Tuesday, October 22, 2024
অবশেষে আমরণ অনশন প্রত্যাহার করলেন জুনিয়র ডাক্তাররা
মুখ্যসচিবের তরফে জানানো হয়েছিল, ৪৫ মিনিট চলবে বৈঠক। সেই বৈঠক হল ১২৮ মিনিট ধরে। বৈঠকে উঠে এল একাধিক বিষয়। তা নিয়ে চলল কথাবার্তা। কখনও সামান্য বাদানুবাদও। শেষ পর্যন্ত অনেক বিষয়েই সহমত হল দুই পক্ষ। নবান্নে বৈঠকের পর জুনিয়র ডাক্তারদের প্রতিনিধি দল ধর্মতলার মঞ্চে ফিরে আসেন। তাদের ফোরামের জেনারেল বডির বৈঠক হয়। তার পর আনুষ্ঠানিক ভাবে অনশন প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করেন জুনিয়র ডাক্তারদের সংগঠনের অন্যতম মুখ দেবাশিস হালদার। একই সঙ্গে তিনি জানিয়ে দেন, মঙ্গলবার স্বাস্থ্য ধর্মঘটের ডাকও তারা প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন। সেইসঙ্গে তারা জানিয়ে দেন , কোনও সরকারি অনুরোধ বা ভয় বা চাপে এই অনশন তারা প্রত্যাহার করছেন না। তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করছেন শুধুই আরজি করের নির্যাতিতা চিকিৎসকের বাবা-মায়ের অনুরোধে। তাদের কথা ভেবে এবং সাধারণ মানুষের কথা ভেবে।
১০ দফা দাবিতে ধর্মতলায় গত ৫ অক্টোবর থেকে ‘আমরণ অনশন’ করছিলেন জুনিয়র ডাক্তারেরা। উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজেও চলছিল ‘ভুখ হরতাল’। ১০ দফা দাবির মধ্যে অন্যতম ছিল স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগমের অপসারণ। সোমবারের বৈঠকে যদিও মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টই জানিয়ে দেন, এই দাবি তিনি মানবেন না।
স্টেট টাস্ক ফোর্স, গ্রিভ্যান্স সেলের প্রসঙ্গও উঠেছে বৈঠকে। বেশির ভাগ কমিটির ক্ষেত্রেই সহমত হয়েছে দু’পক্ষ। কিছু বিষয়ে সহমত হয়নি। মুখ্যসচিব আগামী মার্চের মধ্যে মেডিক্যাল কলেজ কাউন্সিলে নির্বাচন করানোর আশ্বাসও দিয়েছেন। বৈঠকে যদিও মুখ্যমন্ত্রীর চা-পানের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন জুনিয়র ডাক্তারদের একাংশ।তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, জুনিয়র ডাক্তাররা পোড় খাওয়া রাজনীতিক নন। সরকার তাদের সব দাবি না মানলেও তারা অনশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু তাতে যাতে মনে না হয় যে তাঁরা দমে গিয়েছেন, সেই কারণেই এদিন উচ্চস্বরে কিছু কথা বলতে চেয়েছেন। এও বোঝাতে চেয়েছেন তাদের নৈতিক জয় হয়েছে। সেই কারণে তারা অনশন প্রত্যাহারের জন্য সরকারকে কোনও কৃতিত্ব দিতে চাননি। বরং অনশন মঞ্চে ডেকে আনা হয়েছে নির্যাতিতার বাবা-মাকে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বৈরুতে হিজবুল্লাহর গোপন সম্পদের তথ্য প্রকাশ করল ইসরাইল
এতে বলা হয়, রোববার রাতে হিজবুল্লাহ সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করে ইসরাইলের বিমান হামলা চালানোর পরপরই এ তথ্য প্রকাশ করেছে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বিভাগ। সোমবার টেলিভিশনে ব্রিফ করার সময় এই তথ্য দেন হাগারি। তিনি বলেছেন, আজ রাতে (সোমবার) আমি একটি গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশ করতে চাচ্ছি যেখানে আমরা এখনও হামলা চালাইনি। বৈরুতে হাসান নাসরাল্লাহর বাঙ্কারে লাখ লাখ ডলারের স্বর্ণ ও বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থের সন্ধান মিলেছে। ওই বাঙ্কারটি আল-সালেহ হাসপাতালের নীচে অবস্থিত বলে দাবি করেছেন হাগারি।
তিনি আরও বলেছেন, উল্লেখযোগ্য আর্থিক সংস্থান থাকার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এখনও বাঙ্কারটিতে হামলা করেনি সেনারা। বাঙ্কারটিতে আনুমানিক অর্ধ বিলিয়ন ডলারের স্বর্ণ ও বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ মজুত রয়েছে। অর্থের পরিমাণ বোঝাতে হাগারি বলেছেন, এই অর্থ গোটা লেবানন পুনর্গঠনে ব্যবহার করা যেতে পারে।
রোববার রাতে লেবাননের প্রায় ৩০টি আর্থিক কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। দাবি করা হচ্ছে এসব কেন্দ্র হিজবুল্লাহর আর্থিক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত। এর মধ্যে হিজবুল্লাহর আর্থিক সংস্থা আল-কার্দ আল-হাসান (একিউএএইচ) এর কার্যালয়কে লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানটি একটি দাতব্য সংস্থা হিসেবে পরিচিত। এসব আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে হিজবুল্লাহকে আর্থিক সহযোগীতা দেয়ার অভিযোগে চিন্থিত করেছে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র।
আইডিএফ সোমবার বলেছে যে, ইসরাইলি সেনারা দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযান অব্যাহত রেখেছে এবং হিজবুল্লাহর অস্ত্রভাণ্ডার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এতে হিজবুল্লাহর এক কমান্ডার সহ বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, গত বছর ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হওয়ার পর থেকে লেবাননে ১২৭ শিশুসহ অন্তত ২ হাজার ৪৬৪ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া এই সংঘাতে বাস্তুচ্যুত হয়েছে আনুমানিক ১.২মিলিয়ন মানুষ।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও লন্ডনে সাইফুজ্জামান চৌধুরী, আরও সম্পদের সন্ধান
ওদিকে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে লন্ডনের এস্টেট এজেন্টস, আইনজীবীদের যে সম্পর্কের কথা বলা হয়েছে তা যাচাই করতে বৃটিশ এমপিরা আহ্বান জানিয়েছেন বৃটিশ রেগুলেটর বা নিয়ন্ত্রকদের কাছে। সাইফুজ্জামান চৌধুরীর সব ব্যাংক একাউন্ট জব্দ করার আদেশ দিয়েছে ঢাকার কর্তৃপক্ষ। তার এসব বিনিয়োগের বিষয়ে তদন্তও চলছে। এছাড়া বিগত সরকারের বহু সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আছে। আল জাজিরার আই-ইউনিটের পক্ষে তদন্ত শেষে রিপোর্ট প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের খান এবং উইল থর্ন। তাদের প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে আল জাজিরার আই-ইউনিটের সাইটে।
এতে বলা হয়েছে, সাইফুজ্জামান চৌধুরী বহু কোটি ডলার বৃটেনে পাচার করেছেন। এর বিরুদ্ধে তদন্ত করছে বাংলাদেশের দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা। তার বিরুদ্ধে আদালত দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। কিন্তু সাইফুজ্জামানকে লন্ডনে তার বিলাসবহুল এপার্টমেন্ট ব্লকের কাছাকাছি হাঁটতে দেখা গেছে। এ দৃশ্য ধারণ করেছে আই-ইউনিট। ওই এপার্টমেন্ট ব্লকে তার আছে ৬টি ফ্ল্যাট। যার মূল্য ৯০ লাখ ডলারের ওপরে। বৃটেনে প্রপার্টি সাম্রাজ্যে তিনি যে বিনিয়োগ করেছেন দুর্নীতির মাধ্যমে, এটা তার একটি ছোট্ট অংশ মাত্র। সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং যুক্তরাষ্ট্রে তার আরও শত শত সম্পদ আছে। এগুলোর সঙ্গে লন্ডনের ওই এপার্টমেন্টগুলো বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশনকে আদালত জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছে। শুধু সাইফুজ্জামান চৌধুরীই নন, তার স্ত্রীর সম্পদও জব্দ করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ছাত্রজনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে আগস্টে সরকারের পতন হওয়ার প্রেক্ষিতে দেশ থেকে পালিয়ে যান সাবেক এই ভূমিমন্ত্রী। ওই আন্দোলনের ফলে তার ঘনিষ্ঠ বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতে চলে যান।
দুবাইয়ে তার আরও সম্পদের সন্ধান
সেপ্টেম্বরে আল জাজিরা ‘দ্য মিনিস্টারস মিলিয়ন্স’ শীর্ষক একটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাতে তুলে ধরা হয় সাবেক এই ভূমিমন্ত্রীর বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সম্পদের বিশাল ফিরিস্তি। এর মূল্য মনে করা হয় ৫০ কোটি ডলার। ওই তদন্তের সময় আল জাজিরার রিপোর্টার ছদ্মবেশে তার সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। তিনি ওই সাংবাদিককে লন্ডন, নিউ ইয়র্ক এবং দুবাইয়ে তার এপার্টমেন্টের বর্ণনা দেন। ২০১৬ সাল থেকে সাইফুজ্জামান চৌধুরী শুধু বৃটেনেই কমপক্ষে ৩৬০টি আলিশান বাড়ি কিনেছেন। কিন্তু আল জাজিরার হাতে যেসব তথ্য বা ডাটা চলে গেছে, তাতে দেখা যায়, আগে দুবাইয়ে তার যে পরিমাণ সম্পদের হিসাব পাওয়া গিয়েছিল প্রকৃতপক্ষে তার সংখ্যা অনেক বেশি। ২০২৩ সালের সম্পদের সর্বশেষ ফাঁস হওয়া ডাটা থেকে দেখা যায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতে কমপক্ষে ২৫০টি বিলাসবহুল এপার্টমেন্টের তালিকাভুক্ত মালিক তিনি। এর মূল্য ১৪ কোটি ডলারের ওপরে।
রেকর্ড বলছে, তার স্ত্রী রুখমিলা জামানও অর্থ পাচারের অভিযোগে তদন্তাধীন বাংলাদেশে। দুবাইয়ে তিনি আরও ৫০টি প্রপার্টির তালিকাভুক্ত মালিক। এর মূল্য কমপক্ষে দুই কোটি ৫০ লাখ ডলার। এর আগে ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দুবাইয়ের প্রপার্টি বিষয়ক ডাটা ফাঁস হয়। তা হাতে যায় সেন্টার ফর এডভান্সড ডিফেন্স স্টাডিজ (সি৪এডিএস)-এর হাতে। তারা বিষয়টি ই২৪ এবং অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যান্ড রিপোর্টিং প্রোজেক্টের (ওসিসিআরপি) মিডিয়া আউটলেটের মাধ্যমে তা শেয়ার করে আল জাজিরার সঙ্গে। তাতে তাদের নামে ৫৪টি সম্পদের তালিকা পাওয়া যায়।
ছদ্মবেশে অনুসন্ধান চালানোর সময় সাবেক এই ভূমিমন্ত্রী লন্ডনের অভিজাত অপেরা ডিস্ট্রিক্ট এলাকায় একটি পেন্টহাউসের মালিকানার কথা প্রকাশ করেন। সেখানকার ভূমি বিষয়ক রেকর্ড নিশ্চিত করছে যে, তিনি একটি বিলাসবহুল এপার্টমেন্টের তালিকাভুক্ত মালিক। এর দাম কমপক্ষে ৫০ লাখ ডলার। নতুন যে ডাটা ফাঁস হয়েছে তাতে দেখা যায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতে তিনি এবং তার স্ত্রী কমপক্ষে ৩০০টি অভিজাত এপার্টমেন্ট কিনেছেন প্রায় ১৭ কোটি ডলার ব্যয় করে। সব মিলে এই দম্পতি বিশ্বজুড়ে কমপক্ষে ৬০০ প্রপার্টিজের মালিক।
