Friday, June 3, 2011

তুরস্কে বিক্ষোভ চলছেই

তুরস্কের বৃহত্তম শহর ইস্তাম্বুলে পার্কের গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে গতকাল শনিবার দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ হয়েছে। এদিকে প্রেসিডেন্ট রেসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান বলেছেন, সরকার গেজি পার্ক পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনা অব্যাহত রাখবে।
ইস্তাম্বুলের তাকসিম স্কয়ারের গেজি পার্কে অবস্থান ধর্মঘট পালনের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা শুরু হয়। গত শুক্রবার বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়লে সংঘর্ষ বেধে যায়। গতকাল তাকসিম স্কয়ারে এবং বসফরাস সেতুর কাছে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে আবারও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। ফলে দ্বিতীয় দিনের সংঘর্ষ শুরু হয়। আঙ্কারায় বিক্ষোভকারীরা মিছিল নিয়ে পার্লামেন্টের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে।
প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান গতকাল শনিবার বলেছেন, বিরোধীরা এটাকে আন্দোলনের অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছে।
গেজি পার্কের গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার আন্দোলনরত জনতার সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে ১২ জন আহত হয়।

বিভ্রান্তিতে সিরিয়ায় নিহত মার্কিন নারীর পরিবার

সিরিয়ায় নিহত মার্কিন নাগরিক নিকোল ম্যানসফিল্ডের মেয়ে দাবি করেছেন, তাঁর মা সন্ত্রাসী ছিলেন না। তবে ৩৩ বছর বয়সী নিকোলের বাবা বলেছেন, মেয়ের ব্যাপারে সন্দেহ হওয়ায় কয়েক বছর আগেই তিনি বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাকে (এফবিআই) জানিয়েছিলেন।
গত সপ্তাহে সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বিদ্রোহীদের ওপর সরকারি বাহিনীর এক হামলায় নিহত হন ধর্মান্তরিত মুসলিম নিকোল ম্যানসফিল্ড। তাঁর সঙ্গে নিহত হন ব্রিটিশ নাগরিক আলী আলমানসফিসহ আরও দুজন।
নিকোল দৃশ্যত আসাদবিরোধী যুদ্ধে কট্টরপন্থী ইসলামি গ্রুপের হয়ে লড়াই করছিলেন। কিন্তু তাঁর মেয়েসহ পরিবারের বেশির ভাগ সদস্য সেটি মেনে নিতে পারছেন না।
তবে নিকোলের বাবা গ্রেগরি ম্যানসফিল্ড গত শুক্রবার সিএনএন টেলিভিশনকে বলেন, তিন বছর আগে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে ইসরায়েলকে নিয়ে তির্যক মন্তব্য করেন নিকোল। মনে খটকা লাগায় বিষয়টি তিনি তখন এফবিআইকে জানান।

ইরানে নীতির পরিবর্তন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সংশয়

ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কারণে দেশটির বিতর্কিত পারমাণবিক নীতিতে পরিবর্তন আসার ব্যাপারে জোরালো সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি।
কেরি শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ নির্বাচনে ইরানের মৌলিক নীতিতে পরিবর্তন আসবে বলে আমি খুব বেশি প্রত্যাশা করি না। তাই শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে আমরা তাদের রাজি করানোর চেষ্টার প্রতিটি পদক্ষেপ অব্যাহত রাখব।’
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এর আগে গত সপ্তাহে ইসরায়েলে বলেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীরা বৃহত্তর ইরানি জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে কিংবা দেশে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছেন—এ বিষয়ে তেমন কোনো সম্ভাবনাই নেই।

পৃথিবীর পাশ দিয়ে চলে গেল অতিকায় গ্রহাণু

প্রায় ২ দশমিক ৭ কিলোমিটার (১ দশমিক ৭ মাইল) আয়তনের একটি গ্রহাণু পৃথিবীর পাশ দিয়ে অতিক্রম করে গেল! বাংলাদেশ সময় শুক্রবার দিবাগত রাত দুইটা ৫৯ মিনিটে এটি পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের অবস্থানে ছিল। তবে পৃথিবীকে এটির আঘাত করার কোনো আশঙ্কা ছিল না বলে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন।
অতিকায় এই গ্রহাণুর বৈজ্ঞানিক নাম ১৯৯৮কিউই২। এটি আয়তনে এত বড় যে এটিকে কেন্দ্র করে ঘূর্ণমান একটি ক্ষুদ্র উপগ্রহ পর্যন্ত রয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলেছেন, গ্রহাণুটি সবচেয়ে নিকটবর্তী অবস্থানে আসার পর পৃথিবীর সঙ্গে এর দূরত্ব ছিল ৫৮ লাখ কিলোমিটার (৩৬ লাখ মাইল)। এই দূরত্বের কারণে এর পৃথিবীতে আছড়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল না। তবে মহাজাগতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি অতি সামান্য দূরত্ব।
গত ফেব্রুয়ারি মাসেও একটি গ্রহাণু পৃথিবীর পাশ দিয়ে যায়। পৃথিবীর সবচেয়ে নিকটবর্তী অবস্থানে থাকার সময় সেটির দূরত্ব ছিল ১৯৯৮কিউই২-এর দুই শ ভাগের এক ভাগ। তবে ফেব্রুয়ারির ওই গ্রহাণুর চেয়ে এটি ৫০ হাজার গুণ বড়।
বেলফাস্টের কুইন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী অ্যালান ফিৎসিমোন্স বলেছেন, এই মাপের কোনো গ্রহাণু যদি পৃথিবীতে আছড়ে পড়ে, তাহলে ভয়াবহ বৈশ্বিক প্রতিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে এ ধরনের গ্রহাণু ও গ্রহাণুপুঞ্জের গতিবিধির ওপর নজর রাখা খুবই জরুরি।
পৃথিবীর জন্য বিপজ্জনক হতে পারে এমন ‘উটকো’ গ্রহাণু আগে থেকে চিহ্নিত করতে অনেক পেশাদার ও শখের বিজ্ঞানী নিরন্তর কাজ করছেন।

