Thursday, February 7, 2019

সংবিধান সংশোধন প্যানেল গঠনের প্রস্তাব পাস করেছে মিয়ানমারের পার্লামেন্ট

সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে আলোচনা করতে একটি কমিটি গঠনের পক্ষে ভোট দিয়েছে মিয়ানমারের পার্লামেন্ট। সেনাবাহিনী মনোনীত বা সেনাবাহিনী সমর্থিত এমপিরা এমন উদ্যোগের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া সত্ত্বেও এ প্রস্তাব পাস করেছে পার্লামেন্ট। সংবিধান সংশোধন করা হলে তাতে সেনাবাহিনীর বর্তমান ক্ষমতার প্রতি চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
২০০৮ সালে সংবিধানের একটি খসড়া প্রণয়ন করেছিল দেশটির সেনাবাহিনী। ওই খসড়াটিতে অসাংবিধানিক বলে মনে করে নেত্রী অং সান সুচির ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি)। গত সপ্তাহে এই দলটি সংবিধান সংশোধনের জন্য পার্লামেন্টে একটি ‘ইমার্জেন্সি প্রোপোজাল’ বা জরুরি প্রস্তাব জমা দেয়। সেই প্রস্তাবটির প্রেক্ষিতে একটি প্যানেল গঠনের বিষয় আজ বুধবার ভোটে পাস করেছে দেশটির পার্লামেন্ট।
প্রায় তিন বছর ক্ষমতায় অং সান সুচি। কিন্তু এ সময়টি তার জন্য সেনাবাহিনীর ক্ষমতা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। পার্লামেন্টে যখন আজ এ প্রস্তাবটি ভোটে পাস হয় তখন সেনাবাহিনী নিয়োজিত পার্লামেন্ট সদস্যরা কড়া প্রতিবাদ জানান। বিরোধিতা প্রকাশ করতে তারা নীরবে কয়েক মিনিট দাঁড়িয়ে থাকেন।
রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর ভয়াবহ নৃশংসতার ঘটনায় দেশটির সামরিক ও বেসামরিক নেতারা আন্তর্জাতিক প্রচণ্ড চাপের মুখে রয়েছেন। ঠিক এমনই এক সময়ে সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি প্যানেল গঠনের প্রস্তাব পাস হলো।

ইসলামবিদ্বেষী বই লিখতে গিয়ে নিজেই মুসলিম হলেন ডাচ্‌ রাজনীতিবিদ

