Saturday, November 5, 2016

প্রত্যাশা বেছে নিন: ওবামা

নর্থ ক্যারোলাইনায় বারাক ওবামা। ছবি: রয়টার্স
বিভেদের রাজনীতি ও ভাষার জন্য রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ভোটারদের তিনি ৮ নভেম্বরের নির্বাচনে ভয়ের বিপরীতে প্রত্যাশা বেছে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের খবরে জানানো হয়, গতকাল শুক্রবার নর্থ ক্যারোলাইনায় এক সমাবেশে হাজারো সমর্থকদের উদ্দেশে এই আহ্বান জানান ওবামা। ওবামা বলেন,
‘আমি আপনাদের ভোট চাই। ভয়কে বেছে নেবেন না। আশা বেছে নিন। ভয়কে বেছে নেবেন না। আশা বেছে নিন। ভোটকেন্দ্রে যান। ভোট দিন। আপনারা যদি সঠিক সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে আমার পুরো বিশ্বকে এ কথা মনে করিয়ে দিতে পারব যে আমেরিকা কেন পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি।’ আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নর্থ ক্যারোলাইনা অন্যতম ‘ব্যাটলগ্রাউন্ড’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ডেমোক্রেটিক পার্টির হিলারি ক্লিনটন ও রিপাবলিকান পার্টির ডোনাল্ড ট্রাম্প—উভয় প্রার্থী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার জন্য এই অঙ্গরাজ্যে জয়ের বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন। হিলারি ও ট্রাম্পের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস দিচ্ছে বিভিন্ন জনমত জরিপ।

নির্বাচনে টাকার খেলায় চিন্তিত মার্কিনরা

আগের রাতেই ই-মেইলে ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক পল এ বেক জানিয়ে রেখেছিলেন, কী নিয়ে কথা বলবেন তিনি। তবে তাত্ত্বিক আলোচনার ফাঁকেই সাংবাদিকেরা প্রশ্নটা করে বসলেন তাঁকে, ‘কে যাচ্ছেন হোয়াইট হাউসে?’ মাথা নেড়ে বেক বললেন, বলা মুশকিল। মানুষ দলের চোখ দিয়ে সব দেখে। পুরো দেশ দুই শিবিরে বিভক্ত। দিন দিন বিভক্তি প্রকট হচ্ছে। স্টেট ডিপার্টমেন্টের আমন্ত্রণে ২৫টি দেশের সাংবাদিক এখন ওহাইওতে।
বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয় ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষক এবং ওই রাজ্যের দুজন সাংবাদিক নির্বাচন ও রাজনীতির হালচাল নিয়ে আসলে যেসব শব্দ উচ্চারণ করলেন, তার সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষ অতিপরিচিত। এর মধ্যে একটি পরিচিত বিষয় হলো, নির্বাচনে টাকার খেলা। এবার তা এমন পর্যায়ে গেছে যে মার্কিনিরাও তা নিয়ে চিন্তিত। চার ঘণ্টা ধরে চলা আলোচনার সারাংশ হলো—নির্বাচনে টাকা ছড়ানো, বিরোধী পক্ষের ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আসার ব্যবস্থা বন্ধ করা, প্রচার-প্রচারণা থেকে বিস্তর গালমন্দ করা, কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর প্রতি আক্রমণাত্মক আচরণ করা—এ সবই চলছে মার্কিন নির্বাচনকে ঘিরে। আর ভোটের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, বিভক্তির কুশ্রী চেহারা ততই কুশ্রীতর হচ্ছে। পল এ বেক বলছিলেন, ‘কতটা বিভক্তি ভেবে দেখুন। বারাক ওবামা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন—রিপাবলিকানদের এই প্রচারণা খণ্ডাতে শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট তাঁর জন্মসনদ দেখিয়েছেন। তবু রিপাবলিকানদের অনেকের এখনো বিশ্বাস—বারাক ওবামা মার্কিন নাগরিক নন।’ তিনি বলেন, ২০১২ সালের নির্বাচনেও ডেমোক্র্যাট সমর্থকের ৯৩ শতাংশ ডেমোক্র্যাটদের, আর রিপাবলিকানদের ৯৪ শতাংশ সমর্থক রিপাবলিকান প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন। এবারও এর খুব একটা পরিবর্তন হবে না বলেই সব মূল্যায়ন বলছে। শুধু দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে মানুষ সবকিছু যাচাই করছে, এটাই একমাত্র সমস্যা নয়। রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে নির্বাচন থেকে ভোটারদের সরিয়ে রাখার চেষ্টা নিয়েও। ফ্লোরিডায় দলটি সফল হয়েছে; নতুন আইনের কারণে সেখানে কয়েক লাখ অপরাধী ভোট দিতে পারবেন না, যাঁদের বড় অংশই আফ্রিকান-আমেরিকান। এ অংশটিকে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা তাঁদের ভোট ব্যাংক বলে মনে করেন। ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের অধ্যাপক ডেনিয়েল পি তোকাজি বলেন, আদালত স্বাধীন বলেই রিপাবলিকানরা আইন করে নর্থ ক্যারোলাইনা, উইসকনসিন ও টেক্সাসে মানুষকে ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। তবে ওহাইওতে সে চেষ্টা চলছে এখনো। টাকা ছড়ানো নিয়েও উদ্বেগের কথা বলেন তিনি। প্রায় বছর খানেক ধরে চলা নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় নানা বিষয়ে লিখেছেন সাংবাদিকেরা। তবে যত দিন পর্যন্ত টাকার খেলা বন্ধ না হচ্ছে, তত দিন পর্যন্ত লেখনী চালিয়ে যাওয়া দরকার বলে মত দেন আলোচনায় অংশ নেওয়া সাংবাদিকেরা। ওহাইও পাবলিক রেডিওর করসপনডেন্ট জো ইঙ্গেলস বলেন,
নির্বাচনে যেকোনো প্রার্থীর প্রচারে যে কেউ নাম গোপন রেখে টাকা দিতে পারেন। এই সুবিধাটা ব্যবসায়ী ও সুযোগসন্ধানী লোকজন ভালোভাবেই কাজে লাগাচ্ছেন। নির্বাচনের পর ভোটারদের কথা ভুলে গিয়ে যাঁরা নির্বাচনে টাকা ঢেলেছেন, তাঁদের দিকে প্রার্থীরা নজর দেবেন। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এটি বিরাট এক অন্তরায়। টাকাটা কোথায় ও কীভাবে খরচ করা হচ্ছে, তাঁদের কাছে কি খবর আছে, জানতে চাইলে জো বলেন, প্রার্থীরা টাকা দিয়ে টিভিতে চাঙ্ক কিনছেন। যে কেউ যেকোনো চ্যানেলের বাটনে টিপ দিলেই এমন হাজারটা বিজ্ঞাপন দেখতে পাবেন। বিভিন্ন সময় ট্রাম্প নারীদের নিয়ে যা বলেছেন, তার ক্লিপ পরিবারের সবার সঙ্গে বসে শিশুরাও দেখছে; আর হিলারি ক্লিনটন এতে খুবই বিপন্ন বোধ করছেন—এমন একটা বিজ্ঞাপন হরহামেশা প্রচার করছে চ্যানেলগুলো। ট্রাম্পও তাঁর বক্তব্য প্রচারে এমন বিজ্ঞাপনের সুযোগ নিচ্ছেন। আলোচকদের উদ্বেগের বিষয় ছিল, গোটা দেশ দুই শিবিরে বিভক্ত হওয়ায় বিজ্ঞাপনে প্রার্থীরা যে যা বলছেন, তাঁর সমর্থকেরা তা-ই বিশ্বাস করছেন। বিভক্তির কারণে সাংবাদিকদের জন্যও সংবাদ সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ডেইলি নিউজের করেসপনডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচার কাভার করতে গিয়েছিলেন ডেটন শহরে। তিনি বলছিলেন, প্রচার অনুষ্ঠান কাভার করতে গিয়ে তিনি আবিষ্কার করলেন, সব সমর্থকই ভেংচি কাটছেন। মিডিয়ার প্রতি তাঁদের নেতা ট্রাম্প রুষ্ট—তাই তাঁরাও রুষ্ট। ওই অনুষ্ঠানের একটি ছবি তিনি সাংবাদিকদের দেখান। এক নারীর টিশার্টের পেছনে ‘কারাগারে হিলারি’ এমন একটি ছবি। তিনি বলেন, অবস্থা এমন যে ফাঁস হয়ে যাওয়া ই-মেইলে কী আছে, তা নিয়ে রিপাবলিকানদের কোনো চিন্তা নেই, তাঁরা এখন প্রতিটি প্রচারে স্লোগান তুলেছেন—‘লক হার আপ’, ‘লক হার আপ’ (তাঁকে জেলে পুরে দাও)। ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটিতে দিনব্যাপী ওই আলোচনায় অংশ নেওয়া চারজনেরই ভাষ্য—এমন নির্বাচন আগে কখনো তাঁরা দেখেননি। আর নির্বাচনকে ঘিরে যা হলো, তা ভালো হলো না।