সাইফের বিচারে লিবিয়া প্রস্তুত নয়

লিবিয়ার প্রয়াত নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলামের বিচারের জন্য দেশটির সরকারের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। ২০১১ সালে গাদ্দাফিবিরোধী বিদ্রোহের সময় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধে সাইফ জড়িত ছিলেন বলে আইসিসি অভিযোগ করেছে।
লিবিয়ার গাদ্দাফিবিরোধী মিলিশিয়া বাহিনীর সদস্যরা সাইফকে ২০১১ সালের শেষ নাগাদ আটক করে। তবে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারি বাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হয়নি।
নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত আইসিসির প্রি-ট্রায়াল চেম্বারের বিচারকেরা বলেন, সাইফের বিচার আয়োজনের জন্য লিবিয়া প্রস্তুত নয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পুনর্নির্মাণ ও আইনের শাসন পুনঃ প্রতিষ্ঠায় দেশটি উল্লেখযোগ্য চেষ্টা করে যাচ্ছে। তবে বিচারিক ক্ষমতা পুরোপুরি প্রয়োগে দেশটি বিভিন্ন বাধার মুখোমুখি হচ্ছে।
লিবিয়ার বিচারমন্ত্রী সালাহ আল-মারঘানি বলেছেন, যেকোনো নাগরিকের বিচার করার অধিকার লিবিয়ার রয়েছে। আইসিসির নির্দেশের ব্যাপারে মন্তব্য করার সময় এখনো আসেনি।
সাইফকে তাঁর বাবা মুয়াম্মার আল গাদ্দাফির উত্তরসূরি মনে করা হতো। দেশ থেকে পলায়নের চেষ্টার অভিযোগে ২০১১ সালের নভেম্বরে তাঁকে আটক করে জিনতান শহরে বন্দী করে রাখা হয়। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০১১ সালের জুনে সাইফের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আইসিসি। জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি হুমকিমূলক দলিলপত্র রাখা এবং জাতীয় পতাকার প্রতি অবমাননাসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

সিরিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার চুক্তির নিন্দা জানালেন কেরি

সিরিয়ার কাছে ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অঙ্গীকার করায় রাশিয়ার নিন্দা করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। একই সঙ্গে সিরিয়ায় সংঘাত বন্ধে রাশিয়ার সদিচ্ছা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এদিকে তুরস্কে আট দিনের আলোচনায়ও সিরীয় প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বিরোধীদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয়ে মতৈক্য হয়নি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মতানৈক্য বেড়েছে বলেও মনে করা হচ্ছে।
ওয়াশিংটনে জন কেরি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, সিরিয়াকে রাশিয়ার এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করা কোনোভাবেই ওয়াশিংটন-মস্কোর আসন্ন শান্তি সম্মেলনের উদ্যোগকে ‘সহায়তা করবে না’। তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে ওই অঞ্চলে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হবে এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে। কেরি বলেন, ‘আপনি যখন শান্তির জন্য উদ্যোগ নিচ্ছেন বা শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন, তখন এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র কখনোই আপনাকে কোনো সহায়তা দেবে না।’ তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার এই অবস্থান সিরিয়ায় দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা সহিংসতা বন্ধে তাদের অঙ্গীকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
ওয়াশিংটন সফররত জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গুইডো ওয়েস্টারভেলেও বিষয়টি বিবেচনায় রাশিয়াকে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমি রাশিয়াকে বলব, আসন্ন শান্তি সম্মেলনকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেবেন না।’
এদিকে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে আট দিন ধরে আলোচনা করার পরও সহিংসতা বন্ধে আসন্ন আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলনে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট কোনো ঘোষণা দিতে পারেননি বাশারবিরোধীরা। প্রধান বিরোধী জোট ন্যাশনাল কোয়ালিশনে কারা স্থান পাবে—সেই বিতর্কের মধ্যেই আটকে আছে আলোচনা।
ন্যাশনাল কোয়ালিশনের প্রধান জর্জ সাবরা গত শুক্রবার জানান, কোয়ালিশনে নতুন ৫১টি পক্ষ যোগ দিয়েছে। সব মিলিয়ে এই জোটে এখন ১১৪টি পক্ষ রয়েছে।
লেবাননে হামলা: সিরিয়া থেকে গতকাল শনিবার লেবাননের ওপর রকেট হামলা চালানো হয়েছে। লেবাননের নিরাপত্তা সূত্রে জানা গেছে, সিরিয়া থেকে ছয়টি রকেট এসে পড়ে রায়াক বিমানবন্দরের কাছে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি।
সম্প্রতি সিরিয়া থেকে লেবাননে হামলার ঘটনা বেড়ে গেছে। লেবাননের কট্টরপন্থী গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদের পক্ষে লড়ার কারণে এসব হামলার ঘটনা ঘটছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
প্রতিবেশী সিরিয়ায় সহিংসতা অব্যাহত থাকায় এবং এর আঁচ লেবাননেও লাগায় নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দেশটি আসন্ন পার্লামেন্ট নির্বাচন স্থগিত করেছে। চলতি মাসে এই নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল।
সিরিয়ায় ব্রিটিশ নাগরিক নিহত: সিরিয়ায় যুক্তরাজ্যের এক নাগরিক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিশ্চিত করে। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেনি।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, নিহত ব্যক্তির নাম আলী আল মানাসফি (২২)। তিনি লন্ডনে বাস করতেন।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংগঠন দ্য সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস গত বৃহস্পতিবার দাবি করে, সিরিয়ায় তিনজন পশ্চিমা নাগরিক নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একজন নারীও রয়েছেন।

অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশে সৌদিরা শীর্ষে

ইন্টারনেটে সম্ভবত ব্যক্তিগত ‘সব তথ্য’ ও ‘অধিকাংশ বিষয়’ আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে সৌদি আরবের নাগরিকেরা প্রথম স্থানে রয়েছে। আর দ্বিতীয় অবস্থানটি ভারতের। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ক্লেইনার পার্কিনস কফিল্ড অ্যান্ড বাইয়ার্সের (কেপিসিবি) বার্ষিক জরিপে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
অনলাইনে ব্যক্তিগত বিভিন্ন তথ্য, স্ট্যাটাস আপডেট, অনুভূতি, ছবি, ভিডিওচিত্র ও লিংক প্রকাশের মতো বিষয়গুলো কেপিসিবির জরিপে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট কম্পিউটারের প্রসার এবং যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের প্রভাব প্রভৃতি বিষয় নিয়ে গবেষণা করে।
স্মার্টফোনের গ্রাহকসংখ্যা বিবেচনায় ভারত চলতি বছর নাগাদ বিশ্বের পঞ্চম শীর্ষ স্থান নেবে বলে কেপিসিবির প্রতিবেদনে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়। ২০০৮ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে ভারতে আট কোটি ৮০ লাখ স্মার্টফোন গ্রাহক বেড়েছে। এ ছাড়া কেবল গত বছরই দেশটিতে ইন্টারনেট গ্রাহক বেড়েছে ১৩ কোটি ৭০ লাখ। এ ক্ষেত্রে ভারতের পূর্ববর্তী অবস্থানে রয়েছে চীন। প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ব্যবধান বিস্তর।
মানুষ কীভাবে এবং কখন স্মার্টফোন ব্যবহার করে, তা জরিপের আকর্ষণীয় দিক হিসেবে উঠে এসেছে। এতে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি দিনে প্রায় ১৫০ বার স্মার্টফোন ব্যবহার করে। এর মধ্যে প্রায় ১৮ বার তারা সময় দেখতে এবং ২৩ বার বার্তা পাঠাতে স্মার্টফোন ব্যবহার করে।

ইরাকজুড়ে মে মাসে সহিংসতায় নিহত ১০৪৫

ইরাকজুড়ে গত মে মাসে সহিংসতায় এক হাজার ৪৫ জন নিহত এবং দুই হাজার ৩৯৭ জন আহত হয়েছে। গতকাল শনিবার জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
২০০৬ ও ২০০৭ সালে ইরাকে শিয়া ও সুন্নিদের মধ্যকার সহিংসতায় হাজার হাজার প্রাণহানি হয়। এরপর হতাহতের দিক থেকে মে-ই ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ মাস।
বাগদাদে নিযুক্ত জাতিসংঘের দূত মার্টিন কবলার বলেছেন, ইরাকের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে অবিলম্বে এই রক্তপাত বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় আবার গৃহযুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা রয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি বলেছে, গত মাসে ইরাকে সহিংসতায় ৬২৪ জন নিহত এবং এক হাজার ৫৫০ জন আহত হয়েছে। সংস্থাটি বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনী ও মেডিকেল সূত্র থেকে ওই হতাহতের তথ্য সংগ্রহ করে। অবশ্য ইরাকের মন্ত্রণালয়গুলো বলছে, সহিংসতায় গত মাসে ৬৮১ জন নিহত এবং এক হাজার ৯৭ জন আহত হয়েছে।

