Friday, April 22, 2011

আঞ্চলিক বৈষম্য ও সিলেট বিভাগ by সমীর রঞ্জন নাথ ও রাশেদা কে চৌধুরী

প্রাকৃতিক সম্পদ আর জনসাধারণের সাধারণ অর্থনৈতিক সামর্থ্যের নিরিখে সিলেট বিভাগ বেশ সমৃদ্ধিশালী। অথচ সামাজিক সাফল্যের নিরিখে এর অবস্থান তত ভালো নয়। শিক্ষাক্ষেত্রে সিলেট বিভাগের অনগ্রসরতার কারণ অনুসন্ধান এবং এ অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজে বের করার উদ্দেশ্যে এডুকেশন ওয়াচ-এর সর্বশেষ গবেষণায় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমাদের এ প্রবন্ধ উপর্যুক্ত গবেষণার প্রধান কিছু ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে রচিত।
গবেষণায় দেখা গেছে, সিলেটের শহরাঞ্চল ছাড়া পুরো জনপদেই শিশুদের বিদ্যালয়ে অভিগম্যতার হার জাতীয় পর্যায়ের গড় হারের তুলনায় কম। সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলায় এবং হাওর ও চা-বাগান এলাকায় এই হার জাতীয় পর্যায়ের গড় হারের অনেক নিচে। যেখানে সিলেট বিভাগের ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশ গ্রামে শুধু কাঁচা রাস্তা রয়েছে। সেখানে হাওরাঞ্চলের ৫৪ শতাংশ গ্রামের অবস্থাই এ রকম। প্রধান শিক্ষকেরা জানালেন, শুকনো মৌসুমে যেখানে এক-পঞ্চমাংশ শিক্ষার্থীকে ‘খারাপ’ রাস্তাঘাট পার হয়ে বিদ্যালয়ে আসতে হয়, সেখানে বর্ষা মৌসুমে প্রায় দ্বিগুণসংখ্যক শিক্ষার্থীকে এই অবস্থায় পড়তে হয়। এ অবস্থা শিশুদের শিক্ষায় নিরুৎসাহিত করে।
সাধারণভাবে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের শিশুদের তুলনায় সিলেট বিভাগের শিশুরা স্কুলে ভর্তি হয় দেরিতে, আবার আগাম ঝরে পড়ার হারও বেশি। বয়সভিত্তিক নিট ভর্তি হারের বিশ্লেষণ থেকে দেখা যায়, সিলেটের প্রতিটি বয়স গ্রুপের শিশুদের নিট ভর্তি হার এ-সংক্রান্ত জাতীয় গড় হারের চেয়ে কম। যেখানে বাংলাদেশের ছয় বছর বয়সী শিশুদের ৬৫ শতাংশ স্কুলে ভর্তি হয়, সেখানে সিলেট বিভাগের একই বয়সী শিশুদের মধ্যে এই হার মাত্র ৫২ শতাংশ। শিশুদের স্কুলে ভর্তি করানোর বয়স সম্পর্কে অভিভাবকেরা অবহিত না থাকা এবং স্কুলে নিয়ে যাওয়ার পরও ভর্তি করে না নেওয়া অন্যতম কারণ হিসেবে পাওয়া গেছে। অবশ্য অভিভাবকদের একটি অংশ ভর্তি না করানোর কোনো কারণ বলতে পারেননি। শিশুর বয়স ১৫ বছর হতেই সমতল ভূমির অর্ধেক শিশু, হাওরাঞ্চলের ৬০ শতাংশ শিশু এবং চা-বাগান, পাহাড় ও বনভূমির ৭৩ শতাংশ শিশু বিদ্যালয়বহির্ভূত শিশুতে পরিণত হয়। এ-সংক্রান্ত তুলনামূলক জাতীয় হার ৪০ শতাংশেরও নিচে। ঝরে পড়া শিশুদের একটি অংশের পরিবারগুলো পড়ালেখার ব্যয়ভার বহন করতে নিতান্তই অপারগ, আর অন্যরা অল্প বয়সেই আয়-উপার্জনের জন্য নানা ধরনের কাজে যোগ দেয়। বিদ্যালয়ে শিক্ষণ-শিখনের দুর্বল মান, শেখানোর ক্ষেত্রে যত্নের অভাব শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।
অভিভাবকেরা সার্বিকভাবে শিক্ষার গুরুত্ব বোঝেন। এমনকি দরিদ্র পরিবারের মা-বাবাদের ক্ষেত্রেও শিক্ষার ব্যাপারে আগ্রহের কমতি নেই। কিন্তু তাঁরা যখন শিশুর শিক্ষালাভকে তাঁদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সঙ্গে তুলনা করেন, তখন অনেক ক্ষেত্রেই দ্বিতীয়টি প্রাধান্য লাভ করে। এ কারণেই সিলেটের গ্রামীণ এলাকায় শিশুশ্রমের ব্যাপক প্রাধান্য লক্ষ করা গেছে। এই শিশুদের কেউ অর্থের বিনিময়ে আবার কেউ বা বিনা মূল্যে শ্রম দান করে। এর সঙ্গে যোগ হয় উন্নত জীবনের প্রত্যাশায় বিদেশ যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা, বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে। এ বিষয়গুলোকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানেরা সামগ্রিকভাবে ‘অভিভাবকদের অসচেতনতা’ হিসেবেই চিহ্নিত করেছেন। এ ব্যাপারে তেমন কার্যকর উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি।
দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় সিলেট বিভাগে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কম নেই। কিন্তু এখানে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভাব রয়েছে। এটি অন্তত মাধ্যমিক শিক্ষাক্ষেত্রে কম বিনিয়োগের লক্ষণ। সিলেটের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক উভয় ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই শিক্ষকস্বল্পতা পাওয়া গেছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা আর প্রশিক্ষণ প্রাপ্তির দিক থেকে সিলেট বিভাগের শিক্ষকেরা অবশ্য দেশের অন্যান্য অঞ্চলের শিক্ষকদের মতোই। নারী শিক্ষকের অনুপাতে সিলেট বিভাগ এগিয়ে রয়েছে। কিন্তু দেখা গেছে, গ্রামীণ এলাকার বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এক-চতুর্থাংশ শহর এলাকায় বসবাস করেন।
বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকা, কার্যদিবসে দেরিতে উপস্থিত হওয়া ও বিদ্যালয় ছুটি হওয়ার আগেই বিদ্যালয় ত্যাগ করার দিক থেকে সিলেট বিভাগের শিক্ষকেরা দেশের অন্যান্য অঞ্চলের শিক্ষকদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছেন। সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার গ্রামীণ বিদ্যালয়গুলোর অবস্থা সবচেয়ে শোচনীয়। এসব এলাকার এক-চতুর্থাংশ শিক্ষক জরিপের দিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন। নারী শিক্ষক ও হাওর এলাকার শিক্ষকদের মধ্যে অনুপস্থিতির হার বেশি পাওয়া গেছে।
জরিপের দিন যেসব শিক্ষক বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের অল্পসংখ্যকই সময়ানুবর্তিতার উদাহরণ সৃষ্টি করতে পেরেছিলেন। বিশেষ করে, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে এই সমস্যার ব্যাপকতা লক্ষ করা গেছে। এ কারণে একজন প্রাথমিক শিক্ষক দৈনিক গড়ে ৫৬ মিনিট আর একজন মাধ্যমিক শিক্ষক দৈনিক গড়ে ৪৮ মিনিট শিক্ষক-শিক্ষার্থী সংযোগ সময়ের অপচয় করেছেন। সময় নষ্ট করার নিরিখে পুরুষ শিক্ষকেরা নারী শিক্ষকদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছেন। শিক্ষক-শিক্ষার্থী সংযোগ সময়ের একটি বড় অংশই এ কারণে অপচয় হয়, যা শিক্ষার্থীদের শিখন, সহপাঠক্রমিক কার্যক্রম এবং আচরণে বিরূপ প্রভাব ফেলে। এটি বিদ্যালয় শৃঙ্খলারও পরিপন্থী।
বিদ্যালয় পরিচালনার মৌলিক বিষয়গুলো যথাযথভাবে প্রতিপালনের ব্যাপারে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের কর্মোদ্যোগ খুব কমই লক্ষ করা গেছে। বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গত এক বছরে একবারও পরিদর্শন করা হয়নি। আবার বেশ কটি মাত্র এক বা দুবার পরিদর্শন করা হয়েছে–যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। উপজেলা রিসোর্স সেন্টার থেকে পরিদর্শনের ক্ষেত্রেও ব্যাপক দুর্বলতা পাওয়া গেছে। বিদ্যালয় পরিদর্শন সাধারণভাবে খুবই সাদামাটাভাবে করা হয়ে থাকে। পরিদর্শনকালে যা আলোচনা হয়, সেগুলো সরাসরি শিক্ষার মানোন্নয়নের সমস্যা বা সমস্যাগুলো থেকে উত্তরণের পথ অনুসন্ধানের কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। তবে এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়সংখ্যক কর্মকর্তার অভাব একটি বড় কারণ হিসেবে বের হয়ে এসেছে।
এখন প্রশ্ন হলো, এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য কী করা যেতে পারে? জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এ সমতা বিধানের যে আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করা হয়েছে, তার প্রতি মনোযোগ দেওয়া দরকার। বিকেন্দ্রীকৃত শিক্ষা পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার দিকে জোরালোভাবে এগিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। চা-বাগানে শিক্ষা পরিকল্পনা প্রণয়ন-প্রক্রিয়ায় বাগান ব্যবস্থাপকদের অংশগ্রহণ বিবেচনায় নিতে হবে। বর্ষা মৌসুমে হাওর এলাকার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য ওয়াটার বাস চালু করা যেতে পারে। শিক্ষা প্রসারে যেসব ইতিবাচক কর্মসূচি রয়েছে (যেমন উপবৃত্তি ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কর্মসূচি) সেগুলো সিলেটের কোনো কোনো অঞ্চলে বর্ধিত আকারে বিস্তৃত করা যেতে পারে। উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষা কর্মকর্তা এবং বিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষকসংখ্যা বাড়ানো দরকার। হাওর, চা-বাগান ও পাহাড়ের মতো দুর্গম এলাকার বিদ্যালয়সমূহে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জন্য বিশেষ ভাতার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। একই সঙ্গে বিদ্যালয় পর্যায়ে জবাবদিহি ও পরিদর্শনের মান বাড়ানো দরকার।
সবশেষে, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের অভিগম্যতার ক্ষেত্রে ছেলেমেয়ের যে সমতা অর্জিত হয়েছে ও নারী শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে যে অগ্রগতি লাভ করা গেছে, তা বজায় রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। আঞ্চলিক বৈষম্য দূরীকরণে দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার, যথাযথ কৌশল নির্ধারণ ও পর্যাপ্ত বিনিয়োগের দিকে নজর দেওয়া দরকার।
সমীর রঞ্জন নাথ, গবেষণা সমন্বয়ক, ব্র্যাক।
nath.sr@brac.net
রাশেদা কে চৌধুরী, নির্বাহী পরিচালক, গণসাক্ষরতা অভিযান।
rasheda@campebd.org