হিলারি প্রেসিডেন্ট হলে অভিশংসন

চলছে শেষ মুহূর্তের জোরদার প্রচারণা। গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্য
নর্থ ক্যারোলাইনার রালিতে বৃহস্পতিবার প্রচার চালান
হিলারি ক্লিনটন (বাঁয়ে)। একই অঙ্গরাজ্যের সেলমায়
একই দিন প্রচারণায় ডোনাল্ড ট্রাম্প। রয়টার্স
হিলারি ক্লিনটন এখনো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হননি, কিন্তু সে সম্ভাবনা মাথায় রেখে কংগ্রেসে রিপাবলিকান নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই হিলারির বিরুদ্ধে অভিশংসনের কথা ঘোষণা করেছেন। কংগ্রেসের ওভারসাইট বা নজরদারি কমিটির চেয়ারম্যান জ্যাসন শাফেটজ বলেছেন, রিপাবলিকানদের কাছে প্রেসিডেন্ট হিলারির দায়িত্বভার গ্রহণের প্রথম দিনের আগেই তাঁর বিষয়ে তদন্তের কমপক্ষে দুই বছরের কাগজপত্র তাঁদের কাছে রয়েছে। কংগ্রেসম্যান মাইকেল ম্যাককাউল বলেন, হিলারির ই-মেইল প্রশ্নে তাঁরা কেবল তদন্তই চালিয়ে যাবেন না, তাঁর অভিশংসনের ব্যবস্থাও করবেন।
নির্বাচিত হওয়ার আগেই হিলারির হাতকে বেঁধে ফেলার এই হুমকি রিপাবলিকান দলের একাধিক প্রভাবশালী সিনেটরের কাছ থেকেও এসেছে। সিনেটর টেড ক্রুজ ও জন ম্যাককেইন বলেন, তাঁরা কিছুতেই সুপ্রিম কোর্টের জন্য হিলারির প্রস্তাবিত কোনো বিচারকের নিয়োগ-প্রশ্ন বিবেচনায় আনবেন না। নর্থ ক্যারোলাইনায় পুনর্নির্বাচনে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্মুখীন সিনেটর রিচার্ড বারও একই হুমকি দিয়েছেন। সিএনএনের কাছে ফাঁস করা এক ভিডিওতে দেখা যায়, রিচার্ড বার তাঁর স্বেচ্ছাসেবকদের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের জন্য কোনো মনোনয়ন পাঠালে তা আটকে রাখতে তিনি বদ্ধপরিকর। রিপাবলিকান দলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্যে উৎসাহিত হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পও একই কথা বলে চলেছেন। চলতি সপ্তাহে মায়ামিতে এক ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, হিলারি নির্বাচিত হলে দেশে শাসনতান্ত্রিক সংকটের সূচনা হবে। এক নতুন ভিডিও বিজ্ঞাপনে ট্রাম্প হিলারির ‘বেআইনি’ কার্যকলাপের ফিরিস্তি তুলে ধরে তাঁকে প্রেসিডেন্ট হওয়ার অযোগ্য বলে ঘোষণা করেন। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, রাজনৈতিক রণকৌশল হিসেবেই ট্রাম্প শাসনতান্ত্রিক সংকটের এই ছবিটি মার্কিন ভোটারদের মনে গেঁথে দিতে চাইছেন। উল্লেখ্য, লিবিয়ার বেনগাজিতে সন্ত্রাসী হামলায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতের নিহত হওয়ার ঘটনার জন্য হিলারিকে দায়ী করে কংগ্রেসের রিপবালিকান নেতৃত্ব তাঁর বিরুদ্ধে টানা দুই বছর শুনানি চালু রাখে। আর এ কাজে কমপক্ষে সাত মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়। নির্বাচিত হওয়ার আগেই হিলারিকে অভিশংসনের হুমকির তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। হিলারি ক্লিনটনের পক্ষে নর্থ ক্যারোলাইনায় নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে ওবামা অভিযোগ করেন—রিপাবলিকান নেতৃত্ব মেনে নিয়েছেন ট্রাম্প নয়,
হিলারিই নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। সাধারণ ভোটারদের মনে ভীতি জাগাতেই তাঁরা এখন অভিশংসনের এ হুমকি দিচ্ছেন। দেশের একাধিক প্রভাবশালী পত্রিকাও ট্রাম্প ও তাঁর রিপাবলিকান সমর্থকদের হুমকির কঠোর সমালোচনা করেছে। বৃহস্পতিবার এক সম্পাদকীয়তে নিউইয়র্ক টাইমস এই পাঁয়তারাকে গণতন্ত্রের জন্য সরাসরি হুমকি বলে উল্লেখ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে, শাসনতান্ত্রিক সংকটের যে কথা ট্রাম্প বলেছেন, তার অর্থ হচ্ছে—একের পর এক তদন্তের জালে আটকে পড়ে হিলারি প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালনে সক্ষম হবেন না; অতএব ভোটটা হিলারিকে নয়, তাঁকেই দেওয়া হোক। তাঁর সঙ্গে কংগ্রেসে রিপাবলিকান নেতৃত্ব যুক্ত হওয়ার দুঃখ প্রকাশ করে পত্রিকাটি আরও লিখেছে, এটি গণতন্ত্রের প্রতি স্পষ্ট অবমাননা। পুনর্নির্বাচিত হলে এই কাজ তাঁরা করবেন; আর সে কারণেই মার্কিন ভোটারদের উচিত হবে নির্বাচনে পরাস্ত করে এই বিভক্তির রাজনীতি প্রত্যাখান করা। কংগ্রেসের উভয় কক্ষে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ থাকায় প্রেসিডেন্ট ওবামার ক্ষমতা খর্ব করার কাজে রিপাবলিকান দল কংগ্রেস গত ছয় বছর নানা উপায়ে প্রতিবন্ধক সৃষ্টি করে।

‘জ্যোতিষী’ বানর বলল...

ট্রাম্পে​র কার্ড বোর্ডের প্রতিকৃতিতে
চুমু খাচ্ছে বানরটি। এএফপি
শিকে ছিঁড়তে চলেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাগ্যেই। না, নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগেই কোনো মহাজাগতিক ঘটনায় ট্রাম্প আর হিলারি ক্লিনটনের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়নি। চীনের এক জ্যোতিষী বানরের ভবিষ্যদ্বাণী এটি। ‘জ্যোতিষরাজ’খ্যাত বানরটির নাম ‘গেতা’। চীনা এই শব্দের অর্থ ‘গিঁট’ বা ‘গেরো’। হিলারি ও ট্রাম্পের বিশাল দুটি ছবির পাশে দুটি কলা রেখে বেছে নিতে বলা হয় বানরটিকে। হলুদ শার্ট পরা গেতা ট্রাম্পের ছবির পাশের কলাটাই শুধু বেছে নেয়নি,
তার ছবিতে চুমুও খেয়েছে। এই বানরের ‘কথা’ কিন্তু মোটেই ফেলনা নয়। চলতি বছরের শুরুর দিকে ইউরোপীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে কে বিজয়ী হতে চলেছে, তা ঠিকঠাক বলে দিয়েছিল এটি। ২০১০ সালে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফুটবলে বেশ কয়েকবার ঠিকঠাক ভবিষ্যদ্বাণী করে রাতারাতি তারকা বনে যায় অক্টোপাস পল। তারপর ভবিষ্যদ্বাণী করায় বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে নাম ছড়িয়েছে গেতারই।

রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি তদন্ত হচ্ছে: সু চি

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা-অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সু চি। শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গারা নির্মম নির্যাতনের শিকার। অথচ সু চি রোহিঙ্গাদের দুর্দশা নিরসনে খুব কমই উদ্যোগ নিয়েছেন বলে তাঁর বিরুদ্ধে সমালোচনা রয়েছে। মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, সেখানকার সংঘাতের পর সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়েছে জনগণ। সু চি বলেন, সরকার কোনো কিছু লুকায়নি বরং ঘটনার মুল বিষয়টিতে যাওয়ার চেষ্টা করছে। যতক্ষণ না তদন্ত শেষ হচ্ছে ততক্ষণ কাউকে দোষী বলা যাবে না। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রাখাইন প্রদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন, ধর্ষণ, খুনের বিষয়ে তদন্ত করতে মানবাধিকার কর্মীদের আবেদন নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি সু চি। এর আগে ১৩ অক্টোবর রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ৩৯ জন নিহত হয়। এর মধ্যে ১৩ জন পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। বাকি ২৬ জন সশস্ত্র হামলাকারী বলে দাবি করে দেশটির ওই দুই বাহিনীর কর্তৃপক্ষ। হামলার পরপরই মিয়ানমারের সেনা ও পুলিশ বাহিনী রাখাইনে অভিযান শুরু করে। এ ব্যাপারে দেশটির রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত সংবাদপত্র গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমার জানায়, দেশটির নেতা অং সান সু চি বলেছেন, তাঁর সরকার হামলার জবাবে ‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায়’ কাজ করছে।

নাসিরনগরে ৩৩ জন আটক

ভাঙচুর করার পাশাপাশি মন্দিরের সব জিনিসপত্র
তছনছ করে দেয় দুর্বৃত্তরা। ফাইল ছবি: শাহাদাত হোসেন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় হিন্দু মন্দির, বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ৩৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত নাসিরনগরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল করিম এ তথ্য জানিয়েছেন। আজ শনিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেছেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) শফিকুল ইসলাম এবং ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) সাখাওয়াত হোসেন। গত রোববার নাসিরনগরে হিন্দু মন্দির ও ঘরবাড়িতে ভাঙচুর, লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এর পাঁচ দিন পর গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কয়েকটি হিন্দু বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ ঘটনার পর গতকাল সারা দিন এলাকার হিন্দুদের মধ্যে আতঙ্ক ছিল। তবে হঠাৎ করে এ আগুনের কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না এলাকাবাসী। আর অতিরিক্ত পুলিশি নিরাপত্তা থাকার পরও কীভাবে এ ঘটনা ঘটল, এ নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে।
গতকাল সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনের সড়কে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ ও উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ। এ মানববন্ধন থেকে হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হয়। তবে হিন্দু সম্প্রদায়ের একাংশ বলছে, এ মানববন্ধন না করার জন্য হিন্দু নেতাদের বলেছিলেন স্থানীয় সাংসদ ও মন্ত্রী ছায়েদুল হক। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে নাসিরনগর ডাকবাংলোয় হিন্দু নেতাদের সঙ্গে মন্ত্রীর দুই ঘণ্টা বৈঠকও হয়। এর মধ্যেই দিবাগত রাত তিনটার দিকে হামলার ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগের তিন নেতাকে বহিষ্কার: গত রোববারের সমাবেশে লোকজন নিয়ে যোগ দেওয়ার অভিযোগে সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের সহসম্পাদক আবুল হাসেম, চাপড়তলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সুরুজ আলী ও হরিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক মিয়াকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হেলাল উদ্দিনকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটিও করা হয়েছে। বিএনপির প্রতিনিধিদল নাসিরনগরে: বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিনের নেতৃত্বে আট সদস্যের প্রতিনিধিদল গতকাল নাসিরনগরে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে। হাফিজউদ্দিন এ ঘটনার তদন্তের জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন।