ইসলাম ধর্মের কট্টর সমালোচক নেদারল্যান্ডসের সাবেক সংসদ সদস্য ও উগ্র ডানপন্থি রাজনীতিবিদ জোরাম ভ্যান ক্ল্যাভারেন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। এক সময় এই ক্ল্যাভারেনই ইসলামকে শতাব্দীর সবচেয়ে বড় দুর্যোগ আখ্যা দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, একশ’ বছরের নেদারল্যান্ডসে আঘাত হানা সবচেয়ে বড় দুর্যোগের নাম হলো ইসলাম। এই বিদ্বেষী মনোভাব থেকেই তিনি ইসলামের সমালোচনা করে একটি বই লিখতে শুরু করেন। কিন্তু এটি তার জীবনে যুগান্তকারী পরিবর্তন ঘটিয়েছে। ইসলাম সম্পর্কে নিজের মনোভাব তো বদলেছেনই, একই সঙ্গে নিজের পূর্বপুরুষের ধর্ম ছেড়ে ইসলাম গ্রহণ করেছেন তিনি। বৃটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফের খবরে বলা হয়েছে, জোরাম ক্ল্যাভারেন ছিলেন নেদারল্যান্ডসের কট্টর ইসলামবিদ্বেষী রাজনীতিক গ্রিট উইল্ডার্সের ডান হাত। সব সময় তিনি ইসলামের দোষ-ত্রুটি খুঁজে বেড়াতেন।
বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে অযাচিতভাবে ইসলামকে দোষারোপ করতেন। এর ধারাবাহিকতায় তিনি ইসলামের সমালোচনা করে একটি গবেষণাধর্মী বই লেখার উদ্যোগ নেন। কিন্তু এই গবেষণা ইসলাম সম্পর্কে তার ধারণা পুরোপুরি বদলে দেয়। ইসলাম গ্রহণের পর ৪০ বছর বয়সী জোরাম ভ্যান ক্ল্যাভারেন বলেন, তিনি তার মন পরিবর্তন করেছেন এবং ইসলামবিরোধী একটি বই লিখতে গিয়ে তিনি নিজেকে বদলে নিয়েছেন। মঙ্গলবার তিনি নেদারল্যান্ডসের একটি রেডিও চ্যানেলকে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বহু কিছুর ভেতর দিয়ে তিনি ইসলামের ছায়াতলে এসেছেন। ক্ল্যাভারেন জানান, আমি ইসলামবিরোধী বই লিখতে গিয়ে বহু জিনিসের পাল্টা যুক্তি-তর্ক তুলে ধরেছি। এগুলো আমার দৃষ্টিভঙ্গিকে নাড়া দিয়েছে। ভ্যান ক্ল্যাভারেন ছোটবেলা থেকেই অর্থডক্স প্রোটেস্ট্যান্ট খ্রিষ্টান পরিবেশে বেড়ে ওঠেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, বহুদিন ধরেই আমি এমন কিছু খুঁজছিলাম। ইসলাম গ্রহণের পর মনে হচ্ছে আমি আমার পথের ঠিকানা পেয়েছি। নেদারল্যান্ডস সংসদের নিম্নকক্ষে দীর্ঘদিন ধরে ভ্যান ক্ল্যাভারেন বিরামহীনভাবে ইসলামের বিরুদ্ধে প্রচারণা  চালিয়েছেন। ২০১০ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি নেদারল্যান্ডসের সংসদ সদস্য ছিলেন।

