Sunday, March 8, 2026
ইরানের শাহেদ বনাম যুক্তরাষ্ট্রের লুকাস: যুদ্ধে কোনটি বেশি কার্যকর
এক সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এখন প্রায় একই ধরনের দুটি অস্ত্র আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সেগুলো হলো ইরানের ড্রোন শাহেদ–১৩৬ এবং যুক্তরাষ্ট্রের লুকাস (লো কস্ট আনক্রুড কমব্যাট অ্যাটাক সিস্টেম)। মার্কিন সমরাস্ত্রের ভান্ডারে নতুন সংযোজন এই লুকাস।
ফোর্বস সাময়িকীর প্রতিবেদন অনুযায়ী, লুকাস সরাসরি ইরানের ড্রোনের নকশার অনুকরণ করে বানানো হয়েছে। ইরানের মতো এখন যুক্তরাষ্ট্রও এই ড্রোন বিপুল সংখ্যায় তৈরি করছে। তেহরানের জন্য হতাশার বিষয় হলো, তাদের উদ্ভাবন করা একটি অস্ত্র এখন তাদেরই বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে।
আসল খেলা সংখ্যায়
এমন নয় যে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি বলে শাহেদ–১৩৬ ড্রোন যুদ্ধের হিসাব বদলে দিচ্ছে; বরং এটি খুবই সস্তায় এবং কম সময়ে বিপুল সংখ্যায় তৈরি করা যায়।
একটি শাহেদ–১৩৬ ড্রোন তৈরি করতে ইরানের খরচ হয় ১০ থেকে ৫০ হাজার মার্কিন ডলার।
খবর অনুযায়ী, রাশিয়াও প্রতিবছর তাদের নিজস্ব সংস্করণের লাখো ড্রোন তৈরির পরিকল্পনা করছে।
ত্রিভুজাকৃতির নকশার কারণে এর কাঠামোর আকার অপেক্ষাকৃত ছোট, এতে এর সংযোজনের প্রক্রিয়া সহজ ও সস্তা হয়ে গেছে।
প্রায় ১০ লাখ ডলার মূল্যের একেকটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার পরিবর্তে ইরান এখন একযোগে শত শত ড্রোন উৎক্ষেপণ করতে পারে, যা প্রতিপক্ষের প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে সক্ষম।
প্রথম ছয় দিনে শাহেদ যা দেখাল
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোয় হামলা চালাতে শত শত ড্রোন উড়িয়েছে।
শাহেদ-১৩৬ ড্রোনের মূল শক্তি হলো একসঙ্গে অনেকগুলো উৎক্ষেপণ করা যায়, ২ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত উড়ে গিয়ে আঘাত হানতে পারে, কম উচ্চতা দিয়ে উড়ে যায় বলে রাডার এড়াতে পারে, সর্বোপরি সস্তা।
তবে শাহেদ-১৩৬ ড্রোনের কিছু দুর্বলতাও রয়েছে। যেমন এটার গতি কম, ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটার। ইঞ্জিনে শব্দ হওয়ার কারণে সেগুলো সহজে শনাক্ত হয়ে যায়, প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় ধ্বংস হওয়ার হার অনেক বেশি।
লুকাসে জবাব যুক্তরাষ্ট্রের
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, একটি লুকাস তৈরি করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩৫ হাজার ডলার খরচ হয়। এর নকশা এমনভাবে করা হয়েছে যে এগুলো বড় আকারে একযোগে আক্রমণ করতে পারে।
নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত ড্রোনগুলো ওড়ার সময় একে অন্যের সঙ্গে সমন্বয় করতে পারে।
এটি এমন একটি অস্ত্র, যেটি সস্তায় এবং বিপুল সংখ্যায় তৈরি করা যায়। ফলে পেন্টাগন তাদের যুদ্ধকৌশলে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। কারণ, যুদ্ধ করতে গিয়ে এমন সস্তা অস্ত্র অনেক পরিমাণে ধ্বংস হলেও ক্ষতি কম হয়।
লুকাস নিয়ে যা জানা যায়
লুকাস দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র হামলা শুরু করেছে সম্প্রতি। উপসাগরে থাকা মার্কিন রণতরি থেকে সেগুলো উৎক্ষেপণ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত সেগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকেন্দ্রে হামলা এবং রাডার–ব্যবস্থা ধ্বংসে ব্যবহার করা হচ্ছে। লুকাস নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সংযুক্ত থেকে সমন্বিতভাবে আক্রমণ করছে।
ইরানের শাহেদ–১৩৬, নাকি যুক্তরাষ্ট্রের লুকাস—অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র হিসেবে কোনটি সেরা, আজকের দিনে সেটি বড় প্রশ্ন নয়; বরং উভয় পক্ষই এখন একই ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের ধারণার দিকে এগোচ্ছে। দামি ক্ষেপণাস্ত্রের বদলে সস্তা এবং বিপুল সংখ্যায় উৎপাদন সম্ভব আত্মঘাতী ড্রোন যুদ্ধে নতুন আতঙ্কের নাম হয়ে উঠছে।
| ইরানের শাহেদ (বাঁয়ে) এবং যুক্তরাষ্ট্রের লুকাস (ডানে) ছবি: কোলাজ |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যুদ্ধের অষ্টম দিন: কঠোর হামলার হুমকি, অনড় ইরান
তবে ইরান কোনোভাবেই আত্মসমর্পণ করবে না বলে আবারও জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। গতকালও ইসরায়েলে বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইরান। তবে মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশে হামলার ঘটনায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি এ–ও বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এসব দেশ থেকে ইরান আক্রান্ত না হলে পাল্টা হামলা চালাবে না তেহরান।
যুদ্ধের অষ্টম দিনে গতকাল ইরানে হামলা আরও তীব্র করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তেহরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দর ও ইসলামি রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সামরিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে দিনের শুরুতেই ব্যাপক হামলা চালানোর কথা জানায় ইসরায়েলি বাহিনী।
মার্কিন–ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরানের সামরিক বাহিনীও ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে। এসব হামলায় হাইপারসনিক (শব্দের গতির চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি গতিসম্পন্ন) ক্ষেপণাস্ত্রও ব্যবহার করা হয়েছে। সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-দাফরা বিমানঘাঁটি ও কুয়েতের আলী আল-সালেম বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে। ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে দুবাই বিমানবন্দরে।
ইরানের হামলায় মানামায় একাধিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালিতে মাল্টা ও মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী দুটি তেলের জাহাজে আঘাত হানার দাবি করেছে আইআরজিসি।
চলমান যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের ১২টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ইরান ছাড়া এসব দেশে ২৯ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে গতকাল সংযুক্ত আমিরাতের দুবাইয়ে আল–বারশা এলাকায় ভূপাতিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে একজন গাড়িচালক নিহত হন। ইরানে নিহতের সংখ্যার হালনাগাদ তথ্য গতকাল জানানো হয়নি। শুক্রবারের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ১ হাজার ৩৩২ জন নিহত হয়েছেন।
কঠোর আঘাত হানার হুমকি
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গতকাল ট্রুথ সোশ্যালে বিবৃতিতে ইরানকে ‘খুবই কঠোরভাবে আঘাত’ হানার হুমকি দেন। তিনি বলেন, ইরানের নেতিবাচক আচরণের কারণে কিছু স্থাপনা সম্পূর্ণ ধ্বংস ও নেতৃস্থানীয়ও আরও কিছু ব্যক্তিকে হত্যা করা হতে পারে। এসব স্থাপনা ও ব্যক্তিকে আগে নিশানা করার সিদ্ধান্ত ছিল না। এ সময় ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান মধ্যপ্রাচ্যে তার প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ক্ষমা চেয়েছে ও ‘নতি স্বীকার’ করেছে। পাশাপাশি দেশটি তাদের ওপর আর হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তাঁর ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরামহীন হামলার কারণেই এমন প্রতিশ্রুতি এসেছে। এর আগে গত শুক্রবার ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ছাড়া’ ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়।
তবে কারও কাছে আত্মসমর্পণের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। গতকাল রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত এক ভিডিও বক্তব্যে তিনি বলেন, ইরান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠীর উসকানিমূলক ও আগ্রাসী যুদ্ধের মুখোমুখি। নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের যেকোনো ধারণা দিবাস্বপ্ন মাত্র। এমন স্বপ্ন ইরানের শত্রুদের মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলা উচিত।
বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে ইরানে হামলা না হলে পাল্টা হামলা না চালানোর কথা জানিয়েছেন পেজেশকিয়ান। অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পর্ষদের সাম্প্রতিক এক বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে শত্রুরা ইরানে হামলা না চালালে এসব দেশে হামলা বা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ না করতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সময় ইরানের হামলার শিকার প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন পেজেশকিয়ান।
প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের পর আইআরজিসির খতম আল-আম্বিয়া সদর দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিবেশী দেশগুলোর স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানায় তাদের বাহিনী। এসব দেশে ওপর হামলার কোনো ইচ্ছা নেই। তবে অতীতের মতো এসব দেশ থেকে শত্রুতাপূর্ণ কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে এ অঞ্চলে জলে, স্থলে ও আকাশে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থকে প্রাথমিক লক্ষ্যবস্তু করা হবে এবং শক্তিশালী ও বিধ্বংসী হামলা চালানো হবে।
ইরানের এ বক্তব্যের পরও কুয়েত, আমিরাত, বাহরাইন, কাতার, সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়ার খবর পাওয়া গেছে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রোগ্রামের প্রধান আলী ভায়েজ বলেন, ‘আমার কাছে মনে হচ্ছে, সরকার প্রতিবেশীদের বিরাগভাজন হওয়ার পরিণতি এবং তাদের যুক্তরাষ্ট্রের জোটে ঠেলে দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে চিন্তিত। অন্যদিকে রেভোল্যুশনারি গার্ড তাদের বর্তমান নীতি চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর।’
এদিকে দেশটির বিশেষজ্ঞ পর্ষদ (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্ট) পরবর্তী নেতা নির্বাচন করতে যাচ্ছে। গতকাল এই পর্ষদের সদস্য হোসেন মোজাফারি জানান, পরববর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নতুন নেতা নির্বাচন করা হতে পারে। ইরানে হামলার প্রথম দিনই দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন।
হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল
গতকাল দিনের শুরুতে রাজধানী তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানায়, রাতভর ইরানজুড়ে ৮০ যুদ্ধবিমান থেকে ২৩০টির মতো বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এসব হামলায় আইআরজিসির ইমাম হোসেন মিলিটারি ইউনিভার্সিটি, ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার সরঞ্জামের মজুত, ভূগর্ভে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি ও সংরক্ষণাগারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। হামলার পর তেহরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরে দীর্ঘ সময় ধরে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, আইআরজিসির কুদস বাহিনী এ বিমানবন্দর ব্যবহার করে। হামলায় কুদস বাহিনীর ১৬টি উড়োজাহাজ ও যুদ্ধবিমান ধ্বংস করা হয়।
ফ্লোরিডায় এক অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র বিস্ময়কর সাফল্য পাচ্ছে। মার্কিন বাহিনী ৪২টি ইরানি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করে দিয়েছে। এ ছাড়া দেশটির বিমানবাহিনী ও টেলি যোগাযোগব্যবস্থা ধ্বংস করে দেওয়ারও দাবি করেন তিনি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়ে হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের একটি ‘পানি শোধনাগার’ ধ্বংস করে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। এ শোধনাগার থেকে ৩০টি গ্রামে পানি সরবরাহ করা হতো। এ হামলার ঘটনাকে ‘সুস্পষ্ট অপরাধ’ বলে মন্তব্য করেছেন আরাগচি।
ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে দেশটির ৬ হাজার ৬৬৮টি বেসামরিক স্থাপনাকে নিশানা করে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার ৫৩৫টি আবাসিক স্থাপনা, ১ হাজার ৪১টি বাণিজ্যিক স্থাপনা, ১৪টি চিকিৎসাকেন্দ্র, ৬৬টি বিদ্যালয় ও রেড ক্রিসেন্ট-সংশ্লিষ্ট ১৩টি স্থাপনাও রয়েছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইতিমধ্যে নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৩০০ ছাড়িয়ে গেছে। নিহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই বেসামরিক নাগরিক।
চলমান এ যুদ্ধে নিহত দুই বছরের শিশু জয়নাব সাহেবির দাফন ঘিরে গতকাল তেহরানে মর্মস্পর্শী দৃশ্য দেখা যায়। তাঁর কফিনে একটি পুতুল সাজিয়ে রাখা হয়। আর কফিন ধরে আহাজারি করছিলেন স্বজনেরা।
তেহরানের বাসিন্দা ২৬ বছর বয়সী একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আমার মনে হয় না, যাদের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা নেই, তারা এটি বুঝতে পারবে। যখন আপনি হামলার শব্দ শুনবেন, আপনি ধারণাই করতে পারবেন না, বোমাটি কোথায় আঘাত হানছে।’
হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর ইসরায়েল ও মার্কিন সামরিক বাহিনীর স্থাপনা লক্ষ্য করে গতকাল ২৬তম ধাপে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। গতকালের হামলায় হাইপারসনিক ‘ফাতাহ’ও ব্যালিস্টিক ‘ইমাদ’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পর মধ্য ইসরায়েল, তেল আবিব ও জেরুজালেমে বড় বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন সেখানকার সাংবাদিকেরা।
সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি, শায়বাহ তেলক্ষেত্র ও রাজধানী রিয়াদকে লক্ষ্য করে ছোড়া কয়েকটি ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। রাতে প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিহীন এলাকায় গিয়ে পড়ে বলে মন্ত্রণালয় জানায়।
সংযুক্ত আরব আমিরাতকে লক্ষ্য করে গতকাল ১৬টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১২১টি ড্রোন ছোড়া হয় বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এদিকে আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে দেখতে গিয়ে ইরানের হামলার কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ। তিনি বলেছেন, ‘জাতি এখন যুদ্ধের মধ্যে রয়েছে। আমাদের ধৈর্যের সীমা আছে। আমরা সহজ শিকার নই। অচিরেই আমাদের শক্তিমত্তা দেখা যাবে।’
চলমান সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে নিজেদের নাগরিকদের সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ২৮ হাজার নাগরিক নিরাপদে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে যুক্তরাজ্যের নাগরিকদেরও সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
লেবাননে ব্যাপক হামলা ইসরায়েলের
প্রতিবেশী দেশ লেবাননে স্থল অভিযানের পাশাপাশি ব্যাপক হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। দেশটির ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে দফায় দফায় হামলা চালানো হয়েছে। জবাবে ইসরায়েলের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালানোর দাবি করেছে হিজবুল্লাহ। উভয় দেশের সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সরে যেতে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ পাল্টাপাল্টি আহ্বান জানিয়েছে।
লেবাননের বেকা উপত্যকার নাবি চিত এলাকায় হিজবুল্লাহর সঙ্গে লড়াইয়ে শুক্রবার দিবাগত রাতে ইসরায়েলি এক সেনা নিহত হন। তাঁর মরদেহ উদ্ধারে গিয়েও ব্যর্থ হন ইসরায়েলি কমান্ডোরা। হিজবুল্লাহর প্রতিরোধের মুখে তাঁরা ওই এলাকায় নামতে পারেননি। এরপর নাবি চিত এলাকায় নির্বিচার বোমা হামলা শুরু করে ইসরায়েল। এতে ৪৫ জন নিহত ও ৪০ জন আহত হয়েছেন। এ নিয়ে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ৩৩৯–এ দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন ১ হাজার ২৩ জন।
যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা
বিভিন্ন আরব দেশে অব্যাহত হামলার প্রেক্ষাপটে আজ রোববার জরুরি বৈঠক ডেকেছে আরব লিগ। এ ছাড়া যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান ও পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের বৈঠকে ‘দুই দেশের কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তি ও সৌদিতে চলমান আগ্রাসন’ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ কথা জানিয়েছে।