আগাম ধানে কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক

ঠাকুরগাঁওয়ের অনেক কৃষক আগাম আমন জাতের ধান
আবাদ করেছেন। ইতিমধ্যে ধান কাটা শুরুও হয়েছে।
ছবিটি সদর উপজেলার উনত্রিশ মাইল এলাকা থেকে
গত ২৮ অক্টোবর সকালে তোলা। প্রথম আলো
ভোরের কুয়াশা ভেদ করে উঁকি দিচ্ছে সকালের সোনামাখা রোদ। সোনামাখা রোদে দিগন্ত বিস্তৃত মাঠের হলুদ ধানের শিষ ঝিকিয়ে উঠেছে। মাঠে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ধান মুখে তুলে উড়ে যায় পাখির ঝাঁক। পাকা ধানের ম-ম গন্ধে মাতোয়ারা কৃষকের এসব কিছুতে মন কাড়ে না, কাস্তের টানে মুঠি মুঠি ধান কেটে তুলতে হবে গোলায়— কৃষকের ধ্যান যেন এ-ই। ঠাকুরগাঁওয়ে মাঠে মাঠে এখন চোখে পড়ে এ দৃশ্য। শুরু হয়েছে ধান কাটার উৎসব। এই অঞ্চলে অগ্রহায়ণ মাসে আমন ধান কৃষকের ঘরে ওঠে।
কিন্তু জেলার অনেক কৃষক আগাম জাতের ধান আবাদ করেছেন। এরই মধ্যে অনেক খেত থেকে ধান কাটা শুরু হয়েছে। বাজারে ধানের দরও বেশ ভালো। এতে কৃষকের চোখেমুখে খুশির ঝিলিক ফুঠে উঠেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঠাকুরগাঁওয়ের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ১ লাখ ৩৩ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমিতে চলতি মৌসুমে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৯৮৫ হেক্টর জমিতে। চাল উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৬৬ হাজার ১৭৭ মেট্রিক টন। এ বছর কৃষকেরা ১২ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে আগাম আমন জাতের ধান আবাদ করেছেন। সেসব জাতের মধ্যে রয়েছে বিনা-৭, ব্রি-৩৩, ব্রি-৩৯, ব্রি-৫৭ ও ব্রি-৬২। গত ২৮ অক্টোবর সকালে সদর উপজেলার গৌরীপুর ও উনত্রিশ মাইল এলাকায় সেরজমিনে দেখা যায়, পাকা ধান কেটে ঘরে তুলতে মাঠে নেমেছেন কিষান-কিষানিরা।
কাটার পর কেউ কেউ ধানের বোঝা মাথায় তুলে নিয়ে যাচ্ছেন মাড়াইয়ের জায়গায়। সদর উপজেলার গৌরীপুর এলাকার কৃষক পরেশ রায় বলেন, এ বছর আমন ধানের উৎপাদন হচ্ছে একরপ্রতি ৬০-৬৫ মণ। খরচ হয়েছে ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা। খরচ বাদ দিয়ে হাতে বেশ কিছু টাকা থাকবে। গ্রামের আরেক কৃষক আফসার উদ্দিন (৬১) দুই বিঘা জমিতে হাইব্রিড জাতের ধান চাষ করেছেন। ফলনের কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, খরচ আর ধানের দাম মিলিয়ে এবার মোটামুটি লাভ হবে। ধান উঠলে যে টাকা হাতে আসবে, তা আবার আলু আবাদে লাগিয়ে দেবেন তিনি। বাজারে এখন এক বস্তা (৮৪ কেজি) নতুন ধান ১ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দৌলতপুর গ্রামের কৃষক সামছুল আলম (৪৪) বলেন, ‘এ সময় গ্রামে কৃষি শ্রমিক আগের তুলনায় কিছুটা সস্তায় পাওয়া যায়। তাই আমাদের তেমন একটা চিন্তা করতে হয় না। এ সময় কাঁচা খড়ের দামও ভালো পাওয়া যায়।’ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঠাকুরগাঁওয়ের উপপরিচালক (ডিডি) মো. আরশেদ আলী বলেন, জেলার কৃষকেরা এখন আগাম জাতের আমন চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন। বাজারে ধানের দর ভালো থাকায় তাঁরা বেশ খুশি।

কুষ্টিয়ায় দুই তরুণের লাশ উদ্ধার

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার দাড়েরপাড়া গ্রামে একটি বাগান থেকে আজ শনিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে দুই তরুণের গলায় রশি প্যাঁচানো লাশ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী বলছেন, তাঁরা দুজন বন্ধু ছিলেন। দুই তরুণের একজনের নাম মশিউর রহমান (১৮) ও আরেকজন রকিবুল ইসলাম (১৯)।
কুষ্টিয়া সহকারী পুলিশ সুপার (ভোড়ামারা সার্কেল) কামরুল হাসানের ভাষ্য, গ্রামের একটি বাগানের কদমগাছের নিচে দুই তরুণের লাশ পাওয়া গেছে। লাশ দুটি ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় বলে প্রাথমিকভাবে তিনি জানান। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

তরুণেরাই এখন সম্পদ

তরুণেরাই এখন বাংলাদেশের সম্পদ। দেশের এক-চতুর্থাংশ মানুষের বয়স এখন ১৫ থেকে ২৯ বছর। এমন বয়সী তরুণ-তরুণীর সংখ্যা প্রায় ৪ কোটি ১৭ লাখ। তাঁদের অর্ধেকই পড়াশোনা করছেন। বাকি তরুণেরা শ্রমবাজারে এসে চাকরি বা কাজ করছেন। পড়াশোনা করে যাঁরা শ্রমবাজারে এসেছেন, তাঁদের অনেকেই নিজেদের পছন্দমতো চাকরি বা কাজ পাননি। অনেকটা বাধ্য হয়েই তাঁরা চাকরি করছেন। মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে ১৫ লাখ তরুণ-তরুণী এখন বেকার। বাংলাদেশে যত বেকার আছেন, তাঁদের প্রতি চারজনের তিনজনই বয়সে তরুণ। বিবিএসের সর্বশেষ ত্রৈমাসিক শ্রমশক্তি জরিপ ২০১৫ থেকে যুবসমাজের এ চিত্র পাওয়া গেছে। সেখানে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে সোয়া পাঁচ কোটি শিশু-কিশোর আছে, যাদের বয়স ১৪ বছরের নিচে। আগামী দেড় দশকজুড়ে তারা শ্রমবাজারে প্রবেশ করবে। এর মানে হলো, ভবিষ্যতে শ্রমশক্তিতে যুবসমাজের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে।
যুবশক্তি: বিবিএসের জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশে শ্রমবাজারে আছে ৬ কোটি ১৪ লাখ জন। তাঁদের সবার বয়স ১৫ থেকে ৬৪ বছর। এ বিশাল শ্রমবাজারে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী ২ কোটি ৩ লাখ ৮৬ হাজার তরুণ-তরুণী আছেন। শ্রমবাজারের এক-তৃতীয়াংশই তরুণ। তাঁদের মধ্যে চাকরি বা কাজ করছেন ১ কোটি ৮৪ লাখ ৪৭ হাজার। বাংলাদেশে মোট বেকারের সংখ্যা প্রায় ২৬ লাখ। চাকরি বা কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে তরুণীদের চেয়ে তরুণদের সুযোগ অনেক বেশি। জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে নারী-পুরুষ সমান হলেও কাজের ক্ষেত্রে দ্বিগুণ সুযোগ পান তরুণেরা। দেশে ১ কোটি ২৪ লাখ তরুণ কাজ করেন। অন্যদিকে তরুণীদের সংখ্যা মাত্র ৬০ লাখ।
শিক্ষিতরাই বেশি বেকার: লেখাপড়া করে যে, গাড়ি-ঘোড়া চড়ে সে—প্রায় সবাই এ প্রবাদবাক্যটি শুনেছেন। বাস্তব চিত্র কিন্তু ভিন্ন। শিক্ষিত তরুণ-তরুণীরা বেশি বেকার। এমন একজন বেকার হলেন জুলফিকার আলী। তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ঢাকা কলেজ থেকে ইংরেজিতে এ বছর স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। সেশনজটের কারণে উচ্চমাধ্যমিকের পর স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করতে লেগে গেছে আট বছর। চাকরির জন্য সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা দিলেও মেলেনি প্রত্যাশিত চাকরি। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশায় ভুগতে থাকা জুলফিকার বলেন, ‘কী করব বুঝতে পারছি না। চাকরি না পেলে অন্য কী কাজ করব, সেই হিসাব মেলাতে পারছি না।’ মজার বিষয় হলো, বাংলাদেশে পড়াশোনা না করলেই বরং কাজ পাওয়ার সুযোগ বেশি। বিবিএস বলছে, পড়াশোনার সুযোগ না পেয়ে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী লোকদের মধ্যে বেকার মাত্র দেড় লাখ। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের শ্রমবাজারে এখনো অদক্ষ ব্যক্তিদের আধিপত্য বেশি। তবে আশার কথা হলো, সরকারি-বেসরকারি চাকরির পেছনে না ছুটে তরুণদের মধ্যে এখন অনেকেই উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছেন। এমন একটি সফল উদাহরণ হলো বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে পাস করা রাইসুল কবির। স্নাতক পাস করার পর নিজ উদ্যোগে মাত্র ২৩ বছর বয়সে একটি স্টার্ট আপ সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান খোলেন তিনি। ১০ বছর আগে শুরু করা এই প্রতিষ্ঠানে এখন তাঁর অধীনে কাজ করেন ১২০ জন কর্মী। রাইসুল কবির প্রথম আলোকে বলেন, ‘অনেক বন্ধুর মতো চাইলে আমিও স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশে যেতে পারতাম। তবে আমার ইচ্ছা ছিল দেশে থেকেই নিজে যেন কিছু করতে পারি। নিজের ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রমের জোরে এত দূর এসেছি।’ অনেক তরুণ এখন বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজে পড়ালেখার পাশাপাশি খণ্ডকালীন চাকরিও করছেন। গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত তাসনিয়া লসকর পড়াশোনার পাশাপাশি একটি বেসরকারি রেডিও স্টেশনে কথাবন্ধু হিসেবে কাজ করেন। এর সঙ্গে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রদায়ক হিসেবেও তিনি কাজ করেন। তিনি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রতি আমার আগ্রহ। পড়াশোনার পাশাপাশি কাজের এ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখি।’ তবে উল্টো চিত্রও আছে।
পরিকল্পনা: সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ১ কোটি ২৯ লাখ নতুন কর্মসংস্থানের লক্ষ্য ঠিক করেছে সরকার। ২০১৫ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের জুন মাসে এ কর্মসংস্থান হবে। পরিকল্পনায় আরও বলা হয়েছে, এ সময়ে ৯৯ লাখ তরুণ-তরুণী শ্রমবাজারে প্রবেশ করবে। তাই শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে ওই পরিকল্পনায়। এদিকে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর জাতীয় যুবনীতির খসড়া চূড়ান্ত করেছে। এ খসড়ায় যুবকদের কর্মসংস্থানকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে এ খসড়া নিয়ে বিভিন্ন মহলের মতামত নিতে শুরু করেছে।
জনসংখ্যাতাত্ত্বিক এ সুবিধাকে অর্থনৈতিক সুযোগে পরিণত করতে তরুণদের কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞ এ কে এম নুরুন নবী। তাঁর মতে, এ জন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি সেই অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে। প্রচলিত শিক্ষার বাইরে যাঁর মধ্যে যে ধরনের সম্ভাবনা আছে, তাঁকে ওই কাজে প্রশিক্ষিত করতে হবে। তিনি আরও উদাহরণ দেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের শ্রমবাজারে কেমন লোক দরকার—এ নিয়ে একটি সমীক্ষা হওয়া জরুরি। পরে সেই সমীক্ষা ধরে এ দেশের তরুণদের প্রশিক্ষিত করতে হবে। এ ছাড়া সারা বিশ্বে আউটসোর্সিংয়ের বাজারের আকার ৫০ হাজার কোটি ডলার। এ খাতেও যুবসমাজকে প্রশিক্ষণ দিলে দেশে বসেই বিপুল অর্থ উপার্জন করতে পারবে।
জনসংখ্যা বোনাস: তরুণ জনগোষ্ঠীর সম্ভাবনা নিয়ে বাংলাদেশের জন্য সুখবর রয়েছে জাতিসংঘ উন্নয়ন সংস্থার (ইউএনডিপি) এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মানব উন্নয়ন সূচক প্রতিবেদনে। চলতি বছরের এপ্রিলে জনমিতির পরিবর্তন নিয়ে করা ইউএনডিপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে এখন ১০ কোটি ৫৬ লাখ মানুষ কর্মক্ষম, যা মোট জনগোষ্ঠীর ৬৬ শতাংশ। তাঁদের বয়স ১৫ থেকে ৬৪ বছর পর্যন্ত। সংস্থাটির মতে, এভাবে চলতে থাকলে আগামী ২০৩০ সালে বাংলাদেশে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা গিয়ে পৌঁছাবে ১২ কোটি ৯৮ লাখে, যা হবে তখনকার মোট জনগোষ্ঠীর ৭০ শতাংশ। এ জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ থাকবে তরুণ। জনমিতির এ সুফল কাজে লাগিয়ে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কর্মক্ষম এ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান ও উপযুক্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করাই বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

