতি এবং প্রক্রিয়াও।
কোনো অপরাধীর প্রতি ঘৃণা বা অপমান—একটি সহজ সামাজিক প্রতিক্রিয়া, কিন্তু সভ্যতা দাবি করে আইনের মাধ্যমে ন্যায়ের সংরক্ষণ।একটি সমাজকে বিচার করতে হলে দেখতে হবে, সে কীভাবে আইনের ভেতর দাঁড়িয়ে ন্যায়বিচার করে। যদি সমাজ অপমান, প্রতিশোধ বা জনরোষের ভিত্তিতে বিচার করে, তাহলে সে আইন প্রতিষ্ঠা করছে না, বরং ন্যায়ের নামে অন্যায়কে বৈধতা দিচ্ছে। একজন অপরাধীকে অপমান করা বা ‘দৃষ্টান্তমূলক’ শাস্তি দেওয়া অনেক সময় জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। কিন্তু প্রকৃত দার্শনিক প্রশ্ন হচ্ছে—এই প্রক্রিয়াটির মধ্যে নৈতিকতা, ন্যায়বোধ ও মানব মর্যাদার স্থান কোথায়? একটি সভ্যজাতি অপরাধীর সম্মানহানি করে না, সে ন্যায়বিচার করে।
কীভাবে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করছে—এটি অন্তর্মুখী বিচারবোধ, জাতির মূল্যবোধ ও রাজনৈতিক নৈতিকতার পরিচায়ক। ন্যায় মানে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা নয়, বরং একটি সম্মিলিত মানবিক চুক্তি, যেখানে সবাই (অপরাধীসহ) ন্যায়ের প্রক্রিয়ার ভেতর একটি সম্মানজনক স্থান পায়। একটি জাতিকে তার ন্যায়বোধ দিয়ে বিচার করতে হয়—ঘৃণার উচ্ছ্বাস দিয়ে নয়। যারা এসব ঘৃণ্য অপরাধে জড়িত, তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচারের ব্যবস্থা না করলে—যেটুকু বিচার অবশিষ্ট আছে, তাও বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক সুবিচার ভিত্তিক রাষ্ট্র নির্মাণ করতে হলে— বিবেকের আলো জ্বালাতে হবে।
লেখক: গীতিকবি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
faraizees@gmail.com

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইসরায়েলের আগ্রাসন: গাজায় নিহত ৫৬ হাজার ছাড়াল
গতকাল গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া হিসাবে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের হামলায় গাজায় ৫৬ হাজার ৭৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১ লাখ ৩১ হাজার ৮৪৮ জন। হতাহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু। দুই মাসের যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার আগেই গত ১৮ মার্চ গাজায় আবার হামলা শুরু করে ইসরায়েল। এর পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় ৫ হাজার ৭৫৯ জন নিহত ও ১৯ হাজার ৮০৭ জন আহত হয়েছেন।
ত্রাণ নিতে গিয়ে একমাসে ৫১৬ জন নিহত
হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের সূত্রের বরাতে আল-জাজিরা জানিয়েছে, মধ্য গাজায় ত্রাণ নিতে গিয়ে ইসরায়েলের সেনাদের গুলিতে অন্তত ২৫ জন নিহত হন। ওয়াদি গাজার দক্ষিণে সালাহ আল-দির সড়কে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের (জিএইচএফ) ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রে গুলির এ ঘটনায় ১৪০ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৬২ জনের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছে মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি।
এ ছাড়া দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের আল-তিনা সড়কে ত্রাণ নিতে গেলে বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যা করেন ইসরায়েলি সেনারা। উত্তরের গাজা নগরী এবং দক্ষিণের রাফায় ত্রাণ নিতে যাওয়া ফিলিস্তিনিদেরও হত্যা করা হয়। সব মিলিয়ে ত্রাণ নিতে গিয়ে এদিন ৪৯ ফিলিস্তিনি নিহত হন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ত্রাণ নিতে গিয়ে গত এক মাসে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলি নয়তো গোলাবর্ষণে অন্তত ৫১৬ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩ হাজার ৭৯৯ জন।
ত্রাণের নামে ‘মৃত্যুফাঁদ’ তৈরি করা হয়েছে
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই গত ২ মার্চ থেকে গাজায় ত্রাণ প্রবেশ বন্ধ করে দেয় ইসরায়েল। এতে অবরুদ্ধ উপত্যকাটিতে দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি তৈরি হয়। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র জিএইচএফ প্রতিষ্ঠা করে ইসরায়েলি বাহিনীর সহায়তায় কিছু এলাকায় ত্রাণ দিচ্ছে, যা ২১ লাখ বাসিন্দার উপত্যকাটির অর্ধাহার-অনাহারে থাকা মানুষের চাহিদার তুলনায় খুবই কম। দাতব্য সংস্থাগুলোকে বাদ দিয়ে এভাবে ত্রাণ দেওয়ার সমালোচনা করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি বলেছে, গাজায় ত্রাণকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
গাজায় দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন দেশ ও সমালোচনার মুখে গত মে মাসের শেষ দিকে জিএইচএফ ত্রাণ দেওয়া শুরুর পর থেকে ত্রাণ নিতে প্রতিদিনই ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে কয়েক ডজন করে ফিলিস্তিনি প্রাণ হারাচ্ছেন।
জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার প্রধান ফিলিপ লাজ্জারিনি গতকাল জার্মানির বার্লিনে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘কথিত ত্রাণ দেওয়ার এই ব্যবস্থা একটি ঘৃণ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
| ত্রাণ নিতে গিয়ে ইসরায়েলি হামলায় নিহত এক ফিলিস্তিনির দাফন অনুষ্ঠানে স্বজনদের কান্না। গতকাল ইসরায়েল-নিয়ন্ত্রিত গাজার জিকিম সীমান্ত পয়েন্টের কাছে। ছবি: এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইরান কিছুই ভুলবে না, সব মনে রাখবে by হামিদ দাবাশি
ইসরায়েল যেভাবে ফিলিস্তিন, লেবানন, সিরিয়া ও ইয়েমেনে সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছে, ঠিক সেই কায়দায় এবার তারা ইরানের শিল্প স্থাপনা, সামরিক ও বিজ্ঞান নেতৃত্বের ওপর হামলা চালিয়েছে; শত শত সাধারণ মানুষকেও হত্যা করেছে। এটি ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর চিরাচরিত ধরন।
গেল শনিবার ইরানের ফর্দো, নাতানজ ও ইস্পাহান শহরের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র বোমা হামলা চালায়। এরপর এই যুদ্ধপিপাসা যেন আরও ভয়ংকর রূপ নিয়েছে।
তবে এটি স্পষ্ট, ইরানিরা তাঁদের মাতৃভূমি রক্ষায় শেষ পর্যন্ত লড়ে যাবে। তাঁরা কোনো কিছুকে সমঝে চলবে না। এ অঞ্চলের যেসব আরব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আছে এবং যারা এ আক্রমণে কোনো না কোনোভাবে সহযোগী, তাদের জন্যও কঠিন পরিণতি হতে পারে। কারণ, এটি আরেকটি স্বাধীন রাষ্ট্রের ওপর সরাসরি হামলা।
ট্রাম্প হামলার ঠিক আগমুহূর্তে যে ‘আলোচনার নাটক’ করছিলেন, সেটি নিছক হাস্যকর রাজনৈতিক ছলনা ছিল না। আর ইসরায়েলও কোনো স্বাধীন রাষ্ট্র নয়। এটি কার্যত একটি সামরিক গুদামঘর, যা তার মদদদাতা ও মালিকদের স্বার্থে কাজ করে।
ইসরায়েল ও তাদের মিত্র যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করেছে, ইরানই হলো সবচেয়ে বড় শত্রু। তারা এমনভাবে কথা বলে এসেছে, যেন ইরান এখনই একটা পারমাণবিক বোমা তৈরি করে ইসরায়েলের ওপর ফেলতে যাচ্ছে।
কিন্তু এ কথা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আদতে ইসরায়েল নিজেই একটা দখলদার উপনিবেশ, যাদের কাছে অনেক পারমাণবিক অস্ত্র মজুত আছে এবং প্রচুর ভয়ংকর সাধারণ অস্ত্রও রয়েছে। এসব সাধারণ অস্ত্র তারা গাজা ধ্বংস করতে ও ফিলিস্তিনিদের ওপর গণহত্যা চালাতে ব্যবহার করেছে।
যেকোনো সুস্থ মানুষ একমত হবেন—না ইরান, না ইসরায়েল, না অন্য কোনো দেশের পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত। কিন্তু এখন প্রশ্ন হলো, যারা নিজেরাই ফিলিস্তিনিদের ওপর গণহত্যা চালাচ্ছে, তারা কি সত্যিই ইরানের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলতে পারে? কিংবা যে যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে একমাত্র দেশ হিসেবে জাপানে পারমাণবিক বোমা ফেলেছিল, তারা কি এই অভিযোগ করার নৈতিক অবস্থানে আছে?