একটি হিল্লা বিয়ে নিয়ে আলোচনা ভারতে

একটি ‘হিল্লা’ বিয়ে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ভারতে। রায়বেরেলির একজন নারী অভিযোগ করেছেন তাকে প্রথমে তার শ্বশুরের সঙ্গে হিল্লা বিয়ে দেয়া হয়েছিল। পরের বার তার এক দেবরের সঙ্গে হিল্লা বিয়ে দেয়া হয়। এ ঘটনায় আদালতে গিয়েছেন ওই নারীর এক বোন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া। এতে ওই নারীর নাম প্রকাশ করা হয় নি। বল াহয়েছে ২০০৯ সালের ৫ই জুলাই কিলা এলাকার একজন বাসিন্দার সঙ্গে বিয়ে হয় ওই নারীর। এরপর তাদের দাম্পত্য বেশ ভালই কাটছিল।
এরপরই তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার ওপর নির্যাতন শুরু করে। কারণ, তিনি সন্তানের জন্ম দিতে পারছিলেন না। এ অবস্থায় তারা ওই নারীকে বাঁজা বলে আখ্যায়িত করতে থাকে। তাকে কয়েকদিন রাখা হয় খাবার ছাড়া। মামলায় তার বোন বলেছেন, সামান্য কারণে আমার বোনকে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন প্রহার করতেন। এটা নিয়মে পরিণত হয়েছিল। অনেক বার আমার বোন তার স্বামীর হাতে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এক পর্যায়ে ২০১১ সালের ১৫ই ডিসেম্বর তার স্বামী তাকে তিন তালাক দেয়। এ সময় আমাদের পরিবার তার স্বামীকে তার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে অনুরোধ করে। সে তাতে রাজি হয়। তবে শর্ত দেয় যে, হিল্লা বিয়ে দিতে হবে তার পিতার সঙ্গে।
ওই নারীর বোন মামলায় আরো বলেছেন, আমার বোন যখন হিল্লা বিয়েতে অস্বীকৃতি জানায় তখন শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার ওপর জোর করে চেতনানাশক ইঞ্জেকশ পুশ করে। তারপর তার শ্বশুরের সঙ্গে হিল্লা বিয়ে সম্পন্ন করে। ১০ দিন ধরে তার শ্বশুর তাকে ধর্ষণ করতে থাকে। এরপরেই তিনি তাকে তিন তালাক দেন, যাতে আমার বোন তার স্বামীকে বিয়ে করতে পারে। আবার তাদের বিয়ে হয়।
মামলায় বলা হয়, ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে আমার বোনকে তার স্বামী আবার তিন তালাক দেয়। আবার তার পরিবার তার দেবরের সঙ্গে হিল্লা বিয়েতে জোর প্রয়োগ করতে থাকে। তাদের হিল্লা বিয়ে হয়েও যায়। এ অবস্থার আমাদের পরিবার বিষয়টি নিয়ে পারিবারিক আদালতে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এ মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ই ফেব্রুয়ারি। যৌতুক দাবি, অপ্রাকৃতিক যৌন সম্পর্ক, ইচ্ছাকৃত নির্যাতনের মাধ্যমে শাস্তি দেয়া, বিষাক্ত দ্রব্য প্রয়োগ করা, বন্দি করে রাখা সহ বেশ কয়েকটি অভিযোগে ওই মামলা হয়েছে। বিচারক অজয় সিংয়ের আদালতে মামলাটি গ্রহণ করা হয়।