মিলেনিয়াল প্রজন্মই কি সবচেয়ে খারাপ?

সব প্রজন্মের মানুষেরই একটি সাধারণ প্রবণতা হলো, নিজেদের সময়কে সেরা মনে করা। তাই ৮০ পেরোনো একজন বৃদ্ধকে যেমন বলতে শোনা যায়, ‘আমাদের সময়ই ছিল সেরা’, একইভাবে একজন মধ্যবয়সী তা-ই মনে করেন। আবার বর্তমান তরুণ প্রজন্মও মনে করে, তাদের সময়টাই সেরা। আসলে কোন সময় বা প্রজন্ম সেরা, সেটি নিয়ে বিতর্কের যেন শেষ নেই। নিরপেক্ষভাবে একজন ইতিহাসবিদ, গবেষক বা সমাজবিজ্ঞানীর জন্য এককভাবে একটি সেরা প্রজন্ম নির্ধারণ করাও তাই কঠিন। তবে একবিংশ শতাব্দীর আগে-পরে জন্ম নেওয়া মিলেনিয়াল প্রজন্মকে নিয়ে যেমন বিতর্কটা একটু বেশিই। অনেক গবেষকের মতে, এখন পর্যন্ত পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ হলো মিলেনিয়াল প্রজন্ম। ‘খারাপ’ এ প্রজন্মের সঙ্গে কীভাবে তাল মিলিয়ে চলতে হবে, সেটি নিয়েও চলছে গবেষণা। মিলেনিয়ালদের নিয়ে চলা এ বিতর্কের সমাধান টানতে একটি উদ্যোগ নিয়েছে মার্কিন ম্যাগাজিন দ্য আটলান্টিক। ম্যাগাজিনটি একটি প্রবন্ধে মিলেনিয়ালসহ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী পাঁচটি প্রজন্মের নামকরণের কারণ ও বৈশিষ্ট্য তুলনামূলক বিশ্লেষণ করেছে। সেখানে পাঁচটি প্রজন্মের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে এভাবে:
গ্রেটেস্ট জেনারেশন: আক্ষরিক অর্থে বাংলায় অর্থ দাঁড়ায় ‘সবচেয়ে মহৎ প্রজন্ম’। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া প্রজন্মকে যেমন এ দেশে সূর্যসন্তান বলা হয়, ঠিক তেমন প্রজন্মই হলো গ্রেটেস্ট জেনারেশন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মিত্রবাহিনীর হয়ে যাঁরা যুদ্ধে অংশ নেন ও শহীদ হন, তাঁরাই এ প্রজন্মের অন্তর্ভুক্ত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বীরদের সম্মান জানাতে মার্কিন সাংবাদিক ও লেখক টম ব্রোকা ‘গ্রেটেস্ট জেনারেশন’ নামটি প্রথম ব্যবহার করেন। তারপর থেকেই নামটি সবাই ব্যবহার করতে শুরু করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সময়কে গ্রেটেস্ট জেনারেশনের সময়কাল ধরা হয়।
বেবি বুমারস: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ১৯৪৬ থেকে ১৯৬৪ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া প্রজন্মকে বলা হয় বেবি বুমারস। আধুনিক ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে আলোচিত প্রজন্ম বেবি বুমারস। যুদ্ধের কারণেই অনেক পুরুষ মারা যান। অনেক নারী যুদ্ধাপরাধের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। এসব কারণে সে সময় বিশ্বজুড়ে একটি সামাজিক বিশৃঙ্খল অবস্থা তৈরি হয়। যুদ্ধফেরত অনেক পুরুষই অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এতে ওই সময় শিশু জন্মহার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এসব কারণে ওই সময়ে জন্ম নেওয়া প্রজন্মের মধ্যে বৈশিষ্ট্যগত বেশ কিছু তফাত চোখে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের শুমারি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, বেবি বুমারস প্রজন্মের বর্তমান বয়স ৫২ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে।
জেনারেশন এক্স: ১৯৬৫ থেকে ১৯৮৪ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া প্রজন্মকে বলা হয় জেনারেশন এক্স। বেবি বুমারস-পরবর্তী প্রজন্ম হওয়ায় এদের ‘বেবি বাস্ট’ বলা হয়। এই প্রজন্মকে অনেক ইতিহাসবিদ বিশৃঙ্খলা ও অনিশ্চয়তার প্রজন্ম নামেও অভিহিত করেন।
জেনারেশন ওয়াই: ১৯৭০-এর মাঝামাঝি থেকে শুরু করে ২০০০ সালের আগে জন্ম নেওয়া প্রজন্মকে বলা হয় জেনারেশন ওয়াই। এই প্রজন্মকে অন্তর্বর্তীকালীন একটি প্রজন্ম হিসেবে ধরা হয়। কারণ, তারা জেনারেশন এক্সের মতো হতে পারেনি, আবার মিলেনিয়াল প্রজন্মের সঙ্গেও খাপ খাওয়াতে পারেনি।
মিলেনিয়ালস: গবেষক নিল হাউ ও উইলিয়াম স্ট্রাউস মিলেনিয়াল প্রজন্মের নামটি প্রথম ব্যবহার করেন। ১৯৮২ থেকে ২০০৪ সাল সময়ের মধ্যে জন্ম নেওয়া প্রজন্মকে বলা হয় মিলেনিয়াল প্রজন্ম। একটি গবেষণা অনুযায়ী, মিলেনিয়াল প্রজন্মের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ডিজিটাল জ্ঞান। তবে এর সঙ্গে মানবিক গুণাবলি অর্জনেও যত্নশীল এই প্রজন্ম। মিলেনিয়াল প্রজন্মের পরবর্তী ১০ বছরে যারা জন্ম নিয়েছে, তাদের নাম এখনো ঠিক করতে পারেননি ইতিহাসবিদেরা। এই প্রজন্মের মেয়াদ কত ধরা হবে এবং কী নাম দেওয়া হবে, সেটি নিয়ে এখন গবেষণা চলছে। শেষে দ্য আটলান্টিক-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোন প্রজন্ম সবচেয়ে খারাপ—এটি আসলে নির্ধারণ করে গণমাধ্যম।
আটলান্টিক ম্যাগাজিন ও ইন্টারনেট অবলম্বনে

মন্দিরে হামলা কি ধর্ম অবমাননা নয়?