নর্দার্ন পাওয়ার সলিউশনের বন্ডে এসইসির অনুমোদন

সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) নর্দার্ন পাওয়ার সলিউশনের ১৭৫ কোটি টাকা মূল্যের কনভার্টেবল বন্ডের অনুমোদন দিয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার কমিশনের নিয়মিত সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে কমিশনের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
সাইফুর রহমান বলেন, পরিশোধিত মূলধন বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি ১৭ লাখ ৫০ হাজার বন্ড ইস্যু করে বাজার থেকে ১৭৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি ইউনিটের দাম হবে এক হাজার টাকা। বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে এই বন্ড ইস্যু করা হবে। এই বন্ডের মোট মেয়াদ সাড়ে চার বছর। প্রতিবছর ফান্ডটির ২৫ শতাংশ করে পরিশোধ হবে। প্রতিবছর বিনিয়োগকারীদের ১৮ শতাংশ সরল সুদ দেওয়া হবে। এ ছাড়া মেয়াদ শেষে মোট পাওনা পরিশোধের সময় আইপিওর দামে ফান্ডটির ৫০ শতাংশ সাধারণ শেয়ারে রূপান্তর হবে। তবে এ সময় আইপিও না এলে এটি নগদ অর্থে পরিশোধ করতে হবে।
এ ছাড়া এসইসির অনুমতি সাপেক্ষে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বন্ডটি হাতবদল করা যাবে।

এসিআই নগদ লভ্যাংশ দেবে ১২০ শতাংশ

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি এসিআইর পরিচালনা পর্ষদ গত ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়া অর্থবছরের জন্য ১২০ শতাংশ নগদ ঘোষণা করেছে।
প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক সাধারণ সভা ১৫ জুন সকাল নয়টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। এজিএমের রেকর্ড ডেট ৪ মে।
ডিএসই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সংবাদে প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, গত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাদের নিট লাভ ৫৯ কোটি ১৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা, শেয়ারপ্রতি মোট সম্পদের দাম (এনএভি) ২২৯.৭৬ টাকা। শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ২৯.৪০ টাকা এবং প্রতি শেয়ারে নেট ওপেনিং ক্যাশ ফ্লো ৩২.১৭ টাকা।

