Sunday, May 10, 2026

ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় নিয়ে সংরক্ষণ করার প্রস্তাব দিলেন পুতিন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত পরিবহন ও সংরক্ষণ করতে মস্কো প্রস্তুত।

মস্কোতে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে পুতিন এ কথা বলেন। তিনি বলেন, রাশিয়া ২০১৫ সালে ইরান থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম স্থানান্তর করেছিল, মস্কো সেই অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি করতে প্রস্তুত।

সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধে জড়িত সব পক্ষই তেহরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশটির বাইরে স্থানান্তরের বিষয়ে একমত হয়েছিল বলে জানান পুতিন। তিনি বলেন, ‘কিন্তু পরে যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থান কঠোর করে এবং দাবি করে যে (ইরানের) ইউরেনিয়াম শুধু মার্কিন ভূখণ্ডেই পরিবহন করতে হবে। এরপর ইরানও কঠোর অবস্থানে চলে যায়।’

মস্কো ওয়াশিংটন ও তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে জানিয়ে পুতিন আরও বলেন, যত দ্রুত সম্ভব এ যুদ্ধ শেষ হবে বলে তিনি আশা করছেন।

ইরান তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2026-05-10%2F1rjcv4as%2Firan-enriched-uranium.avif?rect=0%2C0%2C621%2C414&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
২০২১ সালে ইরানের পরমাণু শক্তি দিবসে প্রদর্শন করা সেন্ট্রিফিউজ। এগুলো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে ব্যবহার করা হয়। ফাইল ছবি: রয়টার্স

‘বুলিংয়ের শিকার’ হয়ে মাস্টার্স না করেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়েন তরুণী, কী ঘটেছিল by নাজনীন আখতার

‘ঘটনাগুলো আমাকে এত তাড়া করত, আমি কাঁদতাম। আমার ক্লাসে যেতে ইচ্ছা করত না। যৌন হয়রানি নিয়ে অনেকে কথা বলেন। কিন্তু বুলিং-গসিপের মতো মানসিক হয়রানির ভয়াবহতা ততটা গুরুত্ব পায় না।’

কথাগুলো বলেছিলেন এক তরুণী (২৬)। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর অভিযোগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স পড়ার সময় তিনি কিছু সহপাঠীর মাধ্যমে বুলিংয়ের শিকার হয়েছিলেন। কিন্তু কোনো প্রতিকার পাননি।

তরুণী বলেন, তাঁর অভিজ্ঞতা এতটাই ভীতিকর ছিল যে অনার্সের পর তিনি আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স করেননি। এর পরিবর্তে চাকরিতে যোগ দেন। প্রায় এক বছর চাকরি করেন। মাস্টার্স করার জন্য গত মাসে তিনি বিদেশে চলে যান।

দেশে থাকাকালে ভুক্তভোগী তরুণী এই প্রতিবেদকের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। তিনি ‘বুলিংয়ের শিকার’ হওয়ার বিবরণ দিয়েছিলেন। বিদেশে যাওয়ার পর সম্প্রতি হোয়াটসঅ্যাপে তাঁর সঙ্গে আবার কথা হয়।

ওই তরুণী বলেন, নারীর প্রতি যৌন হয়রানিকে যতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়, এ নিয়ে লোকজনকে যতটা প্রতিবাদী হতে দেখা যায়, বুলিং-গসিপের মতো মানসিক হয়রানি-পীড়নের ক্ষেত্রে তা দেখা যায় না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সহপাঠীদের বুলিং-গসিপের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন বলে জানান ওই তরুণী। তিনি বলেন, মনোবিদের কাছে গিয়ে ছয় থেকে সাতটি কাউন্সেলিং সেশন নিতে হয়েছে তাঁর। তবে তাঁর এই মানসিক হয়রানির বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের কাছে গুরুত্ব পায়নি।

তরুণী বলেন, ‘এটা (বুলিং) সেখানে শাস্তিযোগ্য অপরাধ নয়। অথচ বুলিদের (হেনস্তাকারী) কারণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স করতে পারলাম না।’

‘ওদের সঙ্গে আর পড়ব না’

ভুক্তভোগী তরুণী রাজধানীর একটি নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি-এইচএসসি পাস করেন। তাঁর মা–বাবা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। ২০১৯ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্সে ভর্তি হন।