নাসিরনগরে হিন্দুদের বাড়িঘরে
হামলার চার দিন পর অগ্নিসংযোগ
বৃহস্পতিবার রাতে নাসিরনগরে ফের হিন্দুদের বাড়িঘরে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। স্থানীয় লোকজন, প্রশাসন ও পুলিশ বলছে, উপজেলা সদরের মধ্যপাড়ার অমর দেবের রান্নাঘর, দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা ফুলকিশোরের গোয়ালঘর, একই এলাকার মৃণাল কান্তির রান্নাঘর ও জ্বালানি কাঠ রাখার ঘরসহ কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এর আগে রোববার ১৫টি মন্দির ও ৬০-৭০টি হিন্দু বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট হয়। অথচ মন্ত্রী বলেছিলেন, ‘সব স্বাভাবিক।’ এরপর যশোরেও হিন্দুদের বাড়িঘরে এবং হবিগঞ্জের মাধবকুণ্ডে মন্দিরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার চার দিন পর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর আসনের সাংসদ ছায়েদুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে যেসব কথা বলেছেন, তাতে আক্রান্ত মানুষগুলো আশ্বস্ত হননি। বরং বেদনাহত ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন। গতকাল বেলা ১১টায় যখন জাতীয় প্রেসক্লাবে যাই, তখন দেখি তোপখানা রোডে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদসহ সংখ্যালঘু বিভিন্ন সংগঠনের বিক্ষোভ মিছিল চলছে। ২০০১ সাল থেকে সংখ্যালঘুদের ওপর অনেক হামলা-নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু বিক্ষোভে ফেটে পড়া এ রকম মিছিল দেখিনি। মিছিলকারীরা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রীর পদত্যাগ চাইছেন এবং তাঁর নাম ধরে স্লোগান দিচ্ছিলেন। নাসিরনগর ডাকবাংলোতে গিয়ে ওই মন্ত্রী বলেছিলেন, ‘নাসিরনগরের পরিবেশ সাংবাদিকেরাই অস্বাভাবিক করে তুলেছেন। নাসিরনগরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক, আপনারা অস্বাভাবিক করে তুলেছেন। আমি সার্বক্ষণিক এলাকার সব খোঁজখবর রাখছি।’ (সমকাল, ৩ নভেম্বর ২০১৬)। তিনি স্থানীয় হিন্দু নেতাদের অশালীন ভাষায় গালাগাল করেছেন বলেও জানান নাসিরনগর থেকে ফিরে আসা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের এক নেতা। তাঁর কথা শুনে অবাক হলাম। যেখানে হিন্দুদের বাড়িঘর ও মন্দিরে আক্রমণ করা হয়েছে, সেখানে স্থানীয় সাংসদ ও মন্ত্রী কী করে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সান্ত্বনা না দিয়ে সেই সম্প্রদায়ের নেতাদের গালাগাল করেন? তা–ও ‘সংখ্যালঘু বিদ্বেষী’ বিএনপি বা জামায়াতের কোনো মন্ত্রী নন, সংখ্যালঘুদের ত্রাণকর্তা বলে দাবিদার আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী। এখানেই শেষ নয়। নাসিরনগর ঘুরে আসা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওই নেতা আমাকে আরও বলেছেন, ‘মন্ত্রী মহোদয় বদলি হয়ে যাওয়া ওসিকে স্থানীয় পাঁচজন সংখ্যালঘু নেতাকে গ্রেপ্তার করতেও বলেছিলেন।
কিন্তু ওসি বলেছেন, “আমি তো বদলি হয়ে গিয়েছি।”’ প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটিত হওয়া প্রয়োজন। সত্যি সত্যি মন্ত্রী এ রকম কথা বলেছিলেন কি না। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে আমরা যা জেনেছি, তা হলো ২৮ অক্টোবর জনৈক রসরাজ দাসের ফেসবুকে একটি অবমাননাকর পোস্ট দেওয়া হলে স্থানীয় মুসলমানরা ক্ষুব্ধ হন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠিয়ে দেয়। এরপর ২৪ ঘণ্টা ধরে মাইকিং করে রোববার কলেজ মোড়ে ও আশুতোষ মাঠে দুটি সমাবেশের আয়োজন করা হয়। কলেজ মোড়ের সমাবেশ শান্তিপূর্ণ হলেও মাঠের সমাবেশ থেকে উসকানিমূলক কথা বলা হয়, যার আয়োজক ছিলেন নাসিরনগর উপজেলা কমপ্লেক্স জামে মসজিদের ইমাম এবং উপজেলা কওমি ওলামা পরিষদের সহসভাপতি মোখলেছুর রহমান। স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাংশের অভিযোগ, শনিবার রসরাজ দাসকে গ্রেপ্তারের পরও নাসিরনগরের ইউএনও পরদিন রোববার দুটি সমাবেশ করার অনুমতি দেন, যা পরিস্থিতি খারাপ করেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আওয়ামী লীগ দুই ভাগে বিভক্ত। একদিকে জেলা নেতৃত্ব, আরেক দিকে মন্ত্রী ছায়েদুল হক। এক বিতর্কিত ব্যক্তিকে ইউপি নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়ায় জেলা নেতৃত্ব মন্ত্রীকে দল থেকে বহিষ্কার করে, যদিও তা কেন্দ্র অনুমোদন করেনি। বাংলাদেশের ইতিহাসে এ রকম ঘটনা বিরল। নাসিরনগরের সহিংসতার পেছনে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল যে দায়ী, সেটি মন্ত্রীও গোপন রাখেননি। বৃহস্পতিবারের সমাবেশে তিনি আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার নাম উল্লেখ করে বলেছেন, ওরাই তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। আওয়ামী লীগের কে কার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন, সেটি জনগণের দেখার বিষয় নয়। কিন্তু সেই ষড়যন্ত্রকে কেন্দ্র করে কেন হিন্দুদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হবে,
কেন মন্দিরে হামলা হবে? দায় এড়াতে পারেন না ওসি ও ইউএনও। তাঁরা বিশৃঙ্খলার আশঙ্কাকে আমলে না নিয়ে দুই পক্ষকে সমাবেশের অনুমতি দিয়েছেন এবং একটি সমাবেশে গিয়ে বক্তৃতাও দিয়েছেন। ওসি বা ইউএনওর কাজ সমাবেশে বক্তৃতা করা নয়; বিশৃঙ্খলা বন্ধ করা। ওসি বদলি হলেও ইউএনও বহাল তবিয়তে আছেন! ২০১২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর একই অজুহাত তুলে কক্সবাজারের রামুসহ কয়েকটি এলাকায় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও উপাসনালয়ে আক্রমণ চালিয়ে কয়েক শ স্থাপনা ভাঙচুর করা হয়। সরকার সেসব বাড়িঘর ও বৌদ্ধবিহার নির্মাণ করে দিলেও আক্রমণকারী কাউকে শাস্তি দিতে পারেনি। সেবার আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু বৌদ্ধ সম্প্রদায়, এবার হিন্দু সম্প্রদায়। ফেসবুকের পোস্ট অছিলা মাত্র। ব্যক্তিগতভাবে কেউ অপরাধ করলে গোটা সম্প্রদায় সে জন্য দায়ী হতে পারে না। রামুর ঘটনায় প্রমাণিত হয় যে উত্তম কুমার নিজে ওই কাজ করেননি, তাঁর ফেসবুক ব্যবহার করে অন্য কেউ করেছেন। রসরাজও বলেছেন, তিনি ধর্ম অবমাননাকর কোনো পোস্ট দেননি। তাঁকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও হিন্দুদের বাড়িঘর ভাঙচুর, লুট এবং মন্দিরের প্রতিমা ভাঙার কী কারণ থাকতে পারে? মন্দিরে হামলা কি ধর্ম অবমাননা নয়?
প্রথম আলোর খবরে বলা হয়, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে মন্দিরে হামলা এবং হিন্দুদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে বড় অংশই কিশোর-তরুণ। শার্ট-প্যান্ট পরা এসব যুবক উপজেলার গোকর্ণ, পূর্বভাগ, চাপড়তলা, ভলাকুট, চাতলপাড়, গোয়ালনগর, বুড়িশ্বর, দাঁতমণ্ডল, ফান্দাউক, হরিপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে সমাবেশে যোগ দিতে এসেছিল। এদের একটি অংশ সমাবেশে যোগ না দিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটে অংশ নেয়। আরেকটি অংশ সমাবেশ থেকেও হামলায় অংশ নেয়। তাহলে স্থানীয় প্রশাসন ও থানা-পুলিশ কী করেছে? তাদের কাজ কি বসে বসে তামাশা দেখা?
স্থানীয় হিন্দুদের অভিযোগ, চাপড়তলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সুরুজ আলীর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের একটি অংশ মিছিল নিয়ে সেদিন আশুতোষ মাঠের সমাবেশে যোগ দেয়। সেখানে সুরুজ আলী উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাংশ বলছে, বাইরে থেকে লোক পাঠানোর পেছনে সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল হান্নানের ভূমিকা ছিল। জাতীয় রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি বিপরীত মেরুতে থাকলেও হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা করার ব্যাপারে এক। রামুতেও একই ঘটনা ঘটেছিল। নাসিরনগরের ঘটনা তদন্তে আসা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এ ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছেন। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য এনামুল হক চৌধুরী ক্ষতিগ্রস্ত মন্দির পরিদর্শন করে বলেছেন, ‘একাত্তরে যেভাবে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন করা হয়েছে, নাসিরনগরের ঘটনার সঙ্গে এর মিল রয়েছে। এখানে পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। কেন, কী কারণে এখানে সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়া হলো?’ প্রকৃত ঘটনা বের করতে হলে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনের বিকল্প নেই। কিন্তু বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠিত হলে কিংবা তারা যথাযথ রিপোর্ট দিলেই যে অপরাধীরা শাস্তি পাবে,
তার নিশ্চয়তা নেই। ২০০১–এর নির্বাচনের পর সারা দেশে বিএনপি-জামায়াতের ক্যাডাররা যে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন ও নৃশংসতা চালিয়েছিল, সেটিকে অনেকটা পুঁজি করে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন। সত্য উদ্ঘাটনের জন্য আওয়ামী লীগ সরকার একটি কমিশনও গঠন করেছিল, যার রিপোর্ট কয়েক বছর আগেই জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে মামলা কিংবা শাস্তি হওয়ার খবর পাওয়া যায় না। শাস্তি পায়নি রামু বা সাঁথিয়ায় ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার দোহাই দিয়ে যারা সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে আক্রমণ চালিয়েছিল, তারাও। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেছেন, আক্রমণকারীরা বহিরাগত। স্থানীয় কেউ হামলা করেনি। এ তথ্য যদি সঠিকও ধরে নিই, স্থানীয় সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের লোকেরা কী করেছেন? তাঁরা কেন নিরাপত্তা দিতে পারলেন না? কেউ কেউ দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও তা কাজে আসেনি। ১৯৬৪ সালে পাকিস্তান সরকারের ইন্ধনে ঢাকায় দাঙ্গা লাগানো হয়েছিল এবং সেই দাঙ্গা রুখতে আমির হোসেন চৌধুরী নামের একজন মুসলমান দাঙ্গাকারীদের রুখতে গিয়ে তাদের হাতে জীবন দিয়েছিলেন। কিন্তু, আরও বেশিসংখ্যক মানুষ কেন প্রতিরোধে এগিয়ে আসবেন না?
২০০১-এর নির্বাচনের পর ঢাকার অদূরে শ্রীপুরে আক্রান্তকবলিত এক গ্রামে গেলে সংখ্যালঘু পরিবারের নারীরা বলেছিলেন, ‘বাবা, ভোটার তালিকা থেকে আমাদের নামটি বাদ দাও। তাহলে ভোটের কারণে কেউ আমাদের ঘরবাড়িতে হামলা চালাবে না।’ বাংলাদেশকে শান্তি ও সম্প্রীতির দেশ বলে আমরা বড়াই করি। কিন্তু সেই শান্তি ও সম্প্রীতি যারা ভঙ্গ করে, যারা ধর্মের নামে মানুষ হত্যা করে, যারা ভিন্ন ধর্মের মানুষের ঘরবাড়ি লুট করে, তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো প্রতিবাদ দেখি না। আমাদের প্রশাসন খুবই দায়িত্বশীল। রাজনীতিকেরা পরমতসহিষ্ণুতার জ্বলন্ত প্রতীক। আমাদের নাগরিক সমাজ মানবাধিকারের বলিষ্ঠ খেদমতগার। এসবের পরও সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন-হামলার ঘটনা ঘটে চলেছে। তাহলে গলদটি কোথায়?
ঐক্য পরিষদের এক নেতা অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মনে বললেন, এই যে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার নাম করে হিন্দুদের বাড়িঘরে আক্রমণ করা হলো, মন্দিরে হামলা হলো, সেটি ধর্ম অবমাননা নয়? কিন্তু অন্য সম্প্রদায়ের মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে নিয়ত আঘাত করা হচ্ছে। কই, তারা তো কখনো কারও ওপর হামলা চালায় না। এমন কোনো মাস নেই যে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলা হয় না। প্রতিমা ভাঙচুর হয় না। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর ধর্মীয় সংখ্যালঘু, বিশেষ করে হিন্দুদের ওপর সারা দেশে সংঘটিত তাণ্ডবের পর লেখক-গবেষক মোহাম্মদ রফি লিখেছিলেন, ‘ক্যান উই গেট অ্যালং?’ আমরা কি এভাবে চলতে পারব? একই দেশে শত শত বছর পাশাপাশি থেকেও কেন একটি সম্প্রদায় আরেকটি সম্প্রদায়ের বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়ে আক্রমণ করে? এর পেছনে আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক বা ধর্মীয় মনস্তাত্ত্বিক কারণটাই বা কী?
সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
sohrabhassan55@gmail.com