এমনকি ইউরোপীয় দেশগুলোও, যাদের নিজস্ব অতীতে ঔপনিবেশিক শোষণ আর ফ্যাসিবাদ ছিল, তারাও কি এ বিষয়ে নীতিকথা বলার মতো জায়গায় আছে? নিশ্চয়ই না।
ইরান পারমাণবিক বোমা বানাতে পারে—এই জুজুর ভয় আসলে একটা অজুহাত, একটা ধোঁকা। ইসরায়েল আর তাদের সমর্থক জায়নবাদীরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে ইরানকে অনেক দিন আগেই শত্রু বানিয়ে তুলেছে। এখন তারা ইরানে হামলা চালিয়েছে মূলত ফিলিস্তিন নিয়ে মানুষ যেন কথা না বলে, সেই জন্য।
এখন যখন সারা বিশ্বের দৃষ্টি ইরানের দিকে, তখন ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের আরও বেশি হত্যা করছে, আরও বেশি জমি দখল করছে। ইরান হলো এই হত্যাযজ্ঞ থেকে নজর সরানোর একটা হাতিয়ার, একধরনের চালাকি।
এমনটা ভাবাও অস্বাভাবিক নয় যে ভবিষ্যতে ফিলিস্তিন ইস্যু থেকে মনোযোগ সরাতে ইসরায়েল পাকিস্তান, তুরস্ক, ইয়েমেন, এমনকি টিমবাকটু (টিমবাকটু পশ্চিম আফ্রিকার একটি ঐতিহাসিক শহর) পর্যন্ত আক্রমণ করতে পারে।
এই ফাঁকা অজুহাত মোকাবিলার সবচেয়ে উপযুক্ত উপায় হলো মনোযোগ ঠিক রাখা এবং ফিলিস্তিনের ওপরই দৃষ্টিকে নিবদ্ধ করে রাখা। কারণ, সেখানে এখনো হাজার হাজার সাধারণ মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করছে ইসরায়েলি জায়নবাদীরা।
ইরানে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে সবচেয়ে হাস্যকর প্রচারণাগুলোর একটি হলো প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকে ‘ইরানের মহান জনগণের’ উদ্দেশে নানা চটকদার বার্তা পাঠানো। এটি ছিল ইসরায়েলি প্রোপাগান্ডাযন্ত্র ‘হাসবারা’র (ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় বা আধা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে পরিচালিত আন্তর্জাতিক প্রোপাগান্ডা বা জনমত প্রভাবিত করার প্রচার অভিযান) বানানো এক ফালতু কৌশল। এর উদ্দেশ্য ছিল ইরানের ভেতরে বিদ্রোহ বা অস্থিরতা উসকে দেওয়া, যাতে নেতানিয়াহু নিজের স্বার্থ উদ্ধার করতে পারেন।
কিন্তু ইরানে যদি কোনো প্রকৃত রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকে, তা আসে জনগণের ভেতর থেকেই। এমন চটকদার প্রচারণা দিয়ে সেটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তেমনি যারা ইসরায়েলি মিডিয়ায় ‘ইরানে বোমা ফেললে গণতন্ত্র আসবে’ বলে যে ভাষ্য দাঁড় করাতে চায়, তা–ও ধোপে টেকে না।
ইরানিরা নানা রাজনৈতিক মতের মানুষ, কিন্তু একটা ব্যাপারে তারা প্রায় সবাই একমত। সেটি হলো, নিজেদের দেশকে রক্ষা করতে হবে। কারণ, ইরান হলো এক প্রাচীন ও গভীর শিকড়ের সভ্যতা। এর উত্তরাধিকার প্রত্যেক ইরানির মধ্যেই আছে। তারা নিজেরাই সেই ইতিহাস ও স্মৃতির ধারক।
হ্যাঁ, ইরানিরা তাদের শাসকদের অপছন্দ করে এবং সেটা যথেষ্ট যুক্তিসংগতও। কিন্তু যখন তারা দেখেছে, ফিলিস্তিনি ভূমি দখল করতে চাওয়া একদল লুটেরা এবার তাদের দেশেও বোমা ফেলছে, তখন তাদের সেই অনুভূতি বদলে যেতে শুরু করেছে।
ইরানিরা এখন তাদের সরকারের পক্ষ নিচ্ছে না, বরং তারা নিজের দেশের মালিকানা বুঝে নিচ্ছে। একটি দেশের সার্বভৌমত্ব তার জনগণের, সরকারের নয়। কারণ আজ যারা শাসক, কাল তারা থাকবেই—এমন কোনো গ্যারান্টি নেই।
কিন্তু ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার মতো বসতি-উপনিবেশভিত্তিক রাষ্ট্রগুলো এই সত্য এখনো বুঝতে পারেনি।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যেসব পারমাণবিক কেন্দ্রে বোমা ফেলেছে, সেগুলো কোনো সরকারের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; সেগুলো সব ইরানি জনগণের সম্পদ। ইরানিরাই তাদের দেশ ও ভূখণ্ডের মালিক। এই সহজ সত্য অন্যের জমিতে এসে নিজেদের স্বপ্ন গড়ে তুলতে চাওয়া ইসরায়েলি জায়নবাদীরা কখনোই বুঝবে না।
ইরানের সঙ্গে এ লড়াইয়ে ইসরায়েল হারবেই এবং এই পরাজয়ের প্রভাব শুধু ইরানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; এটি গোটা অঞ্চলের জনগণের ওপর প্রভাব ফেলবে। ফলে নিজেদের ভূমি রক্ষায় লড়াই চালিয়ে যাওয়া ফিলিস্তিনি, লেবানিজ, সিরীয় ও ইয়েমেনিদের মনোবল বাড়বে।
একই সঙ্গে এই হার কাঁপিয়ে দেবে সেই আরব শাসকদের, যারা দাসানুদাসের মতো ইসরায়েলের পাশে দাঁড়িয়েছে, ফিলিস্তিনিদের হত্যাযজ্ঞে সহযোগিতা করেছে এবং ‘আব্রাহাম চুক্তি’র মতো এক ভ্রান্ত স্বপ্নে সই করে নিজেদের মর্যাদা বিসর্জন দিয়েছে। এই শাসকদের অবস্থান এখন আরও দুর্বল হয়ে পড়বে।
তেল আবিবের যে বর্বর ও গণহত্যাকারী ইসরায়েলি জায়নবাদী সরকার আছে, তারা সব সময় অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস দেখায়। তারা সবকিছু নিজের নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ভাবতে চায়। কিন্তু এখন পরিস্থিতি পাল্টে যাচ্ছে।
ইসরায়েলি নেতারা যদি সত্যিই ভেবে থাকে, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে যাঁরা গাজায় গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন, তাঁরা শুধু কিছু আবেগী ছাত্র এবং তাঁরা তাদের জন্য হুমকি নয়, তাহলে সামনে যা আসছে তা দেখে তারা হতবাক হবে।
ইসরায়েলিরা এত দিন যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা শক্তি বলে ভেবে এসেছে। কিন্তু এখন সেই যুক্তরাষ্ট্রের একদম কেন্দ্রে এক জায়নবাদবিরোধী জোয়ার উঠছে।