তরুণী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে ভিন্ন ভিন্ন মানসিকতার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। তিনি সবার সঙ্গে মেশার চেষ্টা করতেন। তবে কারও সঙ্গেই খুব বেশি ঘনিষ্ঠতা হয়নি। এর মধ্যে একটি গ্রুপ হয়ে ওঠে ‘এলিট’ (প্রভাবশালী)। এই গ্রুপে মূলত ছেলেরাই ছিলেন। তাঁরা পড়াশোনায় ভালো ছিলেন। পারিবারিকভাবে সচ্ছল। তাঁরা উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের সন্তান। তাঁদের সঙ্গে তাঁর মেশা কম হতো।

২০২০ সালে করোনা মহামারিকালে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছোট কয়েকটি গ্রুপ তৈরি হয় বলে জানান তরুণী। তিনি বলেন, তখন কারও কোনো কাজ ছিল না। ফেসবুকে কাউকে না কাউকে নিশানা করে বুলিং করা হতো। কোভিডের পর সরাসরি ক্লাস শুরু হয়। তখনো এসব বুলিং থামেনি। কারও মধ্যে ‘বসিং’ (হুকুমবাজি) প্রবণতা বেশি ছিল। কাকে পশ্চিমা পোশাকে মানায় না, কার পোশাক পরার ধরন ভালো না, কে কোন সহপাঠীদের সঙ্গে প্রেম শুরু করেছে—এসব নিয়ে ক্লাসে গসিপ (পরচর্চা) চলত। সেই সঙ্গে চলত ব্যাকবাইটিং (কারও অনুপস্থিতিতে নিন্দা করা)।

তরুণীর ভাষ্য, তিনি খেয়াল করলেন, যা তিনি বলেননি, তা নিয়ে তাঁকে দোষারোপ করা হচ্ছে। বুলিং করা হচ্ছে। যে গ্রুপটা এলিট ছিল, সেই গ্রুপের ছেলেরা ছিল বুলি টাইপের। তিনজন ছেলে বেশি বুলি ছিলেন। তাঁরা গসিপও করতেন বেশি। তাঁরা নারীবিদ্বেষী মন্তব্য করতেন খুব। বডি শেমিং, স্লাট শেমিং করতেন। একজন ছেলে কথা বলার সময় বাজে দৃষ্টিতে তাকাতেন। একবার একজন শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে স্পর্শ করে ‘বেখেয়ালের’ অজুহাত দিতে ‘সরি’ বলেছিলেন।

বছর দুয়েক পর এই ‘এলিট’ গ্রুপের তুলনামূলক ‘নিরীহ’ একটি ছেলের সঙ্গে ভালো লাগার সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে জানান তরুণী। সম্পর্কটিকে তিনি বর্ণনা করেন ‘সিচুয়েশনশিপ’ হিসেবে। তিনি বলেন, সম্পর্কটিকে দীর্ঘ বা স্থায়ী করার ক্ষেত্রে তাঁরা কেউ কারও প্রতি প্রতিশ্রুতবদ্ধ ছিলেন না। শুরুতে তাঁরা বলেছিলেন, সম্পর্ক ভেঙে গেলে তাঁরা পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবেন। সম্পর্কের এক বছরের মধ্যে ছেলেটি সাবেক প্রেমিকার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। তখন তিনি (তরুণী) সম্পর্কটি ভেঙে দেন।

তরুণীর ভাষ্য, এরপর দেখলেন, তিনি ক্লাসে গেলে অনেকে ফিসফিস করেন। তিনি বুঝতে পারতেন, তাঁকে নিয়েই কিছু বলা হচ্ছে। যাঁর সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে গেছে, সেই ছেলে, তাঁর বন্ধুসহ কিছু সহপাঠী মিলে তাঁকে নানান ধরনের মন্তব্য করে কোণঠাসা করে ফেলেন। সে সময় তিনি নিজেকে লুকিয়ে রাখতেন। ক্লাসে যেতে ইচ্ছা করত না। পড়াশোনা করতে পারতেন না। পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় ভুগতে শুরু করেন।

তরুণী বলেন, ‘আমি কতটা অসুস্থ হয়ে যাচ্ছিলাম, বোঝাতে পারব না। মাস্টার্সে ভর্তি হয়ে দুটি ক্লাস করে আর যাইনি। মা–বাবা অবাক হয়েছিলেন। তাঁদের বলেছি, আমি “বুলিড” হয়েছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ওদের সঙ্গে আর পড়ব না।’

