Sunday, June 23, 2019

চাকরির ফাঁদ: যা হচ্ছে চট্টগ্রামে by ইব্রাহিম খলিল

চাকরির প্রলোভনে পড়ে চট্টগ্রাম শহরে এসে মুখোমুখি হচ্ছে জীবনের এক নিদারুণ গল্পের। যার নাম পতিতাবৃত্তি। গত এক সপ্তাহে এমন ৭ কিশোরীকে উদ্ধার করেছে চট্টগ্রাম মহানগরীর তিন থানার পুলিশ। যারা শুনিয়েছেন, চাকরি নামক সোনার হরিণের পেছনে ছুটতে গিয়ে নিজের জীবনকে কীভাবে চরম দুর্দশায় ঠেলে দিয়েছে তার লোমহর্ষক বর্ণনা।
গত ২১শে জুন শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া থানার কালামিয়া বাজার এলাকার দুবাইওয়ালা কলোনির একটি বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া দুই কিশোরী দিয়েছেন ঘোর অন্ধকার জীবনের বর্ণনা। তাদের দেয়া বর্ণনা থেকে বাকলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন বলেন, গার্মেন্টসে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দিয়ে আবদুর রহিম (৩৫) নামের এক ব্যক্তি পাঁচ-ছয় দিন আগে চট্টগ্রাম শহরে এনে বাসায় জোরপূর্বক আটকে রেখে দেহব্যবসা করতে বাধ্য করে তাদের।
দুই কিশোরীর বাড়ি চন্দনাইশ উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল বরকল এলাকায়। তারা পরস্পর চাচাতো বোন।
গার্মেন্টস কারখানায় চাকরি দেয়ার কথা বলায় পূর্ব পরিচিত আবদুর রহিমের সঙ্গে চট্টগ্রাম শহরে আসে তারা। এরপর রহিম নিজে দুই কিশোরীকে আলাদাভাবে ধর্ষণ করে। এরপর দেহ ব্যবসায় বাধ্য করে।
পুলিশ খবর পেয়ে শুক্রবার রাতে দুই কিশোরীকে উদ্ধার ও আবদুর রহিমকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার দেহ তল্লাশি করে ৫১ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেটও উদ্ধার করে। জিজ্ঞাসাবাদে আবদুর রহিম স্বীকার করে দুই তরুণীকে ইয়াবা সেবন করিয়ে জোরপূর্বক দেহ ব্যবসা করতে বাধ্য করে সে।
এ ঘটনায় বাকলিয়া থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে নিয়মিত মামলা করা হয়। শনিবার সকালে ভুক্তভোগী নারীরা আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। আবদুর রহিম হাটহাজারী উপজেলার মিরেরখিলের আবুল কাশেমের ছেলে বলে জানান ওসি।
গত ২০শে জুন বৃহসপতিবার পতেঙ্গা থানার মোজাফ্‌ফর ভবন থেকে উদ্ধার করা হয় দুই তরুণীকে। তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও বাগেরহাটের বাসিন্দা। ওই ঘটনায় নারীসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গার্মেন্টসে চাকরির দেয়ার কথা বলে ওই দুই তরুণীকেও চট্টগ্রাম শহরে এনে বাসায় আটকে রেখে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হয়।
পতেঙ্গা থানার ওসি উৎপল বড়ুয়া বলেন, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন জায়গায় বাসা ভাড়া নিয়ে চক্রটির লোকজন দীর্ঘদিন ধরে তরুণীদের পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করাতো। এ ঘটনায় মানবপাচার আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এর আগে গত ১৫ই জুন রাতে বাকলিয়া থানার কালামিয়া বাজারের আলেক্কা রোড নূর বেগম আবাসনের একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে এক কিশোরীকে উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় এক নারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। চাকরি দেয়ার কথা বলে মহেশখালী থেকে ওই কিশোরীকে শহরে এনেছিল চক্রটির নারী সদস্য জাহানারা বেগম। পরে তাকে আটকে রেখে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হয়।
গত ১৪ই জুন শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগরীর চকবাজার থানার কাপাসগোলার একটি বাসায় দেহ ব্যবসায় বাধ্য করার সময় কান্না শুনতে পেয়ে দুই নারীকে উদ্ধার করে জুমার নামাজ শেষে বাসায় ফেরা মুসল্লিরা। সেই সঙ্গে দেহ ব্যবসা পরিচালনার মূল হোতা শেলী আক্তার (২৮), আবু কায়সার জাহাঙ্গীর বাবু (৩২) ও খদ্দের মো. হৃদয় (১৮) কে আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়।
পরে আদালতে ভুক্তভোগী দুই নারী জবানবন্দিতে বলেন, শেলী ও জাহাঙ্গীর বাবুসহ তাদের চক্রের অধীনে নগরীর চকবাজার, দুই নাম্বার গেইট ও খুলশী এলাকায় তিনটি বাসা আছে। এসব বাসায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে চাকরির প্রলোভনে নারীদের ফুসলিয়ে বা ফাঁদে ফেলে নিয়ে আসা হয়। এরপর তাদেরকে বন্দি করে রেখে, মারধর করে দেহব্যবসায় বাধ্য করা হয়।
পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যমতে, চট্টগ্রাম মহানগরীর অভিজাত এলাকা খুলশী, চান্দগাঁও, হালিশহর, বাকলিয়া ও কোতোয়ালি থানা এলাকায় বাসাবাড়িতে কিশোরীদের আটকে রেখে দেহ ব্যবসা করানোর তথ্য রয়েছে। তথ্য মোতাবেক পুলিশের অভিযানে অনেক কিশোরীকে উদ্ধার ও দেহ ব্যবসা পরিচালনাকারীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসব স্থানে পতিতাবৃত্তির পাশাপাশি ইয়াবা সেবন ও বিক্রি হয়।
চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ- কমিশনার মো. কামরুজ্জামান বলেন, গ্রামাঞ্চল থেকে সহজ সরল কিশোরীদের চাকরি দেয়ার প্রলোভনে এনে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকার বাসায় আটকে রেখে দেহ ব্যবসা চালানোর একাধিক চক্র সক্রিয় রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা তৎপর রয়েছে।

বছরে উৎপাদন করা হবে ১০ লাখ মোটরসাইকেল

শিল্পোন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশে ২০২৭ সাল নাগাদ মোটরসাইকেলের বার্ষিক উৎপাদনক্ষমতা ১০ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সময়ের মধ্যে এ শিল্প খাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থানের পরিমাণ ১৫ লাখে উন্নীত করা হবে। এসব লক্ষ্য অর্জনে শিল্প মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট শিল্প-উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও নীতিসহায়তা দেবে।
আজ রোববার মোটরসাইকেল ‘শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা ২০১৮’ বাস্তবায়নের জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়ের গঠিত সমন্বয় পরিষদের সভায় এ তথ্য জানানো হয়।
সভাপতির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, শিল্পোন্নত বাংলাদেশ গড়তে বর্তমান সরকার মোটরসাইকেল উৎপাদনকারী শিল্পকে সব ধরনের সহায়তা দেবে। এ শিল্পে উৎপাদিত যন্ত্রাংশের গুণগতমান নিয়ন্ত্রণে উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে বিএসটিআই ও বিটাক। এ সময় নতুন কারখানা স্থাপনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও রিসাইক্লিংয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে উদ্যোক্তাদের নির্দেশনা দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, জনকল্যাণে রাজস্ব আয় বৃদ্ধির প্রয়োজন হলেও অযৌক্তিক রেজিস্ট্রেশন ব্যয় বাড়িয়ে জনগণকে কষ্ট দেওয়া সরকারের লক্ষ্য নয়।
শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার বলেন, দেশীয় শিল্পের স্বার্থ রক্ষায় আমদানি করা পণ্যে অধিক হারে কর আরোপের পাশাপাশি দেশীয় উৎপাদকদের কর রেয়াতের ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যদিকে, মোটরসাইকেল নিবন্ধন খাতে কর ফাঁকি বন্ধ করতে বিক্রি হওয়া মোটরসাইকেলের তালিকা স্থানীয় জেলা প্রশাসক, বিআরটিএ ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানোর জন্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দেন প্রতিমন্ত্রী।
মোটরসাইকেল শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা বাস্তবায়নের কৌশল নিয়ে সভায় আলোচনা হয়। এ সময় দেশীয় মোটরসাইকেল শিল্পের বনিয়াদ শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ভেন্ডর উন্নয়ন, অটোমোবাইল খাতের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ, মোটরসাইকেল পশ্চাৎ-সংযোগ শিল্প পার্ক ও বাংলাদেশ অটোমোটিভ ইনস্টিটিউট স্থাপন, মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন ব্যয় কমানো ও ব্যবস্থাপনা যুগোপযোগী করাসহ অন্যান্য বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।
সভায় মোটরসাইকেল উৎপাদনকারী শিল্প-উদ্যোক্তারা এ শিল্প বিকাশের পেছনে প্রতিবন্ধকতা ও সমস্যা তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, ইতিমধ্যে মোটরসাইকেল শিল্প খাতে উদ্যোক্তারা প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। মোটরসাইকেলের আমদানি করা যন্ত্রাংশের শুল্ক হার তুলনামূলক কম হওয়ায় দেশীয় খুচরা যন্ত্রাংশ উৎপাদনকারী ভেন্ডররা কঠিন প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হচ্ছেন। এ ছাড়া পণ্যের গুণগতমান যাচাইয়ে প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগের সীমাবদ্ধতা, প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অধিক রেজিস্ট্রেশন ব্যয়, ঘন ঘন এসআরও জারি ও শুল্ক নীতির পরিবর্তন, সিকেডি ও সিবিইউ মোটরসাইকেল আমদানিতে ক্রমান্বয়ে শুল্ক ব্যবধান হ্রাস পাওয়ায় উদীয়মান এ শিল্পের বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে বলেও তারা মন্তব্য করেন।
সভায় শিল্পসচিব মো. আবদুল হালিম, শিল্প মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ, বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বিডা, বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিআরটিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিএসটিআই, বিটাক, বিএসইসি ও বিসিকের প্রধান, বাংলাদেশ মোটরসাইকেল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতিসহ মোটরসাইকেল উৎপাদনকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

লাইনে দাঁড় করিয়ে ঘুষের টাকা ফেরৎ

ঝিনাইদহে লাইনে দাঁড় করিয়ে ঘুষের টাকা ফেরৎ দিয়েছেব পল্লী বিদ্যুৎ-এর এক কর্মকর্তা। এ সংশ্লিষ্ট ছবি এবং খবর এখন টক অব দি টাউনে পরিণত হয়েছে। এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা মানুষের মুখে মুখে।
বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার কথা বলে ১২৬ পরিবারের কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছিলেন ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির শৈলকুাপা উপজেলার এলাকা-৭ এর পরিচালক নুরুজ্জামান। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অনুসন্ধানে প্রমাণিত হয় বিষয়টি। অবশেষে গ্রাহকদের চাপের মুখে ঘুষের ১ লাখ ৩৮ হাজার ১০০ টাকা তিনি ফেরত দিতে বাধ্য হন।
গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে শৈলকুপা উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের খুলুমবাড়িয়া গ্রামের পৃথক দু’টি স্থানে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘুষের টাকা ফেরত দেয়া হয়। সারিবদ্ধভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা বুঝে নেন গ্রাহকরা।
এ সময় ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মো. আলতাফ হোসেন, শৈলকুপা উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার কামরুজ্জামান, সমিতি বোর্ডের সভাপতি হাফিজুর রহমান, সহকারি প্রকৌশলী মোতাহার হোসেন ও সহকারি জেনারেল ম্যানেজার (সদস্য সেবা) মো. রেজাউল করিম রাজিব উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মো. আলতাফ হোসেন বলেন, শৈলকুপা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বিদ্যুৎ লাইন সম্প্রসারণের কাজ চলছে। সুযোগে বুঝে ওই এলাকার দালাল চক্রের মাধ্যমে ঘুষ নেন পরিচালক নুরুজ্জামান। ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি ব্যাপকভাবে জানাজানি হলে গোপন অনুসন্ধান কালে খবরের সত্যতা পান জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মো. আলতাফ হোসেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির শৈলকুপা ৭ নং এলাকা পরিচালক নুরুজ্জামানের নাম বেরিয়ে আসে। পরবর্তীতে এই টাকা গ্রাহকদের ফেরৎ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়। লাইনে দাঁড় করিয়ে ঘুষের টাকা ফেরৎ দেয় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।
বৃহস্পতিবার রাতে ঘুষখোর পরিচালক নুরুজ্জামান নিজেই গ্রাহকদের হাতে সেই টাকা তুলে দেন। ওইদিন দুর্নীতি বিরোধী ব্যানার ঝুলিয়ে ১২৬ পরিবারকে ১ লাখ ৩৮ হাজার ১০০ ঘুষের টাকা ফেরত দেয়া হয়।
বিষয়টি নিয়ে পরিচালক নুরুজ্জামান গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা গ্রহণের কথা স্বীকার করে বলেন, তিন বছর আগে খুলুমবাড়িয়া গ্রামের দক্ষিণপাড়া ও বাগদিপাড়ার অন্তত ১৫০ জনের কাছ থেকে মিটারসহ বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার কথা বলে গড়ে ৭৫০ টাকা হারে ঘুষ নেন। আত্মস্বীকৃত এই ঘুষখোর শৈলকুপার হাকিমপুর গ্রামের মৃত নজির উদ্দিন মোল্লার ছেলে। এলাকা পরিচালক হওয়ার আগে তিনি পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির তালিকাভুক্ত ইলেট্রিশিয়ান হিসেবে কাজ করতেন। এলাকা পরিচালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে জন্য ঢাকায় প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে বলে জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মো. আলতাফ হোসেন জানান।

দারিদ্র্যের হার আরো কমিয়ে আনা হবে : প্রধানমন্ত্রী

দেশে দারিদ্র্যের হার আমেরিকার চেয়েও কমিয়ে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দারিদ্র্যের হার আজকে ২১ দশমিক ৮ শতাংশে নামিয়ে এনেছি। আমার একটা লক্ষ্য আছে দারিদ্র্যের হার আরো কমিয়ে আনা।
আজ রবিবার রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমিতে চলমান ১১০তম, ১১১তম এবং ১১২তম আইন ও প্রশাসন কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, আমেরিকায় দারিদ্র্যের হার বোধ হয় সতের কি আঠারো শতাংশ। যে করেই হোক তার (আমেরিকা) থেকে এক পারসেন্ট কমালেও আমাকে কমাতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশকে আমরা দক্ষিণ এশিয়ার উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলব। এটাই চাই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। সেটা মাথায় রেখেই ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।
সরকারি সহায়তা পেয়ে কেউ যেন কর্মবিমুখ না হয় সেভাবে কাজ করার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সহায়তা এমনভাবে দিতে হবে যাতে একেবারে না খেয়ে থাকে কিন্তু কর্মবিমুখ না হয়। না খেয়ে কষ্ট পাবে না কিন্তু কর্ম বিমুখ হতে পারবে না। সবাইকে কাজ করতে হবে সেভাবে, সবাইকে উৎসাহ দিতে হবে, শিক্ষা দিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, আমাদের গৃহীত পদক্ষেপে আজকে আমরা যথেষ্ট দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।
এ সময় আওয়ামী লীগ সরকারের জনকল্যাণমূলক কাজের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল বাঙালিদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যে কারণে আপনারা দেখবেন আওয়ামী লীগ যখন সরকারে আসে তখন কিন্তু দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হয়।
এ ছাড়াও দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার কথা তুলে ধরে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, বাংলাদেশের অপরাজেয় যে অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে তা যেন থেমে না যায়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশটাকে স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন বলেই আজকে সর্বক্ষেত্রে বাঙালিরাই স্থান করে নিতে পারছে বাঙালিরা যে পারে সেটাই হচ্ছে বড় কথা।
অনুষ্ঠানে ১১০তম, ১১১তম এবং ১১২তম আইন ও প্রশাসন কোর্সের প্রশিক্ষনার্থীদের হাতে সনদ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