এই পরিবর্তন বোঝার জন্য শুধু টুকার কার্লসন, স্টিভ ব্যানন, কংগ্রেস সদস্য মার্জরি টেইলর গ্রিনের মতো কয়েকজন প্রভাবশালী আমেরিকানের কথা শুনলেই হয়। তাঁরা ও তাঁদের মতো লাখো–কোটি আমেরিকান এখন এই হত্যাযজ্ঞ চালানো জায়নবাদীদের কারণে একটার পর একটা যুদ্ধের ভার বইতে বইতে ক্লান্ত। এবার তাঁরা আর তা সহ্য করবেন না।
এই সামরিক হামলা ইরানি জনগণের মধ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি যে চিরন্তন শত্রুতা সৃষ্টি করেছে, তা আর সহজে মুছবে না।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র মিলে আজ যে দেশকে আক্রমণ করেছে, সেটি হলো ফেরদৌসি, হাফিজ, রুমি, নিমা ইউশিজ ও ফরুঘ ফার্রোখজাদের মতো কবির জন্মভূমি ও সংস্কৃতির বিশাল ঐতিহ্যের অধিকারী ইরান। এই মহান ব্যক্তিত্বরা ইরানিদের মধ্যে এমন এক ঐক্য গড়ে তুলবে, যা ইসরায়েলি হামলার বিরুদ্ধে জাতিকে এক করে রাখবে।
অপর দিকে এই জাতির বিরুদ্ধে যারা হামলা চালিয়েছে, তাদের ‘নেতা’ কারা? তাদের নেতারা হলেন থিওডর হার্ৎজেল, ডেভিড বেন-গুরিয়ন, বারুক গোল্ডস্টেইনের মতো লোকেরা, যাঁদের অনেকেই ইতিহাসে সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত।
ইসরায়েল এ হামলা চালিয়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করতে পারেনি। বরং এ হামলা ইরানকে আরও দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথে ঠেলে দিয়েছে।
এখন যদি ইরান নিজেদের আত্মরক্ষার জন্য পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে তাদের দোষ দেওয়া কঠিন। কারণ, ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র মিলিতভাবে শুধু ইরান নয়, গোটা অঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকাকে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
ওয়াশিংটনে একটি কথা অনেক দিন থেকে চালু আছে। সেটি হলো ইরানে হামলা হলে তাতে সে দেশটির শাসকদের শক্তি বেড়ে যায়। কিন্তু এবার সেই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। এ হামলা ইরানের সরকারকে বরং আরও অপ্রাসঙ্গিক করে তুলেছে। এখন ইরানি জনগণ নিজের দেশকে নিজেরা রক্ষা করছে এবং এই প্রতিরোধ কত দূর গড়াবে, ইসরায়েল তার শেষ দেখতে পাবে না।
আজ ইরানের সরকার যদি আত্মরক্ষার জন্য কিছু করে, সেটাকে একমাত্র সরকারের কাজ বলা যাবে না। কারণ, এটি ইরানি জনগণের শক্তি, মনোবল ও ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ।
ইরানিরা কখনো সেই সব বিদেশি শক্তিকে কখনো ভুলবে না, কখনো ক্ষমা করবে না, যারা তাদের দেশের মাটি আক্রমণ করেছে, অবকাঠামো ধ্বংস করেছে, আর নিরীহ মানুষদের হত্যা করেছে।
ইরানিরা ইসরায়েলের ওপর পাল্টা প্রতিশোধ নেবে। তবে তারা তা নেবে না বোমা দিয়ে, না ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে। বরং নিজেদের দীর্ঘকাল ধরে জমে থাকা ক্ষোভ, স্মৃতি আর শক্ত মানসিকতা দিয়ে সেই প্রতিশোধ তারা নেবে।
তারা তাকিয়ে থাকবে সেই বিশ্বাসঘাতক পাহলভি রাজবংশের দিকেও, যারা একসময় ইরানে শাসন করেছে এবং এখন যুক্তরাষ্ট্রে বসে নিজের দেশের বদনাম করছে আর ইসরায়েলের প্রশংসা করছে।
ইতিহাসে একটি কাহিনি আছে। আড়াই হাজার বছর আগে যখন আলেক্সান্ডার দ্য গ্রেট ইরানে হামলা চালান, তখন পারস্যের বীর এরিওবারজানেস মাতৃভূমি রক্ষার জন্য লড়েছিলেন। কিন্তু এক বিশ্বাসঘাতক রাখাল তাঁকে ধোঁকা দিয়ে শত্রুকে পাশ কাটিয়ে যেতে সাহায্য করেছিল।
এ গল্প অনেকটা সেই গ্রিক যোদ্ধা এফিয়ালতেসের মতো, যিনি নিজের জাতিকে ঠকিয়ে শত্রুপক্ষের কাছে গোপন রাস্তা ফাঁস করে দিয়েছিলেন।
আজ আমরা হয়তো সেই প্রাচীন রাখালের নাম জানি না, কিন্তু আজকের যাঁরা নিজের দেশকে অপমান করে ইসরায়েলের পক্ষে কথা বলছেন, তাঁদের নাম আমরা জানি। সময় এলে তাঁদের জবাবদিহির মুখে পড়তেই হবে।
* হামিদ দাবাশি, নিউইয়র্ক শহরের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ইরানি স্টাডিজ ও তুলনামূলক সাহিত্যের অধ্যাপক। তিনি সেখানে তুলনামূলক সাহিত্য, বিশ্ব সিনেমা ও উপনিবেশ-উত্তর তত্ত্ব পড়ান।
- মিডল ইস্ট আই থেকে নেওয়া, অনুবাদ: সারফুদ্দিন আহমদ
![]() |
| যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিবাদে ইরানে বিক্ষোভ। তেহরান, ইরান, ২২ জুন ২০২৫ ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র—কে জিতল এই যুদ্ধে by ফারনাজ ফসিহি
সোমবার সকালে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জরুরি বৈঠক করে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর পাল্টা হামলার বিষয়ে আলোচনা হয়। আগের সপ্তাহে ইসরায়েল ইরানের সামরিক নেতা ও অবকাঠামোর ওপর ভয়াবহ হামলা চালায়। এরপরই যুক্তরাষ্ট্র তিনটি মূল পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা ফেলে। এতে ইরান বড় ধাক্কা খায়।
ইরান মর্যাদা রক্ষা করতে চেয়েছিল। এক বাংকার থেকে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি পাল্টা হামলার নির্দেশ দেন। এ তথ্য জানিয়েছেন যুদ্ধ পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত চার ইরানি কর্মকর্তা। তবে খামেনি নির্দেশ দেন, হামলা সীমিত রাখতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সর্বাত্মক যুদ্ধ এড়াতে হবে।
ইরান চেয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের কোনো মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে। তবে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে আরও হামলা করতে উসকে দিতে চায়নি। ফলে বিপ্লবী গার্ড বাহিনী কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি বেছে নেয়।