শিক্ষক যা বললেন

তরুণীর অভিযোগ নিয়ে কথা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগটির শিক্ষক ও তৎকালীন স্টুডেন্ট কাউন্সেলরের সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁদের ডেকে তিনি কথা বলেছিলেন। অন্য সহপাঠীদের সঙ্গেও কথা বলেছিলেন। তাঁদের কথা ছিল, ‘ব্রেকআপ’ হওয়ার কারণে মেয়েটি বিষণ্ন ছিল।

ওই শিক্ষক বলেন, ‘মেয়েটি যে ধরনের অভিযোগ করেছিল, তা প্রমাণ করা কঠিন। ফলে মেয়েটিকে আমি মানসিকভাবে শক্ত হওয়ার জন্য বুঝিয়েছিলাম। মেয়েটি অন্তর্মুখী। সে তার কষ্টের কথা সেভাবে শেয়ার করতে পারত না।’

বুলিংয়ের মতো হেনস্তার বিরুদ্ধে কি কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সুযোগ নেই—এমন প্রশ্নে ওই শিক্ষক বলেন, ব্যবস্থা আছে। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হতে হবে। শুরুতে তিনি মেয়েটিকে লিখিতভাবে অভিযোগ দিতে বলেছিলেন। পরে মেয়েটি বিভাগের প্রধানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু তখন অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের মাস্টার্স পরীক্ষা হয়ে গেছে।

তরুণী বলেন, অনার্স ও ইন্টার্নশিপ শেষে তিনি প্রথম মৌখিক অভিযোগ করেন। পরে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের মাস্টার্স পরীক্ষার পর লিখিত অভিযোগ দেন। তিনি পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। এর মধ্যে তিনজনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি এবং দুজনের বিরুদ্ধে মানসিক ও মৌখিক হয়রানির অভিযোগ দেন। তাঁকে বলা হয়েছিল, একটা কমিটি হয়েছে। মাস্টার্সের ফলাফল এখনো প্রকাশিত হয়নি। কর্তৃপক্ষ আন্তরিক হলে এখনো ব্যবস্থা নিতে পারে।

মৌখিক অভিযোগ যখন করেছিলেন, তখন সেটাকে আমলে নেওয়া হয়নি বলে দাবি তরুণীর। তিনি বলেন, ফলে হেনস্তাকারীরা নিজেদের আরও ক্ষমতায়িত বোধ করেছেন। তাঁদের কোনো অনুতাপ হয়নি। তাঁরা নিজেদের অপরাধ ঢাকতে ‘ব্রেকআপ’ বিষয়টিকে সামনে আনেন। এখানে ‘ব্রেকআপ’ কোনো বিষয় ছিল না।

সহপাঠীদের আচরণে হীনম্মন্যতায় ভোগে ৫ শতাংশ

বেসরকারি সংগঠন আঁচল ফাউন্ডেশন ২০২২ সালের অক্টোবরে ‘করোনা-পরবর্তী বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর একাডেমিক চাপের প্রভাব এবং তাদের আত্মহত্যার প্রবণতা’ শীর্ষক জরিপের প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, সহপাঠীদের দ্বারা তুচ্ছতাচ্ছিল্যের কারণে হীনম্মন্যতায় ভোগেন প্রায় ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী।

জরিপে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসার মোট ১ হাজার ৬৪০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে নারী শিক্ষার্থী ৫৬ শতাংশ।

একই সংগঠন ২০২২ সালের মার্চে ‘তরুণীদের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট এবং মানসিক স্বাস্থ্যে এর প্রভাব’ শিরোনামে আরেকটি জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, তরুণীরা তাঁদের দেহের আকৃতি, গঠন ও অবয়ব নিয়ে কথাবার্তায় হেয়প্রতিপন্ন বোধ করেন। বন্ধুবান্ধবের কাছে ‘বডি শেমিং’-এর শিকার হয়েছেন ২২ শতাংশ তরুণী। এই জরিপে এক হাজারের বেশি তরুণী অংশ নিয়েছিলেন।