অর্থপাচারের তদন্ত
বাংলাদেশের মুদ্রা আইন বর্তমানে যেকোনো নাগরিককে এক বছরে দেশের বাইরে ১২ হাজার ডলারের বেশি নিতে দেয় না। কিন্তু আল জাজিরা অনুসন্ধানে দেখতে পেয়েছে, ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে সাইফুজ্জামান চৌধুরী তার অফসোর সম্পদের বিষয়ে ঘোষণা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি বাংলাদেশের ট্যাক্স বিষয়ক আইন লঙ্ঘন করেছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার সাবেক মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ দুর্নীতির বড় রকমের তদন্ত শুরু করেছে। সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রী রুখমিলা জামানের সব ব্যাংক একাউন্ট জব্দ করেছে কর্তৃপক্ষ। তাদের বিরুদ্ধে দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। বৃটেনে তাদের বহু কোটি ডলার পাচারের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তবে সাইফুজ্জামন চৌধুরী বলেন, তিনি বাংলাদেশের বাইরে বৈধ ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থে বিদেশে প্রোপার্টি কিনেছেন। এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক তিনি বহু বছর ধরে। তিনি দাবি করেন, ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা আছে এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশে ‘ডাইনিবিদ্যা’ ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে রুখমিলা জামান কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আত্মহত্যা করছেন গাজাফেরত অনেক ইসরায়েলি সেনা, ‘আমি কী দেখে এসেছি, কেউ বুঝবে না’
গাজায় যুদ্ধ করতে গিয়ে এলিরান যা দেখেছিলেন, তাতে মানসিকভাবে বড় আঘাত পান। সেখান থেকে ফেরার পর চরম অবসাদে ভুগছিলেন। এর ফল মোটেও ভালো হয়নি। পুনরায় গাজায় পাঠানোর আগে আত্মহত্যা করেন তিনি। এলিরানের মা জেনি মিজরাহি বলেন, ‘সে গাজা ছেড়েছিল, তবে গাজা তাকে ছাড়েনি। সেই অবসাদেই আমার ছেলে মারা গেল।’
এলিরান যে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন, চিকিৎসাশাস্ত্রের ভাষায় তাঁর একটি নাম রয়েছে। একে বলা হয়, ‘পোস্টট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার’ (পিটিএসডি)। গাজা থেকে ফেরার পর ইসরায়েলের হাজার হাজার সেনা পিটিএসডিসহ নানা মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। তবে তাঁদের কতজন আত্মহত্যা করেছেন, তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি।
গাজা যুদ্ধের সময় যত গড়িয়েছে, ততই আকাশচুম্বী হয়েছে লাশের সংখ্যা। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরে ইসরায়েলে হামাসের হামলায় নিহত হন ১ হাজার ২০০ জন। এরপর থেকে ইসরায়েলের নৃশংস হামলায় তছনছ হয়েছে পুরো গাজা। সেখানে এখন পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ ৪২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এরই মধ্যে আবার লেবাননে হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল।
গাজায় চার মাস ছিলেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) একজন চিকিৎসক। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে তিনি সিএনএনকে বলেন, গাজার পর এখন অনেক সেনাকে লেবাননে পাঠানো হতে পারে—এই ভয় পাচ্ছেন তাঁরা। ইসরায়েলি বাহিনীর বহু সেনাসদস্য এখন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সরকারকে বিশ্বাস করেন না।
গাজায় সচরাচর বিদেশি সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে দেয় না ইসরায়েল সরকার। যাঁরা এ সুযোগ পাচ্ছেন, তাঁদেরও ইসরায়েলি বাহিনীর পাহারা ও নজরদারির মধ্যে থাকতে হচ্ছে। ফলে ইসরায়েলের হামলায় গাজার ফিলিস্তিনিদের কতটা দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে বা সেখানে ইসরায়েলি সেনারা কেমন অভিজ্ঞতার মধ্যে রয়েছেন, সে চিত্রটা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
গাজায় লড়াই করা ইসরায়েলি সেনারা সিএনএনকে জানিয়েছেন, উপত্যকাটিতে তাঁরা যে ভয়াবহতা দেখেছেন, তা বাইরের মানুষ সত্যিকার অর্থে কল্পনাও করতে পারবেন না। এই বক্তব্য থেকে উপত্যকাটিতে চলমান নৃশংসতা সম্পর্কে একটা আঁচ পাওয়া যায়। সমালোচকদের ভাষায়—নেতানিয়াহু এই নৃশংসতার নাম দিয়েছেন ‘চিরকালের যুদ্ধ’।
‘আমি যে কী দেখে এসেছি, তা কেউ বুঝবে না’
এলিরানকে গাজায় মোতায়েন করা হয়েছিল গত বছরের ৮ অক্টোবর। তাঁর কাজ ছিল ডি–৯ মডেলের একটি বুলডোজার চালানো। ৬২ হাজার কেজি ওজনের এই যানটি গুলি ও বোমা হামলার মুখেও টিকে থাকতে পারে। হামাসের হামলার পর নিজ আগ্রহে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন এলিরান। এর আগে তিনি কাজ করতেন দেশটির একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে।
গাজায় ১৮৬ দিন ছিলেন এলিরান। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁর বুলডোজারে হামলা চালানো হয়। এতে হাঁটুতে আঘাত পান তিনি। তারপর চিকিৎসার জন্য গাজা থেকে ইসরায়েলে ফিরিয়ে নেওয়া হয় তাঁকে। এপ্রিলে তাঁকে পিটিএসডির চিকিৎসা দেওয়া শুরু হয়। প্রতি সপ্তাহেই থেরাপি নিচ্ছিলেন। তবে এই চিকিৎসা তাঁর জীবনে কোনো কাজে আসেনি।
গাজা থেকে ফেরার পর অল্পতে রেগে যেতেন এলিরান, রাতের পর রাত ঘুম হতো না, ঘামতে থাকতেন। পরিবারকে বলতেন, গাজায় তিনি যে কী অবস্থার মধ্য দিয়ে গেছেন, তা কেবল সেখানে তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরাই বুঝবেন। এলিরানের বোন শির সিএনএনকে বলেন, ‘সে সব সময় বলত, “আমি যে কী দেখে এসেছি, তা কেউ বুঝবে না।”’
আত্মহত্যা করা এই ইসরায়েলি সেনার মা বলছিলেন, ‘সে অনেককে মারা যেতে দেখেছে। হয়তো কাউকে হত্যাও করেছে। তবে সন্তানদের এসব করার শিক্ষা আমরা দিই না। তাই যখন সে এমন কিছু করেছিল, তখন হয়তো বড় একটা ধাক্কা খেয়েছিল।’
খেতে পারেন না মাংস, রক্ত দেখলে ভয়
গুই জাকেন। এলিরানের এই বন্ধু গাজায় তাঁর সঙ্গে বুলডোজার চালাতেন। তিনি এখন মাংস খেতে পারেন না। খাওয়ার সময় গাজায় বুলডোজারের ভেতর থেকে দেখা নানা দৃশ্যের কথা তাঁর মনে পড়ে। ঘুমাতে গেলে একপ্রকার সংগ্রাম করতে হয়। কারণ, তাঁর কানে সব সময় বাজে বিস্ফোরণের শব্দ।
গাজায় যেসব মরদেহ দেখেছেন, সেগুলোকে এখন ‘মাংসের’ মতো মনে হয় গুই জাকেনের কাছে। তিনি বলেন, ‘আপনি যখন বুলডোজারের বাইরে তাঁদের (ফিলিস্তিনি) ও আমাদের (ইসরায়েলি সেনা) প্রচুর রক্ত ও মাংস পড়ে থাকতে দেখবেন, তখন তা সত্যিকার অর্থে আপনার খাবারের ওপর প্রভাব ফেলবে।’
গাজায় বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের মুখোমুখি হলে ইসরায়েলি সেনারা নৈতিকভাবে একধরনের দোটানার মধ্যে পড়েন বলে জানিয়েছেন আইডিএফের একজন চিকিৎসক। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, গাজাবাসীকে নিয়ে ইসরায়েলি সেনাদের মধ্যে অবিশ্বাসের দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একটা ধারণা তৈরি হয়েছে যে, ‘গাজার বেসামরিক লোকজন খারাপ। কারণ, তারা হামাসকে সাহায্য করে। তাদের গোলাবারুদ লুকিয়ে রাখে।’
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর ভাষ্যমতে, গাজায় বেসামরিক মানুষের মৃত্যু কমাতে তারা সম্ভাব্য সবকিছু করছে। কোনো হামলার আগে বেসামরিক লোকজনকে সতর্ক করতে খুদে বার্তা পাঠানো হচ্ছে ও ফোন করা হচ্ছে। অনেক জায়গায় আকাশ থেকে সতর্কবার্তা লেখা খুদে বার্তাও পাঠানো হচ্ছে। এরপরও গাজায় বিপুল পরিমাণ বেসামরিক লোকজন নিহত হচ্ছেন। এমনকি নিজেদের ঘোষণা করা ‘নিরাপদ অঞ্চলেও’ হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী।
ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের মধ্যে গাজার বাসিন্দারাও চরম মানসিক সংকটে ভুগছেন। ১৭ বছর ধরে অবরুদ্ধ থাকা ও ইসরায়েলের সঙ্গে বেশ কয়েকটি যুদ্ধ গাজাবাসীর মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর যে ভয়াবহ প্রভাব ফেলেছে, তা বারবার তুলে ধরেছে জাতিসংঘ ও ত্রাণ সরবরাহকারী বিভিন্ন সংস্থা।
বুলডোজার দিয়ে সরানো হয়েছে মরদেহ
যুক্তরাজ্যের কিংস কলেজ লন্ডনের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আহরন বার্গম্যান। ১৯৮২ সালে লেবানন যুদ্ধের সময়সহ মোট ছয় বছর তিনি ইসরায়েলি বাহিনীর হয়ে কাজ করেছেন। তাঁর মতে, ইসরায়েল এখন পর্যন্ত যত যুদ্ধ করেছে, তার চেয়ে এবারের যুদ্ধ ভিন্ন। বার্গম্যান বলেন, এবারের যুদ্ধ শহর এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে চলছে। সেনাদের বহু মানুষের মধ্যে লড়তে হচ্ছে। তাঁদের অধিকাংশই বেসামরিক।
বার্গম্যানের ভাষ্যমতে, গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর যেসব সদস্য সরাসরি যুদ্ধের মুখে পড়ছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন বুলডোজার চালকেরা। তাঁরা মৃত মানুষ দেখছেন। ধ্বংসাবশেষের সঙ্গে মরদেহগুলোও তাঁদের বুলডোজার দিয়ে সরাতে হচ্ছে। অনেক সময় মরদেহগুলোর ওপর দিয়েই তাঁদের বুলডোজার চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ইসরায়েলে ফেরার পর অনেক সেনা সাধারণ জীবনযাপন করতে পারছে না বলে মনে করেন আহরন বার্গম্যান। কারণ, শহুরে এলাকায় এই যুদ্ধে বহু নারী ও শিশু নিহত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘গাজায় শিশুদের নিহত হতে দেখার পর কীভাবে আপনি আপনার সন্তানদের ঘুম পাড়াবেন?’