টেকসই উন্নয়নে বিনিয়োগ করতে হবে

জেফরি ডি স্যাক্স
বিনিয়োগের নিম্ন হার এখন পৃথিবীর অর্থনীতিতে বড় হতাশার কারণ। ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের আগের বছরগুলোতে উচ্চ আয়ের দেশগুলোর প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে গৃহায়ণ ও ব্যক্তিগত ভোগ ব্যয়। কিন্তু সংকট শুরু হওয়ার পর এই দুই ধরনের ব্যয়ই কমে যায়। এটা বাড়ানোর জন্য যে বিনিয়োগ করা দরকার ছিল, তা কখনোই হয়নি। এই অবস্থার পরিবর্তন হতে হবে। সংকটের পর দেখা গেল, বিশ্বের প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার কমিয়ে দিয়ে ব্যয় ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর চেষ্টা করল। এই কৌশল কিছুমাত্রায় কাজও করেছে। তখন নীতিপ্রণেতারা পুঁজিবাজারে প্রচুর তারল্য সরবরাহ করে ও সুদের হার কমিয়ে রেখে বিনিয়োগকারীদের উৎসাহ দেন, যাতে তাঁরা স্টক ও বন্ডের মূল্য বাড়িয়ে দেন। এতে বিনিয়োগ থেকে কিছু মুনাফা হয়, যার কারণে আর্থিক সম্পদ সৃষ্টি হয়। বাজারে আইপিও ছাড়া হয়। এতে বিনিয়োগও কিছুটা বাড়ে।
কোম্পানির ঋণ-ইক্যুইটির অনুপাত বেড়ে গেছে। আবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক যখন ঋণের রাশ টেনে ধরবে, তখন সম্পদের মূল্য ব্যাপক হারে কমে যাবে। মুদ্রানীতি দিয়ে অনেক কিছু করার চেষ্টা করা হয়েছে। ব্যাপরাটা এমন হয়েছে যে অধিক ব্যবহারের কারণে এটা অনেকটা তেতো হয়ে গেছে। কিন্তু উচ্চগতির রেল, সড়ক, নিম্ন কার্বন নিঃসরণকারী জ্বালানি, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হয়নি। বাজেটের কৃচ্ছ্রসাধনের কারণে সরকারি বিনিয়োগ কমেছে। অন্যদিকে সরকারি নীতি ও আন্তর্জাতিক রাজস্ব সংগ্রহের ব্যাপারে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা থাকায় উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে এসব খাতের ব্যয় কমেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা উচ্চগতির রেল ও অন্যান্য আধুনিক অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিলেও তাঁর আট বছরের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্রে এক কিলোমিটারও লাইন নির্মাণ হয়নি। সময় এসেছে, এখন কথাকে কাজে পরিণত করতে হবে, শুধু যুক্তরাষ্ট্রে নয়, সব জায়গাতেই। আমাদের এখন টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রচুর বিনিয়োগ করতে হবে। এটা করতে গেলে তিন ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে: সঠিক প্রকল্প চিহ্নিত করা; উন্নত পরিকল্পনা প্রণয়ন, যেখানে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতই যুক্ত থাকবে (কখনো একাধিক দেশ) ও অর্থায়নের কাঠামো প্রণয়ন। সফল হতে হলে সরকারকে কার্যকরভাবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে হবে, একই সঙ্গে ঠিকঠাক বাজেট প্রণয়ন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। গত ২০ বছরে চীন এই সক্ষমতা দেখিয়েছে, যদিও সে বড় রকমের পরিবেশ দূষণ করেছে। কিন্তু ইউরোপ ও আমেরিকা থমকে গেছে। কথা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) দরিদ্র দেশগুলোকে বলেছে,
তারা যেন এই চেষ্টাও না করে। তবে এখন সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল (এসডিজি) ও প্যারিস ক্লাইমেট অ্যাগ্রিমেন্ট হওয়ার কারণে সরকারগুলোর সুবিধা হয়েছে। এতে তাদের পক্ষে সঠিক প্রকল্প প্রণয়ন করা সহজ হবে। পৃথিবীতে এখন নিম্ন কার্বন নিঃসরণকারী জ্বালানিব্যবস্থায় প্রচুর বিনিয়োগ করা দরকার। একই সঙ্গে তাকে নতুন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বন্ধ করতে হবে। ইলেকট্রিক যানবাহন তৈরিতে প্রচুর বিনিয়োগ করতে হবে। আর অভ্যন্তরীণ দহন হয়, এমন ইঞ্জিন উৎপাদন বন্ধ করতে হবে। ওদিকে উন্নয়নশীল পৃথিবীর যেসব শহরে দ্রুত নগরায়ণ হচ্ছে, সেখানে পানি ও স্যানিটেশন খাতে বড় বিনিয়োগ করতে হবে। নিম্ন আয়ের দেশগুলোকে স্বাস্থ্য ও শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে নজর দিতে হবে। এশিয়াকে ইউরোপের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য চীন যে ওয়ান বেল্ট, ওয়ান রোড প্রকল্প হাতে নিয়েছে, তাতে উল্লিখিত লক্ষ্যগুলো অর্জন করা সহজ হবে। ধারণা করা যায়, নিম্ন কার্বন নিঃসরণের লক্ষ্য নিয়েই এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এই উদ্যোগের কারণে ভূমিবেষ্টিত ইউরেশিয়ার দেশগুলোতে কর্মসংস্থান বাড়বে, সঙ্গে বাড়বে ব্যয় ও প্রবৃদ্ধি। এর ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া ও চীনের সম্পর্কে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে। আফ্রিকাতেও জরুরি ভিত্তিতে এমন একটি কর্মসূচি দরকার। যদিও আফ্রিকার দেশগুলো বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ খাতে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, নতুন বিনিয়োগ না হলে অগ্রগতির হার কমে যাবে। আফ্রিকার দেশগুলোর বার্ষিক সম্মিলিত শিক্ষা ব্যয় কয়েক শ কোটি ডলার বাড়ানো উচিত। এর সঙ্গে তাদের সম্মিলিত অবকাঠামো ব্যয় বছরে অন্তত ১০ হাজার কোটি ডলার বাড়াতে হবে। চীন, ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে দীর্ঘ মেয়াদে নিম্ন সুদের ঋণ নিয়ে এসব করতে হবে। এর সঙ্গে তাদের দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় থেকে টাকা নিতে হবে, যেমন তারা পেনশন–ব্যবস্থা চালু করতে পারে। ওদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের নতুন অবকাঠামো নির্মাণে বড় বিনিয়োগ করতে হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সর্বশেষ বড় অবকাঠামো নির্মিত হয়েছে সেই ১৯৭০-এর দশকে,
ন্যাশনাল হাইওয়ে সিস্টেম। তাদের উচিত হবে, নিম্ন কার্বন নিঃসরণকারী শক্তি, উচ্চগতির রেল ও ইলেকট্রিক যানবাহনে বিনিয়োগ করা। এসব প্রকল্পে বিনিয়োগ করার জন্য বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের বড় তহবিল করা উচিত, যাতে তারা বিদ্যমান নিম্ন সুদের হারে ঋণ দিতে পারে। অন্যদিকে বিভিন্ন দেশের সরকারকে কার্বন কর বাড়াতে হবে। এই টাকা দিয়ে তার উচিত হবে, নিম্ন কার্বন নিঃসরণকারী বিদ্যুৎ–ব্যবস্থা গড়ে তোলা। বৈশ্বিক করব্যবস্থার ফাঁকফোকরগুলো ভরাট করতে হবে। এর মাধ্যমে বছরে বৈশ্বিক রাজস্ব সংগ্রহের পরিমাণ ২০ হাজার কোটি ডলার বাড়াতে হবে। দরিদ্রতম দেশগুলোতে এই বিনিয়োগ আসবে সরকারের উন্নয়ন বাজেট থেকে। ফলে তাদের সামরিক ব্যয় কমানো উচিত। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং নতুন পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণ বন্ধ করতে হবে। দেশে দেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ঘাঁটি বন্ধ করতে হবে। সহযোগিতা ও কূটনীতির মাধ্যমে মার্কিন-চীন অস্ত্র প্রতিযোগিতার রাশ টানতে হবে। এতে যে টাকাটা বাঁচবে, সেটা স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও যুদ্ধবিধ্বস্ত দরিদ্র দেশের অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ করা যায়। কথা হচ্ছে, টেকসই উন্নয়ন স্রেফ ইচ্ছা বা স্লোগান নয়। বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ও উচ্চ কর্মসংস্থানের জন্য এটাই একমাত্র বাস্তবসম্মত পথ। সময় হয়েছে, এতে মনোযোগ দিতে হবে, বিনিয়োগ করতে হবে।
অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন, স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট।
জেফরি ডি স্যাক্স: কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের টেকসই উন্নয়নের অধ্যাপক।

আচমকা পায়ে টান?