২০২১ সালে পোল্যান্ডের ম্যানেজমেন্ট সাময়িকীতে প্রকাশিত ‘কনসিকোয়েন্সেস অব বুলিং অন ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস ইন বাংলাদেশ’ (বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর বুলিংয়ের পরিণতি) শীর্ষক এক গবেষণায় উঠে আসে, দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বুলিং হয়। বুলিং প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের তাঁদের অধিকার সম্পর্কে জানা, অভিযোগ করার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী হওয়া, অন্যদের সচেতন করা, পরিবারকে ভুক্তভোগীর পাশে দাঁড়ানো, শিক্ষকসহ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ভুক্তভোগীকে সহায়তা দেওয়াসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গবেষণা প্রতিবেদনে জোর দেওয়া হয়।

‘বুলিংয়ের অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ও নাসিরুল্লাহ সাইকোথেরাপি ইউনিটের পরিচালক কামাল চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে সেল রয়েছে। যৌন পীড়নের ঘটনায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু বুলিংয়ের বিরুদ্ধে সেভাবে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় না। বুলিংয়ের মতো ঘটনায় ভুক্তভোগীর মধ্যে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া, ক্লাসে যেতে ভয় পাওয়া, মানসিকভাবে দুর্বল বোধ করা, হীনম্মন্যতা, এমনকি অপরাধবোধে ভোগার মতো প্রবণতা দেখা যায়। কারও কারও ক্ষেত্রে নিজের ক্ষতি করা বা আত্মহত্যায় ঝুঁকতে দেখা যায়। এ কারণে কেউ বুলিংয়ের অভিযোগ করলে তা গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যদিকে ভুক্তভোগীকে কাউন্সেলিংয়ের মতো মানসিক সহায়তা দেওয়া উচিত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের হলে ও ছাত্র–শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) তিনতলায় বিনা মূল্যে মানসিক সহায়তা দেওয়া হয় বলে জানান অধ্যাপক কামাল চৌধুরী। তিনি বলেন, প্রচার কম থাকায় অনেক শিক্ষার্থী এসব সেবা সম্পর্কে জানেন না। তা ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনে অবস্থিত নাসিরুল্লাহ সাইকোথেরাপি ইউনিটে ফি দিয়ে সেবা নেওয়া যায়।

 প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

‘লালু’ ডাক শুনে শামস উদ্দিনের কাছে ছুটে আসে কালিম পাখিটি by মজিবর রহমান খান

ঘড়ির কাঁটায় তখন শনিবার দুপুর ১২টা। ঘরের চালা থেকে বাড়ির উঠানে নেমে এল একটি পাখি। এদিক-ওদিক তাকিয়ে ঢুকে পড়ল ঘরে। এঘর–ওঘর হয়ে উঠানে এসে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা খাবার খুঁজে খুঁজে খেতে লাগল পাখিটি। বাড়ির লোকজন তা দেখে কিছু চাল ছুড়ে দিলেন, তা খেয়ে আবার চালার নিজ নীড়ে ফিরে গেল পাখিটি।

ওই বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার ভন্ডগ্রামের মো. শামস উদ্দিনের। আর ওই পাখির নাম কালিম। পাখিটি শামস উদ্দিনের বাড়িতে বসত বেঁধেছে। পাখিটি এখন তাদের বাড়ির অংশ হয়ে উঠেছে। পরিবারের লোকজন পাখিটিকে ভালোবেসে ডাকে ‘লালু’ নামে।

বাড়ির লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, এক ঝড়বৃষ্টির রাতে ভন্ডগ্রামের ফারুক আহমেদের বাড়ির উঠানে পড়ে ছিল কালিম পাখিটি। চেষ্টা করেও পাখিটি উড়তে পারছিল না। সেবা-শুশ্রূষা করে ওই বাড়ির লোকজন পাখিটিকে ঘরে রেখে দেন। সুস্থ হয়ে উঠলেও পাখিটি ফারুকের বাড়ি ছেড়ে যায়নি। ফারুক ও তাঁর পরিবারের লোকজন পাখিটি মুক্তভাবে লালন-পালন শুরু করেন।

চার মাস পর পাখিটি উড়ে ফারুকের প্রতিবেশী শামস উদ্দিনের বাড়িতে চলে যায়। সেই থেকে সেখানেই পাখিটির বসবাস।

ফারুক আহমেদ বলেন, পাখিটি একবার ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়ে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে পাখিটির চিকিৎসা করালে সুস্থ হয়ে ওঠে। সেই সময় তিনি জানতে পারেন, পাখিটির নাম কালিম। পাখিটি শামস উদ্দিনের বাড়িতে আশ্রয় নিলেও প্রতিদিনই তাঁর বাড়িতে এসে খাবার খায়।