পাঁচ দিন পর দেশের পুঁজিবাজার ঊর্ধ্বমুখী

টানা পাঁচ দিন নিম্নমুখী প্রবণতার পর আজ বৃহস্পতিবার দেশের পুঁজিবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। আজ দুই স্টক এক্সচেঞ্জে বেশির ভাগ শেয়ারের দাম বেড়েছে। ফলে বেড়েছে সাধারণ সূচকও। লেনদেন গতকালের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয়। লেনদেনের প্রথম আধঘণ্টায় ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ৫১.২০ পয়েন্ট বেড়ে ৬১৮৩.৭৬ পয়েন্টে দাঁড়ায়। এরপর সূচক কিছুটা নিম্নমুখী হয়ে দুপুর ১২টার দিকে সূচক ১৭ পয়েন্ট কমে যায়। এরপর আবারও সূচক ওঠানামা করে। তবে বেলা পৌনে একটার পর থেকে সূচক আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়, যা সারা দিনই অব্যাহত থাকে। দিন শেষে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ৬০.০৫ পয়েন্ট বেড়ে ৬১৯২.৬২ পয়েন্টে দাঁড়ায়।
এ সময়ে হাতবদল হওয়া ২৫৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ২১২টির, কমেছে ৩৮টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে তিনটি প্রতিষ্ঠানের দাম। আজ ডিএসইতে ৪৭৬ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে ১৩৫ কোটি টাকা বেশি।
লেনদেনে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে সালভো কেমিক্যাল, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, বেক্সিমকো, মালেক স্পিনিং, আফতাব অটো, ডেসকো, বেক্সটেক্স, এসিআই, এসিআই ফরমুলেশন ও তিতাস গ্যাস।
এদিকে আজ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে সালভো কেমিক্যালের শেয়ারের দাম। এ ছাড়া এসিআই ফরমুলেশন, দেশ গার্মেন্টস, রহিমা ফুডস, রেকিট বেনকিজার, মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ, পুরবী জেনারেল ইনস্যুরেন্স, আনলিমা ইয়ার্ন, ইস্টার্ন ইনস্যুরেন্স ও অ্যাপেক্স স্পিনিং দাম বৃদ্ধি পাওয়া শীর্ষ ১০-এর তালিকায় রয়েছে।
আজ সবচেয়ে বেশি কমেছে সিটি ব্যাংকের শেয়ারের দাম। এ ছাড়া ইউনাইটেড ইনস্যুরেন্স, নর্দার্ন জুট, জেমিনি সি ফুডস, মুন্নু জুটেক্স, চতুর্থ আইসিবি, স্টাইল ক্র্যাফট, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, ইস্টার্ন কেবলস ও আলহাজ টেক্সটাইল দাম কমে যাওয়া শীর্ষ ১০ এর তালিকায় রয়েছে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ১০৩.০৯ পয়েন্ট বেড়ে ১৭৩৪৩.১৪ পয়েন্টে দাঁড়ায়। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৯১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ১৫২টির, কমেছে ২৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৫ প্রতিষ্ঠানের দাম। আজ স্টক এক্সচেঞ্জটিতে ৬২ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে ১৬ কোটি টাকা কম।

ছাত্রকে বেঁধে বরখাস্ত হলেন শিক্ষিকা

বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষে পাঠদান চলছে। এ সময় দুষ্টুমিতে মেতে উঠল পাঁচ বছরের একটি ছেলে। শিক্ষিকার বারণ শুনল না সে। তাই শিশুটিকে রশি দিয়ে একটি চেয়ারের সঙ্গে বাঁধলেন ক্ষুব্ধ শিক্ষিকা। কিন্তু এই শাস্তি দিয়ে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন ওই শিক্ষিকা।
গতকাল বুধবার অস্ট্রেলিয়ার পার্থ শহরের একটি বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে ওয়েস্ট অস্ট্রেলিয়ান পত্রিকার খবরে বলা হয়, দুষ্টুমির কারণে শিশুটিকে একাধিকবার চেয়ারের সঙ্গে বাঁধেন ওই শিক্ষিকা। এক শিক্ষক তা দেখে পুলিশে খবর দেন। তদন্তে ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে শিক্ষিকাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

তিনটি কৃত্রিম উপগ্রহ মহাশূন্যে পাঠাল ভারত

ভারত গত বুধবার একটি রকেটে করে তিনটি কৃত্রিম উপগ্রহ পৃথিবীর কক্ষপথে পাঠিয়েছে। ভূপৃষ্ঠ থেকে ৮৮২ কিলোমিটার উচ্চতায় উপগ্রহগুলোকে পাঠানো হয়।
অন্ধ্র প্রদেশ রাজ্যের শ্রীহরিকোটা মহাকাশ কেন্দ্র থেকে রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়। এই রকেটে ছিল রিসোর্সস্যাট-২ নামে একটি কৃত্রিম উপগ্রহ। এটি পৃথিবীর প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর মানবজীবনের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করবে। এ ছাড়া রকেটটিতে নক্ষত্র ও বায়ুমণ্ডল পর্যবেক্ষণের জন্য একটি ইন্দো-রাশিয়ান কৃত্রিম উপগ্রহ ও সিঙ্গাপুরভিত্তিক নানইয়াং টেকনোলজি ইউসিভার্সিটির বানানো ছবি তোলার জন্য ঘূর্ণায়মান একটি উপগ্রহ ছিল।