যুদ্ধ বন্ধে বৈশ্বিক জনমতও বাড়ছে। অবিলম্বে ইরানে হামলা বন্ধে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে। মার্কিন দূতাবাস অভিমুখে এ বিক্ষোভ হয়। এতে পাঁচ–ছয় হাজার মানুষ অংশ নিয়েছেন বলে একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
![]() |
| যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলায় প্রাণ হারিয়েছে দুই বছরের শিশু জয়নাব সাহেবি। হয়তো পুতুলটি খুব পছন্দের ছিল জয়নাবের। চিরবিদায়ের সময় তার কফিনে রাখা হয়েছে পুতুলটি। গতকাল তেহরানে। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আরব–ইরান সম্পর্ক ভাঙনের মুখে
বছরের পর বছর ধরে তারা এ মুহূর্তটি ঠেকানোর জন্য বিরাট কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়েছে। তারা তেহরানের সঙ্গে আলোচনা বজায় রেখেছে, দূতাবাস চালু রেখেছে এবং বারবার এই আশ্বাস দিয়েছে—তাদের ভূখণ্ডকে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে কোনো ‘লঞ্চপ্যাড’ হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
ইরান তার ক্ষেপণাস্ত্রের নিশানা এসব প্রতিবেশী দেশের দিকে ঘুরিয়ে দিয়ে যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, তা কেবল ঐতিহাসিকভাবে কৌশলগত ভুলই নয়, বরং চরম নৈতিক ও আইনি ব্যর্থতা। এই পদক্ষেপ আগামী প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সম্পর্কের বিষিয়ে ওঠার ঝুঁকি তৈরি করেছে।
প্রকৃত সংযমের নজির
উপসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থার (জিসিসি) সদস্যদেশগুলো ইরানের শত্রু হিসেবে এ সংকটে জড়ায়নি। বরং বছরের পর বছর ধরে তারা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার দ্বন্দ্বে অত্যন্ত সচেতনভাবে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করেছে।
২০১৯ সালে সৌদি আরব আলোচনার পথ বেছে নেয় এবং তেহরানের সঙ্গে পূর্ণ কূটনৈতিক
সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে সচেষ্ট হয়। সেই প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত রূপ ছিল ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় হওয়া ঐতিহাসিক স্বাভাবিকীকরণ চুক্তি এবং পুনরায় দূতাবাস চালু। রিয়াদের ভাষ্য ছিল—সংঘাত নয়, আলোচনার মাধ্যমেই স্থিতিশীলতা সম্ভব। বর্তমান সংকট যখন ঘনীভূত হচ্ছিল, তখনো সৌদি আরব স্পষ্টভাবে তেহরানকে নিশ্চিত করেছিল যে ইরানের ওপর হামলা চালাতে তারা তাদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না। সৌদি আরব তার কথা রেখেছে, কিন্তু বিনিময়ে সম্মানটুকু তারা পায়নি।
মধ্যস্থতার জন্য বছরের পর বছরে চেষ্টা চালিয়ে গেছে কাতার। তারা হামাস ও ইসরায়েল এবং ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যোগসূত্র হিসেবে কাজ করেছে। যখন খুব কম দেশই এগিয়ে এসেছিল, তখন দোহা ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার আয়োজন করেছিল এবং কূটনৈতিক সমাধানের জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছিল।
অন্যদিকে ওমান সেই নিভৃত মধ্যস্থতকারী, যাদের আলোচনার ওপর ভিত্তি করে যুদ্ধের আগমুহূর্ত পর্যন্ত একটি চুক্তির ক্ষীণ আশা বেঁচে ছিল। বোমা বর্ষণ শুরু হওয়ার আগের দিনও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি শান্তি ‘হাতের নাগালে’ আছে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন।
ইরান নিজেও তাদের (জিসিসিভুক্ত দেশগুলো) আন্তরিকতাকে পরোক্ষভাবে স্বীকার করে নিয়েছে। ৫ মার্চ তেহরান প্রকাশ্যে সৌদি আরবের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। তেহরানের সেই স্বীকৃতিই এখন ইরানের কর্মকাণ্ডকে আরও বেশি স্ববিরোধী এবং অমার্জনীয় করে তুলেছে।
বিস্ময়ে বাক্রুদ্ধ এই অঞ্চল
উপসাগরীয় দেশগুলোর দীর্ঘদিনের এই সদিচ্ছার বিনিময়ে ইরান যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, তা খোদ যুদ্ধ শুরু করা দেশগুলোর ওপর চালানো হামলার চেয়েও অনেক বেশি ভয়ংকর। পরিসংখ্যান বলছে, যুদ্ধের শুরুর দিনগুলোতে ইরান ইসরায়েলের তুলনায় উপসাগরীয় দেশগুলোর দিকে দ্বিগুণের বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রায় ২০ গুণ বেশি ড্রোন ছুড়েছে।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে, যে পথ দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল এবং এলএনজির বড় একটি অংশ প্রতিদিন পরিবাহিত হয়। ইরানি হামলার হুমকিতে এই পথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে, যা উপসাগরীয় জ্বালানি উৎপাদনকারী দেশগুলোর সঙ্গে এশিয়া, ইউরোপ এবং এর বাইরের অর্থনীতির সংযোগকারী প্রধান ধমনিকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। সৌদি, আমিরাত ও কাতারের রপ্তানি কার্যত স্থবির হয়ে পড়ায় এবং বিমাবাজারে ধস নামায়, এই দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থার আশঙ্কা ১৯৮০-এর দশকের ‘ট্যাংকার ওয়ার’-এর স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। (১৯৮৪–১৯৮৮ সালের সংঘাতের সময় ইরান ও ইরাক পারস্য উপসাগরে একে অপরের তেলবাহী জাহাজ ও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা শুরু করেছিল, যা ট্যাংকার ওয়ার নামে পরিচিত)। এটি বিশ্বকে এমন এক অর্থনৈতিক ধাক্কার দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যা সামলানোর কোনো পূর্বপ্রস্তুতিই কারও নেই।
অবৈধ, হঠকারী ও অগ্রহণযোগ্য
উপসাগরীয় দেশগুলোর সার্বভৌম ভূখণ্ডে ইরানের এই হামলা কেবল কৌশলগতভাবেই ভুল নয়; বরং আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতেও তা অবৈধ। তেহরান এসব হামলাকে বৈধতা দিতে যুক্তি দেখিয়েছে যে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির উপস্থিতির কারণে ওই দেশগুলো বৈধ লক্ষ্যবস্তু হয়ে পড়েছে। তবে এই যুক্তি ধোপে টেকে না।
জিসিসিভুক্ত দেশগুলো যুদ্ধের আগমুহূর্ত পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে ইরানকে এই নিশ্চয়তা দিয়েছিল যে তাদের ভূখণ্ড ইরানের ওপর হামলার জন্য ব্যবহৃত হবে না। ১ মার্চ জিসিসির বিশেষ মন্ত্রী পর্যায়ের বিবৃতিতে বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছিল। পরে ৫ মার্চের জিসিসি-ইউরোপীয় ইউনিয়নের যৌথ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকেও বিষয়টি পুনরায় উল্লেখ করা হয়।
ইরানের সঙ্গে যেকোনো উপসাগরীয় রাষ্ট্রের চেয়ে কাতারের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী যোগাযোগ ছিল। সেই কাতার এসব হামলাকে ‘বেপরোয়া ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে অভিহিত করেছে।
ফেরার পথ খোঁজা জরুরি
এখনকার সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো সুযোগ ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই পদক্ষেপ নেওয়া। কোনো শর্ত ছাড়াই এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে একটি যুদ্ধবিরতির পথে হাঁটতে হবে।
এমন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে যে সংকটময় পর্যায় ঘনিয়ে আসছে। ইরান ঘোষণা করেছে ‘শত্রু চূড়ান্তভাবে পরাজিত’ না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে। লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইরাকের মিলিশিয়াদের মতো ইরানের প্রক্সি গোষ্ঠীগুলো সক্রিয়ভাবে অভিযানে অংশ নিচ্ছে। প্রতিটি অতিবাহিত দিন সম্ভাবনার পথকে সংকীর্ণ করে তুলছে।
এখন যা জরুরি তা হলো—ওয়াশিংটন বা তেহরান একা যা করতে পারবে না, সেই ‘অ্যাভিনিউ’ বা ফেরার পথ তৈরিতে একটি সমন্বিত আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা।
বছরের পর বছর ধৈর্যশীল ও নিরবচ্ছিন্ন কূটনীতির মাধ্যমে উপসাগরীয় দেশগুলো প্রমাণ করেছে যে ইরানের সঙ্গে সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কই ছিল তাদের প্রধান পছন্দ। ইরান সেই পছন্দের বিপরীতে জবাব দিয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে। তেহরানের জন্য এটি মনে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে যে আজ তারা যে প্রতিবেশীদের ওপর বোমা ফেলছে, তারাই তাদের মধ্যস্থতার দক্ষতা এবং বিশ্বব্যাপী প্রভাব ব্যবহার করে ইরানকে এই পরিস্থিতি থেকে উদ্ধারের সবচেয়ে বড় সুযোগ দিতে পারত। ফেরার পথটি এখনই তৈরি করতে হবে, তবে সেই সুযোগের জানালা চিরকাল খোলা থাকবে না।