দুই গার্ড সদস্যের মতে, এটি এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় মার্কিন ঘাঁটি। তাঁরা মনে করেন, এখান থেকেই ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার সমন্বয় করা হয়েছিল। কাতার ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হওয়ায় ইরান আশা করেছিল, হামলায় ক্ষয়ক্ষতি কম হবে।
হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে ইরান মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে সতর্কবার্তা পাঠায়। কাতার আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। যুক্তরাষ্ট্রও আগাম সতর্কবার্তা পায়। জনসাধারণের উদ্দেশে ইরান বলে, এই হামলা ইরানের ওপর আঘাতের পাল্টা শোধ।
টিভিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র বলেন, কাতারের মার্কিন ঘাঁটিতে বিপ্লবী গার্ড বাহিনী হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের শত্রুদের সতর্ক করছি। পালিয়ে গিয়ে বেঁচে যাওয়ার যুগ শেষ।’ আক্রমণের সময় ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি দেশাত্মবোধক গান বাজায়। কাতারের আকাশে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ঝলক দেখানো হয়। উপস্থাপকেরা ইরানের গৌরব ও বিজয়ের কথা বলেন।
এক ইরানি কর্মকর্তা জানান, কাতারে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার সময়ই পরিকল্পনা ছিল, কোনো মার্কিন নাগরিক যেন নিহত না হন। কারণ, কোনো মৃত্যু হলে যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা আঘাত হানতে পারত। পরিকল্পনা কার্যকর হলো। ট্রাম্প জানান, ১৪টি ইরানি মিসাইলের মধ্যে ১৩টি ভূপাতিত হয়েছে। কেউ নিহত বা আহত হননি। ক্ষয়ক্ষতিও কম।
কিন্তু পর্দার আড়ালে ইরানের শীর্ষ নেতারা আশা করেছিলেন, তাঁদের সীমিত আক্রমণ আর আগাম সতর্কতা ট্রাম্পকে পিছু হটতে রাজি করাবে। ইরানও তখন পিছিয়ে আসবে। তারা চাইছিল, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে হামলা বন্ধ করতে চাপ দিক। কারণ, ইসরায়েল আগেই আক্রমণ শুরু করেছিল এবং সোমবার রাতেও তা চলছিল।
অভূতপূর্বভাবে ট্রাম্প ইরানকে ধন্যবাদ জানান। বলেন, ‘আমাদের আগাম সতর্ক করায় কোনো প্রাণহানি হয়নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘তারা তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। আশা করি আর কোনো ঘৃণার কাজ হবে না।’ ট্রাম্প জানান, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি শিগগিরই হবে। কিছুক্ষণ পর ইরানও যুদ্ধবিরতির কথা জানায়। ইসরায়েল তাৎক্ষণিক মন্তব্য করেনি। তারা জানায়, ইরানি মিসাইল হামলায় তাদের আরও চারজন নিহত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস গ্রুপের ইরানবিষয়ক পরিচালক আলী ভায়েজ বলেন, এখন সবাই নিজেদের বিজয়ের গল্প বলছে। বড় যুদ্ধ এড়াতে পেরেছে। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তারা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পিছিয়ে দিতে পেরেছে। ইসরায়েল বলছে, তারা আঞ্চলিক শত্রু ইরানকে দুর্বল করেছে। আর ইরান বলছে, তারা টিকে আছে এবং শক্তিশালী শত্রুদের পাল্টা জবাব দিয়েছে।’
এক সপ্তাহের কম সময়ে যুদ্ধের তীব্রতা সীমা অতিক্রম করেছে। কিন্তু ইরান আর দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চায় না। বেশির ভাগ ইরানি এখন দেশের পক্ষে একজোট হয়েছেন। এই যুদ্ধকে তাঁরা মাতৃভূমির ওপর হামলা বলেই বিবেচনা করেছেন। তবে লাখ লাখ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন। দোকানপাট, ব্যবসা ও সরকারি অফিস বন্ধ বা সীমিত সময় চালু ছিল। সেখানে অর্থনৈতিক চাপ স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। ট্যাক্সিচালক, শ্রমিক, সেবা খাতের কর্মীরা বলছেন, এভাবে আর বেশি দিন বাঁচা সম্ভব নয়।
তেহরানের ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট পার্টির প্রধান সাদেক নুরুজি ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে বলেন, ‘আমাদের আর যুদ্ধ চালানোর ক্ষমতা নেই। অর্থনীতি ভেঙে পড়ছে। জনসমর্থন ধরে রাখা যাচ্ছে না। আমাদের সামরিক ও প্রযুক্তিগত শক্তি ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের সমান নয়।’
এমনকি গার্ড বাহিনীর ঘনিষ্ঠরাও যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছে। বিশ্লেষক কারিম জাফারি বলেন, ইরান যেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আর যুদ্ধে না জড়ায়। তিনি লেখেন, ‘ইরান এখন বহুমুখী যুদ্ধ চায় না। এর ফল কী হবে, তা ভেবে দেখা দরকার।’
এরপর ইরান কী করবে, তা স্পষ্ট নয়। সীমিত হামলা বড় যুদ্ধ এড়াতে সফল হয়েছে বটে। তবে এর মানে এই নয় যে শত্রুতার অবসান ঘটেছে।
পশ্চিমা কর্মকর্তারা স্বীকার করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা সত্ত্বেও ইরানের ইউরেনিয়ামের মজুত বর্তমানে কী অবস্থায় আছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। ইরান কি আরও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের চেষ্টা চালিয়ে যাবে, নাকি গোপনে অন্য কোনো আক্রমণ করবে? নাকি কঠিন নিষেধাজ্ঞা শিথিলের জন্য আলোচনায় বসবে?