চীন সীমান্তের জন্য বিশেষ সেনা কোর করছে ভারত

চীনের সঙ্গে সীমান্তে মোতায়েনের জন্য সেনাবাহিনীর বিশেষ কোর গঠন করতে যাচ্ছে ভারত। দেশটির সেনাবাহিনী শিগগিরই এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব মন্ত্রিসভার নিরাপত্তাবিষয়ক কমিটির (সিসিএস) অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করতে যাচ্ছে। এই কোরে ৪০ হাজার সেনা থাকবে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সেনাবাহিনীর এই উচ্চাভিলাষী প্রস্তাব সিসিএসের অনুমোদনের আগে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। অনুমোদিত হলে এই বিশেষ কোর গঠনে ২০১২ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে ৬২ হাজার কোটি রুপি ব্যয় হবে।
ভারতের সেনাবাহিনীর প্রথম পার্বত্য অভিযান কোর গঠনের প্রস্তাবটি কয়েক বছর ধরেই আলোচনায় ছিল। অর্থ মন্ত্রণালয় এর আগে এত বিপুল অর্থ ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে এটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠায়। কয়েক দিন আগে অর্থমন্ত্রণালয় আরও কিছু বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে পাঠায়। একটি সূত্র বলেছে, এটি অনুমোদন হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
সেনাবাহিনীর প্রস্তাবে বলা হয়েছে, নতুন কোরে দুটি পদাতিক ব্রিগেড ও পৃথক দুটি সাঁজোয়া ব্রিগেড থাকবে। এতে চীনের সঙ্গে সীমান্তে ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা কমবে বলে আশা করছে ভারত।
প্রস্তাবিত এই কোরের সদর দপ্তর হবে পশ্চিমবঙ্গের পানাগড়ে। মনে করা হচ্ছে, এই কোর হলে চীনের হামলার মুখে ভারত প্রথমবারের মতো সে দেশের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বতেও অভিযান চালাতে পারবে।
চীন এরই মধ্যে ভারতসংলগ্ন সীমান্তে কমপক্ষে পাঁচটি পূর্ণাঙ্গ বিমানঘাঁটি, ব্যাপক রেলপথ, ৫৮ হাজার কিলোমিটার সড়কসহ বিভিন্ন সামরিক অবকাঠামো নির্মাণ করেছে। এর ফলে দেশটি ভারতের সঙ্গে সীমান্তের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় ৩০ ডিভিশন সেনা মোতায়েন করতে পারবে। এতে ওই অঞ্চলে ভারতের চেয়ে তার সামরিকশক্তি হবে তিনগুণ বেশি।

ওকলাহোমায় ফের টর্নেডো, এবার পাঁচজন নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা অঙ্গরাজ্যে গত শুক্রবার আবারও টর্নেডো আঘাত হেনেছে। এবারের টর্নেডোর আঘাতে মা ও শিশুসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছে। বেশ কয়েকজন আহতও হয়েছে। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর।
মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের ওপর দিয়েও টর্নেডো বয়ে গেছে। মিসৌরির গভর্নর অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন।
সপ্তাহ দুয়েক আগে শক্তিশালী টর্নেডোর আঘাতে ওকলাহোমা সিটির মুর শহরতলি লন্ডভন্ড হয়ে যায়। ওই ঘটনায় অন্তত ২৪ জনের প্রাণহানি হয়। দেশটির আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, এবারের টর্নেডো আগেরটির মতো ভয়ংকর ছিল না।
শুক্রবার সন্ধ্যায় মুর শহরতলির কাছেই টর্নেডো আঘাত হানে। এ সময় বহু মানুষ গাড়িতে আটকা পড়ে। যানবাহন চলাচলেও চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। অন্তত ৬০ হাজার বাড়িঘর বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। ঝড়ের সঙ্গে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে বন্যার সৃষ্টি হয়। অনেক সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও পানির উচ্চতা ছিল চার ফুট পর্যন্ত।
পুলিশের একজন মুখপাত্র জানান, টর্নেডোর আঘাতে ওকলাহোমা সিটির কাছে একটি মহাসড়কে গাড়ির মধ্যেই ওই মা ও শিশুর মৃত্যু হয়। এ সময় বেশ কয়েকটি ট্রাক উল্টে যায়।
ওকলাহোমা অঙ্গরাজ্যের শীর্ষ চিকিৎসা কর্মকর্তার কার্যালয়ের মুখপাত্র অ্যামি এলিয়ট বলেন, মা ও শিশু ছাড়া ইউনিয়ন সিটিতে দুজন এবং ওকলাহোমা সিটির পশ্চিমের এল রেনোতে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
ব্যান্ডি ভ্যানালফেন নামের একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘টর্নেডোর সময় আমি যানজটে আটকা পড়ি। এ সময় সাইরেনের আওয়াজে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আকাশে বিদ্যুতের প্রচণ্ড ঝলকানি দেখতে পাই। আমি রাস্তার পাশ দিয়ে দ্রুত গাড়ি চালাতে থাকি। অনেকে মাঠের ওপর দিয়েই গাড়ি চালিয়ে দেন।’
ওকলাহোমা সিটির মেয়র মিক করনেট বলেন, টর্নেডোর সময় অনেক মানুষ বিভ্রান্তের মতো আচরণ করেছে। এতে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ওকলাহোমা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিম অঞ্চলে অবস্থিত। এটি দেশটির এমন একটি অংশে অবস্থিত, যাকে ‘টর্নেডো গলিপথ’ বলা হয়। সেখানে প্রতিবছর এক হাজার দুই শর মতো টর্নেডো আঘাত হানে। তবে এর অধিকাংশই অপেক্ষাকৃত ছোট।