গাজা থেকে ফেরার পর শুধু এলিরানই নন, ইসরায়েলের আরও অনেক সেনা আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। ইসরায়েলি বাহিনীর তথ্যের বরাতে দেশটির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম হারেৎজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ১১ মে পর্যন্ত ১০ জন ইসরায়েলি সেনা আত্মহত্যা করেছেন।
ইসরায়েলি বাহিনীর একজন কমান্ডার ও মনোবিজ্ঞানী উজি বেচোরের কাছে সেনাসদস্যদের আত্মহত্যার সংখ্যার বিষয়ে জানতে চেয়েছিল সিএনএন। তিনি বলেন, ৫–৬ বছর ধরে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীতে আত্মহত্যার হার কমবেশি স্থিতিশীল রয়েছে। বলতে গেলে ১০ বছর ধরে সংখ্যাটা কমছে। তবে সংখ্যাটা সুনির্দিষ্টভাবে প্রকাশ করেননি এই মনোবিজ্ঞানী।
গাজাফেরত এক–তৃতীয়াংশ সেনাই মানসিক সমস্যায়
গাজা যুদ্ধ থেকে ফেরা এক–তৃতীয়াংশ ইসরায়েলি সেনাই মানসিক স্বাস্থ্য–সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগছেন। গত আগস্টে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতি মাসে এক হাজারের বেশি আহত সেনাসদস্যকে চিকিৎসার জন্য ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। তাঁদের ৩৫ শতাংশ নিজেদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে অভিযোগ করেছেন। তবে এই সেনাদের ২৭ শতাংশের অবস্থা উন্নতির দিকে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ১৪ হাজার ইসরায়েলি সেনাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হবে। ধারণা করা হচ্ছে, তাঁদের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ মানসিক সমস্যার মুখোমুখি হবেন।
ইসরায়েলে বছরে পাঁচ শতাধিক মানুষ আত্মহত্যা করেন। এ ছাড়া ছয় হাজারের বেশি মানুষ আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য। আর সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে ইসরায়েলি সেনাদের মৃত্যুর সবচেয়ে বড় কারণ ছিল আত্মহত্যা। সে বছরেই অন্তত ১১ জন সেনা আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন।
গাজা যুদ্ধ চলাকালে সেনাসদস্যদের আত্মহত্যা–সংক্রান্ত ‘গুজব’ রুখতে চলতি বছরের শুরুর দিকে পদক্ষেপ নিয়েছিল ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তখন সেনাসদস্যদের আত্মহত্যাকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ বলে উল্লেখ করেছিল তারা। বলেছিল, আগের বছরের তুলনায় ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর মাসে আত্মহত্যার সংখ্যা কমেছে।
এরপরও এলিরানের আত্মহত্যার জন্য গাজা যুদ্ধকেই দায়ী করছেন তাঁর বোন শির। ভাইয়ের মানসিক যন্ত্রণার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘সেনাাহিনীর কারণে, এই যুদ্ধের কারণে, আমার ভাই আর আমাদের মাঝে নেই। সে হয়তো যুদ্ধে গুলিতে বা আরপিজির (রকেট প্রপেলড গ্রেনেড) আঘাতে মারা যায়নি, তবে অদৃশ্য এক গুলি তার জীবন কেড়ে নিয়েছে।’
| গাজায় সাঁজোয়া যান নিয়ে ইসরায়েলি সেনাদের অবস্থান। ফাইল ছবি: রয়টার্স |
| ইসরায়েলের হামলায় তছনছ হয়েছে গাজা। ফাইল ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আবাসিক এলাকায় নির্বিচার গোলা বর্ষণ, আরও ৮৭ ফিলিস্তিনি নিহত
সর্বশেষ নিহতের বেশিরভাগ জাবালিয়া, বেইত হানুন ও বেইট লাহিয়ার বাসিন্দা। এসব এলাকায় ইসরায়েল ব্যাপক গোলা বর্ষণ করেছে। এতে ভবনগুলো ধসে অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন।
বেইট লাহিয়ায় ইসরায়েল যুদ্ধের কোনো নিয়মই মানছে না। তারা গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানকার আবাসিক এলাকায় নির্বিচার গোলা বর্ষণ করে ভবনগুলো মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে। সেখানে গত কয়েক দিনের অভিযানের নামে হামলায় ১০০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন। এ ধরনের হামলায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।
এদিকে ফিলিস্তিনের গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে হামলার নেতৃত্বদানকারী ইসরায়েলি ব্রিগেড কমান্ডার নিহত হয়েছেন। সোমবার (২১ অক্টোবর) আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জাবালিয়ায় পেতে রাখা বোমা বিস্ফোরণে ইসরায়েলি কমান্ডার নিহত হয়েছেন। তিনি ওই এলাকায় আক্রমণের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। নিহত আহসান ডাকসা ইসরায়েলের ৪০১তম আর্মার্ড ব্রিগেডের কমান্ডার ছিলেন। তার দল নিয়ে উত্তর গাজার জাবালিয়ায় নতুন একটি অপারেশনে যাচ্ছিলেন। পথে তার ট্যাংকটি পেতে রাখা বিস্ফোরণের ফাঁদে পড়ে। এতে কিছু বুঝে ওঠার আগেই ভয়ংকর বিস্ফোরণে ট্যাংকের ভেতরে থাকা কমান্ডার আহসান নিহত হন।
বিষয়টি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ড্যানিয়েল হাগারি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, কমান্ডার তার ট্যাংক নিয়ে টহল দিচ্ছিলেন। হঠাৎ এ ঘটনা ঘটে। এতে আরও দুই ইসরায়েলি সৈন্যও আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
![]() |
| ইসরায়েলি হামলার পর গাজার বেইট লাহিয়ার অবস্থা। ছবি : রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর অত্যাধুনিক মার্কিন প্রযুক্তি পেল ইসরায়েল
সোমবার (২১ অক্টোবর) টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন জানিয়েছেন, ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী ব্যবস্থা থাড পাঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যে তা দেশটিতে পৌঁছে গেছে। এরইমধ্যে তা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী অত্যাধুনিক এ প্রযুক্তি প্রতিস্থাপনের কথা জানালেও এর কার্যক্ষমতা সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি।
তিনি বলেন, ইসরায়েলকে রক্ষা করতে থাড পাঠানো হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি অংশ। এ সিস্টেমটি ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে সক্ষম। ইসরায়েলি সামরিক অভিযান এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে এ ব্যবস্থা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
এদিকে, ইসরায়েল জানিয়েছে, বৈরুত ও লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে তাদের বিমান হামলা আরও তীব্রতর হয়েছে। লেবানন সূত্র জানায়, হিজবুল্লাহ সমর্থিত একটি ব্যাংকের একাধিক শাখাতেও আঘাত হানা হয়েছে, যার মধ্যে দাহিয়েহ শহরে বড় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
গাজায় চলমান সংঘাত শুরুর পর থেকেই ইসরায়েলের পাশে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলকে অস্ত্র ও গোয়েন্দা সহায়তা দিয়ে আসছে। সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে ইসরায়েলের উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে, ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সমরাস্ত্র সরবরাহ আরও জোরদার করেছে।
উল্লেখ্য, থাড হলো একটি উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিরোধ করতে সক্ষম। এটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী দ্বারা ব্যবহৃত হয়। এ সিস্টেমটি উচ্চতর উচ্চতায় (হাই অলটিচিউড) মিসাইলকে ধ্বংস করতে সক্ষম, যা শত্রুপক্ষের মিসাইলকে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই ধ্বংস করে দেয়। এতে ট্রাক-মাউন্ট করা লঞ্চার, ইন্টারসেপ্টর মিসাইল, রাডার সিস্টেম এবং ফায়ার কন্ট্রোল উপাদান রয়েছে।
মার্কিন প্রযুক্তি থাড হাতে পাওয়ায় ইরানের হামলার বিরুদ্ধে ইসরায়েল নিজেদের আরও সুরক্ষিত করতে পারবে। কেননা এটি বৃহত্তর এলাকা রক্ষা করতে পারে এবং অন্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যেমন প্যাট্রিয়টের সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করে।
![]() |
যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর অত্যাধুনিক মার্কিন প্রযুক্তি থাড। ছবি : সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এভিয়েশন খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী ১০ দেশ
সোমবার (২১ অক্টোবর) বেবিচক জানায়, সম্মেলনে বেবিচক চেয়ারম্যান যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, চীন, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, ফ্রান্স এবং জাপানসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এসব দেশগুলো বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
এ ছাড়া তারা বাংলাদেশের এভিয়েশন সেক্টরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সহায়তা, সেবা সহজীকরণে এভিয়েশন সেক্টরে নতুন প্রযুক্তির সন্নিবেশ করতে সহায়তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এসব সহায়তা দেশের এভিয়েশন সেক্টরকে আরও আধুনিক, নিরাপদ এবং আন্তর্জাতিক মানে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
১৪ অক্টোবর ফিলিপাইনের সেবুতে শুরু হওয়া ওই সম্মেলন গত ১৮ অক্টোবর শেষ হয়। সম্মেলনে এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘শেপিং দ্য ফিউচার অব এভিয়েশন : সাস্টেইনেবল, রেজিলেন্ট অ্যান্ড ইনক্লুসিভ।’ এতে বাংলাদেশ ছাড়াও, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ফ্রান্স, কানাডা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়াসহ ৩৯টি দেশের সিভিল এভিয়েশন চেয়ারম্যান, মহাপরিচালক ও তাদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
এ ছাড়াও ১১টি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিও ছিলেন ওই সম্মেলনে। সম্মেলনে বেবিচক চেয়ারম্যান আইকাও কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট সালভাতোর সাকিতানো এবং মহাসচিব জুয়ান কার্লোস সালাজারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ওই সময় তারা তারা বাংলাদেশের এভিয়েশন সেক্টরের উন্নয়নের প্রশংসা করেন বলে বেবিচকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গাজার শিশুদের এমন হাসি দীর্ঘদিন দেখেনি বিশ্ব
ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, আবুধাবি থেকে উড্ডয়নের আগে আমিরাতের বিমান বাহিনীর বিমানে ত্রাণ বোঝাই করা হচ্ছে। একটু পরই দেখা যায়, গাজার আকাশ থেকে ত্রাণের বক্স ফেলা হচ্ছে। ওই ত্রাণবাহী বক্সগুলো যখন ধীরে ধীরে প্যারাসুটে করে নামছিল, তখন স্থানীয়দের দৌড়ে যেতে দেখা যায়।
স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, বিমানগুলো এগিয়ে আসছে। শিশুদের মন আজ আনন্দ ও খুশিতে ভরে গেছে। আজকের দিন ফিলিস্তিনি মানুষ এবং গাজার জন্য উৎসবের।
আমিরাতের বার্তা সংস্থা ওয়াম জানিয়েছে, বার্ডস অব গুডনেস প্রকল্পের আওতায় গাজার আকাশ থেকে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৬২৩ টন ত্রাণ ফেলা হয়েছে। গাজার ফিলিস্তিনিদের জন্য আমিরাতের মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে এই ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে।
![]() |
| ত্রাণ পেয়ে উচ্ছ্বসিত গাজার বাসিন্দারা। ছবি : সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র: ভারতীয় গণমাধ্যমে যেভাবে এলো রাষ্ট্রপতির বক্তব্য
সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি বলেন, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করার কোনো দালিলিক প্রমাণ তার কাছে নেই। রাষ্ট্রপতির এ বক্তব্য দেশজুড়ে নানা মহলেও নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে।
গত ৫ আগস্ট বাংলাদেশ ছেড়েছেন শেখ হাসিনা। এরপর প্রায় আড়াই মাস পেরিয়ে গেছে। বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান জানিয়েছিলেন, হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদে ইস্তফা দিয়েছেন। কিন্তু হাসিনাপুত্র জয় দাবি করেন, তার মা দেশ ছাড়ার আগে পদত্যাগ করেননি। সাড়ে তিন মাস পর বিষয়টি নিয়ে আবার বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। রাষ্ট্রপতি জানিয়েছেন, হাসিনা পদত্যাগ করেছেন— এমন কোনো প্রামাণ্য নথি তার কাছে নেই।
রাষ্ট্রপতি বলেন, শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার আগে তাকে কিছু জানাননি। সেনাপ্রধানকে তিনি এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনিও সুস্পষ্টভাবে তাকে কিছু জানাতে পারেননি। তিনি দাবি করেন, সেনাপ্রধান তাকে জানিয়েছেন, তিনি শুনেছেন হাসিনা পদত্যাগ করেছেন। তবে সেটি হাসিনা রাষ্ট্রপতিকে জানানোর সময় পাননি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এরপর মন্ত্রিপরিষদের এক সচিব রাষ্ট্রপতির কাছে হাসিনার পদত্যাগপত্রের কপি সংগ্রহের জন্য গিয়েছিলেন। তখনো রাষ্ট্রপতি তাকে কোনো নথি দিতে পারেননি। রাষ্ট্রপতি সে সময় তাকে জানান, তিনি খুঁজছেন।
রাষ্ট্রপতি আরও জানান, বাংলাদেশ সংবিধানে অনুসারে, প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে একটি পদত্যাগপত্র পাঠাতে হয়। এজন্য ৫ আগস্ট সকালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গভবনে আসবেন বলে ফোন এসেছিল। তবে এক ঘণ্টার মধ্যে দ্বিতীয় ফোনে জানানো হয়, হাসিনা আর আসছেন না।
দেশটির আরেকটি সংবাদমাধ্যম দ্য উইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি বলেছেন, তিনি কেবল শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন বলে শুনেছেন। কিন্তু এ ব্যাপারে কোনো প্রমাণ নেই।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতির এমন মন্তব্যের পর নতুন প্রশ্ন উঠেছে, হাসিনার বিদায় গণঅভ্যুত্থানের বদলে কী সেনা অভ্যুত্থান কি না। বিষয়টি এখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, যদি অন্তর্বর্তী সরকার দেশে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সেনাপ্রধান দেশের দায়িত্ব নিতে পারেন।
শেখ হাসিনার পদত্যাগ ইস্যুতে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন মিথ্যাচার করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
সোমবার (২১ অক্টোবর) সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টার অফিস কক্ষে তিনি বলেন, তার এ পদে থাকার যোগ্যতা আছে কি না এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। উনি যদি তার বক্তব্যে অটল থাকেন তাহলে বিষয়টি উপদেষ্টা পরিষদে যাবে এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট রাতে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে বলেছিলেন, ‘আপনারা জানেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং আমি তা গ্রহণ করেছি’। শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের পর অন্তর্বর্তী সরকার নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে জাতির উদ্দেশ্যে ওই ভাষণ দিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি।
কিন্তু আড়াই মাস পর এখন রাষ্ট্রপতি বলছেন ভিন্ন কথা। ‘তিনি শুনেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন, কিন্তু তার কাছে এ-সংক্রান্ত কোনো দালিলিক প্রমাণ বা নথিপত্র নেই’। রাষ্ট্রপতির ভাষ্যে, ‘আমি বহুবার পদত্যাগপত্র সংগ্রহের চেষ্টা করেছি, কিন্তু ব্যর্থ হয়েছি। হয়তো তার সময় হয়নি।’ মানবজমিন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকারটি গত ১৯ অক্টোবর (শনিবার) মানবজমিন পত্রিকাটির ‘জনতার চোখ’-এ প্রকাশিত হয়।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শুধু তেল বিক্রি করে ইরানের আয় কত?