চুক্তিতে কাজ করে দেয় দালালরা by হাফিজ মুহাম্মদ

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) মিরপুর কার্যালয়। রোববার দুপুর ১২টা। প্রধান ফটকের দুই পাশে বিচ্ছিন্নভাবে দাঁড়িয়ে থাকে কিছু যুবক। কেউ বিআরটিএ’র ফটকের ভেতরে যেতে চাইলেই সালাম দেন, কি কাজ করাবেন জানতে চান। পাশের ফটোকপি দোকানের সামনেও একই অবস্থা। টাকার বিনিময়ে কাজ করেন তারা। কখনও কখনও টাকা নিয়ে উদাও হয়ে যান দালালরা। দালালদের আটক করা হয় প্রায়ই।
কখনও কখনও তদবির করে দালালদের ছাড়িয়ে নেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। গতকাল বিকালেও কয়েক দালালকে আটক করেছেন নিরাপত্তাকর্মীরা।
এর মধ্যে একজন দালালকে আটক করেন আব্দুল জলিলসহ কয়েক আনসার সদস্য। তাদের অভিযোগ, ওই দালাল লোকজনের সঙ্গে প্রতারণা করছিল। দালালকে ধরে প্রধান ফটকের ভেতরে আনার আগেই ছাড়িয়ে নেন স্থানীয় এক নেতা। এই দৃশ্য  ভিডিও ধারণ করতে গেলে ক্ষিপ্ত হন অন্য দালালরা। দালালদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিআরটিএ’র অফিসের নানা হয়রানি থেকে রক্ষা পেতেই তাদের সহযোগিতা নেয় মানুষ। এজন্য তারা পারিশ্রমিক নেন। তাছাড়া কাজ করাতে গেলে টাকার ভাগ দিতে হয় কয়েক ধাপে। সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় নেতা সবাইকে ভাগ দেন তারা। গাড়ি, ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে শুরু বিআরটিএ’র সকল কাজই করেন তারা।
গত ৩রা ফেব্রুয়ারি বিআরটিএ’র এই অফিসে গিয়ে দেখা গেছে, গেটে দাঁড়ানো মাসুদ নামের এক আনসার সদস্য। হাতে ওয়াকিটকি। কথা বলছেন বিভিন্নজনের সঙ্গে। কারো সঙ্গে কথা বলছেন কাগজপত্র হাতে নিয়ে। কখনো গেটে থেকে একটু দূরে গিয়ে আলাপ করছেন কারও সঙ্গে। মাসুদের কাছে জানতে যাওয়া হয় ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে তিনি কোনো সহযোগিতা দিতে পারবেন কি-না। তিনি ঝটপট জানালেন পারবেন। তবে খরচ লাগবে ১০ হাজার টাকা। কত সময় লাগবে জানতে চাইলে তিন মাসের কথা বলেন। তার আগে কোনোভাবে লাইসেন্স করিয়ে দিতে পারবেন কি-না জানতে চাইলে বলেন না এখন আর সেটা সম্ভব না।
একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে তিনি বলেন, ফোনে বিস্তারিত জেনে নিতে পারবেন। আমি স্যারদের ম্যানেজ করতে পারলে করে দিবো আরো কম সময়ে। শুধু মাসুদ নন সেখানে দায়িত্ব পালন করেন এমন অনেক আনসার সদস্য এমন কাজে জড়িত। তাদের ঘিরে আছে ছদ্মবেশি দালালও।
এক আনসার সদস্য গাড়ির লাইনের নিয়ন্ত্রণ করেন। হালকা যানবাহনের সিরিয়াল বিআরটিএ’র ভিতরে মান পরীক্ষাগারে ঢুকান। তবে তাকে কথা বলতে দেখা যায় গাড়ির কাগজপত্র করতে আসাদের সঙ্গেই বেশি। তিনি গাড়ির সিরিয়ালের কাজ রেখে গাড়ির কাগজপত্র হাতে নিয়ে দেখেন সমস্যা রয়েছে কিনা এবং তা কিভাবে সংশোধন দিবেন তাও বলে দেন। এভাবেই একেকজনের সঙ্গে একেকভাবে চুক্তি করেন। খদ্দের সেজে তার সঙ্গে লাইসেন্স কারানোর চুক্তি করতে চাইলে তিনি ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। বলেন, আমাকে ১০ হাজার টাকা দিলে আমি লাইসেন্স করে দিতে পারবো। তিনি ফোন নম্বর দিয়ে পরে যোগাযোগ করতে বলেন। পরবর্তীতে ফোন দিলে জানান, তার এক রেটই।
