পরিবেশ আন্দোলনকে আরও এগিয়ে নেবে-রিজওয়ানার ম্যাগসাইসাই বিজয়

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে আন্তরিক অভিনন্দন। তাঁর কল্যাণে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল হলো। র‌্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার এশিয়ার নোবেল পুরস্কার হিসেবে খ্যাত। বাংলাদেশে পরিবেশগত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠানের আন্দোলনে তাঁর নিরলস সংগ্রামের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১২ সালে তিনি এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।


এটি বাংলাদেশেরও স্বীকৃতি। এ জন্য আমরা আনন্দিত ও গৌরবান্বিত।
বাংলাদেশে প্রাকৃতিক পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধের লক্ষ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে অনেক সংস্থা ও ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে চলেছেন। সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাংলাদেশের এই আন্দোলনেরও এক বড় স্বীকৃতি। তাঁর বিশেষত্ব হলো, তিনি একজন আইনজীবী; এ দেশের পরিবেশ আন্দোলন এক নতুন মাত্রা পেয়েছে তাঁর নেতৃত্বে। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী রিজওয়ানা প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনে ন্যায়বিচারের বিষয়টি যুক্ত করেছেন এবং এ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করে চলেছেন। তাঁর কাজের মাধ্যমে এই ধারণাও পরিষ্কার হয়েছে যে পরিবেশ দূষণকারীদের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের ফলে শুধু প্রাকৃতিক পরিবেশই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, বিপুলসংখ্যক মানুষের সামাজিক ন্যায়বিচারও বিপন্ন হচ্ছে। দূষণকারীদের দূষণ থেকে বিরত রাখার লক্ষ্যে তিনি আইনি লড়াই করে চলেছেন। ম্যাগসাইসাই ফাউন্ডেশন এ ক্ষেত্রে তাঁর সাফল্যময় অবদানের কথাও উল্লেখ করেছে। এই উৎসাহব্যঞ্জক স্বীকৃতি বাংলাদেশের পরিবেশ আন্দোলনকে আরও এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান তৃতীয় বাংলাদেশি নারী, যিনি এই সম্মানজনক পুরস্কারে ভূষিত হলেন। গ্রামীণ নারীর স্বাস্থ্য ও শিক্ষা উন্নয়নের ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশিষ্ট সমাজকর্মী তাহেরুন্নেসা আবদুল্লাহ ১৯৭৮ সালে এ পুরস্কার অর্জন করেন। ১৯৯৯ সালে এ পুরস্কার পান আরেক সমাজকর্মী অ্যাঞ্জেলা গোমেজ। তাঁদের দুজনের কাজের ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণের বিষয়টি ইতিমধ্যে স্বীকৃত ও আলোচিত: নারী সমাজের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ সামগ্রিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে নারী নেতৃত্বের ভূমিকা বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের এক নতুন ভাবমূর্তি বহির্বিশ্বে দীপ্যমান হলো: পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনেও বাংলাদেশের নারী নেতৃত্ব পিছিয়ে নেই। আমাদের নারী সমাজের জন্য এটি বিশেষভাবে উৎসাহব্যঞ্জক।

No comments

Powered by Blogger.