যেসব দেশের কাছে বড় তেলের মজুদ এবং উদপাদন ও রপ্তানির সক্ষমতা রয়েছে তারা তত বেশি অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে সৌদি আরব, রাশিয়া, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, দুবাই খ্যাত আরব আমিরাত এমনকি ইরানও।
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। গাজা এবং লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসনের মধ্যেই তেলআবিবে প্রায় ২০০ ব্যালিস্টিক মিসাইল দিয়ে হামলা চালিয়েছে অঞ্চলের অন্যতম বড় পরাশক্তি ইরান। পাল্টা হামলার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েলও। তারা ইরানের পরমাণু স্থাপনা ও তেল অবকাঠামোতে হামলা চালাতে চাইছে। ফলে অনেকেই জানতে আগ্রহী ইরানের তেল উৎপাদন ও জ্বালানি বাণিজ্য নিয়ে।
ইরানের কাছে রয়েছে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম তেলের মজুদ। দেশটির মোট অপরিশোধিত তেলের মজুদ ২০৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন বা ২০ হাজার ৮৬০ কোটি ব্যারেল। ইরানের থেকে বেশি মজুদ রয়েছে কেবলমাত্র ভেনেজুয়েলা, সৌদি আরব ও কানাডার কাছে। তবে তেলের উত্তোলন ও রপ্তানিতে অনেক দেশের থেকেই পিছিয়ে ইরান।
মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান তার তেল উৎপাদন করতে পারছে না। প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ও নিষেধাজ্ঞার কারণে বাজার সংকুচিত হয়ে যাওয়া ইরানের তেল উৎপাদনকে দমিয়ে রেখেছে, যা সীমাহীন ক্ষতি করছে দেশটির অর্থনীতির।
তবে ইরানের জ্বালানিমন্ত্রী আব্বাস আলীআবাদি সম্প্রতি বলেছেন, ইরানে দৈনিক ১১ কোটি লিটার ডিজেল, ১২ কোটি লিটার অকটেন, ৭৩ কোটি ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাস এবং সাড়ে পাঁচ কোটি লিটার জ্বালানি তেল উৎপাদিত হয়। ইরানের জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে, ইরানের উচ্চামাত্রার জ্বালানি উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদের দিক দিয়ে ইরান বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে এবং তেলের মজুদের দিক দিয়ে বিশ্বে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে।
পরিসংখ্যানগুলো বলছে, গত দুই বছরে তেলের উৎপাদন ও রপ্তানি দ্বিগুণ বাড়িয়েছে ইরান। যেখানে তেহরান ২০২২ সালে দৈনিক ৭ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে সেখানে ২০২৪ সালের মাঝামাঝিতে এসে রপ্তানি করেছে দৈনিক ১৭ লাখ ব্যারেল তেল। দেশটি বলছে, তেলের উৎপাদন আরও বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের তেল রপ্তানি বিগত ছয় বছরের মধ্যে যে কোনো সময়ের চেয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর ফলে প্রতিবছর দেশটির অর্থনীতিতে অন্তত ৩৫ বিলিয়ন ডলার প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
জ্বালানি বাজারের তথ্যবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ভরটেক্সার হিসাবের বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ইরান প্রতিদিন গড়ে ১৫ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে। এই তেলের বেশির ভাগই কিনেছে চীন। ২০১৮ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের পর চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই সবচেয়ে বেশি জ্বালানি তেল রপ্তানি করেছে ইরান।
মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বলছে, ২০২৩ সালে ইরান মোট ৫৩ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি তেল বিক্রি করেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৬ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকার সমান। অর্থাৎ প্রায় বাংলাদেশের এক বছরের জাতীয় বাজেটের সমপরিমাণ অর্থ ইরান আয় করছে শুধু তেল বিক্রি করে। দৈনিক হিসেবে এই পরিমাণ দাঁড়ায় ১ হাজার ৭৪২ কোটি টাকা।
![]() |
| ইরানের রাজধানী তেহরান। ছবি : সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ডিএনএ নমুনা দিয়ে হারিছ কন্যা: ‘আমার অধিকার ছিল না বাবাকে সঠিকভাবে দাফনের’
সামিরা তানজিন চৌধুরী বলেন, আপনারা জানেন বাবার লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। সেটা ঢাকা মেডিকেলের মর্গে রাখা হয়েছে। সেখান থেকে স্যাম্পল সংগ্রহ করা হয়েছে। আমাকে তারা ডেকেছেন আমার স্যাম্পল গ্রহণ করার জন্য। এখন আব্বুর স্যাম্পলের ম্যাপিং চলছে, ডিএনএ ম্যাপিং। আমার স্যাম্পলটা নিয়ে তারা আব্বুর ডিএনএ’র সঙ্গে মেলাবেন। তারপর রেজাল্ট দেবে। এটা ২-৩ সপ্তাহ সময় নিতে পারে। কারণ আমার ফ্রেশ ব্লাড নেয়া হচ্ছে। আর এখানে যেহেতু আব্বুর হাড় এবং দাঁত থেকে স্যাম্পল নেয়া হয়েছে তাই এটা ফ্রেমিং করতে সময় লাগবে। তারা তাদের সর্বোচ্চটা করছেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি বলেছি- আমার বাবা মারা গেছেন, গত সরকারের আমলে। তারা সেটা মেনে নেয়নি। এখন আমি কি আমার বাবাকে জীবিত রেখে দিবো? না হলে কাউকে খুঁজে দিতে হবে আমার বাবাকে। আমার বাবা তো নিরুদ্দেশ থাকতে পারেন না। আর মৃত্যু হলে, যেটা আমি বলছি একটা সার্টিফিকেট লাগবে। সেটা এস্ট্যাবলিশড হতে হবে। তিনি তো যেমন তেমন মানুষ ছিলেন না। আর যেমন তেমন মানুষেরও মানবিক অধিকার থাকে। তার মানবিক অধিকার রক্ষা হয়নি। সেটার রেকটিফিকেশন চলছে।
সে সময় এভাবে কেন দাফন করা হয়েছিল- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার বাবাকে দাদুর বাড়িতে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। মিডিয়া মাহমুদুর নামে অহরহ রিপোর্ট করছে। মাহমুদুর রহমান নামে হারিছ চৌধুরীর দাফন। প্রমাণ করা হচ্ছে- এটা হারিছ চৌধুরী। এটা আসলে সঠিক না। কে মাহমুদুর রহমান নামে দাফন করেছে? আমি তো জানি আমার বাবার লাশ নিয়ে গিয়েছি ওখানে দাফন হয়েছে। ওখানে যারা দাফন করেছে তাদের সঙ্গে আমার কথা হয়নি। ওখানকার হুজুর মহিলা মানুষের সঙ্গে কথা বলেন না। আমাকে সেটা বলা হয়েছিল। আমি তখন সদ্যমৃত একটা বাবার লাশ বুকে করে নিয়ে যাওয়া মেয়ে। আমি তো কিছু বলিনি। তারপর আস্তে ধীরে জিনিসটা সারফেসে আসে। আমাকে যখন দু’জন সাংবাদিক অ্যাপ্রোচ করেন, আমার খুব ক্লোজ, মতিউর রহমান চৌধুরী ও মুশফিকুল ফজল আনসারী। তখন আমি কথা বলি। তাদের সঙ্গে যখন আমি কথা বলি তখন আমি বলি হ্যাঁ আব্বু মারা গেছেন। ওই নামে যে দাফন হয়েছে- এটা সত্যি। আমাকে তো আর কেউ জিজ্ঞাসা করেনি। আগের যারা সরকারে ছিলেন আব্বু তো তাদের প্রতিহিংসার পাত্র ছিলেন। যার কারণে তারা যা ইচ্ছে তাই করেছে। সে সময় বিরোধীদলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক মামলা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার হয়েছে। আমার বাবা নির্যাতিতদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। তিনি আত্মগোপনে ছিলেন, তিনি তো দেশ ছেড়ে যাননি। যখন আব্বু মারা গেছেন তখন আমি শোকাহত ছিলাম। সরকার খবর বের করে দিলো হারিছ চৌধুরী লন্ডনে মারা গেছেন। কেউ বললেন মারা যাননি। ইন্টারপোল থেকে নাম সরানোর জন্য সে মিথ্যা কথা বলছে। যা ইচ্ছা তাই রিপোর্ট করলো। এ বিষয়ে একটা রিপোর্ট হলো, তখন সবাই আমার কাছ জানতে চাইলো। তখন বললাম আমার বাবা মারা গেছেন। অনেকেই জানতে চেয়েছেন। আমি অনেককে বলেছি- আমার বাবা মারা গেছেন। সবার সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল না। যাদের একসেস ছিল তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। বিশেষ করে মতি আংকেল ও মুশফিকুল আংকেল। তারা আমাকে বললেন- অবশ্যই সত্যটা সামনে বের করে নিয়ে আসতে হবে। আর মতিউর রহমান চৌধুরী আংকেল এটা নিয়ে অনেকদিন ধরে অসুন্ধান করছিলেন। তিনি বাকিটা অনুসন্ধান করে নিয়ে আসেন। মানবজমিনে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়। মাহমুদুর রহমান নাম আব্বু ধারণ করেছিলেন। এটা কখনো বলা ছিল না এবং মতিউর রহমান চৌধুরীর কোনো কথা, অনুসন্ধানে বা ইন্টারভিউতে কখনো বলা হয়নি আমি মাহমুদুর রহমান নামে বাবাকে দাফন করেছি। আমি মাহমুদুর রহমান নামে দাফন করিনি। আমি আমার আব্বুকে দাফন করেছি। আমি কাউকে কিছু বলিনি। যখন রিপোর্ট প্রকাশ হয়ে যায় তখন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ভয় পেয়ে যায়। তখন তারা আমার কাছে সার্টিফিকেট চায়। ততক্ষণে মতিউর রহমান চৌধুরী সবকিছু প্রকাশ করে দিয়েছেন। সবকিছু তখন মিডিয়ায় চলে গেছে। সেখান থেকেই সবাই সংগ্রহ করেছে। কিন্তু আমি কিছু বলিনি, হুজুরের সঙ্গে কথা বলিনি। হুজুর টাকা নিয়েছেন; তার অফিসে আমি টাকা দিয়েছি। ডকুমেন্ট ওনারাই ফিলাপ করেছেন।
এর আগে বেলা ১২টার দিকে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরা তানজিন চৌধুরী সিআইডিতে আসেন। এর আগে ঢাকা জেলার আদালতের নির্দেশে গত ১৬ই অক্টোবর হারিছ চৌধুরীর লাশ উত্তোলন করে নমুনা সংগ্রহ করে সিআইডি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে ঢাকার সাভারে মাহমুদুর রহমান নামে দাফন করা লাশটি বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরীর কিনা, তা নিশ্চিত হতে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। হারিছ চৌধুরীর মেয়ের এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের নির্দেশে লাশটি উত্তোলন করেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সদস্যরা। ডিএনএ পরীক্ষার পর মরদেহটি হারিছ চৌধুরীর কিনা, সেটি নিশ্চিত হওয়া যাবে। নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি যেহেতু বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, তাই তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা গার্ড অব অনার প্রদান করাসহ তাকে দাফনের বিষয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুসারে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে। তার মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