![]() |
| সৌদি আরব ও ইরানের পতাকা। রয়টার্স ফাইল ছবি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘বড় শয়তান’ যাকে অগ্রহণযোগ্য বলেছে, তিনিই হতে যাচ্ছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা
আজ রোববার পর্ষদের (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস) সদস্য আয়াতুল্লাহ মোহাম্মদ মেহদি মিরবাঘেরি এ তথ্য জানিয়েছেন।
ইরানি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, মিরবাঘেরি জানিয়েছেন, নেতা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় এখনো ‘কিছু প্রতিবন্ধকতা’ রয়ে গেছে; যার সমাধান করা প্রয়োজন।
এর আগে গতকাল শনিবার বিশেষজ্ঞ পর্ষদের একজন জ্যেষ্ঠ আলেম জানান, সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের জন্য পর্ষদ সদস্যরা ‘এক দিনের মধ্যে’ বৈঠকে বসবেন।
ইরানের গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, পর্ষদের সদস্যদের মধ্যে একটি বিষয়ে সামান্য মতভেদ দেখা দিয়েছে। সেটি হলো, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সশরীর বৈঠকের মাধ্যমে নেওয়া বাধ্যতামূলক কি না, নাকি এমন আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই ঘোষণা করা সম্ভব।
নূর নিউজ প্রকাশিত এক ভিডিওতে পর্ষদের আরেকজন সদস্য আয়াতুল্লাহ মহসিন হায়দারি আলেকাসির আজ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সশরীর উপস্থিত হয়ে চূড়ান্ত ভোট দেওয়া সম্ভব নয়।
এ সদস্য আরও জানান, প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার দেওয়া পরামর্শ অনুযায়ী একজন প্রার্থীকে বাছাই করা হয়েছে। পরামর্শটি ছিল—ইরানের শীর্ষ নেতাকে এমন হতে হবে, যাঁকে ‘শত্রুরা ঘৃণা করবে’, প্রশংসা নয়।
বাছাই করা উত্তরসূরি সম্পর্কে হায়দারি আলেকাসির বলেন, ‘এমনকি ‘‘বড় শয়তান’’ (যুক্তরাষ্ট্র) তাঁর নাম উল্লেখ করেছে।’
উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, খামেনির ছেলে মোজতাবা খামেনি তাঁর কাছে ‘অগ্রহণযোগ্য’ পছন্দ।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
![]() |
| তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী সমাবেশে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছবি হাতে প্রতিক্রিয়া জানান এক নারী। ছবিটি তোলা হয়েছে ৬ মার্চ ২০২৬ ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আফগানিস্তানের গ্রাহকের দাড়ি ছাঁটা নিয়ে বিপদে নরসুন্দরেরা, ব্যবসায় মন্দা
গত মাসে আফগানিস্তানের ‘ভালো কাজের আদেশ ও খারাপ কাজের নিষেধ’ মন্ত্রণালয় এক আদেশে জানায়, এখন থেকে দাড়ি এক মুষ্টির চেয়ে বড় রাখা ‘আবশ্যক’। আগের একটি আদেশকে আরও কঠোর করে নতুন এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মন্ত্রী খালিদ হানাফি বলেন, ‘শরিয়াহ বা ইসলামি আইন অনুযায়ী জনগণের বাহ্যিক অবয়ব নিশ্চিতে দিকনির্দেশনা দেওয়া সরকারের দায়িত্ব।’
মন্ত্রী বলেন, ভালো কাজের আদেশ প্রচারে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের ‘ইসলামি ব্যবস্থা বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা’ রয়েছে।
নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, তা যাচাইয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এখন শহরের রাস্তায় রাস্তায় টহল দিচ্ছেন। নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে এএফপির সঙ্গে কথা বলা ব্যক্তিদের কেউ নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।
দক্ষিণ–পূর্ব গজনি প্রদেশের ৩০ বছর বয়সী এক নরসুন্দর বলেন, তাঁকে তিন রাত আটকে রাখা হয়েছিল। তাঁর এক কর্মচারী এক গ্রাহকের চুল ‘পশ্চিমা ধাঁচে’ কেটেছিলেন, এমন খবর পাওয়ার পর কর্মকর্তারা তাঁকে ধরে নিয়ে গিয়েছিলেন।
ওই নরসুন্দর বলেন, ‘প্রথমে আমাকে একটি ঠান্ডা হলরুমে রাখা হয়েছিল। পরে আমি মুক্তির জন্য জোরাজুরি করলে তাঁরা আমাকে একটি শীতল (শিপিং) কনটেইনারে পাঠিয়ে দেন।’
তবে শেষ পর্যন্ত কোনো অভিযোগ ছাড়াই ওই নরসুন্দর ছাড়া পান। বর্তমানে তিনি কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু টহল দল পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি তাঁর গ্রাহকদের নিয়ে লুকিয়ে পড়েন।
ওই নরসুন্দর বলেন, ‘বিষয় হলো, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কেউ তর্ক বা কোনো প্রশ্ন করতে পারেন না। সবাই তাঁদের ভয় পান।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই নরসুন্দর আরও বলেন, কোনো ক্ষেত্রে নরসুন্দর ও গ্রাহক উভয়কে আটক করা হলেও ‘গ্রাহকদের ছেড়ে দেওয়া হয়, কিন্তু নরসুন্দরকে’ আটকে রাখা হয়।
জাতিসংঘের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর কুনার প্রদেশে মন্ত্রণালয়ের নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে তিন নরসুন্দরকে তিন থেকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
‘ব্যক্তিগত পরিসর’
কড়াকড়ি বৃদ্ধির পাশাপাশি ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় আরও কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে। গত নভেম্বরে ইমামদের জন্য প্রকাশিত আট পৃষ্ঠার এক নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, জুমার খুতবায় দাড়ি কামানোকে যেন ‘কবিরা গুনাহ’ বা মহাপাপ হিসেবে অভিহিত করা হয়।
দাড়ি ছাঁটার বিপক্ষে যুক্তি দিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয় বলেছে, দাড়ি কামানোর মাধ্যমে পুরুষেরা আসলে ‘নারীদের মতো হওয়ার চেষ্টা’ করছে।
এই নিয়ম এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয়ও পৌঁছে গেছে। দেশটিতে নারী শিক্ষা নিষিদ্ধ হওয়ায় এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে কেবল ছেলেরা পড়াশোনা করেন।
কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী বলেন, শিক্ষকেরা আমাদের ‘সতর্ক করে দিয়েছেন।... তাঁরা বলেছেন, আমাদের অবয়ব যদি যথাযথ ইসলামি না হয়, তথা মুখে দাড়ি ও মাথায় টুপি না থাকে, তাহলে নম্বর কেটে নেওয়া হবে।’
রাজধানী কাবুলের ২৫ বছর বয়সী এক নরসুন্দর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘অনেক বিধিনিষেধ।’ এসব বিধিনিষেধ তাঁর তরুণ গ্রাহকেরা পছন্দ করেন না। কারণ, তাঁরা দাড়ি ছোট করে ছাঁটতেই বেশি পছন্দ করেন।
ওই নরসুন্দর আরও বলেন, ‘নরসুন্দরের কাজ একধরনের ব্যক্তিগত (প্রাইভেট) ব্যবসা। দাড়ি বা চুল রাখা মানুষের একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। যে যেভাবে চায়, সেভাবে কাটার সুযোগ থাকা উচিত।’
কিন্তু ‘ভালো কাজের আদেশ ও খারাপ কাজের নিষেধ’ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হানাফি এ ধরনের যুক্তি নাকচ করে দিয়েছেন। গত মাসে তিনি বলেন, পুরুষদের ‘শরিয়াহ অনুযায়ী দাড়ি বড় করতে’ বলাকে ‘ব্যক্তিগত পরিসরে হস্তক্ষেপ’ হিসেবে গণ্য করা যায় না।
ব্যবসায় মন্দা
আফগানিস্তানের অধিকাংশ মানুষ ধর্মপ্রাণ মুসলিম। তবে ২০২১ সালে তালেবান আবার ক্ষমতায় আসার আগে দেশটির বড় শহরগুলোর বাসিন্দারা নিজেদের পছন্দমতো পোশাক বা অবয়ব বেছে নিতে পারতেন।
তবে যেসব এলাকায় তালেবান যোদ্ধারা মার্কিন–সমর্থিত আফগান সরকারের বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছিলেন, সেখানকার পুরুষেরা ভয়ে বা স্বেচ্ছায় দাড়ি রাখতেন।
এখন দাড়ি কামানোর চল কমে আসায় কাবুলের ২৫ বছর বয়সী ওই নরসুন্দর বলছিলেন, তাঁর ব্যবসায় এরই মধ্যে মন্দা শুরু হয়েছে।
উদাহরণ হিসেবে নরসুন্দর বলেন, অনেক সরকারি কর্মকর্তা ‘আগে সপ্তাহে কয়েকবার চুল–দাড়ি ছাঁটাতেন। কিন্তু এখন তাঁদের অনেকে দাড়ি রেখেছেন। এখন তাঁরা মাসে একবারও দোকানে আসেন না।’
কাবুলের ৫০ বছর বয়সী এক নরসুন্দর বলেন, নীতি পুলিশের টহল দল প্রতিদিন পরিদর্শনে আসে এবং সবকিছু পরীক্ষা করে দেখে।
চলতি মাসের এক ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ওই নরসুন্দর বলেন, এক কর্মকর্তা দোকানে ঢুকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘চুল এভাবে কাটলে কেন?’