৭০ বছরের আওয়ামী লীগ: ভাসানী-মুজিব থেকে শেখ হাসিনা by আবুল বাশার নূরু

বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহাসিক রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এদেশের যত অর্জন, আন্দোলন সংগ্রাম আর ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে জড়িয়ে আছে দলটির নাম। প্রতিষ্ঠার পর ৭০ বছর অতিক্রম করেছে দলটি। এই দীর্ঘ সময়ে ২০টি জাতীয় সম্মেলন হয়েছে আওয়ামী লীগের। এখন পর্যন্ত সভাপতি হয়েছেন সাতজন। এর মধ্যে বর্তমান সভাপতি শেখ হাসিনা সর্বোচ্চ আটবার, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী তিনবার করে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ দুইবার এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামান ও আবদুল মালেক উকিল একবার করে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। আর সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দিন একবার নির্বাচিত হয়েছেন দলের আহ্বায়ক।
এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ১০ জন। সবচেয়ে বেশি চারবার করে সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জিল্লুর রহমান। এছাড়া তাজউদ্দিন আহমেদ তিনবার, আবদুর রাজ্জাক, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী দুইবার করে, প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক এবং আবদুল জলিল একবার করে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। বর্তমানে দলটির সাধারণ সম্পাদক রয়েছেন ওবায়দুল কাদের।
১৯৪৯ সালের ২৩ ও ২৪ জুন পুরান ঢাকার রোজ গার্ডেনে অনুষ্ঠিত প্রথম সম্মেলনে সভাপত্বি করেন আতাউর রহমান খান। এই সম্মেলনে সভাপতি নির্বাচিত হন মাওলানা ভাসানী, সাধারণ সম্পাদক হন শামসুল হক আর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হন শেখ মুজিবুর রহমান।
১৯৫৩ সালের ৩ থেকে ৫ জুলাই মুকুল সিনেমা হলে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় সম্মেলন। এই সম্মেলনেও সভাপতি নির্বাচিত হন মাওলানা ভাসানী। আর দলের সাধারণ সম্পাদক হন শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৫৫ সালের ২১ থেকে ২৩ অক্টোবর রূপমহল সিনেমা হলে তৃতীয় সম্মেলনে পুনরায় মাওলানা ভাসানী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৫৭ সালে চতুর্থ সম্মেলনের আগে দলের মধ্যে বিভক্তির পর আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেন মাওলানা ভাসানী। ১৩ জুন আরমানিটোলার নিউ পিচকার হাউজে এবং পরদিন গুলিস্তান সিমেনা হলে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে মাওলানা আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং শেখ মুজিবুর রহমান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। দলের পঞ্চম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৬৪ সালে। ৬ মার্চ থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পুনরায় নির্বাচিত হন মাওলানা তর্কবাগীশ ও শেখ মুজিবুর রহমান।
১৯৬৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনটি হয় ১৮ থেকে ২০ মার্চ হোটেল ইডেনে।দলের সভাপতি নির্বাচিত হন শেখ মুজিবুর রহমান। আর প্রথমবারের মতো সাধারণ সম্পাদক হন তাজউদ্দীন আহমেদ। ১৯৬৮ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় কারাগারে আটক তখন অনুষ্ঠিত হয় দলের সপ্তম জাতীয় সম্মেলন। ১৯ থেকে ২০ অক্টোবর হোটেল ইডেন প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম। সম্মেলনে আবার শেখ মুজিবুর রহমান সভাপতি ও তাজউদ্দীন আহমেদ সাধারণ সম্পাদক পুনঃনির্বাচিত হন। ১৯৭০ সালের উত্তাল সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় আওয়ামী লীগের অষ্টম জাতীয় সম্মেলন। ৪ থেকে ৫ জুন হোটেল ইডেন প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সভাপতি ও তাজউদ্দীন আহমেদ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালের ৭ থেকে ৮ এপ্রিল আওয়ামী লীগের নবম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ১১২, সার্কিট হাউজ রোডে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। এ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সভাপতি ও জিল্লুর রহমান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
দলটির ১০ম জাতীয় সম্মেলন ১১২ সার্কিট হাউজ রোডে দলীয় কার্যালয়ে সামনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৪ সালের ১৮ জানুয়ারি থেকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত। এ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু দলীয় সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন। দলের সভাপতি হন এ এইচ এম কামারুজ্জামান এবং সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান।
এরপরই ঘটে ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের সেই ভয়াবহ ঘটনা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব নিহত হন সপরিবারে। সামরিক সরকার ক্ষমতা দখল করে। দলটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দুঃসময় এসে হাজির হয়। এমন একটি পরিস্থিতিতে ১৯৭৭ সালের ৩ থেকে ৪ এপ্রিল হোটেল ইডেন প্রাঙ্গণে দলের ১১তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে দলের আহ্বায়ক নির্বাচিত হন সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দিন। এর পরের বছর ১৯৭৮ সালের দলটির ১২ তম জাতীয় সম্মেলন হয় ৩ থেকে ৫ মার্চ হোটেল ইডেন প্রাঙ্গণে। এতে সভাপতি নির্বাচিত হন আবদুল মালেক এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন আবদুর রাজ্জাক।
১৯৮১ সালের ১৩ তম জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। ১৪ থেকে ১৬ ফের্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সম্মেলনে শেখ হাসিনা সভাপতি ও আব্দুর রাজ্জাক সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে ১৯৮২ সালে আব্দুর রাজ্জাক দলত্যাগ করলে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। ১৯৮৭ সালের ১ থেকে ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে অনুষ্ঠিত হয় আওয়ামী লীগের ১৪ তম জাতীয় সম্মেলন। শেখ হাসিনা সভাপতি ও সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৯২ সালের ১৯ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে দলের ১৫তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সম্মেলনে কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ দুই থেকে বাড়িয়ে তিন বছর মেয়াদী করা হয়। শেখ হাসিনা সভাপতি ও জিল্লুর রহমান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৯৭ সালে ১৬ তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ৬ থেকে ৭ মে আউটার স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পুনঃনির্বাচিত হন শেখ হাসিনা ও জিল্লুর রহমান। ২০০২ সালে পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত হয় দলের ১৭ তম জাতীয় সম্মেলন। এ সম্মেলনে সভাপতি শেখ হাসিনা এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন আব্দুল জলিল। ২০০৯ সালের ২৪ জুলাই অনুষ্ঠিত হয় দলটির ১৮তম জাতীয় সম্মেলন। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে শেখ হাসিনা সভাপতি ও সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক হন। ২০১২ সালে ২৯ ডিসেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হয় দলটির ১৯তম জাতীয় সম্মেলন। সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হন শেখ হাসিনা ও সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। ২০১৬ সালের সোহরাওয়ার্দী অনুষ্ঠিত ২০তম সম্মেলনে শেখ হাসিনা সভাপতি ও ওবায়দুল কাদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

মার্কিন সামরিক বিমানে গুলি না করায় ইরানকে ধন্যবাদ: ট্রাম্প

আমেরিকার পি-৮ মডেলের সামরিক বিমান
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৩৮ আরোহীসহ তার দেশের একটি সামরিক বিমান গুলি করে ভূপাতিত না করায় ইরানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার ভোর রাতে ইরান যখন একটি মার্কিন গোয়েন্দা ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করে তখন ওই সামরিক বিমানটি একই এলাকার আকাশে ছিল।
ইরানের পক্ষ থেকে ওই সামরিক বিমানটিকে গুলি না করার কথা ঘোষণা করার একদিন পর ট্রাম্প এ স্বীকারোক্তি ও ধন্যবাদ দিলেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট শনিবার হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের বলেন, “গতকাল ৩৮ আরোহীবাহী একটি বিমান সেখানে ছিল, সেটি কি আপনারা দেখেছেন? আমার মনে হয় এটি একটি বড় ঘটনা। তারা তাদের দৃষ্টিসীমায় এটি দেখেও তাতে গুলি করেনি। আমি মনে করি তারা এটা না করে অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছে। তারা এটা না করায় আমরা তাদেরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমি মনে করছি এটি ছিল অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত কাজ।”
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী গত বৃহস্পতিবার ইরানের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশকারী 'গ্লোবাল হক' মডেলের একটি অত্যাধুনিক মার্কিন ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করার ঘোষণা দেয়; যদিও আমেরিকা দাবি করে, ড্রোনটি আন্তর্জাতিক পানিসীমায় অবস্থান করছিল। আইআরজিসি পরে ভূপাতিত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ প্রদর্শন করে প্রমাণ করে দেয়, এটি ইরানের পানিসীমায় বিধ্বস্ত হয়েছে।
এ ছাড়া, ট্রাম্প ইরানকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রকারান্তরে তার দেশের ড্রোন ও সামরিক বিমান যে ইরানের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করেছিল তা স্বীকার করে নিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি ইরানের এই উচ্চ মাত্রার সামরিক সক্ষমতাকেও মেনে নিয়েছেন যে, দেশটির আকাশসীমায় অনুপ্রবেশকারী যেকোনো বিমান বা ড্রোন শনাক্ত করে ইরানের পক্ষে তা গুলি করে ভূপাতিত করা সম্ভব।
ট্রাম্পের এ বক্তব্যের আগের দিন আইআরজিসি’র অ্যারোস্পেস ডিভিশনের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির আলী হাজিযাদে বলেছিলেন, “ভূপাতিত মার্কিন ড্রোনটির সঙ্গে একটি মার্কিন পি-৮ সামরিক বিমান ছিল এবং সে বিমানে ৩৫ জন আরোহী ছিল।” তিনি আরো বলেন, “ওই বিমানটিও আমাদের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করেছিল এবং আমরা সেটিকে ভূপাতিত করতে পারতাম। কিন্তু আমরা তা করিনি কারণ, আমরা শুধুমাত্র ড্রোনটিকে বিধ্বস্ত করে আমেরিকাকে সতর্ক করতে চেয়েছি।”
গ্লোবাল হক ড্রোন

মানবপাচার আইন: নিষ্পত্তির হার খুবই কম, মামলা লড়তে অনীহা বাদীর by জিয়া চৌধুরী

মিশরে যাওয়ার প্রলোভনে পড়ে ২০১২ সালে দালাল চক্রের কাছে সর্বস্ব হারান নওগাঁর বাবু। পাচারের শিকার হন আরো তিনজন। পরে ওই বছরের মে মাসে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দেশের ইতিহাসে প্রথম  মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়। ২০১২ সালের ৭ই মে নওগাঁ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলার পর সাত বছর পেরিয়ে গেলেও নিষ্পত্তি হয়নি মামলাটির। দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করে বিচার না পাওয়ায় এখন আর মামলার কোন খোঁজ রাখছেন না বাদী। মানবপাচার আইনের প্রথম মামলার প্রধান ও দ্বিতীয় আসামি শুরুর দিকে একবার গ্রেপ্তার হলেও এখন জামিনে রয়েছেন। মামলার নিষ্পত্তিতে তেমন কোন অগ্রগতি নেই বলে আদালত সূত্রেও জানা গেছে। মানব পাচারের শিকার হয়ে বেশিরভাগ মানুষ আর মামলার বিড়ম্বনায় যেতে চান না।
আবার মামলা করার পর বিচারের দীর্ঘসূত্রতায় অনেক ক্ষেত্রে বাদীরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন।  কোন কোন ক্ষেত্রে পাচারকারীদের সঙ্গে পাচারের শিকার ব্যক্তিদের আপস-মীমাংসাও হয়। ২০১২ সালে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন প্রণয়নের পর থেকে এই আইনে দায়ের হওয়া মামলার নিষ্পত্তির হার খুবই কম। বিচার না হওয়ায় গ্রেপ্তারের কিছু দিন পর জামিনে বের হয়ে আবারো পাচার কাজে জড়িয়ে পড়ে আসামিরা। দেশের বেশ কয়েকটি জেলার মানবপাচার আইনের মামলা পর্যালোচনা করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। ২০১২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি মানব পাচার আইন কার্যকরের পর থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত সারা দেশে ৫ হাজার ৭১৬টি মামলা হয়েছে বলে পুলিশ সদর দপ্তরের মানব পাচার মনিটিরিং সেল সূত্রে জানা গেছে। যদিও চলতি বছরের মে মাস নাগাদ মামলার সংখ্যা ছয় হাজার ছাড়িয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে, এর মধ্যে মাত্র ২৪৭টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। আদালত স্থানান্তর করা হয়েছে ১ হাজার ৩৭৫টি মামলার। এখনো বিচারাধানীন আছে প্রায় ৪ হাজার ৯৪টি মামলা। পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিচার কাজ ঝুলে আছে ১৫৫টি মামলায়। আর অন্তত সাতটি মামলায় উচ্চ আদালতের নির্দেশে বিচার কাজ স্থগিত রেখেছে বিচারিক আদালত। মামলা পরিচালনার জন্য আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠন না হওয়া, আসামিদের ধরতে পুলিশের অনীহা, চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিতে না পারা, সাক্ষীরা হাজির না হওয়াসহ নানা জটিলতায় মানবপাচার আইনের মামলার নিষ্পত্তি হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এর মধ্যে, মামলা করার পর অনেক দিন ধরে মামলা লড়তে গিয়ে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন বাদীরা। মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করা অন্তত দশ জন বাদীর সঙ্গে কথোপকথনে জানা গেছে তারা এখন আর মামলার খোঁজ-খবর রাখছেন না। শুরুর দিকে পাচারকারীদের বিচার চাইলেও আসামিরা জামিনে বের হয়ে হুমকি-ধামকি দিলে অনেকে আর আদালতপাড়ায় যাওয়ার সাহস পান না। মানব পাচার আইনে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৬৫৩টি মামলা হয়েছে ঢাকা জেলায়। দুঃখজনকভাবে এত সব মামলার মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ৫টি। ৮৪৩টি মামলায় আদালত স্থানান্তর করা হয়েছে, বিচারধীন আছে ৮০৫টি মামলা। ঢাকা জেলায় দায়ের হওয়া মানব পাচার আইনের মামলাগুলোর মধ্যে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৭৬। ঢাকা জেলার পর যশোরে মামলা দায়েরের হয়েছে সবচেয়ে বেশি। যশোর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মোট ৬১৩টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ১৮টি মামলা। আদালত বদল হয়েছে ২০৭টি মামলার, বিচারাধাীন আছে ৩৭৮টি মামলা। পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে ঝুলে আছে ৩৬টি মামলা। মামলার সংখ্যার দিক থেকে যশোরের পরই আছে কক্সবাজার জেলা। সমুদ্র উপকূলের এই জেলায় মামলা হয়েছে মোট ৩৯৬টি, এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে একটির। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান মানবজমিনকে বলেন, পাচারের শিকার হওয়া অনেক ব্যক্তি মামলা করতে না চাইলে সংখ্যার হিসেবে মামলা কম নয়। মানবপাচার আইনটি চমৎকার একটি আইন। তদন্ত, শাস্তিসহ বেশ কিছু বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেয়া আছে। তবে আইন অনুযায়ী দেশের সাতটি বিভাগে মানব পাচারের মামলার বিচারের জন্য আলাদা সাতটি ট্রাইবুন্যাল গঠনের কথা থাকলেও সাত বছরেও কোন ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়নি। এছাড়া, মামলার নিষ্পত্তি না হওয়ার বেশ কিছু দিন কারাগারে থাকার পর জামিনে বের হয়ে যায় আসামিরা। পাচারের শিকার ব্যক্তিরা এমনিতে আর্থিক, মানসিক ও সামাজিকভাবে হেয় হয়। উল্টো পাচারাকারীরা সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলে পাচারের শিকার ব্যক্তিরা মামলা লড়তে চায় না, আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। শরিফুল হাসান বলেন, সাত বিভাগীয় শহরে সম্ভব না হলেও যেসব এলাকায় মামলার সংখ্যা বেশি সেখানে ট্রাইব্যুনাল গঠনের জন্য আমরা মানবাধিকার কমিশনের মাধ্যমে অনুরোধ করেছিলাম। এছাড়া, ন্যাশনাল প্ল্যান অব অ্যাকশন অনুযায়ী মানব পাচার বিষয়ে কার্যকরী উদ্যোগ না নেয়ায় বর্হিবিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। দ্রুত মানব পাচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করার জোর দাবি জানান ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান। বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার প্রোগ্রাম অফিসার অ্যাডভোকেট সালমা সুলতানা মানবজমিনকে বলেন, বিচারের দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেকে আদালত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। অনেক মামলায় দুই, তিন বছর পর সাক্ষীদের তলব করলে তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায় না। একই সঙ্গে অনেক সময় পুলিশও মানব পাচার মামলার আসামিদের ধরতে অনীহা দেখায়। এমন প্রেক্ষাপটে পাচারের শিকার হওয়া ব্যক্তি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর আবার সামাজিকভাবে নিরাপত্তাহীনতায়ও ভোগেন। এক পর্যায়ে তারা মামলা চালাতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। এমনকি কিছু কিছু ক্ষেত্রে পাচারকারীদের সঙ্গে আপস করে ফেলেন। তবে, পাচারকারীদের দ্রুত বিচার না করা ও সাজা না হওয়ায় মামলায় তেমন কোন ফল আসছে না বলেও জানান এই মানবাধিকার কর্মী।