সিআইডি’র ফরেনসিক বিভাগের মো. জামশের আলী ডিআইজি মানবজমিনকে বলেন, হারিছ চৌধুরীর হাড় ও দাঁত থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। তার মেয়ের নমুনা নেয়া হয়েছে। দু’জনেরটা ডিএনএ পরীক্ষা হবে। এটা সময়সাপেক্ষ বিষয়। তারপর আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে এটা প্রকাশ করবো।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘নির্দেশ আছে তোকে ক্রস ফায়ারে মেরে ফেলার’ by রাশিম মোল্লা
অভিযোগে বলেন, সদরঘাট থেকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে উঠিয়ে প্রথমে তার দুই হাত পেছনে নিয়ে হ্যান্ডকাফ লাগিয়ে ভেজা গামছা দিয়ে চোখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে চোখ বাঁধা অবস্থায় জিজ্ঞাসা করে- সরকারের বিরুদ্ধে ব্লগার হিসেবে বিভিন্ন ব্লগ ও ফেসবুকে সরকার বিরোধী কেন লেখালেখি করি? বিএনপি’র কোন কোন নেতার নির্দেশে এইসব লেখালেখি করি? প্রধানমন্ত্রী ও সজীব ওয়াজেদ জয়-এর বিরুদ্ধে কেন লিখি? প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশ আছে তোকে মেরে ফেলার। একপর্যায়ে তাদেরকে বলতে শুনি যে আমাকে গুম করে নির্যাতন ও মেরে ফেলতে উপর মহলের নির্দেশ আছে।
লোমহর্ষক নির্যাতনের বর্ণনা: হুমায়ুন কবির বলেন, চোখ বাঁধা অবস্থায় সারারাত তাকে বেধড়ক মারধর করে। কানে ইলেক্ট্রিট শক দেয়। সারা রাত শারীরিক নির্যাতন করে। ফজরের আজানের পর অর্ধচেতন অবস্থায় অজ্ঞাত একটা রুমে আটকে রাখে। সেই রুমের ছাদ তার শারীরিক উচ্চতা থেকে কম হওয়ায় সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারতেন না। চোখ বাঁধা এবং দুই হাত পেছনে হ্যান্ডকাফ লাগিয়ে নগ্ন করে প্রতিদিন শারীরিক নির্যাতন নিপীড়ন করেছে। তিনি বলেন, আমার গোপনাঙ্গে ইলেক্ট্রিক শক দিয়েছে। আমার হাঁটু এবং পায়ের গোড়ালিতে বুট পায়ে থেতলিয়ে দিয়েছে। কাঁধে কোমরে ভারী বস্তু দিয়ে পিটিয়েছে। আমার কোমরে এবং পায়ের নখে সুই ফুটিয়েছে, একটা আঙ্গুলের নখ তুলে ফেলেছে। কয়েকদিনই তারা আমাকে ক্রসফায়ারে মেরে ফেলার কথা বলেছে। একপায়ে দড়ি বেঁধে ঝুলিয়ে পেটানো অবস্থায় আমার চোখের বাঁধন খুলে যায়। তখন আমি কয়েকজন লোককে দেখতে পাই- মধ্যে স্টিমার থেকে উঠিয়ে আনার সময় যিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন তাকে চিনতে পারি। তবে আমি কাদের হাতে বন্দি, কোথায় আমার অবস্থান কিছুই জানতাম না। বাথরুম এবং খাবারের সময় একহাতের হ্যান্ডকাফ খুলে দিতো তবে কখনো চোখের বাঁধন খুলত না, গোসল করতে দিতো না। কখন দিন-রাত আমি কিছুই বুঝতে পারিনি। মাঝে মধ্যে ‘আচ্ছালাতু খাইরুম মিনান্নাউম’ শুনে ফজরের আজান হচ্ছে বুঝতে পেরেছি। এভাবে কতোদিন কেটে গেছে তাও বুঝতে পারিনি।
হঠাৎ একদিন চোখের বাঁধন এবং হ্যান্ডকাফ খুলে দিয়ে গোসল করতে বলে। অনেকদিন পর বাঁধন খুলে দেয়ার পর আমি দীর্ঘ সময় চোখে দেখতে পাইনি। ধীরে ধীরে সবকিছু ঝাঁপসা দেখতে পাই। আমার পরনের শার্ট-প্যান্টে শুকিয়ে যাওয়া রক্তের দাগ, সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন, নাক-মুখ থ্যাতলানো, রক্তাক্ত দেখতে পাই। স্বাভাবিক শব্দ কানে শুনতে পাই না। তখন তাদের কাছে জানতে চাই- আজ কতো তারিখ, কি বার, কয়টা বাজে? ওদের একজন বলে- ৭ তারিখ, সন্ধ্যা ৬টা। একজন এসে আমাকে শেভ করে দেয়। আমার লাগেজ ট্রলি ফিরিয়ে দিয়ে নতুন প্যান্ট-শার্ট পরতে বলা হয় এবং আমার পরনের রক্তাক্ত শার্ট-প্যান্ট ওরা নিয়ে যায়। আমাকে ছেড়ে দেয়া হবে জানায়।
অজ্ঞাত তারিখে আনুমানিক রাত ৮টা নাগাদ তিনজন লোক এসে আমার প্যান্টের দুই পকেটে দু’টি মোবাইল ফোন সেট এবং একটা রুমালে বাধা কিছু টাকা ঢুকিয়ে হাঁটিয়ে নিয়ে অজ্ঞাতস্থানের এক বারান্দায় দাঁড় করিয়ে রাখে। তখন একটা বড় কম্পাউন্ডে র্যাব-১০ লেখা অনেকগুলো গাড়ি দেখে দীর্ঘ বন্দিদশায় এই প্রথম বুঝতে পারি- আমি র্যাব-১০ হেফাজতে আছি। ৫ জন সিভিল পোশাক পরিহিত লোক আমাকে একটা মাইক্রোবাসে উঠিয়ে নিয়ে সায়েদাবাদ পীরের বাড়ি এলাকার ঢাকা-চট্টগ্রাম আন্তঃজেলা বাস কাউন্টারে মাইক্রোবাস থেকে নামিয়ে দিয়ে চলে যেতে বলা হয়। যারা আমাকে নিয়ে এসেছিল- তাদেরই দুইজন আমার দুইপাশে হাঁটছিল। আমি কয়েক কদম হেঁটে যেতেই র্যাব-১০ লেখা একটা পিকআপ, একটা কালো রঙের ল্যান্ড ক্রুজার জীপ এবং অনেক সশস্ত্র ইউনিফর্ম পরা র্যাব সদস্যদের দেখতে পাই। ২০১৮ সালের ২৭শে অক্টোবর সন্ধ্যায় আমাকে তুলে নেয়ার সময় যিনি আমার সঙ্গে কথা বলেছিলেন এবং আমাকে ঝুলিয়ে পেটানোর সময় যাকে দেখেছিলাম সেই অফিসারকে দেখে চিনতে পারি। আমি র্যাব সদস্যদের দেখে ভয় পেয়ে দ্রুত হাঁটার চেষ্টা করলে আমার পাশে থাকা দুইজন দুইপাশ থেকে আমার পাঁজরে পিস্তল ঠেকিয়ে কর্কশ কণ্ঠে বলে- দৌড় দিলেই তোকে গুলি করে দেবো! তখন র্যাবের পোশাক পরিহিত ৪/৫ জন এসে আমাকে জাপটে ধরে টেনে শ্যামলী পরিবহনের বাসের টিকিট কাউন্টারে ঢুকিয়ে আমার পকেট থেকে ফোন আর টাকা বের করে বলে- এই লোক সন্ত্রাসী, অনেক দিন ধরে তাকে ধরার জন্য খুঁজতেছি।
ফোন দেখিয়ে বলে- ‘এই দেখেন, সরকারের বিরুদ্ধে লেখালেখি করার প্রমাণ- একে আমরা গ্রেপ্তার করলাম।’ বলে আমার দুই হাত পেছনে নিয়ে হ্যান্ডকাফ লাগিয়ে দেয়। তারপর, উপস্থিত লোকজনের সামনে আমার নাম ঠিকানা জিজ্ঞেস করে। বাস কাউন্টারের কয়েকজনকে সাক্ষী হিসেবে নাম ঠিকানা লিখে আমাকে র্যাব-১০ লেখা একটা পিকআপ গাড়িতে উঠিয়ে র্যাব-১০ ধলপুর ক্যাম্পে নিয়ে যায়। সেখানে নেয়ার পর আমাকে র্যাব-১০ এর কোম্পানি কমান্ডার এডিশনাল এসপি মহিউদ্দিন ফারুকী (রুমের সামনে নেম প্লেটে লেখা ছিল) সাহেবের রুমে নিয়ে যায়। মহিউদ্দিন ফারুকী আমাকে বলে- ‘হুমায়ুন কবির, আগে কি হয়েছে সেইসব ভুলে যা, তোকে আজই গ্রেপ্তার করে এখানে নিয়ে আসা হয়েছে। তুই ইন্টারনেটে ও ফেসবুকে সরকার বিরোধী লেখালেখি করিস। প্রধানমন্ত্রী ও সজীব ওয়াজেদ জয়-এর বিরুদ্ধে লিখিস। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্যারদের নির্দেশ আছে তোকে ক্রসফায়ারে মেরে ফেলার। তোকে ধরার সময় ধস্তাধস্তিতে তোর গায়ে আঘাত লেগেছে। এর বাইরে একটা কথাও বলবি না। আমি র্যাব-২-এ বদলি হয়ে যাচ্ছি। যদি উল্টাপাল্টা কিছু বলিস তাহলে এবার তোকে র্যাব-২ নিয়ে স্রেফ মেরে ফেলবো।
যে ৪২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের
হুমায়ুন কবিরের আইনজীবী মাহফুজ হাসান মানবজমিনকে বলেন, গুমের অভিযোগে শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয়, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ৪২ জনের নামে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল করেছি। এরা হলেন- সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয়, আসাদুজ্জামান খান কামাল, শাহরিয়ার আলম, সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স (ডিজিএফআই)-এর সাবেক মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল আবেদীন, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সাবেক মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল টিএম জোবায়ের, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) মহাপরিচালক ও সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ, সাবেক পুলিশ কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া, অতিরিক্ত ডিআইজি ও র্যাব-১০-এর সিও জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর, র্যাব-১০ এর মো. মহিউদ্দিন ফারুকী, সাবেক নায়েব সুবেদার খায়রুল ইসলাম, সাবেক এসআই, মিরপুর মডেল থানার কাজী মো. জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক ওসি, মিরপুর মডেল থানা দাদন ফকির, এসআই আবদুল কাদের , সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার মো. হাবিবুর রহমান, সাবেক এসআই বিল্লাল হোসাইন জনি, সাবেক এএসপি র্যাব-১০ মো. শাহীনুর চৌধুরী ও মো. আবুল কালাম আজাদ, সাবেক এসআই র্যাব-১০ স্বপন কুমার সরকার, আজাহারুল ইসলাম, মো. তোতা মিয়া, মো. আনিছুর রহমান, মো. আনোয়ার হোসেন, মোছা. বিবি শারজাহান, মনোয়ারা আক্তার, মো. শিহাব, এসআই মো. রফিকুল ইসলাম, এসআই শ্রী স্বপন কুমার সরকার, মো. মোমেন খান, এএসআই মো. তানভীর হোসেন, এএসআই মো. কবির হোসেন, মো. নুরুল ইসলাম শেখ, মো. গোলাম আজম, কনস্টেবল মো. জহিরুল ইসলাম, কনস্টেবল মো. মাহমুদ কলি স্বপন, সৈনিক মো. মাহতাব হোসেন, সাবেক ল্যান্স কর্পোরাল আমিনুল ইসলাম, কনস্টেবল মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, কনস্টেবল রিপন চন্দ্র মালো, কনস্টেবল মো. মামুন সরকার, রাজিন ইসলাম।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কেন পূর্বাভাস দেয়া কঠিন এবার
সিএনএনের সাংবাদিক হ্যারি এন্টেন বলেন, নির্বাচনের আর মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি, আমার জীবনে কভার করা যেকোনো নির্বাচনের চেয়ে এ বছরের নির্বাচনী ফলাফলের পূর্বাভাস অনুমান করা কঠিন বলে মনে হয়। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জন্য যেমন ভালো সংকেত রয়েছে তেমনি ভাইস প্রেসিডেন্ট কমালা হ্যারিসের জন্যও এবারের নির্বাচন বেশ সম্ভাবনার।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অনেক আমেরিকান বিশ্বাস করেন যে, এবারের নির্বাচনে বেশ কিছু বিষয় রয়েছে যার ভিত্তিতে আগাম পূর্বাভাস দেয়া কঠিন। এবার আগের যেকোনো নির্বাচনের চেয়ে অধিক প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবে বলে ধারণা করছেন তারা।