জলাভূমির পাখি কালিম। এই পাখি চকচকে নীলচে-বেগুনি রঙের হয়। এদের মূল খাবার জলজ উদ্ভিদ, গুল্মের কচি-নরম পাতা, ডগাসহ পদ্মফুলের ভেতরের অংশ, ব্যাঙের বাচ্চা, ছোট মাছ ইত্যাদি। ৫০ বছর আগেও সারা বাংলাদেশের বিল-হাওরে এই পাখির দেখা মিলত। এখন এরা কোণঠাসা দেশের কয়েকটি হাওরাঞ্চলে।

শামস উদ্দিন বলেন, পাঁচ মাস হয়ে গেল পাখিটা তাঁর বাড়িতে আছে। কোথাও উড়ে যায় না। দিন পনেরো আগে পাখিটি নয়টি ডিম পেড়েছে। বেশির ভাগ সময় ওই ডিমে তা দেয়। ডিমের কাছে কেউ গেলেই আক্রমণ করতে আসে। খাবারের সময় নিচে নেমে আসে, খেয়ে আবার ফিরে যায়।

শামস উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলতে বলতে তাঁর স্ত্রী পারুল আকতার ‘লালু...লালু...লালু...’ করে ডাকতে লাগলেন। ডাক শুনে কালিম ছুটে এল। পারুল তখন তাঁর হাতের চাল খেতে দিলেন পাখিটিকে। খেয়ে পাখিটি আবার ফিরে গেল ওর নীড়ে। পারুল বললেন, ‘লালন-পালন করতে গিয়ে পাখিটার প্রতি আমাদের মায়া জমে গেছে। পাখিটাও আমাদের ছেড়ে কোথাও আর যায় না।’

ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সাবেক শিক্ষক মাজেদ জাহাঙ্গীর বলেন, কালিম পাখিকে অনেকেই পরিযায়ী মনে করলেও এরা আসলে দেশীয় জলচর পাখি। জল-ডাঙায় বিচরণের জন্য এই পাখি দুঃসাহসী, লড়াকু ও মারকুটে স্বভাবের হয়। স্বভাবে বুনো হলেও মোটামুটি পোষ মানে। এই পাখিরা প্রকৃতিগতভাবে স্বাধীন থাকতে চায়। তবে যখন তারা কোথাও খাদ্য ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পায়, তখন সেই জায়গার সঙ্গে তাদের বন্ধন তৈরি হয়। শামস উদ্দিনের বাড়িটি হয়তো কালিম পাখিটির কাছে এমন নিরাপদ আশ্রয় হয়ে উঠেছে, এ জন্য আর অন্য কোথাও যাচ্ছে না পাখিটি।

রানীশংকৈল উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রুপম চন্দ্র মহন্ত বলেন, প্রাণিকুলের স্বভাব হলো তারা যেখানে নিরাপদ মনে করে, সেখানেই আশ্রয় নেয়। সেই আশ্রয়ে বাসাও বাঁধে। নিরাপদ ভেবেই হয়তো শামস উদ্দিনের বাড়িতে পাখিটি বাসা বেঁধেছে। পুরুষ সঙ্গীর সংস্পর্শে না এলেও স্ত্রী কালিম পাখি ডিম পাড়ে। তবে সেসব ডিম থেকে ছানা ফোটে না।

এই কর্মকর্তা বলেন, আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) পাখির এই প্রজাতিকে ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত বলে ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের বন্য প্রাণী আইন-২০১২ অনুযায়ী, পাখিটি সংরক্ষিত। লালন-পালন করতে হলে বন বিভাগের সঙ্গে কথা বলে নেওয়া উচিত।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2026-03-08%2F6hlyxs01%2Fthakurgaonkalim.jpg?rect=300%2C0%2C3240%2C2160&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
শামস উদ্দিনের হাতে কালিম পাখি। ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার ভন্ডগ্রামে। ছবি: প্রথম আলো