এশিয়া অঞ্চলে সামরিক কৌশল পুনর্বিন্যাস করছে যুক্তরাষ্ট্র

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কৌশলগত সামরিক শক্তি পুনর্বিন্যাসের পদক্ষেপকে জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র। এর অংশ হিসেবে মার্কিন সামরিক বাহিনী এ অঞ্চলে আরও বিমানশক্তি, স্থলসেনা এবং উচ্চপ্রযুক্তির যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করবে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী চাক হেগেল এসব কথা জানিয়েছেন।
হেগেল গতকাল শনিবার সিঙ্গাপুরে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত একটি বার্ষিক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নেন। ‘সাংগ্রি-লা সিকিউরিটি ডায়ালগ’ নামের ওই সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি সাইবার হামলার জন্য চীনকে অভিযুক্ত করেন। অন্যদিকে সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এশিয়ার দেশগুলোকে এ অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করা রুখতে হবে।
সম্মেলনে আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের প্রধান হেগেল। তিনি তাঁর বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ও সহযোগী দেশগুলোকে এ বিষয়ে আশ্বস্ত করে বলেন, দেশের অভ্যন্তরে বাজেট ঘাটতি সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তার কৌশলগত প্রাধান্য অব্যাহত রাখতে পরিপূর্ণভাবে সক্ষম। হেগেল বলেন, ‘আমাদের পুনর্বিন্যাসের প্রতিশ্রুতি টিকবে না এমনটি ভাবা অদূরদর্শী হবে।’ এ যুক্তির পক্ষে তিনি বলেন, চরম বাজেট ঘাটতি সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র এখনো বিশ্বের মোট সামরিক ব্যয়ের ৪০ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে থাকে।
হেগেল এ অঞ্চলের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বেশ কিছু সমস্যাসংকুল বিষয়ের কথা উল্লেখ করেন। এর মধ্যে রয়েছে, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের প্রচেষ্টা, চীনের চারপাশের সাগরগুলোতে অবস্থিত দ্বীপ ও জলসীমার দাবি নিয়ে উত্তেজনা এবং মহাকাশ ও সাইবার জগতে অনভিপ্রেত কর্মকাণ্ড।
যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কম্পিউটার পদ্ধতিতে সাইবার হামলার জন্য আগে থেকেই চীনের সরকার ও সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগের তির ছোড়া হচ্ছে। তবে এর আগে সরাসরি চীনকে দোষারোপ না করে আকার-ইঙ্গিতে তা বোঝানো হচ্ছিল। কিন্তু হেগেল অনেকটা সরাসরি চীনের দিকে আঙুল তুলেছেন। সাইবার হামলাকে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের জন্য ভয়ংকর বিপদ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব হামলার মধ্যে বেশ কিছুর সঙ্গে চীনা সরকার ও সেনাবাহিনীর সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে দেখা যাচ্ছে।
চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে মার্কিন গণমাধ্যম পেন্টাগনের একটি ফাঁস হওয়া প্রতিবেদন প্রকাশ করে যাতে দেখা যায়, চীনা হ্যাকাররা যুক্তরাষ্ট্রের গোপন অস্ত্র কর্মসূচিতে অনুপ্রবেশ করেছে। সাইবার হামলা নিয়ে প্রায়ই উভয় দেশ একে অপরকে অভিযুক্ত করে থাকে।
অবশ্য সাইবার হামলার ঘটনায় চীনকে তিরস্কার করলেও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার সম্পর্ক থাকা দরকার বলেও উল্লেখ করেছেন হেগেল।
সম্মেলনে অংশ নেওয়া ইন্দোনেশিয়া, যুক্তরাজ্য ও জাপানসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের সবার কণ্ঠেই ছিল অনেকটা একই সুর। তাঁরা বলেছেন, সামরিক খাতে ক্রমবর্ধমান ব্যয় বৃদ্ধির মাধ্যমে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা রুখতে হবে।
চীন, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপানসহ এ অঞ্চলের বেশ কিছু দেশ শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে সামরিক খাতে ব্যয় বাড়িয়ে চলেছে। এটাকে নিয়ন্ত্রণে না আনা গেলে তার বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে।

রবার্ট ব্রুসের অজানা চিঠিতে নতুন তথ্য

স্কটল্যান্ডের রাজা রবার্ট ব্রুসের এত দিন অজানা একটি চিঠি পাওয়া গেছে। চিঠিতে ইংল্যান্ডের সঙ্গে স্কটল্যান্ডের ঐতিহাসিক ব্যানকবার্ন যুদ্ধের প্রসঙ্গ উল্লেখ আছে। স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতাসংগ্রাম বিষয়ে ঐতিহাসিকদের নতুন তথ্য জুগিয়েছে এ চিঠি।
চিঠিটি ১৩১০ সালে ইংল্যান্ডের রাজা দ্বিতীয় এডওয়ার্ডের কাছে পাঠানো হয়। এতে স্কটল্যান্ডের বাসিন্দাদের শাস্তি না দিতে রাজা এডওয়ার্ডের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। রবার্ট ব্রুস নিজেকে স্কটল্যান্ডের ‘ঈশ্বর প্রদত্ত’ কর্তৃপক্ষ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি রাজা এডওয়ার্ডকে তাঁর সমকক্ষ হিসেবে সম্বোধন করেন। ১৩১৪ সালের ব্যানকবার্ন যুদ্ধে ব্রুসের স্কটিশ বাহিনীর হাতে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয় ইংরেজরা।
চিঠিটি দৈবক্রমে খুঁজে পেয়েছেন স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কটিশ ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ডভিট ব্রাউন। তবে মনে করা হচ্ছে, এটি আসল চিঠি নয়, বরং প্রতিলিপি।
সুদীর্ঘ ওই চিঠিতে দেখা যাচ্ছে, ব্রুস এমন সময়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার আবেদন জানিয়েছিলেন যখন ইংরেজ বাহিনী স্কটল্যান্ডের কেন্দ্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। তবে তখন এটিও মনে হচ্ছিল যে রাজা দ্বিতীয় এডওয়ার্ড স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেবেন।
ঐতিহাসিকদের মতে, রাজা দ্বিতীয় এডওয়ার্ড ও তাঁর রাজসভার পদস্থ ব্যক্তিরা তখন ক্রমেই অজনপ্রিয় হয়ে উঠছিলেন। অন্যদিকে স্কটিশ জনগণের হূদয় ও মন জয় করার মাধ্যমে রবার্ট ব্রুস ক্রমেই দেশের উত্তর সীমান্ত এলাকায় নিজের অবস্থান ফিরে পাচ্ছিলেন।
অধ্যাপক ব্রাউন বলেন, এ চিঠিতে দুটি বিষয় প্রকাশ পেয়েছে। প্রথমত, ব্রুসের বলার ভঙ্গি ছিল অত্যন্ত আপসমূলক। অবশ্য তিনি এডওয়ার্ডকে এমনভাবে সম্বোধন করেছেন, যাতে মনে হয়েছে এক রাজা আরেক রাজার সঙ্গে কথা বলছেন। তিনি আরও বলেন, এখানে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই যে চিঠির শেষ লাইনের বক্তব্য ছিল, রাজা দ্বিতীয় এডওয়ার্ডকে এ মর্মে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত যে রবার্ট ব্রুস স্কটিশ রাজা এবং স্কটল্যান্ড ইংল্যান্ড থেকে পৃথক।