ওই নরসুন্দর বলেন, ‘আমি যখন তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করলাম, ও তো একটা শিশু। তখন তিনি (কর্মকর্তা) আমাদের বললেন, ‘না, ইসলামি ধাঁচে চুল কাটবে, ইংরেজি ধাঁচে নয়।’
![]() |
| পুলিশের কড়াকড়ি উপেক্ষা করে এক গ্রাহকের দাড়ি ছাঁটাই করছেন এক নরসুন্দর। আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ছবি: এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইরানে হামলা: কংগ্রেসকে এড়িয়ে ইসরায়েলকে ২৭ হাজার বোমা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের নেতৃত্বকে নির্মূল এবং দেশটির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে দেশটিতে আগ্রাসন শুরু করে ইসরায়েল। অথচ গত জুনে মার্কিন হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস হয়ে গেছে বলে দাবি করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর গত শুক্রবার রাতে এক বিবৃতিতে জানায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইসরায়েলের কাছে এক হাজার পাউন্ড ওজনের ১২ হাজার বিশাল বোমাসহ অন্যান্য সরঞ্জাম ‘জরুরি ভিত্তিতে বিক্রির’ প্রয়োজনীয়তা দেখছেন। তবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য ট্রাম্প প্রশাসন এখন পর্যন্ত কংগ্রেসের কোনো অনুমোদন পায়নি।
ইসরায়েলের কাছে যেসব অস্ত্র বিক্রি করা হচ্ছে, তার মধ্যে আরও রয়েছে ৫০০ পাউন্ড ওজনের ১০ হাজার বোমা ও ৫ হাজার ছোট আকারের বোমা। এসব অস্ত্র এবং এর আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম ও পরিষেবার বাজারমূল্য ৫০ কোটি ডলারের বেশি। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর অবশ্য তাদের ঘোষণায় এ বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করেনি।
তবে পররাষ্ট্র দপ্তরের অস্ত্র হস্তান্তর বিভাগে কর্মরত সাবেক কর্মকর্তা জশ পল ও বর্তমান দুজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এগুলো জরুরি অস্ত্র বিক্রির অংশ। স্পর্শকাতর এ অস্ত্র লেনদেনের বিষয়ে কথা বলতে বর্তমান কর্মকর্তারা নিজেদের নাম প্রকাশ করতে চাননি।
ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র বিক্রিতে কংগ্রেসকে এড়াতে ‘আর্মস এক্সপোর্ট কন্ট্রোল অ্যাক্ট’-এর অধীন ট্রাম্পের প্রশাসন প্রথমবার আনুষ্ঠানিকভাবে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করল। এর আগে ইসরায়েলে অস্ত্র বা সামরিক সহায়তা পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রশাসন তিনবার কংগ্রেসের অনানুষ্ঠানিক অনুমোদনপ্রক্রিয়া এড়িয়ে গেলেও সে সময় কোনো জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়নি।
এর আগে গত জানুয়ারিতেও কংগ্রেসকে এড়িয়ে ইসরায়েলে মোট ৬৫০ কোটি ডলার মূল্যের চারটি অস্ত্রব্যবস্থা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছিল পররাষ্ট্র দপ্তর। সেই প্যাকেজে অ্যাপাচি অ্যাটাক হেলিকপ্টার ও যুদ্ধযান অন্তর্ভুক্ত ছিল। এ অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি মাসের পর মাস ধরে কংগ্রেসের দুটি কমিটিতে অনানুষ্ঠানিক পর্যালোচনাধীন থাকলেও শেষ পর্যন্ত রপ্তানির প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পররাষ্ট্র দপ্তর।
যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবছর ইসরায়েলকে ৩৮০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা দেয়, যা দিয়ে ইসরায়েল অস্ত্র কেনে। এসব সমরাস্ত্র সাধারণত মার্কিন কোম্পানিগুলোর তৈরি হলেও সব সময় তা হয় না। অনেক সময় ইসরায়েল সরাসরি মার্কিন কোম্পানিগুলো থেকে নিজস্ব অর্থায়নেও অস্ত্র কিনে থাকে।
২০২৩ সালে বাইডেন প্রশাসনও ইসরায়েলে অস্ত্র পাঠাতে দুবার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিল। এর মধ্যে একটি প্যাকেজে ১৩ হাজার রাউন্ড ট্যাঙ্কের গোলাবারুদ ও অন্যটিতে আর্টিলারি সরঞ্জাম ছিল। এ ছাড়া ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার অভিযান শুরুর পর দেশটিতে দ্রুত অস্ত্র পাঠাতেও দুবার এ জরুরি বিধান ব্যবহার করেছিল বাইডেন প্রশাসন।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৯ সালে ইরানের হুমকি দেখিয়ে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে ৮১০ কোটি ডলারের গোলাবারুদ বিক্রি করতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিল পররাষ্ট্র দপ্তর। ইসরায়েলে এখন যেসব বোমা পাঠানো হচ্ছে, সেগুলো বিক্রির দুটি প্রস্তাবিত প্যাকেজ কংগ্রেসের অনানুষ্ঠানিক পর্যালোচনায় ছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট দুটি কমিটি এখন পর্যন্ত সেগুলোর অনুমোদন দেয়নি। অস্ত্র চুক্তির ক্ষেত্রে এভাবে কংগ্রেসকে এড়িয়ে যাওয়ার সমালোচনা করেছেন বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতা।
হাউস ফরেন রিলেশনস কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য গ্রেগরি ডব্লিউ মিকস বলেন, ইসরায়েলের কাছে গোলাবারুদ পাঠানোর দুটি ক্ষেত্রে কংগ্রেসের পর্যালোচনা এড়াতে যেভাবে আর্মস এক্সপোর্ট কন্ট্রোল অ্যাক্টের জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করা হয়েছে, তা এই প্রশাসনের যুদ্ধসংক্রান্ত যুক্তির মূলে থাকা চরম বৈপরীত্যকেই প্রকাশ করে।
![]() |
| যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলায় নিহত শিশু জয়নাব সাহেবির (২) মরদেহের সামনে এক স্বজনের শোক। গতকাল ইরানের রাজধানী তেহরানে। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অন্তত ৬ মাস ‘তীব্র যুদ্ধ’ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা আছে ইরানের: আইআরজিসি
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সির বরাতে আইআরজিসির মুখপাত্র আলি মোহাম্মদ নাইনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বর্তমান গতির এই তীব্র যুদ্ধ অন্তত ৬ মাস চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখে।’
এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাইনির এ বক্তব্য সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মূল্যায়নের সম্পূর্ণ বিপরীত। ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন যে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চালানো অভিযান অত্যন্ত সফল হয়েছে।
চলতি সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা এ যুদ্ধে বড় ব্যবধানে জিতছি। আমরা তাদের পুরো ‘‘শয়তানি সাম্রাজ্য’’ গুঁড়িয়ে দিয়েছি।’
আইআরজিসি ইরানের অন্যতম শক্তিশালী ও প্রভাবশালী একটি সংস্থা। সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি রাজনীতি, শিক্ষা ও অর্থনীতিতেও এ বাহিনীর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
![]() |
| ইরানের রাজধানী তেহরানে বিস্ফোরণের পর আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। ছবিটি তোলা হয়েছে ৭ মার্চ ২০২৬ ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইরান যুদ্ধ: মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলের পরিকল্পনা by ডেভিড হার্স্ট
এই যুদ্ধ শুরু হয়েছে এক ভিন্ন পরিপ্রেক্ষিতে। জেনেভা ও ওমানে তখন ইরান ও পশ্চিমাদের মধ্যে আলোচনা চলছিল। ইরান প্রস্তাব দিয়েছিল, তারা তাদের সব উচ্চমাত্রাসমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে কমিয়ে দেওয়ার। যাতে তা আর পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহারযোগ্য না থাকে।
এই প্রস্তাবের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ শুরু করেন। ফলে অনেকের কাছে পরিষ্কার হয়ে যায়, আলোচনা আসলে শুরু থেকেই একটি প্রহসন ছিল। গত জুনেও একই ধরনের আলোচনা চলার সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালিয়েছিল।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ কয়েক মাস ধরে খামেনির গতিবিধি নজরদারি করছিল। ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব এক জায়গায় জড়ো হওয়ার সুযোগের অপেক্ষায় ছিল তারা। শনিবার সেই সুযোগ আসে। পাশাপাশির দুটি ভবনে দুই বৈঠকে শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত থাকতেই ইসরায়েল হামলা চালায়।
হামলার পর ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রায় একই ভাষায় ইরানের জনগণকে রাস্তায় নেমে সরকারবিরোধী আন্দোলনের আহ্বান জানান, কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি; বরং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে।
খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর ইরানের মানুষ রাস্তায় বের হলেও তাঁরা প্রতিবাদ করতে নয়, শোক প্রকাশ করতে বের হয়েছিলেন। তেহরানের একবাতান এলাকার কিছু মানুষ নিজেদের বাসা থেকে উল্লাস করেছিলেন। কিন্তু শহরের অন্য অংশে শোনা গেছে কান্না ও আতঙ্কের চিৎকার। আবার অনেকেই ভবিষ্যতের ভয় নিয়ে নীরব ছিলেন।
প্রথম থেকেই স্পষ্ট, এই যুদ্ধ শুধু ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে নয়। মূল লক্ষ্য শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন। অদ্ভুত বিষয় হলো, শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের এই নীতি ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে বিরোধিতা করে এসেছে। ২০২৩ সালে নিউ হ্যাম্পশায়ারের ডেরিতে এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবাজ রাজনীতিবিদদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেবেন।
প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে দেওয়া এক ভাষণেও ট্রাম্প বলেছিলেন, তথাকথিত ‘ন্যাশন বিল্ডাররা’ যত দেশ গড়েছে, তার চেয়ে বেশি দেশ ধ্বংস করেছে। কিন্তু এখন ট্রাম্প নিজেই উপসাগরীয় অঞ্চলে একটি বড় যুদ্ধ শুরু করেছেন।
এই যুদ্ধের কারণ হিসেবে ট্রাম্প কখনো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, কখনো ক্ষেপণাস্ত্র, কখনো শাসন পরিবর্তনের কথা বলেছেন। পরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, এই হামলা ছিল প্রতিরোধমূলক। যুক্তরাষ্ট্র জানত, ইসরায়েল হামলা চালাতে যাচ্ছে, তাই আগে থেকেই তারা আঘাত হেনেছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্র কি আসলে ইসরায়েলের কৌশলের অনুসারী হয়ে গেছে?