গল্প- মা তোমাকে ভালোবাসি by রোমেন রায়হান

সব মা–ই সেরা! তোমার কাছে যেমন তোমার মাকে সবচেয়ে ভালো মা মনে হয়, দেখবে তোমার বন্ধুরাও তা–ই ভাবে। আবার আশপাশে তাকিয়ে দেখো, শুধু মানুষ নয়, পশুপাখিরাও মাকে ভীষণ ভালোবাসে। দেখবে বিড়ালছানা কেমন মায়ের বুকে গুটিসুুটি মেরে থাকে। চড়ুইয়ের ছানা
‘চিঁচিঁ’ করে ডাকে মাকে! আজ রোববার মা দিবস। তাই আজ মাকে নিয়ে বিশেষ আয়োজন।

পাশে যে ছবিটা দেখছ, এটা এঁকেছে আবির শেখ। সে নাটোর সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে
রুহামদের বাসায় পাঁচটা পিঁপড়া থাকে। মা পিঁপড়া, তার দুই ছেলে আর দুই মেয়ে। বাচ্চা পিঁপড়ারা খুব লক্ষ্মী। সব সময় মায়ের কথা শোনে। এই যেমন মা পিঁপড়া বলে দিয়েছে, ‘রুহামকে কখনো কামড় দিয়ো না।’
ওরা মায়ের কথা শুনেছে। এক বছর ধরে ওরা রুহামদের বাসায় থাকছে, এক দিনও রুহামকে কামড় দেয়নি।
রুহামদের বাসায় আজকে বড় অনুষ্ঠান হলো। অনেক মেহমান এসেছিল। একটা কেক আনা হয়েছিল। রুহাম সেই কেক কাটল। রুহামের জন্মদিন ছিল যে!
পিঁপড়ারাও কেকের ভাগ পেল। মা পিঁপড়া পেট পুরে খেয়ে ঘুমাতে গেল। ওদিকে চার ভাইবোন পিঁপড়া বসে বসে গল্প করছিল। সবচেয়ে ছোট পিঁপড়া বোনটা বলল, ‘আমার মন খারাপ।’
বাকি তিন ভাইবোন একসঙ্গে বলে উঠল, ‘কেন, কেন?’
‘এই যে আমরা মোটে তিন-চার বছর বাঁচি!
ছোট ভাই পিঁপড়া বলল, ‘তাতে কী?’
‘আমরা তো চাইলেও দুই-তিনটার বেশি জন্মদিন পালন করতে পারব না।’
বড় বোন বলল, ‘আচ্ছা আমরা জন্মদিন পালন করি না কেন?’
জবাবটা কেউ দিতে পারল না। হঠাৎ সবার মন খারাপ হলো। মায়ের একটার বেশি জন্মদিন পালন করতে পারবে না।
সবাই ঠিক করল মায়ের জন্মদিন পালন করবে। তবে আগে থেকে মাকে কিছুই জানাবে না। চমকে দেবে।
পিঁপড়া মায়ের জন্মদিন ১১ মে। নানু পিঁপড়ার কাছ থেকে ওরা শুনেছিল।
মে মাস তো চলেই এল। সারা দিন চার ভাইবোন ফিসফিস করে। জন্মদিনে কী করা যায় তা নিয়ে আলোচনা।
মে মাসের ১০ তারিখ এসে পড়ল। অনুষ্ঠান করার জন্য ড্রয়িংরুমের একটা কোনাকে বেছে নিল ওরা। এই ঘরে মা পিঁপড়া সাধারণত আসে না। তাই আগে থেকেই মায়ের চোখে পড়বে না। পিঁপড়া ভাইবোনেরা একেকজন একেক কাজে লেগে পড়ল।
বড় ভাই পিঁপড়া বাগানে গেল একটা ফুল আনতে। এত দূর থেকে কাঁধে করে একটা ফুল নিয়ে আসা তো সহজ কাজ না! কিন্তু মায়ের জন্য আনছে বলে তার একটুও কষ্ট লাগল না।