কমালার জন্য মিশিগান, পেনসিলভানিয়া এবং উইসকনসিন রাজ্যে জয়ের পথ সহজ হতে পারে। তবে তিনি যদি অ্যারিজোনা, জর্জিয়া, নেভাদা এবং উত্তর ক্যারোলাইনা রাজ্যে পরাজিত হন তাহলে তার জয়ের সমীকরণ মেলানো বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।
অন্যদিকে মিশিগান, পেনসিলভানিয়া এবং উইসকনসিনে ভোটগ্রহণের গড় ফলাফলে এই মুহূর্তে কমালা এবং ট্রাম্প এক পয়েন্ট ব্যবধানে অবস্থান করছেন। নির্বাচনের দিন পর্যন্ত এভাবে চলতে থাকলে, অন্তত ৫০ বছরের মধ্যে এবার প্রথমবারের মতো এই তিনটি রাজ্যে মাত্র এক পয়েন্টের ব্যবধানে চূড়ান্ত গড় তৈরি হবে।
এর চেয়ে বড় কথা হচ্ছে, জুলাইয়ে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে কমালা ওই তিন রাজ্যে ধারাবাহিকভাবে খুব সামান্য পয়েন্ট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। ট্রাম্প বা কমালা কেউই কখনো এই রাজ্যগুলোতে ৫ পয়েন্টের বেশি ব্যবধান নিশ্চিত করতে পারেননি। ৬০ বছরের মধ্যে এটিও প্রথম যে, কোনো প্রার্থীই একে অপরের বিরুদ্ধে ৫ পয়েন্টের বেশি গড় অতিক্রম করতে পারেননি।
অনেক রিপাবলিকান মনে করছেন, এবারের নির্বাচনে ট্রাম্পই জয়ী হবেন। কেননা, সাবেক এই প্রেসিডেন্ট ২০১৬ এবং ২০২০ সালের নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স করেন। যদি ট্রাম্প গত দুইবারের মতো ভোট পান তাহলে তিনি এবারের ৩০০টির বেশি আসনে জয়ী হতে পারেন।
রিপাবলিকানদের এই আশা ব্যর্থ হতে পারে বলেও মনে করেন হ্যারি এন্টেন। সতর্ক করে তিনি বলেন, যেসকল রাজ্যে কমালা এবং ট্রাম্পের ভোট পাওয়ার গড় সমানুপাতিক সেখানে যদি ট্রাম্পের ভোট মিসিংয়ের হার বেশি হয় তাহলে তিনি হেরে যেতে পারেন। ২০২২ সালে ডেমোক্রেটদের পক্ষে যে পরিসংখ্যান রয়েছে তাতে মনে হচ্ছে, ট্রাম্পের পক্ষে ভোট মিসের গড় বেশি হলে কমালাই ৩০০টির বেশি আসনে জয় পেতে পারেন। তাই এখনই বলা যাচ্ছে না যে, কে হচ্ছেন এবারের মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এমন পরিস্থিতিতে এবারের মার্কিন নির্বাচনের আগাম ফল অনুমান করা কঠিন বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রেসিডেন্টের বক্তব্য মিথ্যাচার, শপথ লঙ্ঘনের শামিল
আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি যে বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র পাননি। এটা হচ্ছে মিথ্যাচার এবং উনার শপথ লঙ্ঘনের শামিল। কারণ, উনি নিজেই ৫ই আগস্ট রাত ১১টা ২০ মিনিটে পেছনে তিন বাহিনীর প্রধানকে নিয়ে জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী উনার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং উনি তা গ্রহণ করেছেন।’
আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘এরপর সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী উপদেশমূলক এখতিয়ার প্রয়োগ করে উনার (রাষ্ট্রপতি) কাছ থেকে আপিল বিভাগের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়- এই পরিস্থিতিতে করণীয় কি আছে? এটার পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন সুপ্রিম কোর্টের যিনি প্রধান বিচারপতি ছিলেন এবং অন্য সব বিচারপতিরা মিলে ১০৬-এর অধীনে একটা মতামত প্রদান করেন রাষ্ট্রপতির রেফারেন্সের ভিত্তিতে। সেটার প্রথম লাইনটি হচ্ছে, দেশের বর্তমান উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যেহেতু প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন...। তারপর অন্যান্য কথা।’
‘এই রেফারেন্সটিতে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানসহ আপিল বিভাগের সব বিচারপতির স্বাক্ষর আছে’ বলেন আসিফ নজরুল।
‘এই যে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন, রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙে দিয়েছেন, এর পরিপ্রেক্ষিতে যে একটা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা যায়, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এই মতামতের ভিত্তিতে একটা নোট আমরা মন্ত্রণালয় থেকে রাষ্ট্রপতির দপ্তরে প্রেরণ করি। ?রাষ্ট্রপতি এই অভিমতটা দেখেছেন এবং গ্রহণ করেছেন। এরপর তিনি নিজেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করেছেন।’
আসিফ নজরুল বলেন, একের পর এক কার্যাবলীর মধ্যদিয়ে এটা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত উনি পুরো জাতির কাছে বিভিন্নভাবে এটা নিশ্চিত এবং পুনর্বার নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগপত্র দিয়েছেন এবং তিনি তা গ্রহণ করেছেন। এখন প্রায় আড়াই মাস পরে যদি উনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগপত্র দেননি, এটা এক ধরনের স্ববিরোধিতা হয়, ওনার শপথ লঙ্ঘন হয়। এ পদে থাকার আর ওনার যোগ্যতা আছে কিনা, সে সম্পর্কে প্রশ্ন আসে।
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের সংবিধানে বলা হয়েছে- আপনার যদি শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা না থাকে বা আপনি গুরুতর অসদাচরণ করেন, তখন রাষ্ট্রপতি হিসেবে আপনি থাকতে পারেন কিনা সেটা নিয়ে ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ আমাদের সংবিধানে রয়েছে।’
তিনি বলেন, একজন সর্বোচ্চ পদে থাকা মানুষ পুরো জাতির সামনে ভাষণ দিয়ে বলেছেন-প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। এবং উনি পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। এটা বলার পর, এর আলোকে দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে অভিমত চাওয়ার পর, সেই অভিমতে দেশের সর্বোচ্চ আদালত তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের নিয়োজিত প্রধান বিচারপতি এবং সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অন্য বিচারকরা মিলে যে চিঠির প্রথম লাইলে লিখেছেন যে, দেশের প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। যেটা উনি গ্রহণ করেছেন। উনি সিন করেছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘এত কিছুর পর উনি (রাষ্ট্রপতি) এটা কীভাবে বলতে পারেন, সেটা আমাদের বোধগম্য নয়। আমাদের বক্তব্যে অত্যন্ত পরিষ্কার। উনি স্পষ্টভাবে বলেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ জমা দিয়েছেন, এটা উনি গ্রহণ করেছেন। এখন তার স্ববিরোধী কথা বলার সুযোগ নেই। উনি যদি ওনার বক্তব্যে অটল থাকেন, তাহলে তার রাষ্ট্রপতি পদে থাকার যোগ্যতা আছে কিনা সেটা, আমাদের উপদেষ্টামণ্ডলীর সভায় ভেবে দেখতে হবে।’
আরেক প্রশ্নের জবাবে আইন উপদেষ্টা বলেন, পদত্যাগ করলে উনি রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগ করেন। পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতির দপ্তরে থাকার কথা। এবং বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী এটা নিয়ে কোনো আদালতের প্রশ্ন করার সুযোগ নেই। এটা উনার কাছে। উনি নিজে বলেছেন- এটা উনার কাছে জমা দেয়া হয়েছে। উনি এটা গ্রহণ করেছেন। এখন উনি যদি বলেন নাই। তাহলে উনি কী করেছেন পদত্যাগপত্র। তাহলে আপনারা উনাকে জিজ্ঞাসা করবেন। উনি যদি বক্তব্যে অটল থাকেন বিষয়টি নিয়ে উপদেষ্টামণ্ডলীতে আলোচনা হতে পারে। তবে উপদেষ্টামণ্ডলীতে কি সিদ্ধান্ত নেয়, আমি এখন বলতে পারি না। জাতির সামনে বলা কথা নিয়ে যদি বিতর্ক সৃষ্টি করেন, সেটা তো অসদাচরণের পর্যায়ে পড়ে। তখন এই প্রশ্ন আসে আপনার মানসিক সক্ষমতা আছে কিনা রাষ্ট্রপতি পদে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে। এ প্রশ্নগুলো আসার সুযোগ তিনি তৈরি করে দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেছেন, তিনি শুনেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন, কিন্তু তার কাছে এ-সংক্রান্ত কোনো দালিলিক প্রমাণ বা নথিপত্র নেই। মানবজমিন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীকে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। সাক্ষাৎকারটি রোববার পত্রিকার রাজনৈতিক ম্যাগাজিন সংস্করণ ‘জনতার চোখ’-এ প্রকাশিত হয়।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গুলিতে এফোঁড়-ওফোঁড় হাত: স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আকুতি মিল্লাদের by ফাহিমা আক্তার সুমি
আহত মিল্লাদ হোসেন মানবজমিনকে বলেন, চিকিৎসকরা জানান ক্ষতিগ্রস্ত হাতটি আর কখনোই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে না। আমি স্বাভাবিক ভাবে এই হাতের ব্যবহার করতে পারবো না। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের একজন কর্মী হিসেবে আমি বড় ক্ষতির শিকার হয়েছি। আমার পিতা মো. জিতু মিয়া হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা বিএনপি’র সাবেক আহ্বায়ক ছিলেন। তিন ভাইবোনের মধ্যে আমি সবার ছোট। আমার চিকিৎসার সার্বিক খরচ এবং খোঁজখবর নিচ্ছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বাবা-মাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে না পারলে বাবা-মাকে নিয়ে দেখা স্বপ্ন পূরণ করবো কীভাবে? ঢাকা কলেজে ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পূর্ণ করেছি। এখন স্নাতকোত্তর করছি।