এই প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, উল্টো তিনিই নাকি ইসরায়েলকে হামলা করতে বাধ্য করেছেন। কিন্তু নেতানিয়াহুর অবস্থান বরাবরই পরিষ্কার। বহু বছর ধরে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে বড় আঘাত হানার পক্ষে ছিলেন। প্রায় চার দশক ধরে তিনি এই দিনের অপেক্ষা করেছেন।
হামলার লক্ষ্যও ছিল ইরানের সব রাজনৈতিক নেতৃত্ব। সংস্কারপন্থী, বামপন্থী, সাবেক প্রেসিডেন্ট থেকে শুরু করে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী পর্যন্ত আঘাতের শিকার হয়েছে।
এতে বোঝা যায়, লক্ষ্য শুধু শাসকগোষ্ঠী বদল নয়। লক্ষ্য হলো ইরানকে একটি দুর্বল, বিভক্ত রাষ্ট্রে পরিণত করা।
নেতানিয়াহুর বৃহত্তর পরিকল্পনার সঙ্গে এই লক্ষ্য যুক্ত। ইসরায়েলের বহু নেতার মুখে এখন একটি ধারণা শোনা যায়। তা হলো ‘গ্রেটার ইসরায়েল’।
এই ধারণা অনুযায়ী, ইসরায়েলের প্রভাব মিসরের নীল নদ থেকে ইরাকের ফোরাত নদী পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।
সম্প্রতি ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইসরায়েল যদি নীল নদ থেকে ফোরাত পর্যন্ত ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে, তাতেও সমস্যা নেই।
ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইহুদিদের নিরাপদ ও শক্তিশালী রাষ্ট্র নিশ্চিত করতে হলে ভূখণ্ড বিস্তৃত হওয়াও গ্রহণযোগ্য।
এই বৃহত্তর কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে ভারত। ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক গত এক দশকে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক ইসরায়েল সফর সেই সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে। গবেষক ও লেখক আজাদ এসার মতে, পশ্চিমা বিশ্বের বাইরে ইসরায়েলের সবচেয়ে শক্তিশালী মিত্র এখন ভারত।
এই সম্পর্ক শুধু কূটনৈতিক নয়, সামরিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ওপরও দাঁড়িয়ে আছে। ভারত ইতিমধ্যে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে বিভিন্ন অস্ত্র উৎপাদন করছে। ফলে ভারত ধীরে ধীরে ইসরায়েলি সামরিক শিল্পের একটি বড় উৎপাদনকেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে।
এই সহযোগিতা ইসরায়েলের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এতে তারা অস্ত্র উৎপাদন, প্রযুক্তি এবং শ্রমশক্তির ক্ষেত্রে একটি বিকল্প অংশীদার পাচ্ছে। গাজা যুদ্ধের পর বহু ফিলিস্তিনি শ্রমিককে ইসরায়েলে কাজ করতে দেওয়া হয়নি। সেই শূন্যস্থান পূরণে ভারত থেকে শ্রমিক নেওয়ার পরিকল্পনাও হয়েছে। মোদি তাঁর সাম্প্রতিক সফরে আরও প্রায় ৫০ হাজার ভারতীয় শ্রমিক ইসরায়েলে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন; অর্থাৎ ভারতের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, প্রযুক্তি, বাজার এবং শ্রমশক্তি মিলিয়ে একটি নতুন কৌশলগত জোট গড়ে উঠছে।
এই মিত্রতার লক্ষ্য শুধু নিরাপত্তা সহযোগিতা নয়; বরং এটি মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্য নতুনভাবে গড়ে তোলার একটি প্রচেষ্টা। নেতানিয়াহু মনে করেন, ইরানই এই পরিকল্পনার শেষ বড় বাধা।
ইরান দুর্বল হয়ে গেলে মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন ক্ষমতার কাঠামো তৈরি হতে পারে, যেখানে ইসরায়েল হবে প্রধান সামরিক শক্তি। এই পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় অঞ্চলও দ্রুত অস্থির হয়ে উঠেছে।
ইরান ইতিমধ্যে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে, দুবাইয়ে হামলা চালিয়েছে এবং সৌদি আরবের বড় তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। কাতারের গ্যাস রপ্তানিও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে।
এই যুদ্ধ এখন শুধু ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি পুরো মধ্যপ্রাচ্য এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিকে প্রভাবিত করছে। এখন ইরানের সামনে দুটি সম্ভাব্য পথ রয়েছে।
একটি হলো, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় রাষ্ট্রীয় কাঠামো ভেঙে পড়বে এবং শাসন ব্যবস্থার পতন ঘটবে। অন্যটি হলো, ইরান নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে যুদ্ধটিকে একটি সমঝোতায় নিয়ে যাবে।
যদি ইরান ভেঙে পড়ে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্য নতুন অস্থিরতার মুখে পড়বে। লাখ লাখ শরণার্থী ইউরোপের দিকে যেতে পারে এবং অঞ্চলজুড়ে নতুন সংঘাত শুরু হতে পারে। কিন্তু যদি ইরান টিকে থাকে, তাহলে এই যুদ্ধ দীর্ঘ মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
কারণ, তখন স্পষ্ট হয়ে উঠবে যে যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে, যার প্রয়োজন ছিল না। এই বাস্তবতায় মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র নতুন করে আঁকতে গিয়ে একটি বড় সংঘাতের মুখে দাঁড়িয়ে আছে বিশ্ব।
* ডেভিড হার্স্ট, মিডল ইস্ট আই-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক
- মিডল ইস্ট আই থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে সংক্ষিপ্তাকারে অনূদিত
![]() |
| স্যাটেলাইট চিত্রে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বাসভবনের চত্বরে কালো ধোঁয়া ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দেখা যাচ্ছে। আজ শনিবার ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর। তেহরান, ইরান ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর ‘বিজয়’ নাকি বিপর্যয়ের শুরু? by দাউদ কাত্তাব
যুদ্ধের সময় প্রতিপক্ষের নেতাকে হত্যা করলে তা সাময়িক জনপ্রিয়তা এনে দিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার ঘটনা নিজেদের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছেন।
কিন্তু তাই বলে ৮৬ বছর বয়সী অসুস্থ একজন নেতাকে হত্যা করা, যিনি আগেই উত্তরসূরি নির্ধারণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন! এটা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিপুল সামরিক শক্তির প্রেক্ষাপটে খুব বড় অর্জন নয়। এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো, তাঁকে সরিয়ে দিলেই যে পরবর্তী নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের স্বার্থের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।
মধ্যপ্রাচ্যের অভিজ্ঞতা বলছে, নেতৃত্ব হত্যা শান্তির পথ খুলে দেয় না; বরং অনেক সময় আরও কঠোর বা উগ্র নেতৃত্বের উত্থান ঘটে অথবা এমন অস্থিরতা তৈরি হয়, যা বিশৃঙ্খলা উসকে দেয়।
সাম্প্রতিক ইতিহাসে দেখা গেছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন সংঘাতে নেতৃত্ব সরানোর কৌশল নিয়েছে, কিন্তু ফল হয়েছে উল্টো। ইরাকে সাদ্দাম হোসেনকে মার্কিন বাহিনী গ্রেপ্তার করে এবং পরে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এতে একটি প্রকাশ্য ইসরায়েলবিরোধী শাসনের অবসান ঘটে ঠিকই, কিন্তু একই সঙ্গে ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হয়। সেই সুযোগে ইরানপন্থী শক্তিগুলো ক্ষমতার সমীকরণে চলে আসে।
পরবর্তী দুই দশকে ইরাক ইরানের আঞ্চলিক কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। সেখানে ইরান বিভিন্ন অরাষ্ট্রীয় গোষ্ঠীর শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে, যা পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
মার্কিন আগ্রাসনের পর সৃষ্ট নিরাপত্তাশূন্যতা স্বাভাবিকভাবেই নানা বিদ্রোহ ও সংঘাতের জন্ম দেয়। এর সবচেয়ে ভয়াবহ উদাহরণ ছিল আইএসআইএল বা আইএসের উত্থান। এই গোষ্ঠীগুলো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে হাজারো নিরীহ মানুষকে হত্যা করে এবং ইউরোপে ব্যাপক শরণার্থী সংকট তৈরি করে।
হামাসের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যায়। ২০০০ সালের পর থেকে ইসরায়েল বারবার হামাসের শীর্ষ নেতাদের হত্যার চেষ্টা করেছে। ২০০৪ সালে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা শেখ আহমেদ ইয়াসিনকে হত্যা করা হয়। পরে তাঁর উত্তরসূরি আবদেল আজিজ রান্তিসিকেও হত্যা করা হয়, যিনি তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী অবস্থানের নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
এমন কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের পর ইয়াহিয়া সিনওয়ার গাজায় হামাসের নেতৃত্বে আসেন। তিনিই ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার পরিকল্পনা করেন।
হিজবুল্লাহর ইতিহাসেও একই ধারা দেখা যায়। সংগঠনের প্রভাবশালী নেতা হাসান নাসরাল্লাহ ক্ষমতায় আসেন তাঁর পূর্বসূরি আব্বাস আল মুসাভিকে ইসরায়েল হত্যা করার পর।
দীর্ঘ সময় ধরে নেতৃত্ব হত্যা ও যুদ্ধ সত্ত্বেও ইসরায়েল এসব সংগঠনের আদর্শকে নির্মূল করতে পারেনি। দখলদারির বিরুদ্ধে প্রতিরোধের যে রাজনৈতিক ও আদর্শিক ভিত্তি, সেটি এখনো রয়ে গেছে। বর্তমান সংঘাতবিরতি হয়তো নতুন ঝড়ের আগের নীরবতা।
ইরানের ক্ষেত্রেও প্রশ্ন উঠছে, খামেনির উত্তরসূরি কি আলোচনায় আগ্রহী হবেন? মাসকাট ও জেনেভায় আলোচনার সময় ওমানের মধ্যস্থতাকারীরা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে খামেনির নেতৃত্বে ইরান পরমাণু ইস্যুতে বড় ধরনের ছাড় দিতে প্রস্তুত ছিল। তাঁর উত্তরসূরি একই রাজনৈতিক সুযোগ পাবেন কি না, তা অনিশ্চিত।
যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের অভিযান চালিয়ে যায় এবং ইরানে রাষ্ট্রব্যবস্থার পতন ঘটাতে চায়, তবে তার ফল কী হবে, তা অনুমান করা কঠিন। তবে ইরাক ও লিবিয়ার অভিজ্ঞতা বলছে, নিরাপত্তাশূন্যতা সৃষ্টি হলে তার প্রভাব আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর ভয়াবহভাবে পড়বে। ইউরোপও এর ধাক্কা সামলাতে হিমশিম খাবে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, ইরানে নেতৃত্ব সরানোর কৌশল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আসলে কী পাবে?