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি অর্থ খরচ হয়েছে লোকসভা নির্বাচনে

গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় উৎসবে খরচ হলো বিশ্বের সবচেয়ে বেশি অর্থ। সদ্যসমাপ্ত ভারতের লোকসভা নির্বাচনের খরচ বলছে পৃথিবীর কোথাও কখনো ভোট করতে এত বেশি অর্থ খরচ হয়নি। দিল্লির সেন্টার ফর মিডিয়া স্টাডিজ একটি সমীক্ষা রিপোর্ট পেশ করে জানিয়েছে, এবারের লোকসভা ভোটে খরচ হয়েছে প্রায় ৬০০ বিলিয়ন রুপি। দেশের ৯০ কোটি ভোটারকে কাছে টানতে এই পরিমাণ টাকা খরচ করেছে দেশের রাজনৈতিক দলগুলি। রিপোর্ট বলছে, হিসেব অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে একজন ভোটারের কাছে পৌঁছতে খরচ হয়েছে প্রায় ৭০০ রুপির মতো। আর ১টি লোকসভা কেন্দ্রের জন্য খরচ হয়েছে প্রায় ১ বিলিয়ন রুপি!‌
সমীক্ষা রিপোর্ট থেকে জানা গেছে, কোনো কোনো লোকসভা কেন্দ্রে জনসংখ্যা ৩ মিলিয়নের কাছাকাছি। সেখানে খরচ আরো বেশি হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছিল, প্রতিটি লোকসভা কেন্দ্রের জন্য ৭০ লক্ষ রুপির বেশি খরচ করা যাবে না। কিন্তু এই হিসেব বলছে প্রার্থীর পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলি নির্বাচনের প্রচারে যে পরিমাণ অর্থ খরচ করেছে তার হিসেব গিয়ে দাঁড়াচ্ছে এই ৬০০ বিলিয়নে। ডলারের হিসেবে প্রায় ৮.৭ বিলিয়ন রুপি খরচ হয়েছে ভারতের নির্বাচনে। তিন বছর আগে আমেরিকার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয় তাতে খরচ হয়েছিল ৬.৫ বিলিয়ন ডলার।
দিল্লির এই সংস্থার সমীক্ষা রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, যে হারে এবারের লোকসভা নির্বাচনে খরচ হয়েছে তা যদি বজায় থাকে তাহলে ৫ বছর পর অর্থাৎ ২০২৪ সালে আবার যখন ভারতে সাধারণ নির্বাচন হবে তখন খরচের পরিমাণ এক ট্রিলিয়ন ডলারকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। এমনই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দিল্লি সেন্টার ফর মিডিয়া স্টাডিজ সিএমএসের চেয়ারম্যান এন ভাস্কর রাও। তিনি বলেন, ‘‌দেশের সাধারণ নাগরিককে বুঝতে হবে সমস্ত দুর্নীতির মূলে রয়েছে নির্বাচনী খরচ। এই সত্য যতদিন না উপলব্ধি করা যাচ্ছে ততদিন দেশে দুর্নীতি বন্ধ করা সম্ভব নয়।’‌ স্বাভাবিকভাবেই বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির দাবি, মানি পাওয়ার, মাসল পাওয়ার ব্যবহার করা হয়েছে লোকসভা নির্বাচনে তাকেই সিলমোহর দিলো এই সমীক্ষা রিপোর্ট।
সূত্র : আজকাল

নান্দাইলে একই পরিবারের ৪ জন পঙ্গু, মানবেতর জীবনযাপন

২০ বৎসর যাবত অসহায় মানবেতর জীবন-যাপন করছে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার এক দরিদ্র পরিবার। উপজেলার শেরপুর গ্রামের মা-সহ ৪ ছেলে পঙ্গুত্ব জীবন নিয়ে বহু কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা চেয়েছে পরিবারটি।
সরজমিন দেখা যায়, শেরপুর গ্রামের আবদুল বারিকের স্ত্রী সফুরা খাতুন (৫০) এবং তার তিন পুত্র আবু কালাম (৩৫), রবি ইসলাম (৩২) ও রতন মিয়া (২৬) হামাগুড়ি দিয়ে বাড়ির উঠান থেকে ঘর পর্যন্ত কোনরকম হামাগুড়ি দিয়ে চলাফেরা করতে পারে। চেহারা কালচে বর্ণের, জীর্ণশীর্ণ ও কঙ্কালসার তাদের দেহ। ঠিকমতো কথা বলতে পারেন না। তাদের একজন বাক শক্তিহীন। পুষ্টি জাতীয় খাবার তো দূরের কথা, তিন বেলা দু’মুঠো ভাত ঠিকমত তাদের কপালে জুটে না।
স্বাভাবিক সুস্থ মানুষের মতো চলাফেরা করতে স্বাদ আল্লাদ থাকলেও নেই শরীর ও অর্থের সামর্থ্য। অর্থাভাবে উন্নত চিকিৎসা করতে না পারার কারণে দিন দিন  দেহ নিস্তেজ ও হাড্ডিসার হয়ে যাচ্ছে। বাড়িতে একটি টিনের ভাঙাচোরা দোচালা ঘরে কোনরকম দিন কাটাতো তাদের। স্থানীয় এক ব্যক্তি একটি ঘর নির্মাণ করে  দেয়ায় ঘরটিতে তাদের ছোট বোন স্বামী পরিত্যক্ত আছমার ১ ছেলেকে নিয়ে বসবাস করছে। আছমা অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে পঙ্গু মা-ভাইদেরকে দেখাশুনা করে।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনের ভরসা সফুরার স্বামী আবদুল বারিক (৬৪) দিন মজুরের কাজ করে, আবার কাজ না পেলে পুঙ্গু সন্তানকে নিয়ে ভিক্ষা করে খাবার যোগায়। আবদুল বারিক জানান, তার সন্তানরা বাল্যকালে অন্যদের মতো ভালোই ছিল প্রায় ২০ বৎসর পূর্বে মেঝো সন্তান রবি ইসলামের জ্বর হয়েছিল, তখন থেকেই ধীরে ধীরে তার শরীর রুগ্ন ও পঙ্গু হয়ে যায়। স্ত্রী সফুরা খাতুন জানান, কবিরাজিসহ বিভিন্ন চিকিৎসা করিয়েও ভালো হয়নি। একের পর এক তার পুত্র আবু কালাম ও রতন মিয়া সহ নিজেও একইভাবে আক্রান্ত হয়ে পঙ্গু হয়ে যায়।
ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মহসিন আহম্মদ জানান, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঁইয়া মিল্টন ও বর্তমান ইউপি সদস্য মাসুদ মিয়ার মাধ্যমে পরিবার দুটি পঙ্গু ভাতা কার্ড পেয়েছেন। বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব উদ্দিন মন্ডল বলেন, বিষয়টি তার নজরে আসেনি, তিনি এ ব্যাপারে সরকারের সুদৃষ্টি আশা করেন। একইসঙ্গে মনে করেন সমাজের বিত্তশালীদের সহযোগীতা পেলে পরিবারটির কষ্ট লাঘব হবে।

চাল রপ্তানির কথা বলে বাজেটে আমদানির পরিকল্পনা

চলতি বছর দেশে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। অতিরিক্ত ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছে সরকার। ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে চাল রপ্তানির পরিকল্পনার কথাও বলা হচ্ছে। কিন্তু আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারিভাবে চাল আমদানি বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে চাল সংগ্রহ হ্রাস করে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এ ধরনের প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়েছে। অথচ বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানি নিরুৎসাহিত করতে গত মাসে এ খাতে শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে চাল উদ্বৃত্ত আছে।
চাল উৎপাদনে রেকর্ডের পূর্বাভাস
দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। দেশের বাইরে চাল রপ্তানির চিন্তা করছে সরকার। এ অবস্থায় ধানের বাম্পার ফলন সত্ত্বেও বিপুল পরিমাণ চাল আমদানির পরিকল্পনা কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অর্থনীতিবিদরা। এতে কৃষকের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হবে বলে মনে করেন তারা।
অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাবিত বাজেটের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আগামী অর্থবছরের জন্য সরকারিভাবে চাল আমদানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ টন। যদিও চলতি অর্থবছর (২০১৮-১৯) চাল আমদানির সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে মাত্র ৫০ হাজার টন। এতে আগামী অর্থবছর চাল আমদানি বাড়বে দেড় লাখ টন বা ৩০০ শতাংশ।
ওদিকে চলতি অর্থবছর দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার বা উৎস থেকে সরকারের চাল সংগ্রহের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২১ লাখ ৩১ হাজার টন। আবার আগামী অর্থবছরের জন্য তা সামান্য কমিয়ে ২১ লাখ ২০ হাজার টন নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে ২০১৯-২০ অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে ১১ হাজার টন চাল সংগ্রহ কমানো হবে। অথচ কৃষকের সুবিধার্থে বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানি অনুৎসাহিত করতে এ খাতে শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়েছে।
বাজেট প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি অর্থবছর চাল আমদানিতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৯৩ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছর এ খাতে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ৮২৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ চাল আমদানিতে ব্যয় বাড়বে ৬৩৫ কোটি টাকা বা প্রায় ৩২৯ শতাংশ। এদিকে আগামী অর্থবছর দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে চাল সংগ্রহে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ হাজার ২৪ কোটি টাকা। আর চলতি অর্থবছর এ খাতে ব্যয় ধরা আছে ৮ হাজার ১০৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে চাল সংগ্রহে ব্যয় হ্রাস পাবে।
২০১৭-১৮ অর্থবছরে দেশে দুই দফা বন্যার কারণে বোরো ও আমন ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। ওই পরিস্থিতিতে প্রায় ১০ লাখ টনের মতো চাল আমদানি করেছিল সরকার। ফলে গত অর্থবছর সরকারি পর্যায়ে চাল আমদানি বেড়ে গিয়েছিল। ওই সময় বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানির ওপরও শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছিল। পাশাপাশি এলসি খোলার ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা দেয়া হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাওয়ায় গত বছর নভেম্বরে চাল আমদানিতে ২৮ শতাংশ শুল্ক পুনর্বহাল করে সরকার। এতে চাল আমদানি কমলেও বন্ধ হয়নি।
আবার চলতি অর্থবছর ধানের বাম্পার ফলনের পরও বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানি অব্যাহত ছিল। এতে কৃষকরা বঞ্চিত হন। ফলে গত ২২শে মে সরকার চাল আমদানিতে শুল্ক আরো বৃদ্ধি করে। এক্ষেত্রে রেগুলেটরি ডিউটি (নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক) ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে। আর আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ ও অগ্রিম আয়কর ৫ শতাংশ বহাল রাখা হয়েছে। ফলে সব ধরনের চাল আমদানিতে ৩৩ শতাংশের জায়গায় শুল্ককর ৫৫ শতাংশ করা হয়েছে।
সূত্রমতে, ২০১৭ সালের বন্যায় ফসলহানির পর সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল চালের ঘাটতি হবে ১০ লাখ টন। কিন্তু গত দুই বছরে দেশে প্রায় ৬০ লাখ টন চাল আমদানি হয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, সরকারি-বেসরকারিভাবে চলতি অর্থবছর ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) ২ লাখ টন চাল আমদানি হয়েছে। আমদানির অপেক্ষায় রয়েছে আরো ৩ লাখ ৮০ হাজার টন চাল।
বাড়তি উৎপাদন ও আমদানির চাল বাজারে চাপ তৈরি করায় অনেকটাই কমে যায় ধানের দাম। এতে ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় বিপদে পড়েন কৃষক। এ নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ কর্মসূচিও পালিত হয়েছে। এজন্য সরকারিভাবে চলতি অর্থবছর আরো আড়াই লাখ টন বোরো ধান অতিরিক্ত সংগ্রহের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
সরকারি-বেসরকারি হিসাব বলছে, দেশে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টন চাল উদ্বৃত্ত রয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে ১০-১২ টন চাল রপ্তানির বিষয়টি বিবেচনাও করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারিভাবে কেন চাল আমদানি বৃদ্ধি করা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অর্থনীতিবিদরা।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, দেশে চাল উদ্বৃত্ত আছে। সরকার রপ্তানির চিন্তা-ভাবনা করছে। এ অবস্থায় বাড়তি আমদানির প্রয়োজন আছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন হতে পারে। তবে সরকার পূনঃবিবেচনা করতে পারে বলে তিনি মনে করেন। এ ধরনের সিদ্ধান্ত কৃষকদের নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি কৃষিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আবার নেতিবাচ হিসেবে দেখারও সুযোগ নেই। কারণ সরকার দেশের প্রয়োজনে যে কোনো সময় চাল আমদানি করতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে চাল আমদানির লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হলেও আগামী অর্থবছরের জন্য গম আমদানির লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা কমানো হয়েছে। এক্ষেত্রে ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ টন গম সরকারিভাবে আমদানির প্রস্তাব করা হয়েছে। যদিও চলতি অর্থবছরে গমের সংশোধিত আমদানি লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ৫ লাখ টন। এছাড়া গমের অভ্যন্তরীণ সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়েছে। আগামী অর্থবছর অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে গম সংগ্রহ করা হবে ১ লাখ ৯৫ হাজার টন। যদিও চলতি অর্থবছর অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে গমের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ৫০ হাজার টন।