ইরাকের সহিংসতা বন্ধে রাজনৈতিক সমাধান জরুরি

ইরাকের অব্যাহত সহিংসতা বন্ধে রাজনৈতিক সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হবে। শুধু নিরাপত্তা জোরদার করে রক্তক্ষয় বন্ধ করা যাবে না। ইরাক বিশেষজ্ঞ ও দেশটির কর্মকর্তারা এ কথাই বলছেন।
সংশ্লিষ্টদের অভিমত, ইরাকের সরকার সহিংসতা দমনে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। শুধু গত মে মাসে সহিংসতায় ৬০০ জনের বেশি নিহত হয়েছে। আর গত দুই মাসে নিহতের সংখ্যা এক হাজারের ওপর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরাকের চলমান সহিংসতার অন্যতম কারণ সুন্নিদের অসন্তোষ। কথিত বৈষম্য ও অবিচারের প্রতিবাদে গত ডিসেম্বরে দেশটির সুন্নিরা বিক্ষোভ করেন। পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, এর সমাধানে শিয়া ও সুন্নি সম্প্রদায়ের মধ্যে আলোচনা ছাড়া উপায় নেই।
এ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক সংকটবিষয়ক গোষ্ঠীর (ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ) ইরাক বিশেষজ্ঞ মারিয়া ফানটাপপাই বলেন, ইরাকের সরকারকে সত্যিকারের সমাধানের ইচ্ছা প্রদর্শন করে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে আলোচনা করতে হবে। কিন্তু তাঁরা একটি নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট বিষয় হিসেবে সহিংসতার সমাধানের চেষ্টা করছে। এতে দেশটিতে সহিংসতা আরও বাড়ছে।
অন্যদিকে ইরাক বিশেষজ্ঞ একই গ্রুপের চেয়ারম্যান ঝুঁকি পরামর্শক জন ডেরেক বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ও গ্রেপ্তারে সহিংসতা কমছে না, বরং বাড়ছে। ভিন্নমত পোষণকারীদের সঙ্গে আরও সংশ্লিষ্ট হয়ে সংলাপের মাধ্যমেই শুধু সহিংসতার সমাধান সম্ভব। কিন্তু বাগদাদ থেকে এখন পর্যন্ত সহিংসতার সমাধানে নেওয়া পদক্ষেপগুলো হলো কিছু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার রদবদল ও নিরাপত্তা জোরদারে কিছু অস্পষ্ট পদক্ষেপ।
তবে সরকারের কিছু পদক্ষেপ প্রশংসাযোগ্য। যেমন অনেক সুন্নি বন্দীর মুক্তি ও আল-কায়েদা জঙ্গি দমনে সুন্নি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের পারিশ্রমিক বৃদ্ধি। তবে এগুলো সহিংসতা বন্ধের জন্য কোনো বড় পদক্ষেপ নয়।
উল্লেখ্য, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইরাক অভিযানে সাদ্দাম হোসেনের পতন পর্যন্ত সুন্নিরা সংখ্যালঘু হয়েও দেশ শাসন করেছে। তাই বর্তমানে দেশটির শাসন ক্ষমতায় থাকা শিয়াদের নিয়ে সুন্নিদের মধ্যে প্রচণ্ড অসন্তোষ আছে। তাঁরা অভিযোগ করছেন, শিয়ারা তাঁদের সম্প্রদায়ের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে।
ইরাকের সুন্নি অধ্যুষিত অঞ্চলে গত বছর ডিসেম্বরে প্রথম বিক্ষোভ হয়। কিন্তু গত এপ্রিল মাসে সুন্নি বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর হামলায় অনেকে হতাহত হন। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
ইরাকের বিভিন্ন দল ও মতের রাজনীতিকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। সুন্নি অসন্তোষ ও স্থানীয় অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টাই এসব বিরোধের কারণ।
ইরাকে অবস্থানরত জাতিসংঘের দূত মার্টিন কবলার বলেন, রাজনৈতিক মতবিরোধের মীমাংসা করা সম্ভব হলে নিরাপত্তাব্যবস্থা অবশ্যই জোরদার হবে। কারণ জাতিগত সংঘাত বন্ধ হয়ে যাবে। তবে, ইরাকে এর বিপরীত অবস্থা দেখা যাচ্ছে।
ইউরেসিয়া গ্রুপের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের পরিচালক ক্রিসপিন হাওয়েস সুন্নিদের নিয়ে ইরাক সরকারের মনোভাব প্রসঙ্গে বলেন, ইরাকের সুন্নিদের ব্যাপারে শিয়া প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-মালিকির কোনো সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নেই। তাঁরা বরাবরই সুন্নিদের কারিগরি ও নিরাপত্তাঘটিত সমস্যা হিসেবে নিচ্ছেন। আল-মালিকির মনোভাবে বোঝা যাচ্ছে, তিনি ইরাকে রাজনৈতিক সমাধানে নয়, বরং সুন্নি দমনে নেমেছেন।