১০ হাজার টাকা লাগবে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য। তিনমাস সময় লাগবে। এর কমে তিনি পারবেন না। আর গাড়ির মালিকানা বদলানোর কাজও তিনি করে দিতে পারবেন তবে সে ক্ষেত্রে সব কাগজপত্র থাকতে হবে। গাড়ির পুরনো মালিককে নিয়ে আসতে হবে। সংবাদকর্মী পরিচয় দিয়ে পরে যোগাযোগ করা হলে কোনো কথা বলতে চাননি।
বিআরটিএ’র প্রধান গেটে কথা হয় আরো একজন আনসার সদস্যের সঙ্গে। এ সময় জানতে চওয়া হয় তিনি ড্রাইভিং লাইসেন্স করে দিতে পারবেন কি-না। তিনি প্রতিবেদককে গেট থেকে একটু দূরে নিয়ে বলেন, আমাকে নয় হাজার টাকা দিলে আমি করে দিতে পারবো। তার ফোন নম্বর দিয়ে যোগাযোগ করতে বলেন।
শুধু আনসার সদস্যরাই নয়। দালাল রয়েছে বিআরটিএ’র বাইরেও। তবে আগের চেয়ে তাদের সংখ্যা কমেছে। পিন্টু নামে এক দালাল বলেন, ৯ হাজার টাকা দিলে ড্রাইভিং লাইসেন্স করে দিতে পারবেন তিনি। তবে আগে যেমন ১ মাসের মধ্যে করে দিতেন এখন সেটা পারবেন না। এখন তিন মাস সময় লাগবে। শুধু আনসার সদস্যরা যে লাইসেন্স করাতে টাকা-পয়সা লেনদেন করেন এমনটা নয়। যেসব গাড়ি ফিটনেস করাতে আনা হয় সেখান থেকেও টাকার লেনদেন করেন। একটি প্রাইভেট কারের চালক বলেন, ঢুকতেও আমার কাছ থেকে টাকা নিলো আবার বের হতেও। আনসারদের ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ওরা তো আর তেমন টাকা পায় না। কিছু চাইলে না করা যায় না। কত টাকা দিয়েছেন জানতে চাইলে বলেন, আমি ৫০০ টাকা দিয়েছি।
মোটরসাইকেলের মালিকানা পরিবর্তন করতে বিআরটিএ অফিসে গিয়েছিলেন মনির। নিয়ম অনুযায়ী ২৩ টাকা ব্যাংকে জমা দিয়ে নিজের নামে ট্যাক্স টোকেন সংগ্রহ করতে হয়। প্রথমে টাকা জমা দিয়ে রশিদ নিয়ে টোকেন সংগ্রহ করতে হয়। টোকেন সংগ্রহ করতে গিয়ে ঝামেলা হওয়ায় অনেকে দালাল ধরে এ কাজটি করেন। দালাল জানায় এখন মালিকানা পরিবর্তন করতে ৫০০ টাকা লাগে। মনিরের সামনেই ব্যাংকের বুথে ৫০০ টাকা জমা দেয় ওই দালাল। পরে রশিদে দেখা যায় নির্ধারিত ২৩ টাকাই জমা হয়েছে। কথা ছিল দালালই ট্যাক্স টোকেন সংগ্রহ করে দেবে। কিন্তু কড়াকড়ির কারণে ওই টোকেন সংগ্রহ করতে পারেনি।
দালাল চক্রের তৎপরতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে বিআরটিএ’র পরিচালক (প্রশাসন) মো. ইউছুব আলী মোল্লা মানবজমিনকে বলেন, এখন দালালদের দৌরাত্ম্য অনেক কমে গেছে। তারপরও আমাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা রয়েছেন। তাদের কাছে কোনো ধরনের অভিযোগ এলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়া হয়। বিআরটিএ’র নিজস্ব কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখেন। এটা বড় একটি প্রতিষ্ঠান, কাজও থাকে অনেক বেশি। এ কারণে অনেক অবব্যস্থাপনাও দেখা যায়। তিনি বিআরটিএ’র সেবা গ্রহণ করতে আসা সাধারণ মানুষদের সরাসরি সেবা গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যদি সেবা গ্রহিতারা কোনো মাধ্যমে দ্বারস্থ না হন তা হলে এমন দালালদের আনাগোনা আর থাকবে না। আনসার সদস্যদের চুক্তির মাধ্যমে লাইসেন্স করে দেয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, এটা এখন অনেকটা বন্ধ হয়েছে। তারপরেও যদি নির্দিষ্ট কোনো সদস্য অসাধু উপায়ে লাইসেন্স করার কথা বলে তার ব্যাপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে বিআরটিএ। তিনি বলেন, বিআরটিএ’র সেবার মান বাড়াতে এবং সম্পূর্ণ দালালমুক্ত করতে হলে সবার সহযোগিতার প্রয়োজন।