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি তুরস্ক, রাশিয়া, তুর্কমেনিস্তান সফর করেছেন। তিনি বলেন, যুদ্ধ ইরানকে ভেঙে ফেলতে ব্যর্থ হয়েছে। আরাকচি বলেন, ‘আমি বলছি না যে ক্ষতি হয়নি। অবশ্যই ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু তারা আমাদের ক্ষমতা সম্পূর্ণ নষ্ট করতে পারেনি।’
* ফারনাজ ফসিহি, দ্য টাইমস-এর জাতিসংঘ ব্যুরোপ্রধান
- নিউইয়র্ক টাইমস থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনুবাদ।
![]() |
| ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিধ্বস্ত ইসরায়েলি স্থাপনা, ১৬ জুন। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চিকিৎসাশাস্ত্রে রসুন by ডা: জ্যোৎস্না মাহবুব খান

বাতের ব্যথায় বা কোনো আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে সরিষার তেলে রসুন গরম করে ম্যাসাজ করলে ব্যথা লাঘব হয়। দাঁতের ব্যথায় রসুন ব্যবহারে ব্যথা কমে যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা রসুনের গুণাগুণ নিয়ে গবেষণা করে দেখেছেন যে, রসুনের রোগ প্রতিরোধ ও রোগ নিরাময় দুটো গুণই রয়েছে। সম্প্রতি গবেষণায় জানা গেছে, রসুন একাধারে ভাইরাসরোধী, ছত্রাকরোধী এবং ব্যাকটেরিয়ারোধী পেনিসিলিনের মতো জীবাণুনাশক।
ইকোলাই এবং টাইফয়েড জীবাণু ধ্বংস করার মতো ক্ষমতা রাখে রসুন। রসুন খেলে অন্ত্রে পাচক রস নিঃসরণ বেশি হয় যা হজম প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। আমাশয় রোগে রসুন খেলে অন্ত্রের জীবাণু ধ্বংস হয়ে পেটের সমস্যা নিরাময় হয়। চামড়ায় আক্রান্ত ক্ষতস্থানে কাঁচা রসুনের রস ব্যবহার করলে ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস হয়ে দ্রুত নিরাময় করে। পুরনো কাশি বা ব্রঙ্কাইটিসে নিয়মিতভাবে কাঁচা রসুন খেলে শ্বাসতন্ত্রে জমে থাকা কফ বের করে দিয়ে দ্রুত আরোগ্য করে। যারা নিয়মিত রসুন খান তাদের খাবারে রুচি বাড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রসূতি মাদের নিয়মিত রসুন খাওয়ার ফলে শিশুর দুধপান করার আগ্রহ অনেক বেড়ে যায় এবং দীর্ঘ সময় দুধপান করে থাকে। পায়ের তলায় কড়া নিরাময়ে রসুনের আছে অসাধারণ ক্ষমতা। কাঁচা রসুনের কোয়া কুচি করে কড়ার ওপর বসিয়ে আটকে দিলে এক সপ্তাহ পর দেখা যাবে কড়া অনেকটা নরম হয় ও ব্যথা লাঘব হয়।
রসুনের গুণের শেষ নেই। প্রতিদিন কয়েক কোয়া রসুন খাওয়ার অভ্যাস করুন, কাঁচা খেলেই ভালো। অগোচরে অনেক শারীরিক সমস্যা এমনি সেরে যাবে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যুক্তরাষ্ট্রই কীভাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির পথ তৈরি করে দিয়েছিল
তেহরানের উত্তরে একটি ছোট পারমাণবিক চুল্লি রয়েছে। এটি শান্তিপূর্ণ গবেষণার জন্য ব্যবহার হয়ে থাকে। গত ১২ দিনের সংঘাতে ইসরায়েল এই স্থাপনায় কোনো হামলা চালায়নি।
এই পারমাণবিক চুল্লির গুরুত্ব প্রতীকী। ১৯৬০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্র এটি ইরানে পাঠিয়েছিল। এটি ‘অ্যাটম ফর পিস’ কর্মসূচির অংশ ছিল।
এই কর্মসূচি চালু করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোয়াইট ডি আইজেনহাওয়ার। উদ্দেশ্য ছিল মিত্রদেশগুলোকে পারমাণবিক প্রযুক্তি দেওয়া। এতে তাদের অর্থনীতি উন্নত হবে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ হবে।
এই চুল্লি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের জন্য ব্যবহার হয় না। কারণ, এটি খুব দুর্বল জ্বালানিতে চলে। বোমা তৈরির মতো শক্তি এতে নেই।
বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন, পাকিস্তানসহ আরও কিছু দেশ ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচির জন্য দায়ী। তারা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রের পথে সহায়তা দিয়েছে।
তেহরানের এই চুল্লি একসময়ের স্মৃতিচিহ্ন। তখন ইরান ছিল ধর্মনিরপেক্ষ ও পশ্চিমাপন্থী রাজতন্ত্র। যুক্তরাষ্ট্র তখন ইরানকে প্রযুক্তি শিখিয়েছিল।
পরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি গর্বের প্রতীক হয়ে ওঠে। শুরুতে এটি উন্নয়নের প্রতীক ছিল। পরে এটি হয়ে ওঠে সম্ভাব্য সামরিক শক্তির উৎস।
পশ্চিমারা ইরানের এই কর্মসূচিকে ঘিরে শঙ্কিত হয়ে ওঠে। তখনকার বিশ্ব আজকের চেয়ে আলাদা ছিল। যুক্তরাষ্ট্র বুঝতেই পারেনি, তার দেওয়া প্রযুক্তি একদিন তার বিপদ ডেকে আনবে।
যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনায় থাকা রবার্ট আইনহোর্ন বলেন, ‘ইরানের শুরুটা আমরাই করেছিলাম।’
আইনহোর্ন বলেন, ‘তখন প্রযুক্তি ছড়িয়ে পড়া নিয়ে আমরা বেশি ভাবতাম না। আমরা অনেক দেশকে এ প্রযুক্তি দিয়েছিলাম।’
১৯৫৩ সালে জাতিসংঘে আইজেনহাওয়ার এক ভাষণে বলেন, পারমাণবিক ভয় থেকে বিশ্বকে মুক্ত করতে হবে। এই অস্ত্র সেনাদের হাত থেকে সরানো যথেষ্ট নয়। এটা এমন মানুষের হাতে দিতে হবে, যাঁরা এটিকে শান্তির কাজে লাগাবেন।
এই কর্মসূচি কেবল মানবিক উদ্দেশ্যে ছিল না। ইতিহাসবিদেরা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজের অস্ত্র মজুত আড়াল করছিল।
অনেক বিজ্ঞানী এ কর্মসূচিতে যুক্ত ছিলেন। ওপেনহাইমার তাঁদের একজন। তিনি বোমা তৈরি করেছিলেন। পরে অনুশোচনায় যুক্ত হন এই শান্তির প্রকল্পে।
যুক্তরাষ্ট্র এ কর্মসূচি কৌশলগতভাবে ব্যবহার করেছিল। ইসরায়েল, পাকিস্তান, ইরান—সবাইকে প্রশিক্ষণ ও যন্ত্র দিয়েছিল। বলা হয়েছিল, এগুলো চিকিৎসা বা বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হবে।
১৯৬৭ সালে ইরান একটি চুল্লি পায়। তখন ইরানের শাসক ছিলেন শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ ছিলেন।
১৯৫৩ সালে শাহ মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা—সিআইএর সহায়তায় ক্ষমতায় আসেন। অনেক ইরানির কাছে এটি অপমানজনক ঘটনা।
শাহ দেশকে আধুনিক করতে চেয়েছিলেন। তিনি ধর্মনিরপেক্ষতা চালু করেন। নারীদের বোরকা নিষিদ্ধ করেন। তিনি পশ্চিমা শিক্ষা চালু করেন। শিল্প ও অবকাঠামোয় বড় বিনিয়োগ করেন।
অ্যাটম ফর পিসের আওতায় শাহ বড় বাজেট রাখেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল জ্বালানি স্বাধীনতা ও জাতীয় গর্ব। যুক্তরাষ্ট্র তখন ইরানি তরুণদের এমআইটিতে পাঠায়। তাঁরা পারমাণবিক প্রশিক্ষণ নেন।
১৯৭০-এর দশকে ইরান ইউরোপের সঙ্গে চুক্তি করে। শাহ ফ্রান্স সফরে যান। পাঁচটি চুল্লি কেনার চুক্তি করেন। তখন শাহ ছিলেন পারমাণবিক শান্তির মুখ। মার্কিন বিজ্ঞাপনেও তাঁর ছবি ব্যবহার হয়। তাতে বলা হয়, ‘যদি শাহ চুল্লির নিরাপত্তা নিয়ে সন্দেহ করতেন, তাহলে এখনই এগুলো বানাতেন না।’
ইরান পারমাণবিক অস্ত্রবিরোধী চুক্তি স্বাক্ষর করে। তবু যুক্তরাষ্ট্র শাহর উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ করে। এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ফ্রান্সের চুক্তিতে নিরাপত্তা শর্ত নেই। পরে শাহ বলেন, ইরান নিজেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করবে।