দাবানল নেভাতে ৩৪ রাজ্যের কয়েক হাজার অগ্নিনির্বাপককর্মী

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে জ্বলতে থাকা দাবানল আরও ভয়ংকর রূপ নিয়েছে। ইতিমধ্যেই ১০ লাখ একর জমির বনজঙ্গল ও গাছপালা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ৩৪টি অঙ্গরাজ্যের কয়েক হাজার অগ্নিনির্বাপককর্মী আগুন নেভানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। গতকাল বুধবার টেক্সাস ফায়ার সার্ভিস এ কথা জানিয়েছে।
টেক্সাসের বন বিভাগের মুখপাত্র এপ্রিল স্যাগিনোর সিএনএন রেডিওকে বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি, টেক্সাসে এলাকার পর এলাকা পুড়ে যাচ্ছে। পশ্চিম অঙ্গরাজ্যজুড়ে আগুন জ্বলছে।’
স্যাগিনোর বলেন, ৩৪টি রাজ্যের অগ্নিনির্বাপককর্মীরা দিনরাত চেষ্টা করেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছেন না। ইতিমধ্যে ১০ লাখ একর বনভূমি পুড়ে গেছে। ধ্বংস হয়েছে ১৭০টির বেশি বাড়িঘর।
আবহাওয়া বিভাগ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, গতকাল বুধবার ঝোড়ো বাতাস কিছুটা কম থাকলেও আজ বৃহস্পতিবার তীব্র বাতাস বয়ে যেতে পারে। এতে দাবানল আরও ভয়ানক রূপ নেবে বলে আশঙ্কা করছে তারা।
টেক্সাসের আবহাওয়া বিভাগের মুখপাত্র ডেভিড হেনিং বলেছেন, দুই ইঞ্চি মাত্রার বৃষ্টিপাত হলেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আসত। তবে সহসাই বৃষ্টি নামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
হেনিংয়ের আশঙ্কা, টেক্সাসের ১৬৫ মাইল পশ্চিমে অবস্থিত ওডেসা এলাকা এবং নিউ মেক্সিকোর দক্ষিণ-পূর্বে আজ বৃহস্পতিবার দাবানল ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

মিশেল ওবামার বিমান ঘেঁষে অন্য বিমান

একটি সামরিক পরিবহন বিমান গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্টলেডি মিশেল ওবামাকে বহনকারী বিমানের খুব কাছাকাছি চলে এসেছিল। এ কারণে মিশেল ওবামার বিমানটির অবতরণ বিলম্বিত করা হয়। বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রকদের ভুলের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
একটি সি-১৭ সামরিক পরিবহন বিমান মিশেল ওবামাকে বহনকারী বোয়িং ৭৩৭ বিমানের তিন মাইলের মধ্যে চলে আসে। মার্কিন বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের বিধি অনুযায়ী আকাশে একটি বিমান থেকে অন্য বিমানের দূরত্ব থাকতে হবে কমপক্ষে পাঁচ মাইল।
তবে বিমান দুটি সংঘর্ষের ঝুঁকির মধ্যে ছিল না বলে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) জানায়। পরে দুটি বিমানই নিরাপদে অবতরণ করে।
মেরিল্যান্ডের অ্যান্ড্রু্রুস বিমানঘাঁটির বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রকেরা ফার্স্টলেডিকে বহনকারী বিমানকে নির্ধারিত অবতরণ বাতিল করে আকাশে চক্কর দেওয়ার নির্দেশ দেন। পরিবহন বিমানটিকে রানওয়ে থেকে সরে যেতে সময় দেওয়ার জন্যই ওই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়ার ঘটনায় গত মার্চ মাস থেকে কয়েকজন বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁদের বেশির ভাগই রাতের পালায় কাজ করছিলেন।
এফএএ জানায়, গত সোমবার কাজের সময় টেলিভিশন দেখার দায়ে একজন বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রককে বরখাস্ত করা হয়েছে।