৩ বছরে মহারাষ্ট্রে ১২ হাজারের বেশি কৃষকের আত্মহত্যা

২০১৫ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে মহারাষ্ট্রের ১২ হাজার ২১ জন কৃষক আত্মহত্যা করেছেন বলে রাজ্যের বিধানসভাকে জানানো হয়েছে। গত শুক্রবার এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে রাজ্যের ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী সুবাস দেশমুখ জানিয়েছেন, জেলা পর্যায়ের বাছাই কমিটির অনুসন্ধানে দেখা গেছে আত্মহত্যা করা এসব কৃষকদের ৬ হাজার ৮৮৮ জন কৃষক সরকারি সহায়তা পাওয়ার যোগ্য ছিলেন।
সারা বিশ্বেই কৃষকরা বিপন্ন। তবে ভারতীয় কৃষকদের বিপন্নতা বর্ণনাতীত। ক্ষুদ্র কৃষকেরা সেখানে বাস করছেন দুর্যোগের কিনারায়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তীব্র খরা, বিপুল পরিমাণ ঋণের বোঝা, করপোরেট বাজার ব্যবস্থার উৎপাদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে টিকতে না পারায় আত্মহত্যাই সেখানকার কৃষকদের নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শুক্রবার মহারাষ্ট্রে বিধানসভায় এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী সুবাস দেশমুখ জানান, এ পর্যন্ত ৬ হাজার ৮৪৫ জন কৃষকের প্রত্যেক পরিবারকে এক লাখ টাকা করে সহায়তা দিয়েছে সরকার।
মন্ত্রী জানান, ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে মোট ৬১০ জন কৃষক আত্মহত্যা করেছে। তাদের মধ্যে ১৯২ জন আর্থিক সহায়তা পাওয়ার যোগ্য বলেও জানান তিনি। তাদের মধ্যে আগ্রহী ১৮২ জন কৃষকের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে বলে জানান দেশমুখ।
প্রসঙ্গত, বিভিন্ন পরিসংখ্যান ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কৃষকদের আত্মহত্যার নেপথ্যে প্রধান কারণ  ঋণের বোঝা। তথ্য অধিকার আইনে আবেদনের প্রেক্ষিতে এবছরের মার্চে সরকারের দেওয়া তথ্যে জানা যায় গত চার বছরে ভারতের মহারাষ্ট্রে কৃষকদের আত্মহত্যার সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে।

ড্রোনের সঙ্গে বিমানও ছিল, ভূপাতিত করতে পারতাম কিন্তু করিনি: ইরান

আমির আলী হাজিযাদেহ
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি'র অ্যারোস্পেস ডিভিশনের প্রধান আমির আলী হাজিযাদেহ বলেছেন, আমরা ইচ্ছে করলে ৩৫ জন আরোহীসহ একটি মার্কিন সামরিক বিমানকেও ভূপাতিত করতে পারতাম কিন্তু আমরা তা করিনি। তিনি গত শুক্রবার সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
হাজিযাদেহ আরও বলেন, আমেরিকার যে ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয়েছে সেটার সঙ্গে বোয়িং কোম্পানির একটি পি-এইট সামরিক বিমানও ছিল। ওই বিমানে ৩৫ জন আরোহী ছিল। ড্রোনের সঙ্গে ওই বিমানটিও আমাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছিল। এ কারণে আমরা ওই বিমানটিকেও ভূপাতিত করতে পারতাম। কিন্তু আমরা তা করি নি। কারণ ড্রোন ভূপাতিত করার মাধ্যমে আমরা মার্কিন সন্ত্রাসী বাহিনীকে কেবল সতর্ক করতে চেয়েছি।
মার্কিন নৌবাহিনীতে ব্যবহৃত একটি পি-এইট সামরিক বিমান (ফাইল ছবি)
জেনারেল হাজিযাদেহ আরো বলেন, মার্কিনীরা জানিয়েছে, গত সপ্তাহে আমরা তাদের একটি ড্রোনে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিলাম কিন্তু ভূপাতিত করতে পারিনি। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, আমরা ওই ড্রোনটিকে ভূপাতিত করতে চাইনি বরং শুধুমাত্র সতর্ক করতে চেয়েছিলাম বলে ইচ্ছে করেই আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রকে লক্ষ্যভ্রষ্ট করেছি। কিন্তু মার্কিনীরা আমাদের সতর্কবার্তাকে সঠিকভাবে গ্রহণ করেনি।
ইরান এই মডেলের একটি মার্কিন ড্রোনকে গুলি করে ভূপাতিত করেছে
তিনি বলেন, আমাদের গোটা ভূখণ্ডের নিরাপত্তা হলো রেড লাইন। মার্কিনীদের কাছে প্রশ্ন করা উচিত ইরানের বিমান যদি মার্কিন উপকূল দিয়ে এভাবে উড়ে যেত তাহলে তারা কী প্রতিক্রিয়া দেখাতো।
আইআরজিসি বৃহস্পতিবার ইরানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করায় আমেরিকার অত্যাধুনিক গোয়েন্দা ড্রোন 'গ্লোবাল হক' ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে ভূপাতিত করেছে। ভূপাতিত করার আগে ইরানের আকাশসীমা লঙ্ঘন না করতে ড্রোনটিকে কয়েক বার সতর্ক করা হয়েছিল বলে ইরান জানিয়েছে।

আশায় বুক বাঁধছে লড়াকু বাংলাদেশ by ইশতিয়াক পারভেজ

বড় স্বপ্ন নিয়ে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে পথচলা শুরু করেছে বাংলাদেশ। লক্ষ্য সেমিফাইনাল, এরপর ট্রফি ছিনিয়ে নেয়ার লড়াই। কিন্তু ধীরে ধীরে ক্ষীণ হয়ে আসছে সেই আশা, সেই স্বপ্ন। নিজেদের ছয় ম্যাচের ৩টিতে হেরে গেছে। জয় এসেছে দুটিতে আর একটি ভেসে গেছে বৃষ্টিতে। তাই ৫ পয়েন্ট নিয়ে এখনো বাংলাদেশের আছে পয়েন্ট তালিকার পাঁচেই। এখন প্রশ্ন শেষ তিন ম্যাচে কি সম্ভব সেই লক্ষ্য পূরণ করা! ৭ম ম্যাচে টাইগাররা মুখোমুখি হবে আফগানিস্তানের। সাউদাম্পটনের রোজবল স্টেডিয়ামে জিতলে এগিয়ে যাবে আরো এক ধাপ।
এরপর শেষ দুই ম্যাচ প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তান।
হারাতে হবে শক্তিশালী এই দুই দলকেও। তা সম্ভব হলে নামের পাশে যোগ হবে ১১ পয়েন্ট। কিন্তু এখন পর্যন্ত যে হিসেব, তাতে শেষ তিন ম্যাচ জিতলেও সেমিফাইনাল যে নিশ্চিত হবে তাও নয়। কারণ ছয় ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে অস্ট্রেলিয়া। এক ম্যাচ কম খেলে ৯ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে নিউজিল্যান্ড। একই সমান ম্যাচ খেলে ৮ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে ইংল্যান্ড ও মাত্র ৪ ম্যাচ খেলে ৭ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে ভারত। বলার অপেক্ষা রাখে না শেষ পর্যন্ত এই চার দলের হারজিতের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে। তিন ম্যাচের একটিতে হারলেও স্বপ্নের রং আরো ফিকে হয়ে আসবে।
অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হার নিয়ে এখনো আক্ষেপ করে ফেরেন। দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়েও সেই ম্যাচে জয় হাতছাড়া করে অনেকটাই পিছিয়ে গেছে বাংলাদেশ। অধিনায়কের কথায় সেই হার মানে- ‘বড় ক্ষতি’। এরপর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে যায়। এখানে এক পয়েন্ট নিয়ে ভাগ্যকে দোষ দেয়া ছাড়া কি-ই বা করার আছে অধিনায়কের! তবে টনটন থেকে ফের উড়ে চলার জ্বালানি নিয়ে নটিংহ্যামে এসেছিল বাংলাদেশ। ৩২২ রানের লক্ষ্য তাড়া করে হারিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। সেই আত্মবিশ্বাসে সুযোগ এসেছিল অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার।
কিন্তু হলো না, অজিদের বিপক্ষে আবারো মাটিতে নেমে এলো বাংলাদেশ। নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে রেকর্ড রান করেই জিততে ব্যর্থ হয়েছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। ৩৮২ রান তাড়া করতে নেমে ২ উইকেট হাতে রেখেই ৩৩৩ রানে থামতে হয়েছে টাইগারদের। না, ব্যাটিং ব্যর্থতা বলার কোনো কারণ নেই। তাহলে দায়টা কার! বলার অপেক্ষা রাখে না সাদামাটা বোলিং সেই সঙ্গে বাজে ফিল্ডিং। কারণ অজিরা শেষ ১০ ওভারে নিজেদের স্কোর বোর্ডে যোগ করেছে ১৩১ রান। শুধু কি তাই ম্যাচের পঞ্চম ওভারেই আউট করা যেত ডেভিড ওয়ার্নারকে। মাশরাফির বলেই ১০ রানে পয়েন্টে সাব্বির রহমানের কাছে ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যান তিনি। সাব্বিরের সামনে সুযোগ এসেছিল ৭০ রানে ওয়ার্নারকে রান আউট করারও। সেই শেষ আউট হয়েছেন ৪৫তম ওভারে। নামের পাশে তখন ১৪৭ বলে ১৬৬ রান!
দলের এমন পারফরমেন্সে অধিনায়কের আক্ষেপ ছাড়া কি-ই বা করার আছে! তবে সুযোগ নিতে পারলে যে দারুণ হতো সেটিও বলেছেন অকপটে। তিনি বলেন, ‘কিছু সুযোগ আমরা সৃষ্টি করতে পেরেছিলাম। এই ধরনের ম্যাচে ওসব সুযোগ নিতেই হবে। বরং হাফচান্সগুলোও ফুল করে নিতে হয়। ওই সুযোগ নিতে পারলে হয়তো অন্যরকম কিছু হতে পারতো। ডেভিড ওয়ার্নার পরে দেড়শর বেশি রান করেছে আরো।’ অন্যদিকে, ব্যাটিংয়ে দারুণ হলেও ভুল তো থেকেই যাচ্ছে। তামিম ইকবালের ভুল ডাকে দারুণ খেলতে থাকা সৌম্য সরকার যেভাবে আউট হয়েছেন সেটিও দলের হারের জন্য একটি কারণ হতে পারে। শুধু তাই নয়, তামিম ৬০ রান করে সেট হয়ে যেভাবে বাজে শটে আউট হয়েছেন তাও দায়ী হতে পারে এই হারের জন্য। সুযোগ পেয়েছিলেন সাব্বির রহমান, কিন্তু একাই লড়াই করতে থাকা মুশফিককে সঙ্গ দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। তবে তামিম তার ব্যর্থতা যেমন স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘হয়তো বা হিসেবের মতো যাচ্ছে না। যখন শুরু করেছিলাম একটু ডাউন ছিলাম। শেষ দুই ইনিংসে লাকটা যদি একটু ওপরে নিচে ভালো হতো তাহলে ইনিংসগুলো বড় হতে পারতো। আজকেও দেখেন নরম্যালি এ শটটা আমি খুব ভালো খেলি। কিন্তু আজ আমার দিন ছিল না। আমার কাছে মনে হয় আমি ভালো অবস্থায় আছি, শুধু একটা ইনিংসের প্রয়োজন যেটা আমি বড় করতে পারি। সমস্যা হচ্ছে আমাদের হাতে সেই সময়টা নেই।’
তবে এখন আর আক্ষেপ করে কি লাভ! শেষ তিন ম্যাচে জিতেই নিজেদের ভাগ্য কিছুটা হলেও সঙ্গ দিতে পারে। তার জন্য নিজেদের সেরা খেলাটাই খেলতে হবে জান প্রাণ দিয়ে। সেটি কতটা সম্ভব এখন সময়ই বলে দেবে!