সারা দিন হয়তো একটানা দাঁড়িয়ে কাজ করতে হয় আপনাকে, কিংবা টানা দীর্ঘ সময় বসে কাজ করেন। কারও আবার পায়ে প্রচণ্ড চাপ পড়ে সারা দিনের দৌড়ঝাঁপে। তাঁরা ঘুমের মধ্যে পায়ের মাংসপেশিতে হঠাৎ প্রচণ্ড টান ও ব্যথা অনুভব করতে পারেন। এতে ব্যথায় ঘুম ভেঙে যায়, পা নাড়াতে গেলেও কষ্ট হয়। এ রকম নাজুক সময়ে কী করতে পারেন? যে পেশিতে ব্যথা অনুভব করছেন, সেটিতে তাৎক্ষণিকভাবে হাত দিয়ে ম্যাসাজ করুন। সম্ভব হলে একটি কাপড়ে বরফ পেঁচিয়ে নিয়ে তা দিয়ে ম্যাসাজ করুন। মাংসপেশিটি টানটান করতে চেষ্টা করুন। বসা বা শোয়া অবস্থায় পা সোজা রেখে পায়ের আঙুলগুলোকে ভেতরের দিকে টেনে আনতে চেষ্টা করুন। এর ফলে পায়ের পেছনের মাংসপেশি টানটান হবে।
ব্যথা খানিকটা কমে এলে কুসুম গরম পানি ঢালতে পারেন আক্রান্ত স্থানে। গরম সেঁকও দিতে পারেন। যাঁরা ব্যায়াম করেন, তাঁরা ব্যায়ামের আগে ও পরে পায়ের পেছনের মাংসপেশি টানটান করে স্ট্রেচিং করার অভ্যাস করুন। এতে ব্যায়ামের ফলে পায়ের পেশিতে হঠাৎ চাপ পড়বে না। নতুন কোনো ব্যায়াম করতে চাইলে হঠাৎ করেই বেশি মাত্রায় শুরু করবেন না। যেকোনো ব্যায়ামের মাত্রা ধীরে ধীরে বাড়ান। একনাগাড়ে দাঁড়িয়ে বা বসে কাজ করতে হলেও মাঝে মাঝে পায়ের অবস্থান পরিবর্তন করুন। নিয়মিত বিরতিতে একটু এদিক-ওদিক পা নাড়ান। প্রতিদিন প্রচুর পানি পান করুন এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন। অনেক সময় এসব ক্ষেত্রে পায়ে ব্যথা ও টান ধরে থাকা ছাড়াও পায়ের পেশিতে চাকা বেঁধে আছে বলে মনে হতে পারে। এতে ভয়ের কিছু নেই।
ডা. রাফিয়া আলম
মেডিসিন বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

সব যন্ত্রে এক পাসওয়ার্ড

ইন্টারনেটে পাসওয়ার্ড নিয়ে কম বিড়ম্বনায় পড়তে হয় না। এত সব ওয়েবসাইটের পাসওয়ার্ড মনে রাখা কঠিন। ভুলে গেলে পাসওয়ার্ড উদ্ধার করা আরেক ঝামেলা। এদিকে নিরাপত্তার স্বার্থেই সব ওয়েবসাইটে এক কিংবা সহজ কোনো পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে নিষেধ করেন বিশেষজ্ঞরা। তাহলে উপায় কী? পাসওয়ার্ড ম্যানেজার সফটওয়্যার ব্যবহার করে সহজে এই সমস্যার সমাধান পাওয়া সম্ভব। এই সফটওয়্যারগুলো কম্পিউটার কিংবা মুঠোফোনে ইনস্টল করে নিলে বিভিন্ন ওয়েবসাইট কিংবা অ্যাপে ব্যবহার করা পাসওয়ার্ড নিরাপদে সংরক্ষণ করা যায়। এতে বারবার পাসওয়ার্ড লেখা কিংবা মনে রাখার ঝামেলা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। পাসওয়ার্ড ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যারের মাস্টার পাসওয়ার্ড মনে রাখলেই হলো। সফটওয়্যারটি চালুর সময় একবার সে পাসওয়ার্ড দিতে হয়।
পাসওয়ার্ড ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার হিসেবে লাস্টপাস সবচেয়ে জনপ্রিয়, নির্ভরযোগ্যও। কম্পিউটারের জন্য সফটওয়্যারটি নামিয়ে নিয়ে বিনা মূল্যে ব্যবহার করা গেলেও স্মার্টফোনে ব্যবহার করতে হলে নির্দিষ্ট ফি দিতে হতো। তবে নভেম্বর মাস থেকে লাস্টপাসের সব ধরনের সেবা বিনা মূল্যে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এতে কম্পিউটার হোক কিংবা স্মার্টফোন, যেকোনো একটি যন্ত্রে সংরক্ষণ করা পাসওয়ার্ড পাওয়া যাবে নিজের ব্যবহার করা সব যন্ত্রে। লাস্টপাসের প্রিমিয়াম সংস্করণও রয়েছে। এতে অতিরিক্ত কিছু সুবিধা পাওয়া যাবে। প্রিমিয়াম সংস্করণে কোনো বিজ্ঞাপন দেখাবে না। তবে সেটির জন্য মাসে এক ডলার করে ব্যয় করতে হবে। সফটওয়্যারটি কম্পিউটারের জন্য https://goo.gl/ufd6Vf ঠিকানায়, অ্যান্ড্রয়েডে https://goo.gl/TMNc0j ঠিকানায় এবং আইওএস যন্ত্রে https://goo.gl/zKpSqt ওয়েব ঠিকানায় পাওয়া যাবে।
মারিফুল হাসান, সূত্র: এনগেজেট

বিপিএলের প্রথম দিনে বৃষ্টিবাধা

উৎসবমুখর পরিবেশ, গ্যালারিতে বাজছে বাদ্য; টি-টোয়েন্টি
উৎসবের রং গায়ে মাখার অপেক্ষায় ক্রিকেটাররাও। কিন্তু
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের মাশরাফি বিন মুর্তজা, মারলন
স্যামুয়েলস কিংবা রংপুর রাইডার্সের শহীদ আফ্রিদিদের মাঠে
নামার আগ্রহে আক্ষরিক অর্থেই জল ঢেলে দিল প্রকৃতি।
বিরূপ আবহাওয়া ও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে উদ্বোধনী দিনের
দুটি ম্যাচই কাল পরিত্যক্ত হয়েছে। ছবি: শামসুল হক
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস ও রাজশাহী কিংসের টসটাই শুধু নির্বিঘ্নে হয়েছে। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বিপিএলের প্রথম দিনের বাকিটা ভেসে গেছে বৃষ্টিতে। টিপ টিপ বৃষ্টিতে দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে নিরাশ হয়েই ঘরে ফিরেছেন দর্শকেরা। কাল প্রথম ম্যাচটি ছিল কুমিল্লা-রাজশাহীর। টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন রাজশাহী অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি। টসের খানিক পরেই শুরু হয় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। সেই যে শুরু, বৃষ্টি আর থামেনি। বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে জানিয়ে দেওয়া হয়, ম্যাচ পরিত্যক্ত। বৃষ্টিবাধা উপেক্ষা করে তবুও দর্শকেরা অপেক্ষায় থাকেন সন্ধ্যায় খুলনা টাইটানস ও রংপুর রাইডার্সের ম্যাচটির জন্য। বৃষ্টির কারণেও সেটি হয়নি।
রাত ৯টা ২৫ মিনিটে জানিয়ে দেওয়া হয়, এই ম্যাচও পরিত্যক্ত। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হচ্ছে। আবহাওয়ার যে পূর্বাভাস, বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে আরও কয়েক দিন। তাই এবার বিপিএলের শুরুর দিকে ম্যাচগুলো নির্বিঘ্নে হবে কি না, তা নিয়ে আছে সংশয়। বৃষ্টির মধ্যেও কাল ছুটির দিনে গ্যালারিতে দর্শকদের উপস্থিতি ছিল বলার মতোই। সন্ধ্যায় বৃষ্টির মধ্যে হঠাৎ শুরু হয় কনসার্ট। ব্যান্ড এলআরবির পরিবেশনা শেষ হতেই আকস্মিক আতশবাজির ফোয়ারায় কেঁপে ওঠে স্টেডিয়াম! বড় উপভোগ্য সে দৃশ্য। কিন্তু মাঠে যদি ব্যাটে-বলের লড়াইটাই না দেখা যায়, দুধের সাধ কি আর ঘোলে মেটে!