শিম্পাঞ্জির শরীরে ওবামার ছবি যুক্ত করায় ক্ষমা প্রার্থনা

বাচ্চা শিম্পাঞ্জির শরীরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার মুখমণ্ডলের ছবি যুক্ত করে পাঠানো ই-মেইল নিয়ে অনেক সমালোচনার পর অবশেষে ক্ষমা চেয়েছেন ওই ই-মেইলের প্রেরক।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার রিপাবালিকান কর্মকর্তা মেরিলিন ড্যাভেনপোর্ট গত শুক্রবার দলের একটি কমিটির সদস্যদের কাছে ওই ই-মেইল পাঠান। গত সোমবার তিনি তাঁর এই ‘অমার্জিত আচরণের’ জন্য ক্ষমা চেয়েছেন।
ড্যাভেনপোর্টের পাঠানো ওই ছবিটি আসলে একটি শিম্পাঞ্জি পরিবারের। সেখানে মা-বাবার সঙ্গে আছে একটি বাচ্চা শিম্পাঞ্জি। ওই বাচ্চাটির শরীরের ওপর বসিয়ে দেওয়া হয়েছে বারাক ওবামার মুখের ছবি। নিচে লেখা, ‘এখন আপনারা বুঝবেন, কেন জন্মসনদ পাওয়া যাচ্ছে না।

পরিবারের সম্মান রক্ষার নামে হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে হবে

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ‘পরিবারের সম্মান রক্ষার’ নামে হত্যাকাণ্ড বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে রাজ্য সরকারগুলোর প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন। কোনো রাজ্য এজাতীয় হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারক মার্কান্দেয়া কাতজু ও জ্ঞান সুধা মিশ্র গতকাল মঙ্গলবার এই নির্দেশ দেন।
সম্প্রতি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ‘পরিবারের সম্মান রক্ষার’ নামে হত্যাকাণ্ড বাড়ছে। কোনো ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা সামাজিক নিয়মের বাইরে গেলে তাকে সমাজচ্যুত করা হয় বা হত্যা করা হয়। বর্ণ বা জাতের ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠা গ্রামভিত্তিক পরিষদ প্রায়ই এই অপরাধগুলো অনুমোদন করে বা উৎসাহিত করে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এর শিকার হয় তরুণ-তরুণী ও নবদম্পতিরা, যারা নিজ বর্ণ বা জাতের বাইরে প্রেম বা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়।
সুপ্রিম কোর্ট গ্রামভিত্তিক ওই পরিষদকে ‘ক্যাঙ্গারু আদালত’ বলে সমালোচনা করেন। ভারতের উত্তরাঞ্চলে এই পরিষদগুলো ‘খাপ পঞ্চায়েত’ ও দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য তামিলনাড়ুতে ‘কাট্টা পঞ্চায়েত’ বলে পরিচিত।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারকেরা বলেন, ‘পরিবারের সম্মান রক্ষার নামে হত্যাকাণ্ড বা অন্য কোনো নৃশংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা জেনেছি, পঞ্চায়েত সম্মান রক্ষার নামে হত্যাকাণ্ড বা নৃশংসতার দায় যাদের হত্যা করা হয় তাদের ওপর চাপিয়ে দেয়। সম্মান রক্ষার নামে হত্যাকাণ্ডের জন্য পঞ্চায়েত থেকে উৎসাহিতও করা হয়।’ বিচারকেরা আরও বলেন, ‘আমাদের মত হলো, এই বিষয়গুলো পুরোপুরি অবৈধ। এজাতীয় হত্যাকাণ্ড ও নৃশংসতা কঠোর হাতে দমন করতে হবে।’
কোনো রাজ্যে এমন হত্যাকাণ্ড ঘটলে বা এমন পরিষদগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করতে রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেন সুপ্রিম কোর্ট।

হামলা বন্ধ হলে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে নির্বাচন সম্ভব

লিবিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল আতি আল ওবেইদি বলেছেন, ন্যাটো বিমান হামলা বন্ধ করলে লিবিয়ার জনগণই তাদের সমস্যার সমাধান করতে পারবে। তিনি বলেন, হামলা বন্ধের পর ছয় মাসের মধ্যেই জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করা সম্ভব।
লিবিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর মিসরাতায় গাদ্দাফি বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধের জন্য সেনা পাঠাতে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিদ্রোহীরা। এদিকে গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল ইসলাম বলেছেন, ‘বিদ্রোহীরা অবশ্যই পরাজিত হবে। দিন দিন পরিস্থিতি আমাদের অনুকূলে আসছে।’
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, মার্কিন সহায়তা ছাড়াই ন্যাটো লিবিয়ায় সফল হবে।
লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে নিজের কার্যালয়ে বসে গার্ডিয়ান, বিবিসি, আইটিএন ও ওয়াশিংটন পোস্ট-এর সঙ্গে কথা বলেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আল ওবেইদি। তিনি বলেন, নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগে ছয় মাসের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন জাতীয় সরকার গঠনের কথা বিবেচনা করছে গাদ্দাফি সরকার। বিষয়টি নিয়ে আলোচনাও হয়েছে। সংস্কার প্রসঙ্গেও কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওবেইদি। তিনি বলেন, লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি কোথায় থাকবেন, তাঁর ভূমিকা কী হবে এবং তিনি কখন অবসরে যাবেন তা নিয়েও আলোচনা হতে পারে। যেকোনো বিষয় নিয়ে আলোচনার পথ খোলা রয়েছে। ওবেইদি আরও বলেন, ‘আমরা যেমনটা চাইছি তেমন হবে বা ওরা (বিদ্রোহীরা) যেমনটা চাইছে তেমন হবে—বিষয়টি এমন নয়। আমরা কীভাবে সবাই মিলে বসতে পারি সেটাই আসল কথা।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওবেইদি বলেন, ‘লিবিয়ার জনগণই লিবিয়ার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত এই বিষয়টি মেনে নেওয়া। কোনো কোনো সময় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স নিজেরাই নিজেদের মতের বিরোধিতা করে। তারা গণতন্ত্রের কথা বলে। কিন্তু লিবিয়ার প্রসঙ্গ এলে তারা গাদ্দাফিকে সরে যেতে বলে। গাদ্দাফির সরে যাওয়া না যাওয়ার বিষয়টি লিবিয়ার জনগণের হাতেই ছেড়ে দেওয়া উচিত। অন্য দেশের নেতারা গাদ্দাফিকে সরে যেতে বলবেন—এটা উচিত নয়। আর এটা গণতন্ত্রের মূলনীতিরও বিরোধী।’ লিবিয়া সরকার পারস্পরিক সমঝোতা ও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে সত্যিকার অর্থে যুদ্ধবিরতির পক্ষে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওবেইদি।
মিসরাতা গভর্নিং কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ সদস্য ও বিদ্রোহীদের নেতা নূরি আবদুল্লাহ আবদুল্লাতি বলেছেন, গাদ্দাফি বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ করতে ‘মানবিক’ কারণে বিদেশি সেনার সহায়তা চাওয়া হয়েছে। এর আগে লিবিয়ায় বিদেশি সেনা উপস্থিতির বিরোধিতা করলেও গাদ্দাফি বাহিনীর নৃশংসতার কারণে বিদেশি সহায়তা চাওয়া হচ্ছে। কারণ, মিসরাতায় জনগণের এখন জীবনমরণ সমস্যা।
গাদ্দাফির ছেলে সাইফ একটি টেলিভিশন চ্যানেলে বলেন, ‘আমি অত্যন্ত আশাবাদী, আমরাই জয়ী হব। পরিস্থিতি আমাদের পক্ষে আসছে।’ জয়ী হলেও বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মালিঙ্গা নেই শ্রীলঙ্কা দলে

লাসিথ মালিঙ্গা নির্বাচকদের চিঠি লিখে অনুরোধ করেছেন, তাঁকে যেন ইংল্যান্ড সফরের টেস্ট দলে রাখা না হয়। নির্বাচকেরা সেই ইচ্ছার দাম দিয়েছেন। তবে প্রধান নির্বাচক দিলীপ মেন্ডিস বলেছেন, ‘এটা একটু বিব্রতকর। কারণ সে বলছে, সে ইনজুরিতে, কিন্তু আবার ক্রিকেটও (আইপিএল) খেলে যাচ্ছে।’ আইপিএলে খেলা বাকি সবাই অবশ্য আছেন এই দলে। ২৬ মে শুরু হবে তিন টেস্ট সিরিজের প্রথমটি। বিবিসি।
শ্রীলঙ্কা দল: তিলকরত্নে দিলশান (অধি.), থারাঙ্গা পারানাভিথানা, লাহিরু থিরিমান্নে, কুমার সাঙ্গাকারা, মাহেলা জয়াবর্ধনে, থিলান সামারাবীরা, দিনেশ চান্ডিমাল, প্রসন্ন জয়াবর্ধনে, থিসারা পেরেরা, সুরাজ রণদিভ, অজন্তা মেন্ডিস, রঙ্গনা হেরাথ, দিলহারা ফার্নান্ডো, চানাকা ভেলেগেদারা, সুরঙ্গ লাকমল ও নুয়ান প্রদীপ।