শ্মশান থেকে তুলে নবজাতকের মাথা কাটলো কিশোররা: মামলা, ৪ কিশোর সংশোধনাগারে by জিয়া চৌধুরী

মধ্যরাতে শ্মশানে একদল কিশোর-যুবা। শ্মশান থেকে মরদেহ তুলে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে মস্তক। তার ওপর লাল রক্ত ঢেলে আগুন জ্বেলে চলছে পূজা-অর্চনা। আধ্যাত্মিক শক্তি লাভের আশায় মধ্যরাতে কিশোর দলের এমন কাণ্ড। গা ছমছমে ভয়াল রাতে শ্মশানে মরদেহের মাথা বিচ্ছিন্ন করার ঘটনা বা গোয়েন্দা গল্পের কাহিনী মনে হলেও খোদ রাজধানীর শ্যামপুর থানার পোস্তগোলা শ্মশানে সোমবার রাতে ঘটে এমন কাণ্ড। কিশোরদের এমন ভৌতিক কর্মকাণ্ড টের পেয়ে আশপাশের লোকজনকে ডেকে আনেন শ্মশানের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পলাশ চক্রবর্তী। ধরে ফেলেন রুদ্রকুর্মী (১৮), শুভংকর চন্দ্র রায় (১৫), বিপুল দাস (১৫), রনক দে (১৫) ও বিজয় দে’কে (১৬)। অবশ্য ঘটনার নেতৃত্বে থাকা শুভ (২২) ও অজ্ঞাত আরো তিন যুবক পালিয়ে যায় বলে মানবজমিনকে জানান পলাশ চক্রবর্তী।
মঙ্গলবার, আটক পাঁচ কিশোর ও আরো তিনজনকে আসামি করে পেনাল কোডের ২৯৭/৩৪ ধারায় মামলা করা হয় বলে জানান ডিএমপির শ্যামপুর জোনের সহকারী কমিশনার মফিজুর রহমান।
গতকাল দুপুরে আসামিদের ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক আতিকুল ইসলামের এজলাসে হাজির করা হয়। রিমান্ড ও জামিন কোনো ধরনের আবেদন না থাকায় আসামিদের মধ্যে রুদ্রকৃর্মীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। অপর ৪ জনকে সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়। পলাশ চক্রবর্তী মানবজমিনকে জানান, সোমবার রাত ২টার দিকে পোস্তগোলা শ্মশানে পাহারা দিচ্ছিলেন তিনি। এ সময় ৯/১০ জন যুবক ও কিশোর শ্মশানে প্রবেশ করে। এর কিছু পরেই আগুন জ্বলতে থাকলে কাছে গিয়ে দেখি বীভৎস চিত্র। শাঁখারীবাজারের বরীন্দ্র চন্দ্র দত্তের কন্যাশিশুর মরদেহ তুলে তার মাথা বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছে। আগুন জ্বালিয়ে এ সময় পূজা-অর্চনা করতে থাকে তারা।
এর আগের দিন রোববার শিশুটির মরদেহ সমাধিস্থ করা হয়। পরে, পোস্তগোলা শ্মশান ঘাট এলাকার স্থানীয় আনসার সদস্য মজিবুর রহমান, স্বপন লাল ডোম, মোহন লাল ডোম ও ভারত লাল ডোমের সহায়তায় পাঁচজনকে ধরতে সক্ষম হন তারা। লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় শুভ ও তার সঙ্গে থাকা আরো তিনজন। পরে শ্যামপুর থানায় বাদী হয়ে একটি মামলা করেন পলাশ চক্রবর্তী। তবে, ঠিক কি কারণে সদ্য সমাহিত শিশুকে বেছে নেয়া হয়েছে এ বিষয়ে ধোঁয়াশা আছে সবার মাঝে। কেউ কেউ বলছেন, সদ্য মৃত একজনের লাশই হয়তো তুলতে চেয়েছিল কিশোর গ্যাংটি। এ কারণে হয়তো আগে থেকেই খোঁজ-খবর নিয়ে রবীন্দ্র চন্দ্রের কন্যা শিশুর লাশকে টার্গেট করে রেখেছিল আসামিরা।
মামলার এজাহারে, আসামিদের বিরুদ্ধে একই উদ্দেশ্যে শ্মশানে অনধিকার প্রবেশ করে মৃতদেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করার অপরাধ উল্লেখ করা হয়। এ ধরনের কোনো মামলা দায়েরের ঘটনা মহানগর পুলিশের ইতিহাসে এর আগে ছিল না বলে জানিয়েছে কয়েকটি সূত্র। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক আমিরুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কৌতূহলবশত শ্মশানে মরদেহ নিয়ে আধ্যাত্মিক শক্তি লাভের কথা স্বীকার করেছে গ্রেপ্তার কিশোররা। তবে, তাদের মধ্যে বয়সে বড় ও জনতার হাত থেকে পালিয়ে যাওয়া শুভ এমন ঘটনার মূল হোতা বলে জানিয়েছে আটক কিশোররা। ওইদিন শ্মশানে যাওয়া সবার বাড়ি রাজধানীর কোতোয়ালি থানার সূত্রাপুর এলাকায়।
ঘটনার পর থেকে পলাতক শুভ’র পরিবারও তার অবস্থান সম্পর্কে জানে না বলে মানবজমিনকে জানান আমিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, আসামিরা কিশোর হওয়ায় ও প্রথম অপরাধ বিবেচনায় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে, নিছক কৌতূহল না কি অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। আমরা চেষ্টা করবো নিরপরাধ কেউ যেন সাজা না পায়। পাশাপাশি, পলাতক শুভকে খুঁজে পেলে ঘটনার মূল্য উদ্দেশ্য জানা যাবে বলেও জানান তদন্তকারী কর্মকর্তা।