নেতানিয়াহুর জন্য এটি বড় রাজনৈতিক সাফল্য। সামনে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। চারটি দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হলে তাঁর রাজনৈতিক জীবন শেষ হতে পারে, এমনকি কারাদণ্ডও হতে পারে। এ বাস্তবতায় স্বল্পমেয়াদি জনপ্রিয়তা তাঁর জন্য মূল্যবান। ইসরায়েলে সামরিক অভিযানের দীর্ঘমেয়াদি ফল নিয়ে খুব বেশি ভাবনা হয় না। সেখানে সমাজের বড় অংশই এ ধরনের পদক্ষেপের পক্ষে।
কিন্তু ট্রাম্পের ক্ষেত্রে লাভ ততটা স্পষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে। মানুষ যুদ্ধ চায় না। এমন সময়ে দূরদেশের একজন অসুস্থ বৃদ্ধ নেতাকে হত্যা করে গর্ব করা কতটা রাজনৈতিকভাবে লাভজনক, তা প্রশ্নসাপেক্ষ। বিপুল অর্থ ব্যয় করে এমন একটি দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানো, যাকে অনেক মার্কিন নাগরিক ইসরায়েলের যুদ্ধ হিসেবে দেখছেন, তা ট্রাম্পের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত হতে পারে।
ট্রাম্প আপাতত স্থলবাহিনী পাঠানোর বিষয়ে লাগাম টেনেছেন। কোনো এক সময় তাঁকে বিমান হামলা বন্ধ করতে হবে এবং সেনা ফিরিয়ে নিতে হবে। তখন পেছনে থেকে যাবে অস্থিতিশীলতা, যার ভার বইতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্রদের। দেশেও জবাবদিহির প্রশ্ন উঠবে।
এটি হয়তো মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি সামরিক অভিযান হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নেবে, যা ব্যয় করবে অর্থ, প্রাণ এবং কূটনৈতিক প্রভাব। তবে প্রত্যাশিত ফল দেবে না। হয়তো এক দিন ওয়াশিংটন বুঝবে, নেতৃত্ব হত্যা ও নির্মূলের কৌশল দিয়ে দীর্ঘস্থায়ী সমাধান পাওয়া যায় না।
* দাউদ কাত্তাব, ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ও বিশ্লেষক
- আল–জাজিরা থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে সংক্ষিপ্তাকারে অনূদিত
![]() |
| লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। গত সোমবার থেকে দেশটিতে টানা হামলা চলছে। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৯৪
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানিয়েছে, গত সোমবার থেকে হামলায় ২৯৪ জন নিহত ও ১ হাজার ২৩ জন আহত হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
![]() |
| লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় শহর টায়ারে হামলার পরের দৃশ্য। লেবানন, ৭ মার্চ। ছবি: এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কুর্দি কারা? ট্রাম্প কেন ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তাদের চায়? by জেসন বার্ক
কুর্দিরা নিজেদের প্রাচীন মধ্যপ্রাচ্যের একটি জাতি ‘মিডস’-এর সঙ্গে যুক্ত করে দেখে। এক শতাব্দী আগে অটোমান সাম্রাজ্যের পতনের পর আধুনিক মধ্যপ্রাচ্যের নতুন সীমানা নির্ধারণের সময় কুর্দিরা রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়ে। এর পর থেকে অস্থির এই অঞ্চলের রক্তাক্ত রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে তারা বারবার আটকা পড়েছে। নিজেদের নিরাপত্তার জন্য প্রায়ই তাদের ভরসা করতে হয়েছে নিজেদের গড়ে তোলা মিলিশিয়া বাহিনী পেশমার্গার ওপর। ইতিহাস থেকে কুর্দিরা একটি কথাই শিখেছে—তাদের ‘বন্ধু বলতে পাহাড় ছাড়া আর কেউ নেই’।
ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন থাকলেও কুর্দিদের একটি স্বতন্ত্র সংস্কৃতি রয়েছে। তাদের ভাষা পারসিয়ান ভাষার সঙ্গে সম্পর্কিত এবং এর বহু উপভাষা আছে। তাদের নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী পোশাক, সংগীত, খাবার ও আলাদা পরিচয় রয়েছে।
কুর্দি জাতীয়তাবাদের সূচনা উনিশ শতকের শেষভাগে। গত এক শতাব্দীতে ব্রিটেন থেকে শুরু করে পরে যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত বিভিন্ন পরাশক্তি কুর্দিদের জাতীয় আকাঙ্ক্ষাকে সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। কুর্দিদের অধিকাংশই সুন্নি মুসলিম, তবে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হারে ধর্মীয় সংখ্যালঘুও রয়েছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে এই অঞ্চলের বিভিন্ন স্বৈরশাসক ও সরকার কুর্দিদের ওপর কঠোর দমন–পীড়ন চালিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে পুরো সম্প্রদায়কেই উচ্ছেদ বা হত্যা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাইরের শক্তিগুলো প্রায়ই নিজেদের কৌশলগত সুবিধার জন্য কুর্দিদের ব্যবহার করার চেষ্টা করেছে। এতে কুর্দি সমাজের ভেতর বিভক্তি ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত তার মাশুল দিতে হয়েছে কুর্দিদেরই।
তুরস্কে দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা বাহিনী ও কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি বা পিকেকের মধ্যে সংঘাত চলছে। এই বামপন্থী সংগঠনটি প্রথমে একটি স্বাধীন কুর্দি রাষ্ট্রের জন্য লড়াই শুরু করলেও পরে স্বায়ত্তশাসনের দাবি তোলে। এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং তুরস্কের দক্ষিণ–পূর্বাঞ্চল থেকে বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
ইরাকে সাবেক শাসক সাদ্দাম হোসেন উত্তরাঞ্চলের কুর্দিদের বিরুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছিলেন। তবে ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের পর কুর্দিরা সেখানে একটি আধা–স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গড়ে তুলতে সক্ষম হয়, যা তারা এখনো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে পরিচালনা করছে।
ইরানের কুর্দি অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতেও কেন্দ্রীয় কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে, যার সূচনা ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের সময় থেকেই। সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও এই অঞ্চল অস্থিরতার কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। ২০২২ সালে ইরানি–কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে যে বিক্ষোভ শুরু হয়, তাতে কুর্দি অঞ্চলগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আবার ২০২৫ সালের শেষ দিকে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী আন্দোলনের পর ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনাতেও এই অঞ্চল উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সিরিয়ায় গত দশকের গৃহযুদ্ধের সময় কুর্দিরা সেখানে একটি স্বশাসিত অঞ্চল গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিল। তারা যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জোটের হয়ে ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল, শেষ পর্যন্ত সেই উদ্যোগ সফল হয়নি।
এর একটি বড় কারণ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত সিদ্ধান্ত। ওয়াশিংটন নতুন একটি সিরীয় রাষ্ট্র গঠনের প্রক্রিয়া ও তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ককে কুর্দিদের আকাঙ্ক্ষার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়।ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কুর্দিদের বহু প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। তবে এই যুদ্ধ পেশমার্গাদের একটি দক্ষ যোদ্ধা বাহিনী হিসেবে পরিচিতি আরও শক্ত করেছে। ‘পেশমার্গা’ শব্দের অর্থ যারা মৃত্যুকে খুঁজে নেয়। কঠিন ভূখণ্ড সম্পর্কে তাদের জ্ঞান, দ্রুত চলাচলের ক্ষমতা এবং প্রবল মনোবল অনেক সময় ভারী অস্ত্রে সজ্জিত শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধেও তাদের টিকিয়ে রেখেছে।