স্টেফানোকেও শুনিয়ে দিলেন মরিনহো

হতে পারে আলফ্রেডো ডি স্টেফানো রিয়াল মাদ্রিদ বা বিশ্ব ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র। তবে কোচ হিসেবে হোসে মরিনহোরও একটা স্বকীয়তা আছে। নিজের দর্শনের ওপর রিয়াল মাদ্রিদ কোচের অনেক আস্থা। তারই জোরে কিংবদন্তি স্টেফানোর সমালোচনার জবাবটা সঙ্গে সঙ্গেই দিয়ে দিলেন রিয়াল মাদ্রিদের পর্তুগিজ কোচ। বললেন, তিনিই রিয়ালের কোচ, ডি স্টেফানো নন।
গত শনিবারের ‘এল ক্লাসিকো’তে রিয়াল মাদ্রিদের খেলা দেখে বিরক্ত স্টেফানো মরিনহোর কৌশলের কড়া সমালোচনা করেন। নিজের কলামে কোপা দেল রের ফাইনালে দলের কৌশল পরিবর্তনের ডাকও দেন তিনি।
চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা সবচেয়ে বেশি নয়বার জিতেছে রিয়াল মাদ্রিদ। ১৯৫৬-১৯৬০—টানা পাঁচ বছর ইউরোপিয়ান কাপ জেতে ডি স্টেফানোর সময়কার রিয়াল। সঙ্গে ১৯৫৩ থেকে ১৯৬৪—১১ বছরেই স্টেফানো রিয়ালকে লিগ শিরোপা জেতান আটবার! রিয়ালের নামটাই বদলে হয়েছিল ‘স্টেফানোর দল’। রিয়ালে স্টেফানোর আসন তাই অনেক উঁচুতে। ক্লাবটির আজীবন সাম্মানিক সভাপতি ৮৪ বছর বয়সী কিংবদন্তি।
লোকটি স্টেফানো বলেই হয়তো মরিনহোর সমালোচনার ভাষাটা একটু মার্জিত, ‘তিনি রিয়াল মাদ্রিদের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মানুষ। আমি রিয়াল মাদ্রিদের ইতিহাসে কিছুই না। কিন্তু আমি কোচ এবং একমাত্র কোচই সিদ্ধান্ত নেওয়ার মালিক।’ মরিনহো দ্বিতীয়বার ‘আমি কোচ’ উচ্চারণ করে বলেন, ‘আপনি কী করতে চান? এটা আমার বিষয়। সিদ্ধান্ত একান্তই আমার।’
একটা সময় ছিল যখন রিয়ালের ছয়জন নিচে খেলতেন, চারজন খেলতেন ওপরে, রক্ষণ কাজে যাঁদের কোনো ভূমিকাই থাকত না। সময়ের পরিবর্তনে এখন ধরন বদলেছে। মরিনহো বলছেন, ‘আমি জানি, আপনাদের অনেকের কাছেই এটা সমস্যা মনে হতে পারে। কিন্তু আমি মনে করি দর্শকেরা, যারা আসলে ফুটবলবোদ্ধা নয়, তারা ধীরে ধীরে আমার স্টাইল বুঝতে পারছে এবং ভবিষ্যতে তারাই তাদের দলের পাশে থাকবে।’
রিয়ালের সাফল্য দেখতে উন্মুখ হয়ে বসে থাকেন স্টেফানো। কিন্তু শনিবারের ‘এল ক্লাসিকো’তে রিয়ালের খেলা তাঁর মন ভরাতে পারেনি। তাই মরিনহোর কৌশলের সমালোচনা করে বার্সেলোনার খেলায় নিজের মুগ্ধতার কথা জানিয়েছিলেন, ‘বার্সা বল খেলে শ্রদ্ধার সঙ্গে, আরাধনার মতো করে। এই দলকে খেলতে দেখাটা একটা আনন্দ। বার্সা ফুটবল খেলে এবং নৃত্য করে, রিয়াল অবিরত শুধু এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় দৌড়ে বেড়িয়েছে। পরিষ্কার শ্রেয়তর দল ছিল বার্সেলোনা। রিয়ালের খেলার কোনো স্বকীয়তা ছিল না।’
ডি স্টেফানোকে জবাব দিতে গিয়ে রিয়ালের কোচ এমন কোনো ইঙ্গিত দেননি যে, খেলার কৌশল বদলাতে তিনি নমনীয় ছিলেন। আর শেষ পর্যন্ত দৃষ্টিনন্দন ফুটবল জিতল, না কার্যকর ফলকেন্দ্রিক ফুটবল—সেই উত্তর এতক্ষণে আপনি পেয়ে গেছেন। কাল রাতেই যে হয়ে গেছে কিংস কাপের ফাইনাল।