বড় বোন পিঁপড়া গেল রুহামের পড়ার ঘরে। পড়তে বসলেই রুহামের শুধু খিদে পায়। তাই রুহামের আম্মু ওর পড়ার টেবিলে সব সময় কিছু না কিছু খাবার রেখে দেয়। টেবিলের কাছাকাছি গিয়ে দেখল রুহাম পড়া ফেলে বিস্কুট খাচ্ছে। টেবিলের নিচে কার্পেটের ওপর একটা বিস্কুট পড়ে আছে। রুহাম এভাবে খাবার-দাবার গুছিয়ে খায় না বলে অন্য দিন পিঁপড়ারা বিরক্ত হতো। আজকে হলো না। সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে পিঁপড়া বড় বোন বিস্কুটটা নিয়ে রওনা হলো। আরেকটু হলে রুহামের পায়ের নিচে চাপা পড়ছিল!
রুহামের বাবা গতকাল বাজার থেকে স্ট্রবেরি এনেছিল। ছোট ভাই পিঁপড়াটা গেল রান্নাঘরে। গিয়ে দেখে ফ্লোরে এক টুকরো স্ট্রবেরি পড়ে আছে। সে ওই টুকরোটা নিয়ে ড্রয়িংরুমের দিকে রওনা হলো।
জিনিস জোগাড় হয়ে গেছে। পিঁপড়া ছোট বোনটা এবার বসল কেক বানাতে। সব ভাইবোন মিলে ক্রিম দিয়ে জোড়া দেওয়া দুই বিস্কুট আলাদা করে ফেলল। তারপর ক্রিম লাগানো অংশটার ওপর বসাল স্ট্রবেরির কাটা টুকরো। ছোট বোন বলল, ‘এই নাও, হয়ে গেল জন্মদিনের কেক!’ কেক দেখে সবাই খুশি। আনন্দে হাততালি দিল।
আয়োজন শেষ করতে করতে দেখে রাত ১১টা বেজে গেছে। তার মানে মা ঘুমিয়ে গেছে।
রাত ১২টা বাজার একটু আগে সব ভাইবোন গেল মায়ের কাছে। গভীর ঘুম থেকে ডেকে তোলায় মা পিঁপড়া প্রথমে ঘাবড়ে গেল। চোখ কচলে বলল, ‘কী হয়েছে?’
বড় ছেলে মুখ হাসি হাসি করে বলল, ‘কিছু না।’
‘তাহলে এত রাতে ডাকতে এলি কেন?’
ছোট মেয়ে মায়ের হাত টেনে বলল, ‘চলো তো, মা।’
‘কোথায়?’
‘ড্রয়িংরুমে। তোমার জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে।’
ড্রয়িংরুমে এসে মা তো অবাক। কেক! ফুল! জিজ্ঞেস করল, ‘এগুলো কী রে?’
বড় মেয়েটা কিছু বলবে বলে মুখ খুলতে যাচ্ছিল। অমনি রুহামদের বাসার দেয়াল ঘড়িটা ঢং ঢং করে বেজে উঠল। মানে রাত ১২টা বেজে গেছে। সব ছেলেমেয়ে একসঙ্গে সুর করে গেয়ে উঠল:
‘হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ...হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ...হ্যাপি বার্থ ডে ডিয়ার মা...হ্যাপি বার্থডে টু ইউ।’
মা পিঁপড়া ভ্যাবাচ্যাকা খেল। এটা দেখে ছোট ছেলে বলল, ‘মা, আজকে মে মাসের ১১ তারিখ! আজকে তোমার জন্মদিন।’
বড় ছেলে মায়ের হাতে ফুল তুলে দিল। মা ফুল হাতে নিল। সবাই মাকে জড়িয়ে ধরে বলল, ‘মা, তোমাকে ভালোবাসি।’
‘আমিও তোদের অনেক ভালোবাসি।’
সবাই দেখল মায়ের চোখ ভেজা। চোখ থেকে এক ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়ল। সব ছেলেমেয়ের চোখও ঝাপসা হয়ে আসছে।
তারপর সবাই মিলে গোল হয়ে বসল। কেক খেল। খেতে খেতে অনেক রাত পর্যন্ত গল্প করল। গল্প শেষ করে ছেলেমেয়েরা অনে-এ-এ-ক দিন পর ছোটবেলার মতো মাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমুতে গেল।