মুক্ত গণতন্ত্রের তালিকায় নেই বাংলাদেশ -ফ্রিডম হাউসের রিপোর্ট

নাগরিক স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক অধিকারের বিচারে তৈরি মুক্ত গণতান্ত্রিক দেশের তালিকায় বাংলাদেশ নেই। সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনায় বাংলাদেশকে ‘আংশিক মুক্ত’ গণতন্ত্রের দেশহিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা সংস্থা ফ্রিডম হাউস। সংস্থাটির ‘ফ্রিডম ইন দ্য ওয়ার্ল্ড-২০১৯’ শীর্ষক রিপোর্টে দেখা যায়, গণতান্ত্রিক স্বাধীনতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ১০০ পয়েন্টের মধ্যে ৪১ পয়েন্ট লাভ করেছে।
সুনির্দিষ্টভাবে রাজনৈতিক স্বাধীনতার ক্ষেত্রে ৭ স্তরবিশিষ্ট নিম্নমুখী সূচকে  বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম স্তরে। একই ভাবে নাগরিক স্বাধীনতার সূচকেও বাংলাদেশ পঞ্চম অবস্থানে। আর সামগ্রিকভাগে গণতান্ত্রিক স্বাধীনতার ৭ স্তর বিশিষ্ট নিম্নমুখী সূচকেও বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম স্তরে। আর ১০০ স্তরবিশিষ্ট সূচকে বাংলাদেশ পেয়েছে ৪১ পয়েন্ট। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি নিয়ে ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নিরাপত্তা বাহিনী বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর ব্যাপক দমনপীড়ন চালিয়েছে।
তারা নন্দিত ব্যক্তিদেরকে গ্রেপ্তার ও ভীতি প্রদর্শন করেছে। আর ব্যাপক অনিয়মের কারণে ওই নির্বাচন চিহ্নিত হয়ে রয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে সহিংসতা ঘটেছে। যাতে এক ডজনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
শুধু বাংলাদেশই না, বৈশ্বিক পরিমণ্ডলেও গণতান্ত্রিক পরিস্থিতির ক্রমশ অবনতি ঘটছে। ফ্রিডম হাউসের গবেষণা রিপোর্ট বলছে, টানা ১৩ বছর ধরে গণতান্ত্রিক পরিস্থিতির অবনতি দেখছে বিশ্ব। সুপ্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক দেশ থেকে শুরু করে দীর্ঘদিন ধরে কর্তৃত্ববাদী শাসনের অধীনে থাকা দেশ পর্যন্ত, সব খানেই গণতন্ত্রের স্বাধীনতাসূচক নিম্নমুখী। এর কারণ হিসেবে সংস্থাটি মনে করে, বিশ্ব রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্যে নতুন মেরূকরণের কারণেই পূর্বের তুলনায় অধিক দেশ এখন কর্তৃত্ববাদের প্রতি ঝুঁকছে। আর এতে গণতন্ত্র পিছু হটছে।
রিপোর্টে গণতান্ত্রিক অবস্থার ভিত্তিতে বিশ্বের দেশগুলোকে তিন ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। সেগুলো মুক্ত, আংশিক মুক্ত ও মুক্ত না। পূর্ববর্তী কয়েক বছরের মতো এবারো বাংলাদেশের ঠাঁই হয়েছে আংশিক মুক্ত ক্যাটাগরিতে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভুটান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, পাকিস্তান, মালদ্বীপ ও মিয়ানমারও আংশিক মুক্ত গণতন্ত্রের তালিকায় রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র দেশ হিসেবে ভারত মুক্ত গণতন্ত্রের তালিকায় রয়েছে।  দেশটির স্কোর ৭৫। বৈশ্বিক পর্যায়ে গণতান্ত্রিক সূচকে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে সুইডেন, নরওয়ে ও ফিনল্যান্ড। ইউরোপের এই দেশগুলো ১০০ পয়েন্টের মধ্যে পুরো পয়েন্ট অর্জন করেছে। মুক্ত গণতন্ত্রের তালিকায় স্থান পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে দেশটির গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে ফ্রিডম হাউস।