বাইরের হস্তক্ষেপকে শাহ স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বলেন। আজকের ইরান সরকারও এমন কথা বলে। যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন হয়। শাহ তখন জার্মানি ও দক্ষিণ আফ্রিকার দিকে ঝুঁকে পড়েন। দক্ষিণ আফ্রিকা ইউরেনিয়াম সরবরাহে রাজি হয়।
১৯৭৮ সালে প্রেসিডেন্ট কার্টার চুল্লির চুক্তির শর্ত পরিবর্তন করেন। যাতে ইরান অস্ত্রযোগ্য জ্বালানি তৈরি না করতে পারে। এই পারমাণবিক চুল্লি আর পাঠানো হয়নি। ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে শাহ ক্ষমতাচ্যুত হন।
তখন মনে হয়েছিল, ইরানের পারমাণবিক যাত্রা থেমে যাবে। খোমেনি সরকার এতে আগ্রহ দেখায়নি। কিন্তু ইরাকের সঙ্গে দীর্ঘ যুদ্ধে ইরান বিপর্যস্ত হয়। তখন তারা পারমাণবিক শক্তির গুরুত্ব টের পায়। তারা পাকিস্তানের দিকে তাকায়। বিজ্ঞানী এ কিউ খান সেন্ট্রিফিউজ সরবরাহ করেন। এগুলো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারে।
গ্যারি সামোর দাবি করেন, এই সেন্ট্রিফিউজই ইরানের পারমাণবিক সংকট তৈরি করেছে। এই প্রযুক্তি যুক্তরাষ্ট্র দেয়নি। পাকিস্তান দিয়েছিল। আর তা ছিল ইউরোপীয় নকশা থেকে নেওয়া।
তবে ইরানের যে পরমাণুকাঠামো, তার ভিত্তি যুক্তরাষ্ট্রই করে দিয়েছিল। এরপর ইরান গোপনে কার্যক্রম চালায়। তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে থাকে। ২০০২ সালে এসব তথ্য প্রকাশ পায়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ চায়, ইরান সব বন্ধ করুক।
কূটনৈতিক চাপ, অর্থনৈতিক চাপ, এমনকি হামলা করেও সমাধান হয়নি। ট্রাম্প বলেন, হামলায় স্থাপনাগুলো ধ্বংস হয়েছে, কিন্তু অনেক অংশ অক্ষত রয়ে গেছে।
সামোর বলেন, এই অভিজ্ঞতা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শেখার আছে। এখন সৌদি আরবের সঙ্গেও চুক্তির আলোচনা চলছে। এই উদ্যোগ বাইডেন সরকারের আমলে শুরু হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত এমন দেশকে প্রযুক্তি দেয় না, যাদের পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই।
সামোর বলেন, ‘আমরা এমনকি দক্ষিণ কোরিয়াকেও পরমাণু প্রযুক্তি দিইনি।’
সামোরের ভাষ্য, সৌদি আরব বলে, তারা বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ইউরেনিয়াম চায়। এই প্রযুক্তি দিয়ে বোমাও বানানো যায়। তাই এমন দেশকে দেওয়া বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত হবে।
![]() |
| ইরানের রাজধানী তেহরান থেকে ২৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত নাতাঞ্জ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র। ফাইল ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
খোঁজ নেই ইরানের ৪০০ কেজি ইউরেনিয়ামের, যুক্তরাষ্ট্রের কপালে চিন্তার ভাঁজ
ফোরদো, নাতানজ এবং ইসফাহান পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা ফেলা হয়েছিল। হামলার পরের ছবিতে তিনটির উপরিভাগে ক্ষয়ক্ষতি দেখা গেছে। তবে সেই ট্রাকগুলোর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এখন প্রশ্ন উঠছে ইউরেনিয়াম কী স্থানান্তর করা হয়েছে? হলে তা কোথায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে তা স্পষ্ট নয়। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে এটি প্রাচীন রাজধানী ইসফাহানের কাছে অন্য একটি ভূগর্ভস্থ সংরক্ষণাগারে স্থানান্তরিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা আইএইএ- এর প্রধান রাফায়েল গ্রোসির মতে, ইরানে ইসরাইলের প্রথম আক্রমণের এক সপ্তাহ আগে এই পরমাণু কেন্দ্র শেষবার পরিদর্শন করা হয়। গত সপ্তাহে গ্রোসি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে বলেন, যত দ্রুত সম্ভব পরিদর্শন পুনরায় শুরু করা ‘অপরিহার্য’। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, অব্যাহত সামরিক উত্তেজনা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার জন্য কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা হ্রাস পেয়েছে। ইরানের কি আদৌ পারমাণবিক অস্ত্র আছে, নাকি অস্ত্র তৈরির পারমাণবিক উপকরণ আছে? ইরান দীর্ঘদিন ধরে জোর দিয়ে বলে আসছে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে। কিন্তু ইসরাইল সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে ইরানে হামলা চালায়। ইসরাইলের আক্রমণের পর ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী তখত রাভানচি এই কর্মসূচি পরিত্যাগ করার দাবি উড়িয়ে দিয়ে জানান, ‘কেউ আমাদের শেখাতে পারে না কী করতে হবে।’ তবে, আমেরিকা এই বিষয়ে একটু বিভ্রান্ত।
গত সপ্তাহে সিএনএন-এর এক প্রতিবেদন বলা হয়েছে, ইসরাইলের প্রথম দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে না এবং এটি তৈরি করতে কমপক্ষে তিন বছর সময় লাগবে। ইন্টেল আরও বলেছে যে ইসরাইলের হামলা ইরানকে মাত্র কয়েক মাসের জন্য এই কার্যক্রম থেকে পিছিয়ে দিয়েছে। কারণ গবেষণার বেশিরভাগ অংশই ফরদোর মতো ঘাঁটিতে মাটির গভীরে থেকে পরিচালিত হচ্ছিলো। সেখানে ইসরাইলি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ক্ষতি করতে পারে না। একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, তেহরানের কাছে প্রয়োজনীয় সকল উপকরণ রয়েছে। মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড কয়েক মাস আগে কংগ্রেসে বলেছিলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না। তাকেই গত শনিবার বলতে শোনা গেছে ইরান কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এগুলো তৈরি করতে পারবে। ফলে গ্যাবার্ড-এর বিবৃতি ঘিরে বিভ্রান্তি তৈরী হয়েছে। ট্রাম্প এর আগে ইরানকে নতুন পারমাণবিক সুরক্ষা চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য দুই সপ্তাহের সময়সীমা দিয়েছিলেন, কিন্তু গোয়েন্দা সংস্থা নিশ্চিত করে যে, মার্কিন সহায়তা ছাড়া ইসরাইল ইরানি স্থাপনাগুলোকে নিষ্ক্রিয় পারবে না। রোববার মার্কিন হামলার কয়েক ঘন্টা আগে ট্রাম্প ইরান ও ইসরাইলকে বেশি দেরি হওয়ার আগেই নিজেদের মধ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর আহ্বান জানান। হামলার পর ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
সূত্র : এনডিটিভি

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র—তিন পক্ষেরই বিজয় দাবি
যুক্তরাষ্ট্র বলতে পারে, তারা ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা দুর্বল করে দিয়েছে; ইসরায়েল দাবি করতে পারে, তারা তেহরানকে যথেষ্টভাবে দুর্বল করেছে; আর ইরান গর্ব করে বলতে পারে, তারা বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে এবং পিছু হটেনি।