পুয়োলের বিকল্প খুঁজছে বার্সা

এরিক আবিদালের পর কি কার্লোস পুয়োলকেও ছেড়ে দিচ্ছে বার্সেলোনা? কোচ টিটো ভিলানোভার দেওয়া ইঙ্গিত তো এমনই। শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে ভিলানোভা বলেছেন, নতুন মৌসুম শুরুর আগেই বার্সেলোনার রক্ষণব্যূহের অন্যতম স্তম্ভ কার্লোস পুয়োলের বিকল্প খুঁজে বের করতে। এই মন্তব্যে গুঞ্জন খুব স্পষ্ট, তবে কি বার্সায় পুয়োলের দিন শেষ হয়ে এল!
এই মৌসুমটা একেবারেই ভালো কাটেনি পুয়োলের। বয়স ৩৫ হয়ে গেছে, সেটাকে ধর্তব্যের মধ্যে না নিলেও এই মৌসুমে চোট বেশ সমস্যায় ফেলেছে পুয়োলকে। চোটের কারণে মৌসুমটা যেন একেবারেই হতশ্রী হয়ে দেখা দিয়েছিল এই অভিজ্ঞ ডিফেল্ডারের জন্য। চোটে জর্জরিত পুয়োল মাঠে ফিরতে শরণাপন্ন হয়েছিলেন অস্ত্রোপচারেরও। কিন্তু ফলদায়ক হয়নি সেই অস্ত্রোপচার। বাধ্য হয়ে তাই পুয়োলকে বাদ দিয়েই চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে দল সাজাতে হয়েছিল বার্সেলোনাকে। শুক্রবারের সংবাদ সম্মেলনে সেই প্রসঙ্গটি টেনে ভিলানোভা ইঙ্গিত দিয়েছেন, বার্সেলোনা এখন হন্যে হয়েই বিকল্প খুঁজে বেড়াচ্ছে পুয়োলের।
‘পুয়োলের একজন উপযুক্ত বদলি খুঁজছি আমরা। আশা করছি, পুয়োল তার চোট কাটিয়ে উঠতে পারবে। কিন্তু ওর একজন বিকল্পও খুঁজে বের করে রাখা দরকার, যে রক্ষণব্যূহের হাল ধরবে।’
পুয়োল অবশ্য ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত অনায়াসেই খেলে যেতে পারবেন বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু ভিলানোভার এই মন্তব্যের পর তিনি এখন কী বলবেন? তাহলে কি শেষই হয়ে যাচ্ছে বার্সায় পুয়োল-উপখ্যান?

ইতালির সহজ জয়

র‌্যাঙ্কিংয়ের ৮ নম্বর দলের সঙ্গে ২০৭ নম্বর দলের লড়াই জমবে না, এটা অনুমিতই ছিল। ম্যাচটাও হলো একপেশে। পরশুর প্রীতি ম্যাচে দ্বিতীয় সারির দল নামিয়েও ইতালি ৪-০ গোলে হারিয়েছে স্যান মেরিনোকে। ২৮ মিনিটে দলকে প্রথম এগিয়ে দেন আন্দ্রেয়া পোলি, জাতীয় দলের হয়ে যেটা তাঁর প্রথম গোল। পরের গোল তিনটি করেছেন আলবার্তো জিলার্দিনো, আন্দ্রেয়া পিরলো আলবার্তো অ্যাকুইলানি। এসি মিলানের স্ট্রাইকার জুটি মারিও বালোতেল্লি ও স্টেফান শারাউয়িকে খেলাননি ইতালির কোচ প্রানদেল্লি।

সহজ জয় নাদালের

ফ্রেঞ্চ ওপেনে ঝড় তুলে এগিয়ে চলেছেন রাফায়েল নাদাল। শনিবার ইতালির ফ্যাবিও ফোর্জিনিকে ৭-৬, ৬-৪, ৬-৪-এ উড়িয়ে দিয়ে ১৬৫ মিনিটেই বের করে নিলেন ম্যাচটি। প্রতিযোগিতা শুরুর আগে নাদাল অবশ্য এর সূচি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। আঁটসাঁট সূচির কারণে আয়োজকদের মুণ্ডুপাত করতেও ছাড়েননি। তার পরও কী অনায়াসেই না তিনি জিতে নিলেন ম্যাচটি!
ম্যাচ শেষে নাদালের মন্তব্য, ‘এখনো কিছুই হয়নি। পাড়ি দিতে হবে আরও পথ। সব ম্যাচই আমার কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ।’
এদিকে, মেয়েদের বিভাগে জিতেছেন ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কাও। তিনিও লড়াই করে ফ্রান্সের অঁলিজে কর্নেটেকে হারিয়েছেন ৬-৩, ৬-১ গেমে।