এই যুদ্ধের মধ্য দিয়েই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কুর্দিদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ তৈরি হয়েছে এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজনে ব্যবহার করা যেতে পারে এমন কৌশলও তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ট্রাম্প প্রশাসন যদি তেহরানের বর্তমান শাসনকে দুর্বল করতে চায়, তাহলে ইরানের কুর্দিবিরোধী গোষ্ঠীগুলোর যোদ্ধাদের ব্যবহার করার চেষ্টা করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ সমর্থন এবং মাটিতে সামরিক উপদেষ্টাদের সহায়তা থাকলে পেশমার্গারা ইরানের কুর্দি অধ্যুষিত অঞ্চলে কিছু এলাকা দখল ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হতে পারে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত অতিক্রম করে অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ার মতো সামর্থ্য তাদের নেই।
বরং লক্ষ্য হতে পারে ইরানের সামরিক বাহিনীকে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ব্যস্ত রাখতে বাধ্য করা, যাতে তাদের গুরুত্বপূর্ণ সেনা ও সম্পদ সেখানেই আটকে পড়ে। একই সঙ্গে ইরানের অন্য জাতিগত গোষ্ঠীগুলোকেও নিজেদের আন্দোলন শুরু করতে উৎসাহিত করা হতে পারে, যা সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তাও পেতে পারে।
তবে এই পরিকল্পনার ঝুঁকিও কম নয়, এবং কুর্দি নেতারা তা খুব ভালোভাবেই জানেন। আপাতত ইরাকের উত্তরাঞ্চলের মূলধারার কুর্দি নেতৃত্ব বলছে, তারা নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকবে। তাদের এই অবস্থান অস্বাভাবিক নয়। ইতিহাস বলছে, বড় কোনো যুদ্ধ শুরু হলেই কুর্দিরা প্রায়ই দুই পক্ষের সংঘর্ষের মাঝখানে পড়ে যায়। তখন আবারও প্রমাণিত হয়, শেষ পর্যন্ত তাদের প্রকৃত আশ্রয় একটাই—পাহাড়ের উঁচু চূড়াগুলো।
* জেসন বার্ক, দ্য গার্ডিয়ানের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাবিষয়ক সংবাদদাতা।
- দ্য গার্ডিয়ান থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনূদিত
![]() |
| সিরিয়ায় পাহারায় সশস্ত্র কুর্দি নারী। ছবি: এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইরানে স্থল অভিযান চালানোর ‘প্রবল’ সম্ভাবনা রয়েছে: ইরানি কুর্দি
‘খাবাত অর্গানাইজেশন অব ইরানি কুর্দিস্তান’-এর সাধারণ সম্পাদক বাবাশেখ হোসেইনি গতকাল শুক্রবার আল–জাজিরাকে বলেন, ‘এ মুহূর্তে’ কোনো অভিযান চলছে না। তবে যুক্তরাষ্ট্র তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তাঁরা স্থল সামরিক অভিযান চালানোর কথা বিবেচনা করছেন।
কুর্দি অঞ্চল থেকে হোসেইনি আল–জাজিরাকে বলেন, ‘আমরা দীর্ঘ সময় ধরে পরিকল্পনা করছি। এখন পরিস্থিতি আমাদের অনুকূলে। তাই অভিযানের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।’
কুর্দি নেতা আরও যোগ করেন, ‘আমরা এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাইনি। তবে স্থল অভিযান নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।’
বিদ্রোহী এই নেতা উপসংহারে বলেন, ‘মার্কিন নাগরিকেরা বিভিন্ন মাধ্যমে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এখন পর্যন্ত সরাসরি দেখা না হলেও তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসন দ্বিতীয় সপ্তাহে পা দেওয়ার সঙ্গে ইরানের ইসলামি রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) আজ শনিবার জানিয়েছে, তারা কুর্দি অঞ্চলের ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে’ নিশানা করেছে।
তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘আজ সকালে ইরাকি (কুর্দিস্তান) অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর তিনটি অবস্থানে আঘাত হানা হয়েছে। যদি এই অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো ইরানের আঞ্চলিক অখণ্ডতার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়, তবে আমরা তাদের গুঁড়িয়ে দেব।’
‘ইরাকি ভূখণ্ডকে হামলা ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না’
বিদ্রোহী কুর্দিরা সীমান্ত পেরিয়ে ইরানে প্রবেশের চেষ্টা করতে পারে—এমন খবরের ভিত্তিতে গতকাল ইরাক সরকার ও কুর্দি আঞ্চলিক সরকার জানিয়ে দিয়েছে, প্রতিবেশীদের ওপর হামলার জন্য ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করা যাবে না। এর কয়েক ঘণ্টা পরই আইআরজিসি এ হামলা চালায়।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানি ও কুর্দিস্তানের আঞ্চলিক প্রেসিডেন্ট নেচিরভান বারজানি টেলিফোনে আলাপ করে সম্মত হয়েছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলার জন্য ইরাকি ভূখণ্ডকে লঞ্চিং পয়েন্ট (উৎক্ষেপণ কেন্দ্র) হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।
তেহরান শুক্রবার হুমকি দিয়েছিল, যদি নির্বাসিত ইরানি কুর্দি যোদ্ধাদের ইরানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়, তবে তারা ওই অঞ্চলের ‘সব স্থাপনা’ নিশানা করে হামলা চালাবে।
ইসরায়েল ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে বিভিন্ন স্থানে বোমা হামলা চালাচ্ছে, যাতে ইরানি কুর্দি যোদ্ধাদের সহায়তা করা যায়—এমনটি রয়টার্সকে জানিয়েছেন বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের আলোচনার বিষয়ে অবগত তিনটি সূত্র।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার রয়টার্সকে বলেছেন, তারা (কুর্দিরা) সীমান্ত পার হলে সেটি হবে ‘চমৎকার’ একটি বিষয়। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি, তারা এটি করতে চায়। বিষয়টি চমৎকার, আমি এর পূর্ণ সমর্থন দেব।’
ইরাকে একাধিক হামলা
আইআরজিসির এই বিবৃতি এমন সময়ে এল, যখন শুক্রবার ইরাকের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাগুলোতে ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। কুর্দিস্তানের রাজধানী এরবিলে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সেনারা বেশ কিছু ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
নিরাপত্তা সূত্রগুলো রয়টার্সকে জানিয়েছে, এরবিলের ‘আর্জান বাই রোটানা’ হোটেলেও একটি ড্রোন আঘাত হেনেছে।
শুক্রবার গভীর রাতে বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
দক্ষিণ ইরাকের তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলা
ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলীয় বসরা প্রদেশে বিদেশি জ্বালানি কোম্পানিগুলোর একটি তেল স্থাপনায় দুবার হামলা হয়েছে। বসরার একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, ‘বুর্জেশিয়া তেল কমপ্লেক্সের ওপর দুটি ড্রোন ভূপাতিত করা হলেও তৃতীয় একটি ড্রোন লক্ষ্যভেদে সক্ষম হয় এবং সেখানে আগুন ধরে যায়।
বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস শুক্রবার তাদের এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টে জানিয়েছে, ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলো কুর্দি অঞ্চলের সেই সব হোটেলকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে, যেখানে বিদেশিরা যাতায়াত করেন।
![]() |
| ইরাকের এরবিল অঞ্চলে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে কুর্দি বিদ্রোহীদের একটি দল। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, কুর্দিস্তান। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
-
▼
2026
(1279)
-
▼
March
(202)
-
▼
Mar 08
(12)
- ইরানের শাহেদ বনাম যুক্তরাষ্ট্রের লুকাস: যুদ্ধে কোন...
- যুদ্ধের অষ্টম দিন: কঠোর হামলার হুমকি, অনড় ইরান
- আরব–ইরান সম্পর্ক ভাঙনের মুখে
- ‘বড় শয়তান’ যাকে অগ্রহণযোগ্য বলেছে, তিনিই হতে যাচ্ছ...
- আফগানিস্তানের গ্রাহকের দাড়ি ছাঁটা নিয়ে বিপদে নরসুন...
- ইরানে হামলা: কংগ্রেসকে এড়িয়ে ইসরায়েলকে ২৭ হাজার বো...
- অন্তত ৬ মাস ‘তীব্র যুদ্ধ’ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা আছ...
- ইরান যুদ্ধ: মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলের পরিকল্পনা...
- ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর ‘বিজয়’ নাকি বিপর্যয়ের শুরু? by...
- ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৯৪
- কুর্দি কারা? ট্রাম্প কেন ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তা...
- ইরানে স্থল অভিযান চালানোর ‘প্রবল’ সম্ভাবনা রয়েছে: ...
-
▼
Mar 08
(12)
-
▼
March
(202)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...