আধুনিক যুদ্ধে দেশের ভেতরের জনমত গঠন একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক, আর এই তিন দেশই এখন জনগণকে বোঝানোর চেষ্টা করছে—জয় তাদেরই হয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরানবিষয়ক পরিচালক আলী ভায়েজ বলেন, এখন প্রতিটি পক্ষই নিজ নিজ বিজয়ের গল্প তৈরি করে নিয়েছে এবং একই সঙ্গে একটি বৃহত্তর যুদ্ধের ঝুঁকি এড়িয়ে গেছে, যার মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারত পুরো অঞ্চলে, এমনকি বিশ্বব্যাপী।
যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অর্জন
অনেক দিন ধরে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে কথা বলা যুক্তরাষ্ট্র হঠাৎ কৌশল বদলায় গত শনিবার। ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘মধ্যপ্রাচ্যের দস্যু’ বলে আখ্যা দিয়ে হুঁশিয়ারি দেন, যদি তেহরান শান্তির পথে না আসে, তবে পরবর্তী হামলা হবে আরও ভয়াবহ।
ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তবে ওয়াশিংটন জানত, সংঘাত কোনো স্থায়ী সমাধান নয়।
ট্রাম্প বুঝতে পারেন, তেহরানের এমন একটা পথ দরকার, যাতে তারা উত্তেজনার পথ থেকে সরে আসতে পারে, আবার দেশের অভ্যন্তরীণ জনসমর্থনও না হারায়। এ কারণেই ইরান কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে হামলা চালানোর পর ট্রাম্প পাল্টা হামলা না চালানোর সিদ্ধান্ত নেন। তিনি ইরানকে আগাম সতর্কতার জন্য ধন্যবাদ দেন।
যুদ্ধের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে নিজ দেশেই বোমা হামলার সমালোচনার মুখে পড়া ট্রাম্প এখন নিজেকে শান্তিদূতের ভূমিকায় তুলে ধরতে পারছেন। এ সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র কোনো সেনা হারায়নি, নিজেদের সামরিক শক্তি দেখিয়েছে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার কৃতিত্বও দাবি করতে পারছে—এ যেন ট্রাম্পের জন্য কৃতিত্ব দাবির মোক্ষম সময় হয়ে উঠেছে।
ইসরায়েলের আত্মগর্ব
যুক্তরাষ্ট্রের নিখুঁত বিমান হামলার আগের সপ্তাহেই ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে আকাশে নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়। তারা ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায় এবং তেহরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে নিষ্ক্রিয় করে ফেলে।
ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের গুরুত্বপূর্ণ কিছু ব্যক্তি ও পরমাণুবিজ্ঞানীদের হত্যা করেছে।
ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় অর্জন যুক্তরাষ্ট্রের এই সংঘাতে আনুষ্ঠানিকভাবে জড়িয়ে পড়া। যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে চালানো বিমান হামলা শুধু তেহরান নয়, পুরো বিশ্বকে এই বার্তা দিয়েছে যে ওয়াশিংটন নিরঙ্কুশভাবে তেলআবিবের পাশে আছে।
ভূরাজনৈতিকভাবে এই অবস্থান ইসরায়েলের ভাবমূর্তি যেমন উজ্জ্বল করেছে, তেমনি দেশের অভ্যন্তরেও এর প্রভাব পড়বে। আগামী বছর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের আগে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জন্য এটি এক বড় রাজনৈতিক লাভ এনে দিতে পারে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দাবি, ইরানে পরিচালিত সামরিক অভিযানের সব লক্ষ্য ইতিমধ্যে পূরণ হয়েছে।
ইরানের ‘প্রতিরোধ’ বার্তা
যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে চালানো বিমান হামলা তেহরানকে এক জটিল পরিস্থিতিতে ফেলে দেয়। প্রতিশোধ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়ে, কিন্তু প্রতিপক্ষ ছিল বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ। একদিকে মুখ রক্ষা, অন্যদিকে উত্তেজনা থেকে সরে আসার পথ—দুইয়ের ভারসাম্য রক্ষা করতে হতো ইরানকে। ইরান সে পথেই হেঁটেছে।
ইরান আন্তর্জাতিকভাবে এমন এক ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছে, যেন বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে গেছে, মাথা নিচু করেনি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি টেলিভিশনে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তাঁর দেশের বিরুদ্ধে চালানো যুদ্ধ মূল লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। গতকাল সোমবার তিনি বলেন, ‘আমি বলছি না যে তারা কোনো ক্ষতি করতে পারেনি—হ্যাঁ, কিছু ক্ষতি হয়েছে, কিন্তু তারা আমাদের সব ধরনের সক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার বা অন্য যেকোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে, তা অর্জন করতে পারেনি।’
![]() |
| মঙ্গলবার ইসরায়েলের বিরসেবায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিধ্বস্ত ভবনে উদ্ধারকাজ চলছে। যুদ্ধবিরতির আগে সেখানে হামলা চালায় ইরান। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইরানের ভেতর ইসরায়েলের গোয়েন্দা তৎপরতার জাল কতটা বিস্তৃত
ইসরায়েলের হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষা অবকাঠামোর বড় অংশ ধ্বংস হয়েছে ও বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এসবের নেপথ্যে রয়েছে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ। সংস্থাটির দাবি, তারা ইরানের নিরাপত্তা কাঠামোর বড় অংশেই অনুপ্রবেশ করতে পেরেছে।
ইরানের ভেতরে অনেককে মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করা, ইসরায়েলের পক্ষে প্রচারণা চালানো কিংবা জনমতকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কয়েক দিন আগে ইরান সরকার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা টিমকে নির্দেশ দিয়েছে, তারা যেন ইন্টারনেট-সংযুক্ত স্মার্টফোন ব্যবহার না করে; যাতে ইসরায়েলি হ্যাকিং থেকে গোপন তথ্য রক্ষা করা যায়। ইতিমধ্যে ইরানের গোয়েন্দা সংস্থা জনগণকে অনুরোধ করেছে, গত কয়েক বছরে তাঁরা কোনো ভবন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দিয়ে থাকলে, সে সম্পর্কে যেন কর্তৃপক্ষকে জানান।
মোসাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ইরানে এ ধরপাকড় শুরু হয়েছে ইসরায়েলের নজিরবিহীন গোয়েন্দা অভিযানের জের ধরে। তাদের এ গোয়েন্দা অভিযানের ফলেই ইরানে বেছে বেছে ইসরায়েল হামলা করতে সক্ষম হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইরানে হামলায় মোসাদের ভূমিকা কতটা
ইরানে ইসরায়েলের হামলায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন মোসাদের গোয়েন্দারা। হামলার পরপরই আন্তর্জাতিক ও ইসরায়েলি গণমাধ্যমে বন্যার মতো ছড়িয়ে পড়ে ইসরায়েলি গোয়েন্দা তৎপরতার নানা বিবরণ।