সেদিনের ভয়াবহ ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ১৯শে জুলাই শুক্রবার বিএনপি প্রতিবাদ সমাবেশের কর্মসূচি ছিল। আমরা ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাসির ভাইয়ের নেতৃত্বে কর্মসূচি পালনের জন্য পল্টন এলাকার বিজয়নগর পানির ট্যাংকির পাশের রাস্তায় অবস্থান করে বিক্ষোভ করতে থাকি। এমন সময়ে পুলিশ আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে গুলি করে। এ সময় দুই জন গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। আমি তখন নাসির ভাইয়ের নেতৃত্বে তার পাশে থেকেই পুলিশের এই আক্রমণের পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলাম- ঠিক তখনই কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমার বাম হাতের উপরি ভাগ বুকের কাছাকাছি গুলি লাগে। এ সময় আমি ধীরে ধীরে দুর্বল হতে থাকি। আমার বাম হাত নিস্তেজ হয়ে যায়। আমি তখন বুঝতে পারি কিছু একটা হয়েছে। হাত দিয়ে রক্ত ঝরছে। আশপাশে থাকা সহযোদ্ধারা আমাকে সঙ্গে সঙ্গে কাকরাইল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নিয়ে যান। তখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমার মুমূর্ষু অবস্থা দেখে চিকিৎসা করতে অপারগতা জানিয়ে ঢাকা মেডিকেলে যেতে বলেন।
তিনি আরও বলেন, সেদিন পুরো নয়াপল্টন-কাকরাইলের অবস্থা ভয়াবহ ছিল। ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল থেকে এম্বুলেন্সে করে আমাকে নেয়া হয় শান্তিনগরের অরোরা হাসপাতালে। তারপর সেখানে আমার জটিল একটা অপারেশন করা হয়। পুলিশের গুলিতে আমার বাম হাতের হাড় চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। সরকারি বাহিনীগুলো বিভিন্ন হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে আহত ছাত্রদের গ্রেপ্তার করতে থাকে। এসময় অরোরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ২১শে জুলাই আমাকে নিরাপত্তার কারণে ওই মুহূর্তে হাসপাতাল ছেড়ে যেতে বলে। তারা জানায়, একটু পরেই এখানে ডিবি পুলিশ অভিযান পরিচালনা করবে। আমি সে সময় বসার শক্তি ও সাহস পাচ্ছিলাম না। সেখান থেকে আরও কয়েকজনের সহায়তায় আমি চলে আসি। ডাক্তার রফিকের তত্ত্বাবধানে ধানমণ্ডি কিডনি এবং জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হই। তখন পিজি হাসপাতালের হাড় জোড়া ভাঙা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আশরাফুল ইসলাম আমার অপারেশন করেন। গুলিবিদ্ধ জায়গায় হাড়ের পরিবর্তে স্টিলের পাত বসিয়ে দেন। সেখান থেকেও নিরাপত্তাজনিত কারণে পরিপূর্ণ চিকিৎসা না নিয়েই ৩০শে জুলাই বাসায় চলে আসি। বর্তমানে আজিমপুরের বাসায় থাকি। মিল্লাদ বলেন, আমার হাতটি স্বাভাবিক নেই, অচল হয়ে আছে। রাত-দিন অস্বাভাবিক যন্ত্রণা হয়।
প্রতিদিন অনেক মেডিসিন খেতে হয়। স্বাভাবিক হতে অনেক সময় লাগবে। আগে যেভাবে চলাচল করতাম সেটি পারছি না- অস্বস্তি লাগে। চিকিৎসক এক মাস থেরাপি নিতে বলেছেন; সেটি নেয়া হচ্ছে। এটা শেষে এক্সে-রে করলে জানা যাবে হাতের অবস্থা। এই পর্যন্ত অনেক টাকা খরচ হয়েছে চিকিৎসা নিতে। আমার শরীরের অবস্থানের উপরে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। সেদিনের ওই ভয়ানক মুহূর্তগুলো এখনো আমি ভুলতে পারি না। আমি দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চাই।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এরদোগানকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রে অভিযুক্ত ফেতুল্লাহ গুলেন মারা গেছেন
এতে বলা হয়, গুলেনের খুতবা প্রচার করে এমন একটি ওয়েব সাইট হারকুল এক্সের এক বার্তায় তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে রোববার সন্ধ্যায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন গুলেন।
তুর্কি প্রেসিডেন্টের এক সময়কার ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিলেন ফেতুল্লাহ গুলেন। তবে ২০১৬ সালে তুরস্কে সামরিক অভ্যুত্থানের এক ব্যর্থ চেষ্টার পর গুলেনের দিকেই অভিযোগের আঙ্গুল তোলেন এরদোগান। এরপর থেকেই তাদের মধ্যে বৈরী সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। সে সময় তুর্কি সেনাবাহিনীর একটি অংশ যুদ্ধবিমান, ট্যাঙ্ক এবং হেলিকপ্টার দিয়ে এরদোগানকে উৎখাতের চেষ্টা করে। যদিও তারা সফল হতে পারেনি। ক্ষমতার লড়াইয়ে সে সময় ২৫০ জনের মতো ব্যক্তি নিহত হয়েছিলেন।
গুলেন ১৯৯৯ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত জীবনযাপন করছিলেন।
অনুসারীদের মতে গুলেনের আন্দোলন ‘হজমেট’ নামে পরিচিত। তুর্কি ভাষার এই শব্দের অর্থ ‘সেবা’। আধুনিক বিশ্বে ইসলামের মধ্যপন্থি একটি আন্দোলনের রূপকার হিসেবেও গুলেনের বেশ খ্যাতি রয়েছে। তিনি মনে করেন ইসলাম এমন একটি মতবাদ যা আধুনিক যুগের মানুষের জন্য কার্যকরী। তবে ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর থেকে, তার আন্দোলন তুরস্কে পরিকল্পিতভাবে ভেঙে দেয়া হয়েছে এবং আন্তর্জাতিকভাবে গুলেন আন্দোলনের প্রভাব অনেকটা কমে এসেছে বলে মনে করা হয়।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ডেঙ্গুর উল্লম্ফন শিশুদের কান্না
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছে ৩৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশু ভর্তি হয়েছে। গত আড়াই মাসে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৪০৭ জন। এরমধ্যে ২ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এসব রোগীর বয়স ৬ মাস থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত। তবে ৫ থেকে ৮ বছরের শিশুরা বেশি এসেছে। বেশির ভাগ রোগী ঢাকার বিভিন্ন এলাকার।
গতকাল সরজমিন দেখা যায়, জ্বরে আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে থেকে অনেকেই ছুটে এসেছেন হাসপাতালটিতে। বর্তমানে ডেঙ্গু সেলে সবগুলো বেডেই রোগী ভর্তি। শিশুরা ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কাতরাচ্ছে হাসপাতালের বেডে। আবার কারও কারও সময় কাটছে মোবাইল ও খেলনা নিয়ে। ওয়ার্ড-১ ডেঙ্গু সেলের ১৭ নম্বর বেডে ১০ বছরের শিশু রুহুল আমিন খান তাসফি ভর্তি রয়েছে। তার মা ইরফানা হক বলেন, আগারগাঁওয়ের ষাট ফিটে আমাদের বাসা। ১৪ই অক্টোবর থেকে ছেলের জ্বর শুরু হয়। প্রথম তিনদিন জ্বর, বমি ও পেটে ব্যথা ছিল। পঞ্চম দিন থেকে বমির সঙ্গে পেটেও সমস্যা দেখা যায়। হাসপাতালে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিয়ে আসি। এখন মোটামুটি ভালো আছে। আমাদের পরিবারে এই একজনের ডেঙ্গু জ্বর হয়েছে; তবে বাসার আশপাশে অনেকের হয়েছে। তিনি বলেন, আমি কক্সবাজারে একটি চাকরি করি। এখন এই সময়টা আমার জন্য খুবই কষ্টকর। আমি একা মানুষ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছি। ছেলেটি স্কুলে যেতে পারছে না সামনে পরীক্ষা। সে মিরপুরে মণিপুরী স্কুলে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। প্রতিদিন একটি বেডে ৭০০ টাকা করে গুনতে হচ্ছে। মেডিসিন, ফলমূলের দাম তো নাগালের বাইরে। সন্তানকে সুস্থ করে তুলতে হলে এগুলো খাওয়াতে হবে; তবে দামের কারণে হিমশিম খেতে হচ্ছে। শহরের সব জায়গায় রাস্তাঘাটের অবস্থা তো খুবই খারাপ- খানাখন্দে পানি জমে থাকে। দেশে চিকিৎসাসেবাটা আরও উন্নত হওয়া প্রয়োজন।
২৪ নম্বর বেডে ভর্তি রয়েছে ৬ বছরের শিশু মানহা সিদ্দিকী। হাতিরঝিলে বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকে। শিশুটির মা কোহিনূর আক্তার বলেন, আমাদের পরিবারে চারজনের ডেঙ্গু হয়েছে। প্রথমে ওর দাদা-দাদীর ডেঙ্গু ধরা পড়ে। এর এক সপ্তাহ পড়ে আমার তিন বছরের ছেলে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়। তার একসপ্তাহ পরে মেয়ের ডেঙ্গু ধরা পড়ে। মেয়ের রাতে হঠাৎ জ্বর আসে। সকালের দিকে জ্বর আরও বেড়ে যায়। প্রথমে ভেবেছিলাম হয়তো ঠাণ্ডা জ্বর এসেছে। পরে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাই; সেখানে পরীক্ষা শেষে ডেঙ্গু ধরা পড়ে। এরপর রোববার শিশু হাসপাতালে এসে ভর্তি করি। এখন মোটামুটি ভালো আছে। মুখে খুব একটা রুচি নেই- খেতে চায় কম। কয়েকদিন ধরে মানসিকভাবে একটু ভেঙে পড়েছি। দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে থাকতে হচ্ছে। এর আগে ছেলেকে নিয়ে আট দিন হাসপাতালে ছিলাম। আমাদের বাসার পেছনের দিকে খোলা জায়গা আছে সেখানে ময়লা-আবর্জনা থাকে। আবার একটি নির্মাণাধীন ভবনও রয়েছে; সেখান থেকে হয়তো ডেঙ্গু মশার সৃষ্টি হতে পারে।
নার্সারির শিক্ষার্থী সিনহা। বর্তমানে শিশু হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডের ১৮ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন। সিনহার খালা শ্রাবণী বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে ঘুম থেকে উঠেই বলতেছিল হাত-পায় ব্যথা করছে। ওর আবার হার্টের সমস্যা আছে। ১৭ই অক্টোবর ইকো করার কথা ছিল। শনিবার পরীক্ষা করিয়ে ডেঙ্গু পজিটিভ আসে। এই হাসপাতালে শনিবার ভর্তি করি। ওর মায়েরও ডেঙ্গু জ্বর হয়েছে, সে বাসায় আছে। ওদের বাসায় তিনজনের ডেঙ্গু জ্বর হয়েছে।
শিশু আব্দুল্লাহ’র মা কুলসুম বেগম বলেন, ৮ই অক্টোবর আব্দুল্লাহ’র জ্বর আসে। পরে তেজগাঁও এলাকার একজন চিকিৎসককে দেখানো হয়। তিনি এন্টিবায়োটিক দেন- সেটি খাওয়ানোর পরে শরীরে লাল র্যাশ দেখা দেয়। পরে ডেঙ্গু পরীক্ষা করতে দিলে নেগেটিভ আসে। এরপর ওই চিকিৎসকের কাছে আবার গেলে এন্টিবায়োটিক দেন। সেটি খাওয়ানোর পর জ্বর আরও বেড়ে যায় এবং শরীরের র্যাশগুলো ফুলে যায়। এটি দেখে শিশু হাসপাতালে নিয়ে আসি। এখানে পরীক্ষা করিয়ে ডেঙ্গু পজিটিভ আসে। প্রথমে জ্বরের সঙ্গে ঠাণ্ডা, কাশি ও বমি ছিল। ঠোঁট-চোখ সব লাল হয়েছিল। আজ ১২ দিন ধরে এই হাসপাতালে ভর্তি। তিনি বলেন, আগে সন্তানকে সুস্থ করে তুলতে হবে। এই পর্যন্ত প্রায় ৪০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। বর্তমানে ব্যবসার অবস্থা ভালো না। এর আগে অসুস্থতার জন্য বড় ছেলেকে নিয়ে এক সপ্তাহের মতো হাসপাতালে থাকতে হয়েছে।