হিগুয়েইনও নিশ্চিত করলেন ‘গুঞ্জন’

গুঞ্জনটা ছিলই। বেশ কিছুদিন থেকেই শোনা যাচ্ছে, ঘর বদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন গঞ্জালো হিগুয়েইন। তবে এটি আর গুঞ্জন থাকল না। রিয়াল মাদ্রিদের আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার নিজেই জানিয়ে দিলেন এই ইচ্ছার কথা। ২০১৬ পর্যন্ত চুক্তি থাকলেও এই গ্রীষ্মেই ঠিকানা পাল্টে ইতালিতে পাড়ি জমাতে চান। শোনা যাচ্ছে, ইতালিয়ান লিগ শিরোপা ঘরে তোলা জুভেন্টাস এবার ঘরে তুলবে হিগুয়েইনকেও।
২০০৭ সালে আর্জেন্টাইন ক্লাব রিভার প্লেট থেকে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিয়েছিলেন। গত ছয় মৌসুমে ১৯০ ম্যাচ খেলে ক্লাবের হয়ে ১২১টি গোল করেছেন। তবে এই মৌসুমে প্রায় সময়েই ব্রাত্য হয়ে থাকতে হয়েছে। প্রথম একাদশে নিয়মিত সুযোগ পেয়েছেন খুব কমই। কিন্তু বেঞ্চ গরম করতে কারই বা ভালো লাগে। রিয়ালে নিজের প্রাপ্য সম্মানটা পাচ্ছেন না বলেই হয়তো চলে যেতে চাইছেন।
কাল ওসাসুনার সঙ্গে ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের হিগুয়েইন বলেছেন, ‘আমার মনে হচ্ছে, এখানে আমার সময়টা শেষ হয়ে এসেছে। আমি এমন কোথাও যেতে চাই, যেখানে আমি সত্যিই নিজেকে প্রমাণ করতে পারব। জুভেন্টাসসহ আরও কিছু ক্লাব আমাকে নিয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। জুভেন্টাস একটা ঐতিহাসিক ক্লাব, আর অনেক কিংবদন্তি ফুটবলার সেখানে খেলে গেছেন। আমি আশা করছি রিয়াল মাদ্রিদ আমার ও তাদের নিজেদের জন্য যেটা সবচেয়ে ভালো হবে, সেটাই করবে।

বায়ার্নের ট্রেবল ‘অমরত্ব’

রেকর্ড বুক অনেকটা নতুন করে লিখে বুন্দেসলিগা জয়। বরুসিয়া ডর্টমুন্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়। সর্বশেষ গতকাল শনিবার রাতে স্টুটগার্টকে ৩-২ গোলে হারিয়ে জার্মান কাপ জয়। এক মৌসুমে তিনটি শিরোপা জয়ের ঐতিহাসিক কীর্তি গড়ল বায়ার্ন মিউনিখ।
প্রথম জার্মান ক্লাব হিসেবে ‘ট্রেবল’ জিতল বায়ার্ন। বায়ার্নের প্রধান নির্বাহী কার্ল হেইঞ্জ রুমেনিগে আগেই জানিয়ে রেখেছিলেন, জার্মান কাপ জিতলে তা হবে অমরত্ব লাভের সমান। তুলির শেষ আঁচড়টা দিয়ে গতকাল সেই অমরত্ব লাভ করেছে বায়ার্ন।
ত্রয়ী শিরোপা জয়ের কীর্তি ইউরোপের খুব বেশি ক্লাবের নেই। এর আগে সেল্টিক (১৯৬৭), আয়াক্স আমস্টারডাম (১৯৭২), পিএসভি (১৯৮৮), ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড (১৯৯৯), বার্সেলোনা (২০০৯) ও ইন্টার মিলান (২০১০) গড়েছিল কীর্তিটা। জার্মানিতে ইতিহাস গড়ে এবার কীর্তিটা গড়ল বায়ার্ন।
বুন্দেসলিগা ও চ্যাম্পিয়নস লিগের চেয়ে জার্মান কাপের লড়াইটা ছিল বায়ার্নের জন্য অনেক সহজ। তবে ফাইনালে পচা শামুকে যেন পা না কাটে, সেদিকে সতর্ক ছিল বাভারিয়ানরা। ম্যাচের প্রথম গোলটি হয় ৩৭ মিনিটে। পেনাল্টি থেকে বায়ার্নকে এগিয়ে দেন টমাস মুলার। এরপর স্টুটগার্টের জালে জোড়া আঘাত হানেন মারিও গোমেজ (৪৮ ও ৬১ মিনিট)। ৩-০ গোলে এগিয়ে যায় বায়ার্ন। মনে হচ্ছিল, শিরোপা নির্ধারণী লড়াইয়ে বায়ার্নের কাছে বিধ্বস্ত হতে চলেছে স্টুটগার্ট। সেটা অবশ্য হয়নি। পরবর্তী সময়ে দুটি গোল শোধ করেন স্টুটগার্টের মার্টিন হারনিক (৭১ ও ৮০ মিনিট)।