মেয়ে ও ছেলে শিশু ধর্ষণের বিচার একই আইনে by উদিসা ইসলাম

ধর্ষকের ছোবল থেকে কেবল মেয়ে শিশু নয়, ছেলে শিশুরাও রেহাই পাচ্ছে না। সম্প্রতি দেশে ছেলে শিশু ধর্ষণের পরিমাণ বেড়ে গেছে। আগে এ ধরনের অপরাধ স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে সমাধান হলেও এখন তা আদালত পর্যন্ত গড়াচ্ছে। আইনজীবীরা বলছেন, মেয়ে শিশু বা ছেলে শিশু ধর্ষণের বিচার আলাদা কোনও আইনে নয়, বরং ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ’ আইনেই এই ধরনের অপরাধের  বিচার হবে। আর মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, ছেলে শিশু ধর্ষণের শিকার হলে কোন আইনে প্রতিকার মিলবে, সেটি আরও প্রচার হওয়া জরুরি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, ছেলে বা মেয়ে—যেই ধর্ষণের শিকার হোক, ধর্ষণকে ধর্ষণই বলা উচিত। ‘বলাৎকার’ বা অন্য কোনও প্রতিশব্দ এই ধরনের অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে  নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
বাংলা ট্রিবিউনের নিজস্ব জরিপ বলছে, চলতি (২০১৯) বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত ১০টি ছেলে শিশু ধর্ষণের ঘটনা পত্রিকায় এসেছে। ২০১৮ সালে ধর্ষণের শিকার ছেলে শিশুর সংখ্যা ছিল ১৩। জরিপের ফলে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ধর্ষণের শিকার হচ্ছে অনূর্ধ্ব ১৬ বছর বয়সী শিশুরা।
ছেলে শিশুদের ধর্ষণ মামলা মেয়ে শিশু ধর্ষণের বিচারের মতো একই প্রক্রিয়ায় হবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আবদুল বারী বলেন, ‘ছেলে শিশু হোক, মেয়ে শিশু হোক, ধর্ষণের মামলা এখন ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০’ অনুযায়ী হয়। এর সব কয়টি ধাপ অন্য যেকোনও ধর্ষণের মামলার মতোই। যেহেতু ছেলে শিশুদের ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ করা হয় না এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি স্থানীয় সালিশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়, তাই মামলার প্রক্রিয়া সম্পর্কে অনেকেরই স্পষ্ট ধারণা নেই। কিন্তু এখন অন্য কোনও আইনে মামলার সুযোগ নেই।’
জানতে চাইলে আইনজীবী শাহেদুর রহমান বলেন, ‘আগে দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা অনুযায়ী মামলা পরিচালনা হতো। যখন নির্যাতন, ধর্ষণ বিষয়ে বিশেষায়িত আইনই হলো, তখন আর আগের সেই আইন কার্যকর হবে না।’
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় বলা আছে, ‘যদি কোনও পুরুষ কোনও নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন, তাহা হইলে তিনি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।’
এদিকে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণের সংজ্ঞায় বলা আছে, ‘যদি কোনও পুরুষ বিবাহ বন্ধন ব্যতীত (১৬ বছরের) অধিক বয়সের কোনও নারীর সহিত তাহার সম্মতি ব্যতিরেকে বা ভীতি প্রদর্শন বা প্রতারণামূলকভাবে তাহার সম্মতি আদায় করিয়া অথবা (ষোল বছরের) কম বয়সের কোনও নারীর সহিত তাহার সম্মতিসহ বা সম্মতি ব্যতিরেকে যৌন সঙ্গম করেন, তাহা হইলে তিনি উক্ত নারীকে ধর্ষণ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে। এই আইনে শিশু বলতে মেয়ে বা ছেলেশিশু উভয়কেই বোঝাবে।’
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় গতবছর নভেম্বরে এক মাদ্রাসাছাত্রকে (১২) ধর্ষণের অভিযোগে ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জয়কৃষ্ণ বর্মন বলেন, ‘ওই মামলায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। শুরুতে আসামি পলাতক ছিল, পরে আদালতের নির্দেশে গ্রেফতার  করা হয়েছে।’
ছেলে শিশু ধর্ষণের শিকার হলে কোন আইনে মামলা হয়—এমন প্রশ্নের জবাবে জয়কৃষ্ণ বর্মন বলেন, ‘মামলা হবে একই আইনে। সেটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আইন। শিশুর মধ্যে মেয়ে ও ছেলে উভয় শিশুই পড়ে। আগে এসব অপরাধে ৩৭৭ ধারায় মামলা হতো। কিন্তু হাইকোর্টের একটি নির্দেশনা আছে, যেখানে বলা হয়েছে, ছেলে-মেয়ে যাই হোক, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আইনে মামলা হতে হবে। সেটিই মেনে চলা হচ্ছে।’
মামলার তদন্ত কাজের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে জয়কৃষ্ণ বর্মন আরও বলেন, ‘ছেলে শিশুর ধর্ষণকে বলাৎকার বলার চল আছে। তবে, সেটি বলা আইনগতভাবে উচিত নয়। বলাৎকার না বলে শিশু ধর্ষণ বললে আইন ও সমাজ উভয়ের কাছেই গ্রহণযোগ্য হবে। ছেলেদের ধর্ষণ প্রতিরোধ করার জন্য ধর্ষণ শব্দটা উচ্চারিত হলে এই ধরনের অপরাধীরা ভয় পাবে।’
এসব ক্ষেত্রে প্রতিকার কোন আইনে হবে, সে বিষয়ে প্রচারের দরকার আছে বলে মনে করেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও মানবাধিকারকর্মী নূর খান। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ধর্ষণ শব্দটির সঙ্গে নারীর শিকার হওয়ার বিষয়টি আমাদের মস্তিষ্কে আটকে গেছে। ফলে ছেলে শিশু যখন এ ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়, তখন সেটিকে কীভাবে মোকাবিলা করতে হবে, তা তার পরিবার বা সমাজ নির্ধারণ করতে পারে না।’ এই দোটানা বন্ধ করতে সঠিক প্রচার ও পদক্ষেপগুলো সম্পর্কে সবার স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি বলেও তিনি মনে করেন।

প্রথমবার গ্লোবাল হক ড্রোন ভূপাতিত হওয়া আকাশ প্রতিরক্ষায় মার্কিনীদের প্রতি চ্যালেঞ্জ by রাশিদ রিয়াজ

মার্কিন চালকহীন বিমান আরকিউ-৪এ গ্লোবাল হক ভূপাতিত করার বিষয়টি সামরিক বিশেষজ্ঞদের বিশেষ নজর কেড়েছে। প্রায় দেড় যুগ ধরে আকাশ থেকে গোয়েন্দা তৎপরতা চালালেও এই প্রথমবার এটিকে ভূপাতিত করা হলো। নিউ ইয়র্ক টাইমস এ প্রসঙ্গে লিখেছে, ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে আরকিউ-৪এ ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় হতচকিত হয়েছেন পেন্টাগনের কর্মকর্তারা। কারণ এধরনের বৈমানিক বিহীন বিমানকে ক্ষেপণাস্ত্রকে ফাঁকি দেয়ার উপযোগী করেই তৈরি করা হয়েছিল।
পররাষ্ট্র সম্পর্ক বিষয়ক ইউরোপীয় পরিষদের ড্রোন বিশেষজ্ঞ উলরিকা ফ্রাংক বলেছেন, এটি একবার ব্যবহার উপযোগী কম দামের চালকহীন বিমান নয়। বিমানটিকে ‘উড়ন্ত ডাটা’ সংগ্রহকারী ও এটি অনেক উঁচু দিয়ে ওড়াওড়ি করে। এতে অনেক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বাইরে থেকে যায় আরকিউ-৪এ। কিন্তু ইরানি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার শ্যেন চক্ষু ফাঁকি দিতে শোচনীয় ভাবে ব্যর্থ হয়েছে এটি এখন প্রমান হল। এ ড্রোন ইরাক, আফগানিস্তান, উত্তর আফ্রিকা এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আকাশে আড়াই লাখ ঘণ্টার বেশি উড়েছে। আরকিউ -৪এ’র নির্মাতা সংস্থা নর্থথ্রোপ গুরুমম্যানের বরাত দিয়ে এ তথ্য দিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস। প্রতিটি আরকিউ-৪এ’র দাম প্রায় ১২কোটি ৩০ লাখ ডলার। লকহিড মার্টিনের তৈরি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এফ-৩৫এ লাইটেনিং ২’এর চেয়েও এর দাম পড়ছে ৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার বেশি। ৪৭ ফুট লম্ব জেট-পরিচালিত আরকি-৪এ’র ডানার দৈর্ঘ্য প্রায় ১৩০ ফুট। বোয়িং বিমানের চেয়ে বড় ডানাওলা এ ড্রোন ৬৫ হাজার ফুট ওপর দিয়ে টানা ৩০ ঘণ্টার বেশি উড়তে পারে। গোয়েন্দা তথ্য হাতিয়ে নেয়ার জন্য এতে বসানো থাকে অত্যাধুনিক এবং স্পর্শকাতর নানা যন্ত্র।
উলরিকা ফ্রাংক ড্রোন ভূপাতিত হওরার ঘটনাকে ‘বেদনাদায়ক’ আখ্যায়িত করে বলেন, আমরা ভাবতাম ‘গ্লোবাল হক’ ড্রোনকে শনাক্ত করে কেউ তা গুলি করে ভূপাতিত করতে পারবে না; কিন্তু আমাদের সে ধারণা ভুল প্রমাণিত হলো। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্মান ধুলায় মিশে গেছে।

তিমির বমি বিক্রি হলো ২ কোটি টাকায়!

তিমির বমি বিক্রি করতে গিয়ে ভারতে ৫৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তি গ্রেফতার হয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ১ কেজি ৩০০ গ্রাম তিমি মাছের বমি জমিয়েছিলেন তিনি। তবে এই বমি বিশেষ প্রজাতির এক তিমির। যার পোশাকি নাম অ্যাম্বারগ্রিস। বাংলাদেশি মুদ্রায় ওই বমির দাম দুই কোটি টাকারও বেশি।
গত মঙ্গলবার মুম্বাইয়ে ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে ভারতীয় পুলিশ। অ্যাম্বারগ্রিস হলো একজাতীয় মোমের মতো পদার্থ যা তিমির শুক্রাণু অন্ত্র থেকে নির্গত হয়। সাধারণত ক্রান্তীয় সমুদ্রে বিরল এই পদার্থটি ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়। মূলত সুগন্ধি উৎপাদনে এটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেল এনডিটিভির এক অনলাইন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ ও বন বিভাগের একটি যৌথ দল গত শনিবার মুম্বাইয়ের বিদ্যাবিহার শহরতলি এলাকার কামা লেনে ওত পেতে রাহুল দুপার নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে।
পুলিশ বলছে, ‘আমরা ওই ব্যক্তির কাছ থেকে ১ কোটি ৭০ লাখ রুপি মূল্যের (বাংলাদেশি ২ কোটি টাকার বেশি) ১ কেজি ৩০০ গ্রাম অ্যাম্বারগ্রিস জব্দ করেছি। এটি একটি নিষিদ্ধ বস্তু। আমরা রাহুল দুপারেকে গ্রেফতার করার পর বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের অধীনে একটি মামলা দায়ের করেছি।’
স্পার্ম হোয়েল বা শুক্রাণু তিমি ভারতীয় বন্যপ্রাণী আইনের অধীনে সংরক্ষিত একটি বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী। অ্যাম্বারগ্রিস অ্যালকোহল, ক্লোরোফর্ম, ইথার এবং নির্দিষ্ট ভোলাটাইল এবং কিছু নির্দিষ্ট তেলেই এটি দ্রবণীয়।

বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তাদের অবদান ১৫০০ কোটি ডলার

বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তাদের অবদান ১৫০০ কোটি ডলার। এই অর্থ যোগানদাতারা হলেন আত্মীয়-স্বজন ফেলে বিদেশে পাড়ি দেয়া বাংলাদেশি অভিবাসীরা। কিন্তু কি অসীম কষ্ট, যন্ত্রণা ভোগের মধ্য দিয়ে তাদের কাজ করতে হয়, কতটা মানসিক অস্বস্তি কাজ করে সেটা অনেকেই অনুধাবন করতে পারেন না। তাদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল পাবলিক রেডিও’র অনলাইন সাংবাদিক জেসন বিউবিয়েনের লেখা একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, আপনি কীভাবে বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিতে চান? তার উত্তর বেশির ভাগ সময়ই আসে এই বলে যে, বাংলাদেশ ছেড়ে গিয়ে। অর্থাৎ বিদেশে গিয়ে।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিদেশে কাজ করেন প্রায় এক কোটি বাংলাদেশি অভিবাসী। তার বেশির ভাগই অদক্ষ শ্রমিক।
তারা কাজ করেন বেশির ভাগ আরব উপসাগরীয় অঞ্চলে।
বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, প্রতি বছর বাংলাদেশের চেয়ে বেশি শ্রমিক পাঠায় শুধু ভারত, মেক্সিকো, রাশিয়া ও চীন। বাংলাদেশি শ্রমিকদের বেশির ভাগই কাজ করেন গার্ডেনার, নির্মাণ শ্রমিক, প্রহরী এবং গৃহপরিচারিকা হিসেবে। গড়ে তাদের মাসে আয় প্রায় ৪০০ ডলার। দেশে কাজ করলে তারা যে বেতন পেতেন, এই অর্থ তার চেয়ে অনেক বেশি। আর সব মিলিয়ে বড় একটি অঙ্কে দাঁড়ায়। গত বছর তারা সব মিলে মোট ১৫০০ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন বাংলাদেশে। একে বলা হয় রেমিটেন্স। এতে অর্থনীতি সচল হয়েছে। আর বিশালাকায় বস্ত্রখাতের মাধ্যমে সর্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পর এটাই হলো এই মুদ্রা অর্জনের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎস। এসব শ্রমিককে মাসের পর মাস, বছরের পর বছর বিদেশে কাটাতে হয় নানা দুর্ভোগে, নানা রকম কেলেঙ্কারি, শোষণ আর নির্যাতনের মধ্যদিয়ে- এসব দাবি শ্রম অধিকার ও মানবাধিকার বিষয়ক গ্রুপগুলোর।
শ্রমিক নিয়োগ, তাদের স্ক্রিন ও কারা বিদেশে যেতে পারবেন তার জন্য বাংলাদেশে গড়ে উঠেছে একটি ইন্ডাস্ট্রি। রাজধানী ঢাকায় দু’তলা বিশিষ্ট একটি ভবনের সামনে আরব উপসাগরে যাওয়ার আগ্রহীদের লম্বা লাইন। তারা রাস্তায় লাইনে অপেক্ষা করছেন। শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার বিভিন্ন কার্যক্রমের জন্য সেখানে অপেক্ষা করেন তারা। এটি একটি মেডিকেল টেস্টের শাখা অফিস।
এখানে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা দিতে হয়। প্রমাণ দেখাতে হয় যে, তারা কাজের জন্য যোগ্য। তাদের করা হয় এইচআইভি, টিবি এবং অন্যান্য সংক্রামক ব্যাধির পরীক্ষা। যদি রিপোর্ট পজেটিভ আসে তাহলে উপসাগরীয় অঞ্চলে কাজের জন্য নিষিদ্ধ হয়ে যান তারা। নারীদের দিতে হয় গর্ভসঞ্চার বিষয়ক পরীক্ষা। যদি এ পরীক্ষায় দেখা যায় তারা সন্তান সম্ভাব্য তাহলে তাদের ফিরিয়ে দেয়া হয়। এসব পরীক্ষা শেষে অফিসটি থেকে এসব বাংলাদেশির আঙ্গুলের ছাপ, ভ্রমণ সংক্রান্ত ডকুমেন্ট পাঠিয়ে দেয় সেন্ট্রাল ডাটাবেজে। যে দেশে তাদেরকে নিয়োগ করা হবে সে দেশের সংশ্লিষ্ট অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তা দেখতে পারেন।
এপ্রিলে এমন একজন আবেদনকারী হলেন মোহাম্মদ কিরণ মিয়া (৩৬)। তিনি ওমানে একজন গার্ডেনার হিসেবে কাজ পাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এটা হলো তার জন্য তৃতীয়বার বিদেশ যাত্রা। প্রথম বার তিনি ওমানে দর্জির কাজ করেছেন সাত মাস। তারপর তিনি দুই বছরের চুক্তিতে গিয়েছিলেন গার্ডেনার হিসেবে। এবারও তিনি ওই অফিসে গিয়েছিলেন। কিরণ মিয়ার সঙ্গে এসেছিলেন তার গ্রামের আরো কিছু প্রতিবেশী। কিরণ মিয়া বলেন, আমরা গরিব মানুষ। ওমানের কাজটা আমাদের জন্য একটা ভালো সুযোগ। কারণ, সেখানে ওয়ার্ক পারমিটের খরচ সৌদি আরব বা দুবাইয়ের চেয়ে অনেক কম।
এই ওয়ার্ক পারমিটের ফি নির্ভর করে গন্তব্য ও কাজের ওপর। এর খরচ পড়তে পারে কয়েক হাজার ডলার। কিরণ মিয়া বলেন, পরিবার ও আমার সন্তানের উন্নত জীবন চাই আমি। বাংলাদেশে কাজ করলে যে টাকা পাবো, ওমানে তার দ্বিগুণ উপার্জন করতে পারবো।
কিরণ মিয়া যে অফিসে তার ডকুমেন্ট জমা দিতে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের ৪৬টি অফিসের মধ্যে তা একটি। এসব অফিস থেকে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে শ্রমিক পাঠানোর কাজ করে থাকে। এ ছাড়া ভারত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোতে শ্রমিক পাঠানোর কাজ করে থাকে দেশের অন্যান্য শ্রমিক বিষয়ক ব্রোকার এজেন্সি।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অলাভজনক উন্নয়ন ও সামাজিক সেবা বিষয়ক এজেন্সি ব্রাক-এর অভিবাসন বিষয়ক প্রধান শরিফুল ইসলাম হাসান বলেন, বিশ্বব্যাংকের হিসেবে অভিবাসন ও রেমিটেন্সের দিক দিয়ে বিশ্বের শীর্ষ ১০টি দেশের মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ। তিনি বলেন, এই রেমিটেন্স বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন অভিবাসীর পাঠানো অর্থ দেশে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও তার পরিবারের খাদ্যের জোগান দিয়ে থাকে। তিনি মনে করে, উন্নত জীবনের আশায় বাংলাদেশিরা কখনো ৫, ১০ এমনকি ২০ বছরও বিদেশে থাকেন।
তার মতে, বাংলাদেশে এমন একজন মানুষও আপনি পাবেন না, যার কোনো না কোনো আত্মীয় বিদেশে থাকেন না। তাই প্রতিজন মানুষই এই অভিবাসন ও রেমিটেন্স প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। তা সত্ত্বেও বিশ্বের দরিদ্রতম দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ এখনো। সামপ্রতিক অগ্রগতি সত্ত্বেও এখনে প্রতি বছর মাথাপিছু আয় রয়েছে ২০০০ ডলারের নিচে।
শরীফুল ইসলাম হাসান বলেন, বিদেশে কাজ করতে যাওয়া শ্রমিকদের পোহাতে হয় নানা রকম দুর্ভোগ। অনেকেই ব্রোকারদের দুর্নীতির শিকারে পরিণত হন। তাদের ভিসা, ফ্লাইট এমন কি ওয়ার্ক পারমিটে গরমিল করা হয়। কেউ একজন এক রকম কাজের জন্য চুক্তিবদ্ধ হলেন, যেম আবু ধাবিতে ডেলিভারি ভ্যান চালানোর জন্য চুক্তিবদ্ধ হলেন, কিন্তু দুবাইয়ে তাকে দেয়া হলো নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কাজ। তাকে দীর্ঘ সময় উত্তপ্ত গরমের মধ্যে বাইরে কাজ করতে হয়। নারীরা প্রাথমিকভাবে গৃহপরিচারিকা এবং বাড়ির ক্লিনার হিসেবে কাজ নেন। হাসান বলেন, বেশির ভাগ সময়ে নারীদেরকে দিয়ে অতিরিক্ত কাজ করানো হয়। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। এমন কি যৌন নির্যাতনেরও শিকার হন তারা। তিনি আরো বলেন, যদি কোনো শ্রমিকের ছুটি না থাকে, যদি তাদের খাদ্য দেয়া না হয় অথবা প্রয়োজনীয় চাহিদায় ঘাটতি থাকে- তাহলে আধুনিক সময়ের দাসত্বের সংজ্ঞা অনুযায়ী, এটাকে বলা হয় এক ধরণের দাসত্ব।
এসব বিষয় ভালোভাবে জানেন ২২ বছরর বয়সী মিম আকতার তানিয়া। পুরান ঢাকায় স্বামী, মেয়ে নিয়ে একটি এপার্টমেন্টে থাকেন তিনি। তাদের সঙ্গে থাকেন আরেকটি নবদম্পতি। গত বছর সৌদি আরবের একটি হাসপাতালের দেখাশোনার কাজ পেতে যোগাযোগ করেন তানিয়া। এমন কাজ পেয়ে তিনি উদ্বেলিত হয়ে পড়েন। তানিয়া বলেন, ওই সময়ে আমাদের কোনো অর্থ ছিল না। তাই আমার মনে হয়েছিল, সৌদি আরবে গেলে আমাদের জীবন উন্নত হবে। তিনি আশা করেছিলেন, সৌদি আরবে গিয়ে হাসপাতালে একজন নার্সের অ্যাসিস্ট্যান্ট অথবা মেডিকেল টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করতে পারবেন। এ জন্য তখন তার এক বছর বয়সী মেয়েকে নিজের মায়ের কাছে পাঠিয়ে দিলেন। সৌদি আরবে কাজ করার জন্য দুই বছর মেয়াদি চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেন। কিন্তু তিনি যখন রিয়াদ পৌঁছালেন দেখলেন ওই হাসপাতালে কোনো কাজ নেই। ফলে তাকে হাসপাতালের কাজের পরিবর্তে গৃহপরিচারিকার কাজ দেয়া হলো।
তানিয়া বলেন, সারাদিন তিনি তার বসের বাসায় কাজ করার পর সন্ধ্যায় তাকে পাঠানো হতো তার বসের ভাইয়ের বাড়ি পরিষ্কার করতে। তার ভাষায়, আমি জানতাম এসব কাজ আমাকে করতেই হবে। কিন্তু নিয়োগকারী মোটেও ভালো মানুষ ছিলেন না। মাঝে মাঝেই তিনি আমাকে মারতেন। খুবই রুক্ষ ব্যবহার করতেন। এক পর্যায়ে আমার বস ও তার ভাই আমাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। আমি দৌড়ে পালাই। চলে যাই সৌদি আরবে পুলিশের কাছে। কিন্তু পুলিশ করলো উল্টো কাজ। তারা আমাকে ধরে ওই নিয়োগকারীর বাড়িতেই পাঠিয়ে দিলো।
তানিয়া সৌদি আরব পৌঁছার দু’মাস পরে তার বস তাকে একটি ব্যালকনি থেকে ধাক্কা মারেন। এতে পড়ে গিয়ে তার পা ভেঙে যায়। হাসপাতালে নেয়া হয় তাকে। সেখান থেকে তিনি বাংলাদেশ দূতাবাসের নাগাল পান। দূতাবাস তাকে একটি নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে রাখে। ওই আশ্রয়কেন্দ্রটি আরো একই রকম নির্যাতিত বাংলাদেশি নারীতে ঠাসা। এসব নারী তাদের নিয়োগকারীদের কাছ থেকে নির্যাতিত হয়ে পালিয়েছেন। অপেক্ষা করছিলেন দেশে ফেরার জন্য। তানিয়ার সঙ্গে মাসে ১৬০ ডলারের চুক্তি হয়েছিল। সঙ্গে থাকার ব্যবস্থা করার কথা ছিল। তানিয়া বলেন, সেখানে কাজ করার বিনিময়ে আমি কখনোই কোনো বেতন পাইনি।
শরিফুল ইসলাম হাসান বলেন, তানিয়ার এই অভিজ্ঞতা খুবই কমন। আমরা এত বেশি অর্থের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছি যে, প্রতি মাসেই এই অর্থের জন্য শ্রমিকদের পাঠাচ্ছি। যেখানে তাদের প্রতি অশোভন আচরণ ও নির্যাতনের বিষয়টিকে তোয়াক্কা করা হচ্ছে না।
ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অনতি দূরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল। সেখানে ওয়েটিং রুমে অপেক্ষমাণ বেগমের পরিবার। তার মেয়ে, যার বয়স তারা বলছেন ১৬ বছর, সে মায়ের কাছেই বসে আছে। তার পরনে কালো বোরকা। তার মুখের বাম চিবুকে থেঁতলানো দাগ। গলার কাছে কাটা দাগ। মেয়েটি কথা বলতে চাইল না। তার মা মিনারা বেগম বলছেন, বেশ কয়েক মাস ধরে তিনি ও তার স্বামী মেয়ের কোনো খোঁজ পাচ্ছিলেন না। অকস্মাৎ তারা জানতে পারেন সে সৌদি আরব থেকে ফোন করে জানায় দেশে আসছে।
মিনারা বলেন, এই দুর্ভোগের শুরু হয় কয়েক মাস আগে। তাদের গ্রামের একজন নারী বিউটি। তিনি মিনারাকে প্রস্তাব দেন ঢাকায় একটি বাসায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য তার মেয়েকে কাজে দিতে। প্রতি মাসে তার মেয়ে তাদেরকে ১৬০০০ করে টাকা পাঠাতো। কিন্তু বেশ কিছুদিন মেয়ের খবর পান না তারা। মিনারা আরো বলেন, তার মেয়ের বয়স ১৫ বছর। তখন সে গ্রাম ছাড়ে। কিন্তু এখন কয়েক মাসের ব্যবধানে তার মেয়ের হাতে একটি পাসপোর্ট দেয়া হয়েছে। তাতে তার বয়স দেখানো হয়েছে ২৬ বছর। মেয়েটির পিতামাতা মনে করেন, এই ভুয়া পাসপোর্টটির ব্যবস্থা করিয়েছেন বিউটি। মিনারা ও তার স্বামী তাদের মেয়েকে বিমানবন্দর থেকে সরাসরি এই হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন। কিন্তু ডাক্তার বা নার্সদের ডাকে সাড়া দিচ্ছিল না সে। একটি ছোট্ট রুমে তার পরীক্ষা করানোর কথা। মিনারা বলেছেন, তাদের মেয়ে শুধুই বাড়ি ফিরতে চাইছিল।
মিনারা শুধু বোঝার চেষ্টা করছেন তার মেয়ের কি ঘটেছিল। মিনারাকে সৌদি আরব থেকে মেয়ে অর্থ পাঠিয়েছে। কিন্তু কীভাবে পাঠিয়েছে তা তারা জানেন না।
বিদেশে কাজ করেন প্রায় এক কোটি বাংলাদেশি, অর্থনীতিতে তাদের অবদান ১৫০০ কোটি ডলার

ঘুষ দিন, সেবা নিন?

নিরাপত্তা পেতে ঘুষ
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ দীর্ঘ দিনের। টিআইবি পরিচালিত জরিপেও দেখা গেছে, সর্বাধিক দুর্নীতিগ্রস্ত খাত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা এবং ২০১৭ সালে এখাতে খানা প্রতি ঘুষ প্রদানের হার শতকরা ৭২ দশমিক ৫ ভাগ। সংস্থাটির কাছ থেকে সেবা নিতে গিয়ে গড়ে প্রতিটি খানাকে ৬ হাজার ৯৭২ টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে।
পরিচয়পত্র পেতেও ঘুষ
পাসপোর্ট পাওয়া নাগরিকের অধিকার। কিন্তু টিআইবি জরিপ বলছে, এ অধিকার পেতে ২০১৭ সালে খানা প্রতি ঘুষ প্রদানের হার ছিল শতকরা ৬৭ দশমিক ৩ ভাগ। এ খাতে খানাপ্রতি গড় ঘুষের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৮৮১ টাকা।
তৃতীয় অবস্থানে বিআরটিএ
সম্প্রতি নিরাপদ সড়কের দাবিতে করা ছাত্র আন্দোলনের সময়ও রাস্তায় দলবেঁধে ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন কিংবা ফিটনেসবিহীন গাড়ি চালানোর প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু ওঝার ঘাড়েই যে ভূত! টিআইবি জরিপে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সেবা দিতে গিয়ে ঘুষ নেয়ার তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।
আরো যারা ঘুষ নেন
টিআইবি করা এ জরিপে সেবা দিতে গিয়ে ঘুষ গ্রহণকারী অন্য সংস্থাগুলো হলো যথাক্রমে: বিচারিক সেবা (৬০ দশমিক শতাংশ), ভূমিসেবা (৪৪ দশমিক ৯ শতাংশ), শিক্ষা (সরকারি ও এমপিওভুক্ত) (৪২ দশমিক ৯ শতাংশ) এবং স্বাস্থ্য (৪২ দশমিক ৫ শতাংশ)।
বেড়েছে ঘুষ প্রদানের পরিমাণ
টিআইবি বলছে, জাতীয়ভাবে প্রাক্কলিত মোট ঘুষের পরিমাণ ২০১৫ সালে ছিল ৮ হাজার ৮২১ দশমিক ৮ কোটি টাকা। ২০১৭ সালে তা এক হাজার ৮৬৭ দশমিক ১ কোটি টাকা বা শতকরা ২১ দশমিক ২ ভাগ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ হাজার ৬৮৮ দশমিক ৯ কোটি টাকা , যা ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের (সংশোধিত) শতকরা ৩ দশমিক ৪ ভাগ।
ঘুষ না দিলে সেবা দেয়া হয় না
‘ঘুষ না দিলে কাঙ্খিত সেবা পাওয়া যায় না’ এমনটি মনে করেন জরিপে অন্তর্ভুক্ত শতকরা ৮৯ খানা। ২০১৫ সালে এ সংখ্যা ছিল শতকরা ৭০ দশমিক ৯ ভাগ। টিআইবি বলছে, ‘‘এর মাধ্যমে ধারণা করা যায় যে, দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ তুলনামূলক বৃদ্ধি পেয়েছে।’ ডয়েচে ভেলে।

কি কারণে ইরানে হামলা চালালেন না ডনাল্ড ট্রাম্প!