রেস্তোরাঁয় কী অপরাধ করেছে দুই কিশোর, যার ক্ষতিপূরণ দিতে হচ্ছে ৩ লাখ ডলার

সাংহাইয়ের এক ব্যস্ত রেস্তোরাঁয় সেদিন সবকিছুই স্বাভাবিকভাবে চলছিল। চুলার হাঁড়িতে স্যুপ ফুটছে, অপেক্ষায় গ্রাহকেরা। একটু পরেই তা টেবিলে টেবিলে পরিবেশন করা হবে। ঠিক তখনই, নেশায় বুঁদ হয়ে দুই কিশোরের মাথায় অদ্ভুত খেয়াল চাপল। তারা গোপনে গিয়ে এক হাঁড়ি স্যুপে প্রস্রাব করে দিল। এই ঘটনার দায়ে ওই দুই কিশোরকে ৩ লাখ ৯ হাজার মার্কিন ডলার (প্রায় ২২ লাখ ইউয়ান বা প্রায় ৩ কোটি ৭৫ লাখ ৯৯ হাজার ১৮১ টাকা) ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

ঘটনাটি গত ২০২৫  ২৪ ফেব্রুয়ারিতে চীনের সবচেয়ে বড় হটপট চেইন হাইদিলাও–এর সাংহাই শাখায় ঘটেছে। এই ঘটনা ঘটিয়েই ক্ষান্ত হয়নি ১৭ বছর বয়সী ওই দুই কিশোর। তারা নিজেদের এই ‘কীর্তি’ ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। এতে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন গ্রাহকেরা। এ কারণে গত শুক্রবার আদালত চীনের দুটি ক্যাটারিং কোম্পানিকে ওই ক্ষতিপূরণ দিতে দুই কিশোরকে নির্দেশ দিয়েছেন।

সেদিন ওই স্যুপ কেউ খেয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত করে জানা যায়নি। এরপরও ঘটনার পরবর্তী কয়েক দিনে ওই রেস্তোরাঁয় খেতে যাওয়া ৪ হাজারের বেশি গ্রাহককে তাদের বিল ফেরত দেওয়াসহ ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০ গুণ অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব দেয় হাইদিলাও।

গত মার্চে হাইদিলাও ২ কোটি ৩০ লাখ ইউয়ানের বেশি ক্ষতিপূরণের দাবি দাবি করে আদালতে মামলা করে। মামলায় প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ বলেছিল, এ অর্থের মধ্যে গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ বাবদ দেওয়া অর্থও ধরা হয়েছে।

গত ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ এই মামলার রায়ে সাংহাই আদালত বলেছেন, ওই দুই কিশোর ‘অপমানজনক কাজের’ মাধ্যমে কোম্পানির সম্পত্তি ও সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে। এ ছাড়া এই ঘটনা ‘জনগণের মধ্যে প্রবল অস্বস্তির সৃষ্টি করেছে’।

রায়ে আরও বলা হয়, ওই কিশোরদের অভিভাবকেরা সন্তানের প্রতি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। তাই এই ক্ষতিপূরণের অর্থ তাঁদের পরিশোধ করতে হবে।

এই ক্ষতিপূরণের মধ্যে আছে—কার্যক্রম ও সুনাম ক্ষুণ্নের জন্য ২০ লাখ ইউয়ান; সব হাঁড়ি, চুল্লি, এমনকি টেবিলও বদলে ফেলাসহ জীবাণুমুক্তকরণ বাবদ এক ক্যাটারারকে ১ লাখ ৩০ হাজার ইউয়ান এবং আইনি খরচ বাবদ ৭০ হাজার ইউয়ান।

আদালত রায়ে আরও বলেছেন, হাইদিলাও তাদের গ্রাহকদের যে অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে তা বিলের বাইরে এবং তাদের ‘স্বেচ্ছায় নেওয়া ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত’। তাই এর দায়ভার ওই কিশোরদের ওপর চাপানো যাবে না।

হাইদিলাও ইতিমধ্যে তাদের সব সরঞ্জাম বদলে ফেলেছে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ সবকিছু জীবাণুমুক্ত করেছে।

চীনের হটপট চেইন হাইদিলাও প্রথম যাত্রা শুরু করেছিল সিচুয়ান প্রদেশের ছোট্ট শহর জিয়ানইয়াং থেকে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে এই চেইন রেস্তোরাঁটির এক হাজারের বেশি শাখা আছে। আর তাদের পরিচিতি শুধু সুস্বাদু খাবারের জন্য নয়—খাবারের অপেক্ষার সময় নারী গ্রাহকদের বিনা মূল্যে ম্যানিকিউর ও শিশুদের হাতে তুলে দেওয়া কটন ক্যান্ডির জন্যও।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-09-16%2F7mrvefvb%2FHaidilao.jpg?rect=110%2C0%2C654%2C436&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
চীনের সবচেয়ে বড় হটপট চেইন রেস্তোরাঁ হাইদিলাও। ফাইল ছবি: এএফপি