ইসরায়েলের গোয়েন্দা শাখার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জানান, কীভাবে মানব গোয়েন্দা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) একসঙ্গে ব্যবহার করে আঘাত হানা হয়েছে, যার ফলে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
হামলার কয়েক দিন পর ১৭ জুন অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ইসরায়েলি গোয়েন্দা ও সামরিক বাহিনীর ১০ কর্মকর্তার সাক্ষাৎকার প্রকাশ করে।
মোসাদের সাবেক গবেষণা পরিচালক সিমা শাইন এপিকে বলেন, ‘ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে নিশানা করার জন্য মোসাদ বহু বছর ধরে যে পরিকল্পনা করে আসছিল, এ হামলা ছিল তারই চূড়ান্ত রূপ।’
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইসরায়েলি এজেন্টরা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র গোপনে ইরানে প্রবেশ করান। এগুলো ব্যবহার করে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়। এসব লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করে একটি মার্কিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল। এ মডেল ইরানের ভেতরের ইসরায়েলি এজেন্টদের দেওয়া তথ্য ও অতীত হামলা থেকে সংগৃহীত উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত দেয়।
এ গোয়েন্দা অভিযান কি এখনো চলছে
প্রমাণগুলো দৃশ্যত সেদিকেই ইঙ্গিত করে।
গত সপ্তাহান্তে ইরানের কুদস বাহিনীর দুই শীর্ষ কর্মকর্তা সাঈদ ইজাদি ও বেনাম শাহরিয়ারি নিহত হন। ইসরায়েল দাবি করেছে, তাঁদের অবস্থান নির্ণয় করেছে (ইরানে সক্রিয়) ইসরায়েলি গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক।
এর আগে ১৭ জুন ইরানের আরেক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল আলি শাদমানি নিহত হন, এটা ছিল তাঁর পূর্বসূরিকে লক্ষ্য করে চালানো হামলার মাত্র চার দিন পর।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য অবজারভারে ইসরায়েলি সামরিক গোয়েন্দা বিশ্লেষক মিরি আইসিন বলেন, ‘মানুষ বুঝতেই পারে না, আমাদের দুঃসাহস কতটা।’ তিনি আরও বলেন, ‘কোনো লক্ষ্য যদি নিজেকে ইন্টারনেটযুক্ত সব যন্ত্র থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন না করে, তবে আমরা তাদের খুঁজে নিতে পারি। অধিকাংশ মানুষই তা করে না। আমরা যে কাউকে হাতের নাগালে পেতে পারি।’
লুক্সেমবার্গ থেকে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক হামজা আত্তার আল–জাজিরাকে বলেন, ‘ইরানে এখন ইসরায়েলের ৩০ থেকে ৪০টি সক্রিয় সেল থাকতে পারে। এর বেশির ভাগই ইসরায়েলি এজেন্ট নয়; বরং স্থানীয় সহযোগী।’
এ বিশ্লেষক আরও বলেন, ‘কোনো সেল ইসরায়েল থেকে অস্ত্র পাচার করে আনায় যুক্ত, কেউ হামলা চালায়, আবার কেউ শুধু গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কাজ করে। ইরানি কর্তৃপক্ষের জব্দ করা যন্ত্রাংশ বিশ্লেষণ করে অনেক সময় বোঝা যায়, ইসরায়েলি এজেন্টরা কোথায়, কোন উদ্দেশ্যে এগুলো ব্যবহার করছিল।’
এ তৎপরতা কত দিন ধরে চলছে
ইরানে ইসরায়েলের গোয়েন্দা অভিযান নতুন নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭৯ সালের ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই দেশটিতে নজরদারি, অনুপ্রবেশ, নাশকতা এবং প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে ইসরায়েল বিভিন্ন ধরনের অভিযান চালিয়ে আসছে।
২০২৪ সালের নভেম্বরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উপদেষ্টা আলী লারিজানি দেশটিতে ইসরায়েলি অনুপ্রবেশের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনুপ্রবেশ পরিস্থিতি খুবই জটিল আকার ধারণ করেছে।’
ইরানি পার্লামেন্টের সাবেক এ স্পিকার ও পরমাণু মধ্যস্থতাকারী বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই কিছু বিষয়ে অবহেলা ছিল।’
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বেশ কিছু পেজার বিস্ফোরিত হয়, যা এ ডিভাইসের সরবরাহব্যবস্থায় ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার অনুপ্রবেশের ফল বলেই মনে করা হয়।
হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরুল্লাহ ও ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের প্রধান ইসমাইল হানিয়াকেও ইসরায়েলের পরিকল্পিত গুপ্তহত্যার শিকার হতে হয়েছে। বিশেষ করে হানিয়ার বাসায় সপ্তাহখানেক আগে বসানো একটি বিস্ফোরক দিয়েই তাঁকে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে, তেহরানে।
গত দুই দশকে ইসরায়েল একাধিক ইরানি পরমাণু বিজ্ঞানীকে হত্যা করেছে। এর মধ্যে অন্যতম ছিলেন মহসেন ফাখরিজাদে, যাঁকে একটি চালকবিহীন ট্রাকে বসানো রিমোটচালিত বন্দুক দিয়ে হত্যা করা হয়।
২০১০ সালে ইরানে ১৪টি পারমাণবিক স্থাপনায় প্রায় ৩০ হাজার কম্পিউটার ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। এটি ‘স্টাক্সনেট’ নামের কম্পিউটার ভাইরাস, যেটির জন্যও ইসরায়েলকে দায়ী করা হয়।
ইরানও কি ইসরায়েলে গোয়েন্দা তৎপরতা চালায়
নিশ্চয়ই।
২০২৪ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেত জানায়, তারা সাত ইসরায়েলি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে, যাঁরা ইরানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করছিলেন।
এ ঘটনার এক দিন আগেই হাইফায় আরও সাতজনকে আটক করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে ইরানের গোয়েন্দা বিভাগের হয়ে যুদ্ধকালে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়।
সে সময় ইসরায়েলি পুলিশের একটি সূত্র জানায়, দেশে ইরানের হয়ে কাজ করা আরও অনেক গোপন নেটওয়ার্ক সক্রিয় থাকতে পারে।
![]() |
| ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের লোগো। ছবি: আল–জাজিরার ইউটিউব চ্যানেল থেকে নেওয়া |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1265)
-
▼
2025
(3280)
-
▼
June
(301)
-
▼
Jun 25
(10)
- ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করতে পারেনি মার্কিন...
- ন্যায়ের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া by শহীদুল্লাহ ফরায়জী
- ইসরায়েলের আগ্রাসন: গাজায় নিহত ৫৬ হাজার ছাড়াল
- ইরান কিছুই ভুলবে না, সব মনে রাখবে by হামিদ দাবাশি
- ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র—কে জিতল এই যুদ্ধে by ...
- চিকিৎসাশাস্ত্রে রসুন by ডা: জ্যোৎস্না মাহবুব খান
- যুক্তরাষ্ট্রই কীভাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির পথ...
- খোঁজ নেই ইরানের ৪০০ কেজি ইউরেনিয়ামের, যুক্তরাষ্ট্...
- ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র—তিন পক্ষেরই বিজয় দাবি
- ইরানের ভেতর ইসরায়েলের গোয়েন্দা তৎপরতার জাল কতটা বি...
-
▼
Jun 25
(10)
-
▼
June
(301)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...