স্বীকার করলেন জেনিফার লরেন্স

অস্কার পুরস্কার বিজয়ী মার্কিন অভিনেত্রী জেনিফার শ্রাদার লরেন্স (২৮) কবুল করলেন। স্বীকার করে নিলেন বয়ফ্রেন্ড কুক ম্যারোনির সঙ্গে তার এনগেজমেন্ট হয়ে গেছে। বিস্ময়কর সুন্দরী এই নায়িকার এমন সম্পর্ক নিয়ে অনেকদিন ধরেই নানা জল্পনা কল্পনা চলছিল। শেষ পর্যন্ত নিউ ইয়র্কে তার হাতে দেখা যায় বিশাল একটি আংটি। আর তাতেই ধরা পড়ে যান তিনি। ব্যস, কবুল করে নেন এনগেজমেন্টের কথা। হলিউড জগতে ভীষণ জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী। তার ছবি থেকে বিশ্বজুড়ে এ পর্যন্ত আয় হয়েছে ৫৭০ কোটি ডলারের বেশি।
২০১৫ ও ২০১৬ সালে বিশ্বে তিনিই ছিলেন সবচেয়ে বেশি দামি অভিনেত্রী। ২০১৩ সালে তিনি বিশ্ববিখ্যাত টাইম ম্যাগাজিনের ১০০ সবচেয়ে প্রভাবশালী মানুষের অন্যতম নির্বাচিত হন। ২০১৪ ও ২০১৬ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিনের ১০০ সেলিব্রেটির তালিকায়ও ছিল জেনিফার লরেন্সের নাম।


‘সিলভার লাইনিংস প্লেবুক’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য তিনি জিতেছেন অস্কার পুরস্কার। একদিকে ব্যবসায় সফল, অন্যদিকে আকর্ষণীয় চেহারা। সব কিছু মিলে তিনি যুবক হৃদয় তো বটেই অসংখ্য বয়সী মানুষের হৃদয়ে কাঁপন ধরিয়ে দেন। তার দিকে হা করে তাকিয়ে থাকেন অসংখ্য পুরুষ। অনেকেই তার পাণি প্রার্থনা করেছেন। কিন্তু জেনিফার সেই স্থানটি সবাইকে দেন নি। গত সপ্তাহান্তে তাকে নিউ ইয়র্কে দেখা গেছে। সঙ্গে আর্ট ডিলার হিসেবে পরিচিত ম্যারোনি (৩৪)। তারা এক সঙ্গে রাতে ডেটিং করতে বেরিয়েছিলেন।

এ সময়ই জেনিফারের হাতে ধরা পড়ে অনেক বড় একটি আংটি। ম্যারোনির সঙ্গে তার প্রথম রোমান্টিকতা শুরু হয় ২০১৮ সালের জুনে। তার পর থেকে এই যুগলকে নিউ ইয়র্কের বহু সামাজিক অনুষ্ঠানে একসঙ্গে দেখা গেছে। ফলে তাদেরকে নিয়ে চারদিকে ব্যাপক আলোচনা, কানাঘুষা। একজন তথ্যদাতা বলেছেন, এ সময় তাদেরকে দেখে মনে হতো তারা উপভোগ করছেন। লোকজন তাদেরকে নিয়ে কথা বলাবলি করছে- এতে তারা মজা পাচ্ছেন। তবে জেনিফারের হাতের ওই আংটিটি খুবই চোখে পড়ার মতো। তারা একটি রেস্তোরাঁর এক প্রান্তে বসে ছিলেন। প্রথমে একা একা কিছু সময় বসে ছিলেন জেনিফার। এর কিছুক্ষণ পরে সেখানে গিয়ে যোগ দেন ম্যারোনি। জেনিফারের একজন মুখপাত্র তাদের এনগেজমেন্টের কথা স্বীকার করেছেন। তবে কবে তারা বিয়ে করবেন তা নির্ধারিত হয় নি।


উল্লেখ্য, এর আগে জেনিফার লরেন্স চুটিয়ে ডেটিং করেছেন ‘মাদার!’ ছবির পরিচালক ড্যারেন আরোনোফস্কির সঙ্গে। কিন্তু তাদের বয়সের ব্যবধান বিশাল। তাই সেই সম্পর্ক ভেঙে গেছে। ২০১৮ সালে এ সম্পর্ক নিয়ে কৌতুক করেছিলেন জেনিফার। তিনি বলেছিলেন, আমি পরিষ্কার করে বলছি, দীর্ঘদিন ধরে আমি যৌন সম্পর্ক স্থাপন করি না। আমার একটা সম্পর্ক (রিলেশনশিপ) গড়ে তোলা দরকার, যা ওখানে কঠিন ছিল।