বিপিএলে মুখোমুখি চার অধিনায়ক

মাশরাফি বিন মুর্তজা, সাকিব আল হাসান,
মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল
২০১৪ সালের অক্টোবর থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেটে চলছে চার অধিনায়কের যুগ। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা, সহ-অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। টেস্টে অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম, সহ-অধিনায়ক তামিম ইকবাল। আন্তর্জাতিক ম্যাচে তাঁরা কাঁধে কাঁধে মিলিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিলেও বিপিএলে ভিন্ন ছবি। গতবারের মতো এবারও চার অধিনায়ক মুখোমুখি একে অন্যের। বেলা দুইটায় মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে মুশফিকের বরিশাল বুলসের বিপক্ষে নামছে তামিমের চিটাগং ভাইকিংস। টেস্টে বাংলাদেশের দুই অধিনায়কের লড়াইটা জমবে নিশ্চয়ই। কাল মুশফিকের কথায়ও থাকল সেই ইঙ্গিত, ‘আমাদের দলটা হয়তো কাগজে-কলমে অতটা শক্তিশালী না। এমন কোনো বড় তারকাও দলে নেই। কিন্তু কার্যকরী কিছু খেলোয়াড় আছে যারা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। দল নিয়ে আমি খুশি। আমাদের যে সম্ভাবনা আছে সেটা কাজে লাগাতে পারলে ইনশা আল্লাহ ফল আমাদের পক্ষে আসবে।’ চিটাগং দলটা সে তুলনায় বেশ ভারসাম্যপূর্ণ। ‘আইকন’ তামিমের সঙ্গে আছেন স্থানীয় তারকা তাসকিন আহমেদ, আবদুর রাজ্জাকরা। বিশ্ব টি-টোয়েন্টির ‘ফেরিওয়ালা’ ক্রিস গেইল খেলবেন তামিমের দলেই। গতবারও তারকাবহুল দল গড়েও ব্যর্থ হয়েছে চিটাগং। তবে এবার সাফল্যের অপেক্ষায় অধিনায়ক তামিম, ‘আমরা খুব ভারসাম্যপূর্ণ একটি দল গড়েছি। দেশি-বিদেশি খেলোয়াড়ের সমন্বয়টা বেশ ভালো। গতবারও দল হিসেবে খারাপ ছিলাম না। এবার আরও ভালো। এখন আমাদের মাঠে ভালো খেলতে হবে। যদি দলগত ভালো খেলতে পারি তবেই ভালো কিছু সম্ভব।’ গত ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের সুপার সিক্সে আবাহনী-প্রাইম দোলেশ্বর ম্যাচে আম্পায়ারদের সঙ্গে অসদাচরণের দায়ে বিসিবির কোনো প্রতিযোগিতায় পরবর্তী এক ম্যাচের জন্য বহিষ্কার করা হয় তামিমকে। প্রশ্ন উঠেছে, সেই শাস্তি কি আজ কার্যকর হবে? আজ খেলতে পারবেন তামিম? বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের যুক্তি, এটা ভিন্ন সংস্করণ, ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টুর্নামেন্ট। তামিমের খেলতে অসুবিধা নেই। সন্ধ্যায় মাশরাফিদের মুখের হাসি কেড়ে নিতে মাঠে নামবেন সাকিব আল হাসানের ঢাকা ডায়নামাইটস। গতবার কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল মাশরাফির দুর্দান্ত নেতৃত্বে। শুধু ২০১৫ কেন, অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফিকে এখনো শিরোপাবঞ্চিত হতে হয়নি বিপিএলে। মাশরাফি পারবেন সাফল্যের ধারাটা এবারও ধরে রাখতে? পরশু সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কুমিল্লা অধিনায়ক বেশি দূরে তাকাতে চাইলেন না, ‘চতুর্থবার? টুর্নামেন্ট শুরুই হতে পারল না, এত দূর চিন্তা করার সুযোগ নেই। যে দল হয়েছে এবার ভালো খেলার চেষ্টা করতে হবে শুরু থেকেই।’ কাল রাজশাহী কিংসের সঙ্গে প্রথম ম্যাচটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হওয়ায় আজ ঢাকার বিপক্ষে মাশরাফিদের নতুন করে শুরু করতে হবে। ঢাকার অধিনায়ক সাকিবের চোখ এই ম্যাচ ছাড়িয়ে বিস্তৃত গোটা টুর্নামেন্টে, ‘এখনো প্রতিপক্ষ নিয়ে পরিকল্পনা করিনি। বেশ কিছু ভালো খেলোয়াড় আছে আমাদের। আমরা যদি দল হিসেবে খেলতে পারি ভালো ফল করা সম্ভব।’

কোথায় গেল স্বীকৃতির চিহ্ন?

ছর তিনেক আগে পড়শী জানিয়েছিলেন তাঁর ফেসবুক ফ্যান পেজটির স্বীকৃতি পাওয়ার খবর। প্রথম বাংলাদেশি নারী শিল্পী হিসেবে ২০১৩ সালে স্বীকৃতি পেয়েছিল পড়শীর ফেসবুক ফ্যান পেজ। কয়েক মাস আগে হঠাৎ করেই উধাও সেই পাতার স্বীকৃতির চিহ্ন! কোথায় গেল সেই চিহ্ন কিংবা পাতাটি? এ নিয়ে জানতে চাইলে চ্যানেল আইয়ের সাবেক খুদে গানরাজ কণ্ঠশিল্পী পড়শী জানান, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তিনি বলেন, ‘আমার সবগুলো অ্যাকাউন্ট ভাইয়া হ্যান্ডেল করেন। এ বিষয়ে তিনিই ভালো বলতে পারবেন। আমার মন্তব্য করা ঠিক হবে না।’
পড়শীর বড় ভাই সিয়াত এহসান জানান, বিশেষ কারণে ওই পেজটি বন্ধ রাখা হয়েছে। শিগগিরই সেটি আবারও খোলা হবে। বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন উঠেছে, অবৈধভাবে লাইক কেনার কারণে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ নিজেই স্বীকৃতির চিহ্নটি তুলে দিয়ে থাকতে পারে। ঘটনা সত্য কি না—জানতে চাইলে সিয়াত বলেন, ‘আনপাবলিশ (বন্ধ) রাখা অবস্থায় পেজটি বেহাত হয়ে যায়। কর্তৃপক্ষকে ব্যাপারটি জানানো হয়েছে। তারা পেজটি উদ্ধারের চেষ্টা করছে।’ তারকাদের নামে ফেসবুকে ভুয়া অ্যাকাউন্ট ও ফ্যান পেজ তৈরি করে নানা বিভ্রান্তিকর পোস্ট দেয় কতিপয় অসাধু লোক। ভক্তরা যাতে বিভ্রান্ত না হন, সে জন্য তারকাদের আসল ফ্যান পেজকে স্বীকৃতি দেয় ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।

ফারুকী-তিশা বললেন ‘না’

ডুব ছবির শুটিংয়ের ফাঁকে
তিশা ও ইরফান খান
শুরু থেকেই গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে ডুব ছবির কাজ করা হয়। মাস সাতেক আগে শেষ হয়েছে এই ছবির কাজ। হঠাৎ করেই ভারতের পশ্চিমবঙ্গের একটি শীর্ষ দৈনিকে খবর প্রকাশিত হয়েছে, ডুব ছবিটি বাংলাদেশের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের জীবনী অবলম্বনে নির্মিত। আর এতে নাকি হুমায়ূন আহমেদের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইরফান খান। এ ঘটনার সত্যতা জানতে গতকাল শুক্রবার কথা হয় ছবিটির নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সঙ্গে। সাফ জানিয়ে দিলেন তিনি, ‘আমি কোনো বায়োপিক বানাচ্ছি না। আমরা কোথাও ঘোষণা দিইনি যে হুমায়ূন আহমেদের জীবনী নিয়ে কিছু করছি। ভবিষ্যতেও কোনো দিন বলার সম্ভাবনা নাই যে এটা হুমায়ূন আহমেদের জীবনী অবলম্বনে তৈরি সিনেমা।’ ভারতীয় পত্রিকাটি এও জানিয়েছে, হুমায়ূন আহমেদের মেয়ে শীলা আহমেদের চরিত্রে অভিনয় করছেন তিশা, প্রথম স্ত্রী গুলতেকিনের ভূমিকায় রয়েছেন রোকেয়া প্রাচী ও দ্বিতীয় স্ত্রী শাওনের চরিত্রে অভিনয় করছেন পর্নো মিত্র। এসব প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ফারুকী বললেন, ‘আমার সব গল্পই আশপাশের জীবন ও দূরের জীবনের বিভিন্ন দিক থেকে অনুপ্রাণিত।
পৃথিবীর সেরা গল্পগুলোর ক্ষেত্রেও একই জিনিস কাজ করে। এরপর আমি আমার মতো করে একটা গল্প বানিয়েছি। বায়োপিক বানালে তো আমি ঘোষণা করতাম। আমি এই ছবিতে আশপাশের কিছু জিনিস থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে একটা পরিবারের গল্প বলার চেষ্টা করেছি। আর জীবনের গেল্প কে কোথা থেকে অনুপ্রেরণা নিচ্ছে, এটা কেউ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না।’ তিশা বলেন, ‘আমি কোন চরিত্রে আর অন্যরা কোন চরিত্রে অভিনয় করেছেন—সবকিছু জানতে হলে সিনেমাটা প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে দেখতে হবে। কিন্তু এর মাঝে হুমায়ূন আহমেদ প্রসঙ্গ কেন এল, তা আমি বুঝতে পারছি না!’ আপনি কি শীলা আহমেদের চরিত্রে অভিনয় করেছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বললেন, ‘আমি সুন্দর একটা গল্পের সিনেমায় অভিনয় করেছি। ভালো একটা চরিত্র পেয়েছি। ইরফান খানের সঙ্গে অভিনয় করাটা দারুণ একটা অভিজ্ঞতা।’ ইরফান খান যে হুমায়ূন আহমেদের চরিত্রে অভিনয় করেননি, এর প্রমাণ হিসেবে ফারুকী বলেন, ‘আমার এই ছবির প্রধান চরিত্রের নাম জাবেদ হাসান, যাতে অভিনয় করেছেন ইরফান খান। যাঁর বাড়ি সৈয়দপুরে। হুমায়ূন আহমেদ কোথা থেকে এল?’

কন্যার বিয়েতে যাবেন আমির

পর্দায় গিতা ভোগাত আমিরের মেয়ে। আগামী মাসেই মুক্তি পাবে আমিরের ছবি ‘দঙ্গল’। সেখানে গিতা ভোগাতের বাবা মহাবীর ভোগাতের চরিত্রে অভিনয় করেছেন আমির খান। বাস্তবে গিতা ভোগাতের বিয়ে বাড়িতে যাবেন আমির খান। ছবিটি শুটিংয়ের শুরুতেই ভোগাত পরিবারের সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠে মিস্টার পারফেকশনিস্টের। এই পরিবারের সঙ্গে অনেকটা সময় কাটিয়েছেন তিনি। ছবিতে নিজের চরিত্রকে আরও বাস্তব করতে মহাবীর ভোগাতের কাছ থেকে তাঁর মেয়েদের প্রশিক্ষণের ব্যাপারে শুনেছেন তিনি। সেই সূত্র ধরে পরিবারের সঙ্গে আমিরের বেশ ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।
মহাবীর ভোগাতের মেয়ে গিতা ভোগাতের বিয়েতে দাওয়াত দিলে সেই দাওয়াত কবুল না করে পারেননি আমির খান। ভারতের আরেক কুস্তিগির পাবন কুমারের সঙ্গে বিয়ে হবে গিতা ভোগাতের। ‘দঙ্গল’ ছবির পরিচালক নিতেশ তিওয়ারিও থাকছেন বিয়ের অনুষ্ঠানে। মহাবীর ভোগাত জানান, বিয়ের সব কাজই সুষ্ঠুভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। আগামী ১৯ নভেম্বর সংগীত ও মেহেদি। বিয়ের অনুষ্ঠান হরিয়ানার একটি গ্রামে। আর ‘দঙ্গল’ মুক্তি পেতে যাচ্ছে আগামী মাসের ২৩ তারিখ। বলিউড হাঙ্গামা।