চারদিকে রণসজ্জা সাজিয়ে প্রস্তুত। ট্রিগারে আঙ্গুলের চাপ পড়তে বাকি। এমন সময় পিছু হটলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ইরানে হামলা চালানোর ঠিক ১০ মিনিট আগে এমন সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। কিন্তু কেন? এর উত্তর তিনি নিজেই দিয়েছেন। বলেছেন, এমন হামলা সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে না। এ বিষয়ে তিনি টুইটে বলেছেন, আমি জানতে চাইলাম (হামলা চালালে) কত মানুষ মারা যাবে। আমাকে একজন জেনারেল বললেন, স্যার ১৫০ হতে পারে।
তাই হামলা চালানোর ঠিক ১০ মিনিট আগে আমি যুদ্ধ থামিয়ে দিলাম। কারণ, একটি মনুষ্যবিহিন ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করার জবাবে এ হামলা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ট্রাম্প আরো বলেন, ইরানে হামলা চালানোতে তার তাড়াহুড়ো নেই। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা, বিবিসি
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বেশ কতদিন ধরে যে যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে তারই চূড়ান্ত আকার ধারণ করতে যাচ্ছিল শুক্রবার। এর আগের দিন ইরান ‘তার আকাশসীমা’ অতিক্রমের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করে। এরপর থেকেই উত্তেজনার পারদ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে যায়। এ ছাড়া সম্প্রতি হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী কয়েকটি ট্যাংকারে হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব সহ আরো কয়েকটি দেশ। কিন্তু জার্মানি এ বিষয়ে আরো প্রমাণ চায়। এরই মধ্যে ওই ড্রোন ভূপাতিত করা হয়। ইরান বলছে, তারা যুদ্ধ চায় না। তবে আকাশ, স্থল ও জলপথে তাদের আত্মরক্ষার অধিকার আছে। দেশটির অভিজাত রেভ্যুলুশনারি গার্ড কোর শুক্রবার বলেছে, বৃহস্পতিবার মনুষ্যবিহীন একটি ড্রোন ভূপাতিত করার পর দ্বিতীয় আরেকটি মার্কিন এয়ারক্রাফট উড়ে গেছে ওই এলাকা দিয়ে, যেখানে নেভি আরকিউ-৪ গ্লোবাল হক গুলি করে ভূপাতিত করেছে তারা। তবে এতে প্রায় ৩৫ জন আরোহী ছিলেন বলে ইরানি বাহিনী তাতে গুলি করে নি। তবে দ্বিতীয় এই এয়ারক্রাফটের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো মন্তব্য করে নি। 
ট্রাম্পের টুইট থেকে স্পষ্ট তিনি হতাহতের কথা চিন্তা করেই ইরানে হামলা চালান নি। কিন্তু, এই মুহূর্তে তার পূর্ণাঙ্গ একজন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী নেই। ফলে এ সিদ্ধান্ত তাকে একাই নিতে হচ্ছে। তাই যুদ্ধের সিদ্ধান্ত দিয়েও তাকে পিছু ফিরতে হচ্ছে।
কি পরিকল্পনা নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র
নিউ ইয়র্ক টাইমস তার প্রাথমিক রিপোর্টে জানায়, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক কর্মকর্তারা নিশ্চিত ছিলেন যে, ইরানের রাডার ও মিসাইল ব্যাটারিজ সহ তিনটি স্থাপনায় হামলা চালানো হচ্ছে। ফলে আকাশে যুদ্ধবিমান উড়িয়ে দেয়া হয়। সমুদ্রে যুদ্ধজাহাজ তার পজিশন নিয়ে নির্দেশের অপেক্ষায় থাকে। চারদিকে তখন আতঙ্কে স্তব্ধতা। তবে শুক্রবার এ রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করেন ট্রাম্প। তিনি এনবিসিকে বলেন, কোনো যুদ্ধবিমান উড়ানো হয় নি। শুক্রবার ভোরে সামান্য আগে হামলা চালানোর পরিকল্পনা হয়েছিল, যাতে বেসামরিক জনগণের ক্ষতি কম হয়। পরে শুক্রবারেই ট্রাম্প আরেকটি টুইট করেন। বলেন, হামলার জন্য তিনটি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা এপি বলেছে, পেন্টাগন থেকে হামলার সুপারিশ করা হয়েছিল। তা সিনিয়র প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জানিয়ে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু নিউ ইয়র্ক টাইমসের মতে, পেন্টাগনের শীর্ষ কর্মকর্তারা এমন সামরিক হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। তারা বলেছিলেন, ইরানে এভাবে হামলা চালানো হলে তাতে ওই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর জন্য প্রচ- ঝুঁকি সৃষ্টি করবে। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও কংগ্রেশনাল নেতাদের নিয়ে বৃহস্পতিবার বেশির ভাগ সময় ইরান ইস্যুতে আলোচনা করেন ট্রাম্প। ওই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন হামলার পক্ষে ছিলেন কঠোর অবস্থানে। কিন্তু কংগ্রেশনাল নেতারা সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছিলেন।
অন্যদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ইরানের দু’জন কর্মকর্তা বলেছেন, ওমানের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের একটি বার্তা পেয়েছিল তেহরান। তাতে বলা হয়েছিল, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা অত্যাসন্ন। তবে এমন খবর পাওয়ার কথা পরে প্রত্যাখ্যান করেন ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের একজন মুখপাত্র। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, তাদেরকে কোনো বার্তাই দেয়া হয় নি।

শ্রীলঙ্কায় বাড়ানো হয়েছে জরুরি অবস্থার মেয়াদ

দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ‘৯৯ ভাগ স্বাভাবিক’ হওয়া সত্ত্বেও নতুন করে জরুরি অবস্থার মেয়াদ বাড়িয়েছেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা। ইস্টার সানডে’তে সন্ত্রাসী হামলায় কমপক্ষে ২৫৮ জন মানুষ নিহত হওয়ার পর তিনি জরুরি অবস্থা জারি করেছিলেন। তার মেয়াদ আজ শনিবার শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রত্যাহার না করে তিনি এর মেয়াদ বাড়িয়েছেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা একটি ডিক্রিতে বলেছেন, তিনি বিশ্বাস করেন দেশ এখনও একটি ‘পাবলিক ইমার্জেন্সিতে’ রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জননিরাপত্তার জন্য জরুরি অবস্থার মেয়াদ বাড়িয়েছেন। জরুরি অবস্থার আইনকে কঠোর হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এমন অবস্থায় পুলিশ ও নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা সন্দেহজনক যেকাউকে গ্রেপ্তার বা আটক করতে পারে।
রাজধানী কলম্বোতে তিনটি গির্জা ও তিনটি বিলাসবহুল হোটেলে সন্ত্রাসী হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে শতাধিক মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন ১০ জন নারী।
সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে তিনি মে মাসে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপিয়ান কূটনীতিকদের অবহিত করেছিলেন। সেখানে তিনি বলেছিলেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি শতকরা ৯৯ ভাগ স্বাভাবিক। ২২ জুনে তিনি জরুরি অবস্থা তুলে নিতে বলবেন। কূটনীতিকদের তিনি আশ্বস্ত করেন যে, ওই হামলার সঙ্গে যারা সরাসরি জড়িত তাদেরকেই আটক অথবা হত্যা করেছে নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা। হামলার জন্য তিনি স্থানীয় একটি জিহাদি গ্রুপকে দায়ী করেন। তবে হামলার দায় স্বীকার করেছে জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস। পরিস্থিতি ৯৯ ভাগ স্বাভাবিক থাকলেও কেন জরুরি অবস্থার মেয়াদ বাড়াতে হলো এ বিষয়ে সরকার থেকে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যাখ্যা দেয়া হয় নি।
রাজধানী কলম্বোতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি রয়েছে কঠোর। সেখানকার নিয়ম অনুযায়ী এক মাসের জন্য ঘোষণা করা যেতে পারে জরুরি অবস্থা। তবে তা ১০ দিনের মধ্যে অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে পার্লামেন্টে। বোমা হামলার আগে দায়িত্বে অবহেলার দায়ে একজন ইন্সপেক্টর জেনারেল সহ শীর্ষ স্থানীয় বেশ কয়েক জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগে তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে পুলিশ। এমন অবস্থার মধ্যে সেখানে জরুরি অবস্থা বহাল থাকার ঘোষণা এল।
খ্রিস্টানদের চার্চে এবং শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন স্থাপনায় জিহাদিরা হামলা চালাতে পারে বলে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা আগেভাগে যে রিপোর্ট দিয়েছিল সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য নিজে সমালোচিত প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা। পার্লামেন্টারি পাবলিক ইনকোয়ারি থেকে সিরিসেনাকে বলে দেয়া হয়েছে, তিনি জাতীয় নিরাপত্তা প্রোটোকল রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছেন। উল্লেখ্য, সিরিসেনা একই সঙ্গে প্রুতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করছেন।

দুই সহোদরকে গাছে বেঁধে বর্বর কায়দায় নির্যাতন

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে বর্বর কায়দায় সহোদর ভাইকে গাছের সাথে বেধে নির্যাতন করা হয়েছে। পূর্বের পারিবারিক বিরোধের জের ধরে তাদের গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতন করা হয়। নির্যাতিত দুই সহোদর ইলিয়াস (২০) ও ইকরাস (২৫) উপজেলার চরআলগী ইউনিয়নের চরমছলন্দ কান্দাপাড়া গ্রামের মোঃ আব্দুল খালেকের ছেলে।
খবর পেয়ে থানা পুলিশ নির্যাতিত দুই ভাইকে উদ্ধার করে এবং এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের ভগ্নিপতি আবু সাঈদ(৩৭) কে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। সোমবার সকালে এ ঘটনায় মামলা করতে গেলে থানা পুলিশ মামলা না নিয়ে নির্যাতিত কলেজ ছাত্র ইলিয়াসকেও আটক করে থানা হাজতে রেখেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী, থানায় দায়ের করা অভিযোগ ও ভুক্তভোগীদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চরমছলন্দ কান্দা গ্রামের আব্দুল খালেকের মেয়ে শিউলির সাথে চরমছলন্দ কাচারীপাড়া গ্রামের আছর আলীর ছেলে আবু সাঈদের বিয়ে হয় প্রায় ১৪/১৫ বছর পূর্বে। বিয়ের পর থেকেই শিউলি স্বামীর সংসারে যৌতুকসহ নানা কারণে অত্যাচারিত হয়ে আসছে। একপর্যায়ে অত্যাচার সইতে না পেরে গত ৬ মাস পূর্বে শিউলি তিন সন্তানসহ স্বামীর সংসার ত্যাগ করে। পরে এ ঘটনার জের ধরে উভয় পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।
গত রোববার সকালে ইলিয়াস ও ইকরাস তাদের বাড়ির একটি অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করার উদ্দেশ্যে তাদের বোন জামাইয়ের বাড়ির সামনে দিয়ে অটোরিক্সা যোগে গফরগাঁও বাজারে যাওয়ার সময় বোন জামাই আবু সাঈদ ও তার আত্বীয় স্বজনরা তাদের অটোরিক্সার গতিরোধ করে। ইলিয়াস ও ইকরাসকে টেনে হেচঁড়ে অটোরিক্সা থেকে নামিয়ে তাদের সঙ্গে থাকা নগদ ২০ হাজার টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যায়।
ইলিয়াস ও ইকরাসকে ধরে আবু সাঈদের বাড়ির ভিতরে নিয়ে একটি কড়ই গাছের সাথে বেঁধে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটায় এবং এলাপাথারি কিলঘুষি মারে। খবর পেয়ে ইলিয়াস ও ইকরাসের পিতা আব্দুল খালেক এলাকাবাসীদের সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে তারা আব্দুল খালেককেও গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতন করে। পরে এলাকাবাসীর চাপে সন্ত্রাসীরা আব্দুল খালেককে ছেড়ে দেয়।
আব্দুল খালেকের পরিবারের লোকজন গফরগাঁও থানা পুলিশকে খবর দিলে থানা পুলিশ ইলিয়াস ও ইকরাসকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ সময় বোন জামাই আবু সাঈদ পুলিশের হাতে আটক হয়। রোববার সন্ধ্যায় ইলিয়াস ও ইকরাস থানা থেকে বের হয়ে আসে। সোমবার সকালে এ ঘটনায় ইলিয়াস থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে থানা পুলিশ ইলিয়াসকে আবার আটক করে থানা হাজতে নিয়ে রাখে।
এ ঘটনায় ব্যাপারে গফরগাঁও থানার ওসি আব্দুল আহাদ খান বলেন, ৬ মাস আগের একটি ঘটনায় ইলিয়াসের বোন জামাই আবু সাঈদ ইলিয়াসের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে আবার ইলিয়াসেরও অভিযোগ আছে তার বোন জামাই আবু সাঈদের বিরুদ্ধে। অর্থাৎ দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ আছে। তাই তাদের আটক করে রাখা হয়েছে।

বৃদ্ধা মাকে বেদম পিটিয়ে রাস্তায় ফেলে পালালো সন্তানেরা

দুটো দাঁত ভেঙে রক্ত ঝরছে। বাম চোয়ালে জখমের চিহিহ্ন ছাড়াও পুরো মুখ ফুলে গেছে। চোখ দিয়ে ঝরছে পানি। রাস্তার পাশে পড়ে ছিলেন সত্তরোর্ধের এই বৃদ্ধা। বুধবার রাতের কোনো এক সময় এই বৃদ্ধাকে রাস্তার পাশে ফেলে চলে গেছে তার সন্তানেরা। গত বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় স্থানীয় লোকজন নারায়ণগঞ্জের বন্দর মদনপুর এলাকায় কেওডালা-অলিপুরা সড়কের পশ্চিম কামরাবো এলাকার ইটভাটার পাশ থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। বন্দর মদনপুর বারাকা হাসপাতালে ভর্তি এ বৃদ্ধার এখনো কোনো পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে ইশারা-ইঙ্গিতে তার প্রতি নির্যাতন করা হয়েছে তা জানাচ্ছেন উপস্থিত লোকজনকে।
গত শুক্রবার সন্ধ্যায় যোগাযোগ করা হলে বারাকা হাসপাতাল থেকে নয়া দিগন্তকে জানানো হয়, ওই বৃদ্ধ মহিলার কোনো পরিচয় এখানো পাওয়া যায়নি। কেউ তার খোঁজ নিতে আসেনি।
জানা গেছে, বন্দরে অজ্ঞাত, নাম-পরিচয়বিহীন ও রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তার পাশে পড়ে থাকা এক বৃদ্ধ মাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করানোর পাশাপাশি তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন ধামগড় ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ মাসুম আহম্মেদ। বৃহস্পতিবার স্থানীয় কেওঢালা টু অলিপুরা সড়কের পশ্চিম কামরাবো এলাকা থেকে বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তাকে মদনপুর দ্য বারাকাহ হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বন্দরের ধামগড় ইউপির ১নং ওয়ার্ডের পশ্চিম কামরাবো এলাকায় বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় ‘৭০৭ ইট ভাটার’ পাশের বস্তিসংলগ্ন মুমূর্ষু অবস্থায় এক বৃদ্ধাকে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা।
তারা জানান, গত বুধবার রাতের যেকোনো একটি সময়ে কে বা কারা এই বৃদ্ধ মহিলাকে ফেলে রেখে চলে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর পেয়ে থানা আওয়ামী লীগের শ্রম সম্পাদক সোনা মিয়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি ধামগড় ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ মাসুম আহম্মেদকে অবহিত করেন। চেয়ারম্যান মাসুম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বৃদ্ধ মহিলাকে সেখান থেকে গাড়িতে করে নিয়ে সুচিকিৎসার জন্য মদনপুর দ্য বারাকাহ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পাশাপাশি বৃদ্ধার চিকিৎসা বাবদ সমস্ত খরচ চেয়ারম্যান মাসুম বহন করবেন বলে গণমাধ্যমকে জানান। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বন্দর থানার ওসি রফিকুল ইসলামকে জানানো হয়েছে এবং বৃদ্ধার পরিচয় জানতে ও তার পরিবারের কাছে তাকে ফিরিয়ে দিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্ট দিয়ে বিষয়টিকে ব্যাপকভাবে তুলে ধরা হচ্ছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অজ্ঞাত বৃদ্ধাকে দেখতে যান ধামগড় ইউপি চেয়ারম্যান মাসুম - ছবি : নয়া দিগন্ত