শিশু হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মাহমুদুল হক চৌধুরী মানবজমিনকে বলেন, চলতি বছরের আগস্টের মাঝামাঝি থেকে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হওয়া শুরু হয়েছে আমাদের হাসপাতালে। বর্তমান সময়ে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেড়ে গেছে। আগস্ট থেকে এই পর্যন্ত এই হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে ৪০৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছে ৯ জন এবং এই মুহূর্তে ভর্তি রয়েছে ৩৪ জন। ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ৩৪টি বেড রয়েছে। গত আড়াই মাসে মারা গেছে ২ জন। গত বছরে হাসপাতালটিতে ৬০ শয্যার ওয়ার্ড ছিল সেটি এখন ৩৪টি শয্যা রয়েছে। যদি আরও রোগী বাড়তে থাকে তাহলে আমরা ৬০ শয্যা করে ফেলবো। গত বছরে এই সময়টিতে প্রায় তিনগুণ রোগী ছিল। ডেঙ্গু রোগী বাড়লে আমাদেরও প্রস্তুতি রয়েছে। তিনি বলেন, জ্বরে আক্রান্ত শিশুদের অবস্থা বুঝে অবশ্যই হাসপাতালে আসতে হবে। বাসাবাড়ি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। সেই সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে অবশ্যই সচেতন হতে হবে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মীমাংসিত বিষয়ে বিতর্ক সৃষ্টি না করার আহ্বান প্রেসিডেন্টের

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জৈন্তায় ইমরানের ‘জমিদারি’ শাসন by ওয়েছ খছরু

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পথের চাঁদা কমেছে বাজারে আগের মতোই by সুদীপ অধিকারী
সরজমিন দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সবজি বোঝাই করে একের পর এক ট্রাক এসে থামছে কাওরান বাজারের ওয়াসা, জনতা টাওয়ার, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স ভবন, ইত্তেফাক ভবনসহ বিভিন্ন রাস্তায়। কিছু গাড়ি আবার প্রধান সড়কে পার্কিং করে সেখান থেকে ভ্যানে করে আড়তগুলোতে পণ্য নিয়ে আসছে। এমনই এক গাড়ির চালক মো. সাগর। তিনি নীলফামারীর সৈয়দপুর থেকে সবজি বোঝাই করে কাওরান বাজারের আড়তে নিয়ে এসেছেন। সাগর বলেন, ৫ই আগস্টের আগে আমার এই ট্রাকটি কাওরান বাজার আসতে পাগলাপীর বাজার, বালাবাড়ী হাইওয়ে পুলিশ তল্লাশি চৌকি, সৈয়দপুর উপজেলা শহর, রংপুর নার্সিং কলেজ এলাকা, রংপুর-বগুড়া মহাসড়কের শঠিবাড়ী, গোবিন্দগঞ্জ, মোকামতলা, বগুড়ার প্রথম বাইপাস, মাটিডালি, চারমাথা, ভবেরবাজার, হাটিকুমরুল, টাঙ্গাইল, এলেঙ্গা, মীরেরবাজারসহ অন্তত ১৪ স্থানে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হতো। কিছু কিছু স্পটে মাসিক চুক্তি ছিল। নির্দিষ্ট মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে মাসে ২ থেকে ৪ হাজার টাকা দেয়া লাগতো। পুলিশ থেকে রাজনৈতিক নেতা সকলে ওই টাকার ভাগ পেতো। তবে এখন আর পথে আগের মতো চাঁদা দেয়া লাগছে না। সাগরের মতোই চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থেকে সবজির ট্রাক নিয়ে এসেছেন রায়হান। সড়কে চাঁদাবাজির বিষয়ে তিনি বলেন, এখন পথে গাড়িতে কোনো চাঁদা দেয়া লাগে না। আগে যার কাছ থেকে যেমন পারতো চাঁদা নিতো। গাড়ি আটকালেই চাঁদা দেয়া লাগতো। একটা ট্রিপ নিয়ে ঢাকায় আসতে আগে ১ হাজার থেকে ১৫শ’ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দেয়া লাগতো। হাতে লাঠি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতো। চাঁদা না দিলেই গাড়ির গ্লাস ভেঙে দিতো। ২-৩শ’ টাকার জন্য ৮-১০ হাজার টাকার গ্লাস ভেঙে দেবে বলে কেউ কিছু বলতো না। এ ছাড়া পুলিশের উৎপাত তো ছিলই। যেই জেলা পার করতাম সেসব হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির নামে চাঁদা নেয়া হতো। রাতে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশির নামেও টাকা আদায় করা হতো প্রতি গাড়ি থেকে। এখন এসব বন্ধ হয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় আছে, তবে আগের মতো না। তিনি বলেন, মাঝে কিছুদিন বন্ধ থাকলেও এখন আবারো কাওরান বাজারে সিটি করপোরেশনের গাড়ি পার্কিংয়ের নামে ২০০-৩০০ টাকা চাঁদা নেয়া হচ্ছে। এই টাকা না দিলে কেউ কাওরান বাজারে গাড়ি ঢোকাতে পারে না। সুমন নামে আরেক ট্রাকচালক বগুড়া থেকে সবজি নিয়ে নিয়মিত আসেন ঢাকাতে। সড়কের চাঁদাবাজির বিষয়ে তিনি বলেন, আগে পুলিশের নামে, শ্রমিক ইউনিয়নের নামে, মালিক সমিতির নামে, সিটি করপোরেশন, পৌরসভার নামে, এই টোল, ওই টোল বিভিন্ন বাহানায় চাঁদা নেয়া হতো। রাতে রাস্তায় মাঝে মধ্যে পুলিশের লোক আমাদের চোখে টর্চলাইট, লেজার লাইট মেরে সিগন্যাল দিতো। কোথাও কোথাও লাল পতাকা বাঁধা লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে থাকতো। মালবাহী ট্রাক দেখলেই ডাউন দিতো, দৌড়ে চলে আসতো। তাদেরকে টাকা না দিয়ে কেউ গাড়ি নিয়ে যেতে পারতো না। তিনি বলেন, ঢাকায় ঢোকার পরও শ্যামবাজারে মাল নামিয়ে কাওরান বাজারে আসতে আসতে এই সাত কিলোমিটার রাস্তায় তিনটি স্থানে চাঁদা দেয়া লাগতো। তবে পট পরিবর্তনের পর থেকে সড়কের মোড়ে মোড়ে চাঁদা নেয়া বেশির ভাগই বন্ধ আছে। তবে এখনো যাত্রাবাড়ী ও কাওরান বাজারে সিটি করপোরেশনের নামে স্লিপ দিয়ে টাকা নেয়া হয়। সড়কের চাঁদা নেয়া বন্ধ ও তেলের দাম কম হওয়ায় ট্রাক ভাড়া কমেছে কিনা- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ট্রাক ভাড়া সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করেন ট্রাকের মালিকরা। আর তেলের দাম কমেছে সীমিত। তাই পণ্য পরিবহনে ভাড়া আগের মতোই আছে। সাগর, রায়হান, সুমনের মতো সাতক্ষীরা থেকে নিয়মিত কাওরান বাজারে সবজি নিয়ে আসেন ইসরাফিল হোসেন। তিনি বলেন, আগে সাতক্ষীরা থেকে শুরু করে খুলনা, যশোর, ফরিদপুর, ঢাকা পর্যন্ত কয়েকটি স্পটে রাস্তায় চাঁদা দেয়া লাগতো। পুলিশও টাকা নিতো। তিনি বলেন, কেউ যদি রাতে সবজির ট্রাকে ঢাকায় আসতো সে বুঝতো কোথায় কোথায় চালকদের টাকা দেয়া লাগতো। আর ওসব চাঁদাবাজের যে কি খারাপ ব্যবহার তা শুধু আমরাই জানি। তিনি বলেন, আল্লাহ্র রহমতে এখন আপাতত তেমন একটা চাঁদা দেয়া লাগছে না। পুলিশেরও ঝামেলা নেই। তবে এমন কতো দিন থাকবে তার নিশ্চয়তা নেই।
এদিকে মিরাজ সহ কাওরান বাজারের একাধিক আড়তদার বলেন- রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, জয়পুরহাট, ময়মনসিংহ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বগুড়া, যশোর, ফরিদপুর, মাদারীপুর, সাভারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন শত শত ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানভর্তি আলু, পিয়াজ, পেঁপে, মিষ্টি কুমড়া, টমেটো, মুখিকচু, ফুলকপি, মরিচ, গাজর, বেগুন, ধনেপাতা, শসা, করলা, লাউসহ বিভিন্ন শাক-সবজি আমাদের বাজারে আসে। এ ছাড়াও পাহাড়ি এলাকা থেকে আনারস, কলা সহ বিভিন্ন ফলমূল আসে আমাদের আড়তে। যারা নিয়মিত আড়তে মাল নিয়ে আসেন তারা ক্ষেত থেকে সবজি সংগ্রহের আগে আড়তদারদের ফোন দিয়ে জেনে নেন বাজারদর। তারপর পণ্য ট্রাকে করে রাতে কাওরান বাজারে নিয়ে আসেন। এখানে আসার পর প্রথমে ট্রাকপ্রতি পার্কিং বাবদ ২-৩ শ’ টাকা দেয়া লাগে। এরপর ট্রাক থেকে মাল নামাতে গাড়ি প্রতি ২৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা লেবার খরচ দিতে হয়। আর ভ্যানে মাল নামলে সেই খরচ আলাদা। এরপর যেই আড়তের মাধ্যমে মাল নামাবে সেই আড়তের মালিককে লাখে ১০ হাজার অর্থাৎ একশ’ টাকার মাল নিয়ে আসলে আড়তদারকে ১০ টাকা খরচ দিতে হবে। লাভ-লসের হিসাব পড়ে। এই খরচগুলো দেয়ার পর মাল বিক্রি করে যা বাঁচবে সেটাই পাবে ব্যাপারী। মাল বিক্রি হোক আর না হোক সবজির ট্রাক ঢুকলে এই খরচগুলো দেয়াই লাগবে। আর কেউ যদি সম্পূর্ণ মাল একবারে আড়তদারের কাছে বিক্রি করে দেয় তাকেও এই খরচ দেয়া লাগে। আবার হাতে কেটে অর্থাৎ নিজের মাল নিজে বিক্রি করবে তাকেও এই খরচ দিতে হয়। কারণ আড়তদারের বাইরে কেউ কাওরান বাজারে পণ্য বিক্রি করতে পারে না। বিশ বছর আগে যেই নিয়ম ছিল এখনো তাই আছে। সবই আগের মতোই চলছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1265)
- ► 2025 (3280)
-
▼
2024
(2551)
-
▼
October
(563)
-
▼
Oct 22
(20)
- অবশেষে আমরণ অনশন প্রত্যাহার করলেন জুনিয়র ডাক্তাররা
- বৈরুতে হিজবুল্লাহর গোপন সম্পদের তথ্য প্রকাশ করল ইস...
- দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও লন্ডনে সাইফুজ্জামান ...
- আত্মহত্যা করছেন গাজাফেরত অনেক ইসরায়েলি সেনা, ‘আমি ...
- আবাসিক এলাকায় নির্বিচার গোলা বর্ষণ, আরও ৮৭ ফিলিস্ত...
- ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর অত্যাধুনিক মার্কিন প্রযুক্তি...
- এভিয়েশন খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী ১০ দেশ
- গাজার শিশুদের এমন হাসি দীর্ঘদিন দেখেনি বিশ্ব
- শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র: ভারতীয় গণমাধ্যমে যেভাবে এ...
- শুধু তেল বিক্রি করে ইরানের আয় কত?
- ডিএনএ নমুনা দিয়ে হারিছ কন্যা: ‘আমার অধিকার ছিল না ...
- ‘নির্দেশ আছে তোকে ক্রস ফায়ারে মেরে ফেলার’ by রাশিম...
- কেন পূর্বাভাস দেয়া কঠিন এবার
- প্রেসিডেন্টের বক্তব্য মিথ্যাচার, শপথ লঙ্ঘনের শামিল
- গুলিতে এফোঁড়-ওফোঁড় হাত: স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আকুত...
- এরদোগানকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রে অভিযুক্ত ফেতুল্লাহ গুল...
- ডেঙ্গুর উল্লম্ফন শিশুদের কান্না
- মীমাংসিত বিষয়ে বিতর্ক সৃষ্টি না করার আহ্বান প্রেসি...
- জৈন্তায় ইমরানের ‘জমিদারি’ শাসন by ওয়েছ খছরু
- পথের চাঁদা কমেছে বাজারে আগের মতোই by সুদীপ অধিকারী
-
▼
Oct 22
(20)
-
▼
October
(563)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...