মিসরের সংবাদমাধ্যমে যেভাবে পরিবেশন করা হয় মুরসির মৃত্যু সংবাদ

বিশ্বব্যাপী সংবাদ মাধ্যমে মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদ মুরসির মৃত্যুর খবর বেশ গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ করা হলেও মিসরের সংবাদ মাধ্যমগুলোতে ছিলো তার বিপরীত চিত্র। স্বৈরশাসনের যাঁতাকলে পিষ্ট মিসরের গণমাধ্যমে কোন গুরুত্ব পায়নি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত মিসরের একমাত্র রাষ্ট্রনেতার মৃত্যুর খবর।
৬৭ বছর বয়সী মুরসি গত সোমবার আদালতে মামলার শুনানির সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেয়ার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ২০১২ সালে আরব বসন্তের প্রভাবে মিসরের ৩০ স্বৈরশাসক হুসনি মোবারকের পতনের পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসেন মুরসি; কিন্তু মাত্র এক বছরের মাথায় তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে ক্ষমতা দখল করে সেনাপ্রধান আবদুল ফাতাহ আল সিসি। এরপর অনেকগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় তাকে কারাবন্দী করা। ব্যাপক দমন-নির্যানত করা হয় তার দল মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতাকর্মীদের ওপর।
মঙ্গলবার মিসরের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রগুলোর কোনটিই মুরসির মৃত্যুর সংবাদ প্রথম পৃষ্ঠায় প্রকাশ করেনি। ভেতরের পাতায় সাধারণত যেখানে অপরাধ বিষয়ক সংবাদ ছাপা হয় সেখানে স্থান পেয়েছে সাবেক এই প্রেসিডেন্টের মৃত্যু সংবাদ। এমনকি কোন রিপোর্টেই মুরসিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।
বেশির ভাগ পত্রিকায় ৪২ শব্দের একটি সংবাদ হুবহু প্রকাশ করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে সেই সংবাদটি সামরিক জান্তার সরবরাহকৃত।
মিসরের মাদা মাসর অনলাইন নিউজ পোর্টাল জানিয়েছে, আল মাসরি আল ইউম নামের একটি পত্রিকা শুধু প্রথম পাতায় স্থান দিয়েছে সংবাদটি।
সরকারি মালিকাধীন তিনটি সংবাদপত্রে মুরসিকে অবহিত করা হয়েছে ‘অভিযুক্ত’ বা ‘মৃত’ হিসেবে। ‘সাবেক প্রেসিডেন্ট’ বা ‘ব্রাদারহুড নেতা’ এমন কিছুই লেখা হয়নি। কিছু বেসরকারি মালিকানার পত্রিকা কোন বিশেষণই ব্যবহার করা হয়নি।
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সর্বাধিক প্রচারিত পত্রিকা আল আহরাম তাদের চতুর্থ পাতায় প্রকাশিত খবরের শিরোনাম দিয়েছে ‘গুপ্তচরবৃত্তির মামলার শুনানির সময় মোহাম্মাদ মুরসির ইন্তেকাল’।
আল আকবার পত্রিকার খবরের শিরোনাম ছিলো ‘বিচার চলাকালে মোহাম্মাদ মুরসির ইন্তেকাল’। একই শিরোনামে তৃতীয় পৃষ্ঠায় খবর ছোট্ট খবর প্রকাশ করেছে আল গোমহুরিয়া।
দেশটির বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলোও একই পন্থা অবলম্বন করেছে। এবং তাদের খবরে মুরসির রাজনৈতিক দল মুসলিম ব্রাদারহুডকে ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করেছ।
সাবেক এই প্রেসিডেন্টের মৃত্যুতে দেশটির শাসকের পক্ষ থেকে কোন বিবৃতি বা বক্তব্য দেয়া হয়নি। পরদিন ভোরবেলা বহু পুলিশের উপস্থিতিতে তাকে দাফন করা হয়। পরিবারের কয়েকজন সদস্য ছাড়া সেখানে কাউকে থাকতে দেয়নি সামরিক জান্তা। সাংবাদিকদেরও প্রবেশাধিকার ছিলো না।
মুরসির আইনজীবী জানিয়েছে, সাবেক প্রেসিডেন্টের ইচ্ছে ছিল নিজ গ্রামের বাড়িতে চিরনিদ্রায় শায়িত হওয়ার কিন্তু সামরিক শাসকরা তার পরিবারকে বাধ্য করেছে রাজধানী কায়রোর একটি করস্থানে দাফন করতে। মুরসির ছেলে ফেসবুকে লিখেছেন, ‘তোরা জেলখানার হাসপাতালে আমরা তার লাশ গোসল করাই। জেল মসজিদে জানাজা হয়। মুসলিম ব্রাদারহুডের আধ্যাতিক নেতারা যেখানে শায়িত আছেন সেখানেই দাফন করা হয়।’ আল জাজিরা

হত্যাকাণ্ডের এক মাস পর মামলা রেকর্ড: পুলিশ বলেছিলো পোস্টমর্টেম ছাড়া মামলা হবে না by রুদ্র মিজান

রাতের আঁধারে ‘পিটিয়ে হত্যা’ করা হয়েছে রবিউল ইসলামকে। তার শরীর জুড়ে ছিলো সেই আলামত। পিঠে রক্তের ছোপ ছোপ দাগ। ঢাকা মেডিকেল কর্তৃপক্ষ সুপারিশ করেছিলো লাশের পোস্টমর্টেমের। তারপরও পোস্টমর্টেম করানো হয়নি। এমনকি হত্যাকাণ্ডের পর বারবার থানা পুলিশের দ্বারস্থ হলেও মামলা নেয়া হয়নি। থানা পুলিশ জানিয়েছে, পোস্টমর্টেম রিপোর্ট ছাড়া মামলা হবে না। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হয়েই মামলা রেকর্ড করতে হবে।
আইনজীবীরা বলেছেন, মামলা নিতে সময়ক্ষেপণ করে পুলিশ অন্যায় করেছে। এ বিষয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। রবিউলের মৃত্যুর এক মাস পরে পোস্টমর্টেম রিপোর্টে মিলেছে হত্যার আলমত। নিহতের স্বজনদের দৌড়ঝাঁপে এক মাস পরে পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পেয়ে মামলা রেকর্ড করে পুলিশ। কিন্তু এই হত্যা মামলায় এখনও কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এই অবস্থায় এই হত্যা মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন নিহতের স্বজনরা। পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তারা।
গত ২৯শে এপ্রিল রাজধানীর বাড্ডার গুদারাঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় রবিউলের লাশ। পটুয়াখালী জেলা সদরের টাউনজৈনকাঠী গ্রামের  আব্দুর রাজ্জাক মিয়ার পুত্র রবিউল (২১) ঢাকার বাড্ডা এলাকায় থাকতেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দীর্ঘ চার বছর ধরে বাড্ডার গুদারঘাট এলাকায় আত্মীয় মামুন মৃধার বাড়িতে ছিলেন। ঘটনার দিনও মামুনের বাসার পাশ থেকেই তার লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, এই হত্যাকাণ্ডে মামুন মৃধা ও তার স্বজনরা জড়িত। রবিউলের মৃত্যুর পর তাড়াহুড়া করে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয় তার লাশ। মেডিকেল কর্তৃপক্ষ পোস্টমর্টেমের সুপারিশ করলেও কৌশলে তা করানো হয়নি। নিহতের চাচাতো ভাই সিরাজ ও চাচাতো বোন আসমাকে ডেকে এনে লাশটি তাদের কাছে হস্তান্তর করেন মামুন মৃধা। রবিউলের স্বজনরা জানান, রবিউলের মৃত্যর পর মামুন মৃধা ও তার ভাগ্নে সাহাদাতের আচরণ ছিলো রহস্যময়।
সিরাজ জানান, স্ট্রোক করে রবিউলের মৃত্যু হয়েছে জানিয়ে তাদের ডেকে আনেন মামুন মৃধা। খবর পেয়ে তারা ঢামেক হাসপাতালে যান। সেখানে পৌঁছার পর দ্রুত রবিউলের লাশ বুঝিয়ে দেয়া হয় তাদের। এসময় ঢামেক হাসপাতাল এলাকায় এম্বুলেন্সের মধ্যে প্যাকেট করা অবস্থায় ছিলো রবিউলের লাশ। রবিউলের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী জেলা সদরের টাউনজৈনকাঠী গ্রামে লাশটি নিয়ে যাওয়ার পরই ঘটে বিপত্তি। লাশ দেখে স্বজন ও গ্রামবাসী বুঝতে পারেন তাকে হত্যা করা হয়েছে। খবর পেয়ে পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে। পরে লাশ দাফন করে স্বজনরা ছুটে আসেন ঢাকায়। বাড্ডা থানায় যান মামলা করার জন্য। এ বিষয়ে নিহত রবিউলের মামা মিজানুর রহমান জানান, বারবার থানায় গিয়েছেন। ওসির সঙ্গে কথা বলেছেন। কিন্তু ওসি প্রতিবারই বলেছেন, এখন মামলা হবে না। এটি হত্যাকাণ্ড কি-না তা নিশ্চিত হলে তবেই মামলা হবে। এজন্য পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। মামলা করতে ব্যর্থ হয়ে পোস্টমর্টেম রিপোর্টের দিকেই তাকিয়ে ছিলেন তারা।
দীর্ঘ এক মাস পরে পোস্টমর্টেম রিপোর্ট হাতে আসে। রিপোর্টে ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন শারীরিক আঘাতে রবিউলের মৃত্যু হয়েছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পেলেও রহস্যজনকভাবে মামলা নিতে গড়িমসি করে থানা পুলিশ। অবশেষে গত ১লা জুন মামলা করার সুযোগ পান নিহতের পরিবার। নিহত রবিউলের চাচা মো. চান মিয়া বাদি হয়ে মামলা করেন। এতে আসামি করা হয়, মামুন মৃধা, মামুন মৃধার স্ত্রী মণি বেগম, তার ভাগ্নে সাহাদাত, সাহাদাতের স্ত্রী সুবর্ণা বেগম,  মানিক মিয়া ও মমতাজ বেগমকে। রবিউলের স্বজনরা জানান, রবিউল চাকরি করে মা-বাবাকে টাকা দিতো না। টাকা জমাতো মামুনের কাছেই। বাসায় বসবাস ও জমানো টাকা নিয়ে মামুনের সঙ্গে মনোমালিন্য ছিলো রবিউলের। এছাড়াও নানা কারণে খারাপ সম্পর্ক ছিলো মামুনের ভাগ্নে সাহাদাতের সঙ্গে। হত্যাকাণ্ডের আগে তাদের মধ্যে প্রায়ই বাকবিতন্ডা হতো বলে অভিযোগ করেন তারা।
নিহত রবিউলের স্বজনদের অভিযোগ, মামলা করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। আসামিরা  প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। উল্টো মামলা করার কারণে তাদের হুমকি-ধমকি দেয়া হচ্ছে বলে জানান রবিউলের স্বজনরা। তারা মনে করেন মামুন ও রবিউলকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই হত্যাকাণ্ডের ক্লু উদঘাটন হবে।
থানা পুলিশের প্রতি আস্থা হারিয়েছেন তারা। মামলার তদন্তভার মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে হস্তান্তরের জন্য গত ১৮ই জুন ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে আবেদন করেছেন মামলার বাদি চান মিয়া। হত্যাকাণ্ডের পর মামলা রেকর্ড না করার কারণে সম্পর্কে বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি আমাদের কাছে দুর্ঘটনা মনে হয়েছে। তাই মামলা নিতে ডিলে হয়েছে। ওসি আরও বলেন, ওই ছেলে (রবিউল) অসুস্থ ছিলো। রাস্তা থেকে পড়ে মারা যেতে পারে। তাছাড়া লাশ নিয়ে ওরা পটুয়াখালী চলে গিয়েছিলো। যে কারণে সুরতহালও পটুয়াখালীতে হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে তিনি জানান, এখনও কাউকে আটক করা হয়নি। তবে এই মামলার আসামি মামুনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। পোস্টমর্টেম ছাড়া মামলা রেকর্ড না করা প্রসঙ্গে সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ নাজমুল হুদা বলেন, মামলা না নিয়ে ভিকটিমের স্বজনদের প্রতি পুলিশ অবিচার করেছে। ভিকটিমের স্বজনরা যদি সন্দেহ করে বা এ সংক্রান্ত কোনো আলামত থাকে তারা মামলা করতে পারে। এমনকি কেউ হত্যাকাণ্ডের শিকার হরে স্বজনরা বাদি না হলেও পুলিশ বাদি হয়ে মামলা করবে। সেখানে পোস্টমর্টেম রিপোর্টের কোনো প্রয়োজন নেই। তবে পোস্ট মর্টেম রিপোর্টে যদি বিষয়টি হত্যাকাণ্ড না বলে প্রতিবেদন আসে তখন আসামিরা সুবিধা পাবেন বলে মনে করেন এই আইনজীবী। একইভাবে সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী তাসলিমা ইয়াসমিন বলেন, হত্যাকাণ্ড একটি আমলযোগ্য অপরাধ। এটি এফআইআর হিসেবে রেকর্ড এবং অনুসন্ধান শুরু করা পুলিশের আবশ্যিক দায়িত্ব। এছাড়াও আমলযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়াই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা যায়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডিজির দুর্নীতি: আলেমসমাজ বিব্রত ও ক্ষুব্ধ

বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (ডিজি) সামীম মোহাম্মদ আফজালের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এবং সেটাকে কেন্দ্র করে তাকে অপসারণ বা তার পদত্যাগের বিষয় নিয়ে দেশের আলেমসমাজ বিব্রত এবং ক্ষুব্ধ।
ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে গত ১০ জুন সোমবার ডিজিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় ধর্ম মন্ত্রণালয়। তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে কেন অবহিত করা হবে না তা সাত কার্যদিবসের মধ্যে ধর্ম মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়। তবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য মিছবাহুর রহমান চৌধুরী জানান, ডিজিকে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগের পরামর্শ দিলে তিনি তাতে রাজী হন নি। 
এ নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের টেলিফোন রিসিভ না করে তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তার মাধ্যমে জানিয়েছেন, তিনি সরকারের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত। সরকারপ্রধান তার চুক্তি বাতিল করে যদি অন্য কাউকে নিয়োগ করেন সেটা সরকারের বিষয়।
এ প্রসঙ্গে জাতীয় তফসির পরিষদ, বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান মাওলানা আহমেদ আবদুল কাইউম রেডিও তেহারানকে জানান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে এরকম দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার খবরে দেশের আলেমসমাজ ক্ষুব্ধ।
অনুরূপ মন্তব্য করে বাংলাদেশ ওলামা মাশায়েখ ঐক্যজোটের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুফতি আবদুল হালিম সিরাজী বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় কাউকে নিয়োগ দেয়া হলেও বিজ্ঞ আলেম সমাজের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে যোগ্য ও সৎ ব্যক্তিকে এরকম গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো উচিত।
একইরকম মন্তব্য করেছেন, বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউনুস আহমাদ।
উল্লেখ্য, ঢাকার একটি দৈনিকে ‘বায়তুল মোকাররমের পিলার গায়েব’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ হলে প্রচণ্ড চাপে পড়েন ডিজি সামীম। এ বিষয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে ডিজি উল্টো তদন্তকারী কর্মকর্তাকে অবৈধভাবে বরখাস্ত করেন। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটিতে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়।
এরই মাঝে, গত শনিবার সরকারি ছুটির দিনে আগারগাঁওস্থ ইসলামিক ফাউন্ডেশন ভবনে প্রবেশ করেন বিতর্কিত ডিজি সামীম মোহাম্মদ আফজাল। এ সময় তিনি তার দপ্তর থেকে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ও নথিপত্র সরিয়ে ফেলছেন- এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে সংস্থার শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী দ্রুত সেখানে উপস্থিত হন এবং ডিজির অফিস ঘেরাও করে রাখেন। পরে ইফার বোর্ড অব গভর্নরসের সদস্য আলহাজ মিছবাহুর রহমান, ইফার সচিব কাজী নুরু ইসলাম ও আইন উপদেষ্টা এ আর মাসউদ সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তারা ডিজির সাথে কথা বলেন এবং তার পদত্যাগের বিষয়েও আলাপ করেন। একপর্যায়ে তাদের সহায়তায় ডিজি সামীম মোহাম্মদ আফজাল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাহারায় অফিস ত্যাগ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, অন্যত্র সরিয়ে ফেলার জন্য আনুমানিক ৪০টি ফাইল ডিজির গাড়িতে ওঠানো হয়েছিল। কিন্তু কর্মচারী কর্মকর্তাদের বাধার মুখে সেগুলো গাড়ি থেকে নামিয়ে আবার অফিসের লকারে রাখা হয়েছে।